সমাধান
সমাধান
💼
নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

সুশাসন

BCS Preliminary · নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন — বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক পেজে।

নিচে BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষার নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন বিষয়ের "সুশাসন" অধ্যায়ের বাছাইকৃত ৫০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ। সবই বিনামূল্যে।

1

সুশাসনের পূর্বশর্ত কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নিরপেক্ষ আইন ব্যবস্থা
  2. নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা
  3. প্রশাসনের নিরপেক্ষতা
  4. মত প্রকাশের স্বাধীনতা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

নিরপেক্ষ আইন, বিচার ও শাসন ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও যদি মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকে তাহলে সুশাসন অর্জিত হয় না৷ তাই মত প্রকাশের স্বাধীনতা সুশাসনের পূর্বশর্ত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মত প্রকাশের স্বাধীনতা (Freedom of Expression)
সুশাসনের ধারণাটির মূলে রয়েছে জবাবদিহিতা (Accountability)স্বচ্ছতা (Transparency)। যখন জনগণের কথা বলার স্বাধীনতা থাকে, কেবল তখনই তারা সরকারের ভুল কাজের সমালোচনা করতে পারে এবং নীতি নির্ধারণে অংশগ্রহণ করতে পারে।
মত প্রকাশের স্বাধীনতা নাগরিকদের সরকার ও প্রশাসনের উপর নজরদারি চালাতে এবং তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সাহায্য করে। তাই এটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক ভিত্তি বা পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
অন্যান্য অপশন যেমন—নিরপেক্ষ আইন ব্যবস্থা, নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা—এগুলো সুশাসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বা স্তম্ভ (Pillars)। কিন্তু মত প্রকাশের স্বাধীনতা ছাড়া এই স্তম্ভগুলো কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।
2

সুশাসন প্রত্যয়টির উদ্ভাবক কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
  2. আই. এল. ও
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. জাতিসংঘ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

একটি বহুমুখী ধারণা হিসেবে সুশাসনের উদ্ভব হয় মূলত ১৯৮৯ সালে। বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি উপস্থাপন করেন। বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসন ৪টি প্রধান স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল। এগুলো হলো- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো এবং অংশগ্রহণ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বিশ্বব্যাংক (World Bank)
বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসন বা ‘Good Governance’ প্রত্যয়টি উদ্ভাবন করে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একে জনপ্রিয় করে তোলে। মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দেওয়া ঋণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাংক এই ধারণা নিয়ে আসে।
১৯৮৯ সালে সাব-সাহারান আফ্রিকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর একটি রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক প্রথমবারের মতো এই শব্দটি ব্যবহার করে।
পরবর্তীতে, ১৯৯২ সালে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের 'Governance and Development' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের ধারণাটি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয় এবং একে উন্নয়ন সহায়তার একটি আবশ্যিক শর্ত হিসেবে গণ্য করা হয়।
3

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সুশাসনের কোন দিকটির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সামাজিক দিক
  2. অর্থনৈতিক দিক
  3. মূল্যবোধের দিক
  4. গণতান্ত্রিক দিক

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সুশাসনের অর্থনৈতিক দিকের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: অর্থনৈতিক দিক
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (Millennium Development Goals - MDGs) অর্জনের মূল লক্ষ্য ছিল চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণ, সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং শিশু মৃত্যুর হার কমানো।
এই লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য সুশাসনের যে দিকটির উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, তা হলো অর্থনৈতিক সুশাসন (Economic Governance)
অর্থনৈতিক সুশাসন নিশ্চিত করে যে দেশের সীমিত সম্পদ যেন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার (Transparency and Accountability) সাথে সঠিকভাবে বণ্টন ও ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে দুর্নীতি হ্রাস পায় এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কার্যকরভাবে সম্পন্ন হয়, যা সরাসরি দারিদ্র্য বিমোচনে সাহায্য করে।
যদিও MDG-এর লক্ষ্যগুলো সামাজিক (স্বাস্থ্য, শিক্ষা) ছিল, কিন্তু সেই লক্ষ্যগুলো পূরণের জন্য সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিশ্চিত করা সুশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল।
4

নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষকে কী বলে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শুদ্ধাচার
  2. মূল্যবোধ
  3. মানবিকতা
  4. সফলতা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল ২০১২ অনুযায়ী শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বুঝায়। শুদ্ধাচার দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো শুদ্ধাচার। প্রশ্নটিতে 'নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ' (Behavioral excellence influenced by ethics and integrity) এর সংজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।
শুদ্ধাচার (Integrity/Ethical Conduct): এটি হলো নৈতিকতা, সততা ও মূল্যবোধের আলোকে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সকল কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আচরণের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখা। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রণীত 'জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল' (NIS)-এ এই সংজ্ঞাটিই প্রধানত ব্যবহৃত হয়।
মূল্যবোধ (Values): মূল্যবোধ হলো মানুষের অভ্যন্তরীণ বিশ্বাস, আদর্শ বা নীতি যার ভিত্তিতে মানুষ ভালো-মন্দ বিচার করে। এটি শুদ্ধাচারের ভিত্তি হলেও, এটি সরাসরি 'আচরণগত উৎকর্ষকে' বোঝায় না।
মানবিকতা ও সফলতা: এই দুটি শব্দ মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও, সুশাসন বা প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত সুনির্দিষ্ট আচরণকে বোঝাতে শুদ্ধাচার শব্দটিই সর্বাধিক উপযুক্ত।
5

সুশাসনের মূলভিত্তি-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গণতন্ত্র
  2. আমলাতন্ত্র
  3. আইনের শাসন
  4. মূল্যবোধ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সুশাসন যে সমস্ত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত সেগুলো হলো- আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা, জনগণের অংশগ্রহণ, বৈধতা, মানবাধিকার, সাম্য, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আইনের শাসন (Rule of Law)
সুশাসন (Good Governance) বলতে এমন একটি শাসন প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়, যেখানে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, জনগণের অংশগ্রহণ এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হয়।
এই ব্যবস্থাটির মূল ভিত্তি বা ফাউন্ডেশন হলো আইনের শাসন। কারণ, যদি সবার জন্য আইন সমান না হয় এবং আইনের প্রয়োগ পক্ষপাতমূলক হয়, তবে জনগণের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি হয় না এবং সুশাসনের অন্য কোনো উপাদান (যেমন: জবাবদিহিতা বা স্বচ্ছতা) কার্যকর হতে পারে না।
অন্যদিকে, গণতন্ত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি পূর্বশর্ত বা প্রক্রিয়া মাত্র। মূল্যবোধ সুশাসন প্রতিষ্ঠার চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে, কিন্তু এটি ভিত্তি নয়। আমলাতন্ত্র হলো সরকারি প্রশাসনের একটি অংশ।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
6

জাতীর শুদ্ধাচার কৌশল অনুসারে ‘শুদ্ধাচার’ হচ্ছে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শুদ্ধভাবে কার্যসম্পাদনের কৌশল
  2. সরকারী কর্মকর্তাদের আচরণের মানদণ্ড
  3. সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
  4. দৈনন্দিন কার্যক্রমে অনুসৃতব্য মানদণ্ড

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল হলো দুর্নীতি ঠেকাতে নাগরিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সততা নিশ্চিতকরণে সরকার প্রণীত একটি সুশাসন কৌশল। জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের মাধ্যমে সরকার নিম্নোক্ত পরিবর্তন সাধন করতে চাইছে- ১। পরিচ্ছন্ন ও যৌক্তিক বিতর্ক নির্ভর আইন প্রণয়ণের স্থান হিসেবে সংসদকে প্রতিষ্ঠিত করা। ২। স্থানীয় প্রশাসনের জনমুখতা, দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। ৩। সরকারি প্রতিষ্ঠানে জনগণের প্রতি স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ আচরণ নিশ্চিত করতে স্বাধীন আলোচক, নির্দলীয় আচরণের ধারক ও বাহক এবং জাতীয় শুদ্ধাচারের পক্ষে সচেতন প্রচারক হিসেবে নাগরিক সমাজের ভূমিকা বজায় রাখা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ। এটিই হলো জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল (National Integrity Strategy - NIS) অনুসারে 'শুদ্ধাচার'-এর প্রামাণ্য সংজ্ঞা।
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল দলিলে (২০১২ সালে অনুমোদিত) শুদ্ধাচারকে নৈতিকতা ও সততার ভিত্তিতে আচরণের সর্বোচ্চ মান হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এটিকে ইংরেজি পরিভাষায় 'Behavioral excellence influenced by honesty and ethics' বলা হয়।
প্রথম তিনটি অপশন (শুদ্ধভাবে কার্যসম্পাদনের কৌশল, সরকারী কর্মকর্তাদের আচরণের মানদণ্ড) আংশিকভাবে সঠিক হলেও এটি শুদ্ধাচারের পূর্ণাঙ্গ ও দালিলিক সংজ্ঞা নয়। শুদ্ধাচার কেবল সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যক্তি জীবনের সকল স্তরের জন্য প্রযোজ্য
7

বাংলাদেশে দুর্নীতিকে দণ্ডনীয় ঘোষণা করা হয়েছে যে বিধানে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৮৬০ সালে প্রণীত দণ্ডবিধিতে
  2. ২০০৪ সালে প্রণীত দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে
  3. ২০১৮ সালে প্রণীত সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালাতে
  4. উপরের সবগুলোতে

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

দণ্ডবিধি ১৮৬০ আইনটি বাংলাদেশে ফৌজদারি সংক্রান্ত আইন। অপরদিকে, দুর্নীতিমূলক কার্য প্রতিরোধের লক্ষ্যে এবং অন্যান্য সুনির্দিষ্ট অপরাধের অনুসন্ধান ও পরিচালনার জন্য স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠাকরণ এবং এর আইন মোতাবেক দুর্নীতিকে সর্বস্তরে নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রণীত সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালাতে অসদাচরণ, দুর্নীতি ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ‘গুরুদণ্ড’ ও ‘লঘুদণ্ড’ নামক দুই ধরনের দণ্ড আরোপের বিধান রয়েছে। উক্ত তিনটি বিধিমালাই দুর্নীতিকে সর্বস্তরে প্রতিরোধকল্পে গঠিত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: উপরের সবগুলোতে। বাংলাদেশে দুর্নীতির সংজ্ঞা, অপরাধ ও শাস্তি মূলত একাধিক আইনের অধীনে দণ্ডনীয় ঘোষণা করা হয়েছে।
১. দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code, 1860): এই আইনে সরকারি কর্মচারীদের দ্বারা সংঘটিত ঘুষ, প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মতো অনেক দুর্নীতিমূলক কাজকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে (বিশেষত এর নবম অধ্যায়ে)।
২. দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪: এই আইনটিই দুর্নীতি দমনের প্রধান আইন। এটি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠন করেছে এবং তফসিলভুক্ত নির্দিষ্ট দুর্নীতিমূলক অপরাধের জন্য শাস্তি ও তদন্তের বিধান নির্ধারণ করেছে।
৩. সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮: যদিও এটি ফৌজদারি আইন নয়, তবুও সরকারি কর্মচারীদের নৈতিক স্খলন বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে এই বিধিমালার অধীনে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা (যেমন- বরখাস্ত, পদাবনতি ইত্যাদি) নেওয়া হয়। এই বিভাগীয় শাস্তিও দুর্নীতির ফলস্বরূপ দণ্ডনীয় ব্যবস্থার অংশ।
যেহেতু এই তিনটি বিধানই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা বা শাস্তি ঘোষণা করে, তাই সামগ্রিক অর্থে সবগুলোই সঠিক।
8

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
  2. দুর্নীতি দূর হয়
  3. প্রতিষ্ঠানের সুনাম হয়
  4. যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

কোন দেশে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিদেশী বিনিয়োগকারী উক্ত দেশে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হয়। ফলশ্রুতিতে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায় এবং দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায় (Investment increases)।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন বলতে বোঝায়— যখন সরকার আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সম্পদ বণ্টন এবং অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে স্বচ্ছতা (Transparency), জবাবদিহিতা (Accountability)আইনের শাসন (Rule of Law) নিশ্চিত করে।
যখন কোনো দেশে আইনের শাসন ও সম্পদের নিরাপত্তা (Property Rights) নিশ্চিত থাকে, তখন দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীগণ (Investors) ঝুঁকি কম মনে করেন এবং পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরে আসে। ফলে মূলধন প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
দুর্নীতি দূর হওয়া (অপশন ২) সুশাসনের একটি উপাদান বা পূর্বশর্ত। যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়া (অপশন ৪) সুশাসনের সরাসরি অর্থনৈতিক ফলাফল নয়। তবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ফলাফল হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হওয়া।
9

সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of interest) এর উদ্ভব হয় যখন গৃহীতব্য সিদ্ধান্তের সঙ্গে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তার নিজের বা পরিবারের সদস্যদের স্বার্থ জড়িত থাকে।
  2. প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের স্বার্থ জড়িত থাকে।
  3. সরকারি স্বার্থ জড়িত থাকে।
  4. ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বার্থ জড়িত থাকে।

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of interest) একটি পরিস্থিতি যেখানে দুটি ভিন্ন পক্ষের উদ্বেগ বা লক্ষ্য ভিন্ন। নির্বাচিত কর্মকর্তা বা কর্পোরেট লবিস্টদের মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে একজন ব্যক্তি তাদের অফিসিয়াল ক্ষমতায় গৃহীত কর্ম বা সিদ্ধান্ত থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের অবস্থানে থাকে। এ ব্যাখ্যা থেকে বোঝা যায় সঠিক উত্তর “সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তার নিজের বা পরিবারের সদস্যদের স্বার্থ জড়িত থাকে।”

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তার নিজের বা পরিবারের সদস্যদের স্বার্থ জড়িত থাকে।
‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) হলো এমন একটি অবস্থা যখন কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সরকারি দায়িত্ব বা কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে তার ব্যক্তিগত স্বার্থের (আর্থিক, পারিবারিক, পেশাগত) মধ্যে একটি দ্বন্দ্ব বা সংঘাত সৃষ্টি হয়।
এই পরিস্থিতিতে, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তা যদি তার ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন, তবে তা নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই এটি সুশাসন (Good Governance) প্রতিষ্ঠার পথে একটি অন্যতম প্রধান বাধা।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, প্রভাবশালী ব্যক্তির স্বার্থ জড়িত থাকা হলো প্রভাব খাটানো বা দুর্নীতি। সরকারি স্বার্থ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বার্থ জড়িত থাকা Conflict of Interest নয়, বরং সেটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ বা চেইন অব কমান্ডের অংশ।
10

রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতিপ্রবণতার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আইনের প্রয়োগের অভাব
  2. নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব
  3. দুর্বল পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা
  4. অসৎ নেতৃত্ব

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

নৈতিকতা ও মূল্যবোধ পরস্পর সম্পর্কিত বিষয়। মূল্যবোধের শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিক ও ঔচিত্যবোধের বিকাশ ঘটায়। যার ফলে রাষ্ট্র ও সমাজের মঙ্গলের চেষ্টা করে। যা রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতিপ্রবণতা হ্রাস করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব
রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতি (Corruption) হলো একটি মূল্যবোধহীন কাজ। যদিও আইনের দুর্বল প্রয়োগ, দুর্বল পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা বা অসৎ নেতৃত্ব দুর্নীতির জন্য সরাসরি দায়ী, কিন্তু এই সবকিছুর মূলে রয়েছে ব্যক্তি ও সমষ্টির নৈতিক ভিত্তি নড়বড়ে হওয়া
নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাবের কারণে মানুষ আইনকে শ্রদ্ধা করে না এবং সুযোগ পেলেই অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন করতে চায়। তাই যেকোনো অপরাধ বা দুর্নীতিপ্রবণতার মৌলিক ও প্রধান কারণ হিসেবে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাবকে বিবেচনা করা হয়।
অন্যান্য অপশন যেমন— আইনের প্রয়োগের অভাব, দুর্বল পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা ও অসৎ নেতৃত্ব হলো দুর্নীতিকে উৎসাহিত করার বা দুর্নীতির ফল, কিন্তু এগুলো দুর্নীতির মূল উৎস নয়।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
11

সুশাসন চারটি স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল- এই অভিমত কোন সংস্থা প্রকাশ করে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জাতিসংঘ
  2. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বিশ্বব্যাংক (World Bank)
বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে প্রকাশিত তাদের “Governance and Development” নামক এক প্রতিবেদনে সুশাসনকে চারটি মূল স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল বলে অভিমত প্রকাশ করে। এটিই সুশাসন সংক্রান্ত বিশ্বব্যাংকের সবচেয়ে পরিচিত সংজ্ঞা।
অনেকেই জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-কে সঠিক উত্তর মনে করেন, কারণ তারাও সুশাসন নিয়ে কাজ করে। কিন্তু UNDP সুশাসনের ৮টি উপাদান বা বৈশিষ্ট্যের কথা বলে, ৪টি স্তম্ভের কথা নয়। তাই এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তরের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকই সঠিক।
12

‘রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সুশাসন আবশ্যক।’- কে এই উক্তি করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. এইচ.ডি. স্টেইন
  2. জন স্মিথ
  3. মিশেল ক্যামডেসাস
  4. এম.ডব্লিউ. পামফ্রে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মিশেল ক্যামডেসাস (Michel Camdessus)
উক্তিটি করেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশেল ক্যামডেসাস
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে সুশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যটি করেছিলেন, যেখানে তিনি সুশাসনকে ‘রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য আবশ্যক’ বলে চিহ্নিত করেন।
অন্যান্য অপশনগুলো (যেমন: এইচ.ডি. স্টেইন বা জন স্মিথ) সুশাসনের তাত্ত্বিক আলোচনায় জড়িত থাকলেও এই সুনির্দিষ্ট উক্তিটির প্রবক্তা হলেন মিশেল ক্যামডেসাস
13

উৎপত্তিগত অর্থে governance শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ল্যাটিন
  2. গ্রিক
  3. হিব্রু
  4. ফারসি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

Governance শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Kuber nao থেকে এসেছে যার অর্থ শাসন বা পরিচালনা করা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ল্যাটিন
Governance শব্দটি ইংরেজি ভাষা থেকে এলেও উৎপত্তিগত অর্থে এটি এসেছে ল্যাটিন ভাষা থেকে।
ল্যাটিন ভাষায় এই শব্দটি হলো 'Gubernare', যার অর্থ হলো জাহাজের হাল ধরা বা পথনির্দেশ করা (To steer or pilot)। ল্যাটিন থেকে শব্দটি ফরাসি ভাষায় 'Governer' এবং পরে ইংরেজিতে 'Governance' হিসেবে প্রচলিত হয়।
যদিও 'Gubernare' শব্দটিরও আদি উৎস গ্রিক শব্দ 'Kybernan' (যার অর্থও জাহাজের হাল ধরা), তবুও সরাসরি ভাষাগত ব্যুৎপত্তির ক্ষেত্রে ল্যাটিনকেই মূল ভিত্তি ধরা হয়।
14

“শাসক যদি মহৎগুণসম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি মহৎগুণসম্পন্ন না হয় তাহলে আইন অকার্যকর” এটি কে বলেছেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সক্রেটিস
  2. প্লেটো
  3. অ্যারিস্টটল
  4. বেনথাম

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক’। এই বিখ্যাত উক্তিটি দার্শনিক প্লেটো রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ “দ্যা রিপাবলিক” থেকে নেওয়া হয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: প্লেটো। এই বিখ্যাত উক্তিটি গ্রিক দার্শনিক প্লেটো-এর রাজনৈতিক দর্শনের একটি মূল প্রতিপাদ্য।
প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্র বা Philosopher King (দার্শনিক রাজা) ধারণার সাথে এই উক্তিটি সরাসরি সম্পর্কিত। তিনি মনে করতেন, একজন মহৎ ও গুণসম্পন্ন শাসক, যিনি প্রজ্ঞা ও ন্যায়বিচার দ্বারা পরিচালিত, তাঁর জন্য লিখিত আইনের কোনো প্রয়োজন নেই (নিষ্প্রয়োজন)। তার প্রজ্ঞাই আইনের ঊর্ধ্বে।
অন্যদিকে, শাসক যদি মহৎগুণসম্পন্ন না হন, তাহলে কোনো আইনই তাঁকে ন্যায়সংগত শাসন করতে বাধ্য করতে পারবে না, ফলে আইন তখন অকার্যকর হয়ে যায়। এটি ছিল আইনের উপর ব্যক্তির গুণ ও প্রজ্ঞার প্রাধান্য দেওয়ার একটি চরম আদর্শবাদী ধারণা।
15

বাংলাদেশে কত সালে ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’ প্রণয়ন করা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 2010
  2. 2011
  3. 2012
  4. 2013

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে “সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়” স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১২ সালে গৃহীত হয় জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল। সরকারী কর্মকর্তা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের বিদ্যমান ধারণা বদলাতে এবং সকল কর্মকর্তা কর্মচারীকে সরাসরি জবাবদিহিতার আওতায় আনার লক্ষ্যেই নেয়া হয়েছে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ২০১২
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’ (National Integrity Strategy - NIS) প্রণয়ন করা হয় ২০১২ সালে।
এটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক ১৪ অক্টোবর, ২০১২ তারিখে অনুমোদন লাভ করে।
এই কৌশলের প্রধান লক্ষ্য হলো সরকারি সেবা প্রদান ও কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ করা।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
16

বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান কয়টি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৩টি
  2. ৫টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভের কথা বলেছেন। যথা: ১. দায়িত্বশীলতা; ২. স্বচ্ছতা; ৩. আইনি কাঠামো; ৪. অংশগ্রহণ। বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৬টি সূচক বা মাত্রা উপাদানের কথা বলেছেন। যথা: ১. বাক স্বাধীনতা; ২. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহিংসতার অনুপস্থিতি; ৩. সরকারের কার্যকারিতা; ৪. নিয়ন্ত্রণ গুণ; ৫. আইনের শাসন; ৬. দুর্নীতি দমন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ৬টি। বিশ্বব্যাংকের (World Bank) প্রদত্ত সুশাসনের উপাদান বা ইন্ডিকেটর হলো মোট ৬টি
১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘Governance and Development’ শীর্ষক রিপোর্টে প্রথম সুশাসন শব্দটি ব্যবহৃত হয় এবং এর উপাদানগুলো চিহ্নিত করা হয়।
বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন বলতে বোঝায় ক্ষমতা প্রয়োগের সেই পদ্ধতি, যা কোনো দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
৬টি উপাদান হলো:
১. Voice and Accountability (দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা)
২. Political Stability and Absence of Violence/Terrorism (রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহিংসতার অনুপস্থিতি)
৩. Government Effectiveness (সরকারি কার্যকারিতা)
৪. Regulatory Quality (নিয়ন্ত্রক মান)
৫. Rule of Law (আইনের শাসন)
৬. Control of Corruption (দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ)
17

সুশাসনের মূল ভিত্তি কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মূল্যবোধ
  2. আইনের শাসন
  3. গণতন্ত্র
  4. আমলাতন্ত্র

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সামাজিক মূল্যবোধের উপাদান সমূহ হলো: আইনের শাসন, নৈতিকতা, সাম্য, সামাজিক শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়বিচার।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আইনের শাসন (Rule of Law)
সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি শাসন ব্যবস্থা, যেখানে সরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই সুশাসনের মূল ভিত্তি বা মেরুদণ্ড হলো আইনের শাসন
আইনের শাসন নিশ্চিত করে যে:
১. সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান
২. কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
৩. আইন সকলের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হবে।
আইনের শাসন (Rule of Law) না থাকলে সুশাসনের অন্যান্য উপাদান, যেমন—জবাবদিহিতা (Accountability) বা স্বচ্ছতা (Transparency) কার্যকর হয় না। তাই আইনের শাসনকে সুশাসনের সবচেয়ে অপরিহার্য উপাদান বা মূল ভিত্তি বলা হয়।
অন্যদিকে, মূল্যবোধ সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জরুরি হলেও এটি একটি মানসিক ও নৈতিক ভিত্তি, প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি নয়। গণতন্ত্র একটি প্রক্রিয়া, যা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুশাসন আনয়ন করে।
18

আইন ও সালিশ কেন্দ্র কি ধরনের সংস্থা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অর্থনৈতিক
  2. মানবাধিকার
  3. ধর্মীয়
  4. খেলাধুলা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বাংলাদেশের একটি মানবাধিকার এবং আইন সহায়তাকারী বেসরকারি সংগঠন। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ৯ জন। আসকের মূল লক্ষ্য সমানাধিকার, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং লিঙ্গভিত্তিক সমতার ভিত্তিতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মানবাধিকার
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (Ain o Salish Kendra - ASK) হলো বাংলাদেশের একটি সুপরিচিত বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা (NGO)
সংস্থাটি মূলত বাংলাদেশে মানবাধিকারের প্রচার, সুরক্ষা এবং আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য কাজ করে।
বিশেষ করে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ও রাজনৈতিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তারা জনসচেতনতা সৃষ্টি করে এবং আইনি পদক্ষেপ নেয়।
এটি কোনো অর্থনৈতিক, ধর্মীয় বা ক্রীড়া বিষয়ক উদ্দেশ্য সাধন করে না, বরং আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
19

সভ্য সমাজের মানদণ্ড হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গণতন্ত্র
  2. বিচার ব্যবস্থা
  3. সংবিধান
  4. আইনের শাসন

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

যে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে, জনগণের জীবন-মালের নিরাপত্তা বজায় থাকে, সমাজের সকল মানুষ সমান আইনগত ও বিচারিক সুবিধা পেয়ে থাকে এমন সমাজকে সভ্য সমাজ বলে। সভ্য সমাজের উপর্যুক্ত বিষয়গুলো সমাজে বাস্তবায়ন হয় আইনের শাসনের মাধ্যমে। যথার্থ আইনের শাসন গণতান্ত্রিক সরকারের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আইনের শাসন
আইনের শাসন (Rule of Law) হলো সুশাসনের অন্যতম মূল ভিত্তি এবং একটি সভ্য সমাজের প্রধান মানদণ্ড। আইনের শাসনের মূলকথা হলো, রাষ্ট্রে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং ধনী-দরিদ্র, ক্ষমতাধর-ক্ষমতাহীন নির্বিশেষে সকলেই আইনের কাছে সমান।
যে সমাজে আইনের নিরপেক্ষ ও কার্যকর প্রয়োগ থাকে, সেই সমাজেই মানুষের মৌলিক অধিকার, স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার সুরক্ষিত থাকে। এটিই সমাজের সভ্যতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।
অন্যান্য অপশন যেমন—গণতন্ত্র, সংবিধান বা বিচার ব্যবস্থা—এগুলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান বা কাঠামো মাত্র। আইনের শাসন হলো এই কাঠামোর কার্যকর প্রয়োগ, যা সরাসরি সমাজের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।
20

জাতিসংঘের অভিমত অনুসারে সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দারিদ্র বিমোচন
  2. মৌলিক অধিকার রক্ষা
  3. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
  4. নারীদের উন্নয়ন ও সুরক্ষা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

১৯৮০- এর দশকে বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে বিশেষ করে সাব-সহারান দেশগুলোতে বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্থা কার্যক্রম শুরু করে। এতে ঐসব দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক কিছু সমস্যার উদ্ভব ঘটে। দাতা সংস্থার পরামর্শে উদ্ভূত সমস্যা মোকাবিলায় স্ট্রাকচারাল অ্যাডজ্যাস্টমেন্ট নীতি অনুসরণ করলেও তা মানুষের তেমন কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারেনি। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে এজেন্ডাভুক্ত করে। জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো ‘মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন’। জাতিসংঘ সুশাসনের ৮টি উপাদান উল্লেখ করেছে।

ব্যাখ্যা

জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) সুশাসনকে এমন একটি প্রক্রিয়া হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে যা সমাজের প্রতিটি স্তরে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে জনগণের মৌলিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের উন্নয়নকে নিশ্চিত করে।
সুশাসন নিশ্চিত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দারিদ্র্য বিমোচন, অধিকার রক্ষা এবং নারীর উন্নয়ন ঘটে। কিন্তু এসব কিছুর সমষ্টিগত ও চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন (Development of Fundamental Freedom) নিশ্চিত করা।
সঠিক উত্তরটি হলো: মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
21

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দুর্নীতি দূর হয়
  2. বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
  3. আইনের শাসন
  4. প্রতিষ্ঠিত হয়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ করতে যে সকল বাধা-বিপত্তি যেমন- কালো বাজারি, মজুদদারী, একচেটিয়া কারবার প্রভৃতি দূর হয়। নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়, যারা তাদের উদ্ভাবনী শক্তি প্রয়োগের সুযোগ পায়। ফলে দেশে সার্বিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে দুর্নীতি দূর হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এ কথা বলা যাবে না কারণ এ দুটি বিষয় অনেক ব্যাপক। দুর্নীতি আর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারটি কেবল অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের সাথে জড়িত নয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের মূল উদ্দেশ্য হলো বাজারের দক্ষতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং চুক্তির সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত হয়।
এগুলো নিশ্চিত হওয়ায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা (FDI) ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ পান। ফলে সরাসরিভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি।
অন্যান্য অপশন যেমন, দুর্নীতি দূর হওয়া এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়া হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার উপাদান বা শর্ত। এই শর্তগুলো পূরণ হলেই কেবল অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধি নামক ফলাফলটি পাওয়া যায়।
22

তথ্য পাওয়া মানুষের কী ধরনের অধিকার?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রাজনৈতিক
  2. অর্থনৈতিক
  3. মৌলিক
  4. সামাজিক

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সংবিধানে উল্লিখিত অধিকার গুলোই একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। বাংলাদেশ সংবিধানের ২৮-৪৪ অনুচ্ছেদের মৌলিক অধিকার গুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। ২০০৯ সালের তথ্য অধিকার আইনে তথ্য অধিকারকে চিন্তা, বিবেক ও বাক্‌ স্বাধীনতা প্রভৃতি মৌলিক অধিকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলা হয়েছে কিন্তু মৌলিক অধিকার বলা হয়নি। প্রকৃত পক্ষে তথ্য অধিকার মানুষের এক ধরনের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার যা আদালত কর্তৃক বলবৎ যোগ্য ও অপরিবর্তনীয় নয় কিংবা সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত ও নয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মৌলিক
তথ্য অধিকার (Right to Information) মানুষের মৌলিক অধিকারের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। এটিকে অনেক সময় মানবাধিকারের অপরিহার্য অংশ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।
এই অধিকারটি সরাসরি বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার সাথে সম্পর্কিত। তথ্য জানার অধিকার না থাকলে নাগরিকগণ কার্যকরভাবে তাদের বাকস্বাধীনতা প্রয়োগ করতে পারে না।
যেহেতু এটি নাগরিকের জীবন, বাকস্বাধীনতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, তাই এটিকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা সামাজিক অধিকারের চেয়ে মৌলিক অধিকারের আওতাভুক্ত করা হয়।
23

সমাজের শিক্ষিত শ্রেণীর যে অংশ সরকার বা কর্পোরেট গ্রুপে থাকে না, কিন্তু সকলের উপর প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা রাখে–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রাজনৈতিক দল
  2. সুশীল সমাজ
  3. বিচার বিভাগ
  4. প্রশাসন বিভাগ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সুশীল সমাজের ধারণাটি নতুন হলেও এর সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় জন লক, রুশোসহ আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তাবিদদের লেখনীতে। তবে সুশীল সমাজ সম্পর্কে প্রচ্ছন্ন ধারণা পাওয়া যায় এন্টোনিও গ্রামসির লেখায়। বিশেষ করে সমাজতন্ত্রের পতনের প্রাক্কালে পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সুশীল সমাজকে আপনরূপে বিকশিত হতে দেখা যায়। মূলত সুশীল সমাজ হলো সমাজের এমন একটি শ্রেণি যারা সরকারে থাকে না আবার কর্পোরেট গ্রুপেও থাকে না। এরা সরকার ও প্রাইভেট সেক্টরের মাঝামাঝি একটি গ্রুপ । এদের ধর্ম হলো - এরা সরকার ও প্রাইভেট সেক্টর উভয় ক্ষেত্রেই তাদের প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এরা সরকারকে সহযোগিতা ও করতে পারে আবার সরকার বিরোধী অবস্থান নিয়ে সরকারের ভিতও নাড়িয়ে দিতে পারে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সুশীল সমাজ (Civil Society)
সুশীল সমাজ বলতে সমাজের সেই স্বশাসিত (autonomous) ও অরাজনৈতিক অংশকে বোঝানো হয়, যারা রাষ্ট্র বা সরকারের সরাসরি অংশ নয়, আবার পুরোপুরি মুনাফালোভী কর্পোরেট গোষ্ঠীও নয়।
এই শ্রেণিতে সাধারণত শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, এনজিও কর্মী, শিল্পী ও পেশাজীবীরা অন্তর্ভুক্ত থাকেন।
এদের প্রধান কাজ হলো সরকারের নীতি ও পদক্ষেপের ওপর পর্যবেক্ষণ ও সমালোচনা (Watchdog) করা এবং গণসচেতনতা তৈরি করা। যেহেতু তারা সরাসরি ক্ষমতার অংশ নয়, তাই নিরপেক্ষভাবে সকলের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
অন্যান্য অপশনগুলো সরকারি বা রাজনৈতিক কাঠামোর অংশ:
বিচার বিভাগ এবং প্রশাসন বিভাগ সরাসরি সরকারের তিনটি বিভাগের অংশ।
রাজনৈতিক দল সরকারের অংশ হওয়ার বা সরকার গঠন করার লক্ষ্য রাখে, এরা নিরপেক্ষ প্রভাব বিস্তারকারী শিক্ষিত শ্রেণী নয়।
24

কোন বছর ইউএনডিপি (UNDP) সুশাসনের সংজ্ঞা প্রবর্তন করে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 1995
  2. 1997
  3. 1998
  4. 1999

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

জাতিসংঘের উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষায়িত সংস্থা UNDP ১৯৯৭ সালে সুশাসনের যে সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, সেখানে 'টেকসই মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' উপ শিরোনামে যে পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজের মধ্যে শাসন প্রক্রিয়া প্রতীয়মান হবে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: ১৯৯৭ সাল।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP - United Nations Development Programme) ১৯৯৭ সালে তাদের নীতিমালায় সুশাসন বা ‘Good Governance’ এর একটি বিস্তারিত এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংজ্ঞা প্রবর্তন করে।
UNDP সুশাসনকে এমন একটি প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে যুক্ত করে এবং যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় থাকে।
অন্যান্য সালগুলো (১৯৯৫, ১৯৯৮, ১৯৯৯) সঠিক নয়। উল্লেখ্য, বিশ্ব ব্যাংক (World Bank) ১৯৯২ সালে তাদের একটি প্রতিবেদনে ‘Governance’ বা ‘শাসন’ নিয়ে আলোচনা করলেও, UNDP'র ১৯৯৭ সালের সংজ্ঞাটিই সুশাসনের মূলনীতিগুলোকে ব্যাপকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।
25

সুশাসনের কোন নীতি সংগঠনের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অংশগ্রহণ
  2. জবাবদিহিতা
  3. স্বচ্ছতা
  4. সাম্য ও সমতা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সুশাসনের স্বচ্ছতার নীতি সংগঠনের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করে। এটি একটি প্রতিষ্ঠানের আয় -ব্যয়ের স্বচ্ছতা প্রকাশ করার মাধ্যমে জবাবদিহিতা, সাম্য ও সমতার বিষয়টিকেও নিশ্চিত করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: স্বচ্ছতা (Transparency)
স্বচ্ছতা হলো সুশাসনের এমন একটি মৌলিক নীতি, যা নিশ্চিত করে যে একটি সংগঠনের সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, কার্যপ্রণালী, এবং আর্থিক লেনদেন জনসমক্ষে খোলামেলা (Open) থাকবে।
যখন কোনো সংগঠনের কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকে, তখন তার ওপর অবৈধ হস্তক্ষেপ বা চাপ প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই খোলামেলা ভাবই সংগঠনটিকে স্বাধীনভাবে, নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার ক্ষমতা দেয় এবং এর স্বাধীনতা (Independence) নিশ্চিত করে।
অন্যান্য উপাদান যেমন—জবাবদিহিতা (Accountability) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, জবাবদিহিতা সফল হয় স্বচ্ছতার উপস্থিতিতে। স্বচ্ছতা হলো স্বাধীনতার রক্ষাকবচ
ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও মেডিকেলসহ ২৭+ ইউনিট-ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর এডমিশন সেকশনে।

ভর্তি প্রশ্নব্যাংক দেখুন
26

নিচের কোন রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শাসন প্রক্রিয়া ও মানব উন্নয়ন
  2. শাসন প্রক্রিয়া এবং সুশাসন
  3. শাসন প্রক্রিয়া এবং নৈতিক শাসন প্রক্রিয়া
  4. শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বিশ্বব্যাংকের ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদন 'Sub-Saharan Africa: From Crisis to Sustainable Growth' -এ Good Governance বা সুশাসন প্রত্যয়টি প্রথম ব্যবহার করেন। তবে ১৯৯২ সালে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের গবেষণা পত্র Governance and Development বা শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়নের মাধ্যমে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন
বিশ্বব্যাংক (World Bank) সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা এবং সংজ্ঞা প্রদান করে তাদের ১৯৯২ সালে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে। রিপোর্টটির ইংরেজি শিরোনাম ছিল 'Governance and Development', যার বাংলা অনুবাদ হলো 'শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন'
এই রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে 'একটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতার প্রয়োগ বা দক্ষতা' হিসেবে ব্যাখ্যা করে। বিশ্বব্যাংক মনে করে, কার্যকর উন্নয়নের জন্য স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন অপরিহার্য।
অন্যান্য অপশনগুলি (যেমন: শাসন প্রক্রিয়া এবং সুশাসন) সাধারণত বিভিন্ন একাডেমিক আলোচনা বা পরবর্তী রিপোর্টসমূহে ব্যবহার করা হলেও 'শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন' রিপোর্টটিই সুশাসনের ধারণা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের প্রধান ও প্রারম্ভিক দলিল।
27

নিচের কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অংশগ্রহণ
  2. স্বচ্ছতা
  3. নৈতিক শাসন
  4. জবাবদিহিতা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সুশাসনের মূল আটটি উপাদান রয়েছে। যেখানে নৈতিক শাসন বলে কোনো উপাদান নেই। ঐ আটটি উপাদানের প্রধান প্রধান উপাদান হলো - আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, সাড়াদান, দায়িত্বশীলতা ও অংশগ্রহণ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নৈতিক শাসন
সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে দেশের সম্পদ ও সরকারি বিষয়াদি পরিচালনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়। বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ কর্তৃক সুশাসনের কিছু স্বীকৃত উপাদান চিহ্নিত করা হয়েছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রক্রিয়াগত দিক নির্দেশ করে।
সুশাসনের মূল উপাদানগুলো হলো: অংশগ্রহণ (Participation), স্বচ্ছতা (Transparency), জবাবদিহিতা (Accountability), আইনের শাসন (Rule of Law), দক্ষতা ও কার্যকারিতা (Efficiency and Effectiveness), সাড়া দান (Responsiveness), সমতা ও অন্তর্ভুক্তিকরণ (Equity and Inclusiveness) এবং ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা (Consensus orientation)।
নৈতিক শাসন (Moral Governance) শব্দটি সুশাসনের একটি আকাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য বা ভিত্তি হতে পারে, কিন্তু এটি সাধারণত সুশাসনের সুনির্দিষ্ট উপাদানগুলোর (Elements) তালিকায় প্রযুক্তিগতভাবে অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই এটিই ভিন্ন।
বাকি তিনটি (অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা) সরাসরি সুশাসনের অপরিহার্য উপাদান।
28

সুশাসন হচ্ছে এমন এক শাসন ব্যবস্থা যা শাসক ও শাসিতের মধ্যে–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সুসম্পর্ক গড়ে তোলে
  2. আস্থার সর্ম্পক গড়ে তোলে
  3. শান্তির সম্পর্ক গড়ে তোলে
  4. কোনোটিই নয়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়। সম্পর্ক হতে পারে কয়েক ধরনের। তবে যেহেতু প্রশাসনের জবাবদিহিতা, বৈধতা, স্বচ্ছতা, বাক স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন প্রভৃতি ছাড়া একটি দেশের সুশাসন ভাবা যায় না, তাই সুশাসন ব্যবস্থায় শাসক ও শাসিতের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে উঠে। এই আস্থার সম্পর্ক যত শক্তিশালী হবে, সুশাসন তত মজবুত হবে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আস্থার সর্ম্পক গড়ে তোলে
সুশাসন (Good Governance) এর মূল লক্ষ্যই হলো সরকার (শাসক) এবং জনগণের (শাসিত) মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে এনে একটি পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করা। যখন সরকার স্বচ্ছতা (Transparency), জবাবদিহিতা (Accountability) এবং আইনের শাসন (Rule of Law) নিশ্চিত করে, তখনই জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়।
অন্যান্য সম্পর্ক যেমন: ‘সুসম্পর্ক’ অথবা ‘শান্তির সম্পর্ক’ সুশাসনের ফল হিসেবে আসতে পারে, কিন্তু ‘আস্থা’ (Trust) হলো সেই ভিত্তিগত সম্পর্ক যা সুশাসনের উপাদানগুলোর মাধ্যমে সরাসরি স্থাপিত হয়।
29

সুশাসনের পূর্বশর্ত হচ্ছে–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  2. অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন
  3. সামাজিক উন্নয়ন
  4. সবগুলোই

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সুশাসনের পূর্বশর্ত হচ্ছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভবপর হয় না। প্রশ্নের (ক) ও (গ) নং অপশন খ নং এ থাকায় সঠিক উত্তর হবে (খ)। ঘ নং অপশনটি যদি ও ভিন্ন কিছু নয়, কিন্তু আইকিউ বিবেচনায় সেটি ভুল হবে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন
সুশাসন (Good Governance) হলো একটি স্থিতিশীল, অংশগ্রহণমূলক এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা। এই ব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন (যেমন— জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস) এবং সামাজিক উন্নয়ন (যেমন— শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সাম্য প্রতিষ্ঠা) উভয়ই পূর্বশর্ত হিসেবে কাজ করে।
শুধুমাত্র অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা শুধু সামাজিক সাম্য দিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। যেখানে আর্থিক নিরাপত্তা (অর্থনৈতিক উন্নয়ন) থাকে, কিন্তু সমাজের মানুষের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা (সামাজিক উন্নয়ন) অনুপস্থিত থাকে, সেখানে সুশাসন দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই উন্নয়নের এই দুটি চাকা সুশাসনের মূল ভিত্তি তৈরি করে।
এ কারণে এককভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা সামাজিক উন্নয়নকে সুশাসনের পূর্বশর্ত বলা যায় না, বরং এ দুটির সমন্বয় অপরিহার্য।
30

সুশাসনের পথে অন্তরায়–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আইনের শাসন
  2. জবাবদিহিতা
  3. স্বজনপ্রীতি
  4. ন্যায়পরায়ণতা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সুশাসনের অন্তরায়গুলো হলো- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অনিয়ম ইত্যাদি। অন্যদিকে আইনের শাসন, জবাবদিহিতা ও ন্যায়পরায়ণতা হলো সুশাসনের বৈশিষ্ট্য।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: স্বজনপ্রীতি
সুশাসন বা Good Governance প্রতিষ্ঠিত হয় কিছু মৌলিক উপাদানের ভিত্তিতে, যেমন—আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং ন্যায়পরায়ণতা। প্রশ্নটিতে সুশাসনের পথে 'অন্তরায়' বা বাধা কোনটি, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
আইনের শাসন, জবাবদিহিতা এবং ন্যায়পরায়ণতা—এগুলো সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এদের উপস্থিতি সুশাসনকে শক্তিশালী করে।
পক্ষান্তরে, স্বজনপ্রীতি (Nepotism) হলো মেধা, যোগ্যতা বা দক্ষতার তোয়াক্কা না করে শুধুমাত্র আত্মীয়তা বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা প্রদান করা। স্বজনপ্রীতি সুশাসনের অন্যতম ভিত্তি স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতাকে সরাসরি আঘাত করে এবং সমাজে বৈষম্য তৈরি করে।
তাই এটি সুশাসনের পথে একটি মারাত্মক অন্তরায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
31

রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ কাকে বলা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রাজনীতি
  2. বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়
  3. সংবাদ মাধ্যম
  4. যুবশক্তি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় গণমাধ্যম তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংবাদমাধ্যম গণমাধ্যমেরই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। রাষ্ট্র তথা প্রজাতন্ত্রের সুশাসন নিশ্চিত করতে সংবাদ মাধ্যম পাহারাদারের ভূমিকা পালন করে। রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক ও জনগুরুত্বপূর্ণ সর্বোপরি সুশাসন যেমন সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসে ঠিক তেমনি সংবাদমাধ্যম সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে রাষ্ট্রকে উন্নয়নের দিকে ধাবিত করে। এদিক থেকে সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ (Fourth Estate) বলা হয়। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদপত্রকে সর্বপ্রথম নির্দেশ করেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টারিয়ান এডমন্ড বার্ক। তিনি ১৭৮৭ সালে হাউজ অব কমন্সের সংসদীয় বিতর্ক পর্বে Fourth Estate প্রত্যয়টি প্রথম ব্যবহার করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সংবাদ মাধ্যম
রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান স্তম্ভ হলো— আইন বিভাগ (Legislature), শাসন বিভাগ (Executive) এবং বিচার বিভাগ (Judiciary)
এই তিনটি বিভাগ যাতে সঠিকভাবে কাজ করে, তার ওপর নজরদারি করা এবং জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে সংবাদ মাধ্যম (News Media/Press)। এই বিশেষ ভূমিকার জন্যই এটিকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ (Fourth Estate) বলা হয়।
চতুর্থ স্তম্ভ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্বচ্ছতা (Transparency) এবং জবাবদিহিতা (Accountability) নিশ্চিত করে।
32

সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে কোন মূল্যবোধটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিশ্বস্ততা
  2. সৃজনশীলতা
  3. নিরপেক্ষতা
  4. জবাবদিহিতা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে প্রশাসনের জবাবদিহিতা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বস্ততা অপরিহার্য বিষয়। এক্ষেত্রে সৃজনশীলতা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সৃজনশীলতা এক্ষেত্রে গৌণ বিষয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সৃজনশীলতা (Creativity)।
সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়ন প্রক্রিয়াটি প্রধানত নিয়ম-নীতি (Rules and Regulations), আইন ও জনস্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় অপরিহার্য মূল্যবোধগুলি হলো—জবাবদিহিতা (Accountability), নিরপেক্ষতা (Neutrality), স্বচ্ছতা (Transparency), এবং বিশ্বস্ততা (Fidelity)
জবাবদিহিতা, নিরপেক্ষতাবিশ্বস্ততা এই তিনটি মূল্যবোধ ছাড়া প্রশাসন কখনওই সুশাসন নিশ্চিত করতে পারে না। সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই মূল্যবোধগুলি বাধ্যতামূলক।

অন্যদিকে, সৃজনশীলতা (Creativity) যদিও নতুন নীতি উদ্ভাবন বা পরিষেবা প্রদানে দক্ষতার জন্য কাম্য, এটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য মৌলিক বা অপরিহার্য নৈতিক মূল্যবোধ হিসেবে গণ্য হয় না। এটি একটি প্রশাসনিক দক্ষতার (efficiency) অংশ, কিন্তু সুশাসনের মৌলিক শর্ত নয়।
33

UNDP সুশাসন নিশ্চিতকরণে কয়টি উপাদান উল্লেখ করেছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৬টি
  2. ৭টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) সুশাসন নিশ্চিতকরণে ৯টি উপাদান উল্লেখ করেছে। জাতিসংঘের বিশেষায়িত এই উন্নয়ন সংস্থাটি ১৯৯৭ সালে 'Governance for Sustainable Human Development' নামক কৌশলপত্রে প্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে। UNDP তার গবেষণায় সুশাসনের ৯ টি উপাদান চিহ্নিত করে। যথা: ১. সমঅংশীদারিত্ব (Participation), ২. আইনের শাসন (Rule of Law), ৩. স্বচ্ছতা (Transparency), ৪. সংবেদনশীলতা (Responsiveness), ৫. সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রাধান্য (Consensus Orientation), ৬. সমতা ও ন্যায্যতা (Equity), ৭. কার্যকারিতা ও দক্ষতা (Effectiveness & Efficiency), ৮. জবাবদিহিতা (Accountability), ৯. কৌশলগত লক্ষ্য (Strategic Vision)। উল্লেখ্য, সুশাসন নিশ্চিতকরণে জাতিসংঘ (UN) ৮টি, বিশ্বব্যাংক (WB) ও এডিবি (ADB) ৪টি, আইডিএ (IDA) ৬টি এবং আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক (AfBD) ৫টি করে উপাদানের উল্লেখ করেছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ৯টি
১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের কথা উল্লেখ করে। এই উপাদানগুলো একটি দেশের প্রশাসন ও সমাজের সুস্থ পরিচালনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
এই ৯টি উপাদান হলো: ১. অংশগ্রহণ (Participation), ২. আইনের শাসন (Rule of Law), ৩. স্বচ্ছতা (Transparency), ৪. সংবেদনশীলতা (Responsiveness), ৫. ঐক্যমতমুখীতা (Consensus Orientation), ৬. সাম্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলকতা (Equity and Inclusiveness), ৭. কার্যকারিতা ও দক্ষতা (Effectiveness and Efficiency), ৮. জবাবদিহিতা (Accountability), এবং ৯. দূরদর্শীতা (Strategic Vision).
34

কোনটি ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ
  2. আইনের শাসন
  3. সুশাসনের জন্য উচ্চ শিক্ষিত কর্মকর্তা নিয়োগ
  4. অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ন্যায়পরায়ণতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের অর্থ হচ্ছে ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-নির্ধন নির্বিশেষে সকলকে একই মানদণ্ডে বিচার করা। আইনের দৃষ্টিতে সমাজে বসবাসরত সকল মানুষ সমান এটিই ন্যায়পরায়ণতার মূলনীতি। এ দৃষ্টিকোণ থেকে উক্ত প্রশ্নের প্রদত্ত সম্ভাব্য উত্তরগুলোর মধ্যে (গ) তথা 'সুশাসনের জন্য উচ্চশিক্ষিত কর্মকর্তা নিয়োগ'ই সামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্য উত্তরগুলো ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতির সাথে সম্পর্কিত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সুশাসনের জন্য উচ্চ শিক্ষিত কর্মকর্তা নিয়োগ
কারণ, এটি প্রশাসনকে দক্ষ ও কার্যকর (Efficient) করতে সাহায্য করে, কিন্তু এটি সরাসরি ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি (Moral Principle of Justice) নয়।
ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতিগুলো মূলত আইনের চোখে সমতা, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে গঠিত।
পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ এবং অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ হলো যথাক্রমে সংশোধনমূলক ও বণ্টনমূলক ন্যায়বিচারের সরাসরি মূলনীতি।
আইনের শাসন (Rule of Law) ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিপ্রস্তর বা অপরিহার্য উপাদান। এর অনুপস্থিতিতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।
35

“সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সঙ্গে সুশীল সমাজের, সরকারের সঙ্গে শাসিত জনগণের, শাসকের সঙ্গে শাসিতের সম্পর্ক বোঝায়”-উক্তিটি কার?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. এরিস্টটল
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. ম্যাককরনী
  4. মেকিয়াভেলি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সুশাসনকে বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে। সুশাসনের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করেছেন ম্যাককরনী (Mac Corney)। তার মতে, 'সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়। (Good Governance is the relationship between civil society and the state, between government and governed , the ruler and ruled)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ম্যাককরনী (MacCorney)
ম্যাককরনী সুশাসনের যে সংজ্ঞা প্রদান করেন, তাতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশীদারদের মধ্যেকার গতিশীল সম্পর্ককে (Dynamic Relationship) গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি সুশাসনের মূল তিনটি সম্পর্ককে চিহ্নিত করেছেন: রাষ্ট্রের সঙ্গে সুশীল সমাজের, সরকারের সঙ্গে শাসিত জনগণের এবং শাসকের সঙ্গে শাসিতের
অন্যান্য বিকল্পের মধ্যে, এরিস্টটল রাষ্ট্রের উৎপত্তি ও শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে কাজ করেছেন। জন স্টুয়ার্ট মিল মূলত স্বাধীনতা ও উপযোগিতাবাদ নিয়ে বিখ্যাত। মেকিয়াভেলি রাষ্ট্র পরিচালনায় নীতিহীন বাস্তববাদ (Realpolitik) নিয়ে আলোচনা করেন। এঁদের কেউই সুশাসনের এই নির্দিষ্ট সম্পর্কভিত্তিক সংজ্ঞাটির প্রবক্তা নন।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
36

জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সুশাসন
  2. আইনের শাসন
  3. রাজনীতি
  4. মানবাধিকার

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন। সুশাসন একটি ব্যাপক অর্থবোধক বিষয়। আইনের শাসন সুশাসনের-ই অংশ। যে শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, প্রশাসনের বৈধতা, বাক্‌ স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয় তাকে সুশাসন বলে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সুশাসন (Good Governance)
সুশাসন হলো এমন একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে একটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রের ক্ষমতা ব্যবহার করা হয়। এটি রাষ্ট্র, প্রশাসন এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে এবং নিশ্চিত করে যে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার ও নীতি প্রণয়নে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ রয়েছে। সুশাসনকে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার প্রক্রিয়া বলা যায়।
অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ: আইনের শাসন (Rule of Law) হলো সুশাসনের একটি অপরিহার্য উপাদান, কিন্তু এটি পুরো প্রক্রিয়া বা প্রত্যয়টিকে বোঝায় না। একইভাবে, মানবাধিকার হলো সুশাসনের চূড়ান্ত লক্ষ্য
37

সুশাসনের পূর্বশর্ত হচ্ছে -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  2. প্রশাসনের নিরপেক্ষতা
  3. নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা
  4. নিরপেক্ষ আইন ব্যবস্থা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় সুশাসন হলো একটি কাঙ্ক্ষিত বিষয়, যা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা, নিরপেক্ষ আইন ব্যবস্থা, প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ইত্যাদি বিষয়গুলো পূর্ণমাত্রায় বজায় থাকলেও যদি মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়টি না থাকে তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সুশাসন থাকে না। কেননা, মত প্রকাশের স্বাধীনতার মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় যাবতীয় কাজের সমালোচনা করে সুন্দর রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মত প্রকাশের স্বাধীনতা
সুশাসন (Good Governance) প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে মৌলিক ও প্রাথমিক শর্ত হলো জনগণের অংশগ্রহণ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
কারণ, মত প্রকাশের স্বাধীনতার মাধ্যমেই নাগরিকেরা সরকারের স্বচ্ছতা (Transparency) ও জবাবদিহিতা (Accountability) নিশ্চিত করতে পারে। নাগরিক সমাজ স্বাধীনভাবে সরকারের কাজের সমালোচনা করতে পারলে সরকার জনস্বার্থে কাজ করতে বাধ্য হয়, যা সুশাসনের ভিত্তি।
অন্যদিকে, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা এবং নিরপেক্ষ আইন ব্যবস্থা—এগুলো সুশাসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বা স্তম্ভ। কিন্তু এই স্তম্ভগুলো কার্যকর হওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে নাগরিকদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের ক্ষমতা থাকা আবশ্যক।
38

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (Millennium Development Goals) অর্জনে সুশাসনের কোন দিকটির উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সুশাসনের সামাজিক দিক
  2. সুশাসনের অর্থনৈতিক দিক
  3. সুশাসনের মূল্যবোধের দিক
  4. সুশাসনের গণতান্ত্রিক দিক

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য বা MDG এর প্রধান লক্ষ্য হলো দারিদ্র্য নির্মূল করা। আর দরিদ্রতা দূর করার জন্য স্বাভাবিকভাবেই দারিদ্র্য মানুষের ন্যূনতম দৈনিক আয় ১.২৫ ডলারের উপর করতে হবে দারিদ্র্যসীমার মধ্য থেকে বের হয়ে আসার জন্য। আর এজন্যই MDG এর লক্ষ্য অর্জনে সুশাসনের অর্থনৈতিক বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সুশাসনের অর্থনৈতিক দিক
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (MDGs) এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ২০০০ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর দারিদ্র্য ও ক্ষুধার হার অর্ধেকে নামিয়ে আনা, প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি ঘটানো।
এই লক্ষ্যগুলো মূলত আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কেন্দ্রিক ছিল। MDG অর্জনের জন্য প্রচুর পরিমাণে অর্থনৈতিক সম্পদ (Economic resources) প্রয়োজন ছিল এবং এই সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা (Good governance in resource management) নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।
যেহেতু MDG-এর সফলতা পরিমাপ করা হতো সরাসরি দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ এর মাধ্যমে, তাই সুশাসনের অর্থনৈতিক দিকটি (যেমন—দক্ষ বাজেট তৈরি, দুর্নীতি হ্রাস, অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা) সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছিল।
অন্যান্য দিকগুলো (যেমন: গণতান্ত্রিক দিক, মূল্যবোধের দিক) সুশাসনের জন্য জরুরি হলেও MDG-এর সরাসরি ও পরিমাপযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ছিল মূল চালিকাশক্তি।
39

‘সুশাসন’ শব্দটি সর্বপ্রথম কোন সংস্থা সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জাতিসংঘ
  2. ইউএনডিপি
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. আইএমএফ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বিশ্বব্যাংক সুশাসন সম্পর্কে ১৯৮৯ সালে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিকল্প নেই। উপর্যুক্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংক (World Bank) সর্বপ্রথম ১৯৯২ সালে প্রকাশিত তাদের একটি রিপোর্টে ‘সুশাসন’ (Good Governance) শব্দটি সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে এবং এর উপাদানগুলো চিহ্নিত করে।
আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য বিশ্বব্যাংক প্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করে। বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত সেই রিপোর্টের নাম ছিল— ‘Governance and Development’ (১৯৯২)
যদিও জাতিসংঘ (UN) এবং ইউএনডিপি (UNDP) পরবর্তী সময়ে সুশাসন ধারণার প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তবে এটিকে সর্বপ্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংজ্ঞায়িত ও ব্যাখ্যা করে বিশ্বব্যাংক
40

নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি কিসের অন্তরায়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সামাজিক অবক্ষয়ের
  2. মূল্যবোধ অবক্ষয়ের
  3. সুশাসনের
  4. শিক্ষার গুণগতমানের

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সুশাসন একটি আপেক্ষিক ইস্যু। সমাজে বা রাষ্ট্রে সুশাসন আছে কি-না তা বোঝা যায় প্রশাসনিক কাঠামো, দুর্নীতির অবস্থা, প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং গণমাধ্যমের ভূমিকার মাধ্যমে। তবে উপর্যুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে গণমাধ্যমই একমাত্র ব্যবস্থা যা সুশাসনের নিয়ামকগুলোর সুস্থ ও বিকৃত অবস্থা জনগণের সামনে তুলে ধরে ইতিবাচক জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুশাসনকে সুসংহত করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সুশাসনের
নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যম হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত এবং মৌলিক উপাদান। গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ (The Fourth Estate) বলা হয়।
গণমাধ্যম সাধারণত দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে— প্রথমত, এটি জনগণকে সঠিক তথ্য দিয়ে সচেতন করে। দ্বিতীয়ত, এটি সরকারের কার্যাবলি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জবাবদিহিতা (Accountability)স্বচ্ছতা (Transparency) নিশ্চিত করে।
যদি গণমাধ্যম দুর্বল বা পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তবে সরকারের দুর্নীতি বা অদক্ষতা জনসমক্ষে আসে না। এর ফলে প্রশাসন জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকে না, যা সরাসরি সুশাসনের অনুপস্থিতি নির্দেশ করে।
অন্যান্য অপশন (সামাজিক অবক্ষয়, মূল্যবোধ অবক্ষয়) হলো সুশাসন না থাকার ফলাফল, কিন্তু গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি সরাসরি সুশাসনের পথেই অন্তরায় সৃষ্টি করে।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
41

আমলাতন্ত্রের প্রধান প্রবক্তা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. এফ.এম.মার্কস
  2. ম্যাক্সওয়েবার
  3. রবার্ট প্রেসথাস
  4. কার্ল মার্কস

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ব্যর্থতা বা অযোগ্যতার প্রেক্ষিতে সরকারের আমলাদের দ্বারা পরোক্ষভাবে রাষ্ট্র চালনাকে আমলাতন্ত্র বলে। এ আমলাতন্ত্রের প্রধান প্রবক্তা ম্যাক্সওয়েবার। অন্যদিকে কার্ল মার্কস কে বলা হয় কমিউনিজম বা গণসাম্যবাদের প্রবক্তা।

ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্রের (Bureaucracy) প্রধান প্রবক্তা বা জনক হলেন জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার (Max Weber)
ওয়েবার আমলাতন্ত্রকে রাষ্ট্র পরিচালনার একটি 'আদর্শ মডেল' (Ideal Type) হিসেবে তুলে ধরেন, যেখানে তিনি আমলাতন্ত্রের যৌক্তিক কাঠামো, সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি এবং পদসোপান (Hierarchy)-এর উপর জোর দেন।
ওয়েবারের মতে, আমলাতন্ত্র আধুনিক রাষ্ট্রের শাসনযন্ত্রের মেরুদণ্ড। তার কাজের জন্যই আমলাতন্ত্র আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানে একটি কাঠামোগত ভিত্তি পায়।
অন্যান্য অপশনের মধ্যে, কার্ল মার্কস সমাজতন্ত্র, দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ ও শ্রেণি সংগ্রাম তত্ত্বের জন্য বিখ্যাত। এফ.এম. মার্কস আমলাতন্ত্রের বিভিন্ন প্রকারভেদ নিয়ে গবেষণা করেছেন, কিন্তু প্রবক্তা হিসেবে ওয়েবারই স্বীকৃত।
42

‘Justice delayed is justice denied’ was stated by-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. Disraeli
  2. Emerson
  3. Gladstone
  4. Shakespeare

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বৃটিশ নেতা William E. Gladstone বলেছেন- “ বিচারকার্য যত দেরি হয় তত এটি সুবিচার পায় না”/ Justice delayed is justice denied”. এছাড়া তাঁর আরেকটি বিখ্যাত উক্তি- “Justice hurried is justice barried”/ “বিচার দ্রুত সম্পন্ন মানে বিচারককে কবর দেওয়া”।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ্ল্যাডস্টোন (Gladstone)
‘Justice delayed is justice denied’ (বিলম্বিত ন্যায়বিচার ন্যায়বিচার না পাওয়ারই নামান্তর) – এই বিখ্যাত উক্তিটি করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম এওয়ার্ট গ্ল্যাডস্টোন (William Ewart Gladstone)
তিনি ১৯শ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং চারবার গ্রেট ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আইনি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এই উক্তিটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেন।
এই উক্তিটি সুশাসন (Good Governance) এবং আইনের শাসন (Rule of Law) প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নীতিবাক্য।
43
নিচের কোনটি সুশাসনের মূলনীতি?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  2. কর্তৃত্ববাদী শাসন
  3. কেন্দীভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
  4. স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সঠিক উত্তর: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
সুশাসনের (Good Governance) প্রধান স্তম্ভগুলো হলো স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
অন্য অপশনগুলো (কর্তৃত্ববাদী শাসন, স্বজনপ্রীতি, কেন্দীভূত সিদ্ধান্ত) সুশাসনের অন্তরায় বা কুশাসনের লক্ষণ।

ব্যাখ্যা

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করলে দুর্নীতি হ্রাস পায় এবং প্রশাসনের গতিশীলতা বাড়ে।
44
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল নীতিমালা কত সালে পাস হয়?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ২০১০
  2. ২০১১
  3. ২০১২
  4. ২০১৮

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সঠিক উত্তর: ২০১২
সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে এবং দুর্নীতি দমনে সরকার ২০১২ সালে 'জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল' (National Integrity Strategy - NIS) অনুমোদন করে।
এর লক্ষ্য হলো রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

ব্যাখ্যা

এটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত হয়।
45
‘সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল’—এই অভিমত কোন সংস্থা প্রকাশ করে?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জাতিসংঘ
  2. জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সঠিক উত্তর: বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংক (World Bank) ১৯৮৯ বা পরবর্তী বিভিন্ন প্রতিবেদনে সুশাসনের ৪টি স্তম্ভের কথা উল্লেখ করে। স্তম্ভগুলো হলো:
১. দায়িত্বশীলতা (Accountability)
২. স্বচ্ছতা (Transparency)
৩. আইনি কাঠামো (Legal Framework)
৪. অংশগ্রহণ (Participation) বা তথ্য প্রবাহ।

ব্যাখ্যা

UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি (বর্তমানে ৮টি প্রধান ধরা হয়)।
ADB এর মতে সুশাসনের উপাদান ৪টি (Accountability, Participation, Predictability, Transparency)।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
46
নিচের কোনটি ‘SMART Bangladesh’-এর উপাদান?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. Smart Democracy
  2. Smart Politics
  3. Smart Society
  4. Smart Parliament

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সঠিক উত্তর: Smart Society
স্মার্ট বাংলাদেশ (Smart Bangladesh) গড়ার চারটি মূল ভিত্তি বা স্তম্ভ হলো:
১. স্মার্ট সিটিজেন (Smart Citizen)
২. স্মার্ট ইকোনমি (Smart Economy)
৩. স্মার্ট গভর্নমেন্ট (Smart Government)
৪. স্মার্ট সোসাইটি (Smart Society)
সুতরাং, অপশনগুলোর মধ্যে 'Smart Society' সঠিক উপাদান।

ব্যাখ্যা

Smart Democracy বা Smart Parliament স্মার্ট বাংলাদেশের ঘোষিত চারটি স্তম্ভের মধ্যে পড়ে না।
47
সুশাসন বিষয়ক ধারণাটি প্রথম কোন খ্রিস্টাব্দে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের রিপোর্ট বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে—
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে
  2. ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে
  4. ২০০২ খ্রিস্টাব্দে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সঠিক উত্তর: ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে
১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক (World Bank) তাদের ‘Governance and Development’ শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসন বিষয়ক ধারণাটি সর্বপ্রথম বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে।
যদিও ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় ‘সুশাসন প্রত্যয়টি’ প্রথম ব্যবহৃত হয়, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হয় ১৯৯২ সালে।

ব্যাখ্যা

১৯৮৯: শব্দটির প্রথম ব্যবহার (Sub-Saharan Africa রিপোর্টে)।
১৯৯২: বিস্তারিত সংজ্ঞা ও রূপরেখা প্রদান।
48
সুশাসন বিষয়ক ধারণাটি কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রথম তাদের প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ইউএনডিপি
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক
  4. ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারনাল

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সঠিক উত্তর: বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংকই প্রথম আন্তর্জাতিক সংস্থা যারা সুশাসনকে উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে চিহ্নিত করে এবং তাদের প্রতিবেদনে এটি বিস্তারিত আলোচনা করে। বিশেষ করে ১৯৯২ সালের 'Governance and Development' রিপোর্টটি এ ক্ষেত্রে মাইলফলক।

ব্যাখ্যা

ইউএনডিপি (UNDP) পরে ১৯৯৭ সালে সুশাসনের সংজ্ঞা দেয়।
প্রথম বিস্তারিত ধারণা দেয় বিশ্বব্যাংক।
49
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক কনভেনশনটি গৃহীত হয়?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৩১ জানুয়ারি ২০০৩
  2. ৩১ অক্টোবর ২০০৬
  3. ৩১ অক্টোবর ২০০৩
  4. ২১ ফেব্রুয়ারি ২০০৮

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সঠিক উত্তর: ৩১ অক্টোবর ২০০৩
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে 'United Nations Convention Against Corruption (UNCAC)' গৃহীত হয় ৩১ অক্টোবর ২০০৩ সালে।
এই কনভেনশনটি স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত করা হয় ৯-১১ ডিসেম্বর ২০০৩ মেক্সিকোর মেরিডায়। এটি কার্যকর হয় ১৪ ডিসেম্বর ২০০৫ সালে।

ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ এই কনভেনশন স্বাক্ষর করে ২০০৭ সালে।
এটি একমাত্র আইনত বাধ্যবাধকতাসম্পন্ন সর্বজনীন আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী চুক্তি।
50
৭ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশের সংখ্যা—
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৯২টি
  2. ১০৯টি
  3. ১৯০টি
  4. ১৯১টি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সঠিক উত্তর: ১৯১টি
৭ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত 'United Nations Convention Against Corruption (UNCAC)' বা মেরিডা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী বা পক্ষভুক্ত (Parties) দেশের সংখ্যা ১৯১টি।
সর্বশেষ যুক্ত হওয়া দেশগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে এই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে, তবে প্রশ্নোক্ত তারিখ অনুযায়ী ১৯১টি সঠিক।

ব্যাখ্যা

জাতিসংঘের সদস্য সংখ্যা ১৯৩টি, তার মধ্যে প্রায় সবাই এই কনভেনশনের অন্তর্ভুক্ত।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন

এই অধ্যায়ের প্রশ্ন টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করুন

এই পেজে বাছাইকৃত ৫০টি প্রশ্ন সমাধানসহ দেওয়া হয়েছে। প্র্যাকটিস মোডে এক-একটি করে উত্তর দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল, স্কোর ও অগ্রগতি ট্র্যাক করুন।

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন-এর অন্যান্য অধ্যায়

কেন BCS Preliminary-এর জন্য “সুশাসন” অধ্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ?

BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষার নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন অংশে “সুশাসন” থেকে প্রায় প্রতিবারই প্রশ্ন আসে। বিগত সালের প্রশ্নের ধরন বুঝে নিয়মিত অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ের নম্বর নিশ্চিত করা সহজ হয় — এই পেজের বাছাইকৃত প্রশ্নগুলো ঠিক সেই প্রস্তুতির জন্যই সাজানো।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

"সুশাসন" অধ্যায় থেকে কেমন প্রশ্ন আসে?

BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষায় নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন বিষয়ের "সুশাসন" অধ্যায় থেকে নিয়মিত MCQ আসে। এই পেজে বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক জায়গায় দেওয়া হয়েছে — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ।

উত্তর ও সমাধান কি বিনামূল্যে?

হ্যাঁ। প্রশ্ন, অপশন, সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যা — সবই লগইন ছাড়াই বিনামূল্যে দেখা যায়। টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করতে চাইলে একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট দিয়ে প্র্যাকটিস মোডে যান।