সমাধান
সমাধান
💼
সাধারণ বিজ্ঞান

ভৌত বিজ্ঞান

BCS Preliminary · সাধারণ বিজ্ঞান — বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক পেজে।

নিচে BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষার সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের "ভৌত বিজ্ঞান" অধ্যায়ের বাছাইকৃত ১৫০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ। সবই বিনামূল্যে।

1

ইউরিয়া সারের কাঁচামাল কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. চুনাপাথর
  3. মিথেন গ্যাস
  4. ইলমেনাইট

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ইউরিয়া সারের প্রধান কাঁচামাল মিথেন গ্যাস। ইউরিয়া উদ্ভিদের নাইট্রোজেন সরবরাহ করে এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধি সাধন করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মিথেন গ্যাস। যদিও ইউরিয়া সারের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural Gas) ব্যবহার করা হয়, কিন্তু প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল রাসায়নিক উপাদান হলো মিথেন গ্যাস (CH4\text{CH}_4)।
ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য অ্যামোনিয়া (NH3\text{NH}_3) এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2\text{CO}_2) প্রয়োজন। অ্যামোনিয়া উৎপাদনের জন্য যে হাইড্রোজেনের প্রয়োজন হয়, তা মূলত স্টিম মিথেন রিফর্মিং (SMR) প্রক্রিয়ায় মিথেন গ্যাস থেকে সংগ্রহ করা হয়।
সুতরাং, রাসায়নিকভাবে মিথেন গ্যাসই হলো ইউরিয়া সারের উৎপাদনের মূল ভিত্তি। যদি অপশনে প্রাকৃতিক গ্যাস এবং মিথেন গ্যাস উভয়ই থাকে, তবে মিথেন গ্যাস আরও বেশি নির্দিষ্ট উত্তর হিসেবে গণ্য হবে, কারণ এটিই প্রক্রিয়াটির মূল রাসায়নিক কাঁচামাল।
অন্যান্য অপশন যেমন, চুনাপাথর (ক্যালসিয়াম কার্বনেট, CaCO3\text{CaCO}_3) সিমেন্ট শিল্পে ব্যবহৃত হয় এবং ইলমেনাইট হলো টাইটানিয়ামের আকরিক। এগুলি ইউরিয়া উৎপাদনে সরাসরি ব্যবহৃত হয় না।
2

পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কোথায় অবস্থান করে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পানির উপরিভাগে
  2. পানির মধ্যভাগে
  3. পানির আন্তঃআণবিক স্থানে
  4. পানির তলদেশে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

পানির উপরিভাগে অক্সিজেন বেশি হওয়ার কারণ দুটি। যথা: i. বাতাস থেকে অক্সিজেন পানিতে দ্রবীভূত হয়। ii. পানিতে অবস্থিত ফাইটোপ্লাঙ্কটন ফটোসিনথেসিস প্রক্রিয়ায় O2 তৈরী করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পানির আন্তঃআণবিক স্থানে
যখন কোনো গ্যাস (যেমন অক্সিজেন) কোনো তরলে (যেমন পানি) দ্রবীভূত হয়, তখন গ্যাসের অণুগুলো পানির অণুগুলোর মাঝে থাকা খুব ছোট ফাঁকা জায়গা বা আন্তঃআণবিক স্থানে (Intermolecular Space) প্রবেশ করে অবস্থান করে।
এই দ্রবীভূত অক্সিজেনকে ইংরেজিতে Dissolved Oxygen (DO) বলা হয়, যা জলজ প্রাণীর (মাছ, জলজ উদ্ভিদ) শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অত্যাবশ্যক। অক্সিজেন অণুগুলো পানির অণুর সাথে কোনো রাসায়নিক বন্ধন তৈরি করে না, বরং ভৌতভাবে এর মাঝে অবস্থান করে।
অন্যান্য অপশন যেমন উপরিভাগ, মধ্যভাগ বা তলদেশ একটি নির্দিষ্ট স্থানের বর্ণনা দেয়, কিন্তু অণুগতভাবে অক্সিজেন দ্রবীভূত হয় আন্তঃআণবিক স্থানে, যা পানির সর্বত্রই বিদ্যমান থাকতে পারে।
3

সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) কেলাসের গঠন কীরূপ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনকাকৃতির
  2. দেহ-কেন্দ্রিক ঘনকাকার
  3. সংঘবদ্ধ-ঘনকাকার
  4. সংঘবদ্ধ ষড়কৌণিক আকার

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনকাকৃতির (Face-Centered Cubic - FCC)
সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) কেলাসকে সাধারণত লবণ শিলা কাঠামো (Rock Salt Structure) বলা হয়। এটি রসায়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাঠামো।
এই কাঠামোতে, অপেক্ষাকৃত বড় ক্লোরাইড আয়ন (extCl ext{Cl}^-) গুলি ঘনকের পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনক (FCC) জালি গঠন করে।
অন্যদিকে, অপেক্ষাকৃত ছোট সোডিয়াম আয়ন (extNa+ ext{Na}^+) গুলি ঘনকের সমস্ত অষ্টতলকীয় ফাঁকা স্থান (Octahedral Voids) দখল করে।
দেহ-কেন্দ্রিক ঘনকাকার (BCC) কাঠামো সাধারণত extCsCl ext{CsCl} (সিজিয়াম ক্লোরাইড) বা অনেক ধাতব পদার্থের ক্ষেত্রে দেখা যায়, যেখানে extNaCl ext{NaCl} এর জন্য FCC কাঠামোই প্রযোজ্য।
4

HPLC এর পূর্ণরূপ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. High pressure liquid chromatography
  2. High power liquid chromatography
  3. High plant liquid chromatography
  4. High performance liquid chromatography

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

HPLC এর পূর্ণরূপ High performance liquid chromatography. পূর্বে এটি High pressure liquid chromatography নামে পরিচিত ছিল। এটি কোনো মিশ্রণের প্রতিটি উপাদানকে আলাদা করে নির্দেশ ও পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো অপশন (৪) High Performance Liquid Chromatography
HPLC হলো আধুনিক রসায়ন ও জৈব প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত একটি অত্যন্ত উন্নত বিশ্লেষণ পদ্ধতি (Analytical Technique)
এর প্রধান কাজ হলো কোনো জটিল মিশ্রণের উপাদানগুলিকে দ্রুত, সঠিকভাবে ও উচ্চ দক্ষতার (High Performance) সাথে আলাদা করা, শনাক্ত করা এবং পরিমাণ নির্ণয় করা।
এই পদ্ধতিতে তরল কলাম ক্রোমাটোগ্রাফির চেয়ে অনেক বেশি চাপ ব্যবহার করা হয় বলে অনেকে ভুল করে এটিকে High Pressure Liquid Chromatography মনে করেন। কিন্তু এর অফিসিয়াল পূর্ণরূপ হলো High Performance Liquid Chromatography
5

নিচের কোনটি সিরামিক উপাদানের প্রধান কাঁচামাল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. SiO2

  2. Na2CO3

  3. Fe2O3

  4. NaNO3

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সিরামিক হলো একটি অজৈব ও অধাতব কঠিন পদার্থ যা অতি উচ্চ তাপে শক্ত করে তৈরি হয়। সিলিকন ডাই অক্সাইড (SiO2) বা সিলিকা সিরামিক উৎপাদনের অন্যতম মূল উপকরণ। সিরামিক মূলত চীনা মাটি বা সাদা মাটির সাথে ফেলস্পার (K2O.Al2O3.6SiO2) এবং সিলিকা (SiO2) মিশিয়ে প্রস্তুত করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: SiO₂ (সিলিকন ডাই-অক্সাইড)
সিরামিক উপাদান, যেমন—চীনামাটি, পোর্সেলিন এবং টাইলস—সাধারণত অজৈব, অধাতব উপাদান দিয়ে গঠিত হয়।
সিরামিকের মূল গাঠনিক উপাদান হলো সিলিকেটস (Silicates), যা মূলত সিলিকা বা সিলিকন ডাই-অক্সাইড (SiO2SiO_2) খনিজরূপে পাওয়া যায়। এটি বালি (Sand) এবং কাদামাটি (Clay)-এর প্রধান রাসায়নিক উপাদান।
সিরামিক উৎপাদনে SiO2SiO_2 এর সাথে ক্যাওলিন (যা অ্যালুমিনিয়াম সিলিকেট) এবং ফেল্ডস্পার জাতীয় খনিজ যোগ করা হয়।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে Na2CO3Na_2CO_3 (সোডিয়াম কার্বনেট) মূলত কাঁচ শিল্পে গলনাঙ্ক কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, সিরামিকের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে নয়।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
6

আর্সেনিকের পারমাণবিক সংখ্যা কত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 33
  2. 38
  3. 36
  4. 44

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

কোনো মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলা হয়। পর্যায় সারণীর চতুর্থ পর্যায়ের ১৫ নং গ্রুপের মৌল আর্সেনিক, এর পারমাণবিক সংখ্যা ৩৩। এর প্রতীক As.

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ৩৩। আর্সেনিক (Arsenic)-এর প্রতীক হলো As
পারমাণবিক সংখ্যা হলো কোনো মৌলের নিউক্লিয়াসে বিদ্যমান প্রোটন সংখ্যা। এই সংখ্যাটি মৌলের রাসায়নিক ধর্ম নির্ধারণ করে।
পর্যায় সারণি অনুযায়ী, আর্সেনিক হলো ৩৩তম মৌল, যা পিরিয়ড ৪ এবং গ্রুপ ১৫-তে (নাইট্রোজেন গ্রুপ) অবস্থিত।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা নির্দেশ করে: যেমন, ৩৬ হলো ক্রিপটন (Kr), ৩৮ হলো স্ট্রনশিয়াম (Sr), এবং ৪৪ হলো রুথেনিয়াম (Ru)
7

উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ট্যাকোমিটার
  2. অ্যালটিমিটার
  3. ওডোমিটার
  4. অডিওমিটার

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

● অলটিমিটার - উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র। ● ওডোমিটার - মোটরগাড়ির গতি পরিমাপক যন্ত্র। ● ট্যাকোমিটার - উড়োজাহাজের গতি পরিমাপক যন্ত্র। ● অডিওমিটার - শব্দের তীব্রতা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ট্যাকোমিটার (Tachometer)
ট্যাকোমিটার হলো এমন একটি যন্ত্র যা উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের বা অন্য কোনো ঘূর্ণায়মান শ্যাফটের প্রতি মিনিটে ঘূর্ণনের সংখ্যা (Revolutions Per Minute- RPM) পরিমাপ করে। একটি উড়োজাহাজের নিরাপদ গতি এবং ইঞ্জিন পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে এই ঘূর্ণন গতি নির্ণয় করা অপরিহার্য।
উল্লেখ্য, উড়োজাহাজের ভূমির সাপেক্ষে প্রকৃত গতি (Airspeed) পরিমাপ করার জন্য এয়ারস্পিড ইন্ডিকেটর (Airspeed Indicator) ব্যবহৃত হয়। তবে প্রশ্নে যেহেতু যন্ত্রগুলোর মধ্যে ট্যাকোমিটার রয়েছে যা গতি বা ঘূর্ণন সংক্রান্ত, তাই এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত উত্তর (পরীক্ষকের উদ্দেশ্য অনুযায়ী)।
ভুল উত্তর কেন?
অ্যালটিমিটার উড়োজাহাজের সমুদ্র সমতল থেকে উচ্চতা (Altitude) পরিমাপ করে।
ওডোমিটার সাধারণত ভূমিতে চালিত যানবাহনের অতিক্রান্ত দূরত্ব (Distance) পরিমাপ করে।
অডিওমিটার শব্দের তীব্রতা বা মানুষের শ্রবণ ক্ষমতা পরিমাপ করার যন্ত্র।
8

টেলিভিশনে যে তরঙ্গ ব্যবহৃত হয় –

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রেডিও ওয়েভ
  2. অবলোহিত রশ্মি
  3. আলট্রা ভায়োলেট
  4. দৃশ্যমান রশ্মি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

টেলিভিশনে মূলত মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ ব্যবহৃত হয় যার তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পাল্লা 10−1m থেকে 10−3m , তবে অপশনে মাইক্রোওয়েভ না থাকায় উত্তর হবে রেডিও ওয়েভ বা বেতার তরঙ্গ। রেডিও ওয়েভের মাধ্যমেও টেলিভিশন তরঙ্গ প্রচার করা হয়। এক্ষেত্রে শব্দ ফ্রিকুয়েন্সি মডুলেশন এবং ছবি এমপ্লিচিউড মডুলেশনের মাধ্যমে রেডিও ওয়েভে প্রেরণ করা হয়।

ব্যাখ্যা

টেলিভিশন সিগনাল সম্প্রচার এবং রিসিভ করার জন্য তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ (Electromagnetic Wave) ব্যবহৃত হয়। এই তরঙ্গটি হলো রেডিও ওয়েভ (Radio Wave)
রেডিও তরঙ্গ সবচেয়ে দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের হয়, ফলে এটি সহজে বাঁধা অতিক্রম করে দূরবর্তী স্থানে পৌঁছাতে পারে। এ কারণেই টেলিভিশন (TV), রেডিও এবং মোবাইল ফোন যোগাযোগে এই তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়।
টেলিভিশন সম্প্রচারে সাধারণত VHF (Very High Frequency) এবং UHF (Ultra High Frequency) ব্যান্ড ব্যবহার করা হয়, যা রেডিও তরঙ্গের অন্তর্ভুক্ত।
অন্যান্য অপশন যেমন অবলোহিত রশ্মি (Infrared) সাধারণত রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইস, ফাইবার অপটিক বা তাপ প্রেরণে ব্যবহৃত হয়, সম্প্রচারে নয়।
9

বাতাস একটি -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ডায়াচুম্বকীয় পদার্থ
  2. প্যারাচুম্বকীয় পদার্থ
  3. ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
  4. অ্যান্টিফেরোচুম্বকীয় পদার্থ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

যে সকল পদার্থকে অসম চৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করলে পদার্থটি অপেক্ষাকৃত দুর্বলতর অঞ্চল হতে সবলতর অঞ্চলের দিকে দুর্বলভাবে গতিশীল হয় তাদের প্যারাচৌম্বক পদার্থ বলে। এই সকল পদার্থ শক্তিশালী চুম্বক দ্বারা ক্ষীণভাবে আকৃষ্ট হয়। যেমন- অ্যালুমিনিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি কঠিন পদার্থ: কপার সালফেট, ফেরিক ক্লোরাইড প্রভৃতি যৌগ ও তাদের দ্রবণ এবং অক্সিজেন, বাতাস ইত্যাদি গ্যাসীয় পদার্থ প্যারাচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ। প্যারাচৌম্বক পদার্থের ধর্মকে প্যারাচৌম্বকত্ব বলে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: প্যারাচুম্বকীয় পদার্থ (Paramagnetic Substance)
বাতাস মূলত নাইট্রোজেন (N₂) (যা ডায়াচুম্বকীয়) এবং অক্সিজেন (O₂) (যা প্যারাচুম্বকীয়) গ্যাস দ্বারা গঠিত।
যদিও নাইট্রোজেন বায়ুর প্রধান উপাদান, কিন্তু অক্সিজেনের আণবিক গঠনে (Molecular structure) বিজোড় ইলেকট্রন (unpaired electrons) থাকার কারণে এটি তীব্রভাবে প্যারাচুম্বকীয় ধর্ম প্রদর্শন করে।
মিশ্রণ হিসাবে, বায়ুর সামগ্রিক চৌম্বকীয় প্রবণতা (Magnetic Susceptibility) ধনাত্মক ও ক্ষুদ্র হয়। তাই বাতাস বাহ্যিক চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা সামান্যভাবে আকৃষ্ট হয় এবং একে প্যারাচুম্বকীয় পদার্থ হিসেবে গণ্য করা হয়।
অন্যদিকে, ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ (যেমন: লোহা) চুম্বক দ্বারা অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে আকৃষ্ট হয়, যা বাতাসের ক্ষেত্রে ঘটে না।
আর ডায়াচুম্বকীয় পদার্থ (যেমন: জল, তামা) চুম্বক দ্বারা বিকর্ষিত হয়, যা বাতাসের ক্ষেত্রেও সত্য নয়।
10

কোনটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

তিনটি ভেক্টরের ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া মানে, তাদের যোগফল শূন্য। সেক্ষেত্রে, তীর চিহ্ন ধরে যেখানে শুরু সেখানেই ফেরা যাবে। ‘গ’ চিত্রে (–) অনুযায়ী তীর চিহ্ন ঘুরিয়ে দিলে এই শর্ত পূর্ণ হয়।

ব্যাখ্যা

এটি পদার্থবিজ্ঞানের স্থিতিবিদ্যা (Statics) অংশ থেকে আসা একটি মৌলিক প্রশ্ন। কোনো বস্তুর ভারসাম্য মূলত তিন প্রকার: স্থির, অস্থির এবং নিরপেক্ষ।
প্রশ্নটিতে 'ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা' বলতে সবচেয়ে দৃঢ় বা স্থিতিশীল অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে, যা হলো স্থির ভারসাম্য (Stable Equilibrium)
সঠিক উত্তর হলো ২য় চিত্রটি। এই চিত্রে গোলকটি একটি অবতল পৃষ্ঠে (Concave Surface) রাখা আছে।
স্থির ভারসাম্য (Stable Equilibrium): যদি বস্তুকে তার মূল অবস্থান থেকে সামান্য সরিয়ে দেওয়া হয়, তবে বস্তুটি পুনরায় আগের অবস্থানে ফিরে আসার চেষ্টা করে। অবতল পৃষ্ঠে থাকা বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধরণের ভারসাম্য দেখা যায়। এখানে ভারকেন্দ্র উপরে উঠে গেলেও অভিকর্ষ বল তাকে আবার সর্বনিম্ন অবস্থানে (গর্তের কেন্দ্রে) ফিরিয়ে আনে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল কারণ:
১ম ও ৪র্থ চিত্র: এগুলো অস্থির ভারসাম্যের (Unstable Equilibrium) উদাহরণ। উত্তল পৃষ্ঠে থাকা বস্তুকে সামান্য সরালেই এটি আরও দূরে সরে যায় এবং আগের অবস্থানে ফিরে আসে না।
৩য় চিত্র: এটি নিরপেক্ষ ভারসাম্যের (Neutral Equilibrium) উদাহরণ। সমতল পৃষ্ঠে বস্তুকে সরালে এটি নতুন অবস্থানে স্থির হয়ে যায়, কিন্তু আগের অবস্থানে ফিরেও আসে না বা আরও দূরেও সরে যায় না।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
11

কোন ধরনের শিলায় জীবাশ্ম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আগ্নেয় শিলা
  2. রূপান্তরিত শিলা
  3. পাললিক শিলা
  4. উপরের কোনটিই নয়

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয়েছে তাকে পাললিক শিলা বলে। পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য: (১) এটি একটি স্তরীকৃত শিলা। (২) নরম ও হালকা। (৩) সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত। (৪) একমাত্র এই শিলার মধ্যে জীবাশ্ম দেখা যায়। (৫) ছিদ্র দেখা যায়। উদাহরণ: বেলে পাথর, কয়লা, শেল, চুনাপাথর, কাঁদা পাথর, কেওলিন, ডলোমাইট প্রভৃতি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: পাললিক শিলা
পাললিক শিলা (Sedimentary Rock) গঠিত হয় পলি বা বিভিন্ন জৈব ও অজৈব পদার্থ স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে। যখন উদ্ভিদ বা প্রাণীর দেহাবশেষ এই পলিস্তরের মধ্যে আটকে পড়ে, তখন তা ভূ-অভ্যন্তরে কম তাপ ও চাপে হাজার হাজার বছর ধরে শক্ত হয়ে জীবাশ্মে (Fossil) পরিণত হয়।
অন্যান্য শিলা কেন নয়? আগ্নেয় শিলা (Igneous Rock) গঠিত হয় গলিত ম্যাগমা বা লাভা শীতল ও কঠিন হয়ে। এখানে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে কোনো জৈব বস্তু টিকে থাকতে পারে না।
একইভাবে, রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rock) উচ্চ তাপ ও চাপ প্রয়োগের ফলে সৃষ্টি হয়, যা এর গঠন পরিবর্তন করে এবং এতে থাকা কোনো পূর্বের জীবাশ্মকে ধ্বংস করে ফেলে বা বিকৃত করে দেয়।
12

সুপরিবাহী পদার্থে Valence Band এবং conduction band-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আলাদা থাকে
  2. ওভারল্যাপ থাকে
  3. অনেক দূরে থাকে
  4. কোনটিই নয়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ওভারল্যাপ থাকে
পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা ব্যাখ্যা করার জন্য যে ব্যান্ড তত্ত্ব ব্যবহার করা হয়, সেখানে মূলত দুটি স্তরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: Valence Band (যোজন ব্যান্ড) এবং Conduction Band (পরিবহন ব্যান্ড)
সুপরিবাহী (Conductor) পদার্থের ক্ষেত্রে, যোজন ব্যান্ড (Valence Band) এবং পরিবহন ব্যান্ড (Conduction Band) একে অপরের সাথে ওভারল্যাপ বা মিশে থাকে।
এই ওভারল্যাপের ফলে যোজন ব্যান্ডে থাকা ইলেকট্রনগুলো সামান্য শক্তি ছাড়াই (এমনকি কক্ষ তাপমাত্রায়) খুব সহজেই পরিবহন ব্যান্ডে চলে যেতে পারে এবং মুক্ত ইলেকট্রন হিসেবে বিদ্যুৎ পরিবহনে অংশ নিতে পারে।
তাই এদের রোধ কম এবং পরিবাহিতা বেশি হয়।
13

ফটোগ্রাফিক প্লেটে আবরণ থাকে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সিলভার ব্রোমাইডের
  2. অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের
  3. সিলভার ক্লোরাইডের
  4. সিলভার ফ্লোরাইডের

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ফটোগ্রাফিক প্লেটে আবরণ থাকে সিলভার ব্রোমাইডের। সিলভার ব্রোমাইড একটি রাসায়নিক যৌগ যাতে একটি ব্রোমাইড আয়ন বা লিগ্যান্ড রয়েছে এবং এর সংকেত হচ্ছে AgBr.

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সিলভার ব্রোমাইড
ফটোগ্রাফিক প্লেট বা ফিল্মের মূল উপাদান হলো আলোক সংবেদনশীল (photosensitive) রাসায়নিক যৌগ। এই যৌগটিকে **ইমালসন (Emulsion)** বলা হয়, যা মূলত **সিলভার হ্যালাইড** দিয়ে তৈরি।
এই ইমালসনে প্রধানত ব্যবহৃত হয় **সিলভার ব্রোমাইড (Silver Bromide - AgBr)**। এটি আলোর প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
যখন কোনো বস্তুর উপর থেকে আসা আলো ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর পড়ে, তখন AgBr আলোক শক্তি শোষণ করে এবং রাসায়নিকভাবে বিয়োজিত হয়ে **রূপা (Silver)**-তে রূপান্তরিত হয়, যা প্লেটে একটি সুপ্ত প্রতিবিম্ব (Latent Image) সৃষ্টি করে।
অন্যান্য অপশন যেমন সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) এবং সিলভার ফ্লোরাইড (AgF) কিছুটা আলোক সংবেদনশীল হলেও, ছবি তোলার জন্য **সিলভার ব্রোমাইড** সবচেয়ে বেশি কার্যকর এবং আদর্শ যৌগ হিসেবে বিবেচিত হয়।
14

সাবানের আয়নিক গ্রুপ হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. R3NH+

  2. SO3−Na+

  3. R2NH2+

  4. COO−Na+

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সাবানের রাসায়নিক সংকেত- C17H35COONa. অর্থাৎ সাবানের আয়নিক গ্রুপ হলো COO−Na+

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: COO−Na⁺
সাবান হলো মূলত উচ্চতর ফ্যাটি অ্যাসিডের সোডিয়াম (Na) বা পটাশিয়াম (K) লবণ। যখন দীর্ঘ শিকলযুক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডকে ক্ষারের (যেমন: NaOH বা KOH) সাথে বিক্রিয়া করানো হয়, তখন সাবান তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়াকে সাপোনিফিকেশন (Saponification) বলা হয়।
সাবানের সাধারণ সংকেত হলো R-COO-Na\text{R-COO-Na}, যেখানে R হলো দীর্ঘ অ্যালকাইল গ্রুপ।
পানিতে দ্রবীভূত হলে এই লবণটি আয়নিত হয়ে কার্বক্সিলিক অ্যানায়ন (R-COO\text{R-COO}^-) এবং সোডিয়াম ক্যাটায়ন (Na+\text{Na}^+) তৈরি করে। এই দুটি মিলেই সাবানের আয়নিক গ্রুপটি তৈরি হয়, যা COO−Na+\text{COO−Na}^+ আকারে প্রকাশ করা হয়।
অন্যান্য অপশন ভুল কেন?
অপশন SO3Na+\text{SO}_3−\text{Na}^+ সাধারণত ডিটারজেন্টের (Detergent) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ডিটারজেন্ট হলো দীর্ঘ শিকলযুক্ত অ্যালকাইল সালফোনিক অ্যাসিডের সোডিয়াম লবণ।
15

পরম শূন্য তাপমাত্রা কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ২৭৩° সেন্টিগ্রেড
  2. -২৭৩° ফারেনহাইট
  3. O° সেন্টিগ্রেড
  4. O° কেলভিন

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

পরম শূন্য (Absolute Zero) হচ্ছে এই মহাবিশ্বের সম্ভাব্য সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তাপমাত্রামাপক যন্ত্রে এর মান হচ্ছে O° কেলভিন অথবা -২৭৩.১৫° সেন্টিগ্রেড বা -৪৬০° ফারেনহাইট। মহাবিশ্বে এর থেকে কম তাপমাত্রা হওয়া সম্ভব নয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: O° কেলভিন
তাপগতিবিদ্যার নিয়মানুসারে, যে তাপমাত্রায় কোনো বস্তুর কণাগুলির (অণু বা পরমাণু) গতিশক্তি সর্বনিম্ন বা প্রায় শূন্য হয়ে যায়, তাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা (Absolute Zero Temperature) বলা হয়।
কেলভিন স্কেলে এই সর্বনিম্ন তাপমাত্রাকে ০ কেলভিন (0 K) ধরা হয়, যা সকল প্রকার গ্যাসের আয়তন তাত্ত্বিকভাবে শূন্য হয়ে যাওয়ার নির্দেশক।
সেন্টিগ্রেড স্কেলে পরম শূন্য তাপমাত্রার মান হলো ২৭৩.১৫°সেন্টিগ্রেড</strong>(বাপ্রায়-২৭৩.১৫° সেন্টিগ্রেড</strong> (বা প্রায় -২৭৩° সেন্টিগ্রেড$)।
অন্যদিকে, O° সেন্টিগ্রেড হলো জলের হিমাঙ্ক, যা 273.15K273.15 K-এর সমান। তাই কেলভিন স্কেলের শূন্যকেই পরম শূন্য তাপমাত্রা হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
16

আদর্শ ভোল্টেজ উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ কত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অসীম
  2. শূন্য
  3. অতি ক্ষুদ্র
  4. অনেক বড়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

একটি আদর্শ ভোল্টেজ উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ শূন্য। এটা যে কোন পরিমাণের বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং শোষণ করতে পারে। একটি আদর্শ বিভব উৎসের মাঝের বিদ্যুৎ প্রবাহ সম্পূর্ণভাবে বহিঃস্থ বর্তনীর মাধ্যমে নির্ণয় করা যেতে পারে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: শূন্য (Zero)।
একটি আদর্শ ভোল্টেজ উৎস (Ideal Voltage Source) হলো এমন একটি উৎস, যা এর টার্মিনালগুলোতে সব সময় একটি নির্দিষ্ট ও ধ্রুব ভোল্টেজ সরবরাহ করে, তা লোড পরিবর্তন হোক বা না হোক।
যদি কোনো ভোল্টেজ উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ (Internal Resistance) থাকে, তবে উৎস থেকে কারেন্ট (I) প্রবাহিত হলে এই রোধের কারণে একটি ভোল্টেজ ড্রপ (Voltage Drop) তৈরি হয় (Vdrop=I×rinternalV_{drop} = I \times r_{internal})।
এই ভোল্টেজ ড্রপের কারণে উৎসের টার্মিনাল ভোল্টেজ সবসময় তার তড়িচ্চালক শক্তির (EMF) চেয়ে কম হয়। কিন্তু যেহেতু উৎসটি আদর্শ, তাই ভোল্টেজ ড্রপ হওয়া চলবে না।
টার্মিনাল ভোল্টেজকে তড়িচ্চালক শক্তির (EMF) সমান রাখার জন্য অবশ্যই অভ্যন্তরীণ রোধের মান শূন্য হতে হবে।
(Vterminal=EMFI×<strong>0</strong>=EMFV_{terminal} = EMF - I \times <strong>0</strong> = EMF)
অন্যদিকে, অসীম হলো আদর্শ কারেন্ট উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধের মান।
17

ভারসাম্য রক্ষা করতে নিচের চিত্রের বামদিকে কত ওজন রাখতে হবে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৪ কেজি
  2. ৬ কেজি
  3. ৮ কেজি
  4. ১০ কেজি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্যাখ্যা

এটি ভারসাম্য রক্ষার নীতি (Principle of Moments) সংক্রান্ত প্রশ্ন। কোনো বস্তুকে ভারসাম্য অবস্থায় রাখতে হলে, বামাবর্তী মোমেন্টের সমষ্টি এবং ডানাবর্তী মোমেন্টের সমষ্টি সমান হতে হবে।
মোমেন্ট (Moment) = বল বা ওজন ×\times ফালক্রাম (Fulcrum) বা আলম্ব থেকে দূরত্ব।
ধরি, বামদিকে প্রয়োজনীয় ওজন WW কেজি।

১. বামদিকের মোমেন্ট (ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে):
Mবাম=W×10=10WM_{\text{বাম}} = W \times 10 = 10W

২. ডানদিকের মোমেন্ট (ঘড়ির কাঁটার দিকে):
Mডান=(5 কেজি×6)+(4 কেজি×9)M_{\text{ডান}} = (5 \text{ কেজি} \times 6) + (4 \text{ কেজি} \times 9)
Mডান=30+36=66M_{\text{ডান}} = 30 + 36 = 66

ভারসাম্য রক্ষার শর্তানুসারে, Mবাম=MডানM_{\text{বাম}} = M_{\text{ডান}}
10W=6610W = 66
W=6610=6.6 কেজিW = \frac{66}{10} = 6.6 \text{ কেজি}

সঠিক উত্তরটি 6.66.6 কেজি। যেহেতু বিকল্পগুলির মধ্যে 6.66.6 কেজি অনুপস্থিত এবং 6.66.6 কেজির নিকটতম পূর্ণ সংখ্যাটি হলো ৬ কেজি (পার্থক্য ০.৬), তাই বিকল্পগুলির মধ্যে সঠিক উত্তর হিসেবে ৬ কেজি নির্বাচন করা হয়েছে। (৬ কেজি ও ৮ কেজির মধ্যে ৬ কেজিই 6.66.6 কেজির নিকটতম)।
18

আলোকবর্ষ ব্যবহার করে কী পরিমাপ করা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দূরত্ব
  2. সময়
  3. ভর
  4. ওজন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

আলোকবর্ষ হল সেই পরিমাণ দূরত্ব যা আলো এক বছরে অতিক্রম করে। আমরা জানি, আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে 3×108 মিটার। ১ আলোকবর্ষ সমান 9.4607×1015 মিটার।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো দূরত্ব (Distance)
আলোকবর্ষ (Light Year) হলো জ্যোতির্বিজ্ঞানে ব্যবহৃত একটি একক, যা মূলত অতিক্রান্ত দূরত্ব পরিমাপ করে।
১ আলোকবর্ষ বলতে বোঝায়, আলো শূন্য মাধ্যমে এক বছরে যে বিশাল দূরত্ব অতিক্রম করে। এটি মহাজাগতিক দূরত্ব (যেমন: পৃথিবী থেকে নক্ষত্র বা গ্যালাক্সির দূরত্ব) পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।
অনেকে নামের শেষে 'বর্ষ' (Year) দেখে ভুল করে একে সময়ের একক মনে করতে পারেন, কিন্তু এটি সম্পূর্ণরূপে দূরত্বের একক। পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রানুসারে: দূরত্ব = বেগ (আলোর বেগ) ×\times সময় (১ বছর)।
19

১০০ ওয়াট-এর একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব ১ ঘণ্টা চললে কত শক্তি ব্যয় হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১০০ জুল
  2. ৬০ জুল
  3. ৬০০০ জুল
  4. ৩৬০০০০ জুল

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ৩৬০০০০ জুল। এটি শক্তি বা কাজের একক (SI Unit)।
পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র অনুযায়ী, ব্যয়িত শক্তি (Energy, WW) হলো ক্ষমতা (Power, PP) এবং সময় (tt)-এর গুণফল।
সূত্রটি হলো: W=PimestW = P imes t
এখানে, ক্ষমতা (PP) = ১০০ ওয়াট (W)। ওয়াট হলো জুল/সেকেন্ড (J/s)।
সময় (tt) = ১ ঘণ্টা। যেহেতু ক্ষমতার একক ওয়াট (J/s)-এ আছে, তাই সময়কে অবশ্যই সেকেন্ড-এ রূপান্তর করতে হবে।
সময় রূপান্তর: $t = ১ ext{ ঘণ্টা} = (৬০ imes ৬০) ext{ সেকেন্ড} = ৩৬০০ সেকেন্ড
ব্যয়িত শক্তি (WW) = $১০০ ext{ W} imes ৩৬০০ ext{ s} = ৩৬০০০০ জুল (J)
অন্য অপশনগুলো ভুল, কারণ এগুলো সেকেন্ড-এ রূপান্তর ছাড়াই কেবল ওয়াট বা মিনিটের সাথে গুণ করে দেখানো হয়েছে।
20

ইলেকট্রিক বাল্ব-এর ফিলামেন্ট যার দ্বারা তৈরি-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আয়রন
  2. কার্বন
  3. টাংস্টেন
  4. লেড

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বৈদ্যুতিক বাল্বের (Electric bulb) ভিতরে ফিলামেন্ট নামক বিশেষ এক ধরনের তারের কুণ্ডলী থাকে যার মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে তাপ ও আলো উৎপন্ন হয়। এ ফিলামেন্টটি টাংস্টেন নামক এক প্রকার উচ্চ গলনাঙ্কবিশিষ্ট ধাতুর তৈরি। এর গলনাঙ্ক ৩৪২২০০C.

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: টাংস্টেন (Tungsten)
ইলেকট্রিক বাল্ব (Incandescent Bulb)-এর ফিলামেন্ট তৈরির জন্য টাংস্টেন ব্যবহার করা হয় কারণ এর গলনাঙ্ক অত্যন্ত উচ্চ (প্রায় 3422°C3422°C)
ফিলামেন্টের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে এটি উচ্চ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত হয়ে শ্বেত-তপ্ত (White Hot) অবস্থায় আলো বিকিরণ করে। টাংস্টেনের উচ্চ গলনাঙ্কের কারণে, এটি এতো বেশি তাপমাত্রাতেও গলে যায় না এবং দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে পারে।
অন্যান্য অপশন যেমন আয়রন বা লেড-এর গলনাঙ্ক অনেক কম। অন্যদিকে কার্বন যদিও উচ্চ গলনাঙ্কের, কিন্তু এটি ফিলামেন্ট হিসেবে ব্যবহার করলে দ্রুত বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে পুড়ে যায় বা বাষ্পীভূত হয় (sublimation), যা বাল্বের জীবনকাল কমিয়ে দেয়।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
21

গ্রাফিন (graphene) কার বহুরূপী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কার্বন
  2. কার্বন ও অক্সিজেন
  3. কার্বন ও হাইড্রোজেন
  4. কার্বন ও নাইট্রোজেন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

গ্রাফিন (graphene) কার্বনের একটি রূপ, যা একটি সরু চাকতিরূপে বিরাজ করে, চাকতিটির ক্ষেত্রফল যত বড়ই হোক না কেন পুরুত্ব হয় মাত্র একটি পরমাণুর আকারের সমান। এক্ষেত্রে পরমাণুগুলো এমনভাবে বিন্যস্ত হয় যে, একটি দ্বিমাত্রিক মৌচাকের মত আকৃতি গঠিত হয়। এটি কাচের মত স্বচ্ছ। ইস্পাতের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালী এবং এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সব মৌল ও যৌগের মধ্যে সবচেয়ে ভালো বিদ্যুৎ পরিবাহী। প্লাস্টিকের মধ্যে শতকরা মাত্র ১ ভাগ গ্রাফিন মেশালে তা তড়িৎ সুপরিবাহীতে পরিণত হতে পারে। ২০০৪ সালে অক্টোবরে গ্রাফিন আবিষ্কারের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। এটি আবিষ্কারের জন্য আন্দ্রেঁ গেইম এবং কনস্টানটিন নভোসেলভ ২০১০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কার্বন। গ্রাফিন (Graphene) হলো কার্বনের (Carbon) একটি বিশেষ ধরনের বহুরূপ (Allotrope) বা রূপভেদ।
বহুরূপতা হলো সেই ধর্ম, যার কারণে একটি মৌল প্রকৃতিতে ভিন্ন ভিন্ন রূপে পাওয়া যায়, কিন্তু রাসায়নিকভাবে তারা একই। যেমন—কার্বনের সবচেয়ে পরিচিত বহুরূপগুলো হলো হীরা (Diamond)গ্রাফাইট (Graphite)
গ্রাফিন হলো গ্রাফাইটের মাত্র একটি পরমাণু-পুরু স্তর। এটি একটি দ্বিমাত্রিক (2D) কাঠামো, যেখানে কার্বন পরমাণুগুলো ষড়ভুজাকৃতিতে (Honeycomb lattice) সুসজ্জিত থাকে।
অন্যান্য অপশন যেমন অক্সিজেন, হাইড্রোজেন বা নাইট্রোজেন দ্বারা গ্রাফিন গঠিত হয় না। গ্রাফিন হলো ১০০% কার্বন
22

আইনস্টাইন নোবেল পুরস্কার পান-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আপেক্ষিক তত্ত্বের উপর
  2. মহাকর্ষীয় ধ্রুবক আবিষ্কারের জন্য
  3. কৃষ্ণগহ্বর আবিষ্কারের জন্য
  4. আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

আলবার্ট আইনস্টাইন (১৪ মার্চ ১৮৭৯ - ১৮ এপ্রিল ১৯৫৫) জার্মানিতে জন্মগ্রহণকারী একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী।তিনি মূলত আপেক্ষিকতার তত্ত্ব (আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের দুটি স্তম্ভের একটি) এবং ভর-শক্তি সমতুল্যতার সূত্র, E=mc2 (যা "বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত সমীকরণ" হিসেবে খেতাব দেওয়া হয়েছে) আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত। তিনি ১৯২১ সালে আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া সম্পর্কিত গবেষণার জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য
বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন তাঁর যুগান্তকারী কাজ 'আলোক তড়িৎ ক্রিয়া' (Photoelectric Effect)-এর নিয়ম আবিষ্কার ও তার ব্যাখ্যার জন্য ১৯২১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন (পুরস্কারটি তাঁকে ১৯২২ সালে প্রদান করা হয়)।
আইনস্টাইন এই তত্ত্বের মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে আলো শক্তি কোয়ান্টাম বা কণার (ফোটন) আকারে আসে। এর ফলে আধুনিক কোয়ান্টাম মেকানিক্সের পথ সুগম হয়।
উল্লেখ্য, তাঁর বিশ্ববিখ্যাত আবিষ্কার আপেক্ষিক তত্ত্বের জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার পাননি, কারণ সেই সময় সুইডিশ একাডেমি এই তত্ত্বটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দ্বিধায় ছিল।
23

কাঁদুনে গ্যাসের অপর নাম কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ক্লোরোপিক্রিন
  2. মিথেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. ইথেন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

কাঁদুনে গ্যাসের অপর নাম ক্লোরোপিক্রিন। অশ্রু উৎপাদক বলে একে কাঁদুনে গ্যাস বলা হয়। এর রাসায়নিক নাম হলো নাইট্রোক্লোরোফরম। ক্লোরোফর্মের সাথে গাঢ় নাইট্রিক এসিডের বিক্রিয়ায় ক্লোরোপিক্রিন উৎপন্ন হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ক্লোরোপিক্রিন
কাঁদুনে গ্যাস (Tear Gas) মূলত এক ধরনের ল্যাক্রিমেটর এজেন্ট (Lacrimator Agent), যা মানুষের চোখ ও শ্বাসতন্ত্রে তীব্র জ্বালা সৃষ্টি করে এবং অস্থায়ী অন্ধত্ব বা শ্বাসকষ্ট তৈরি করে। এর রাসায়নিক সংকেত হলো CCl3NO2CCl_3NO_2
ঐতিহাসিকভাবে, ক্লোরোপিক্রিনকে (Chloropicrin) কাঁদুনে গ্যাসের অন্যতম উপাদান হিসেবে ধরা হয় এবং এটি এই নামে খুবই পরিচিত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে এটি রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
অন্যান্য অপশনগুলো (মিথেন, নাইট্রোজেন, ইথেন) হলো সাধারণ গ্যাস এবং এদের কোনোটিই কাঁদুনে গ্যাসের উপাদান বা বিকল্প নাম নয়।
24

কোনটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গ্লিসারিন
  2. ফিটকিরি
  3. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. ক্যালসিয়াম কার্বোনেট

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

পানিতে দ্রবীভূত হয় না ক্যালসিয়াম কার্বনেট। সোডিয়াম যৌগ বা খাবার লবণ স্বচ্ছ বর্ণহীন কঠিন পদার্থ এবং পানিতে দ্রবণীয়। পক্ষান্তরে, ক্যালসিয়াম কার্বনেট প্রকৃতিতে চুনাপাথর মার্বেল পাথর ও অন্যান্য রূপে বিদ্যমান বিশুদ্ধ পানিতে অদ্রবণীয় হলেও অতিরিক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড মিশ্রিত পানিতে CaHCO3 রূপে দ্রবীভূত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (extCaCO3 ext{CaCO}_3)। এটি সাধারণত পানিতে অদ্রবণীয় (Insoluble) একটি অজৈব যৌগ।
ক্যালসিয়াম কার্বোনেটের অণুগুলি অত্যন্ত শক্তিশালী আয়নিক বন্ধনে আবদ্ধ থাকে। পানি এই বন্ধন ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করতে পারে না বলে এটি সহজে দ্রবীভূত হয় না। এটি চুনাপাথর (Limestone), মার্বেলখড়ির প্রধান উপাদান।
বিপরীতে, সোডিয়াম ক্লোরাইড (খাবার লবণ) এবং ফিটকিরি উভয়ই শক্তিশালী আয়নীয় যৌগ হলেও এদের বন্ধন ভাঙার জন্য পানির অণু যথেষ্ট শক্তি সরবরাহ করে, তাই এরা সহজে দ্রবীভূত হয়।
গ্লিসারিন (এক ধরনের অ্যালকোহল) একটি পোলার জৈব যৌগ। এটি পানির অণুর সাথে সহজেই হাইড্রোজেন বন্ধন তৈরি করতে পারে, তাই এটি পানিতে অত্যন্ত দ্রবণীয়।
25

স্ক্রু ও ঘড়ির কাঁটার ঘূর্ণন গতির দিক-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. একই দিকে
  2. উল্টো দিকে
  3. উলম্ব রেখায়
  4. সমান্তরালে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

স্ক্রু এবং ঘড়ির ঘূর্ণনের দিক হয় হাতের ডান দিকে অর্থাৎ একই দিকে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: একই দিকে
সাধারণত স্ক্রু টাইট করার সময় (অর্থাৎ স্ক্রুকে গভীরে প্রবেশ করানোর সময়) আমরা সেটিকে ডান দিকে বা ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরাই। এটি বিজ্ঞানে ডান-হাতি স্ক্রু সূত্র (Right-Hand Screw Rule)-এর একটি সাধারণ প্রয়োগ।
অন্যদিকে, একটি সাধারণ ঘড়ির কাঁটা সব সময় ডান দিকেই ঘোরে (Clockwise)।
যেহেতু স্ক্রুর ঘূর্ণন এবং ঘড়ির কাঁটার ঘূর্ণন উভয়ই ঘড়ির কাঁটার দিকে (Clockwise), তাই এদের ঘূর্ণন গতির দিক একই দিকে।
অন্যান্য অপশনগুলো (উল্টো দিকে, উলম্ব রেখায়, সমান্তরালে) এই দুটি বস্তুর ঘূর্ণন দিক নির্দেশ করে না, তাই সেগুলো ভুল।
ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও মেডিকেলসহ ২৭+ ইউনিট-ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর এডমিশন সেকশনে।

ভর্তি প্রশ্নব্যাংক দেখুন
26

একটি আদর্শ তড়িৎ উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ কত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শূন্য
  2. অসীম
  3. অতিক্ষুদ্র
  4. যে কোনো মান

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

কোষের ভেতর দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ চলার সময় কোষের অভ্যন্তরস্থ তরল ও অন্যান্য পদার্থ তড়িৎ প্রবাহকে যে বাধা প্রদান করে তাকে কোষের অভ্যন্তরীণ রোধ বলে। একটি আদর্শ তড়িৎ উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ শূন্য।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: শূন্য
তড়িৎ উৎসের অভ্যন্তরে তড়িৎ প্রবাহের সময় উৎসটির নিজস্ব উপাদান (যেমন ইলেকট্রোলাইট) দ্বারা যে বাধা সৃষ্টি হয়, তাকে অভ্যন্তরীণ রোধ (Internal Resistance, r) বলে।
একটি আদর্শ তড়িৎ উৎস (Ideal Voltage Source) হলো এমন একটি উৎস, যা বিদ্যুৎ প্রবাহের সময় এর অভ্যন্তরীণ কোনো শক্তির অপচয় করে না। অর্থাৎ, অভ্যন্তরীণ রোধের কারণে কোনো বিভব পতন (Vloss=IimesrV_{loss} = I imes r) হবে না।
অভ্যন্তরীণ বিভব পতন শূন্য হওয়ার একমাত্র শর্ত হলো, অভ্যন্তরীণ রোধের (r) মান শূন্য (0) হতে হবে।
অন্যদিকে, যদি উত্তরটি 'অতিক্ষুদ্র' হতো, তবে সেটি একটি বাস্তব বা ভালো মানের তড়িৎ উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধকে নির্দেশ করত, আদর্শ উৎসকে নয়।
27

জারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অ্যানোডে
  2. ক্যাথোডে
  3. অ্যানোড এবং ক্যাথোড উভয়টিতে
  4. বর্ণিত কোনটিতেই নয়

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো অ্যানোডে
তড়িৎ রাসায়নিক কোষে (Electrochemical Cell) যে তড়িদ্দ্বারে জারণ প্রক্রিয়া (Oxidation) সম্পন্ন হয়, তাকে অ্যানোড বলা হয়। জারণ প্রক্রিয়ার মূল সংজ্ঞা হলো ইলেকট্রন বর্জন করা।
যেহেতু অ্যানোডে জারণের মাধ্যমে ইলেকট্রন বর্জিত হয়, তাই ইলেকট্রনগুলো অ্যানোড থেকে পরিবাহীর মাধ্যমে ক্যাথোডের দিকে যায়।
অন্যদিকে, ক্যাথোডে সব সময় বিজারণ প্রক্রিয়া (Reduction) সম্পন্ন হয়, যার অর্থ হলো ইলেকট্রন গ্রহণ করা।
28

পানির অণু একটি-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্যারাচুম্বক
  2. ডায়াচুম্বক
  3. ফেরোচুম্বক
  4. অ্যান্টিফেরোচুম্বক

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

যে সকল পদার্থকে চৌম্বকক্ষেত্রে স্থাপন করা হলে চুম্বকায়নকারী ক্ষেত্রের বিপরীত দিকে সামান্য চুম্বকত্ব লাভ করে তাদেরকে ডায়াচৌম্বক পদার্থ বলে। ডায়াচৌম্বক পদার্থের আচরণ তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে না। তামা, দস্তা, বিসমাথ, রুপা, সোনা, সীসা, কাচ, মার্বেল, পানি, হিলিয়াম, আর্গন প্রভৃতি ডায়াচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ডায়াচুম্বক। পদার্থের চৌম্বক ধর্ম নির্ভর করে তাদের অণুর মধ্যে থাকা ইলেকট্রনগুলোর ঘূর্ণন এবং জোড়বদ্ধ অবস্থার ওপর।
ডায়াচুম্বক পদার্থ (Diamagnetic Substance): যে সকল পদার্থের অণুতে সকল ইলেকট্রন জোড়ায় জোড়ায় (Paired) থাকে এবং কোনো মুক্ত ইলেকট্রন (Unpaired Electron) অবশিষ্ট থাকে না, তাদেরকে ডায়াচুম্বক পদার্থ বলে।
পানির অণু (extH2extO ext{H}_2 ext{O}) বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর সকল ইলেকট্রনই জোড়বদ্ধ অবস্থায় থাকে। এর ফলে অণুটির নিট চৌম্বক ভ্রামক (Net Magnetic Moment) শূন্য হয়।
ডায়াচুম্বক পদার্থগুলো শক্তিশালী চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা দুর্বলভাবে বিকর্ষিত হয়। এটিই পানির চৌম্বক ধর্মের বৈশিষ্ট্য।
অন্যান্য অপশন ভুল কেন: প্যারাচুম্বক পদার্থে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে (যেমন: অক্সিজেন), যা চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা দুর্বলভাবে আকর্ষিত হয়। ফেরোচুম্বক পদার্থে চুম্বকীয় আকর্ষণ অত্যন্ত তীব্র হয় (যেমন: লোহা, নিকেল)।
29

১৭O আইসোটোপের নিউট্রন সংখ্যা কত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 8
  2. 17
  3. 9
  4. 25

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

কোনো পরমাণুতে উপস্থিত প্রোটন সংখ্যা (Z) ও নিউট্রন সংখ্যার (n) যোগফলকে ঐ পরমাণুর ভরসংখ্যা (A) বলে। যেহেতু ভরসংখ্যা হলো প্রোটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফল, কাজেই ভরসংখ্যা থেকে প্রোটন সংখ্যা বিয়োগ করলে নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যায়। প্রশ্নানুযায়ী অক্সিজেনের (O) ভরসংখ্যা হলো 17, এর প্রোটন সংখ্যা 8, ফলে এর নিউট্রন সংখ্যা হচ্ছে A-Z = 17-8= 9.

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: । নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়ের জন্য পরমাণুর ভর সংখ্যা (Mass Number) থেকে প্রোটন সংখ্যা (Proton Number) বিয়োগ করতে হয়।
এখানে আইসোটোপটি হলো:  817O~_{8}^{17}O। একটি মৌলকে যখন  ZAX ~_{Z}^{A}X~ দ্বারা প্রকাশ করা হয়, তখন:
     ক) ভর সংখ্যা (A) = ১৭ (উপরে লিখিত সংখ্যা)।
     খ) পারমাণবিক সংখ্যা (Z) = ৮ (নিচে লিখিত সংখ্যা), যা প্রোটন সংখ্যা নির্দেশ করে।
নির্ণেয় নিউট্রন সংখ্যা (N) = ভর সংখ্যা (A) - প্রোটন সংখ্যা (Z)
     N=178=9N = 17 - 8 = 9
তাই  817O ~_{8}^{17}O~ আইসোটোপটির নিউট্রন সংখ্যা
অন্যান্য অপশন ভুল, কারণ হলো প্রোটন সংখ্যা এবং ১৭ হলো ভর সংখ্যা।
30

প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হাইড্রোজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. মিথেন
  4. ইথেন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল উপাদান মিথেন হলেও এর সাথে অল্প পরিমাণ অন্যান্য প্যারাফিন হাইড্রোকার্বন যেমন: ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন, পেন্টেন, হেক্সেন ইত্যাদি থাকে। এছাড়া আরও থাকে নাইট্রোজেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও হাইড্রোজেন সালফাইড।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মিথেন
প্রাকৃতিক গ্যাস বা Natural Gas হলো একটি হাইড্রোকার্বন মিশ্রণ, যার প্রধান এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো মিথেন (CH4CH_4)
বিশ্বের বেশিরভাগ প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদানের মধ্যে প্রায় ৮৫% থেকে ৯৫% পর্যন্তই থাকে মিথেন গ্যাস
এই কারণে, যেকোনো পরীক্ষামূলক প্রশ্নে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান জানতে চাইলে উত্তর সবসময় মিথেন হবে।
অন্যান্য উপাদান যেমন—ইথেন, প্রোপেন এবং বিউটেনও থাকে, তবে তা গৌণ। নাইট্রোজেন বা হাইড্রোজেন প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান নয়, বরং এগুলো খুবই সামান্য পরিমাণে মিশ্রিত থাকতে পারে।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
31

3517Cl মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 17
  2. 18
  3. 35
  4. 70

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কোনো পরমাণুতে উপস্থিত প্রোটন সংখ্যা (Z) ও নিউটন সংখ্যার (n) যোগফলকে ঐ পরমাণুর ভরসংখ্যা (A) বলে। যেহেতু ভরসংখ্যা হলো প্রোটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফল, কাজেই ভরসংখ্যা থেকে প্রোটন সংখ্যা বিয়োগ করলে নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যায়। প্রশ্নানুযায়ী ক্লোরিনের (Cl) ভরসংখ্যা হলো 35, এর প্রোটন সংখ্যা 17, ফলে এর টিউট্রন সংখ্যা হচ্ছে A-Z = 35-17= 18।

ব্যাখ্যা

এটি পরমাণুর মৌলিক গঠন সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
কোনো মৌলের প্রতীক যখন ZAX{}^A_Z X আকারে লেখা হয়, তখন:
A (উপরে লিখিত সংখ্যা) হলো ভর সংখ্যা (Mass Number)। এটি হলো পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার সমষ্টি
Z (নিচে লিখিত সংখ্যা) হলো পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number)। এটি হলো পরমাণুতে থাকা প্রোটন সংখ্যা
দেওয়া আছে মৌলটি হলো 1735extCl{}^{35}_{17} ext{Cl}
এখানে, ভর সংখ্যা (A) = 35 এবং পারমাণবিক সংখ্যা (Z) = 17
নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়ের সূত্র হলো:
নিউট্রন সংখ্যা (N) = ভর সংখ্যা (A) - প্রোটন সংখ্যা (Z)
নির্ণেয় নিউট্রন সংখ্যা = 3517=1835 - 17 = 18
সঠিক উত্তর হলো 18। (অন্যান্য অপশনগুলো: 17 হলো প্রোটন সংখ্যা; 35 হলো ভর সংখ্যা)।
32

কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা কিসের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ঘনীভবন
  2. বাষ্পীভবন
  3. গলনাঙ্ক
  4. স্ফুটনাঙ্ক

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

কঠিন যৌগের বিশুদ্ধতার মানদণ্ড হলো স্থির গলনাঙ্ক, স্থির প্রতিসরাঙ্ক, স্ফটিকাকৃতি ও আপেক্ষিক গুরুত্বের নির্দিষ্ট মান। তরল যৌগের বিশুদ্ধতার মানদণ্ড হলো স্থির স্ফুটনাঙ্ক, স্থির প্রতিসরাঙ্ক ও ঘনত্বের নির্দিষ্ট মান।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গলনাঙ্ক (Melting Point)
বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থ একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলে যায়, যাকে তার নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক বলা হয়। যেমন, বিশুদ্ধ বরফের গলনাঙ্ক 0C0^{\circ}C
যদি কঠিন পদার্থে কোনো অপদ্রব্য বা ভেজাল মিশ্রিত থাকে, তবে তা সেই কঠিন পদার্থের গলনাঙ্ককে কমিয়ে দেয় এবং একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পরিবর্তে এটি তাপমাত্রার একটি পাল্লা ধরে গলতে থাকে।
সুতরাং, কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ, তা তার গলনাঙ্ক পরিমাপের মাধ্যমে সবচেয়ে সহজে ও নির্ভরযোগ্যভাবে নির্ণয় করা যায়।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, স্ফুটনাঙ্ক (Boiling Point) সাধারণত তরল পদার্থের বিশুদ্ধতা নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। ঘনীভবন ও বাষ্পীভবন হলো পদার্থের অবস্থার পরিবর্তন প্রক্রিয়া, যা সরাসরি বিশুদ্ধতা নির্ণয়ের পরিমাপক নয়।
33

অ্যানোডে কোন বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জারণ
  2. বিজারণ
  3. প্রশমন
  4. পানিযোজন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ ও তড়িৎ রাসায়নিক কোষে যেসব পদার্থ তড়িৎ পরিবহন করে তাদেরকে তড়িৎদ্বার বলে। তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ ও তড়িৎ রাসায়নিক কোষের গঠনে দুই ধরনের তড়িৎদ্বার দেখা যায়- একটি অ্যানোড ও অপরটি ক্যাথোড। যে তড়িৎদ্বারে জারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে অ্যানোড এবং যে তড়িৎদ্বারে বিজারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে ক্যাথোড বলে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: জারণ
তড়িৎ রাসায়নিক কোষে (Electrochemical Cell) বা তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় যে ইলেকট্রোডটিতে ইলেকট্রন বর্জন বা অক্সিডেশন (Oxidation) ঘটে, সেটিই হলো অ্যানোড
অ্যানোড হলো সেই ইলেকট্রোড, যেখানে সাধারণত ধনাত্মক আধানের প্রতি আসক্তি (Anion attraction) সৃষ্টি হয় এবং অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে জারিত হয়।
বিক্রিয়াটি সর্বদা মনে রাখবেন: অ্যানোড = জারণ এবং ক্যাথোড = বিজারণ। এই নিয়মটি সকল প্রকার কোষের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
অন্যদিকে, বিজারণ (Reduction) প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রন গ্রহণ করা হয়, যা সবসময় ক্যাথোডে সম্পন্ন হয়। তাই বিজারণ উত্তরটি ভুল।
34

একটি বাল্বে ‘60 W-220 V’ লেখা আছে। বাল্বটির রোধ কত ওহম (Ohm)?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 16.36
  2. 160
  3. 280
  4. 806.67

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যাখ্যা

এটি তড়িৎ ক্ষমতা (Power) এবং রোধ (Resistance) সংক্রান্ত একটি মৌলিক গাণিতিক সমস্যা।
এখানে প্রদত্ত মানগুলো হলো:
ক্ষমতা (P) = 60 W (ওয়াট)
বিভব পার্থক্য (V) = 220 V (ভোল্ট)
আমাদেরকে রোধ (R) এর মান বের করতে হবে।
ক্ষমতা (P), বিভব পার্থক্য (V) এবং রোধ (R)-এর মধ্যে সম্পর্কযুক্ত সূত্রটি হলো: P=V2RP = \frac{V^2}{R}
সুতরাং, রোধ (R) নির্ণয়ের সূত্রটি হবে: R=V2PR = \frac{V^2}{P}
প্রাপ্ত মানগুলো সূত্রে বসিয়ে পাই:
R=(220 V)260 WR = \frac{(220 \text{ V})^2}{60 \text{ W}}
R=4840060R = \frac{48400}{60}
R806.666 ওহম (Ohm)R \approx 806.666 \text{ ওহম (Ohm)}
নিকটতম মান হিসেবে সঠিক উত্তর হলো 806.67
35

নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তেল
  2. গ্যাস
  3. কয়লা
  4. বায়োগ্যাস

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

যেসব জ্বালানি নানা প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া যায়, যেগুলোর মজুদ ভবিষ্যতে কখনো শেষ হবে না অর্থাৎ বারবার ব্যবহার করা যায় তাদেরকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বলে। সূর্যরশ্মি, বায়োগ্যাস ইত্যাদি নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস। স্থিতিশীল টেকসই উন্নয়নের প্রথম শর্ত দূষণহীন বিকল্প শক্তির উৎসের সন্ধান করা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বায়োগ্যাস
নবায়নযোগ্য জ্বালানি (Renewable Energy) হলো সেইসব প্রাকৃতিক উৎস, যা ব্যবহার করার পর স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রকৃতিতে পুনরায় তৈরি হয় বা শেষ হয়ে যায় না। বায়োগ্যাস এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটি গোবর, প্রাণীর মল বা জৈব বর্জ্য পচিয়ে তৈরি করা হয় এবং এর উৎস (যেমন গোবর) প্রাকৃতিকভাবে পূরণ হতে থাকে।
অপরদিকে, তেল, গ্যাস এবং কয়লা হলো নবায়নঅযোগ্য জ্বালানি (Non-renewable Energy)। এগুলোকে একত্রে জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuels) বলা হয়। এদের ভাণ্ডার সীমিত এবং ব্যবহার করলে তা নিঃশেষ হয়ে যায়।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
36

AC কে DC করার যন্ত্র-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রেকটিফায়ার
  2. অ্যামপ্লিফায়ার
  3. ট্রান্সজিস্টর
  4. ডায়োড

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

রেকটিফায়ার হলো একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা পরিবর্তনশীল বিদ্যুৎ প্রবাহকে (যার দিক পর্যায়ক্রমিকভাবে পরিবর্তন হয়), একমুখী বিদ্যুৎ প্রবাহে রূপান্তরিত করে অর্থাৎ AC কে DC- তে রূপান্তর করে, যার দিক হলো একটি নির্দিষ্ট দিকে এবং এই প্রক্রিয়াকে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণ বলে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: রেকটিফায়ার (Rectifier)
যে যন্ত্র বা সার্কিট দ্বারা AC (Alternating Current) বা পরিবর্তী বিদ্যুৎ প্রবাহকে DC (Direct Current) বা একমুখী বিদ্যুৎ প্রবাহে রূপান্তর করা হয়, তাকে রেকটিফায়ার বলে। এই প্রক্রিয়াকে রেকটিফিকেশন বলা হয়।
আমাদের বাসা বাড়িতে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ (AC) থেকে মোবাইল চার্জার, টিভি, ল্যাপটপ ইত্যাদি চালানোর জন্য DC বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। রেকটিফায়ার সেই কাজটি করে।
ডায়োড: এটি রেকটিফায়ারের মূল উপাদান, যা বিদ্যুৎকে শুধুমাত্র একদিকে প্রবাহিত হতে দেয়। কিন্তু ডায়োড এককভাবে পূর্ণাঙ্গ AC-DC রূপান্তরকারী যন্ত্র নয়।
অ্যামপ্লিফায়ার: এটি বিদ্যুতের সিগনালের শক্তি (strength) বৃদ্ধি করে, AC কে DC করে না।
ট্রান্সজিস্টর: এটি সাধারণত ইলেকট্রনিক সিগনালকে বিবর্ধন (Amplification) বা সুইচিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়।
37

বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় কোন যন্ত্রের মাধ্যমে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. লাউড স্পিকার
  2. অ্যামপ্লিফায়ার
  3. জেনারেটর
  4. মাল্টিমিটার

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

স্পিকার মাইক্রোফোনের ঠিক বিপরীত কাজ করে অর্থাৎ বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত করে। যখন শব্দ থেকে তৈরি বৈদ্যুতিক সিগন্যালকে অ্যামপ্লিফায়ার দিয়ে বিবর্ধিত করে স্পিকারে পাঠানো হয় তখন কাগজ বা হালকা ধাতুর তৈরি শঙ্কু বা কোনটি সামনে-পেছনে কম্পিত হয়ে যথাযথ শব্দ তৈরি করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: লাউড স্পিকার (Loud Speaker)
লাউড স্পিকার যন্ত্রটি বৈদ্যুতিক সিগন্যাল গ্রহণ করে এবং সেটিকে যান্ত্রিক কম্পনের (Mechanical Vibration) মাধ্যমে শব্দ শক্তিতে (Sound Energy) রূপান্তরিত করে। সুতরাং, এটি বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তরের একটি প্রধান উদাহরণ।
অন্যান্য অপশনগুলোর কাজ নিম্নরূপ:
অ্যামপ্লিফায়ার (Amplifier): এটি বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত করে না, বরং দুর্বল বৈদ্যুতিক সংকেতকে শক্তিশালী বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তরিত করে।
জেনারেটর (Generator): এটি যান্ত্রিক শক্তিকে (Mechanical Energy) বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
মাল্টিমিটার (Multimeter): এটি কোনো শক্তি রূপান্তর করে না, বরং বিদ্যুৎ প্রবাহ, ভোল্টেজ বা রোধের মতো বৈদ্যুতিক পরিমাপসমূহ নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয়।
38

বাতাসের আর্দ্রতা মাপার যন্ত্রের নাম কি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মাইক্রোমিটার
  2. হাইগ্রোমিটার
  3. ব্যারোমিটার
  4. গ্রাভিমিটার

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বাতাসের আর্দ্রতা মাপার যন্ত্র হলো হাইগ্রোমিটার। ব্যারোমিটারের সাহায্যে বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণয় করা যায়।

ব্যাখ্যা

বাতাসের আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্পের পরিমাণ পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয় হাইগ্রোমিটার (Hygrometer)
আর্দ্রতা পরিমাপের জন্য এটিই সঠিক যন্ত্র।
হাইগ্রোমিটার মূলত বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের ঘনত্ব (humidity) পরিমাপ করে।
অন্যান্য অপশনগুলোর ব্যবহার:
ব্যারোমিটার (Barometer): এটি বায়ুমণ্ডলের বায়ুচাপ (Atmospheric Pressure) পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়। বিসিএস পরীক্ষায় এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অপশন।
মাইক্রোমিটার (Micrometer): এটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র দৈর্ঘ্য, ব্যাস বা পুরুত্ব পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।
গ্রাভিমিটার (Gravimeter): এটি কোনো স্থানের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি (Gravitational Acceleration) পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।
39

কোথায় সাঁতার কাটা সহজ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পুকুরে
  2. খালে
  3. নদীতে
  4. সাগরে

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

যে পানির ঘনত্ব বেশি সে পানিতে সাঁতার কাটা সহজ। সমুদ্রের পানিতে ২.৫% থেকে ৩.৫% লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে যার ফলে পুকুর, নদী বা বিলের পানির চেয়ে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব বেশি। তাই সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সাগরে। সাঁতার কাটা সহজ হওয়ার পেছনের মূল বৈজ্ঞানিক কারণ হলো প্লবতা (Buoyancy) এবং তরলের ঘনত্ব (Density)।
সাগরের জলে প্রচুর পরিমাণে লবণ মিশ্রিত থাকে, যার ফলে সাগরের জলের ঘনত্ব পুকুর, খাল বা নদীর (মিঠা জল) জলের ঘনত্বের চেয়ে অনেক বেশি হয়।
বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের সূত্র অনুযায়ী, কোনো বস্তুকে তরলে নিমজ্জিত করলে বস্তুটির উপর যে ঊর্ধমুখী বল প্রযুক্ত হয় (প্লবতা), তা তরলের ঘনত্বের সমানুপাতিক।
যেহেতু সাগরের জলের ঘনত্ব বেশি, তাই এটি সাঁতারুর শরীরে বেশি প্লবতা বা ঊর্ধমুখী ঠেলা দেয়, ফলে সাঁতারু সহজে ভেসে থাকতে পারে এবং সাঁতার কাটা সহজ হয়।
40

সোডিয়াম এসিটেটের সংকেত-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. CH2COONa

  2. (CH3COO)2Ca

  3. CH3COONa

  4. CHCOONa

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: CH₃COONa। এটি হলো সোডিয়াম অ্যাসিটেটের (Sodium Acetate) রাসায়নিক সংকেত।
সোডিয়াম অ্যাসিটেট হলো একটি দুর্বল এসিড (অ্যাসেটিক এসিড, CH3COOH\text{CH}_3\text{COOH}) এবং একটি সবল ক্ষার (সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড, NaOH\text{NaOH}) এর বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণ।
অ্যাসেটিক অ্যাসিডের অ্যাসিডিক হাইড্রোজেনটি সোডিয়াম দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়ে অ্যাসিটেট আয়ন (CH3COO\text{CH}_3\text{COO}^-) এবং সোডিয়াম আয়ন (Na+\text{Na}^+) যুক্ত হয়ে এই লবণটি গঠন করে।
অন্যান্য অপশনের মধ্যে, (CH₃COO)₂Ca হলো ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেট। ক্যালসিয়াম (Ca\text{Ca}) দ্বিযোজী হওয়ায় এর সাথে দুটি অ্যাসিটেট মূলক যুক্ত হয়।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
41

ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা বিকিরণের উৎস কি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আইসোটোন
  2. আইসোটোপ
  3. আইসোবার
  4. আইসোমার

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা বিকিরণের উৎস হলো আইসোটোপ। যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাকে আইসোটোপ বলে। ক্যান্সার চিকিৎসায় সাধারণত কোবাল্ট ৬০ (60Co) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো আইসোটোপ। তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বা রেডিওআইসোটোপ হলো সেই পরমাণু যাদের নিউক্লিয়াস অস্থির এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্ষয়প্রাপ্তির মাধ্যমে আলফা, বিটা ও গামা বিকিরণ নির্গত করে।
ক্যান্সার চিকিৎসায় গামা বিকিরণ ব্যবহার করা হয়, কারণ গামা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা (Penetration Power) অত্যন্ত বেশি। এটি শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলোকে টার্গেট করে ধ্বংস করতে সক্ষম।
এই ধরনের চিকিৎসাকে রেডিওথেরাপি বা বিকিরণ থেরাপি বলা হয়। বহুল ব্যবহৃত তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ হলো কোবাল্ট-৬০ (Cobalt-60) এবং সিজিয়াম-১৩৭ (Caesium-137)
অন্যান্য অপশন যেমন—আইসোটোন (নিউটনের সংখ্যা সমান), আইসোবার (ভর সংখ্যা সমান) অথবা আইসোমার (রাসায়নিক সূত্র সমান কিন্তু গঠন ভিন্ন)—এগুলো সরাসরি তেজস্ক্রিয় বিকিরণের উৎস নয়।
42

TV remote এর Carrier Frequency –র range কত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. <100 MHZ
  2. <1 GHZ
  3. < 2 GHZ
  4. Infrared-red range এর

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য বিভিন্ন যন্ত্রে সাধারণত ইনফ্রারেড (IR) ও রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি (RF) রিমোট কন্ট্রোল ব্যবহার করা হয়। টেলিভিশন ও রেডিওতে সাধারণত ইনফ্রারেড এবং তারবিহীন কীবোর্ড ও মাউস, কার ইত্যাদিতে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি রিমোট কন্ট্রোল ব্যবহৃত হয়। ইনফ্রারেডের Carrier frequency- এর range সাধারণত 30-60 Khz, তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে 38 Khz।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: Infrared-red range এর
সাধারণত, টেলিভিশন বা এসি (AC) রিমোট কন্ট্রোলগুলো সংকেত প্রেরণের জন্য ইনফ্রারেড (Infrared) বা অবলোহিত আলো ব্যবহার করে।
ইনফ্রারেড হলো বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় বর্ণালীর এমন একটি অংশ, যা দৃশ্যমান আলোর (Visible Light) ঠিক নিচে অবস্থান করে। এই তরঙ্গের ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জ সাধারণ রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি (RF) থেকে অনেক বেশি (সাধারণত ৩০০ GHz থেকে ৪০০ THz এর মধ্যে)।
বিকল্পগুলোতে দেওয়া MHz বা GHz রেঞ্জগুলো মূলত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি (RF)-কে নির্দেশ করে, যা মোবাইল ফোন বা Wi-Fi ডিভাইসে ব্যবহৃত হয়। স্ট্যান্ডার্ড টিভি রিমোটে RF ব্যবহার না করে IR ব্যবহার করা হয়, তাই এটি সরাসরি ‘Infrared-red range’ হিসেবে পরিচিত।
43

রাস্তার সমান করার রোলার সরাবার জন্য সহজ হবে, যদি রোলারকে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ঠেলে নিয়ে যাওয়া হয়
  2. টেনে নিয়ে যাওয়া হয়
  3. তুলে নিয়ে যাওয়া হয়
  4. সমান সহজ হয়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: টেনে নিয়ে যাওয়া হয়
এটি বল (Force) এবং ঘর্ষণ (Friction) সংক্রান্ত একটি মৌলিক বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন। এই ধারণাটি থেকেই বোঝা যায় কেন ভারী জিনিস ঠেলা বা ধাক্কা দেওয়ার চেয়ে টেনে নিয়ে যাওয়া সহজ
যখন রোলারটিকে টেনে নেওয়া হয় (Pulling), তখন প্রযুক্ত বলের একটি উল্লম্ব উপাংশ (Vertical Component) উপরের দিকে কাজ করে। এই উপাংশটি রোলারের কার্যকরী ওজনকে (Effective Weight) কিছুটা কমিয়ে দেয়
যেহেতু ঘর্ষণ বল (Frictional Force) বস্তুর ওজনের উপর নির্ভর করে (f=μNf = \mu N), কার্যকরী ওজন কমে যাওয়ায় ঘর্ষণ বলও হ্রাস পায়। ফলে কম বল প্রয়োগ করে রোলারটি সরানো সম্ভব হয়।
অন্যদিকে, যখন রোলারটিকে ঠেলে নিয়ে যাওয়া হয় (Pushing), তখন প্রযুক্ত বলের উল্লম্ব উপাংশটি রোলারের ওজনের সাথে নিচের দিকে যুক্ত হয়ে যায়। এতে রোলারের কার্যকরী ওজন বেড়ে যায়, ফলে ঘর্ষণ বলও অনেক বেড়ে যায়, যা রোলার সরাতে বেশি কঠিন করে তোলে।
44

ভারসাম্য রক্ষা করতে নির্দেশিত স্থানে কত কেজি রাখতে হবে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 120
  2. 140
  3. 160
  4. 80

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্যাখ্যা

এই প্রশ্নটি পদার্থবিজ্ঞানের **লিভারের নীতি (Principle of Lever)** বা **বলের ভ্রামক (Moment of Force)** এর উপর ভিত্তি করে তৈরি।
ভারসাম্য রক্ষার জন্য, লিভারের উভয় পাশের ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘূর্ণন বল (Clockwise Moment) এবং ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘূর্ণন বল (Anti-clockwise Moment) সমান হতে হবে।
সূত্রটি হলো:
বস্তুর ওজন (extW1 ext{W}_1) imes imes দূরত্ব (extd1 ext{d}_1) = নির্দেশিত ওজন (extW2 ext{W}_2) imes imes দূরত্ব (extd2 ext{d}_2)
বাম পাশে দেওয়া আছে, ওজন extW1=40 ext{W}_1 = 40 কেজি এবং দূরত্ব extd1=30 ext{d}_1 = 30 সেমি।
ডান পাশে, দূরত্ব extd2=10 ext{d}_2 = 10 সেমি এবং নির্দেশিত ওজন extW2=X ext{W}_2 = X কেজি।
মান বসিয়ে পাই:
40imes30=Ximes1040 imes 30 = X imes 10
1200=10X1200 = 10X
বা, X=1200/10=120X = 1200 / 10 = 120
সুতরাং, ভারসাম্য রক্ষা করতে নির্দেশিত স্থানে 120 কেজি রাখতে হবে। (যদিও প্রশ্নে প্রদত্ত সঠিক উত্তর অপশন-২ (140) নির্দেশিত ছিল, কিন্তু গাণিতিকভাবে সঠিক উত্তর 120)।
45

সমুদ্রতীরে কোনটির প্রাচুর্য থাকে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নাইট্রোজেন (Nitrogen)
  2. হাইড্রোজেন (Hydrogen)
  3. অক্সিজেন (Oxygen)
  4. ওজোন (Ozone)

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন ৭৮.০২% এবং অক্সিজেন ২০.৭১%। এ দুটি গ্যাস বাদে বাকি বায়ুমণ্ডলীয় উপাদানগুলো অল্প পরিমাণেই থাকে। সমুদ্রতীরে এর সামান্য ব্যত্যয় হলেও নাইট্রোজেনের প্রাচুর্যই বেশি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: নাইট্রোজেন (Nitrogen)
সমুদ্রতীর বা পৃথিবীর যেকোনো স্থানের বায়ুমণ্ডলের উপাদান মূলত একই থাকে (ক্ষুদ্রমণ্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার স্তরে)। বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকা গ্যাসটি হলো নাইট্রোজেন
বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ প্রায় ৭৮.০৯%, যা অন্য যেকোনো গ্যাসের চেয়ে অনেক বেশি।
দ্বিতীয় প্রধান গ্যাস হলো অক্সিজেন, যার পরিমাণ প্রায় ২০.৯৫%
অনেকে সমুদ্রের তীরে অক্সিজেন বেশি থাকার ভুল ধারণা পোষণ করেন, কিন্তু বায়ুমণ্ডলের মৌলিক গ্যাসীয় মিশ্রণ সর্বত্র প্রায় স্থির থাকে।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
46

কোন গ্যাসটি ‘ড্রাই আইস’ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অক্সিজেন
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. সালফার ডাই-অক্সাইড
  4. নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘ড্রাই আইস’ তৈরিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাসকে -78.5° C তাপমাত্রায় শীতল করলে এটি তরল না হয়ে সরাসরি কঠিন অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। একে শুষ্ক বরফ বা ড্রাই আইস বলা হয়। শুষ্ক বরফ নামকরণের তাৎপর্য হলো এটি দেখতে বরফের মত সাদা অথচ হাতে ধরলে হাত ভেজায় না। এটি নাট্যমঞ্চে ধোঁয়া তৈরিতে ও হিমায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (Carbon Dioxide / CO₂)।
‘ড্রাই আইস’ (Dry Ice) হলো মূলত কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) গ্যাসের কঠিন বা জমাট বাঁধা রূপ।
সাধারণ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে, কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে ৭৮.ext°C-৭৮.৫ ext{°C} (বা ১০৯.ext°F-১০৯.৩ ext{°F}) তাপমাত্রায় শীতল করলে তা তরল না হয়ে সরাসরি কঠিনে পরিণত হয়।
এই কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড গলিত না হয়ে সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয় (ঊর্ধ্বপাতন), তাই এটি কোনো প্রকার আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্প সৃষ্টি করে না। এই কারণে একে ‘শুষ্ক বরফ’ বা ‘ড্রাই আইস’ বলা হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো যেমন অক্সিজেন, সালফার ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি ভিন্ন গ্যাস, যা দিয়ে ড্রাই আইস তৈরি করা যায় না।
47

বর্তমানে পরিবেশ-বান্ধব কোন গ্যাসটি রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসরে ব্যবহার করা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. টাইক্লোরোটাইফ্লুরো ইথেন
  2. টেট্রাফ্লুরো ইথেন
  3. ডাইক্লোরো ডাইফ্লুরো ইথেন
  4. আর্গন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বর্তমানে পরিবেশ-বান্ধব ফ্রেয়ন হিসেবে রেফ্রিজারেটরের বা এয়ার কন্ডিশনের কম্প্রেসারে টেট্রাফ্লুরোইথেন ব্যবহার করা হয়। এর IUPAC নাম 1, 1, 1, 2 টেট্রাফ্লুরোইথেন। এর তাপজাতীয় ধর্মাবলি ডাইক্লোরো ডাইফ্লুরো মিথেন-এর মতো হলেও ওজোন স্তরের ভাঙনে এর প্রভাব কম। এছাড়া পৃথিবীর উষ্ণায়নেও এর প্রভাব কম হওয়ায় বর্তমানে ফ্রেয়ন হিসেবে এটিকে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। একে নরফ্লুরেনও বলা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: টেট্রাফ্লুরো ইথেন
এই গ্যাসটি বাণিজ্যিকভাবে R-134a বা HFC-134a (Hydrofluorocarbon-134a) নামে পরিচিত। এটি রেফ্রিজারেশন বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বর্তমানে ব্যবহৃত সবচেয়ে পরিবেশ-বান্ধব গ্যাসগুলোর মধ্যে অন্যতম।
এটি পরিবেশ-বান্ধব কারণ এর মধ্যে কোনো ক্লোরিন পরমাণু নেই। ফলে এটি বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ধ্বংসের ক্ষমতা (Ozone Depletion Potential - ODP) রাখে না, যা একে একটি নিরাপদ বিকল্পে পরিণত করেছে।
যে গ্যাসটি আগে বহুল ব্যবহৃত হতো তা হলো ডাইক্লোরো ডাইফ্লুরো ইথেন (যা ফ্রেয়ন-১২ নামে পরিচিত)। এটি একটি ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) যৌগ। CFC গ্যাস ওজোন স্তরকে মারাত্মকভাবে ক্ষতি করে বলে মন্ট্রিল প্রটোকলের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
48

ক্যান্সার চিকিৎসায় যে বিকিরণ ব্যবহার করা হয় তা হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আলফা রেস (Alpha rays)
  2. বিটা রেস (Beta rays)
  3. গামা রেস (Gama rays)
  4. এক্স (এক্স) রেস (X-rays)

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ক্যান্সার চিকিৎসায় যে বিকিরণ ব্যবহার করা হয় তা হলো- গামা রেস (Gama rays)। শরীরের কোনো স্থানে ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। অপরদিকে কোবাল্ট −60(60C0) আইসোটোপ থেকে নির্গত তীব্র গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে দেহের সুস্থ কোষ কলা ঠিক রেখে ক্যান্সার টিউমার কোষকলাকে ধ্বংস করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো গামা রেস (Gama rays)
ক্যান্সার চিকিৎসায় টিউমার কোষগুলোকে ধ্বংস করার জন্য যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, তাকে রেডিওথেরাপি (Radiotherapy) বা বিকিরণ থেরাপি বলে।
গামা রশ্মি হলো তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালীর মধ্যে থাকা সর্বোচ্চ শক্তি ও উচ্চ ভেদন ক্ষমতা (High Penetration Power) সম্পন্ন বিকিরণ। এর এই বৈশিষ্ট্যের কারণে শরীরের গভীরের ক্যান্সার কোষ বা টিউমারকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্য করে ধ্বংস করা সম্ভব হয়।
রেডিওথেরাপিতে সাধারণত কোবাল্ট-৬০ (Cobalt-60) আইসোটোপ থেকে নিঃসৃত গামা রশ্মি ব্যবহার করা হয়, যা 'কোবাল্ট থেরাপি' নামেও পরিচিত।
অন্যদিকে, এক্স-রে (X-rays) প্রধানত রোগ নির্ণয় (যেমন: সিটি স্ক্যান বা ভাঙা হাড়) বা ত্বকের কাছাকাছি থাকা টিউমারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। আলফা ও বিটা রেস-এর ভেদন ক্ষমতা অত্যন্ত কম হওয়ায় এদের সাধারণত সরাসরি ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় না, তবে অভ্যন্তরীণ টার্গেটেড রেডিয়েশনে এদের ব্যবহার সীমিত।
49

প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নাইট্রোজেন গ্যাস
  2. মিথেন গ্যাস
  3. হাইড্রোজেন গ্যাস
  4. কার্বন মনোক্সাইড

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদানগুলো হলো: মিথেন ৮০% - ৯০%, ইথেন ১৩%, প্রোপেন ৩%। এছাড়া বিউটেন, ইথিলিন ও নাইট্রোজেনও কিছু পরিমাণ থাকে। আমাদের বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ ৯৫% - ৯৯%।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মিথেন গ্যাস
প্রাকৃতিক গ্যাসের (Natural Gas) প্রধান এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো মিথেন (CH4CH_4)। এটি একটি সরলতম হাইড্রোকার্বন।
সাধারণত, বাণিজ্যিক প্রাকৃতিক গ্যাসে ৮০% থেকে ৯৫% পর্যন্ত মিথেন গ্যাস থাকে। এই উচ্চ ঘনত্বের কারণেই মিথেনকে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হিসেবে ধরা হয়।
মিথেন একটি বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অত্যন্ত দাহ্য গ্যাস, যা জ্বালানি হিসেবে বহুল ব্যবহৃত হয়।
অন্যান্য অপশনসমূহ, যেমন—নাইট্রোজেন গ্যাস সামান্য পরিমাণে থাকলেও তা প্রধান উপাদান নয়। হাইড্রোজেন গ্যাস বা কার্বন মনোক্সাইড (যা CO) প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হিসেবে গণ্য হয় না।
50

কোনটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তেল
  2. সমুদ্রের ঢেউ
  3. গ্যাস
  4. কয়লা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

যেসব শক্তির উৎস অফুরন্ত এবং বারবার ব্যবহার করা যায় তাদেরকে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস বলা হয়। সূর্য রশ্মি, পানি, বায়ু, পারমাণবিক শক্তি, সমুদ্রের ঢেউ ইত্যাদি হলো নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসের উদাহরণ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সমুদ্রের ঢেউ
যে শক্তির উৎসগুলি ব্যবহারের ফলে ফুরিয়ে যায় না বা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় খুব দ্রুত পূরণ হয়ে যায়, তাদের নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস (Renewable Energy Source) বলা হয়। যেমন: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, সমুদ্রের ঢেউ এবং ভূ-তাপীয় শক্তি।
অন্যদিকে, তেল, গ্যাস ও কয়লা হলো জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuels) এবং এগুলি অনবায়নযোগ্য (Non-Renewable) শক্তির উৎস। একবার ব্যবহার করলে এগুলি শেষ হয়ে যায় এবং প্রকৃতিতে এদের ভাণ্ডার সীমিত।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
51

নিম্নের চারটির মধ্যে কোনটি ভিন্ন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পিতল
  2. তামা
  3. লোহা
  4. টিন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

পিতল একটি সংকর ধাতু যা তামা ও দস্তার সমন্বয়ে গঠিত। অপরদিকে তামা, লোহা ও টিন মৌলিক ধাতু। সুতরাং চারটির মধ্যে পিতল ভিন্ন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পিতল (Brass)
কারণ, অপশনগুলোর মধ্যে তামা, লোহা এবং টিন হলো মৌলিক ধাতু (Pure Elements)। অর্থাৎ এদের রাসায়নিক গঠন একক মৌল দ্বারা গঠিত।
কিন্তু পিতল হলো একটি সংকর ধাতু (Alloy)। এটি মৌলিক ধাতু নয়, বরং এটি একাধিক ধাতুর (প্রধানত তামা ও দস্তা) মিশ্রণে তৈরি হয়।
সুতরাং, মৌলিক গঠনের দিক থেকে পিতল অন্য তিনটি থেকে ভিন্ন।
52

কোন যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ট্রান্সফরমার
  2. ডায়নামো
  3. বৈদ্যুতিক মটর
  4. হুইল

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ডায়নামো এমন একটি যন্ত্র যা যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে। অন্যদিকে বৈদ্যুতিক মটর, বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। ট্রান্সফরমার হলো রূপান্তরক যা উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ডায়নামো (Dynamo)
ডায়নামো বা জেনারেটর হলো এমন একটি যন্ত্র, যা তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction) নীতি ব্যবহার করে যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এটি জেনারেটর হিসেবেও পরিচিত।
অন্যান্য অপশনসমূহ:
বৈদ্যুতিক মটর (Electric Motor): এটি ঠিক এর বিপরীত কাজটি করে। এটি বিদ্যুৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
ট্রান্সফরমার (Transformer): এটি শক্তির রূপান্তর ঘটায় না। এটি কেবল AC (Alternating Current) ভোল্টেজকে প্রয়োজন অনুসারে বাড়াতে বা কমাতে (Up or Down) সাহায্য করে।
53

মোবাইল টেলিফোনের লাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শব্দশক্তি
  2. তড়িৎশক্তি
  3. আলোকশক্তি
  4. চৌম্বকশক্তি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

মোবাইল টেলিফোনের লাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় শব্দশক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এই তড়িৎশক্তি আবার শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে শ্রোতার কানে পৌঁছায়। অতএব মোবাইল টেলিফোনের লাইনের মধ্যদিয়ে তড়িৎশক্তি প্রবাহিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: তড়িৎশক্তি
মোবাইল টেলিফোনের মূল কাজ হলো শব্দকে সিগনালে রূপান্তর করা। যখন আমরা কথা বলি, তখন মাইক্রোফোন শব্দশক্তিকে প্রথমে তড়িৎ সিগনালে (Electrical Signal) রূপান্তরিত করে।
এই তড়িৎ সিগনালই মোবাইল ফোনের অভ্যন্তরীণ সার্কিট এবং বেস স্টেশনের সাথে সংযোগকারী তামার লাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
অবশেষে, এই তড়িৎ সিগনাল অ্যান্টেনা থেকে তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ (Electromagnetic Waves) রূপে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু লাইনের মধ্য দিয়ে (সার্কিটের তার বা কপার কেবল) প্রধানত তড়িৎশক্তিই প্রবাহিত হয়।
যদিও উচ্চ গতির ডেটা স্থানান্তরের জন্য প্রধান নেটওয়ার্ক সংযোগে আলোকশক্তি (অপটিক্যাল ফাইবার) ব্যবহৃত হয়, তড়িৎশক্তি হলো সিগনাল বহনকারী মৌলিক শক্তি রূপ, বিশেষত মোবাইল হ্যান্ডসেটের সাথে সম্পর্কিত লাইনে।
54

জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আলফা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. আলট্রাভায়োলেট রশ্মি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

জীব জগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি হলো গামা রশ্মি। গামা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা, অন্য তেজস্ক্রিয় রশ্মি আলফা ও বিটা রশ্মির চেয়ে অনেক বেশি। গামা রশ্মি প্রায় কয়েক সেন্টিমিটার পর্যন্ত সীসা ভেদ করতে পারে। আলট্রাভায়োলেট বা অতিবেগুনি রশ্মি সূর্য থেকে আসে, যা তেজস্ক্রিয় রশ্মি থেকে কম ক্ষতিকর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গামা রশ্মি
বিকিরণ বা রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব নির্ভর করে মূলত এর ভেদন ক্ষমতা (Penetrating Power) এবং শক্তি (Energy)-এর ওপর।
গামা রশ্মি (Gamma Ray) হল তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালীর (Electromagnetic Spectrum) মধ্যে থাকা সবচেয়ে কম তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও সর্বাধিক শক্তিসম্পন্ন রশ্মি
এর ভেদন ক্ষমতা এত বেশি যে এটি কয়েক সেন্টিমিটার পুরু সীসার (Lead) স্তর ভেদ করতে পারে এবং সহজেই জীবদেহের গভীরে প্রবেশ করে কোষের ডিএনএ (DNA) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অণুর আয়নায়ন ঘটিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। এই কারণে এটি জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর।
অন্যান্য অপশন যেমন—আলফা ও বিটা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা গামার চেয়ে অনেক কম। আর আলট্রাভায়োলেট রশ্মি (UV Ray) ত্বক ও চোখের ক্ষতি করলেও এটি বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর বা ত্বকের উপরিভাগ ভেদ করে দেহের অভ্যন্তরে গামা রশ্মির মতো মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে না।
55

কোন রং বেশি দূর থেকে দেখা যায়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সাদা
  2. কালো
  3. হলুদ
  4. লাল

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

লাল রঙের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বড় এবং বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম। তাই লাল রং বেশি দূর থেকে দেখা যায়। অন্যদিকে সাদা ও কালো কোনো রং নয়। সবগুলো রং যেখান থেকে প্রতিফলিত হয় তাকে সাদা দেখা যায় এবং যেখানে সবগুলো রং শোষিত হয় তাকে কালো দেখা যায়। হলুদ রঙের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য লাল ও কমলা রঙের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য থেকে ছোট।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: লাল (Red)
কোনো রং কতদূর থেকে দেখা যাবে, তা নির্ভর করে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Wavelength) এবং বায়ুমণ্ডলে তার বিক্ষিপ্ত হওয়ার (Scattering) প্রবণতার উপর।
দৃশ্যমান আলোর বর্ণালীতে লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Wavelength) সবচেয়ে বেশি, যা প্রায় ৭০০ ন্যানোমিটার
বিজ্ঞানী লর্ড র‍্যালে (Lord Rayleigh)-এর সূত্রানুসারে, আলোর বিক্ষেপণ তার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের চতুর্থ ঘাতের ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ, তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি হবে, বিক্ষেপণ তত কম হবে।
যেহেতু লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, তাই এটি ধোঁয়া, কুয়াশা বা মেঘের কণার দ্বারা সবচেয়ে কম বিক্ষিপ্ত হয়। ফলে লাল আলো কম শক্তি হারায় এবং সবচেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে, এমনকি প্রতিকূল আবহাওয়ায়ও।
অন্যদিকে, হলুদ, সাদা বা কালো রংয়ের মধ্যে সাদা কোনো একক রং নয় এবং কালো আলোর অনুপস্থিতি। আর হলুদ রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য লাল রঙের চেয়ে কম হওয়ায় এর দৃশ্যমানতা কম।
56

ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা বিকিরণের উৎস হলো–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আইসোটোন
  2. আইসোটোপ
  3. আইসোবার
  4. রাসায়নিক পদার্থ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা বিকিরণের উৎস হলো আইসোটোপ। যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাকে আইসোটোপ বলে। ক্যান্সার চিকিৎসায় সাধারণত কোবাল্ট ৬০ ((_^60)Co) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আইসোটোপ
ক্যান্সার চিকিৎসার অন্যতম পদ্ধতি হলো বিকিরণ থেরাপি (Radiotherapy)। এই থেরাপিতে টিউমারের কোষগুলোকে ধ্বংস করার জন্য উচ্চ ভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি ব্যবহার করা হয়।
যেসব পরমাণুর নিউক্লিয়াস স্থায়ী নয় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিকিরণ (আলফা, বিটা বা গামা) নিঃসরণ করে, তাদের তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ (Radioisotopes) বলা হয়। এই তেজস্ক্রিয় আইসোটোপগুলোই গামা বিকিরণের উৎস।
সাধারণত ক্যান্সার চিকিৎসায় গামা বিকিরণের প্রধান উৎস হিসেবে কোবাল্ট-৬০ (Cobalt-60) নামক তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
অন্যান্য অপশন: আইসোটোন (সমান সংখ্যক নিউট্রন) ও আইসোবার (সমান ভর সংখ্যা) হলো স্থিতিশীল পরমাণুর শ্রেণী, যা বিকিরণের উৎস নয়।
57

ভারসাম্য রক্ষা করতে নিচের চিত্রে বাম দিকে কত ওজন রাখতে হবে?


বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৪ কেজি
  2. ৬ কেজি
  3. ৮ কেজি
  4. ১০ কেজি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

উদ্দীপকের চিত্রটি বলবিদ্যার লিভারের নীতি (Principle of Moments) সংক্রান্ত। যখন কোনো লিভার বা দণ্ড একটি ফালক্রাম (Fulcrum) বা অবলম্বনের সাপেক্ষে ভারসাম্যে থাকে, তখন তার দুই পাশের ঘূর্ণন বল (Moment) অবশ্যই সমান হতে হবে।
ঘূর্ণন বল (Moment) = ওজন/বল (Force) ×\times ফালক্রাম থেকে দূরত্ব (Distance)।
ভারসাম্য রক্ষার শর্ত অনুযায়ী:
বাম দিকের ঘূর্ণন বল = ডান দিকের ঘূর্ণন বল
ধরি, বাম দিকে প্রয়োজনীয় ওজন WLW_L
বাম দিকের দূরত্ব dL=d_L = ৬ একক।
ডান দিকের ওজন WR=১২W_R = ১২ কেজি।
ডান দিকের দূরত্ব dR=d_R = ৪ একক।
সূত্র অনুযায়ী: WL×dL=WR×dRW_L \times d_L = W_R \times d_R
WL×=১২×W_L \times ৬ = ১২ \times ৪
WL=৪৮৬W_L = ৪৮
WL=৪৮W_L = \frac{৪৮}{৬}
WL=<strong>৮কেজি</strong>W_L = <strong>৮ কেজি</strong>
সুতরাং, ভারসাম্য বজায় রাখতে বাম দিকে ৮ কেজি ওজন রাখতে হবে।
58

আয়না থেকে ২ ফুট দূরত্বে দাঁড়িয়ে, আয়নাতে আপনার প্রতিবিম্ব কতদূর দেখা যাবে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৫ ফুট
  2. ৪ ফুট
  3. ৩ ফুট
  4. ২ ফুট

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সমতল দর্পণে লক্ষ্যবস্তু দর্পণ থেকে যতদূরে থাকে বস্তুর প্রতিবিম্ব দর্পণ থেকে ততদূরে গঠিত হয়। ∴ আয়নাতে প্রতিবিম্বটি ২ ফুট দূরে দেখা যাবে।

ব্যাখ্যা

এই প্রশ্নটি পদার্থবিজ্ঞানের আলোকের প্রতিফলন (Reflection) অধ্যায় থেকে এসেছে এবং এটি সমতল দর্পণ বা Plane Mirror-এর একটি মৌলিক নীতি।
সমতল দর্পণে সৃষ্ট প্রতিবিম্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো— দর্পণ থেকে বস্তুর দূরত্ব এবং দর্পণ থেকে প্রতিবিম্বের দূরত্ব সর্বদা সমান হয়।
১. প্রশ্নে দেওয়া আছে, আপনি আয়না থেকে ২ ফুট দূরত্বে দাঁড়িয়ে আছেন। (এটি বস্তুর দূরত্ব, u=u=২ ফুট)।
২. যেহেতু সমতল দর্পণের ক্ষেত্রে বস্তুর দূরত্ব (আয়না থেকে) = প্রতিবিম্বের দূরত্ব (আয়না থেকে), তাই প্রতিবিম্বটি আয়নার ২ ফুট ভেতরে গঠিত হবে।
সঠিক উত্তর: ২ ফুট
59

আকাশে রংধনু সৃষ্টির কারণ-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ধুলিকণা
  2. বায়ুস্তর
  3. বৃষ্টির কণা
  4. অতিবেগুনি রশ্মি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

আকাশে রংধনু সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো বৃষ্টির কণা। বৃষ্টির কণা এখানে প্রিজমের কাজ করে। বৃষ্টির কণায় যখন আলোকরশ্মি পতিত হয় তখন বৃষ্টির কণা ঐ আলোকরশ্মিকে ৭টি রঙে বিভক্ত করে, যাকে আমরা রংধনু বলি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বৃষ্টির কণা
আকাশে রংধনু সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো বৃষ্টির কণা দ্বারা আলোর প্রতিসরণ ও বিচ্ছুরণ। বৃষ্টি পড়ার পর যখন বাতাসের মধ্যে অসংখ্য ক্ষুদ্র জলকণা (বৃষ্টির কণা) ভেসে বেড়ায়, তখন এই কণাগুলি প্রিজমের মতো আচরণ করে।
সূর্যের সাদা আলো যখন এই জলকণার মধ্য দিয়ে প্রবেশ করে, তখন প্রথমে আলোর প্রতিসরণ ঘটে। এরপর জলকণার ভেতরের পৃষ্ঠে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটে এবং শেষে আলো কণা থেকে বের হওয়ার সময় আবার প্রতিসরণের মাধ্যমে সাদা আলো সাতটি রঙে বিভক্ত হয়ে যায় (বিচ্ছুরণ)। এই সম্মিলিত প্রক্রিয়ার ফলেই রংধনু সৃষ্টি হয়।
অন্যান্য অপশন যেমন ধুলিকণা বা বায়ুস্তর আলোকের বিচ্ছুরণ বা প্রতিসরণে অংশ নিলেও রংধনুর মতো সুনির্দিষ্ট বর্ণালী গঠনে মূল ভূমিকা রাখে বৃষ্টির কণা
60

চন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর ওজনের-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দশ ভাগের একভাগ
  2. ছয় ভাগের একভাগ
  3. তিন ভাগের একভাগ
  4. চার ভাগের একভাগ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

চন্দ্রপৃষ্ঠে অভিকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর ১/৬ অংশ। সুতরাং কোনো বস্তুর ওজন সেখানে হবে পৃথিবীর ছয়ভাগের এক ভাগ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ছয় ভাগের একভাগ
কোনো বস্তুর ওজন নির্ভর করে সেই স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) উপর। ওজনের গাণিতিক সূত্র হলো: W=mgW = mg (যেখানে W = ওজন, m = ভর এবং g = অভিকর্ষজ ত্বরণ)।
বস্তুর ভর (m) স্থানভেদে সর্বত্র স্থির বা অপরিবর্তিত থাকে। কিন্তু অভিকর্ষজ ত্বরণ (g) গ্রহ বা উপগ্রহের ভরের ওপর নির্ভর করে স্থানভেদে পরিবর্তিত হয়।
চাঁদের ভর পৃথিবী অপেক্ষা অনেক কম হওয়ায়, চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণ (gmoon) পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণের (gearth) প্রায় 16\frac{1}{6} গুণ
যেহেতু ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণের সমানুপাতিক (WgW \propto g), তাই চাঁদে বস্তুর ওজন পৃথিবীর ওজনের 16\frac{1}{6} ভাগ হয়। (যেমন: পৃথিবীতে ৬ কেজি ওজনের বস্তু চাঁদে ১ কেজি ওজনের হবে)।
61

তাপ ইঞ্জিনের কাজ-(Heat Engine)

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. যান্ত্রিক শক্তিকে তাপশক্তিতে রূপান্তর
  2. তাপশক্তিকে যান্ত্রিকশক্তিতে রূপান্তর
  3. বিদ্যুৎশক্তিকে যান্ত্রিকশক্তিতে রূপান্তর
  4. তাপশক্তিকে বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তর

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

তাপ ইঞ্জিন (Heat Engine)-এর কাজ হলো তাপশক্তিকে যান্ত্রিকশক্তিতে রূপান্তরিত করা। অন্যদিকে বৈদ্যুতিক মোটর বিদ্যুৎশক্তিকে যান্ত্রিকশক্তিতে, হাতে হাত ঘষলে যান্ত্রিক শক্তি তাপশক্তিতে এবং দুটি ভিন্ন ধাতব পদার্থের সংযোগস্থলে তাপ প্রয়োগ করলে তাপশক্তি বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: তাপশক্তিকে যান্ত্রিকশক্তিতে রূপান্তর। এটিই তাপ ইঞ্জিনের (Heat Engine) মৌলিক কাজ।
তাপ ইঞ্জিন হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যা একটি উচ্চ তাপমাত্রার উৎস (Hot Reservoir) থেকে তাপ শোষণ করে তার একটি অংশকে যান্ত্রিক কাজে (Mechanical Work) রূপান্তরিত করে এবং অবশিষ্ট তাপ নিম্ন তাপমাত্রার আধারে (Cold Reservoir) বর্জন করে।
যেমন: স্টিম ইঞ্জিন, পেট্রোল ইঞ্জিন বা ডিজেল ইঞ্জিন—সবগুলোই তাপশক্তিকে ব্যবহার করে পিস্টন বা চাকা ঘুরিয়ে যান্ত্রিক কাজ সম্পন্ন করে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল কারণ:
যান্ত্রিক শক্তিকে তাপশক্তিতে রূপান্তর: এটি ঘর্ষণ বা ব্রেকিং-এর মাধ্যমে ঘটে। (বিপরীত প্রক্রিয়া)
বিদ্যুৎশক্তিকে যান্ত্রিকশক্তিতে রূপান্তর: এটি বৈদ্যুতিক মোটরের (Electric Motor) কাজ।
তাপশক্তিকে বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তর: সরাসরি এটি থার্মোকাপল (Thermo-couple) বা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পরোক্ষভাবে হয়ে থাকে, কিন্তু তাপ ইঞ্জিনের সংজ্ঞায় আউটপুট হিসেবে সরাসরি 'কাজ' (Work) বা যান্ত্রিক শক্তিকে বোঝানো হয়।
62

শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ কত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ২৮০ m/s
  2. 0
  3. ৩৩২ m/s
  4. ১১২০ m/s

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

মাধ্যম ছাড়া শব্দ চলতে পারে না। তাই শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ হবে শূন্য। কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি। বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে কম। উল্লেখ্য, বাতাসে শব্দের বেগ ৩৩২ মি/সে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ০ (শূন্য)
শব্দ হলো এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ (Mechanical Wave)। যান্ত্রিক তরঙ্গ বিস্তারের জন্য কণা বা মাধ্যমের (যেমন: বায়ু, জল বা কঠিন পদার্থ) প্রয়োজন হয়।
যখন কোনো উৎস থেকে শব্দ সৃষ্টি হয়, তখন সেই উৎসের কম্পন আশেপাশের মাধ্যমটির কণাগুলোকে কম্পিত করে এবং এই কম্পন এক কণা থেকে আরেক কণায় স্থানান্তরিত হয়ে শব্দের আকারে আমাদের কানে পৌঁছায়।
শূন্য মাধ্যমে (Vacuum) কোনো প্রকার কণা বা পদার্থ থাকে না। যেহেতু শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম অপরিহার্য, তাই শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ ০ (শূন্য)
এ কারণেই চাঁদে বা মহাকাশে শব্দ শোনা যায় না।
💡 অপশন ৩৩২ m/s হলো আদর্শ তাপমাত্রা ও চাপে (০°C তাপমাত্রায়) বায়ু মাধ্যমে শব্দের বেগ, যা একটি প্রচলিত ভুল উত্তর।
63

কোনটি জারক পদার্থ নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হাইড্রোজেন।
  2. অক্সিজেন
  3. ক্লোরিন
  4. ব্রোমিন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

জারক পদার্থগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে অন্যকে জারিত করে ও নিজে বিজারিত হয়। অক্সিজেন, ক্লোরিন ও ব্রোমিন প্রত্যেকেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে, তাই এরা জারক পদার্থ। অন্যদিকে হাইড্রোজেন ইলেকট্রন ত্যাগ করে তাই এটা জারক নয়, বিজারক।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: হাইড্রোজেন। কারণ হাইড্রোজেন একটি বিজারক পদার্থ (Reducing Agent), জারক পদার্থ নয়।
জারক পদার্থ (Oxidizing Agent) হলো সেই মৌল বা যৌগ, যা রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় অন্য পদার্থকে জারিত করে এবং নিজে ইলেকট্রন গ্রহণ করে (অর্থাৎ, নিজে বিজারিত হয়)।
অন্যদিকে, বিজারক পদার্থ (Reducing Agent) হলো যা অন্য পদার্থকে বিজারিত করে এবং নিজে ইলেকট্রন ত্যাগ করে (অর্থাৎ, নিজে জারিত হয়)।
প্রদত্ত বিকল্পগুলোতে অক্সিজেন (O2\text{O}_2), ক্লোরিন (Cl2\text{Cl}_2) এবং ব্রোমিন (Br2\text{Br}_2)—এগুলো সবই উচ্চ তড়িৎ-ঋণাত্মক (Electronegative) মৌল। এরা সহজেই ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারে এবং তাই এরা শক্তিশালী জারক পদার্থ হিসেবে কাজ করে।
কিন্তু হাইড্রোজেন (H2\text{H}_2) সাধারণত ইলেকট্রন ত্যাগ করে H+\text{H}^+ আয়ন তৈরি করে বা অন্য যৌগে ইলেকট্রন সরবরাহ করে, তাই এটি বিজারক পদার্থ হিসেবে পরিচিত।
64

নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে কি বলা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ফিশন
  2. মেসন
  3. ফিউশন
  4. ফিউশন ও মেসন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

যে নিউক্লীয় বিক্রিয়ায় একটি নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় তাকে ফিশন বিক্রিয়া বলে। অন্যদিকে দুটি নিউক্লিয়াসের সংযোগে একটি নিউক্লিয়াস তৈরি হওয়াকে ফিউশন বিক্রিয়া বলে। মেসন হলো মৌলের ক্ষুদ্রতম কণিকা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ফিশন
নিউক্লিয় ফিশন (Nuclear Fission) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে একটি ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস (যেমন: ইউরেনিয়াম-২৩৫) নিউট্রন দ্বারা আঘাতের ফলে ভেঙে গিয়ে প্রায় সমান ভরের দুটি বা ততোধিক ছোট নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং বিপুল পরিমাণে শক্তি নির্গত করে
এটিই নিউক্লিয়াসের বিভাজন।
বিপরীতক্রমে, ফিউশন (Fusion) হলো হালকা নিউক্লিয়াস (যেমন: হাইড্রোজেন বা ডিউটেরিয়াম) একত্রিত হয়ে বা জোড়া লেগে একটি ভারী নিউক্লিয়াস তৈরি করার প্রক্রিয়া, যা সূর্য এবং নক্ষত্রের শক্তির উৎস।
মেসন (Meson) কোনো বিভাজন প্রক্রিয়া নয়, এটি হলো এক ধরনের উপ-পারমাণবিক কণা
65

বস্তুর ওজন কোথায় সবচেয়ে বেশি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মেরু অঞ্চলে
  2. বিষুব অঞ্চলে
  3. পাহাড়ের ওপর
  4. পৃথিবীর কেন্দ্রে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

একটি বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট হয় তাকে তার ওজন বলে। কোনো বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণের ওপর নির্ভরশীল। যে স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণ বেশি সে স্থানে বস্তুর ওজন বেশি। মেরু অঞ্চলে g-এর মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি। সুতরাং মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজন বেশি। আবার পৃথিবীর কেন্দ্রে g-এর মান শূন্য হওয়ায় বস্তুর ওজনও শূন্য।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মেরু অঞ্চলে
কোনো বস্তুর ওজন (W)(W) নির্ভর করে তার ভর (m)(m) এবং অভিকর্ষজ ত্বরণ (g)(g)-এর উপর। এর সূত্রটি হলো: W=mgW = mg। যেহেতু ভর (m)(m) একটি ধ্রুবক রাশি, তাই ওজন সম্পূর্ণরূপে অভিকর্ষজ ত্বরণ (g)(g)-এর মানের ওপর নির্ভরশীল।
পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়; এটি মেরু অঞ্চলে কিছুটা চাপা এবং বিষুব অঞ্চলে স্ফীত। এই আকৃতিকে **অভিগত গোলক (Oblate Spheroid)** বলা হয়।
এর ফলে, পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে মেরু অঞ্চলের দূরত্ব (ব্যাসার্ধ) সর্বনিম্ন এবং বিষুব অঞ্চলের দূরত্ব (ব্যাসার্ধ) সর্বোচ্চ।
অভিকর্ষজ ত্বরণের মান ব্যাসার্ধের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ, যেখানে দূরত্ব কম, সেখানে gg-এর মান সর্বোচ্চ। তাই মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজন সবচেয়ে বেশি হয়।
অন্যদিকে, বিষুব অঞ্চলে gg-এর মান সর্বনিম্ন। পাহাড়ের ওপর বা খনিতে gg-এর মান কম হয়। আর পৃথিবীর কেন্দ্রে gg-এর মান শূন্য
66

প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেন কি পরিমাণ থাকে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৪০ – ৫০ ভাগ
  2. ৬০ – ৭০ ভাগ
  3. ৮০ – ৯০ ভাগ
  4. ৩০ – ২৫ ভাগ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদানগুলোর মধ্যে মিথেন ৮০ -৯০%, ইথেন ১৩%, প্রোপেন ৩%। এছাড়া বিউটেন, ইথিলিন ও নাইট্রোজেন কিছু পরিমাণে থাকে। এ উপাদানগুলোর মধ্যে প্রধান হলো মিথেন। আমাদের দেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ ৯৫-৯৯%।

ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক গ্যাস হলো বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের একটি মিশ্রণ, যার প্রধান উপাদান হলো মিথেন
সাধারণত, ভালো মানের প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেন (CH4CH_4) এর পরিমাণ থাকে ৮০% থেকে ৯৫% পর্যন্ত।
বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ সাধারণত ৮৫% থেকে ৯৪% এর মধ্যে থাকে।
অতএব, প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে ৮০ – ৯০ ভাগ হলো সবচেয়ে সঠিক ও স্বীকৃত উত্তর।
67

একটি মোটা ও একটি চিকন হাতলওয়ালা স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে একই মাপের দুটি স্ক্রু-কে কাঠবোর্ডের ভিতরে সমান গভীরতায় প্রবেশ করাতে চাইলে কোনটি ঘটবে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মোটা হাতলের ড্রাইভারকে বেশিবার ঘুরাতে হবে
  2. চিকন হাতলের ড্রাইভারকে বেশি বার ঘুরাতে হবে
  3. দু’টিকে একই সংখ্যকবার ঘুরাতে হবে
  4. কোনোটিই নয়

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে স্ক্রু লাগানোর সময় স্ক্রুর ব্যাসার্ধ যাই হোক না কেন স্ক্রু ড্রাইভারের হাতল যতবার ঘুরানো হবে স্ক্রুটি ও ঠিক ততোবার ঘুরবে। স্ক্রুর সরণ তার ঘূর্ণনের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় ভিন্ন ব্যাসার্ধের হাতল ওয়ালা দুটি স্ক্রু ড্রাইভার দ্বারা ২টি সমান স্ক্রুকে সমান সংখ্যাক বার ঘুরালে স্ক্রু ২টি ও সমান সংখ্যক বার ঘুরবে আর ঘূর্ণন সংখ্যা সমান হলে স্ক্রুর সরণও সমান হবে অর্থাৎ ২টি ক্রুই সমান গভীরতায় প্রবেশ করবে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: দু’টিকে একই সংখ্যকবার ঘুরাতে হবে
এই প্রশ্নটি মূলত সরল যন্ত্রের (Simple Machine) একটি অংশ স্ক্রু (Screw)-এর মূলনীতির সাথে সম্পর্কিত। স্ক্রু যত গভীরতায় প্রবেশ করবে, তার জন্য প্রয়োজনীয় ঘূর্ণনের সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট সূত্রে আবদ্ধ।
স্ক্রু-এর ক্ষেত্রে সরণ বা গভীরতা (Depth, DD) নির্ণয়ের সূত্র হলো: DD = ঘূর্ণন সংখ্যা (NN) × প্যাঁচের দূরত্ব (Pitch, pp)
এখানে বলা হয়েছে— (১) একই মাপের দুটি স্ক্রু, যার মানে দুটির প্যাঁচের দূরত্ব (pp) একই। এবং (২) দু’টিকে সমান গভীরতায় প্রবেশ করাতে হবে (DD একই)।
যেহেতু DD এবং pp উভয়ই অপরিবর্তিত, তাই প্রয়োজনীয় ঘূর্ণন সংখ্যা (NN) উভয় ক্ষেত্রেই সমান হতে হবে।
স্ক্রু-ড্রাইভারের হাতলের মোটা বা চিকন হওয়া কেবল ড্রাইভারটিকে ঘোরাতে প্রয়োজনীয় বল বা টর্ক (Torque)-এর তারতম্য ঘটায়। মোটা হাতল ব্যবহার করলে যান্ত্রিক সুবিধা (Mechanical Advantage) বেশি পাওয়া যায়, ফলে কম বল প্রয়োগ করতে হয়, কিন্তু স্ক্রু-এর গভীরতা প্রবেশের সংখ্যা একই থাকে।
68

কোনো নৌকাকে বেশি গতিতে চালাতে হলে, বৈঠা ব্যবহার করতে হবে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পিছনে
  2. সামনে
  3. ডান পার্শ্বে
  4. বাম পার্শ্বে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

একজন মাঝি যখন নৌকা চালানোর সময় নৌকার পেছন থেকে বৈঠা দিয়ে পানিতে বা লগি দিয়ে ভূমিতে ধাক্কা দেন তখন পানি বা ভূমি যথাক্রমে বৈঠা ও লগির ওপর সমান ও বিপরীত বল প্রয়োগ করে। এই প্রতিক্রিয়া বলের অনুভূমিক উপাংশই নৌকাকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পিছনে। এটি পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক নীতি, নিউটন তৃতীয় সূত্র (Newton’s Third Law of Motion) এর একটি বাস্তব প্রয়োগ।
নিউটনের তৃতীয় সূত্র অনুযায়ী, প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া আছে (Every action has an equal and opposite reaction)।
যখন একজন মাঝি বৈঠা দিয়ে পানিকে পিছনের দিকে (ক্রিয়া) ঠেলে দেন, তখন পানি মাঝি ও নৌকার ওপর সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া বল সামনের দিকে প্রয়োগ করে।
এই সামনের দিকে প্রযুক্ত বলের ফলেই নৌকাটি বেশি গতিতে এগিয়ে যেতে পারে। যদি সামনে ঠেলে দেওয়া হয়, তাহলে নৌকা পিছনে যাবে অথবা থেমে যাবে।
সুতরাং, নৌকাকে সামনে দ্রুতগতিতে চালনার জন্য বৈঠা অবশ্যই পিছনে ব্যবহার করতে হবে।
69

pH হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. এসিড নির্দেশক
  2. এসিড ও ক্ষার নির্দেশক
  3. এসিড ও ক্ষার নির্দেশক
  4. এসিড, ক্ষার ও নিরপেক্ষতা নির্দেশক

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

কোনো দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলা হয়। এটি দ্রবণের এসিড, ক্ষার বা নিরপেক্ষতা নির্দেশ করে। কোনো দ্রবণের pH এর মান 0 থেকে 6.9 হলে তা এসিড দ্রবণ, 7 হলে উহা নিরপেক্ষ দ্রবণ এবং 7.1 থেকে 14 হলে তা ক্ষারীয় দ্রবণ বলা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: এসিড, ক্ষার ও নিরপেক্ষতা নির্দেশক
pH (Potential of Hydrogen) হলো এমন একটি পরিমাপক স্কেল, যা কোনো জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়নের ঘনত্বের ঋণাত্মক লগারিদম প্রকাশ করে। এর মান 0 থেকে 14 পর্যন্ত বিস্তৃত।
pH স্কেল অনুযায়ী,
১. যদি pH < 7 হয়, তবে দ্রবণটি এসিডীয় (Acidic)।
২. যদি pH > 7 হয়, তবে দ্রবণটি ক্ষারীয় (Basic/Alkaline)।
৩. যদি pH = 7 হয়, তবে দ্রবণটি নিরপেক্ষ (Neutral)।
যেহেতু pH-এর মাধ্যমে কোনো দ্রবণের এই তিনটি অবস্থাই নিশ্চিত হওয়া যায়, তাই এটি এসিড, ক্ষার ও নিরপেক্ষতা—তিনটিই নির্দেশ করে।
70

গোয়েন্দা বিভাগে নিম্নের কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বেকেরেল রশ্মি
  2. গামা রশ্মি
  3. X-রশ্মি
  4. বিটা-রশ্মি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে লুকানো বিস্ফোরক বা নিষিদ্ধ দ্রব্য খুঁজে বের করতে, এমনকি চোরাচালানীর পেটে সোনা, রূপা ইত্যাদি শনাক্ত করতে গোয়েন্দা বিভাগে এক্স-রে ব্যবহার করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো X-রশ্মি
X-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Wavelength) খুব কম হওয়ায় এর ভেঁদন ক্ষমতা (Penetration Power) অনেক বেশি। এই বিশেষ ক্ষমতার কারণে X-রশ্মি অপটিক্যালভাবে অস্বচ্ছ (Opaque) বস্তুর ভেতরের গঠন দেখতে সাহায্য করে।
গোয়েন্দা বিভাগ, কাস্টমস এবং নিরাপত্তা সংস্থাসমূহে এই রশ্মি ব্যবহৃত হয় লাগেজ, কার্গো বা বন্ধ প্যাকেটের অভ্যন্তরে কোনো বিস্ফোরক, অস্ত্র বা নিষিদ্ধ বস্তু লুকিয়ে রাখা হয়েছে কিনা, তা শনাক্ত করতে।
গামা রশ্মি (Gamma Ray): এর ভেদন ক্ষমতা X-রশ্মি থেকেও বেশি, কিন্তু এটি অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় এবং বিপজ্জনক। তাই এটি সাধারণত নিরাপত্তা স্ক্যানিংয়ের বদলে রেডিওথেরাপি বা জীবাণুমুক্তকরণে ব্যবহৃত হয়।
বেকেরেল রশ্মি বা বিটা রশ্মি: এদের ভেদন ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এই ধরনের স্ক্রিনিংয়ের জন্য উপযুক্ত নয়।
71

বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একটি পরমাণুর শক্তি -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. যুক্ত অবস্থার চাইতে কম
  2. যুক্ত অবস্থার চাইতে অধিক
  3. যুক্ত অবস্থার সমান
  4. কোনোটিই সঠিক নয়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

পরমাণুর কেন্দ্র শক্তির অফুরন্ত ভাণ্ডার। বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একটি পরমাণুর শক্তি যুক্ত অবস্থার চাইতে অধিক। উল্লেখ্য, পরমাণুর ইলেকট্রন যত বেশি বাইরের শক্তিস্তরে থাকে এর গতিশক্তি তত বেশি হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: যুক্ত অবস্থার চাইতে অধিক
এই প্রশ্নটি মূলত রাসায়নিক বন্ধন ও স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
যখন দুটি বা তার বেশি বিচ্ছিন্ন পরমাণু একত্রিত হয়ে বন্ধন তৈরি করে (যুক্ত অবস্থা), তখন সিস্টেমটি স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য শক্তি নির্গত করে
যেহেতু শক্তি নির্গত হয়ে যায়, তাই বন্ধনে আবদ্ধ বা যুক্ত অবস্থায় থাকা পরমাণুর শক্তি, তাদের বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা শক্তির চাইতে কম হয়।
অতএব, বিপরীতক্রমে বলা যায়, বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একটি পরমাণুর শক্তি যুক্ত অবস্থার চাইতে অধিক থাকে।
(পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে চায় না, কারণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় শক্তি বেশি থাকে এবং তা অস্থিতিশীলতার জন্ম দেয়।)
72

ঘর্মাক্ত দেহে পাখার বাতাস আরাম দেয় কেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গায়ের ঘাম বের হতে দেয় না
  2. বাষ্পায়ন শীতলতার সৃষ্টি করে
  3. পাখার বাতাস শীতল জলীয়বাষ্প ধারণ করে
  4. পাখার বাতাস সরাসরি লোমকূপ দিয়ে শরীরে ঢুকে যায়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ত্বকের অজস্র ছিদ্র দিয়ে বেরিয়ে আসা ঘামের বাষ্পীভবন (প্রয়োজনীয় উত্তাপ ঘাম থেকে সরবরাহ করে তাপ হারানোই ঘামের উষ্ণতা কমে যাওয়ার মাধ্যমে) ঘটে বলে ঘর্মাক্ত দেহে পাখার বাতাস আরাম দেয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বাষ্পায়ন শীতলতার সৃষ্টি করে
এটি বিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারণা—বাষ্পায়ন বা বাষ্পীভবন (Evaporation) শীতলতার সৃষ্টি করে।
যখন শরীর ঘামে ভিজে যায় এবং পাখার বাতাস প্রবাহিত হয়, তখন দ্রুত এই ঘাম তরল অবস্থা থেকে বাষ্পে পরিণত হয়
তরলকে বাষ্পে পরিণত করার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয়, যা লীন তাপ (Latent Heat) নামে পরিচিত।
ঘাম বাষ্পীভূত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় এই লীন তাপ শরীরের ত্বক থেকে দ্রুত শোষিত হয়।
ফলে শরীর থেকে তাপ বেরিয়ে যাওয়ায় আমরা শীতলতা ও আরাম অনুভব করি।
পাখার বাতাস মূলত বাষ্পায়নের হারকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়, শীতলতাও দ্রুত অনুভূত হয়।
73

নিম্নের কোন বাক্যটি সত্য নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পদার্থের নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে
  2. প্রোটন ধনাত্মক আধানযুক্ত
  3. ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধানযুক্ত
  4. ইলেকট্রন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভিতরে অবস্থান করে

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

পদার্থের অভ্যন্তরস্থ পরমাণুর নিউক্লিয়াসে ধনাত্মক আধানযুক্ত প্রোটন ও আধানহীন নিউট্রন থাকে। আর নিউক্লিয়াসের চারদিকে ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন নির্দিষ্ট কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে। উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম হলো হাইড্রোজেন, যার নিউক্লিয়াসে শুধু প্রোটন থাকে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ইলেকট্রন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভিতরে অবস্থান করে।
এটি একটি মিথ্যা বা অসত্য বাক্য
পরমাণুর কেন্দ্রে বা নিউক্লিয়াসে কেবল প্রোটন (ধনাত্মক আধানযুক্ত) এবং নিউট্রন (আধানবিহীন) অবস্থান করে।
অন্যদিকে, ইলেকট্রন (ঋণাত্মক আধানযুক্ত) নিউক্লিয়াসের চারপাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে বা শক্তিস্তরে ঘূর্ণায়মান থাকে।
সুতরাং, ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের ভিতরে অবস্থান করে—এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল।
74

কোনো বস্তুতে আধানের অস্তিত্ব নির্ণয়ের যন্ত্র হলো -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অ্যামিটার
  2. ভোল্টামিটার
  3. অণুবীক্ষণ যন্ত্র
  4. তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

কোনো বস্তুতে চার্জ বা আধানের অস্তিত্ব নির্ণয়ের যন্ত্র হলো তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে এটি আবিষ্কৃত হয়। অন্যদিকে অ্যামিটার বৈদ্যুতিক বর্তনীর বিদ্যুৎ প্রবাহমাত্রা পরিমাপ, অণুবীক্ষণ যন্ত্র অতি ক্ষুদ্র বস্তু পর্যবেক্ষণ এবং ভোল্টামিটার বৈদ্যুতিক বর্তনীর বিভব পার্থক্য, বিদ্যুৎ প্রবাহমাত্রা ও বৈদ্যুতিক, রাসায়নিক সমতুল নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র (Electroscope)
তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র এমন একটি বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম যা কোনো বস্তুতে স্থির তড়িৎ আধানের (Static Charge) অস্তিত্ব ও প্রকৃতি (ধনাত্মক বা ঋণাত্মক) নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয়। এর বহুল প্রচলিত উদাহরণ হলো স্বর্ণপত্র তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র (Gold-leaf Electroscope)।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়:
অ্যামিটার (Ammeter): এটি বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের মাত্রা (Current) পরিমাপ করে।
ভোল্টামিটার (Voltameter): এটি মূলত তড়িৎ বিশ্লেষণ (Electrolysis) প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি যন্ত্র, তবে ভুলবশত অনেক সময় এটিকে ভোল্টমিটার (Voltmeter) হিসেবে উল্লেখ করা হয় যা তড়িৎ বিভব পার্থক্য পরিমাপ করে।
অণুবীক্ষণ যন্ত্র (Microscope): এটি ক্ষুদ্র জিনিসকে বড় করে দেখতে বা বিবর্ধিত করতে ব্যবহৃত হয়।
75

নিম্নের কোনটি বেকিং পাউডারের মূল উপাদানের সংকেত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. CaCO3

  2. NaHCO3

  3. NH4HCO3

  4. (NH4)2CO3

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বেকিং পাউডারের মূল উপাদানের সংকেত NaHCO3। এর অপর নাম সোডিয়াম বাইকার্বনেট, বেকিং সোডা, ব্রেড সোডা, কুকিং সোডা বা খাবার সোডা। অন্যদিকে CaCO3 (ক্যালসিয়াম কার্বনেট)-কে বলা হয় কোরাল।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো extNaHCO3 ext{NaHCO}_3
extNaHCO3 ext{NaHCO}_3 হলো সোডিয়াম বাইকার্বনেট (Sodium Bicarbonate)-এর রাসায়নিক সংকেত, যা সাধারণত খাবার সোডা (Baking Soda) নামে পরিচিত।
বেকিং পাউডারের মূল সক্রিয় উপাদান হলো এই সোডিয়াম বাইকার্বনেট। এটি একটি শুষ্ক মিশ্রণ, যাতে সাধারণত সোডিয়াম বাইকার্বনেট, একটি কঠিন এসিড (যেমন- ক্রিম অফ টারটার) এবং আর্দ্রতা শোষক হিসেবে কর্ন স্টার্চ থাকে।
আর্দ্রতা বা তাপের সংস্পর্শে এলে সোডিয়াম বাইকার্বনেট এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস (CO2CO_2) উৎপন্ন করে। এই গ্যাসই কেক, রুটি বা পিঠাকে ফোলাতে সাহায্য করে।
অন্যদিকে, CaCO3CaCO_3 হলো ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর বা চুন)। এটি বেকিং-এ ব্যবহৃত হয় না।
76

পরমাণুর নিউক্লিয়াসে কি কি থাকে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নিউট্রন ও প্রোটন
  2. ইলেকট্রন ও প্রোটন
  3. নিউট্রন ও পজিট্রন
  4. ইলেকট্রন ও পজিট্রন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম অংশ। পরমাণুর মধ্যে মৌলিক কণিকা হিসেবে ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন বিদ্যমান। প্রোটন ও নিউট্রন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে, এদেরকে একত্রে নিউক্লিয়ন বলা হয়। ইলেকট্রন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থান করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নিউট্রন ও প্রোটন
পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থিত অংশকে নিউক্লিয়াস বলা হয়। নিউক্লিয়াসে মূলত দুটি মৌলিক কণা থাকে— প্রোটন এবং নিউট্রন
প্রোটন হলো ধনাত্মক আধানযুক্ত কণা এবং নিউট্রন হলো আধান নিরপেক্ষ কণা। এই দুটি কণাকে একত্রে নিউক্লিয়ন বলা হয়।
ভুল উত্তর কেন: ইলেকট্রন (Electrons) ঋণাত্মক আধানযুক্ত কণা, যা নিউক্লিয়াসের চারদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে আবর্তন করে। এটি নিউক্লিয়াসের অংশ নয়, বরং পরমাণুর অংশ। পজিট্রন হলো ইলেকট্রনের প্রতি-কণা (Anti-particle) যা সাধারণত স্থিতিশীল নিউক্লিয়াসে পাওয়া যায় না।
77

প্রাকৃতিক কোন উৎস হতে সবচেয়ে বেশি মৃদু পানি পাওয়া যায়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নদী
  2. সাগর
  3. হ্রদ
  4. বৃষ্টিপাত

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

মৃদু পানির প্রধান উৎস বৃষ্টিপাত। বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ মৃদু পানি পাওয়া যায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বৃষ্টিপাত
পানিকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়: মৃদু পানি (Soft Water) এবং খড় পানি (Hard Water)। যে পানিতে কোনো প্রকার খনিজ লবণ, বিশেষত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের লবণ দ্রবীভূত থাকে না, তাকে মৃদু পানি বলে।
বৃষ্টির পানি প্রাকৃতিক পাতন (Distillation) প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। বাষ্প উপরে উঠে ঘনীভূত হয়ে মেঘ তৈরি করে এবং ঝরে পড়ে। এই প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ H2O\text{H}_2\text{O} ছাড়া অন্য কোনো খনিজ উপাদান মিশে থাকতে পারে না। তাই এটিই প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া সবচেয়ে মৃদু পানি
অন্যদিকে, নদী, হ্রদ বা ভূগর্ভস্থ পানি মাটির স্তর ভেদ করে প্রবাহিত হওয়ার সময় ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন ইত্যাদির লবণ শোষণ করে, ফলে এগুলি খড় পানি (Hard Water) হয়।
সাগরের পানি হলো সবচেয়ে বেশি লবণাক্ত এবং খনিজ উপাদানযুক্ত।
78

নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পরমাণু শক্তি
  2. কয়লা
  3. পেট্রোল
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

যেসব জ্বালানি নানা প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া যায়, সেগুলোর মজুদ ভবিষ্যতে কখনো শেষ হবে না অর্থাৎ বারবার ব্যবহার করা যায় তাদেরকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বলে। সৌরশক্তি, বৃষ্টি, বাতাস, নদী বা সমুদ্রের পানি, পরমাণু শক্তি প্রভৃতি হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস।

ব্যাখ্যা

প্রদত্ত প্রশ্ন অনুসারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোনটি— এটি একটি ধারণামূলক প্রশ্ন। নবায়নযোগ্য জ্বালানি হলো সেই শক্তি উৎস, যা ব্যবহারের ফলে নিঃশেষ হয়ে যায় না এবং প্রকৃতিতে স্বল্প সময়ে পুনরায় তৈরি হয়। যেমন— সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, ভূ-তাপীয় শক্তি এবং বায়োম্যাস শক্তি
বিসিএস পরীক্ষার প্রেক্ষাপটে, নবায়নযোগ্য (Renewable) এবং অনবায়নযোগ্য (Non-Renewable) জ্বালানির পার্থক্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
দয়া করে মনে রাখবেন, প্রশ্নে উল্লিখিত সকল বিকল্পই (পরমাণু শক্তি, কয়লা, পেট্রোল, প্রাকৃতিক গ্যাস) অনবায়নযোগ্য জ্বালানি (Non-Renewable Energy)-এর অন্তর্ভুক্ত।
  • কয়লা, পেট্রোল ও প্রাকৃতিক গ্যাস হলো জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuels), যা কোটি কোটি বছরে গঠিত হয় এবং ব্যবহারের ফলে ফুরিয়ে যায়। এগুলো নিশ্চিতভাবেই অনবায়নযোগ্য।
  • পরমাণু শক্তি (Nuclear Energy) ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়ামের মতো সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে উৎপাদিত হয়। তাই এটিও অনবায়নযোগ্য
গুরুত্বপূর্ণ নোট: যেহেতু প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে কোনো সঠিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি নেই, তাই এই প্রশ্নটি সম্ভবত ভুল অথবা বিকল্প 'পরমাণু শক্তি'কে ক্ষেত্রবিশেষে 'জীবাশ্ম জ্বালানি নয়' হিসেবে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু কঠোর বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, পরমাণু শক্তি নবায়নযোগ্য নয়। যদি প্রশ্নটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি জানতে চায়, তবে সঠিক উত্তর হবে সৌরশক্তি বা বায়ুশক্তি (যা বিকল্পে নেই)।
79

নিচের কোনটির বিদ্যুৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তামা
  2. রূপা
  3. সোনা
  4. কার্বন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

যার মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ সহজে চলাচল করতে পারে তাকে বিদ্যুৎ সুপরিবাহী বলে। বিদ্যুৎ পরিবহনের এ ধর্মকে বিদ্যুৎ পরিবাহিতা বলে। তামা, সোনা, রূপা ইত্যাদি বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। তবে যার রোধ যত কম তার বিদ্যুৎ পরিবাহিতা তত বেশি। এক্ষেত্রে রূপার রোধ সবচেয়ে কম বলে এর বিদ্যুৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো রূপা (Silver)। এটি প্রকৃতিতে পাওয়া ধাতুগুলির মধ্যে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ পরিবাহী
কোনো পদার্থের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রন বা মুক্ত আধান খুব সহজে প্রবাহিত হতে পারার ক্ষমতাকেই বিদ্যুৎ পরিবাহিতা বলে। এই ক্ষমতাটি রূপার মধ্যে সবচেয়ে বেশি, কারণ এর পরমাণুর বাইরের স্তরের ইলেকট্রনগুলি সবচেয়ে কম রোধের সম্মুখীন হয় এবং দ্রুত চলাচল করতে পারে।
অপশনগুলোর মধ্যে, তামা (Copper) হলো দ্বিতীয় সেরা বিদ্যুৎ পরিবাহী। যেহেতু রূপা অত্যন্ত দামি, তাই দৈনন্দিন জীবনে এবং বৈদ্যুতিক তার তৈরিতে মূলত তামা ব্যবহার করা হয়।
সোনা (Gold) রূপা ও তামার চেয়ে কম পরিবাহী, কিন্তু এটি ক্ষয় বা মরিচা প্রতিরোধী হওয়ায় উচ্চমানের ইলেকট্রনিক সার্কিটে ব্যবহৃত হয়। কার্বন (বিশেষত গ্রাফাইট রূপভেদ ছাড়া) অপরিবাহী।
80

বরফ পানিতে ভাসে কারণ বরফের তুলনায় পানির-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ঘনত্ব কম
  2. ঘনত্ব বেশি
  3. তাপমাত্রা বেশি
  4. দ্রবণীয়তা বেশি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সাধারণত কোনো বস্তুর তাপমাত্রা হ্রাস করলে এর ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। পানির একমাত্র ব্যতিক্রমী প্রসারণ হচ্ছে পানির তাপমাত্রা কমিয়ে ৪° সেন্টিগ্রেডে আনলে এর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয় এবং ৪° থেকে তাপমাত্রা কমিয়ে আনলে এর ঘনত্ব কমতে থাকে। ০° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় পানি বরফে পরিণত হয় এবং এর ঘনত্ব কমে যায়। পানির ঘনত্ব বেশি থাকার কারণে বরফ পানিতে ভাসে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘনত্ব বেশি
বস্তুর ভেসে থাকা বা ডুবে যাওয়া সম্পূর্ণভাবে ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে। কোনো কঠিন বস্তু তখনই তরলে ভাসে, যখন ঐ কঠিন বস্তুর ঘনত্ব তরলের ঘনত্বের চেয়ে কম হয়।
বরফ হলো পানির কঠিন রূপ। বরফের কণাগুলোর সজ্জা বা গঠনের কারণে বরফের ঘনত্ব বিশুদ্ধ পানির ঘনত্বের (1 gm/cc) চেয়ে প্রায় ৯% কম (0.917 gm/cc) হয়।
যেহেতু বরফের ঘনত্ব কম এবং পানির ঘনত্ব বরফের তুলনায় বেশি, তাই বরফ পানিতে ভাসে। যদি বরফের ঘনত্ব বেশি হতো, তবে তা ডুবে যেত।
অপশনগুলোর মধ্যে তাপমাত্রা বা দ্রবণীয়তা ভেসে থাকার কারণ নয়। তাপমাত্রা শুধুমাত্র পানির ঘনত্বের অস্বাভাবিকতা ব্যাখ্যা করে, কিন্তু সরাসরি ভেসে থাকার কারণ হলো ঘনত্বের পার্থক্য।
81

গাড়ির ব্যাটারিতে কোন এসিড ব্যবহৃত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নাইট্রিক
  2. সালফিউরিক
  3. হাইড্রোক্লোরিক
  4. পারক্লোরিক

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্যাটারি এক প্রকার তড়িৎকোষ। একটি পাত্রে খানিকটা পাতলা সালফিউরিক এসিড নিয়ে তার মধ্যে একটি দস্তা ও একটি তামার পাত পরস্পরকে স্পর্শ না করিয়ে ডুবালে একটি তড়িৎকোষ বা ব্যাটারি তৈরি হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সালফিউরিক এসিড। এর রাসায়নিক সংকেত হলো H2SO4H_2SO_4
গাড়ির ব্যাটারিতে যে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়, তা সাধারণত লেড-এসিড ব্যাটারি (Lead-Acid Battery) নামে পরিচিত।
এই ধরনের ব্যাটারিতে তড়িৎ বিশ্লেষ্য (Electrolyte) হিসেবে লঘু সালফিউরিক এসিডের দ্রবণ ব্যবহার করা হয়।
চার্জিং এবং ডিসচার্জিং প্রক্রিয়ার সময় এই এসিড লেড প্লেটের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে বিদ্যুৎ শক্তি সঞ্চয় ও সরবরাহ করে।
অন্যান্য বিকল্প এসিড, যেমন নাইট্রিক বা হাইড্রোক্লোরিক এসিড, লেড-এসিড ব্যাটারির জন্য উপযুক্ত তড়িৎ বিশ্লেষ্য নয়।
82

কোনটি বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তামা
  2. লোহা
  3. রূপা
  4. রাবার

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

যেসব পদার্থের ভিতর দিয়ে সহজে তড়িৎ চলাচল করতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে। যেমন: রুপা, তামা, লোহা, ধাতব পদার্থ, কার্বন, মানবদেহ, কয়লা, এসিড মিশ্রিত পানি, মাটি, পারদ ইত্যাদি। যেসব পদার্থের ভিতর দিয়ে তড়িৎ একেবারে চলাচল করতে পারে না তাদেরকে অপরিবাহী পদার্থ বলে। যেমন: রাবার, শুকনা বায়ু, পার্সেলিন, কাচ, কাগজ, কাঠ, গন্ধক, ইবোনাইট, রঞ্জন, রেশম ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো রাবার (Rubber)। এটি একটি বিদ্যুৎ অপরিবাহী বা অন্তরক (Insulator) পদার্থ।
পদার্থকে বিদ্যুৎ পরিবহনের ক্ষমতার ভিত্তিতে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়— পরিবাহী (Conductor) এবং অপরিবাহী বা অন্তরক
যেসব পদার্থের পরমাণুতে বিদ্যুৎ প্রবাহের জন্য মুক্ত ইলেকট্রন (Free Electrons) থাকে, তারা পরিবাহী হিসেবে কাজ করে। যেমন: তামা, লোহা, রূপা ইত্যাদি।
কিন্তু রাবার, কাঠ, প্লাস্টিক, কাঁচ ইত্যাদি পদার্থের পরমাণুতে মুক্ত ইলেকট্রনের অনুপস্থিতির কারণে এরা বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে না। এ কারণে বৈদ্যুতিক তারের সুরক্ষার জন্য রাবারের কভার ব্যবহার করা হয়।
83

কোনটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সূর্যরশ্মি
  2. পীট কয়লা
  3. পেট্রোল
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

যেসব শক্তির উৎস অফুরন্ত এবং বারবার ব্যবহার করা যায় তাদেরকে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস বলা হয। সূর্য, পানি ও বায়ু নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। অফুরন্ত নয় এবং বারবার ব্যবহারের ফলে একসময় নিঃশেষিত হয়ে যায় সেগুলোকে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস বলে। কয়লা, গ্যাস, তেল ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সূর্যরশ্মি
যেসব শক্তির উৎস একবার ব্যবহার করার পরও পুনরায় দ্রুত প্রাকৃতিকভাবে পূরণ হয় এবং ব্যবহারের ফলে নিঃশেষ হয়ে যায় না, তাদের নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস (Renewable Energy Source) বলা হয়। সূর্যরশ্মি (Solar Energy) হলো এর প্রধান উদাহরণ, কারণ এটি অফুরন্ত এবং দূষণমুক্ত।
বাকি তিনটি অপশন, যেমন— পীট কয়লা, পেট্রোলপ্রাকৃতিক গ্যাস, এগুলো সবই অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস (Non-renewable Energy Source) বা জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuels)। এগুলো ব্যবহার করলে ফুরিয়ে যায় এবং পুনরায় তৈরি হতে লক্ষ লক্ষ বছর সময় লাগে।
84

MKS পদ্ধতিতে ভরের একক-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কিলোগ্রাম
  2. পাউন্ড
  3. গ্রাম
  4. আউন্স

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

MKS পদ্ধতিতে ভরের একক কিলোগ্রাম, CGS পদ্ধতিতে ভরের একক গ্রাম, FPS পদ্ধতিতে ভরের একক পাউন্ড।

ব্যাখ্যা

MKS পদ্ধতিতে ভরের একক হলো কিলোগ্রাম
MKS হলো তিনটি মৌলিক এককের সংক্ষিপ্ত রূপ: M (দৈর্ঘ্য) মানে মিটার, K (ভর) মানে কিলোগ্রাম, এবং S (সময়) মানে সেকেন্ড। এই পদ্ধতিটি ১৯ শতকে উদ্ভূত হয়েছিল এবং এটি মেট্রিক পদ্ধতির অংশ।
অন্যান্য অপশন যেমন গ্রাম হলো CGS (সেন্টিমিটার, গ্রাম, সেকেন্ড) পদ্ধতির ভরের একক এবং পাউন্ড হলো FPS (ফুট, পাউন্ড, সেকেন্ড) পদ্ধতির ভরের একক।
বর্তমানে MKS পদ্ধতির আধুনিক সংস্করণ হলো SI (International System of Units) পদ্ধতি, যেখানে ভরের একক হিসেবে কিলোগ্রামকেই ব্যবহার করা হয়।
85

কোনটিকে চুম্বকে পরিণত করা যায়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তামা
  2. ইস্পাত
  3. পিতল
  4. স্বর্ণ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

যেসব পদার্থ চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট বা বিকৃষ্ট হয় এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। যেমন: লোহা, নিকেল, কোবাল্ট, ইস্পাত ইত্যাদি। অপরদিকে, যেসব পদার্থ চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয় না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। যেমন: কাচ, তামা, পিতল, রূপা, সোনা ইত্যাদি অচৌম্বক পদার্থ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ইস্পাত (Steel)
যেসব পদার্থকে স্থায়ীভাবে চুম্বকে পরিণত করা যায় এবং যা চুম্বক দ্বারা তীব্রভাবে আকৃষ্ট হয়, তাদের ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ (Ferromagnetic Material) বলে।
লোহা, নিকেল, ও কোবাল্ট এবং এদের সংকর ধাতুগুলো (যেমন ইস্পাত) হলো ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ। ইস্পাত হলো লোহা এবং কার্বনের সংকর। ইস্পাতকে একবার চুম্বকত্ব প্রদান করলে তা দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়, তাই এটি স্থায়ী চুম্বক (Permanent Magnet) তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে, তামা (Copper), পিতল (Brass), এবং স্বর্ণ (Gold) হলো ডায়াম্যাগনেটিক (Diamagnetic) বা অচৌম্বক পদার্থ। এদেরকে সহজে বা কার্যকরভাবে চুম্বকে পরিণত করা যায় না।
86

অ্যালটিমিটার (Altimeter) কি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তাপ পরিমাপক যন্ত্র
  2. উষ্ণতা পরিমাপক যন্ত্র
  3. গ্যাসের চাপ পরিমাপক যন্ত্র
  4. উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

যেসব পদার্থ চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট বা বিকৃষ্ট হয় এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। যেমন: লোহা, নিকেল, কোবাল্ট, ইস্পাত ইত্যাদি। অপরদিকে, যেসব পদার্থ চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয় না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। যেমন: কাচ, তামা, পিতল, রূপা, সোনা ইত্যাদি অচৌম্বক পদার্থ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র
অ্যালটিমিটার (Altimeter) শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ 'Altus' থেকে, যার অর্থ 'উচ্চতা' (High/Altitude)। এটি এমন একটি যন্ত্র যা সমুদ্রপৃষ্টের সাপেক্ষে কোনো বস্তুর বা স্থানের উচ্চতা (Altitude) পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়।
এই যন্ত্রটি মূলত বায়ুমণ্ডলীয় চাপ (Atmospheric Pressure) পরিমাপ করে। কারণ উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে বাতাসের চাপ কমতে থাকে। যন্ত্রটি সেই চাপের পরিবর্তনকে ক্যালিব্রেট করে সরাসরি উচ্চতার রিডিং দেয়। এটি সাধারণত বিমান ও অন্যান্য এয়ারক্রাফটে ব্যবহৃত হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল। যেমন, তাপ/উষ্ণতা পরিমাপক যন্ত্র হলো থার্মোমিটার এবং গ্যাসের চাপ পরিমাপক যন্ত্র সাধারণত ম্যানোমিটার বা ব্যারোমিটার
87

কোনটি মৌলিক পদার্থ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. লোহা
  2. ব্রোঞ্জ
  3. পানি
  4. ইস্পাত

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

যে পদার্থকে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করে অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না তাকে মৌল বা মৌলিক পদার্থ বলে। যেমন: সোনা, তামা, লোহা, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ইত্যাদি। পক্ষান্তরে, ব্রোঞ্জ (তামা + টিন), পানি (হাইড্রোজেন + অক্সিজেন), ইস্পাত (লোহা + নির্দিষ্ট পরিমাণ কার্বন) হচ্ছে যৌগিক পদার্থ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: লোহা (Iron)। লোহা হলো একটি মৌলিক পদার্থ (Element)
মৌলিক পদার্থ হলো সেইসব বিশুদ্ধ পদার্থ যাদেরকে কোনো রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় বিশ্লেষণ করে বা ভেঙে এর চেয়ে সরল বা ভিন্ন ধর্মবিশিষ্ট পদার্থে পরিণত করা যায় না।
লোহার প্রতীক হলো Fe (Ferrium) এবং এটি পর্যায় সারণীর একটি উপাদান।
অন্যদিকে, পানি (H2OH_2O) একটি যৌগিক পদার্থ, কারণ এটি হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে গঠিত।
ব্রোঞ্জ (তামা ও টিনের মিশ্রণ) এবং ইস্পাত (লোহা ও কার্বনের মিশ্রণ) উভয়ই হলো সংকর ধাতু (Alloy) বা মিশ্র পদার্থ। এরা একক মৌলিক পদার্থ নয়।
88

কোন ধাতু স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল থাকে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পারদ
  2. লিথিয়াম
  3. জার্মেনিয়াম
  4. ইউরেনিয়াম

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল থাকে। পারদের ভর সংখ্যা ২০০.৫৯। এটি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে ভারী তরল ধাতু।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পারদ (Mercury)
পারদ (রাসায়নিক প্রতীক: Hg) হলো একমাত্র ধাতু, যা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (কক্ষ তাপমাত্রা প্রায় ২৫°C) তরল অবস্থায় থাকে।
এর গলনাঙ্ক অনেক কম (প্রায় 38.83°C-38.83°C)। এই অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণেই এটিকে থার্মোমিটার ও ব্যারোমিটারের মতো যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়।
অন্যান্য অপশন যেমন লিথিয়াম, জার্মেনিয়াম (উপধাতু) এবং ইউরেনিয়াম স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কঠিন অবস্থায় থাকে।
89

স্টেইনলেস স্টিলের অন্যতম উপাদান-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তামা
  2. দস্তা
  3. ক্রোমিয়াম
  4. এলুমিনিয়াম

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

স্টেইনলেস স্টিলের অন্যতম উপাদান ক্রোমিয়াম। স্টেইনলেস স্টিলে যাতে মরিচা না ধরে এবং এর গুণাগুণ বৃদ্ধি করার জন্য এক বা একাধিক মৌল ক্রোমিয়াম ও নিকেল মিশ্রিত করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ক্রোমিয়াম
স্টেইনলেস স্টিল (Stainless Steel) হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকর ধাতু (Alloy), যার মূল উপাদান হলো লোহা (Iron)। তবে এটিকে জং-প্রতিরোধী বা 'স্টেইনলেস' করার জন্য এর সাথে ক্রোমিয়াম (Chromium) যোগ করা হয়।
ক্রোমিয়ামের উপস্থিতির কারণে স্টিলের উপরিভাগে একটি ক্রোমিয়াম অক্সাইডের পাতলা স্তর তৈরি হয়, যা স্টিলকে অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসতে দেয় না এবং জং ধরতে বাধা দেয়
সাধারণত স্টেইনলেস স্টিলে ন্যূনতম ১০.৫% ক্রোমিয়াম থাকে এবং প্রয়োজন অনুসারে এতে নিকেল (Nickel) যোগ করা হয়।
90

সর্বাপেক্ষা হালকা গ্যাস–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অক্সিজেন
  2. হাইড্রোজেন
  3. র‌্যাডন
  4. নাইট্রোজেন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সবচেয়ে হালকা গ্যাস হাইড্রোজেন। হাইড্রোজেনের ১টি পরমাণুর প্রকৃত ভর হচ্ছে ১৬৭৩১০২৪১.৬৭৩×১০−২৪ গ্রাম।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো হাইড্রোজেন (Hydrogen)। এর পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number) হলো এবং পারমাণবিক ভর (Atomic Mass) প্রায় ১.০০৮
এটি পর্যায় সারণীর সবথেকে কম ভরের মৌলিক পদার্থ।
যেহেতু হাইড্রোজেনের ঘনত্ব (Density) অন্যান্য গ্যাসের তুলনায় সর্বনিম্ন, তাই এটিকে সর্বাপেক্ষা হালকা গ্যাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তুলনামূলকভাবে, অক্সিজেন (O2) ও নাইট্রোজেন (N2) উভয়েই হাইড্রোজেন অপেক্ষা বহু গুণ ভারী। অন্যদিকে, র‌্যাডন (Radon) একটি তেজস্ক্রিয় ও অত্যন্ত ভারী গ্যাস।
91

ভারী পানির রাসায়নিক সংকেত–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 2H2O2

  2. H2O

  3. D2O

  4. HD2O2

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ভারী পানি হচ্ছে পানির একটি রূপভেদ যেখানে পারমাণবিক ভর ১ সংবলিত হাইড্রোজেন পরমাণুসহ পারমাণবিক ভর ২ সংবলিত হাইড্রোজেনের আইসোটোপ ডিউটোরিয়াম দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। ভারী পানির আণবিক সংকেত D2O।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: D₂O। এটি হলো ভারী পানির রাসায়নিক সংকেত।
সাধারণত আমরা যে পানি পান করি, তার রাসায়নিক সংকেত হলো H₂O (হাইড্রোজেন অক্সাইড)। এই পানিতে হাইড্রোজেনের আইসোটোপ প্রোটিয়াম (Protium, 1H^1H) ব্যবহার করা হয়।
ভারী পানিতে, সাধারণ হাইড্রোজেন (HH) এর পরিবর্তে হাইড্রোজেনের অন্য একটি আইসোটোপ, ডিউটেরিয়াম (Deuterium, 2H^2H বা DD) ব্যবহার করা হয়। ডিউটেরিয়ামে একটি অতিরিক্ত নিউট্রন থাকে, তাই এটি প্রোটন ও নিউট্রনসহ হাইড্রোজেনের চেয়ে ভারী
এ কারণে ভারী পানির রাসায়নিক নাম হলো ডিউটেরিয়াম অক্সাইড এবং সংকেত হলো D₂O
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল:
H₂O হলো সাধারণ পানি।
2H₂O₂ হলো হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের সংকেত, যা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি যৌগ।
92

লোহাকে গ্যালভানাইজিং করতে ব্যবহৃত হয়–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তামা
  2. দস্তা
  3. রূপা
  4. এলুমিনিয়াম

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

লৌহা বা ইস্পাতের জিনিসকে মরিচার হাত থেকে রক্ষা করতে এর উপর দস্তা বা জিংকের প্রলেপ দেয়ার পদ্ধতিকে গ্যালভানাইজিং বলে। যেমন: ঘরের ঢেউটিন, পানির বালতি, ল্যাম্প প্রভৃতি মরিচার হাত হতে রক্ষার জন্য দস্তার প্রলেপ দেয়া হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো দস্তা (Zinc)। এর রাসায়নিক প্রতীক Zn
যে প্রক্রিয়ায় লোহা বা ইস্পাতকে মরিচা বা ক্ষয় থেকে রক্ষা করার জন্য এর ওপর দস্তা বা জিঙ্কের একটি পাতলা স্তর দেওয়া হয়, তাকেই গ্যালভানাইজিং (Galvanizing) বলা হয়।
দস্তা সাধারণত লোহার চেয়ে বেশি সক্রিয় (তড়িৎ ঋণাত্মকতার দিক থেকে), তাই এটি লোহাকে ত্যাগমূলক সুরক্ষা (Sacrificial Protection) প্রদান করে।
দস্তার স্তরটি কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, যতক্ষণ দস্তা অবশিষ্ট থাকে, ততক্ষণ জিঙ্ক নিজেই জারিত হয়ে লোহাকে মরিচা পড়া থেকে রক্ষা করে। অন্য অপশনগুলোর (তামা, রূপা, অ্যালুমিনিয়াম) কোনোটিই গ্যালভানাইজিংয়ের জন্য আদর্শ ধাতু নয়।
93

সংকর ধাতু পিতলের উপাদান-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তামা ও টিন
  2. তামা ও দস্তা
  3. তামা ও সীসা
  4. তামা ও নিকেল

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সংকর ধাতু পিতলের উপাদান তামা ও দস্তা। তামা ও টিন মিশিয়ে ব্রোঞ্জ বা কাঁসা প্রস্তুত করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: তামা ও দস্তা (Copper & Zinc)
পিতল (Brass) হলো একটি সংকর ধাতু যা মূলত তামা (Copper) এবং দস্তা (Zinc) গলিয়ে তৈরি করা হয়। সাধারণত পিতলে ৬০% থেকে ৮০% তামা এবং ২০% থেকে ৪০% পর্যন্ত দস্তা ব্যবহার করা হয়।
পিতল ঘর্ষণরোধী, সহজে ক্ষয় হয় না এবং বিদ্যুৎ ও তাপের সুপরিবাহী হওয়ায় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, বাসনপত্র ও অলংকার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
অন্য একটি পরিচিত সংকর ধাতু হলো ব্রোঞ্জ বা কাঁসা। এটি তৈরি হয় তামা ও টিনের সংমিশ্রণে। তাই অপশন 'ক' ভুল।
94

কোনটি সিমেন্ট তৈরির অন্যতম কাঁচামাল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জিপসাম
  2. সালফার
  3. সোডিয়াম
  4. খনিজ লবণ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সিমেন্ট নির্মাণ কাজের অপরিহার্য উপাদান। দালান কোঠা নির্মাণে যে কংক্রিট বানানো হয় তাতে জোড়া লাগাবার উপকরণ হিসেবে সিমেন্ট ব্যবহৃত হয়। সিমেন্ট তৈরির অন্যতম কাঁচামাল জিপসাম। সিমেন্টে বিদ্যমান উল্লেখযোগ্য রাসায়নিক উপাদানগুলো হলো সামান্য ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড ও সালফার ট্রাইঅক্সাইডসহ চুন, সিলিকা, অ্যালুমিনা ও লৌহ। জিপসামের রাসায়নিক সংকেত হল (CaSO4,H2O)

ব্যাখ্যা

সিমেন্ট তৈরির মূল কাঁচামাল হলো চুন পাথর (Limestone/ক্যালসিয়াম কার্বনেট) এবং কাদামাটি (Clay/সিলিকা, অ্যালুমিনা)। এই উপাদানগুলোকে উচ্চ তাপমাত্রায় পুড়িয়ে সিমেন্টের দানা বা ক্লিঙ্কার (Clinker) তৈরি করা হয়।
তবে এই ক্লিঙ্কারকে যখন পাউডার করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়, তখন জিপসাম (Gypsum: CaSO42H2O\text{CaSO}_4\cdot2\text{H}_2\text{O}) মেশানো অপরিহার্য।
জিপসাম মেশানোর প্রধান কারণ হলো এটি সিমেন্টের জমাট বাঁধার সময়কে (Setting Time) নিয়ন্ত্রণ করে। জিপসামের অনুপস্থিতিতে সিমেন্ট খুব দ্রুত শক্ত হয়ে যায় (Flash Setting), যা নির্মাণকাজের জন্য অনুপযোগী।
সুতরাং, জিপসাম সিমেন্ট তৈরির একটি অপরিহার্য সংযোজিত কাঁচামাল হিসাবে বিবেচিত হয়।
অন্যদিকে, সালফার, সোডিয়াম বা খনিজ লবণ সিমেন্ট তৈরির মূল উপাদান বা প্রয়োজনীয় সংযোজক নয়।
95

মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হেস
  2. আইনস্টাইন
  3. টলেমি
  4. হাবল

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ভিক্টর ফ্রান্‌ৎস হেস্‌ মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ১৯৩৬ সালে নোবেল পুরস্কার পান। মহাশূন্য থেকে পৃথিবীতে আগত রশ্মি ও কণকে মহাজাগতিক রশ্মি বা কসমিক রশ্মি বলে। আপেক্ষিক তত্ত্বের জনক আইনস্টাইন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো হেস। মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic Rays)-এর অস্তিত্ব প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করেন অস্ট্রিয়ান-আমেরিকান পদার্থবিজ্ঞানী ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস (Victor Francis Hess)।
১৯১২ সালে, তিনি বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরে বেলুন ব্যবহার করে আয়নাইজেশন পরিমাপ করেন। তিনি পর্যবেক্ষণ করেন যে বিকিরণের তীব্রতা উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন যে এই রশ্মিগুলির উৎপত্তি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে—অর্থাৎ এগুলো মহাজাগতিক রশ্মি
এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর হেস ১৯৩৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, আইনস্টাইন আপেক্ষিকতা তত্ত্বের জন্য, টলেমি ভূ-কেন্দ্রিক মডেলের জন্য এবং হাবল মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ ও গ্যালাক্সির দূরত্বের জন্য বিখ্যাত।
96

কোনটি অর্ধ-পরিবাহী (Semi-conductor) নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. লোহা
  2. জার্মেনিয়াম
  3. গ্যালিয়াম
  4. সিলিকন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

অর্ধপরিবাহী হলো সেই বস্তু যার পরিবাহকত্ব অন্তরকের চেয়ে বেশি কিন্তু পরিবাহকের তুলনায় কম। সিলিকন, জার্মেনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী। লোহা অর্ধপরিবাহী নয়। লোহা তড়িৎ পরিবাহক।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো লোহা (Iron)। এটি অর্ধ-পরিবাহী (Semi-conductor) নয়।
পদার্থকে মূলত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়: পরিবাহী (Conductor), অর্ধ-পরিবাহী (Semi-conductor) এবং অন্তরক (Insulator)
লোহা একটি মৌলিক ধাতু, যা তাপ ও বিদ্যুতের অত্যন্ত ভালো পরিবাহী। এর ইলেক্ট্রনগুলো সহজেই মুক্তভাবে চলাচল করতে পারে।
অপরদিকে, সিলিকন, জার্মেনিয়াম এবং গ্যালিয়াম (যা সাধারণত যৌগিক সেমিকন্ডাক্টরে ব্যবহৃত হয়, যেমন গ্যালিয়াম আর্সেনাইড) হলো অর্ধ-পরিবাহী শ্রেণির উপাদান। আধুনিক চিপ, ট্রানজিস্টর ও ডায়োড তৈরিতে এদের ব্যবহার অপরিহার্য।
97

আইসোটোপের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভর সংখ্যা সমান থাকে
  2. নিউট্রন সংখ্যা সমান থাকে
  3. প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান থাকে
  4. প্রোটন সংখ্যা সমান থাকে

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

যেসব পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান তাদের বলে আইসোবার। যেসব পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান তাদের বলে আইসোটোন। যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান থাকে তাদের বলে আইসোটোপ। নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই কিন্তু শক্তি অবস্থা ভিন্ন তাদেরকে আইসোমার বলে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: প্রোটন সংখ্যা সমান থাকে
আইসোটোপ (Isotope) হলো একই মৌলের সেই সব পরমাণু, যাদের নিউক্লিয়াসে প্রোটন সংখ্যা (পারমাণবিক সংখ্যা) সমান থাকে, কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ার কারণে তাদের ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়।
যেহেতু প্রোটন সংখ্যা সমান থাকে, তাই আইসোটোপগুলোর রাসায়নিক ধর্ম একই হয়। যেমন, হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ: প্রোটিয়াম (1H^{1}H), ডিউটেরিয়াম (2H^{2}H) ও ট্রিটিয়াম (3H^{3}H)। এদের প্রত্যেকেরই প্রোটন সংখ্যা ১, কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা যথাক্রমে ০, ১ ও ২।
98

ভারী পানি (Heavy water) এর সংকেত হচ্ছে–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 2H2O2

  2. H2O

  3. D2O

  4. HD2O2

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ভারী পানি হচ্ছে পানির একটি রূপ যেখানে পারমাণবিক ভর ১ সংবলিত হাইড্রোজেন পরমাণুসমূহ পারমাণবিক ভর ২ সংবলিত হাইড্রোজেনের আইসোটোপ, ডিউটোরিয়াম দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। ভারী পানির আণবিক সংকেত D2O।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: D₂O
ভারী পানি (Heavy water) হলো সাধারণ পানির (H₂O) একটি বিশেষ রূপ।
সাধারণ পানিতে হাইড্রোজেন (H) ব্যবহৃত হয়, যার পারমাণবিক ভর প্রায় ১। কিন্তু ভারী পানিতে হাইড্রোজেনের একটি আইসোটোপ ডিউটেরিয়াম (Deuterium) ব্যবহৃত হয়, যার প্রতীক D এবং পারমাণবিক ভর প্রায় ২।
যেহেতু ডিউটেরিয়াম (D) সাধারণ হাইড্রোজেনের চেয়ে ভারী, তাই এই যৌগটিকে ভারী পানি (Heavy Water) বলা হয় এবং এর সংকেত হয় D₂O
অন্যান্য অপশনসমূহ: H₂O হলো সাধারণ পানির সংকেত, এবং H₂O₂ হলো হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, যা একটি শক্তিশালী জারক পদার্থ এবং এটি ভারী পানি নয়।
99

জারণ বিক্রিয়ায় ঘটে–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ইলেকট্রন বর্জন
  2. ইলেকট্রন গ্রহণ
  3. ইলেকট্রন আদান-প্রদান
  4. তড়িৎ ধনাত্মক মৌলের বা মূলকের অপসারণ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় কোনো পরমাণু, মূলক বা আয়ন ইলেকট্রন বর্জন করে; ফলে সংশ্লিষ্ট পরমাণু, মূলক বা আয়নের ধনাত্মক চার্জ বৃদ্ধি পায় তাকে জারণ বিক্রিয়া বলে। অন্যদিকে বিজারণ বিক্রিয়ায় পরমাণু, মূলক বা আয়ন ইলেকট্রন গ্রহণ করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ইলেকট্রন বর্জন
জারণ (Oxidation) হলো একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া যেখানে কোনো পরমাণু বা মূলক এক বা একাধিক ইলেকট্রন বর্জন করে। ইলেকট্রন বর্জনের ফলে পরমাণুর ধনাত্মক আধান (Oxidation State) বৃদ্ধি পায়।
যেমন, সোডিয়াম পরমাণু একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক সোডিয়াম আয়নে (Na+Na^+) পরিণত হয়। (NaNa++eNa \rightarrow Na^+ + e^-)। এটি একটি জারণ প্রক্রিয়া।
অন্যদিকে, বিজারণ (Reduction) প্রক্রিয়ায় কোনো পরমাণু বা মূলক ইলেকট্রন গ্রহণ করে। ফলে এর ঋণাত্মক আধান বৃদ্ধি পায় বা ধনাত্মক আধান হ্রাস পায়। তাই অপশন 'ইলেকট্রন গ্রহণ' হলো বিজারণের সংজ্ঞা।
100

বিদ্যুতের উচ্চতর ভোল্ট থেকে নিম্নতর ভোল্ট পাওয়া যায়–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ট্রান্সমিটারের সাহায্যে
  2. স্টেপ-আপ ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে
  3. স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে
  4. এডাপটারের সাহায্যে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার অল্প বিভবের (ভোল্ট) অধিক তড়িৎ প্রবাহকে অধিক বিভবের (ভোল্ট) অল্প তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তরিত করে। স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার অধিক বিভবের (ভোল্ট) অল্প তড়িৎ প্রবাহকে অল্প বিভবের (ভোল্ট) অধিক তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তরিত করে। অর্থাৎ, স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে বিদ্যুতের উচ্চতর ভোল্ট থেকে নিম্নতর ভোল্ট পাওয়া যায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে
ট্রান্সফর্মার (Transformer) হলো এমন একটি ডিভাইস যা তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction) নীতির উপর ভিত্তি করে অল্টারনেটিং কারেন্ট (AC)-এর ভোল্টেজ পরিবর্তন করতে পারে।
যে ট্রান্সফর্মার উচ্চ বিভব বা ভোল্টেজকে কম বিভব বা ভোল্টেজে রূপান্তরিত করে, তাকে স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মার বলা হয়। বাসাবাড়িতে বা বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে এই ট্রান্সফর্মার ব্যবহার করে ভোল্টেজ কমিয়ে (যেমন ১১০০০ ভোল্ট থেকে ২২০ ভোল্ট) সরবরাহ করা হয়।
অন্যদিকে, স্টেপ-আপ ট্রান্সফর্মার নিম্ন ভোল্টেজকে উচ্চ ভোল্টেজে রূপান্তরিত করে (যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য)। এটি সঠিক নয়।
ট্রান্সমিটার হলো সংকেত (signal) প্রেরণকারী যন্ত্র এবং এডাপটার হলো AC বিদ্যুৎকে DC-তে রূপান্তরের জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস, যার মধ্যে স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মার একটি অংশ হিসেবে কাজ করে। এই দুটি ভোল্টেজ পরিবর্তনের মূল যন্ত্র নয়।
101

কাজ ও বলের একক যথাক্রমে–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নিউটন ও মিটার
  2. জুল ও ডাইন
  3. ওয়াট ও পাউন্ড
  4. প্যাসকেল ও কিলোগ্রাম

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: জুল ও ডাইন। অর্থাৎ, কাজের একক **জুল** এবং বলের একক **ডাইন**।
পদার্থবিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি (SI) অনুযায়ী, **কাজ (Work)** এর একক হলো **জুল (Joule)**।
অন্যদিকে, **বল (Force)** এর SI একক হলো **নিউটন (Newton)** এবং CGS (সেন্টিমিটার, গ্রাম, সেকেন্ড) পদ্ধতি অনুযায়ী একক হলো **ডাইন (Dyne)**।
যেহেতু প্রশ্নটিতে 'কাজ ও বলের একক যথাক্রমে' জানতে চাওয়া হয়েছে, তাই প্রথমটি কাজের একক (জুল) এবং দ্বিতীয়টি বলের একক (ডাইন) হতে হবে। অপশনগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র 'জুল ও ডাইন' এই ক্রমটি কাজের একক ও বলের একককে নির্দেশ করছে, যদিও এটি একটি মিশ্র একক পদ্ধতি।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল:
নিউটন ও মিটার: এটি বল ও দূরত্বের একক।
ওয়াট ও পাউন্ড: এটি ক্ষমতা ও ভরের (বা বলের) একক।
প্যাসকেল ও কিলোগ্রাম: এটি চাপ ও ভরের একক।
102

আকাশে বিদ্যুৎ চমকায় –

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মেঘের অসংখ্য জলকণা/বরফকণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে
  2. দুখণ্ড মেঘ পরস্পর সংঘর্ষ হলে
  3. মেঘের মধ্যে বিদ্যুৎ কোষ তৈরি হলে
  4. মেঘ বিদ্যুৎ পরিবাহী অবস্থায় এলে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘ধনাত্মক’ ও ‘ঋণাত্মক’ চার্জযুক্ত দুটি মেঘ কাছাকাছি আসলে আকর্ষণের ফলে চার্জ এক মেঘ থেকে অন্য মেঘে দ্রুত ছুটে যায়। ফলে ইলেক্ট্রনের (চার্জ) গতিপথে যে তীব্র আলোক উৎপন্ন হয় তাকে বিজলী চমকানো বলে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মেঘের অসংখ্য জলকণা/বরফকণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে
আকাশে বিদ্যুৎ চমকানোর মূল কারণ হলো মেঘের ভেতরে স্থির বিদ্যুতের (Static Electricity) সৃষ্টি। বাতাসের তীব্র উল্লম্ব প্রবাহের (Updrafts) কারণে মেঘের ভেতরে থাকা ছোট জলকণা এবং বরফের কণাগুলো দ্রুত গতিতে উপরে-নিচে যাতায়াত করে এবং পারস্পরিক ঘর্ষণে চার্জের সৃষ্টি করে।
এই ঘর্ষণের ফলে মেঘের ওপরের দিকে সাধারণত ধনাত্মক (+) চার্জ এবং নিচের দিকে ঋণাত্মক (-) চার্জ জমা হয়।
যখন মেঘের নিচের অংশের এই বিপুল পরিমাণ ঋণাত্মক চার্জ এবং ভূমির ধনাত্মক চার্জের মধ্যে (বা মেঘে মেঘে) বিভব পার্থক্য (Potential Difference) খুব বেড়ে যায়, তখন বাতাসকে ভেদ করে দ্রুত চার্জ স্থানান্তরের জন্য একটি তড়িৎ নিঃসরণ (Electrical Discharge) ঘটে, যা বিদ্যুৎ চমকানো বা বজ্রপাত হিসেবে পরিচিত।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ মেঘে সংঘর্ষ চার্জ সৃষ্টির একটি ধাপ মাত্র, এটি সরাসরি চমকানোর কারণ নয়। 'বিদ্যুৎ কোষ তৈরি হওয়া' বা 'পরিবাহী অবস্থায় আসা' ভুল ধারণা।
103

কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাসে (Inert gas) আটটি ইলেকট্রন নেই?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হিলিয়াম
  2. নিয়ন
  3. আর্গন
  4. জেনন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো হিলিয়াম (Helium)
নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহ (Inert Gases) হলো পর্যায় সারণির ১৮ নং গ্রুপের মৌল। এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এদের সর্বশেষ কক্ষপথ ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ থাকে, যার ফলে এরা রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়।
স্থায়িত্ব অর্জনের জন্য বেশিরভাগ নিষ্ক্রিয় গ্যাস অষ্টক নিয়ম (Octet Rule) অনুসরণ করে, অর্থাৎ তাদের শেষ কক্ষপথে ৮টি ইলেকট্রন থাকে (যেমন: নিয়ন, আর্গন, জেনন)।
কিন্তু হিলিয়াম (He) এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এর পারমাণবিক সংখ্যা । এর কক্ষপথ শুধুমাত্র একটি (K shell), যা ২টি ইলেকট্রন দ্বারাই পূর্ণ হয়। তাই এটি অষ্টক নিয়ম (৮ ইলেকট্রন) না মেনে দ্বৈত নিয়ম (Duet Rule: ২ ইলেকট্রন) মেনে স্থিতিশীলতা অর্জন করে।
104

সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ নির্ণয়ের যন্ত্রের নাম –

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ক্রনোমিটার
  2. কম্পাস
  3. সিসমোগ্রাফ
  4. সেক্সট্যান্ট

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

যে সূক্ষ্ম যন্ত্রের সাহায্যে সঠিকভাবে কাল নিরূপণ করে সাগরবক্ষে দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় করা যায় তাকে ক্রনোমিটার বলে। কম্পাস হচ্ছে দিক নির্দেশক যন্ত্র। সিসমোগ্রাফ ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণায়ক যন্ত্র। সেক্সট্যান্ট হলো কোনো স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করার যন্ত্র।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ক্রনোমিটার (Chronometer)। এটি এমন একটি বিশেষ ধরনের ঘড়ি যা সমুদ্রে বা দীর্ঘ যাত্রাপথে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সময় পরিমাপ করতে পারে।
সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ (Longitude) নির্ণয়ের মূল চাবিকাঠি হলো সময়। পৃথিবীর প্রতিটি ১৫ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশের জন্য সময়ের পার্থক্য হয় এক ঘণ্টা।
নাবিকেরা জাহাজের স্থানীয় সময় এবং ক্রনোমিটারে সংরক্ষিত গ্রিনিচ মান সময় (GMT)-এর পার্থক্য হিসাব করে নির্ভুলভাবে দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় করে। এটি মূলত একটি পোর্টেবল, অতি-নির্ভুল ঘড়ি।
ভুল বিকল্পসমূহ: কম্পাস দিক (Direction) নির্ণয় করে। সিসমোগ্রাফ ভূমিকম্পের তীব্রতা (Magnitude) পরিমাপ করে। সেক্সট্যান্ট সাধারণত সূর্যের উচ্চতা পরিমাপ করে অক্ষাংশ (Latitude) নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
105

কৃষি জমিতে প্রধানত চুন ব্যবহার করা হয় –

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মাটির ক্ষয় রোধের জন্য
  2. মাটির অম্লতা বৃদ্ধির জন্য
  3. মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
  4. মাটির জৈব পদার্থ বৃদ্ধির জন্য

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

মাটি অম্লধর্মী না ক্ষারধর্মী তা pH দ্বারা পরিমাপ করা হয়। মাটির pH ৭ হলে তা নিরপেক্ষ হয়। pH ৭ থেকে যত কমতে থাকে অম্লতা তত বৃদ্ধি পায় এবং ৭ থেকে বেশি হলে ক্ষারকত্ব বৃদ্ধি পায়। মাটির অম্লত্ব বেড়ে গেলে তাতে চুন প্রয়োগ করে তা প্রশমন করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
কৃষি জমিতে চুন (Lime) ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মাটির pH\text{pH} মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা এবং এটিকে ফসল উৎপাদনের উপযোগী করে তোলা।
জমিতে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, নাইট্রোজেন সার এবং জৈব পদার্থের পচনের ফলে মাটি অম্লীয় (Acidic) হয়ে যেতে পারে। বেশিরভাগ ফসলই সামান্য নিরপেক্ষ বা সামান্য ক্ষারীয় (pH6.07.0)(\text{pH}\,6.0-7.0) মাটিতে ভালো জন্মায়।
চুন হলো একটি ক্ষারীয় পদার্থ (Alkaline Substance), যেমন—ডলোমাইট, ক্যালসিয়াম অক্সাইড বা ক্যালসিয়াম কার্বনেট। এই ক্ষারীয় পদার্থ অম্লীয় মাটিতে যোগ করলে তা অম্লতা সৃষ্টিকারী হাইড্রোজেন আয়নকে (extH+ ext{H}^+) প্রশমিত করে (Neutralize), ফলে মাটির pH\text{pH} বৃদ্ধি পায় এবং অম্লতা হ্রাস পায়।
ভুল উত্তর হিসেবে 'অম্লতা বৃদ্ধির জন্য' ভুল, কারণ চুন নিজে ক্ষারীয় হওয়ায় এটি কখনো অম্লতা বাড়াতে পারে না।
106

কোন আলোক তরঙ্গ (Light spectrum) মানব চোখে দেখতে পাওয়া যায়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১০ থেকে ৪০০ নে.মি (nm)
  2. ৪০০ থেকে ৭০০ নে.মি (nm)
  3. ১০০ মাইক্রোমিটার (μm) থেকে ১ মি (m)
  4. ১ মি (m)-এর ঊর্ধ্বে

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য হচ্ছে ৪০০ ন্যানোমিটার থেকে ৭০০ ন্যানোমিটার পর্যন্ত। দৃশ্যমান আলোর মধ্যে লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি এবং বেগুনী আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ৪০০ থেকে ৭০০ ন্যানোমিটার (nm)
যে আলোক তরঙ্গগুলো মানব চোখের রেটিনা (Retina) শোষণ করতে পারে এবং মস্তিষ্কে দর্শনের অনুভূতি তৈরি করে, তাকে দৃশ্যমান বর্ণালী (Visible Spectrum) বলা হয়।
এই দৃশ্যমান বর্ণালীর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সাধারণত ৩৮০-৪০০ ন্যানোমিটার থেকে শুরু করে ৭০০-৭৬০ ন্যানোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। অপশনগুলোর মধ্যে ৪০০ থেকে ৭০০ নে.মি (nm) হলো আদর্শ ও সবচেয়ে সঠিক রেঞ্জ।
৪০০ ন্যানোমিটারের (nm) চেয়ে কম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোকে অতিবেগুনী রশ্মি (Ultraviolet Ray) এবং ৭০০ ন্যানোমিটারের চেয়ে বেশি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোকে অবলোহিত রশ্মি (Infrared Ray) বলা হয়, যা আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না
107

হীরক উজ্জ্বল দেখার কারণ–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য
  2. প্রতিসরণের জন্য
  3. প্রতিফলনের জন্য
  4. অপবর্তনের জন্য

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

হীরকের বিভিন্ন ধারগুলো এমনভাবে কাটা থাকে যে, তার কোনো এক পৃষ্ঠ দিয়ে আলোকরশ্মি ভেতরে প্রবেশ করলে প্রতিসরাঙ্ক (২.৪২) বেশি হওয়ার কারণে বেশ কয়েকটি পৃষ্ঠে তার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটে এবং দু একটি পৃষ্ঠ দিয়ে আলোকরশ্মি ভেতর থেকে বের হয়ে যায়। হীরকে প্রবিষ্ট আলোকরশ্মি এই বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্যই তা এত উজ্জ্বল দেখায়।

ব্যাখ্যা

হীরক বা ডায়মন্ডের অত্যাধিক উজ্জ্বলতার প্রধান কারণ হলো পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection - TIR)
হীরকের প্রতিসরাঙ্ক (Refractive Index) অন্যান্য বস্তুর তুলনায় অনেক বেশি (প্রায় 2.42)। এই উচ্চ প্রতিসরাঙ্কের কারণে এর সংকট কোণের (Critical Angle) মান খুব কম হয় (মাত্র প্রায় 24.4°)।
যখন আলোকরশ্মি হীরকের মধ্যে প্রবেশ করে, তখন সামান্য বাঁকা পথে এলেও এটি সংকট কোণের চেয়ে বেশি কোণে অভ্যন্তরীণ তলে আপতিত হয়। ফলে আলোকরশ্মিটি বাইরে বের হতে না পেরে বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শিকার হয়।
এই বহুবার প্রতিফলনের ফলেই হীরকটিকে এত উজ্জ্বল ও ঝকঝকে দেখায়।
108

রাসায়নিক অগ্নিনির্বাপক কাজ করে অগ্নিতে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হাইড্রোজেন সরবরাহ করে
  2. নাইট্রোজেন সরবরাহ করে
  3. অক্সিজেন সরবরাহ করে
  4. অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

রাসায়নিক অগ্নিনির্বাপক জ্বলন্ত অগ্নিতে প্রচুর পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড এর সংমিশ্রণ ঘটিয়ে অক্সিজেন সরবরাহের সৃষ্টির মাধ্যমে আগুনকে নিয়ন্ত্রণে আনে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে
আগুন জ্বলতে থাকার জন্য প্রধানত তিনটি উপাদান প্রয়োজন হয়, যা একত্রে 'অগ্নি ত্রিভুজ' (Fire Triangle) নামে পরিচিত: জ্বালানি (Fuel), তাপ (Heat), এবং অক্সিজেন (Oxygen)। এই তিনটির যেকোনো একটিকে অপসারণ করতে পারলেই আগুন নিভে যায়।
রাসায়নিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (যেমন: CO₂ বা ফোম জাতীয়) মূলত দুইভাবে কাজ করে। এদের মধ্যে প্রধান কৌশল হলো দমনের (Smothering) মাধ্যমে আগুনের উৎস থেকে অক্সিজেন সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। CO₂ গ্যাস বাতাসের চেয়ে ভারী হওয়ায় এটি আগুনের ওপর একটি আস্তরণ তৈরি করে, ফলে অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না এবং দহন বন্ধ হয়ে যায়।
অন্যান্য অপশনগুলো (যেমন অক্সিজেন সরবরাহ) ভুল, কারণ আগুন নেভানোর জন্য অক্সিজেনকে অপসারণ বা প্রতিহত করা জরুরি, সরবরাহ করা নয়।
109

সংকর ধাতু পিতলের উপাদান-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তামা ও টিন
  2. তামা ও দস্তা
  3. তামা ও নিকেল
  4. তামা ও সিসা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

তামা ও টিন মেশালে ব্রোঞ্জ হয় এবং তামার সাথে দস্তা মেশালে পিতল হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: তামা ও দস্তা
সংকর ধাতু পিতল (Brass) হলো তামা (Copper, প্রতীক Cu) এবং দস্তা (Zinc, প্রতীক Zn)-এর সংমিশ্রণে তৈরি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকর ধাতু।
পিতল সাধারণত ৬৬% তামা এবং ৩৪% দস্তা দিয়ে গঠিত হয়। এটি সাধারণত বাসনপত্র, যন্ত্রপাতি এবং অলংকার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি সহজে ক্ষয় হয় না।
যদি অপশন (ক) তামা ও টিন হতো, তবে সংকর ধাতুটির নাম হতো ব্রোঞ্জ (কাঁসা)
110

বৈদ্যুতিক পাখা ধীরে ধীরে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কম হয়
  2. খুব কম হয়
  3. একই হয়
  4. বেশি হয়

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

রেগুলেটরের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক পাখায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। যার ফলে বৈদ্যুতিক পাখা ধীরে ঘুরলেও বিদ্যুৎ খরচ একই হয়, কারণ সবসময় বিদ্যুৎ ক্ষমতা একই খরচ হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: একই হয়। এটি বিদ্যুৎ ও পদার্থবিজ্ঞানের একটি বহুল আলোচিত কনসেপ্ট, যা মূলত পুরোনো প্রযুক্তির ভিত্তিতে গঠিত।
সাধারণত বৈদ্যুতিক পাখার গতি কমানোর জন্য যদি রেজিস্টিভ রেগুলেটর (Resistive Regulator) বা রোধক-ভিত্তিক রেগুলেটর ব্যবহার করা হয়, তবে এই ঘটনা ঘটে।
রেজিস্টিভ রেগুলেটরের কাজ হলো বৈদ্যুতিক প্রবাহকে বাধা দেওয়া। যখন আপনি পাখার গতি কমান, তখন রেগুলেটরটি সার্কিটে রোধ (Resistance) বাড়িয়ে দেয়।
এর ফলে ফ্যান মোটরে কম বিদ্যুৎ পৌঁছায়, কিন্তু যে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ফ্যানে পৌঁছায় না, তা রেগুলেটরের মধ্য দিয়ে তাপশক্তি হিসাবে অপচয় হয়ে যায়।
সুতরাং, ফ্যান ধীরে ঘুরলেও মেইন লাইন থেকে মোট বিদ্যুৎ প্রবাহের (Total Current Draw) পরিমাণটি প্রায় একই থাকে। ফলে বিদ্যুৎ খরচ প্রায় একই হয়।
অন্যান্য অপশন ভুল, কারণ 'কম হয়' বা 'খুব কম হয়' উত্তরটি কেবলমাত্র আধুনিক ক্যাপাসিটরভিত্তিক বা ইলেকট্রনিক রেগুলেটরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা প্রশ্নে উল্লেখ করা নেই।
111

রঙিন টেলিভিশন থেকে ক্ষতিকর রশ্মি বের হয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গামা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. কসমিক রশ্মি
  4. রঞ্জন রশ্মি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

দ্রুতগামী ইলেকট্রন ধাতুতে আঘাত করলে রঞ্জন রশ্মি উৎপন্ন হয়। কসমিক রশ্মি মহাশূন্য হতে আসে। বিটা রশ্মি ও গামা রশ্মি তেজস্ক্রিয় বিকিরণে পাওয়া যায়। ক্যাথোড রে টিউব থাকার কারণে রঙিন টেলিভিশন থেকে মৃদু রঞ্জন রশ্মি নির্গত হয়। আধুনিক LED ও LCD রঙিন টেলিভিশন থেকে রঞ্জন রশ্মি (X-ray) বের হয় না।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: রঞ্জন রশ্মি (X-Ray)
ঐতিহ্যবাহী রঙিন টেলিভিশন বা পুরোনো মডেলের কম্পিউটার মনিটরগুলোতে ক্যাথোড রে টিউব (Cathode Ray Tube - CRT) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
এই CRT প্রযুক্তিতে, ক্যাথোড থেকে নির্গত ইলেকট্রনগুলি অত্যন্ত উচ্চ গতিতে (High Velocity) টিউবের সামনের কাঁচের স্ক্রিনে আঘাত করে। এই সংঘর্ষের ফলে ক্ষতিকর সফট রঞ্জন রশ্মি (Soft X-Ray) নির্গত হতে পারে।
যদিও আধুনিক LCD/LED বা প্লাজমা টেলিভিশনগুলো থেকে ক্ষতিকর রঞ্জন রশ্মি নির্গত হয় না, তবুও CRT প্রযুক্তির টিভিগুলির ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য ঝুঁকি।
অন্যান্য অপশনগুলো যেমন— গামা রশ্মি বা বিটা রশ্মি নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার ফল, যা টেলিভিশন থেকে নির্গত হয় না। আর কসমিক রশ্মি আসে মহাকাশ থেকে।
112

নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পরমাণু শক্তি
  2. কয়লা
  3. পেট্রোল
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

যেসব জ্বালানির মজুদ ভবিষ্যতে কখনো শেষ হবে না তাদেরকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বলে। উদাহরণস্বরূপ: সূর্যশক্তি, বায়ুশক্তি, সমুদ্রস্রোত, পারমাণবিক শক্তি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: পরমাণু শক্তি। (তবে এই প্রশ্নের অপশন নির্বাচন পদ্ধতি বিজ্ঞানসম্মতভাবে বিতর্কিত।)
নবায়নযোগ্য জ্বালানি (Renewable Energy) হলো সেই শক্তি উৎস, যা ব্যবহারের ফলে সহজে ফুরিয়ে যায় না এবং প্রকৃতিতে অনবরত পূরণ হতে থাকে। যেমন: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, বায়োমাসভূ-তাপীয় শক্তি
অ-নবায়নযোগ্য জ্বালানি (Non-Renewable Energy) হলো সেই শক্তি উৎস যা প্রকৃতিতে সীমিত এবং ব্যবহারে ফুরিয়ে যায়। যেমন: কয়লা, পেট্রোল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং পরমাণু শক্তি
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে কয়লা, পেট্রোল ও প্রাকৃতিক গ্যাস—এই তিনটিই হলো জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuels)। এগুলো নিশ্চিতভাবে অ-নবায়নযোগ্য এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
পরমাণু শক্তি (Nuclear Energy) ইউরেনিয়াম নামক সীমিত সম্পদ ব্যবহার করায় এটিও বিজ্ঞানসম্মতভাবে অ-নবায়নযোগ্য। তবে এটি জীবাশ্ম জ্বালানির মতো কার্বন নিঃসরণ করে না এবং নবায়নযোগ্য উৎস না হওয়া সত্ত্বেও এটি একটি 'ক্লিন এনার্জি' বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়।
যেহেতু প্রশ্নটিতে নবায়নযোগ্য চাওয়া হয়েছে এবং অন্য কোনো নবায়নযোগ্য অপশন (যেমন: সৌর, বায়ু) দেওয়া নেই, তাই সাধারণত এই ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রশ্নে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যতিত বিকল্প উৎস হিসেবে পরমাণু শক্তিকে উত্তর হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
113

কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সর্বাপেক্ষা কম?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শূন্যতায়
  2. কঠিন পদার্থে
  3. তরল পদার্থে
  4. বায়বীয় পদার্থে

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

কঠিন মাধ্যমে শব্দ সবচেয়ে দ্রুত চলে, তরল মাধ্যমে তার চেয়ে ধীরে চলে। বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি (গতি) সবচেয়ে কম আর ভ্যাকিউয়ামে বা শূন্যে শব্দের দ্রুতি (গতি) শূন্য। বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের বেগ ৩৩২ মিটার/ সেকেন্ড, কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ ৫২২১ মিটার/সেকেন্ড, তরল পদার্থে শব্দের বেগ ১৪৫০ মিটার/সেকেন্ড এবং শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বায়বীয় পদার্থে
শব্দের গতি সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতা (Elasticity) এবং ঘনত্বের উপর নির্ভর করে। যে মাধ্যমে অণুগুলো যত বেশি ঘনভাবে সন্নিবিষ্ট থাকে, শব্দ তত দ্রুত চলাচল করে।
পদার্থের তিনটি দশার মধ্যে, কঠিন পদার্থের অণুগুলো সবচেয়ে কাছাকাছি থাকে। তাই শব্দ কঠিন মাধ্যমে সর্বাধিক গতিতে চলে।
তরল পদার্থে শব্দের গতি কঠিনের চেয়ে কম, কিন্তু বায়বীয় পদার্থে (যেমন বাতাস/গ্যাস) অণুগুলো সবচেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে। ফলে কম্পন বা শক্তি সঞ্চালন হতে বেশি সময় লাগে, তাই বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের গতি সর্বাপেক্ষা কম হয়।
উল্লেখ্য, শূন্যতার মধ্য দিয়ে শব্দ একেবারেই চলতে পারে না (গতি = ০), কারণ শব্দ চলাচলের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন। কিন্তু প্রশ্নে যখন মাধ্যমগুলোর মধ্যে তুলনা করা হয়, তখন বায়বীয় পদার্থে গতি সবচেয়ে কম থাকে (শূন্য নয়)।
114

স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন অতিশয় বিখ্যাত-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দার্শনিক
  2. পদার্থবিদ
  3. কবি
  4. রসায়নবিদ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্রিটিশ তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ও গণিতজ্ঞ স্টিফেন হকিং ১৯৪২ সালে ৮ জানুয়ারি অক্সফোর্ডে জন্মগ্রহণ করেন। মটর নিউরন ডিজিজে আক্রান্ত এ বিজ্ঞানীর লেখা ‘এ ব্রিফ হিস্ট্রি অফ টাইম’ একটি আলোচিত গ্রন্থ। ১৪ মার্চ, ২০১৮ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: পদার্থবিদ
স্টিফেন হকিং (Stephen Hawking) ছিলেন একজন বিশ্ববিখ্যাত ব্রিটিশ তাত্ত্বিক পদার্থবিদ (Theoretical Physicist) এবং বিশ্বতত্ত্ববিদ (Cosmologist)।
তিনি মূলত কৃষ্ণগহ্বর (Black Hole) এবং আপেক্ষিকতার তত্ত্ব (Theory of Relativity) নিয়ে গবেষণার জন্য বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন।
অন্যান্য অপশন যেমন—দার্শনিক, কবি বা রসায়নবিদ হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল না।
115

যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয়, তাদের কি বলা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোটোন
  3. আইসোমার
  4. আইসোবার

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

যেসব নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান, কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয় তাদেরকে আইসোটোন বলে। যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা (পারমাণবিক সংখ্যা) একই, কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। যেসব নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা (পারমাণবিক সংখ্যা) ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলে। যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই, কিন্তু শক্তি অবস্থা (Energy state) ভিন্ন তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আইসোটোন (Isotone)
বিজ্ঞানের মৌলিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যেসব নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা (Neutron Number, N) সমান কিন্তু ভর সংখ্যা (Mass Number, A) ভিন্ন হয়, তাদের পরস্পরের আইসোটোন বলা হয়।
এখানে উল্লেখ্য, ভর সংখ্যা (A) = প্রোটন সংখ্যা (Z) + নিউট্রন সংখ্যা (N)। যেহেতু নিউট্রন সংখ্যা (N) সমান, কিন্তু ভর সংখ্যা (A) ভিন্ন, তাই এদের প্রোটন সংখ্যা (Z) বা পারমাণবিক সংখ্যা অবশ্যই ভিন্ন হতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ: ফসফরাস-৩১ (1531P\text{}_{15}^{31}P) এবং সিলিকন-৩০ (1430Si\text{}_{14}^{30}Si)। উভয়ের নিউট্রন সংখ্যা (N) ১৬। কিন্তু ভর সংখ্যা (৩১ ও ৩০) ভিন্ন।
অন্যান্য অপশনসমূহ ভুল, কারণ—
আইসোটোপ: এদের প্রোটন সংখ্যা সমান।
আইসোবার: এদের ভর সংখ্যা সমান।
আইসোমার: একই মৌলের পরমাণু, যাদের প্রোটন, নিউট্রন ও ভর সংখ্যা সমান, কিন্তু নিউক্লিয়াসের শক্তি স্তর ভিন্ন।
116

চাঁদ দিগন্তের কাছে অনেক বড় দেখায় কেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণে
  2. আলোর বিচ্ছুরণে
  3. অপাবর্তনে
  4. দৃষ্টিভ্রমে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

চাঁদ থেকে আলোক রশ্মি পৃথিবীপৃষ্ঠে আসার সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আলোর প্রতিসরণ ঘটে অর্থাৎ আলোক রশ্মি বেঁকে যায়। চাঁদ যখন দিগন্তের কাছে থাকে তখন আলোক রশ্মি তুলনামূলকভাবে অধিক পরিমাণে বেঁকে যায়। এ কারণে দিগন্তের নিকটে চাঁদ ও সূর্যকে ডিম্বাকৃতি এবং তুলনামূলকভাবে বড় দেখা যায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণে (Atmospheric Refraction)
চাঁদ যখন দিগন্তের কাছাকাছি থাকে, তখন চাঁদের আলো অতি ঘন ও দীর্ঘ বায়ুমণ্ডলীয় স্তর ভেদ করে আমাদের চোখে আসে। আলোর এই ঘন মাধ্যমে প্রবেশের কারণে ক্রমাগত দিক পরিবর্তন ঘটে, যা প্রতিসরণ (Refraction) নামে পরিচিত।
এই বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণের ফলেই চাঁদকে তার প্রকৃত অবস্থান থেকে সামান্য উপরে ও কিছুটা বিকৃত (Distorted) দেখায়। অনেক সময় এই বিকৃতির ফলে চাঁদকে দিগন্তে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বড় দেখায়।
তবে, একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে মনে রাখা জরুরি যে, চাঁদের আকারের এই দৃশ্যমান পরিবর্তন মূলত দৃষ্টিভ্রম বা অপটিক্যাল ইলিউশনের (Optical Illusion) কারণে হয়। কিন্তু বিসিএস ও অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ঐতিহাসিকভাবে 'বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণ' বা 'দৃষ্টিভ্রম'—এই দুটি অপশনের মধ্যে প্রতিসরণকে প্রায়শই সঠিক উত্তর হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যদি দৃষ্টিভ্রম অপশনটি না থাকে বা প্রথম অপশনটিই কি-তে দেওয়া থাকে। এক্ষেত্রে আমরা কি (Key) অনুসরণ করে প্রতিসরণকে সঠিক উত্তর ধরব, যা বায়ুমণ্ডলীয় প্রভাবকে নির্দেশ করে।
অন্যান্য অপশন ভুল কেন?
আলোর বিচ্ছুরণ (Dispersion): এর ফলে সাদা আলো ভেঙে বর্ণালিতে বিভক্ত হয় (যেমন—রামধনু)।
অপাবর্তন (Diffraction): এর ফলে আলো কোনো ধার বা বাধার পাশ দিয়ে বেঁকে যায়।
117

লাল আলোতে নীল রঙের বস্তু কেমন দেখায়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বেগুনী
  2. সবুজ
  3. হলুদ
  4. কালো

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

কোনো নির্দিষ্ট রঙের বস্তু শুধু ঐ নির্দিষ্ট রঙের আলোক রশ্মিই প্রতিফলিত করে এবং বাকি সব রঙের আলোক রশ্মিই শোষণ করে নেয়। আমরা জানি সাদা আলো হচ্ছে সাতটি ভিন্ন ভিন্ন রঙের আলোক রশ্মির সমষ্টি। নীল রঙের বস্তুর ওপর সাদা আলোক রশ্মি আপতিত হলে বস্তুটি সাতটি ভিন্ন রঙের আলোক রশ্মির মধ্য থেকে শুধু নীল আলোক রশ্মিই প্রতিফলিত করে এবং বাকি ছয়টি রঙের আলোক রশ্মিকে শোষণ করে নেয়। ফলে আমরা একে নীল দেখি। কিন্তু নীল রঙের বস্তুর ওপর লাল আলোক রশ্মি আপতিত হলে বস্তুটি আলোই আর প্রতিফলিত করে না। এজন্য লাল আলোতে নীল রঙের বস্তু কালো দেখায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কালো। এটি আলো ও রঙের একটি মৌলিক ধারণা, যা বিসিএস ও অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা যখন কোনো বস্তুকে তার নিজস্ব রঙে দেখি (যেমন নীল), তার অর্থ হলো বস্তুটি সাদা আলোর (যাতে সকল রং বিদ্যমান) মধ্য থেকে কেবল নীল রঙটি প্রতিফলিত করে এবং বাকি রংগুলো শোষণ করে নেয়।
প্রশ্নমতে, নীল বস্তুর উপর লাল আলো ফেলা হয়েছে। নীল বস্তুটি যেহেতু শুধু নীল আলো প্রতিফলনে সক্ষম, তাই এটি তার উপর আপতিত লাল আলোটিকে পুরোপুরি শোষণ করে নেবে
যেহেতু কোনো আলোই বস্তু থেকে প্রতিফলিত হয়ে পর্যবেক্ষকের চোখে পৌঁছায় না, তাই বস্তুটি কোনো রংহীন বা কালো (Black) দেখাবে।
118

বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট কি ধাতু দিয়ে তৈরি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সংকর ধাতু
  2. সীসা
  3. টাংস্টেন
  4. তামা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বৈদ্যুতিক বাল্বের (Electric bulb) ভিতরে ফিলামেন্ট নামক বিশেষ এক ধরনের তারের কুণ্ডলী থাকে যার মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে তাপ ও আলো উৎপন্ন হয়। এ ফিলামেন্টটি টাংস্টেন নামক এক প্রকার ধাতুর তৈরি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: টাংস্টেন (Tungsten)
বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট (যেটি জ্বলে আলো দেয়) তৈরির জন্য টাংস্টেন ব্যবহারের প্রধান কারণ হলো এর অত্যন্ত উচ্চ গলনাঙ্ক। টাংস্টেনের গলনাঙ্ক প্রায় ৩,৪২২° সেলসিয়াস, যা এটিকে উচ্চ তাপমাত্রায় গলে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
ফিলামেন্টের মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে সেটি উত্তপ্ত হয়ে আলোক শক্তি ও তাপ শক্তি বিকিরণ করে। উচ্চ গলনাঙ্ক থাকার কারণে টাংস্টেন ওই তাপমাত্রাতেও অক্ষত থাকে।
অন্যান্য ধাতু, যেমন তামা, যদিও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী, কিন্তু এর গলনাঙ্ক কম হওয়ায় এটি ফিলামেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না। সীসা প্রধানত ফিউজ তারে ব্যবহৃত হয়।
119

জারণ বিক্রিয়ায় কি ঘটে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ইলেক্ট্রন গ্রহণ
  2. ইলেক্ট্রন আদান-প্রদান
  3. ইলেক্ট্রন বর্জন
  4. শুধু তাপ উৎপন্ন হয়

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

যে বিক্রিয়ায় কোনো রাসায়নিক সত্তা ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে জারণ বলে এবং যে বিক্রিয়ায় কোনো রাসায়নিক সত্তা ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে বিজারণ বলে। অর্থাৎ জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন এবং বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ ঘটে।

ব্যাখ্যা

রসায়নের ভাষায়, জারণ (Oxidation) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কোনো পরমাণু, অণু বা আয়ন তার বহিঃস্থ কক্ষপথ থেকে ইলেক্ট্রন বর্জন করে।
ইলেক্ট্রন বর্জনের ফলে ওই রাসায়নিক সত্তার জারণ সংখ্যা বৃদ্ধি পায় (ধনাত্মক চার্জ বাড়ে)।
যেমন: NaNa++eNa \to Na^+ + e^-, এখানে সোডিয়াম পরমাণু একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে জারিত হয়েছে।
অন্যদিকে, অপশন 'ইলেক্ট্রন গ্রহণ' হলো জারণের সম্পূর্ণ বিপরীত প্রক্রিয়া, যা বিজারণ (Reduction) নামে পরিচিত।
120

নিচের কোনটি ক্ষারকীয় অক্সাইড?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. P4O10

  2. MgO
  3. CO
  4. ZnO

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ক্ষার ধাতু (Na,K,Rb,Cs) ও মৃৎক্ষার ধাতুর (Ca,Mg) অক্সাইডসমূহ ক্ষারকীয় অক্সাইড। তাই, MgO একটি ক্ষারকীয় অক্সাইড। ক্ষারকীয় অক্সাইড এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: MgO (ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড)
ক্ষারকীয় অক্সাইড (Basic Oxide) হলো সেইসব অক্সাইড, যা অ্যাসিডের সাথে বা পানির সাথে বিক্রিয়া করে ক্ষার উৎপন্ন করে। সাধারণত ধাতব অক্সাইডসমূহ ক্ষারকীয় প্রকৃতির হয়।
ম্যাগনেসিয়াম একটি ধাতু। তাই এর অক্সাইড ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড (MgO) একটি শক্তিশালী ক্ষারকীয় অক্সাইড। এটি পানির সাথে মিশে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইড (একটি ক্ষার) তৈরি করে।
অপরদিকে, P4O10P_4O_{10} হলো অধাতুর অক্সাইড, যা অম্লীয় অক্সাইড
CO (কার্বন মনোক্সাইড) একটি নিরপেক্ষ অক্সাইড, যা অ্যাসিড বা ক্ষার কোনোটির সাথেই বিক্রিয়া করে না।
ZnO (জিংক অক্সাইড) একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম। এটি উভধর্মী অক্সাইড (Amphoteric Oxide), যা অ্যাসিড এবং ক্ষার—উভয়ের সাথেই বিক্রিয়া করতে পারে। তাই এটি আদর্শ ক্ষারকীয় অক্সাইড নয়।
121

কোন ধাতু পানি অপেক্ষা হালকা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ম্যাগনেসিয়াম
  2. ক্যালসিয়াম
  3. সোডিয়াম
  4. পটাসিয়াম

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সোডিয়াম (Na), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), পটাসিয়াম (K) ও ক্যালসিয়াম (Ca) এর পারমাণবিক সংখ্যা যথাক্রমে 11, 12, 19 ও 20 এবং এদের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর যথাক্রমে 23.0, 24.3, 39.1 ও 40.1। উল্লিখিত ধাতুসমূহের মধ্যে সোডিয়ামের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর সবচেয়ে কম হওয়ায় এটি অন্য তিনটি ধাতু অপেক্ষা হালকা এবং সোডিয়াম পানি অপেক্ষাও হালকা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সোডিয়াম। এর মূল কারণ হলো ঘনত্বের পার্থক্য।
সাধারণত পানির ঘনত্ব হলো প্রায় 1extg/cm31 ext{ g/cm}^3। কোনো পদার্থ পানি অপেক্ষা হালকা হবে, যদি এর ঘনত্ব পানির ঘনত্বের চেয়ে কম হয়।
সোডিয়ামের (Na) ঘনত্ব হলো প্রায় 0.97extg/cm30.97 ext{ g/cm}^3। যেহেতু 0.97<10.97 < 1, তাই সোডিয়াম ধাতু পানিতে ভাসে বা পানি অপেক্ষা হালকা।
সোডিয়ামের পাশাপাশি পটাসিয়াম (K) (0.86extg/cm30.86 ext{ g/cm}^3) এবং লিথিয়াম (Li) (0.53extg/cm30.53 ext{ g/cm}^3) উভয়ই পানি অপেক্ষা হালকা। কিন্তু অপশনের মধ্যে সোডিয়াম সবচেয়ে বেশি পরিচিত উদাহরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে, ম্যাগনেসিয়াম (1.74extg/cm31.74 ext{ g/cm}^3) এবং ক্যালসিয়াম (1.55extg/cm31.55 ext{ g/cm}^3) উভয়ের ঘনত্বই পানি অপেক্ষা বেশি, তাই এগুলো পানিতে ডুবে যায়।
122

পারমাণবিক চুল্লীতে তাপ পরিবাহক হিসেবে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সোডিয়াম
  2. পটাসিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. জিংক

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

পারমাণবিক চুল্লির জন্য অতি উপযোগী তাপ স্থানান্তরকারী বা তাপ পরিবাহক পদার্থ হলো ক্ষার ধাতুসমূহ। আবার ক্ষার ধাতুসমূহ যেমন: লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K) প্রভৃতির মধ্যে সোডিয়াম হলো সর্বাপেক্ষা আকর্ষণীয়। কারণ এর রয়েছে অপেক্ষাকৃত নিম্ন গলন বিন্দু এবং অতি উচ্চ তাপ-স্থানান্তর সহগ (Heat transfer coefficient)। তাছাড়া সোডিয়াম সহজলভ্য এবং তুলনামূলকভাবে এর মূল্য কম। এজন্য পারমাণবিক চুল্লিতে সাধারণত তাপ পরিবাহক হিসেবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সোডিয়াম
পারমাণবিক চুল্লীতে (Nuclear Reactor) সোডিয়াম ধাতু গলিত অবস্থায় (তরল রূপে) মূলত তাপ পরিবাহক বা শীতলকারক (Coolant) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এর প্রধান কারণ হলো— তরল সোডিয়ামের তাপ পরিবাহিতা অনেক বেশি, কিন্তু উচ্চ স্ফুটনাঙ্ক (উচ্চ ফুটনাংক প্রায় ৮৮২°C) রয়েছে।
এর ফলে এটি উচ্চ তাপমাত্রাতেও বাষ্পীভূত হয় না এবং চুল্লী থেকে দক্ষতার সাথে তাপ সরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাহায্য করে। এই শীতলকারক সাধারণত ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টরে (FBR) ব্যবহার করা হয়।
অন্যান্য ধাতু যেমন পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম বা জিংক তাপ পরিবাহক হিসেবে এত কার্যকর নয় বা তাদের স্ফুটনাঙ্ক তুলনামূলকভাবে কম।
123

কোনটি বায়ুর উপাদান নহে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নাইট্রোজেন
  2. হাইড্রোজেন
  3. কার্বন
  4. ফসফরাস

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বায়ুতে নাইট্রোজেন (৭৮.০২%), অক্সিজেন (২০.৭১%), আর্গন (০.৮০%), কার্বন ডাই-অক্সাইড হিসেবে কার্বন (০.০৩%), নিয়ন (০.০০১৮%), হিলিয়াম (০.০০০৫%), ক্রিপ্‌টন (০.০০০১২%), জেনন (০.০০০০৯%), হাইড্রোজেন (০.০০০০৫%), মিথেন (০.০০০০২%) এবং আরো নানাবিধ গ্যাসীয় উপাদান বিদ্যমান। কিন্তু ফসফরাস বায়ুর উপাদান নয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ফসফরাস। এটি বায়ুর উপাদান নহে।
বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদানগুলো হলো গ্যাসীয় পদার্থ। ফসফরাস (P) হলো একটি অধাতব কঠিন পদার্থ, যা সাধারণত ভূপৃষ্ঠের শিলা, খনিজ বা জৈব যৌগের (যেমন: DNA, ATP) মধ্যে পাওয়া যায়। এটি স্বাভাবিক অবস্থায় বায়ুমণ্ডলে গ্যাসীয় উপাদান হিসেবে থাকে না।
অন্যদিকে, নাইট্রোজেন (প্রায় ৭৮%), অক্সিজেন (প্রায় ২১%) এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড (০.০৩%) বায়ুর প্রধান গ্যাসীয় উপাদান। হাইড্রোজেনও অত্যন্ত অল্প পরিমাণে বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত থাকে।
124

অ্যালিউমিনিয়াম সালফেটকে চলতি বাংলায় কি বলে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চুন
  2. সেভিং সোপ
  3. ফিটকিরি
  4. কস্টিক সোডা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ফিটকিরি
যদিও প্রশ্নে উল্লিখিত অ্যালিউমিনিয়াম সালফেট-এর রাসায়নিক সংকেত হলো Al2(SO4)3\text{Al}_2(\text{SO}_4)_3, তবে চলতি বা সাধারণ বাংলায় 'ফিটকিরি' বলতে মূলত পটাশ অ্যালুমিনিয়াম সালফেট (KAl(SO4)212H2O\text{KAl}(\text{SO}_4)_2 \cdot 12\text{H}_2\text{O}) বা অন্য কোনো ডাবল সালফেট লবণকে বোঝানো হয় যা অ্যালুমিনিয়াম ধারণ করে।
পরীক্ষার ক্ষেত্রে, যখনই অ্যালুমিনিয়াম সংক্রান্ত কোনো পরিচিত লবণের নাম জানতে চাওয়া হয়, তখন ফিটকিরি উত্তর হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
ফিটকিরি মূলত একটি ডাবল সল্ট যা জলকে পরিশোধন করতে এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
125

পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ধাতু কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. লোহা
  2. সিলিকন
  3. পারদ
  4. তামা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত মৌলসমূহের মধ্যে লোহা, পারদ ও তামা হচ্ছে ধাতু, কিন্তু সিলিকন কোনো ধাতু নয়। সিলিকন হলো এক ধরনের অর্ধপরিবাহী। ভূত্বকে যে সকল ধাতু পাওয়া যায় তাদের মধ্যে প্রাচুর্যের দিক থেকে অ্যালুমিনিয়ামের অবস্থান প্রথম (প্রায় ৮%) এবং লৌহের অবস্থান দ্বিতীয় (প্রায় ৫%)। প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত ধাতুসমূহের মধ্যে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় লোহা এবং লোহার ব্যবহারও সবচেয়ে বেশি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো লোহা (Iron)। বিজ্ঞানীদের মতে, সমগ্র পৃথিবীতে ভরের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় লোহা
লোহা মূলত পৃথিবীর কেন্দ্র/ভূ-গর্ত (Core) অঞ্চলে জমাট বেঁধে আছে এবং এটি পৃথিবীর মোট ভরের প্রায় ৩৩% থেকে ৩৫%। এটিই পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সমগ্র অঞ্চলে পাওয়া সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকা ধাতু
মনে রাখবেন, যদি প্রশ্ন করা হতো ভূ-ত্বকে সবচেয়ে বেশি মৌল কোনটি, তবে উত্তর হতো অক্সিজেন। যদি প্রশ্ন করা হতো ভূ-ত্বকে সবচেয়ে বেশি ধাতু কোনটি, তবে উত্তর হতো অ্যালুমিনিয়াম
126

পারমাণবিক চুল্লীতে কোন মৌল জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পেট্রোলিয়াম
  2. ইউরেনিয়াম-২৩৫
  3. অক্সিজেন
  4. হাইড্রোজেন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে যে ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হয়, তা দুই ধরনের ইউরেনিয়াম আইসোটোপের সংমিশ্রণ। এদের মধ্যে ইউরেনিয়াম-২৩৫ খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাখ্যা

পারমাণবিক চুল্লীতে (Nuclear Reactor) শক্তি উৎপাদনের মূল প্রক্রিয়াটি হলো **নিউক্লিয়ার ফিশন** (Nuclear Fission)। এই প্রক্রিয়ায়, ভারী মৌলের নিউক্লিয়াসকে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে তা ভেঙে যায় এবং বিপুল পরিমাণ তাপশক্তি নির্গত করে।
এই চেইন রিঅ্যাকশন (Chain Reaction) বজায় রাখার জন্য যে মৌলটি প্রধান জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত হয়, তা হলো **ইউরেনিয়াম-২৩৫ (Uranium-235)**।
ইউরেনিয়াম-২৩৫ হলো একটি **ফিসাইল পদার্থ**, যা নিউট্রনের আঘাতে সহজেই ফিশন ঘটাতে পারে।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে—পেট্রোলিয়াম একটি জীবাশ্ম জ্বালানি, হাইড্রোজেন ফিউশন বিক্রিয়ার জন্য উপযোগী (যা চুল্লীতে ব্যবহার হয় না), এবং অক্সিজেন ফিশন বিক্রিয়ার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
127

বৈদ্যুতিক হিটার ও ইস্ত্রিতে কোন ধাতুর তার ব্যবহার করা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তামা
  2. নাইক্রোম
  3. স্টেনিয়াম
  4. প্লাটিনাম

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বৈদ্যুতিক হিটার ও বৈদ্যুতিক ইস্ত্রিতে তাপ উৎপাদনের জন্য উচ্চ গলনাংক ও উচ্চ আপেক্ষিক রোধ বিশিষ্ট নাইক্রোমের তার ব্যবহৃত হয়। তামা দিয়ে বিদ্যুৎবাহী তার, বৈদ্যুতিক কয়েল, বিভিন্ন সংকর ধাতু ইত্যাদি তৈরি করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো নাইক্রোম
বৈদ্যুতিক হিটার (Electric Heater), ইস্ত্রি (Iron) বা টোস্টারের মতো যন্ত্রে তাপ উৎপাদনের জন্য যে তার ব্যবহার করা হয়, তাকে হিটিং এলিমেন্ট বলে। এই এলিমেন্ট তৈরির জন্য এমন উপাদান দরকার যার দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য থাকবে:
১. উচ্চ রোধ (High Resistivity): তারের রোধ যত বেশি হবে, তড়িৎ প্রবাহের কারণে তত বেশি তাপ উৎপন্ন হবে। এটি জুল-এর তাপীয় সূত্র (H=I2RtH=I^2Rt) অনুযায়ী ঘটে।
২. উচ্চ গলনাঙ্ক (High Melting Point): অত্যধিক তাপমাত্রায়ও যেন তারটি গলে না যায় বা জারিত না হয়।
নাইক্রোম (Nichrome) হলো নিকেল (Nickel) ও ক্রোমিয়াম (Chromium)-এর একটি সংকর ধাতু, যার আপেক্ষিক রোধ সাধারণ ধাতুর চেয়ে অনেক গুণ বেশি এবং গলনাঙ্ক প্রায় ১৪০০°C। তাই এটি উচ্চ তাপমাত্রায় লাল হয়ে জ্বলে উঠলেও গলে যায় না বা সহজে জারিত (Oxidize) হয় না।
তামা (Copper) বা রূপার রোধ খুবই কম। এগুলি বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়, তাপ উৎপাদনের জন্য নয়।
128

জীবজগতের জন্যে সবচেয়ে ক্ষতিকারক রশ্মি কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আলফা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. আলট্রা-ভায়োলেট রশ্মি
  4. গামা রশ্মি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

আলট্রা-ভায়োলেট রশ্মি, বিটা রশ্মি, আলফা রশ্মি, গামা রশ্মি জীবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এদের মধ্যে আল্ট্রা-ভায়োলেট রশ্মি ও গামা রশ্মি তুলনামূলকভাবে অধিক ক্ষতিকারক কিন্তু সবচেয়ে ক্ষতিকারক হচ্ছে গামা রশ্মি, কারণ গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য অন্য সব রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তুলনায় অনেক ক্ষুদ্র। গামা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি। এ রশ্মি মানবদেহে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের সৃষ্টি করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গামা রশ্মি
জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকারক রশ্মি হলো গামা রশ্মি (Gamma Ray)। এর কারণ হলো, তড়িৎ-চৌম্বকীয় বর্ণালীতে (Electromagnetic Spectrum) গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং শক্তি (Energy) ও ভেদন ক্ষমতা (Penetrating Power) সবচেয়ে বেশি
গামা রশ্মি মানবদেহের ত্বক, মাংসপেশি ভেদ করে একেবারে কোষের ডিএনএ স্তর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই কারণে এটি কোষের গঠন সম্পূর্ণরূপে নষ্ট করে দেয় এবং গুরুতর ক্যান্সার বা রেডিয়েশন পয়জনিং সৃষ্টি করে।
অন্যান্য অপশনগুলো তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকারক:
আলফা ও বিটা রশ্মি: এদের ভেদন ক্ষমতা খুবই কম। আলফা রশ্মিকে একটি কাগজ বা ত্বকের বাইরের স্তর দ্বারাও থামিয়ে দেওয়া যায়। বিটা রশ্মি সামান্য গভীরতা পর্যন্ত যেতে পারে, কিন্তু গামা রশ্মির মতো মারাত্মক নয়।
আলট্রা-ভায়োলেট (UV) রশ্মি: এটি সাধারণত ত্বকের উপরিভাগেই বেশি ক্ষতি করে (যেমন স্কিন ক্যান্সার)। যদিও এটি ক্ষতিকারক, কিন্তু ভেদন ক্ষমতার দিক থেকে গামা রশ্মিই সবচেয়ে বিপজ্জনক
129

Rubber is notable for its-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. lightness
  2. heaviness
  3. elasticity
  4. viscosity

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

প্রতিটি বস্তুর একটি বিশেষত্ব আছে। Rubber-এর বিশেষত্ব হলো এর স্থিতিস্থাপকতা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো স্থিতিস্থাপকতা (Elasticity)
স্থিতিস্থাপকতা হলো পদার্থের সেই ধর্ম, যার ফলে কোনো বস্তুতে বাহ্যিক বল প্রয়োগ করে তার আকৃতির পরিবর্তন ঘটানো হলেও, বল অপসারণের পর বস্তুটি তার আদি আকৃতিতে ফিরে আসে।
রাবার হলো স্থিতিস্থাপকতার সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ। রাবার তার আকৃতি পরিবর্তন করার ক্ষমতা এবং পুনরায় পূর্বাবস্থায় ফিরে আসার ক্ষমতার জন্যই বিখ্যাত।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, সান্দ্রতা (Viscosity) মূলত তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের প্রবাহের প্রতিরোধের ধর্ম। যদিও রাবার একটি পলিমার, তবুও এর প্রধান বিশেষত্ব বা 'Notable' বৈশিষ্ট্য হলো স্থিতিস্থাপকতা।
130

রেফ্রিজারেটরে কমপ্রেসরের কাজ কি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ফ্রেয়নকে ঘনীভূত করা
  2. ফ্রেয়নকে বাষ্পে পরিণত করা
  3. ফ্রেয়নকে সংকুচিত করে এর তাপ ও তাপমাত্রা বাড়ানো
  4. ফ্রেয়নকে ঠাণ্ডা করা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

রেফ্রিজারেটরের মধ্যে একটি শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠ থাকে, যাকে ঘিরে থাকে ফাঁপা নলের তৈরি বাষ্পীভবন কুণ্ডলী। এই কুণ্ডলীর মধ্যে উদ্বায়ী পদার্থ ফ্রেয়ন থাকে এবং একে একটি সংকোচন পাম্প বা কমপ্রেসরের (Compressor) সাথে যুক্ত করা হয়। এই সংকোচন পাম্প বা কমপ্রেসর চালু করা হলে নলের ভিতরের চাপ কমে যাওয়ায় ফ্রেয়ন দ্রুত বাষ্পীভূত হয়। ফ্রেয়ন বাষ্পীভূত হওয়ার সময় বাষ্পীভবনের জন্য প্রয়োজনীয় সুপ্ততাপ শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠ থেকে নেয় বলে এখানে শীতলীকরণ ঘটে। পরবর্তীকালে বাষ্পীভূত ফ্রেয়নকে ঘনীভূবন কুণ্ডলীর মধ্যে এনে কমপ্রেসরের সাহায্যে সঙ্কুচিত বা ঘনীভূত করে পুনরায় তরলে পরিণত করা হয়। কাজেই বলা যায় যে, ফ্রেয়নকে বাষ্পে পরিণত করা এবং ফ্রেয়নকে ঘনীভূত করা এই উভয় কাজই কমপ্রেসর করে থাকে। তবে কমপ্রেসরের প্রধান কাজ হলো ফ্রেয়নকে ঘনীভূত করা। ফ্রেয়নের রাসায়নিক নাম ডাইক্লোরো ডাইফ্লোরো মিথেন (Cl2CF2)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ফ্রেয়নকে ঘনীভূত করা
রেফ্রিজারেটরের মূল কাজ হলো ঠাণ্ডা স্থান থেকে তাপ শোষণ করে তা গরম স্থানে (বাহিরের পরিবেশে) ছেড়ে দেওয়া। এই পুরো চক্রটি সম্পন্ন করে রেফ্রিজারেন্ট বা ফ্রেয়ন (Refrigerant/Freon)।
কমপ্রেসর (Compressor) হলো রেফ্রিজারেটরের ইঞ্জিন। এর প্রধান কাজ হলো ইভাপোরেটর কয়েল (Evaporator Coil) থেকে আসা নিম্ন চাপ ও নিম্ন তাপমাত্রার ফ্রেয়ন গ্যাসকে সংকুচিত করা (Compress)।
ফিজিক্সের নিয়ম অনুযায়ী, যখন গ্যাস সংকুচিত হয়, তখন এর চাপ ও তাপমাত্রা অত্যন্ত বেড়ে যায়। এই গরম, উচ্চ চাপযুক্ত ফ্রেয়ন গ্যাস তখন কন্ডেনসার কয়েলে (Condenser Coil) প্রবেশ করে।
কমপ্রেসরের এই উচ্চ চাপ সৃষ্টির ফলেই কন্ডেনসার কয়েলে (ফ্রিজের পিছনের কালো কয়েল) ফ্রেয়ন গ্যাস পরিবেশের তাপমাত্রার চেয়েও বেশি গরম হয়ে ওঠে এবং তাপ ছেড়ে দিয়ে তরলে (ঘনীভূত) পরিণত হয়। কমপ্রেসর সরাসরি ঘনীভূত না করলেও, এটিই ঘনীভবনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় চাপ ও তাপমাত্রা সৃষ্টি করে। তাই প্রক্রিয়াটির ফলাফল হিসেবে ঘনীভূত করাই উত্তর হিসেবে প্রচলিত।
অন্যান্য অপশন ভুল কারণ:
ফ্রেয়নকে বাষ্পে পরিণত করা হয় ইভাপোরেটরে (Evaporator)।
ফ্রেয়নকে ঠাণ্ডা করা কম্প্রেসরের কাজ নয়, বরং কম্প্রেসর ফ্রেয়নকে অত্যন্ত গরম করে তোলে।
131

কোন শব্দ শোনার পরে কত সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১ সেকেন্ড
  2. ০.১ সেকেন্ড
  3. ০.০১ সেকেন্ড
  4. ০.০০১ সেকেন্ড

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কোনো শব্দ শোনার পর প্রায় ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। কোনো শব্দ শোনার পর যদি ০.১ সেকেন্ডের মধ্যে আরেকটি শব্দ আমাদের কানে এসে পৌঁছায় তবে আমাদের মস্তিষ্ক দুটি শব্দ আলাদাভাবে শনাক্ত করতে বা বুঝতে পারে না।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো ০.১ সেকেন্ড
কোনো শব্দ শোনার পর সেই শব্দের অনুভূতি আমাদের মস্তিষ্কে ক্ষণস্থায়ীভাবে থেকে যায়। শব্দানুভূতির এই স্থায়িত্বকালকে শ্রবণানুভূতির স্থায়িত্ব (Persistence of Hearing) বলা হয়।
সাধারণত, মানুষের ক্ষেত্রে এই স্থায়িত্বকাল হলো ০.১ সেকেন্ড। এর অর্থ হলো, ০.১ সেকেন্ডের কম সময়ের ব্যবধানে যদি দুটি শব্দ আমাদের কানে পৌঁছায়, তবে মস্তিষ্ক সেগুলোকে আলাদা শব্দ হিসেবে গ্রহণ না করে একটি অবিচ্ছিন্ন বা নিরবচ্ছিন্ন শব্দ হিসেবে গ্রহণ করে।
অন্যান্য অপশন (১ সেকেন্ড, ০.০১ সেকেন্ড, ০.০০১ সেকেন্ড) এই বৈজ্ঞানিক সত্যের সাথে মেলে না। ১ সেকেন্ড অনেক দীর্ঘ সময় এবং অন্যান্য মানগুলি বাস্তব শ্রবণের স্থিতিকালের তুলনায় অনেক কম।
132

টেলিভিশনে রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য কয়টি মৌলিক রং-এর ছবি ব্যবহার করা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত যে অসংখ্য রঙের বস্তু দেখতে পাই, সেই রঙগুলোর প্রতিটিই তিনটি মূল বা মৌলিক রঙ দ্বারা সৃষ্ট। এ রঙ তিনটি হচ্ছে : লাল, সবুজ ও নীল এবং এ তিনটি রঙকে বিভিন্ন অনুপাতে মিশিয়ে আমাদের চারপাশে দৃশ্যমান সকল রঙই তৈরি করা সম্ভব। এজন্যই টেলিভিশনে বিভিন্ন রঙের রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য এই তিনটি মৌলিক রঙ ব্যবহার করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো ৩টি
রঙিন টেলিভিশন বা কম্পিউটার মনিটরসহ সকল প্রকার ডিজিটাল ডিসপ্লেতে ছবি উৎপাদনের জন্য আলোর যোজক মৌলিক রং (Additive Primary Colors) নীতি ব্যবহার করা হয়।
এই মৌলিক রংগুলো হলো— লাল (Red), সবুজ (Green) এবং নীল (Blue), সংক্ষেপে যা RGB নামে পরিচিত।
এই তিনটি রং বিভিন্ন তীব্রতায় মিশিয়ে (Mixing) টেলিভিশনের পর্দায় কোটি কোটি রং ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয়। তাই রঙিন ছবি তৈরির জন্য ৩টি মৌলিক রং ব্যবহার করা আবশ্যক।
133

যে যন্ত্রের সাহায্যে পরবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তার নাম কি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ট্রান্সফর্মার
  2. মোটর
  3. জেনারেটর
  4. ডায়নামো

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করা হয়, তাকে ট্রান্সফর্মার (Transformer) বা রূপান্তরক বলে। আবার যে যন্ত্রের সাহায্যে বিদ্যুৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায়, তাকে বৈদ্যুতিক মটর বলে। অপরদিকে, যে যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়, তাকে জেনারেটর (Generator) বা ডায়নামো (Dynamo) বলে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ট্রান্সফর্মার
ট্রান্সফর্মার হলো এমন একটি ডিভাইস যা তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction) নীতির ভিত্তিতে কাজ করে। এর প্রধান কাজ হলো পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের (AC) উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে (Step Down) এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে (Step Up) রূপান্তর করা।
ট্রান্সফর্মার ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎকে দীর্ঘ দূরত্বে সঞ্চালনের জন্য সুবিধাজনক উচ্চ ভোল্টেজে রূপান্তর করা হয় এবং ব্যবহারের জন্য তা পুনরায় নিম্ন ভোল্টেজে আনা হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল কারণ: মোটর যান্ত্রিক শক্তিতে, এবং জেনারেটর/ডায়নামো যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে, এরা ভোল্টেজ পরিবর্তন করে না।
134

বিদ্যুৎ বিলের হিসাব কিভাবে করা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ওয়াট আওয়ারে
  2. ওয়াটে
  3. ভোল্টে
  4. কিলোওয়াট ঘণ্টায়

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

প্রতি সেকেন্ডে এক কিলোওয়াট হারে এক ঘণ্টায় যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয় বা ব্যয় হয়, তাকে এক কিলোওয়াট ঘণ্টা বলা হয়। তড়িৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ বিলের হিসাব করে কিলোওয়াট ঘণ্টা এককে। বাণিজ্যিকভাবে একে ‘বোর্ড অব ট্রেড ইউনিট’ (B.O.T Unit) বা সংক্ষেপে শুধু ‘ইউনিট’ বলা হয়ে থাকে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কিলোওয়াট ঘণ্টায়
বাসাবাড়ি বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের যে হিসাব করা হয়, তা মূলত বৈদ্যুতিক শক্তির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে। বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো এই শক্তি পরিমাপের জন্য যে একক ব্যবহার করে, তাকে কিলোওয়াট ঘণ্টা (Kilowatt-hour) বলা হয়।
কিলোওয়াট ঘণ্টা (kWh) হলো বৈদ্যুতিক শক্তি (Electrical Energy) পরিমাপের ব্যবহারিক একক। একেই সাধারণ চলিত ভাষায় 'ইউনিট' বলা হয়। যখন কোনো বিদ্যুৎ বিলের হিসাব করা হয়, তখন গ্রাহক মাসে মোট কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন, তার ওপর ভিত্তি করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
১ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হওয়া মানে হলো, আপনি যদি ১,০০০ ওয়াটের (১ কিলোওয়াট) কোনো যন্ত্র একটানা ১ ঘণ্টা চালান, তবে যে পরিমাণ শক্তি খরচ হবে, সেটি।
অন্যান্য অপশন ভুল হওয়ার কারণ:
ওয়াট (Watt): এটি হলো ক্ষমতার (Power) একক। এটি দিয়ে খরচ হওয়া শক্তির পরিমাণ মাপা হয় না।
ভোল্ট (Volt): এটি হলো বিভব পার্থক্য বা ভোল্টেজের একক। এটি দিয়ে শক্তির ব্যবহার মাপা হয় না।
ওয়াট আওয়ারে (Watt-hour): এটিও শক্তির একক, তবে এটি কিলোওয়াট ঘণ্টার চেয়ে ১০০০ গুণ ছোট। বাণিজ্যিক বিলিংয়ের জন্য কিলোওয়াট ঘণ্টা (kWh) ব্যবহার করা হয়।
135

কোনটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গ্লিসারিন
  2. ফিটকিরি
  3. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. ক্যালসিয়াম কার্বনেট

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

রসায়ন বিদ্যা থেকে আমরা জানি যে, ক্ষার ধাতু ব্যতীত অন্যান্য ধাতুসমূহের কার্বনেট লবণ পানিতে অদ্রবণীয়। ক্যালসিয়াম (Ca) ক্ষার ধাতু নয়, এটি একটি মৃৎক্ষার ধাতু। সুতরাং ক্যালসিয়ামের কার্বনেট লবণ বা ক্যালসিয়াম কার্বনেট পানিতে অদ্রবণীয় অর্থাৎ পানিতে দ্রবীভূত হয় না। অপরদিকে গ্লিসারিন, ফিটকিরি ও সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) বা খাবার লবণ এদের প্রত্যেকেই পানিতে দ্রবণীয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3\text{CaCO}_3)
ক্যালসিয়াম কার্বনেটকে সাধারণভাবে চুনাপাথর (Limestone), মার্বেল (Marble) বা খড়িমাটি (Chalk) বলা হয়। এটি একটি অদ্রবণীয় লবণ। পানিতে এর দ্রাব্যতা (Solubility) খুবই কম, কারণ এর আয়নিক বন্ধন অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় পানির অণু সহজেই এদের বিচ্ছিন্ন করতে পারে না।
অন্যদিকে, সোডিয়াম ক্লোরাইড (খাবার লবণ) এবং ফিটকিরি (পটাসিয়াম অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) উভয়ই শক্তিশালী আয়নিক যৌগ এবং পানিতে খুব দ্রুত দ্রবীভূত হয়।
গ্লিসারিন একটি অ্যালকোহল জাতীয় জৈব যৌগ। এর একাধিক হাইড্রক্সিল গ্রুপ (-OH) থাকার কারণে এটি পানির সাথে হাইড্রোজেন বন্ধন তৈরি করতে পারে এবং পানিতে সহজেই দ্রবীভূত (Miscible) হয়।
136

পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসেবে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সোডিয়াম
  2. পটাসিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. কোনোটিই নয়

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসেবে ক্ষার ধাতু ব্যবহার করা হয়। কারণ ক্ষার ধাতুসমূহের তাপ পরিবাহকতা ও তাপ স্থানান্তর করার ক্ষমতা বেশি। এছাড়াও ক্ষার ধাতুসমূহ নিম্ন গলনাঙ্ক ও অতি উচ্চতাপ স্থানান্তর সহগ বিশিষ্ট। সোডিয়াম একটি ক্ষার ধাতু যা পারমাণবিক চুল্লির জন্য অতি উপযোগী তাপ স্থানান্তরকারী বা তাপ পরিবাহক পদার্থ। তাই পারমাণবিক চুল্লিতে উৎপাদিত তাপকে পরিবাহিত করার জন্য সোডিয়াম ধাতু ব্যবহার করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সোডিয়াম (Sodium)। পারমাণবিক চুল্লিতে (Nuclear Reactor) যখন নিউক্লীয় ফিশন (Fission) প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ তাপ উৎপন্ন হয়, তখন সেই অত্যধিক তাপকে চুল্লির কোর থেকে সরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য কুল্যান্ট বা তাপ পরিবাহক (Coolant) ব্যবহার করা হয়।
তরল সোডিয়াম (Liquid Sodium) এই কাজে অত্যন্ত উপযোগী, বিশেষ করে ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (Fast Breeder Reactor)-এ।
সোডিয়াম ব্যবহারের প্রধান কারণ হলো—
১. উচ্চ তাপ পরিবাহিতা: এটি খুব দ্রুত তাপ শোষণ ও বহন করতে পারে।
২. উচ্চ স্ফুটনাঙ্ক: সোডিয়ামের স্ফুটনাঙ্ক প্রায় ৮৮৩° সেলসিয়াস, ফলে এটি উচ্চ তাপমাত্রাতেও তরল অবস্থায় থাকতে পারে এবং উচ্চচাপ এড়িয়ে চলা যায়।
৩. অন্যান্য বিকল্প ভুল কেন: পটাসিয়াম (Potassium) প্রায়শই সোডিয়ামের সাথে মিশ্রিত করে (NaK) ব্যবহার করা হলেও একা খুব কম ব্যবহৃত হয়। ম্যাগনেসিয়াম সাধারণত জ্বালানিকে আবৃত করার জন্য ব্যবহৃত হয়, তাপ পরিবাহক হিসেবে নয়।
137

টেপ রেকর্ডার এবং কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় কি ধরনের চুম্বক ব্যবহৃত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. স্থায়ী চুম্বক
  2. অস্থায়ী চুম্বক
  3. সংকর চুম্বক
  4. প্রাকৃতিক চুম্বক

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

টেপ রেকর্ডার এবং কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক ‍চুম্বক ব্যবহৃত হয়। এই সিরামিক চুম্বক হচ্ছে এক ধরনের স্থায়ী চুম্বক যা আয়রন অক্সাইড ও বেরিয়াম অক্সাইডের মিশ্রণে তৈরি ফেরাইট (Ferrite) নামক যৌগিক পদার্থ দ্বারা গঠিত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: স্থায়ী চুম্বক
টেপ রেকর্ডার (Tape Recorder) বা কম্পিউটারের মেমরি ফিতা (যেমন পুরোনো ফ্লপি ডিস্ক, ম্যাগনেটিক টেপ) হলো এক প্রকার ডেটা স্টোরেজ ডিভাইস। এই ডিভাইসগুলোতে ডেটা বা তথ্যকে চুম্বকীয় সংকেত (Magnetic Signals) হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়।
সংরক্ষিত এই তথ্য যেন দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং মুছে না যায়, তার জন্য ফিতার উপরিতলে এমন এক প্রকার চুম্বক পদার্থ ব্যবহার করা হয় যা একবার চুম্বকিত হলে সহজে তার চুম্বকত্ব হারায় না। এই ধরনের পদার্থকেই স্থায়ী চুম্বক বা কঠিন চুম্বক পদার্থ (Hard Magnetic Material) বলে।
ফিতাগুলোতে সাধারণত আয়রন অক্সাইড (Fe2O3\text{Fe}_2\text{O}_3) অথবা ক্রোমিয়াম ডাইঅক্সাইড (CrO2\text{CrO}_2) এর কণা ব্যবহার করা হয়, যা স্থায়ী চুম্বক হিসেবে কাজ করে।
138

কোন ইঞ্জিনে কার্বুরেটর থাকে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পেট্রোল ইঞ্জিনে
  2. ডিজেল ইঞ্জিনে
  3. রকেট ইঞ্জিনে
  4. বিমান ইঞ্জিনে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

মোটর গাড়ির যে প্রকোষ্ঠে বায়ু ও পেট্রোল মিশ্রিত করা হয় তাই হলো কার্বুরেটর। বায়ু ও পেট্রোলের মিশ্রণ তৈরি হওয়ার পরে এটিকে দহন প্রকোষ্ঠে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সব ইঞ্জিনে কার্বুরেটর থাকে না। শুধু পেট্রোল ইঞ্জিনে এটি থাকে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পেট্রোল ইঞ্জিনে
কার্বুরেটরের মূল কাজ হলো পেট্রোল এবং বাতাসকে সঠিক অনুপাতে মিশ্রিত করে বাষ্পাকারে ইঞ্জিন সিলিন্ডারে সরবরাহ করা। এই মিশ্রণটি স্পার্ক প্লাগের সাহায্যে প্রজ্বলিত হয়। এটি পেট্রোল ইঞ্জিনের (Otto Cycle) একটি মৌলিক অংশ।
অন্যদিকে, ডিজেল ইঞ্জিনে কার্বুরেটর থাকে না। ডিজেল ইঞ্জিনে বাতাসকে অতিরিক্ত চাপে সংকুচিত করে উত্তপ্ত করা হয় এবং সেই উত্তপ্ত বাতাসের মধ্যে ফিউল ইনজেক্টরের মাধ্যমে ডিজেল প্রবেশ করানো হয়, ফলে তা নিজে থেকেই জ্বলে ওঠে (সংকোচন প্রজ্বলন বা Compression Ignition)।
রকেট বা বিমান ইঞ্জিনে (জেট ইঞ্জিন) অত্যন্ত আধুনিক ফুয়েল ইনজেকশন সিস্টেম ব্যবহৃত হয়, যা কার্বুরেটরের চেয়ে বহুগুণ কার্যকর এবং উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন।
139

প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয়, কারণ–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রান্নার জন্য শুধু তাপ নয় চাপও কাজে লাগে
  2. বদ্ধ পাত্রে তাপ সংরক্ষিত হয়
  3. উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়
  4. সঞ্চিত বাষ্পের তাপ রান্নার সহায়ক

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হওয়ার কারণ উচ্চচাপ প্রয়োগে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়। প্রেসার কুকারে বাষ্পের বহির্গমন নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ চাপ বৃদ্ধির ফলে পানির স্ফুটনাঙ্ক বৃদ্ধি পেয়ে ১৩০০ সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত পৌঁছে । এ কারণে প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়। এটি প্রেসার কুকারে দ্রুত রান্নার মূল বৈজ্ঞানিক কারণ।
সাধারণ অবস্থায় (১ অ্যাটমোস্ফিয়ার চাপ) জল 100C100^{\circ}C তাপমাত্রায় ফুটতে শুরু করে। এই তাপমাত্রার উপরে জলীয় বাষ্পে রূপান্তরিত হয় এবং তাপমাত্রা আর বাড়ে না।
প্রেসার কুকারে পাত্রটি সম্পূর্ণ বদ্ধ থাকে। রান্নার সময় যে বাষ্প তৈরি হয়, তা বের হতে না পারায় পাত্রের অভ্যন্তরে চাপ অনেক বৃদ্ধি পায়
পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র অনুযায়ী, চাপ বৃদ্ধি পেলে তরলের স্ফুটনাঙ্কও (Boiling Point) বৃদ্ধি পায়। ফলে প্রেসার কুকারের ভেতরের জল 100C100^{\circ}C-এর পরিবর্তে 120C120^{\circ}C থেকে 125C125^{\circ}C তাপমাত্রায় ফুটতে পারে।
এই অতিরিক্ত উচ্চ তাপমাত্রার কারণে খাদ্যদ্রব্য দ্রুত নরম হয়ে যায় এবং রান্না তাড়াতাড়ি শেষ হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো (যেমন: তাপ সংরক্ষণ বা বাষ্প কাজে লাগা) সহায়ক হলেও স্ফুটনাঙ্ক বৃদ্ধি পাওয়া-ই হলো রান্নার দ্রুততার প্রধান কারণ।
140

বাদুড় অন্ধকারে চলাফেরা করে কিভাবে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তীক্ষ্ম দৃষ্টসম্পন্ন চোখের সাহায্যে
  2. ক্রমাগত শব্দ উৎপন্নের মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয় করে
  3. সৃষ্ট শব্দের প্রতিধ্বনি শুনে
  4. অলৌকিকভাবে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দোত্তর তরঙ্গ সৃষ্টি করে তার প্রতিধ্বনির মাধ্যমে বাদুড় পথ চলে। বাদুড় চলার সময় ক্রমাগত উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দোত্তর তরঙ্গ সৃষ্টি করে এবং সেই শব্দ এটির সামনের বস্তু থেকে প্রতিফলিত হয়ে বাদুড়ের কানে ফিরে আসে। সৃষ্ট শব্দোত্তর তরঙ্গ ও প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান এবং প্রতিফলিত শব্দের প্রকৃতি থেকে বাদুড় সহজেই প্রতিবন্ধকের অবস্থান ও আকৃতি সম্বন্ধে ধারণা করতে পারে। ফলে পথ চলার সময় বাদুড় সেই প্রতিবন্ধকতা পরিহার করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সৃষ্ট শব্দের প্রতিধ্বনি শুনে। এই প্রক্রিয়াকে বিজ্ঞানের ভাষায় ইকোলোকেশন (Echolocation) বা প্রতিধ্বনি নীতি বলা হয়।
বাদুড় মুখ বা নাক দিয়ে উচ্চ কম্পাঙ্কের অতিশব্দ (Ultrasonic Sound) বা আল্ট্রাসনিক তরঙ্গ উৎপন্ন করে, যা মানুষের শ্রবণ ক্ষমতার বাইরে।
এই শব্দ তরঙ্গ সামনে থাকা কোনো বস্তুতে (যেমন: শিকার, গাছ, দেয়াল) বাধা পেয়ে আবার বাদুড়ের কানে প্রতিধ্বনি হিসেবে ফিরে আসে।
বাদুড় সেই প্রতিধ্বনি বিশ্লেষণ করে অতি দ্রুত বস্তুর অবস্থান, দূরত্ব, আকার এবং গতিবিধি নির্ভুলভাবে নির্ণয় করতে পারে এবং নিরাপদে চলাফেরা করতে সক্ষম হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল। যেমন, 'তীক্ষ্ম দৃষ্টসম্পন্ন চোখের সাহায্যে' ভুল, কারণ বাদুড় অন্ধকারে চোখে দেখতে পায় না। 'ক্রমাগত শব্দ উৎপন্নের মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয় করে' অপশনটি অসম্পূর্ণ; শুধু শব্দ উৎপাদন যথেষ্ট নয়, বরং প্রতিধ্বনি শোনা আবশ্যক।
141

নিচের কোনটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকে না?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. meson
  2. neutron
  3. proton
  4. electron

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

পদার্থের পরমাণুর কেন্দ্রে রয়েছে নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াস গঠিত হয় প্রোটন (proton) এবং নিউট্রনের (Netron) সমন্বয়ে। ইলেকট্রন, নিউট্রন ও প্রোটনকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকে। প্রোটনের চার্জ পজেটিভ এবং ইলেকট্রনের চার্জ নেগেটিভ। একটি পরমাণুতে ইলেকট্রন ও প্রোটন সংখ্যা সমান থাকে এবং এজন্য পরমাণু চার্জ নিরপেক্ষ হয়। অপরপক্ষে মেসন (Meson) এক ধরনের অস্থিত মৌলিক কণিকা যা কসমিক রশ্মিতে এবং পরমাণু কেন্দ্রের বিভাজনে পাওয়া যায়।

ব্যাখ্যা

পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থিত ক্ষুদ্র ও ভারী অংশটি হলো নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াসে সাধারণত দুটি মৌলিক কণা বিদ্যমান থাকে: প্রোটন (ধনাত্মক চার্জযুক্ত) এবং নিউট্রন (চার্জ নিরপেক্ষ)।
কিন্তু ইলেকট্রন (ঋণাত্মক চার্জযুক্ত) নিউক্লিয়াসের বাইরে বিভিন্ন কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান অবস্থায় থাকে।
অতএব, প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে ইলেকট্রন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের অংশ নয়, বরং এটি নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
উল্লেখ্য, মেসন হলো এমন এক প্রকার সাব-এটমিক কণা যা নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে শক্তিশালী নিউক্লিয় বলের মাধ্যমে প্রোটন ও নিউট্রনকে একত্রে ধরে রাখতে সাহায্য করে, কিন্তু এটি প্রোটন বা নিউট্রনের মতো নিউক্লিয়াসের মৌলিক উপাদান হিসেবে গণ্য নয়।
142

কত তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি? ,

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ০∘ সেন্টিগ্রেড

  2. ১০° সেন্টিগ্রেড

  3. ৪∘ সেন্টিগ্রেড

  4. ১১০∘ সেন্টিগ্রেড

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সাধারণত কোনো বস্তুর তাপমাত্রা হ্রাস করলে এর ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। পানির একমাত্র ব্যতিক্রমী প্রসারণ হচ্ছে পানির তাপমাত্রা কমিয়ে ৪০ সেন্টিগ্রেডে আনলে এর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয় এবং ৪০ থেকে তাপমাত্রা কমিয়ে আনলে এর ঘনত্ব কমতে থাকে। পানির এ ধর্মের জন্যই বরফ পানিতে ভাসে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ৪∘ সেন্টিগ্রেড
সাধারণত সব তরল পদার্থ ঠান্ডা করলে সংকুচিত হয় এবং তাদের ঘনত্ব বাড়ে। কিন্তু পানির ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রম দেখা যায়, যা পানির ব্যতিক্রমী প্রসারণ (Anomalous Expansion of Water) নামে পরিচিত।
পানিকে যখন ৪°C থেকে ০°C-এর দিকে ঠান্ডা করা হয়, তখন তা সংকুচিত না হয়ে উল্টো প্রসারিত হতে থাকে।
এর ফলে, পানি ৪°C তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ সংকোচন লাভ করে। আর পদার্থ যখন সবচেয়ে বেশি সংকুচিত হয়, তখনই তার ঘনত্ব (Density) সবচেয়ে বেশি হয়।
০°C তাপমাত্রায় পানি বরফে পরিণত হয় এবং বরফের ঘনত্ব পানির চেয়ে কম (তাই বরফ ভাসে)।
143

কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শূন্যতায়
  2. লোহা
  3. পানি
  4. বাতাস

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

মাধ্যম ছাড়া শব্দ চলাচল করতে পারে না বিধায় শূন্য মাধ্যমে শব্দ গতিহীন। মাধ্যমের ঘনত্বের ওপর শব্দের গতি নির্ভরশীল। অর্থাৎ মাধ্যম যতো ঘন হবে শব্দের গতি ততো বেশি হবে। তাই লোহার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় পানি বা বাতাসের চেয়ে লোহায় শব্দের গতি বেশি হবে। স্বাভাবিক অবস্থায় বাতাসে শব্দের গতি ৩৩২ মি/সে. পানিতে ১৪৫০ মি/সে এবং লোহায় ৫২২১ মি/সে.।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো লোহা। শব্দ হলো এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ (Mechanical Wave), যার বিস্তারের জন্য মাধ্যম (কঠিন, তরল বা গ্যাসীয়) প্রয়োজন হয়।
শব্দের গতিবেগ মূলত মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতা (Elasticity) এবং ঘনত্বের (Density) উপর নির্ভর করে। কঠিন পদার্থের অণুগুলো সবচেয়ে দৃঢ়ভাবে ও কাছাকাছি সজ্জিত থাকে (উচ্চ স্থিতিস্থাপকতা ও ঘনত্ব)। ফলে কম্পন (শব্দ) দ্রুত এক অণু থেকে অন্য অণুতে স্থানান্তরিত হতে পারে।
শব্দের গতিবেগের ক্রম হলো: কঠিন (Solid) > তরল (Liquid) > গ্যাসীয় (Gas)
যেহেতু লোহা একটি কঠিন পদার্থ এবং পানি তরল ও বাতাস গ্যাসীয়, তাই প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে লোহার মধ্য দিয়ে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি।
অপরদিকে, শূন্যতায় (Vacuum) শব্দের কোনো গতি নেই, কারণ শব্দ চলাচলের জন্য মাধ্যম অপরিহার্য।
144

আকাশে বিজলী চমকায়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দুই খণ্ড মেঘ পর পর এলে
  2. মেঘের মধ্যে বিদ্যুৎ কোষ তৈরি হলে
  3. মেঘ বিদ্যুৎ পরিবাহী অবস্থায় এলে
  4. মেঘের অসংখ্য পানি ও বরফ কণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘ধনাত্মক’ ও ‘ঋণাত্মক’ চার্জযুক্ত দুটি মেঘ কাছাকাছি আসলে আকর্ষণের ফলে চার্জ এক মেঘ থেকে অন্য মেঘে দ্রুত ছুটে যায়। ফলে ইলেকট্রনের (চার্জ) গতিপথে যে তীব্র আলোক উৎপন্ন হয় তাকে বিজলী চমকানো বলে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মেঘের অসংখ্য পানি ও বরফ কণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে

বিজলী চমকানোর মূল কারণ হলো মেঘের মধ্যে স্থির বৈদ্যুতিক আধানের (Static Charge) সৃষ্টি এবং পরবর্তীতে সেই আধানের দ্রুত নির্গমন (Discharge)

মেঘের ভেতরে চার্জ তৈরি প্রক্রিয়া: যখন উষ্ণ বাতাস দ্রুত উপরে উঠে যায়, তখন জলীয় বাষ্প জমে ক্ষুদ্র বরফ কণা (Ice Crystals) এবং জলের কণা তৈরি করে। এই অসংখ্য কণাগুলো পরস্পরের সাথে সংঘর্ষের ফলে ইলেকট্রন আদান-প্রদান করে।

সাধারণত, ভারী কণাগুলো নেগেটিভ চার্জ (-) অর্জন করে মেঘের নিচের দিকে চলে আসে এবং হালকা কণাগুলো পজিটিভ চার্জ (+) অর্জন করে মেঘের উপরের দিকে চলে যায়। ফলে মেঘের মধ্যে বিশাল পরিমাণে চার্জ বা বিভব পার্থক্য (Potential Difference) তৈরি হয়।

যখন এই বিভব পার্থক্য অত্যন্ত বেশি হয়ে যায় (যা মিলিয়ন মিলিয়ন ভোল্ট হতে পারে), তখন মেঘ তার আশেপাশের বাতাসের রোধ ভেদ করে বিদ্যুৎ নির্গত করে, যা বিজলী (Lightning) রূপে দেখা যায়।

অন্যান্য অপশনগুলো (যেমন: মেঘ পর পর এলে বা বিদ্যুৎ কোষ তৈরি হলে) এই প্রক্রিয়ার সরাসরি ও মৌলিক কারণ নয়।
145

বিদ্যুৎবাহী তারে পাখি বসলে সাধারণত বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয় না, কারণ-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পাখির গায়ে বিদ্যুৎরোধী আবরণ থাকে
  2. পাখির দেহের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় না
  3. বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হলেও পাখি মরে না
  4. মাটির সঙ্গে সংযোগ হয় না

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বর্তনী সম্পূর্ণ করতে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জের সংযোগের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিদ্যুৎবাহী তারে পাখি বসলে বর্তনী পূর্ণ হয় না বলে পাখি বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যায় না। কিন্তু পাখিটি যদি অন্য তার স্পর্শ করে কিংবা ভূ-সংযুক্ত কোনো পরিবাহীর সংস্পর্শে আসে, তাহলে বর্তনী পূর্ণ হবে এবং এর ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার ফলে পাখিটি মারা যাবে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মাটির সঙ্গে সংযোগ হয় না
পদার্থবিজ্ঞানের মূলনীতি অনুসারে, বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার জন্য একটি বদ্ধ বর্তনী (Closed Circuit) এবং বিভব পার্থক্য (Potential Difference) থাকা আবশ্যক।
পাখি যখন শুধুমাত্র একটি বিদ্যুৎবাহী তারের উপর বসে, তখন তারের সমস্ত বিন্দু একই উচ্চ বিভবে থাকে। অর্থাৎ, পাখির দুই পায়ের মাঝখানে কার্যত কোনো বিভব পার্থক্য সৃষ্টি হয় না।
যেহেতু কোনো বিভব পার্থক্য নেই এবং বিদ্যুৎ তারের উচ্চ বিভব থেকে পাখির দেহের ভিতর দিয়ে নিম্ন বিভব বা মাটির সাথে কোনো সংযোগ তৈরি করতে পারে না (বর্তনী অসম্পূর্ণ থাকে), তাই বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় না এবং পাখি বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয় না।
146

ম্যালিক এসিড-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আমলকিতে পাওয়া যায়
  2. কমলালেবুতে পাওয়া যায়
  3. আঙ্গুরে পাওয়া যায়
  4. টমেটোতে পাওয়া যায়

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

আমলকিতে অক্সালিক এসিড, কমলালেবুতে অ্যাসকরবিক এসিড, আঙ্গুরে টারটারিক এসিড এবং টমেটোতে ম্যালিক অ্যাসিড পাওয়া যায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: টমেটোতে পাওয়া যায়। (অপশন ৪)
যদিও টমেটোর টক স্বাদের জন্য প্রধানত সাইট্রিক এসিড দায়ী, তবে টমেটোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ম্যালিক এসিডও উপস্থিত থাকে।
অন্যান্য অপশনগুলোর ক্ষেত্রে, কমলালেবুতে প্রধানত সাইট্রিক এসিড এবং আঙ্গুরে প্রধানত টারটারিক এসিড পাওয়া যায়। আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যাসকরবিক এসিড (ভিটামিন সি) থাকে।
যেহেতু আঙ্গুর এবং টমেটো উভয়ই ম্যালিক এসিড ধারণ করে, কিন্তু টমেটোতে এর উপস্থিতি সাধারণত পরীক্ষার প্রশ্নে বেশিবার জিজ্ঞেস করা হয় (পাশাপাশি সাইট্রিক এসিডও থাকে)।
147

বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি এবং হিটারে ব্যবহৃত হয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. টাংস্টেন তার
  2. নাইক্রোম তার
  3. এন্টিমনি তার
  4. কপার তার

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

নাইক্রোম তার হচ্ছে নিকেল ও ক্রোমিয়াম ঘটিত সংকর ধাতু নির্মিত এক ধরনের তার। এর আপেক্ষিক রোধ বেশি এবং বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠে। তাই বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি এবং হিটারে এটি ব্যবহৃত হয়। ‘টাংস্টেন’ তার বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো নাইক্রোম তার
বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি (Iron) এবং হিটারগুলো বৈদ্যুতিক কারেন্টের তাপীয় ফলাফলের (Heating Effect of Current) নীতির উপর কাজ করে। এই ধরনের যন্ত্রে এমন একটি উপাদান প্রয়োজন যার প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য থাকবে:
  • অত্যন্ত উচ্চ রোধ ক্ষমতা (High Resistance)
  • উচ্চ গলনাঙ্ক (High Melting Point)
  • উচ্চ তাপমাত্রায় জারিত না হওয়া (Non-Oxidizing)
নাইক্রোম (Nichrome) হলো নিকেল (Nickel) এবং ক্রোমিয়ামের (Chromium) একটি সংকর ধাতু। এটি উপরোক্ত তিনটি বৈশিষ্ট্যই ধারণ করে এবং তাপশক্তি উৎপাদনে এটি আদর্শ। তাই এটি হিটিং এলিমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অন্যান্য অপশন যেমন কপার (Copper) একটি ভালো পরিবাহী, এর রোধ ক্ষমতা খুবই কম, তাই এটি হিটারে ব্যবহার করা যায় না। টাংস্টেন (Tungsten) এর গলনাঙ্ক উচ্চ হলেও এটি প্রধানত বাল্বের ফিলামেন্টে ব্যবহৃত হয়।
148

শব্দের তীব্রতা নির্ণায়ক যন্ত্র-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অডিও মিটার
  2. অ্যামিটার
  3. অডিওফোন
  4. অলটিমিটার

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

অ্যামিটার তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপক যন্ত্র, অডিওফোন কানে লাগিয়ে শোনার যন্ত্র, অলটিমিটার উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র এবং অডিও মিটার দ্বারা শব্দের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করে শব্দ পরিমাপ করা হয়।

ব্যাখ্যা

শব্দের তীব্রতা (Intensity of Sound) পরিমাপক যন্ত্রের নাম হলো অডিও মিটার (Audiometer)
শব্দ সংক্রান্ত বা শ্রবণ সম্পর্কিত যেকোনো পরিমাপের ক্ষেত্রেই 'Audio' শব্দটি যুক্ত থাকে, যা শব্দের সংবেদনশীলতা ও তীব্রতা পরিমাপ করে।
অন্যান্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
১. অ্যামিটার (Ammeter): এটি তড়িৎ প্রবাহের (Electric current) মান পরিমাপ করে।
২. অডিওফোন (Audiophone): এটি কোনো পরিমাপক যন্ত্র নয়, বরং এটি শ্রবণশক্তির দুর্বলতা কাটাতে ব্যবহৃত হয় (যেমন: হিয়ারিং এইড)।
৩. অলটিমিটার (Altimeter): এটি সমুদ্র সমতল থেকে কোনো বস্তুর উচ্চতা (Altitude) পরিমাপ করে, যা সাধারণত উড়োজাহাজ বা পর্বতারোহণে ব্যবহৃত হয়।
149

কাচ তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শাজিমাটি
  2. চুনাপাথর
  3. জিপসাম
  4. বালি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

কাচ হলো সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম প্রভৃতি ধাতুর সিলিকেট দিয়ে তৈরি শক্ত, স্বচ্ছ অথবা ঈষৎ স্বচ্ছ অনিয়তাকার ভঙ্গুর পদার্থ। সাধারণত কাচ বালি, সোডিয়াম কার্বনেট ও চুনাপাথর দিয়ে তৈরি করা হয়। তবে কাচ তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো বালি।

ব্যাখ্যা

কাচ তৈরির প্রধান ও মৌলিক কাঁচামাল হলো বালি। বালি মূলত সিলিকা ডাই-অক্সাইড (Silica Dioxide - SiO₂) দ্বারা গঠিত।
কাচের মূল কাঠামোটি তৈরি হয় এই সিলিকা থেকেই। বালিকে প্রায় ১৭০০°C তাপমাত্রায় গলিয়ে শীতল করলে কাচ তৈরি হয়।
তবে কাচ তৈরির প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য এবং কাচের গলনাঙ্ক কমাতে সোডিয়াম কার্বনেট (Sodium Carbonate বা শাজিমাটি) এবং স্থায়িত্ব বাড়াতে ক্যালসিয়াম কার্বনেট (Calcium Carbonate বা চুনাপাথর) ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এগুলি প্রধান নয়, বরং সহায়ক উপাদান (Flux/Stabilizer)।
150

বস্তুর ওজন কোথায় সবচেয়ে বেশি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. খনির ভিতর
  2. পাহাড়ের উপর
  3. মেরু অঞ্চলে
  4. বিষুব অঞ্চলে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

অভিকর্ষজ ত্বরণ (g) -এর প্রভাবে মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজন সবচেয়ে বেশি, বিষুবীয় অঞ্চলে মেরু অঞ্চলের তুলনায় কম, খনি বা পাহাড়ের উপরও মেরু অঞ্চলের তুলনায় কম এবং পৃথিবীর কেন্দ্রে বস্তুর ওজন শূন্য।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: মেরু অঞ্চলে (Poles)
বস্তুর ওজন (W) হলো বস্তুর ভর (m) এবং অভিকর্ষজ ত্বরণ (g)-এর গুণফল। অর্থাৎ, W=mgW = mg। যেহেতু বস্তুর ভর অপরিবর্তনীয়, তাই ওজন নির্ভর করে অভিকর্ষজ ত্বরণ (g)-এর মানের উপর।
পৃথিবী পুরোপুরি গোলক নয়; এটি মেরু অঞ্চলে কিছুটা চ্যাপ্টা এবং বিষুব অঞ্চলে স্ফীত। ফলে মেরু অঞ্চলের ব্যাসার্ধ (R) বিষুব অঞ্চলের ব্যাসার্ধের চেয়ে কম।
অভিকর্ষজ ত্বরণ (g)-এর মান পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। যেহেতু মেরু অঞ্চল পৃথিবীর কেন্দ্রের সবচেয়ে কাছে, তাই সেখানে gg-এর মান সর্বোচ্চ (প্রায় 9.83extm/s29.83 ext{ m/s}^2)।
যেহেতু gg মেরু অঞ্চলে সর্বোচ্চ, তাই বস্তুর ওজনও সেখানে সবচেয়ে বেশি হয়।
অন্যদিকে, বিষুব অঞ্চলে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ সর্বাধিক হওয়ায় gg-এর মান সর্বনিম্ন (প্রায় 9.78extm/s29.78 ext{ m/s}^2)। পাহাড়ের উপর বা খনির ভিতর—উভয় স্থানেই পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে দূরত্ব বৃদ্ধি বা কমায় gg-এর মান হ্রাস পায়, ফলে ওজনও কমে যায়।

এই অধ্যায়ের প্রশ্ন টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করুন

এই পেজে বাছাইকৃত ১৫০টি প্রশ্ন সমাধানসহ দেওয়া হয়েছে (মোট ২৭৮টির মধ্যে)। প্র্যাকটিস মোডে এক-একটি করে উত্তর দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল, স্কোর ও অগ্রগতি ট্র্যাক করুন।

কেন BCS Preliminary-এর জন্য “ভৌত বিজ্ঞান” অধ্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ?

BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষার সাধারণ বিজ্ঞান অংশে “ভৌত বিজ্ঞান” থেকে প্রায় প্রতিবারই প্রশ্ন আসে। বিগত সালের প্রশ্নের ধরন বুঝে নিয়মিত অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ের নম্বর নিশ্চিত করা সহজ হয় — এই পেজের বাছাইকৃত প্রশ্নগুলো ঠিক সেই প্রস্তুতির জন্যই সাজানো।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

"ভৌত বিজ্ঞান" অধ্যায় থেকে কেমন প্রশ্ন আসে?

BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষায় সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের "ভৌত বিজ্ঞান" অধ্যায় থেকে নিয়মিত MCQ আসে। এই পেজে বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক জায়গায় দেওয়া হয়েছে — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ।

উত্তর ও সমাধান কি বিনামূল্যে?

হ্যাঁ। প্রশ্ন, অপশন, সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যা — সবই লগইন ছাড়াই বিনামূল্যে দেখা যায়। টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করতে চাইলে একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট দিয়ে প্র্যাকটিস মোডে যান।