সমাধান
সমাধান
💼
ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

পরিবেশ ও দুর্যোগ

BCS Preliminary · ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা — বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক পেজে।

নিচে BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষার ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ের "পরিবেশ ও দুর্যোগ" অধ্যায়ের বাছাইকৃত ৮৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ। সবই বিনামূল্যে।

1

কোন এলাকাকে ‘Marine Protected Area’ (MPA) ঘোষণা করা হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সেন্টমার্টিন এবং এর আশেপাশের এলাকা
  2. পটুয়াখালী ও বরগুনা
  3. হিরন পয়েন্ট
  4. সেন্টমার্টিন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘Marine Protected Area’ (MPA) ঘোষণা করা হয়েছে সেন্টমার্টিন এবং এর আশে পাশের এলাকাকে। প্রবাল দ্বীপের সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য হ্রাস রোধে সেন্টমার্টিন দ্বীপ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ৭০ মিটার গভীর সমুদ্রের ১৭৪৩ বর্গ কি.মি. এলাকা কে MPA ঘোষণা করা হয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সেন্টমার্টিন এবং এর আশেপাশের এলাকা
বাংলাদেশ সরকার সেন্টমার্টিন দ্বীপ এবং এর চারপাশে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরের একটি বিশাল অংশকে 'মেরিন প্রোটেকটেড এরিয়া' (MPA) বা সংরক্ষিত সামুদ্রিক এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
এই ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য হলো দ্বীপটির চারপাশে থাকা বিরল প্রবাল প্রাচীর, সামুদ্রিক কচ্ছপ, ডলফিন এবং অন্যান্য বিপন্ন জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে সেন্টমার্টিন সংলগ্ন এই এলাকাকে MPA ঘোষণা করে।
ঘোষিত এই MPA-এর মোট আয়তন হলো ১,৭৪৩৬ বর্গ কিলোমিটার (১৭,৪৩৬ বর্গ কিমি), যা বাংলাদেশের বৃহত্তম MPA
2

গ্রীন হাউস গ্যাসের কোন গ্যাস বর্তমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে না?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  2. মিথেন
  3. সিএফসি
  4. নাইট্রাস অক্সাইড

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ওজোন স্তরে ক্ষতি হয় এমন সামগ্রীর উৎপাদন মন্ট্রিল প্রটোকলে ‘Phase out’ ঘোষণা করায় CFF-11 এর উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সিএফসি (CFC)
সিএফসি (ক্লোরোফ্লুরোকার্বন) একটি অত্যন্ত শক্তিশালী গ্রীন হাউস গ্যাস হলেও, এর উৎপাদন ও ব্যবহার বিশ্বজুড়ে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
এর প্রধান কারণ হলো ওজোন স্তর ক্ষয়ের জন্য এটি দায়ী। ওজোন স্তর রক্ষায় ১৯৮৭ সালে মন্ট্রিল প্রোটোকল স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিকভাবে এর ব্যবহার বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফলস্বরূপ, বায়ুমণ্ডলে এর ঘনত্ব বর্তমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে না বরং স্থিতিশীল বা ধীরে ধীরে কমছে
অন্যদিকে, কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন এবং নাইট্রাস অক্সাইড—এই তিনটি গ্যাসই শিল্পায়ন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার এবং কৃষিকাজের কারণে প্রতি বছরই তীব্র হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ।
3

ভূমিকম্প সংঘটন বিন্দুর সরাসরি উপরে ভূপৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে বলে –

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ফোকাস
  2. এপিসেন্টার
  3. ফ্রাকচার
  4. ফল্ট

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ভূমিকম্প উৎপাদনের সম্ভাবনা দুইটি টেকটোনিক প্লেটের মধ্যবর্তী স্থানে সবচেয়ে বেশি যাকে বলে ফল্ট। ভূমিকম্প ভূগর্ভের যেখানে উৎপাদিত হয় তাকে Centre বলে। এই বিন্দু বরাবর সরাসরি উপরে ভূপৃষ্ঠের স্থানকে বলে এপিসেন্টার।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: এপিসেন্টার (Epicenter)
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের (ফোকাস বা হাইপোসেন্টার) ঠিক সরাসরি উপরে ভূপৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে এপিসেন্টার বা উপকেন্দ্র বলা হয়।
ভূমিকম্পের উৎপত্তির পর যে তরঙ্গগুলো সৃষ্টি হয়, তা এপিসেন্টারে সবার আগে পৌঁছায়। ফলে এপিসেন্টারেই ভূমিকম্পের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, ফোকাস (Focus) বা হাইপোসেন্টার হলো পৃথিবীর অভ্যন্তরে সেই নির্দিষ্ট বিন্দু, যেখানে শিলার ফাটল সৃষ্টি হয় এবং ভূমিকম্পের সূচনা ঘটে।
ফল্ট (Fault) হলো ভূপৃষ্ঠের দুর্বল স্থান বা ফাটল রেখা, যেখানে দুটি শিলাস্তর বিপরীত দিকে সরে যায়।
4

বিশ্বব্যাপী নিচের কোন অর্থনৈতিক খাত থেকে সবচাইতে বেশি গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পরিবহন
  2. বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন
  3. ভবন নির্মাণ
  4. শিল্প

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

IPCC এর রিপোর্ট অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও তাপশক্তি উৎপাদনে ২৫%, চাষাবাদ, পশুপালন, বৃক্ষ নিধন মিলে ২৪%, বিভিন্ন কলকারখানা অর্থাৎ শিল্প খাত হতে ২১%, পরিবহন হতে ১৪% এবং অন্যান্য আরো কিছু উৎস থেকে গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন (Electricity and Heat Production)
আন্তর্জাতিক জলবায়ু সংস্থা (IPCC, EPA) এবং পরিবেশ বিষয়ক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী গ্রিন হাউজ গ্যাস (GHG) নির্গমনের প্রায় ২৫% থেকে ৩৫% আসে এই খাত থেকে।
এর প্রধান কারণ হলো বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদনের জন্য কয়লা (Coal), প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল-এর মতো জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuels) দহন। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলেই বিপুল পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2\text{CO}_2) নির্গত হয়।
অন্যান্য খাত যেমন—শিল্প (প্রায় ২০%-২২%) এবং পরিবহন (প্রায় ১৪%-১৬%) গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এককভাবে বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদনই বিশ্বব্যাপী গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমনের সবচেয়ে বড় উৎস
5

নিচের কোনটি প্রাইমারি দূষক?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. SO3

  2. N2O5

  3. NO
  4. HNO3

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

যে সকল পদার্থ পরিবেশের ভৌত, রাসায়নিক এবং জৈবিক উপাদান সমূহের এমন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ পরিবর্তন করে যা ক্ষতির কারণ হয় তাকে দূষক বলে। যে সকল দূষক সরাসরি উৎস থেকে আসে তাদের প্রাইমারি দূষক বলে। যেমন: CO2,CO,NO,SO2 ইত্যাদি। অপরদিকে প্রাইমারি দূষক থেকে উৎপাদিত দূষকগুলোকে সেকেন্ডারি দূষক বলে। যেমন: O3,SO3,N2O5 ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: NO (নাইট্রিক অক্সাইড)। এটি একটি প্রাইমারি দূষক

প্রাইমারি দূষক (Primary Pollutant) হলো সেইসব দূষক, যা সরাসরি উৎস থেকে (যেমন— শিল্পকারখানার চিমনি বা যানবাহনের ধোঁয়া থেকে) বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয়। উদাহরণস্বরূপ, কার্বন মনোক্সাইড (CO), সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2SO_2), এবং নাইট্রিক অক্সাইড (NO)

অন্যদিকে, সেকেন্ডারি দূষক (Secondary Pollutant) হলো সেগুলি, যা বায়ুমণ্ডলে প্রাইমারি দূষকগুলি নিজেদের মধ্যে বা বায়ুমণ্ডলের অন্যান্য উপাদানের (যেমন— সূর্যরশ্মি, জলীয় বাষ্প, অক্সিজেন) সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে উৎপন্ন হয়।

প্রশ্নে উল্লেখিত অন্য অপশনগুলি যেমন— SO3SO_3 (সালফার ট্রাইঅক্সাইড), N2O5N_2O_5 (ডাইনাইট্রোজেন পেন্টাক্সাইড), এবং HNO3HNO_3 (নাইট্রিক অ্যাসিড), সবই হলো সেকেন্ডারি দূষক। উদাহরণস্বরূপ, SO2SO_2 বায়ুতে অক্সিডাইজড হয়ে SO3SO_3 তৈরি করে এবং NO2NO_2 জলীয় বাষ্পের সাথে বিক্রিয়া করে HNO3HNO_3 তৈরি করে (যা অম্লবৃষ্টির অন্যতম কারণ)।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
6

নিচের কোন দুর্যোগের কার্যকর পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বন্যা
  2. ভূমিকম্প
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. খরা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

প্রায় এক ডজন ছোট-বড় প্লেট টেকটোনিক দ্বারা আমাদের এই ভূ-ত্বক গঠিত। এই টেকটোনিক প্লেটগুলোর আপেক্ষিক স্থান পরিবর্তনের সময় এদের সীমান্ত অঞ্চলে প্রবল পীড়নের সৃষ্টি হয়। উক্ত পীড়ন যখন বড়সড় চ্যুতির সৃষ্টি করে এবং এর অন্তর্নিহিত শক্তি বের করে দেয়ার চেষ্টা করে ঠিক তখনই আমাদের এই ভূ-পৃষ্ঠ কেঁপে ওঠে। ভাসমান অবস্থায় থাকে বলে এই প্লেটগুলো অনবরত একে অপরের সাথে ঘর্ষণ খেতে থাকে, কখনো একটি প্লেট অপরটির উপরে উঠে যায়, কখনো বা নিচে চলে যায়, কখনো আবার একে অপর থেকে দূরে সরে চলে যায়। অর্থাৎ কখন ঠিক কী ঘটবে এবং সঞ্চিত পীড়নের পরিমাণ কেমন হবে আগে থেকে নিশ্চিতভাবে এর কিছুই বলা যায় না। ফলে ভিন্ন ভিন্ন সম্ভাব্যতার কারণে ভূমিকম্পের কার্যকরী পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব নয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ভূমিকম্প (Earthquake)
ভূমিকম্প হলো পৃথিবীর অভ্যন্তরে সৃষ্ট একটি আকস্মিক দুর্যোগ। এটি সাধারণত ভূ-পৃষ্ঠের নিচে টেকটোনিক প্লেটের হঠাৎ সঞ্চালনের ফলে সৃষ্টি হয় এবং এটি সংঘটিত হওয়ার ঠিক আগে কোনো সুস্পষ্ট বায়ুমণ্ডলীয় বা ভূতাত্ত্বিক লক্ষণ দেখা যায় না।
এ কারণে বিজ্ঞানীরা আজ পর্যন্ত ভূমিকম্পের স্থান, সময় ও তীব্রতা সঠিকভাবে পূর্বাভাস (Prediction) দেওয়ার কোনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি আবিষ্কার করতে পারেননি।
অন্যদিকে, বন্যা (Flood), ঘূর্ণিঝড় (Cyclone), এবং খরা (Drought)—এগুলো বায়ুমণ্ডলীয় বা জলবায়ুগত কারণে সৃষ্টি হয়। স্যাটেলাইট ডেটা, আবহাওয়ার মডেল ও হাইড্রোলজিক্যাল বিশ্লেষণ ব্যবহার করে এসব দুর্যোগের কার্যকর পূর্বাভাস (Forecasting) দেওয়া সম্ভব হয়।
7

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের কোন স্তরটি বেশি ব্যয়বহুল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পূর্বপ্রস্তুতি
  2. সাড়াদান
  3. প্রশমন
  4. পুনরুদ্ধার

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে। মজবুত পাকা ভবন নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল নির্ধারণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শক্ত অবকাঠামো নির্মাণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর; প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত। দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। [উৎস : মা.ভূ-২২১ পৃষ্ঠায়]

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: প্রশমন (Mitigation)
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রে প্রশমন বলতে বোঝায় সেই সকল দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ, যা দুর্যোগের স্থায়ী ঝুঁকি হ্রাস করে। উদাহরণস্বরূপ, নদীর তীরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, নতুন করে শক্তিশালী ভবন নির্মাণ কোড চালু করা, অথবা পুরোনো অবকাঠামো সংস্কার (Retrofitting) করা।
এই কাজগুলো মূলত পুঁজি-নিবিড় (Capital Intensive) এবং বিশাল পরিকাঠামো উন্নয়নের সাথে জড়িত। তাই তাৎক্ষণিক সাড়াদান বা পূর্বপ্রস্তুতির চেয়ে প্রশমন স্তরেই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়।
যদিও পুনরুদ্ধার (Recovery) স্তরটিও খুব ব্যয়বহুল, কিন্তু প্রশমন পদক্ষেপগুলো গৃহীত হলে ভবিষ্যতে পুনরুদ্ধারের খরচ অনেক কমে আসে। তাই বিশেষজ্ঞরা সাধারণত প্রশমন স্তরকেই সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিনিয়োগ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
8

UDMC এর পূর্ণরূপ হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. United Disaster Management Centne
  2. Union Disaster Management Committee
  3. Union Disaster Management Centre
  4. none of the above

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

UDMC গঠিত হয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বার এনজিও কর্মকর্তা দুর্যোগের বিপর্যস্ত গ্রুপের প্রতিনিধি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। এবং ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের সমন্বয়ে। স্বাভাবিক সময়ে এ কমিটি একটি করে মিটিং করে এবং দুর্যোগ কালীন সময়ে একাধিক মিটিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: Union Disaster Management Committee (ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি)। এটি অপশন (২)-এ রয়েছে।
UDMC হলো বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ইউনিয়ন (Union) পর্যায়ের কমিটি। এটি মাঠ পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলা, ঝুঁকি হ্রাস এবং প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এই কমিটি গঠিত হয়। অন্য অপশনগুলোতে 'United' বা 'Centre' বলা হয়েছে, যা কমিটির সঠিক পূর্ণরূপ নয়।
9

নদীর পানির ক্ষেত্রে কোনটি সত্য?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. COD > BOD
  2. COD < BOD
  3. COD = BOD
  4. উপরের কোনটিই নয়

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: COD > BOD
এই প্রশ্নটি মূলত জলজ পরিবেশের গুণমান পরিমাপক দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটারের (COD এবং BOD) মধ্যেকার সম্পর্ক নির্ণয়ের উপর নির্ভরশীল।
BOD (Biological Oxygen Demand): এটি হলো পানিতে থাকা কেবল জৈব (Organic) দূষক পদার্থকে ব্যাকটেরিয়া বা অণুজীবের মাধ্যমে ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণ।
এটি পানির জৈব দূষণের মাত্রা নির্দেশ করে।
COD (Chemical Oxygen Demand): এটি হলো পানিতে থাকা জৈব (Organic) এবং অজৈব (Inorganic) উভয় প্রকার দূষক পদার্থকে শক্তিশালী রাসায়নিক জারক (যেমন: পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট) ব্যবহার করে জারিত করার জন্য প্রয়োজনীয় মোট অক্সিজেনের পরিমাণ।
যেহেতু COD পরিমাপের সময় জৈব এবং অজৈব উভয় প্রকার দূষক বিবেচনা করা হয়, কিন্তু BOD পরিমাপের সময় শুধুমাত্র জৈব দূষক বিবেচনা করা হয়, তাই COD-এর মান সবসময়ই BOD-এর মানের চেয়ে বেশি বা অন্তত সমান হয়। নদীর পানিতে সাধারণত বিভিন্ন রাসায়নিক ও অজৈব দূষক থাকায়, এই ক্ষেত্রে COD মান BOD-এর চেয়ে সর্বদা বেশি হবে।
10

কোন পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পুকুরের পানিতে
  2. লেকের পানিতে
  3. নদীর পানিতে
  4. সাগরের পানিতে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

নদীর পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকে। এছাড়াও সকালে পুকুরের পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ খুব কমে যায়, বিকেলে অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নদীর পানিতে
নদীর পানি সর্বদা গতিশীল (Running) থাকে। এই গতির কারণে পানির সাথে বায়ুর ব্যাপক সংস্পর্শ ঘটে, যার ফলে বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন দ্রুত পানিতে দ্রবীভূত হয়। এই প্রক্রিয়াকে Aeration (বাতায়ন) বলা হয়।
সাধারণত স্থির জল যেমন পুকুর বা লেকের পানিতে অক্সিজেনের সরবরাহ কম হয় এবং তলায় জৈব পদার্থের পচনের কারণে অক্সিজেন খরচ (Consumption) হয়, ফলে DO (Dissolved Oxygen) মাত্রা কম থাকে।
অন্যদিকে, সাগরের পানিতে উচ্চ লবণাক্ততা (Salinity) থাকার কারণে অক্সিজেনের দ্রবণীয়তা হ্রাস পায়। শীতল ও প্রবহমান পানি হওয়ায় নদীর পানিতেই সর্বোচ্চ পরিমাণে অক্সিজেন পাওয়া যায়।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
11

IUCN এর কাজ হলো বিশ্বব্যাপী-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পানি সম্পদ রক্ষা করা
  2. সন্ত্রাস দমন করা
  3. প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা
  4. পরিবেশ দূষণ রোধ করা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

IUCN (International Union for Conservation of Nature) হলো বিশ্বব্যাপী প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে বেসরকারি সংস্থা। এটি ১৯৪৮ সালে ফ্রান্সে গঠিত হয়। এর সদর দপ্তর গ্ল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা
IUCN-এর পূর্ণরূপ হলো International Union for Conservation of Nature (প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন)।
সংস্থাটির প্রধান লক্ষ্য হলো জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রকৃতির অখণ্ডতা ও বৈচিত্র্য বজায় রাখা।
অপশন ৩ (প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা) IUCN-এর সামগ্রিক লক্ষ্যকে সবচেয়ে ভালোভাবে তুলে ধরে। এর মধ্যে জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী ও বাস্তুসংস্থান সংরক্ষণ অন্তর্ভুক্ত।
যদিও পরিবেশ দূষণ রোধ (অপশন ৪) পরিবেশ রক্ষারই অংশ, কিন্তু IUCN-এর মূল ম্যান্ডেট প্রকৃতির সংরক্ষণ (Conservation) এবং বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিকে চিহ্নিত করা, যা প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার ব্যাপক সংজ্ঞার অধীনে আসে।
12

United Nations Framework Convention on Climate Change এর মূল আলোচ্য বিষয় –

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ
  2. গ্রিন হাউস গ্যাসের নিঃসরণ ও প্রশমন
  3. সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি
  4. বৈশ্বিক মরুকরণ প্রক্রিয়া এবং বনায়ন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

১৯৯২ সালের ৯ই মে গঠিত হয় United Nations Framework Convention on Climate Change (UNFCCC) যা ১৯৯৪ সালে কার্যকর হয়। বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ হ্রাস ও প্রশমনের লক্ষ্যে UNFCCC প্রতিবছর Conference of the Parties (COP) সম্মেলন আয়োজন করে আসছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ্রিন হাউস গ্যাসের নিঃসরণ ও প্রশমন

United Nations Framework Convention on Climate Change (UNFCCC) হলো বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলায় প্রণীত প্রধান আন্তর্জাতিক চুক্তি। এর মূল লক্ষ্য হলো— বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব এমন একটি স্তরে স্থিতিশীল করা, যা জলবায়ু ব্যবস্থায় বিপজ্জনক মানবিক হস্তক্ষেপ রোধ করবে।

অতএব, এই কনভেনশনের সরাসরি এবং মূল আলোচ্য বিষয় হলো গ্রিন হাউস গ্যাসের নিঃসরণ (Emission) নিয়ন্ত্রণ ও প্রশমন (Mitigation)

অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল, আর বৈশ্বিক মরুকরণ প্রক্রিয়ার জন্য আলাদা কনভেনশন (UNCCD) রয়েছে।
13

বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
  2. পশ্চিমাঞ্চল
  3. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
  4. উত্তর-পূর্বাঞ্চল

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সিলেটের হাওড় অঞ্চল বাংলাদেশের উত্তর পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে প্রায় প্রতি বছর আকস্মিক বন্যা হয়। দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহকে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় বলা হয়। এই অঞ্চল এরকম পাহাড় বিশিষ্ট হওয়ায় পাহাড়ি ঢলের কারণে এই অঞ্চলগুলোতে আকস্মিক বন্যা দেখা যায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: উত্তর-পূর্বাঞ্চল। এই অঞ্চলের প্রধান জেলাগুলো হলো সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ
এই অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা হওয়ার মূল কারণ হলো ভৌগোলিক অবস্থান। উত্তর-পূর্বাঞ্চলটি ভারতের মেঘালয় ও আসামের খাসিয়া-জয়ন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত।
বর্ষাকালে বা প্রাক-বর্ষাকালে এসব পাহাড়ি অঞ্চলে অতিবৃষ্টি হলে, বৃষ্টির জল দ্রুত ঢাল বেয়ে বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলের নিচু ভূমিতে নেমে আসে।
এই পানিপ্রবাহ এত দ্রুত হয় যে তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, যা আকস্মিক বা Flash Flood নামে পরিচিত। এই বন্যা সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয় না, কিন্তু বোরো ধানসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে।
অন্যান্য অঞ্চল (দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল বা পশ্চিমাঞ্চল) সাধারণত নদীবাহিত বন্যা বা জোয়ারের বন্যায় আক্রান্ত হয়, আকস্মিক বন্যায় নয়।
14

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে কোন দুর্যোগটির ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভূমিকম্প
  2. ভূমিধস
  3. টর্নেডো
  4. খরা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। প্রতিবছরই নিয়মিতভাবে এদেশে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশে ভূমিকম্প দুর্যোগটি বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ভূমিকম্প
সাম্প্রতিক সময়ে ভূতত্ত্ববিদ ও পরিবেশবিজ্ঞানীরা বারবার বাংলাদেশে একটি বড় মাত্রার ভূমিকম্পের (Magnitude 7.5 থেকে 8.5+) ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
বাংলাদেশ তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের (Indian, Eurasian, and Burmese) সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে ভূতাত্ত্বিক চাপ জমা হচ্ছে।
বিশেষ করে, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ডাউকি ফল্ট (Dauki Fault) নামক ফাটল রেখাটিতে বহু বছর ধরে কোনো বড় ভূমিকম্প না হওয়ায় সেখানে শক্তির সঞ্চয় বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। এই কারণেই এই দুর্যোগটির ঝুঁকি অন্যান্য দুর্যোগের চেয়ে বর্তমানে বেশি আলোচিত এবং বৃদ্ধিপ্রাপ্ত।
অন্যান্য অপশন যেমন খরা বা ভূমিধস প্রতি বছরই সংঘটিত হয়, কিন্তু ভূতাত্ত্বিকভাবে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক এবং সমগ্র দেশকে ঝুঁকিতে ফেলা এমন দুর্যোগের মধ্যে ভূমিকম্পের ঝুঁকিই সম্প্রতি সর্বোচ্চ সতর্কতার কারণ।
15

নিম্নের কোন দুর্যোগ ‘hydro-meteorological’ দুর্যোগ হিসেবে পরিচিত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বন্যা
  2. খরা
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. ভূমিধস

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘hydro-meteorological’ দুর্যোগ হলো আবহাওয়া-জলবায়ুগত বা সামুদ্রিক দুর্যোগ। দুর্যোগগুলো হচ্ছে: বন্যা, খরা, মৌসুমী ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধ্স বা পলিক্ষয়। অপশনে উল্লেখিত সবগুলোই ‘hydro-meteorological’ দুর্যোগ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বন্যা
Hydro-meteorological (জল-আবহাওয়া সংক্রান্ত) দুর্যোগ বলতে সেইসব প্রাকৃতিক বিপদকে বোঝায় যা জলবায়ু বা আবহাওয়া (Meteorological) এবং জলের সঞ্চালন (Hydrological) প্রক্রিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়।
বন্যা (Flood) হলো অতিবৃষ্টি, হিমবাহ গলা জল বা সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসের (Storm Surge) ফলে সৃষ্ট। এই প্রক্রিয়াগুলো সরাসরি জল ও আবহাওয়ার চরম রূপের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই বন্যা একটি সুস্পষ্ট hydro-meteorological দুর্যোগ।
অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড় হলো মূলত একটি বায়ুমণ্ডলীয় বা আবহাওয়া সংক্রান্ত (Meteorological) ঘটনা, যা তীব্র ঝড় ও বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি করে।
ভূমিধস (Landslide) হলো প্রধানত ভূতাত্ত্বিক বা ভূ-প্রাকৃতিক (Geological/Geophysical) দুর্যোগ, যদিও বৃষ্টিপাত এর প্রধান ট্রিগার হিসেবে কাজ করে।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
16

ট্রপিক্যাল সাইক্লোন সৃষ্টির জন্য সাগরপৃষ্ঠের ন্যূনতম তাপমাত্রা কত হওয়া প্রয়োজন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ২৬.৫° সে.
  2. ৩৫° সে.
  3. ৩৭.৫° সে.
  4. ৪০.৫° সে.

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সাইক্লোন সৃষ্টির মূল দুটি কারণ হলো: (১) গভীর সমুদ্রের পানির উচ্চ তাপমাত্রা ও (২) সমুদ্রের বায়ুমণ্ডলের নিম্নচাপ সৃষ্টি। ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা কমপক্ষে ২৬-২৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস থাকা আবশ্যক এবং একটি নির্দিষ্ট গভীরতা (কমপক্ষে ৫০ মিটার) পর্যন্ত এ তাপমাত্রা থাকতে হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ২৬.৫° সে.
ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় বা ট্রপিক্যাল সাইক্লোন সৃষ্টি হওয়ার জন্য সমুদ্রের পৃষ্ঠের জলকে অন্তত ২৬.৫° সেলসিয়াস (বা প্রায় ৮০০ ফারেনহাইট) উষ্ণ হতে হয়।
এই উষ্ণ জল ঘূর্ণিঝড়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রচুর জলীয় বাষ্প সরবরাহ করে। জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হওয়ার সময় যে বিশাল পরিমাণ সুপ্ত তাপ (Latent Heat) নির্গত হয়, সেটিই নিম্নচাপ কেন্দ্র তৈরি করে এবং ঘূর্ণিঝড়কে ক্রমাগত শক্তি যোগায়।
ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টিতে শুধু পৃষ্ঠের তাপমাত্রা নয়, এই উষ্ণতা কমপক্ষে ৫০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকা জরুরি। অন্যান্য বিকল্প তাপমাত্রাগুলি (৩৫° সে. বা তার বেশি) ঘূর্ণিঝড়ের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণের চেয়ে অনেক বেশি উষ্ণ, যা সাধারণত প্রয়োজনীয় ন্যূনতম মান নয়।
17

বাংলাদেশে সংঘটিত বন্যার রেকর্ড অনুযায়ী (১৯৭১-২০০৭) কোন সালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি এলাকা প্লাবিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 1974
  2. 1988
  3. 1998
  4. 2007

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলাদেশে সংঘটিত বন্যার রেকর্ড অনুযায়ী (১৯৭১-২০০৭) ১৯৯৮ সালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি এলাকা প্লাবিত হয়। ১৯৮৮ সালের বন্যায় বাংলাদেশের ৬১% এলাকা এবং ১৯৯৮ সালের বন্যায় ৬৮% এলাকা প্লাবিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: ১৯৯৮ সাল
বাংলাদেশে সংঘটিত বন্যার রেকর্ড অনুযায়ী (১৯৭১-২০০৭), ১৯৯৮ সালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। এই বন্যায় দেশের প্রায় ৬৮% এলাকা জলমগ্ন হয়।
১৯৯৮ সালের বন্যাটি শুধু সর্বাধিক এলাকা প্লাবনের জন্যই নয়, এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ডকৃত সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা (প্রায় ৬৭-৬৮ দিন ধরে স্থায়ী হয়েছিল)।
অনেকের কাছে ১৯৮৮ সালের বন্যাটি বেশি ভয়ংকর মনে হলেও, প্লাবিত এলাকার হিসাব অনুযায়ী (প্রায় ৬১%), এটি ১৯৯৮ সালের বন্যার চেয়ে কম ছিল। তবে ক্ষয়ক্ষতি ও তীব্রতার দিক থেকে দুটি বন্যাই ছিল ভয়াবহ।
18

নিচের কোনটি জলজ উদ্ভিদ নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হিজল
  2. করচ
  3. ডুমুর
  4. গজারী

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

গজারীর অপর নাম শাল। বাংলাদেশের ভাওয়াল ও মধুপুরের গজারি বন দেশের বৃহত্তম পত্রঝরা বনাঞ্চল। লাল মাটির পাহাড়, ছোট ছোট টিলা জমিতে গজারি বৃক্ষ ভালো জন্মে। স্বাদুপানি বা মিঠাপানি দ্বারা প্লাবিত বনকে জলাবদ্ধ বন বা সোয়াম্প ফরেস্ট বলে। সিলেট জেলার উত্তর পশ্চিমে গোয়াইন নদীর কূলে বাংলাদেশের একমাত্র স্বাদুপানির জলাবদ্ধ বন অবস্থিত। এটি স্থানীয়ভাবে রাতারগুল জলাবন নামেও পরিচিত। জলাবদ্ধ এ বনে হিজল, করচ, ডুমুর, বরুণ, পিঠালি, অর্জুন, ছাতিম, গুটিজাম ও বট বৃক্ষ জন্মে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো গজারী
গজারী (Shorea robusta) গাছকে সাধারণত শাল গাছ বলা হয়। এটি হলো বাংলাদেশের শুষ্ক পর্ণমোচী বা পত্রঝরা বনের প্রধান বৃক্ষ। এটি সাধারণত উঁচু ও সমতল ভূমিতে জন্মে এবং জলজ উদ্ভিদ নয়
শালবনকে পরিবেশগত দিক থেকে 'উঁচুভূমির বনাঞ্চল' হিসেবে গণ্য করা হয়।
অন্যদিকে, প্রশ্নে উল্লেখিত বাকি গাছগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জলজ বা জলাভূমির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত:
হিজল: এটি জলাভূমি বা বিল-ঝিলের পাড়ে জন্মে এবং বর্ষাকালে দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকতে পারে। এটি জলসহিষ্ণু উদ্ভিদ।
করচ: এটি একটি লবণাক্ত জলজ উদ্ভিদ (ম্যানগ্রোভ প্রজাতির) যা সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলের কর্দমাক্ত জলাভূমিতে জন্মে।
ডুমুর: ডুমুরের কিছু প্রজাতি (যেমন জগডুমুর) সাধারণত নদী বা জলাশয়ের ধারে, অত্যন্ত আর্দ্র ও স্যাঁতসেঁতে মাটিতে জন্মে।
19

নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট আপদ (hazard) নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বায়ু দূষণ
  2. দুর্ভিক্ষ
  3. মহামারী
  4. কালবৈশাখী (Norwester)

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

Hazard বা আপদ বলতে বোঝায় কোনো এক আকস্মিক ও চরম প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট ঘটনা। এ ঘটনা জীবন, সম্পদ ইত্যাদির উপর আঘাত হানে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, কাল বৈশাখী, খরা, বন্যা ও ভূমিকম্প খুব অল্প সময়ের জন্য হয়ে থাকে। যা মানবসৃষ্ট আপদ নয়। যেহেতু কালবৈশাখীর বেলায় পূর্বাভাস ও সতর্কবাণী প্রচার করা সম্ভব হয় না, তাই এক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি নেয়া যায় না। তাই দুর্গত এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে দ্রুত ত্রাণ সরবরাহ ও পুনর্বাসন কাজ করাই হলো একমাত্র সমাধান।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কালবৈশাখী (Norwester)
আপদ (Hazard) প্রধানত দুই প্রকার: প্রাকৃতিক আপদমানবসৃষ্ট আপদ। প্রাকৃতিক কারণ ছাড়া অন্য কোনো কারণে সৃষ্ট আপদই হলো মানবসৃষ্ট আপদ।
কালবৈশাখী সম্পূর্ণভাবে একটি প্রাকৃতিক আপদ। এটি বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার তারতম্যের কারণে সৃষ্ট একটি স্থানীয় বজ্রঝড়।
অপরদিকে, বায়ু দূষণ সরাসরি মানুষের শিল্পায়ন ও যানবাহনের কারণে ঘটে। এটি একটি সুস্পষ্ট মানবসৃষ্ট আপদ
দুর্ভিক্ষ (Famine) এবং মহামারী (Epidemic) যদিও প্রাকৃতিক কারণে (যেমন খরা বা রোগজীবাণু) শুরু হতে পারে, কিন্তু এদের ব্যাপকতা ও বিধ্বংসী রূপ সাধারণত অব্যবস্থাপনা, জনঘনত্ব বা ভুল নীতির ফলে তৈরি হয়। তাই এগুলিকে অনেক সময় সামাজিক-প্রাকৃতিক (Socio-natural) বা মানবসৃষ্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে কালবৈশাখী একমাত্র বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক ঘটনা।
20

বাংলাদেশের উপকূলীয় সমভূমিতে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী যে ধরনের বন্যা কবলিত হয় তার নাম-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নদীজ বন্যা
  2. আকস্মিক বন্যা
  3. জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা
  4. বৃষ্টিজনিত বন্যা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলাদেশের উপকূলীয় সমভূমিতে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী সাধারণত জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যায় কবলিত হয়। ঘূর্ণিঝড়ের সময় সমুদ্রের পানি স্ফীত হয়ে উপকূলের কাছাকাছি যে উঁচু ঢেউয়ের সৃষ্টি করে তাকে জলোচ্ছ্বাস বলে। সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা
বাংলাদেশের উপকূলীয় সমভূমি বলতে বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী অঞ্চলকে বোঝায় (যেমন: ভোলা, পটুয়াখালী, কক্সবাজার)। এই অঞ্চলে বন্যা বা প্লাবনের প্রধান কারণ হলো ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপের ফলে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস (Storm Surge)
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট এই জলোচ্ছ্বাস সমুদ্রের পানিকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক উঁচুতে তুলে দেয়, যা উপকূলের নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করে ব্যাপক বন্যা সৃষ্টি করে। এটি হলো উপকূলীয় বন্যার প্রধান বৈশিষ্ট্য।
অন্যদিকে, নদীজ বন্যা হয় মূলত দেশের মধ্যাঞ্চলে বা ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর অববাহিকায় নদীর পানি বাড়ার ফলে।
আর আকস্মিক বন্যা (Flash Flood) সিলেট বা পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি ঢলের কারণে হয়ে থাকে।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
21

২০১৮ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জলবায়ু উষ্ণতা প্রতিরোধ তহবিল গড়ি
  2. প্লাস্টিক (plastic) দূষণকে পরাজিত করি
  3. সবুজ বিশ্ব গড়ে তুলি
  4. জলবায়ু উষ্ণতাকে রুখে দেই

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

৫ জুন, ২০১৮ বিশ্বব্যাপী পালিত পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘আসুন প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করি’ আর স্লোগান ছিল “প্লাস্টিক পুনঃব্যবহার করি, না পারলে বর্জন করি”। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২০ এর প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘জীববৈচিত্র’। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির এ বছরের স্লোগান হচ্ছে ‘ইটস টাইম ফর নেচার’ (সময় এখন প্রকৃতির)। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ২০২১ সালের আদিপাদ্য, “প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, হোক সবার অঙ্গীকার” এবং স্লোগান, “প্রকৃতি সংরক্ষণ করি, প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করি।” বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২২ সালের প্রতিপাদ্য ‘শুধু একটাই পৃথিবী’ এবং স্লোগান ‘পরিবেশের সাথে সম্প্রীতি বজায় রেখে টেকসই জীবনযাপন’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: প্লাস্টিক (plastic) দূষণকে পরাজিত করি (Beat Plastic Pollution)।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস (World Environment Day) প্রতি বছর ৫ জুন পালিত হয়। এটি জাতিসংঘের একটি প্রধান পরিবেশগত প্রচারাভিযান।
২০১৮ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল Beat Plastic Pollution। এই বছরের স্বাগতিক দেশ ছিল ভারত (India)
এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে প্লাস্টিক ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং এর ব্যবহার কমিয়ে আনার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
22

কোনটি জলবায়ুর উপাদান নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. উষ্ণতা
  2. আর্দ্রতা
  3. সমুদ্রস্রোত
  4. বায়ুপ্রবাহ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

কোনো স্থানের বায়ুর তাপ, বায়ুর চাপ, বায়ুর আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ এবং বারিপাত বা অধঃক্ষেপ হলো আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান। অন্যদিকে জলবায়ুর নিয়ামক অর্থাৎ যেসকল অবস্থা জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো-সমুদ্রস্রোত, অক্ষাংশ, বৃষ্টিপাত, উচ্চতা, পর্বতের অবস্থান ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সমুদ্রস্রোত
জলবায়ুর উপাদান বলতে সেই সকল বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা বোঝায়, যা নির্দিষ্ট স্থানে তাৎক্ষণিকভাবে পরিমাপ করা যায়। যেমন: উষ্ণতা (Temperature), আর্দ্রতা (Humidity), বায়ুপ্রবাহ (Wind) এবং বৃষ্টিপাত (Precipitation)
অপরদিকে, সমুদ্রস্রোত (Ocean Current) হলো জলবায়ুর নিয়ন্ত্রক বা প্রভাবক (Controls/Factors)। নিয়ন্ত্রকগুলো জলবায়ুর উপাদানগুলোর পরিমাণ বা গতি প্রকৃতিকে প্রভাবিত করে।
অতএব, উষ্ণতা, আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহ হলো জলবায়ুর সরাসরি উপাদান, কিন্তু সমুদ্রস্রোত একটি নিয়ন্ত্রক। এই কারণে সমুদ্রস্রোত সঠিক উত্তর।
23

নিচের কোন ভৌগোলিক এলাকাটি ‘রামসার সাইট’ হিসেবে স্বীকৃত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রামসাগর
  2. বগা লেইক (Lake)
  3. টাঙ্গুয়ার হাওর

  4. কাপ্তাই হ্রদ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বিশ্বব্যাপী জৈব পরিবেশ রক্ষার একটি সম্মিলিত প্রয়াস হলো ‘রামসার কনভেনশন’ । ১৯৭১ সালে ইরানের রামসারে অনুষ্ঠিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশসমূহের এ কনভেনশনের আলোকে বাংলাদেশের ২টি স্থানকে ‘রামসার এলাকা (Ramsar site)’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সাইট দু’টি হলো- সুন্দরবন (২১ মে, ১৯৯২) এবং টাঙ্গুয়ার হাওর (১০ জুলাই, ২০০০)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: টাঙ্গুয়ার হাওর। এটি বাংলাদেশের দুটি স্বীকৃত রামসার সাইট-এর মধ্যে অন্যতম।
রামসার সাইট হলো এমন জলাভূমি যা আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বহন করে। জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের জন্য এই জলাভূমিগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
টাঙ্গুয়ার হাওর সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলায় অবস্থিত। এটি ২০০০ সালের ২০ জানুয়ারি রামসার সাইট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
অন্যান্য অপশন—রামসাগর, বগা লেইক এবং কাপ্তাই হ্রদ—এগুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও আন্তর্জাতিকভাবে রামসার কনভেনশনের অধীনে তালিকাভুক্ত নয়।
24

‘সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ২০১৫-৩০’ হচ্ছে একটি-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জাপানের উন্নয়ন কৌশল
  2. সুনামি দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
  3. দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
  4. ভূমিকম্পের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

The Sendai Framework for Disaster Risk Reduction (2015-30) হলো ১৪-১৮ মার্চ, ২০১৫ জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ‘দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক’ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গৃহীত একটি উদ্যোগ। দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
‘সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ফর ডিসাস্টার রিস্ক রিডাকশন (Sendai Framework for Disaster Risk Reduction - SFDRR) ২০১৫-২০৩০’ হলো দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের (DRR) উপর একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
এটি ২০১৫ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট সকল ধরনের দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট মৃত্যু, আহত হওয়ার সংখ্যা এবং অর্থনৈতিক লোকসান উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
ফ্রেমওয়ার্কটি জাপানের সেন্দাই শহরে গৃহীত হলেও এটি শুধুমাত্র জাপানের কৌশল নয়। একইসাথে, এটি শুধুমাত্র সুনামি বা ভূমিকম্পের মতো নির্দিষ্ট দুর্যোগের জন্য নয়, বরং সকল ধরনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বৈশ্বিক পরিকল্পনা। তাই অপশন (৩) সঠিক।
25

কোনটি জলজ আবহাওয়াজনিত (hydro-meteorological) দুর্যোগ নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভূমিকম্প
  2. ভূমিধস
  3. নদীভাঙ্গন
  4. ঘূর্ণিঝড়

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

জলজ আবহাওয়াজনিত কারণে বন্যা দেখা দিলে নদীভাঙন হতে পারে, অধিক বৃষ্টির কারণে বরফগলে মাটি নরম হওয়ায় ভূমিধস হতে পারে, ঘূর্ণিঝড় দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে ভূ-অভ্যন্তরে শিলাচ্যুতি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, হিমবাহের প্রভাব, খনি ভাঙন ইত্যাদি কারণে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়ে থাকে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ভূমিকম্প (Earthquake)
জলজ আবহাওয়াজনিত (Hydro-meteorological) দুর্যোগ বলতে বোঝায়—যা জল (Hydro) এবং আবহাওয়া (Meteorological) সংক্রান্ত কারণে ঘটে। যেমন: ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, টর্নেডো, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙ্গন ইত্যাদি।
অপরদিকে, ভূমিকম্প (Earthquake) হলো একটি ভূ-প্রাকৃতিক (Geophysical) দুর্যোগ। এটি পৃথিবীর অভ্যন্তরে টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া বা ভূ-আলোড়নের ফলে সৃষ্টি হয়। এর সাথে জল বা আবহাওয়ার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই
ভূমিধস (Landslide) সাধারণত ভূ-প্রাকৃতিক হলেও, এটি অনেক ক্ষেত্রে অতিবৃষ্টি বা বন্যার কারণে সংঘটিত হয়, তাই এটি পরোক্ষভাবে জলজ আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের শ্রেণিতেও আসতে পারে।
ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও মেডিকেলসহ ২৭+ ইউনিট-ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর এডমিশন সেকশনে।

ভর্তি প্রশ্নব্যাংক দেখুন
26

বায়ুমণ্ডলের যে স্তরে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  2. ট্রপোস্ফিয়ার
  3. আয়োনোস্ফিয়ার
  4. ওজোনস্তর

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

মেসোবিরতির উপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে তাপমণ্ডল বলে। এই মণ্ডলের বায়ুস্তর অত্যন্ত হালকা ও চাপ ক্ষীণ। তাপমণ্ডলের নিম্ন অংশকে আয়োনোস্ফিয়ার (Ionosphere) বা আয়নমণ্ডল বলে। তীব্র সৌর বিকিরণে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনি রশ্মির সংঘাতে এই অংশের বায়ু আয়নযুক্ত হয়। ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো বিভিন্ন বেতারতরঙ্গ আয়নমণ্ডলের বিভিন্ন আয়নে বাধা পেয়ে পুনরায় ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে অর্থাৎ প্রতিফলিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আয়োনোস্ফিয়ার (Ionosphere)। এই স্তরটি বায়ুমণ্ডলের থার্মোস্ফিয়ারের (Thermosphere) অংশ।
বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৮০ কিমি থেকে ৬০০ কিমি পর্যন্ত এই স্তর বিস্তৃত। এই স্তরে গ্যাসের কণাগুলো সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে আয়নিত বা বৈদ্যুতিক চার্জযুক্ত অবস্থায় থাকে।
এই আয়নিত কণাগুলোর জন্যই পৃথিবীর দিকে প্রেরিত বেতার তরঙ্গকে (Radio Wave) প্রতিফলিত করে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে দেয়। এই প্রাকৃতিক প্রতিফলনের মাধ্যমেই দূরবর্তী স্থানে রেডিও যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়।

অন্যান্য অপশন ভুল কেন:
- ট্রপোস্ফিয়ার: এটি সর্বনিম্ন স্তর (০-১৫ কিমি), যেখানে মেঘ, বৃষ্টি, ঝড়সহ সকল আবহাওয়ার ঘটনা ঘটে।
- স্ট্রাটোস্ফিয়ার: এই স্তরটি অপেক্ষাকৃত শান্ত। এর মধ্যেই ওজোন স্তর অবস্থিত এবং জেট বিমান চলাচল করে।
27

২০০৪ সালের ভয়ংকর সুনামি ঢেউয়ের গতি ছিল ঘণ্টায়–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১০০–২০০ কি.মি
  2. ৩০০–৪০০ কি.মি
  3. ৭০০–৮০০ কি.মি

  4. ৯০০–১০০০ কি.মি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

শতাব্দীর ভয়াবহ সুনামি সংঘটিত হয় ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর। ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার সন্নিকটে সাগরতলে ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামিটি এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের ১৩টি দেশকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করে। হিরোশিমায় যে পারমাণবিক বোমা ফেলা হয়েছিল তার চেয়ে ২৩০০০ গুণ বেশি শক্তিসম্পন্ন ভূমিকম্পের ফলেই ইতিহাসের এই ভয়াবহ সুনামি সংঘটিত হয়। তখন সুনামির ঢেউয়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ছিল একটি সাধারণ জেট বিমানের গতিবেগের সমান বা ৭০০ কিলোমিটারের বেশি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ৭০০–৮০০ কি.মি/ঘণ্টা
সুনামি হলো সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প, ভূমিধস বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট বিশাল সামুদ্রিক ঢেউ। গভীর সমুদ্রে এই ঢেউগুলো সাধারণত অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলে।
২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে আঘাত হানা ভয়ংকর সুনামি ঢেউয়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭০০ থেকে ৮০০ কিলোমিটারের মতো। এই গতিবেগ একটি আধুনিক বাণিজ্যিক জেট বিমানের গতির প্রায় সমান।
উপকূলের কাছাকাছি যখন সমুদ্রের গভীরতা কমে যায়, তখন সুনামির গতি কমে এলেও (সাধারণত ৩০-৪০ কি.মি/ঘণ্টা) এর উচ্চতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়, যা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটায়।
28

সমুদ্রপৃষ্ঠ ৪৫cm বৃদ্ধি পেলে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে climate refugee হবে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৩ কোটি
  2. ৩.৫ কোটি
  3. ৪ কোটি
  4. ৪.৫ কোটি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

গত ১০০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে ১০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার। মেরু অঞ্চল এবং পর্বতশৃঙ্গের জমে থাকা বরফ দ্রুত গলতে থাকার কারণে জাতিসংঘের আন্তঃসরকার জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেল (আইপিসিসি) এর মতে ২০৫০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার বাড়তে পারে। এতে বাংলাদেশের অন্তত ১৭ শতাংশ ভূমি তলিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আর এর ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশের ৩.৫ কোটি মানুষ ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ৩.৫ কোটি। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ের বহুল আলোচিত ও স্বীকৃত তথ্য।
এই প্রাক্কলনটি মূলত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেল (IPCC) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে করা।
২০৫০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৪৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ১০০% এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে। এই পরিস্থিতিতে জীবন ও জীবিকা হারিয়ে আনুমানিক ৩ কোটি ৫০ লক্ষ (৩.৫ কোটি) মানুষ জলবায়ু শরণার্থীতে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হয়।
অন্যান্য অপশন যেমন ৪ কোটি বা ৪.৫ কোটি হল সাধারণত ১ মিটার বা তার বেশি উচ্চতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে করা আরও কঠোর প্রাক্কলন। তাই ৪৫ সেমি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ৩.৫ কোটি সংখ্যাটিই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য।
29

বায়ুমণ্ডলের মোট শক্তির কত শতাংশ সূর্য হতে আসে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৯০ শতাংশ
  2. ৯৪ শতাংশ
  3. ৯৮ শতাংশ
  4. ৯৯.৯৭ শতাংশ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সূর্য থেকে বিকিরণের মাধ্যমে পৃথিবী যে শক্তি ক্ষুদ্র তরঙ্গ আকারে পায় তাই সৌরশক্তি (Insolation)। ভূ-পৃষ্ঠের চার পাশে বেষ্টন করে যে বায়ুর আবরণ রয়েছে তাকে বায়ুমণ্ডল বলে। এ বায়ুমণ্ডলের মোট শক্তির ৯৯.৯৭ শতাংশই আসে সূর্য থেকে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ৯৯.৯৭ শতাংশ
বায়ুমণ্ডলের মোট শক্তির প্রায় ৯৯.৯৭ শতাংশই আসে সূর্য থেকে (Solar Energy)। এই শক্তিই পৃথিবীর জলবায়ু এবং আবহাওয়ার প্রধান চালিকাশক্তি।
সূর্য থেকে আসা এই শক্তিকে সৌর বিকিরণ (Solar Radiation) বলা হয়, যা পৃথিবীপৃষ্ঠে তাপ সৃষ্টি করে এবং পরে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে।
মাত্র ০.০৩ শতাংশের চেয়েও কম শক্তি আসে পৃথিবীর অভ্যন্তরস্থ তাপ (Geothermal Heat), জোয়ার-ভাটা শক্তি (Tidal Energy) এবং মানুষ সৃষ্ট শক্তি থেকে।
অন্যান্য বিকল্প (৯০%, ৯৪%, ৯৮%) সঠিক নয়, কারণ সূর্য পৃথিবীর তাপশক্তির প্রায় সম্পূর্ণ অংশের উৎস।
30

বিশ্বব্যাংক অনুযায়ী ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় বিশ্ব সাহায্যের কত শতাংশ বাংলাদেশকে প্রদান করবে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 30%
  2. 40%
  3. 50%
  4. 60%

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে একাধারে সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা সমস্যা, হিমালয়ের বরফ গলার কারণে নদীর দিক পরিবর্তন, বন্যা ইত্যাদি সবগুলো দিক দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং হচ্ছে। তাই এই ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় বিশ্ব সাহায্যের ৩০% বাংলাদেশকে প্রদান করবে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: ৩০%

বিশ্বব্যাংক (World Bank) কর্তৃক প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গৃহীত আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্ব সাহায্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বরাদ্দ করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রধান দাবিদার হিসেবে চিহ্নিত করে প্রায় ৩০ শতাংশ (30%) বৈশ্বিক জলবায়ু সহনশীলতা (Climate Resilience) সাহায্য প্রদান করার অঙ্গীকার রয়েছে।

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়ায়, এই বিশাল অঙ্কের অর্থ বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ব্যবহৃত হবে।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
31

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৫ কবে জারি হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১ জানুয়ারি
  2. ১১ জানুয়ারি
  3. ১৯ জানুয়ারি
  4. ২১ মার্চ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২ এর ক্ষমতাবলে সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১৫ প্রণয়ন করে। যা ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়, এতে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা ও হুশিয়ারি সংকেত হিসেবে সমুদ্রবন্দরের জন্য ১১টি ও নদী বন্দরের জন্য ৪টি সংকেত নির্ধারণ করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৯ জানুয়ারি
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৫' (Disaster Management Policy 2015) জারি করা হয় ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি তারিখে।
এই নীতিমালার মূল লক্ষ্য হলো দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলা, দুর্যোগ সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা এবং দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
অন্যান্য অপশনগুলো (যেমন: ১১ জানুয়ারি, ১ জানুয়ারি, ২১ মার্চ) এই নীতিমালার জারির তারিখ নয়, তাই সেগুলো ভুল।
32

সুনামির কারণ হলো–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ
  3. সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্পন
  4. আগ্নেয়গিরির আগ্ন্যুৎপাত

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সমুদ্রের তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প সংঘটিত হলে সমুদ্রপৃষ্ঠে প্রচণ্ড ও ধ্বংসাত্মক বিশাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। এরূপ বিশাল সামুদ্রিক ঢেউগুলোকে সুনামি বলে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্পন
সুনামি (Tsunami) হলো সমুদ্রের তলদেশে হঠাৎ সৃষ্ট বিশাল পরিমাণ পানির উল্লম্ব স্থানচ্যুতির ফলে তৈরি হওয়া ঢেউয়ের সারি।
এই স্থানচ্যুতির প্রধান কারণ হলো শক্তিশালী ভূমিকম্পন (বিশেষ করে সাবডাকশন জোনে), সমুদ্রের তলদেশে ভূমিধস (Landslide) অথবা কদাচিৎ উল্কাপাত (Meteorite Impact)। এদের মধ্যে সমুদ্রের তলদেশের ভূমিকম্পনই সুনামি সৃষ্টির প্রধানতম কারণ
সাধারণত রিখটার স্কেলে ৭.৫-এর বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হলে সুনামি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপের ফলে ঝোড়ো জলোচ্ছ্বাস (Storm Surge) সৃষ্টি হয়, যা সুনামি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ জোয়ার-ভাটা সৃষ্টির জন্য দায়ী।
33

কোন জ্বালানি পোড়ালে সালফার ডাই-অক্সাইড বাতাসে আসে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ডিজেল
  2. পেট্রোল
  3. অকটেন
  4. সিএনজি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ডিজেল বা গ্যাস অয়েলের কার্বন শিকলের দৈর্ঘ্য C13 থেকে C18 পর্যন্ত। ডিজেলকে পোড়ালে সালফার ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়। অন্যদিকে পেট্রোল, অকটেন ও সিএনজিকে জ্বালানি রূপে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস তৈরি হয়। এদের কার্বন শিকলের দৈর্ঘ্য হলো পেট্রোল =C5 থেকে ও C12, অকটেন =C8 এবং সিএন (Compressed Natural Gas) = C1, যা ডিজেলের তুলনায় ছোট শিকল।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ডিজেল
ডিজেল হলো একটি খনিজ তেলজাত জ্বালানি, যা সাধারণত পেট্রোল বা অকটেনের চেয়ে কম পরিশোধিত থাকে। এই ধরনের জ্বালানিতে প্রাকৃতিকভাবেই সালফার (Sulfur) যৌগ থাকে।
যখন ডিজেল ইঞ্জিন বা চুল্লিতে পোড়ানো হয়, তখন এই সালফার অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে সালফার ডাই-অক্সাইড (extSO2 ext{SO}_2) গ্যাস উৎপন্ন করে, যা বায়ু দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ।
অন্যদিকে, পেট্রোল ও অকটেন কিছুটা কম সালফারযুক্ত হলেও, সিএনজি (CNG - Compressed Natural Gas) হলো সবচেয়ে পরিষ্কার জীবাশ্ম জ্বালানি, যা প্রায় সালফারমুক্ত। সিএনজি পোড়ালে মূলত কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জলীয় বাষ্প নির্গত হয়, তাই এটি extSO2 ext{SO}_2 সৃষ্টি করে না।
34

নিম্নের কোনটি গ্রিন হাউজ গ্যাস নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নাইট্রাস অক্সাইড
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. অক্সিজেন
  4. মিথেন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

অক্সিজেন গ্রিনহাউজ গ্যাস নয়। বায়ুমণ্ডলে অনেক প্রকারের গ্রিনহাউজ গ্যাস আছে। কিন্তু নিম্নোক্তগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যমান, যেমন-নাইট্রাস অক্সাইড, কার্বন-ডাই -অক্সাইড, মিথেন, ওজোন, সিএফসি ও জলীয় বাষ্প।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অক্সিজেন
গ্রিন হাউজ গ্যাস (Greenhouse Gas - GHG) হলো সেই সকল গ্যাস, যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তাপ বা ইনফ্রারেড রেডিয়েশন শোষণ করে এবং পুনরায় বিকিরণ করে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। এই গ্যাসগুলোই গ্রিন হাউজ ইফেক্ট সৃষ্টি করে।
অক্সিজেন (O2O_2) এবং নাইট্রোজেন (N2N_2) বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান হলেও, এদের আণবিক গঠন এমন যে এরা ইনফ্রারেড রেডিয়েশন শোষণ করতে পারে না। তাই তারা গ্রিন হাউজ গ্যাস নয়
অন্যদিকে, কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন এবং নাইট্রাস অক্সাইড গ্রিন হাউজ গ্যাস হিসেবে পৃথিবী উষ্ণায়নে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
35

মাথাপিছু গ্রিনহাউজ গ্যাস উদগীরণে সবচেয়ে বেশি দায়ী নিচের কোন দেশটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রাশিয়া
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. ইরান
  4. জার্মানি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

অপশন অনুযায়ী, মাথাপিছু গ্রিনহাইজ গ্যাস উদগীরণে সবচেয়ে দায়ী দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির গ্রিনহাউজ গ্যাস উদগীরণের পরিমাণ ১৬.১%। আর রাশিয়া, জার্মানি ও ইরানের গ্যাস উদগীরণের পরিমাণ যথাক্রমে ১২.৩%, ৯.৬ % ও ৮.০%। উল্লেখ্য, বর্তমানে মাথাপিছু গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের শীর্ষ দেশ যুক্তরাষ্ট্র (ফেব্রুয়ারি ২০২৩)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: যুক্তরাষ্ট্র (USA)
গ্রিনহাউজ গ্যাস উদগীরণের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: মোট উদগীরণ (Total Emission) এবং মাথাপিছু উদগীরণ (Per Capita Emission)
বর্তমানে বিশ্বে মোট গ্রিনহাউজ গ্যাস উদগীরণে (প্রধানত কার্বন ডাই-অক্সাইড) এক নম্বরে রয়েছে চীন
কিন্তু প্রশ্নটিতে মাথাপিছু (জনসংখ্যার ভিত্তিতে) উদগীরণের কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে, উচ্চ জীবনযাত্রার মান এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অত্যাধিক নির্ভরতার কারণে বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষে অবস্থান করছে এবং প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে সঠিক উত্তর।
ঐতিহাসিকভাবেও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
36

বাংলাদেশের কোন অঞ্চল বেশি খরাপ্রবণ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. উত্তর-পূর্ব অঞ্চল
  2. উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল
  3. দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল
  4. দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

শুষ্ক মৌসুমে ক্রমাগত ২০ দিন বা এর বেশি দিন ধরে কোনো বৃষ্টিপাত না হলে তাকে খরা বলা হয়। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল অর্থাৎ রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, দিনাজপুর, বগুড়া ও কুষ্টিয়া জেলা অতি খরাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। খরার ফলে ফসলের ফলন শতকরা ১৫-৯০ ভাগ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল
বাংলাদেশের এই অঞ্চলটি, বিশেষত রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কিছু অংশ, দেশের সবচেয়ে বেশি খরাপ্রবণ এলাকা।
ভূ-প্রাকৃতিক কারণে এই অঞ্চলে সাধারণত কম বৃষ্টিপাত হয় এবং এখানকার মাটি (বিশেষত বরেন্দ্র ভূমি) পানি দ্রুত ধরে রাখতে পারে না।
বর্ষাকালে মৌসুমী বায়ুর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম পৌঁছানোয় এবং শুষ্ক মৌসুমে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এখানে খরার তীব্রতা বাড়ে।
অন্যান্য অঞ্চল, যেমন উত্তর-পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল, সাধারণত অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও বন্যার ঝুঁকিতে থাকে, খরার নয়।
37

বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের পরিবেশ বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচের (FCDI) কারণে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বরেন্দ্র অঞ্চল
  2. মধুপুর গড় অঞ্চল
  3. উপকূলীয় অঞ্চল
  4. চলন বিল অঞ্চল

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচের ফলে চলনবিল অঞ্চল খুব বেশি পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অঞ্চলে গভীর নলকুপের মাধ্যমে অধিক পরিমাণ পানি উত্তোলনের কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: বরেন্দ্র অঞ্চল। প্রশ্নে উল্লেখিত FCDI-এর পূর্ণরূপ হলো— Flood Control, Drainage, and Irrigation (বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ)
সাধারণত, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন (FCD) প্রকল্পগুলো চলন বিল বা হাওর অঞ্চলের প্লাবনভূমিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কিন্তু যখন সেচ (Irrigation বা ‘I’) যুক্ত হয়, তখন বিষয়টি ভিন্ন হয়।
বরেন্দ্র অঞ্চল বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি উচ্চ ও খরাপ্রবণ এলাকা। এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী খরা মোকাবিলা করার জন্য সত্তরের দশক থেকে গভীর নলকূপ নির্ভর নিবিড় সেচ প্রকল্প (FCDI-এর অংশ) চালু করা হয়।
এই নিবিড় সেচের ফলে এই অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর মারাত্মকভাবে নিচে নেমে গেছে, যা পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদনকে দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাই FCDI-এর সামগ্রিক প্রভাবের কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অন্যদিকে, চলন বিল অঞ্চল বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, এর প্রধান ক্ষতি মাছের প্রজনন ও জলাবদ্ধতাকেন্দ্রিক, যা ভূগর্ভস্থ পানি হ্রাসের মতো ব্যাপক নয়।
38

নিম্নের কোন নিয়ামকটি একটি অঞ্চলের বা দেশের জলবায়ু নির্ধারণ করে না?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অক্ষরেখা
  2. দ্রাঘিমারেখা
  3. উচ্চতা
  4. সমুদ্রস্রোত

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে। জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামকগুলোর মধ্যে অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র হতে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহের দিক, বৃষ্টিপাত, সমুদ্রের স্রোত, পর্বতের অবস্থান, বনভূমি, ভূমির ঢাল ও মাটির বিশেষত্ব ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। দ্রাঘিমারেখা কোনো অঞ্চল বা দেশের জলবায়ু নির্ধারণ করে না।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: দ্রাঘিমারেখা
একটি অঞ্চলের জলবায়ু নির্ধারণকারী প্রধান নিয়ামকগুলো হলো— অক্ষরেখা বা অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, সমুদ্রস্রোত, বায়ুর চাপ ও বায়ুপ্রবাহ, এবং পর্বতের অবস্থান
দ্রাঘিমারেখা (Longitude) হলো পৃথিবীর উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত প্রসারিত কাল্পনিক রেখা। এই রেখাটি কোনো অঞ্চলের জলবায়ুর উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে না। এটি মূলত সময় (Time) এবং স্থানের পূর্ব-পশ্চিম অবস্থান নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে, অক্ষরেখা (Latitude) সূর্যরশ্মির পতন কোণ নির্ধারণ করে, যা তাপমাত্রা এবং ঋতু পরিবর্তনের জন্য দায়ী—এটি জলবায়ুর প্রধান নিয়ামক।
উচ্চতা (প্রতি ১০০০ মিটারে প্রায় 6.5C6.5^{\circ}C তাপমাত্রা কমে) এবং সমুদ্রস্রোত (উষ্ণ বা শীতল স্রোতের প্রভাব) জলবায়ুকে সরাসরি প্রভাবিত করে, তাই এই অপশনগুলো ভুল।
39

নিম্নের কোন আপদটি (Hazard) পৃথিবীতে মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সড়ক দুর্ঘটনা
  2. তামাক ও মাদকদ্রব্য গ্রহণ
  3. বায়ু দূষণ
  4. ক্যান্সার

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

Hazard বা আপদ বলতে বোঝায় কোনো এক আকস্মিক ও চরম প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট ঘটনা। এ ঘটনা জীবন, সম্পদ ইত্যাদির উপর আঘাত হানে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পরিবেশগত। বায়ু দূষণের ফলে বিশ্বময় উষ্ণায়নের সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের প্রায় প্রত্যেকটি অঙ্গতন্ত্রে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। ক্যান্সার, নিউমোনিয়া, জন্ডিসসহ নানা রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পৃথিবীতে মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বায়ু দূষণ। পরিবেশগত আপদগুলোর (Environmental Hazard) মধ্যে এটিই পৃথিবীতে মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর মতে, পৃথিবীর প্রায় ৯৯% মানুষ এমন বাতাসে শ্বাস নেয় যা WHO-এর গুণমান নির্দেশিকা অতিক্রম করে।
বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ৭০ লাখ থেকে ১ কোটির বেশি মানুষ বায়ু দূষণের (অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক) কারণে সৃষ্ট স্ট্রোক, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ফলে অকালমৃত্যুর শিকার হন।
যদিও তামাক ও মাদকদ্রব্য গ্রহণ জনস্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম প্রধান ঝুঁকি (প্রায় ৮০ লক্ষ মৃত্যু/বছর), তবুও পরিবেশগত কারণগুলির মধ্যে বায়ু দূষণকে প্রায়শই সবচেয়ে বড় একক স্বাস্থ্য ঝুঁকি হিসেবে গণ্য করা হয়, যা তামাকের কাছাকাছি বা তার চেয়েও বেশি সংখ্যক মৃত্যুর জন্য দায়ী।
ক্যান্সার হলো একটি রোগ, যা তামাক বা দূষণের মতো আপদ দ্বারা সৃষ্ট হতে পারে। আর সড়ক দুর্ঘটনা (প্রায় ১৩ লক্ষ মৃত্যু/বছর) বায়ু দূষণজনিত মৃত্যুর চেয়ে অনেক কম। তাই বায়ু দূষণই সর্বাধিক প্রাণহানির কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
40

কোন পর্যায়ে দুর্যোগের ক্ষতি মূল্যায়ন করা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. উদ্ধার পর্যায়ে
  2. প্রভাব পর্যায়ে
  3. সতর্কতা পর্যায়ে
  4. পুনর্বাসন পর্যায়ে

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

পুনর্বাসন পর্যায়ে দুর্যোগে সম্পদ, পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদির যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা মূল্যায়ন করে পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ সাহায্য ও সহযোগিতা করে থাকে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: পুনর্বাসন পর্যায়ে (Rehabilitation/Recovery Phase)
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রে (Disaster Management Cycle) দুর্যোগের ক্ষতি ও প্রয়োজন মূল্যায়ন (Damage and Needs Assessment) করা হয় মূলত দুর্যোগ পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদী পুনরুদ্ধার পর্বের শুরুতে।
ক্ষতি মূল্যায়নের উদ্দেশ্য হলো ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এবং জীবনযাত্রাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কী পরিমাণ অর্থ বা সাহায্যের প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা। তাই এটি পুনর্বাসন বা পুনরুদ্ধার পর্যায়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
অন্যান্য পর্যায়, যেমন উদ্ধার পর্যায় (Response/Rescue)-এ প্রধান মনোযোগ থাকে জীবন বাঁচানো এবং তাৎক্ষণিক জরুরি ত্রাণ সরবরাহের দিকে, তখন বিস্তারিত ক্ষতি মূল্যায়ন সম্ভব হয় না।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
41

নিম্নের কোন দুর্যোগটি বাংলাদেশের জনগণের জীবিকা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভূমিকম্প
  2. সমুদ্রের জলস্তরের বৃদ্ধি (Sea level rise)
  3. ঘূর্ণিঝড়, ও জলোচ্ছ্বাস
  4. খরা বা বন্যা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, খরা, বন্যা ও ভূমিকম্প খুব অল্প সময়ের জন্য হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে, সমুদ্রের পানির স্তর বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের নিম্নভূমিসহ ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগ ডুবে যাবে। যার ফলে কৃষকরা জমিতে ফসল চাষ না করতে পেরে জীবিকার তাগিদে অন্য কোনো পেশার সাথে নিজেকে খাপখাইয়ে নিবে। সুতরাং সমুদ্রের জলস্তরের বৃদ্ধি জনগণের জীবিকা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সমুদ্রের জলস্তরের বৃদ্ধি (Sea level rise)
এটি একটি ধীরগতির দুর্যোগ (Slow-onset Disaster) হলেও এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী এবং স্থায়ী।
সমুদ্রের জলস্তরের বৃদ্ধি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি জমিতে লোনা পানির প্রবেশ (Salinity Intrusion) ঘটায়, স্থায়ীভাবে জমিকে আবাদ অযোগ্য করে তোলে। এছাড়াও, উপকূলীয় নিচু এলাকা স্থায়ীভাবে ডুবে যায়।
এর ফলে কৃষিনির্ভর মানুষজন তাদের চিরাচরিত পেশা স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় (যেমন: মাছ ধরা বা শহরে শ্রমিকের কাজ খোঁজা)। এই স্থায়ী পেশা পরিবর্তনই হলো দীর্ঘস্থায়ী জীবিকা পরিবর্তনের মূল কারণ।
অন্যান্য দুর্যোগ যেমন ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা খরা সাধারণত ক্ষণস্থায়ী বা মৌসুমি। এগুলি অবকাঠামোগত ক্ষতি করলেও, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জনগণ সাধারণত তাদের আগের জীবিকায় (কৃষি বা মৎস্য আহরণ) ফিরে যেতে পারে।
ভূমিকম্প যদিও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক, এটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উপকূলীয় অঞ্চলের মতো সরাসরি দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা পরিবর্তনকারী পরিবেশগত প্রভাব ফেলে না।
42

গ্রিনহাউজ কি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কাচের তৈরি ঘর
  2. সবুজ আলোর আলোকিত ঘর
  3. সবুজ ভবনের নাম
  4. সবুজ গাছপালা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

গ্রিনহাউজ হলো কাচের তৈরি ঘর। শীতপ্রধান দেশে সবুজ গাছপালাকে শীতের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য কাচের তৈরি ঘর বানিয়ে তার ভিতর গাছপালা লাগানো হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কাচের তৈরি ঘর
গ্রিনহাউজ (Greenhouse) হলো এমন একটি কাঠামো, যা সাধারণত কাচ (Glass) বা স্বচ্ছ প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি করা হয়।
এটি শীতপ্রধান অঞ্চলে বা যেখানে তাপমাত্রা কম, সেখানে ভেতরের তাপমাত্রা বেশি রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়।
কার্যপ্রণালী: গ্রিনহাউজের কাচ সূর্যের স্বল্প তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো ও তাপ (Shortwave radiation) খুব সহজে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়। কিন্তু যখন মাটি ও গাছপালা সেই তাপকে দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তাপ (Longwave radiation/Infrared) হিসেবে প্রতিফলিত করে, তখন কাচের দেওয়ালগুলো সেই তাপকে বাইরে যেতে বাধা দেয়
ফলে ভেতরের বাতাস গরম হয়ে যায়, যা উদ্ভিদকে শীতল আবহাওয়ায়ও বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।
এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক 'গ্রিনহাউজ ইফেক্ট'-এর বাস্তব উদাহরণ।
43

১৯৮৯ থেকে ওজনস্তর বিষয়ক মন্ট্রিল প্রটোকল কতবার সংশোধন করা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 5
  2. 8
  3. 4
  4. 7

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ওজোনস্তরকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত মন্ট্রিল চুক্তি, যা কার্যকর হয় ১ জানুয়ারি ১৯৮৯। এ পর্যন্ত মন্ট্রিল প্রটোকল ৫ বার সংশোধন করা হয়। সর্বশেষ পঞ্চম সংশোধন হয় ১৪ অক্টোবর ২০১৬ রুয়ান্ডার কিগালি শহরে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো:
ওজোনস্তর ক্ষয়কারী রাসায়নিক পদার্থগুলোর উৎপাদন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্দেশ্যে মন্ট্রিল প্রটোকল ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত হয় এবং ১৯৮৯ সালের ১ জানুয়ারি এটি কার্যকর হয়।
কার্যকর হওয়ার পর থেকে, এই প্রটোকলটিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য মোট পাঁচবার গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন করা হয়।
পাঁচটি সংশোধনের স্থান ও সালগুলো হলো: লন্ডন (১৯৯০), কোপেনহেগেন (১৯৯২), ভিয়েনা (১৯৯৫), মন্ট্রিল (১৯৯৭) এবং বেইজিং (১৯৯৯)
44

বাংলাদেশে কালবৈশাখির ঝড় কখন হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মৌসুমী বায়ু ঋতুতে
  2. শীতকালে
  3. মৌসুমী বায়ু ঋতুর পরবর্তী সময়ে
  4. প্রাক-মৌসুমী বায়ু ঋতুতে

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

প্রাক-মৌসুমী বায়ু ঋতুতে বাংলাদেশে ও পশ্চিমবঙ্গে বজ্র-বিদ্যুৎপূর্ণ ঝড়-বৃষ্টি হয়। এ ঝড় বৈশাখ মাসে উত্তর-পশ্চিম দিক হতে আসে বলে একে কালবৈশাখী ঝড় বলা হয়। কখনো কখনো চৈত্র মাসেও এ ঝড় দেখা যায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: প্রাক-মৌসুমী বায়ু ঋতুতে
কালবৈশাখী ঝড় হলো স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট তীব্র পরিচলনজনিত বৃষ্টিপাত ও বজ্রঝড়। এই ঝড় সাধারণত গ্রীষ্মকাল শুরু হওয়ার আগে এবং মৌসুমী বায়ু (বর্ষাকাল) আসার ঠিক পূর্বে সংঘটিত হয়।
এই সময়টিকে বাংলায় বলা হয় প্রাক-মৌসুমী ঋতু (Pre-Monsoon Season), যা সাধারণত মার্চ মাস থেকে মে মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এ সময়ে স্থলভাগ দ্রুত গরম হতে শুরু করলে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয় এবং আর্দ্র বায়ুর সাথে সংঘর্ষে কালবৈশাখীর জন্ম হয়।
অন্যান্য অপশন ভুল কারণ—
১. শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকে এবং আকাশ শুষ্ক থাকে, তাই ঝড় হয় না।
২. মৌসুমী বায়ু ঋতুতে (বর্ষাকাল) টানা বৃষ্টিপাত হয়, কিন্তু কালবৈশাখীর মতো হঠাৎ তীব্র ঝড় কম হয়।
৩. মৌসুমী বায়ু ঋতুর পরবর্তী সময়ে (শরৎকাল) সাধারণত ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোনের ঝুঁকি বাড়ে, কিন্তু কালবৈশাখীর তীব্রতা কমে যায়।
45

পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই কোন দুর্যোগ সংঘটিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বন্যা
  2. খরা
  3. ভূমিকম্প
  4. ঘূর্ণিঝড়

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

উল্লিখিত অপশনগুলোর মধ্যে বন্যা, খরা ও ঘূর্ণিঝড় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ পূর্ব সতর্কতার সাথে সংঘটিত হয়। ভূমিকম্প এক্ষেত্রে পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়। উল্লেখ্য, ভূগাঠনিক আলোড়নের ফলেই ভূমিকম্পের সৃষ্টি। আর পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ উত্তাপের ক্রিয়ায়, ভূগর্ভে সঞ্চিত বাষ্পের চাপে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন অংশের শিলাগুলোর ওপর চাপের তারতম্যের কারণে ভূআলোড়ন সংঘটিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ভূমিকম্প (Earthquake)
ভূমিকম্প হলো ভূত্বকের নিচে টেকটোনিক প্লেটের আকস্মিক সঞ্চালনের ফলে সৃষ্ট একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এই সঞ্চালন এতটাই দ্রুত ও অপ্রতিরোধ্য যে এর সুনির্দিষ্ট সময়, স্থান ও মাত্রা সম্পর্কে আগাম পূর্বাভাস দেওয়ার মতো নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো নেই।
তাই ভূমিকম্প পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই হঠাৎ করে আঘাত হানে।
অন্যদিকে, অন্যান্য বিকল্প যেমন—বন্যা, খরা এবং ঘূর্ণিঝড় হলো তুলনামূলকভাবে ধীর গতির দুর্যোগ অথবা স্যাটেলাইট ও আবহাওয়ার মডেলের সাহায্যে কমপক্ষে ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা আগে সতর্কবার্তা জারি করা সম্ভব।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
46

নিচের কোনটি আপদ (Hazard) এর প্রত্যক্ষ প্রভাব?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অর্থনৈতিক
  2. সামাজিক
  3. পরিবেশগত
  4. অবকাঠামোগত

সঠিক উত্তর: গ

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পরিবেশগত
আপদ (Hazard) হলো একটি সম্ভাব্য বিপজ্জনক প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট পরিস্থিতি। যখন এই আপদটি ঘটে, তখন এর প্রথম ও প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে পরিবেশ বা প্রাকৃতিক ব্যবস্থার ওপর।
যেমন: একটি ঘূর্ণিঝড় যখন আঘাত হানে, তখন সরাসরি বনভূমি, জীববৈচিত্র্য, নদী বা সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করে। এই ক্ষতিই হলো পরিবেশগত প্রভাব।
অন্যদিকে, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং অবকাঠামোগত প্রভাবগুলো হলো আপদের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি (Risk) বা মানবসৃষ্ট সংকটাপন্নতা (Vulnerability)-র ফসল। অবকাঠামোগত ক্ষতি হলেও (যেমন ভবন ধসে যাওয়া), এটিকে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতির পরবর্তী ধাপে আসা মানবিক বা জনবসতি সংশ্লিষ্ট ক্ষতি হিসেবে দেখা হয়। আপদের মৌলিক প্রকৃতি হলো প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর আঘাত হানা।
47

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাজকে পর্যায়ক্রম অনুযায়ী সাজাতে হলে কোন কাজটি সর্বপ্রথমে হবে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পুনর্বাসন
  2. ঝুঁকি (Risk) চিহ্নিতকরণ
  3. দুর্যোগ প্রস্তুতি
  4. দুর্যোগ প্রশমন কর্মকাণ্ড

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুর্যোগপূর্ব, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ের কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ প্রস্তুতি, দুর্যোগ প্রশমন, পুনর্বাসন ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পাদন করতে হয়। তাই প্রথম কাজ হবে ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, যাতে সার্বিক অবস্থা অনুধাবন করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঝুঁকি (Risk) চিহ্নিতকরণ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাজগুলো সাধারণত একটি চক্রাকারে সম্পন্ন হয়, যাকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র (Disaster Management Cycle) বলা হয়।
এই চক্রের প্রথম এবং সবচেয়ে মৌলিক ধাপ হলো ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ (Risk Identification/Assessment)। এই ধাপে নির্ধারণ করা হয়—কোথায় এবং কী ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি রয়েছে (Hazard Analysis), জনগোষ্ঠী কতটুকু অরক্ষিত (Vulnerability Assessment), এবং এর ফলে ক্ষতির মাত্রা কত হতে পারে (Risk Analysis)।
ঝুঁকি চিহ্নিত করার পরই কেবল দুর্যোগ প্রশমন (Mitigation) এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি (Preparedness)-এর মতো কাজগুলো সুনির্দিষ্টভাবে শুরু করা সম্ভব।
অন্যদিকে, পুনর্বাসন (Rehabilitation/Recovery) হলো দুর্যোগ ঘটার পরের ধাপ, অর্থাৎ পুনরুদ্ধার পর্বের অংশ।
48

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিম্নের কোন পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ সবচেয়ে ফলপ্রসূ হবে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কমিউনিটি পর্যায়ে
  2. জাতীয় পর্যায়ে
  3. উপজেলা পর্যায়ে
  4. আঞ্চলিক পর্যায়ে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ করা এককভাবে মানুষের পক্ষে সম্ভব না হলেও সফলভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জীবন রক্ষা ও ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণ বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সক্রিয় সম্পৃক্ততা এবং পারস্পরিক সমন্বয় একান্ত আবশ্যক। এজন্য কমিউনিটি পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ সবচেয়ে ফলপ্রসূ হবে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কমিউনিটি পর্যায়ে
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূল উদ্দেশ্য হলো জীবন রক্ষা করা এবং সম্পত্তির ক্ষতি কমানো। এই কাজটি সবচেয়ে দক্ষতার সাথে ও দ্রুততার সঙ্গে করা যায় কমিউনিটি বা স্থানীয় পর্যায়ে
কারণ, দুর্যোগ আঘাত হানার সাথে সাথে প্রথম সাড়াদানকারী (First Responder) হলো স্থানীয় জনগণ। তারা তাদের এলাকার ঝুঁকি, দুর্বলতা এবং কোন ব্যক্তি কোথায় আছে, সে সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জ্ঞান রাখে
জাতীয় পর্যায়ে সাধারণত নীতি প্রণয়ন, অর্থ বরাদ্দ এবং বৃহৎ সমন্বয় করা হয়। অন্যদিকে, কমিউনিটি পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দ্রুত আগাম সতর্কতা, তাৎক্ষণিক উদ্ধার কাজ এবং ত্রাণ কার্যক্রম সরাসরি প্রভাবিতদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়, যা ব্যবস্থাপনাকে সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ করে তোলে।
উপজেলা বা আঞ্চলিক পর্যায় প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তা মাঠ পর্যায়ের সরাসরি কার্যক্রমের জন্য কমিউনিটি পর্যায়ের চেয়ে ধীর।
49

বাংলাদেশের সুন্দরবনে কতো প্রজাতির হরিণ দেখা যায়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 1
  2. 2
  3. 3
  4. 4

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বাংলাদেশের সুন্দরবনে চিত্রা হরিণ ও মায়া হরিণ নামক দুই প্রজাতির হরিণ দেখা যায়। এর মধ্যে চিত্রা হরিণের সংখ্যা একটু বেশি হলেও মায়া হরিণের সংখ্যা বেশ কম। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এগুলো ছাড়াও সাম্বার হরিণ, বারোশিঙা (Swamp) হরিণ ও হগ হরিণ নামে তিনটি প্রজাতির হরিণ রয়েছে, যা প্রায় বিলুপ্তির পথে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ২টি। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য বিষয়ক সরকারি তথ্য ও পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশের সুন্দরবন অঞ্চলে মোট দু'ধরনের (২ প্রজাতির) হরিণ দেখা যায়।
প্রজাতি দুটি হলো:
১. চিত্রা হরিণ (Spotted Deer/Axis axis): এটি সুন্দরবনের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক এবং প্রধান হরিণ প্রজাতি। এর চামড়ার উপর সাদা ফোঁটা এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
২. মায়া হরিণ (Barking Deer/Muntiacus muntjak): এটি স্থানীয়ভাবে ‘কুকুর-হরিণ’ নামেও পরিচিত। এদের সংখ্যা চিত্রা হরিণের চেয়ে অনেক কম এবং এরা সাধারণত বনের ঘন জঙ্গলে লুকিয়ে থাকে।
50

Which one of the following ecosystems covers the largest area of the earth's surface?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. Desert Ecosystem
  2. Mountain Ecosystem
  3. Fresh water Ecosystem
  4. Marine Ecosystem

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

Ecosystem অর্থ বাস্তুতন্ত্র। কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিবেশে সজীব এবং নির্জীব উপাদানের সম্পর্ক ও পারস্পরিক ক্রিয়াকে বাস্তুতন্ত্র বা Ecosystem বলে। পৃথিবী পৃষ্ঠের চার ভাগের প্রায় তিন ভাগই পানি। অধিকাংশ পানি সমুদ্রের পানি দ্বারা পরিপূর্ণ। সমুদ্রের পানিতেই সবচেয়ে বেশি জীব প্রজাতি বাস করে। তাই সমুদ্রের Marine বা বাস্তুতন্ত্রই সবচেয়ে বড়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো মেরিন ইকোসিস্টেম বা সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র।
পৃথিবীর মোট উপরিভাগের প্রায় ৭১% হলো জলভাগ এবং বাকি ২৯% স্থলভাগ।
যেহেতু ৭১% জলভাগ মূলত সমুদ্র বা মহাসাগর (যা মেরিন ইকোসিস্টেমের অংশ), তাই এটিই পৃথিবীর বৃহত্তম ইকোসিস্টেম
অন্যান্য অপশনগুলো যেমন— মরুভূমি বা পর্বতের মতো বাস্তুতন্ত্রগুলো (যা স্থলভাগের ২৯% অংশের মধ্যে পড়ে) আয়তনের দিক থেকে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের চেয়ে অনেক ক্ষুদ্র।
তেমনিভাবে, স্বাদু জলের ইকোসিস্টেম (নদী, হ্রদ, পুকুর) জলভাগের একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ মাত্র।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
51

সুনামির কারণ হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ
  4. সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সমুদ্রের তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প সংঘটিত হলে সমুদ্রপৃষ্ঠে প্রচণ্ড ও ধ্বংসাত্মক বিশাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। এরূপ বিশাল সামুদ্রিক ঢেউগুলোকে সুনামি বলা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প। সুনামি মূলত পানির নিচে দ্রুত এবং বিশাল আকারের জলরাশির স্থানচ্যুতির ফলে সৃষ্ট দীর্ঘ ও শক্তিশালী ঢেউ।
এই স্থানচ্যুতি ঘটার প্রধান কারণ হলো সমুদ্রের তলদেশে সৃষ্ট শক্তিশালী ভূমিকম্প। সাধারণত রিখটার স্কেলে ৭.৫ বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার ভূমিকম্পে সমুদ্রের তলদেশের ভূমি লম্বালম্বিভাবে স্থানান্তরিত হলে (Thrust Faulting) সুনামি সৃষ্টি হয়।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, ঘূর্ণিঝড়-এর কারণে জলোচ্ছ্বাস (Storm Surge) সৃষ্টি হয়, কিন্তু একে সুনামি বলা যায় না। অন্যদিকে, চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ-এর ফলে জোয়ার-ভাটা (Tides) সৃষ্টি হয়।
52

জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করে কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কৃত্রিম সার প্রয়োগ
  2. পানি সেচ
  3. মাটিতে নাইট্রোজেন ধরে রাখা
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস প্রয়োগ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করে পানি সেচ। জমিতে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক প্রয়োগ এবং অন্যান্য কারণে লবণাক্ততা সৃষ্টি হয় যা পানি সেচের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পানি সেচ
জমির লবণাক্ততা (Salinity) সৃষ্টি হয় মূলত মাটিতে সোডিয়াম ক্লোরাইডসহ বিভিন্ন দ্রবীভূত লবণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে।
এই লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণের প্রধান ও কার্যকরী পদ্ধতি হলো 'লিশিং' (Leaching) বা প্রক্ষালন।
লিশিং প্রক্রিয়ায় জমিকে প্রচুর পরিমাণে মিষ্টি পানি (Fresh Water) দিয়ে সেচ দেওয়া হয়। এই অতিরিক্ত সেচের পানি মাটির উপরে জমা হওয়া লবণগুলোকে দ্রবীভূত করে মাটির গভীরে মূল স্তরের নিচে নিয়ে যায় অথবা নিষ্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে জমি থেকে ধুয়ে বের করে দেয়।
অন্যান্য অপশন যেমন—কৃত্রিম সার প্রয়োগ লবণাক্ততাকে বরং আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। মাটির নাইট্রোজেন ধরে রাখা বা প্রাকৃতিক গ্যাস প্রয়োগ লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণের সরাসরি পদ্ধতি নয়।
53

গ্রিনহাউস ইফেক্টের পরিণতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর ক্ষতি কী হবে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বৃষ্টিপাত কমে যাবে
  2. নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
  3. উত্তাল অনেক বেড়ে যাবে
  4. সাইক্লোনের প্রবণতা বাড়বে

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

গ্রিনহাউজ ইফেক্টের পরিণতিতে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাবে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলের অধিকাংশ নিমজ্জিত হবে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
গ্রিনহাউস ইফেক্টের মূল পরিণতি হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন (Global Warming)। এই উষ্ণায়নের ফলে মেরু অঞ্চল এবং পর্বতের বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে
বরফ গলে যাওয়ার কারণে সমুদ্রের পানির উচ্চতা (Sea Level Rise) বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশ হলো পৃথিবীর অন্যতম নিম্ন-অঞ্চলীয় বদ্বীপ (Low-lying Delta), যার বিশাল অংশ সমুদ্র সমতল থেকে মাত্র ১ থেকে ১০ মিটার উপরে।
সমুদ্রের উচ্চতা সামান্য বাড়লেও বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের বিশাল নিম্নভূমি স্থায়ীভাবে নিমজ্জিত হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে এবং আবাদি জমি লবণাক্ততা ও জলমগ্নতার শিকার হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য অন্য যেকোনো ক্ষতির চেয়ে সবচেয়ে গুরুতর এবং দীর্ঘমেয়াদি অস্তিত্বের সংকট সৃষ্টি করবে।
অন্যান্য ক্ষতি (যেমন: উত্তাপ বৃদ্ধি বা সাইক্লোন বৃদ্ধি) মারাত্মক হলেও, স্থায়ীভাবে ভূমি হারানোই (নিম্নভূমি নিমজ্জন) সর্বোচ্চ গুরুত্বের পরিণতি হিসেবে বিবেচিত।
54

সুনামির (Tsunami) কারণ হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ
  4. সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্প

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সমুদ্রের তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প সংঘটিত হলে সমুদ্রপৃষ্ঠে প্রচণ্ড ও ধ্বংসাত্মক বিশাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। এরূপ বিশাল সামুদ্রিক ঢেউগুলোকে সুনামি বলা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্প। সুনামি মূলত একটি জাপানি শব্দ, যার অর্থ হলো 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ' (Harbour Wave)।
সুনামির প্রধান ও ভয়াবহ কারণ হলো সমুদ্রের তলদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এই ভূমিকম্প তখনই সুনামি সৃষ্টি করে, যখন টেকটোনিক প্লেটগুলির আকস্মিক উল্লম্ব সরণ (Vertical Displacement) ঘটে। এর ফলে সমুদ্রের বিশাল জলরাশি হঠাৎ করে উৎক্ষিপ্ত হয় এবং দৈত্যাকার ঢেউয়ের সৃষ্টি করে।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শুধুমাত্র জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি করে। ঘূর্ণিঝড় উপকূলে জলোচ্ছ্বাস (Storm Surge) সৃষ্টি করে, যা সুনামি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং কম শক্তিশালী।
55

জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করে কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কৃত্রিম সার প্রয়োগ
  2. পানি সেচ
  3. জমিতে নাইট্রোজেন ধরে রাখা
  4. প্রাকৃতিক সার প্রয়োগ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

পানি সেচ জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করে। কৃত্রিম সার প্রয়োগ জমির লবণাক্ততা কিছুটা বৃদ্ধি করে। জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক সারের কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেই। জমিতে নাইট্রোজেন ধরে রাখার সাথেও জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণের কোনো সম্পর্ক নেই।

ব্যাখ্যা

জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণের প্রধান ও কার্যকর উপায় হলো পানি সেচ (Irrigation)
লবণাক্ততা হলো মাটিতে অতিরিক্ত লবণের (সাধারণত সোডিয়াম ক্লোরাইড) জমা হওয়া, যা উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।
এই লবণকে মাটি থেকে অপসারণ করার বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াকে নিষ্কাশন বা লিচিং (Leaching) বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে মিষ্টি বা বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করা হয়।
পানি সেচ দেওয়ার ফলে মাটির উপরিভাগে জমা হওয়া লবণ দ্রবীভূত হয়ে মাটির গভীর স্তরে বা নিকাশি ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঠের বাইরে বেরিয়ে যায়, ফলে মাটির লবণাক্ততা কমে আসে।
অন্যান্য অপশন যেমন—কৃত্রিম সার বা প্রাকৃতিক সার প্রয়োগের মাধ্যমে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করা হয়, কিন্তু লবণাক্ততা দূর করা যায় না। বরং অনেক কৃত্রিম সারে লবণের পরিমাণ বেশি থাকায় তা লবণাক্ততা বাড়িয়ে দিতে পারে
56

গ্রীন হাউজে গাছ লাগানো হয় কেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. উষ্ণতা থেকে রক্ষার জন্য
  2. অত্যধিক ঠাণ্ডা থেকে রক্ষার জন্য
  3. আলো থেকে রক্ষার জন্য
  4. ঝড়-বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

শীত প্রধান দেশে অত্যধিক ঠাণ্ডার কারণে গাছপালা জন্মাতে পারে না। তাই শীতপ্রধান দেশে অত্যধিক ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা করার জন্য গ্রীন হাউজে গাছ লাগানো হয়। গ্রীন হাউজ হচ্ছে কাচের তৈরি বিশেষ এক ধরনের ঘর। সূর্য থেকে আগত ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিকীর্ণ তাপ কাচের মধ্য দিয়ে গ্রীন হাউসের ভিতরে প্রবেশ করতে পারলেও ভিতর থেকে বের হতে চাওয়া তাপের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি থাকায় তা বাইরে যেতে পারে না। ফলে কাচের তৈরি গ্রীন হাউজটি বেশ গরম থাকে এবং এর ভিতরে লাগানো গাছপালাকে সব সময়ই প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় রাখে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: অত্যধিক ঠাণ্ডা থেকে রক্ষার জন্য
গ্রীন হাউজ (Greenhouse) হলো কাঁচ বা স্বচ্ছ প্লাস্টিকের তৈরি এক বিশেষ ঘর, যা মূলত শীতপ্রধান অঞ্চলে গাছপালা বাঁচিয়ে রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়।
গ্রীনহাউজের ভেতরে সূর্যের ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো সহজে প্রবেশ করে। সেই আলো মাটি ও গাছপালা শোষণ করে উত্তপ্ত হয় এবং দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তাপ (ইনফ্রারেড) বিকিরণ করে।
এই দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তাপ কাঁচের দেয়াল ভেদ করে বাইরে যেতে পারে না, ফলে হাউজের ভেতরের তাপমাত্রা ট্র্যাপড বা আবদ্ধ হয়ে যায়। বাইরের তাপমাত্রা অনেক কম হলেও, হাউজের ভেতরে তাপমাত্রা বেশি থাকায় শীতকালে গাছপালা জমে যাওয়া থেকে রক্ষা পায় এবং সারা বছর ফলন সম্ভব হয়। এই প্রক্রিয়াটিই গ্রীনহাউজ ইফেক্ট নামে পরিচিত।
57

জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সামাজিক পরিবেশ
  2. বায়বীয় পরিবেশ
  3. প্রাকৃতিক পরিবেশ
  4. সাংস্কৃতিক পরিবেশ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রধান তিনটি উপাদান হচ্ছে মাটি, বায়ু ও পানি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মাটি, বায়ু ও পানিই সবচেয়ে বেশি মাত্রায় দূষিত হচ্ছে। কাজেই বলা যায় যে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: প্রাকৃতিক পরিবেশ
জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মানুষের মৌলিক চাহিদা (খাদ্য, বাসস্থান, বস্ত্র) পূরণের জন্য বনভূমি উজাড় করে কৃষিজমি ও বসতি স্থাপন করা হয়। এছাড়াও, শিল্পায়ন ও বাড়তি ভোগের ফলে নদী, বায়ু ও মাটি দূষণ চরম আকার ধারণ করে।
এই দূষণ এবং অতিরিক্ত সম্পদ আহরণ সরাসরি নদী, বনভূমি, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ুর উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা সম্পূর্ণরূপে প্রাকৃতিক পরিবেশের অংশ। তাই জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রাকৃতিক পরিবেশ
অন্যান্য অপশনগুলো (সামাজিক, বায়বীয়, সাংস্কৃতিক) ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, এদের মধ্যে প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতিই সর্বাধিক ও সুদূরপ্রসারী, কেননা এটিই সকল জীবনধারণের ভিত্তি।
58

Climate is a ____ of the environment.

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. state
  2. situation
  3. rank
  4. size

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

Climate অর্থ হলো জলবায়ু, যা একটি নির্দিষ্ট এলাকার কয়েক বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থাকে নির্দেশ করে। এখানে, ক. state - মানে অবস্থা। খ. situation -অবস্থা। তবে এটি গ্রাম, শহরের অবস্থান বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। গ. rank- সারি বা ক্রম। ঘ. Size - আকার। এখানে state দিয়ে জলবায়ুর অবস্থা বুঝায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: state
জলবায়ু (Climate) হলো কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের আবহাওয়ার উপাদানের ৩০ বা তারও বেশি বছরের গড় অবস্থা। যেহেতু এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং নির্দিষ্ট গড় চিত্র প্রকাশ করে, তাই এটিকে পরিবেশের একটি অবস্থা বা দশা (state) হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আবহাওয়া (Weather) হলো ক্ষণস্থায়ী, দৈনিক বা তাৎক্ষণিক অবস্থা (Situation)। এর বিপরীতে, জলবায়ু (Climate) পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদী বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে, যা ওই অঞ্চলের প্রাকৃতিক ও জৈব ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে। তাই শূন্যস্থানে state শব্দটি বসানোই যুক্তিযুক্ত ও বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক।
অন্যান্য অপশন যেমন situation (পরিস্থিতি) আবহাওয়ার জন্য প্রযোজ্য, কিন্তু জলবায়ুর জন্য নয়।
59

The word ‘ecological’ is related to ___:

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. Demography
  2. Pollution
  3. Atmosphere
  4. Environment

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: Environment (পরিবেশ)
‘Ecological’ শব্দটি ‘Ecology’ (বাস্তুবিদ্যা) থেকে এসেছে। বাস্তুবিদ্যা হলো জীবজন্তু ও উদ্ভিদ এবং তাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থার (বাসস্থান ও পরিবেশ) মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা।
যেহেতু ‘Ecological’ শব্দটি সরাসরি কোনো জীবের চারপাশের সামগ্রিক অবস্থাকে বোঝায়, তাই এটি Environment (পরিবেশ) এর সাথে সম্পর্কিত।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে Pollution (দূষণ) হলো পরিবেশের একটি সমস্যা, Atmosphere (বায়ুমণ্ডল) হলো পরিবেশের একটি অংশ মাত্র, এবং Demography (জনমিতি) হলো জনসংখ্যা বিষয়ক বিজ্ঞান—যা সরাসরি বাস্তুবিদ্যার মূল সংজ্ঞার সাথে যুক্ত নয়।
60

গ্রিন হাউজ ইফেক্টের জন্য বাংলাদেশে কোন ধরনের ক্ষতি হতে পারে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
  2. ক্রমশ উত্তাপ বেড়ে যাবে
  3. বৃষ্টিপাত কমে যাবে
  4. বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়বে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ওজোন স্তরে ক্ষত সৃষ্টি হলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়ে কৃষি ও পরিবেশের ওপর যে বিরূপ প্রভাব ফেলে একেই গ্রিন হাউজ প্রভাব (Green House Effect) বলা হয়। গ্রিন হাউজ ইফেক্টের ফলে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হচ্ছে। ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ ক্রমে গলে যাচ্ছে। এর ফলে পৃথিবীর নিম্নভূমি ক্রমশ নিমজ্জিত হবে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে (Lowlands will be submerged)।
গ্রিন হাউজ ইফেক্ট-এর কারণে পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়, যাকে গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলা হয়।
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে মেরু অঞ্চল ও পর্বতমালায় জমে থাকা বরফ ও হিমবাহ গলতে শুরু করে। এই অতিরিক্ত জল সমুদ্রে যুক্ত হওয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়
বাংলাদেশ একটি ব-দ্বীপ অঞ্চল এবং এর বেশিরভাগ ভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে খুব বেশি উঁচু নয়। ফলে সমুদ্রের উচ্চতা সামান্য বাড়লেই বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা (যেমন সুন্দরবন, ভোলা, পটুয়াখালী) স্থায়ীভাবে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার (নিমজ্জিত হওয়ার) মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। এটিই গ্রিন হাউজ ইফেক্টের কারণে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় এবং প্রত্যক্ষ ক্ষতি
যদিও 'উত্তাপ বেড়ে যাওয়া' গ্রিন হাউজ ইফেক্টের ফল, কিন্তু প্রশ্নে বাংলাদেশে এর ক্ষতি (damage/consequence) জানতে চাওয়া হয়েছে। নিমজ্জিত হওয়া সেই ক্ষতির চূড়ান্ত ফল।
61

কোন তারিখে আন্তর্জাতিক পরিবেশ দিবস পালিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৫ জুলাই
  2. ২১ মার্চ
  3. ৫ জুন
  4. ২১ জুন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

৫ জুন আন্তর্জাতিক পরিবেশ দিবস। অন্যদিকে, ২১ মার্চ বিশ্ব বন দিবস, আন্তর্জাতিক বর্ণবৈষম্য বিলোপ দিবস, বিশ্ব কবিতা দিবস এবং ২১ জুন বিশ্ব সঙ্গীত দিবস, বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফিক দিবস।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো ৫ জুন। এটি আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্ব পরিবেশ দিবস (World Environment Day) হিসেবে পালিত হয়।
১৯৭২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত প্রথম মানব পরিবেশ সম্মেলনকে (Stockholm Conference) স্মরণীয় করে রাখতে এই দিবসটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রথম আন্তর্জাতিক পরিবেশ দিবস পালিত হয় ১৯৭৪ সালে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বব্যাপী পরিবেশের সুরক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

অন্যদিকে, ২১ মার্চ হলো আন্তর্জাতিক বন দিবস (International Day of Forests) এবং ২১ জুন হলো আন্তর্জাতিক যোগ দিবস (International Yoga Day)।
62

জীবাশ্ম জ্বালানি দহনের ফলে বায়ুমণ্ডলে যে গ্রিন হাউজ গ্যাসের পরিমাণ সব চাইতে বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জলীয় বাষ্প
  2. ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
  3. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  4. মিথেনন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

জৈব জ্বালানি কার্বনঘটিত যৌগ। এগুলো বায়ুমণ্ডলে দহনের ফলে কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হয়ে বায়ুতে মিশে যায়। জীবাশ্ম জ্বালানি দহনের ফলে তৈরি গ্রিন হাউস গ্যাসে কার্বন-ডাই অক্সাইড ৪৯%, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন বা সিএফসি ১৪%, মিথেন ১৮%, নাইট্রাস অক্সাইড ৬% ও অন্যান্য গ্যাস ১৩% থাকে। এদের মধ্যে কলকারখানা ও যানবাহনে জীবাশ্ম জ্বালানি দহনের ফলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কার্বন-ডাই-অক্সাইড
জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuels), যেমন—কয়লা, পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস দহনের (পোড়ানোর) মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে সবচাইতে বেশি পরিমাণে যে গ্রিন হাউজ গ্যাসটি যোগ হয়, তা হলো কার্বন-ডাই-অক্সাইড (extCO2 ext{CO}_2)
মানব সৃষ্ট কারণে (Anthropogenic Source) বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী গ্যাসগুলোর মধ্যে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের অবদানই সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৬০% এরও বেশি)। এটিই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান চালক
যদিও জলীয় বাষ্প (Water Vapor) বায়ুমণ্ডলে থাকা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে বিদ্যমান গ্রিন হাউজ গ্যাস, কিন্তু এর পরিমাণ জীবাশ্ম জ্বালানি দহনের মাধ্যমে সরাসরি বৃদ্ধি পায় না। অন্যদিকে, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) এর উৎস মূলত রেফ্রিজারেটর বা অ্যারোসলের ব্যবহার, জীবাশ্ম জ্বালানির দহন নয়।
সুতরাং, জীবাশ্ম জ্বালানি দহনের ফলে বৃদ্ধি পাওয়া প্রধান গ্রিন হাউজ গ্যাসটি হলো কার্বন-ডাই-অক্সাইড
63

যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় তা হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অয়ন বায়ু
  2. নিয়ত বায়ু
  3. প্রত্যয়ন বায়ু
  4. মৌসুমী বায়ু

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

নিয়ত বায়ু, চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে সারা বছর উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। নিয়ত বায়ু তিন প্রকার। যথা- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নিয়ত বায়ু
বায়ু চলাচলের মূল নীতি হলো, এটি সর্বদা উচ্চচাপ (High Pressure) অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ (Low Pressure) অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। কারণ প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী বায়ু তার ঘনত্ব বা চাপকে সমতায় আনতে চায়।
যেসব বায়ু পৃথিবীর স্থায়ী চাপ বলয়গুলিকে (Permanent Pressure Belts) অনুসরণ করে সারা বছর ধরে প্রায় একই গতিতে এবং নির্দিষ্ট পথে প্রবাহিত হয়, তাদের নিয়ত বায়ু (Planetary or Permanent Wind) বলা হয়। তাই বায়ু চলাচলের মৌলিক নীতির সঙ্গে এই বায়ুপ্রবাহ সরাসরি সম্পর্কিত।
নিয়ত বায়ু-ই সেই বায়ুপ্রবাহ যা উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে নিয়মিতভাবে চলাচল করে।
অন্যদিকে, অয়ন বায়ু (Trade Wind) এবং প্রত্যয়ন বায়ু (Anti-trade/Westerlies) হলো নিয়ত বায়ুরই দুটি প্রধান প্রকারভেদ, কিন্তু নিয়ত বায়ু হলো এদের সাধারণ নাম। আর মৌসুমী বায়ু হলো ঋতুভিত্তিক বা সাময়িক বায়ু, যা নির্দিষ্ট সময়ে দিক পরিবর্তন করে।
64

জোয়ারের কত সময় পর ভাঁটার সৃষ্টি হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৬ ঘণ্টা ১৩ মি.
  2. ৮ ঘণ্টা
  3. ১২ ঘণ্টা
  4. ১৩ ঘণ্টা ১৫ মি.

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

কোনো স্থানে একবার মুখ্য জোয়ার হওয়ার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট সময় অতিক্রম করলে পুনরায় সেখানে মুখ্য জোয়ার সৃষ্টি হয়। আবার কোনো স্থানে একবার মুখ্য জোয়ারের প্রায় ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট পরে একবার গৌণ জোয়ার সংঘটিত হয়। জোয়ারের প্রায় ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পরে ভাটা সংঘটিত হয়।

ব্যাখ্যা

জোয়ার-ভাটার চক্রটি মূলত চন্দ্র ও সূর্যের মহাকর্ষ বলের কারণে ঘটে। পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে একই স্থানে প্রায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা হয়।
একই স্থানে পরপর দুটি জোয়ারের (বা দুটি ভাটার) মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান হলো ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট
প্রশ্নানুসারে, একটি জোয়ারের পর পরবর্তী ভাঁটা আসতে যে সময় লাগে, তা হলো পূর্ণ জোয়ার-ভাটার চক্রের ঠিক অর্ধেক।
সুতরাং, জোয়ার থেকে ভাঁটার সময়ের ব্যবধান = (১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট) / ২ = ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট
অতএব, সঠিক উত্তর হলো: ৬ ঘণ্টা ১৩ মি.
65

গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়া এই দেশের জন্য ভয়াবহ আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁয়িয়েছে। এর ফলে–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সমুদ্রতলের উচ্চতা বেড়ে যেতে পারে
  2. বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যেতে পারে
  3. নদ-নদীর পানি কমে যেতে পারে
  4. ওজোন স্তরের ক্ষতি নাও হতে পারে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

গ্রিন হাউসের প্রভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাবে আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারী গ্যাসের পরিমাণ দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাবে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলের অধিকাংশ নিমজ্জিত হবে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: সমুদ্রতলের উচ্চতা বেড়ে যেতে পারে। এটিই বাংলাদেশের মতো নিচু উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়ার (Greenhouse Effect) সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রত্যক্ষ পরিণতি।
গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়ার মূল কারণ হলো বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড (extCO2 ext{CO}_2) এবং অন্যান্য গ্রিন হাউজ গ্যাস জমা হওয়া, যা পৃথিবীর তাপকে আটকে দেয় এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ঘটায়।
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ ও হিমবাহগুলো দ্রুত গলে যায়। এই গলে যাওয়া পানি সমুদ্রে যুক্ত হয়ে সমুদ্রতলের উচ্চতা (Sea Level) বাড়িয়ে তোলে।
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ অঞ্চল এবং সমুদ্র সমতল থেকে মাত্র সামান্য উঁচু। তাই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার বাড়লেই দেশের প্রায় ২০% থেকে ৩০% এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা লাখ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করবে।
অন্যান্য অপশন (বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমা বা নদ-নদীর পানি কমা) জলবায়ু পরিবর্তনের ফল হলেও, উপকূলীয় বাংলাদেশের জন্য সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধিই হলো সবচেয়ে মারাত্মক আশঙ্কার কারণ।
66

আমাদের দেশে বনায়নের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গাছপালা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে
  2. গাছপালা O2 ত্যাগ করে পরিবেশকে নির্মল রাখে ও জীব জগতকে বাঁচায়
  3. দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোনো অবদান নেই
  4. ঝড় ও বন্যার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

গাছ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে একটা ভারসাম্য অবস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গাছপালা O2O_2 ত্যাগ করে পরিবেশকে নির্মল রাখে ও জীব জগতকে বাঁচায়
কারণ: গাছপালা হলো পৃথিবীর ফুসফুস। তারা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাতাস থেকে ক্ষতিকারক কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2CO_2) গ্রহণ করে এবং প্রাণিকুলের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য অক্সিজেন (O2O_2) পরিবেশে ত্যাগ করে।
এভাবে বনভূমি একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে, অন্যদিকে জীবজগতকে বাঁচিয়ে রাখে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল: গাছপালা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে না, বরং সংরক্ষণ করে। এছাড়া গাছপালা ভূমি ক্ষয় রোধ করে এবং সাইক্লোনের তীব্রতা কমিয়ে ঝড় ও বন্যার আশঙ্কা কমিয়ে দেয়। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও বনজ সম্পদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
67

দূষিত বাতাসের কোন গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা খর্ব করে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  2. কার্বন মনোক্সাইড
  3. নাইট্রিক অক্সাইড
  4. সালফার ডাইঅক্সাইড

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কার্বন ও অক্সিজেনের যৌগ কার্বন মনোক্সাইড (CO) একটি বর্ণ ও গন্ধহীন গ্যাস। শ্বাসবায়ুর সঙ্গে শরীরে গেলে তার মারাত্মক পরিণাম হতে পারে এ বিচারে কার্বন মনোক্সাইড তীব্র বিষ-গ্যাস, যা মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কার্বন মনোক্সাইড (Carbon Monoxide - CO)
কার্বন মনোক্সাইড একটি মারাত্মক ক্ষতিকারক গ্যাস যা বর্ণহীন ও গন্ধহীন। এটি নিঃশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করলে দ্রুত রক্তে মিশে যায়।
আমাদের রক্তে হিমোগ্লোবিন (Haemoglobin - Hb) নামক প্রোটিন থাকে যা অক্সিজেন পরিবহন করে। কার্বন মনোক্সাইডের সাথে হিমোগ্লোবিনের বন্ধন তৈরি করার ক্ষমতা অক্সিজেনের চেয়ে প্রায় ২৫০ গুণ বেশি
ফলে, রক্তে কার্বন মনোক্সাইড ঢুকলে এটি দ্রুত হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে কার্বক্সিহিমোগ্লোবিন (extCOHb ext{COHb}) তৈরি করে। এই extCOHb ext{COHb} তৈরি হওয়ার কারণে হিমোগ্লোবিন আর অক্সিজেন বহন করতে পারে না।
অক্সিজেন পরিবহনের ক্ষমতা খর্ব হওয়ায় দেহকোষে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়, যা মানুষকে অজ্ঞান বা এমনকি মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে। এই অবস্থাকে কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়া বলা হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো যেমন—কার্বন ডাইঅক্সাইড (extCO2 ext{CO}_2) শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বাড়ায় কিন্তু সরাসরি অক্সিজেনের পরিবহন স্থান দখল করে না। সালফার ডাইঅক্সাইড (extSO2 ext{SO}_2) মূলত শ্বাসতন্ত্রের জ্বালাতন এবং অ্যাসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী।
68

গ্রিন হাউজ ইফেক্টের পরিণতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর ক্ষতি কি হবে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
  2. বৃষ্টিপাত কমে যাবে
  3. সাইক্লোনের প্রবণতা বাড়বে
  4. উত্তাপ অনেক বেড়ে যাবে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

গ্রিন হাউজের প্রভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাবে আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারী গ্যাসের পরিমাণ দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাবে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলের অধিকাংশ নিমজ্জিত হবে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
গ্রিন হাউজ ইফেক্টের প্রধান পরিণতি হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন (Global Warming)। এই উষ্ণায়নের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলতে শুরু করে
বরফ গলার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় (Sea Level Rise)। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মাত্র ১ মিটার বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ২০% থেকে ৩০% ভূমি সরাসরি পানির নিচে চলে যেতে পারে।
যেহেতু বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ অঞ্চল এবং এর বিশাল একটি অংশ সমুদ্র সমতল থেকে মাত্র কয়েক মিটার উপরে অবস্থিত, তাই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলস্বরূপ নিম্নভূমি নিমজ্জিত হওয়াই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুতর, দীর্ঘমেয়াদী এবং অস্তিত্বের সংকট সৃষ্টিকারী ক্ষতি।
অন্যান্য অপশন যেমন—উত্তাপ বৃদ্ধি, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, বা ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা বাড়া—এগুলোও ক্ষতি বটে, কিন্তু ভূমি হারানোর মতো ভয়াবহ পরিণতি (যা লক্ষ লক্ষ মানুষকে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত করবে) সবচেয়ে গুরুতর। তাই নিমজ্জনই মুখ্য ক্ষতি।
69

ওজোন স্তরের ফাটলের জন্য মুখ্যত দায়ী কোন গ্যাস?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
  2. কার্বন মনোক্সাইড
  3. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  4. মিথেন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ক্লোরোফ্লোরো কার্বন বায়ুমন্ডলের ওজোনস্তরে পৌঁছে ওজোনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে অক্সিজেনে পরিণত করে (CFC+O3→O2+…….)। এর ফলে ওজোনস্তর হালকা বা ফুটো হয়ে যায়। এ ফাটল দিয়ে মহাজাগতিক বিভিন্ন রশ্মি পৃথিবীতে এসে জীবজগতের ক্ষতিসাধন করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC)
CFC হলো ওজোন স্তর ক্ষয়কারী প্রধান গ্যাস। এই গ্যাসটি বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তর স্ট্যাটোস্ফিয়ারে পৌঁছানোর পর সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাবে ভেঙে গিয়ে ক্লোরিন পরমাণু মুক্ত করে।
একটি ক্লোরিন পরমাণু হাজার হাজার ওজোন অণুকে (O3O_3) ভেঙে দিতে সক্ষম, যার ফলে ওজোন স্তরের ঘনত্ব কমে যায় বা ফাটলের সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে, কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং মিথেন হলো মুখ্যত গ্রিনহাউস গ্যাস, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য প্রধানত দায়ী, কিন্তু ওজোন স্তর ক্ষয়কারী গ্যাস নয়।
70

কোনো দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বনাঞ্চল প্রয়োজন মোট ভূমির–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৬ শতাংশ
  2. ২০ শতাংশ
  3. ২৫ শতাংশ
  4. ৩০ শতাংশ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মত অনুসারে, যেকোনো দেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য মোট ভূমির ২৫% বনভূমি থাকা আবশ্যক। বর্তমানে বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ সরকারি হিসাব অনুযায়ী ১৭.০৮% (প্রায়)। FAO-এর মতে বাংলাদেশে বনভূমি রয়েছে মোট ভূমির ১১% (প্রায়)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ২৫ শতাংশ
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) এবং পরিবেশ বিজ্ঞানীদের দ্বারা গৃহীত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের পরিবেশগত স্থিতিশীলতা এবং ভারসাম্য রক্ষার জন্য সে দেশের মোট ভূমির কমপক্ষে ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা আবশ্যক।
এই ২৫% বনভূমি থাকলে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের শোষণ ঠিকভাবে হয়, যা সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে।
71

The word ‘ecological’ is related to––

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. atmosphare
  2. pollution
  3. environment
  4. demography

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

Ecological- অর্থ বাস্তুবিদ্যা সংক্রান্ত/পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত। সুতরাং বিষয়টি অবশ্যই পরিবেশের সাথে সম্পৃক্ত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: environment (পরিবেশ)
‘Ecological’ শব্দটি এসেছে ‘Ecology’ (বাস্তুবিদ্যা) থেকে। Ecology হলো জীব ও তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশের (Environment) মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক এবং মিথস্ক্রিয়া অধ্যয়নের বিজ্ঞান।
অতএব, ‘ecological’ (বাস্তুসংস্থানগত) শব্দটি সরাসরি পরিবেশের সাথে যুক্ত।
অন্যান্য অপশনগুলো যেমন— atmosphare (বায়ুমণ্ডল) বা pollution (দূষণ) পরিবেশের অংশ হলেও, বাস্তুবিদ্যা (Ecology) সম্পূর্ণ পরিবেশতন্ত্রকেই বোঝায়, তাই environment উত্তরটিই সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত।
72

‘গ্রিনহাউজ ইফেক্টের’ পরিণতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর প্রত্যক্ষ ক্ষতি কি হবে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. উত্তাপ অনেক বেড়ে যাবে
  2. নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
  3. সাইক্লোনের প্রবণতা বাড়বে
  4. বৃষ্টিপাত কমে যাবে

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

গ্রিন হাউজে ইফেক্টের কারনে পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, ফলে পৃথিবীর মেরুতে বিদ্যমান বরফ গলে নিম্নভূমি স্থায়ীভাবে পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশেরও নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
গ্রিনহাউজ ইফেক্টের প্রধান পরিণতি হলো বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং। এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ ও হিমবাহ গলে যায়, যার ফলশ্রুতিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বা Sea Level বাড়তে থাকে।
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম নিম্নভূমি অঞ্চল, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১ থেকে ১০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। সমুদ্রের জলস্তর সামান্য বাড়লেই বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের বিশাল অংশ স্থায়ীভাবে নিমজ্জিত হবে, যা পরিবেশ ও জনজীবনের জন্য সবচেয়ে গুরুতর প্রত্যক্ষ ক্ষতি।
অন্যান্য অপশনগুলোও (উত্তাপ বৃদ্ধি, সাইক্লোন) গ্রিনহাউজ ইফেক্টের পরিণতি হলেও, দীর্ঘমেয়াদী ও সরাসরি জমি হারানোর (Land Loss) সমস্যাটিই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক (Catastrophic) প্রত্যক্ষ ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত।
73

নিত্য ব্যবহার্য বহু ‘এরোসোলের’ কৌটায় এখন লেখা থাকে ‘সিএফসি’ বিহীন। সিএফসি গ্যাস কেন ক্ষতিকারক?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ফুসফুসে রোগ সৃষ্টি করে
  2. গ্রিন হাউজ ইফেক্টে অবদান রাখে
  3. ওজোনস্তরে ফুটো সৃষ্টি করে
  4. দাহ্য বলে অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাবনা ঘটায়

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সিএফসি হচ্ছে ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (Chloro Flore Carbon) । এ গ্যাস বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তরকে ফুটো করে দেয়। ফলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে এসে পৌঁছে। এতে মানুষের চর্ম ক্যান্সার ও অন্যান্য মারাত্মক রোগ দেখা দেয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ওজোনস্তরে ফুটো সৃষ্টি করে
CFC-এর পূর্ণরূপ হলো Chlorofluorocarbons (ক্লোরোফ্লোরোকার্বন)। এই গ্যাসটি প্রোপেল্যান্ট (এরোসল স্প্রে), রেফ্রিজারেটর এবং এয়ার কন্ডিশনারে ব্যবহৃত হয়।
CFC গ্যাস অত্যন্ত স্থায়ী হওয়ায় এটি স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে পৌঁছায়। সেখানে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে এটি ভেঙে গিয়ে ক্লোরিন পরমাণু (Cl) তৈরি করে।
এই মুক্ত ক্লোরিন পরমাণুগুলো ওজোন গ্যাসের অণু (O3O_3) ধ্বংস করে দেয়। একটি ক্লোরিন পরমাণু প্রায় এক লক্ষ ওজোন অণুকে ধ্বংস করতে পারে, যার ফলে ওজোন স্তর (Ozone Layer) ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং সেখানে ফুটো সৃষ্টি হয়।
যদিও CFC একটি শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এ অবদান রাখে (দ্বিতীয় বিকল্প), কিন্তু পরিবেশ বিজ্ঞানে এর প্রধান ও সর্বাধিক বিপজ্জনক ক্ষতিকারক ভূমিকা হলো ওজোনস্তর ক্ষয় (সঠিক বিকল্প)।
74

প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংস্থার প্রথম অধিবেশন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জাপানের নাগাসাকিতে
  2. অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায়
  3. রাশিয়ার আশখাবাদে
  4. কানাডার ভেঙ্কুবারে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংস্থা          (International Untion for the Conservation of Nature and Natural Resources–IUCN) ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের গ্লান্ডে অবস্থিত। আশখাবাদ বর্তমানে তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: রাশিয়ার আশখাবাদে। প্রশ্নোক্ত সংস্থাটির পূর্ণরূপ হলো International Union for Conservation of Nature (IUCN), যা বিশ্বব্যাপী প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে কাজ করে।
IUCN আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালের ৫ অক্টোবর, ফ্রান্সের ফন্টেইনব্লুতে। কিন্তু এর প্রথম সাধারণ অধিবেশন (First General Assembly) অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বরে বর্তমান তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাদে (Ashgabat)
ঐ সময় আশখাবাদ ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের (USSR) অংশ। যেহেতু প্রশ্নপত্রে বিকল্প হিসেবে ‘রাশিয়ার আশখাবাদ’ উল্লেখ করা হয়েছে, তাই এটিই সঠিক উত্তর হিসেবে গণ্য হবে।
75

যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় তাকে বলা হয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অয়ন বায়ু
  2. প্রত্যয়ন বায়ু
  3. মৌসুমী বায়ু
  4. নিয়ত বায়ু

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

পৃথিবীর চাপ বলয় দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে প্রবাহিত হওয়ার সময় বায়ুর উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়। এভাবে উচ্চচাপ বলয় থেকে নিম্নচাপ বলয়ের দিকে নিয়মিতভাবে যে বায়ু সারা বছর প্রবাহিত হয় তাকে নিয়ত বায়ু বলে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নিয়ত বায়ু
বায়ুপ্রবাহের মৌলিক নীতি অনুযায়ী, বায়ু সর্বদা উচ্চচাপ (High Pressure) অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ (Low Pressure) অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। চাপের এই পার্থক্যই বায়ুপ্রবাহের কারণ।
যে সকল বায়ু পৃথিবীর স্থায়ী চাপ বলয়গুলির (Permanent Pressure Belts) প্রভাবে সারা বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট পথে ও নির্দিষ্ট দিকে নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হয়, তাদের নিয়ত বায়ু (Planetary Wind) বলা হয়। এটিই প্রদত্ত সংজ্ঞার সবচেয়ে উপযুক্ত নাম।
অয়ন বায়ু (Trade Wind) এবং প্রত্যয়ন বায়ু (Westerlies) হলো নিয়ত বায়ুর প্রকারভেদ। অয়ন বায়ু মূলত ক্রান্তীয় উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। প্রত্যয়ন বায়ু হলো পশ্চিমা বায়ু, যা উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে সুমেরুবৃত্ত বা কুমেরুবৃত্তের নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। যেহেতু এরা নিয়ত বায়ুর অংশ, তাই এরা সংজ্ঞাটিকে সম্পূর্ণভাবে বর্ণনা করে না।
মৌসুমী বায়ু হলো ঋতুভিত্তিক বায়ু, যা নির্দিষ্ট ঋতুতে জল ও স্থলের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে দিক পরিবর্তন করে। এটি সারা বছর একই পথে প্রবাহিত হয় না।
76

গ্রিন-হাউজ ইফেক্ট বলতে বুঝায়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সূর্যালোকের অভাবে সালোক সংশ্লেষণে ঘাটতি
  2. তাপ আটকে পড়ে সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি
  3. প্রাকৃতিক চাষের বদলে ক্রমবর্ধমানভাবে কৃত্রিম চাষের প্রয়োজনীয়তা
  4. উপগ্রহের সাহায্যে দূর থেকে ভূমণ্ডলের অবলোকন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বায়ুমণ্ডলে CFC,CO2,CH4 ও N2O প্রভৃতি গ্যাস দ্বারা স্তর সৃষ্টি হওয়ার কারণে বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে তাপ আটকে পড়ে এবং সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এই তাপমাত্রা বৃদ্ধিজনিত কারণে পৃথিবী পৃষ্ঠে যে প্রভাব পড়ে তাই গ্রিনহাউজ ইফেক্ট।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: তাপ আটকে পড়ে সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি। এটিই গ্রিন-হাউজ ইফেক্টের (Greenhouse Effect) মূল ধারণা।
গ্রিন-হাউজ ইফেক্ট হলো এমন একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যেখানে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের নির্দিষ্ট কিছু গ্যাস (গ্রিন-হাউজ গ্যাস বা GHG) সূর্য থেকে আগত ইনফ্রারেড রেডিয়েশনকে শোষণ করে এবং আটকে রাখে।
এর ফলে তাপ মহাশূন্যে ফিরে যেতে পারে না, এবং পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। এই প্রক্রিয়াটিই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ: সালোক সংশ্লেষণের ঘাটতি বা কৃত্রিম চাষের প্রয়োজনীয়তা এই ইফেক্টের সরাসরি সংজ্ঞা নয়, বরং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।
77

যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে বলা হয়–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আয়ন বায়ু
  2. প্রত্যয়ন বায়ু
  3. মৌসুমী বায়ু
  4. নিয়ত বায়ু

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

পৃথিবীর চাপ বলয় দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে বায়ু উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে প্রবাহিত হওয়ার সময় উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়। এভাবে সারা বছর একই দিকে নিয়মিতভাবে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে নিয়ত বায়ু বলে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নিয়ত বায়ু
বায়ু সর্বদা উচ্চচাপ অঞ্চল (High Pressure) থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের (Low Pressure) দিকে প্রবাহিত হয়। এটি বায়ুর গতির একটি মৌলিক এবং সার্বজনীন প্রাকৃতিক নিয়ম।
যে বায়ুপ্রবাহ সারা বছর ধরে পৃথিবীর নির্দিষ্ট চাপ বলয়গুলোর (Pressure Belts) মধ্যে একটি নির্দিষ্ট গতিপথে এবং অভিমুখে উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে নিয়মিত প্রবাহিত হয়, তাকেই নিয়ত বায়ু (Planetary/Permanent Wind) বলা হয়।
এই বায়ুগুলিই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালনকে সচল রাখে।
আয়ন বায়ু এবং প্রত্যয়ন বায়ু (বা পশ্চিমা বায়ু) হলো এই নিয়ত বায়ু-এরই বিভিন্ন প্রকারভেদ। তাই 'নিয়ত বায়ু' হলো সবচেয়ে সঠিক ও সাধারণ উত্তর।
মৌসুমী বায়ু হলো সময়ভিত্তিক বা সাময়িক বায়ু (Seasonal Wind), যা বছরে দুইবার তার দিক পরিবর্তন করে; এটি সারা বছর ধরে নির্দিষ্ট পথে প্রবাহিত হয় না।
78
জাপানিজ শব্দ ‘সুনামি’-এর অর্থ কী?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিশালাকৃতির ঢেউ
  2. সামুদ্রিক ঢেউ
  3. জলোচ্ছ্বাস
  4. পোতাশ্রয়ের ঢেউ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সুনামি (Tsunami) একটি জাপানি শব্দ। জাপানি ভাষায় এর অর্থ হলো ‘পোতাশ্রয়ের ঢেউ’। সুনামির পানির ঢেউ সমুদ্রের স্বাভাবিক ঢেউয়ের মতো নয়। এটা সাধারণ ঢেউয়ের চেয়ে অনেক বিশালাকৃতির। অতি দ্রুত ফুঁসে ওঠা জোয়ারের মতো, যা উপকূল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে। সমুদ্রের মধ্যে বা বিশাল হ্রদে ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে সুনামি।

ব্যাখ্যা

Tsunami শব্দটি দুটি জাপানি শব্দ 'Tsu' (পোতাশ্রয়) এবং 'Nami' (ঢেউ) থেকে এসেছে।
79
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয় কোনটি?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মরুকরণ
  2. বন্যা
  3. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
  4. ভূমিকম্প

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান সময়ের অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জ, যা মানব সভ্যতার অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে বর্ধিত হারে ও অধিক তীব্রতায় দেখা দিচ্ছে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ। অপরদিকে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয় ভূমিকম্প। ভূমিকম্প মূলত ভূ-তাত্ত্বিক (Geological) কারণে ঘটে।

ব্যাখ্যা

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে আবহাওয়া ও জলবায়ুগত পরিবর্তন হয় (যেমন বন্যা, খরা, সাইক্লোন), কিন্তু ভূ-অভ্যন্তরের প্লেট টেকটনিক নড়াচড়া বা ভূমিকম্পের সাথে এর প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই।
80
বন্যা নিয়ন্ত্রণে সাধারণ ব্যবস্থাপনার অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নদী খননের মাধ্যমে পানি পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা
  2. নদী শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা
  3. নদীর দুই তীরে বনাঞ্চল সৃষ্টি করা
  4. বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বন্যা নিয়ন্ত্রণে সাধারণ ব্যবস্থাপনার মধ্যে রয়েছে: ১. সহজ স্থানান্তরযোগ্য বসতি তৈরি করা; ২. নদীর দু'তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা; ৩. নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা; ৪. বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন; ৫. পুকুর, নালা, বিল প্রভৃতি খনন করা এবং সেচের পানি সংরক্ষণ করা; ৬. প্রতি বছর বন্যা মোকাবিলার জন্য সরকারিভাবে স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা। সুতরাং, ‘নদী খননের মাধ্যমে পানি পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা’ সরাসরি সাধারণ ব্যবস্থাপনার তালিকায় উল্লেখ নেই (এটি কাঠামোগত বা ইঞ্জিনিয়ারিং পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে)।

ব্যাখ্যা

প্রশ্নে উল্লিখিত অপশনগুলোর মধ্যে 'খ', 'গ' এবং 'ঘ' সরাসরি সাধারণ ব্যবস্থাপনার অংশ। অপশন 'ক' কিছুটা ভিন্নধর্মী পদক্ষেপ যা সাধারণ ব্যবস্থাপনার নির্ধারিত তালিকার বাইরে।
81
নিচের কোনটি কৃষি-আবহাওয়া জনিত আপদ (Hazard)?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভূমিকম্প
  2. ভূমিধস
  3. সুনামি
  4. খরা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যে অবস্থা তাকে খরা বলে। এটি একটি কৃষি-আবহাওয়া জনিত আপদ (Hazard)। অনেকদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির আর্দ্রতা কমে যায়। সেই সঙ্গে মাটি তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বা কোমলতা হারিয়ে রুক্ষরূপ গ্রহণ করে খরায় পরিণত হয়। অন্যদিকে ভূমিকম্প, সুনামি ও ভূমিধস ভূ-তাত্ত্বিক বা সমুদ্রসৃষ্ট দুর্যোগ।

ব্যাখ্যা

খরার সাথে বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে যা কৃষিকে প্রভাবিত করে।
82
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ওজোন গ্যাসের স্তর অবস্থান করে?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. থার্মোমণ্ডল
  3. স্ট্র্যাটোমণ্ডল
  4. মেসোমণ্ডল

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সঠিক উত্তর: স্ট্র্যাটোমণ্ডল

ব্যাখ্যা: বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর হলো স্ট্র্যাটোমণ্ডল (Stratosphere), যা ট্রপোমণ্ডলের ঠিক উপরে অবস্থিত। এই স্তরেই ওজোন গ্যাসের স্তর (Ozone Layer) রয়েছে, যা সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV Ray) শোষণ করে জীবজগৎকে রক্ষা করে।

ব্যাখ্যা

ট্রপোমণ্ডল: বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর, যেখানে ঝড়-বৃষ্টি ও মেঘ হয়।
স্ট্র্যাটোমণ্ডল: এখানে মেঘ থাকে না, তাই এই স্তরে জেট বিমান চলাচল করে।
মেসোমণ্ডল: এই স্তরে উল্কা পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
83
কনরাড বিযুক্তি ভূ-অভ্যন্তরের কোন স্তরসমূহের মাঝে অবস্থান করে?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সিয়াল ও সিমা
  2. অশ্বমণ্ডল ও গুরুমণ্ডল
  3. গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল
  4. সিমা ও অশ্বমণ্ডল

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সঠিক উত্তর: সিয়াল ও সিমা

ভূত্বকের লঘু ও গুরু শিলাস্তরের (SIAL ও SIMA) সংযোগস্থল বা বিভাজনকারী রেখাকে কনরাড বিযুক্তি (Conrad Discontinuity) বলে। সিয়াল স্তরে সিলিকা ও অ্যালুমিনিয়াম এবং সিমা স্তরে সিলিকা ও ম্যাগনেসিয়ামের প্রাধান্য থাকে।

ব্যাখ্যা

ভূত্বক প্রধানত দুটি স্তরে বিভক্ত: সিয়াল (উপরের স্তর) ও সিমা (নিচের স্তর)। এই দুই স্তরের মাঝখানের সীমারেখাই কনরাড বিযুক্তি।
মোহো বিযুক্তি থাকে ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের মাঝে।
গুটেনবার্গ বিযুক্তি থাকে গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের মাঝে।
84
এল নিনো বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক আবহাওয়ায় কীভাবে প্রভাব ফেলে?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শীতকালীন তাপমাত্রা বৃদ্ধি
  2. বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে
  3. গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা কমায়
  4. ঘূর্ণিঝড় বৃদ্ধি পায়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সঠিক উত্তর: বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে

এল নিনো (El Nino) একটি জলবায়ুগত ঘটনা যা প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। এর প্রভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত কমে যায় বা অনিয়মিত হয় এবং খরা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

ব্যাখ্যা

এল নিনোর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব উপকূলে বৃষ্টিপাত বাড়লেও এশিয়া অঞ্চলে (পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর) শুষ্কতা দেখা দেয়।
এটি বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় তৈরি করে না বরং অনেক সময় ঘূর্ণিঝড় গঠনে বাধা দেয় (Wind Shear বাড়িয়ে)।
85
কোন গ্যাস গ্রিনহাউজ ইফেক্ট ঘটায়?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হাইড্রোজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. অক্সিজেন
  4. মিথেন

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সঠিক উত্তর: মিথেন

ব্যাখ্যা: মিথেন (CH4CH_4) একটি শক্তিশালী গ্রিনহাউজ গ্যাস। সূর্য থেকে আসা তাপ পৃথিবী শোষণ করে দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অবলোহিত রশ্মি হিসেবে বিকিরণ করে। বায়ুমণ্ডলে থাকা মিথেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প প্রভৃতি গ্যাস এই তাপ শোষণ করে পৃথিবীকে উষ্ণ রাখে।
অন্যদিকে নাইট্রোজেন (N2N_2), অক্সিজেন (O2O_2) এবং হাইড্রোজেন (H2H_2) গ্রিনহাউজ গ্যাস নয় কারণ এরা অবলোহিত রশ্মি শোষণ করে না।

ব্যাখ্যা

মিথেন একটি প্রধান গ্রিনহাউজ গ্যাস।
নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান হলেও এরা গ্রিনহাউজ ইফেক্ট তৈরি করে না।

এই অধ্যায়ের প্রশ্ন টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করুন

এই পেজে বাছাইকৃত ৮৫টি প্রশ্ন সমাধানসহ দেওয়া হয়েছে। প্র্যাকটিস মোডে এক-একটি করে উত্তর দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল, স্কোর ও অগ্রগতি ট্র্যাক করুন।

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-এর অন্যান্য অধ্যায়

কেন BCS Preliminary-এর জন্য “পরিবেশ ও দুর্যোগ” অধ্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ?

BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষার ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অংশে “পরিবেশ ও দুর্যোগ” থেকে প্রায় প্রতিবারই প্রশ্ন আসে। বিগত সালের প্রশ্নের ধরন বুঝে নিয়মিত অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ের নম্বর নিশ্চিত করা সহজ হয় — এই পেজের বাছাইকৃত প্রশ্নগুলো ঠিক সেই প্রস্তুতির জন্যই সাজানো।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

"পরিবেশ ও দুর্যোগ" অধ্যায় থেকে কেমন প্রশ্ন আসে?

BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষায় ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ের "পরিবেশ ও দুর্যোগ" অধ্যায় থেকে নিয়মিত MCQ আসে। এই পেজে বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক জায়গায় দেওয়া হয়েছে — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ।

উত্তর ও সমাধান কি বিনামূল্যে?

হ্যাঁ। প্রশ্ন, অপশন, সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যা — সবই লগইন ছাড়াই বিনামূল্যে দেখা যায়। টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করতে চাইলে একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট দিয়ে প্র্যাকটিস মোডে যান।