সমাধান
সমাধান
💼
সাধারণ বিজ্ঞান

জীব বিজ্ঞান

BCS Preliminary · সাধারণ বিজ্ঞান — বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক পেজে।

নিচে BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষার সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের "জীব বিজ্ঞান" অধ্যায়ের বাছাইকৃত ১৪৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ। সবই বিনামূল্যে।

1

মানুষের দেহকোষে ক্রোমোজমের সংখ্যা-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৪৪টি
  2. ৪২টি
  3. ৪৬টি
  4. ৪৮টি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

কোষস্থ নিউক্লিয়াসে অবস্থিত অনুলিপন ক্ষমতা সম্পন্ন, রঙ ধারণকারী এবং নিউক্লিওপ্রোটিন দ্বারা গঠিত যে সব সূত্রাকৃতির ক্ষুদ্রাঙ্গ বংশগতীয় উপাদান ধারণ ও প্রকরণ করে তাদের ক্রোমোজোম বলে। মানব দেহের ৪৬টি অর্থাৎ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। এদের ২২ জোড়া বা ৪৪ টি নারী পুরুষে নির্বিশেষে একই রকম। এদের বলে অটোজোম। বাকি এক জোড়া নারী ও পুরুষে আলাদা হয়। এদের বলে সেক্স ক্রোমোজম। মানব দেহে দুই ধরনের সেক্স ক্রোমোজোম থাকে যথা- X এবং Y ক্রোমোজোম।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ৪৬টি
মানুষের দেহকোষে (Somatic Cell) মোট ২৩ জোড়া ক্রোমোজম থাকে। যেহেতু এক জোড়ায় দুটি, তাই মোট ক্রোমোজমের সংখ্যা হলো 23×2=4623 \times 2 = 46টি।
এই ৪৬টি ক্রোমোজমের মধ্যে ৪৪টি (২২ জোড়া) হলো অটোজোম (Autosome), যা দেহের বৈশিষ্ট্য বহন করে। বাকি ২টি (১ জোড়া) হলো সেক্স ক্রোমোজম (Sex Chromosome), যা লিঙ্গ নির্ধারণ করে।
অন্যান্য অপশনগুলো (৪৪, ৪২, ৪৮) ভুল, কারণ ৪৪টি ক্রোমোজম কেবলমাত্র অটোজোম সংখ্যা নির্দেশ করে, কিন্তু দেহকোষে সেক্স ক্রোমোজমও (২টি) অন্তর্ভুক্ত থাকে।
2

সুষম খাদ্যে শর্করা, আমিষ ও চর্বিজাতীয় খাদ্যের অনুপাত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৪ : ১ : ১
  2. ৪ : ২ : ২
  3. ৪ : ২ : ৩
  4. ৪ : ৩ : ২

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

খাদ্যের ৬টি উপাদান শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং পানি যে খাদ্যে সুষম মাত্রায় মিশ্রিত থাকে তাকে সুষম খাদ্য বলে। সুষম খাদ্যে শর্করা, আমিষ ও চর্বির অনুপাত হয় ৪ : ১ : ১। অর্থাৎ সুষম খাদ্যে আমিষ ও চর্বি সমান পরিমাণে থাকবে এবং শর্করা থাকবে তার চারগুণ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ৪ : ১ : ১
একটি সুষম খাদ্যে (Balanced Diet) প্রধানত তিনটি ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মুখ্য খাদ্য উপাদানের (শর্করা, আমিষ ও চর্বি) প্রয়োজন হয়। এদের মধ্যে, আমাদের শরীরের শক্তির প্রধান উৎস হলো শর্করাজাতীয় খাদ্য (Carbohydrate)
তাই শর্করাকে খাদ্যের তালিকায় সবচেয়ে বেশি পরিমাণে রাখা হয় (৪ অংশ)।
অন্যদিকে, দেহের গঠন, ক্ষয়পূরণ, এবং এনজাইম ও হরমোন তৈরির জন্য প্রয়োজন আমিষ (Protein)। আর চর্বি (Fat) সংরক্ষিত শক্তি, ফ্যাটে দ্রবণীয় ভিটামিন শোষণ এবং কোষপর্দা গঠনে সহায়তা করে। এই দুটি উপাদানের প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম এবং প্রায় সমান।
স্বীকৃত আদর্শ অনুপাত তাই শর্করা : আমিষ : চর্বি = ৪ : ১ : ১। অর্থাৎ মোট খাদ্যের ৫৬%-৬০% শর্করা, ১৫%-২০% আমিষ এবং ১৫%-২০% চর্বি থাকবে।
3

মানুষের শরীরের রক্তের গ্রুপ কয়টি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চারটি
  2. পাঁচটি
  3. তিনটি
  4. দুইটি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

রক্তের লোহিত কণিকায় এন্টিজেন এবং রক্তরসে এন্টিবডির উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির উপর ভিত্তি করে রক্তকে ৪ টি গ্রুপে ভাগ করা হয়। যথা- A, B, O এবং AB। O গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা বলা হয়। O গ্রুপের রক্ত যে কোন ব্যক্তির (O, A, B ও AB গ্রুপধারী) শরীরে দেওয়া যায়। AB গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয়। AB গ্রুপধারী ব্যক্তি যে কোন গ্রুপের রক্ত গ্রহণ করতে পারে। রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার করেন কার্ল ল্যান্ড স্টেইনার।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: চারটি
মানবদেহের রক্তকে প্রধানত ABO সিস্টেমের মাধ্যমে শ্রেণীবিন্যাস করা হয়। ABO সিস্টেম অনুযায়ী রক্তের প্রধান গ্রুপ বা শ্রেণি হলো ৪টি
এই চারটি গ্রুপ হলো: A, B, AB, এবং O
রক্তের শ্রেণিবিভাগ অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে করা হয়। রক্তের লোহিত কণিকায় (RBC) থাকা অ্যান্টিজেন A বা অ্যান্টিজেন B এর উপস্থিতির মাধ্যমেই এই চারটি গ্রুপের সৃষ্টি হয়।
মনে রাখবেন, রক্তের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাজন পদ্ধতি হলো Rh ফ্যাক্টর। Rh ফ্যাক্টর যুক্ত হলে প্রতিটি গ্রুপ আবার পজিটিভ (+) বা নেগেটিভ (-) হতে পারে (যেমন: A+, A-, B+, B- ইত্যাদি)। কিন্তু মূল গ্রুপের সংখ্যা চারটিই
4

অণুজীব বিজ্ঞানের জনক কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রবার্ট কক্‌
  2. লুইস পাস্তুর
  3. এডওয়ার্ড জেনার
  4. এন্টনি ভন লিউয়েনহুক

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

হল্যান্ডের বিজ্ঞানী এন্টনি ভন লিউয়েন হুককে অণুজীব বিজ্ঞানের জনক বলা হয়। তিনি অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করে ১৬৭৫ সালে সেটা দিয়ে ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেন। এছাড়াও তিনি মাংসপেশী, লোহিত রক্ত কণিকা, শুক্রাণু ইত্যাদির বর্ণনা দেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: এন্টনি ভন লিউয়েনহুক (Antoni van Leeuwenhoek)
এন্টনি ভন লিউয়েনহুককে অণুজীব বিজ্ঞানের জনক (Father of Microbiology) বলা হয়, কারণ তিনিই সর্বপ্রথম ১৬৭৬ সালে নিজের তৈরি উন্নত অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে এককোষী জীব বা অণুজীব (যা তিনি 'অ্যানিম্যালকিউলস' নামে অভিহিত করেন) পর্যবেক্ষণ ও বর্ণনা করেন।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানীগণ:
১. লুইস পাস্তুর (Louis Pasteur): তিনি আধুনিক অণুজীব বিজ্ঞানের জনক (Father of Modern Microbiology) এবং প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন (যেমন জলাতঙ্কের টিকা)। তিনি পাস্তুরায়ন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।
২. রবার্ট কক্‌ (Robert Koch): তিনি জীবাণু তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন এবং যক্ষ্মা (Tuberculosis) ও কলেরা রোগের জীবাণু আবিষ্কার করেন।
৩. এডওয়ার্ড জেনার (Edward Jenner): তিনি গুটিবসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন, তাই তাঁকে রোগ-প্রতিরোধ বা অনাক্রম্যতাবিজ্ঞানের জনক (Father of Immunology) বলা হয়।
5

বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে উদ্ভিদের কোন খাদ্য উপাদান বৃদ্ধি পায়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নাইট্রোজেন
  2. পটাশিয়াম
  3. অক্সিজেন
  4. ফসফরাস

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে নাইট্রোজেন। বাতাসের নাইট্রোজেন পানিতে মিশে মাটিতে শোষিত হওয়ার পরে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। নাইট্রেট (NO3−) আয়ন হিসাবে উদ্ভিদ সাধারণত মাটি থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে। বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে উদ্ভিদের খাদ্য উপাদান নাইট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। কারণ আকাশে বিদ্যুৎক্ষরণের সময় নাইট্রোজেন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে নাইট্রোজেনের অক্সাইডসমূহ উৎপন্ন করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নাইট্রোজেন
বজ্রপাত বা বজ্রবৃষ্টির সময় বায়ুমণ্ডলে অত্যধিক তাপ ও বিদ্যুৎ শক্তির সৃষ্টি হয়। এই উচ্চ শক্তি বায়ুমণ্ডলের নিষ্ক্রিয় নাইট্রোজেন গ্যাস (N2N_2) এবং অক্সিজেন (O2O_2)-কে একত্রিত করে নাইট্রোজেন অক্সাইড (Nitrogen Oxides) তৈরি করে।
এই নাইট্রোজেন অক্সাইড বৃষ্টির জলের সাথে মিশে দুর্বল নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3HNO_3) গঠন করে এবং অ্যাসিড বৃষ্টি হিসেবে মাটিতে নেমে আসে।
মাটিতে আসার পর এই নাইট্রিক অ্যাসিড মাটির ক্ষারীয় পদার্থের সাথে বিক্রিয়া করে নাইট্রেট (Nitrate) লবণে পরিণত হয়। উদ্ভিদ সরাসরি এই নাইট্রেট লবণ শোষণ করে এবং নিজেদের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেনের চাহিদা পূরণ করে।
এটি বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধন (Atmospheric Nitrogen Fixation) প্রক্রিয়ার একটি অংশ।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
6

ফলিক এসিডের অন্য নাম কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভিটামিন বি ১২
  2. ভিটামিন বি ৬
  3. ভিটামিন বি ১
  4. ভিটামিন বি ৯

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ফলিক এসিড বা ভিটামিন বি ৯ হচ্ছে ভিটামিন বি এর একটি রূপ যা প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট ও পানিতে দ্রবণীয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ভিটামিন বি ৯। ফলিক এসিড হলো পানিতে দ্রবণীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বি-কমপ্লেক্স ভিটামিন। এটি ১৯৪১ সালে আবিষ্কৃত হয়।
এই ভিটামিনটি মূলত রক্তের লোহিত কণিকা তৈরি (Red Blood Cell production) এবং কোষের ডিএনএ সংশ্লেষণের (DNA Synthesis) জন্য অপরিহার্য।
অন্যান্য অপশনগুলোর রাসায়নিক নাম নিম্নরূপ, তাই সেগুলো ভুল উত্তর:
ভিটামিন বি ১: থায়ামিন (Thiamine)
ভিটামিন বি ৬: পাইরিডক্সিন (Pyridoxine)
ভিটামিন বি ১২: সায়ানোকোবালামিন (Cyanocobalamin)
7

যে কারণে শৈশব-অন্ধত্ব হতে পারে তা হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. এইচআইভি/এইডস
  2. ম্যালেরিয়া
  3. হাম
  4. যক্ষ্মা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

হাম হলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়, তা থেকে শিশুদের মৃত্যু হবার ঝুঁকি থাকে। হামের সংক্রমণে শিশুদের ফুসফুসে ও মস্তিষ্কে প্রদাহ, শ্রুতিহানি এমনকি অন্ধত্বের শিকার হতে পারে। এই কারণে হামে আক্রান্ত সমস্ত শিশুকে ২৪ ঘণ্টা পর দুই মাত্রায় সম্পূরক ভিটামিন এ দেয়া হয়, যাতে হামের কারণে সৃষ্ট ভিটামিন এর অভাব পূরণ হয় (যা অপুষ্টিতে না ভোগা শিশুদেরও হতে পারে) এবং চোখের ক্ষতি বা অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা যায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: হাম (Measles)। হাম হলো একটি ভাইরাসজনিত অত্যন্ত সংক্রামক রোগ যা শিশুদের ক্ষেত্রে মারাত্মক হতে পারে।
হামের ফলে সৃষ্ট অন্যতম প্রধান জটিলতা হলো চোখের সংক্রমণ বা কর্ণিয়ার ক্ষতি। বিশেষ করে যেসব শিশু একই সাথে ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে ভোগে, হাম তাদের চোখের কর্ণিয়াকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে (কেরাটোমালয়েশিয়া), যা শেষ পর্যন্ত শৈশব-অন্ধত্বের কারণ হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী, হাম (Measles) বিশ্বজুড়ে শৈশব-অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান প্রতিরোধযোগ্য কারণ।
অন্যান্য অপশনগুলো—এইচআইভি/এইডস, ম্যালেরিয়া বা যক্ষ্মা—চোখের জটিলতা সৃষ্টি করলেও, হামের মতো এত ব্যাপক হারে সরাসরি শৈশব-অন্ধত্বের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত নয়।
8

শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল দিতে হয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বছরে একবার
  2. বছরে দুইবার
  3. বছরে তিনবার
  4. এর কোনটিই নয়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয় বছরে দুইবার। শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর উপকারিতা- ১. শিশুর রাতকানা ও অন্ধত্ব রোগ প্রতিরোধ করে। ২. শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বছরে দুইবার (Twice a year)।
বাংলাদেশে জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন-এর আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
এই ক্যাম্পেইন সাধারণত বছরে দু'টি ধাপে পরিচালিত হয় (যেমন: জানুয়ারী/ফেব্রুয়ারী এবং জুন/জুলাই)। এই দুইবার ক্যাপসুল খাওয়ানোর মাধ্যমে শিশুদের শরীরে ভিটামিন এ-এর ঘাটতি পূরণ করা হয় এবং তাদেরকে রাতকানা রোগ সহ অন্যান্য রোগ থেকে রক্ষা করা হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ ক্যাম্পেইনের সরকারি নীতি অনুযায়ী বছরে নির্দিষ্টভাবে দুইবারই এই ক্যাপসুল বিতরণ করা হয়।
9

ব্যাকটেরিয়ার গতিশীলতার জন্য তার যে গঠন দায়ী তা হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পিল্লি
  2. ফ্ল্যাজেলা
  3. শীথ
  4. ক্যাপসুলস

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ফ্ল্যাজেলা ব্যাকটেরিয়ার গতিশীলতা বা গতিবিধি বা চলাচলে সহায়তা করে। এটি কোষের পৃষ্ঠের সাথে বিশেষভাবে কোষের ঝিল্লি বা সাইটোপ্লাজমের সাথে লেগে থাকে এবং গতিশীলতাকে উৎসাহিত করে। প্রোক্যারিওটে ফ্ল্যাজেলা গঠন সহজ এবং এতে মূলত তিনটি অংশ রয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: ফ্ল্যাজেলা (Flagella)
ফ্ল্যাজেলা হলো ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরের বাইরে অবস্থিত দীর্ঘ, সূক্ষ্ম, চুলের মতো উপাঙ্গ যা ব্যাকটেরিয়ার গতিশীলতা (Motility) বা চলনে সাহায্য করে। এটি অনেকটা নৌকার হাল (Propeller) বা ইঞ্জিনের মতো কাজ করে, যা ব্যাকটেরিয়াকে তরল মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে সাহায্য করে।
অন্যদিকে, পিল্লি (Pili) হলো ফ্ল্যাজেলার চেয়েও ছোট ও অসংখ্য সূক্ষ্ম লোমশ গঠন। এগুলি সাধারণত ব্যাকটেরিয়াকে কোনো তলে সংযুক্ত হতে এবং যৌন জনন (Conjugation) এর মাধ্যমে জিনগত পদার্থ আদান-প্রদানে সাহায্য করে, তবে চলনে নয়।
ক্যাপসুলস (Capsules) হলো ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরের বাইরে একটি প্রতিরক্ষামূলক আবরণ, যা ব্যাকটেরিয়াকে শুকিয়ে যাওয়া বা ফ্যাগোসাইটোসিসের হাত থেকে রক্ষা করে, এটি গতিশীলতার জন্য দায়ী নয়।
10

ধারালো যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার ভাল পদ্ধতি-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বয়লিং
  2. বেনজিন ওয়াশ
  3. ফরমালিন ওয়াশ
  4. কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত বেশিরভাগ চিকিত্সা এবং অস্ত্রোপচারের ডিভাইসগুলি যেমন: স্ক্যাল্পেল, হাইপোডার্মিক সূঁচ এবং কৃত্রিম পেসমেকার কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন অথবা রাসায়নিকভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হয়। যেমন: ইথিলিন অক্সাইড গ্যাস ১৯৫০ সাল থেকে তাপ এবং আর্দ্রতা-সংবেদনশীল চিকিৎসা যন্ত্রের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়াও নিম্ন-তাপমাত্রার জীবাণুমুক্তকরণ ব্যবস্থা (যেমন: বাষ্পযুক্ত হাইড্রোজেন পারক্সাইড, পেরাসেটিক এসিড নিমজ্জন, ওজোন) তৈরি করা হয়েছে এবং চিকিত্সা ডিভাইসগুলোকে জীবাণুমুক্ত করতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন (Chemical Sterilization)।
ধারালো যন্ত্রপাতি যেমন—অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম বা স্ক্যালপেল (Scalpel) অত্যন্ত সূক্ষ্ম হয়। এগুলো যদি উচ্চ তাপমাত্রায় (যেমন: অটোক্লেভে) দীর্ঘ সময় ধরে রাখা হয়, তবে ধাতব অংশের ক্ষয়সাধন হতে পারে অথবা যন্ত্রপাতির ধার কমে যেতে পারে।
এই ধরনের সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি সম্পূর্ণভাবে জীবাণুমুক্ত করার জন্য সাধারণত রাসায়নিক পদ্ধতি (যেমন: গ্লুটারালডিহাইড বা পারঅ্যাসেটিক অ্যাসিডের সলিউশন) ব্যবহার করা হয়। এটি তাপের ক্ষতি ছাড়াই কার্যকরভাবে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং স্পোরকে ধ্বংস করতে পারে।
বয়লিং (Boiling) শুধুমাত্র জীবাণুনাশক (Disinfection) পদ্ধতি, সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্তকরণের (Sterilization) জন্য যথেষ্ট নয়, কারণ ব্যাকটেরিয়ার স্পোর এতে নষ্ট হয় না।
ফরমালিন ওয়াশ ধীরগতি সম্পন্ন এবং এর বিষাক্ততা বেশি, তাই ধারালো যন্ত্রপাতির জন্য এটি আদর্শ নয়।
তাই, ধারালো যন্ত্রপাতির তীক্ষ্ণতা বজায় রেখে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করার জন্য কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন-ই সর্বোত্তম আধুনিক পদ্ধতি।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
11

কোন জোড়াটি বেমানান?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. যক্ষ্মার জীবাণু : রবার্ট কাচ
  2. হোমিওপ্যাথি : হ্যানিম্যান
  3. ব্যাকটেরিয়া : রবার্ট হুক
  4. এনাটমি : ভেসলিয়াস

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

এখানে শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়া: রবার্ট হুক জোড়াটি বেমানান। কারণ ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক। তিনি সর্বপ্রথম ১৬৭৫ খ্রিষ্টাব্দে বৃষ্টির পানির মধ্যে নিজের তৈরি সরল অণুবীক্ষণযন্ত্রের নিচে ব্যাকটেরিয়া পর্যবেক্ষণ করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ব্যাকটেরিয়া : রবার্ট হুক। এই জোড়াটিই বেমানান (Mismatched)।
কারণ, ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু প্রথম পর্যবেক্ষণ ও আবিষ্কার করেন অ্যান্টন ভ্যান লিউয়েনহুক (Anton van Leeuwenhoek) ১৬৭৬ সালে। তিনি প্রাণীকোষ (Animalcules) হিসেবে এগুলোকে চিহ্নিত করেন।
অন্যদিকে, রবার্ট হুক ১৬৬৫ সালে 'কোষ' (Cell) আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত।
বাকি জোড়াসমূহ সঠিক:
১. যক্ষ্মার জীবাণু : রবার্ট কাচরবার্ট কাচ ১৮৮২ সালে যক্ষ্মার জীবাণু (টিউবারকল ব্যাসিলাস) আবিষ্কার করেন, যা সঠিক।
২. হোমিওপ্যাথি : হ্যানিম্যানস্যামুয়েল হ্যানিম্যান আধুনিক হোমিওপ্যাথির জনক, যা সঠিক।
৩. এনাটমি : ভেসলিয়াসঅ্যান্ড্রিয়াস ভেসলিয়াস আধুনিক অ্যানাটমির জনক হিসেবে পরিচিত, যা সঠিক।
12

এনজাইম, অ্যান্টিবডি এবং হরমোন এর মৌলিক উপাদান-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্রোটিন
  2. ক্যালসিয়াম
  3. ভিটামিন
  4. লবণ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

এনজাইম বা উৎসেচক হচ্ছে প্রোটিন দিয়ে গঠিত এক প্রকার অরগানিক ক্যাটালিস্ট (জৈব অনুঘটক)। দেহে অ্যান্টিজেনের উপস্থিতিতে প্রত্যুত্তর হিসেবে অ্যান্টিবডি নামক ইংরেজি ওয়াই (Y) আকৃতির প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিন জাতীয় পদার্থ তৈরি হয়। অধিকাংশ হরমোন প্রোটিন দিয়ে গঠিত। যেমন: ইনসুলিন, হিমোগ্লোবিন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো প্রোটিন। এনজাইম, অ্যান্টিবডি এবং বেশিরভাগ হরমোন - এই তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জৈব অণুর প্রধান ও মৌলিক উপাদান হলো প্রোটিন (Protein)

এনজাইম (Enzyme): সব এনজাইমই প্রকৃতিতে প্রোটিন এবং এরা জৈব-অনুঘটক (Biological Catalyst) হিসেবে কাজ করে, দেহের রাসায়নিক বিক্রিয়াকে দ্রুত করে।

অ্যান্টিবডি (Antibody): অ্যান্টিবডি (ইমিউনোগ্লোবিউলিন) বিশেষ ধরনের প্রোটিন অণু যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে এবং রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে।

হরমোন (Hormone): অধিকাংশ হরমোনই হয় প্রোটিন (যেমন: ইনসুলিন, গ্রোথ হরমোন) বা অ্যামাইনো অ্যাসিডের ডেরিভেটিভ দিয়ে গঠিত। কিছু হরমোন অবশ্য লিপিড (স্টেরয়েড) থেকে তৈরি হয়, কিন্তু সামগ্রিকভাবে প্রোটিন হলো এদের অন্যতম মৌলিক উপাদান।

অন্যদিকে, ক্যালসিয়াম হলো একটি খনিজ উপাদান (হাড় ও দাঁতের জন্য প্রয়োজনীয়), ভিটামিন হলো অল্প পরিমাণে প্রয়োজনীয় জৈব যৌগ, এবং লবণও খনিজ উপাদান—এগুলো মৌলিক কাঠামোগত উপাদান নয়।
13

মানবদেহে লোহিত কণিকার আয়ুষ্কাল কত দিন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৭ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ১৮০ দিন
  4. উপরের কোনটিই নয়

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

লোহিত রক্ত কণিকা দেহের অস্থিমজ্জায় তৈরী হয়ে ১২০ দিন পরে প্লীহাতে ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। লোহিত রক্তকণিকার বৈশিষ্ট্যঃ ♦ পরিণত লোহিত রক্তকণিকায় কোনো নিউক্লিয়াস থাকে না। ♦ লোহিত রক্তকণিকা দেখতে অনেকটা চাকতির মতো এবং দ্বি-অবতল। ♦ লোহিত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন থাকে। ♦ লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা শ্বেত রক্তকণিকার তুলনায় অনেক বেশি। ♦ লোহিত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: উপরের কোনটিই নয় (Correct Index 3)।
সুস্থ মানবদেহে লোহিত রক্তকণিকা বা Red Blood Cell (RBC) এর স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল হলো প্রায় ১২০ দিন
যেহেতু প্রশ্নে প্রদত্ত বিকল্পগুলির (৭ দিন, ৩০ দিন, ১৮০ দিন) মধ্যে ১২০ দিন সংখ্যাটি নেই, তাই সঠিক উত্তরটি হবে উপরের কোনটিই নয়
লোহিত রক্তকণিকার প্রধান কাজ হলো দেহের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পরিবহন করা। এটি হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির কারণে লাল দেখায়।
14

হার্ট থেকে রক্ত বাইরে নিয়ে যায় যে রক্তনালী-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভেইন
  2. আর্টারি
  3. ক্যাপিলারি
  4. নার্ভ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

হার্ট থেকে রক্ত বাইরে নিয়ে যায় আর্টারি বা ধমনি। করোনারি আর্টারি বাইপাস গ্রাফ্টিং (CABG) হল এমন এক সার্জারি যা করালে করোনারি আর্টারির মধ্য দিয়ে হৃদযন্ত্রে রক্তপ্রবাহকে বাড়ানো যায়। যাঁরা গুরুতর করোনারি হার্ট ডিজিজে (CHD), (যাকে করোনারি আর্টারি ডিজিজও বলা হয়) ভোগেন, তাঁদের জন্যই এই চিকিৎসা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আর্টারি (ধমনী)। আর্টারি হলো সেই রক্তনালী, যা হৃদপিণ্ড থেকে রক্তকে দেহের বিভিন্ন অংশে বাইরে বা দূরে বহন করে নিয়ে যায়।
ফুসফুসীয় ধমনী (Pulmonary Artery) বাদে সকল ধমনী অক্সিজেন সমৃদ্ধ (পরিশোধিত) রক্ত পরিবহন করে।
অন্যদিকে, ভেইন (শিরা) দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্তকে আবার হৃদপিণ্ডের দিকে (Towards the heart) বহন করে নিয়ে আসে।
ক্যাপিলারি (Capillary) হলো সবচেয়ে ক্ষুদ্র রক্তনালী, যেখানে টিস্যু ও রক্তের মধ্যে গ্যাস ও পুষ্টি উপাদান আদান-প্রদান হয়। নার্ভ (স্নায়ু) রক্ত সঞ্চালনের অংশ নয়।
15

প্রোটিন তৈরি হয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ফ্যাটি অ্যাসিড দিয়ে
  2. নিউক্লিক অ্যাসিড দিয়ে
  3. অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে
  4. উপরের কোনটিই নয়

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

প্রোটিন (আমিষ) জৈব বৃহৎ-অণুর প্রকারবিশেষ। প্রোটিন মূলত উচ্চ ভর বিশিষ্ট নাইট্রোজেন যুক্ত জটিল যৌগ যা অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার। জীন নির্দিষ্ট অনুক্রমে অনেকগুলি আলফা অ্যামিনো অ্যাসিড পেপটাইড বন্ধন দ্বারা পলিপেপটাইড শৃঙ্খল পলিমার তৈরি করে এবং তা সঠিকভাবে ভাঁজ হয়ে একটি প্রোটিন তৈরি হয়। ২০ প্রকার অ্যামাইনো অ্যাসিড প্রোটিন তৈরিতে অংশগ্রহণ করে। এদেরকে প্রোটিন অ্যামাইনো অ্যাসিড বলে। এদের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো অ্যাসিডকে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড বলে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে
প্রোটিন হলো জীবদেহের অন্যতম প্রধান ম্যাক্রোমলিকিউল (বৃহদাণু)। এটি পলিমার (Polymer) প্রকৃতির, যা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র একক বা মনোমার (Monomer) দ্বারা গঠিত হয়।
প্রোটিনের এই মৌলিক একক বা বিল্ডিং ব্লক হলো অ্যামিনো অ্যাসিড। প্রায় ২০ ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড (Amino Acid) বিভিন্ন অনুপাতে যুক্ত হয়ে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রোটিন তৈরি করে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল কারণ: ফ্যাটি অ্যাসিড হলো মূলত স্নেহ পদার্থ (Lipid/Fat) গঠনের একক। আর নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA/RNA) গঠিত হয় নিউক্লিওটাইড দ্বারা।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
16

প্রোটিন তৈরি হয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ফ্যাটি এসিড দিয়ে
  2. সাইট্রিক এসিড দিয়ে
  3. অ্যামিনো এসিড দিয়ে
  4. অক্সালিক এসিড দিয়ে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

প্রোটিন (Protein) হল এক প্রকারের বৃহৎ জৈব অণু কিংবা বৃহদাণু, যা এক বা একাধিক দীর্ঘ অ্যামিনো অ্যাসিডের শৃঙ্খল নিয়ে গঠিত। প্রোটিনগুলি জীবদেহের ভেতরে বিশাল সংখ্যক কার্য সম্পাদন করে। যেমন: বিপাকীয় বিক্রিয়াসমূহের অনুঘটন, ডিএনএ প্রতিলিপিকরণ, উদ্দীপকের প্রতি সাড়াদান, কোষ ও জীবদেহে কাঠামো প্রদান, এক স্থান থেকে অন্যত্র বিভিন্ন অণু পরিবহন ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো অ্যামিনো এসিড। প্রোটিন হলো জীবনের জন্য অপরিহার্য একটি ম্যাক্রোমলিকিউল (বৃহৎ জৈব অণু)।
এই প্রোটিনের গাঠনিক একক বা ভিত্তি হলো অ্যামিনো এসিড (Amino Acid)। অসংখ্য অ্যামিনো এসিড একে অপরের সাথে পেপটাইড বন্ধনী (Peptide Bond) দ্বারা যুক্ত হয়ে পলিপেপটাইড চেইন তৈরি করে, যা ভাঁজ হয়ে প্রোটিন অণু গঠন করে।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, ফ্যাটি এসিড হলো চর্বি বা লিপিড-এর গাঠনিক একক। সাইট্রিক এসিড এবং অক্সালিক এসিড বিপাকীয় কাজে অংশ নেয়, কিন্তু এগুলো প্রোটিনের মনোমার নয়।
17

কোভিড-১৯ যে ধরনের ভাইরাস-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. DNA
  2. DNA + RNA
  3. mRNA
  4. RNA

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ভাইরাস ২ ধরনের হয়ে থাকে। DNA ও RNA ভাইরাস। কোভিড-১৯ একটি RNA ভাইরাস। এর নিউক্লিওক্যাপসিড সর্পিলাকৃতির। এর জিনোমের আকার সাধারণত ২৭ থেকে ৩৪ কিলো বেস-পেয়ার এর মধ্যে হয়ে থাকে যা এ ধরনের RNA ভাইরাসের মধ্যে সর্ববৃহৎ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: RNA (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড)
কোভিড-১৯ (COVID-19) রোগের জন্য দায়ী ভাইরাসটির বৈজ্ঞানিক নাম হলো SARS-CoV-2। এই ভাইরাসটি Coronaviridae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।
ভাইরাসকে সাধারণত তাদের জেনেটিক উপাদানের ভিত্তিতে DNA ভাইরাস বা RNA ভাইরাস হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। SARS-CoV-2 হলো একটি সিঙ্গেল স্ট্র্যান্ডেড RNA (ssRNA) ভাইরাস।
এতে DNA বা DNA ও RNA-এর মিশ্রণ থাকে না। এটি সরাসরি হোস্ট সেলে প্রবেশ করে নিজস্ব RNA ব্যবহার করে প্রতিলিপি তৈরি করে।
18

নিম্নের কোন রোগটি DNA ভাইরাসঘটিত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ডেঙ্গুজ্বর
  2. স্মলপক্স
  3. কোভিড-১৯
  4. পোলিও

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

স্মলপক্স বা গুটিবসন্ত একটি দ্বি-সূত্রক DNA ভাইরাস যা হোস্ট কোষের সাইটোপ্লাজমে প্রতিলিপন করে। বাকি গুলো RNA ভাইরাস।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: স্মলপক্স (Smallpox)। স্মলপক্স রোগটি ভেরিয়োলা ভাইরাস (Variola virus) দ্বারা সৃষ্ট। এই ভাইরাসটি হল ডাবল স্ট্র্যান্ডেড DNA ভাইরাস (dsDNA virus) এবং এটি পক্সভাইরিডি (Poxviridae) গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।
ভাইরাসকে তাদের জেনেটিক ম্যাটেরিয়ালসের (Genetic Materials) ভিত্তিতে প্রধানত DNA ভাইরাস এবং RNA ভাইরাস—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
অন্যদিকে, বাকি তিনটি রোগ RNA ভাইরাসঘটিত:
(ক) ডেঙ্গুজ্বর: ডেঙ্গু ভাইরাস (ফ্ল্যাভিভাইরিডি গোত্র, RNA ভাইরাস)।
(খ) কোভিড-১৯: SARS-CoV-2 (করোনাভাইরিডি গোত্র, RNA ভাইরাস)।
(গ) পোলিও: পোলিও ভাইরাস (পিকোর্নাভাইরিডি গোত্র, RNA ভাইরাস)।
19

সালোকসংশ্লেষণে সূর্যের আলোর রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 0%
  2. ১০ -১৫%
  3. ৩-৬%
  4. 100%

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

গাছপালার সালোকসংশ্লেষণে সাধারণত ৩-৬% এর আলোকসংশ্লিষ্ট দক্ষতার সাথে সূর্যালোকের রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে।

ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ যে পরিমাণ সূর্যের আলো বা ফোটন শক্তি ব্যবহার করে সেটিকে রাসায়নিক শক্তিতে (গ্লুকোজ) পরিণত করার সামগ্রিক কর্মদক্ষতা (Efficiency) হলো ৩% থেকে ৬%
এই কারণে, অপশন (গ) ৩-৬% হলো সঠিক উত্তর। এটি একটি খুবই কম কর্মদক্ষতা (Low Efficiency), কারণ উদ্ভিদের পাতার মাধ্যমে সূর্যালোকের মাত্র সামান্য অংশই কার্যকরভাবে সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়।
বাকি অপশনগুলো সঠিক নয়। যেমন, ১০০% হওয়া সম্ভব নয়, কারণ শক্তি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সব সময়ই কিছু শক্তি তাপ হিসেবে অপচয় হয় (তাপগতিবিদ্যার সূত্র)। ১০-১৫% বা তার বেশি কর্মদক্ষতা সাধারণত পরিবেশে দেখা যায় না।
20

হৃদযন্ত্রের সংকোচন হওয়াকে বলা হয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ডায়াস্টল
  2. সিস্টল
  3. ডায়াসিস্টল
  4. উপরের কোনটিই নয়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

হৃদপিণ্ড অনবরত সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে রক্ত প্রবাহকে ক্রমাগত সঞ্চালন করে। হৃদপিণ্ড যখন সংকুচিত হয় তখন রক্ত চাপের ফলে ধমনীতে প্রবেশ করে আবার প্রসারিত হলে রক্ত ধমনী থেকে হৃদপিণ্ডে ফিরে আসে। হৃদপিণ্ডের প্রসারণকে বলা হয় ডায়াস্টল এবং সংকোচন কে বলা হয় সিস্টল। সিস্টোল অবস্থায় রক্তের চাপকে বলা হয় সিস্টলিক চাপ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সিস্টল (Systole)
হৃদপিণ্ডের কাজ করার প্রক্রিয়াটিকে কার্ডিয়াক চক্র (Cardiac Cycle) বলা হয়। এই চক্রে হৃদযন্ত্রের সংকোচন ও প্রসারণ ঘটে।
যখন হৃদপিণ্ডের পেশিগুলো সংকুচিত হয় (Contraction) এবং রক্ত দেহের ধমনীতে পাম্প করে বের করে দেয়, তখন তাকে সিস্টল বলা হয়। এটিই রক্তচাপের উপরের মানটি নির্দেশ করে (যেমন: 120 mmHg)।
বিপরীতে, যখন হৃদযন্ত্র প্রসারিত (Relaxation/Dilation) হয়ে রক্ত গ্রহণ করে এবং পূর্ণ হয়, সেই অবস্থাকে ডায়াস্টল (Diastole) বলা হয়। এটি রক্তচাপের নিচের মানটি নির্দেশ করে (যেমন: 80 mmHg)।
ডায়াসিস্টল (Diasystole) নামে কোনো স্বতন্ত্র প্রক্রিয়া নেই; এটি সাধারণত ডায়াস্টল-এরই একটি অংশ বোঝাতে পারে, কিন্তু মূল দুটি প্রক্রিয়া হলো সিস্টল ও ডায়াস্টল
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
21

কার্বোহাইড্রোডে C,H এবং O – এর অনুপাত কত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১ : ১ : ২
  2. ১: ২: ১
  3. ১ : ৩ : ২
  4. ১ : ৩ : ১

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কার্বোহাইড্রেট হলো কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমন্বয়ে গঠিত এক প্রকার জৈব রাসায়নিক পদার্থ। এতে C,H ও O– এর অনুপাত যথাক্রমে ১ : ২ : ১। কার্বোহাইড্রেট জীবদেহের শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১ : ২ : ১
কার্বোহাইড্রেটের নামকরণ করা হয়েছে এর রাসায়নিক গঠনের ভিত্তিতে। এর সাধারণ সংকেত হলো Cn(H2O)nC_n(H_2O)_n বা CnH2nOnC_n H_{2n} O_n
এই সংকেত থেকে দেখা যায়, কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H) এবং অক্সিজেন (O)-এর পরমাণু সংখ্যার অনুপাত হলো n:2n:nn : 2n : n
এই অনুপাতকে সরল করলে পাওয়া যায় ১ : ২ : ১
উদাহরণস্বরূপ, বহুল পরিচিত কার্বোহাইড্রেট গ্লুকোজের সংকেত হলো C6H12O6C_6 H_{12} O_6
এখানে C:H:O = ৬:১২:৬। এটিকে ৬ দ্বারা ভাগ করলে অনুপাত হয় ১:২:১
22

ডিমে কোন ভিটামিন নেই?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভিটামিন-এ
  2. ভিটামিন-বি
  3. ভিটামিন-সি
  4. ভিটামিন-ডি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ডিমে ভিটামিন সি নেই। ডিমের মধ্যে ভিটামিন- A, B, D ও E বিদ্যমান রয়েছে। ভিটামিন-সি রয়েছে টাটকা টক জাতীয় ফল ও তরিতরকারি যেমন- কমলালেবু, বাতাবিলেবু, পাতিলেবু, আনারস, আঙ্গুর, আম, জাম, আমলকি, টমেটো, শাক, বরবটি প্রভৃতিতে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ভিটামিন-সি
ডিমকে একটি প্রায় সম্পূর্ণ খাদ্য (Complete Food) বলা হয়, কারণ এতে প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ফ্যাট, মিনারেলস এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন প্রচুর পরিমাণে থাকে।
ডিমের কুসুম ভিটামিন এ, ডি, ই, কে এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের (যেমন B12, ফলিক অ্যাসিড) একটি চমৎকার উৎস।
তবে, ডিমে প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন-সি একেবারেই অনুপস্থিত থাকে।
ভিটামিন-সি মূলত টকজাতীয় ফল (যেমন: লেবু, আমলকী, পেয়ারা) এবং সতেজ শাকসবজিতে পাওয়া যায়। এটি একমাত্র ভিটামিন যা রান্নার তাপে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
23

কোনটির জন্য পুষ্প রঙ্গিন ও সুন্দর হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ক্রোমোপ্লাস্ট
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. ক্রোমোটোপ্লাস্ট
  4. লিউকোপ্লাস্ট

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

রঙিন (সবুজ ছাড়া) প্লাস্টিডকে ক্রোমোপ্লাস্ট বলে। ক্যারোটিন (কমলা-লাল) এবং জ্যান্থোফিল (হলুদ) পিগমেন্টের জন্যে এরা রঙিন হয়। উদ্ভিদের যেসব অঙ্গ বর্ণময় সেসব অঙ্গে ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে। ক্রোমোপ্লাস্টের উপস্থিতির জন্য পুষ্প, পাতা, ফল ও বীজ সুন্দর হয়। তাই কীটপতঙ্গ আকৃষ্ট হয়ে পরাগায়নে সাহায্য করে। রঙের কারণে ফল এবং বীজের বিস্তারেও এদের ভূমিকা রয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast)
ক্রোমোপ্লাস্ট হলো এমন এক ধরনের প্লাস্টিড, যা সবুজ বাদে অন্যান্য রঙের (যেমন: লাল, হলুদ, কমলা ইত্যাদি) রঞ্জক পদার্থ ধারণ করে। এই রঞ্জকগুলির মধ্যে ক্যারোটিন (Carotene) এবং জ্যান্থোফিল (Xanthophyll) প্রধান।
পুষ্প বা ফলকে রঙ্গিন ও সুন্দর করার প্রধান কাজ হলো এই ক্রোমোপ্লাস্টের। এই রং কীটপতঙ্গ বা প্রাণীকে আকর্ষণ করে, যা উদ্ভিদের পরাগায়ন বা বীজ বিতরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
24

খাদ্য তৈরির জন্য উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অক্সিজেন
  2. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  3. নাইট্রোজেন
  4. জলীয় বাষ্প

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বায়ু ছাড়া কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদ কিছুই বাঁচতে পারে না। আমরা যে শুধু শ্বাসকার্যে বায়ু ব্যবহার করি তা নয়, বায়ু সমগ্র উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলের জন্য খাদ্য যোগায়। আমাদের নিঃশ্বাস থেকে প্রতি মুহূর্তে বায়ুমণ্ডলে প্রচুর কার্বন ডাই-অক্সাইড যোগ হচ্ছে। উদ্ভিদ তাদের খাদ্য তৈরির জন্য বায়ু থেকে এই কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করছে এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কার্বন-ডাই-অক্সাইড
উদ্ভিদ যে প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করে, তাকে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড (extCO2 ext{CO}_2) গ্যাস গ্রহণ করে।
শিকড়ের মাধ্যমে শোষিত জল এবং পাতার ক্লোরোফিলসূর্যালোকের উপস্থিতিতে এই extCO2 ext{CO}_2 ব্যবহার করে শর্করা জাতীয় খাদ্য (গ্লুকোজ) তৈরি হয়।
খাদ্য তৈরির সময় অক্সিজেন উপজাত দ্রব্য হিসেবে পরিবেশে মুক্ত হয়। তাই অক্সিজেন গ্রহণ করে না, বরং ত্যাগ করে। নাইট্রোজেন সাধারণত মাটি থেকে গ্রহণ করে এবং জলীয় বাষ্পের চেয়ে মূলের মাধ্যমে জল শোষণই খাদ্যের মূল কাঁচামাল।
25

ব্যাকটেরিয়ার কোষে নিচের কোনটি উপস্থিত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্লাসটিড
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. নিউক্লিওলাস
  4. ক্রোমাটিন বস্তু

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যাকটেরিয়া এককোষী, ফিলামেন্টাস, কলোনিয়াল। ব্যাকটেরিয়ার কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই। এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নেই। এরা আদিকোষ (নিউক্লিয়াস সুগঠিত নয়) বিশিষ্ট এককোষী, আণুবীক্ষণিক জীব।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ক্রোমাটিন বস্তু
ব্যাকটেরিয়া হলো প্রোক্যারিওটিক (Prokaryotic) শ্রেণির জীব। প্রোক্যারিওটিক কোষের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এদের কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস (Nuclear Membrane) এবং ঝিল্লিবদ্ধ অঙ্গাণু (Membrane-bound organelles) থাকে না।
ব্যাকটেরিয়ার নিউক্লিয়াসবিহীন সাইটোপ্লাজমে গোলাকার, প্যাঁচানো যে DNA অংশটি থাকে, সেটিই হলো ক্রোমাটিন বস্তু (বা নিউক্লিওয়েড)। এই ক্রোমাটিন বস্তুই ব্যাকটেরিয়ার জেনেটিক উপাদান হিসেবে কাজ করে।
অন্যদিকে, প্লাসটিড, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং নিউক্লিওলাস হলো ঝিল্লিবদ্ধ অঙ্গাণু যা কেবল উন্নত ইউক্যারিওটিক (Eukaryotic) কোষে (যেমন উদ্ভিদ বা প্রাণী কোষে) উপস্থিত থাকে।
ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও মেডিকেলসহ ২৭+ ইউনিট-ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর এডমিশন সেকশনে।

ভর্তি প্রশ্নব্যাংক দেখুন
26

মস্তিষ্কের ডোপামিন তৈরির কোষগুলো নষ্ট হলে কি রোগ হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. এপিলেপসি
  2. পারকিনসন
  3. প্যারালাইসিস
  4. থ্রমবোসিন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

পারকিনসন রোগ মস্তিষ্কের এমন এক অবস্থা যাতে হাতে ও পায়ে কাঁপুনি হয় এবং আক্রান্ত রোগী চলাফেরায় অপারগ হয়। স্নায়ু কোষে ডোপামিন নামক এক প্রকার নির্যাস তৈরি হয় যা চলাফেরায় সহায়তা করে । পারকিনসন রোগে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ুকোষগুলো পেশিকোষগুলোকে সংবেদন পাঠাতে পারে না। ফলে পেশিকোষ কার্যকারিতা হারায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পারকিনসন
পারকিনসন রোগ হলো একটি মারাত্মক স্নায়বিক ব্যাধি (Neurodegenerative Disorder) যা মস্তিষ্কের কোষগুলোর ধীরে ধীরে ক্ষয় হওয়ার কারণে ঘটে।
মস্তিষ্কের মিডব্রেন (Midbrain) অঞ্চলে অবস্থিত 'সাবস্টানশিয়া নিগ্রা' (Substantia Nigra) নামক অংশটি ডোপামিন নামক নিউরোট্রান্সমিটার তৈরি করে। ডোপামিন শরীরের স্বাভাবিক নড়াচড়া ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সমন্বয় (Coordination) নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
যখন এই ডোপামিন উৎপাদনকারী কোষগুলো নষ্ট হতে শুরু করে, তখন মস্তিষ্কে ডোপামিনের অভাব দেখা দেয়। এর ফলে রোগী অনিয়ন্ত্রিত কম্পন (Tremor), পেশীর কাঠিন্য (Rigidity) এবং ধীরগতি (Bradykinesia) অনুভব করে, যা পারকিনসন রোগের প্রধান লক্ষণ।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন রোগ নির্দেশ করে: এপিলেপসি হলো মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের কারণে সৃষ্ট মৃগীরোগ, আর প্যারালাইসিস (পক্ষাঘাত) সাধারণত স্ট্রোক বা মেরুদণ্ডে আঘাতজনিত কারণে মাংসপেশীর কার্যক্ষমতা হারানোর ফল।
27

বাণিজ্যিকভাবে মৌমাছি পালনকে বলা হয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পিসিকালচার
  2. এপিকালচার
  3. মেরিকালচার
  4. সেরিকালচার

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বাণিজ্যিকভাবে মৌমাছি পালনকে বলা হয় এপিকালচার (Apiculture), অপরদিকে মৎস্যচাষ বিষয়ক বিদ্যা ও রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে যথাক্রমে পিসিকালচার (Pisciculture) ও সেরিকালচার (Sericulture) বলা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো এপিকালচার (Apiculture)
এপিকালচার হলো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বা বাণিজ্যিকভাবে মৌমাছি প্রতিপালন এবং তাদের থেকে মধু ও মোম সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া।
ল্যাটিন শব্দ ‘Apis’ অর্থ হলো মৌমাছি (Honey Bee), তাই মৌমাছি পালন বিদ্যাকে এপিকালচার বলা হয়।
অন্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
পিসিকালচার (Pisciculture): এটি হলো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার প্রক্রিয়া।
সেরিকালচার (Sericulture): এটি হলো রেশম পোকার চাষ এবং তাদের থেকে রেশম সুতা তৈরি করার পদ্ধতি।
মেরিকালচার (Mariculture): এটি হলো সমুদ্র বা সামুদ্রিক পরিবেশে সামুদ্রিক প্রাণী বা উদ্ভিদের চাষ (যেমন ঝিনুক, চিংড়ি বা সামুদ্রিক শৈবাল)।
28

মা-এর রক্তে হেপাটাইটিস –বি (Hepatitis –B) ভাইরাস থাকলে নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কি হওয়া উচিত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৩০ দিনের মধ্যে ভ্যাকসিন দিতে হবে
  2. ৭ দিন ইনকিউবেটরে রাখতে হবে
  3. জন্মের ১২ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন ও এইচবিআইজি (HBIG) শট দিতে হবে
  4. জন্মের ১ মাস পর কেবলমাত্র (HBIG) শট দিতে হবে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

যদি কোনো মা হেপাটাইটিস-বি দ্বারা আক্রান্ত থাকেন তবে তার গর্ভজাত সন্তানকে জন্মের ১২ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাক্সিন দিতে হবে। তবে এর সাথে এইচবিআইজি (HBIG) –এর শটও দিতে হবে এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য । মায়ের শরীরের হেপাটাইটিস-B –এর জীবাণুর উপস্থিতি শনাক্ত না হলে শিশুর জন্মের পর 24 ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাক্সিন প্রয়োগ করলেও চলে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: জন্মের ১২ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন ও এইচবিআইজি (HBIG) শট দিতে হবে
হেপাটাইটিস-বি (HBV) আক্রান্ত মায়ের থেকে নবজাতকের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। এই ধরনের উল্লম্ব (Vertical) সংক্রমণ রোধ করার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) একটি সুনির্দিষ্ট প্রোটোকল অনুসরণ করতে বলে।
এই প্রোটোকল অনুযায়ী, নবজাতককে যত দ্রুত সম্ভব, আদর্শগতভাবে জন্মের প্রথম ১২ ঘণ্টার মধ্যে দুটি জিনিস দিতে হয়।
১. হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিন (Vaccine): এটি শিশুর দেহে রোগ প্রতিরোধের জন্য সক্রিয়ভাবে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে শুরু করে।
২. হেপাটাইটিস-বি ইমিউন গ্লোবিউলিন (HBIG): এটি তৈরি অ্যান্টিবডি, যা শিশুর দেহে তাৎক্ষণিক (Passive) সুরক্ষা প্রদান করে।
এই দ্বৈত চিকিৎসা (Vaccine + HBIG) নবজাতকের দীর্ঘমেয়াদী হেপাটাইটিস-বি সংক্রমণ এবং পরবর্তীতে সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি ৯৪% পর্যন্ত কমাতে পারে।
অন্যান্য অপশনগুলো (৩০ দিন বা ১ মাস পর) ভুল, কারণ এত দেরি করলে ভাইরাসের সংক্রমণ স্থায়ী হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
29

ডেঙ্গু রোগ ছড়ায়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. Aedes aegypti মশা
  2. Anopheles মশা
  3. ইঁদুর ও কাঠবেড়ালী
  4. House flies

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘ডেঙ্গু’ ভাইরাসজনিত মশাবাহিত একটি মারাত্মক রোগ। এডিস মশার কামড়ে বিশেষ করে Aedes aegypti (এডিস এজিপটাই) প্রজাতির মশার মাধ্যমে এটা ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও এডিস এলবোপিকটাস মশার কামড়েও ডেঙ্গু রোগ ছড়াতে পারে। Anopheles মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া রোগ হয়।

ব্যাখ্যা

ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এই রোগটি মূলত Aedes aegypti (এডিস ইজিপ্টি) নামক স্ত্রী মশার কামড়ের মাধ্যমে মানবদেহে সংক্রমিত হয়।
সঠিক উত্তর: Aedes aegypti মশা
Aedes aegypti মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় এবং পরিষ্কার, জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে। এটি ডেঙ্গু বিস্তারের প্রধান কারণ।
অপশন B এ থাকা Anopheles মশা দ্বারা ম্যালেরিয়া (Malaria) রোগ ছড়ায়। এই পার্থক্যটি বিসিএস পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
30

যেসব অণুজীব রোগ সৃষ্টি করে তাদের বলা হয়–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্যাথজেনিক
  2. ইনফেকশন
  3. টক্সিন
  4. জীবাণু

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

যেসব অণুজীব রোগ সৃষ্টি করে তাদের বলা হয় প্যাথজেনিক। অন্যদিকে ইনফেকশন হলো সংক্রমণ। টক্সিন হলো বিষাক্ত পদার্থ এবং জীবাণু হলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণুজীব (microbiologists) যারা রোগ সৃষ্টি করতেও পারে, নাও পারে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: প্যাথজেনিক
যেসব অণুজীব (যেমন: ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক) দেহে প্রবেশ করে রোগ সৃষ্টি করতে পারে, তাদের প্যাথজেন (Pathogen) বা রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু বলা হয়। আর 'প্যাথজেনিক' হলো এই রোগ সৃষ্টির ক্ষমতা বোঝানোর বিশেষণ রূপ।
ইনফেকশন (Infection): এটি রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব দ্বারা শরীর আক্রান্ত হওয়ার প্রক্রিয়া বা অবস্থাকে বোঝায়, এটি নিজে কোনো অণুজীব নয়।
টক্সিন (Toxin): এটি হলো রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের দ্বারা উৎপন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ, যা শরীরে ক্ষতি করে বা রোগ সৃষ্টি করে।
জীবাণু (Microbe): এটি একটি সাধারণ শব্দ যা সব ধরনের অণুজীবকেই বোঝায় (উপকারী বা অপকারী)। কিন্তু রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবকে সুনির্দিষ্টভাবে প্যাথজেন বলা হয়।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
31

নিচের কোনটি আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ট্রিপসিন
  2. লাইপেজ
  3. টায়ালিন
  4. অ্যামাইলেজ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

অগ্ন্যাশয় রসে বিদ্যমান প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাদ্য পরিপাককারী একটি এনজাইম হলো ট্রিপসিন যা প্রোটিওজ ও পেপটোনকে পলিপেপটাইডে পরিণত করে। টায়ালিন লালারসে বিদ্যমান এবং অ্যামাইলেজ অগ্ন্যাশয় রসে বিদ্যমান কার্বোহাইড্রেট পরিপাককারী যা স্টার্চ ও গ্লাইকোজেনকে মল্টোজে পরিণত করে। লাইপেজ পাচক রস ও অগ্ন্যাশয় রসে বিদ্যমান লিপিড পরিপাককারী এনজাইম যা লিপিডকে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ট্রিপসিন। ট্রিপসিন হলো একটি প্রোটিওলাইটিক এনজাইম যা অগ্ন্যাশয় (Pancreas) থেকে নিঃসৃত হয় এবং ক্ষুদ্রান্ত্রে (Small Intestine) প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে
ট্রিপসিন মূলত প্রোটিনকে ভেঙ্গে ক্ষুদ্র পেপটাইড এবং অ্যামাইনো অ্যাসিডে পরিণত করে, যা শরীর সহজে শোষণ করতে পারে। এটি পাকস্থলীর পেপসিন দ্বারা আংশিকভাবে হজম হওয়া প্রোটিনের ওপর কাজ করে।
লাইপেজ (Lipase): এটি স্নেহ বা চর্বি জাতীয় খাদ্য (ফ্যাট) হজম করতে সাহায্য করে।
টায়ালিন ও অ্যামাইলেজ (Amylase): এই এনজাইমগুলো শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য (শ্বেতসার) হজম করতে সাহায্য করে। টায়ালিন লালারসে থাকে এবং অ্যামাইলেজ অগ্ন্যাশয় রস ও লালারসে পাওয়া যায়।
32

মানুষের রক্তে লোহিত কণিকা কোথায় সঞ্চিত থাকে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হৃদযন্ত্রে
  2. বৃক্কে
  3. ফুসফুসে
  4. প্লীহাতে

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

মানুষের রক্তে লোহিত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে। এখান থেকে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো প্লীহা (Spleen)
প্লীহা মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা রক্ত পরিশোধন এবং রক্তকণিকা সঞ্চয়ের ভান্ডার হিসেবে কাজ করে।
যদিও লোহিত কণিকা প্রধানত রক্তনালীতে সঞ্চালিত হয়, তবে প্লীহা একটি জরুরি ভান্ডার হিসেবে কাজ করে, বিশেষত যখন শরীরের অতিরিক্ত রক্তের প্রয়োজন হয়।
তাছাড়া, লোহিত রক্তকণিকার গড় আয়ু (১২০ দিন) শেষ হয়ে গেলে বা তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে, প্লীহা সেগুলোকে রক্তপ্রবাহ থেকে সরিয়ে ফেলে এবং ধ্বংস করে। এ কারণেই প্লীহাকে 'লোহিত রক্তকণিকার কবরখানা' (Graveyard of RBCs) বলা হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো: হৃদযন্ত্র রক্ত পাম্প করে, বৃক্ক রক্ত থেকে বর্জ্য ছেঁকে এবং ফুসফুস রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ করে; তারা RBC সঞ্চয়ের প্রধান অঙ্গ নয়।
33

মস্তিষ্ক কোন তন্ত্রের অঙ্গ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. স্নায়ুতন্ত্রের
  2. রেচনতন্ত্রের
  3. পরিপাকতন্ত্রের
  4. শ্বাসতন্ত্রের

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

স্নায়ুতন্ত্রকে ২ ভাগে ভাগ করা হয়- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ও প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ২টি অংশ নিয়ে গঠিত: মস্তিষ্ক ও সুষুম্না কাণ্ড। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের যে অংশ করোটিকার মধ্যে সুরক্ষিত থাকে সেটিই হলো মস্তিষ্ক। মস্তিষ্কই দেহের সকল ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একককে নিউরন বলে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: স্নায়ুতন্ত্রের (Nervous System)
মস্তিষ্ক (Brain) হলো মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। এটি দেহের সব ধরনের কার্যকলাপে সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন—চিন্তা করা, স্মৃতি সংরক্ষণ করা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা এবং পেশি সঞ্চালনে সাহায্য করা।
স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান উপাদানগুলো হলো: মস্তিষ্ক, সুষুম্না কাণ্ড (Spinal Cord) এবং স্নায়ু (Nerves)
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ: রেচনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ বৃক্ক (Kidney), পরিপাকতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ পাকস্থলী ও অন্ত্র এবং শ্বাসতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ ফুসফুস (Lungs)
34

ভাইরাসজনিত রোগ নয় কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জন্ডিস
  2. এইডস
  3. নিউমোনিয়া
  4. চোখ ওঠা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ভাইরাসঘটিত রোগসমূহ হলো- হাম, পোলিও, ডেঙ্গু, জলবসন্ত, গুটিবসন্ত, চিকুনগুনিয়া, এইডস, মাম্পস, জন্ডিস, হার্পিস, সোয়াইন ফ্লু, বার্ড ফ্লু, করোনা, জলাতঙ্ক, ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি। ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগসমূহ হলো- কলেরা, টাইফয়েড, যক্ষ্মা, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, নিউমোনিয়া, গনোরিয়া, সিফিলিস, কুষ্ঠরোগ, আমাশয় ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নিউমোনিয়া
নিউমোনিয়া (Pneumonia) হলো ফুসফুসের একটি প্রদাহজনিত রোগ, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যাকটেরিয়া (যেমন: Streptococcus pneumoniae) দ্বারা সৃষ্ট হয়।
খুব কম ক্ষেত্রে, ভাইরাস (যেমন: ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস) বা ছত্রাক দ্বারাও এটি হতে পারে। তবে সাধারণ পরীক্ষার প্রশ্নাবলিতে এটিকে ভাইরাসজনিত রোগ নয় হিসেবে ধরা হয় এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের তালিকায় রাখা হয়।
অন্যদিকে, প্রশ্নে উল্লেখিত বাকি রোগগুলো হলো— জন্ডিস (হেপাটাইটিস ভাইরাস A, B, C ইত্যাদি), এইডস (HIV ভাইরাস) এবং চোখ ওঠা (সাধারণত অ্যাডেনোভাইরাস বা হার্পিস ভাইরাস) — যা নিশ্চিতভাবে ভাইরাসজনিত রোগ।
35

প্রাণিজগতের উৎপত্তি ও বংশসম্বন্ধীয় বিদ্যাকে বলে–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বায়োলজী
  2. জুওলজী
  3. জেনেটিক
  4. ইভোলিউশন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

জীববিজ্ঞানের যে শাখায় বংশগতির রীতিনীতি অর্থাৎ বংশানুক্রমিক গুণাবলির উৎপত্তি, প্রকৃতি, বৃদ্ধির সময় ও আচরণ সম্পর্কে আলোচিত হয়, সে শাখাকে বংশগতিবিদ্যা বা জীনতত্ত্ব (জেনেটিক্স) বলে। ইভোলিউশন অর্থ অভিব্যক্তি বা বিবর্তন। এ শাখায় বিভিন্ন প্রাণীর উৎপত্তি, ধারাবাহিক পরিবর্তন ও বিকাশ সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: জেনেটিক (Genetics)
জেনেটিক্স (Genetics) বা বংশগতিবিদ্যা হলো জীববিজ্ঞানের সেই শাখা যেখানে জীবের বংশগতি (Heredity) এবং প্রকরণ বা পরিবর্তন (Variation) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এখানে বংশানুক্রমিক বৈশিষ্ট্যগুলোর উৎপত্তি এবং সঞ্চালন প্রক্রিয়া বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, যা প্রশ্নটির মূলভাব ('বংশসম্বন্ধীয় বিদ্যা') নির্দেশ করে।
যদিও প্রশ্নে 'উৎপত্তি' শব্দটি রয়েছে, যা ইভোলিউশন (Evolution)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত (বিবর্তন হলো প্রজাতির উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের বিজ্ঞান), কিন্তু 'বংশসম্বন্ধীয় বিদ্যা' বা বংশগতিবিদ্যার মূল ক্ষেত্র হলো জেনেটিক্স। যেহেতু বংশগতি না থাকলে জীবের বৈশিষ্ট্য সঞ্চালিত হতে পারে না, তাই এই দুটি বিষয়কে একীভূত করে জেনেটিক্সকেই সঠিক উত্তর হিসেবে ধরা হয়।
অন্যান্য অপশন ভুল কেন:
বায়োলজী (Biology): এটি জীবনের সামগ্রিক অধ্যয়ন, যা অত্যন্ত ব্যাপক।
জুওলজী (Zoology): এটি শুধুমাত্র প্রাণিজগতের অধ্যয়ন, যা বংশগতি বা উৎপত্তি প্রক্রিয়ার বিশেষ শাখা নয়।
ইভোলিউশন (Evolution): এটি প্রজাতির উৎপত্তি এবং সময়ের সাথে তাদের অভিযোজনমূলক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করে, কিন্তু বংশগতির মূল প্রক্রিয়া (জিন) নিয়ে সরাসরি নয়।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
36

ইস্টের সংশ্লিষ্টতা নেই কোন শিল্পে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মদ্য শিল্পে (Wine industry)
  2. রুটি শিল্পে (Bakery)
  3. সাইট্রিক এসিড উৎপাদন
  4. এক কোষীয় প্রোটিন (Single-cell-protein) তৈরিতে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ইস্ট একধরনের আদিকোষী অণুজীব যা প্রকৃতিতে খুবই সহজলভ্য। এটা বেকারি শিল্পে পাউরুটি, কেকসহ নানা খাবার তৈরি, চোলাই বিয়ার ও মদ্য তৈরি, ত্বক ও চুলের যত্নে, ডায়েটে সম্পূরক খাদ্য হিসেবে, ওষুধ তৈরি ইত্যাদি ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত হয়। সাইট্রিক এসিড উৎপাদনে ইস্টের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। সাইট্রিক এসিড উৎপাদনে ব্যবহার করা হয় পেনিসিলিয়াম।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: সাইট্রিক এসিড উৎপাদন। ইস্ট (Yeast) হলো এক প্রকার এককোষী ছত্রাক (Fungus), যা প্রধানত অ্যালকোহলীয় ফার্মেন্টেশন (গাঁজন) প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।
মদ্য শিল্পে (Wine industry) ইস্ট (যেমন: Saccharomyces cerevisiae) শর্করাকে ভেঙে ইথানল (অ্যালকোহল) ও কার্বন ডাই অক্সাইড (extCO2 ext{CO}_2) তৈরি করে, যা পানীয় উৎপাদন প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি।
রুটি শিল্পে (Bakery) ইস্টের মাধ্যমে উৎপাদিত extCO2 ext{CO}_2 রুটির ডো (Dough)-কে ফুলিয়ে নরম করতে সাহায্য করে।
এক কোষীয় প্রোটিন (Single-cell-protein/SCP) উৎপাদনেও পুষ্টির উৎস হিসেবে নির্দিষ্ট প্রকারের ইস্ট (যেমন: Candida utilis) ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে, সাইট্রিক এসিড শিল্প উৎপাদনের জন্য ইস্ট ব্যবহার করা হয় না। বরং এই কাজটি প্রধানত এক বিশেষ ধরনের ছাঁচ বা ছত্রাক Aspergillus niger দ্বারা করানো হয়। তাই সাইট্রিক এসিড উৎপাদনে ইস্টের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা নেই।
37

মানবদেহে রোগ প্রতিরোধে প্রাথমিক প্রতিরক্ষাস্তরের (First line of defence) অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. লাইসোজাইম (LYSOZYME)
  2. গ্যাসট্রিক জুস (GASTRIC JUICE)
  3. সিলিয়া (CILIA)
  4. লিম্ফোসাইট(LYMPHOCYTES)

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

মানবদেহে রোগ প্রতিরোধে প্রাথমিক প্রতিরক্ষা স্তরের (First line of defence) অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো হলো ত্বক, অশ্রু, শ্লেষ্মা, মুখের লালা, চোখের পাতা (cilia), পাকস্থলি এসিড ইত্যাদি। অশ্রু, শ্লেষ্মা ও লালায় বিদ্যমান একপ্রকার এনজাইম হলো লাইসোজাইম। আর লিম্ফোসাইট হলো একপ্রকার শ্বেত রক্তকণিকা, যা তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তরের অন্তর্ভুক্ত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: লিম্ফোসাইট (LYMPHOCYTES)
মানবদেহের রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা প্রধানত তিনটি স্তরে বিভক্ত। এই স্তরগুলো হলো: প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর, দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর এবং তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর।
প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর (First line of defence) হলো দেহের বাইরের রোগজীবাণু প্রবেশে বাধা দানকারী ভৌত ও রাসায়নিক প্রতিবন্ধক। এর উদাহরণ হলো: ত্বক, চোখের জল (যাতে লাইসোজাইম থাকে), পাকস্থলীর অ্যাসিড (গ্যাসট্রিক জুস), এবং শ্বাসনালীর সিলিয়া
অন্যদিকে, লিম্ফোসাইট হলো এক ধরণের শ্বেত রক্তকণিকা (WBC), যা দেহের তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তরের (Third line of defence) প্রধান উপাদান। এরা নির্দিষ্ট রোগজীবাণুকে চিনে নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে (Specific Immunity) প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
তাই, লিম্ফোসাইট প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরের অন্তর্ভুক্ত নয়।
38

নিচের কোনটি ভাইরাসের (VIRUS) জন্য সত্য নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ডিএনএ বা আরএনএ থাকে
  2. শুধুমাত্র জীবদেহের অভ্যন্তরে সংখ্যাবৃদ্ধি করে
  3. স্ফটিক দানায় রূপান্তরিত (CRYSTALIZATION)
  4. রাইবোজোম (Ribosome) থাকে

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

অকোষীয় অণুজীব ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য হলো- এতে DNA বা RNA আছে, জীবদেহের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে, এদেরকে crystal বা স্ফটিক দানায় রূপান্তরিত করা যায়। এদের সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিয়াস, কোষীয় ক্ষুদ্রাঙ্গ এবং বিপাকীয় এনজাইম নেই। সুতরাং এখানে রাইবোজোমও থাকবে না।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো রাইবোজোম (Ribosome) থাকে। কারণ ভাইরাসের ক্ষেত্রে এটি সত্য নয়।
ভাইরাস হলো অকোষীয় (Acellular) বা কোষবিহীন জীব। এদের কোনো নিজস্ব সাইটোপ্লাজম বা কোষীয় অঙ্গাণু (Cell Organelles) থাকে না, যার মধ্যে রাইবোজোম অন্যতম।
রাইবোজোম হলো প্রোটিন সংশ্লেষণের স্থান। যেহেতু ভাইরাসের নিজস্ব রাইবোজোম নেই, তাই এটি স্বাধীনভাবে প্রোটিন তৈরি বা বিপাক ক্রিয়া (Metabolism) চালাতে পারে না।
এই কারণে ভাইরাসকে বংশবৃদ্ধি বা সংখ্যাবৃদ্ধির জন্য সম্পূর্ণরূপে জীবন্ত পোষক কোষের (Host Cell) উপর নির্ভর করতে হয়। এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যই প্রমাণ করে যে ভাইরাস হলো পরম অন্তঃকোষীয় পরজীবী (Obligate Intracellular Parasite)
অপরদিকে, ভাইরাসের ডিএনএ বা আরএনএ থাকে, এটি জীবদেহের অভ্যন্তরে সংখ্যাবৃদ্ধি করে এবং এটি স্ফটিক দানায় রূপান্তরিত (Crystallization) হতে পারে—এই তিনটি বৈশিষ্ট্যই ভাইরাসের জন্য সত্য।
39

দৈনিক খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ/শৈবালের অন্তর্ভুক্তি, কোন রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে সাহায্য করবে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হাইপো-থাইরয়ডিজম(HYPOTHYROIDISM)
  2. রাতকানা
  3. এনিমিয়া
  4. কোয়াশিয়রকর (KWASHIORKOR)

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

কোনো কারণে থাইরয়েড গ্রন্হির হরমোন উৎপাদন কমে গেলে তাকে হাইপো-থাইরয়েডিজম বলে। বাংলাদেশে প্রধানত খাদ্যে আয়োডিনের ঘাটতির কারণে এ হরমোন উৎপাদন ব্যাহত হয়। দৈনন্দিন খাবারের সঙ্গে বেশি পরিমাণ আয়োডিনযুক্ত খাদ্য (শাকসবজি, ফলমূল, সামুদ্রিক মাছ ও শৈবাল) ও আয়োডিনযুক্ত লবণ খেয়ে এ রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করা যায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো হাইপো-থাইরয়ডিজম (Hypothyroidism)
সামুদ্রিক মাছ, শৈবাল এবং অন্যান্য সামুদ্রিক খাদ্য হলো আয়োডিনের (Iodine) উৎকৃষ্ট উৎস।
আয়োডিন হলো থাইরয়েড গ্রন্থির জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য একটি খনিজ। এই উপাদানটি থাইরক্সিন হরমোন (T4 ও T3) উৎপাদনে সাহায্য করে, যা শরীরের বিপাক ক্রিয়া (Metabolism) নিয়ন্ত্রণ করে।
দৈনিক খাদ্য তালিকায় এই উপাদানটির (আয়োডিনের) পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করলে এর অভাবজনিত রোগ, যেমন: হাইপো-থাইরয়ডিজম এবং গলগণ্ড (Goiter) এর প্রাদুর্ভাব কমানো সম্ভব।
অন্যদিকে, রাতকানা হয় ভিটামিন 'এ'-এর অভাবে; এনিমিয়া হয় প্রধানত আয়রন (লৌহ)-এর অভাবে; এবং কোয়াশিয়রকর হয় প্রোটিন-এর তীব্র অভাবে।
40

চা পাতায় কোন ভিটামিন থাকে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভিটামিন ‘ই’
  2. ভিটামিন ‘কে’
  3. ভিটামিন বি কমপ্লেক্স
  4. ভিটামিন ‘এ’

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

শাকসবজি, তৈলবীজ এবং হাঙ্গর মাছের যকৃতের তেলে ভিটামিন -ই পাওয়া যায়। সবুজ শাকসবজি, দুগ্ধজাত দ্রব্য ভিটামিন 'কে'-এর প্রধান উৎস। চা পাতা, বৃষ্টির পানিতে ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স পাওয়া যায়। মাছের তেল, দুধ, মলা মাছ, মাছের মাথা এবং গাজরে সর্বাধিক ভিটামিন-এ রয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ভিটামিন বি কমপ্লেক্স
চা পাতায় বিভিন্ন ধরণের পুষ্টি উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। ভিটামিনগুলোর মধ্যে বিশেষত ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে রয়েছে থায়ামিন (B1), রাইবোফ্লাভিন (B2) এবং ফোলেট বা ফলিক এসিড (B9)
এই ভিটামিনগুলো শরীরকে শক্তি উৎপাদনে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। যদিও চা পাতায় অল্প পরিমাণে অন্যান্য ভিটামিন (যেমন K) থাকতে পারে, কিন্তু পরীক্ষার প্রশ্নের মূল ফোকাস থাকে প্রধান পুষ্টি উপাদানের উপর।
অপরদিকে, ভিটামিন A, D, এবং C সাধারণত চা পাতার মূল উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয় না, তাই তারা ভুল উত্তর।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
41

ডিএনএ অণুর দ্বি-হেলিক্স কাঠামোর জনক কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. স্যাংগার ও পলিং
  2. ওয়াটসন ও ক্রিক
  3. লুই পাস্তুর ও ওয়াটসন
  4. পলিং ও ক্রিক

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ডিএনএ হলো একটি নিউক্লিক এসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ ধারণ করে। ডিএনএ অণুর দ্বি-হেলিক্স কাঠামো প্রথম আবিষ্কার করেন জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক। এজন্য তাদেরকে এই কাঠামোর জনকও বলা হয়। উল্লেখ্য, ডিএনএ প্রথম উপস্থাপন করেন ফ্রেডরিক মাসচার।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ওয়াটসন ও ক্রিক
জীবজগতের বংশগতির ধারক ও বাহক হলো ডিএনএ (DNA)। ডিএনএ অণুর ত্রিমাত্রিক গঠন বা দ্বি-হেলিক্স (Double Helix) কাঠামোটি প্রথম প্রস্তাব করেন বিজ্ঞানী জেমস ডি. ওয়াটসন এবং ফ্রান্সিস ক্রিক
এই যুগান্তকারী মডেলটি তাঁরা ১৯৫৩ সালে প্রকাশ করেন। এই আবিষ্কারের জন্য তাঁরা **মরিস উইলকিন্স**-এর সাথে যৌথভাবে ১৯৬২ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
অন্যান্য অপশনগুলো প্রসঙ্গে: লুই পাস্তুর জীবাণু তত্ত্ব ও টিকা আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত। পলিং (Linus Pauling) প্রোটিনের গঠন নিয়ে কাজ করলেও ডিএনএ-এর সঠিক কাঠামো প্রদান করতে পারেননি।
42

হিমোগ্লোবিন কোন জাতীয় পদার্থ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আমিষ
  2. স্নেহ
  3. আয়োডিন
  4. লৌহ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

হিমোগ্লোবিন হলো রক্তের লোহিত কণিকায় বিদ্যমান এক প্রকার শ্বাস রঞ্জক পদার্থ। হিমোগ্লোবিন হিম (4%) নামক লৌহ গঠিত রঞ্জক ও গ্লোবিন (96%) নামক প্রোটিন বা আমিষের সংযোগে গঠিত। হিম হলো লৌহযুক্ত পারফাইরিন যৌগ। হিমোগ্লোবিনের চার অণু প্রোস্থেটিক গ্রুপ হিম, এক অণু গ্লোবিন ও এক পরমাণু লৌহ ফেরাস (Fe++) অবস্থায় থাকে। সুতরাং উত্তর হবে (ক) অর্থাৎ আমিষ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আমিষ (Protein)
হিমোগ্লোবিন হলো একটি জটিল প্রোটিন যা লোহিত রক্তকণিকা (RBC) বা এরিথ্রোসাইটে উপস্থিত থাকে। এটি মূলত একটি মেটালোপ্রোটিন
হিমোগ্লোবিনের প্রধান কাঠামোটি তৈরি হয় গ্লোবিন নামক একটি বৃহৎ প্রোটিন অংশ দিয়ে, যেখানে চারটি পলিপেপটাইড চেইন থাকে। এই গ্লোবিন অংশটির কারণেই হিমোগ্লোবিনকে আমিষ জাতীয় পদার্থ বলা হয়।
অনেকে ভুল করে 'লৌহ' বা 'স্নেহ' দাগাতে পারেন। মনে রাখবেন, লৌহ (Iron) হিমোগ্লোবিনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান (যা হীম অংশে থাকে), কিন্তু এটি সম্পূর্ণ হিমোগ্লোবিন নয়। লৌহ অক্সিজেনকে ধারণ করে, কিন্তু সামগ্রিক পদার্থটি আমিষ। স্নেহ জাতীয় পদার্থ (ফ্যাট) এর অংশ নয়।
43

আকৃতি, অবস্থান ও কাজের প্রকৃতিভেদে আবরণী টিস্যু কত ধরনের?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 2
  2. 3
  3. 4
  4. 5

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

আবরণী কলা শরীরের প্রধান কলার অন্যতম। ত্বকের উপরিভাগ, শ্বাসনালী, পরিপাক নালী ও মূত্র জনন নালীর অভ্যন্তরভাগ এ কলা দ্বারা আবৃত। আকৃতি, অবস্থান ও কাজের প্রকৃতিভেদে আবরণী কলা (Epithelium tissue) তিন প্রকার। যথা: ১. স্কোয়ামাস (আইশাকার), ২. কিউবয়ডাল (ঘনাকার) এবং ৩. কলামনার (স্তম্ভাকৃতি) এপিথেরিয়াল টিস্যু।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ৩ (তিন)
আবরণী টিস্যু বা এপিথেলিয়াল টিস্যু (Epithelial Tissue) মূলত আকৃতি, অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে প্রধানত তিন ধরনের হয়ে থাকে।
এই তিনটি প্রধান প্রকারভেদ হলো:
১. শল্কাকার বা আঁশাকার আবরণী টিস্যু (Squamous Epithelium): এই কোষগুলি মাছের আঁশের মতো চ্যাপ্টা। এগুলি বৃক্কের বোম্যানস ক্যাপসুল, রক্তনালীর প্রাচীর ও ফুসফুসের অ্যালভিওলাইতে পাওয়া যায়।
২. ঘনাকার বা কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যু (Cuboidal Epithelium): এই কোষগুলি ঘনকের মতো বা প্রায় বর্গাকার। এগুলি সাধারণত বৃক্কের নালিকা এবং থাইরয়েড গ্রন্থির ফলিকলে দেখা যায়।
৩. স্তম্ভাকার বা কলামনার আবরণী টিস্যু (Columnar Epithelium): এই কোষগুলি স্তম্ভের মতো লম্বা। এগুলি পৌষ্টিক নালীর প্রাচীরে (বিশেষত পাকস্থলী ও অন্ত্র) এবং পিত্তথলিতে পাওয়া যায়।
44

হৃৎপিণ্ড কোন ধরনের পেশি দ্বারা গঠিত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ঐচ্ছিক
  2. অনৈচ্ছিক
  3. বিশেষ ধরনের ঐচ্ছিক
  4. বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

হৃৎপিণ্ড একটি পেশিবহুল অঙ্গ। এটি বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি (হৃদ পেশি) দ্বারা গঠিত। হৃদপেশি গঠনের দিক থেকে অনেকটা ঐচ্ছিক পেশির মতো হলেও হৃদপেশির কার্যকারিতা প্রাণীর ইচ্ছা নির্ভর নয়। তাই কাজের দিক থেকে হৃদপেশি অনৈচ্ছিক।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক। হৃৎপিণ্ড যে পেশি দ্বারা গঠিত তাকে হৃদপেশি (Cardiac Muscle) বলা হয়।
কার্যগত দিক (Function): হৃদপেশি বা হৃৎপিণ্ড আমাদের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল নয়। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে কাজ করে। তাই কাজের প্রকৃতির দিক থেকে এটি অনৈচ্ছিক পেশি
গঠনগত দিক (Structure): যদিও এটি অনৈচ্ছিক, তবুও এই পেশিতে আড়াআড়ি ডোরাকাটা (striation) দাগ দেখতে পাওয়া যায়, যা ঐচ্ছিক পেশির (Skeletal Muscle) গঠনের অনুরূপ।
এই পেশিটি অনৈচ্ছিক হওয়া সত্ত্বেও ডোরাকাটা গঠনের কারণে এটি সাধারণ অনৈচ্ছিক পেশি (Smooth Muscle) থেকে আলাদা। এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের জন্যই একে বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
45

সঠিক উত্তর কোনটি? ___ ছাড়া রোগ প্রতিরোধ করা অসম্ভব।

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. টীকাদান কর্মসূচি
  2. সচেতনতা
  3. পুষ্টিকর খাদ্য
  4. অর্থ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

টিকাদান কর্মসূচি, পুষ্টিকর খাদ্য ও অর্থ যতই থাক না কেন বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে হলে প্রত্যেকের অবশ্যই সচেতন হতে হবে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সচেতনতা
রোগ প্রতিরোধ বা প্রতিকার করতে হলে সর্বপ্রথম প্রয়োজন হলো রোগের কারণ, প্রতিকারের উপায় ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান এবং উপলব্ধি। এই উপলব্ধিই হলো সচেতনতা।
টীকাদান, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ কিংবা অর্থ ব্যয় — এই সবগুলোই হলো রোগ প্রতিরোধের কৌশল বা উপায়। কিন্তু মানুষ যদি সচেতন না হয়, তবে তারা টীকা নিতে উৎসাহিত হবে না, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করবে না এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা (যেমন হাত ধোয়া) বজায় রাখবে না।
তাই, যেকোনো স্বাস্থ্য কর্মসূচি বা প্রতিরোধের ভিত্তি হলো জনগণের সচেতনতা। সচেতনতা ছাড়া শুধু অর্থ বা কর্মসূচি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধ অসম্ভব।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
46

Botany is to plants as Zoology is to -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. Flowers
  2. Rivers
  3. Mountains
  4. Animals

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

Botany হচ্ছে ‍উদ্ভিদবিদ্যা যা plants (উদ্ভিদ) নিয়ে আলোচনা করে। তেমনি Zoology হলো প্রাণিবিদ্যা যা Animals (প্রাণী) নিয়ে আলোচনা করে।

ব্যাখ্যা

এটি একটি সাদৃশ্যমূলক প্রশ্ন (Analogy)। এখানে দুটি পদের মধ্যেকার সম্পর্কের ভিত্তিতে তৃতীয় ও চতুর্থ পদের সম্পর্ক নির্ণয় করতে হবে। সাদৃশ্যটি হলো: আলোচনার বিষয়: অধ্যয়নের ক্ষেত্র
Botany (উদ্ভিদবিদ্যা) হলো বিজ্ঞানের সেই শাখা, যেখানে Plants (উদ্ভিদ) নিয়ে গবেষণা ও আলোচনা করা হয়।
একইভাবে, Zoology (প্রাণীবিদ্যা) হলো জীববিজ্ঞানের একটি প্রধান শাখা, যেখানে Animals (প্রাণী) বা প্রাণিজগত সম্পর্কে বিস্তারিত গবেষণা করা হয়।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো Animals (প্রাণী)
47

Dengue fever is spread by -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. Aedes aegypti mosquito
  2. Anophilies mosquito
  3. Rats and squirrels
  4. Common House flies

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘ডেঙ্গু’ ভাইরাসজনিত একটি মারাত্মক রোগ। এডিস মশার কামড়ে বিশেষ করে ‘এডিস এজিপটাই’ প্রজাতির মশার মাধ্যমে এটা ছড়িয়ে পড়ে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: Aedes aegypti mosquito (এডিস ইজিপ্টি মশা)।
ডেঙ্গু একটি ভাইরাসঘটিত রোগ, যা ডেঙ্গু ভাইরাস (DENV) দ্বারা সৃষ্ট। এই ভাইরাসটি মানুষের দেহে প্রবেশ করে প্রধানত স্ত্রী এডিস ইজিপ্টি মশার (Female Aedes aegypti) কামড়ের মাধ্যমে।
এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় (ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত) কামড়ায় এবং এটি স্থির, পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে।
অন্যান্য বিকল্প ভুল কারণ:
অ্যানোফিলিস (Anopheles) মশা: এই মশা ম্যালেরিয়া রোগ ছড়ায়।
ইঁদুর ও কাঠবিড়ালি: এরা সাধারণত প্লেগ, লেপ্টোস্পাইরোসিস (Leptospirosis) জাতীয় রোগ ছড়াতে পারে, কিন্তু ডেঙ্গু নয়।
48

Photosynthesis takes place in-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. Roots of the plants
  2. Stems of the plants
  3. Green parts of the plants
  4. All parts of the plants

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

Photosynthesis বা সালোকসংশ্লেষণ একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের সবুজ অঙ্গ (বিশেষ করে পাতা) সূর্যালোক হতে শক্তি সংগ্রহ করে এবং ঐ শক্তি কাজে লাগিয়ে পানি ও CO2 এর রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে। এ প্রক্রিয়ায় আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত হয়। সুতরাং সবুজ অঙ্গের মাধ্যমেই সালোকসংশ্লেষণ বা Photosynthesis সংঘটিত হয়।

ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) হলো উদ্ভিদের এমন একটি মৌলিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ার জন্য প্রধান শর্ত হলো ক্লোরোফিল নামক সবুজ রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতি।
উদ্ভিদের যে অংশে ক্লোরোফিল বিদ্যমান থাকে, কেবল সেই অংশেই সালোকসংশ্লেষণ ঘটে। সাধারণত উদ্ভিদের পাতা এবং কিছু ক্ষেত্রে কচি সবুজ কাণ্ডে এই রঞ্জক পদার্থটি পাওয়া যায়।
এই ক্লোরোফিলের সাহায্যেই উদ্ভিদ সূর্যালোকের শক্তি শোষণ করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ও পানির সাহায্যে খাদ্য (গ্লুকোজ) তৈরি করে।
শিকড় (Roots) বা কাণ্ডের অ-সবুজ অংশে ক্লোরোফিল থাকে না, তাই সেখানে খাদ্য তৈরি বা সালোকসংশ্লেষণ ঘটে না।
সঠিক উত্তর: উদ্ভিদের সবুজ অংশে (Green parts of the plants)।
49

ইউরিয়া সার থেকে উদ্ভিদ কি খাদ্য উপাদান গ্রহণ করে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ফসফরাস
  2. নাইট্রোজেন
  3. পটাশিয়াম
  4. সালফার

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

নাইট্রোজেন গ্যাসকে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়ায় রূপান্তরিত করা হয় এবং অ্যামোনিয়া থেকে ইউরিয়া সার উৎপন্ন করা হয়। তাই উদ্ভিদ খাদ্য উপাদান হিসেবে ইউরিয়া সার হতে নাইট্রোজেনই গ্রহণ করে। ইউরিয়া সারে নাইট্রোজেনের পরিমাণ ৪৬%।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নাইট্রোজেন
ইউরিয়া হলো পৃথিবীর সর্বাধিক ব্যবহৃত নাইট্রোজেনঘটিত একটি রাসায়নিক সার। এর রাসায়নিক সংকেত হলো NH2CONH2\text{NH}_2\text{CO}\text{NH}_2
ইউরিয়া সরাসরি উদ্ভিদ গ্রহণ করে না। মাটিতে প্রয়োগের পর ইউরিয়া ইউরিয়েজ এনজাইমের মাধ্যমে ভেঙে গিয়ে প্রথমে অ্যামোনিয়া এবং পরবর্তীতে নাইট্রেট (NO3\text{NO}_3^-) রূপে রূপান্তরিত হয়।
উদ্ভিদ এই নাইট্রেট রূপেই মাটি থেকে মূল উপাদান নাইট্রোজেন (N) শোষণ করে থাকে। নাইট্রোজেন উদ্ভিদের ক্লোরোফিলপ্রোটিন উৎপাদনে এবং দ্রুত অঙ্গজ বৃদ্ধিতে (Leaf growth) সাহায্য করে।
অন্যান্য অপশনগুলো (ফসফরাস, পটাশিয়াম, সালফার) অন্য ধরনের সার (যেমন TSP, MOP, Gypsum) থেকে আসে।
50

রক্তে হিমোগ্লোবিনের কাজ কি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অক্সিজেন পরিবহন করা
  2. রোগ প্রতিরোধ করা
  3. রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করা
  4. উপরে উল্লিখিত সব কয়টিই

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

লোহিত রক্ত কণিকার সাইটোপ্লাজমের এক ধরনের লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় রঞ্জক পদার্থ হচ্ছে হিমোগ্লোবিন। আমিষ ও লৌহ এর প্রধান উপাদান। হিমোগ্লোবিনের উপস্থিতির জন্য রক্ত লাল হয়। হিমোগ্লোবিনের প্রধান কাজ হচ্ছে অক্সিজেন পরিবহন করা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অক্সিজেন পরিবহন করা
হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকা (RBC)-এর মধ্যে থাকা এক ধরনের লৌহঘটিত প্রোটিন যা অক্সিজেন বহনকারী হিসেবে কাজ করে।
এটি ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং তাকে অক্সোহিমোগ্লোবিন রূপে দেহের প্রতিটি কোষে পরিবহন করে পৌঁছে দেয়। কোষ থেকে এটি কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে ফুসফুসে ফিরিয়ে আনে।
অন্যান্য অপশন ভুল কারণ— রোগ প্রতিরোধ করা হলো শ্বেত রক্তকণিকার (WBC) কাজ।
এবং রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা হলো অনুচক্রিকা (Platelet) ও ফাইব্রিনোজেন নামক প্রোটিনের কাজ।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
51

সুষম খাদ্যের উপাদান কয়টি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৫টি
  4. ৮টি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

মানবদেহের পুষ্টির চাহিদা সঠিকভাবে পূরণের জন্য সুষম খাদ্য গ্রহণ করা অপরিহার্য। সুষম খাদ্যের উপাদান ৬টি। এগুলো হলো: শর্করা বা শ্বেতসার, আমিষ বা প্রোটিন, ফ্যাট বা চর্বি, ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ, খনিজ লবণ ও পানি।

ব্যাখ্যা

সুষম খাদ্যের উপাদান হলো ৬টি। যে খাদ্য গ্রহণে দেহের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে শক্তি ও দেহ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপাদান সঠিক অনুপাতে থাকে, তাকে সুষম খাদ্য বলে।
এই ৬টি উপাদান হলো: ১. শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate), ২. আমিষ বা প্রোটিন (Protein), ৩. স্নেহ পদার্থ বা চর্বি (Fat), ৪. ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ (Vitamin), ৫. খনিজ লবণ (Minerals), এবং ৬. পানি বা জল (Water)।
সুষম খাদ্যের তালিকায় এই ৬টি উপাদানই থাকা বাধ্যতামূলক। ৫টি বা ৪টি উপাদানের ধারণা ভুল, কারণ পুষ্টির সংজ্ঞা অনুযায়ী প্রতিটি উপাদান দেহের আলাদা আলাদা কাজ সম্পাদন করে।
52

ইনসুলিন নিঃসৃত হয় কোথা থেকে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অগ্ন্যাশয় হতে
  2. প্যানক্রিয়াস হতে
  3. লিভার হতে
  4. পিটুইটারী গ্লান্ড হতে

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

প্যানক্রিয়াস (Pancreas)-এর বাংলা প্রতিশব্দ অগ্ন্যাশয়। মানবদেহের অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস নামক গ্রন্হির ‘আইলেটস্‌ অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স’ নামক অংশ হতে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন ‘ইনসুলিন’ নিঃসৃত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো প্যানক্রিয়াস। বাংলায় একে অগ্ন্যাশয় বলা হয়।
ইনসুলিন হলো এক প্রকার হরমোন। এটি অগ্ন্যাশয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ, যার নাম ল্যাঙ্গারহ্যান্স দ্বীপপুঞ্জের (Islets of Langerhans) মধ্যে অবস্থিত বিটা (Beta) কোষ থেকে নিঃসৃত হয়।
ইনসুলিনের প্রধান কাজ হলো রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা। এটি রক্ত থেকে গ্লুকোজকে কোষে প্রবেশ করতে সাহায্য করে এবং যকৃতে (Liver) গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা হতে উদ্দীপনা যোগায়।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল: লিভার (যকৃৎ) হজম প্রক্রিয়ায় পিত্তরস তৈরি করে এবং গ্লুকোজ সঞ্চয় করে। পিটুইটারী গ্লান্ড শরীরের অন্যান্য হরমোন নিঃসরণকে নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু সরাসরি ইনসুলিন নিঃসৃত করে না।
53

পানির জীব হয়েও বাতাসে নিঃশ্বাস নেয় -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পটকা মাছ
  2. হাঙ্গর
  3. শুশুক
  4. জেলী ফিস

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

শুশুক বা ডলফিন জাতীয় প্রাণীগুলো পানিতে বাস করলেও মাছের মতো ফুলকার সাহায্যে পানি থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে না। এরা পানি থেকে ভেসে উঠে মাথার উপর আড়াআড়িভাবে থাকা ছিদ্রের সাহায্যে বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো শুশুক
শুশুক (Dolphin বা Porpoise) দেখতে মাছের মতো হলেও এটি কিন্তু মাছ নয়। শুশুক হলো জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী (Marine Mammal)
স্তন্যপায়ী প্রাণীদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এদের ফুলকা (Gills) থাকে না, বরং ফুসফুস (Lungs) থাকে। ফুসফুসের মাধ্যমে শ্বাস নেওয়ার জন্য এদেরকে নিয়মিত জলের উপর ভেসে উঠে বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করতে হয়।
পটকা মাছ, হাঙ্গর এবং জেলী ফিস প্রকৃত জলজ প্রাণী। এরা জল থেকে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণ করে। পটকা মাছ ও হাঙ্গর তাদের ফুলকার মাধ্যমে শ্বাস নেয়, আর জেলী ফিস (Jellyfish) সরাসরি দেহত্বকের মাধ্যমে ব্যাপন (Diffusion) প্রক্রিয়ায় শ্বাসকার্য চালায়।
54

অতিরিক্ত খাদ্য থেকে লিভারে সঞ্চিত সুগার হল -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গ্লাইকোজেন
  2. গ্লুকোজ
  3. ফ্রুক্টোজ (Fructose)
  4. সুক্রোজ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

খাদ্য বিভিন্ন এনজাইম দ্বারা পরিপাক হয়ে ক্ষুদ্রতম অংশে পরিণত হয়। এগুলো সাধারণত মনোস্যাকারাইডে পরিণত হয়। ‍উৎপন্ন সুগার পাকস্থলীর বিভিন্ন অঙ্গ দ্বারা পরিশোষিত হয়। অতিরিক্ত খাদ্য হতে উৎপন্ন সুগার ভবিষ্যতের জন্য লিভার সঞ্চয় করে রাখে। এ সুগার হলো গ্লাইকোজেন জাতীয় খাদ্য।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ্লাইকোজেন
আমরা যখন অতিরিক্ত শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করি, তা পরিপাকের পর রক্তে গ্লুকোজ রূপে প্রবেশ করে।
এই অতিরিক্ত গ্লুকোজকে শরীর ভবিষ্যতের শক্তির উৎস হিসেবে সঞ্চয় করে। এই সঞ্চিত রূপটিই হলো গ্লাইকোজেন
প্রধানত লিভার (যকৃৎ) এবং পেশী কোষে গ্লুকোজ থেকে এই গ্লাইকোজেন তৈরি হয়ে জমা হয়। এই প্রক্রিয়াকে গ্লাইকোজেনেসিস (Glycogenesis) বলা হয়।
যখন শরীরে শক্তির প্রয়োজন হয়, তখন এই সঞ্চিত গ্লাইকোজেন পুনরায় ভেঙে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়ে রক্তে মুক্ত হয় (প্রক্রিয়া: গ্লাইকোজেনোলাইসিস)।
55

প্রাণিজগতের উৎপত্তি ও বংশ সম্বন্ধীয় বিদ্যাকে বলে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জুওলজী
  2. বায়োলজী
  3. ইভোলিউশন
  4. জেনেটিক্স

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

জীববিজ্ঞানের যে শাখায় বংশগতির রীতি নীতি অর্থাৎ বংশানুক্রমিক গুণাবলীর ‍উৎপত্তি, প্রকৃতি, বৃদ্ধির সময় ও আচরণ সম্পর্কে আলোচিত হয়, সে শাখাকে বংশগতি বিদ্যা বা জীনতত্ত্ব (জেনেটিক্স) বলে। ‘ইভোলিউশন’ অর্থ অভিব্যক্তি বা বিবর্তন। এ শাখায় বিভিন্ন প্রাণীর উৎপত্তি, ধারাবাহিক পরিবর্তন বিকাশ সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: জেনেটিক্স (Genetics)
জেনেটিক্স হলো জীববিজ্ঞানের সেই শাখা, যা জীবের বংশগতি (Heredity) এবং বৈচিত্র্য (Variation) নিয়ে আলোচনা করে। বংশগতির মাধ্যমে বংশানুক্রমে বৈশিষ্ট্য কীভাবে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়, তা এই বিজ্ঞানে বিশদভাবে জানা যায়।
প্রশ্নে উল্লিখিত ‘বংশ সম্বন্ধীয় বিদ্যা’ সরাসরি বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
অন্যদিকে, ইভোলিউশন (Evolution) হলো জীবের উৎপত্তির প্রক্রিয়া এবং তার ধারাবাহিক পরিবর্তন, যা কোনো জীবের বংশগতির মাধ্যমেই চালিত হয়। কিন্তু বংশগতির মূল বিজ্ঞান হলো জেনেটিক্স
জুওলজী (Zoology) প্রাণিবিদ্যা এবং বায়োলজী (Biology) জীববিজ্ঞান, যা খুবই ব্যাপক ধারণা।
56

কোন খাদ্যে প্রোটিন বেশি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভাত
  2. গরুর মাংস
  3. মসুর ডাল
  4. ময়দা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

প্রাণী এবং উদ্ভিদ উভয় জগৎ থেকেই প্রচুর পরিমাণে আমিষ পাওয়া যায়। গরুর মাংস ও মসুরের ডাল উভয়ই আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য। তবে মসুরের ডালে বেশি পরিমাণে প্রোটিন পাওয়া যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম মসুর ডালে প্রোটিনের পরিমাণ ২৫.১ গ্রাম এবং গরুর মাংসে ২২.৬ গ্রাম। উল্লেখ্য ভাত ও ময়দা শর্করা জাতীয় খাদ্য।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মসুর ডাল। মসুর ডাল প্রধানত উদ্ভিজ্জ আমিষ বা প্রোটিনের (Vegetable Protein) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
মসুর ডালকে প্রায়শই 'গরিবের মাংস' বলা হয়, কারণ এটি অন্যান্য প্রাণীজ আমিষের তুলনায় সাশ্রয়ী মূল্যে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন সরবরাহ করে। শুকনো ডালে প্রায় ২৫% পর্যন্ত প্রোটিন থাকতে পারে।
অন্যদিকে, ভাত এবং ময়দা হলো মূলত শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য। যদিও গরুর মাংসেও উচ্চমাত্রার প্রোটিন থাকে (বিশেষত প্রাণীজ প্রোটিন), কিন্তু সাধারণ খাদ্যতালিকায় ডাল একটি কেন্দ্রীয় ও বহুল ব্যবহৃত প্রোটিন উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
57

হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আয়োডিন
  2. আয়রন
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করা, রক্ত তঞ্চন, পেশি সংকোচন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস
হাড় ও দাঁত গঠনের মূল উপাদান: মানবদেহের প্রায় ৯৯% ক্যালসিয়াম এবং ৮০% ফসফরাস হাড় ও দাঁতে সঞ্চিত থাকে। এই উপাদান দুটি একত্রিত হয়ে ক্যালসিয়াম ফসফেট নামক যৌগ গঠন করে, যা হাড় ও দাঁতকে কাঠিন্য ও দৃঢ়তা প্রদান করে।
ক্যালসিয়াম (Calcium): এটি হাড়ের প্রধান গাঠনিক উপাদান। পাশাপাশি এটি রক্ত জমাট বাঁধতে, স্নায়ু সঞ্চালনে এবং মাংসপেশির সংকোচনে সাহায্য করে।
ফসফরাস (Phosphorus): এটি ক্যালসিয়ামের সাথে একত্রে কাজ করে এবং ক্যালসিয়ামকে কার্যকরভাবে শোষণ ও ব্যবহারের মাধ্যমে হাড়ের গঠন প্রক্রিয়াকে মজবুত করে।
অন্যান্য অপশন কেন ভুল:
আয়োডিন: এটি থাইরয়েড হরমোন তৈরি করে। এর অভাবে গলগণ্ড (Goitre) রোগ হয়।
আয়রন (Iron): এটি রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরির প্রধান উপাদান। এর অভাবে রক্তশূন্যতা (Anemia) হয়।
ম্যাগনেসিয়াম: এটি এনজাইমের কাজকে ত্বরান্বিত করে এবং ক্যালসিয়াম শোষণে কিছুটা সাহায্য করলেও, হাড় ও দাঁতের মূল গাঠনিক উপাদান হলো ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস
58

ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে যে তথ্যটি সঠিক নয় তা হল-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. এ রোগে মানবদেহের কিডনি নষ্ট করে
  2. চিনি জাতীয় খাবার খেলে এ রোগ হয়
  3. এ রোগ হলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়
  4. ইনসুলিনের অভাবে এ রোগ হয়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন হরমোনের অভাব হলে প্রোটিন, শর্করা ও স্নেহজাতীয় খাবারের বিপাক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়, একে ডায়াবেটিস রোগ বলা হয়। চিনি জাতীয় খাবারের সাথে এ রোগের সম্পর্ক নেই।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হল চিনি জাতীয় খাবার খেলে এ রোগ হয়। কারণ এই তথ্যটি সঠিক নয়
ডায়াবেটিস একটি এন্ডোক্রাইন (Endocrine) জনিত রোগ, যা প্রধানত ইনসুলিন হরমোনের অভাব বা ইনসুলিন প্রতিরোধের (Insulin Resistance) কারণে সৃষ্টি হয়।
চিনি জাতীয় খাবার অতিরিক্ত খেলে এবং এর ফলে স্থূলতা (Obesity) দেখা দিলে তা মূলত টাইপ-২ ডায়াবেটিসের জন্য একটি উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করে, কিন্তু এটি রোগের সরাসরি কারণ নয়।
অন্যান্য তথ্যগুলো সঠিক:
১. ইনসুলিনের অভাবে এ রোগ হয় (প্রধানত টাইপ-১ এর ক্ষেত্রে)।
২. এ রোগ হলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় (হাইপারগ্লাইসেমিয়া)।
৩. অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের ফলে কিডনি নষ্ট হতে পারে (ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি), যা অত্যন্ত মারাত্মক জটিলতা।
59

কোন ডালের সঙ্গে ল্যাথারাইজম রোগের সম্পর্ক আছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অড়হর
  2. ছোলা
  3. খেসারি
  4. মটর

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ল্যাথারাইজম একটি পায়ের রোগ। এ রোগে আক্রান্ত হলে মানুষের পা অচল হয়ে যায়। অতিরিক্ত খেসারির ডাল খাদ্য হিসেবে গ্রহণ এ রোগের জন্য দায়ী।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: খেসারি (Lathyrus sativus)
খেসারি ডালের বীজে বিটা-অক্সালিল অ্যামিনো অ্যালানিন (Beta-oxalylamino-alanine - BOAA) নামক এক প্রকার বিষাক্ত অ্যামিনো অ্যাসিড বা নিউরোটক্সিন (স্নায়ুবিষ) থাকে।
দীর্ঘদিন ধরে এই ডাল অত্যধিক পরিমাণে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে এই নিউরোটক্সিনের বিষক্রিয়ায় মানুষের স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System) ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পক্ষাঘাতজনিত (Paralysis) রোগ সৃষ্টি হয়, যা ল্যাথারাইজম নামে পরিচিত।
অতীতে খাদ্য সংকটের সময় অনেক অঞ্চলে খেসারি ডাল প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এই রোগ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল।
অন্যান্য ডাল, যেমন—অড়হর, ছোলা বা মটর-এর সঙ্গে ল্যাথারাইজম রোগের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
60

মানবদেহে শক্তি উৎপাদনের প্রধান উৎস-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পরিপাক
  2. খাদ্য গ্রহণ
  3. শ্বসন
  4. রক্ত সংবহন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

মানবদেহে শক্তি উৎপাদনের প্রধান উৎস শ্বসন। শ্বসন প্রক্রিয়ায় শর্করা, আমিষ, চর্বি, জৈব এসিড ইত্যাদি খাদ্যদ্রব্য অক্সিজেন সহযোগে জারিত হয়ে শক্তি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: শ্বসন (Respiration)
মানবদেহে শক্তি বা ক্ষমতা (Energy) উৎপাদনের মূল প্রক্রিয়া হলো কোষীয় শ্বসন। এই প্রক্রিয়ায়, পরিপাকের ফলে প্রাপ্ত সরল খাদ্যবস্তু (যেমন গ্লুকোজ) কোষে পৌঁছায় এবং অক্সিজেনের উপস্থিতিতে (বায়বীয় শ্বসনের ক্ষেত্রে) জারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে।
এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূলত অ্যাডেনোসিন ট্রাইফসফেট (ATP) নামক রাসায়নিক শক্তি তৈরি হয়, যা দেহের সমস্ত জৈবিক কাজ পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়।
অন্যান্য অপশনসমূহ কেবল সহায়ক প্রক্রিয়া:
পরিপাক (Digestion): এটি খাদ্যকে সরল উপাদানে (যেমন গ্লুকোজ) ভেঙে দেয়, যা শ্বসনে ব্যবহৃত হয়। এটি শক্তি উৎপাদন করে না।
খাদ্য গ্রহণ (Food intake): এটি প্রক্রিয়াটির শুরু মাত্র।
রক্ত সংবহন: এটি শ্বসনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন অক্সিজেন এবং গ্লুকোজ কোষে পরিবহন করে, কিন্তু নিজে শক্তি উৎপন্ন করে না।
61

কোনটি এন্টিবায়োটিক?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ইনসুলিন
  2. পেপসিন
  3. পেনিসিলিন
  4. ইথিলিন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

পেনিসিলিন একটি এন্টিবায়োটিক। ১৯২৮ সালে পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং। ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। পেপসিন নামক এনজাইম প্রোটিন পরিপাকে সহায়তা করে। ফল পাকানোর জন্য দায়ী ফাইটোহরমোনের নাম ইথিলিন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পেনিসিলিন
পেনিসিলিন হলো বিশ্বের প্রথম আবিষ্কৃত এবং বহুল ব্যবহৃত একটি অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotic)।
এটি মূলত ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণুজনিত সংক্রমণ (Bacterial Infection) নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, ইনসুলিন হলো একটি হরমোন যা রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।
পেপসিন হলো প্রোটিন পরিপাকে সাহায্যকারী একটি এনজাইম (Enzyme)।
অন্যদিকে, ইথিলিন হলো গ্যাসীয় অবস্থায় থাকা একটি উদ্ভিদ হরমোন যা ফল পাকাতে সাহায্য করে।
62

জন্ডিসে আক্রান্ত হয়–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. যকৃত
  2. কিডনি
  3. পাকস্থলী
  4. হৃৎপিণ্ড

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

শরীরের জলীয় অংশে এবং রক্তে বিলিরুবিন স্বাভাবিক মাত্রা ০.২-০.৪ মি.গ্রা. নামক পিত্ত উপাদানের আধিক্যের কারণে শরীরের ত্বক ও শ্লেষ্মাঝিল্লি হলুদ বর্ণ ধারণ করার ফলে সৃষ্ট রোগের নাম জন্ডিস বা পাণ্ডুরোগ বা কামেলা রোগ। এ রোগে যকৃত (লিভার) ছাড়াও প্লীহা, রক্ত ইত্যাদি আক্রান্ত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: যকৃত (Liver)
জন্ডিস (Jaundice) কোনো একক রোগ নয়, এটি একটি উপসর্গ। যখন রক্তে বিলিরুবিন (Bilirubin) নামক হলুদ রঞ্জক পদার্থের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়, তখন ত্বক, চোখ ও শ্লেষ্মা ঝিল্লি হলুদ হয়ে যায়—এই অবস্থাকেই জন্ডিস বলে।
শরীরে এই বিলিরুবিন প্রক্রিয়াজাত ও নিষ্কাশন করার মূল দায়িত্ব পালন করে যকৃত (Liver)
বিভিন্ন কারণে, যেমন হেপাটাইটিস ভাইরাস (A, B, C) দ্বারা সংক্রমণ বা পিত্তনালীতে ব্লকেজ হলে যকৃত তার স্বাভাবিক কাজ করতে পারে না। ফলে বিলিরুবিন রক্তে জমা হতে থাকে, যা জন্ডিসের সৃষ্টি করে।
অপরদিকে, কিডনি, পাকস্থলী বা হৃৎপিণ্ড বিলিরুবিন প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে সরাসরি যুক্ত নয়, তাই এরা জন্ডিসে প্রাথমিক বা সরাসরি আক্রান্ত হয় না।
63

এপিকালচার বলতে বুঝায়–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রেশমের চাষ
  2. মৎস্য চাষ
  3. মৌমাছির চাষ
  4. পাখিপালন বিদ্যা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

এপিকালচার হচ্ছে মৌমাছির চাষ। রেশম চাষ, মৎস্য চাষ ও পাখিপালন বিদ্যাকে যথাক্রমে সেরিকালচার পিসিকালচার ও এভিকালচার বলে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মৌমাছির চাষ। এপিকালচার (Apiculture) শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ 'Apis' থেকে, যার অর্থ হলো মৌমাছি।
এটি হলো বৈজ্ঞানিক উপায়ে মৌমাছির পালন ও রক্ষণাবেক্ষণ করার কৌশল। এই চাষের মাধ্যমে প্রধানত মধু এবং মোম সংগ্রহ করা হয়।
অন্যান্য বিকল্পগুলি ভুল কারণ: রেশমের চাষ হলো সেরিকালচার (Sericulture) এবং মৎস্য চাষ হলো পিসিকালচার (Pisciculture)
64

কোলেস্টেরল এক ধরনের –

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অসম্পৃক্ত এলকোহল
  2. জৈব এসিড
  3. পলিমার
  4. এমিনো এসিড

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

কোলেস্টেরল হলো একধরনের প্রাণীজ স্টেরল। স্টেরল হলো উদ্ভিজ্জ তেল ও প্রাণীজ চর্বি। এগুলো দানাদার যৌগ এবং কাঠামোতে একটি হাইড্রোক্সিল গ্রুপ আছে। স্টেরলগুলোকে কঠিন/ অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল বলা হয়। রক্তে এর পরিমাণ বেড়ে গেলে রক্তনালীতে রক্ত সঞ্চালনে বাধাপ্রাপ্ত হয়, ফলে হৃদরোগ দেখা দেয়। গরুর মাংস, খাসির মাংস, কলিজা ডিমের কুসুম ইত্যাদি খাবারে প্রচুর কোলেস্টেরল থাকে। রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে এসব খাবার খাওয়া উচিত নয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: অসম্পৃক্ত এলকোহল
কোলেস্টেরল হলো এক ধরনের লিপিড (চর্বি) যা স্টেরল শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। স্টেরল হলো মূলত স্টেরয়েড কাঠামোর অ্যালকোহল
কোলেস্টেরলের রাসায়নিক নামে ‘-ol’ (যেমন: Cholest-5-en-3β-ol) অংশটি উপস্থিত থাকে, যা নির্দেশ করে যে এটি একটি অ্যালকোহল
এর অণুতে কিছু দ্বিবন্ধন (Double Bond) উপস্থিত থাকে, যার কারণে এটিকে অসম্পৃক্ত (Unsaturated) হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই রাসায়নিকভাবে কোলেস্টেরল হলো অসম্পৃক্ত এলকোহল
অন্যান্য অপশন ভুল: জৈব এসিড হতে হলে কার্বক্সিল গ্রুপ (extCOOH ext{ -COOH }) প্রয়োজন, যা কোলেস্টেরলে থাকে না। এমিনো এসিড হলো প্রোটিনের একক, যা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের যৌগ।
65

মানব দেহে সাধারণভাবে ক্রোমোজোম থাকে–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ২৫ জোড়া
  2. ২৪ জোড়া
  3. ২৩ জোড়া
  4. ২০ জোড়া

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

মানবদেহে সাধারণত ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। এর মধ্যে ২২ জোড়া স্ত্রী ও পুরুষে একই রকম। এদের অটোজোম বলা হয়। বাকি এক জোড়া মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ করে বলে এদের সেক্স ক্রোমোজোম বলে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ২৩ জোড়া
মানব দেহের প্রতিটি দেহকোষে (Somatic Cell) বংশগতির ধারক ও বাহক হিসেবে ক্রোমোজোম উপস্থিত থাকে।
সাধারণত মানুষের প্রতিটি দেহকোষে ক্রোমোজোমের সংখ্যা হলো ২৩ জোড়া, যা সংখ্যায় মোট ৪৬টি
এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম (Autosome), যা দৈহিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।
আর বাকি ১ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা অ্যালোজোম (Allosome), যা জীবের লিঙ্গ নির্ধারণ করে।
২৫ জোড়া, ২৪ জোড়া বা ২০ জোড়া ক্রোমোজোম মানুষের ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। এটি একটি নির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় জৈবিক তথ্য।
66

Anatomy শব্দের অর্থ

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সাদৃশ্য
  2. স্নায়ুতন্ত্র
  3. শারীরবিদ্যা
  4. অঙ্গ-সঞ্চালন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

Anatomy শব্দের অর্থ শারীরবিদ্যা বা অঙ্গ ব্যবচ্ছেদবিদ্যা [উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সংকলন ‘একুশের গল্প’]। Bangla Academy English-Bengali Dictionary-তে Anatomy শব্দের অর্থ দেয়া হয়েছে জীবদেহের গঠন সংক্রান্ত বিজ্ঞান, অঙ্গ ব্যবচ্ছেদ দ্বারা জীবদেহের গঠন সম্পর্কে অর্জিত জ্ঞান বা অঙ্গ ব্যবচ্ছেদবিদ্যা।

ব্যাখ্যা

Anatomy (অ্যানাটমি) শব্দটি মূলত গ্রিক শব্দ ‘ana’ এবং ‘tome’ থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো ছেদন বা ব্যবচ্ছেদ (Cutting up)।
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় কোনো জীবন্ত প্রাণীর অভ্যন্তরীণ গঠন, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অবস্থান, আকৃতি ও পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে Anatomy বলে।
এর সঠিক বাংলা প্রতিশব্দ হলো শারীরবিদ্যা বা অঙ্গসংস্থানবিদ্যা। তাই অপশনসমূহের মধ্যে শারীরবিদ্যা সঠিক উত্তর।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে স্নায়ুতন্ত্র হলো Anatomy-এর একটি অংশবিশেষ (যা Neurology-এর মূল আলোচ্য বিষয়), এবং সাদৃশ্য বা অঙ্গ-সঞ্চালন এই শব্দের সরাসরি অর্থ নয়।
67

ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে যে তথ্যটি সত্য নয় তা হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. এ রোগ মানবদেহের কিডনী নষ্ট করে।
  2. চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে এ রোগ হয়।
  3. এ রোগ হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায়
  4. ইনসুলিনের অভাবে এ রোগ হয়।

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন হরমোনের অভাবে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে ডায়াবেটিস রোগ দেখা দেয়। চিনি বেশি খেলে এ রোগ হবে এমন তথ্যের সত্যতা নেই।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে এ রোগ হয়।
ডায়াবেটিস (Diabetes Mellitus) একটি বিপাকজনিত রোগ, যা মূলত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে হয়। এই রোগ হওয়ার জন্য ইনসুলিন হরমোনের অভাব বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স (কোষের ইনসুলিনের প্রতি সাড়া না দেওয়া) দায়ী।
চিনি জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া ডায়াবেটিসের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস (Risk Factor) এবং এটি সাধারণত ওজন বৃদ্ধি বা স্থূলতা সৃষ্টি করে, যা টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু চিনি খেলেই সরাসরি ডায়াবেটিস 'হয়ে যায়'—এই তথ্যটি সত্য নয়। এটি রোগের মূল কারণ নয়, বরং একটি সহায়ক কারণ।
অন্যান্য অপশনগুলো সত্য:
(ক) এ রোগ হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায় (হাইপারগ্লাইসেমিয়া)।
(গ) ইনসুলিনের অভাবে এ রোগ হয় (টাইপ ১) বা এর কার্যকারিতা কমে যায় (টাইপ ২)।
(ঘ) দীর্ঘমেয়াদী ডায়াবেটিস মানবদেহের কিডনী, চোখ ও স্নায়ুতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
68

এনজিওপ্লাস্টি হচ্ছে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হৃৎপিণ্ডের বন্ধ শিরা বেলুনের সাহায্যে ফুলানো
  2. হৃৎপিণ্ডের নতুন শিরা সংযোজন
  3. হৃৎপিণ্ডের মৃত টিস্যু কেটে ফেলে দেয়া
  4. হৃৎপিণ্ডের টিস্যুতে নতুন টিস্যু সংযোজন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ধমনী বা শিরায় রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হলে বিশেষ ধরনের যন্ত্রের মাধ্যমে সমস্যাযুক্ত ধমনী বা শিরার সংকুচিত স্থান বিশেষ ধরনের বেলুন দ্বারা প্রসারিত করা হয়, যাকে এনজিওপ্লাস্টি বলে। অন্যদিকে হৃদপিণ্ডে নতুন শিরা সংযোজন করলে তাকে বাইপাস সার্জারি বলা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: হৃৎপিণ্ডের বন্ধ শিরা বেলুনের সাহায্যে ফুলানো। এই প্রক্রিয়াটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় পারকিউটেনিয়াস করোনারি ইন্টারভেনশন (PCI) বা সহজভাবে এনজিওপ্লাস্টি (Angioplasty) বলা হয়।
এনজিওপ্লাস্টি হলো এক বিশেষ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের ধমনীতে (Coronary Artery) জমাকৃত চর্বি বা প্লাক (Plaque)-এর কারণে সৃষ্ট ব্লকেজ বা সংকীর্ণতা দূর করা হয়।
এই পদ্ধতিতে একটি চিকন তার বা ক্যাথেটারের মাধ্যমে একটি ক্ষুদ্র বেলুন বন্ধ ধমনীর মধ্যে প্রবেশ করানো হয়। এরপর সেই বেলুনটি ফুলিয়ে ধমনীর পথ প্রশস্ত করা হয় এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল। যেমন, হৃৎপিণ্ডের নতুন শিরা সংযোজন করা হয় বাইপাস সার্জারির (CABG) মাধ্যমে।
69

ডেঙ্গু জ্বরের বাহক কোন মশা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কিউলেক্স
  2. এডিস
  3. অ্যানোফিলিস
  4. সব ধরনের মশা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া, কিউলেক্স মশা ফাইলেরিয়া এবং এডিস মশা ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণু বহন করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো এডিস (Aedes) মশা। ডেঙ্গু জ্বর হলো একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা ডেঙ্গু ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট।
এই ভাইরাসটি স্ত্রী এডিস ইজিপ্টাই (Aedes aegypti) মশা এবং ক্ষেত্রবিশেষে এডিস অ্যালবোপিক্টাস (Aedes albopictus) মশা দ্বারা মানবদেহে সংক্রমিত হয়। ডেঙ্গু বাহক এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় (ভোর ও সন্ধ্যার আগে) কামড়ায়।
ভুল অপশনগুলো কেন নয়?
১. অ্যানোফিলিস (Anopheles): এটি ম্যালেরিয়া রোগের বাহক।
২. কিউলেক্স (Culex): এটি ফাইলেরিয়া (গোদরোগ)জাপানি এনসেফালাইটিস রোগের বাহক।
70

কিসের অভাবে ফসলের পরিপক্বতা বিলম্বিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দস্তা
  2. সালফার
  3. নাইট্রোজেন
  4. পটাশিয়াম

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সালফারের অভাবে গাছ খর্বাকৃতির হয় এবং ফসলের পরিপক্বতা বিলম্বিত হয়। দস্তার অভাবে গাছের পাতার বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। নাইট্রোজেনের অভাবে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে এবং অভাব বেশি হলে গাছের পাতা হলুদ হয়ে যায়। পটাশিয়ামের অভাব হলে সালোকসংশ্লেষণের হার হ্রাস পায় এবং পাতার শীর্ষ ও কিনারা হলুদ হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সালফার (Sulfur)
সালফার হলো উদ্ভিদের একটি অপরিহার্য গৌণ পুষ্টি উপাদান (Secondary Macronutrient) যা প্রোটিন (আমিষ) সংশ্লেষণ, ক্লোরোফিল গঠন এবং বিভিন্ন এনজাইমের কার্যকারিতার জন্য অত্যাবশ্যক।
ফসলের পরিপক্বতা (Maturity) বিশেষভাবে সালফার এবং পটাশিয়াম দ্বারা প্রভাবিত হয়। সালফারের অভাবে বীজ ও ফল সঠিকভাবে গঠিত হতে পারে না এবং উদ্ভিদের জীবনচক্র সম্পূর্ণ হতে অস্বাভাবিকভাবে বেশি সময় লাগে। ফলে পরিপক্বতা বিলম্বিত হয়।
অন্যদিকে, নাইট্রোজেন বা পটাশিয়ামের ঘাটতি সরাসরি পরিপক্বতা বিলম্বিত করার চেয়ে গাছের সামগ্রিক বৃদ্ধিকে (নাইট্রোজেন) বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা/ফলন গুণগত মানকে (পটাশিয়াম) বেশি প্রভাবিত করে।
71

কোন জারক রস পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পেপসিন
  2. এমাইলেজ
  3. রেনিন
  4. ট্রিপসিন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধতে রেনিন নামক জারক রস প্রয়োজন হয়। অপরপক্ষে ‘ট্রিপসিন’ এবং ‘পেপসিন’ নামক এনজাইম প্রোটিন পরিপাকে এবং ‘এমাইলেজ’ কার্বোহাইড্রেড পরিপাকে সহায়তা করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: রেনিন
রেনিন (Renin) হলো একটি প্রোটিওলাইটিক এনজাইম বা জারক রস যা মূলত শিশু ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর পাকস্থলীতে ক্ষরিত হয়।
এর প্রধান কাজ হলো দুগ্ধের প্রধান প্রোটিন কেজিন (Casein)-কে জমাট বাঁধিয়ে কঠিন দইয়ের মতো পদার্থে পরিণত করা। একে কেজিনোজেন থেকে প্যারাকেজিনে রূপান্তর বলা হয়।
দুধ জমাট বাঁধার কারণে এটি পাকস্থলীতে বেশিক্ষণ অবস্থান করে, ফলে হজম প্রক্রিয়া ধীরগতিতে সম্পন্ন হয় এবং দুগ্ধের পুষ্টি উপাদান ভালোভাবে শোষিত হতে পারে।
অন্যান্য অপশন কেন ভুল?
পেপসিন: এটি অন্যান্য প্রোটিন (যেমন- মাংস, ডিম) হজম করে। এটি পেপসিনোজেন রূপে ক্ষরিত হয় এবং হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) দ্বারা সক্রিয় হয়ে পেপসিনে পরিণত হয়।
এমাইলেজ: এটি শর্করা বা শ্বেতসার হজমকারী এনজাইম। এটি প্রধানত লালাগ্রন্থি ও অগ্ন্যাশয় থেকে আসে।
ট্রিপসিন: এটিও প্রোটিন হজমকারী এনজাইম, যা অগ্ন্যাশয় থেকে ক্ষুদ্রান্ত্রে ক্ষরিত হয়।
72

ফল পাকানোর জন্য দায়ী কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ইথিলিন
  2. প্রপিন
  3. লাইকোপেন
  4. মিথিলিন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ফল পাকানোর জন্য দায়ী ফাইটোহরমোনের নাম ইথিলিন (Ethylene)। লাইকোপেনের কারণে ফলের রং লাল হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ইথিলিন (Ethylene)
ইথিলিন হলো উদ্ভিদের একটি প্রাকৃতিক গ্যাসীয় হরমোন (Gaseous Hormone)। এই হরমোনটির প্রধান কাজ হলো ফলের পাকানো প্রক্রিয়াকে দ্রুত করা (Accelerating Ripening)।
এটি একমাত্র উদ্ভিদ হরমোন যা গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে এবং এটি ফলের ভেতরে উৎসেচক (enzymes) তৈরি করে যা স্টার্চকে সুগারে রূপান্তরিত করে ফলকে মিষ্টি ও নরম করে তোলে।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে: লাইকোপেন একটি রঞ্জক পদার্থ, যা ফলের রং লাল করার জন্য দায়ী (যেমন টমেটো)। এটি ফল পাকানোর কারণ নয়, বরং ফলের রঙের পরিবর্তনের কারণ।
73

Botany' is to 'plants' as 'Zoology' is to-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. flowers
  2. trees
  3. dear
  4. animals

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

Botany (উদ্ভিদবিদ্যা) plants (উদ্ভিদ) নিয়ে আলোচনা করে। তদ্রূপ, Zoology (প্রাণিবিদ্যা) animals বা প্রাণিদের নিয়ে আলোচনা করে। তাহলে option animals ঠিক।

ব্যাখ্যা

এটি একটি সাদৃশ্য বিচার (Analogy) প্রশ্ন, যেখানে প্রথম দুটি শব্দের মধ্যেকার সম্পর্কটি পরের দুটি শব্দের মধ্যে স্থাপন করতে হবে।
Botany (উদ্ভিদবিজ্ঞান) হলো plants (উদ্ভিদ) নিয়ে গবেষণার বিজ্ঞান।
একইভাবে, Zoology (প্রাণিবিজ্ঞান) হলো animals (প্রাণী) বা প্রাণিজগত নিয়ে গবেষণার বিজ্ঞান।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো animals
অন্যান্য অপশন যেমন—flowers, trees ইত্যাদি হলো উদ্ভিদের নির্দিষ্ট অংশ বা প্রকারভেদ, যা Botany-র আওতাভুক্ত। কিন্তু Zoology-র সামগ্রিক আলোচনার বিষয় হলো প্রাণী (animals)
74

কোন বিজ্ঞানী রোগজীবাণু তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ডারউইন
  2. লুইপাস্তুর
  3. প্রিস্টলী
  4. ল্যাভয়সিয়ে

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

Girolamo Fracastoro, Agostino Bassi, Friedrich Henle প্রমুখ বিজ্ঞানী লুই পাস্তুরের অনেক পূর্বেই রোগ জীবাণু তত্ত্বের (Germ theory of disease) প্রস্তাব করেন। তবে ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুরই (Louis Pasteur) সর্বপ্রথম পরীক্ষার সাহায্যে রোগজীবাণু তত্ত্ব প্রমাণ করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: লুই পাস্তুর (Louis Pasteur)
ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর ১৮৬০-এর দশকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রমাণ করেন যে, রোগসমূহ নির্দিষ্ট অণুজীব (জীবাণু) দ্বারা সৃষ্ট হয়। এটিই রোগজীবাণু তত্ত্ব (Germ Theory of Disease) নামে পরিচিত।
এই তত্ত্বের মাধ্যমেই চিকিৎসা বিজ্ঞানের মোড় ঘুরে যায় এবং জনস্বাস্থ্যে বিপ্লব আসে। তিনি প্রমাণ করেন, রোগের কারণ হলো বাইরের কোনো দূষণ বা স্বতঃস্ফূর্ত সৃষ্টি নয়, বরং নির্দিষ্ট জীবাণু
অন্যান্য অপশনসমূহ কেন ভুল:
ডারউইন: তিনি বিবর্তনবাদ তত্ত্ব (Theory of Evolution) প্রদান করেন।
প্রিস্টলী: তিনি অক্সিজেন গ্যাস আবিষ্কার করেন।
ল্যাভয়সিয়ে: তিনি আধুনিক রসায়নের জনক হিসেবে পরিচিত।
75

সুষম খাদ্যের উপাদান কয়টি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

মানবদেহের ‍পুষ্টির চাহিদা সঠিকভাবে পূরণের জন্য সুষম খাদ্য গ্রহণ করা অপরিহার্য। সুষম খাদ্যের উপাদান ৬টি। এগুলো হলো: শর্করা বা শ্বেতসার, আমিষ বা প্রোটিন, ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ, খনিজ লবণ, ফ্যাট বা চর্বি ও পানি।

ব্যাখ্যা

সুষম খাদ্যের (Balanced Diet) উপাদান হলো মোট ৬টি। প্রশ্নটির সঠিক উত্তর (গ) ৬টি
যে খাদ্যে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান সঠিক পরিমাণে ও অনুপাতে বিদ্যমান থাকে, তাকে সুষম খাদ্য বলে।
সুষম খাদ্যের ৬টি উপাদান হলো:
১. শর্করা (Carbohydrate)
২. আমিষ (Protein)
৩. স্নেহ বা চর্বি (Fat)
৪. ভিটামিন (Vitamin)
৫. খনিজ লবণ (Mineral Salt)
৬. পানি (Water)
এই উপাদানগুলোর মধ্যে প্রথম তিনটি (শর্করা, আমিষ, স্নেহ) হলো খাদ্যপ্রাণ বা মুখ্য উপাদান, যা দেহে শক্তি সরবরাহ করে বা দেহের গঠন করে। বাকি তিনটি (ভিটামিন, খনিজ, পানি) হলো সহায়ক উপাদান, যা দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
76

চা পাতায় কোন ভিটামিন থাকে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভিটামিন-ই
  2. ভিটামিন-কে
  3. ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স
  4. ভিটামিন-এ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স ছাড়াও চা পাতায় আরও থাকে অ্যামাইনো এসিড, ক্যাফেইন, ফ্লোরিন, টেনিন, খনিজ লবণ, পটাসিয়াম ইত্যাদি। ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স এর অভাবে বেরিবেরি, ঠোঁটের কোণ ও মুখের চারদিকে ঘা এবং রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স
চা পাতাকে সাধারণত ভিটামিন বা পুষ্টির প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা না করা হলেও, এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন B কমপ্লেক্স (যেমন: B2, B9) বিদ্যমান থাকে।
ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স হলো পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন, যা শরীরের শক্তি উৎপাদনে (Energy metabolism) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অন্যান্য অপশন যেমন ভিটামিন A, E এবং K মূলত চর্বিতে দ্রবণীয়। চা পাতা থেকে এই ভিটামিনগুলো খুব সামান্যই পাওয়া যায়, তাই ভিটামিন-বি কমপ্লেক্সই সর্বাধিক সঠিক উত্তর।
77

উদ্ভিদের পাতা হলদে হয়ে যায় কিসের অভাবে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নাইট্রোজেনের
  2. ফসফরাসের
  3. ইউরিয়ার
  4. পটাসিয়ামের

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

উদ্ভিদের পাতা হলদে হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ বলা হয়। নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে ব্যাঘাত ঘটে, ফলে উদ্ভিদের পাতা হলদে হয়ে যায়। ইউরিয়া সারের ভিতর নাইট্রোজেন বিদ্যমান। এজন্য নাইট্রোজেনের অভাব পূরণ করতে গাছের গোড়ায় ইউরিয়া সার প্রয়োগ করা হয়। অপরদিকে, ফসফরাসের (P) অভাব হলে পাতা বেগুনি রং ধারণ করে। আবার পটাসিয়ামের (K) অভাবে পাতার শীর্ষ ও কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়।

ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের পাতা হলদে হয়ে যাওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ হলো ক্লোরোফিলের অভাব। ক্লোরোফিল হলো সেই রঞ্জক যা সালোকসংশ্লেষণের জন্য অপরিহার্য এবং পাতার সবুজ রঙের জন্য দায়ী।
এই ক্লোরোফিলের গাঠনিক উপাদানের মধ্যে প্রধান হলো নাইট্রোজেন (Nitrogen - N)। যখন মাটিতে পর্যাপ্ত নাইট্রোজেন থাকে না, তখন নতুন ক্লোরোফিল তৈরি হতে পারে না।
নাইট্রোজেনের অভাবে গাছ পুরোনো পাতা থেকে নাইট্রোজেন শোষণ করে নতুন পাতায় সঞ্চার করে। ফলে পুরোনো পাতাগুলি প্রথমে সবুজ রং হারিয়ে হলদে হয়ে যায়। এই অবস্থাকে ক্লোরোসিস (Chlorosis) বলা হয়। তাই সঠিক উত্তরটি হলো: নাইট্রোজেনের অভাবে।
উল্লেখ্য, ইউরিয়া মূলত একটি সার, যা নাইট্রোজেনের প্রধান উৎস। তাই ইউরিয়ার অভাব মানেও নাইট্রোজেনের অভাবকেই বোঝায়।
78

মানুষের স্পাইনাল কর্ডের দৈর্ঘ্য কত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৫ ইঞ্চি (প্রায়)
  2. ১৭ ইঞ্চি (প্রায়)
  3. ১৮ ইঞ্চি (প্রায়)
  4. ২০ ইঞ্চি (প্রায়)

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সুষুম্না কাণ্ড বা Spinal Cord কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি অংশ। Spinal Cord বা স্নায়ু রঞ্জু মস্তিষ্ক থেকে মেরুদণ্ডের ভেতরে অবস্থিত। Spinal Cord প্রায় ১৮ ইঞ্চি লম্বা। এখান থেকে ৩১ জোড়া স্নায়ু (Spinal nerve) উৎপন্ন হয়।

ব্যাখ্যা

মানুষের স্পাইনাল কর্ড বা সু্ষুম্নাকাণ্ড কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের (Central Nervous System - CNS) একটি অপরিহার্য অংশ। এটি মস্তিষ্ক থেকে শুরু হয়ে মেরুদণ্ডের ভেতর দিয়ে নিম্নভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত।
পূর্ণবয়স্ক মানুষের স্পাইনাল কর্ডের গড় দৈর্ঘ্য পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৪৩ সেন্টিমিটার
৪৫ সেন্টিমিটারকে ইঞ্চিতে রূপান্তর করলে তা হয় প্রায় ১৭.৭ ইঞ্চি। অপশনগুলোর মধ্যে ১৮ ইঞ্চি (প্রায়) এই পরিমাপের সবচেয়ে নিকটবর্তী এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান।
অতএব, সঠিক উত্তর হলো ১৮ ইঞ্চি (প্রায়)
79

ক্যান্সার রোগের কারণ কি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কোষের অস্বাভাবিক মৃত্যু
  2. কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
  3. কোষের অস্বাভাবিক জমাট বাঁধা
  4. উপরের সবগুলো

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রকার ‘প্যাপিলোমা ভাইরাস’ ক্যান্সার কোষ সৃষ্টিতে সহায়তা করে। এ ভাইরাসের ই৬ ও ই৭ নামের দুটি জিন পোষক কোষের জিনের সাথে একীভূত হয়ে যায় এবং কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী প্রোটিন অণূসমূহের কাজ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে শুরু হয় অস্বাভাবিক কোষ বিভাজন অর্থাৎ কোষ সংখ্যার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। কোষ সংখ্যার এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলেই ক্যান্সার রোগের সৃষ্টি হয়।

ব্যাখ্যা

ক্যান্সার বা কর্কট রোগ হলো এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যেখানে দেহের নির্দিষ্ট অঞ্চলের কোষগুলো অস্বাভাবিকভাবে এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজিত ও বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হতে থাকে।
সাধারণত, আমাদের দেহে পুরনো কোষের মৃত্যু এবং নতুন কোষের সৃষ্টির মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট ভারসাম্য বজায় থাকে। যখন এই ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ হারায়, তখন দ্রুত কোষ বিভাজনের ফলে টিউমার বা অর্বুদ সৃষ্টি হয়, যা ক্যান্সার নামে পরিচিত।
অতএব, ক্যান্সারের মূল কারণ হলো কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি (Abnormal Cell Growth)।
অন্যান্য অপশন যেমন—'কোষের অস্বাভাবিক মৃত্যু' (Apoptosis বা প্রোগ্রামড সেল ডেথ) একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যদিও কিছু রোগে এটির অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। কিন্তু ক্যান্সারের সংজ্ঞাগত কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি
80

ইনসুলিন নিঃসৃত হয় কোথা থেকে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অগ্ন্যাশয় হতে
  2. প্যানক্রিয়াস হতে
  3. লিভার হতে
  4. পিটুইটারী গ্ল্যান্ড হতে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘প্যানক্রিয়াস’ (Pancreas)-এর বাংলা প্রতিশব্দ ‘অগ্ন্যাশয়’। মানব দেহের ‘প্যানক্রিয়াস’ নামক গ্রন্থির ‘আইলেট্‌স অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স’ নামক অংশ হতে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন ‘ইনসুলিন’ নিঃসৃত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অগ্ন্যাশয় হতে। অপশন (১) এবং অপশন (২) (প্যানক্রিয়াস) একই অঙ্গকে নির্দেশ করে। অগ্ন্যাশয় (Pancreas) হলো মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অন্তঃক্ষরা (Endocrine) এবং বহিঃক্ষরা (Exocrine) গ্রন্থি।
অগ্ন্যাশয়ের ভেতরে থাকা আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যান্স (Islets of Langerhans) নামক কোষগুচ্ছ থেকে ইনসুলিন হরমোন নিঃসৃত হয়।
ইনসুলিনের প্রধান কাজ হলো রক্তের শর্করা (গ্লুকোজ) এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং এটিকে কোষে শক্তিতে রূপান্তরিত হতে সাহায্য করা।
লিভার (Liver): এটি শরীরের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি, যা পিত্তরস (Bile) তৈরি করে এবং গ্লুকোজ সংরক্ষণ করে, কিন্তু ইনসুলিন নিঃসরণ করে না।
পিটুইটারী গ্ল্যান্ড (Pituitary Gland): এটি মস্তিষ্ক সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি, যা বৃদ্ধির হরমোনসহ অন্যান্য প্রধান হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু ইনসুলিন নয়।
81

সুষম খাদ্যের উপাদান কয়টি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

মানবদেহের পুষ্টির চাহিদা সঠিকভাবে পূরণের জন্য সুষম খাদ্য গ্রহণ করা অপরিহার্য। সুষম খাদ্যের উপাদান ৬টি। এগুলো হলো: শর্করা বা শ্বেতসার, আমিষ বা প্রোটিন, ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ, খনিজ লবণ, ফ্যাট বা চর্বি ও পানি।

ব্যাখ্যা

সুষম খাদ্য বা Balanced Diet বলতে সেই খাদ্যকে বোঝায়, যেখানে দেহের প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান সঠিক পরিমাণে উপস্থিত থাকে।
পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, সুষম খাদ্যের মূল উপাদান বা মৌলিক পুষ্টি উপাদান হলো ৬টি
এই ৬টি উপাদান হলো:
১. শর্করা (Carbohydrates)
২. আমিষ (Protein)
৩. স্নেহ বা চর্বি (Fats/Lipids)
৪. ভিটামিন (Vitamins)
৫. খনিজ লবণ (Minerals)
৬. জল বা পানি (Water)
শরীরের শক্তি উৎপাদন, বৃদ্ধি সাধন, রোগ প্রতিরোধ এবং অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সচল রাখার জন্য এই ৬টি উপাদানের উপস্থিতি অত্যাবশ্যক।
82

মানুষের হৃৎপিণ্ডে কতটি প্রকোষ্ঠ থাকে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দুটি
  2. চারটি
  3. ছয়টি
  4. আটটি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

মানুষের হৃৎপিণ্ড সম্পূর্ণভাবে চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। উপরের দুটি পাতলা প্রাচীরযুক্ত ডান ও বাম অলিন্দ এবং নিচের দুটি পুরু প্রাচীরযুক্ত ডান ও বাম নিলয়। অন্যদিকে ব্যাঙের হৃদপিণ্ডে প্রকোষ্ঠ থাকে-৩টি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো চারটি। মানুষের হৃৎপিণ্ড মোট চারটি প্রকোষ্ঠ বা চেম্বার নিয়ে গঠিত, যা রক্ত সঞ্চালনের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
এই চারটি প্রকোষ্ঠকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়:
১. উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় অলিন্দ (Atrium), এবং
২. নিচের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় নিলয় (Ventricle)
সুতরাং, মানুষের হৃৎপিণ্ডে থাকে— ডান অলিন্দ, বাম অলিন্দ, ডান নিলয় এবং বাম নিলয়
বাম অলিন্দ এবং বাম নিলয় সবসময় অক্সিজেনযুক্ত রক্ত (Oxygenated Blood) এবং ডান অলিন্দ ও ডান নিলয় সবসময় কার্বন ডাই অক্সাইডযুক্ত রক্ত (Deoxygenated Blood) বহন করে।
83

বিলিরুবিন তৈরি হয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পিত্তথলিতে
  2. কিডনীতে
  3. প্লীহায়
  4. যকৃতে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বিলিরুবিন হচ্ছে পিত্তরসের কমলা রঙের প্রধান রঞ্জক পদার্থ। হিমোগ্লোবিনের প্রধান দুটি উপাদান- প্রোটিন অংশ গ্লোবিন ও লৌহযুক্ত অংশ হিম (heme)। হিম ভেঙে শেষ পর্যন্ত বিলিরুবিনের পরিণত হয়। পিত্তের বর্ণের জন্য দায়ী বিলিরুবিন। বিলিরুবিন তৈরি হয় প্লীহায়। রক্তে বিলিরুবিনের স্বাভাবিক মাত্রা ০.২-০.৮ মিগ্রাম/ডেসিলিটার। রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়াকে জন্ডিস বা পাণ্ডুরোগ বলে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: প্লীহায় (Spleen)।
বিলিরুবিন হলো একটি হলুদ রঞ্জক পদার্থ যা মূলত পুরাতন ও ক্ষতিগ্রস্ত লোহিত রক্তকণিকা (RBC) ভেঙে যাওয়ার ফলে সৃষ্টি হয়।
দেহের রেটিকিউলোএন্ডোথেলিয়াল সিস্টেমের অংশ হিসেবে প্লীহা পুরাতন লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংসের প্রধান স্থান হিসেবে কাজ করে। এই ধ্বংস প্রক্রিয়া থেকেই বিলিরুবিন তৈরি হয়। এজন্য প্লীহাকে ‘RBC-এর গোরস্থান’ বলা হয়।
যকৃৎ (Liver): বিলিরুবিন প্লীহায় তৈরি হলেও তা পরে যকৃতে এসে প্রক্রিয়াজাত (Conjugation) হয় এবং পিত্তরসের মাধ্যমে দেহ থেকে নির্গত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। তাই যকৃৎ উৎপত্তির স্থান নয়, প্রক্রিয়াজাতকরণের স্থান।
পিত্তথলি (Gallbladder): এটি শুধুমাত্র যকৃতে তৈরি হওয়া পিত্ত (যার মধ্যে বিলিরুবিন থাকে) সঞ্চয় করে।
84

মানুষের গায়ের রং কোন উপাদানের উপর নির্ভর করে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মেলানিন
  2. থায়ামিন
  3. ক্যারোটিন
  4. হিমোগ্লোবিন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

মানুষের ত্বকে দুটি স্তর আছে। এর বাইরেরটি বহিঃত্বক বা 'এপিডারমিস' এবং ভেতরেরটিকে বলে অন্তঃত্বক বা 'ডারমিস'। বহিঃত্বককে আবার কয়েকটি স্তরে ভাগ করা যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে ভেতরেরটির নাম 'স্ট্র্যাটাম বেসাল' (Stratum basale)। এই স্তরে কতগুলো বিশেষ ধরনের কোষ আছে- এদের বলে 'মেলানোসাইট' (Melanocyte)। মেলানোসাইটগুলোর মধ্যে আছে রঞ্জক কণা ‘মেলানিন’। গাঢ় রঙের এই কণাগুলোই ত্বকের কালো রঙের জন্য দায়ী। যাদের ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ খুব বেশি তাদের গায়ের রঙ কালো। ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ কম থাকলে গায়ের রঙ ফর্সা হয়। ভিটামিন B_1 এর অপর নাম থায়ামিন। ক্যারোটিন এর ধরনের আনস্যাচুরেটেড হাইড্রোকার্বন যা শুধু উদ্ভিত দেহে তৈরি হয়। হিমোগ্লোবিন এক ধরনের প্রোটিন যা প্রায় সকল মেরুদণ্ডী প্রাণির লোহিত রক্ত কণিকায় পাওয়া যায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো মেলানিন। মানুষের গায়ের রং, চুলের রং এবং চোখের মণির রং প্রধানত ত্বকে উপস্থিত মেলানিন নামক পিগমেন্ট বা রঞ্জক উপাদানের পরিমাণের উপর নির্ভর করে।
মেলানিন তৈরি হয় ত্বকের এপিডার্মিস স্তরে অবস্থিত মেলানোসাইট নামক বিশেষ কোষ থেকে। এই পিগমেন্টের উৎপাদন যত বেশি হয়, গায়ের রং তত গাঢ় বা কালো হয়।
মেলানিন শুধু রং নির্ধারণ করে না, এটি ত্বককে অতিবেগুনি রশ্মি (UV-রশ্মি) থেকে রক্ষা করতে প্রকৃতি প্রদত্ত সানস্ক্রিন হিসেবে কাজ করে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল কারণ: থায়ামিন হলো ভিটামিন B1; ক্যারোটিন হলো উদ্ভিজ্জ রঞ্জক যা বেশি গ্রহণ করলে ত্বক হলুদাভ হতে পারে; এবং হিমোগ্লোবিন রক্তে অক্সিজেন পরিবহন করে (যা রক্তকে লাল রং দেয়)।
85

গাছের খাদ্য তালিকায় আছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. N, P, K, S ও Zn
  2. Na, P, K, S ও Zn
  3. N, B, K, S ও Al
  4. N, P, K, S ও Al

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

উদ্ভিদের সার্বিক বৃদ্ধির প্রয়োজনে দশটি খনিজ উপাদান বিশেষ দরকারি। এগুলো হচ্ছে -কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), পটাশিয়াম (K), ক্যালসিয়াম (Ca), সালফার (S), ম্যাগনেসিয়াম (Mg) এবং লোহা (Fe)। উপরোক্ত প্রশ্নের (ক) তালিকায় সবগুলোই এই দশ প্রকার খনিজের মধ্যে রয়েছে। সুতরাং সঠিক উত্তর (ক)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: N, P, K, S ও Zn। এই উপাদানগুলি উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য অত্যাবশ্যকীয় (Essential Elements)।
উদ্ভিদের জন্য মোট ১৭টি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান রয়েছে। এগুলোকে প্রধানত ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট (Macro-nutrients) এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট (Micro-nutrients) এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
N (নাইট্রোজেন), P (ফসফরাস) এবং K (পটাশিয়াম) হলো প্রধান ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট (Primary Macronutrients)। এগুলি প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজন হয়।
S (সালফার) হলো গৌণ ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট। Zn (জিঙ্ক) হলো মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা স্বল্প পরিমাণে প্রয়োজনীয় উপাদান। প্রদত্ত তালিকায় সকল অত্যাবশ্যকীয় উপাদানের মিশ্রণ রয়েছে।
অন্যান্য অপশনে থাকা Na (সোডিয়াম) এবং Al (অ্যালুমিনিয়াম) উদ্ভিদের অত্যাবশ্যকীয় ১৭টি উপাদানের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই বিকল্পগুলি সঠিক নয়।
86

নিচের কোনটি DNA এর নাইট্রোজেন বেস?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ইউরাসিল
  2. গোয়ানিন
  3. পিরিডক্সিন
  4. অ্যাসপারাজিন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গোয়ানিন
DNA (Deoxyribonucleic acid) হলো জীবের বংশগতির ধারক ও বাহক। DNA মূলত তিনটি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত: শর্করা (ডিঅক্সিরাইবোজ), ফসফেট এবং নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক বা বেস
DNA তে মোট চারটি প্রধান নাইট্রোজেন বেস পাওয়া যায়। এগুলো হলো: ১. অ্যাডিনিন (Adenine – A), ২. গোয়ানিন (Guanine – G), ৩. সাইটোসিন (Cytosine – C) এবং ৪. থাইমিন (Thymine – T)
অপশনগুলোর মধ্যে গোয়ানিন (G) হলো ডিএনএ-এর সঠিক নাইট্রোজেন বেস।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে ইউরাসিল (U) থাকে শুধুমাত্র RNA-তে। পিরিডক্সিন হলো ভিটামিন B6 এবং অ্যাসপারাজিন একটি অ্যামিনো অ্যাসিড, যা DNA গঠনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
87

নারভাস সিস্টেমের স্ট্রাকচারাল এবং ফাংশনাল ইউনিটকে কি বলে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নেফ্রোন
  2. নিউরন
  3. থাইমাস
  4. মাস্ট সেল

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

প্রতিটি কিডনি অনেকগুলো ক্ষুদ্র কার্যকরী এককের সমন্বয়ে গঠিত, যা নেফ্রোন নামে পরিচিত। নিউরন হলো স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকরী উপাদান, যা দিয়ে নার্ভ বা স্নায়ু গঠিত। থাইমাস হচ্ছে একটি গ্রন্থি এবং মাস্টসেল বিভিন্ন কলাতে পাওয়া যায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো নিউরন (Neuron)
নিউরন হলো স্নায়ুতন্ত্রের (Nervous System) মৌলিক গাঠনিক (Structural) এবং কার্যকরী (Functional) একক। এটি বৈদ্যুতিক এবং রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করে।
অপশন (ক) নেফ্রোন হলো বৃক্কের (Kidney) গাঠনিক ও কার্যকরী একক, যার কাজ রক্ত পরিস্রাবণ করা। তাই এটি ভুল।
অপশন (গ) থাইমাস হলো একটি গ্রন্থি, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে (T-Cell তৈরি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অপশন (ঘ) মাস্ট সেল হলো এক প্রকার শ্বেত রক্তকণিকা যা অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়ার সাথে যুক্ত।
88

রক্তে হিমোগ্লোবিনের কাজ কি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অক্সিজেন পরিবহন করা
  2. রোগ প্রতিরোধ করা
  3. রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে
  4. উল্লিখিত সব কয়টিই

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

রক্তে হিমোগ্লোবিনের কাজ অক্সিজেন পরিবহন করে প্রতিটি কোষে পৌঁছে দেয়া এবং কোষ থেকে কার্বন ডাই- অক্সাইড পরিবহন করে ফুসফুসে নিয়ে আসা। রোগ প্রতিরোধের কাজে নিয়োজিত আছে শ্বেত কণিকা এবং রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে অণুচক্রিকা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অক্সিজেন পরিবহন করা
হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকার (RBC) প্রধান উপাদান এবং এটি একটি বিশেষ লৌহযুক্ত রঞ্জক প্রোটিন যা রক্তের রং লাল করে।
এর প্রধান কাজ হলো ফুসফুস থেকে অক্সিজেন (O₂) শোষণ করা এবং সেই অক্সিজেনকে দেহের প্রতিটি কোষে পরিবহন করে পৌঁছে দেওয়া। একইসাথে এটি কোষ থেকে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) ফুসফুসে ফিরিয়ে আনে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল কারণ:
রোগ প্রতিরোধ করা শ্বেত রক্তকণিকার (WBC) কাজ।
রক্ত জমাট বাঁধতে অনুচক্রিকা (Platelets) এবং ফাইব্রিনোজেন নামক প্রোটিন সাহায্য করে।
89

কোন ভিটামিন ক্ষতস্থান হতে রক্ত পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভিটামিন সি
  2. ভিটামিন বি
  3. ভিটামিন B2
  4. ভিটামিন কে

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ভিটামিন কে (Vitamin K)
এই ভিটামিনটি মূলত রক্ত তঞ্চন (Blood Clotting) প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি যুক্ত।
ভিটামিন কে যকৃতে (Liver) রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্যকারী প্রোটিন, বিশেষ করে প্রোথম্বিন (Prothrombin) সংশ্লেষণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভিটামিন K-এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধতে দেরি হয় বা ব্যর্থ হয়, ফলে ক্ষতস্থান থেকে রক্তপাত সহজে বন্ধ হতে চায় না।
অন্যদিকে, ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, মাড়ির ক্ষয় রোধে এবং ক্ষত নিরাময়ে পরোক্ষভাবে সাহায্য করে, কিন্তু রক্ত জমাট বাঁধার প্রধান উপাদান এটি নয়।
90

সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি পরিমাণে হয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সবুজ আলোতে
  2. নীল আলোতে
  3. লাল আলোতে
  4. বেগুনী আলোতে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বর্ণালীবিক্ষণ যন্ত্র (Spectroscope)-এর সাহায্যে জানা গেছে যে, দৃশ্যমান বর্ণচ্ছটার মধ্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় লাল আলোই সর্বাপেক্ষা কর্মক্ষম। নীল আলো তুলনামূলকভাবে কম কর্মক্ষম। বেগুনী আলোয় আরও কম সালোকসংশ্লেষণ হয়। সূর্যালোকে সবুজ আলো শোষিত না হওয়ায় সবুজ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ একেবারেই হয় না। সালোক সংশ্লেষণে বিভিন্ন আলোর কার্যকারিতা তাদের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: লাল আলোতে
উদ্ভিদের পাতায় অবস্থিত ক্লোরোফিল রঞ্জক পদার্থটি দৃশ্যমান বর্ণালীর মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো শোষণ করে সালোকসংশ্লেষণ ঘটায়।
ক্লোরোফিল সবচেয়ে বেশি আলো শোষণ করে লাল (Red) আলোতে (৬৫০-৭০০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যে)। ফলস্বরূপ, সালোকসংশ্লেষণের হার এই আলোতে সর্বোচ্চ হয়।
এরপর সর্বোচ্চ হার দেখা যায় নীল আলোতে
উল্লেখ্য, ক্লোরোফিল সবুজ আলো (Green Light) শোষণ করে না, বরং তা প্রতিফলিত করে। এই কারণেই উদ্ভিদকে সবুজ দেখায় এবং সবুজ আলোতে সালোকসংশ্লেষণের হার সর্বনিম্ন হয়।
91

হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আয়োডিন
  2. আয়রন
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. ফসফরাস

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ফসফরাস দাঁত ও অস্থি গঠন, রক্ততঞ্চন, পেশী সংকোচন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্লান্ডের কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয় এবং গলগণ্ড, বামনত্ব প্রভৃতি দেখা দেয়। আয়রন রক্তের হিমোগ্লোবিনের অন্যতম প্রধান উৎস। ম্যাগনেসিয়াম শরীর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ফসফরাস
মানবদেহের হাড় ও দাঁতের গঠনের জন্য প্রধানত দুটি খনিজ উপাদান অপরিহার্য: ক্যালসিয়াম (Calcium) এবং ফসফরাস (Phosphorus)
দাঁত ও হাড়ের প্রায় ৮৫% গঠিত হয় ক্যালসিয়াম ফসফেট (Calcium Phosphate) দ্বারা। ক্যালসিয়াম প্রধান উপাদান হলেও, ফসফরাস ক্যালসিয়ামের সাথে মিলিত হয়ে হাড়কে দৃঢ়তা ও মজবুত কাঠামো প্রদান করে এবং শক্তি সঞ্চয়ে সহায়তা করে।
যদি অপশনে ক্যালসিয়াম না থাকে, তবে ফসফরাসকেই হাড় মজবুত করার উপাদান হিসেবে সঠিক উত্তর হিসেবে গণ্য করতে হবে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন কাজের সাথে জড়িত:
আয়োডিন: থাইরয়েড হরমোন (থাইরক্সিন) উৎপাদনে সাহায্য করে।
আয়রন: রক্তের লোহিত কণিকায় হিমোগ্লোবিন তৈরিতে অত্যাবশ্যক।
92

নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয় মানব দেহের-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ফুসফুস
  2. যকৃত
  3. কিডনি
  4. প্লীহা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ফুসফুসের প্রদাহকে নিউমোনিয়া বলে। এটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। অপরদিকে যকৃতের প্রদাহকে হেপাটাইটিস (ভাইরাস ঘটিত) এবং কিডনির প্রদাহকে নেফ্রাইটিস বলে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ফুসফুস (Lungs)
নিউমোনিয়া (Pneumonia) হল একটি সংক্রামক রোগ যা মূলত মানবদেহের ফুসফুসের অ্যালভিওলি (Alveoli) বা বায়ুথলিগুলিকে আক্রান্ত করে।
সংক্রমণের ফলে এই বায়ুথলিগুলিতে জল বা পুঁজ জমে যায়, যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, জ্বর, এবং শ্বাসকষ্টে ভোগেন। নিউমোনিয়া ফুসফুসের কার্যকারিতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল কারণ: যকৃত (Liver) হেপাটাইটিস বা জন্ডিস রোগে আক্রান্ত হয়; কিডনি (Kidney) নেফ্রাইটিস বা কিডনি ফেইলিওর-এ আক্রান্ত হয়।
93

Adult Cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম হয়েছে তার নাম দেয়া হয়েছে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শেলী
  2. ডলি
  3. মলি
  4. নেলী

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

স্কটল্যান্ডের এডিনবরার রোসলিন ইনস্টিটিউটের সামনে ১৯৯৬ সালের ৫ জুলাই ক্লোন ভেড়া ডলির জন্ম হয়। রোসলিন ইনস্টিটিউটের ভ্রূণতত্ত্ববিদ ড. আয়ান উইলসুট ভেড়াটিকে ক্লোন করেন। ১৯৯৭ সালে ডলির জন্মের বিষয়টি ঘোষণা করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ডলি (Dolly)
ডলি হলো পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী যাকে সফলভাবে একটি প্রাপ্তবয়স্ক দেহকোষ (Adult Somatic Cell) থেকে ক্লোন করা হয়েছিল। অর্থাৎ, এটি কোনো শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ছাড়াই জন্ম নেয়।
ডলিকে ক্লোন করা হয় ১৯৯৬ সালের ৫ জুলাই, স্কটল্যান্ডের রোজলিন ইনস্টিটিউটে (Roslin Institute)। এই ক্লোনিংয়ের নেতৃত্বে ছিলেন ড. ইয়ান উইলমুট (Dr. Ian Wilmut) এবং ক্যাথ ক‍্যাম্বেল (Keith Campbell)
94

মানুষের ক্রোমোজোমের সংখ্যা কত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ২৫ জোড়া
  2. ২৬ জোড়া
  3. ২৩ জোড়া
  4. ২৪ জোড়া

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

জীবকোষের নিউক্লিয়াসে এ সুতার মতো আকৃতি বিশিষ্ট উপাদানের নাম ক্রোমোজোম। মানুষের দেহ কোষে ক্রোমোজোমের সংখ্যা ৪৬টি বা ২৩ জোড়া । এর মধ্যে ২২ জোড়া অটোজোম বা সোমাটিক ক্রোমোজোম। এগুলোর মাধ্যমে বংশগতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়ে থাকে। বাকি ১ জোড়া সেক্স ক্রোমোজোম।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ২৩ জোড়া
জীববিজ্ঞানের মৌলিক তথ্য অনুযায়ী, সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষের প্রতিটি দেহকোষে (Somatic Cell) মোট ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে, যা ২৩ জোড়ায় বিন্যস্ত থাকে।
এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে রয়েছে:
১. ২২ জোড়া অটোজোম (Autosome) বা দৈহিক ক্রোমোজোম।
২. ১ জোড়া অ্যালোজোম (Allosome) বা সেক্স ক্রোমোজোম (লিঙ্গ নির্ধারণকারী)।
অন্যান্য অপশনগুলো (২৫, ২৬ জোড়া) মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এবং এগুলো ভুল উত্তর। উদাহরণস্বরূপ, গোরিলার ক্রোমোজোম সংখ্যা ২৪ জোড়া।
95

মৌমাছির চাষ হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. এপিকালচার
  2. সেরিকালচার
  3. পিসিকালচার
  4. হর্টিকালচার

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

এপিকালচার (Apiculture) মৌমাছি চাষ। সেরিকালচার ও পিসিকালচার হলো যথাক্রমে রেশম চাষ ও মৎস্য চাষ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো এপিকালচার
এপিকালচার (Apiculture) হলো মৌমাছি পালন বা চাষের বৈজ্ঞানিক নাম। ল্যাটিন ভাষায় 'Apis' শব্দটি মৌমাছিকে নির্দেশ করে। এটি কৃষিবিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা।
অন্যান্য বিকল্পগুলোর ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:
১. সেরিকালচার (Sericulture): এটি হলো রেশম পোকা (Silkworm) চাষের পদ্ধতি, যা থেকে রেশম উৎপাদন করা হয়।
২. পিসিকালচার (Pisciculture): এটি হলো বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।
৩. হর্টিকালচার (Horticulture): এটি মূলত উদ্যানপালন বিজ্ঞান, যেখানে ফল, ফুল এবং সবজি চাষ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
96

এন্টিবায়োটিকের কাজ-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
  2. জীবাণু ধ্বংস করা
  3. ভাইরাস ধ্বংস করা
  4. দ্রুত রোগ নিরাময় করা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

যেসব রাসায়নিক পদার্থ ব্যাকটেরিয়ার মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রোগ জীবাণুকে ধ্বংস করে কিংবা এদের বংশবৃদ্ধি রোধ করে সেসব পদার্থকে এন্টিবায়োটিক বলে। যেমন: পেনিসিলিন, ক্লোরোমাইসিন প্রভৃতি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: জীবাণু ধ্বংস করা (অপশন খ)।
এন্টিবায়োটিক (Antibiotic) শব্দটি এসেছে 'Anti' (বিরুদ্ধে) এবং 'Bios' (জীবন/ব্যাকটেরিয়া) শব্দ দুটি থেকে। এন্টিবায়োটিক হলো এমন এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ, যা বিশেষত ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ বা রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়।
এন্টিবায়োটিকের প্রধান কাজ হলো ক্ষতিকারক জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি রোধ করা অথবা সেগুলোকে সরাসরি ধ্বংস করে দেওয়া।
কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
ভাইরাস ধ্বংস করা: এটি একটি খুবই সাধারণ ভুল ধারণা। এন্টিবায়োটিক কখনোই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না; ভাইরাসজনিত রোগের জন্য অ্যান্টিভাইরাল (Antiviral) ওষুধ প্রয়োজন।
রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা: এটি টিকার কাজ, এন্টিবায়োটিকের নয়।
97

মাশরুম এক ধরনের-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অপুষ্পক উদ্ভিদ
  2. পরজীবী উদ্ভিদ
  3. ফাঙ্গাস
  4. অর্কিড

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

মাশরুম বা ব্যাঙের ছাতা এক ধরনের ফাঙ্গাস (Fungus)। Fungi কিংডমের Basidiomycetes শ্রেণী সাধারণভাবে মাশরুম বা ব্যাঙের ছাতা নামে পরিচিত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ফাঙ্গাস (Fungus) বা ছত্রাক
মাশরুম হলো এক ধরনের বহুকোষী ছত্রাক বা ফাঙ্গাস-এর ফলন্ত দেহ (Fruiting Body)। জীববিজ্ঞানে, ছত্রাক একটি সম্পূর্ণ আলাদা জগৎ (Kingdom Fungi)।
ছত্রাককে উদ্ভিদের জগতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না, কারণ ছত্রাকের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—এদের কোষে ক্লোরোফিল অনুপস্থিত। ক্লোরোফিল না থাকার কারণে এরা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না।
অন্যান্য অপশন ভুল হওয়ার কারণ:
অপুষ্পক উদ্ভিদ: এটি একটি প্রাচীন শ্রেণিবিভাগ। বর্তমানে ছত্রাককে উদ্ভিদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা জগৎ হিসেবে দেখা হয়। এছাড়া, অপুষ্পক উদ্ভিদ বলতে সাধারণত শ্যাওলা, ফার্ন ইত্যাদি বোঝানো হয়।
পরজীবী উদ্ভিদ: কিছু ছত্রাক পরজীবী হলেও (যেমন- অনেক ক্ষতিকারক রোগ সৃষ্টিকারী ছত্রাক), মাশরুম বা অধিকাংশ ছত্রাক মৃতজীবী (Saprophyte) বা পচনশীল বস্তুর ওপর নির্ভরশীল
98

যকৃতের রোগ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জন্ডিস
  2. টাইফয়েড
  3. হাম
  4. কলেরা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ বেড়ে গেলে শরীর ও চোখ হলুদ বর্ণ ধারণ করে, যা জন্ডিস নামে পরিচিত। জন্ডিস হলে লিভার বড় হয়ে যায়। এটি একটি পানিবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: জন্ডিস (Jaundice)। জন্ডিস কোনো একক রোগ নয়, এটি মূলত একটি রোগের লক্ষণ যা সরাসরি যকৃতের (Liver) কার্যকারিতার সাথে জড়িত।
যখন যকৃৎ রক্তে থাকা বিলিরুবিন নামক বর্জ্য পদার্থকে সঠিকভাবে প্রক্রিয়াকরণ করে দেহ থেকে বের করে দিতে ব্যর্থ হয়, তখন রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত বিলিরুবিনের কারণেই ত্বক, চোখ ও শ্লেষ্মা ঝিল্লি হলুদ হয়ে যায়, যা জন্ডিস নামে পরিচিত।
অন্যান্য অপশনগুলো যকৃতের সরাসরি রোগ নয়:
টাইফয়েড: এটি Salmonella typhi নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট যা প্রধানত অন্ত্রকে আক্রমণ করে।
কলেরা: এটি Vibrio cholerae নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট যা মারাত্মক ডায়রিয়া রোগ এবং অন্ত্রে প্রভাব ফেলে।
হাম: এটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা শ্বাসতন্ত্র এবং ত্বকে র‌্যাশ সৃষ্টি করে।
99

উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্র–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ওডোমিটার
  2. ক্রনোমিটার
  3. ট্যাকোমিটার
  4. ক্রেসকোগ্রাফ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম ক্রেসকোগ্রাফ। ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। ক্রনোমিটার সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র। ট্যাকোমিটার উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ক্রেসকোগ্রাফ (Crescograph)। এটি এমন একটি যন্ত্র যা উদ্ভিদের অত্যন্ত সূক্ষ্ম বৃদ্ধি (growth) পরিমাপ করতে পারে। এই যন্ত্রটি উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে মানুষের চুলের বৃদ্ধির চেয়েও ১,০০,০০,০০০ গুণ বেশি সূক্ষ্ম পরিমাপ দিতে সক্ষম।
ক্রেসকোগ্রাফ আবিষ্কার করেন বিখ্যাত বাঙালি বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন— ওডোমিটার গাড়ির অতিক্রান্ত দূরত্ব, ক্রনোমিটার নির্ভুল সময় এবং ট্যাকোমিটার ঘূর্ণন গতি (RPM) পরিমাপ করে।
100

মস্তিষ্কের ক্ষমতা ক্ষয় পেতে থাকে স্নায়ু কোষের-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. এক-চতুর্থাংশ ধ্বংস হয়ে গেলে
  2. অর্ধেক ধ্বংস হয়ে গেলে
  3. এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে গেলে
  4. এক-চতুর্থাংশ বেড়ে গেলে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

মানুষের মস্তিষ্ক ‘Cerebrum’, ‘Cerebellum’ এবং ‘Brain Stem’ নিয়ে গঠিত এবং মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করে। স্নায়ু কোষের মাধ্যমেই মস্তিষ্ক উদ্দীপনা গ্রহণ করে ও উপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যথাস্থানে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে। তাই মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ এক চতুর্থাংশ ধ্বংস হয়ে গেলে এর ক্ষমতা ক্ষয় পেতে থাকে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: এক-চতুর্থাংশ ধ্বংস হয়ে গেলে
মানব মস্তিষ্ক অত্যন্ত শক্তিশালী ও সহনশীল। এতে কোটি কোটি স্নায়ুকোষ বা নিউরন বিদ্যমান, যার কারণে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বা কার্যকারিতা সহজে হ্রাস পায় না।
কিন্তু যখন বার্ধক্যজনিত কারণে বা আঘাতের ফলে স্নায়ু কোষের প্রায় ২৫% (এক-চতুর্থাংশ) ধ্বংস হয়ে যায়, তখন মস্তিষ্ক আর এই ক্ষতিপূরণ করতে পারে না। এই পর্যায় থেকে মস্তিষ্কের ক্ষমতা ক্ষয় পাওয়া বা হ্রাস পাওয়া শুরু হয় এবং স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং অন্যান্য জ্ঞানীয় (Cognitive) কাজে সমস্যা দেখা যায়।
অন্যান্য অপশনগুলো (অর্ধেক ধ্বংস, কিংবা বেড়ে যাওয়া) মস্তিষ্কের ক্ষমতা ক্ষয়ের ক্ষেত্রে শারীরবৃত্তীয়ভাবে সঠিক নয়।
101

মাইটোকন্ড্রিয়ায় কত ভাগ প্রোটিন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 70%
  2. 72%
  3. 73%

  4. 80%

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

কোষের সাইটোপ্লাজমের মাঝে বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থিত ধূসর বর্ণের ও শক্তি উৎপাদনের বিশেষ ধরনের অঙ্গগুলোকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলা হয়। একে কোষের পাওয়ার হাউজও বলে। এটি গঠিত হয় DNA, RNA, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের সমন্বয়ে। এতে ৭৩% প্রোটিন, ২৫-৩০% লিপিড এবং সামান্য পরিমাণে RNA, DNA, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ৭৩%
মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria) হলো কোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু, যা শ্বসন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে এবং ATP আকারে শক্তি উৎপাদন করে।
রাসায়নিকভাবে মাইটোকন্ড্রিয়ার শুষ্ক ওজনের বেশিরভাগ অংশই হলো প্রোটিন। এর মোট উপাদানের প্রায় ৭০% থেকে ৭৫% পর্যন্ত উপাদানই হলো প্রোটিন
বাকি অংশটি লিপিড (Lipid), যা প্রায় ২৭-২৮%, এবং সামান্য পরিমাণে DNA, RNA ও এনজাইম দ্বারা গঠিত। যেহেতু অপশনগুলোর মধ্যে ৭৩% রয়েছে, তাই এটিই সবচেয়ে নির্ভুল উত্তর।
102

মূল নেই কোন উদ্ভিদে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ফণিমনসা
  2. বীরুৎ
  3. গুল্ম
  4. সাইকাস

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

উপরিউক্ত সকল উদ্ভিদেরই মূল রয়েছে। ফণিমনসা টেরিডোফাইটা গ্রুপের উদ্ভিদ। এ জাতীয় উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড ও পাতা থাকে কিন্তু ফুল ও ফল হয় না। কোমল কাণ্ডযুক্ত ছোট ছোট উদ্ভিদকে বীরুৎ বলে। যেমন- ধান, ছোলা, আদা ইত্যাদি। সাইকাস হচ্ছে ফ্যানেরোগ্যামিয়া (Phanerogamia) গ্রুপের উদ্ভিদ, যাদের ফুল হয় ও মূল, কাণ্ড প্রভৃতি থাকে এবং যেসব উদ্ভিদ আকারে ছোট ও কাষ্ঠল কিন্তু গুড়ি নেই তাদেরকে গুল্ম বলে। যেমন গোলাপ, জবা ইত্যাদি। পৃথিবীতে কিছু শৈবাল ও ছত্রাক রয়েছে, যাদের মূল নেই। যেমনমিউকর, সারগামাস, ঈস্ট ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

এই প্রশ্নটি মূলত উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগ (Plant Classification) থেকে এসেছে। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে, যে সকল উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড ও পাতা সুনির্দিষ্টভাবে বিভক্ত নয়, তাদের বলা হয় নিম্নশ্রেণীর উদ্ভিদ
নিম্নশ্রেণীর উদ্ভিদ, যেমন: থ্যালোফাইটা (Thallophyta) গোত্রের উদ্ভিদগুলিতে (যেমন: শৈবাল, ছত্রাক) আসল মূল (True Root) থাকে না। মূলের পরিবর্তে এদের ক্ষেত্রে রাইজয়েড (Rhizoids) নামক ক্ষুদ্র মূলসদৃশ অংশ থাকে, যা শুধু উদ্ভিদকে ধরে রাখতে সাহায্য করে, খাদ্য গ্রহণে নয়।
প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে ফণিমনসা, বীরুৎ, গুল্ম ও সাইকাস—সবগুলিই উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ এবং এদের প্রত্যেকেরই সুগঠিত মূল ব্যবস্থা রয়েছে। গুল্ম (Shrub) ঝোপ জাতীয় উদ্ভিদ এবং এর মূল মাটির গভীরে প্রবেশ করে।
তবে, যেহেতু এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হিসেবে গুল্ম (সূচক ২) চিহ্নিত করা হয়েছে, ধরে নেওয়া যায় যে মূল প্রশ্নে শৈবাল (Algae) বা ছত্রাক (Fungi)-এর মতো কোনো একটি অপশন থাকার কথা ছিল, যা ভুলবশত পরিবর্তন হয়ে গেছে। প্রশ্নটি বৈজ্ঞানিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ হলেও, থ্যালোফাইটা বা ব্রায়োফাইটা জাতীয় উদ্ভিদের মূল অনুপস্থিতি ধারণাটিই এখানে পরীক্ষার জন্য চাওয়া হয়েছে।
103

ডেঙ্গু জ্বরের বাহক কোন মশা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অ্যানোফিলিস
  2. এডিস
  3. কিউলেক্স
  4. সব ধরনের মশা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

এডিস মশা ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, পীতজ্বর এবং জিকা জ্বরের জীবাণু বহন করে। অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া, কিউলেক্স মশা ফাইলেরিয়া রোগের জীবাণু বহন করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো অপশন (২) এডিস
ডেঙ্গু জ্বরের জন্য দায়ী ভাইরাস হলো ডেঙ্গু ভাইরাস (DENV), এবং এটি প্রধানত স্ত্রী এডিস ইজিপ্টাই (Aedes aegypti) মশার মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়। এই মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ তারা ভিন্ন রোগের বাহক। অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া রোগের বাহক এবং কিউলেক্স মশা ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগের বাহক।
104

ঘন পাতাবিশিষ্ট বৃক্ষের নিচে রাতে ঘুমানো স্বাস্থসম্মত নয়, কারণ গাছ হতে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অধিক পরিমাণে অক্সিজেন নির্গত হয়
  2. অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়
  3. অধিক পরিমাণে কার্বন মনো-অক্সাইড নির্গত হয়
  4. বিষাক্ত সায়ানাইড নির্গত হয়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

জীবন্ত প্রতিটি জীবের জন্য শ্বসন একটি অপরিহার্য ক্রিয়া, যার জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন। দিনের বেলায় সালোকসংশ্লেষণে উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে। রাতে সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ থাকে এবং এ সময় উদ্ভিদ শ্বসন ক্রিয়া চালানোর জন্য অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে। রাতে ঘন পাতাবিশিষ্ট গাছের নিচে ঘুমানো স্বাস্থ্যসম্মত নয় কারণ এতে অক্সিজেনের অভাবে ঘুমন্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাসে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়
গাছপালা দিনে ও রাতে উভয় সময়েই শ্বসন (Respiration) প্রক্রিয়া চালায়। এই প্রক্রিয়ায় তারা মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মতোই অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂) ত্যাগ করে।
দিনের বেলায় গাছপালা সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শ্বসনে ত্যাগ করা CO₂-এর চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে CO₂ বাতাস থেকে গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন (O₂) ত্যাগ করে। তাই দিনের বেলায় অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
কিন্তু রাতের বেলায় সূর্যের আলো না থাকায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। তখন শুধু শ্বসন প্রক্রিয়া চলতে থাকে। ফলে ঘন পাতাবিশিষ্ট বৃক্ষ তার চারপাশের বাতাসে অতিরিক্ত CO₂ নিঃসরণ করতে থাকে এবং O₂ গ্রহণ করে।
এই অবস্থায় বৃক্ষের নিচে ঘুমালে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের অভাব এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের আধিক্য দেখা দেয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
অন্যান্য অপশন ভুল, কারণ: কার্বন মনো-অক্সাইড (CO) নির্গত হয় সাধারণত কাঠ বা জ্বালানির অসম্পূর্ণ দহনের ফলে, যা গাছের স্বাভাবিক জৈব প্রক্রিয়া নয়। বিষাক্ত সায়ানাইডও গাছ থেকে নির্গত হয় না।
105

রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে কোনটি খাওয়া উচিত নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বেলে মাছ
  2. পালং শাক
  3. খাশির মাংস
  4. মুরগির মাংস

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে তা রক্ত পরিবহন তন্ত্রে পুরু স্তর তৈরি করে রক্তপ্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি করে, যার ফলে হৃৎপিণ্ডের নানারকম রোগসহ স্ট্রোক হতে পারে। সাধারণত চর্বিযুক্ত খাবারে উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল থাকে। যেমন- খাসির মাংস, গরুর মাংস ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: খাশির মাংস
রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে সাধারণত স্যাচুরেটেড ফ্যাট (Saturated Fat) এবং ট্রান্স ফ্যাট যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হয়।
খাশির মাংস (Mutton) হলো একটি লাল মাংস (Red Meat), যা উচ্চ মাত্রার স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল বহন করে। এই ধরনের ফ্যাট রক্তে LDL (Low-Density Lipoprotein) বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
অন্যদিকে, বেলে মাছে উপকারী অসম্পৃক্ত চর্বি (Omega-3) থাকে, যা কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। পালং শাক তন্তু বা ফাইবারে সমৃদ্ধ হওয়ায় তা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকরী। মুরগির মাংস (চামড়া ছাড়া) খাশির মাংসের চেয়ে অনেক কম স্যাচুরেটেড ফ্যাট বহন করে, তাই এটি অপেক্ষাকৃত নিরাপদ।
106

ডেঙ্গু জ্বরের বাহক–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অ্যানোফিলিস
  2. কিউলেক্স
  3. এডিস
  4. সকল ধরনের মশা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া, কিউলেক্স মশা ফাইলেরিয়া এবং এডিস মশা ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণু বহন করে। এডিস মশা পীতজ্বরের জীবাণুও বহন করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: এডিস (Aedes)। ডেঙ্গু জ্বর হলো এক ধরনের ভাইরাসজনিত রোগ যা প্রধানত এডিস মশা, বিশেষ করে স্ত্রী Aedes aegypti নামক মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষে ছড়ায়।
এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় (সকালের দিকে এবং সন্ধ্যার আগে) কামড়াতে পছন্দ করে এবং এরা পরিষ্কার, জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে ও বংশবিস্তার করে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মশার ভূমিকা:
অ্যানোফিলিস (Anopheles): এই মশা ম্যালেরিয়া রোগের বাহক।
কিউলেক্স (Culex): এই মশা ফাইলেরিয়া (Filariasis বা গোদা রোগ) এবং জাপানিজ এনসেফালাইটিস রোগের বাহক।
107

পেনিসিলিয়াম আবিষ্কার করেন–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রবার্ট হুক
  2. টমাস এডিসন
  3. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
  4. জেমস ওয়াট

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিয়াম; এডিসন সিনেমাটোগ্রাফি, ফনোগ্রাফি, বৈদ্যুতিক বাতি; রবার্ট হুক উদ্ভিদ কোষ এবং জেমস ওয়াট বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আলেকজান্ডার ফ্লেমিং (অপশন ৩)।
স্কটিশ বিজ্ঞানী ও ব্যাকটেরিওলজিস্ট স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ১৯২৮ সালে দুর্ঘটনাক্রমে (Serendipitous discovery) পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন।
পেনিসিলিন হলো পৃথিবীর প্রথম সফল অ্যান্টিবায়োটিক, যা মূলত পেনিসিলিয়াম নোটেটাম (Penicillium Notatum) নামক ছত্রাক বা মোল্ড (Mould) থেকে তৈরি। এই আবিষ্কার চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিপ্লব এনেছিল।
অন্যান্য অপশনগুলো গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারক হলেও তারা এই প্রশ্নের সাথে সম্পর্কিত নন। রবার্ট হুক হলেন সেই বিজ্ঞানী যিনি সর্বপ্রথম কোষ (Cell) আবিষ্কার করেন। টমাস এডিসন বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত। জেমস ওয়াট আধুনিক বাষ্পীয় ইঞ্জিন (Steam Engine) উন্নত করেন।
108

অগ্ন্যাশয় থেকে নির্গত চিনির বিপাক নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পেনিসিলিন
  2. ইনসুলিন
  3. ফলিক অ্যাসিড
  4. অ্যামিনো এসিড

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

অগ্ন্যাশয় মেরুদণ্ডী প্রাণীর দেহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। অগ্ন্যাশয় হতে আমিষ, শ্বেতসার ও চর্বি জাতীয় খাদ্য হজমকারী এনজাইম নিঃসৃত হয়। এগুলো খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গার হ্যানস হতে গ্লুকানল ও ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। ইনসুলিন হরমোনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো ইনসুলিন
ইনসুলিন হলো একটি পেপটাইড হরমোন যা অগ্ন্যাশয়ের (Pancreas) ল্যাঙ্গারহ্যান্স দ্বীপপুঞ্জের (Islets of Langerhans) বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয়।
এর প্রধান কাজ হলো রক্তে চিনির (গ্লুকোজের) মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা এবং গ্লুকোজকে শরীরের কোষে প্রবেশ করিয়ে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করা।
যখন এই ইনসুলিনের অভাব ঘটে বা শরীর ইনসুলিনের প্রতি সাড়া দেয় না, তখনই ডায়াবেটিস মেলাইটাস (বহুমূত্র) রোগ দেখা দেয়।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, পেনিসিলিন হলো অ্যান্টিবায়োটিক এবং ফলিক অ্যাসিড (ভিটামিন B9) ও অ্যামিনো এসিড হলো খাদ্য উপাদান, এরা কেউই চিনির বিপাক নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন নয়।
109

জীবের বংশগতির বৈশিষ্ট্য বহন করে–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নিউক্লিয়াস
  2. নিউক্লিওলাস
  3. ক্রোমোজোম

  4. নিউক্লিওপ্লাজম

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ক্রোমোজোম (Chromosome)
ক্রোমোজোম হলো কোষের নিউক্লিয়াসে থাকা সুতোর মতো গঠন যা বংশগত বৈশিষ্ট্যগুলির ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে। এই ক্রোমোজোমের মধ্যে DNA (ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড) প্যাঁচানো অবস্থায় থাকে এবং এই ডিএনএ-তেই জীবের সব তথ্য বা বৈশিষ্ট্য (যেমন: চোখের রং, চুলের প্রকৃতি) এনকোড করা থাকে।
জীবের বংশগতির কার্যকরী একক হলো জিন (Gene), যা আসলে ক্রোমোজোমের মধ্যে অবস্থিত DNA-এর নির্দিষ্ট অংশ।
অন্যান্য অপশনসমূহ ভুল, কারণ: নিউক্লিয়াস হলো সেই অঙ্গাণু যা ক্রোমোজোমকে ধারণ করে, কিন্তু বৈশিষ্ট্য বহনকারী মূল উপাদান নয়। নিউক্লিওলাস রাইবোসোম তৈরি করে এবং নিউক্লিওপ্লাজম হলো নিউক্লিয়াসের ভেতরের তরল অংশ, যা বংশগতি বহন করে না।
110

বিষধর সাপে কামড়ালে ক্ষতস্থানে থাকে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পাশাপাশি দুটো দাঁতের দাগ
  2. অনেকগুলো ছোট ছোট দাঁতের দাগ
  3. ক্ষতস্থান থেকে প্রচুর রক্তপাত হতে থাকে
  4. ক্ষতস্থানে প্রচুর বিষ লেগে থাকে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বিষধর সাপের বিষথলী সংযুক্ত থাকে সামনের দিকে উঁচু ও বড় দুটি ছিদ্রযুক্ত ফাঁপা দাঁতের সাথে। যখন বিষধর সাপ দংশন করে তখন ঐ দুটি দাঁত মাংসের মধ্যে ঢুকে যায় এবং বিষথলি থেকে নির্গত বিষ রক্তের সাথে মিশে যায়। তাই বিষধর সাপে কামড়ালে ক্ষতস্থানে পাশাপাশি দুটি দাঁতের দাগ থাকে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পাশাপাশি দুটো দাঁতের দাগ
বিষধর সাপেদের (যেমন: গোখরা, কেউটে, চন্দ্রবোড়া) মুখে বিষদাঁত (Fangs) থাকে। সাধারণত এদের মুখে এইরকম দুটি লম্বা, সূক্ষ্ম ও ফাঁপা দাঁত থাকে যা বিষ ইনজেক্ট করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
যখন বিষধর সাপ কামড়ায়, তখন এই দুটি বিষদাঁতের কারণে ক্ষতস্থানে পাশাপাশি দুটি গভীর ছিদ্র বা দাগ সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে, বিষহীন সাপেদের ক্ষেত্রে ক্ষতস্থানে অনেকগুলো ছোট ছোট দাঁতের দাগ দেখা যায়, কারণ তাদের বিষদাঁত থাকে না।
111

‘পিসিকালচার’ বলতে কি বোঝায়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হাঁস-মুরগি পালন
  2. মৌমাছি পালন
  3. মৎস্য চাষ
  4. রেশম চাষ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

হাঁস-মুরগি পালনকে পোলট্রি, মৌমাছি পালনকে এপিকালচার, মৎস্য চাষকে পিসিকালচার এবং রেশম চাষকে সেরিকালচার বলে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মৎস্য চাষ
পিসিকালচার (Pisciculture) শব্দটি দুটি ল্যাটিন শব্দের সমন্বয়ে গঠিত: 'Piscis' (যার অর্থ মাছ) এবং 'Cultura' (যার অর্থ চাষ বা পরিচর্যা)। তাই বৈজ্ঞানিক উপায়ে পুকুর, হ্রদ বা জলাশয়ে মাছের বাণিজ্যিক চাষ করাকে পিসিকালচার বলা হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল কারণ:
১. হাঁস-মুরগি পালন: এটি পোল্ট্রি ফার্মিং (Poultry Farming)।
২. মৌমাছি পালন: এটি এপিকালচার (Apiculture)
৩. রেশম চাষ: এটি সেরিকালচার (Sericulture)
112

মানবদেহের রক্তচাপ নির্ণায়ক যন্ত্র–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. স্ফিগমোম্যানোমিটার
  2. স্টেথস্কোপ
  3. কার্ডিওগ্রাফ
  4. ইকোকার্ডিওগ্রাফ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

স্ফিগমোম্যানোমিটার মানবদেহের রক্তচাপ নির্ণায়ক যন্ত্র, স্টেথস্কোপ হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের শব্দ নির্ণায়ক যন্ত্র, কার্ডিওগ্রাফ হৃৎপিণ্ডের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র এবং ইকোকার্ডিওগ্রাফ হৃৎপিণ্ডের কর্মক্ষমতা ও রোগ শনাক্তকরণ যন্ত্র।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: স্ফিগমোম্যানোমিটার (Sphygmomanometer)
এই যন্ত্রটি মানবদেহের ধমনীর প্রাচীরে রক্তের যে চাপ (Blood Pressure) সৃষ্টি হয়, তা পরিমাপ করে। এর মাধ্যমে সিস্টোলিক (উপরে)ডায়াস্টোলিক (নিচে) রক্তচাপের মান নির্ণয় করা হয়।

অন্যান্য অপশনগুলোর ব্যবহার:
১. স্টেথস্কোপ (Stethoscope): এটি শরীরের অভ্যন্তরের শব্দ (যেমন: হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন বা ফুসফুসের শব্দ) শুনতে সাহায্য করে। রক্তচাপ মাপার সময় এটি স্ফিগমোম্যানোমিটারের সাথে ব্যবহৃত হলেও, এটি চাপ পরিমাপক যন্ত্র নয়।
২. কার্ডিওগ্রাফ (Cardiograph): এই যন্ত্রটি হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ রেকর্ড করে, যা ইসিজি (ECG) নামে পরিচিত।
৩. ইকোকার্ডিওগ্রাফ (Echocardiograph): আল্ট্রাসাউন্ড প্রযুক্তি ব্যবহার করে হৃৎপিণ্ডের কাঠামোর ছবি তৈরি করা হয়।
113

কোন জলজ জীবটি বাতাসে নিশ্বাস নেয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শুশুক
  2. তিমি
  3. ইলিশ
  4. হাঙ্গর

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘শুশুক’ বা ‘ডলফিন’ এবং তিমি পানিতে বাস করলেও মাছের মতো ফুলকার সাহায্যে পানি থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে না। এটি পানি থেকে ভেসে উঠে মাথার ওপর আড়াআড়িভাবে থাকা ছিদ্রের সাহায্যে বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: শুশুক
শুশুক (River Dolphin) হলো জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী (Aquatic Mammal)। এর বৈজ্ঞানিক নাম Platanista gangetica। এদের ফুসফুস আছে।
স্তন্যপায়ী প্রাণীরা মাছের মতো ফুলকা ব্যবহার না করে ফুসফুসের (Lungs) মাধ্যমে বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করে। এই কারণে শুশুক ও তিমিকে শ্বাস নেওয়ার জন্য কিছুক্ষণ পর পর জলের উপরে উঠে আসতে হয়।
উল্টো দিকে, ইলিশহাঙ্গর হলো প্রকৃত মাছ (Fish)। এরা ফুলকার (Gills) সাহায্যে জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কখনোই বাতাস থেকে সরাসরি নিশ্বাস নিতে পারে না।
114

ডায়বেটিস রোগ সম্পর্কে যে তথ্যটি সত্য নয় সেটি হলো–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে এই রোগ হয়
  2. এই রোগ হলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়
  3. এই রোগ মানবদেহের কিডনি বিনষ্ট করে
  4. ইনসুলিন নামক একটি হরমোনের অভাবে এই রোগ হয়

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

আমাদের দেশের মানুষের ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে ডায়াবেটিস হয় প্রকৃতপক্ষে অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন হরমোনের অভাবে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে ডায়াবেটিস রোগ দেখা দেয়। এর ফলে মানবদেহের কিডনি বিনিষ্ট হতে পারে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে এই রোগ হয়
ডায়বেটিস হওয়ার প্রধান কারণ হলো অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন হরমোনের অভাব অথবা শরীরে ইনসুলিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি হওয়া (Insulin Resistance)।
চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে সাধারণত ওজন বৃদ্ধি পায় এবং এর ফলে ব্যক্তি টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে থাকেন। কিন্তু চিনি খাওয়াকে সরাসরি এই রোগের কারণ হিসেবে গণ্য করা যায় না। এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা
অন্যান্য অপশনগুলি (রক্তে গ্লুকোজ বৃদ্ধি, ইনসুলিনের অভাব, কিডনি বিনষ্ট করা) ডায়াবেটিস রোগের সত্য বৈশিষ্ট্য বা পরিণতি
115

বহুমূত্র রোগে কোন হরমোনের দরকার?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ইনসুলিন
  2. থাইরক্সিন
  3. এনড্রোজেন
  4. এস্ট্রোজেন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন হরমোন রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমায়। রক্তে এই ইনসুলিন হরমোন কমে গেলে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায় যাকে হাইপারগ্লাইসেমিয়া বলে। এর ফলে ঘন ঘন ক্ষুধা, পিপাসা ও প্রস্রাবের চাপ লাগে যাকে ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ বলে। এই রোগের জন্য ইনসুলিন হরমোন চামড়ার নিচে দেওয়া হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ইনসুলিন। বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস (Diabetes Mellitus) হলো এমন একটি রোগ, যেখানে শরীরে প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি হয় না বা ইনসুলিন সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না।
ইনসুলিন (Insulin) হরমোনটি অগ্নাশয়ের (Pancreas) আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যান্সের বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয়। এর প্রধান কাজ হলো রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে কোষে শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করা।
যদি ইনসুলিনের অভাব হয়, তবে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় এবং তা প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়, এই অবস্থাকেই বহুমূত্র রোগ বলা হয়। তাই এই রোগের চিকিৎসায় বাইরে থেকে ইনসুলিন সরবরাহ করা হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ: থাইরক্সিন হরমোনটি থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং এটি বিপাক (Metabolism) নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে, এনড্রোজেনএস্ট্রোজেন হলো যথাক্রমে পুরুষ ও নারীর যৌন হরমোন।
116

ক্লোনিং পদ্ধতিতে জন্মগ্রহণকারী ভেড়ার নাম কি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নেনী
  2. টমি
  3. শেলী
  4. ডলি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

স্কটল্যান্ডের এডিনবরার রোসলিন ইনস্টিটিউটের সামনে ১৯৯৬ সালের ৫ জুলাই ক্লোন ভেড়া ডলির জন্ম হয়। রোসলিন ইনস্টিটিউটের ভ্রূণতত্ত্ববিদ ড. আয়ান উইলমুট ভেড়াটিকে ক্লোন করেন। ১৯৯৭ সালে ডলির জন্মের বিষয়টি ঘোষণা করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো বিকল্প (৪) ডলি (Dolly)
ডলি হলো বিশ্বের প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী (ভেড়া), যাকে কোনো পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ (Adult Somatic Cell) থেকে সফলভাবে ক্লোন করা হয়েছিল।
এই যুগান্তকারী ক্লোনিং প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় ১৯৯৬ সালের ৫ জুলাই। এটি জীব প্রযুক্তির ইতিহাসে একটি বিশাল মাইলফলক।
গবেষণাটি স্কটল্যান্ডের রোজলিন ইনস্টিটিউটে সম্পন্ন হয় এবং এর নেতৃত্বে ছিলেন বিজ্ঞানী ড. ইয়ান উইলমুট (Dr. Ian Wilmut)
117

কোন হরমোনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. থাইবোসিন
  2. গ্লুকাগন
  3. এড্রিনালিন
  4. ইনসুলিন

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

হরমোন হচ্ছে একশ্রেণীর রাসায়নিক বস্তু, যা দেহের কোষ বা অঙ্গসমূহের বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন হচ্ছে এমন এক ধরনের হরমোন, যা রক্তে গ্লুকোজের বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো কারণে রক্তে ইনসুলিন সরবরাহ কমে গেলে গ্লুকোজের বিপাক ক্রিয়া বিঘ্নিত হয়, যার ফলে ডায়াবেটিস রোগ হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ইনসুলিন। ইনসুলিন হরমোনের অভাবে বা এর কার্যকারিতা হ্রাস পেলে ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগ হয়।

ইনসুলিনের কাজ: এই হরমোনটি মানুষের অগ্ন্যাশয়ের (Pancreas) ল্যাঙ্গারহ্যান্স দ্বীপপুঞ্জের (Islets of Langerhans) বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয়। এর প্রধান কাজ হলো রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা এবং কোষগুলোকে শক্তি উৎপাদনের জন্য গ্লুকোজ গ্রহণ করতে সাহায্য করা।

ডায়াবেটিস: যখন ইনসুলিনের অভাব হয় বা শরীর ইনসুলিনের প্রতি সাড়া দিতে পারে না (ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স), তখন রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়, যা ডায়াবেটিস মেলিটাস নামে পরিচিত।

অন্যান্য অপশন কেন ভুল:
  • থাইরোসিন: এটি থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং এটি বিপাক (Metabolism) নিয়ন্ত্রণ করে। এর অভাবে গলগন্ড (Goitre) হতে পারে।
  • গ্লুকাগন: এটিও অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হয়, তবে এটি ইনসুলিনের বিপরীত কাজ করে, অর্থাৎ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে।
  • এড্রিনালিন: এটি দুশ্চিন্তা বা বিপদের সময় নিঃসৃত হয় (Fight or Flight hormone)।
  • 118

    ‘Adult Cell’ ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম হয়েছে তার নাম দেয়া হয়েছে-

    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. শেলী
    2. ডলি
    3. মলি
    4. নেলী

    সঠিক উত্তর: খ

    সমাধান

    যুক্তরাজ্য বা গ্রেট ব্রিটেনের আওতাধীন স্কটল্যান্ডের এডিনবরার রোসলিন ইনস্টিটিউটের সামনে ১৯৯৬ সালের ৫ জুলাই ক্লোন ভেড়া ডলির জন্ম হয়। রোসলিন ইনস্টিটিউটের ভ্রূতত্ত্ববিদ ড. আয়ান উইলমুল ভেড়াটিকে ক্লোন করেন। ১৯৯৭ সালে ডলির জন্মের বিষয়টি ঘোষণা করা হয়।

    ব্যাখ্যা

    সঠিক উত্তর হলো: ডলি (Dolly)
    ডলি ভেড়া হলো বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যাকে একটি পূর্ণাঙ্গ 'প্রাপ্তবয়স্ক দেহকোষ' (Adult Somatic Cell) ক্লোন করে তৈরি করা হয়েছিল।
    ডলি ভেড়ার জন্ম হয়েছিল ৫ই জুলাই ১৯৯৬ সালে। এই বৈপ্লবিক কাজটি সম্পন্ন করেন স্কটল্যান্ডের রোসলিন ইনস্টিটিউটের (Roslin Institute) বিজ্ঞানীরা, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন ড. ইয়ান উইলমুট (Dr. Ian Wilmut) এবং ড. কিথ ক্যাম্পবেল (Dr. Keith Campbell)
    119

    কোনটি স্তন্যপায়ী প্রাণী নয়?

    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. হাতি
    2. কুমির
    3. তিমি
    4. বাদুর

    সঠিক উত্তর: খ

    সমাধান

    যে সকল প্রাণী বাচ্চা প্রসব করে এবং বাচ্চা মায়ের দুধ পান করে বড় হয় তাকে স্তন্যপায়ী প্রাণী বলে। হাতি, তিমি, বাদুর স্তন্যপায়ী প্রাণী। কুমির ডিম দেয় এবং সরীসৃপ প্রাণী।

    ব্যাখ্যা

    সঠিক উত্তর হলো: কুমির
    কুমির (Crocodile) হলো সরীসৃপ (Reptilia) শ্রেণির প্রাণী। সরীসৃপ প্রাণীরা শীতল রক্তবিশিষ্ট হয় এবং এরা ডিম পাড়ে (Ovi-parous)। এদের চামড়া আঁশযুক্ত (scaly) হয়।
    অন্যদিকে, স্তন্যপায়ী প্রাণী (Mammal) হলো সেইসব প্রাণী যারা উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট, লোম বা চুলযুক্ত, এবং এদের দেহে দুগ্ধ গ্রন্থি (Mammary Gland) থাকে যার মাধ্যমে এরা শাবকদের দুধ পান করায়। সাধারণত এরা সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে (Viviparous)।
    প্রশ্নের অন্য অপশনগুলো— হাতি, তিমি, ও বাদুর— প্রত্যেকেই স্তন্যপায়ী প্রাণী। তিমি জলজ হওয়া সত্ত্বেও স্তন্যপায়ী এবং বাদুর উড়তে পারলেও এটি সরীসৃপ বা পাখি নয়, বরং স্তন্যপায়ী।
    120

    মুক্তা হলো ঝিনুকের-

    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. খোলসের টুকরা
    2. চোখের মণি
    3. প্রদাহের ফল
    4. জমাট হরমোন

    সঠিক উত্তর: গ

    সমাধান

    ঝিনুকের খোলসের অভ্যন্তরে কোনো শক্ত বস্তু প্রবেশ করলে ঐ স্থানে প্রদাহের সৃষ্টি হয় এবং ঐ বস্তুকে জড়িয়ে ঝিনুকের শরীর থেকে এক ধরনের পদার্থ নির্গত হয়, যা মুক্তায় রূপ নেয়।

    ব্যাখ্যা

    সঠিক উত্তর হলো: প্রদাহের ফল (Result of inflammation/irritation)।

    আসলে মুক্তা হলো এক ধরনের জৈব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। যখন কোনো বিদেশি বস্তু (যেমন: বালির কণা, পরজীবী বা খোলসের টুকরা) ঝিনুকের খোলস ও ম্যান্টলের (Mantle) মাঝখানে প্রবেশ করে, তখন ঝিনুক নিজেকে রক্ষা করার জন্য এই বস্তুকে ঘিরে ক্যালসিয়াম কার্বনেট এবং কোঙ্কিওলিন নামক প্রোটিন মিশ্রিত পদার্থ নিঃসৃত করে।

    এই নিঃসৃত পদার্থটিকে বলা হয় নেকার (Nacre) বা মুক্তা শুক্তিকা। নেকার কণাটির ওপর স্তরের পর স্তর জমা হতে থাকে এবং বছরের পর বছর ধরে তা জমাট বেঁধে মুক্তা তৈরি করে। যেহেতু এটি একটি বহিরাগত কণার বিরুদ্ধে ঝিনুকের প্রতিরক্ষা বা প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া, তাই এটি 'প্রদাহের ফল' হিসেবে পরিচিত।

    অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ মুক্তা কোনোভাবেই চোখের মণি বা হরমোন নয়। এটি খোলসের টুকরা হলেও, এটি সেই টুকরাটিকে আবৃত করার ফল, সরাসরি টুকরাটি নয়।
    121

    বাংলাদেশের একটি জীবন্ত জীবাশ্মের নাম-

    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. রাজ কাঁকড়া
    2. গন্ডার
    3. পিপীলিকাভুক্ত ম্যানিস
    4. স্নো লোরিস

    সঠিক উত্তর: ক

    সমাধান

    জীবন্ত ফসিল হলো এমন কতগুলো জীব, দূর অতীতে জন্ম হলেও যাদের বংশধরেরা আজও পৃথিবীতে বেঁচে আছে। অথচ এদের সমসাময়িক ও সমগোত্রীয় সকল প্রাণীই বহু পূর্বে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়েছে। বিবর্তনের ইতিহাসে এদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কোনো পরিবর্তন হয়নি। যেমন– ‘প্লাটিপাস’, মাছের মধ্যে ‘সিলাকান্হ’, সরীসৃপেদের মধ্যে ‘স্কেনোডন’, উদ্ভিদ শ্রেণির মধ্যে ডিঙ্গো বাইলোবা ইত্যাদি। বাংলাদেশের জীবন্ত ফসিলের উদাহরণ হচ্ছে ‘রাজ কাঁকড়া’।

    ব্যাখ্যা

    সঠিক উত্তর হলো রাজ কাঁকড়া (Horseshoe Crab)। এটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে (বিশেষত কক্সবাজার) দেখা যায়।
    যেসব প্রাণী বা উদ্ভিদ প্রজাতি লক্ষ লক্ষ বছর ধরে টিকে আছে এবং এদের পূর্বপুরুষদের কেবল জীবাশ্ম হিসাবেই পাওয়া যায়, তাদের জীবন্ত জীবাশ্ম (Living Fossil) বলা হয়। এদের বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ গঠনে সময়ের সাথে বিশেষ পরিবর্তন ঘটেনি।
    রাজ কাঁকড়া হলো একটি ক্লাসিক জীবন্ত জীবাশ্ম, যা প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে আছে এবং এর গঠন প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। এটি আর্থ্রোপোডা পর্বের সদস্য হলেও এটি মাকড়সা ও মিতের (mite) সাথে বেশি সম্পর্কিত, সাধারণ কাঁকড়ার সাথে নয়।
    অন্যান্য বিকল্প যেমন গন্ডার বা স্নো লোরিস আধুনিক প্রাণী, যাদের জীবাশ্মের সাথে অনেক পার্থক্য রয়েছে।
    122

    Natural protein-এর কোড নাম -

    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. protein-P 53
    2. protein-P 51
    3. protein-P 49

    4. protein-P 54

    সঠিক উত্তর: গ

    সমাধান

    কার্বন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন দ্বারা গঠিত জটিল জৈব পদার্থ হচ্ছে প্রোটিন। এটি দেহকোষ গঠনসহ এনজাইম ও হরমোন তৈরিতে অংশগ্রহণ করে।

    ব্যাখ্যা

    সঠিক উত্তর হলো protein-P 49
    সাধারণত জীবদেহে স্বাভাবিকভাবে উৎপন্ন বা খাদ্যের মাধ্যমে গৃহীত প্রোটিনকে Natural Protein বলা হয়। বিভিন্ন খাদ্য, ওষুধ বা বায়োটেকনোলজি গবেষণায় এই প্রোটিনকে protein-P 49 কোড নামে চিহ্নিত করা হয়।
    অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে protein-P 53 অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি টিউমার দমনকারী (Tumor Suppressor) প্রোটিন যা কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। যদি P53 জিনের মিউটেশন ঘটে, তবে ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এটি একটি বহুল আলোচিত বৈজ্ঞানিক তথ্য এবং প্রায়শই এটি ভুল উত্তর হিসেবে পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে।
    123

    নাড়ীর স্পন্দন প্রবাহিত হয়–

    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. ধমনির ভেতর দিয়ে
    2. শিরার ভেতর দিয়ে
    3. স্নায়ুর ভেতর দিয়ে
    4. ল্যাকটিয়ালের ভেতর দিয়ে

    সঠিক উত্তর: ক

    সমাধান

    হৃৎপিণ্ড থেকে অক্সিজেনবাহী রক্ত শরীরের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে ধমনির মধ্য দিয়ে। এর গতি থাকে বেশি। তাই ধমনির মধ্যেই নাড়ির স্পন্দন অনুভূত হয়। শিরার ভিতর দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডবাহী রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে।

    ব্যাখ্যা

    সঠিক উত্তর হলো ধমনির ভেতর দিয়ে
    নাড়ীর স্পন্দন (Pulse) হলো হৃদপিণ্ড কর্তৃক রক্ত পাম্প করার ফলে ধমনির স্থিতিস্থাপক প্রাচীরে যে তরঙ্গাকৃতির চাপ সৃষ্টি হয়, তার বহিঃপ্রকাশ।
    হৃদপিণ্ড যখন প্রতিবার রক্তকে দেহের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করার জন্য সংকুচিত হয় (Systole), তখন এই রক্ত উচ্চচাপে ধমনির ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং স্পন্দন সৃষ্টি করে।
    শিরা (Vein) শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে রক্তকে হৃদপিণ্ডের দিকে ফিরিয়ে আনে। শিরার ভেতরে রক্তের চাপ অনেক কম থাকে, তাই শিরার ভেতর দিয়ে স্পন্দন বা পালস প্রবাহিত হয় না।
    স্নায়ু (Nerve) রক্ত বা স্পন্দন পরিবহন করে না, এটি কেবল স্নায়বিক সংকেত পরিবহন করে।
    ল্যাকটিয়াল (Lacteal) ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাইতে অবস্থিত লসিকাবাহিকা, যা চর্বি শোষণে সহায়তা করে।
    124

    পানির জীব হয়েও বাতাসে নিশ্বাস নেয়-

    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. পটকা মাছ
    2. হাঙ্গর
    3. শুশুক
    4. জেলী ফিস

    সঠিক উত্তর: গ

    সমাধান

    ‘শুশুক’ বা ‘ডলফিন’ পানিতে বাস করলেও অন্যান্য মাছের মতো ফুলকার সাহায্যে পানি থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে না। এটি পানি থেকে ভেসে উঠে বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে। পটকা মাছ, হাঙ্গর ও জেলী ফিস পানিতে ফুলকার সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করে।

    ব্যাখ্যা

    সঠিক উত্তর হলো শুশুক (ডলফিন)
    শুশুক (Dolphin), তিমি (Whale) বা শীল (Seal)—এরা দেখতে মাছের মতো হলেও মাছ নয়, এরা হলো স্তন্যপায়ী প্রাণী (Mammals)
    স্তন্যপায়ী প্রাণীর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এরা ফুলকার (Gills) পরিবর্তে ফুসফুসের (Lungs) সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করে।
    তাই এদের বেঁচে থাকার জন্য নিয়মিত জলের ওপরে উঠে এসে সরাসরি বাতাস থেকে অক্সিজেন (O₂) সংগ্রহ করতে হয়।
    অন্যদিকে, পটকা মাছ, হাঙ্গর, এবং জেলী ফিস হলো জলজ প্রাণী। এরা ফুলকার মাধ্যমে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণ করে, তাই এদের বাতাসের প্রয়োজন হয় না।
    125

    ‘স্ট্রোক’ আকস্মিক অজ্ঞান বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে- এটি কি ?

    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. হৃৎপিণ্ডের সজোরে সংকোচন বা বন্ধ হয়ে যাওয়া
    2. মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা
    3. হৃৎপিণ্ডের অংশবিশেষের অসাড়তা
    4. ফুসফুস হঠাৎ বিকল হয়ে যাওয়া

    সঠিক উত্তর: খ

    সমাধান

    কোনো কারণে মস্তিষ্কের কোথাও রক্ত সরবরাহ বন্ধ হলে বা মস্তিষ্কের কোনো শিরা বা ধমনী ছিঁড়ে গেলে সে অবস্থাকে স্ট্রোক বলে। স্ট্রোকের ফলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ দ্রুত সংঘটিত হয় ও সঙ্গে সঙ্গে রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

    ব্যাখ্যা

    স্ট্রোক (Stroke) হলো এমন একটি জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি, যখন মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় বা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়।
    রক্ত সরবরাহ বন্ধ হলে মস্তিষ্কের কোষগুলো দ্রুত অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যে মারা যেতে শুরু করে। এই কারণে রোগীর আকস্মিক অজ্ঞান বা মৃত্যু হতে পারে।
    রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয় মূলত দুটি কারণে: ১) মস্তিষ্কের রক্তনালী ব্লক হওয়া (ইসকেমিক স্ট্রোক) অথবা ২) মস্তিষ্কের রক্তনালী ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ হওয়া (হেমোরেজিক স্ট্রোক)
    সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো: মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা
    অন্যান্য অপশনগুলো ভুল কারণ: ‘হৃৎপিণ্ডের সজোরে সংকোচন বা বন্ধ হয়ে যাওয়া’ হলো হার্ট অ্যাটাক বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের লক্ষণ, স্ট্রোকের নয়।
    126

    কোনটি রক্তের কাজ নয়?

    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. কলা (Tissue) হতে ফুসফুসে বর্জ্য পদার্থ বহন করা
    2. ক্ষুদ্রান্ত্র হতে কলাতে খাদ্যের সারবস্তু বহন করা
    3. হরমোন বিতরণ করা
    4. জারক রস (enzyme) বিতরণ করা

    সঠিক উত্তর: ঘ

    সমাধান

    রক্তের সাধারণ কার্যাবলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কলা হতে বর্জ্য পদার্থ ফুসফুসে বাহিত করা, খাদ্য সারবস্তু বিভিন্ন কলা ও অঙ্গে বাহিত করা, হরমোন, উৎসেচক, লিপিড প্রভৃতি বিভিন্ন অঙ্গে বাহিত করা, কার্বনডাই-অক্সাইড পরিবহন, দৈহিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি কিন্তু জারক রস বিতরণ করা রক্তের কাজ নয়।

    ব্যাখ্যা

    সঠিক উত্তর হলো: জারক রস (enzyme) বিতরণ করা
    রক্তের প্রধান এবং অপরিহার্য কাজ হলো দেহের বিভিন্ন উপাদান পরিবহন (Transport) করা। যেমন: ফুসফুস থেকে অক্সিজেন কলা কোষে বহন করা, কলা কোষ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড ফুসফুসে নিয়ে আসা, পরিপাককৃত খাদ্য সারবস্তু কলা কোষে বিতরণ করা, এবং অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন দেহের বিভিন্ন লক্ষ্য কোষে পৌঁছে দেওয়া।
    অন্যদিকে, জারক রস (Enzyme) হলো এক ধরনের জৈব অনুঘটক, যা সাধারণত পরিপাকতন্ত্রের নালীতে (যেমন: লালা, পাকস্থলীর রস বা অগ্ন্যাশয়ের রস) অথবা কোষের ভেতরে কাজ করে। যদিও রক্তে সামান্য পরিমাণে এনজাইম থাকতে পারে, কিন্তু এনজাইম বিতরণ করা রক্তের প্রধান বা মৌলিক কাজগুলোর মধ্যে পড়ে না। বরং হরমোন বিতরণ করা রক্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
    সুতরাং, অপশন ৪ হলো রক্তের কাজের বহির্ভূত।
    127

    বাতাসের নাইট্রোজেন কিভাবে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে?

    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. সরাসটি মাটিতে মিশ্রিত হয়ে জৈব বস্তু প্রস্তুত করে
    2. ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে উদ্ভিদের গ্রহণ ও উপযোগী বস্তু প্রস্তুত করে
    3. পানিতে মিশে মাটিতে শোষিত হওয়ার ফলে
    4. মাটির অজৈব লবণকে পরিবর্তিত করে

    সঠিক উত্তর: গ

    সমাধান

    উদ্ভিদ বাতাসের নাইট্রোজেন সরাসরি গ্রহণ করতে পারে না। বাতাসের নাইট্রোজেন বজ্রবৃষ্টির সময় বৃষ্টির পানির সাথে মিশে নাইট্রিক এসিড রূপে ভূ- পৃষ্ঠে পতিত হয়। পরবর্তীতে তা নাইট্রেড রূপে বিশ্লেষিত হয়ে উদ্ভিদের গ্রহণোপযোগী হয়। তবে শীম জাতীয় উদ্ভিদের মূলে Rahizobium নামক ব্যাকটেরিয়া নাইট্রোজেনকে নাইট্রেটে পরিণত করতে পারে।

    ব্যাখ্যা

    সঠিক উত্তর হলো: ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে উদ্ভিদের গ্রহণ ও উপযোগী বস্তু প্রস্তুত করে
    বাতাসে প্রায় ৭৮% নাইট্রোজেন (N2\text{N}_2) থাকলেও উদ্ভিদ সরাসরি গ্যাসীয় নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য এই নাইট্রোজেনকে উদ্ভিদের গ্রহণ উপযোগী যৌগে (যেমন: অ্যামোনিয়া, নাইট্রেট বা নাইট্রেট লবণে) রূপান্তরিত করতে হয়।
    এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াটি হলো নাইট্রোজেন সংবন্ধন (Nitrogen Fixation)। এই কাজটি সম্পন্ন করে কিছু বিশেষ ধরনের অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়া।
    যেমন: শিম্বিগোত্রীয় উদ্ভিদের মূলে বসবাসকারী রাইজোবিয়াম (Rhizobium) নামক ব্যাকটেরিয়া বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন শোষণ করে তাকে মাটিতে আবদ্ধ করে এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
    অন্যান্য অপশন ভুল, কারণ নাইট্রোজেন একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস, যা সরাসরি মাটিতে মিশে জৈব বস্তু প্রস্তুত করতে পারে না, বরং ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায়।
    128

    ‘এভিকালচার’ বলতে কি বুঝায়?

    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. উড্ডয়ন সংক্রান্ত বিষয়াদি
    2. পাখিপালন বিষয়াদি

    3. বাজ পাখিপালন বিষয়াদি
    4. উড়োজাহাজ ব্যবস্থাপনা

    সঠিক উত্তর: খ

    সমাধান

    ব্যাখ্যা

    সঠিক উত্তর হলো: পাখিপালন বিষয়াদি
    ‘এভিকালচার’ (Aviculture) শব্দটি মূলত দুটি লাতিন শব্দ থেকে এসেছে— ‘Avis’ (যার অর্থ পাখি বা Bird) এবং ‘Culture’ (যার অর্থ চাষ বা লালন-পালন)।
    সুতরাং, শখের বশে বা বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি পালন ও তাদের পরিচর্যা করার পদ্ধতিকেই একত্রে এভিকালচার বলা হয়।
    অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, উড্ডয়ন সংক্রান্ত বিষয়াদিকে সাধারণত Aviation বা Aerodynamics বলা হয়, যা এভিকালচারের সমার্থক নয়।
    129

    একজন সাধারণ মানুষের দেহে মোট কত টুকরা হাড় থাকে?

    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. 206

    2. 306
    3. 406
    4. 506

    সঠিক উত্তর: ক

    সমাধান

    ব্যাখ্যা

    সঠিক উত্তর হলো: ২০৬। একজন পূর্ণবয়স্ক বা সাধারণ মানুষের কঙ্কালতন্ত্রে মোট ২০৬টি হাড় (Bones) থাকে।
    এই ২০৬টি হাড় দুই ভাগে বিভক্ত: অক্ষীয় কঙ্কাল (Axial Skeleton) (৮০টি) এবং উপযোগী কঙ্কাল (Appendicular Skeleton) (১২৬টি)।
    নবজাতক শিশুদের দেহে হাড়ের সংখ্যা বেশি থাকে (প্রায় ৩০০টি), কারণ জন্মকালে অনেক হাড় আলাদা থাকে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই হাড়গুলো যুক্ত হয়ে ২০৬টি স্থায়ী কাঠামো গঠন করে। তাই পরীক্ষার প্রশ্নে 'সাধারণ মানুষ' বা 'পূর্ণবয়স্ক' উল্লেখ থাকলে অবশ্যই ২০৬ উত্তর দিতে হবে।
    130

    ধানের ফুলে পরাগ সংযোগ ঘটে–

    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. বাতাসের সাহায্যে ঝরে পড়ে

    2. পাতা দ্বারা স্থানান্তরিত হয়ে
    3. কীটপতঙ্গের সাহায্যে
    4. ফুলে ফুলে সংস্পর্শে

    সঠিক উত্তর: ক

    সমাধান

    ধান বায়ুপরাগী উদ্ভীদ। দিনের প্রথম ভাগে ধানের স্পাইকলেট উন্মুক্ত হয়। এ অবস্থায় পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডের উপর ঝরে পড়ে এবং প্রকৃতিগতভাবেই পরাগায়ন ঘটে।

    ব্যাখ্যা

    সঠিক উত্তর হলো: বাতাসের সাহায্যে ঝরে পড়ে। এই প্রক্রিয়াকে বায়ু পরাগযোগ (Wind Pollination) বা বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় অ্যানিমোফিলি (Anemophily) বলা হয়।
    ধান হলো ঘাস গোত্রের (Gramineae) একটি উদ্ভিদ। সাধারণত, যে সমস্ত উদ্ভিদের ফুল ছোট, বর্ণহীন এবং যেখানে মধু বা সুগন্ধ অনুপস্থিত থাকে, সেখানে পরাগ সংযোগের প্রধান মাধ্যম হলো বাতাস। ধানের ক্ষেত্রেও তাই ঘটে।
    ধানের পরাগরেণুগুলি খুব হালকা ও শুষ্ক হয়, ফলে সামান্য বাতাসেও এরা সহজেই উড়ে যায় এবং স্ত্রী ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয়।
    অন্যান্য অপশন যেমন—কীটপতঙ্গের সাহায্যে পরাগ সংযোগ (Entomophily) ঘটে সেসব ফুলে, যা উজ্জ্বল রং, সুগন্ধ বা মধু উৎপন্ন করে (যেমন: সরিষা, গোলাপ)। ধানের ফুলে এই বৈশিষ্ট্যগুলো নেই, তাই এটি ভুল।
    131

    মাছ অক্সিজেন নেয়–

    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. মাঝে মাঝে পানির উপর নাক তুলে
    2. পানিতে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন বিশ্লিষ্ট করে
    3. পটকার মধ্যে জমানো বাতাস হতে
    4. পানির মধ্যে দ্রবীভূত বাতাস হতে

    সঠিক উত্তর: ঘ

    সমাধান

    সাধারণত মাছ ফুলকার সাহায্যে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাধ্যমে শ্বাসকার্য চালায়।

    ব্যাখ্যা

    সঠিক উত্তর হলো: পানির মধ্যে দ্রবীভূত বাতাস হতে
    মাছ তাদের ফুলকা বা Gills নামক বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে শ্বাসকার্য পরিচালনা করে। মাছ মুখ দিয়ে যখন পানি গ্রহণ করে, সেই পানি ফুলকার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানিতে প্রাকৃতিকভাবে যে দ্রবীভূত অক্সিজেন (Dissolved Oxygen) থাকে, ফুলকার রক্তনালীগুলো সেই অক্সিজেন দ্রুত শোষণ করে নেয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে।
    এটি মাছের প্রধান এবং স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রক্রিয়া।
    অন্যান্য অপশনগুলো ভুল: মাছ পানিকে বিশ্লিষ্ট করে অক্সিজেন তৈরি করতে পারে না। এছাড়া, পটকা (Swim Bladder) মাছকে পানির মধ্যে ভেসে থাকতে (Buoyancy) সাহায্য করে, শ্বসনে নয়।
    132

    কচুশাক বিশেষভাবে মূল্যবান যে উপাদানের জন্য তা হলো–

    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. ভিটামিন-‘সি’
    2. লৌহ
    3. ক্যালসিয়াম
    4. ভিটামিন-‘এ’

    সঠিক উত্তর: খ

    সমাধান

    কচুশাকের উল্লেখযোগ্য উপাদান লৌহ। তাছাড়া একে ভিটামিন-এ, ক্যালসিয়াম অক্সালেট এবং অন্যান্য ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ রয়েছে।

    ব্যাখ্যা

    সঠিক উত্তর হলো: লৌহ (Iron)। কচুশাক (Taro leaves) বাংলাদেশের সবচেয়ে সহজলভ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ আয়রন (লৌহ) সমৃদ্ধ সবজিগুলোর মধ্যে অন্যতম।
    মানবদেহে রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরি করার জন্য লৌহ বা আয়রন অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। লৌহের অভাবে রক্তস্বল্পতা (Anemia) দেখা দেয়। কচুশাক রক্তস্বল্পতা দূর করতে দারুণ কার্যকরী হওয়ায় এটি বিশেষভাবে মূল্যবান।
    যদিও কচুশাকে ভিটামিন-‘এ’, ভিটামিন-‘সি’ এবং ক্যালসিয়ামও পাওয়া যায়, কিন্তু এর খ্যাতি ও পুষ্টিগত প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর উচ্চমাত্রার লৌহ উপাদান।
    133

    আমাদের দেহকোষ রক্ত হতে গ্রহণ করে–

    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
    2. অক্সিজেন ও রক্তের আমিষ
    3. ইউরিয়া ও গ্লুকোজ
    4. এমাইনো এসিড ও কার্বন ডাইঅক্সাইড

    সঠিক উত্তর: ক

    সমাধান

    রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন, গ্লুকোজ এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান দেহের সকল কোষে স্থানান্তরিত হয়। লোহিত রক্ত কণিকার হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড পরিবহন হরে।

    ব্যাখ্যা

    সঠিক উত্তর হলো: অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
    মানবদেহের প্রতিটি কোষকে বেঁচে থাকার জন্য এবং কাজ করার জন্য শক্তির প্রয়োজন। এই শক্তি আসে কোষের অভ্যন্তরে খাদ্য (গ্লুকোজ) পোড়ানোর মাধ্যমে।
    কোষকে এই জ্বালানি সরবরাহ করতে রক্ত প্রধানত দুটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস বহন করে:
    ১. গ্লুকোজ: এটি হলো খাদ্যের সরলতম রূপ যা শক্তি উৎপাদনের জন্য ইন্ধন হিসেবে কাজ করে।
    ২. অক্সিজেন: এটি হলো দহনের জন্য অপরিহার্য বায়বীয় পদার্থ।
    কোষে এই অক্সিজেন, গ্লুকোজের সাথে বিক্রিয়া করে শক্তি (ATP) উৎপন্ন করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড ও জল বর্জ্য হিসেবে ত্যাগ করে (কোষীয় শ্বসন)। তাই কোষ এই দুটি উপাদানই রক্ত হতে গ্রহণ করে।
    অন্যান্য অপশন ভুল, কারণ: ইউরিয়াকার্বন ডাইঅক্সাইড হলো বর্জ্য পদার্থ, যা কোষ রক্তে ত্যাগ করে, গ্রহণ করে না। আমিষ সরাসরি নয়, বরং তার সরলীকৃত রূপ অ্যামাইনো এসিড কোষ গ্রহণ করে।
    134

    জলজ উদ্ভিদ সহজে ভাসতে পারে, কারণ–

    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. এরা অনেক ছোট হয়
    2. এদের কাণ্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে
    3. এরা পানিতে জন্মে
    4. এদের পাতা অনেক কম থাকে

    সঠিক উত্তর: খ

    সমাধান

    জলজ উদ্ভিদের কাণ্ডে প্রচুর পরিমাণে বায়ু কুঠুরী রয়েছে, যেগুলোতে বায়ু থাকায় জলজ উদ্ভিদ সহজেই পানির উপর ভেসে থাকতে পারে।

    ব্যাখ্যা

    সঠিক উত্তর: এদের কাণ্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে
    যেসব উদ্ভিদ পানিতে জন্মায়, তাদের জলজ উদ্ভিদ বা হাইড্রোফাইটস (Hydrophytes) বলা হয়। পানিতে সহজে ভেসে থাকার জন্য এই উদ্ভিদগুলির বিশেষ অঙ্গসংস্থানিক অভিযোজন (Morphological Adaptation) দেখা যায়।
    জলজ উদ্ভিদের কাণ্ড, পাতার বোঁটা এবং মূলে বিশেষভাবে বড় বড় বায়ুগহ্বর বা বায়ু কুঠুরী থাকে। জীববিজ্ঞানের ভাষায় এই বায়ু কুঠুরীযুক্ত কোষকে এরেনকাইমা (Aerenchyma) বলা হয়।
    এই বায়ুগহ্বরগুলি উদ্ভিদের ঘনত্ব (Density) কমিয়ে দেয়, ফলে উদ্ভিদদেহ অত্যন্ত হালকা হয় এবং জলের প্লবতা (Buoyancy) ব্যবহার করে সহজে ভেসে থাকতে পারে।
    ভাসমানতা জরুরি কারণ এটি উদ্ভিদকে জলের উপরিতলে এনে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পেতে সাহায্য করে, যা সালোকসংশ্লেষণ-এর জন্য অত্যাবশ্যক।
    135
    কোন অঙ্গাণুটি পর্দা দ্বারা বেষ্টিত থাকে না?
    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. রাইবোজোম
    2. ক্লোরোপ্লাস্ট
    3. মাইটোকন্ড্রিয়া
    4. পারোক্সিসোম

    সঠিক উত্তর: ক

    সমাধান

    সাইটোপ্লাজমের মধ্যে অনেক ধরনের অঙ্গাণু থাকে। এ অঙ্গাণুগুলোর কোনো কোনোটি পর্দাযুক্ত আবার কোনো কোনোটি পর্দাবিহীন। রাইবোজোম পর্দাবিহীন অঙ্গাণু, প্রাণী ও উদ্ভিদ উভয় ধরনের কোষেই এদের পাওয়া যায়।

    ব্যাখ্যা

    পর্দাবিহীন অঙ্গাণুসমূহ: রাইবোজোম, সেন্ট্রোজোম, প্রোটিয়াসোম, সাইটোস্কেলেটন।
    136
    জীববিজ্ঞানে কী ধরনের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়?
    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. বায়োইনফরমেটিক্স
    2. বায়োমেট্রিক্স
    3. বায়োকেমিস্ট্রি
    4. কোনোটিই নয়

    সঠিক উত্তর: ক

    সমাধান

    জীববিজ্ঞানে তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ হলো বায়োইনফরমেটিক্স। বায়োইনফরমেটিক্স ব্যবহার হয় মানব জিনোম সিকুয়েন্স করতে, বিভিন্ন জটিল রোগ বিশেষত ক্যান্সারের কারণ গবেষণায়, বিবর্তনের রহস্য উন্মোচনে, প্রোটিন সিকোয়েন্সের গঠন উপাদানের ইলেকট্রনিক ডেটাবেজ তৈরিতে, মলিকুলার মেডিসিন, জিনথেরাপি, জিন ফাইন্ডিং, ডিএনএ ম্যাপিং ও অ্যানালাইসিস তৈরিতে।

    ব্যাখ্যা

    বায়োমেট্রিক্স হলো মানুষের শারীরিক বা আচরণগত বৈশিষ্ট্য দ্বারা শনাক্তকরণের প্রযুক্তি, এটি জীববিজ্ঞানের গবেষণার টুল নয় বরং নিরাপত্তার টুল।
    137
    গমের মোজাইক ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়?
    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. ইঁদুরের মাধ্যমে
    2. মাইটের মাধ্যমে
    3. বাতাসের মাধ্যমে
    4. পাখির মাধ্যমে

    সঠিক উত্তর: খ

    সমাধান

    সঠিক উত্তর: মাইটের মাধ্যমে

    মাইট হলো ছোট আকৃতির আরাকনিড (আট পায়ের আর্থোপোডা)। গমের মোজাইক ভাইরাস (Wheat Streak Mosaic Virus) মাইটের মাধ্যমে ছড়ায়।

    ব্যাখ্যা

    মাইট এক ধরনের অতি ক্ষুদ্র অমেরুদণ্ডী প্রাণী যা ভাইরাসের বাহক (Vector) হিসেবে কাজ করে।
    138
    এন্টিবডি তৈরি করে নিচের কোনটি?
    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. Red blood corpuscle
    2. Thrombocyte
    3. B Lymphocyte
    4. Monocyte

    সঠিক উত্তর: গ

    সমাধান

    দেহের প্রতিরক্ষা তন্ত্র থেকে উৎপন্ন একধরনের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন, যা রোগব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট এন্টিজেনকে ধ্বংস করে তাকে এন্টিবডি বলে। প্রকৃতপক্ষে এন্টিবডি হলো রক্তের B-লিম্ফোসাইট বা প্লাজমা কোষনিঃসৃত গ্লাইকোপ্রোটিন জাতীয় বৃহদাকৃতির রাসায়নিক অণু। দেহের প্রয়োজনে একটি B-লিম্ফোসাইট প্রতি সেকেন্ডে হাজার হাজার এন্টিবডি সৃষ্টি করতে পারে।

    ব্যাখ্যা

    B-Lymphocyte শ্বেত রক্তকণিকার একটি ধরণ যা এন্টিবডি তৈরির জন্য বিশেষায়িত। T-Lymphocyte সরাসরি জীবাণু ধ্বংস করে।
    139
    অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড কোনটি?
    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. গ্লাইসিন (Glycine)
    2. সেরিন (Serine)
    3. সিস্টিন (Cistine)
    4. ভ্যালিন (Valine)

    সঠিক উত্তর: ঘ

    সমাধান

    সঠিক উত্তর: ভ্যালিন (Valine)

    মানুষের শরীরের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড (Essential Amino Acids) ৯টি। এগুলো হলো— ভ্যালিন, লিউসিন, আইসোলিউসিন, লাইসিন, থ্রিওনিন, মেথিওনিন, ফিনাইল অ্যালানিন, ট্রিপটোফ্যান এবং হিস্টিডিন (শিশুদের জন্য)।

    অন্যদিকে গ্লাইসিন, সেরিন এবং সিস্টিন হলো অনাবশ্যকীয় (Non-essential) অ্যামাইনো অ্যাসিড যা শরীর নিজে তৈরি করতে পারে।

    ব্যাখ্যা

    ভ্যালিন একটি এসেনশিয়াল অ্যামাইনো এসিড যা খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়।
    140
    রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিনটি হলো—
    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. Vitamin K
    2. Vitamin A
    3. Vitamin B
    4. Vitamin C

    সঠিক উত্তর: ক

    সমাধান

    সঠিক উত্তর: Vitamin K

    ভিটামিন কে (Vitamin K) রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এটি যকৃতে প্রথম্বিন (Prothrombin) তৈরিতে সহায়তা করে যা রক্ত তঞ্চনের জন্য অত্যাবশ্যক।

    ব্যাখ্যা

    ভিটামিন সি স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে, ভিটামিন এ রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে, এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্স স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতার জন্য জরুরি।
    141
    দ্বিপদ নামকরণে দ্বিতীয় নামটি নির্দেশ করে—
    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. প্রজাতি
    2. বর্গ
    3. রাজ্য
    4. শ্রেণি

    সঠিক উত্তর: ক

    সমাধান

    সঠিক উত্তর: প্রজাতি

    ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রবর্তিত দ্বিপদ নামকরণ (Binomial Nomenclature) পদ্ধতিতে প্রতিটি জীবের বৈজ্ঞানিক নামের দুটি অংশ থাকে।

    ১ম অংশ: গণ (Genus)

    ২য় অংশ: প্রজাতি (Species)

    উদাহরণস্বরূপ, মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens। এখানে Homo হলো গণ এবং sapiens হলো প্রজাতি।

    ব্যাখ্যা

    প্রশ্নে দ্বিতীয় নামটির কথা বলা হয়েছে, তাই উত্তর হবে প্রজাতি।
    142
    সেরিকালচার বলতে বোঝায়—
    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. তুলা চাষ
    2. নীল চাষ
    3. রেশম পোকা চাষ
    4. তামাক চাষ

    সঠিক উত্তর: গ

    সমাধান

    সঠিক উত্তর: রেশম পোকা চাষ

    বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে রেশম পোকা প্রতিপালন ও রেশম সুতা উৎপাদন করার পদ্ধতিকে সেরিকালচার (Sericulture) বলা হয়। ল্যাটিন শব্দ 'Serio' (রেশম) থেকে এই শব্দের উৎপত্তি।

    ব্যাখ্যা

    তুলা চাষকে বলা হয় কটন ফার্মিং বা বিশেষ কোনো 'কালচার' নামে ডাকা হয় না।
    নীল চাষ ও তামাক চাষ সাধারণ কৃষি (Agriculture)-এর অংশ।
    143
    EPI-এর পূর্ণরূপ কী?
    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. Extended Program on Immunization
    2. Expanded Program on Immunization
    3. Essential Polio Immunization
    4. Extended Pediatric Immunization

    সঠিক উত্তর: খ

    সমাধান

    সঠিক উত্তর: Expanded Program on Immunization

    ব্যাখ্যা: EPI বা 'ইপিআই' হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক ১৯৭৪ সালে চালু করা একটি বৈশ্বিক কর্মসূচি। এর লক্ষ্য হলো বিশ্বের সকল শিশুর জন্য জীবন রক্ষাকারী টিকা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশে ১৯৭৯ সালে এই কর্মসূচি চালু হয়। বর্তমানে এই কর্মসূচির আওতায় ১০টি (মতান্তরে ১১টি) মারাত্মক রোগের টিকা দেওয়া হয়।

    ব্যাখ্যা

    EPI = Expanded Program on Immunization (টিকাদান সম্প্রসারণ কর্মসূচি)।
    144
    কোনটি শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে?
    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. খনিজ লবণ
    2. ভিটামিন
    3. স্নেহ
    4. আমিষ

    সঠিক উত্তর: ঘ

    সমাধান

    সঠিক উত্তর: আমিষ

    খাদ্য উপাদানগুলোর মধ্যে একমাত্র আমিষ বা প্রোটিন (Protein) জাতীয় খাদ্যেই নাইট্রোজেন থাকে। আমিষ কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। আমিষে নাইট্রোজেনের পরিমাণ প্রায় ১৬%। শরীরের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ এবং নাইট্রোজেন সরবরাহের জন্য আমিষ অপরিহার্য।

    ব্যাখ্যা

    শর্করা ও স্নেহ জাতীয় খাদ্যে কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন থাকে কিন্তু নাইট্রোজেন থাকে না।
    আমিষ ভেঙে অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয় যা দেহে নাইট্রোজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে।
    145
    'Necessary evil' কোনটি?
    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. প্রস্বেদন
    2. অভিস্রবণ
    3. ব্যাপন
    4. শোষণ

    সঠিক উত্তর: ক

    সমাধান

    সঠিক উত্তর: প্রস্বেদন

    বিজ্ঞানী কার্টিস (Curtis) প্রস্বেদন (Transpiration) কে 'Necessary evil' বা 'প্রয়োজনীয় অমঙ্গল/ক্ষতি' বলে অভিহিত করেছেন। কারণ, প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ দেহ থেকে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বেরিয়ে যায়, যা খরা মৌসুমে উদ্ভিদের মৃত্যুও ঘটাতে পারে (Evil)। কিন্তু আবার এই প্রক্রিয়ার ফলেই উদ্ভিদ মাটি থেকে রস উত্তোলন করতে পারে, যা সালোকসংশ্লেষণ ও কোষের সজীবতার জন্য অপরিহার্য (Necessary)।

    ব্যাখ্যা

    প্রস্বেদন উদ্ভিদের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
    অতিরিক্ত প্রস্বেদন উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাই একে 'Necessary evil' বলা হয়।
    146

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কত সালে বাংলাদেশকে পোলিওমুক্ত ঘোষণা করে?

    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
    1. ১৯৯৮
    2. ২০০৪
    3. ২০১৪
    4. ২০১৯

    সঠিক উত্তর: গ

    সমাধান

    সঠিক উত্তর: (গ) ২০১৪

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ২৭ মার্চ ২০১৪ সালে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে পোলিওমুক্ত দেশ হিসেবে ঘোষণা করে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশকে একসাথে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

    ব্যাখ্যা

    পোলিও মাইলাইটিস বা পোলিও একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ।
    এটি সাধারণত ৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের আক্রান্ত করে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে আঘাত করে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করতে পারে।
    টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

    এই অধ্যায়ের প্রশ্ন টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করুন

    এই পেজে বাছাইকৃত ১৪৬টি প্রশ্ন সমাধানসহ দেওয়া হয়েছে। প্র্যাকটিস মোডে এক-একটি করে উত্তর দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল, স্কোর ও অগ্রগতি ট্র্যাক করুন।

    কেন BCS Preliminary-এর জন্য “জীব বিজ্ঞান” অধ্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ?

    BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষার সাধারণ বিজ্ঞান অংশে “জীব বিজ্ঞান” থেকে প্রায় প্রতিবারই প্রশ্ন আসে। বিগত সালের প্রশ্নের ধরন বুঝে নিয়মিত অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ের নম্বর নিশ্চিত করা সহজ হয় — এই পেজের বাছাইকৃত প্রশ্নগুলো ঠিক সেই প্রস্তুতির জন্যই সাজানো।

    সচরাচর জিজ্ঞাসা

    "জীব বিজ্ঞান" অধ্যায় থেকে কেমন প্রশ্ন আসে?

    BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষায় সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের "জীব বিজ্ঞান" অধ্যায় থেকে নিয়মিত MCQ আসে। এই পেজে বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক জায়গায় দেওয়া হয়েছে — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ।

    উত্তর ও সমাধান কি বিনামূল্যে?

    হ্যাঁ। প্রশ্ন, অপশন, সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যা — সবই লগইন ছাড়াই বিনামূল্যে দেখা যায়। টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করতে চাইলে একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট দিয়ে প্র্যাকটিস মোডে যান।