সমাধান
সমাধান
💼
নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

নীতিবিদ্যা

BCS Preliminary · নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন — বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক পেজে।

নিচে BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষার নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন বিষয়ের "নীতিবিদ্যা" অধ্যায়ের বাছাইকৃত ৬১টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ। সবই বিনামূল্যে।

1

ভালো-মন্দ কোন ধরনের মূল্যবোধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নৈতিক
  2. অর্থনৈতিক
  3. রাজনৈতিক
  4. সামাজিক

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

নৈতিক মূল্যবোধ বলতে সেই মূল্যবোধকে বুঝায় যা কোনো ব্যক্তিকে ঠিক-বেঠিক, ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত ইত্যাদি নির্ধারণে নির্দেশনা দেয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নৈতিক মূল্যবোধ
মূল্যবোধ বলতে বোঝায় কোনো ব্যক্তি বা সমাজের কাঙ্ক্ষিত আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডের সমষ্টি, যা তাদের কাজের ভালো-মন্দ বা সঠিক-ভুল নির্ধারণে সাহায্য করে।
যখন কোনো কাজ বা আচরণকে ভালো বা মন্দ, সঠিক বা ভুল, উচিত বা অনুচিত ইত্যাদি মানদণ্ডে বিচার করা হয়, তখন তা নৈতিকতার (Ethics) আওতাভুক্ত হয়। নৈতিক মূল্যবোধ মানুষের কর্মের শুদ্ধতা বা অশুদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করে।
অর্থনৈতিক মূল্যবোধ (যেমন: সঞ্চয়, মিতব্যয়িতা) বা সামাজিক মূল্যবোধ (যেমন: সহযোগিতা, সহনশীলতা) এগুলো মানুষের সামগ্রিক জীবনে প্রয়োজন হলেও, মানুষের আচরণগত বিচার এবং চরিত্রের মানদণ্ড নির্ধারণ করে নৈতিক মূল্যবোধ।
2

‘Utilitarianism’ গ্রন্হের লেখক কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. জেরেমি বেন্হাম

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

Utilitarianism গ্রন্থের লেখক বিখ্যাত দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিল। জন স্টুয়ার্ট মিল এর অন্যান্য গ্রন্থ- On Liberty, Principle of political Economy, The logic of the moral sciences ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill)
বিখ্যাত নীতিশাস্ত্রীয় গ্রন্থ ‘Utilitarianism’ ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় এবং এর লেখক ব্রিটিশ দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিল। তিনি উপযোগবাদ বা Utilitarianism-কে আরও উন্নত ও দার্শনিক ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়েছিলেন।
যদিও উপযোগবাদের জনক হলেন জেরেমি বেন্হাম (Jeremy Bentham), তিনি কিন্তু সরাসরি ‘Utilitarianism’ নামে বইটি লেখেননি। তিনি তাঁর মূল কাজ ‘An Introduction to the Principles of Morals and Legislation’ (১৭৮৯)-এ উপযোগবাদের ধারণা দেন।
ইমানুয়েল কান্ট ডিওন্টোলজি (Deontology) বা কর্তব্যনিষ্ঠা ভিত্তিক নীতিবিদ্যার প্রবক্তা এবং বার্ট্রান্ড রাসেল বিংশ শতকের একজন বিখ্যাত যুক্তিবাদী দার্শনিক।
3

‘জ্ঞান হয়ে পুণ্য’- এই উক্তিটি কার?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. থেলিস
  2. সক্রেটিস
  3. এ্যারিস্টটল
  4. প্লেটো

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘‘Knowledge is virtue” উক্তিটি সক্রেটিসের। তাঁর অন্যান্য উক্তি যেমন: “টাকার বিনিময়ে শিক্ষা অর্জনের চেয়ে অশিক্ষিত থাকা ভাল”, “পোশাক হলো বাইরের আবরণ, মানুষের আসল সৌন্দর্য হচ্ছে তার জ্ঞান”।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সক্রেটিস
এই বিখ্যাত উক্তিটি হলো ‘জ্ঞানই পুণ্য’ (Knowledge is Virtue)। এই দার্শনিক মতবাদটি পশ্চিমা দর্শনের জনক সক্রেটিস (Socrates) প্রদান করেন।
সক্রেটিসের মূল বক্তব্য ছিল—কেউ জেনেশুনে খারাপ কাজ করে না। মানুষ কেবল অজ্ঞতার কারণে ভুল কাজ করে। যদি মানুষ সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে পারে, তবে সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুণ্যবান (Virtuous) হতে বাধ্য। অর্থাৎ, সঠিক জ্ঞান অর্জনই পুণ্য বা ভালো কাজের একমাত্র পথ।
অন্যদিকে, প্লেটো ছিলেন সক্রেটিসের প্রধান শিষ্য এবং এ্যারিস্টটল ছিলেন প্লেটোর শিষ্য। যদিও তাঁরা জ্ঞান ও নৈতিকতা নিয়ে কাজ করেছেন, তবে এই মূল সূত্রটি সরাসরি সক্রেটিসের দেওয়া।
4

মূল্যবোধের উৎস কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ধর্ম
  2. সমাজ
  3. নৈতিক চেতনা
  4. রাষ্ট্র

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ভালো-মন্দের বোধ মানুষের নৈতিকতা থেকে উৎসরিত যা কালক্রমে মূল্যবোধ রূপে চারিত্রিক উপাদানে পরিণত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো নৈতিক চেতনা (Moral Consciousness)। মূল্যবোধ (Values) হলো সেইসব আদর্শ, বিশ্বাস ও মানদণ্ড যা ব্যক্তিকে সঠিক-ভুল, ভালো-মন্দ বা কাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিতের পার্থক্য বুঝতে শেখায়।
মূল্যবোধের উৎপত্তি ঘটে মানুষের ভেতরের সঠিক-ভুল বিচারের সক্ষমতা থেকে, যা মূলত নৈতিক চেতনার ফল। ব্যক্তির বিচারবুদ্ধি ও বিবেকই মূল্যবোধের প্রাথমিক ও মৌলিক উৎস হিসেবে কাজ করে।
অন্যান্য অপশনগুলো মূল্যবোধের উৎস বা বিকাশকারী হলেও মৌলিক উৎস নয়:
  • সমাজ ও ধর্ম: এগুলো মূল্যবোধের বাহক, মাধ্যম বা বিকাশকারী ভিত্তি। সমাজ মূল্যবোধকে সংজ্ঞায়িত করে এবং তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সঞ্চারিত করে, আর ধর্ম নৈতিক চেতনাকে সুদৃঢ় করে।
  • রাষ্ট্র: রাষ্ট্র আইন ও বিধিমালা তৈরি করে, যা মূল্যবোধকে বাধ্যতামূলক কাঠামো দেয়।

কিন্তু মূল অনুভূতি বা চেতনার জন্ম হয় নৈতিকতা থেকে।
5

‘শর্তহীন আদেশ’ ধারণাটির প্রবর্তক কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অ্যারিস্টটল
  2. বার্ট্রান্ড রাসেন
  3. হার্বাট স্পেন্সার
  4. ইমানুয়েল কান্ট

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

প্রখ্যাত জার্মান চিন্তানায়ক ইমানুয়েল কান্ট নীতি বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যে নৈতিক নিয়মের প্রতিষ্ঠা ও প্রচার করেছেন তা উগ্র বিচারবাদ বা কৃচ্ছ্রতাবাদ নামেই খ্যাত। কান্টের এই বিচারবাদ বা কৃচ্ছ্রতাবাদ যে সমস্ত সূত্রের উপর নির্ভর করে আত্মপ্রকাশ করেছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলো শর্তহীন আদেশ। এই নৈতিক নিয়ম বা সূত্রটি কান্ট তা্র বিখ্যাত গ্রন্থ Groundwork of the Metaphysics of Morals নামক গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ইমানুয়েল কান্ট (Immanuel Kant)
তিনি ছিলেন একজন প্রভাবশালী জার্মান দার্শনিক এবং শর্তহীন আদেশ (Categorical Imperative) নামক নৈতিক ধারণার প্রবর্তক।
কান্ট তাঁর নৈতিক দর্শনে দেখান যে, নৈতিক কাজ সর্বদা কর্তব্যের (Duty) উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত, ফলাফলের উপর নয়। শর্তহীন আদেশ হলো এমন একটি নৈতিক আইন, যা কোনো উদ্দেশ্য বা ফলাফলের উপর নির্ভর করে না—এটি অবশ্যই পালনীয় একটি সার্বজনীন নৈতিক কর্তব্য
অ্যারিস্টটল ছিলেন সদ্গুণ নীতিবিদ্যার (Virtue Ethics) প্রবক্তা, বার্ট্রান্ড রাসেন ছিলেন একজন যুক্তিবিদ ও বিশ্লেষণী দার্শনিক, এবং হার্বাট স্পেন্সার সামাজিক বিবর্তনবাদ (Social Darwinism)-এর সঙ্গে যুক্ত।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
6

যে গুণের মাধ্যমে মানুষ ‘ভুল’ ও ‘শুদ্ধ’ এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে, তা হচ্ছে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সততা
  2. সদাচার
  3. কর্তব্যবোধ
  4. মূল্যবোধ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

মূল্যবোধ হলো মানুষের এমন এক বিশ্বাসবোধ ও মানদণ্ড যার মাধ্যমে মানুষ ‘ভুল’ ও ‘শুদ্ধ’ এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে। মূল্যবোধ মানুষের আচরণের পরিচালনাকারী নীতি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মূল্যবোধ (Values)। মূল্যবোধ হলো সেইসব বিশ্বাস, নীতি, আদর্শ বা মানদণ্ড, যা সমাজ বা ব্যক্তিজীবনকে পরিচালিত করে এবং যা কাঙ্ক্ষিত ও অবাঞ্ছিত আচরণের মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করে।
মানুষের ভেতরে যখন কোনো নৈতিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয়—তা সেটি ভুল (Wrong) নাকি শুদ্ধ (Right)—তখন তার ব্যক্তিগত বা সামাজিক মূল্যবোধের ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করেই এই পার্থক্যটি নির্ধারণ করে। মূল্যবোধ হলো আমাদের আচরণের বিচারক বা নির্দেশক
অন্যান্য অপশনগুলো যেমন—সততা (Honesty), সদাচার (Good Conduct) এবং কর্তব্যবোধ (Sense of Duty)—এগুলো মূলত ইতিবাচক মূল্যবোধের ফল বা বহিঃপ্রকাশ মাত্র। এদের মাধ্যমে পার্থক্য নির্ধারণ করা যায় না, বরং মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়েই এই গুণগুলো অর্জিত হয়।
7

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য
  2. স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন
  3. শক্তিশালী রাজনৈতিক দল
  4. পরমতসহিষ্ণুতা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের গণতান্ত্রিক আচার ও কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো পরমতসহিষ্ণুতা। এছাড়াও অন্যান্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপাদান হলো স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, ন্যায়পরায়ণতা, সচেতনতাবোধ ও দায়বদ্ধতা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: পরমতসহিষ্ণুতা
পরমতসহিষ্ণুতা (Tolerance) হলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মূল ভিত্তি। এর অর্থ হলো নিজের মতের বাইরে অন্য কোনো ভিন্ন মত, আদর্শ বা বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং সেটিকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা পোষণ করা।
গণতন্ত্রে যেহেতু বহু মত ও পথের সমন্বয় ঘটে, তাই পরমতসহিষ্ণুতা না থাকলে সমাজ বা রাজনীতিতে সহিংসতা ও সংঘাত দেখা দেয়। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
অন্যান্য অপশনগুলো যেমন— স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন বা শক্তিশালী রাজনৈতিক দল— এগুলো গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো। কিন্তু পরমতসহিষ্ণুতা হলো সেই ব্যক্তিগত ও সামাজিক মূল্যবোধ, যা এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সফলভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে। এই মূল্যবোধ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো অকেজো হয়ে পড়ে।
8

প্রাথমিকভাবে একজন মানুষের মানবীয় গুণাবলি ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সমাজে বসবাসের মাধ্যমে
  2. বিদ্যালয়ে
  3. পরিবারে
  4. রাষ্ট্রের মাধ্যমে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

পরিবার বলতে মানুষের সেই সংগঠনকে বোঝায় যেখানে বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে এক বা একাধিক পুরুষ ও মহিলা তাদের সন্তানাদি, পিতা-মাতা ও অন্যান্য পরিজনদের নিয়ে একত্রে বসবাস করে। সমাজে আমাদেরকে কিভাবে চলাফেরা করতে হবে তার শিষ্টাচারসহ চারিত্রিক বিকাশে অর্থাৎ মূল্যবোধ বিকাশের আঁতুরঘর হিসেবে কাজ করে পরিবার।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পরিবারে। কারণ পরিবার হলো একজন মানুষের প্রথম এবং প্রধান সামাজিক প্রতিষ্ঠান
একজন শিশু জন্মের পর থেকেই তার মা-বাবা এবং পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে প্রাথমিক আচরণ, মানবিক গুণাবলি (যেমন—স্নেহ, মমতা, সহযোগিতা) এবং মৌলিক মূল্যবোধগুলো অর্জন করে।
এই প্রক্রিয়াকে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় প্রাথমিক সামাজিকীকরণ (Primary Socialization) বলা হয়। মানবীয় গুণাবলি ও নৈতিকতার ভিত্তি তৈরি হয় এই স্তরেই।
অন্যদিকে, বিদ্যালয় এবং সমাজ হলো মাধ্যমিক সামাজিকীকরণের মাধ্যম, যেখানে পরিবার থেকে শেখা মূল্যবোধগুলো বিকশিত হয় এবং পরিমার্জিত হয়।
9

সততার জন্য সদিচ্ছা’র কথা বলেছেন-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ডেকার্ট
  2. ডেভিড হিউম
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. জন লক

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট সততার জন্য সদিচ্ছার কথা বলেছেন। তার মতে, একমাত্র সদিচ্ছাই নিরপেক্ষ। কর্তব্যের পাশাপাশি ইচ্ছা থাকলেই তাকে সদিচ্ছা বলে। অর্থাৎ নৈতিক বাধ্যবাধকতা থেকে সদিচ্ছার সৃষ্টি হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ইমানুয়েল কান্ট। তিনি ছিলেন আধুনিক জার্মান নীতিশাস্ত্রের (Moral Philosophy) অন্যতম প্রধান প্রবক্তা এবং কর্তব্যবাদী (Deontological) দর্শনের প্রতিষ্ঠাতা।
কান্ট তার নীতিশাস্ত্রের মূলভিত্তি হিসেবে 'সদিচ্ছা' (Good Will)-এর ধারণাটি প্রতিষ্ঠা করেন। তার মতে, জগতে এমন কোনো কিছু নেই যা নিঃশর্তভাবে ভালো, একমাত্র 'সদিচ্ছা' ছাড়া।
কান্ট যুক্তি দেন যে, সদিচ্ছা কেবলমাত্র তার সততা বা কর্তব্যের (Duty) জন্য ভালো, এর থেকে সৃষ্ট ফল বা ফলাফল (Consequences)-এর জন্য নয়। অর্থাৎ, নৈতিক কাজ হলো সেই কাজ যা কর্তব্যের খাতিরে করা হয়, কোনো ব্যক্তিগত প্রত্যাশা বা ঝোঁক থেকে নয়।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, ডেকার্ট এবং জন লক মূলত জ্ঞানতত্ত্ব ও রাষ্ট্রদর্শনের জন্য বিখ্যাত, এবং ডেভিড হিউম অভিজ্ঞতাবাদের (Empiricism) জন্য পরিচিত। 'সদিচ্ছা' (Good Will) ধারণাটি ইমানুয়েল কান্ট-এর দর্শনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
10

কোন মূল্যবোধ রাষ্ট্র, সরকার ও গোষ্ঠী কর্তৃক স্বীকৃত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. ইতিবাচক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সামাজিক মূল্যবোধ রাষ্ট্র, সরকার ও গোষ্ঠী কর্তৃক স্বীকৃত। যে বিষয়গুলো কোনো সমাজকে সুস্থ, সুন্দর ও সম্প্রীতি ভিত্তিক মূল্যবান সোনালি সমাজে রূপান্তরিত করে, সে বিষয়গুলোর সক্রিয় চেতনাবোধকেই সামাজিক মূল্যবোধ বলা হয়। সর্বজন স্বীকৃত যেসব ভালো, উত্তম, সুন্দর, চমৎকার, শালীন, সৌহার্দপূর্ণ ও কল্যাণকর বিষয় কোনো সমাজকে কল্যাণময় সোনালি সমাজে পরিণত করে, সেগুলোর চর্চা ও সংরক্ষণের সক্রিয় চেতনাবোধকে সামাজিক মূল্যবোধ বলা হয়। সেই মূল্যবোধগুলোই হয়ে থাকে সেই সমাজের অলংকার ও মণিমুক্তা।"

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সামাজিক মূল্যবোধ
সামাজিক মূল্যবোধ (Social Values) হলো সেই সব আদর্শ, নীতি, রীতিনীতি এবং প্রথা যা সমাজে বসবাসকারী জনগণের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং বৃহত্তর সমাজ, গোষ্ঠী, সরকার ও রাষ্ট্র কর্তৃক আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত
রাষ্ট্র বা সরকার যখন কোনো নীতিকে আইন বা বিধি হিসেবে প্রণয়ন করে, তখন সেটি সামাজিক মূল্যবোধেরই একটি প্রতিফলিত রূপ হয়ে ওঠে। যেমন—আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, সততা, ও শৃঙ্খলা। এই মূল্যবোধগুলো সমাজের স্থিতিশীলতা রক্ষা করে।
অন্যদিকে, নৈতিক মূল্যবোধ মূলত ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিবেক ও নৈতিকতার মানদণ্ডের সাথে জড়িত, যা রাষ্ট্র বা সরকার কর্তৃক সরাসরি আইনগত স্বীকৃতি নাও পেতে পারে।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
11

কে ‘কর্তব্যের নৈতিকতার ধারণা প্রবর্তন করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হ্যারল্ড উইলসন
  2. এডওয়ার্ড ওসবর্ন উইলসন
  3. জন স্টুয়ার্ট মিল
  4. ইমানুয়েল কান্ট

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট (১৭২৪-১৮০৪) আধুনিক দর্শনের কেন্দ্রীয় অবস্থানটি ধারণ করে আছেন। তার অন্যতম তিনটি বই হচ্ছে দি ক্রিটিক অব পিওর রিজন (২৭৮১), দি ক্রিটিক অব প্রাকটিক্যাল রিজন (১৭৮৮) এবং দি ক্রিটিক অব দি পাওয়ার অব জাজমেন্ট (১৭৯০)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো ইমানুয়েল কান্ট (Immanuel Kant)। তিনি ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর একজন প্রভাবশালী জার্মান দার্শনিক এবং জ্ঞানালোক যুগের অন্যতম প্রধান চিন্তাবিদ।
কর্তব্যের নৈতিকতা (Deontology) ধারণাটির মূল প্রবক্তা হলেন কান্ট। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, কোনো কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে তা কোনো সুনির্দিষ্ট নৈতিক নিয়ম বা কর্তব্য (Duty) দ্বারা চালিত হচ্ছে কিনা তার ওপর, ফলাফলের ওপর নয়।
কান্ট এই নৈতিক নীতিটিকে 'ক্যাটাগরিক্যাল ইম্পারেটিভ' (Categorical Imperative) নামে অভিহিত করেন, যা হলো এমন একটি সার্বজনীন নৈতিক আদেশ যা কোনো শর্ত ছাড়াই অবশ্যই পালনীয়।
অন্যদিকে, অপশনগুলোতে থাকা জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) বিখ্যাত তার উপযোগবাদ (Utilitarianism) তত্ত্বের জন্য। এই তত্ত্বে কাজের ফলাফল (সর্বাধিক মানুষের জন্য সর্বাধিক সুখ) নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়, যা কান্টের কর্তব্যের নৈতিকতার সম্পূর্ণ বিপরীত ধারণা।
12

সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সুশাসন
  2. রাষ্ট্র
  3. নৈতিকতা
  4. সমাজ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি হলো- সমাজ। সমাজ থেকে মানুষ সভ্যতার ছোঁয়া নিয়ে থাকে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো সমাজ
সভ্যতা (Civilization) হলো মানুষের বস্তুগত ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির চূড়ান্ত রূপ। আর এই সামগ্রিক অগ্রগতির মূর্ত কাঠামো বা বাস্তব প্রতিচ্ছবি হলো সমাজ (Society)
সমাজ হলো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও জীবনযাত্রার সুনির্দিষ্ট একটি সংগঠন বা কাঠামো। সভ্যতা যত উন্নত হয়, সমাজের কাঠামো ও রীতিনীতি তত বেশি সংজ্ঞায়িত ও জটিল হয়।
সুতরাং, সভ্যতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে সমাজের মাধ্যমে।
অন্যান্য অপশনগুলো, যেমন: রাষ্ট্র, সুশাসন বা নৈতিকতা—এগুলো সমাজের ভেতরে বা সভ্যতার অগ্রগতির ফলস্বরূপ সৃষ্ট উপাদান মাত্র, কিন্তু পুরো সভ্যতার প্রতিচ্ছবি নয়।
13

Political Ideals- গ্রন্থের লেখক কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মেকিয়াভেলি
  2. রাসেল
  3. প্লেটো
  4. এরিস্টটল

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: রাসেল (Bertrand Russell)
বিখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক, গণিতবিদ ও সমাজ সমালোচক বারট্রান্ড রাসেল এই গ্রন্থের রচয়িতা। এটি ১৯১৭ সালে প্রকাশিত হয়।
এই গ্রন্থে তিনি সমাজের রাজনৈতিক কাঠামো, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার রাজনৈতিক আদর্শ (Political Ideals) ব্যাখ্যা করেন, যেখানে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং শান্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে প্লেটো রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো 'The Republic'এরিস্টটল রচিত গ্রন্থের নাম 'Politics'। এবং মেকিয়াভেলি রচনা করেন 'The Prince'। এই নামগুলো পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
14

মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিভিন্নতা
  2. পরিবর্তনশীলতা
  3. আপেক্ষিকতা
  4. উপরের সবগুলো

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো বিভিন্নতা, পরিবর্তনশীলতা, আপেক্ষিকতা। মূল্যবোধের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তশীলতা, সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজের মূল্যবোধগুলোর ও পরিবর্তন সাধিত হয়। অতীতের অনেক মূল্যবোধ বর্তমানে আমাদের কাছে অর্থহীন । যেমন - বাল্যবিবাহ, সতীদাহ প্রথা। আবার বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে। আক্ষরিক অর্থে- মূল্যবোধ বলতে ব্যক্তির জ্ঞানগর্ভ আচরণকে বুঝায় যে আচরণের মানবীয় এবং সামাজিক মূল্য বিদ্যমান । সহজ কথায় বলা যায়, ভাল-মন্দ, ঠিক-বেঠিক ,কাঙ্ক্ষিত -অনাকাঙ্খিত বিষয় সম্পর্কে সমাজের সদস্যদের যে ধারণা তার নামই মূল্যবোধ। এ . ডব্লিউ .পামফ্রে বলেন, "মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যাস্ত প্রকাশ।" ফ্রাঙ্কেল বলেন, " মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ" । মূল্যবোধের ধারণা আপেক্ষিক। মূল্যবোধের নির্দিষ্ট কোন বস্তুগত বা ধারণাগত মাধ্যম নেই, বিভিন্ন ধারণা বা বিভিন্ন অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে মূল্যবোধ জাগ্রত হয়। মূল্যবোধের ধারণার সম্পৃক্ততা মানব আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে মূল্যবোধ। মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা যায় না ধীরে ধীরে গড়ে উঠে। মূল্যবোধ ভাঙলে/অমান্য করলে শাস্তি হয় না। মূল্যবোধের সাথে জড়িত শব্দ নৈতিকতা। মূল্যবোধ একটি ইতিবাচক শব্দ যার অনুপস্থিতিকে বলা হয় মূল্যবোধের অবক্ষয় বা সংকট। সমাজ কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য উপাদান মূল্যবোধ। মূল্যবোধসমূহ সংরক্ষিত হয় নাগরিকের অংশগ্রহণের দ্বারা । মূল্যবোধ হলো এক প্রকার সামাজিক নৈতিকতা। মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করার অন্যতম প্রধান উপায় হল শিক্ষা সামাজিক ন্যায় বিচার।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: উপরের সবগুলো (বিভিন্নতা, পরিবর্তনশীলতা, আপেক্ষিকতা)।
মূল্যবোধের প্রকৃতি অত্যন্ত গতিশীল ও জটিল। এর তিনটি মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো:
১. বিভিন্নতা (Diversity): মূল্যবোধ ব্যক্তি, সমাজ, সংস্কৃতি এবং জাতিভেদে ভিন্ন হয়। একটি সমাজে যা ভালো, অন্য সমাজে তা খারাপ হতে পারে।
২. পরিবর্তনশীলতা (Changeability): মূল্যবোধ চিরন্তন নয়। সময় ও যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে সামাজিক মূল্যবোধের ধারণাও পরিবর্তিত হয়।
৩. আপেক্ষিকতা (Relativity): মূল্যবোধ স্থান, কাল ও পাত্রভেদে আপেক্ষিক। এর কোনো সার্বজনীন, চরম মানদণ্ড নেই।
সুতরাং, প্রদত্ত সব বৈশিষ্ট্যই মূল্যবোধের সাথে সম্পর্কিত।
15

প্লেটো ‘সদগুণ’ বলতে বুঝিয়েছেন-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্রজ্ঞা, সাহস, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ন্যায়
  2. আত্মপ্রত্যয়, প্রেষণা ও নিয়ন্ত্রণ
  3. সুখ, ভালোত্ব ও প্রেম
  4. প্রজ্ঞা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সুখ ও ন্যায়

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

প্লেটো ‘সদগুণ’ বলতে বুঝিয়েছেন প্লেটো ‘সাদগুন’ বলতে বুজিয়েছেন প্রজ্ঞা, সাহস, আত্ম নিয়ন্ত্রণ ও ন্যায় কে। প্লেটো মানুষকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন। প্লেটোর মতে প্রতিটি ব্যক্তির মধ্যে তিন ধরনের উপাদান রয়েছে, যেমন (১) প্রজ্ঞা (২) সাহস ও (৩) প্রবৃত্তি । ব্যক্তি জীবনের এই তিন ধরনের অবস্থার সমন্বয় বিভিন্নব্যক্তির মধ্যে বিভিন্নভাবে ঘটে থাকে। যেমন, কারও মধ্যে প্রজ্ঞার মাত্রা অধিক, আবার কারও মধ্যে প্রবৃত্তির মাত্রা অধিক। আবার কারও মধ্যে সাহসের মাত্রা বেশী। এমতাবস্থায় ব্যক্তির জীবনের তিনটি অবস্থার হেরফের রাষ্ট্রীয় জীবনে তিনটি শ্রেণী তৈরী করে যাকে, যথা (১) প্রজ্ঞা বিশিষ্টরা দার্শনিক শ্রেণীভুক্ত (২) সাহসীরা যোদ্ধা শ্রেণী ও (৩) প্রবৃত্তির দ্বারা পরিচালিতরা কৃষক বা উৎপাদক শ্রেণীভুক্ত। ব্যক্তি জীবনের যখন বিক্রম ও প্রবৃত্তি প্রজ্ঞার দ্বারা পরিচালিত হয়, তখন ঐ ব্যক্তির জীবনে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে ধরা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো অপশন (ক): প্রজ্ঞা, সাহস, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ন্যায়
প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক প্লেটো (Plato) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দ্য রিপাবলিক’ (The Republic)-এ একটি আদর্শ রাষ্ট্র এবং আদর্শ মানুষের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে এই চারটি মৌলিক গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
প্লেটোর মতে, এই চারটি সদগুণ মানবাত্মার তিনটি অংশ (যুক্তি, সাহস ও ক্ষুধা/বাসনা) এবং সমাজের তিনটি শ্রেণির (শাসক, সৈন্য ও উৎপাদক) সাথে সম্পর্কযুক্ত:
১. প্রজ্ঞা (Wisdom): যুক্তি বা বিবেক (Rational Part) অংশের গুণ। (শাসক শ্রেণির সাথে সম্পর্কিত)
২. সাহস (Courage): আবেগ বা উদ্দীপিত (Spirited Part) অংশের গুণ। (সৈন্য শ্রেণির সাথে সম্পর্কিত)
৩. আত্মনিয়ন্ত্রণ/মিতিচার (Temperance): বাসনা বা ক্ষুধা (Appetitive Part) অংশের গুণ। (উৎপাদক শ্রেণির সাথে সম্পর্কিত)
৪. ন্যায় (Justice): যখন আত্মা বা রাষ্ট্রের প্রতিটি অংশ বা শ্রেণি তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে এবং এই তিনটি গুণের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি হয়, তখন ন্যায় (Justice) প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি কোনো আলাদা গুণ নয়, বরং উপরের তিনটি গুণের সামঞ্জস্যপূর্ণ ফল
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
16

মূল্যবোধ দৃঢ় হয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শিক্ষার মাধ্যমে
  2. সুশাসনের মাধ্যমে
  3. ধর্মের মাধ্যমে
  4. গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

মূল্যবোধ শিক্ষার মাধ্যমে দৃঢ় হয়। মূল্যবোধ হল মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড। অন্যভাবে বলা যায়, মূল্যবোধ হল কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিশ্বাস। আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হল মূল্যবোধ শিক্ষা। মূল্যবোধ হল সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি। এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি। একটি দেশের সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে। ফ্রাঙ্কেল এর মতে,“মূল্যবোধ হল আবেগি ও আদর্শগত ঐক্যের ধারনা”।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: শিক্ষার মাধ্যমে
মূল্যবোধ (Values) হলো সমাজের আচরণবিধি, রীতিনীতি, আদর্শ ও মানদণ্ডের সমষ্টি। এটি মূলত ব্যক্তির নৈতিক চেতনা ও বিবেকের উপর নির্ভর করে।
শিক্ষা হলো মূল্যবোধের শক্তিশালী বাহক ও মৌলিক ভিত্তি। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় পার্থক্য করতে শেখে এবং অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে মূল্যবোধকে দৃঢ় ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।
অন্যান্য বিকল্প যেমন— সুশাসন, গণতন্ত্র চর্চা বা ধর্ম— এগুলো মূলত মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ বা চর্চার ক্ষেত্র। যদি সমাজে মূল্যবোধের ভিত্তি (যা শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত হয়) দুর্বল হয়, তবে কেবল সুশাসন বা গণতন্ত্রের চর্চা দ্বারা স্থায়ীভাবে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
17

নৈতিক মূল্যবোধের উৎস কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সমাজ
  2. নৈতিক চেতনা
  3. রাষ্ট্র
  4. ধর্ম

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস। নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে। তাই অপশন বিবেচনায় বলা যেতে পারে, নৈতিক মূল্যবোধের উৎস নৈতিক চেতনা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নৈতিক চেতনা
নৈতিক মূল্যবোধের মূল উৎস বা ভিত্তি হলো মানুষের অন্তর্নিহিত নৈতিক চেতনা (Moral Consciousness)। এটি হলো মানুষের ভেতরের সেই শক্তি বা স্বতঃস্ফূর্ত অনুভূতি, যা তাকে কোনো কাজের ভালো-মন্দ বা উচিত-অনুচিত দিকটি বিচার করতে সাহায্য করে।
নৈতিক চেতনা মানুষের মননশীলতার ফসল। মানুষের মন যখন কোনো কাজকে নৈতিকভাবে সঠিক বলে রায় দেয়, তখন তা মূল্যবোধে পরিণত হয়।
সমাজ, ধর্ম এবং রাষ্ট্রকে সাধারণত নৈতিক মূল্যবোধের মাধ্যম (Medium) বা প্রকাশের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে মূল্যবোধ শেখা হয় বা প্রতিষ্ঠিত হয়, কিন্তু এর প্রাথমিক উৎস বা জন্মস্থান হলো মানুষের নিজস্ব বিচারবোধ ও চেতনা
18

‘On Liberty’ গ্রন্থের লেখক কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. টমাস হবস্‌
  3. জন স্টুয়ার্ট মিল
  4. জেরেমি বেন্থাম

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

On Liberty গ্রন্থের লেখক বিখ্যাত দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিল। জন স্টুয়ার্ট মিল এর অন্যান্য গ্রন্থ- Utilitarianism, Principle of political Economy, The logic of the moral sciences.

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill)
‘On Liberty’ (প্রকাশকাল: ১৮৫৯) গ্রন্থটি জন স্টুয়ার্ট মিলের (J.S. Mill) লেখা। এই গ্রন্থটি উদারনৈতিক রাজনৈতিক দর্শনের (Liberal Political Philosophy) অন্যতম ভিত্তিপ্রস্তর।
এখানে মিল ব্যক্তির স্বাধীনতা এবং সমাজের বা রাষ্ট্রের ক্ষমতার সীমানা নিয়ে আলোচনা করেছেন। মিলের বিখ্যাত ‘ক্ষতি নীতি’ (Harm Principle) এই গ্রন্থেই আলোচিত হয়েছে—অর্থাৎ, একজন ব্যক্তির কর্মের উপর সমাজ কেবল তখনই হস্তক্ষেপ করতে পারে যখন তার কর্ম অন্যদের ক্ষতি করে।
অন্যান্য অপশনসমূহ:
টমাস হবস্‌: তিনি বিখ্যাত ‘Leviathan’ গ্রন্থের লেখক, যেখানে তিনি সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে চরম সার্বভৌমত্বের পক্ষে যুক্তি দেন।
জেরেমি বেন্থাম: তিনি উপযোগিতাবাদের (Utilitarianism) জনক এবং মিলের গুরু। তাঁর বিখ্যাত কাজ ‘An Introduction to the Principles of Morals and Legislation’
19

‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’ ধারণাটির প্রবর্তক কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. হার্বার্ট স্পেন্সার
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. অ্যারিস্টটল

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

জীবন সংরক্ষণ করার জন্য আমাদের মধ্যে প্রকৃতিগতভাবেই একটি প্রবণতা বা ঝোঁক রয়েছে। কান্ট বলেন, আমাদের অনেকেই এই কর্তব্য পালন করেন এমন সব নীতি অনুসারে যার মধ্যে কোন নৈতিক আধেয় নেই। তারা জীবন সংরক্ষণের কাজগুলো করে বেঁচে থাকেন। কিন্তু কান্টের ভাষায়, “They do protect their lives in conformity with duty, but not from the motive of duty.”। এই কর্তব্য-প্রণোদনাকে বলা হচ্ছে “কর্তব্যের খাতিরে কর্তব্য” বা “for the sake of duty”।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ইমানুয়েল কান্ট (Immanuel Kant)
তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত জার্মান দার্শনিক, যিনি কর্তব্যবাদ (Deontology) নামক নৈতিক মতবাদ প্রতিষ্ঠা করেন।
কান্টের মতে, কোনো কাজ নৈতিকভাবে তখনই সঠিক, যখন তা কেবল কর্তব্যের খাতিরে পালন করা হয়, কোনো ফল লাভ বা ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য নয়। এই ধারণাই ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’ (Duty for Duty's Sake) নামে পরিচিত।
এই নৈতিক দর্শনটি ফলাফলের চেয়ে উদ্দেশ্যের পবিত্রতা (Intention) এবং নৈতিক আইন (Moral Law) মেনে চলার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করে।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, অ্যারিস্টটল বিখ্যাত সদগুণ নীতিবিদ্যা (Virtue Ethics)-এর জন্য, আর হার্বার্ট স্পেন্সার সামাজিক বিবর্তনবাদ বা সোশ্যাল ডারউইনিজম-এর জন্য পরিচিত।
20

‘Human Society in Ethics and Politics’গ্রন্থের লেখক কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্লেটো
  2. রুসো
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. জন স্টুয়ার্ট মিল

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বার্ট্রান্ড রাসেল ( ১৮ মে ১৮৭২ – ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০) ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসবাদী, এবং সমাজ সমালোচক। যদিও তিনি ইংল্যান্ডেই জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন, তার জন্ম হয়েছিল ওয়েলস এ, এবং সেখানেই তিনি ৯৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। রাসেল ১৯০০ সালের শুরুতে ব্রিটিশদের আদর্শবাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নেতৃত্ব প্রদান করেন। তাকে বিশ্লেষণী দর্শনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিবেচনা করা হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হচ্ছে- Human Society in Ethics and Politics, The Philosophy of Logical Atomism, The Analysis of Mind, The Analysis of Matter, A Free Man’s Worship, Why I Am Not a Christian, and Power: A New Social Analysis.

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: বার্ট্রান্ড রাসেল (Bertrand Russell)
বার্ট্রান্ড আর্থার উইলিয়াম রাসেল ছিলেন একজন বিখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ এবং সমাজ সংস্কারক। তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী দার্শনিক হিসেবে বিবেচিত।
প্রশ্নোক্ত গ্রন্থটি, ‘Human Society in Ethics and Politics’, ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রচনা যেখানে তিনি মানব সমাজের নৈতিক ভিত্তি ও রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ প্লেটো হলেন প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক (বিখ্যাত গ্রন্থ: রিপাবলিক), রুসো হলেন সামাজিক চুক্তির প্রবক্তা (বিখ্যাত গ্রন্থ: দ্য সোশ্যাল কনট্রাক্ট), এবং জন স্টুয়ার্ট মিল ছিলেন উপযোগবাদী দার্শনিক (বিখ্যাত গ্রন্থ: অন লিবার্টি)।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
21

কোন নৈতিক মানদণ্ডটি সর্বোচ্চ সুখের উপর গুরুত্ব প্রদান করে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আত্মস্বার্থবাদ
  2. পরার্থবাদ
  3. পূর্ণতাবাদ
  4. উপযোগবাদ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

উপযোগবাদ একটি নৈতিক তত্ত্ব যা সামগ্রিক সুখ বা পরিতৃপ্তিকে উৎসাহিত করে এবং এমন ক্রিয়াকলাপগুলিকে প্রত্যাখ্যান করে যা সন্তোষ্টি বা সুখের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মানুষের সুখ এবং অসুখ বা ‘pleasure and pain’ এর প্রধান আলোচনার বিষয়। সামাজিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে উপযোগবাদী দর্শন সমাজের উন্নতি বা সমাজের মানুষের সন্তোষ্টি বৃদ্ধিতে প্রাধান্য দেয়। উপযোগবাদের প্রধান নীতি হচ্ছে “সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্য সর্বাধিক পরিমাণ সন্তোষ্টি বা সুখ” (বেন্টব্যাম যাকে বলেছিল “The greatest good for the greatest number”)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: উপযোগবাদ (Utilitarianism)
উপযোগবাদ হলো সেই নৈতিক মানদণ্ড, যা বিশ্বাস করে কোনো কাজের নৈতিকতা বা অনৈতিকতা নির্ভর করে তার ফলাফলের উপর। উপযোগবাদের মূলনীতি হলো— যে কাজ ‘সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের জন্য সর্বাধিক সুখ’ (The Greatest Happiness for the Greatest Number) নিশ্চিত করে, সেটিই নৈতিকভাবে সঠিক।
এই মতবাদ অনুযায়ী, সুখ (Pleasure) হলো একমাত্র ভালো জিনিস এবং দুঃখ (Pain) হলো একমাত্র মন্দ জিনিস।
অন্যদিকে, আত্মস্বার্থবাদ (Egoism) শুধু ব্যক্তির নিজস্ব সুখ বা স্বার্থের উপর জোর দেয়।
পরার্থবাদ (Altruism) অন্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করে, কিন্তু এটি নির্দিষ্ট করে ‘সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের সর্বোচ্চ সুখ’— এই সংজ্ঞাকে তুলে ধরে না।
পূর্ণতাবাদ (Perfectionism) নৈতিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ সাধনের উপর গুরুত্ব দেয়, যেখানে সুখের ধারণাটি গৌণ।
22

বাংলাদেশে ‘নব-নৈতিকতা’র প্রবর্তক হলেন-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মোহাম্মদ বরকতুল্লা
  2. জি.সি. দেব
  3. আরজ আলী মাতুব্বর
  4. আবদুল মতীন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

আনুষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষাবিহীন স্বশিক্ষিত একজন মননশীল লেখক ও যুক্তিবাদী দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর বাংলাদেশের সমাজে জেকে বসা ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অন্ধ কুসংস্কারের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা নৈতিক আদর্শকে কুঠারাঘাত করে, তার স্থলে বস্তুবাদী দর্শন ও বিজ্ঞানের মাধ্যমে সত্য আবিষ্কার করে সত্য, ন্যায় ও বিজ্ঞানের যথাযথ নীতি পদ্ধতিভিত্তিক নব নৈতিক আদর্শের সমাজের কথা চিন্তা করেছেন। তার দার্শনিক চিন্তা-চেতনা ধর্মের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল ধর্মের নামে প্রচলিত ধর্মান্ধতা ও ধর্মতন্ত্রের বিরুদ্ধে। মোহাম্মদ বরকতউল্লাহ আমাদের মুসলমানদের মধ্যে বাংলা ভাষায় প্রথম যথার্থ দার্শনিক প্রবন্ধ রচনা করেন। তিনি তার দর্শনে আত্মপ্রতিষ্ঠার নামে একটি দার্শনিক ধারার কথা বলেন। বাংলাদেশের আরেকজন বিশিষ্ট দার্শনিক জি.সি দেব বস্তুবাদ ও অধ্যাত্মবাদের মিশিলে গঠিত সমন্বয়ী দর্শনের প্রচার করেছিলেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আরজ আলী মাতুব্বর
বাংলাদেশে ‘নব-নৈতিকতা’ (Neo-Morality) বলতে প্রচলিত ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের ঊর্ধ্বে উঠে যুক্তিবাদী, মানবতাবাদী ও সংশয়বাদী নৈতিক মূল্যবোধকে বোঝানো হয়।
স্বশিক্ষিত দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর (Arif Ali Matubbar) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'সত্যের সন্ধান' এর মাধ্যমে এই যুক্তিবাদী ও সংশয়বাদী চেতনার প্রচার করেন। তিনি লোকশিক্ষামানবতাবাদের ওপর জোর দেন এবং এই কারণেই তাঁকে বাংলাদেশে 'নব-নৈতিকতা'র অন্যতম প্রধান প্রবর্তক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, জি.সি. দেব (গোবিন্দ চন্দ্র দেব) একজন প্রখ্যাত দার্শনিক হলেও তিনি মূলত ‘সমন্বয়ী দর্শন’ (Synthetic Philosophy) এর জন্য পরিচিত, নব-নৈতিকতার জন্য নন।
23

‘আমরা যে সমাজেই বসবাস করি না কেন, আমরা সকলেই ভালো নাগরিক হওয়ার প্রত্যাশা করি’। এটি-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নৈতিক অনুশাসন
  2. রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসন
  3. আইনের শাসন
  4. আইনের অধ্যাদেশ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

নৈতিক অনুশাসন মানুষের বিবেক থেকে আসে যা ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় উচিত-অনুচিত এর পার্থক্যবোধ জাগ্রত করে, সমাজে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে ভালো বা সুনাগরিক হওয়ার প্রত্যাশা জাগ্রত করার মাধ্যমে সমাজজীবনকে সুন্দর ও সার্থক করে তোলে। অন্যদিকে আইনের মাধ্যমে মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে সামাজকে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা থেকে মুক্ত করে রাখা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসন
নাগরিকরা কেমন আচরণ করবে এবং সমাজের প্রতি তাদের কী ধরনের দায়বদ্ধতা থাকবে, সেই প্রত্যাশাটি সমাজের অভ্যন্তরীন কাঠামো (সামাজিক অনুশাসন) এবং রাষ্ট্রের আইন, নীতি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার (রাজনৈতিক অনুশাসন) মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
একজন ‘ভালো নাগরিক’ হওয়ার প্রত্যাশা কেবল ব্যক্তিগত নৈতিকতার (নৈতিক অনুশাসন) মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য, আইন মেনে চলা, ভোটের অধিকার প্রয়োগ করা এবং সামাজিক রীতিনীতিকে সম্মান করার মতো একাধিক উপাদান ধারণ করে। তাই এটি একটি সমন্বিত রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রত্যাশা বা অনুশাসন।
আইনের শাসন (Rule of Law) একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও, ভালো নাগরিক হওয়ার প্রত্যাশা এর চেয়ে ব্যাপকতর ধারণা। আইনের অধ্যাদেশ হলো সাময়িক আইন, যা এই ব্যাপক প্রত্যাশার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
24

মূল্যবোধ হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ
  2. মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
  3. সমাজজীবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় উপাদান
  4. মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলীর দিক নির্দেশনা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। এর আদর্শে মানুষের আচার-ব্যবহার, রীতি-নীতি নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এই মানদণ্ডে সমাজে আচার-আচরণের ভালো- মন্দ দিকগুলোর বিচার করা হয়ে থাকে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
মূল্যবোধ (Values) হলো এমন একটি সাধারণভাবে স্বীকৃত বিশ্বাস, আদর্শ বা মানদণ্ড যা সমাজ বা একটি গোষ্ঠীর অধিকাংশ মানুষের কাছে কাম্য বা অনুসরণীয় বলে বিবেচিত হয়।
এই মানদণ্ডই নির্ধারণ করে দেয় যে কোনো কাজ ভালো নাকি মন্দ, সঠিক নাকি বেঠিক। তাই, মূল্যবোধ হলো মূলত মানুষের আচরণ পরিচালনার মৌলিক ভিত্তি
অন্যান্য অপশনগুলো (যেমন: পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ, সুখী হওয়ার উপাদান) মূল্যবোধের ফলাফল বা অংশমাত্র, কিন্তু এটি তার পূর্ণাঙ্গ ও মূল সংজ্ঞা নয়।
25

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সরকার পরিচালনায় সাহায্য করা
  2. নিজের অধিকার ভোগ করা
  3. সৎভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করা
  4. নিয়মিত কর প্রদান করা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক। রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন, সংবিধান মান্য করা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে সরকারি কাজ সম্পাদন, জাতীয় সম্পত্তি ও শৃংখলা রক্ষা করা প্রভৃতি দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে একজন নাগরিক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার পরিচালনায় সাহায্য করে থাকে, যা যে কোনো দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জরুরি। নিয়মিত কর প্রদান করার মাধ্যমে একজন নাগরিক সরকার পরিচালনায় সাহায্য করে থাকে। নিজের অধিকার ভোগ একান্তই নাগরিকের ব্যাপার, যার সাথে সুশাসন প্রতিষ্ঠার কোনো সম্পর্ক নেই। সৎভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নিয়মিত কর প্রদান করা
সুশাসন (Good Governance) প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা অপরিহার্য। রাষ্ট্র নাগরিকের নিরাপত্তা, বিচার ও বিভিন্ন জনসেবা প্রদান করে। এই সকল কাজের জন্য অর্থের প্রধান উৎস হলো নাগরিকদের নিয়মিত কর (Tax)
যদি নাগরিকেরা নিয়ম মেনে সরকারকে কর প্রদান না করে, তবে সরকারের পক্ষে অবকাঠামো নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ মৌলিক কার্যাবলী পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। তাই সুশাসন নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে নিয়মিত কর প্রদান হলো নাগরিকদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রত্যক্ষ কর্তব্য।
অন্যান্য অপশনগুলো যেমন— নিজের অধিকার ভোগ করা (এটি অধিকার, কর্তব্য নয়) বা সৎভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করা (এটি একটি সাধারণ নৈতিক দায়িত্ব), এগুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও রাষ্ট্রের আর্থিক ভিত্তি মজবুত করার প্রত্যক্ষ কর্তব্য হলো কর প্রদান, যা সুশাসনের মূল ভিত্তি।
ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও মেডিকেলসহ ২৭+ ইউনিট-ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর এডমিশন সেকশনে।

ভর্তি প্রশ্নব্যাংক দেখুন
26

মূল্যবোধের চালিকা শক্তি হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. উন্নয়ন
  2. গণতন্ত্র
  3. সংস্কৃতি
  4. সুশাসন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-ব্যবহার এবং কর্মকাণ্ডের সবকিছু পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধ দ্বারা। মানুষ হিসেবে যে সকল কর্মকাণ্ড আমরা করে থাকি তা সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত । সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণে যে পার্থক্য লক্ষ করা যায় তা মূলত সংস্কৃতির পার্থক্যের জন্যই। মূল্যবোধ হলো একটি কাঙ্ক্ষিত উপাদান যা ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে এবং সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে প্রত্যাশা করে। আর সংস্কৃতিই যেহেতু মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত আচরণটি শেখায়, তাই স্বাভাবিকভাবেই সংস্কৃতি মূল্যবোধের চালিকা শক্তি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো সংস্কৃতি
মূল্যবোধ (Values) হলো কোনো সমাজ বা জনগোষ্ঠীর আচরণ, বিশ্বাস ও নৈতিক আদর্শের সমষ্টি। এই আদর্শগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাহিত হয় এবং তা একটি সমাজের সার্বিক সংস্কৃতির মধ্যেই নিহিত থাকে।
সংস্কৃতি নির্ধারণ করে দেয় যে সমাজে কোন আচরণগুলো গ্রহণযোগ্য, অনুসরণীয় ও কাঙ্ক্ষিত। তাই সংস্কৃতিকেই মূল্যবোধের ভিত্তি বা চালিকা শক্তি (Driving Force) বলা হয়, যা ব্যক্তি ও সমাজকে নৈতিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে সুশাসন হলো মূলত মূল্যবোধের সফল প্রয়োগের ফল, আর গণতন্ত্র হলো একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা যা সুনির্দিষ্ট মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
27

নিচের কোনটি নাগরিকের দায়িত্ব?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রাস্তায় ট্রাফিক আইন মেনে চলা
  2. শিল্প কারখানায় অধিক শ্রমিক নিয়োগ দেয়া
  3. দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা
  4. রাজনৈতিক সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত হওয়া

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

রাষ্ট্র যেমন নাগরিকদের বিবিধ সুযোগ সুবিধা এবং অধিকার দিয়ে থাকে তেমনি রাষ্ট্রের প্রতিও নাগরিকদের কতগুলো দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। নাগরিকদের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা। রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন এবং সংবিধান মেনে চলা এবং আইনের প্রতি সম্মান দেখানো নাগরিকদের অন্যতম দায়িত্ব। তাই নাগরিক হিসেবে রাস্তায় চলাকালে ট্রাফিক আইন অনুসরণ করা প্রত্যেক ব্যক্তির একান্ত কর্তব্য।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: রাস্তায় ট্রাফিক আইন মেনে চলা
নাগরিকের দায়িত্ব (কর্তব্য) দুই প্রকার—নৈতিক কর্তব্যআইনগত কর্তব্য। ট্রাফিক আইন মেনে চলা হলো একটি মৌলিক আইনগত কর্তব্য
আইনগত কর্তব্য সেইগুলো, যা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত এবং নাগরিককে অবশ্যই পালন করতে হয়। আইন অমান্য করলে শাস্তি পেতে হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল:
শিল্প কারখানায় অধিক শ্রমিক নিয়োগ দেয়া এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা — এগুলো অর্থনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য, যা সকল নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক আইনগত দায়িত্ব নয়।
রাজনৈতিক সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত হওয়া — এটি নাগরিকের একটি রাজনৈতিক অধিকার (Political Right), বাধ্যতামূলক দায়িত্ব (Duty) নয়। নাগরিক চাইলে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে, না চাইলে নাও করতে পারে।
28

প্রাকৃতিক আইনের উদ্ভব হয়:

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. থমাস হবসন, হুগো, গ্রোসিয়াস ও জন লক-এর লেখনী থেকে
  2. ম্যাগনা কার্টা থেকে
  3. গ্রিক, খ্রিস্টান ও মধ্যযুগীয় ধর্মতত্ত্ব থেকে
  4. কনফুসিয়ানিজম থেকে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ব্রিটিশ দার্শনিক ও রাষ্ট্র চিন্তাবিদ টমাস হবস ও জন লক এবং ডাচ আইনজ্ঞ হুগো গ্রোসিয়াসের লেখা থেকে প্রাকৃতিক আইনের উদ্ভব হয়। ১২১৫ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের রাজা জন কর্তৃক ঘোষিত জনগণের জন্য রাজনৈতিক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা সংক্রান্ত সনদ হলো ম্যাগনাকার্টা। গ্রিক, খ্রিস্টান ও মধ্যযুগীয় ধর্মতত্ত্ব ছিল প্যাপাসি বা পোপতান্ত্রিক। খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকের চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াসের সৃষ্ট কুনফুসিয়াসবাদের মূল শিক্ষাই ছিল সুবিধাভোগী শ্রেণির আধিপত্য কায়েম করা এবং ঈশ্বরের ইচ্ছার জয়গান করা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: থমাস হবসন, হুগো গ্রোসিয়াস ও জন লক-এর লেখনী থেকে।
প্রাকৃতিক আইনের ধারণা প্রাচীন হলেও, আধুনিক যুগে মানুষের যুক্তি ও বিবেককে ভিত্তি করে এই আইনের তত্ত্বকে যাঁরা সুসংবদ্ধভাবে উপস্থাপন করেন, তাঁদের মধ্যে এই তিন দার্শনিকের অবদান প্রধান।
বিশেষ করে, সপ্তদশ শতকে হুগো গ্রোসিয়াস প্রাকৃতিক আইনকে চার্চের প্রভাবমুক্ত করে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি মনে করতেন, এমনকি ঈশ্বর না থাকলেও প্রাকৃতিক আইন তার যৌক্তিকতা ও বাধ্যবাধকতা বজায় রাখত।
থমাস হবসন এবং জন লক তাঁদের সামাজিক চুক্তি তত্ত্বে (Social Contract Theory) প্রাকৃতিক আইন ও প্রাকৃতিক অধিকারের ধারণা ব্যবহার করে আধুনিক রাষ্ট্রের যৌক্তিকতা প্রমাণ করেন, যা আধুনিক আইনের ভিত্তি গড়ে তোলে।
অন্যদিকে, অপশন ৩ (গ্রিক, খ্রিস্টান ও মধ্যযুগীয় ধর্মতত্ত্ব) প্রাকৃতিক আইনের ঐতিহাসিক উৎস বা উদ্ভব নির্দেশ করে। তবে যখন 'উদ্ভব' বলতে আধুনিক আইনের ভিত্তি স্থাপনকারী প্রবক্তাদের বোঝানো হয়, তখন হবস, গ্রোসিয়াস ও লক সঠিক উত্তর হিসেবে গৃহীত হন।
29

গোল্ডেন মিন (Golden Mean) হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সমস্ত সম্ভাব্য কর্মের গড়
  2. দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা
  3. ত্রিভুজের দুটি বাহুর ভূ-কেন্দ্রিক সম্পর্ক
  4. একটি প্রাচীন দার্শনিক ধারার নাম

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

গোল্ডেন মিন (Golden Mean) বা সুবর্ণ মধ্যক একটি দার্শনিক পরিশব্দ, যার মাধ্যমে গ্রিক দার্শনিক এরস্টিটল দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী অবস্থাকে বুঝিয়েছেন। যেমন একদিকে সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে খুবই অভাব, এ দুটি অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থাই হলো গোল্ডেন মিন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা
গোল্ডেন মিন (Golden Mean) বা 'স্বর্ণালী মধ্যক' হলো একটি নৈতিক ধারণা যা মূলত গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল তাঁর Nicomachean Ethics গ্রন্থে প্রবর্তন করেন।
এই নীতি অনুসারে, নৈতিকভাবে সঠিক কাজ বা সদ্‌গুণ (Virtue) সর্বদা দুটি চরম পন্থার (Vice) মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকে। একটি চরম পন্থা হলো আতিশয্য (Excess) এবং অন্যটি হলো ঘাটতি (Deficiency)
উদাহরণস্বরূপ: সাহস (Courage) হলো একটি সদ্‌গুণ। এর আতিশয্য হলো উচ্ছৃঙ্খলতা বা বেপরোয়া ভাব (Recklessness) এবং এর ঘাটতি হলো ভীরুতা (Cowardice)। সুতরাং, সাহস হলো এই দুই চরমের মধ্যবর্তী 'গোল্ডেন মিন'।
30

শূন্যবাদ যে ল্যাটিন শব্দ থেকে উদ্ভূত তার অর্থ -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সব
  2. কিছুই না
  3. সর্বজনীন
  4. কিছু

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বাংলা শূন্যবাদ বা শূন্যতাবাদ ল্যাটিন শব্দ nihil থেকে এসেছে, যার অর্থ nothing বা কিছুই না। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে রাশিয়ায় এ বিপ্লবী মতবাদ বিস্তার লাভ করে । এ মতবাদীরা কোনো ক্ষমতা, নীতি-নিয়ম বা ধর্ম মানতে অস্বীকার করতো এবং ব্যক্তি নিজেকে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাধীন বলে বিবেচনা করতো । এ মতবাদ আইভান তুর্গেনিকের 'ফাদারস অ্যান্ড সানস' উপন্যাসের মাধ্যমে খ্যাতি লাভ করে।

ব্যাখ্যা

প্রদত্ত শব্দটি হলো শূন্যবাদ, যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Nihilism
Nihilism শব্দটি উদ্ভূত হয়েছে ল্যাটিন শব্দ ‘nihil’ থেকে।
ল্যাটিন ভাষায় ‘nihil’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ‘Nothing’ বা ‘কিছুই না’
দর্শনশাস্ত্রে শূন্যবাদ হলো সেই মতবাদ, যা জীবনের কোনো উদ্দেশ্য, জ্ঞান বা নৈতিক মূল্যকে স্বীকার করে না। তাই সঠিক উত্তর হলো অপশন (২) কিছুই না
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
31

ব্যক্তি সহনশীলতার শিক্ষা লাভ করে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সুশাসনের শিক্ষা থেকে
  2. আইনের শিক্ষা থেকে
  3. মূল্যবোধের শিক্ষা থেকে
  4. কর্তব্যবোধ থেকে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সহনশীলতার শিক্ষা ব্যক্তি লাভ করে থাকে মূল্যবোধের শিক্ষা থেকে। এটা সুনাগরিকের অন্যতম গুণ। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের জন্য সহনশীলতা একান্ত অপরিহার্য।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মূল্যবোধের শিক্ষা থেকে
সহনশীলতা (Tolerance), অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা, ধৈর্য এবং পারস্পরিক সহাবস্থানের মতো গুণাবলিগুলো মূলত সামাজিক মূল্যবোধের অংশ।
যখন কোনো ব্যক্তি মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করে, তখন সে সমাজের ভিন্ন মত, ভিন্ন জীবনধারা, ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও গ্রহণ করার মানসিকতা অর্জন করে। তাই সহনশীলতা সরাসরি মূল্যবোধ শিক্ষার ফল।
অন্যান্য অপশন যেমন—সুশাসন বা আইনের শিক্ষা পরোক্ষভাবে সহনশীলতাকে প্রভাবিত করলেও, সহনশীলতা নামক ব্যক্তিগত ও সামাজিক গুণটি গঠনের মূল ভিত্তি হলো মূল্যবোধের শিক্ষা।
32

জেরেমি বেন্থাম কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জার্মানি
  2. ফ্রান্স
  3. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  4. যুক্তরাজ্য

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বুর্জোয়া ন্যায়তত্ত্ব উপযোগবাদ বা Utilitarianism তত্ত্বের প্রবক্তা যুক্তরাজ্যের অধিবাসী জেরেমি বেন্থাম (১৭৪৮-১৮৩২) ছিলেন একাধারে দার্শনিক, বিচারক এবং সমাজ সংস্কারক।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: যুক্তরাজ্য (United Kingdom)
জেরেমি বেন্থাম (Jeremy Bentham) ছিলেন একজন প্রভাবশালী ব্রিটিশ দার্শনিক, আইন সংস্কারক এবং অর্থনীতিবিদ।
তাকে আধুনিক উপযোগবাদ (Utilitarianism) বা সুখবাদী নীতির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা নীতিবিদ্যা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি মৌলিক ধারণা।
তিনি ১৭৪৮ সালে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় যুক্তরাজ্যেই অতিবাহিত করেন। তাই অন্যান্য অপশন জার্মানি, ফ্রান্স বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সঠিক নয়।
33

মূল্যবোধ পরীক্ষা করে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভাল ও মন্দ
  2. ন্যায় ও অন্যায়
  3. নৈতিকতা ও অনৈতিকতা
  4. উপরের সবগুলো

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান নীতি ও ঔচিত্যবোধের বিকাশ ভূমি বলা হয় সমাজকে। সমাজে কারো ক্ষতি না করা, কারো মনে কষ্ট না দেয়া, কটুক্তি না করা প্রভৃতি হলো নীতি ও ঔচিত্যবোধ। নীতি ও ঔচিত্যবোধের অনুমোদন ব্যক্তি তার নিজের কাছ থেকেই পেয়ে থাকে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: উপরের সবগুলো
মূল্যবোধ (Values) হলো সমাজের সেসব প্রত্যাশিত মানদণ্ড, আচরণ বা নীতি—যা মানুষের ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায় এবং নৈতিকতা-অনৈতিকতার বিচার করতে সাহায্য করে।
মূল্যবোধ প্রধানত সমাজ বা ব্যক্তি কর্তৃক গৃহীত হয় এবং সামাজিক জীব হিসেবে মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি বিচার করে:
১. কোনো কাজটি ভালো নাকি মন্দ (সামাজিক মানদণ্ড);
২. কাজটি ন্যায়সঙ্গত নাকি অন্যায় (আইনগত ও নৈতিক মানদণ্ড); এবং
৩. আচরণটি নৈতিক নাকি অনৈতিক (ব্যক্তিগত ও সামাজিক নৈতিকতা)।
যেহেতু মূল্যবোধের ধারণা এই তিনটি উপাদানকেই অন্তর্ভুক্ত করে, তাই প্রদত্ত তিনটি অপশনই (ভাল ও মন্দ, ন্যায় ও অন্যায়, নৈতিকতা ও অনৈতিকতা) মূল্যবোধের পরীক্ষার ক্ষেত্র।
34

‘Man is a political animal’– who said this?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. Dante
  2. Plato
  3. Aristotle
  4. Socrates

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

‘Man is a political animal’ quotation টি Aristotle-এর ‘Politics’ নামক গ্রন্হ থেকে নেওয়া হয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো অ্যারিস্টটল (Aristotle)
এই বিখ্যাত উক্তিটি গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের। তিনি তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, মানুষ স্বভাবগতভাবেই সামাজিক এবং ‘রাজনৈতিক প্রাণী’ (Zoon Politikon)
তিনি বিশ্বাস করতেন, কেবল পোলিস (Polis) বা নগর-রাষ্ট্রেই মানুষ তার নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটাতে পারে। যারা রাষ্ট্রে বাস করে না, তারা হয় দেবতা, না হয় পশু।
ভুল বিকল্প বিশ্লেষণ: প্লেটো ছিলেন অ্যারিস্টটলের গুরু এবং তিনিও আদর্শ রাষ্ট্র নিয়ে কাজ করেছেন। সক্রেটিস ছিলেন প্লেটোর গুরু, যিনি জ্ঞানই হলো পুণ্যের মূল—এই দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন। Dante মূলত মহাকাব্য The Divine Comedy-এর জন্য বিখ্যাত।
35

শিশুর মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা পূরণে নিচের কোনটি জরুরি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. স্বীকৃতি
  2. স্নেহ
  3. সাফল্য
  4. উল্লেখিত সবকটি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

শিশুর মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা পূরণে স্বীকৃতি, স্নেহ ও সাফল্য সবগুলোই দরকার। শিশুদের স্নেহ বা আদর করে, ছোট ছোট চাওয়াগুলোকে স্বীকৃতি দিয়ে ও সাফল্যগুলোকে অভিনন্দন জানিয়ে তাদের মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা পূরণ করা যায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: উল্লেখিত সবকটি
শিশুর মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা (Psychological Needs) পূরণের জন্য উপরের প্রতিটি উপাদানই অত্যন্ত জরুরি এবং একে অপরের পরিপূরক।
স্নেহ (Affection): এটি শিশুর মানসিক নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। স্নেহ ও ভালোবাসা না পেলে শিশু নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে এবং তার সুস্থ মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়। এটি মাসলোর চাহিদার সোপানে (Maslow’s Hierarchy of Needs) 'Belongingness and Love Needs'-এর অন্তর্ভুক্ত।
স্বীকৃতি (Recognition): শিশুর ভালো কাজ বা প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিলে তার আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা (Self-Esteem) বৃদ্ধি পায়। সে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।
সাফল্য (Success): ছোট ছোট কাজে সাফল্য লাভ শিশুকে দক্ষতা ও সামর্থ্যের অনুভূতি দেয়। এটি তাকে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য উৎসাহিত করে।
সুতরাং, একটি শিশুর সামগ্রিক ও সুস্থ মনস্তাত্ত্বিক বিকাশের জন্য স্নেহ, স্বীকৃতি এবং সাফল্য—এই তিনটি চাহিদাই অপরিহার্য।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
36

নৈতিকভাবে বলা হয় মানবজীবনের–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নৈতিক শক্তি
  2. নৈতিক বিধি
  3. নৈতিক আদর্শ
  4. সবগুলোই

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ এই তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব। শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা। ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষ গুণ হলো নৈতিকতা। প্রত্যেক ব্যক্তিই আইন বা অন্যান্য বিষয়ের উপর একে প্রাধান্য দেয়। তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নৈতিক আদর্শ (Moral Ideal)
নীতিবিদ্যা (Ethics) এমন একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান, যা মানবজীবনের চরম লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে আলোচনা করে। মানব আচরণের শুভ-অশুভ বা ভালো-মন্দ বিচার করাই এর প্রধান কাজ।
নৈতিকভাবে মানবজীবনের এই পরম উদ্দেশ্য বা চরম লক্ষ্যকেই নৈতিক আদর্শ বলা হয়। মানুষের সব ধরনের ঐচ্ছিক কাজ এই নৈতিক আদর্শের দিকেই ধাবিত হয়। এটি হলো পরম মূল্যবোধ (Ultimate Value) বা চরম শুভ (Summum Bonum)।
অন্যান্য অপশনগুলো নৈতিক আদর্শের সাথে যুক্ত থাকলেও, তারা মানবজীবনের মূল লক্ষ্য নয়। নৈতিক বিধি হলো আদর্শ অর্জনের পথ বা উপায়, এবং নৈতিক শক্তি হলো সেই পথ অনুসরণের ক্ষমতা।
37

‘সুবর্ণ মধ্যক’ হলো–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গাণিতিক মধ্যমান
  2. দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
  3. সম্ভাব্য সব ধরনের কাজের মধ্যমান
  4. একটি দার্শনিক সম্প্রদায়ের নাম

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘সুবর্ণ মধ্যক’ হলো একটি দার্শনিক পরিশব্দ। ইংরেজিতে এটি হলো Golden Mean। এরিস্টিটল দুটি চরমপন্হার মধ্যবর্তী অবস্থাকে সুবর্ণ মধ্যক (Golden mean) বলেছেন। যেমন-একদিকে খুবই প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে খুবই অভাব। এই দুই অবস্থার মাঝামাঝিটি হলো 'সুবর্ণ মধ্যক'।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা। এটি গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল (Aristotle) প্রদত্ত নীতিবিদ্যা বা নৈতিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা।
অ্যারিস্টটল মনে করতেন, নৈতিকতা কোনো চরম অবস্থা নয়, বরং এটি হলো দুটি চরম দোষের (একটি বাড়াবাড়ি বা অতিমাত্রা—Excess, অন্যটি কমতি বা ঘাটতি—Deficiency) মধ্যবর্তী ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান।
এই মধ্যবর্তী অবস্থানকেই তিনি Golden Mean বা সুবর্ণ মধ্যক বলেছেন।
উদাহরণস্বরূপ: সাহস হলো একটি সুবর্ণ মধ্যক। এর এক চরম হলো বেপরোয়া ভাব (বাড়াবাড়ি) এবং অন্য চরম হলো কাপুরুষতা (কমতি)
অন্যান্য অপশন যেমন, গাণিতিক মধ্যমান (Mathematical Mean) একটি পরিসংখ্যানগত ধারণা এবং এটি সুবর্ণ মধ্যকের দার্শনিক ধারণার সাথে সম্পর্কিত নয়।
38

নৈতিক আচরণবিধি (Code of ethics) বলতে বুঝায়–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মৌলিক মূল্যবোধ সংক্রান্ত সাধারন বচন যা সংগঠনের পেশাগত ভূমিকাকে সংজ্ঞায়িত করে
  2. বাস্তবতার নিরিখে নির্দিষ্ট আচরণের মানদণ্ড নির্ধারণ সংক্রান্ত আচরণবিধি
  3. দৈনন্দিন কার্যকলাপ ত্বরান্বিত করণে প্রণীত নৈতিক নিয়ম, মানদণ্ড বা আচরণবিধি
  4. উপরের তিনটিই সঠিক

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

নৈতিক আচরণবিধি (Code of ethics) বলতে বুঝায় কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কর্মকর্তা, কর্মচারীদের পেশাগত দৈনন্দিন দায়িত্ব ও কর্তব্যের পরিচিতি ও প্রযোজ্য নিয়মনীতি। বাস্তবতার নিরিখে সকল প্রতিষ্ঠানের নৈতিক আচরণবিধি এক নাও হতে পারে। তাই উপরের সবগুলোই সঠিক উত্তর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: উপরের তিনটিই সঠিক
নৈতিক আচরণবিধি (Code of Ethics) হলো একটি লিখিত দলিল, যা কোনো সংগঠন বা পেশার সদস্যগণকে তাদের আদর্শ, মৌলিক মূল্যবোধ ও আচরণের উচ্চতম মানদণ্ড সম্পর্কে নির্দেশনা প্রদান করে। এটি একটি ব্যাপক ধারণা, যা নিম্নোক্ত তিনটি বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে:
১. মৌলিক মূল্যবোধ: আচরণবিধি সংগঠনের বা পেশার মূল ভিত্তি বা দর্শন (Philosophy) তুলে ধরে, যা তাদের পেশাগত ভূমিকাকে সংজ্ঞায়িত করে। (অপশন ১ সঠিক)
২. আচরণের মানদণ্ড: এটি বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য নির্দিষ্ট ও প্রত্যাশিত আচরণের নিয়মাবলী স্থির করে। (অপশন ২ সঠিক)
৩. দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রয়োগ: এটি দৈনন্দিন কাজে কর্মীদের নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে সহায়তা করে। (অপশন ৩ সঠিক)
যেহেতু একটি পূর্ণাঙ্গ নৈতিক আচরণবিধি এই সবকটি বিষয়কে ধারণ করে, তাই উত্তর হবে 'উপরের তিনটিই সঠিক'
39

ব্যক্তিগত মূল্যবোধ লালন করে–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সামাজিক মূল্যবোধকে
  2. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে
  3. ব্যক্তিগত মূল্যবোধকে
  4. স্বাধীনতার মূল্যবোধকে

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হলো ব্যক্তির স্বতন্ত্র মূল্যবোধ। এই মূল্যবোধে ব্যক্তির স্বাধীনতাকে পালন করা হয়। যদিও নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী, সংস্কৃতি, ধর্ম, রাজনৈতিক দল, পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, জাতীয়তা, ইতিহাস প্রভৃতি ব্যক্তিগত মূল্যবোধ গঠনে সাহায্য করে। তথাপি সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে নিজস্ব অর্জিত জ্ঞান ও দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। যেখানে অন্যান্য মূল্যবোধ থেকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধের প্রধান পার্থক্য হলো ব্যক্তির স্বাধীনতা বা স্বকীয়তা । তাই সমাজের এক এক ব্যক্তির মূল্যবোধ এক এক রকম ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: স্বাধীনতার মূল্যবোধকে
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হলো সেইসব নীতি ও বিশ্বাস, যা একজন ব্যক্তিকে তার ব্যক্তিগত জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে (যেমন: সততা, আত্মসম্মান, আত্মনিয়ন্ত্রণ)।
যেহেতু একজন ব্যক্তি সুশৃঙ্খলভাবে নিজের ব্যক্তিগত মূল্যবোধ লালন করেন, তিনি দায়িত্বশীলতার সাথে স্বাধীনতার অধিকার উপভোগ করতে সক্ষম হন। ফলে, তার এই আচরণ সমাজের মধ্যে স্বাধীনতার মূল্যবোধকে আরও দৃঢ় করে।
অন্যভাবে বলা যায়, ব্যক্তিগত মূল্যবোধের বিকাশ ব্যতীত স্বাধীনতার সুষ্ঠু ব্যবহার সম্ভব নয়। এটি স্বাধীন সমাজের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
40

মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দুর্নীতি রোধ করা
  2. সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
  3. রাজনৈতিক অবক্ষয় রোধ করা
  4. সাংস্কৃতিক অবরোধ রক্ষণ করা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকেই মূল্যবোধ বলে। এই মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
মূল্যবোধ শিক্ষা (Value Education) হলো নৈতিক, মানবিক ও সামাজিক আদর্শের জ্ঞান যা ব্যক্তিকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। এর মাধ্যমে মানুষে মানুষে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সততা ও ন্যায়পরায়ণতা সৃষ্টি হয়।
মূল্যবোধের অনুপস্থিতি সমাজের কাঠামোতে ফাটল ধরায়, যার সামগ্রিক রূপই হলো সামাজিক অবক্ষয় (Social Decay)। দুর্নীতি, সহিংসতা, মাদকাসক্তি, দায়িত্বহীনতা—এগুলো সবই সামাজিক অবক্ষয়ের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ।
অতএব, মূল্যবোধ শিক্ষার মূল ও বৃহত্তর লক্ষ্য হলো সমাজের ভিত্তিকে মজবুত করে সামাজিক অবক্ষয় সামগ্রিকভাবে রোধ করা। অপশন (ক) ‘দুর্নীতি রোধ করা’ সামাজিক অবক্ষয়ের একটি অংশ মাত্র, কিন্তু সামগ্রিক লক্ষ্য নয়।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
41

একজন জনপ্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. স্বাধীনতা
  2. ক্ষমতা
  3. কর্মদক্ষতা
  4. জনকল্যাণ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

একজন জনপ্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধগুলো হলো সততা, ন্যায়পরায়ণতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা প্রভৃতি। তবে সবগুলোই জনকল্যাণকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হওয়ায় জনকল্যাণ-ই হবে একজন জনপ্রশাসকের প্রধান মৌলিক মূল্যবোধ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: জনকল্যাণ
জনপ্রশাসনের মূল উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রের জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান করা এবং তাদের কল্যাণ সাধন করা। এজন্য একজন জনপ্রশাসকের কাজ, সিদ্ধান্ত এবং কর্মপ্রণালীর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে জনকল্যাণ (Public Welfare)
কর্মদক্ষতা (Efficiency) বা ক্ষমতা (Power) হলো জনকল্যাণ নিশ্চিত করার উপায় বা হাতিয়ার। দক্ষতা দরকার, কিন্তু সেটি মূল্যবোধ নয়, এটি একটি গুণ
পক্ষান্তরে, জনকল্যাণ হলো জনপ্রশাসনের চূড়ান্ত লক্ষ্য (End Goal)। এটিকে বাদ দিয়ে জনপ্রশাসনের অস্তিত্ব অর্থহীন।
42

একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের অত্যাবশকীয় মৌলিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. নৈতিকতা
  3. দক্ষতা
  4. সরলতা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের মৌলিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ হচ্ছে নৈতিকতা। নৈতিকতা (Ethics) একটি ব্যাপক ধারণা, যা মানুষের বাহ্যিক আচরণের পাশাপাশি মানব চিন্তাকেও নিয়ন্ত্রণ করে। আর দায়িত্বশীলতা, দক্ষতা, সরলতা, কর্বত্যপরায়ণতা, ন্যায়নিষ্ঠা প্রভৃতি নৈতিকতা থেকেই উদ্ভূত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: দায়িত্বশীলতা (Responsibility/Accountability)
যদিও একজন যোগ্য প্রশাসক বা ব্যবস্থাপকের জন্য নৈতিকতা, দক্ষতা এবং সরলতা—সবগুলো গুণই জরুরি, কিন্তু এদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা বা জবাবদিহিতা (Accountability) হলো শ্রেষ্ঠ গুণ।
প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে, দায়িত্বশীলতা হলো সুশাসনের (Good Governance) ভিত্তি। একজন প্রশাসক যখন তার কাজের ফলাফল, সিদ্ধান্ত এবং আচরণের জন্য জবাবদিহি করতে প্রস্তুত থাকেন, তখনই অন্যান্য গুণাবলি (যেমন দক্ষতা ও নৈতিকতা) কার্যকর হয়।
যদি দায়িত্বশীলতা না থাকে, তবে কোনো কাজ সঠিকভাবে সম্পাদন হলেও তার ফলশ্রুতিতে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের বা সাফল্যের কৃতিত্ব নেওয়ার কোনো আইনি বা নৈতিক বাধ্যবাধকতা থাকে না। তাই, দায়িত্বশীলতাকে প্রশাসনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।
43

আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সত্য ও ন্যায়
  2. সার্থকতা
  3. শঠতা
  4. অসহিষ্ণুতা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

মূল্যবোধ মানুষের জীবনাচরণের অংশ। মূল্যবোধ কোনো সমাজেই লিপিবদ্ধ থাকে না। দীর্ঘ অনুশীলনের পর গ্রহণ-বর্জন প্রক্রিয়ায় সঠিক, উচিত, নৈতিক ও সমাজের কাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলোকে ভিত্তি করে মানুষের মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। সত্য ও ন্যায়, ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক, কাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত ইত্যাদি বিষয়গুলোকে মূল্যবোধের ভিত্তি ধরা হয়। সুতরাং সত্য ও ন্যায় নিষ্ঠা মানুষের চিরন্তন মূল্যবোধের একটি। পক্ষান্তরে, সার্থকতা, শঠতা ও অসহিষ্ণুতা সুস্থ মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক।

ব্যাখ্যা

প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো সত্য ও ন্যায়
কারণ চিরন্তন মূল্যবোধ (Eternal Values) বলতে সেইসব নৈতিক ও আধ্যাত্মিক গুণাবলিকে বোঝায়, যা স্থান, কাল ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে সবসময় মানুষের জন্য কল্যাণকর ও আবশ্যকীয়।
সত্য (Truth) এবং ন্যায় (Justice) মানব সমাজের আদি ও মৌলিক ভিত্তি। এগুলো মানুষের বিবেককে পরিচালিত করে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত হিসেবে কাজ করে। এই মূল্যবোধগুলো অপরিবর্তনীয়।
অন্যান্য বিকল্পগুলো চিরন্তন মূল্যবোধের সংজ্ঞায় পড়ে না। শঠতাঅসহিষ্ণুতা হলো নেতিবাচক বা মন্দ গুণাবলি। সার্থকতা যদিও ইতিবাচক, এটি ব্যক্তিগত অর্জন, কোনো সার্বজনীন নৈতিক বা চিরন্তন মূল্যবোধ নয়।
44

সরকারি চাকরিতে সততার মাপকাঠি কি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. যথা সময়ে অফিসে আগমন ও অফিস ত্যাগ করা
  2. দাপ্তরিক কাজে কোনো অবৈধ সুবিধা গ্রহণ না করা
  3. নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে অর্পিত দায়িত্ব যথাবিধি সম্পন্ন করা
  4. ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যে কোনো নির্দেশ প্রতিপালন করা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সরকারি চাকরিতে (Civil Service) যুক্ত কর্মকর্তা কর্মচারীরা প্রজাতন্ত্রের সেবক। সরকারি চাকরিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা সবসময় নিষ্ঠার সাথে জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকেন। আর তাদের সততার মাপকাঠি হচ্ছে নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে অর্পিত দায়িত্ব যথাবিধি সম্পন্ন করা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে অর্পিত দায়িত্ব যথাবিধি সম্পন্ন করা। (অপশন ৩)
সরকারি চাকরিতে সততা বা Integrity বলতে শুধু ব্যক্তিগতভাবে দুর্নীতিমুক্ত থাকাকে বোঝায় না, বরং বৃহত্তর অর্থে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে বোঝায়।
নির্মোহ ও নিরপেক্ষতা সরকারি কর্মের মূল ভিত্তি। একজন কর্মকর্তা যখন কোনো ব্যক্তিগত আবেগ, লোভ, বা রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া, শুধুমাত্র আইন ও বিধির ভিত্তিতে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন, তখনই তার সততা সর্বোচ্চ মানে প্রতিফলিত হয়।
অন্যদিকে, 'দাপ্তরিক কাজে কোনো অবৈধ সুবিধা গ্রহণ না করা' (অপশন ২) সততার একটি অপরিহার্য অংশ হলেও, এটি সম্পূর্ণ মাপকাঠি নয়। সততা হলো নেতিবাচক দিক (দুর্নীতি এড়িয়ে চলা) এবং ইতিবাচক দিক (দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা)—উভয়েরই সমষ্টি।
যথা সময়ে অফিসে আসা (অপশন ১) হলো শৃঙ্খলা বা Discipline, আর ঊর্ধ্বতনের নির্দেশ প্রতিপালন (অপশন ৪) হলো আনুগত্য বা Obedience, যা সুশাসনের মূল মাপকাঠি নয়।
45

নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান কি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সততা ও নিষ্ঠা
  2. কর্তব্যপরায়ণতা
  3. মায়া ও মমতা
  4. উদারতা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

নৈতিকতা একটি ব্যাপক অর্থবোধক বিষয়। সমাজের প্রথা, আদর্শ, ধর্ম ও ন্যায়বোধ থেকে নৈতিকতার জন্ম। নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হচ্ছে সততা ও নিষ্ঠা। নৈতিক শক্তির মূল প্রেরণা আসে ব্যক্তির সততা ও নিষ্ঠা থেকে। আর কর্তব্য পরায়ণতা সততা ও নিষ্ঠার মধ্যে অঙ্গীভূত। অপরপক্ষে, প্রদত্ত সম্ভাব্য উত্তরগুলোর মধ্যে উদারতা এবং মায়া ও মমতা মানবীয় গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সততা ও নিষ্ঠা। নৈতিক শক্তি (Moral Strength) বলতে বোঝায় অভ্যন্তরীণ সেই ক্ষমতা, যা একজন ব্যক্তিকে সকল প্রকার প্রলোভন বা চাপের মুখেও নীতি ও আদর্শের ওপর অবিচল থাকতে সাহায্য করে।
নৈতিক শক্তির মূল উপাদান হলো সততা (Truthfulness) এবং নিষ্ঠা বা অখণ্ডতা (Integrity)। সততা ছাড়া নৈতিকতার ভিত্তি দুর্বল হয়ে যায় এবং নিষ্ঠা না থাকলে নীতির প্রতি অবিচল থাকা সম্ভব নয়।
অন্যান্য উপাদান যেমন—কর্তব্যপরায়ণতা, মায়া, মমতা বা উদারতা নিঃসন্দেহে উচ্চমানের মূল্যবোধের উদাহরণ, কিন্তু এগুলি নৈতিক শক্তির প্রকাশ মাত্র। সততা ও নিষ্ঠা হলো সেই শক্তির মূল উৎস বা ভিত্তি।
যে ব্যক্তির মধ্যে সততা ও নিষ্ঠা যত বেশি, তার নৈতিক শক্তি তত দৃঢ় হয়।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
46

কোনো বিয়ে অনুষ্ঠানে হঠাৎ করে আপনার পোশাকটি বিশ্রীভাবে ছিড়ে নষ্ট হয়ে গেল। এ অবস্থায় কি করবেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ছেঁড়া অংশটুকু ধরে রাখার চেষ্টা করবেন
  2. বিয়ে বাড়ী ছেঁড়ে চলে যাবেন
  3. পোশাকের ছেঁড়া অংশটুকু যেভাবে আছে সেভাবে রাখবেন
  4. আপনার কাছাকাছি যারা আছেন তাদের পরামর্শ নেবেন

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

এই পরিস্থিতিতে আপনার কাছাকাছি যারা আছেন তাদের পরামর্শ নেওয়াই যুক্তিযুক্ত হবে। এতে পোশাকটি পরিবর্তন করার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে এবং সেই সাথে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণও করা যাবে।

ব্যাখ্যা

এটি একটি মানসিক দক্ষতা ও সামাজিক সৌজন্যতা (Social Etiquette) সংক্রান্ত প্রশ্ন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয় যা দ্রুত, কার্যকরী এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে কম বিব্রতকর।
সঠিক উত্তর হলো: আপনার কাছাকাছি যারা আছেন তাদের পরামর্শ নেবেন (অপশন ৪)। এর কারণ হলো, যখন এমন একটি অপ্রত্যাশিত ও বিব্রতকর ঘটনা ঘটে, তখন দ্রুত এবং বিচক্ষণতার সাথে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া প্রয়োজন।
কাছের কারো পরামর্শ নেওয়া মানেই হলো—তাদের কাছে সহায়তা চাওয়া। হয়তো তাদের কাছে সেফটিপিন, সুচ-সুতা বা অন্য কোনো সমাধান আছে যা দিয়ে পোশাকটি দ্রুত সাময়িকভাবে ঠিক করা যায়। অথবা, তারা আপনাকে এমন একটি নিরাপদ ও ব্যক্তিগত স্থান দেখিয়ে দেবেন যেখানে আপনি পোশাকটি ঠিক করতে পারবেন।
কেন অন্য উত্তরগুলো ভুল?
ছেঁড়া অংশটুকু ধরে রাখার চেষ্টা করবেন (ভুল): এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা, কিন্তু এতে আপনি সারাক্ষণ অস্বস্তিতে থাকবেন এবং তা দৃশ্যমান হবে, যা আরও বিব্রতকর।
বিয়ে বাড়ী ছেঁড়ে চলে যাবেন (ভুল): এটি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া এবং অনুষ্ঠানের আয়োজকদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ। যদি না পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়, তবে হঠাৎ চলে যাওয়া অনুচিত।
পোশাকের ছেঁড়া অংশটুকু যেভাবে আছে সেভাবে রাখবেন (ভুল): এটি চরম লজ্জাজনক এবং সামাজিক রীতিনীতির পরিপন্থী।
47

নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মানুষের আচরণের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা প্রদান
  2. মানুষের জীবনের সফলতার দিকগুলো আলোচনা
  3. সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ ব্যাখ্যা
  4. সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের আলোচনা ও মূল্যায়ন

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সমাজে বসবাসকারী মানুষের কাজের ভালো-মন্দ দিকগুলো মানুষের আচরণেরই দুটি রূপ। এগুলো আলোচনার পাশাপাশি নীতিবিদ্যা এসব সম্পর্কে সমালোচনাও করে থাকে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের আলোচনা ও মূল্যায়ন (ঘ)।
নীতিবিদ্যা (Ethics) হলো একটি আদর্শমূলক বিজ্ঞান (Normative Science)। এর কাজ হলো সমাজে বসবাসকারী মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ (Voluntary Action) নিয়ে শুধু আলোচনা করা নয়, বরং সেই আচরণগুলো নৈতিক মানদণ্ডে বিচার করে মূল্যায়ন করা—অর্থাৎ, কোনটি উচিত (Right) এবং কোনটি অনুচিত (Wrong), তা নির্ধারণ করা।
অন্যান্য অপশন ভুল কেন:
মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা (ক) প্রদান করে মনোবিজ্ঞান। মনোবিজ্ঞান আচরণের বর্ণনা দেয়, কিন্তু নৈতিক বিচার করে না।
আচরণ ব্যাখ্যা (গ) মূলত সমাজবিজ্ঞানের কাজ। সমাজবিজ্ঞান সমাজে মানুষের আচরণ কেমন, তা ব্যাখ্যা করে (Descriptive), কিন্তু ভালো-মন্দ নৈতিক বিচার করে না।
নীতিবিদ্যার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের কর্মের চূড়ান্ত লক্ষ্য বা কল্যাণ নির্ধারণ করে তার ভিত্তিতে আচরণকে মূল্যায়ন করা। তাই ‘আলোচনা’র সঙ্গে ‘মূল্যায়ন’ যুক্ত থাকা আবশ্যক।
48

মানুষের কোন ক্রিয়া নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ঐচ্ছিক ক্রিয়া
  2. অনৈচ্ছিক ক্রিয়া
  3. ইচ্ছা নিরপেক্ষ ক্রিয়া
  4. ক ও গ নামক ক্রিয়া

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

নীতিবিদ্যা সমাজে বসবাসকারী মানুষের কাজের ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে। আর উপর্যুক্ত বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবেই ঐচ্ছিক কাজ। অকস্মাৎ ঘটে যাওয়া ও অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কোনো কর্মকাণ্ড নিয়ে নীতিবিদ্যা আলোচনা করে না।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঐচ্ছিক ক্রিয়া। নীতিবিদ্যা (Ethics) হলো মানুষের আচরণের ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত দিক বিচার করার আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান।
নীতিবিদ্যার প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া বা নৈতিক কর্ম (Voluntary Actions or Moral Acts)। কারণ এই ধরনের কাজগুলি মানুষ সচেতনভাবে এবং ইচ্ছাশক্তির প্রভাবে স্বাধীনভাবে সম্পাদন করে।
যে কোনো কর্মের নৈতিক বিচার তখনই সম্ভব, যখন কর্তা সেই কাজটি করার স্বাধীনতা রাখে এবং কাজটি করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়।
অন্যদিকে, অনৈচ্ছিক ক্রিয়া (যেমন: শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদস্পন্দন, হাঁচি) বা ইচ্ছা নিরপেক্ষ ক্রিয়া মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঘটে। যেহেতু এই কাজে মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতা থাকে না, তাই নীতিবিদ্যা এসব ক্রিয়ার নৈতিক মূল্য বিচার করে না।
49

মূল্যবোধ (Values) কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
  2. শুধুমাত্র মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাদি নির্ধারণের দিক নির্দেশনা
  3. সমাজ জীবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় মনোভাব
  4. মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

মূল্যবোধের সংজ্ঞা সম্পর্কে স্পেনসার বলেছেন ‘মূল্যবোধ হলো একটি মানদণ্ড, যা আচরণের ভালো মন্দ বিচারের এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন লক্ষ্য হতে কোনো একটি বিষয় পছন্দ করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
মূল্যবোধ (Values) হলো এমন কিছু নীতি, বিশ্বাস ও আদর্শ, যা কোনো সমাজের বেশিরভাগ মানুষ ভালো বা বাঞ্ছনীয় বলে মনে করে এবং সেই অনুযায়ী তাদের আচার-আচরণ ও কাজ পরিচালনা করে। এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
অন্যান্য অপশনসমূহ মূল্যবোধের ফল বা এর মাধ্যমে সৃষ্ট অবস্থা। যেমন: মূল্যবোধ মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ করে (অপশন ৪) বা সমাজে সুখ লাভের সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করে (অপশন ৩)। কিন্তু এর মূল সংজ্ঞা হলো এটি আচরণের জন্য নীতি ও মানদণ্ড স্থাপন করে।
50

সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আইনের শাসন
  2. নৈতিকতা
  3. সাম্য
  4. উপরের সবগুলো

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

কোনো সমাজে একক কোনো নীতিমালা মূল্যবোধের আকার ধারণ করে তালিকা নির্ধারণ করা অত্যন্ত শক্ত, তবে আইনের শাসন, সহনশীলতা, সামাজিক ন্যায়বিচার নীতি ও ঔচিত্যবোধ গণতান্ত্রিক সমাজে সর্বজনস্বীকৃত উপাদান আর এসবের উপর ভিত্তি করেই সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে উঠে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: উপরের সবগুলো। সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের মানুষের আচরণ ও জীবনযাত্রার মান নিয়ন্ত্রণকারী সমষ্টিগত আদর্শ ও নীতিসমূহ।
সামাজিক মূল্যবোধ কোনো একক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত নয়, বরং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। এই উপাদানগুলো একে অপরের পরিপূরক।
আইনের শাসন: একটি সমাজে স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনের শাসন অপরিহার্য। এটি মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে এবং অন্যায় প্রতিরোধ করে।
নৈতিকতা: এটি মূল্যবোধের অভ্যন্তরীণ ভিত্তি। মানুষের ব্যক্তিগত বিবেক, সঠিক-ভুল নির্ধারণের ক্ষমতা এবং সদাচারণ সামাজিক মূল্যবোধকে মজবুত করে।
সাম্য: সাম্য (Equality) বা সমতা নিশ্চিত করে যে সমাজের সকল মানুষ যেন সমান মর্যাদা ও অধিকার পায়। সাম্য ছাড়া কোনো সমাজেই সত্যিকারের সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।
সুতরাং, সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে এই তিনটি (আইন, নৈতিকতা, ও সাম্য) অত্যাবশ্যকীয়।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
51

ইদানীং আপনার মনে হচ্ছে সংসারে আপনার গুরুত্ব হ্রাস পাচ্ছে। আপনি এমন অবস্থায় -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. খুবই হতাশাবোধ করবেন
  2. বন্ধুদের সাথে বিষয়টি আলাপ করবেন
  3. সংসারের প্রতি গভীর মনোযোগ দেবেন
  4. ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে মন খারাপ করবেন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

পারিবারিক সমস্যা একান্তই পারিবারিক। হতাশা, দুঃখ, ক্ষোভ বা বন্ধুদের সাথে আলোচনা করে এর সমাধান সম্ভব নয়। তাই এই সমস্যার সমাধানের জন্য সংসারের প্রতি গভীর মনোযোগী হওয়াই বাঞ্ছনীয়।

ব্যাখ্যা

এটি মানসিক দক্ষতা ও নৈতিকতা সংক্রান্ত একটি প্রশ্ন। যখন কেউ মনে করেন যে সংসারে তার গুরুত্ব হ্রাস পাচ্ছে, তখন একটি ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক।
সঠিক উত্তর হলো: সংসারের প্রতি গভীর মনোযোগ দেবেন। এটি একমাত্র সক্রিয় (Proactive) এবং গঠনমূলক (Constructive) সমাধান। গুরুত্ব হ্রাস পেলে হতাশ না হয়ে বরং নিজের সম্পৃক্ততা ও যত্ন বৃদ্ধি করলে সম্পর্ক উন্নত হয় এবং গুরুত্ব পুনরুদ্ধার হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো যেমন— হতাশাবোধ করা, ক্ষোভ প্রকাশ করা বা বন্ধুদের সাথে আলাপ করা—এগুলো সবই নেতিবাচক (Negative) বা প্রতিক্রিয়াশীল (Reactive) আচরণ। এই ধরনের আচরণ পারিবারিক সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয় এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে।
52

‘Existentialism’কি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. একটি দার্শনিক মতবাদ
  2. প্রাণিবিদ্যার একটি তত্ত্ব
  3. ভূবিদ্যার একটি তত্ত্ব
  4. পদার্থবিদ্যার একটি তত্ত্ব

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

অস্তিত্ববাদ একটি দার্শনিক মতবাদ। এ মতবাদের প্রবক্তা সেরেন কেয়াকেগার্ড। অস্তিত্ববাদ মন নিরপেক্ষ সত্ত্বার স্বাধীন অস্তিত্ব স্বীকার করে এবং অস্তিত্ব সারসত্তার পূর্বগামী এ ধারণার উপর ও মতবাদ প্রতিষ্ঠিত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: একটি দার্শনিক মতবাদ
Existentialism বা অস্তিত্ববাদ হলো বিংশ শতাব্দীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক মতবাদ (Philosophical Doctrine)।
এই মতবাদ অনুযায়ী, মানুষের অস্তিত্ব (Existence) তার সারাংশ বা প্রকৃতি (Essence)-এর পূর্বে আসে। অর্থাৎ, মানুষ পৃথিবীতে স্বাধীনভাবে আসে এবং নিজের কর্ম ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তার পরিচয় বা সত্তা তৈরি করে।
অস্তিত্ববাদ মূলত ব্যক্তি স্বাধীনতা, দায়িত্ববোধ এবং জীবনের অর্থহীনতা (Absurdity) নিয়ে আলোচনা করে।
অন্যান্য অপশনগুলো (প্রাণিবিদ্যা, ভূবিদ্যা, পদার্থবিদ্যা) সম্পূর্ণ বিজ্ঞানভিত্তিক তত্ত্ব, যা এই ধারণার সাথে সম্পর্কিত নয়।
53
‘Animal Liberation’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হেগেল
  2. কান্ট
  3. বেন্থাম
  4. পিটার সিঙ্গার

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সঠিক উত্তর: পিটার সিঙ্গার
পিটার সিঙ্গার (Peter Singer) একজন বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় নীতি দার্শনিক। তিনি ১৯৭৫ সালে 'Animal Liberation' (পশুদের স্বাধীনতা) গ্রন্থটি প্রকাশ করেন, যা প্রাণী অধিকার আন্দোলনের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
তিনি উপযোগবাদ (Utilitarianism) মতবাদের আধুনিক প্রবক্তা।

ব্যাখ্যা

হেগেল ভাববাদী দর্শনের জন্য পরিচিত।
কান্ট কর্তব্যপরায়ণ নীতিবিদ্যার (Deontology) জনক।
বেন্থাম উপযোগবাদের ধ্রুপদী প্রবক্তা।
54
কোন শ্রেণির ক্রিয়া নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নৈতিকতা-নিরপেক্ষ ক্রিয়া
  2. সামাজিক ক্রিয়া
  3. ঐচ্ছিক ক্রিয়া
  4. ইচ্ছা-নিরপেক্ষ ক্রিয়া

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সঠিক উত্তর: ঐচ্ছিক ক্রিয়া
নীতিবিদ্যা কেবল মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া (Voluntary Action) নিয়ে আলোচনা করে। ঐচ্ছিক ক্রিয়া হলো সেই কাজ যা মানুষ সজ্ঞান, স্বেচ্ছায় এবং ফলাফলের কথা চিন্তা করে করে।
অনৈচ্ছিক বা ইচ্ছা-নিরপেক্ষ ক্রিয়ার (যেমন: হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস) ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ নেই বলে তা নৈতিক বিচারের আওতায় পড়ে না।

ব্যাখ্যা

নৈতিকতা-নিরপেক্ষ ক্রিয়া: যেসব কাজের ভালো-মন্দ বিচার করা যায় না।
ইচ্ছা-নিরপেক্ষ ক্রিয়া: মানুষের নিয়ন্ত্রণহীন কাজ।
55
বাংলাদেশের ‘নব্য-নৈতিকতার’ প্রবর্তক হলেন—
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ
  2. জি.সি. দেব
  3. আরজ আলী মাতুব্বর
  4. আব্দুল মতীন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সঠিক উত্তর: আরজ আলী মাতুব্বর
আরজ আলী মাতুব্বর ছিলেন বাংলাদেশের একজন স্বশিক্ষিত দার্শনিক, মানবতাবাদী ও মুক্তচিন্তার অগ্রদূত। প্রচলিত কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে তিনি যুক্তিনির্ভর প্রশ্ন উত্থাপন করেন, যাকে 'নব্য-নৈতিকতা'র উন্মেষ বলা হয়।
তার বিখ্যাত গ্রন্থ: 'সত্যের সন্ধান', 'সৃষ্টির রহস্য'।

ব্যাখ্যা

জি.সি. দেব (গোবিন্দচন্দ্র দেব): ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ও শহীদ বুদ্ধিজীবী। তিনি 'সমন্বয়বাদী' দর্শনের প্রবক্তা ছিলেন।
মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ: ইসলামি ভাবাদর্শপুষ্ট চিন্তাবিদ।
56
“মানুষ হও এবং মরে বাঁচ।”— এটি কার উক্তি?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্লেটো
  2. হেগেল
  3. জি. ই. মূর
  4. রাসেল

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সঠিক উত্তর: হেগেল
জার্মান দার্শনিক হেগেল (G.W.F. Hegel) এই উক্তিটি করেছেন। মূল উক্তিটি হলো 'Die to live'।
তিনি মনে করতেন, পরমাত্মা বা পরম সত্তাই একমাত্র স্বনির্ভর সত্তা। ব্যক্তির ক্ষুদ্র স্বার্থ বা আমিত্বকে বিসর্জন দিয়ে (মরে) বৃহত্তর কল্যাণে বা পরমাত্মায় লীন হওয়াকেই তিনি 'বেঁচে থাকা' বুঝিয়েছেন।

ব্যাখ্যা

প্লেটো: গ্রিক দার্শনিক, 'রিপাবলিক' গ্রন্থের রচয়িতা।
রাসেল: ব্রিটিশ দার্শনিক ও গণিতবিদ।
57
“দর্শন হচ্ছে ধর্ম ও বিজ্ঞানের মধ্যবর্তী এক অনধিকৃত প্রদেশ।”— উক্তিটি কে করেছেন?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আর. বি. পেরি
  2. প্লেটো
  3. সি. ডি. ব্রড
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সঠিক উত্তর: বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল তার বিখ্যাত 'History of Western Philosophy' গ্রন্থে এই উক্তিটি করেছেন।
পুরো উক্তিটি হলো: 'Philosophy is a No Man's Land between Theology and Science' (দর্শন হলো ধর্মতত্ত্ব ও বিজ্ঞানের মধ্যবর্তী এক অনধিকৃত এলাকা)।

ব্যাখ্যা

তিনি বোঝাতে চেয়েছেন দর্শন ধর্মের মতো বিশ্বাসের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়, আবার বিজ্ঞানের মতো সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ওপরও সবসময় প্রতিষ্ঠিত নয়।
58
‘Republic’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বার্কলে
  2. জন লক
  3. ডেকার্ট
  4. প্লেটো

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সঠিক উত্তর: প্লেটো
‘The Republic’ গ্রন্থটি গ্রিক দার্শনিক প্লেটো (Plato) রচনা করেন। এটি রাষ্ট্রদর্শন ও নীতিবিদ্যার ওপর লেখা অন্যতম সেরা গ্রন্থ।
এই গ্রন্থে তিনি 'আদর্শ রাষ্ট্র' এবং 'দার্শনিক রাজা' (Philosopher King)-এর ধারণা দিয়েছেন।

ব্যাখ্যা

জন লক: উদারতাবাদের জনক, তার বিখ্যাত গ্রন্থ 'Two Treatises of Government'।
59
নিচের কোনটি পেশাগত নৈতিকতার উপাদান?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. স্বজনপ্রীতি
  2. সাম্প্রদায়িকতা
  3. দরিদ্রতা
  4. দক্ষতা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সঠিক উত্তর: (ঘ) দক্ষতা

ব্যাখ্যা:
পেশাগত নৈতিকতার (Professional Ethics) মূল উপাদানগুলো হলো দক্ষতা (Efficiency), সততা (Integrity), স্বচ্ছতা (Transparency), দায়বদ্ধতা (Accountability) এবং নিরপেক্ষতা।
অন্যদিকে স্বজনপ্রীতি ও সাম্প্রদায়িকতা হলো নৈতিকতা বিরোধী কাজ।

ব্যাখ্যা

স্বজনপ্রীতি (Nepotism) সুশাসনের অন্তরায়।
দক্ষতা পেশাগত মান উন্নয়নের চাবিকাঠি।
60
উদ্দেশ্য নৈতিকতার আলোচ্য বিষয় কোনটি?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. উদ্দেশ্য
  2. ফলাফল
  3. প্রক্রিয়া
  4. উপরের সবগুলো

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সঠিক উত্তর: (খ) ফলাফল

ব্যাখ্যা:
উদ্দেশ্যমুখী নৈতিকতা বা Teleological Ethics (পরিণামবাদ) অনুযায়ী কোনো কাজের নৈতিকতা নির্ভর করে সেই কাজের ফলাফলের (Consequences) ওপর। অর্থাৎ, যদি ফলাফল ভালো হয়, তবে কাজটি নৈতিক বলে গণ্য হয়। এই মতবাদের অপর নাম পরিণামবাদ (Consequentialism)। উপযোগবাদ (Utilitarianism) এর একটি প্রধান উদাহরণ।

ব্যাখ্যা

Deontological Ethics (কর্তব্যবাদ): এটি কাজের ফলাফল নয়, বরং নিয়ম বা কর্তব্যের ওপর জোর দেয় (যেমন: ইমানুয়েল কান্টের মতবাদ)।
61
মানুষের মধ্যে সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে—
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আইনের বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে
  2. সামাজিকীকরণের মাধ্যমে
  3. অর্থনৈতিক প্রণোদনার মাধ্যমে
  4. উচ্চমানের প্রযুক্তি অনুসরণের মাধ্যমে

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সঠিক উত্তর: সামাজিকীকরণের মাধ্যমে
মানুষের চিন্তা-চেতনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালিত করে, তাই মূল্যবোধ। এই মূল্যবোধ হঠাৎ করে তৈরি হয় না, বরং পরিবার, সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে, যাকে সামাজিকীকরণ (Socialization) বলা হয়।

ব্যাখ্যা

আইন মানুষকে বাধ্য করে, কিন্তু মূল্যবোধ স্বতঃস্ফূর্ত। তাই আইনের মাধ্যমে মূল্যবোধ গড়ে ওঠে না।
মূল্যবোধ একটি মানসিক ও সামাজিক প্রক্রিয়া, যা সামাজিকীকরণের ফল।

এই অধ্যায়ের প্রশ্ন টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করুন

এই পেজে বাছাইকৃত ৬১টি প্রশ্ন সমাধানসহ দেওয়া হয়েছে। প্র্যাকটিস মোডে এক-একটি করে উত্তর দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল, স্কোর ও অগ্রগতি ট্র্যাক করুন।

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন-এর অন্যান্য অধ্যায়

কেন BCS Preliminary-এর জন্য “নীতিবিদ্যা” অধ্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ?

BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষার নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন অংশে “নীতিবিদ্যা” থেকে প্রায় প্রতিবারই প্রশ্ন আসে। বিগত সালের প্রশ্নের ধরন বুঝে নিয়মিত অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ের নম্বর নিশ্চিত করা সহজ হয় — এই পেজের বাছাইকৃত প্রশ্নগুলো ঠিক সেই প্রস্তুতির জন্যই সাজানো।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

"নীতিবিদ্যা" অধ্যায় থেকে কেমন প্রশ্ন আসে?

BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষায় নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন বিষয়ের "নীতিবিদ্যা" অধ্যায় থেকে নিয়মিত MCQ আসে। এই পেজে বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক জায়গায় দেওয়া হয়েছে — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ।

উত্তর ও সমাধান কি বিনামূল্যে?

হ্যাঁ। প্রশ্ন, অপশন, সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যা — সবই লগইন ছাড়াই বিনামূল্যে দেখা যায়। টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করতে চাইলে একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট দিয়ে প্র্যাকটিস মোডে যান।