সমাধান
সমাধান
💼
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

আন্তর্জাতিক বিরোধ ও যুদ্ধ

BCS Preliminary · আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি — বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক পেজে।

নিচে BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষার আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি বিষয়ের "আন্তর্জাতিক বিরোধ ও যুদ্ধ" অধ্যায়ের বাছাইকৃত ২৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ। সবই বিনামূল্যে।

1

চীন-ভারত যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 1959
  2. 1960
  3. 1962
  4. 1963

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

২০ অক্টোবর-২১ নভেম্বর, ১৯৬২ সালে সংঘটিত হয় চীন-ভারত যুদ্ধ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ১৯৬২ সাল।
চীন ও ভারতের মধ্যে এই সীমান্ত সংঘাতটি Sino-Indian War বা চীন-ভারত যুদ্ধ নামে পরিচিত। এটি শুরু হয় অক্টোবর ২০, ১৯৬২ তারিখে এবং চীন কর্তৃক একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাধ্যমে নভেম্বর ২১, ১৯৬২ তারিখে শেষ হয়।
যুদ্ধের মূল কারণ ছিল হিমালয় অঞ্চলের বিতর্কিত সীমান্ত — বিশেষ করে আকসাই চীন (Aksai Chin) এবং বর্তমান অরুণাচল প্রদেশ (তৎকালীন NEFA) এর মালিকানা নিয়ে বিরোধ।
অন্যান্য অপশনগুলি (১৯৫৯, ১৯৬০, ১৯৬৩) এই যুদ্ধের প্রস্তুতির বা পরবর্তী সময়ের ঘটনা, কিন্তু সরাসরি যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৬২ সালে।
2

কোন সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 2010
  2. 2012
  3. 2014
  4. 2016

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ক্রিমিয়া সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত একটি অঞ্চল ছিল। ১৯৫৪ সালে সাবেক সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ ক্রিমিয়া উপদ্বীপটি উপহার হিসেবে ইউক্রেনকে লিখে দেন। পরবর্তীতে ক্রিমিয়া নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং ১৮ই মার্চ ২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের নিকট হতে ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে দখল করে নেয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ২০১৪ সাল।
রাশিয়া ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ইউক্রেনের স্বশাসিত অঞ্চল ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করা শুরু করে এবং মার্চ মাসে একে রাশিয়ার সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
এই দখলের মূল কারণ ছিল ইউক্রেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের ক্ষমতাচ্যুতি (Euromaidan Revolution)। এই ঘটনার পর রাশিয়া ক্রিমিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপ করে এবং স্থানীয় পার্লামেন্টের মাধ্যমে একটি বিতর্কিত গণভোটের আয়োজন করে, যেখানে ক্রিমিয়ার জনগণ রাশিয়ার সাথে যুক্ত হওয়ার পক্ষে ভোট দেয়।
এই দখলদারিত্বের পর জাতিসংঘ ও পশ্চিমা বিশ্ব একে অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করে এবং রাশিয়ার ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
অন্যান্য অপশন (২০১০, ২০১২, ২০১৬) ভুল, কারণ এই সময়ে ক্রিমিয়া নিয়ে মূল সংঘাত শুরু হয়নি।
3

আন্তর্জাতিক বিচার আদালত রোহিঙ্গা গণহত্যা বিষয়ক অন্তর্বর্তীকালীন রায়ে মিয়ানমারকে কয়টি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৩টি
  2. ২টি
  3. ৫টি
  4. ৪টি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

২৩ জানুয়ারি ২০২০ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত চারটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রদান করে। • রাখাইনে বসবাসরত সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের সুরক্ষা দেবার জন্য মিয়ানমার সরকারকে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে। • মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর লাগাম টেনে ধরতে হবে। আদালত বলেছে, সেনাবাহিনী কিংবা অন্য যে কোন ধরণের নিরাপত্তা বাহিনী যাতে গণহত্যা না চালায় কিংবা উস্কানি না দেয় সেজন্য সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। • রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত যেসব অভিযোগ এসেছে, সে সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে। • রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দেবার জন্য মিয়ানমার কী ধরণের ব্যবস্থা নিয়েছে সে সংক্রান্ত প্রতিবেদন আগামী চারমাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের কাছে জমা দিতে হবে। এরপর প্রতি ছয়মাসে একটি করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এসব প্রতিবেদন গাম্বিয়ার কাছে তুলে ধরা হবে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ৪টি
২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) রোহিঙ্গা গণহত্যা বিষয়ক অন্তর্বর্তীকালীন রায়ে মিয়ানমারকে অবিলম্বে ৪টি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়।
এই ৪টি ব্যবস্থা ছিল: ১. গণহত্যা ঠেকানোর জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া, ২. সামরিক বাহিনীসহ কোনো পক্ষ যেন গণহত্যার মতো অপরাধ না করে, তা নিশ্চিত করা, ৩. গণহত্যার প্রমাণ নষ্ট না করে সংরক্ষণ করা এবং ৪. আদেশ পালনের বিষয়ে চার মাস পর একটি রিপোর্ট ICJ-তে জমা দেওয়া।
উল্লেখ্য, এই রায়ের মাধ্যমে ICJ নিশ্চিত করে যে গাম্বিয়া কর্তৃক দাখিলকৃত মামলাটি আদালতে বিচারযোগ্য এবং মিয়ানমারকে অবশ্যই জেনোসাইড কনভেনশনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে।
4

সম্প্রতি (সেপ্টেম্বর ২০২০) কোন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মাঝে সংঘর্ষ হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আর্টসাথ প্রজাতন্ত্র
  2. নাগার্নো-কারাবাখ
  3. ইয়েরেভান
  4. নাকার্চভান ছিটমহল

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

দক্ষিণ ককেশাসের বিতর্কিত অঞ্চল নাগার্নো-কারাবাখ। অঞ্চলটি নিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশ আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার বিরোধ অনেক পুরোনো। নাগার্নো-কারাবাখ অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের স্বীকৃত হলেও ১৯৯০ সাল থেকে আর্মেনিয়ো বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এটিকে দখল করে রাখে। সর্বশেষ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ থেকে ছয় সপ্তাহের সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে দেশ দুটি। এরপর ৯ নভেম্বর ২০২০ রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় শান্তিচুক্তি। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর আবার দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ হয় ও প্রায় অর্ধ শতাধিক সৈন্য নিহত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নাগার্নো-কারাবাখ। এটি হলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আজারবাইজানের একটি ভূখণ্ড, যা দীর্ঘদিন ধরে আর্মেনিয়ান নৃগোষ্ঠী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে তীব্র সামরিক সংঘাত শুরু হয়, যা 'দ্বিতীয় কারাবাখ যুদ্ধ' নামে পরিচিত।
আর্মেনিয়ানরা বিতর্কিত এই অঞ্চলটিকে আর্টসাথ প্রজাতন্ত্র (Artsakh) নামে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছিল (অপশন ১), কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে এর কোনো স্বীকৃতি নেই। তাই সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে নাগার্নো-কারাবাখ-ই সঠিক পরিচিতি।
ইয়েরেভান হলো আর্মেনিয়ার রাজধানী এবং নাকার্চভান ছিটমহল হলো আজারবাইজানের একটি বিচ্ছিন্ন অঞ্চল, যা সরাসরি সংঘর্ষের কেন্দ্র ছিল না।
5

ইরান-ইরাক যুদ্ধবিরতির তদারকির কাজে নিয়োজিত জাতিসংঘের বাহিনী কোন নামে পরিচিত ছিল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. UNIMOG
  2. UNIIMOG
  3. UNGOMAP
  4. UNICEF

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

১৯৮৮ সালে ইরাক-ইরান যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘ United Nations Iran-Iraq Military Observer Group (UNIIMOG) প্রেরণ করে। এই শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ১৫ জন সদস্য প্রেরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিরক্ষী মিশন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: UNIIMOG
UNIIMOG এর পূর্ণরূপ হলো— United Nations Iran-Iraq Military Observer Group
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৬১৯ নং প্রস্তাব অনুযায়ী ১৯৮৮ সালের আগস্ট মাসে এই বাহিনীটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তাদের প্রধান কাজ ছিল **ইরান এবং ইরাকের মধ্যে যুদ্ধবিরতির তদারকি, যাচাই এবং নিশ্চিতকরণ**।
এই শান্তিরক্ষা মিশনটি সফলভাবে **১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত** তার দায়িত্ব পালন করে।
ভুল উত্তর কেন:
UNIMOG: এটি একটি কাল্পনিক নাম বা অন্য কোনো সংক্ষিপ্ত রূপ। জাতিসংঘের মূল মিশনে এই নামে কোনো বাহিনী নেই।
UNGOMAP: এটি হলো United Nations Good Offices Mission in Afghanistan and Pakistan, যা আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য গঠিত হয়েছিল।
UNICEF: এটি জাতিসংঘের শিশু তহবিল (জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা), কোনো সামরিক বা পর্যবেক্ষক বাহিনী নয়।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
6

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের কোন অংশে ভারত সম্প্রতি (ফেব্রুয়ারি, ২০১৯) সামরিক বিমান হামলা পরিচালনা করে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. এবোটাবাদ
  2. বালাকোট
  3. কোয়েটা
  4. গিলগিট

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বালাকোট সত্যিকার অর্থে ভৌগোলিকভাবে খাইবার পাখতুন খাওয়া প্রদেশের মানসেহরা জেলায় অবস্থিত, যা পাকিস্তান অধিকৃত আজাদ কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো বালাকোট (Balakot)
২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার (Pulwama Attack) জবাবে ভারত সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বালাকোটে সামরিক বিমান হামলা পরিচালনা করে।
ভারতের দাবি অনুযায়ী, এই সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ছিল জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদের (Jaish-e-Mohammed - JeM) প্রশিক্ষণ শিবির ধ্বংস করা। এটি 'বালাকোট এয়ার স্ট্রাইক' নামে পরিচিত।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, এবোটাবাদ (Abbottabad) বিখ্যাত কারণ ২০১১ সালে এই শহরেই আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে মার্কিন কমান্ডোরা হত্যা করেছিল।
7

বসনিয়ার যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরের মধ্যস্থতাকারী কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিল ক্লিনটন
  2. জিমি কার্টার
  3. নিক্সন
  4. রিগান

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বসনিয়া-হার্জেগোভিনা প্রাক্তন ফেডারেল যুগোশ্লাভিয়ার একটি প্রজাতন্ত্র। ১৯৯২ সালের ১ মার্চ দেশটি স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং ১৯৯২ সালের ২২ মে জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভ করে। কিন্তু স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই দেশটির সার্ব ও ক্রোট সম্প্রদায় এর বিরোধিতা করতে থাকে। অবস্থার প্রেক্ষিতে বসনিয়া হার্জেগোভিনায় দেখা দেয় জাতিগত দ্বন্দ্ব যা পরবর্তীতে মারাত্মক গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। এ প্রেক্ষিতে মার্কিন ‍যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিমি কার্টারের মধ্যস্থতায় ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৯৪ বসনিয়ার মুসলিম সরকার ও সার্ববাহিনীর মধ্যে একটি ‍যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো জিমি কার্টার
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম প্রেসিডেন্ট (১৯৭৭-১৯৮১) জিমি কার্টার বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মধ্যস্থতার জন্য সুপরিচিত। তিনি এই কাজের জন্য ২০০২ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
বসনিয়ার গৃহযুদ্ধ চলাকালে ১৯৯৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি বসনিয়ান সরকার এবং বসনিয়ান সার্বদের মধ্যে একটি প্রাথমিক চার মাসব্যাপী যুদ্ধবিরতি (four-month truce) চুক্তি স্বাক্ষরে সফলভাবে মধ্যস্থতা করেন।
অনেকে বিল ক্লিনটন-কে উত্তর মনে করতে পারেন, কারণ তিনি সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং তার প্রশাসনের উদ্যোগেই চূড়ান্ত ডেটন শান্তি চুক্তি (Dayton Agreement, ১৯৯৫) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে, প্রথম যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী ছিলেন জিমি কার্টার
8

আবু গারিব বলতে কি বোঝায়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. একজন বিখ্যাত দার্শনিক
  2. একটি জাদুঘর
  3. একটি জেলখানা
  4. একজন বৈজ্ঞানিক

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

আবু গারিব ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত একটি কারাগার। মার্কিন বাহিনী ইরাকি যুদ্ধবন্দিদের এই কারাগারে বন্দি করে রাখে ও তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: একটি জেলখানা। বিকল্প (৩) সঠিক।
আবু গারিব হলো ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত একটি কুখ্যাত কারাগার (জেলখানা)।
এই কারাগারটি বিশ্বজুড়ে শিরোনামে আসে ২০০৪ সালে, যখন ইরাক যুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন, যৌন হয়রানি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ফাঁস হয়। এই কেলেঙ্কারিকে আবু গারিব স্ক্যান্ডাল বলা হয়।
9

ইরাকে কখন মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ২০০৩ সালের ১৮ মার্চ
  2. ২০০৩ সালের ২০ মার্চ
  3. ২০০৩ সালের ২২ মার্চ
  4. ২০০৩ সালের ২৪ মার্চ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ইরাকে ২০০৩ সালের ২০ মার্চ স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে পাঁচটায় মার্কিন-ব্রিটিশ বাহিনী কর্তৃক যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: ২০০৩ সালের ২০ মার্চ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ নেতৃত্বে (The Coalition of the Willing) ইরাকে এই সামরিক অভিযান শুরু হয়। এই আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সরকারকে উৎখাত করা।
অভিযানটির কোড নাম ছিল Operation Iraqi Freedom (অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম)। এটি শুরু হয়েছিল ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে।
10

মধ্যপ্রাচ্যে কখন প্রথম তেলঅস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৯৭৩ সালে
  2. ১৯৮১ সালে
  3. ২০০৩ সালে
  4. ১৯৯১ সালে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর হঠাৎ করে একযোগে তেল রপ্তানি বন্ধ করাকে বলা হয় তেল অস্ত্র ব্যবহার। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ১৯৭৩ সালে সর্বপ্রথম তেল অস্ত্র ব্যবহার করে। তেলঅস্ত্র এখন পর্যন্ত তিন বার (১৯৭৩, ১৯৮১, ১৯৮৬, সাল) ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২২ সালেও আংশিক তেল অস্ত্র ব্যবহার করা হয় OPEC+ এর মাধ্যমে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ১৯৭৩ সালে। এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যা বিশ্বব্যাপী 'তেল সংকট' নামে পরিচিত।
১৯৭৩ সালের অক্টোবরে চতুর্থ আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ (ইয়ম কিপ্পুর যুদ্ধ) শুরু হলে, মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী আরব দেশগুলো একত্রিত হয়ে তেলকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।
আরব পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা OAPEC (Organization of Arab Petroleum Exporting Countries) ইসরায়েলকে সমর্থনকারী দেশগুলোর (যেমন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস) কাছে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয় (তেল অবরোধ)
এই অবরোধের ফলে তেলের দাম রাতারাতি বহু গুণ বেড়ে যায়, যা ইতিহাসে প্রথম তেল সংকট (First Oil Crisis) হিসেবে পরিচিত।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
11

ফিলিস্তিনিদের মাতৃভূমিতে কখন ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 1948
  2. 1950
  3. 1967
  4. 1970

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে ব্রিটেন ম্যান্ডেটভুক্ত অঞ্চল (মধ্যপ্রাচ্য) থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের প্রস্তাব করলে ২৯ নভেম্বর ১৯৪৭ জাতিসংঘের ৮১ নং প্রস্তাব অনুসারে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র বিভক্তি ও ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহীত হয়। কিন্তু শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর প্রত্যক্ষ প্রভাবে জাতিসংঘ প্রস্তাব উপেক্ষা করে ১৪ মে ১৯৪৮ ফিলিস্তিনিদের মাতৃভূমিতে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৯৪৮। ফিলিস্তিনের মাটিতে ব্রিটিশ ম্যান্ডেট শাসনের অবসানের ঠিক একদিন আগে, ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরাইল রাষ্ট্র স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
ইসরাইল প্রতিষ্ঠার এই দিনটিকে ফিলিস্তিনিরা তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হিসেবে বিবেচনা করে এবং এই ঘটনাটি 'আল-নাকবা' (Al-Nakba) বা মহাবিপর্যয় নামে পরিচিত। এর ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিজ ভূমি থেকে বাস্তুচ্যুত হন এবং প্রথম আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সূচনা হয়।
অন্যান্য অপশনের মধ্যে, ১৯৬৭ সালটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই বছর 'ষষ্ঠ দিবসীয় যুদ্ধ' (Six-Day War) সংঘটিত হয়, যার মাধ্যমে ইসরাইল গাজা, পশ্চিম তীর, গোলান মালভূমি ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়।
12

‘ডেটন শান্তিচুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বসনিয়া-হার্জেগোভিনায় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও অঙ্গরাজ্যের ডেটন শহরের রাইট-পেটারসন বিমানবাহিনী ঘাঁটিতে ১৯৯৫ সালের নভেম্বরে এক শান্তি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর ১৯৯৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্যারিসে যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় তাই ডেটন শান্তি চুক্তি নামে পরিচিত।

ব্যাখ্যা

সঠিক তথ্য হলো, ডেটন শান্তিচুক্তি (Dayton Peace Accords) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয় ১৯৯৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর
এই চুক্তির মাধ্যমে তৎকালীন যুগোস্লাভিয়া ভেঙে সৃষ্ট রাষ্ট্র বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় সংঘটিত (১৯৯২-১৯৯৫) ভয়াবহ বসনীয় যুদ্ধের অবসান ঘটে।
চুক্তিটি ১৯৯৫ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ডেটন, ওহাইও শহরে প্রথমে স্বাক্ষরের জন্য আলোচনা ও সম্মত হয় (Initialed), কিন্তু চূড়ান্তভাবে এটি স্বাক্ষরিত হয় ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে
গুরুত্বপূর্ণ নোট: যেহেতু প্রদত্ত অপশনগুলোতে ১৯৯৫ সাল নেই, তাই প্রশ্নটির তথ্য ত্রুটিপূর্ণ। তবে চুক্তির বছরটি অবশ্যই ১৯৯৫
13

ইসরাইল-প্যালেস্টাইন ‘রোডম্যাপ’ কর্মসূচির উদ্দেশ্য কি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সহিংসতা বন্ধ করে ২০০৫ সালের মধ্যে স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা
  2. দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন
  3. দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে অবাধ বাণিজ্য স্থাপন
  4. দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে সীমানা চিহ্নিতকরণ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে প্রণীত একটি শান্তি পরিকল্পনা ‘রোডম্যাপ’। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৩০ এপ্রিল, ২০০৩ আনুষ্ঠানিকভাবে বহু প্রতীক্ষিত এই শান্তি পরিকল্পনা পেশ করে। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং রাশিয়া সমন্বিতভাবে প্রস্তাবিত এ রোডম্যাপের খসড়া প্রস্তুত ও অনুমোদন করে। কিন্তু ইসরাইল এই প্রস্তাব প্রত্যাখান করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সহিংসতা বন্ধ করে ২০০৫ সালের মধ্যে স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা
শান্তির রোডম্যাপ (Road Map for Peace) কর্মসূচিটি ২০০৩ সালের এপ্রিলে ইসরাইল ও প্যালেস্টাইনের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে প্রণীত হয়।
এই কর্মসূচিটি যৌথভাবে প্রস্তাব করে কোয়ার্টেট (The Quartet) নামে পরিচিত চারটি আন্তর্জাতিক পক্ষ— মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ ও রাশিয়া
এর প্রধান ও চূড়ান্ত উদ্দেশ্য ছিল ধাপে ধাপে সহিংসতা বন্ধ করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যা ২০০৫ সালের মধ্যে ইসরাইলের পাশে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করবে (এটি টু-স্টেট সলিউশন নামে পরিচিত)।
অন্যান্য বিকল্পগুলো (সড়ক যোগাযোগ, বাণিজ্য, সীমানা চিহ্নিতকরণ) এই রোডম্যাপের অধীনে নেওয়া ছোট ছোট ধাপ হতে পারে, কিন্তু মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সমাধান।
14

‘নাগার্নো কারাবাখ’ কোন দুটি দেশের করিডোর?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আজারবাইজান-আর্মেনিয়া
  2. আর্মেনিয়া-লাটভিয়া
  3. কাজখস্তান-আজারবাইজান
  4. রাশিয়া-আর্মেনিয়া

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে বিরোধ সৃষ্টিকারী খ্রিস্টান অধ্যুষিত একটি ছিটমহল নাগার্নো কারাবাখ। ২০২০ সালে এই ছিটমহল নিয়ে দুই দেশ সংঘর্ষে জড়িয়ে জড়িয়ে পড়ে এবং নাগার্নো কারাবাখের বেশির ভাগ এলাকা আজারবাইজান দখল করে নেয়। রাশিয়ার মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধ শেষ হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আজারবাইজান-আর্মেনিয়া
নাগার্নো-কারাবাখ হলো একটি পার্বত্য অঞ্চল যা আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের অংশ হিসেবে স্বীকৃত, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এটি জাতিগত আর্মেনীয় সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল।
এই অঞ্চলটি সরাসরি আর্মেনিয়ার সাথে যুক্ত করার জন্য যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথ বা করিডোরটি ব্যবহার করা হতো, তা হলো লাচিন করিডোর (Lachin Corridor)। এই করিডোরটিই মূলত আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়ার মধ্যকার করিডোর হিসেবে পরিচিত ছিল, যা এই দুই দেশের মধ্যে তীব্র বিরোধের মূল কারণ।
২০২০ সালের যুদ্ধের পর এই অঞ্চলের বেশিরভাগ অংশ আজারবাইজানের নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ২০২৩ সালে আজারবাইজান সামরিক অভিযান চালিয়ে অঞ্চলটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়।
15

ইসরাইল কত সালে পূর্ব জেরুজালেম দখল করেছিল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৬০ সালে
  3. ১৯৬৭ সালে
  4. ১৯৭৩ সালে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

১৯৬৭ সালে তৃতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইল প্রতিপক্ষ- মিশর, সিরিয়া ও জর্ডানসহ আরব বিশ্বকে পরাজিত করে গাজা, সিনাই উপদ্বীপ, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রাখে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৯৬৭ সালে। ইসরাইল ১৯৬৭ সালের জুনে সংঘটিত ৬ দিনের যুদ্ধ (Six-Day War) চলাকালীন পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়।
এই যুদ্ধে ইসরাইল মিশর, সিরিয়া ও জর্ডানের সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে এবং ফিলিস্তিনিদের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো দখল করে।
দখলকৃত অঞ্চলগুলোর মধ্যে ছিল: পূর্ব জেরুজালেম, ওয়েস্ট ব্যাংক, গাজা উপত্যকা, মিশরের কাছ থেকে সিনাই উপদ্বীপ এবং সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমি
অন্যান্য অপশনসমূহ ভুল, কারণ ১৯৪৮ সালে প্রথম আরব-ইসরাইল যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যার ফলে ইসরাইল পশ্চিম জেরুজালেমের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ১৯৬০ বা ১৯৭৩ সালের যুদ্ধে পূর্ব জেরুজালেম দখল হয়নি, এটি তখন থেকেই ইসরাইলের দখলে ছিল।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
16

যুক্তরাষ্ট্র চায় ইসরাইল কত শতাংশ জায়গা ফিলিস্তিনিদের কাছে হস্তান্তর করবে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১২ শতাংশ
  2. ১০ শতাংশ
  3. ১৩ শতাংশ
  4. ১১ শতাংশ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ওয়েই রিভার চুক্তি অনুসারে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলি দখলকৃত ভূমির ১৩.৫ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের কাছে হস্তান্তরের প্রচেষ্টা নিয়েছিল। অবশ্য পরবর্তীতে ঘটনাক্রমের প্রতিক্রিয়ায় এ চুক্তি এবং দখলকৃত ভূমি ফেরতদান কোনোটিই সম্ভব হয়নি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৩ শতাংশ
এই প্রশ্নটি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক জানুয়ারি ২০২০ সালে প্রস্তাবিত বিতর্কিত 'ডিল অফ দ্য সেঞ্চুরি' (Deal of the Century) শান্তি পরিকল্পনাকে নির্দেশ করে।
এই পরিকল্পনার মূল প্রস্তাব ছিল—পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতিগুলোকে বৈধতা দেওয়া হবে এবং বিনিময়ে ইসরায়েল তার ১৩ শতাংশ (13%) জমি ফিলিস্তিনিদের কাছে হস্তান্তর করবে। মূলত, এটি একটি ভূখণ্ড বিনিময়ের (Land Swap) প্রস্তাব ছিল, যাতে ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীরের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৮৭ শতাংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে পেত।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই পরিকল্পনা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করে দেয়, কারণ এতে তাদের দাবি অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
17

কসোভো নগরীর সাথে সার্বীয়দের স্পর্শকাতর সম্পর্কের কারণ কি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. এর রণকৌশলগত গুরুত্ব
  2. এর ধর্মীয় ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক স্মৃতি
  3. মুসলিম বিদ্বেষের প্রবণতা
  4. আলবেনীয়দের ঔদ্ধত্য

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কট্টরপন্থী সার্বগণ কসোভোতে মুসলিম নিধন করে নগরীটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিস্টান অধ্যুষিত অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে। অন্যদিকে মুসলমানরা তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক স্মৃতি রক্ষায় সদা সচেষ্ট। ফলে ইউরোপের অন্যতম মুসলিম প্রধান এ নগরীটির সাথে সার্বীয়দের স্পর্শকাতর সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। অবশেষে ২০০৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি কসোভো বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের সমর্থনে সার্বিয়া থেকে নিজেকে স্বাধীন ঘোষণা করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: এর ধর্মীয় ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক স্মৃতি
কসোভো অঞ্চলটি সার্বিয়ার জাতীয়তাবাদী পরিচয় ও সার্বীয় অর্থোডক্স চার্চের কাছে পবিত্র ভূমি হিসেবে বিবেচিত। ঐতিহাসিকভাবে কসোভো সার্বীয় সভ্যতার কেন্দ্র ছিল, যা সার্বীয়দের কাছে এর গুরুত্বকে স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
এই স্পর্শকাতর সম্পর্কের প্রধান ভিত্তি হলো ১৩৮৯ সালে সংঘটিত কসোভোর যুদ্ধ (Battle of Kosovo)। এই যুদ্ধে সার্বীয়রা উসমানীয় (Ottoman) সাম্রাজ্যের কাছে পরাজিত হলেও, সার্বরা এটিকে কেবল একটি সামরিক পরাজয় হিসেবে দেখে না; বরং তারা এটিকে খ্রিস্টান ধর্ম ও সার্বীয় জাতিসত্তার জন্য আত্মোৎসর্গের প্রতীক হিসেবে স্মরণ করে।
কসোভোতে সার্বীয় অর্থোডক্স চার্চের বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন মঠ এবং সাংস্কৃতিক স্থাপনা রয়েছে, যেমন: পেক প্যাট্রিয়ার্কেট (Peć Patriarchate) এবং ভিসোকি দেচানি (Visoki Dečani)। এই ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নগুলির কারণেই সার্বীয়দের কাছে কসোভো 'সার্বিয়ার হৃদপিণ্ড' তুল্য এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ।
অন্যান্য বিকল্পগুলি (রণকৌশলগত গুরুত্ব বা মুসলিম বিদ্বেষ) সংঘাতের সহযোগী কারণ হতে পারে, কিন্তু মূল সংবেদনশীলতা ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
18

কোন চুক্তি অনুসারে বসনিয়া সংকট সমাধানের পথ সুগম হয়েছিল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জেনেভা চুক্তি
  2. মাদ্রিদ চুক্তি
  3. ডেটন চুক্তি
  4. প্যারিস চুক্তি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

তিন বছরের বলকান যুদ্ধের অবসান এবং অখণ্ড গণতান্ত্রিক বসনিয়া-হার্জেগোভিনা গঠনের লক্ষ্যে ১৯৯৫ সালের নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও রাজ্যে ডেটন শহরের রাইট পিটারসন বিমান ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় খসড়া শান্তি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ ফ্রান্সের প্যারিসে যুদ্ধরত বসনিয়া, সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যে ডেটন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

ব্যাখ্যা

বসনিয়া সংকট বা বসনিয়ান যুদ্ধ (১৯৯২-১৯৯৫) সমাধানের পথ সুগম হয়েছিল ডেটন চুক্তি (Dayton Agreement) অনুসারে।
এই চুক্তিটি ১৯৯৫ সালের নভেম্বর মাসে আমেরিকার ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ডেটন শহরে প্রাথমিক আলোচনা ও চুক্তির মাধ্যমে চূড়ান্ত হয়।
ডেটন চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয় ১৯৯৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর ফ্রান্সের প্যারিস শহরে। এই চুক্তি বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার রাজনৈতিক কাঠামোকে ফেডারেশন অব বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা এবং রিপাবলিকা শ্রপস্কা—এই দুটি সত্তায় বিভক্ত করে।
অন্যান্য অপশনগুলো (জেনেভা, মাদ্রিদ, প্যারিস চুক্তি) বসনিয়া সংকটের সরাসরি শান্তি চুক্তির নাম হিসেবে পরিচিত নয়।
19

রাশিয়ার যে শহরে হাসপাতালে আক্রমণ করার পর বাধ্য হয়ে রাশিয়া চেচনিয়ার সাথে শান্তি বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছে তার নাম-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. Budennovsk
  2. Keldavisk
  3. Dasanova
  4. Gariev

সঠিক উত্তর: ক

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো Budennovsk (বুদিয়োনোভস্ক)
এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি ১৯৯৫ সালের ১৪-১৯ জুন প্রথম চেচেন যুদ্ধের (First Chechen War, 1994-1996) সময় ঘটেছিল।
চেচেন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা শামিল বাসায়েভ-এর নেতৃত্বে জঙ্গিরা রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বুদিয়োনোভস্কের একটি হাসপাতালে প্রায় ১৫০০ মানুষকে জিম্মি করে।
এই নজিরবিহীন ও নৃশংস আক্রমণের ফলে শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত হয় এবং রাশিয়ার উপর তীব্র আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি হয়। ফলস্বরূপ, রাশিয়ার তৎকালীন সরকার (প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলতসিন) বাধ্য হয়ে চেচেনদের সাথে সামরিক আলোচনা বন্ধ করে সাময়িক শান্তি বৈঠকে বসতে রাজি হয়।
20

১৯৯৪-এ নববর্ষের দিনে কার নেতৃত্বাধীন বাহিনী কাবুল শহর আক্রমণ করে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মজিবুল্লাহ
  2. আহমেদ শাহ মাসুদ
  3. আবদুর রশীদ দোস্তাম
  4. গুলবুদ্দীন হেকমতিয়ার

সঠিক উত্তর: গ

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: আবদুর রশীদ দোস্তাম
আফগান গৃহযুদ্ধের সময়, বিশেষত ১৯৯৪ সালের ১লা জানুয়ারি (নববর্ষের দিন), আফগানিস্তানের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা মুজাহিদিন দলগুলোর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়।
এই আক্রমণকারী জোটের প্রধান দুই নেতা ছিলেন: উজবেক মিলিশিয়া নেতা আবদুর রশীদ দোস্তাম এবং পশতুনের শক্তিশালী নেতা গুলবুদ্দীন হেকমতিয়ার
তারা যৌথভাবে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বুরহানুদ্দিন রব্বানি এবং তার সামরিক কমান্ডার আহমেদ শাহ মাসুদের নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর সামরিক হামলা শুরু করেন, যা কাবুলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করে।
উল্লেখ্য, আহমেদ শাহ মাসুদ ছিলেন আক্রান্ত পক্ষের প্রধান প্রতিরক্ষা কৌশলবিদ এবং মজিবুল্লাহ ১৯৯২ সালেই ক্ষমতাচ্যুত হন।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
21

ভারতীয় জনতা পার্টির মতে অধিকৃত কাশ্মীরীদের সংগ্রামের একমাত্র সমাধান হচ্ছে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণভোট অনুষ্ঠান
  2. সিমলা চুক্তি অনুযায়ী সমস্যার সমাধান করা
  3. পাকিস্তানের সাথে যোগ দিতে না দিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করা
  4. সংবিধান থেকে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

৫ আগস্ট, ২০১৯ ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা তুলে নেয় দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এ সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির নির্দেশনামা পড়ে শোনান। এতে প্রায় ৭০ বছর আগে ভারতীয় সংবিধানে কাশ্মীরকে দেয়া বিশেষ মর্যাদা ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের নির্দেশনা দেয়া হয়। বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যকে দ্বিখণ্ডিত করে কেড়ে নেয়া হয় তার পৃথক রাজ্যের মর্যাদাও।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: সংবিধান থেকে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করা
জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার করা ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) একটি বহু পুরোনো এবং মূল রাজনৈতিক এজেন্ডা ছিল। তাদের মতে, এই বিশেষ মর্যাদার কারণেই কাশ্মীর সমস্যা জিইয়ে ছিল।
২০১৯ সালের ৫ আগস্ট, ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ (Article 370) বাতিল করে দেয়। এই অনুচ্ছেদটিই জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে বিশেষ স্বায়ত্তশাসন বা বিশেষ মর্যাদা প্রদান করেছিল।
এই পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বিজেপি সরকার মনে করে যে কাশ্মীর সমস্যার সামরিক বা রাজনৈতিক সমাধানের চেয়ে সাংবিধানিক উপায়ে রাজ্যটিকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সম্পূর্ণভাবে একীভূত করাই হলো 'একমাত্র সমাধান'।
অন্যান্য বিকল্প, যেমন—জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণভোট অনুষ্ঠান (অপশন ১) অথবা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন (অপশন ৩), ভারত কখনোই সমর্থন করে না এবং এটি বর্তমান সরকারের নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
22

তাসখন্দ চুক্তি কখন স্বাক্ষরিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর
  2. ১৯৬৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর
  3. ১৯৬৬ সালের ১০ জানুয়ারি
  4. ১৯৬৭ সালের ৩০ জানুয়ারি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

১০ জানুয়ারি, ১৯৬৬ তৎকালীন সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র উজবেকিস্তানের তাসখন্দ শহরে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে এ চুক্তি হয়। চুক্তি স্বাক্ষরকারী ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান এবং সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী কোসিগান।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৯৬৬ সালের ১০ জানুয়ারি। এটিই হলো বিখ্যাত তাসখন্দ চুক্তির স্বাক্ষরের তারিখ।
এই চুক্তিটি মূলত ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ (কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে) সমাপ্তির জন্য করা হয়েছিল।
তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় (Mediator) এই চুক্তিটি বর্তমান উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস ছিল যুদ্ধের সময়কাল, চুক্তির সময় নয়।
23

সৌদি আরবে আমেরিকান সৈন্য মোতায়েনের উদ্দেশ্য-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ইরাকের আক্রমণ হতে সৌদি আরবকে রক্ষা করা
  2. ইরাকের কুয়েত দখল অবসান করা
  3. স্বল্পমূল্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা
  4. উপরের সবকটি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

১৯৯০ সালের ২ আগস্ট ইরাক কুয়েত দখল করলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা- বিধানকল্পে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি ভূখণ্ডে সৈন্য মোতায়েন করে এবং পরবর্তীতে কুয়েত মুক্তকরণকে অন্যতম লক্ষ্য নির্ধারণ করে। শিল্পোন্নত দেশগুলোর প্রধান জ্বালানি উপাদান খনিজ তেলের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং তেলের মূল্য যাতে না বাড়ে সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ ছিল মার্কিন সৈন্য মোতায়েনের প্রচ্ছন্ন উদ্দেশ্য।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: উপরের সবকটি। কারণ আমেরিকান সৈন্য মোতায়েনের উদ্দেশ্য ছিল বহুমুখী এবং এগুলি মূলত প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ (Gulf War, ১৯৯০-৯১) এর প্রেক্ষাপটে গৃহীত হয়েছিল।
ইরাকের নেতা সাদ্দাম হুসেন কুয়েত দখল করার পর, পশ্চিমা বিশ্ব ভয় পায় যে ইরাক এরপর তেলসমৃদ্ধ সৌদি আরবকেও আক্রমণ করতে পারে।
প্রথম উদ্দেশ্য ছিল, ইরাকের আক্রমণ হতে সৌদি আরবকে রক্ষা করা (Operation Desert Shield)। সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের উৎস নিরাপদ থাকে।
দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিল, সৌদি আরবকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে ইরাকের কুয়েত দখল অবসান করা। এই সামরিক অভিযানের নাম ছিল অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম
তৃতীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত উদ্দেশ্য ছিল, বিশ্ব বাজারে স্বল্পমূল্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা। যদি ইরাক সৌদি তেলক্ষেত্রগুলি নিয়ন্ত্রণ করতো, তবে তারা বৈশ্বিক তেলের দামে একচেটিয়া প্রভাব ফেলতে পারত, যা পশ্চিমা অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলত। যেহেতু তিনটি কারণই প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, তাই সঠিক উত্তর 'উপরের সবকটি'।
24

শাত-ইল-আরবকে কেন্দ্র করে ইরাক ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির নাম–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দামেস্ক চুক্তি
  2. আলজিয়ার্স চুক্তি
  3. কায়রো চুক্তি
  4. বৈরুত চুক্তি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ইরাক-ইরান উপসাগরীয় যুদ্ধ শুরু হয় ১৯৮০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর। শাত-ইল-আরব জলপথের অধিকার নিয়ে এই দুটি উপসাগরীয় দেশের মধ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত। জাতিসংঘের আহ্বানে ২৯ আগস্ট ১৯৮৮ ইরাক-ইরান যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আলজিয়ার্স চুক্তি (Algiers Agreement)
শাত-ইল-আরব (Shatt al-Arab) হলো পারস্য উপসাগরে পতিত হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যা ইউফ্রেটিস (ফোরাত)টাইগ্রিস (দজলা) নদীর মিলনস্থলে সৃষ্ট। এই জলপথের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ইরাক এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল।
এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালের ৬ মার্চ আলজেরিয়ার মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যা আলজিয়ার্স চুক্তি নামে পরিচিত।
এই চুক্তি অনুযায়ী, শাত-ইল-আরব জলপথের সীমানা নদীর গভীরতম অংশ (Thalweg Line) বরাবর নির্ধারিত হয়, যা মূলত ইরানের পক্ষে গিয়েছিল।
অন্যান্য চুক্তি যেমন দামেস্ক, কায়রো বা বৈরুত চুক্তি এই নির্দিষ্ট ভৌগোলিক বিরোধের সাথে সম্পর্কিত নয়।
25

নিকারাগুয়ায় যে বিদ্রোহীদের যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে তার নাম–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ইউনিটা
  2. সান্ডিনিস্টা
  3. কন্ট্রা
  4. সোয়াপো

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

মধ্য আমেরিকার হ্রদ ও আগ্নেয়গিরির দেশ নিকারাগুয়ার বিদ্রোহী গ্রুপ কন্ট্রা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট। ১৯৯০ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এ অঞ্চলে শান্তি আনয়নে গঠন করে মধ্য আমেরিকায় জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক দল (ONUCA) এবং পর্যবেক্ষক দলটি কন্ট্রা বিদ্রোহীদের স্বেচ্ছা তদারক করে। ফলশ্রুতিতে হন্ডুরাস ও নিকারাগুয়ায় প্রায় ২২ হাজার কন্ট্রা বিদ্রোহী জাতিসংঘ পর্যবেক্ষকদের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কন্ট্রা (Contra)
কন্ট্রা ছিল নিকারাগুয়ার একটি ডানপন্থী ও সরকারবিরোধী গেরিলা বাহিনী। ১৯৮০-র দশকে এই বাহিনীটি নিকারাগুয়ার বামপন্থী সান্ডিনিস্টা জাতীয় মুক্তি ফ্রন্ট (FSLN) সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
স্নায়ুযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান-এর প্রশাসন সমাজতান্ত্রিক সান্ডিনিস্টা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে কন্ট্রা বিদ্রোহীদের সামরিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিল। তাই যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নাম ছিল কন্ট্রা
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল। সান্ডিনিস্টা ছিল নিকারাগুয়ার ক্ষমতায় থাকা সরকার, যাদের যুক্তরাষ্ট্র বিরোধিতা করত। ইউনিটা (UNITA) হলো অ্যাঙ্গোলার বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং সোয়াপো (SWAPO) নামিবিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনকারী দল।
ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও মেডিকেলসহ ২৭+ ইউনিট-ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর এডমিশন সেকশনে।

ভর্তি প্রশ্নব্যাংক দেখুন

এই অধ্যায়ের প্রশ্ন টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করুন

এই পেজে বাছাইকৃত ২৫টি প্রশ্ন সমাধানসহ দেওয়া হয়েছে। প্র্যাকটিস মোডে এক-একটি করে উত্তর দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল, স্কোর ও অগ্রগতি ট্র্যাক করুন।

কেন BCS Preliminary-এর জন্য “আন্তর্জাতিক বিরোধ ও যুদ্ধ” অধ্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ?

BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষার আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি অংশে “আন্তর্জাতিক বিরোধ ও যুদ্ধ” থেকে প্রায় প্রতিবারই প্রশ্ন আসে। বিগত সালের প্রশ্নের ধরন বুঝে নিয়মিত অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ের নম্বর নিশ্চিত করা সহজ হয় — এই পেজের বাছাইকৃত প্রশ্নগুলো ঠিক সেই প্রস্তুতির জন্যই সাজানো।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

"আন্তর্জাতিক বিরোধ ও যুদ্ধ" অধ্যায় থেকে কেমন প্রশ্ন আসে?

BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষায় আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি বিষয়ের "আন্তর্জাতিক বিরোধ ও যুদ্ধ" অধ্যায় থেকে নিয়মিত MCQ আসে। এই পেজে বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক জায়গায় দেওয়া হয়েছে — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ।

উত্তর ও সমাধান কি বিনামূল্যে?

হ্যাঁ। প্রশ্ন, অপশন, সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যা — সবই লগইন ছাড়াই বিনামূল্যে দেখা যায়। টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করতে চাইলে একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট দিয়ে প্র্যাকটিস মোডে যান।