সমাধান
সমাধান
💼
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

আধুনিক যুগ (১৮০০-বর্তমান)

BCS Preliminary · বাংলা ভাষা ও সাহিত্য — বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক পেজে।

নিচে BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষার বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ের "আধুনিক যুগ (১৮০০-বর্তমান)" অধ্যায়ের বাছাইকৃত ১৫০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ। সবই বিনামূল্যে।

1

“বিদ্যাসাগর ও বাঙালি সমাজ” গ্রন্হের রচয়িতা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিনয় ঘোষ
  2. সুবিনয় ঘোষ
  3. বিনয় ভট্টাচার্য
  4. বিনয় বর্মণ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বিনয় ঘোষ বিশ শতকের একজন বাঙালি সমাজবিজ্ঞানী, সাহিত্য সমালোচক, সাহিত্যিক, লোকসংস্কৃতি সাধক, চিন্তাবিদ ও গবেষক। ইতিহাস ও রাজনীতি সম্পর্কিত পর্যালোচনায় বিশেষ কৃতিত্বের অধিকারী। তিনি “বিদ্যাসাগর ও বাঙালি সমাজ” গ্রন্হটির রচয়িতা। এ গ্রন্হটি ৩টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: বিনয় ঘোষ
“বিদ্যাসাগর ও বাঙালি সমাজ” গ্রন্হটির রচয়িতা হলেন বিশিষ্ট গবেষক, ঐতিহাসিক ও সমাজতত্ত্ববিদ ড. বিনয় ঘোষ (Dr. Binoy Ghosh)।
এটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবন, সমাজ সংস্কারে তাঁর ভূমিকা এবং উনিশ শতকের বাঙালি সমাজের উপর তাঁর প্রভাবের একটি গভীর ও প্রামাণ্য বিশ্লেষণমূলক গ্রন্থ।
বিনয় ঘোষ বিশেষভাবে উনিশ ও বিশ শতকের বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের উপর গবেষণার জন্য বিখ্যাত।
2

প্রথম সাহিত্যিক গদ্যের স্রষ্টা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রাাজা রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

প্রথম সাহিত্যিক গদ্যের স্রষ্টা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী বলে আখ্যায়িত করেছেন। গীতার বনবাস ও শকুন্তলা গ্রন্হে তার গদ্য সাহিত্যের পরিপূর্ণ রূপ ফুটে উঠেছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
বাংলা গদ্যের প্রাথমিক সূচনা হয়েছিল ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের হাতে, যেমন— মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার বা রামরাম বসু। তবে তাঁদের গদ্য ছিল অমার্জিত, শিথিল ও সাহিত্যগুণ বর্জিত।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রথম ব্যক্তি, যিনি বাংলা গদ্যকে সাহিত্যিক মর্যাদা দান করেন। তিনি গদ্যে সঠিক যতিচিহ্ন (Punctuation) ব্যবহারের প্রচলন করেন, বাক্যে গতি ও সুশৃঙ্খলতা আনেন এবং সংস্কৃত নির্ভর এক মার্জিত শৈলী (সাধু গদ্য) তৈরি করেন।
এই কারণে বিদ্যাসাগরকে বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক বা সাহিত্যিক গদ্যের স্রষ্টা এবং বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। তাঁর গদ্যের প্রথম সার্থক সৃষ্টি হলো— 'শকুন্তলা' (১৮৫৪)।
অন্যদিকে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আধুনিক বাংলা উপন্যাসের জনক এবং তিনি বাংলা গদ্যকে আরও গতিশীল ও মননশীল করে তুলেছিলেন।
3

প্যারীচাঁদ মিত্রের ‘আলালের ঘরের দুলাল’ প্রথম গ্রন্হাকারে প্রকাশিত হয় কত সালে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৮৫৮ সালে
  2. ১৯৭৮ সালে
  3. ১৮৪৮ সালে
  4. ১৮৬৮ সালে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্হ ‘আলালের ঘরের দুলাল’। গ্রন্হটি ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে মাসিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্হাকারে প্রকাশিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৮৫৮ সালে
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র (ছদ্মনাম: টেকচাঁদ ঠাকুর) রচিত ‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাসটি প্রথমে ১৮৫৫ সাল থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত মাসিক পত্রিকা-য় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
পরবর্তীকালে এটি পাঠকের বিপুল আগ্রহে ১৮৫৮ সালে প্রথম গ্রন্হাকারে প্রকাশিত হয়। এই প্রকাশনাটি বাংলা কথাসাহিত্যের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা।
এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল উপন্যাস হিসেবে পরিচিত এবং এতে আলালী ভাষা বা চলিত রীতির সফল প্রয়োগ করা হয়েছিল।
4

শচীন, দামিনী ও শ্রীবিলাস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসের চরিত্র?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চতুরঙ্গ
  2. চার অধ্যায়
  3. নৌকাডুবি
  4. ঘরে বাইরে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘চতুরঙ্গ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি সাধুভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস। চতুরঙ্গ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জ্যাঠামশাই, শচীশ, দামিনী এবং শ্রীবিলাস।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো চতুরঙ্গ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত ‘চতুরঙ্গ’ উপন্যাসের (মতান্তরে এটি একটি দীর্ঘ গল্প) প্রধান ও কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলো হলো— শচীশ (প্রশ্নে 'শচীন' বলা হলেও মূল চরিত্র শচীশ), দামিনী এবং শ্রীবিলাস
উপন্যাসটির মূলভাব শচীশের বৈরাগ্য, দামিনীর জীবনবোধ এবং শ্রীবিলাসের আত্মত্যাগের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।
অন্যান্য বিখ্যাত উপন্যাসগুলির প্রধান চরিত্রগুলো হলো: চার অধ্যায়-অতীন ও এলা; নৌকাডুবি-রমেশ, হেমনলিনী ও কমলা; ঘরে বাইরে-নিখিলেশ, বিমলা ও সন্দীপ।
5

‘তুমি মা কল্পতরু আমরা সব পোষাগরু’– এই কবিতাংশটির রচয়িতা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
এই বিখ্যাত কবিতাংশটি বাংলা সাহিত্যের সন্ধিযুগের শ্রেষ্ঠ কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের লেখা। তিনি ছিলেন আধুনিক যুগের প্রারম্ভের কবি, যিনি পুরাতন রীতি ও আধুনিক রীতির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছিলেন।
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সমাজ সচেতনতা, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ এবং হাস্যরস সৃষ্টির মাধ্যমে কবিতায় তৎকালীন সমাজ জীবনের অসঙ্গতি তুলে ধরতেন। আলোচ্য চরণটিতে তিনি কল্পতরুর (দাতা/প্রভাবশালী ব্যক্তি) চারপাশের তোষামোদকারী ও সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের (‘পোষাগরু’) উপর তীব্র কটাক্ষ করেছেন।
অন্যান্য রচয়িতাগণ (যেমন: রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় বা হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়) প্রধানত আখ্যায়িকা কাব্য রচনায় মনোযোগ দিয়েছিলেন, তাদের রচনায় এমন ধারার সমাজ-কেন্দ্রিক ব্যঙ্গাত্মক উক্তি বিরল।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
6

মীর মশাররফ হোসেনের কোন গ্রন্হের উপজীব্য হিন্দু মুসলমানের বিরোধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গো-জীবন
  2. ইসলামের জয়
  3. এর উপায় কী
  4. বসন্তকুমারী নাটক

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

মীর মশাররফ হোসেনের 'গো-জীবন' (১৮৮৯) একটি প্রবন্ধ পুস্তিকা। প্রবন্ধটির মূল বক্তব্য হলো, কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে যে কোনো কারণেই হোক গো-হত্যা অনুচিত। স্বীয় বক্তব্যের সমর্থনে লেখক ধর্মগ্রন্থ এবং প্রাত্যাহিক বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে নানা যুক্তি ও তথ্য পরিবেশন করেছেন। হিন্দু ও মুসলমান এই দুই ধর্মাবলম্বীদের ঐক্যবদ্ধ করার মানসেই মশাররফ হোসেন এ প্রবন্ধ রচনা করেন। প্রবন্ধটি তৎকালে মুসলিম ধর্মীয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে যথেষ্ট প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। এ কারণে ‘আখবারে এসলামিয়া' (১৮৮৪) পত্রিকা প্রতিবাদ প্রকাশ করে এবং লেখককে পরে মামলাতে জড়িয়ে পড়তে হয়। অবশেষে তা মৌলবাদী মুসলিমদের প্রবল চাপের মুখে তিনি 'গো-জীবন' প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গো-জীবন
মীর মশাররফ হোসেনের রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'গো-জীবন' (১৮৮৯)-এর মূল উপজীব্য ছিল হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। তিনি এই গ্রন্থে গো-কোরবানি (গরু জবাই) বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সম্প্রীতি রক্ষার উদ্দেশ্যে রচিত হলেও, গরুর মাংস ভক্ষণ বর্জন করার আহ্বানের জন্য বইটি মুসলিম সমাজে তীব্র সমালোচনার শিকার হয়েছিল।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্নধর্মী রচনা:
'বসন্তকুমারী নাটক' হলো মীর মশাররফ হোসেনের প্রথম নাটক। এটি হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ নিয়ে লেখা নয়।
7

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত বয়সে ছোটগল্পকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১০ বছর
  2. ১২ বছর

  3. ১৪ বছর
  4. ১৬ বছর

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

গল্পগুচ্ছের প্রথম গল্পটির নাম ‘ঘাটের কথা’। এটি প্রকাশিত হয় ভারতী পত্রিকার কার্তিক ১২৯১ সংখ্যায়। তার আগে একই পত্রিকার ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দ) শ্রাবণ-ভাদ্র সংখ্যায় প্রকাশিত হয় রবীন্দ্রনাথের ‘ভিখারিণী’ গল্পটি। এখন পর্যন্ত যতদূর জানা যায়, এটিই তাঁর লেখা প্রথম গল্প, যা কোনো সাময়িকপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল। গল্পটি রচনাকালে রবীন্দ্রনাথের বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৬ বছর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর লেখা প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম হলো 'ভিখারিনী'
গল্পটি ১৮৭৭ সালে (১২৮৪ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়। এই সময় তাঁর বয়স ছিল ১৮৭৭১৮৬১=<strong>১৬বছর</strong>১৮৭৭ - ১৮৬১ = <strong>১৬ বছর</strong>
অন্যান্য অপশন (১০ বছর, ১২ বছর, ১৪ বছর) ভুল, কারণ এই বয়সে তিনি কবিতা বা প্রবন্ধ লিখলেও, ছোটগল্পকার হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৬ বছর বয়সে 'ভিখারিনী' গল্পের মাধ্যমে।
এই গল্পটি 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল, যা তাঁর ছোটগল্পকার জীবনের সূচনা করে।
8

নিচের কোনটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পগ্রন্থ নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ইছামতি
  2. মেঘমল্লার
  3. মৌরিফুল
  4. যাত্রাবদল

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ: মেঘমল্লার, মৌরিফুল, যাত্রাবদল, জন্ম ও মৃত্যু, উপলখণ্ড, কিন্নর দল প্রভৃতি। ‘ইছামতি’ তাঁর একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। ‘ইছামতি’ উপন্যাসের জন্য ১৯৫১ সালে মরণোত্তর রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন তিনি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ইছামতি
কারণ ইছামতি হলো প্রখ্যাত সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত উপন্যাস। এটি কোনো গল্পগ্রন্থ নয়।
প্রশ্নে উল্লিখিত অন্য তিনটি বিকল্প— মেঘমল্লার, মৌরিফুল, এবং যাত্রাবদল— এগুলো সবই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ (Short Story Collection)।
তিনি প্রধানত প্রকৃতির নিবিড় সৌন্দর্য, সহজ সরল জীবনযাত্রা এবং গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষের জীবনভিত্তিক সাহিত্য রচনার জন্য বিখ্যাত। ইছামতি উপন্যাসের পটভূমিও ছিল নদীকেন্দ্রিক গ্রামীণ জীবন।
9

‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. যুগ-বাণী
  2. রুদ্র-মঙ্গল
  3. দুর্দিনের যাত্রী
  4. রাজবন্দির জবানবন্দি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধ গ্রন্হটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়। ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি তাঁর ‘রুদ্র-মঙ্গল’ গ্রন্হ থেকে সংকলিত হয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: রুদ্র-মঙ্গল
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রগতিশীল ও বিপ্লবী প্রবন্ধগুলোর সংকলন হলো রুদ্র-মঙ্গল। এই গ্রন্থটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
বিখ্যাত প্রবন্ধ ‘আমার পথ’ (যা মূলত পথনির্দেশক চেতনা ও সত্যের মহিমাকে তুলে ধরে) এই রুদ্র-মঙ্গল গ্রন্থেই সংকলিত হয়েছে।
বাকি বিকল্পগুলোও নজরুলের প্রবন্ধগ্রন্থ হলেও (যেমন যুগ-বাণী, দুর্দিনের যাত্রী) ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি সরাসরি রুদ্র-মঙ্গল থেকেই সংকলিত।
10

‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধে মোতাহের হোসেন চৌধুরী কাকে তপোবন-প্রেমিক বলেছেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে
  2. জসীম উদ্দীনকে
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধে মোতাহের হোসেন চৌধুরী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে তপোবন-প্রেমিক বলেছেন। তপোবন-প্রেমিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নদীর গতিতে জীবনের গতি খুঁজেছেন। উল্লেখ্য তিনি নদীকেই মনুষ্যত্বের প্রতীক ভেবেছেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে
মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধে তিনি প্রকৃতিকে দু’ভাবে দেখেছেন— এক. ইউরোপীয় দৃষ্টিকোণ (যা শুধু সৌন্দর্য ও উপযোগিতা খোঁজে), এবং দুই. ভারতীয় দৃষ্টিকোণ।
তিনি বলেছেন, ভারতীয় সংস্কৃতিতে প্রকৃতিকে কেবল সৌন্দর্য হিসেবে দেখা হয়নি, বরং ‘তপোবন’ বা আধ্যাত্মিক সাধনার স্থান হিসেবে দেখা হয়েছে। এই তপোবনের ধারণাটি আধুনিক সাহিত্যে যিনি সবচেয়ে গভীর ও সার্থকভাবে প্রকাশ করেছেন, তিনি হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
তাই মোতাহের হোসেন চৌধুরী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বিশেষভাবে ‘তপোবন-প্রেমিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
অন্যান্য লেখকেরা প্রকৃতিপ্রেমী হলেও এই প্রবন্ধের প্রেক্ষাপটে তপোবনের ধারণার সঙ্গে তাঁদের এমন প্রত্যক্ষ যোগসূত্র নেই।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
11

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস জন্মগ্রহণ করেন কোথায়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গাইবান্ধায়
  2. বগুড়ায়
  3. ঢাকায়
  4. সিরাজগঞ্জে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধার গোহাটি গ্রামে (মামাবাড়ি) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক নিবাস বগুড়া। পিতা বদিউজ্জামান মোহাম্মদ ইলিয়াস ও মাতা বেগম মরিয়ম ইলিয়াস। তাঁর পিতা মুসলিম লীগের পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি ছিলেন। তাঁর একমাত্র প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু’। ‘রেইনকোট’ গল্পটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় (ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে) মৃত্যুবরণ করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গাইবান্ধায়
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৩ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বৃহত্তর রংপুর জেলার (বর্তমানে গাইবান্ধা জেলা) সাঘাটা উপজেলার গোটিয়া গ্রামে।
তিনি মূলত ঢাকা শহরে বসবাস ও কর্মজীবন অতিবাহিত করলেও তার জন্মস্থান গাইবান্ধা। অন্যান্য অপশনগুলো ভুল। তিনি বগুড়া বা সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেননি।
12

মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবর্তিত ‘অমিত্রাক্ষর ছন্দ’ প্রকৃত পক্ষে বাংলা কোন ছন্দের নব-রুপায়ন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  2. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  4. গৈরিশ ছন্দ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা সাহিত্যে প্রচলিত প্রধান তিনটি ছন্দের একটি। অন্য দুটি হলো স্বরবৃত্ত ছন্দ এবং মাত্রাবৃত্ত ছন্দ। অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা কবিতাগুলোর মূলপর্ব সাধারণত ৮ বা ১০ হয়। কাব্যে যে ছন্দে চরণদ্বয়ের অন্ত্যবর্ণের মিল থাকে না, তাকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ বলে। অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রকৃত পক্ষে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের নবরূপ। যা ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবর্তন করেছিলেন। ১৮৬০ সালে প্রকাশিত পদ্মাবতী নাটকের ২য় অঙ্কের ২য় গর্ভাঙ্কে মধুসূদন সর্বপ্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রয়োগ করেছিলেন। এই ছন্দকে মিশ্রকলাবৃত্ত, তানপ্রধান ছন্দ ইত্যাদি নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ সালে বাংলা সাহিত্যে ‘অমিত্রাক্ষর ছন্দ’ (Blank Verse) প্রবর্তন করেন। এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দেরই আধুনিক ও শৃঙ্খলমুক্ত একটি রূপায়ন।
প্রচলিত বাংলা পয়ার ছন্দে (যা অক্ষরবৃত্তের মূল রূপ) প্রতি লাইনে ১৪ অক্ষর থাকত এবং লাইনের শেষে অন্ত্যমিল (rhyme) থাকা বাধ্যতামূলক ছিল।
কিন্তু মধুসূদন যখন অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তন করেন, তখন তিনি অক্ষরবৃত্তের ১৪ অক্ষরের চাল ও পর্ব বিন্যাসকে ঠিক রেখে কেবল অন্ত্যমিল বা Rhyme-এর বাধ্যবাধকতাটি তুলে দেন। ফলে এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দের একটি নব-রুপায়ন হিসেবে গণ্য হয়, যেখানে প্রতিটি পঙ্‌ক্তি স্বাধীনভাবে চলতে পারে।
অন্যান্য ছন্দ: স্বরবৃত্ত ছন্দ ছন্দের গতি বা ঝোঁকের (stress) ওপর নির্ভরশীল এবং মাত্রাবৃত্ত ছন্দ ধ্বনি বা মাত্রার দৈর্ঘ্যের (mora) ওপর নির্ভরশীল, তাই এগুলি অমিত্রাক্ষরের ভিত্তি নয়।
13

‘বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শামসুর রাহমান
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. আহসান হাবিব

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

নাগরিক কবি শামসুর রাহমান রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: বন্দী শিবির থেকে (১৯৭২), নিরালোকে দিব্যরথ (১৯৬৮) উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ (১৯৮২), আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি (১৯৭৪), প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (১৯৬০), দুঃসময়ের মুখোমুখি (১৯৭৩), বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে (১৯৭৭), এক ফোঁটা কেমন অনল (১৯৮৬), বুক তার বাংলাদেশের হৃদয় (১৯৮৮) প্রভৃতি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: শামসুর রাহমান
‘বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান
তিনি ছিলেন নাগরিক জীবন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রধান রূপকারদের অন্যতম। তাঁর কবিতায় যুদ্ধ, প্রেম, দেশাত্মবোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিফলন দেখা যায়।
অন্যান্য অপশনসমূহ এই কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা নন। সৈয়দ শামসুল হক সব্যসাচী লেখক হিসেবে পরিচিত এবং আহসান হাবিবহাসান হাফিজুর রহমানও আধুনিক যুগের গুরুত্বপূর্ণ কবি, কিন্তু আলোচ্য গ্রন্থের রচয়িতা শামসুর রাহমান
14

“দুর্দিনের দিনলিপি” স্মৃতিগ্রন্থটি কার লেখা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আবুল ফজল
  2. আবদুল কাদির
  3. জাহানারা ইমাম
  4. মুশতারি শফী

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

আবুল ফজল রচিত আত্মকাহিনী: ১. দুর্দিনের দিনলিপি (১৯৭২); ২. রেখাচিত্র (১৯৬৬); ৩. লেখকের রোজনামচা (১৯৬৯)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আবুল ফজল
আবুল ফজল ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য। তাঁর রচিত বিখ্যাত স্মৃতিগ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো “দুর্দিনের দিনলিপি”
স্মৃতিগ্রন্থটিতে তিনি তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ও সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, জাহানারা ইমাম এর বিখ্যাত স্মৃতিগ্রন্থ হলো 'একাত্তরের দিনগুলি' এবং মুশতারি শফী এর স্মৃতিগ্রন্থ হলো 'স্বাধীনতা আমার রক্তঝরা দিনগুলি'। তাই তারা ভুল উত্তর।
15

‘চাঁদের অমাবস্যা’ উপন্যাসের যুবক-শিক্ষকের নাম-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আবদুল কাদের
  2. খতির মিয়া
  3. আক্কাস আলী
  4. আরেফ আলী

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ‘চাঁদের অমাবস্যা’ (১৯৬৪) উপন্যাসে আরেফ আলী নামের এক স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তজীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: আরেফ আলী
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস হলো ‘চাঁদের অমাবস্যা’ (১৯৬৪)।
এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র এবং যুবক শিক্ষকটির নাম হলো আরেফ আলী
আরেফ আলী একটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা দেখে ফেলায় তার নৈতিক বিবেক ও মানসিক দ্বন্দ্ব এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
16

‘মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান।’ পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিদ্যাপতি
  2. গোবিন্দদাস
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. কৃষ্ণদাস কবিরাজ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

মরণ রে, তুঁহু মম শ্যাম সমান-- চরণটির রচয়িতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি যৌবনকালের প্রথম দিকে ‘ভানুসিংহ’ ছদ্মনামে লিখতেন। উক্ত চরণটি ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী হতে নেয়া হয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
‘মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান।’—এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা। এটি তাঁর বৈষ্ণব পদাবলীর অনুসরণে রচিত একটি বিখ্যাত গান/কবিতার অংশ।
কবিতাটিতে কবি মৃত্যু বা মরণকে (তুঁহু) নিজের আরাধ্য দেবতা শ্যাম (শ্রীকৃষ্ণ) বা প্রিয়তমের রূপে কল্পনা করেছেন, যেখানে মৃত্যু আর প্রিয়তমের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এটি কবির গভীর দার্শনিক ভাবনার প্রকাশ।
যদিও এই পঙ্‌ক্তিটিতে ব্রজবুলি ভাষার প্রভাব রয়েছে (যেমন: তুঁহু, মম), এটি মধ্যযুগের কবি বিদ্যাপতি বা গোবিন্দদাসের লেখা নয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই ভাষা ব্যবহার করে ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ রচনা করেছিলেন।
17

‘আনোয়ারা’ উপন্যাসের রচয়িতার নাম-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. কাজী আবদুল ওদুদ
  3. নজিবর রহমান
  4. রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

আনোয়ারা (১৯১৪) বাঙ্গালী ঔপন্যাসিক মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস। এটি তাঁর রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস। ‘সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়।’ এটাই উপন্যাসের মূল বক্তব্য। আনোয়ারা, নুরল এসলাম ছাড়াও খাদেম, আজিমুল্লা, গোলাপ জান ইত্যাদি এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: নজিবর রহমান
নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন (১৮৬০-১৯২৩) রচিত অত্যন্ত জনপ্রিয় সামাজিক উপন্যাস হলো ‘আনোয়ারা’। উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
তৎকালীন মুসলিম সমাজে রক্ষণশীলতা ও আধুনিকতার দ্বন্দ্বের মধ্যে আদর্শনিষ্ঠ পারিবারিক ও সামাজিক জীবন কেমন হওয়া উচিত, তা এই উপন্যাসে দেখানো হয়েছে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল কারণ:
সৈয়দ মুজতবা আলী বিখ্যাত রম্যরচনাকার ও ভ্রমণকাহিনী লেখক (যেমন: দেশে-বিদেশে)।
রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন ছিলেন নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং তার প্রধান রচনা: অবরোধবাসিনী, সুলতানার স্বপ্ন।
18

নিচের কোন ব্যক্তি ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কাজী আব্দুল ওদুদ
  2. এস ওয়াজেদ আলি
  3. আবুল ফজল
  4. আবদুল কাদির

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কারবিরোধী একটি প্রগতিশীল আন্দোলন। ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল হুসেনের নেতৃত্বে ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সমাজ তাদের মুখপত্র হিসেবে ‘শিখা’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করত, যার প্রতিটি সংখ্যায় লেখা থাকত ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন গঠিত হয় কয়েকজন আলোকিত মানুষের উদ্যোগে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আবুল হুসেন, কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল ফজল, কাজী আবদুল ওদুদ, আবদুল কাদির প্রমুখ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: এস ওয়াজেদ আলি
‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলন বা ‘শিখা গোষ্ঠী’ ছিল ঢাকাভিত্তিক একটি প্রগতিশীল সাহিত্য আন্দোলন, যা ১৯২৬ সালে ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ-এর মাধ্যমে শুরু হয়েছিল।
এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল যুক্তি, বিজ্ঞান ও মানবতাবাদের মাধ্যমে সমাজের গোঁড়ামি ও কুসংস্কার দূর করে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির মুক্তি ঘটানো।
এই আন্দোলনের প্রধান ব্যক্তিরা হলেন— কাজী আব্দুল ওদুদ (সভাপতি), আবুল ফজল (সম্পাদক), আবদুল কাদির এবং মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন চৌধুরী। এঁদের সবাই সরাসরি এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
অন্যদিকে, এস ওয়াজেদ আলি একজন প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক হলেও তিনি ‘বুদ্ধির মুক্তি’ বা ‘শিখা’ আন্দোলনের সরাসরি সদস্য ছিলেন না। তিনি মূলত কলকাতা ও ইউরোপে অবস্থান করতেন এবং মুসলিম সমাজের সংস্কার ও আধুনিকতা নিয়ে কাজ করতেন, কিন্তু সাংগঠনিকভাবে এই গোষ্ঠীর অংশ ছিলেন না।
19

নিচের কোন কাব্য কাজী নজরুল ইসলামের উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার ধারক?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিষের বাঁশী
  2. অগ্নি-বীণা
  3. সিন্ধু-হিন্দোল
  4. চক্রবাক

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

প্রেম, মানবতা ও বিদ্রোহের কবি নজরুল রচিত- ‘বিষের বাঁশী’ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন কবি নিজেই। সে বছরই সরকার গ্রন্থটি নিষিদ্ধ করে। এটি নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধকৃত গ্রন্থ। এ গ্রন্থের কবিতাগুলো বিদ্রোহাত্মক ও জাগরণমূলক। বন্দী-বন্দনা, শিকল-পরা গান, চরকার গান, জাতের নামে বজ্জাতি, সত্য-মন্ত্র ইত্যাদি গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা। নজরুল ইসলামের কবিতার বলিষ্ঠতা, যৌবনের উদ্দাম শক্তি, উদার মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতা এবং গীতি প্রতিভার সমস্ত বৈশিষ্ট্য এই কাব্যে পরিস্ফুট।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বিষের বাঁশী
কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন মূলত দ্রোহ ও প্রেমের কবি, তবে তাঁর কাব্যে সনাতন বাংলা ও ভারতীয় ঐতিহ্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ছিল। তিনি হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল ঐতিহ্যকে গ্রহণ করে এক উদারনৈতিক (Liberal) ভাবধারা সৃষ্টি করেন।
‘বিষের বাঁশী’ (১৯২৪) কাব্যগ্রন্থে সরাসরি পরাধীনতা ও ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ প্রকাশিত হয়। এর মূল সুর ছিল—সাম্য ও মুক্তি। এই সাম্য ও মানবতার আহ্বানই তাঁর ঐতিহ্যভাবনার মূল ভিত্তি, যেখানে তিনি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করার ঐতিহ্যকে ধারণ করেছেন। তাই এটিকে তাঁর উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার ধারক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বিখ্যাত ‘ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা’ কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্গত, যা স্বাধীনতার জন্য আত্মবলিদানের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।
অন্যদিকে, ‘অগ্নি-বীণা’ (১৯২২) মূলত প্রলয় ও বিদ্রোহের তীব্র প্রকাশ, আর ‘চক্রবাক’ (১৯২৯) রোমান্টিক প্রকৃতির। ‘সিন্ধু-হিন্দোল’ (১৯২৭) কাব্যে হিন্দু-মুসলিম ঐতিহ্যের মিলন বা সমন্বয়ী ভাবধারা আরও বেশি স্পষ্ট, যদিও প্রশ্নে প্রদত্ত উত্তরে ‘বিষের বাঁশী’ সঠিক হিসেবে বিবেচিত।
20

নিচের কোনটি বিশ শতকের পত্রিকা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শনিবারের চিঠি
  2. বঙ্গদর্শন
  3. তত্ত্ববোধিনী
  4. সংবাদ প্রভাকর

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘শনিবারের চিঠি’ ১৯২৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। যোগানন্দ দাস ছিলেন একাধারে উক্ত পত্রিকার প্রথম সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর। শনিবারের চিঠি'র প্রাণপুরুষ ছিলেন কবি-সাহিত্যিক সজনীকান্ত দাস। ‘সংবাদ প্রভাকর’ সাপ্তাহিক সংবাদপত্র হিসেবে ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন এর সম্পাদক। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে মাসিক ‘বঙ্গদর্শন’ প্রকাশিত হয়। ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: শনিবারের চিঠি
বিশ শতক বলতে বোঝায় ১৯০১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়কালকে। শনিবারের চিঠি পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে। তাই এটি বিশ শতকের পত্রিকা।
অন্যদিকে, বাকি তিনটি পত্রিকা ঊনবিংশ শতকে (১৮০১-১৯০০) প্রকাশিত হয়:
১. বঙ্গদর্শন: প্রকাশকাল ১৮৭২ সাল (সম্পাদক: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)।
২. তত্ত্ববোধিনী: প্রকাশকাল ১৮৪৩ সাল (সম্পাদক: অক্ষয়কুমার দত্ত)।
৩. সংবাদ প্রভাকর: প্রকাশকাল ১৮৩১ সাল (সম্পাদক: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত)।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
21

নিচের কোনটি উপন্যাস নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দিবারাত্রির কাব্য
  2. শেষের কবিতা
  3. পল্লী-সমাজ
  4. কবিতার কথা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘দিবারাত্রির কাব্য’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস, ‘শেষের কবিতা’ রবীন্দ্রনাথের কাব্যধর্মী উপন্যাস এবং শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস ‘পল্লী-সমাজ’। ‘কবিতার কথা’ বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান বাঙ্গালী কবি জীবনানন্দ দাশের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ যা তার মৃত্যুর পর প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো কবিতার কথা। এটি কোনো উপন্যাস নয়, বরং আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি জীবনানন্দ দাশের লেখা একটি প্রবন্ধগ্রন্থ (Collection of critical essays on poetry)।
কবিতার কথা গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে। এটিই তাঁর একমাত্র প্রবন্ধের সংকলন, যেখানে তিনি কবিতা ও কাব্যতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বাকি তিনটি বিকল্পই বিখ্যাত উপন্যাস:
  • দিবারাত্রির কাব্য: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত (উপন্যাস)
  • শেষের কবিতা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত (উপন্যাস)
  • পল্লী-সমাজ: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত (উপন্যাস)
22

‘বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য’ গ্রন্থ কে রচনা করেছেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. গোপাল হালদার
  3. আহমদ শরীফ
  4. সুকুমার সেন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ প্রাবন্ধিক আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ ‘বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য’। তাঁর রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ বিচিত চিন্তা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা, বিশ শতকের বাঙালী, বাঙলা বাঙালী বাঙালীত্ব। ‘বাংলা একাডেমির সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান’ তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ। ‘বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস’ সুকুমার সেনের সবচেয়ে বিখ্যাত বই।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আহমদ শরীফ
‘বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য’ গ্রন্থটি রচনা করেন প্রখ্যাত পণ্ডিত ও সমালোচক ড. আহমদ শরীফ। এটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও সমালোচনা বিষয়ক একটি আকর গ্রন্থ
ড. আহমদ শরীফ ছিলেন বিশ শতকের অন্যতম প্রধান সাহিত্য সমালোচক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক
প্রচলিত অন্যান্য বিকল্পগুলো কেন ভুল:
দীনেশচন্দ্র সেন: তিনি রচনা করেছেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থ— ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ (১৮৯৬)। এই দুটি বই প্রায়ই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
সুকুমার সেন: তিনি রচনা করেন ‘বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস’ (পাঁচ খণ্ডে প্রকাশিত)।
23

‘মনোরমা’ বঙ্কিমচন্দ্রের কোন উপন্যাসের চরিত্র?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. মৃণালিনী
  4. বিষবৃক্ষ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলা উপন্যাসের জনক সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক ‘মৃণালিনী’ (১৮৬৯) উপন্যাসটি তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজীর বাংলা আক্রমণের পটভূমিতে রচিত। এটি বঙ্কিমচন্দ্রের তৃতীয় উপন্যাস। মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথা। কৃষ্ণকান্তের উইল এর অন্তর্গত চরিত্র হলো: গোবিন্দলাল, হরলাল, কৃষ্ণকান্ত, রোহিনী, ভ্রমর, নিশাকর। বিষবৃক্ষ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- নগেন্দ্রনাথ, সূর্যমুখী, কুন্দনন্দিনী, হীরা। তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা বঙ্কিমের দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের অন্তর্গত চরিত্র।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মৃণালিনী
‘মনোরমা’ চরিত্রটি ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের তৃতীয় উপন্যাস ‘মৃণালিনী’ (প্রকাশকাল: ১৮৬৯)-এর প্রধান নারী চরিত্র। এটি একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস, যা হেমচন্দ্রমৃণালিনীর প্রেমের পাশাপাশি মনোরমার ট্র্যাজেডি তুলে ধরেছে।
অন্যান্য বিকল্পগুলি ভুল, কারণ:
কৃষ্ণকান্তের উইল: প্রধান চরিত্র— গোবিন্দলালরোহিণী
দুর্গেশনন্দিনী: প্রধান চরিত্র— জগৎসিংহ, আয়েশাতিলোত্তমা
বিষবৃক্ষ: প্রধান চরিত্র— সূর্যমুখীকুন্দনন্দিনী
24

‘ব্যক্ত প্রেম’ ও ‘গুপ্ত প্রেম’ কবিতা দুটি রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. খেয়া
  2. মানসী
  3. কল্পনা
  4. সোনার তরী

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘মানসী’ (১৮৯০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যকলার পূর্ণপ্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ। তাই কবি বুদ্ধদেব বসু ‘মানসী’ কাব্যকে রবীন্দ্র-কাব্যের অনুবিশ্ব বলেছেন। ‘ব্যক্ত প্রেম’ ও ‘গুপ্ত প্রেম’ কবিতা দুটি রবীন্দ্রনাথের এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: মানসী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানসী কাব্যগ্রন্থ (প্রকাশকাল: ১৮৯০) তাঁর কাব্যজীবনে এক যুগসন্ধিক্ষণ সৃষ্টি করে। এই গ্রন্থেই প্রথম তাঁর কবিতার স্বকীয়তা ও শিল্পসুষমা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ পায়।
‘ব্যক্ত প্রেম’ ও ‘গুপ্ত প্রেম’ কবিতা দুটি এই কাব্যের অন্তর্ভুক্ত। মানসী কাব্যগ্রন্থে রোমান্টিক প্রেম, মনস্তত্ত্ব এবং ব্যক্তি হৃদয়ের গভীর অনুভূতি প্রধান বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ সোনার তরী (১৮৯৪) প্রতীকবাদী চেতনার জন্য বিখ্যাত এবং এর মূল সুর জীবন ও মৃত্যুর দার্শনিকতা। কল্পনা (১৯০০) ও খেয়া (১৯০৬) পরবর্তীকালের কাব্যগ্রন্থ, যেখানে প্রেম অপেক্ষা আধ্যাত্মিক ও প্রকৃতি প্রেম বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
25

‘অভীক’ রবীন্দ্রনাথের কোন গল্পের নায়ক?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নষ্টনীড়
  2. নামঞ্জুর গল্প
  3. রবিবার
  4. ল্যাবরেটরি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

‘অভীক’ এবং ‘বিভা’ রবীন্দ্রনাথের রবিবার গল্পের নায়ক ও নায়িকা চরিত্র। ‘নষ্টনীড়’ গল্পের চরিত্র- চারু, অমল ও ভূপতি। ‘ল্যাবরেটরি’ গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র সোহিনী।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: রবিবার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম জনপ্রিয় ছোটগল্প ‘রবিবার’-এর প্রধান পুরুষ চরিত্র হলো অভীক এবং প্রধান নারী চরিত্র হলো বিভা
এই গল্পে আধুনিক নাগরিক সমাজের জটিলতা, জীবনের অস্থিরতা এবং সম্পর্কের গভীর দার্শনিক দিক তুলে ধরা হয়েছে।
ভুল উত্তরগুলি কেন:
‘নষ্টনীড়’ গল্পের প্রধান চরিত্র হলো চারুলতা, তার স্বামী ভূপতি এবং দেবর অমল
‘ল্যাবরেটরি’ গল্পের প্রধান নারী চরিত্র সোহিনী এবং পুরুষ চরিত্র নন্দকিশোর মল্লিক
ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও মেডিকেলসহ ২৭+ ইউনিট-ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর এডমিশন সেকশনে।

ভর্তি প্রশ্নব্যাংক দেখুন
26

‘সকলের তরে সকলে আমরা/প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’ কার রচিত পঙ্‌ক্তি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রাজনীকান্ত সেন
  2. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. কামিনী রায়
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলা সাহিত্য জগতে ‘জনৈক বঙ্গ মহিলা’ নামে পরিচিত কবি কামিনী রায় ‘পরার্থে’ কবিতায় বলেছেন, পরের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখাই মানবজনমের সার্থকতা। তাঁর রচিত পঙ্‌ক্তি- ‘সকলের তরে সকলে আমরা/প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: কামিনী রায়
উদ্ধৃত পঙ্‌ক্তি দুটি – ‘সকলের তরে সকলে আমরা/প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’ – মহীয়সী কবি কামিনী রায় রচিত।
এটি তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘আলো ও ছায়া’ (প্রকাশ: ১৮৮৯) এর অন্তর্গত ‘উপকার’ নামক কবিতার অংশ। এই পঙ্‌ক্তির মাধ্যমে কবি মানব সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আত্মত্যাগের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
অন্যান্য অপশনগুলো: রাজনীকান্ত সেন দেশাত্মবোধক গানের জন্য, ইসমাইল হোসেন সিরাজী জাতীয়তাবাদী লেখার জন্য এবং দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ঐতিহাসিক নাটক ও দেশাত্মবোধক গানের জন্য বিখ্যাত।
27

‘খোকা’ ও ‘রঞ্জু’ মাহমুদুল হক এর কোন উপন্যাসের চরিত্র?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কালো বরফ
  2. খেলাঘর
  3. অনুর পাঠশালা
  4. জীবন আমার বোন

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘জীবন আমার বোন’ প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে; এর লেখক মাহমুদুল হক। জাহিদুল কবির খোকা নামের এক আপাত নির্লিপ্ত ও জীবন-পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি লিখেছেন। এ উপন্যাসের অপর চরিত্র ‘রঞ্জু’। ‘কালো বরফ’, ‘খেলাঘর’ এবং অনুর পাঠশালা উপন্যাসের রচয়িতাও মাহমুদুল হক। এদের মধ্যে কালো বরফ দেশভাগের পটভূমিভিত্তিক এবং খেলাঘর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক। চরিত্রসমূহ: কালো বরফ → আব্দুল খালেক। খেলাঘর → ইয়াকুব, টুনু, রেহানা। অনুর পাঠশালা → কিশোর অনু (নায়ক), কিশোরী সরুদাসী (নায়িকা)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো জীবন আমার বোন
ঔপন্যাসিক মাহমুদুল হক রচিত এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো খোকা। উপন্যাসে খোকার প্রেমিকা ও গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্র হিসেবে রঞ্জু চরিত্রটি এসেছে।
মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একজন যুবকের (খোকা) জীবন ও মানসিক টানাপোড়েন এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
অন্যান্য অপশন যেমন— কালো বরফ এবং খেলাঘর-ও মাহমুদুল হক-এর বিখ্যাত উপন্যাস, কিন্তু উল্লিখিত চরিত্র দুটি ‘জীবন আমার বোন’ উপন্যাসের অংশ।
28

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লেখা নাটক কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কবর
  2. বহিপীর
  3. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  4. ওরা কদম আলী

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক- বহিপীর, উজানে মৃত্যু, সুড়ঙ্গ, তরঙ্গভঙ্গ। ‘কবর’ (১৯৫৩) মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক একাঙ্ক নাটক। সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্য নাটক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’। মামুনুর রশীদের নাটক ‘ওরা কদম আলী’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বহিপীর। এটি কালজয়ী সাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর রচিত একমাত্র পূর্ণাঙ্গ নাটক।
বহিপীর নাটকটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়। এটি সমাজের কুসংস্কার ও ধনী-গরিবের সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে রচিত।
অন্যান্য বিকল্পগুলোর মধ্যে— কবর নাটকটি রচনা করেন মুনীর চৌধুরী (ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে); পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় কাব্যনাটকটি রচনা করেন সৈয়দ শামসুল হক (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক); এবং ওরা কদম আলী নাটকটি রচনা করেন মমুনুর রশীদ
29

মীর মশাররফ হোসেনের ‘বিষাদসিন্ধু’ একটি-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মহাকাব্য
  2. ইতিহাস গ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. ইতিহাস-আশ্রিত জীবনীগ্রন্থ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১১) রচিত ‘বিষাদসিন্ধু’ (১৮৮৫-৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত মহাকাব্যধর্মী উপন্যাস। হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি ‘বিষাদসিন্ধু’গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়। মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি। ‘বিষাদসিন্ধু’ উপন্যাসটি ‘মহরম পর্ব’ (১৮৮৫), ‘উদ্ধার পর্ব’ (১৮৮৭) ও ‘এজিদ-বধ পর্ব’ (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: উপন্যাস
মীর মশাররফ হোসেনের (১৮৪৭–১৯১২) রচিত ‘বিষাদসিন্ধু’ হলো কারবালার মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রচিত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক উপন্যাস
যদিও এই গ্রন্থে ঐতিহাসিক ঘটনা (কারবালার ট্র্যাজেডি) স্থান পেয়েছে, এর মূল আঙ্গিক এবং সাহিত্যিক গঠন হলো উপন্যাস। এটি কাল্পনিক চরিত্র, সংলাপ এবং আখ্যানের মাধ্যমে কাহিনি ফুটিয়ে তুলেছে, যা একে নিছক ইতিহাস গ্রন্থ হতে ভিন্নতা দিয়েছে।
এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মুসলিম রচিত উপন্যাস হিসেবেও গণ্য করা হয়।
এটি মহাকাব্য নয়, কারণ মহাকাব্য পদ্যে রচিত হয় এবং এর নির্দিষ্ট গঠনশৈলী রয়েছে। বিষাদসিন্ধু গদ্যে রচিত।
30

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটি কে রচনা করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. জহির রায়হান
  3. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  4. কাজী নজরুল ইসলাম

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটির রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী। প্রথম সুরকার আব্দুল লতিফ, বর্তমান সুরকার আলতাফ মাহমুদ। আবদুল গাফফার চৌধুরী ১৯ মে, ২০২২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: আবদুল গাফফার চৌধুরী
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ — এটি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত একটি কালজয়ী গান। এর রচয়িতা (গীতিকার) হলেন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী
তিনি ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির হত্যাকাণ্ডের পর ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে এটি রচনা করেন। গানটি প্রথমে একটি কবিতাকারে প্রকাশিত হয়েছিল ‘দৈনিক আল-হেলাল’ পত্রিকায়।
বাকি বিকল্পগুলি ভিন্ন ক্ষেত্রে পরিচিত: মুনীর চৌধুরী ছিলেন ভাষা সংগ্রামী ও প্রখ্যাত নাট্যকার, জহির রায়হান ছিলেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ও সাহিত্যিক, এবং কাজী নজরুল ইসলাম হলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
31

নিম্নের কোন পত্রিকাটির প্রকাশনা উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আশীর্বাণী পাঠিয়েছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সবুজপত্র
  2. শনিবারের চিঠি
  3. কল্লোল
  4. ধূমকেতু

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ধূমকেতু কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত একটি অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা, যা ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২৬ শ্রাবণ (১৯২২ সালের ১১ আগস্ট) প্রথম প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি শুরুতে ফুলস্কেপ কাগজের চার পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হতো এবং পরে আট পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হতো। পত্রিকাটির সর্বশেষ সংস্করণ ১৯২৩ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত হয়েছিল। এর প্রথম সংখ্যায় নজরুলের কবিতা ‘ধূমকেতু’ প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকাকে আশীর্বাদ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, “কাজী নজরুল ইসলাম কল্যাণীয়েষু, আয় চলে আয়রে ধূমকেতু। আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু, দুর্দিনের এই দুর্গশিরে উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন।” পত্রিকার প্রথম পাতার শীর্ষে এই বাণী লিখা থাকতো।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ধূমকেতু
কাজী নজরুল ইসলাম কর্তৃক সম্পাদিত এবং ১৯২২ সালের ১১ আগস্ট প্রকাশিত হয় অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা 'ধূমকেতু'। এটি ছিল বাংলা সাহিত্যে এক বিপ্লবী কণ্ঠস্বর।
এই পত্রিকাটির প্রকাশনা উপলক্ষ্যে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আশীর্বাণী পাঠিয়েছিলেন। তাঁর সেই বিখ্যাত আশীর্বাণীর অংশটি ছিল:
“আয় চলে আয়, রে ধূমকেতু।
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু।।”
অন্যান্য বিকল্পের মধ্যে: 'সবুজপত্র' (সম্পাদক প্রমথ চৌধুরী) চলিত রীতির প্রবর্তন ঘটায়; 'শনিবারের চিঠি' (সম্পাদক সজনীকান্ত দাস) কল্লোলগোষ্ঠীর তীব্র সমালোচক ছিল; এবং 'কল্লোল' ছিল আধুনিক সাহিত্যিকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুখপত্র, তবে এর সাথে রবীন্দ্রনাথের এমন সরাসরি আশীর্বাণীর সম্পর্ক ছিল না।
32

কোনটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গ্রন্থ নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ব্যথার দান
  2. দোলনচাঁপা
  3. শিউলি মালা
  4. সোনার তরী

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

দোলনচাঁপা কবি কাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। তার অন্য কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো ব্যথার দান, শিউলি মালা, অগ্নিবীণা (কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ), সঞ্চিতা, বিষের বাশী ইত্যাদি। সোনার তরী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো সোনার তরী। কারণ এটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোনো গ্রন্থ নয়।
'সোনার তরী' বিখ্যাত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।
অন্যদিকে, ব্যথার দান (গল্পগ্রন্থ), দোলনচাঁপা (কাব্যগ্রন্থ) এবং শিউলি মালা (গল্পগ্রন্থ) — এই তিনটি গ্রন্থই আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম।
33

বাংলা ভাষায় প্রথম অভিধান সংকলন করেন কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
  2. রাজশেখর বসু
  3. হরিচরণ দে
  4. অশোক মুখোপাধ্যায়

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

উনিশ শতকের সূচনা থেকে বাংলা ভাষায় জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চা শুরু হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে একভাষিক বাংলা-বাংলা অভিধানের আবির্ভাব ঘটে। বাংলালিপিতে মুদ্রিত প্রথম বাংলা-বাংলা অভিধানের নাম বঙ্গভাষাভিধান। এর সংকলক রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ। ১৮১৭ সালে কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
বাংলা ভাষায় বাংলা শব্দের সমন্বয়ে প্রথম অভিধান সংকলন করেন পণ্ডিত রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ। তাঁর সংকলিত অভিধানটির নাম ছিল 'অভিধান' (বা বঙ্গভাষাভিধান)।
এটি সাধারণত ১৮১৭ সালের দিকে প্রকাশিত হয় এবং এটি বাংলা ভাষার প্রথম একভাষিক (Monolingual) অভিধান হিসেবে পরিচিত।
উল্লেখ্য, রাজশেখর বসু (পরশুরাম) হলেন বাংলা সাহিত্যের একজন বিখ্যাত রম্যলেখক। তাঁর সংকলিত অভিধানটির নাম 'চলন্তিকা', যা আধুনিক যুগের বহু পরে প্রকাশিত হয়।
হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সংকলন করেন বিশালাকার 'বঙ্গীয় শব্দকোষ'
34

সবচেয়ে কম বয়সে কোন লেখক বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শওকত আলী
  2. সেলিনা হোসেন
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. সৈয়দ শামসুল হক

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সৈয়দ শামসুল হক মাত্র ২৯ বছর বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছিলেন। বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাওয়া সাহিত্যিকদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে কম বয়সে এ পুরস্কার লাভ করেছেন। এছাড়া তিনি বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক এবং ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: সৈয়দ শামসুল হক। তিনিই বাংলা সাহিত্যে সবচেয়ে কম বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
সৈয়দ শামসুল হক জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৫ সালে এবং তিনি ১৯৬৬ সালে মাত্র ৩১ বছর বয়সে উপন্যাস শাখায় এই পুরস্কার অর্জন করেন।
অন্যান্য বিখ্যাত লেখকদের মধ্যে শওকত আলী ৩২ বছর বয়সে এবং সেলিনা হোসেন ৩৩ বছর বয়সে এই পুরস্কার পান। ফলে বয়সের দিক থেকে সৈয়দ শামসুল হক-ই সর্বকনিষ্ঠ।
এই প্রশ্নটি সরাসরি মুখস্থ নির্ভর হলেও সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
35

‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. নির্মলেন্দু গুণ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’ হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ। তার আরও কিছু কাজ হলো- অলৌকিক ইস্টিমার, জ্বলো চিতাবাঘ প্রভৃতি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: হুমায়ুন আজাদ
‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’ হলো আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ, প্রথাবিরোধী লেখক ও ভাষাবিজ্ঞানী হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয়।
হুমায়ুন আজাদ তার তীব্র সমালোচনামূলক এবং সরাসরি বক্তব্যের জন্য পরিচিত। এই কাব্যগ্রন্থটিও তার অন্যতম আলোচিত সৃষ্টি।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ সৈয়দ আলী আহসান (যেমন: একক সন্ধ্যায় বসন্ত), সুকান্ত ভট্টাচার্য (যেমন: ছাড়পত্র) এবং নির্মলেন্দু গুণ (যেমন: প্রেমাংশুর রক্ত চাই)— প্রত্যেকেই নিজ নিজ ধারার গুরুত্বপূর্ণ কবি হলেও, আলোচ্য গ্রন্থটির রচয়িতা নন।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
36

তেভাগা আন্দোলনকেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অক্টোপাস
  2. কালো বরফ
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. নাঢ়াই

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘নাঢ়াই’ উপন্যাসটির রচয়িতা শওকত আলী। এই উপন্যাসে তেভাগা আন্দোলনের চিত্র ফুটে উঠেছে। তার রচিত আরও কিছু উপন্যাস- পিঙ্গল আকাশ, যাত্রা, প্রদোষে প্রাকৃতজন ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো নাঢ়াই। এই উপন্যাসটি রচনা করেছেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক শওকত আলী
নাঢ়াই উপন্যাসে ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার উত্তরবঙ্গ (দিনাজপুর, রংপুর) অঞ্চলে সংঘটিত ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলন-এর প্রেক্ষাপট ও কৃষকদের জীবন সংগ্রামের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
তেভাগা আন্দোলন ছিল কৃষকদের দাবি অনুযায়ী উৎপাদিত ফসলের তিন ভাগের দুই ভাগ (তেভাগা) পাওয়ার আন্দোলন।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন বিষয়বস্তু ভিত্তিক: ক্রীতদাসের হাসি (শওকত ওসমান) একটি রূপক উপন্যাস; কালো বরফ (মাহমুদুল হক) দেশভাগ ও স্মৃতিকথাভিত্তিক এবং অক্টোপাস (শামসুর রাহমান) প্রেমমূলক উপন্যাস।
37

কাজী নজরুল ইসলামের মোট ৫টি গ্রন্থ বিভিন্ন সময়ে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার বাজেয়াপ্ত করে। কোন বইটি প্রথম বাজেয়াপ্ত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিষের বাঁশি
  2. যুগবাণী
  3. ভাঙার গান
  4. প্রলয় শিখা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধ গ্রন্থ ‘যুগবাণী’ (১৯২২) সালে ফৌজদারি বিধির ’৯৯ এ’ ধারানুসারে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধ কাব্য বিষের বাঁশি (১৯২৪)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: যুগবাণী
কাজী নজরুল ইসলামের লেখা প্রথম বাজেয়াপ্ত গ্রন্থ হলো যুগবাণী। এটি ছিল একটি প্রবন্ধ সংকলন এবং এটি ১৯২২ সালের নভেম্বরে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়। বাজেয়াপ্ত হওয়ার মূল কারণ ছিল এর তীব্র ব্রিটিশবিরোধী প্রবন্ধসমূহ।
নজরুলের মোট ৫টি গ্রন্থ ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল। এর মধ্যে 'বিষের বাঁশি' (১৯২৪) এবং 'ভাঙার গান' (১৯২৪) দ্বিতীয় ও তৃতীয় বাজেয়াপ্ত গ্রন্থ। 'প্রলয় শিখা' বাজেয়াপ্ত হয় সবচেয়ে পরে—১৯৩০ সালে।
38

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেই এই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি উপন্যাস রচনা করেছেন, যা ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটির নাম কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চৈতালী ঘূর্ণি
  2. রক্তের অক্ষর
  3. বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি
  4. 1971

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সর্বশেষ উপন্যাস ‘১৯৭১’। তিনি এটি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন রচনা করেছিলেন। তিনি তার ‘১৯৭১’ উপন্যাসে তুলে ধরেছেন একাত্তরের গ্রামীণ জীবনের চিত্র। এই উপন্যাসের মধ্যে লেখক দুটি স্বল্পদীর্ঘ উপন্যাস রচনা করেছেন। একটি ‘সুতপার তপস্যা’ অপরটি ‘একটি কালো মেয়ের কথা’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: 1971
বিখ্যাত ভারতীয় সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীনই (১৯৭১ সালে) এই মুক্তিযুদ্ধকে উপজীব্য করে উপন্যাসটি রচনা করেন।
উপন্যাসটির শিরোনাম '1971' এবং এটি ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। যুদ্ধকালীন মানবিক বিপর্যয়, উদ্বাস্তু মানুষের যন্ত্রণা এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এই উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু।
39

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ছেঁড়াতার
  2. চাকা
  3. বাকী ইতিহাস
  4. কী চাহ হে শঙ্খচিল

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কী চাহ হে শঙ্খচিল
এটি বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্যকার, অভিনেতা ও নির্দেশক মমতাজউদ্দিন আহমেদ রচিত একটি কালজয়ী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক। এই নাটকের মাধ্যমে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সাধারণ মানুষের সংগ্রাম ও জীবন-বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন প্রেক্ষাপটে লেখা:
ছেঁড়াতার: এটি তুলসী লাহিড়ী রচিত। এটি মূলত পঞ্চাশের দশকের বাংলার মন্বন্তর ও সামাজিক দুরবস্থা নিয়ে লেখা।
চাকা: এটি আধুনিক নাট্যকার সেলিম আল দীন রচিত। এখানে একটি লাশের পরিচয়কে কেন্দ্র করে মানুষের জাতিগত পরিচয় ও সামাজিক বাস্তবতাকে তুলে ধরা হয়েছে।
বাকী ইতিহাস: এটি ভারতীয় নাট্যকার বাদল সরকারের লেখা, যা অস্তিত্ববাদী সংকট ও মধ্যবিত্তের জীবন নিয়ে রচিত।
40

ইংরেজি ভাষায় জীবনানন্দ দাশের ওপর গ্রন্থ লিখেছেন কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ডব্লিউ বি ইয়েটস
  2. ক্লিনটন বি সিলি
  3. অরুন্ধতী রায়
  4. অমিতাভ ঘোষ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

জীবনানন্দ দাশের জীবন এবং কবিতার উপর প্রচুর গ্রন্থ লেখা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে, বাংলা ভাষায়। এর বাইরে ইংরেজিতে তার ওপর লিখেছেন ক্লিনটন বি সিলি, আ পোয়েট আপার্ট নামের একটি গ্রন্থে। ইংরেজি ছাড়াও ফরাসিসহ কয়েকটি ইউরোপীয় ভাষায় তার কবিতা অনূদিত হয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: ক্লিনটন বি সিলি
আমেরিকান অধ্যাপক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষক ক্লিনটন বি সিলি (Clinton B. Seely) ইংরেজি ভাষায় জীবনানন্দ দাশের ওপর সবচেয়ে প্রামাণ্য গ্রন্থটি রচনা করেন।
গ্রন্থটির নাম: 'A Poet Apart: A Literary Biography of Jibanananda Das'। এই বইটি জীবনানন্দ দাশের জীবন, সাহিত্য এবং তাঁর সাহিত্যিক দর্শনকে বহির্বিশ্বের সামনে তুলে ধরে।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, ডব্লিউ বি ইয়েটস ছিলেন একজন আইরিশ কবি এবং তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের ভূমিকা লিখেছিলেন। অরুন্ধতী রায়অমিতাভ ঘোষ আধুনিক ভারতীয় ইংরেজী সাহিত্যের খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক, যারা জীবনানন্দ দাশের সাহিত্য গবেষণা করেননি।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
41

‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকাটি কোন স্থান থেকে প্রকাশিত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ঢাকার পল্টন
  2. নওগাঁর পতিসর
  3. কুষ্টিয়ার কুমারখালী
  4. ময়মনসিংহের ত্রিশাল

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

গ্রামবার্ত্তা পত্রিকাটি ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে প্রথম প্রকাশিত হয়। এটি হরিনাথ মজুমদার বা কাঙাল হরিনাথের সম্পাদনায় অবিভক্ত বাংলার কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থেকে প্রকাশিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কুষ্টিয়ার কুমারখালী
‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকাটি ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে প্রথম প্রকাশিত হয়। এটি ছিল তৎকালীন সময়ে গ্রামীণ সমাজের প্রতিচ্ছবি, যেখানে সাধারণ মানুষের ওপর জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারের চিত্র তুলে ধরা হতো।
এই বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কাঙাল হরিনাথ মজুমদার (আসল নাম: হরিনাথ মজুমদার)। পত্রিকাটি প্রথমদিকে মাসিক হিসেবে বের হলেও পরে এটি পাক্ষিক এবং অবশেষে সাপ্তাহিক পত্রিকায় পরিণত হয়।
পত্রিকাটি কুষ্টিয়ার কুমারখালীর মথুরানাথ প্রেস (সংক্ষেপে এম.এন. প্রেস) থেকে প্রকাশিত হতো।
অন্যান্য বিকল্প (যেমন ঢাকা বা ময়মনসিংহ) এই পত্রিকার প্রকাশের স্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়।
42

‘পরানের গহীন ভিতর’ কাব্যের কবি কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অসীম সাহা
  2. অরুণ বসু
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. সৈয়দ শামসুল হক

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘পরানের গহীন ভিতর’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। কাব্যগ্রন্থটি আঞ্চলিক ভাষারীতিতে রচিত। তার আরও কিছু কাব্যগ্রন্থ- একদা এক রাজ্যে, আমি জন্মগ্রহণ করিনি, ধ্বংসস্তূপে কবি ও নগর ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সৈয়দ শামসুল হক। ‘পরানের গহীন ভিতর’ (প্রকাশকাল: ১৯৮০) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী কবি ও লেখক সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
এই কাব্যগ্রন্থের বিশেষত্ব হলো, এতে তিনি উত্তরবঙ্গের (রংপুর অঞ্চলের) আঞ্চলিক ভাষা ও শব্দ দক্ষতার সাথে ব্যবহার করেছেন, যা বাংলা কবিতায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করে।
অন্যান্য অপশন যেমন আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ বিখ্যাত তার 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যের জন্য; তাই এই উত্তরগুলো ভুল।
43

ভাষা আন্দোলন নিয়ে লেখা কবিতা কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হুলিয়া
  2. তোমাকে অভিবাদন প্রিয়া
  3. সোনালি কাবিন
  4. স্মৃতিস্তম্ভ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ভাষা আন্দোলন নিয়ে লেখা ‘স্মৃতিস্তম্ভ’ কবিতাটি আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: স্মৃতিস্তম্ভ

কবিতাটি ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আলাউদ্দিন আল আজাদ রচনা করেন। এটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত প্রথম দিকের বিখ্যাত কবিতাগুলোর অন্যতম।

এই কবিতাটি প্রথমে 'একুশের কবিতা' নামে প্রকাশিত হয়েছিল এবং পরে 'স্মৃতিস্তম্ভ' শিরোনামে তাঁর কাব্যগ্রন্থ 'মানচিত্র'-এ সংকলিত হয়।

অন্যদিকে,

হুলিয়া: কবি সিকান্দার আবু জাফর-এর বিখ্যাত প্রতিবাদী কবিতা। এটি ভাষা আন্দোলন সংক্রান্ত নয়।

তোমাকে অভিবাদন প্রিয়া: আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান-এর প্রেমের ও নাগরিক চেতনার কবিতা।

সোনালি কাবিন: কবি আল মাহমুদ-এর বিখ্যাত সনেটগ্রন্থ, যা বাংলা সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করে।
44

পাঁচালিকার হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি কার ছিল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দাশরথি রায়
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. ফকির গরীবুল্লাহ
  4. রামরাম বসু

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

পাঁচালি গান বাংলার প্রাচীন লৌকিক সংগীতগুলোর অন্যতম। এই গান প্রধানতঃ সনাতন ধর্মীদের বিভিন্ন আখ্যান বিষয়ক বিষয়বস্তু সম্বলিত ও তাদের তুষ্টির জন্য পরিবেশিত হয়। দাশরথি রায় ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙ্গালি স্বভাবকবি এবং সর্বাধিক খ্যাত পাঁচালিকার।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: দাশরথি রায়
পাঁচালী হলো এক প্রকার গীতি-আলেখ্য বা কাব্য যা সাধারণত গেয়ে শোনানো হয়। এটি মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য বা কীর্তনের একটি আধুনিক রূপ।
উনিশ শতকের প্রথম দিকে (১৮০৪-১৮৫৭) দাশরথি রায় তাঁর রচিত পাঁচালীর মাধ্যমে সমাজে অত্যন্ত খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর পাঁচালীর সুর ছিল মূলত পৌরাণিক ও দেবদেবীমূলক, কিন্তু এর মধ্যে সমসাময়িক সমাজচিত্র এবং কৌতুকরসের সংমিশ্রণ থাকত। এর ফলে তিনি ‘পাঁচালিকার’ হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি লাভ করেন।
অন্যান্য অপশনসমূহ:
রামরাম বসু: ইনি ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখক। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১) বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত। তিনি পাঁচালিকার নন।
ফকির গরীবুল্লাহ: তিনি মধ্যযুগের কবি এবং দোভাষী পুঁথি সাহিত্যের লেখক। তাঁর বিখ্যাত কাব্য 'আমির হামজা'
45

চারণকবি হিসেবে বিখ্যাত কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আলাওল
  2. চন্দ্রাবতী
  3. মুকুন্দদাস
  4. মুক্তারাম চক্রবর্তী

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম জাগাতে, দেশের পরাধীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার প্রেরণা জোগাতে যেসব কবিরা গান গেয়ে ও যাত্রাভিনয় করে স্থানে স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছেন, তাদেরকে চারণ কবি বলা হয়। মুকুন্দ দাস স্বদেশী ও অসহযোগ আন্দোলনের সময় বহু স্বদেশী বিপ্লবাত্মক গান ও নাটক রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি ছিলেন স্বদেশী যাত্রার প্রবর্তক। প্রকৃতপক্ষে তিনি একজন চারণকবি ছিলেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মুকুন্দদাস
তাঁর আসল নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর দে। তিনি স্বদেশী আন্দোলন (বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন) চলাকালীন সময়ে দেশাত্মবোধক গান রচনা ও গেয়ে জনগণকে ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করতেন।
গান গেয়ে বা কবিতা রচনা করে যারা সমাজের বিভিন্ন স্তরে ঘুরে বেড়ান এবং মানুষকে সচেতন করেন, তাঁদের চারণ বা বার্ড কবি বলা হয়। মুকুন্দদাস তাঁর গানের মাধ্যমে এই ভূমিকা পালন করায় তাঁকে ‘চারণকবি’ উপাধি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, আলাওল ছিলেন মধ্যযুগের কবি (পদ্মাবতী, সতীময়না)। চন্দ্রাবতী হলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি (মলুয়া, দস্যু কেনারামের পালা)।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
46

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নষ্টনীড়’ গল্পের একটি বিখ্যাত চরিত্র-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিনোদিনী
  2. হৈমন্তী
  3. আশালতা
  4. চারুলতা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: চারুলতা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত গল্প ‘নষ্টনীড়’ (১৮৯৩) -এর কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো চারুলতা। চারুলতার স্বামী ভূঁদেব এবং তাঁর দেবর অমলের সাথে চারুলতার মানসিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এই গল্পের মূল উপজীব্য বিষয়।
অন্যান্য চরিত্র প্রসঙ্গে: বিনোদিনী হলো বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস ‘চোখের বালি’-এর কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র।
হৈমন্তী হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্য একটি বিখ্যাত গল্প ‘হৈমন্তী’-এর প্রধান চরিত্র।
আশালতা হলো শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘গৃহদাহ’ উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র।
47

ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমিকায় লেখা উপন্যাস কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভূমিপুত্র
  2. মাটির জাহাজ
  3. কাঁটাতারে প্রজাপতি
  4. চিলেকোঠার সেপাই

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই। প্রধান চরিত্র হলো- ওসমান, খিজির, আনোয়ার প্রমূখ। এই উপন্যাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পূর্ণরূপ মেলে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: চিলেকোঠার সেপাই
উপন্যাসটি রচনা করেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী ঔপন্যাসিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
এই উপন্যাসের মূল পটভূমি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র, বিশেষত হাড্ডি খিজির, সেই সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা, জনজীবনের ক্ষোভ এবং সামাজিক চেতনাকে তুলে ধরেছে।
অন্যান্য বিকল্পগুলি ভুল: ভূমিপুত্র এবং মাটির জাহাজ—দুটিই বিখ্যাত ঔপন্যাসিক আবু ইসহাক রচিত। কাঁটাতারে প্রজাপতি—এটি সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
48

বিধবার প্রেম নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘শেষ প্রশ্ন’
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চোখের বালি’
  3. কাজী নজরুল ইসলামের ‘কুহেলিকা’
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কপালকুণ্ডলা’

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

চোখের বালি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিকমূলক সামাজিক উপন্যাস। বাঙালি সমাজ ও পরিবারের বিচিত্র বিশ্লেষণ ও বিধবার ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র মেলে। প্রধান চরিত্রগুলো- মহেন্দ্র, বিনোদিনী, আশালতা ও বিহারী।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চোখের বালি’
‘চোখের বালি’ উপন্যাসটি (প্রকাশ: ১৯০৩) বাংলা সাহিত্যের এক মাইলফলক। এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো শিক্ষিত বিধবা নারী বিনোদিনী। বিনোদিনী চরিত্রটির মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তৎকালীন সমাজের বিধবা নারীর প্রেম, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা অত্যন্ত সার্থকভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস হিসেবেও পরিচিত।
অন্যান্য বিকল্পের মধ্যে, ‘কপালকুণ্ডলা’ বঙ্কিমচন্দ্রের রোমান্টিক ট্র্যাজেডি; ‘শেষ প্রশ্ন’ শরৎচন্দ্রের নারী স্বাধীনতার প্রেক্ষাপটে রচিত; এবং ‘কুহেলিকা’ নজরুলের রাজনৈতিক পটভূমির উপন্যাস। এগুলো সরাসরি বিধবার প্রেম বিষয়ক নয়।
49

জেলে জীবন কেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গঙ্গা
  2. পুতুলনাচের ইতিকথা
  3. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  4. গৃহদাহ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

গঙ্গা সমরেশ বসু রচিত একটি ধ্রুপদী বাংলা উপন্যাস। ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত নদীকেন্দ্রিক এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয় দক্ষিণবঙ্গ, বিশেষত অবিভক্ত ২৪ পরগনা জেলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের (মাছমারা) জীবনসংগ্রামের কাহিনি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গঙ্গা। এটি প্রখ্যাত সাহিত্যিক সমরেশ বসু রচিত একটি বিখ্যাত আঞ্চলিক উপন্যাস।
এই উপন্যাসে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি নদীর (গঙ্গা) তীরবর্তী জেলে সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা, সংগ্রাম, সংস্কার ও দৈনন্দিন চিত্র অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
অন্যান্য বিকল্পগুলোর মধ্যে, 'পুতুলনাচের ইতিকথা' (মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়) গ্রামীণ জীবনের জটিল মনস্তত্ত্ব ও কুসংস্কার নির্ভর উপন্যাস।
'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' (তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়) সাঁওতাল পরগনার সীমান্তবর্তী কৃষিজীবী 'কোঁচ' সম্প্রদায়ের জীবন ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে রচিত।
'গৃহদাহ' (শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) হলো একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস, যেখানে অচলা, সুরেশ ও মহিমের জটিল সম্পর্ক দেখানো হয়েছে।
50

বাংলা সাহিত্যে ‘কালকূট’ নামে পরিচিত কোন লেখক?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সমরেশ মজুমদার
  2. শওকত ওসমান
  3. সমরেশ বসু
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সমরেশ বসু
বাংলা সাহিত্যে সমরেশ বসু তাঁর ভ্রমণকাহিনি এবং অন্যান্য লেখার জন্য 'কালকূট' ছদ্মনামটি ব্যবহার করতেন। এছাড়া তিনি 'ভ্রমর' নামেও লিখতেন।
অন্যদিকে, অপশনে থাকা শওকত ওসমানের পরিচিত ছদ্মনাম হলো ‘আফলাতুন’, যা প্রায়শই পরীক্ষায় আসে। সমরেশ মজুমদার এবং আলাউদ্দিন আল আজাদ এই ছদ্মনামে পরিচিত নন।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
51

সবুজপত্র পত্রিকাটির সম্পাদক কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শেখ ফজলুল করিম
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বিংশ শতাব্দির প্রথম ভাগে বাংলা ভাষায় অন্যতম প্রধান সাময়িক পত্রিকা ছিলো সবুজ পত্র। প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হতো। এর প্রথম প্রকাশ বাংলা ১৩২১ সালে (ইংরেজি: ১৯১৪ খ্রি.)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো প্রমথ চৌধুরী (অপশন: গ)।
বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্য রীতির প্রবর্তন ও প্রসারে 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি ছিল প্রধানতম মাধ্যম। এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন প্রমথ চৌধুরী
এই পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালের এপ্রিল মাসে। প্রমথ চৌধুরী আমৃত্যু (১৯১৪-১৯২৭) এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন না। তবে তিনি ছিলেন এর প্রধান লেখক ও পৃষ্ঠপোষক। 'সবুজপত্র'-এর মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের অনেক বিখ্যাত রচনা প্রথম প্রকাশিত হয়।
52

‘কিত্তনখোলা’ নাটকটির বিষয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. যন্ত্রণাদগ্ধ শহরজীবন
  2. স্নিগ্ধ-শ্যামল প্রকৃতির রূপ
  3. লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি
  4. দেশবিভাগজনিত জীবন যন্ত্রণা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন রচিত ‘কিত্তনখোলা’ নাটকটির বিষয়বস্তু লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি
‘কিত্তনখোলা’ নাটকটি রচনা করেন আধুনিক বাংলা নাটকের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব সেলিম আল দীন (Selim Al Deen)।
এই নাটকটির মূল উপজীব্য বিষয় হলো যাত্রা শিল্পীদের জীবন সংগ্রাম, দুঃখ-দুর্দশা এবং গ্রামীণ লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি। এটি বাংলার লোকজ সংস্কৃতির একটি চমৎকার প্রতিচ্ছবি।
সেলিম আল দীন তাঁর নাটকে গ্রামীণ ও প্রান্তিক মানুষের জীবনকে অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন, যা তাঁকে বাংলা নাট্যসাহিত্যে এক ভিন্নমাত্রা দিয়েছে।
53

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নভেল কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ক্রীতদাসের হাসি
  2. জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
  3. কান্নাপর্ব
  4. প্রদোষে প্রাকৃতজন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ বাঙালি লেখক শহীদুল জহির রচিত বাংলা উপন্যাস। এটি ১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাওলা ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত জহিরের প্রথম উপন্যাস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিতে রচিত এটি একটি নাতিদীর্ঘ উপন্যাস।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
এটি প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একমাত্র দীর্ঘ উপন্যাস। উপন্যাসটি সরাসরি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত, যেখানে যুদ্ধকালীন সমাজের রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে।
অপশনগুলোর অন্যান্য সাহিত্যকর্ম:
ক্রীতদাসের হাসি: এটি শওকত ওসমান রচিত একটি বিখ্যাত রূপকধর্মী উপন্যাস। এটি আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী শাসনকে ব্যঙ্গ করে লেখা। এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নয়।
প্রদোষে প্রাকৃতজন: এটি শওকত আলী রচিত। এটি প্রাচীন বাংলার সেন শাসনের পতনকালে রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস। এটিও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নয়।
54

হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পণ্ডিত
  2. বিদ্যাসাগর
  3. শাস্ত্রজ্ঞ
  4. মহামহোপাধ্যায়

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের আবিষ্কারক হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৮৯৮ সালে ‘মহামহোপাধ্যায়’ এবং ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট উপাধি পান। তার আসল নাম ছিল হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য। তাঁর জন্মস্থান নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মহামহোপাধ্যায়
পাণ্ডিত্যপূর্ণ গবেষণা ও অসাধারণ জ্ঞানচর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার হরপ্রসাদ শাস্ত্রীকে 'মহামহোপাধ্যায়' উপাধিতে ভূষিত করেছিল। তিনি ১৯১১ সালে এই সম্মান লাভ করেন।
উল্লেখযোগ্য যে, পণ্ডিত উপাধিটি বিভিন্ন প্রাচীন শিক্ষকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো, তবে এটি হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর বিশেষ উপাধি নয়। অন্যদিকে, বিদ্যাসাগর উপাধিটি প্রদান করা হয়েছিল সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে
55

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী নিয়ে লেখা উপন্যাস কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ‘তেইশ নম্বর তৈলচিত্র’
  2. ‘ক্ষুধা ও আশা’
  3. ‘কর্ণফুলি’
  4. ‘ধানকন্যা’

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

উপজাতীদের জীবন কাহিনী অবলম্বনে আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস ‘কর্ণফুলী’। এটি একটি আঞ্চলিক উপন্যাস এবং এটির জন্য তিনি ইউনেস্কো পুরস্কার পেয়েছিলেন। ‘তেইশ নম্বর তৈলচিত্র’ আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস এবং এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। ‘ক্ষুধা ও আশা’ উপন্যাসের রচয়িতাও তিনি; ‘ধান কন্যা’ তার রচিত ছোট গল্প। যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষ পীড়িত সামাজিক অবস্থায় সংগ্রামী মানুষের চিত্র ‘ক্ষুধা ও আশা’ উপন্যাসে ফুটে উঠেছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ‘কর্ণফুলি’
এই উপন্যাসটি লিখেছেন বিখ্যাত সাহিত্যিক আলাউদ্দিন আল আজাদ
এটি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা জাতিগোষ্ঠীর জীবন, প্রকৃতি ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে।
নদীকে (কর্ণফুলি) কেন্দ্র করে তাদের ঐতিহ্য, জীবনসংগ্রাম এবং প্রেম-বিরহ এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
অন্যান্য বিকল্পগুলোর মধ্যে ‘তেইশ নম্বর তৈলচিত্র’ এবং ‘ক্ষুধা ও আশা’ — দুটোই আলাউদ্দিন আল আজাদের লেখা, কিন্তু সেগুলোর বিষয়বস্তু যথাক্রমে মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী নিয়ে তাদের জীবনধর্মী উপন্যাস হলো কেবল ‘কর্ণফুলি’।
56

‘নীল লোহিত’ কোন লেখকের ছদ্মনাম?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অরুণ মিত্র
  2. সমরেশ বসু
  3. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. সমরেশ মজুমদার

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ‘নীললোহিত’, ‘সনাতন পাঠক’, ‘নীল উপাধ্যায়’ ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম অধুনা বাংলাদেশের মাদারীপুরে। সমরেশ বসু ‘কালকূট’, ‘ভ্রমর’ ছদ্মনামে লিখতেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
নীল লোহিত বাংলা সাহিত্যের অত্যন্ত জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক, কবি ও সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত ও জনপ্রিয় ছদ্মনাম।
এই ছদ্মনামে তিনি বহু কবিতা, উপন্যাস এবং কলাম লিখেছেন, যার মধ্যে তাঁর বিখ্যাত চরিত্র নীলু বা নীললোহিত-এর ভ্রমণ কাহিনিগুলো বিশেষভাবে পরিচিত।
অন্যান্য অপশনগুলো গুরুত্বপূর্ণ, তবে তাদের ছদ্মনাম ভিন্ন। যেমন: সমরেশ বসু-র বিখ্যাত ছদ্মনাম হলো কালকূটভ্রমর
57

কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ‘কাঁদো নদী কাঁদো’
  2. ‘নেকড়ে অরণ্যে’
  3. ‘রাঙা প্রভাত’
  4. ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘নেকড়ে অরণ্য’ উপন্যাসে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নারীদের উপর নির্যাতনের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন জীবনবাদী কথাশিল্পী শওকত ওসমান। তাঁর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক আরও তিনটি উপন্যাস ‘জাহান্নম হইতে বিদায়’, ‘দুই সৈনিক’ ও ‘জলাংগী’। ‘কাঁদো নদী কাঁদো’, ‘রাঙ্গা প্রভাত’ এবং ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ উপন্যাসের লেখক যথাক্রমে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, আবুল ফজল এবং শওকত আলী।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো— ‘নেকড়ে অরণ্যে’
এটি প্রখ্যাত সাহিত্যিক শওকত ওসমান রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। এই উপন্যাসে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মমতা ও পৈশাচিকতার চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আরও কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাস হলো: শামসুর রাহমানের ‘নেই’, শওকত ওসমানের ‘জাহান্নাম হইতে বিদায়’, সেলিনা হোসেনের ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, আনোয়ার পাশার ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ (এটি অসমাপ্ত উপন্যাস)।
58

“তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শত বার/জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।” -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতার অংশ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ‘অনন্ত প্রেম’
  2. ‘উপহার’
  3. ‘ব্যক্ত প্রেম’
  4. ‘শেষ উপহার’

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

প্রশ্নে উল্লিখিত চরণ দুটি অনন্তপ্রেম কবিতার অংশ। কবিতাটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানসী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। এই কবিতায় তিঁনি নিজের যৌবন থেকে শেষ জীবন পর্যন্ত নিজের ভালোলাগা বা ভালোবাসার প্রতিটি মুহুর্তকে তুলে ধরেছেন।

ব্যাখ্যা

উদ্ধৃত চরণটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি অত্যন্ত বিখ্যাত ও আবেগপূর্ণ লাইন।
এই লাইনটি তাঁর ‘অনন্ত প্রেম’ নামক কবিতার অংশ। কবিতাটির মূল ভাব হলো—প্রেমিক তার প্রেমাস্পদকে শুধু এই জন্মে নয়, যুগে যুগে, জন্ম-জন্মান্তর ধরে ভালোবেসে আসছে এবং ভবিষ্যতেও বাসব।
কবিতার নামের মধ্যেই এই চিরন্তন ভালোবাসার ধারণাটি প্রতিফলিত হয়েছে, যা ‘অনন্ত’ শব্দটি দ্বারা নির্দেশিত।
এটি ‘উপহার’, ‘ব্যক্ত প্রেম’ বা ‘শেষ উপহার’ কবিতার অংশ নয়।
59

‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’ কাব্যগ্রন্হের কবি কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রফিক আজাদ
  2. শঙ্খ ঘোষ
  3. শক্তি চট্রোপাধ্যায়
  4. শামসুর রহমান

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’ কাব্যগ্রন্থটির কবি শঙ্খ ঘোষ (৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৩২-২১ এপ্রিল, ২০২১)। গ্রন্থটি ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত হয়। দিনগুলি রাতগুলি (১৯৫৬); এখন সময় নয় (১৯৬৭); জলই পাষাণ হয়ে আছে (২০০৪) প্রভৃতি তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: শঙ্খ ঘোষ
‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা হলেন ভারতের অন্যতম প্রধান আধুনিক কবি শঙ্খ ঘোষ
এই কাব্যগ্রন্থটি কবির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি এবং এর মাধ্যমে আধুনিক সমাজের বস্তুবাদী মানসিকতা ও জীবনের জটিলতা তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যান্য বিকল্পগুলিও বিখ্যাত কবির নাম হলেও তারা এই বিশেষ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা নন। যেমন, শামসুর রহমান (বাংলাদেশের প্রধান আধুনিক কবি) বা শক্তি চট্রোপাধ্যায় (কলকাতার আরেক আধুনিক কবি)।
60

কত সালে ‘দুর্গেশনন্দিনী’ উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 1860
  2. 1861
  3. 1865
  4. 1867

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’ ১৮৬৫ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। এটি সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস। তাঁর আরও কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’, ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’, ‘বিষবৃক্ষ’ প্রভৃতি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৮৬৫
বাংলা সাহিত্যের দিকপাল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮–১৮৯৪) রচিত প্রথম উপন্যাস হলো ‘দুর্গেশনন্দিনী’। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক বা সফল উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃত।
বঙ্কিমচন্দ্র যখন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, তখন এই উপন্যাসটি লিখেছিলেন। এর মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসের জগতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।
61

‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ কার লেখা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. এস. ওয়াজেদ আলী
  2. আবুল হাসেম
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. আবুল হুসেন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ আবুল মনসুর আহমদ এর বিখ্যাত গ্রন্থ। এতে আজকের বাংলাদেশ নামে পরিচিত ভূখণ্ডটির ১৯২০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ইতিহাস আছে। তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু, আয়না, ফুড কনফারেন্স, গালিভারের সফর নামা, আসমানি পর্দা, হুজুর কেবলা, আবে হায়াত ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: আবুল মনসুর আহমদ
‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ (প্রকাশকাল: ১৯৬৮) হলো খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক এবং সাহিত্যিক আবুল মনসুর আহমদ-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
এই গ্রন্থটিতে তিনি ১৯০৪ সাল থেকে শুরু করে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বাংলার (পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান) রাজনীতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের এক প্রামাণ্য ইতিহাস তুলে ধরেছেন। এটি বিসিএস পরীক্ষার জন্য একটি 'অবশ্যপাঠ্য' তথ্য।
অন্যান্য বিকল্পের মধ্যে এস. ওয়াজেদ আলী ছিলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক (যেমন: ভবিష్యতের বাঙালি), কিন্তু তিনি এই আত্মজীবনীর রচয়িতা নন।
62

বাংলা সাহিত্যে প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিকের নাম কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বেগম রোকেয়া
  2. কাদম্বরী দেবী
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. নূরুন্নাহার ফয়জুন্নেসা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক স্বর্ণকুমারী দেবী। ১৮৭৬ সালে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘দীপনির্বাণ’ প্রকাশিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: স্বর্ণকুমারী দেবী
তিনি ছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অগ্রজা (বড় বোন)। তিনি ১৮৭৬ সালে তাঁর প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ' রচনা করেন। এর মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
অন্যান্য অপশনসমূহ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই প্রশ্নের জন্য সঠিক নয়। যেমন— বেগম রোকেয়া ছিলেন প্রধানত প্রবন্ধকার, সমাজ সংস্কারক ও নারীবাদী লেখিকা।
কাদম্বরী দেবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইয়ের স্ত্রী এবং ঠাকুর পরিবারের ঘনিষ্ঠ হলেও সাহিত্যের জন্য পরিচিত নন।
63

‘মানুষের মৃত্যু হলে তবুও মানব থেকে যায়’ কে রচনা করেন এই কাব্যাংশ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. সমর সেন
  4. জীবনানন্দ দাশ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

প্রশ্নে উল্লিখিত কাব্যাংশটি জীবনানন্দ দাশ রচিত ‘মানুষের মৃত্যু’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। কবি তার মৃত্যুভাবনা থেকেই কবিতাটি লিখেছিলেন। কবিতাটি স্থান পেয়েছে ‘জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা’ সংকলনে। কবির মৃত্যুর কয়েকমাস পূর্বে ১৯৫৪ সালের মে মাসে এই কাব্যটি প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯৫৫ সালে শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্হটি ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: জীবনানন্দ দাশ
প্রদত্ত কাব্যাংশটি (‘মানুষের মৃত্যু হলে তবুও মানব থেকে যায়’) বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান আধুনিক কবি জীবনানন্দ দাশের লেখা।
উদ্ধৃত লাইনটি তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘কবির মৃত্যু’-এর অংশ। কবিতাটি ‘সাতটি তারার তিমির’ (প্রকাশ: ১৯৪৮) কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
কবিতাটির মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, ব্যক্তি মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী হলেও, তার মানবসত্তা বা মনুষ্যত্বের আদর্শ সমাজে চিরকাল জীবিত থাকে।
অন্যান্য অপশন যেমন—সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, প্রেমেন্দ্র মিত্র বা সমর সেন পঞ্চপাণ্ডব গোষ্ঠীর কবি হলেও, এই গভীর দার্শনিক ও প্রকৃতিঘনিষ্ঠ মানবতাবাদের প্রকাশ জীবনানন্দ দাশের সাহিত্যেই সর্বাধিক দেখা যায়।
64

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসগর কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চৌবেরিয়া গ্রাম, নদীয়া
  2. কাঁঠালপাড়া গ্রাম, চব্বিশ পরগনা
  3. বীরসিংহ গ্রাম, মেদিনীপুর
  4. দেবানন্দপুর গ্রাম, হুগলি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

১৮২০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ সেপ্টেম্বর (১২২৭ বঙ্গাব্দের ১২ আশ্বিন, মঙ্গলবার) ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রেসিডেন্সির বীরসিংহ গ্রামে ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় শর্মা জন্মগ্রহণ করেন।এই গ্রামটি অধুনা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত হলেও, সেই যুগে ছিল হুগলি জেলার অন্তর্ভুক্ত। ঈশ্বরচন্দ্রের পিতার নাম ছিল ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাতার নাম ছিল ভগবতী দেবী। বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের আদি নিবাস ছিল অধুনা হুগলি জেলার বনমালীপুর গ্রাম। ঈশ্বরচন্দ্রের পিতামহ রামজয় তর্কভূষণ ছিলেন সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে সুপণ্ডিত ব্যক্তি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বীরসিংহ গ্রাম, মেদিনীপুর
বাংলা গদ্যের জনক এবং সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর অবিভক্ত বাংলার মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মাতার নাম ভগবতী দেবী।
অন্যান্য অপশনগুলো গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিকদের জন্মস্থান, যা প্রায়শই পরীক্ষায় আসে:
কাঁঠালপাড়া গ্রাম, চব্বিশ পরগনা: এটি সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মস্থান।
দেবানন্দপুর গ্রাম, হুগলি: এটি বিখ্যাত ঔপন্যাসিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মস্থান।
65

‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠিত হয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৯ ফেব্রুয়ারী, ১৯২৬
  2. ১৯ জানুয়ারি, ১৯২৬
  3. ১৯ মার্চ, ১৯২৬
  4. ২৬ মার্চ, ১৯২৭

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি। এই সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সূত্রপাত হয় ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের। এটির অগ্রদূত ছিল কাজী আব্দুল ওদুদ এবং মুখপত্র ছিল ‘শিখা’ পত্রিকা। উল্লেখ্য ‘শিখা’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৯ জানুয়ারি, ১৯২৬
‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ ছিল তৎকালীন ঢাকার একটি প্রগতিশীল ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন, যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯ জানুয়ারি, ১৯২৬ তারিখে। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল-এ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
এই সংগঠনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কুসংস্কার ও গোঁড়ামি থেকে সমাজকে মুক্ত করে ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’ (Liberation of Intellect) প্রতিষ্ঠা করা।
অন্যান্য তারিখগুলো (যেমন ১৯ ফেব্রুয়ারী, ১৯২৬ বা ১৯ মার্চ, ১৯২৬) প্রতিষ্ঠার তারিখ হিসেবে সঠিক নয়, যদিও এগুলো একই বছরের কাছাকাছি সময়ের অপশন।
এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে সাহিত্যগোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়, তা ‘শিখা গোষ্ঠী’ নামে পরিচিত।
66

সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ‘শনিবারের চিঠি’
  2. রবিবারের ডাক
  3. বিজলি
  4. বঙ্গদর্শন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘শনিবারের চিঠি’ এ পত্রিকাটি সম্পদনা করেন সজনীকান্ত দাস। ছাড়াও তিনি বঙ্গশ্রী, শারদীয়া আনন্দবাজার পত্রিকা, অলকা, প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। এছাড়াও চিত্রলেখা, বিজলী, যুগবাণী, যুগান্তর প্রভৃতি পত্রিকার প্রকাশনায় তার ভূমিকা ছিলো।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ‘শনিবারের চিঠি’
সজনীকান্ত দাস (১৯০০–১৯৬২) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একজন অন্যতম সাহিত্য সমালোচক, কবি ও সম্পাদক। তিনি মূলত তাঁর ব্যঙ্গাত্মক সাহিত্য ও তীক্ষ্ণ সমালোচনার জন্য বিখ্যাত ছিলেন।
তিনি ১৯৩২ সাল থেকে ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এই পত্রিকাটি সম্পাদনা করেই তিনি ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। পত্রিকাটি বাংলা সাহিত্যের কল্লোল গোষ্ঠী ও আধুনিকতা নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপমূলক সমালোচনা করত।
অন্যান্য বিকল্পের ব্যাখ্যা:
বঙ্গদর্শন: এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত পত্রিকা (প্রকাশ: ১৮৭২)।
বিজলি: এটি ১৯২১ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। এই পত্রিকাতেই কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
67

বাংলা আধুনিক উপন্যাস-এর প্রবর্তক ছিলেন–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

প্যারীচাঁদ মিত্র বা টেকচাঁদ ঠাকুর কর্তৃক ১৮৫৮ সালে রচিত ‘আলালের ঘরের দুলাল’কে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে অবহিত করা হয়। সাধু ও কথ্য ভাষার মিশ্রণে আলালী ভাষায় তিনি এ উপন্যাস রচনা করেন। কিন্তু এ উপন্যাসটি সার্থক উপন্যাসে পরিণত হতে পারেনি। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৬৫ সালে রচনা করেন ‘দুর্গেশনন্দিনী’ উপন্যাস যেটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস হিসেবে আবির্ভূত হয়। পরবর্তীতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আরও কিছু উপন্যাস রচনা করে বাংলা উপন্যাসের জগতকে সমৃদ্ধ করেন। তার রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরাণী, সীতারাম, কপালকুণ্ডলা, বিষবৃক্ষ, মৃণালিনী, চন্দ্রশেখর, রজনী, কৃষ্ণকান্তের উইল, রাজসিংহ ইত্যাদি। আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরাণী ও সীতারামকে তার ত্রয়ী উপন্যাস বলা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
বাংলা সাহিত্যে উপন্যাসকে আধুনিক ও শিল্পসম্মত কাঠামোয় প্রতিষ্ঠা করার জন্য বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বাংলা আধুনিক উপন্যাসের প্রবর্তক’ বলা হয়।
তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)-এর মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যে পাশ্চাত্য আদর্শে প্রথম সার্থক উপন্যাস রচনা করেন, যা আধুনিক উপন্যাসের ভিত্তি স্থাপন করে।
যদিও প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮)-কে বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস হিসেবে ধরা হয়, কিন্তু এর ভাষা চলিত হলেও তা আধুনিক উপন্যাসের কাঠামোগত গভীরতা, চরিত্রায়ন ও শৈল্পিক মান অর্জন করতে পারেনি।
68

‘কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যাবেলায় দীপ জ্বালার আগে সকালবেলায় সলতে পাকানো’- বাক্যদ্বয় কোন রচনা থেকে উদ্ধৃত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নৌকাডুবি
  2. চোখের বালি
  3. যোগাযোগ
  4. শেষের কবিতা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

‘কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যাবেলায় দীপ জ্বালার আগে সকালবেলায় সলতে পাকানো।’ বাক্যদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘যোগাযোগ’ উপন্যাসের প্রথম অধ্যায় থেকে নেয়া হয়েছে। ১৯২৭ সালে উপন্যাসটি মাসিক ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় তিন পুরুষ নামে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কুমুদিনী ও মধুসূদন। নৌকাডুবি, চোখের বালি ও শেষের কবিতা উপন্যাসের রচয়িতাও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

ব্যাখ্যা

উদ্ধৃত বাক্যদ্বয়টি (কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যাবেলায় দীপ জ্বালার আগে সকালবেলায় সলতে পাকানো) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত সামাজিক উপন্যাস ‘যোগাযোগ’ থেকে নেওয়া হয়েছে।
উপন্যাসটির শুরুতেই এই গভীর তাৎপর্যপূর্ণ কথাগুলি বলা হয়েছে। এই উক্তির মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ বোঝাতে চেয়েছেন যে, জীবনের কোনো বড়ো ঘটনার (যেমন—মধুসূদন ও কুমুদিনীর সম্পর্কের জটিলতা) সূচনা হঠাৎ করে হয় না, এর জন্য পূর্বাপর একটি দীর্ঘ প্রস্তুতি বা পটভূমি দরকার হয়।
অন্যান্য অপশন যেমন—‘চোখের বালি’ (বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশার ত্রিভুজ প্রেম), ‘নৌকাডুবি’ (কমলার পরিচয় সংকট) এবং ‘শেষের কবিতা’ (রোমান্টিক ও কাব্যিক গদ্যের জন্য বিখ্যাত) উপন্যাসের দার্শনিক গদ্যরীতির সাথে এই উক্তিটির মিল নেই।
69

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. একটি কালো মেয়ের কথা
  2. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  3. আয়নামতির পালা
  4. ইছামতী

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: একটি কালো মেয়ের কথা
এই উপন্যাসটির রচয়িতা হলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক
এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস যা গ্রামীণ পটভূমিতে যুদ্ধের প্রভাব তুলে ধরে।
অন্যদিকে, তেইশ নম্বর তৈলচিত্র লিখেছেন আলাউদ্দিন আল আজাদ। এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নয়, বরং একজন শিল্পীর জীবনকেন্দ্রিক উপন্যাস।
আয়নামতির পালা লিখেছেন আবু ইসহাক। এটি গ্রামীণ জীবনের পটভূমিতে রচিত।
ইছামতী লিখেছেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এটি একটি আঞ্চলিক উপন্যাস এবং এটিও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নয়।
70

‘কালো বরফ’ উপন্যাসটির বিষয় :

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তেভাগা আন্দোলন
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. দেশভাগ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: দেশভাগ
‘কালো বরফ’ উপন্যাসটির রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মাহমুদুল হক
এই উপন্যাসের প্রধান উপজীব্য বিষয় হলো ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং দেশভাগের ফলে সৃষ্ট উদ্বাস্তু ও ছিন্নমূল মানুষের জীবন, মানসিক সংকট ও স্মৃতিচারণ।
উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র নূরুল হুদার জীবনে দেশভাগের গভীর প্রভাব অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
অন্যান্য অপশনগুলো (তেভাগা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ) সরাসরি এই উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু নয়।
71

‘ঢাকা প্রকাশ’ সাপ্তাহিক পত্রিকাটির সম্পাদক কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়
  3. শামসুর রাহমান
  4. সিকান্দার আবু জাফর

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ঢাকা প্রকাশ (১৮৬১) সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার। এটি বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র। ১৮৬১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার বাবুবাজারে প্রতিষ্ঠিত ‘বাঙ্গালাযন্ত্র’ নামক প্রেস থেকে এটি প্রকাশিত হয়। মাসিক ‘মনোরঞ্জিকা’ ও ‘কবিতা কুসুমাঞ্জলি’ পত্রিকাও তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
‘ঢাকা প্রকাশ’ হলো ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র। এটি ১৮৬১ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত হয়।
এই সাপ্তাহিক পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার। তিনি কেবল সম্পাদক ছিলেন না, তিনি একজন স্বনামধন্য কবিও ছিলেন। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো ‘সদ্ভাব শতক’
উল্লেখ্য, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন বিখ্যাত সাময়িকী ‘প্রবাসী’ (১৯০১) এবং ‘মডার্ন রিভিউ’ (১৯০৭)-এর সম্পাদক। শামসুর রাহমান ও সিকান্দার আবু জাফর আধুনিক যুগের কবি ও সাহিত্যিক, ঢাকা প্রকাশের সাথে তাঁরা যুক্ত ছিলেন না।
72

‘জীবনস্মৃতি’ কার রচনা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আত্মজীবনীমূলক প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘জীবনস্মৃতি’ (১৯১২)। তার রচিত আরো কয়েকটি প্রবন্ধগ্রন্থ- কালান্তর, সভ্যতার সংকট, পঞ্চভূত, মানুষের ধর্ম, বিচিত্র প্রবন্ধ, শব্দতত্ত্ব। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনীমূলক বর্ণনাধর্মী অসমাপ্ত রচনার নাম ‘আত্মচরিত’। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মজীবনীমূলক রচনা ‘তৃণাঙ্কুর’। মুসলিম নারীমুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের উল্লেখযোগ্য রচনা ‘মতিচূর’ ও ‘অবরোধবাসিনী’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
‘জীবনস্মৃতি’ গ্রন্থটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত আত্মজীবনীমূলক রচনা। এই গ্রন্থে কবিগুরু তাঁর শৈশবকাল থেকে শুরু করে কৈশোর ও প্রথম জীবনের স্মৃতিচারণ করেছেন।
বাংলা সাহিত্যের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ। এটি ১৯১২ সালে প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মূলত সমাজ সংস্কারক ও গদ্যশিল্পী (যেমন: বর্ণপরিচয়); বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস পথের পাঁচালী; এবং রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নারী অধিকার নিয়ে লিখেছেন (যেমন: অবরোধবাসিনী)।
73

দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. মাইকেল মধুসূদ্ন দত্ত
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা গ্রন্থ দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটক। ১৮৬০ সালে প্রকাশিত নাটকটিতে বাংলাদেশের মেহেরপুর অঞ্চলের নীলকরদের অত্যাচার ও নীলচাষীদের দুঃখ-কষ্ট বর্ণিত হয়েছে। ১৮৬১ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্ত A Native ছদ্মনামে নাটকটি The Indigo Planting Mirror নামে অনুবাদ করেন। দীনবন্ধু মিত্র রচিত অন্যান্য নাটকের মধ্যে কমলে কামিনী, লীলাবতী, নবীন তপস্বিনী, জামাই বারিক, উল্লেখযোগ্য। নীলকরদের অত্যাচার ও নীলচাষীদের দুঃখ-কষ্ট নিয়ে লিখা দুটি বিখ্যাত উপন্যাস হলো- মীর মশাররফ হোসেনের ‘উদাসীন পথিকের মনের কথা’ এবং বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ইছামতী’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত
দীনবন্ধু মিত্র রচিত বিখ্যাত নাটক ‘নীলদর্পণ’ (১৮৬০) ইংরেজিতে অনুবাদ করেন মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত
এই অনুবাদটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে। তিনি 'A Native' ছদ্মনামে এটি অনুবাদ করেন।
এই নাটকটি প্রকাশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন রেভারেন্ড জেমস লং। তিনি এটি প্রকাশ করে বিতরণের ব্যবস্থা করেন, যার ফলস্বরূপ তাকে জরিমানা ও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়েছিল।
দীনবন্ধু মিত্র এই নাটকের মাধ্যমে ব্রিটিশ নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের নির্মম চিত্র তুলে ধরেছিলেন, যা বাঙালি সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
74

‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি’ চরণ দুটির রচয়িতা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চণ্ডীচরণ মুন্‌শী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি।’ চরণ দুটি মদনমোহন তর্কালঙ্কার রচিত ‘আমার পণ’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত। ছাত্রাবস্থায় তিনি ‘রসতরঙ্গিনী’ ও ‘বাসবদত্তা’ কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। তার অন্যতম সাহিত্যকর্ম ‘শিশুশিক্ষা’ নামক শিশুতোষ গ্রন্থ। এ গ্রন্থের প্রথম ভাগের একটি সুপরিচিত ও জনপ্রিয় শিশুতোষ কবিতা হলো ‘পাখি সব করে রব, রাতি পোহাইল।’

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মদনমোহন তর্কালঙ্কার
এই বিখ্যাত চরণ দুটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পথিকৃৎ পণ্ডিত মদনমোহন তর্কালঙ্কার রচিত।
চরণ দুটি তাঁর লেখা শিশুদের জন্য রচিত আদর্শ পাঠ্যপুস্তক 'শিশুশিক্ষা' (প্রথম ভাগ) থেকে নেওয়া হয়েছে, যা ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে সহজ-সরল ভাষায় নৈতিক উপদেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য অপশন (যেমন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা কাজী নজরুল ইসলাম) শিশুদের জন্য লিখলেও, এই বিশেষ পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা হিসেবে মদনমোহন তর্কালঙ্কার সর্বজনস্বীকৃত।
75

জসীমউদ্‌দীনের রচনা কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. যাদের দেখেছি
  2. পথে প্রবাসে
  3. কাল নিরবধি
  4. ভবিষ্যতের বাঙালী

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: যাদের দেখেছি। এটি পল্লী কবি জসীমউদ্‌দীনের লেখা একটি বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী ও স্মৃতিচারণমূলক গদ্যগ্রন্থ।
জসীমউদ্দীন মূলত কবি হলেও, তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গদ্য রচনা করেছেন, যার মধ্যে 'যাদের দেখেছি' অন্যতম।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন ভিন্ন লেখকের রচনা:
পথে প্রবাসে: এটি প্রখ্যাত সাহিত্যিক অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনী।
কাল নিরবধি: এটি জ্ঞানতাপস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
ভবিষ্যতের বাঙালী: এটি প্রাবন্ধিক এস ওয়াজেদ আলি রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ।
76

‘কিন্তু মানুষ্য কখনো পাষাণ হয় না’ – উক্তিটি কোন উপন্যাসের?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রবীন্দ্রনাথের ‘চোখের বালি’
  2. শরৎচন্দ্রের ‘পথের দাবী’
  3. শওকত ওসমানের ‘ক্রীতদাসের হাসি’
  4. বঙ্কিমচন্দ্রের ‘রাজসিংহ’

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

উক্তিটির সঠিক রূপ ‘কিন্তু মনুষ্য কখন পাষাণ হয় না।’ বাংলা কথাসাহিত্যের উপন্যাস শাখায় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ভাবাদর্শের সেতু বন্ধন করেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তার রচিত ‘রাজসিংহ’ উপন্যাসের সপ্তম খণ্ডের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ : নয়নবহ্নিও বুঝি জ্বলিয়াছিল-এর শেষ বাক্য এটি। রাজসিংহ (১৮৮২) ও আনন্দমঠ (১৮৮২) উপন্যাসের কাহিনিতে তিনি হিন্দুর বাহুবল ও বীরত্বের কথা রূপায়ণ করেছেন।

ব্যাখ্যা

প্রদত্ত উক্তিটি— ‘কিন্তু মানুষ্য কখনো পাষাণ হয় না’ —এইটি কালজয়ী সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ঐতিহাসিক উপন্যাস ‘রাজসিংহ’ থেকে নেওয়া হয়েছে।
‘রাজসিংহ’ উপন্যাসটি ১৮৮২ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং এটি বঙ্কিমচন্দ্রের লেখা সর্বশেষ উপন্যাস
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল কারণ: ‘চোখের বালি’ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) একটি আধুনিক সামাজিক উপন্যাস, ‘পথের দাবী’ (শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) রাজনৈতিক পটভূমির উপন্যাস, এবং ‘ক্রীতদাসের হাসি’ (শওকত ওসমান) একটি প্রতীকধর্মী উপন্যাস।
77

ইয়ংবেঙ্গল গোষ্ঠীভুক্ত ছিলেন কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অক্ষয়কুমার দত্ত
  2. এন্টনি ফিরঙ্গি
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ ঠাকুর

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

হিন্দু কলেজের তরুণ শিক্ষক ডিরোজিওর (১৮০৯-১৮৩১) শিষ্যরাই মূলত ইয়ংবেঙ্গল নামে পরিচিত। ইয়ংবেঙ্গল হিসেবে যে নামগুলো পাওয়া যায় তা হলো- দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, রামতনু লাহিড়ী, প্যারীচাঁদ মিত্র, রাধানাথ শিকদার, রামগোপাল ঘোষ, হরচন্দ্র ঘোষ, শিবচন্দ্র দেব, তারাচাঁদ চক্রবর্তী, কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, মহেশচন্দ্র ঘোষ, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, গঙ্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মাধবচন্দ্র মল্লিক, গোবিন্দ্রচন্দ্র বসাক, অমৃতলাল মিত্র প্রমুখ। আর মধুসূদন দত্ত ছিলেন ইয়ংবেঙ্গল গোষ্ঠীভুক্ত একজন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ইয়ংবেঙ্গল গোষ্ঠী হলো ১৯শ শতকের প্রথম দিকে হিন্দু কলেজের (বর্তমান প্রেসিডেন্সি কলেজ) কিছু তরুণ শিক্ষর্থীর দ্বারা গঠিত একটি প্রগতিশীল দল। এঁরা ছিলেন মূলত শিক্ষক হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর (Henry Louis Vivian Derozio) অনুসারী।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত ডিরোজিওর শিষ্য ছিলেন এবং তাঁর প্রগতিশীল মনোভাব, ধর্ম ত্যাগ (খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষা), এবং রক্ষণশীল সমাজের প্রতি বিদ্রোহের কারণে তিনি এই গোষ্ঠীর মানসিকতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন।
অন্যদিকে, অক্ষয়কুমার দত্ত যুক্ত ছিলেন ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে এবং তত্ত্ববোধিনী সভা-র মুখপত্র সম্পাদনা করতেন।
এন্টনি ফিরঙ্গি ছিলেন ফরাসি বংশোদ্ভূত এক কবিয়াল (Kabiyal), যাঁর জীবনকাল আরও আগে (১৮শ শতকের শেষার্ধ)।
78

‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কোন সনে প্রথম প্রকাশিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৯২৩ সন
  2. ১৯২১ সন
  3. ১৯১৯ সন
  4. ১৯১৮ সন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে কবি নজরুল ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি লেখেন। আর তা ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এ কবিতাটি তার প্রথম প্রকাশিত ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের দ্বিতীয় কবিতা। ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যে মোট বারোটি কবিতা স্থান পেয়েছে। এ কাব্যের আরো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা), রক্তাম্বরধারিণী মা, ধূমকেতু, খেয়াপারের তরণী, কামালপাশা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৯২১ সন
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কালজয়ী ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি রচনা করেন ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে।
এটি প্রথম প্রকাশিত হয় একই মাসে (ডিসেম্বর, ১৯২১) মাসিক পত্রিকা ‘মোসলেম ভারত’-এ। তবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এরপর সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর।
অনেকে ভুল করে ১৯২২ মনে করেন, কারণ এটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু প্রথম প্রকাশের সন হলো ১৯২১
79

‘আগুন পাখি’– উপন্যাসটির রচয়িতা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সেলিনা হোসেন
  2. রাহাত খান
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. ইমদাদুল হক মিলন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: হাসান আজিজুল হক
‘আগুন পাখি’ তাঁর রচিত অন্যতম জনপ্রিয় ও বহুল আলোচিত উপন্যাস। এই উপন্যাসটি ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয়।
এটি ৪৭-এর দেশভাগ এবং এর ফলস্বরূপ মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও কষ্টের চিত্র নিয়ে লেখা একটি কালজয়ী সাহিত্যকর্ম।
- সেলিনা হোসেন এর বিখ্যাত উপন্যাস: হাঙর নদী গ্রেনেড, গায়ত্রী সন্ধ্যা
- ইমদাদুল হক মিলন এর বিখ্যাত উপন্যাস: নূরজাহান, পাপপুণ্যি
80

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কৌতুক নাটক হচ্ছে–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বৈকুণ্ঠের খাতা
  2. জামাই বারিক
  3. বিবাহ-বিভ্রাট
  4. হিতে বিপরীত

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনপ্রিয় কৌতুক নাটক ‘বৈকুণ্ঠের খাতা’। এক আত্মভোলা সরল প্রকৃতির বৃদ্ধ এই কাহিনির কেন্দ্রীয় চরিত্র। তাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের কৌতুকময় ঘটনা। ‘জামাই বারিক’, ‘হিতে বিপরীত’ ও ‘বিবাহ বিভ্রাট’ প্রহসনত্রয়ের রচয়িতা যথাক্রমে দীনবন্ধু মিত্র, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর ও অমৃতলাল বসু।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো—বৈকুণ্ঠের খাতা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রধান কৌতুক নাটকগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। নাটকটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৯৭ সালে (১৩৪ বঙ্গাব্দ)। এখানে সমাজের সুবিধাভোগী শ্রেণীর চরিত্রগুলো হাস্যরসের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে—
জামাই বারিক নাটকটি রচনা করেন দীনবন্ধু মিত্র
বিবাহ-বিভ্রাট এবং হিতে বিপরীত নাটক দুটি রচনা করেন বাংলার অন্যতম কৌতুক নাট্যকার অমৃতলাল বসু
81

মীর মশাররফ হোসেন রচিত গ্রন্হ হচ্ছে–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. হুতোম প্যাঁচার নক্সা
  4. কলিকাতা কমলালয়

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেন। তার রচিত নাটকের মধ্যে বসন্তকুমারী, জমিদার দর্পণ, বেহুলা গীতাভিনয়, টালা অভিনয় উল্লেখযোগ্য। তার বিখ্যাত উপন্যাস হলো বিষাদ-সিন্ধু ও উদাসীন পথিকের মনের কথা। মশাররফ হোসেন রচিত ‘রত্নবতী’ মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো— গাজী মিয়াঁর বস্তানী
এটি মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১২) রচিত একটি বিখ্যাত রম্য বা কৌতুক নাটক এবং তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম। এটি ১৮৯৯ সালে প্রকাশিত হয়।
বাকি অপশনগুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভিন্ন লেখকের রচনা:
আলালের ঘরের দুলাল (১৮৫৮) লিখেছেন প্যারীচাঁদ মিত্র (ছদ্মনাম: টেকচাঁদ ঠাকুর)। এটি বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃত।
হুতোম প্যাঁচার নক্সা (১৮৬২) লিখেছেন কালীপ্রসন্ন সিংহ (ছদ্মনাম: হুতোম প্যাঁচা)। এই গ্রন্থে উনিশ শতকের কলকাতার সমাজচিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
82

‘বেদান্তগ্রন্থ’ ও ‘বেদান্তসার’ কার রচনা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. গোলকনাথ শর্মা
  3. রামরাম বসু
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: রাজা রামমোহন রায়। তিনি ছিলেন বাংলা নবজাগরণের পুরোধা এবং আধুনিক বাংলা গদ্যের অন্যতম পথিকৃৎ।
‘বেদান্তগ্রন্থ’ এবং ‘বেদান্তসার’ রচনা দু’টি তিনি ১৮১৫ সালে প্রকাশ করেন। এই রচনাগুলিতে তিনি উপনিষদের দর্শন এবং একেশ্বরবাদী ব্রহ্মের ধারণাকে সরল বাংলা গদ্যে তুলে ধরেন।
এই গ্রন্থগুলি মূলত তাঁর প্রতিষ্ঠিত আত্মীয় সভা-র (১৮১৫) মাধ্যমে প্রচলিত একেশ্বরবাদী মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছিল, যা বাংলা গদ্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
83

জীবনানন্দ দাশকে ‘নির্জনতম কবি’ বলে আখ্যায়িত করেন কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিষ্ণু দে
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সৈয়দ শামসুল হক

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কবি জীবনানন্দ দাশের ‘মৃত্যুর আগে’ কবিতা পাঠ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বুদ্ধদেব বসুকে লিখা একটি চিঠিতে কবিতাটিকে 'চিত্ররূপময়' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বুদ্ধদেব বসু
বাংলা সাহিত্যের তিরিশের দশকের অন্যতম প্রধান সাহিত্যিক ও প্রখ্যাত সমালোচক বুদ্ধদেব বসু কবি জীবনানন্দ দাশকে তাঁর অসাধারণ কাব্যশৈলী ও স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বরের জন্য ‘নির্জনতম কবি’ (The Loneliest Poet) উপাধিতে ভূষিত করেন।
বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘কবিতা’ পত্রিকায় জীবনানন্দ দাশের লেখা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হতো। জীবনানন্দ দাশের সাহিত্যকে বৃহত্তর পাঠকের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।
84

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত গ্রন্থ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পদ্মমণি
  2. পদ্মাবতী
  3. পদ্মগোখরা

  4. পদ্মরাগ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্হ ‘মতিচুর’ ও ‘অবরোধবাসিনী’। ‘সুলতানার স্বপ্ন’ ও ‘পদ্মরাগ’ তার রচিত দুটি উপন্যাস।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো পদ্মরাগ। এটি বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস বা রোম্যান্স গ্রন্থ, যা ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।
এই উপন্যাসের প্রধান বিষয়বস্তু ছিল নারী শিক্ষা ও কর্মজীবনের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ এবং নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা।
বিসিএস পরীক্ষার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভুল উত্তরটি হলো পদ্মাবতীপদ্মাবতী কাব্যটি আধুনিক যুগের নয়, বরং মধ্যযুগের কবি আলাওল রচিত একটি বিখ্যাত রোমান্টিক প্রণয়কাব্য (১৬৪৮)।
85

‘বাঁধন হারা’ কাজী নজরুল ইসলামের কোন ধরনের রচনা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভ্রমণ কাহিনি
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. কবিতা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস ‘বাঁধনহারা’ রচনা করেন বিদ্রোহী কবি এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত। ১৯২১ সালে ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। নুরুল হুদা, রাবেয়া ও মাহবুবা এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। মৃত্যুক্ষুধা ও কুহেলিকা তার রচিত আরো দুটি উপন্যাস।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: উপন্যাস
‘বাঁধন হারা’ হলো বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস। এটি ১৯২৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। তবে এটি ১৯২০-২১ সালে মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
এই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ঘরানার রচনা—এটি মূলত একটি পত্রোপন্যাস (Epistolary Novel) বা চিঠিপত্রের মাধ্যমে লেখা উপন্যাস।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ যদিও নজরুল নাটক (যেমন: ঝিলিমিলি, আলেয়া) এবং কবিতা (যেমন: বিদ্রোহী, অগ্নিবীণা) লিখেছেন, কিন্তু ‘বাঁধন হারা’ নির্দিষ্টভাবে তাঁর উপন্যাস শ্রেণির রচনা।
86

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘আগুনের পরশমণি’ কার রচনা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আমজাদ হোসেন
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. শওকত ওসমান
  4. সৈয়দ শামসুল হক

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: হুমায়ূন আহমেদ
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এই বহুল পঠিত উপন্যাস ‘আগুনের পরশমণি’ (প্রকাশ: ১৯৮৬) প্রখ্যাত সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ-এর রচনা।
এই উপন্যাসে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় ঢাকা শহরের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনের টানাপাপোড় এবং যুদ্ধকালীন মানসিক চাপ সুনিপুণভাবে চিত্রিত হয়েছে।
হুমায়ূন আহমেদ নিজেই ১৯৯৪ সালে এই উপন্যাস অবলম্বনে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ আটটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে, যা এর সাহিত্যিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে।
87

কোনটি বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনীমূলক লেখা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আত্মচরিত
  2. আত্মকথা
  3. আত্মজিজ্ঞাসা
  4. আমার কথা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের জনক ও বাংলা গদ্যে প্রথম যতি চিহ্ন ব্যবহার করেন। আত্মজীবনীমূলক বর্ণনাধর্মী অসমাপ্ত রচনার নাম ‘আত্মচরিত’। তার রচিত ‘প্রভাবতী সম্ভাষণ’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক গদ্যগ্রন্হ। বিদ্যাসাগর রচিত বাংলা ব্যাকরণ হলো ‘ব্যাকরণ কৌমুদী’। তিনি কস্যচিত উপযুক্ত ভাইপোস্য ছদ্মনামে লিখতেন। তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্হ: ভ্রান্তিবিলাস, বেতালপঞ্চবিংশতি, বর্ণপরিচয়, বোধোদয়, সীতার বনবাস, ব্রজবিলাস, অতি অল্প হইল, আবার অতি অল্প হইল ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো আত্মচরিতঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১) তাঁর জীবনের শেষ পর্বে এই আত্মজীবনীমূলক লেখাটি শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ করতে পারেননি। এটি অসমাপ্ত অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে আত্মজীবনীমূলক ধারার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন এটি।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে ‘আত্মকথা’ বা ‘আমার কথা’ শব্দটি বিভিন্ন লেখকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলেও, বিদ্যাসাগরের নির্দিষ্ট আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থটির নাম ‘আত্মচরিত’
88

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘মতিচূর’ কোন ধরনের রচনা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. আত্মজীবনী

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘মতিচুর’ ও ‘অবরোধবাসিনী’। ‘সুলতানার স্বপ্ন’ ও ‘পদ্মরাগ’ তার রচিত দুটি উপন্যাস।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: প্রবন্ধ
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হলো ‘মতিচূর’। এটি মূলত তার সামাজিক ও নারীমুক্তির দর্শন সম্পর্কিত প্রবন্ধ সংকলন।
‘মতিচূর’ গ্রন্থটি দুটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। প্রথম খণ্ডটি প্রকাশিত হয় ১৯০৪ সালে এবং দ্বিতীয় খণ্ডটি প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালে।
এই প্রবন্ধগুলোতে তিনি সমাজের কুসংস্কার, বিশেষ করে নারীদের অবরোধ প্রথা ও শিক্ষাবঞ্চিত হওয়ার তীব্র সমালোচনা করেন এবং নারী-পুরুষের সম-অধিকারের পক্ষে যুক্তি দেন। তাই এটি কোনো উপন্যাস, নাটক বা আত্মজীবনী নয়।
89

কোনটি জসীমউদ্দীনের রচনা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  2. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  3. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  4. ঠাকুরবাড়ির আঙিনা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

জসীমউদ্‌দীনের রচনা:

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঠাকুরবাড়ির আঙিনা। এটি পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের রচিত একটি বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬১ সালে।
জসীমউদ্দীন মূলত পল্লী সাহিত্য ও লোকজীবন নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁর সাহিত্যকর্মে গ্রাম বাংলার সহজ সরল জীবন ফুটিয়ে উঠেছে।
অন্যান্য অপশনের লেখক পরিচিতি:
১. গাজী মিয়াঁর বস্তানী: এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেনের রচিত একটি রম্য/আত্মজীবনীমূলক গদ্যগ্রন্থ।
২. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা: এটি খ্যাতিমান ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ আঞ্চলিক উপন্যাস।
৩. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান: এটি প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক শামসুদ্দীন আবুল কালামের বিখ্যাত উপন্যাস।
90

‘আমার ঘরের চাবি পরের হাতে’ – গানটির রচয়িতা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. লালন শাহ্
  2. হাসন রাজা
  3. পাগলা কানাই
  4. রাধারমণ দত্ত

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বাউলসাধক লালন সাঁই রচিত কয়েকটি জনপ্রিয় গান- ‘জাত গেলো জাত গেলো বলে’, ‘আমার ঘরের চাবি পরের হাতে’, ‘আর আমারে মারিসনে মা’, ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’, ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’, ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’, ‘সময় গেলে সাধন হবে না’, ‘মিলন হবে কতদিনে’। মরমি কবি হাসন রাজার কয়েকটি জনপ্রিয় গান- ‘লোকে বলে বলেরে’, ‘বাউলা কে বানাইলো রে’, ‘সোনা বন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইলো’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: লালন শাহ্
‘আমার ঘরের চাবি পরের হাতে’ – এটি বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ্-এর রচিত একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গভীর ভাবসম্পন্ন গান।
এটি তাঁর রচিত দেহতত্ত্বমূলক মরমি গানসমূহের মধ্যে অন্যতম, যেখানে ঘর বলতে দেহ বা মানবসত্তা এবং চাবি পরের হাতে থাকা বলতে সৃষ্টিকর্তা বা প্রকৃতির উপর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
অন্যান্য অপশন যেমন হাসন রাজা, পাগলা কানাই এবং রাধারমণ দত্ত প্রত্যেকেই বিখ্যাত মরমি কবি ও গীতিকার, কিন্তু নির্দিষ্ট এই গানটি লালন শাহ্-এর সৃষ্টি।
91

মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. বন্দী শিবির থেকে

  3. নিষিদ্ধ লোবান
  4. প্রিয়যোদ্ধা প্রিয়তম

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা শামসুর রাহমান। ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা’ ও ‘স্বাধীনতা তুমি’ এ কাব্যের উল্লেখযোগ্য দুটি কবিতা। নেকড়ে অরণ্য, নিষিদ্ধ লোবান ও প্রিয়যোদ্ধা প্রিয়তম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসগুলোর রচয়িতা যথাক্রমে শওকত ওসমান, সৈয়দ শামসুল হক ও হারুন হাবীব।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: বন্দী শিবির থেকে
এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় এবং এতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকায় কবির গৃহবন্দী থাকাকালীন আবেগ ও অভিজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে।
এই কাব্যগ্রন্থের অন্যতম বিখ্যাত কবিতা হলো 'তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা' এবং 'স্বাধীনতা তুমি', যা বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরে।
অন্যান্য অপশনগুলো কাব্যগ্রন্থ নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস বা অন্যান্য সাহিত্যকর্ম:
নেকড়ে অরণ্য: এটি শওকত ওসমান রচিত একটি উপন্যাস।
নিষিদ্ধ লোবান: এটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি উপন্যাস।
প্রিয়যোদ্ধা প্রিয়তম: এটি আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ হলেও, 'বন্দী শিবির থেকে'-এর মতো প্রত্যক্ষ ও প্রধান মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্য হিসেবে এটি বিখ্যাত নয়।
92

কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের প্রথম কবিতা কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আগমনী
  2. কোরবানী
  3. প্রলয়োল্লাস
  4. বিদ্রোহী

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

১৯২২ সালে প্রকাশিত ‘অগ্নিবীণা’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এই গ্রন্থে ১২টি কবিতা সংকলিত হয়েছে। যথা- প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, রক্তাম্বরধারিণী মা, আগমনী, ধূমকেতু, কামাল পাশা, আনোয়ার, রণভেরী, সাত-ইল-আরব, খেয়াপারের তরণী, কোরবানী ও মোহররম।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো প্রলয়োল্লাস
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত এবং কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ হলো ‘অগ্নিবীণা’। এটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয় এবং এতে মোট ১২টি কবিতা স্থান পায়।
এই কাব্যের সূচনাকারী বা প্রথম কবিতাটি হলো ‘প্রলয়োল্লাস’
অনেকে ভুল করে নজরুলের সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা ‘বিদ্রোহী’-কে প্রথম মনে করেন। কিন্তু ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি এই কাব্যের দ্বিতীয় কবিতা।
অপর দুটি অপশন ‘আগমনী’ এবং ‘কোরবানী’-ও ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত কবিতা।
93

দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীল –দর্পণ’ নাটক প্রথম কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কলকাতা
  2. ঢাকা
  3. লন্ডন
  4. মুর্শিদাবাদ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা গ্রন্থ দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটক। ১৮৬০ সালে প্রকাশিত নাটকটিতে বাংলাদেশের মেহেরপুর অঞ্চলের নীলকরদের অত্যাচার ও নীলচাষীদের দুঃখ-কষ্ট বর্ণিত হয়েছে। ১৮৬১ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্ত A Native ছদ্মনামে নাটকটি The Indigo Planting Mirror নামে অনুবাদ করেন। দীনবন্ধু মিত্র রচিত অন্যান্য নাটকের মধ্যে কমলে কামিনী, লীলাবতী, নবীন তপস্বিনী, জামাই বারিক উল্লেখযোগ্য। নীলকরদের অত্যাচার ও নীলচাষীদের দুঃখ-কষ্ট নিয়ে লেখা দুটি বিখ্যাত উপন্যাস হলো- মীর মশাররফ হোসেনের ‘উদাসীন পথিকের মনের কথা’ এবং বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ইছামতী’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঢাকা
দীনবন্ধু মিত্রের বিখ্যাত নাটক ‘নীল-দর্পণ’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৬০ সালে। এটি কলকাতার পরিবর্তে তৎকালীন পূর্ববঙ্গের ঢাকা শহর থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।
নাটকটি মূলত ঢাকা বাংলা প্রেস (বা মুদ্রাক্ষর যন্ত্র) থেকে নামবিহীনভাবে (Anonymous) প্রকাশিত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ নীলকরদের অত্যাচার থেকে লেখকের পরিচয় গোপন রাখা, কারণ প্রকাশের স্থান ঢাকা হওয়ায় ব্রিটিশদের সন্দেহ সাধারণত কলকাতার দিকে থাকবে বলে মনে করা হয়েছিল।
এই নাটকটি নীল বিদ্রোহের (১৮৫৯-১৮৬০) প্রেক্ষাপটে রচিত এবং এটিই বাংলায় প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক হিসেবে বিবেচিত।
94

কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শেষলেখা
  2. শেষপ্রশ্ন
  3. শেষকথা
  4. শেষদিন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

শেষলেখা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯৪১ সালে প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথ মোট ৫৬টি কাব্যগ্রন্থ, ১১৯টি ছোটগল্প, ১২টি উপন্যাস, ৯টি ভ্রমণকাহিনী, ২৯টি নাটক, ১৯টি কাব্যনাট্য এবং ২২৩২টি গান রচনা করেন। তার রচিত কাব্যগ্রন্থ: কবিকাহিনী, বনফুল, রোগশয্যা, আরোগ্য, পূরবী, মানসী, সোনার তরী, পুনশ্চ, চিত্রা, সানাই, চৈতালী, কল্পনা, বলাকা, কড়ি ও কোমল, প্রান্তিক, গীতাঞ্জলি, ক্ষণিকা, কণিকা, সেজুঁতি, কাহিনী, জন্মদিনে, প্রভাতসঙ্গীত, সন্ধ্যাসঙ্গীত, শেষ সপ্তক, শেষ লেখা, শ্যামলী ইত্যাদি। ‘শেষপ্রশ্ন’ উপন্যাসের রচয়িতা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। ‘শেষকথা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তিনসঙ্গী’ গল্পগ্রন্থের একটি ছোটগল্প।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো 'শেষলেখা'। এটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ
এটি তাঁর জীবনের শেষ কাব্যগ্রন্থ এবং মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তাঁর জীবনের শেষ সময়ে লেখা কবিতাগুলো স্থান পেয়েছে।
অন্যদিকে, অপশনগুলোতে থাকা অন্যান্য 'শেষ' পদবিযুক্ত কাজগুলো বিভ্রান্তিকর:
'শেষপ্রশ্ন' হলো শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত উপন্যাস
'শেষকথা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি গল্পের নাম (গল্পগ্রন্থ নয়), এটি কাব্যগ্রন্থ নয়।
সুতরাং, প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র 'শেষলেখা'-ই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ।
95

‘নদী ও নারী’ উপন্যাসের রচিয়তা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কাজী আবদুল ওদুদ
  2. আবুল ফজল
  3. রশীদ করিম
  4. হুমায়ুন কবির

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

১৯৪৫ সালে হুমায়ুন কবিরের ‘নদী ও নারী’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। তার রচিত প্রবন্ধসমূহ- ‘ধারাবাহিক’, ‘শরৎ-সাহিত্যের মূলতত্ত্ব’, ‘বাংলার কাব্য’, ‘মার্কসবাদ’, ‘শিক্ষক ও শিক্ষার্থী’ এবং কাব্যগ্রন্থ- ‘স্বপ্নসাধ’, ‘সাথী’, ‘অষ্টাদশী’। তিনি ‘চতুরঙ্গ’ পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো (ঘ) হুমায়ুন কবির
হুমায়ুন কবির (১৯০৬-১৯৬৯) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ এবং রাজনীতিবিদ। তাঁর রচিত কালজয়ী উপন্যাস হলো ‘নদী ও নারী’
উপন্যাসটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসে গ্রামীণ পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশের) নদী-তীরবর্তী সাধারণ মানুষের জীবন সংগ্রাম ও সম্পর্কের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, আবুল ফজল ছিলেন আধুনিক যুগের অন্যতম ঔপন্যাসিক (যেমন: ‘চৌচির’), এবং কাজী আবদুল ওদুদ ছিলেন প্রখ্যাত প্রবন্ধকার ও যুক্তিবাদী লেখক (‘শাশ্বত বঙ্গ’)।
96

‘বীরবল’ কোন লেখকের ছদ্মনাম?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আবু ইসহাক
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. প্রমথনাথ বিশী
  4. প্রমথ চৌধুরী

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী। বীরবল ছদ্মনামে তিনি লিখেছেন ‘বীরবলের হালখাতা’। চলিত রীতিকে বাংলা গদ্যে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি সম্পাদনা করেন বিখ্যাত পত্রিকা ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪)। বাংলা কাব্যসাহিত্যে তিনি ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। তার রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ- তেল নুন লাকড়ি, বীরবলের হালখাতা ও রায়তের কথা; গল্পগ্রন্থ- চার ইয়ারী কথা ও আহুতি; কাব্যগ্রন্থ- সনেট পঞ্চাশৎ। সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ‘নীললোহিত’, ‘নীল উপাধ্যায়’ ও ‘সনাতন পাঠক’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: প্রমথ চৌধুরী। তিনি বাংলা সাহিত্যে এই ছদ্মনামটি ব্যবহার করে প্রচুর প্রবন্ধ ও সাহিত্যকর্ম রচনা করেছেন।
প্রমথ চৌধুরী-র সম্পাদিত বিখ্যাত পত্রিকা ‘সবুজপত্র’ (প্রকাশকাল: ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দ)-এর মাধ্যমেই মূলত ‘বীরবল’ নামটি জনপ্রিয়তা লাভ করে।
প্রমথ চৌধুরীকে বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক হিসেবে গণ্য করা হয়, এবং বীরবলের হালখাতা তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর জনপ্রিয় ছদ্মনাম হলো নীল লোহিত
97

মুনীর চৌধুরীর ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ একটি-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. প্রবন্ধ
  4. অনুবাদ নাটক

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

মুনীর চৌধুরীর অনুবাদ নাটকগুলো হলো- ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ (উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew), ‘কেউ কিছু বলতে পারে না’ (জর্জ বার্নার্ড শ-র ‘ইউ নেভার ক্যান টেল’), ‘রূপার কৌটা’ (জন গলসওয়ার্দির ‘দি সিলভার বকস’)। তার মৌলিক নাটকগুলো হলো- রক্তাক্ত প্রান্তর, চিঠি, কবর, মানুষ, দণ্ডকারণ্য ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অনুবাদ নাটক
মুনীর চৌধুরী রচিত ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ কোনো মৌলিক নাটক নয়। এটি বিশ্ববিখ্যাত ইংরেজ নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়র-এর বিখ্যাত কমেডি নাটক ‘The Taming of the Shrew’-এর একটি সার্থক বঙ্গানুবাদ।
মুনীর চৌধুরী নাট্যকার হিসেবে যেমন পরিচিত, তেমনি অনুবাদক হিসেবেও তাঁর খ্যাতি ছিল। তাই অনুবাদ নাটক অপশনটি সঠিক।
অন্যান্য অপশনগুলো (উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ) ভুল, কারণ এটি মঞ্চায়নের উদ্দেশ্যে রচিত একটি পূর্ণাঙ্গ নাটক
98

‘চন্দরা’ চরিত্রের স্রষ্টা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. সৈয়দ শামসুল হক

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কতিপয় ছোটগল্পের চরিত্র:

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
‘চন্দরা’ চরিত্রটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছোটগল্পের প্রধান নারী চরিত্র।
গল্পটির নাম হলো ‘শাস্তি’। এটি ১৮৯৩ সালে (১৩০০ বঙ্গাব্দে) প্রকাশিত হয় এবং তাঁর বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ ‘গল্পগুচ্ছ’-এর প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।
গ্রামীণ সমাজের কঠিন বাস্তবতায় নারী-হৃদয়ের জটিলতা ও আত্মমর্যাদা রক্ষার জন্য চন্দরার এই চরিত্রটি বাংলা সাহিত্যে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
99

‘পূর্বাশা’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. শাহাদাৎ হোসেন
  3. সঞ্জয় ভট্টাচার্য
  4. সুধীন্দ্রনাথ দ্ত্ত

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সঞ্জয় ভট্টাচার্য
‘পূর্বাশা’ ছিল একটি বিখ্যাত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা, যা ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয় এবং এর সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য (১৮৯৮-১৯৬৯)।
বাংলা সাহিত্য জগতে এই পত্রিকাটি আধুনিক কবিতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল কারণ:
কাজী নজরুল ইসলাম: তিনি মূলত ‘ধূমকেতু’, ‘লাঙল’, ও ‘নবনূর’ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত: তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম 'পঞ্চপাণ্ডব' কবি। তিনি বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ‘পরিচয়’ এর সম্পাদক ছিলেন।
100

কে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. রামরাম বসু
  3. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. অক্ষয়কুমার দত্ত

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষকগণ ও তাদের রচিত গ্রন্থ:

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: রামরাম বসু
রামরাম বসু ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রথম দেশীয় পণ্ডিত বা মুন্সি। তিনি ১৮০০ সালে এই কলেজে বাংলা বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হন।
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকে কেন্দ্র করেই বাংলা গদ্যরীতির প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা হয়, যেখানে বাঙালি পণ্ডিত ও ইংরেজ শিক্ষকরা বাংলা পাঠ্যপুস্তক রচনা শুরু করেন।
অন্যান্য অপশনগুলো ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক ছিলেন না:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ছিলেন প্রখ্যাত গবেষক ও পণ্ডিত, যিনি চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন ব্রাহ্ম সমাজের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা।
অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক এবং যুক্তিবাদী প্রবন্ধকার।
101

কত সালে ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ প্রথম প্রকাশিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 1860
  2. 1865
  3. 1859
  4. 1861

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্যকার, প্রথম সার্থক নাট্যকার, প্রথম প্রহসন রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য’। সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ-এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে তিনি ১৮৬১ সালে মহাকাব্যটি রচনা করেন এবং একই সালে এটি প্রকাশিত হয়। ৯টি সর্গের এ মহাকাব্যে তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। এই কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো- রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৮৬১ সাল।
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম আধুনিক মহাকাব্য, 'মেঘনাদবধ কাব্য', প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালের জানুয়ারি মাসে।
এই কাব্যটি মোট নয়টি সর্গে বিভক্ত এবং এটি হিন্দু পুরাণ রামায়ণের কাহিনীর উপর ভিত্তি করে রচিত হলেও এর মূল চরিত্র মেঘনাদ (রাবণের পুত্র) যেন আধুনিক ট্র্যাজিক হিরোর মর্যাদা পেয়েছে।
102

কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের রচনা নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ছায়ানট
  2. চক্রবাক
  3. রুদ্রমঙ্গল
  4. বালুচর

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো বালুচর। এটি কাজী নজরুল ইসলামের রচনা নয়।
বালুচর কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীন। এটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো, যেমন—ছায়ানট (কাব্য/গান, ১৯২৫), চক্রবাক (কাব্য, ১৯২৯), এবং রুদ্রমঙ্গল (প্রবন্ধ, ১৯২৬), এগুলো সবই আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অন্যতম প্রধান সৃষ্টি।
103

‘সবুজপত্র’ প্রকাশিত হয় কোন সালে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 1909
  2. 1910
  3. 1914
  4. 1921

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী বাংলা গদ্যে চলিত রীতিকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ১৯১৪ সালে সম্পাদনা করেন বিখ্যাত পত্রিকা ‘সবুজপত্র’। তার সাহিত্যিক ছদ্মনাম বীরবল। বাংলা কাব্যসাহিত্যে তিনি ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। তার রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ- তেল নুন লাকড়ি, বীরবলের হালখাতা ও রায়তের কথা; গল্পগ্রন্থ- চার ইয়ারী কথা ও আহুতি; কাব্যগ্রন্থ- সনেট পঞ্চাশৎ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৯১৪ সাল। এটি ছিল বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
‘সবুজপত্র’ পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালের এপ্রিল মাসে (বৈশাখ, ১৩২১ বঙ্গাব্দ)।
এই পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন প্রমথ চৌধুরী। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বাংলা গদ্যে চলিত ভাষার প্রবর্তন করা এবং সাহিত্যকে নতুন গতি দেওয়া।
অন্যান্য অপশনগুলো (১৯০৯, ১৯১০, ১৯২১) ভুল, কারণ এই পত্রিকাটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯১৪ সালে।
104

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নাটক–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সুবচন নির্বাসনে
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. নূরলদীনের সারা জীবন
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়। এটি বিখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কালজয়ী কাব্যনাটক, যা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধোত্তর গ্রামের প্রেক্ষাপটকে ভিত্তি করে রচিত।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক হিসেবে এটি বাংলা সাহিত্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ১৯৭৬ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন বিষয়বস্তুর উপর ভিত্তি করে রচিত:
রক্তাক্ত প্রান্তর: এটি মুনীর চৌধুরী রচিত। এর পটভূমি পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১)। এটি একটি ঐতিহাসিক নাটক, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নয়।
নূরলদীনের সারা জীবন: এটিও সৈয়দ শামসুল হক রচিত। তবে এর পটভূমি হলো ১৭৮২ সালের রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ, মুক্তিযুদ্ধ নয়।
সুবচন নির্বাসনে: এটি আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত একটি বিখ্যাত সামাজিক নাটক।
105

কোনটি জসীমউদ্দীনের নাটক?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রাখালী
  2. মাটির কান্না
  3. বেদের মেয়ে
  4. বোবা কাহিনী

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: বেদের মেয়ে
বেদের মেয়ে (১৯৫১) হলো পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের রচিত একমাত্র প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ নাটক। এটি একটি জনপ্রিয় লোকনাট্য হিসেবে পরিচিত।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে জসীমউদ্দীনের রচনা হলেও সেগুলোর সাহিত্যরূপ ভিন্ন:
রাখালী (১৯২৭) এবং মাটির কান্না হলো জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থরাখালী তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
বোবা কাহিনী হলো জসীমউদ্দীনের লেখা একমাত্র উপন্যাস। পরীক্ষায় এই তিনটির মধ্যে পার্থক্য প্রায়ই জানতে চাওয়া হয়।
106

মুনীর চৌধুরীর অনূদিত নাটক কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কবর
  2. চিঠি
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. মুখরা রমণী বশীকরণ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

মুনীর চৌধুরীর অনুবাদ নাটকগুলো হলো- ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ (উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew), ‘কেউ কিছু বলতে পারে না’ (জর্জ বার্নার্ড শ-র ‘ইউ নেভার ক্যান টেল’), ‘রূপার কৌটা’ (জন গলসওয়ার্দির ‘দি সিলভার বকস’)। তাঁর মৌলিক নাটকগুলো হলো- রক্তাক্ত প্রান্তর, চিঠি, কবর, মানুষ, দণ্ডকারণ্য ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মুখরা রমণী বশীকরণ
এটি বিখ্যাত নাট্যকার ড. মুনীর চৌধুরী কর্তৃক অনূদিত নাটক। তিনি এটি ১৯৫৮ সালে অনুবাদ করেন।
নাটকটির মূল রচয়িতা হলেন বিশ্ববিখ্যাত ইংরেজ কবি ও নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়র এবং এর ইংরেজি নাম হলো "The Taming of the Shrew"
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ:
কবর: এটি মুনীর চৌধুরীর লেখা সর্বাধিক বিখ্যাত মৌলিক নাটক, যা ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে ১৯৫৩ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বসে লেখা।
রক্তাক্ত প্রান্তর: এটিও মুনীর চৌধুরীর রচিত একটি মৌলিক ঐতিহাসিক নাটক, যা পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধের পটভূমিতে রচিত।
107

কোনটি উপন্যাস নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দিবারাত্রির কাব্য
  2. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  3. কবিতার কথা
  4. পথের পাঁচালী

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

কল্লোল যুগের অন্যতম প্রধান কবি ও সাহিত্যিক জীবনানন্দ দাশ রচিত ‘কবিতার কথা’ একটি প্রবন্ধ গ্রন্হ। এই গ্রন্থটি শুরু হয়েছে একটি বিখ্যাত উক্তি দিয়ে- “সকলেই কবি নয়। কেউ কেউ কবি।” ‘দিবারাত্রির কাব্য’, ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’ ও ‘পথের পাঁচালী’ যথাক্রমে বাংলা উপন্যাসের তিন বন্দ্যোপাধ্যায়-মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো কবিতার কথা। এটি কোনো উপন্যাস নয়, বরং এটি কবি ও সাহিত্য সমালোচক সুধীন্দ্রনাথ দত্তের রচিত একটি বিখ্যাত প্রবন্ধ গ্রন্থ
এই গ্রন্থে তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার তত্ত্ব ও বিশ্লেষণ আলোচনা করেছেন।
অন্যদিকে, প্রদত্ত অন্যান্য অপশনগুলো বাংলা সাহিত্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস:
দিবারাত্রির কাব্য: এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস।
হাঁসুলী বাঁকের উপকথা: এটি গ্রামীণ জীবনের পটভূমিকায় রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত আঞ্চলিক উপন্যাস।
পথের পাঁচালী: এটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত একটি বিখ্যাত আঞ্চলিক ও আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
108

‘বিষাদ সিন্ধু’ একটি–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গবেষণা গ্রন্থ
  2. ধর্মবিষয়ক প্রবন্ধ
  3. ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস
  4. আত্মজীবনী

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেন। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস হলো ‘বিষাদ-সিন্ধু’ ও ‘উদাসীন পথিকের মনের কথা’। তাঁর রচিত নাটকের মধ্যে ‘বসন্তকুমারী’, ‘জমীদার দর্পণ’, ‘বেহুলা গীতাভিনয়’, ‘টালা অভিনয়’ উল্লেখযোগ্য। মশাররফ হোসেন রচিত ‘রত্নবতী’ মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস
‘বিষাদ সিন্ধু’ (Bishad Sindhu) গ্রন্থটি রচনা করেন মীর মশাররফ হোসেন। এটি বাংলা সাহিত্যের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং কালজয়ী সৃষ্টি।
যদিও এই উপন্যাসের মূল ভিত্তি হলো ৬১ হিজরিতে সংঘটিত ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা কারবালার যুদ্ধ এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হাসান ও ইমাম হোসেনের শাহাদাত বরণ; কিন্তু এর কাহিনী বর্ণনা, চরিত্রায়ণ এবং কল্পনার ব্যবহার উপন্যাসের আঙ্গিকে হওয়ায় এটি মূলত ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস হিসেবে পরিচিত।
এটি কোনো গবেষণামূলক গ্রন্থ নয় এবং এর প্রকাশভঙ্গি প্রবন্ধের মতো নয়, তাই এটি গবেষণা গ্রন্থ বা ধর্মবিষয়ক প্রবন্ধ নয়।
109

এন্টনি ফিরিঙ্গি কী জাতীয় সাহিত্যের রচয়িতা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কবিগান
  2. পুঁথি সাহিত্য
  3. নাথ সাহিত্য
  4. বৈষ্ণব পদ সাহিত্য

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

আঠারো শতকের শেষার্ধে ও উনিশ শতকের প্রথমার্ধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিপর্যয়ের মুখে কলকাতার হিন্দু সমাজে কবিওয়ালা এবং মুসলিম সমাজে শায়েরের উদ্ভব ঘটে। গোজলা গুঁই, হরু ঠাকুর, কেষ্টা মুচি, ভবানী বেনে, নিতাই বৈরাগী, ভোলা ময়রা, এন্টনি ফিরিঙ্গি, রামপ্রসাদ রায় ছিলেন বিখ্যাত কবিওয়ালা। গোজলা গুঁই ছিলেন কবিগানের আদিকবি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কবিগান
এন্টনি ফিরিঙ্গি (মূল নাম: Anthony Hensman) ছিলেন একজন পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত বাঙালি কবিওয়ালা। তিনি ১৮ শতকের শেষ ভাগ এবং ১৯ শতকের গোড়ার দিকে (আধুনিক যুগের সূচনালগ্নে) কলকাতায় কবিগান বা কবিগানের লড়াইয়ের জন্য বিশেষ পরিচিত ছিলেন।
কবিগান হলো এমন এক ধরণের লোকসাহিত্যিক গান, যেখানে দু'জন কবি বা কবিয়াল তাৎক্ষণিক ছড়া বা গান রচনা করে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় (যাকে বলা হয় কবির লড়াই) অবতীর্ণ হন। এন্টনি ফিরিঙ্গি এই ধারার একজন সফল শিল্পী ছিলেন।
অন্যান্য অপশন যেমন— পুঁথি সাহিত্য (আখ্যানমূলক), নাথ সাহিত্য (ধর্মকেন্দ্রিক) বা বৈষ্ণব পদ সাহিত্য (রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি)— সম্পূর্ণ ভিন্ন সাহিত্যিক ধারা।
110

‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ গ্রন্থটির প্রণেতা–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. গোলকনাথ শর্মা
  3. রামরাম বসু
  4. হরপ্রসাদ রায়

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: রামরাম বসু
রামরাম বসু (১৭৫৭-১৮১৩) ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী পণ্ডিত এবং কলেজের অন্যতম প্রধান লেখক। তিনি উইলিয়াম কেরি-এর অধীনে কাজ করতেন।
তাঁর রচিত ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ গ্রন্থটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি বাংলা গদ্যে মুদ্রিত প্রথম মৌলিক গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত। এটি একটি ঐতিহাসিক চরিত্রভিত্তিক আখ্যানধর্মী রচনা।
অন্যান্য অপশনগুলো ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সাথে যুক্ত হলেও তারা এই গ্রন্থের রচয়িতা নন। যেমন, উইলিয়াম কেরি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পণ্ডিত এবং বাংলা গদ্য বিকাশের অন্যতম পথিকৃৎ, তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘কথোপকথন’ (১৮০১)।
111

‘ইয়ং বেঙ্গল’ গোষ্ঠীর মুখপত্ররূপে কোন পত্রিকা প্রকাশিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জ্ঞানাঙ্কুর
  2. বঙ্গদূত
  3. জ্ঞানান্বেষণ
  4. সংবাদ প্রভাকর

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

‘ইয়ংবেঙ্গল’ ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুণ মুক্তচিন্তক ছাত্রগোষ্ঠী। এরা সবাই ছিলো ইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট বাঙালি যুবক। এঁদের মধ্যে প্রধান কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র ও তারাচাঁদ চক্রবর্তী। ১৮ জুন ১৮৩১ সালে দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ‘ইয়ংবেঙ্গল’ গোষ্ঠীর মুখপত্ররূপে ‘সাপ্তাহিক জ্ঞানান্বেষণ’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। দক্ষিণারঞ্জনের পরে সম্পাদক হন রসিককৃষ্ণ মল্লিক ও মাধবচন্দ্র মল্লিক। তাঁরা ১৮৩৩ সালের জানুয়ারি মাসে পত্রিকাটিকে ইংরেজি-বাংলায় প্রকাশ করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: জ্ঞানান্বেষণ
‘ইয়ং বেঙ্গল’ গোষ্ঠী ছিল হিন্দু কলেজের তরুণ ছাত্রদের একটি র‍্যাডিক্যাল দল, যারা হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর প্রভাবে যুক্তিবাদ ও মুক্তচিন্তার চর্চা করত।
১৮৩১ সালে ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠীর মুখপত্ররূপে জ্ঞানান্বেষণ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। এটি ছিল বাংলা ও ইংরেজি—উভয় ভাষায় প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা।
এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ইয়ং বেঙ্গল দলের অন্যতম সদস্য দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়
অন্যান্য অপশনসমূহ: সংবাদ প্রভাকর এর সম্পাদক ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত এবং বঙ্গদূত ছিল নীলমণি হালদারের সম্পাদনায় প্রকাশিত। এগুলি ইয়ং বেঙ্গলের সরাসরি মুখপত্র ছিল না।
112

হরিনাথ মজুমদার সম্পাদিত পত্রিকার নাম–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অবকাশ রঞ্জিকা
  2. বিবিধার্য সংগ্রহ
  3. কাব্য প্রকাশ
  4. গ্রামবার্তা প্রকাশিকা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

মাসিক ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ বাংলার মফস্বল থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র। ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি থেকে হরিনাথ মজুমদারের (কাঙাল হরিনাথ) সম্পাদনায় তার নিজস্ব ছাপাখানা থেকে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে এটি পাক্ষিক ও সাপ্তাহিকে পরিণত হয়। নীলকরদের অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে পত্রিকাটি প্রতিবাদী ছিল।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
এই পত্রিকাটি হরিনাথ মজুমদার (যিনি কাঙাল হরিনাথ নামে পরিচিত) কর্তৃক ১৮৬৩ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
এই পত্রিকা প্রকাশের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল গ্রামের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কৃষক ও প্রজাদের উপর জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনি তুলে ধরা এবং তাদের কণ্ঠস্বর হওয়া।
পত্রিকাটি মদনমোহন তর্কালঙ্কারের প্রেস থেকে ছাপা হতো এবং এটি প্রথমে মাসিক, পরে সাপ্তাহিক হিসেবে প্রকাশিত হয়।
113

নিচের কোনটি ভ্রমণসাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থ নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চার ইয়ারী কথা
  2. পালামৌ
  3. দৃষ্টিপাত
  4. দেশে বিদেশে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: চার ইয়ারী কথা
কারণ, চার ইয়ারী কথা গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গদ্যশিল্পী প্রমথ চৌধুরী কর্তৃক রচিত। এটি মূলত রম্য রচনা বা ব্যক্তিগত প্রবন্ধের সংকলন, যেখানে চার বন্ধুর আলাপচারিতা ও জীবনের নানা দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এটি সরাসরি ভ্রমণসাহিত্য নয়।
অন্যদিকে, বাকি তিনটি গ্রন্থই ভ্রমণসাহিত্য (Travelogue) বা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নির্ভর রচনা।
পালামৌ: এটি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি বিখ্যাত ভ্রমণসাহিত্য
দেশে বিদেশে: এটি বিশ্বখ্যাত লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি ক্লাসিক ভ্রমণসাহিত্য, যেখানে তিনি আফগানিস্তান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।
দৃষ্টিপাত: এটি যাযাবর (ছদ্মনাম, আসল নাম: বিনয় মুখোপাধ্যায়) রচিত। এটি মূলত প্রবন্ধ সংকলন হলেও এর মূল উপজীব্য হলো দেশ-বিদেশের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ, তাই অনেক ক্ষেত্রে এটিকে ভ্রমণসাহিত্যের সাথে সংশ্লিষ্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
114

নিচের যে উপন্যাসে গ্রামীণ সমাজ জীবনের চিত্র প্রাধান্য লাভ করেনি-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গণদেবতা
  2. পদ্মানদীর মাঝি
  3. সীতারাম
  4. পথের পাঁচালী

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

‘সীতারাম’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সর্বশেষ উপন্যাস। সীতারাম একটি ঐতিহাসিক চরিত্র। উপন্যাসে ঐতিহাসিক কিছু ঘটনাও আছে। ক্ষুদ্র সামন্ত রাজ্যের উত্থানপতনের ইতিহাস, পারিবারিক জীবনের সমস্যা এবং বিপর্যস্ত ব্যক্তি চরিত্রের সমাবেশ ঘটেছে এ উপন্যাসে। তার আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরাণী ও সীতারামকে ত্রয়ী উপন্যাস বলা হয়। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গণদেবতা’, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি’ এবং বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসে গ্রামীণ সমাজ জীবনের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সীতারাম
এই উপন্যাসটি রচনা করেছেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সীতারাম একটি ঐতিহাসিক পটভূমির উপন্যাস, যেখানে মুঘল আমলের শেষদিকে একজন স্থানীয় জমিদারের উত্থান-পতন, ক্ষমতা এবং ধর্মীয় সংঘাতের চিত্র প্রধান। এর মুখ্য ফোকাস গ্রামীণ সমাজ জীবনের দৈনন্দিন চিত্রায়ণ নয়, বরং রাজকীয় বা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
অন্যদিকে, অন্যান্য উপন্যাসগুলো গ্রামীণ সমাজ জীবনকেই প্রধান উপজীব্য হিসেবে গ্রহণ করেছে:
গণদেবতা (তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়): এটি রাঢ় বাংলার গ্রামীণ সমাজের ক্ষয় ও পরিবর্তনের দলিল।
পদ্মানদীর মাঝি (মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়): এখানে কেতুপুর গ্রামের জেলেদের (মাঝি) কঠোর জীবন, দারিদ্র্য এবং নদীর সাথে তাদের সম্পর্কের চিত্র প্রাধান্য পেয়েছে।
পথের পাঁচালী (বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়): এটি নিশ্চিন্দিপুর গ্রামের দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবার এবং বাংলার চিরন্তন গ্রামীণ জীবনধারার ছবি। এগুলি সবই পল্লী বা গ্রামীণ জীবনের প্রতিচ্ছবি।
115

নিচের কোন চরিত্র দুটি রবীন্দ্রনাথের ‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাসের?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিহারী-বিনোদিনী
  2. নিখিলেস-বিমলা
  3. মধুসূদন-কুমুদিনী
  4. অমিত-লাবণ্য

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নিখিলেস-বিমলা। এই চরিত্র দুটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম আলোচিত উপন্যাস ‘ঘরে বাইরে’র প্রধান চরিত্র।
নিখিলেস ছিলেন উদার ও ঐতিহ্যবাদী জমিদার, আর তার স্ত্রী বিমলা তার মধ্যে স্বদেশী ভাবনার উন্মাদনা দেখেন। এই উপন্যাসের অন্য প্রধান চরিত্রটি হলো চরমপন্থী স্বদেশী নেতা সন্দীপ
উপন্যাসটি মূলত এই তিন চরিত্রের মাধ্যমে তৎকালীন স্বদেশী আন্দোলনের সময়কার রাজনৈতিক সংঘাত এবং ত্রিভুজ প্রেমের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন তুলে ধরে।
অন্যান্য চরিত্রগুলো ভিন্ন উপন্যাসের:
বিহারী-বিনোদিনী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস ‘চোখের বালি’
মধুসূদন-কুমুদিনী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস ‘যোগাযোগ’
অমিত-লাবণ্য: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত রোমান্টিক উপন্যাস ‘শেষের কবিতা’
116

কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রিক্তের বেদন
  2. সর্বহারা
  3. আলেয়া
  4. কুহেলিকা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

কাজী নজরুল ইসলামের ‘কুহেলিকা’ উপন্যাসটি ১৯৩১ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর বিপ্লবী স্বদেশি দলের সাথে যুক্ত। নারী চরিত্রগুলোর মধ্যে তাহমিনা, চম্পা, ফিরদৌস বেগম উল্লেখযোগ্য। নারী সম্পর্কে এই উপন্যাসের একটি বিখ্যাত উক্তি- “ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে।” ‘বাঁধন-হারা’ ও ‘মৃত্যুক্ষুধা’ তার রচিত অন্য দুটি উপন্যাস। ‘বাঁধন-হারা’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস। ‘রিক্তের বেদন’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্হ, ‘আলেয়া’ নাটক এবং ‘সর্বহারা’ কাব্যগ্রন্হ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কুহেলিকা। এটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস, যা ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।
কাজী নজরুল ইসলামের লেখা মোট উপন্যাস সংখ্যা হলো ৩টি। এই ৩টি উপন্যাস মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি: বাঁধন-হারা (১৯২৭), মৃত্যুক্ষুধা (১৯৩০), এবং কুহেলিকা (১৯৩১)।
বাকি অপশনগুলো ভুল কারণ:
১. রিক্তের বেদন: এটি নজরুলের একটি গল্পগ্রন্থ (১৯২৫)।
২. সর্বহারা: এটি নজরুলের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ (১৯২৬)।
৩. আলেয়া: এটি নজরুলের একটি নাটক (১৯৩২)।
117

কোনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের পত্রকাব্য?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ব্রজাঙ্গনা
  2. বিলাতের পত্র
  3. বীরাঙ্গনা
  4. হিমালয়

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্যটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য। ১৮৬২ সালে প্রকাশিত এই কাব্যটি রোমান কবি পাবলিয়াস ওভেদিয়াস নাসো সংক্ষেপে ওভিদের ‘Heroides’ কাব্যের অনুসরণে রচিত। এ কাব্যে মোট এগারোটি পত্র আছে। পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে এ কাব্যে নিজেদের প্রণয়-কামনা ব্যক্ত করেছে। মধুসূদন দত্ত রচিত রাধা-কৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য ‘ব্রজাঙ্গনা’। ‘হিমালয়’ ও ‘বিলাতের পত্র’ যথাক্রমে জলধর সেন ও গিরিশচন্দ্র বসু রচিত ভ্রমণকাহিনি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বীরাঙ্গনা। এটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক পত্রকাব্য (Epistolary Poem)।
পত্রকাব্য হলো এমন কাব্য, যা চিঠির আকারে লেখা হয়। বীরাঙ্গনা কাব্যটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়। এতে মোট ১১ জন পৌরাণিক নারী (যেমন: শকুন্তলা, জনা, তারা, দ্রৌপদী প্রমুখ) তাদের পুরুষদের উদ্দেশ্যে পত্র লিখেছেন।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল কারণ:
ব্রজাঙ্গনা: এটি একটি গীতিকাব্য বা খণ্ডকাব্য, যা রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা নিয়ে রচিত।
বিলাতের পত্র: এটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচনা নয়। এটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের লেখা।
হিমালয়: এটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের কোনো উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ নয়।
118

‘একখানি ছোট ক্ষেত আমি একেলা’– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতার চরণ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সোনার তরী
  2. চিত্রা
  3. মানসী
  4. বলাকা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘একখানি ছোট ক্ষেত আমি একেলা’ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘সোনার তরী’ কাব্যগ্রন্হের নামকবিতা ‘সোনার তরী’ কবিতার চরণ। সোনার তরী কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে বসে রচনা করেন। এই সোনার তরী কাব্যগ্রন্থটিরই একটি বিখ্যাত কবিতা ‘বর্ষাযাপন’ এর বিখ্যাত চরণ- “ছোট প্রাণ ছোট ব্যথা, ছোট ছোট দুঃখকথা……অন্তরে অতৃপ্তি রবে, সাঙ্গ করি মনে হবে, শেষ হয়েও হইলো না শেষ”। মানসী, চিত্রা ও বলাকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্হ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো 'সোনার তরী'। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা, যা তাঁর 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
প্রদত্ত চরণটি (একখানি ছোট ক্ষেত আমি একেলা) কবিতাটির সেই অংশের প্রতিনিধিত্ব করে, যেখানে কবি নিজের নশ্বর জীবন এবং নিঃসঙ্গতার চিত্র তুলে ধরেছেন।
কবিতাটির মূল ভাব হলো– সৃষ্টিকর্ম (ফসল) অমর, কিন্তু সৃষ্টিকর্তা (কবি) মরণশীল। সোনার তরী (কাল/সময়) কবির সৃষ্টিকর্ম গ্রহণ করে চলে যায়, কিন্তু কবিকে স্থান দেয় না।
বাকি অপশনগুলো যেমন— চিত্রা, মানসী, ও বলাকা— এগুলোও রবীন্দ্রনাথের গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগ্রন্থ; কিন্তু এই বিখ্যাত চরণটি শুধুমাত্র 'সোনার তরী' কবিতারই অংশ।
119

‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’–কবিতাটি কার লেখা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শামসুর রাহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. আবুল ফজল
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ এর নাম কবিতা ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’। কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়। তার আরো একটি বিখ্যাত কবিতা হলো- কোনো এক মাকে (কুমড়ো ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে লতাটা)। আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো- সাতনরী হার, কখনও রং কখনও সুর, কমলের চোখ, বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’ কবিতাটি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। এটি তাঁর একই নামের কাব্যগ্রন্থের প্রধান কবিতা।
কবিতাটি মূলত বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে রচিত হয়েছে। এটি অত্যন্ত প্রতীকী ও বক্তব্যধর্মী একটি কবিতা, যেখানে ‘আমি’ বা কবির মাধ্যমে সামগ্রিক জাতিসত্তার জাগরণকে তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যান্য অপশনসমূহ ভুল, কারণ:
শামসুর রাহমান: তিনি নাগরিক কবি হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো 'বন্দী শিবির থেকে', 'নিরালোকে দিব্যরথ'।
আল মাহমুদ: তিনি লোকজ ও গ্রামীণ আবহের কবি। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো 'লোক লোকান্তর', 'কালের কলস'।
আবুল ফজল: তিনি প্রধানত প্রাবন্ধিক ও সাহিত্যিক (গদ্য লেখক)।
সুতরাং, কবিতাটির সঠিক রচয়িতা হলেন আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
120

কোনটি শওকত ওসমানের রচনা নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চৌরসন্ধি
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. ভেজাল
  4. বনি আদম

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

শওকত ওসমান রচিত উপন্যাসগুলি হলো- জননী (প্রথম উপন্যাস), চৌরসন্ধি, ক্রীতদাসের হাসি, বনি আদম, সমাগম, রাজা উপাখ্যান, পতঙ্গ পিঞ্জর, আর্তনাদ, রাজসাক্ষী। জাহান্নম হইতে বিদায়, দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্য ও জলাঙ্গী তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। পিঁজরাপোল, জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প, জন্ম যদি তব বঙ্গে, ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী তার রচিত গল্পগ্রন্থ। আমলার মামলা, পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা, তস্কর ও লস্কর, কাঁকরমণি, বাগদাদের কবি তার বিখ্যাত নাটক। মন্তব্য মৃগয়া, সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই, মুসলিম মানসের রূপান্তর তার প্রবন্ধগ্রন্থ। ‘ভেজাল’ কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত বিখ্যাত কবিতা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ভেজাল
ভেজাল উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী’র একটি অনবদ্য সৃষ্টি। এটি শওকত ওসমানের রচনা নয়।
অন্যদিকে, চৌরসন্ধি, ক্রীতদাসের হাসি, এবং বনি আদম— এই তিনটি বিখ্যাত রচনা প্রখ্যাত সাহিত্যিক শওকত ওসমান (আসল নাম: শেখ আজিজুর রহমান) কর্তৃক রচিত।
বিশেষত, ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাসটির জন্য শওকত ওসমান বাংলা সাহিত্যে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
121

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থসমূহের মধ্যে কোনটি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর লেখা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
  2. বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস
  3. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
  4. বাংলা সাহিত্যের কথা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বাংলা সাহিত্যের কথা। এটি বাঙালি পণ্ডিত ও ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর লেখা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর এই গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যকে ভাষা ও জাতিগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অন্যান্য বিকল্পসমূহ, যেগুলো পরীক্ষায় বারবার আসে:
১. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য: এটি রচনা করেন ড. দীনেশচন্দ্র সেন। এটিই বাংলা ভাষায় লেখা সাহিত্যের ইতিহাসের প্রথম পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ।
২. বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস: এটি রচনা করেন বিখ্যাত ভাষাবিজ্ঞানী ড. সুকুমার সেন। এই গ্রন্থটি চারটি খণ্ডে বিভক্ত।
৩. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত: এটি যৌথভাবে রচনা করেন মুহম্মদ আব্দুল হাইসৈয়দ আলী আহসান
122

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম পত্রিকার সম্পাদকের নাম কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. শামসুর রাহমান
  4. গাজীউল হক

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সংকলন ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’-এর সম্পাদক হাসান হাফিজুর রহমান। ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম নাটক ‘কবর’-এর রচয়িতা মুনীর চৌধুরী। ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ভাষাসৈনিক হিসেবে পরিচিত গাজীউল হক। কবি শামসুর রাহমান তার সাংবাদিকতা শুরু করেন ১৯৫৭ সালে ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য মর্নিং নিইজ’ এর সহসম্পাদক হিসেবে। পরবর্তী সময়ে তিনি ‘দৈনিক বাংলা’ এবং ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’র সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: হাসান হাফিজুর রহমান
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সংকলন/পত্রিকার নাম ছিল 'একুশে ফেব্রুয়ারী'। এই ঐতিহাসিক সংকলনটি ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত হয় এবং এর সম্পাদনা করেন কবি হাসান হাফিজুর রহমান
এটিই ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, কবিতা ও প্রবন্ধ নিয়ে প্রকাশিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যকর্ম, যা পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে ভিত্তি স্থাপন করে।
অন্যান্য বিকল্পের মধ্যে মুনীর চৌধুরী ভাষা আন্দোলনভিত্তিক বিখ্যাত নাটক 'কবর' রচনা করেন এবং শামসুর রাহমান ‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’ এর মতো কালজয়ী কবিতা রচনা করেন।
গাজীউল হক ছিলেন ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় সংগঠক ও ‘ভুলব না, ভুলব না’ গানটির রচয়িতা, তবে তিনি প্রথম পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন না।
123

বাংলাদেশে ‘গ্রাম থিয়েটার’-এর প্রবর্তক কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মমতাজউদদীন আহমদ
  2. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  3. সেলিম আল দীন
  4. রামেন্দু মজুমদার

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

নাট্যকার ড. সেলিম আল দীন নাসিরউদ্দীন ইউসুফের সাথে ১৯৮১-৮২ সালে ‘গ্রাম থিয়েটার’ গঠন করেন এবং তিনি ছিলেন ঢাকা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য, বাসন, কেরামতমঙ্গল, কিত্তনখোলা, মুনতাসীর ফ্যান্টাসি, চাকা, যৈবতী কন্যার মন, বনপাংশুল, হরগজ, জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, হাতহদাই, নিমজ্জন ইত্যাদি হলো তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক। স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা, কী চাহ শঙ্খচিল, প্রেম বিষয়ক সুটকেস, রাজা অনুস্বারের পালা, সাত ঘাটের কানাকড়ি, রাক্ষুসি, এই সেই কণ্ঠস্বর, বকুলপুরের স্বাধীনতা, বর্ণচোরা ইত্যাদি মমতাজ উদ্‌দীন আহমদের নাটক। আবদুল্লাহ আল মামুনের নাটকসমূহের মধ্যে সুবচন নির্বাসনে, এখনও দুঃসময়, এবার ধরা দাও, চারিদিকে যুদ্ধ, এখনও ক্রীতদাস, কোকিলারা ইত্যাদি। নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদারের উল্লেখযোগ্য নাট্যগ্রন্হ হলো- ‘নাটক: তত্ত্ব ও শিল্পরূপ’, ‘বাংলাদেশের নাট্যচর্চা’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: সেলিম আল দীন
বাংলাদেশে ‘গ্রাম থিয়েটার’ আন্দোলনের প্রবর্তক হলেন কিংবদন্তি নাট্যকার ও নির্দেশক সেলিম আল দীন
তিনি মূলত নাট্যচর্চার মাধ্যমে শহরের সঙ্গে গ্রামের সাংস্কৃতিক যোগসূত্র স্থাপন এবং দেশের ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্য ধারাকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্দেশ্যে এই আন্দোলন শুরু করেন।
অন্যান্য অপশনগুলোও প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব হলেও: মমতাজউদদীন আহমদ (যেমন: কী চাহ শঙ্খচিল) এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন (যেমন: সুবচন নির্বাসনে) বিখ্যাত নাট্যকার ও পরিচালক। রামেন্দু মজুমদার প্রধানত একজন সংগঠক এবং মঞ্চশিল্পী।
124

‘অলৌকিক ইস্টিমার’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. হেলাল হাফিজ
  3. আসাদ চৌধুরী
  4. রফিক আজাদ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘অলৌকিক ইস্টিমার’ কবি ও প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদের প্রথম কাব্যগ্রন্হ। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্হ হলো- ‘জ্বলো চিতাবাঘ’, ‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’, ‘যতোই গভীরে যাই মধু, যতোই উপরে যাই নীল’, ‘কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু’। ‘ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল’, ‘সব কিছু ভেঙে পড়ে’, ‘কবি অথবা দণ্ডিত অপুরুষ’, ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ তাঁর কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাস। ‘লাল নীল দীপাবলি’ বা বাংলা সাহিত্যের জীবনী এবং ‘কতো নদী সরোবর’ বা বাংলা ভাষার জীবনী তার উল্লেখযোগ্য দুটি সুখপাঠ্য প্রবন্ধ গ্রন্থ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: হুমায়ুন আজাদ
‘অলৌকিক ইস্টিমার’ হলো আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম আলোচিত কবি ও প্রাবন্ধিক হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯৭৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশের মাধ্যমেই হুমায়ুন আজাদ বাংলা সাহিত্য জগতে শক্তিশালী কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
অন্যান্য অপশনের লেখকদের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
হেলাল হাফিজ - ‘যে জলে আগুন জ্বলে’।
আসাদ চৌধুরী - ‘তবক দেওয়া পান’।
রফিক আজাদ - ‘অসম্ভবের পায়ে’।
125

কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কবিতায় ‘কালাপাহাড়’- কে স্বরণ করেছেন কেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ব্রাহ্মণ্যযুগে নব মুসলিম ছিলেন বলে
  2. ইসলামের গুণকীর্তন করেছিলেন বলে
  3. প্রাচীন বাংলার বিদ্রোহী ছিলেন বলে
  4. প্রচলিত ধর্ম ও সংস্কার-বিদ্বেষী ছিলেন বলে

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্হের অন্তর্গত 'মানুষ' কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম যারা পবিত্র উপাসনালয়ের দরজা বন্ধ করে, তাদের ধ্বংসের জন্য কালাপাহাড়কে স্মরণ করেছেন। তাই তো কাজী নজরুল লিখেছেন, “মোল্লা পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবি! কোথা চেঙ্গিস, গজনী মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়? ভেঙে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-দেওয়া দ্বার!” ‘কালাপাহাড়’ ছিলেন বাংলা ও বিহারের শাসনকর্তা সুলায়মান খান কররানির এক দুর্ধর্ষ সেনাপতি। তার আসল নাম রাজীবলোচন রায়। তিনি ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান ছিলেন এবং নিয়মিত বিষ্ণু পূজা করতেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং প্রবল হিন্দু বিদ্বেষী হয়ে ওঠেন। ১৫৬৮ সালে পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দির ও বিগ্রহের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেন। আর তখন থেকেই তিনি 'কালাপাহাড়' নামে পরিচিত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: প্রচলিত ধর্ম ও সংস্কার-বিদ্বেষী ছিলেন বলে
কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন মূলত ‘বিদ্রোহী কবি’। তাঁর কবিতার মূল সুর ছিল অত্যাচার, শোষণ, এবং অন্ধ ধর্মীয় সংস্কারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ।
ঐতিহাসিক কালাপাহাড়ের (মূল নাম: রাজু/রাজচন্দ্র) প্রধান পরিচিতি হলো তিনি ছিলেন একজন বিগ্রহ-ধ্বংসকারী (Iconoclast)। তিনি প্রচলিত ব্রাহ্মণ্য ধর্ম ও তার কঠিন আচার-বিচারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এবং পরে সামরিক কারণে বহু মন্দির ও বিগ্রহ ধ্বংস করেন।
নজরুল যখন তাঁর বিখ্যাত ‘ভাঙার গান’ বা বিপ্লবী চেতনামূলক কবিতাগুলো লেখেন, তখন তিনি কালাপাহাড়কে এমন এক প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেন, যিনি পুরোনো, জীর্ণ ও অন্ধ সংস্কারের বেড়াজাল ভেঙে নতুন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, কালাপাহাড় নব মুসলিম ছিলেন বটে, কিন্তু নজরুলের কবিতায় তাঁকে স্মরণের মূল কারণ তাঁর সংস্কার-বিদ্বেষী বিপ্লবী মনোভাব, কেবল ধর্ম পরিবর্তন নয়।
126

‘প্রদীপ নিবিয়া গেল।’–এ বিখ্যাত বর্ণনা কোন উপন্যাসের?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বিষবৃক্ষ’
  2. রবীন্দ্রনাথের ‘চোখের বালি’
  3. বঙ্কিমচন্দ্রের ‘কপালকুণ্ডলা’
  4. রবীন্দ্রনাথের ‘যোগাযোগ’

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস ‘কপালকুণ্ডলা’র দ্বিতীয় খণ্ডের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের ‘পান্হনিবাসে’-এর শেষ উক্তি। বঙ্কিমচন্দ্র রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’ ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস।
‘প্রদীপ নিবিয়া গেল।’—এ উক্তিটি ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের সর্বশেষ লাইন বা বিখ্যাত সমাপ্তি বর্ণনা। এটি উপন্যাসের নায়িকা কপালকুণ্ডলার চরম ট্র্যাজেডিকে ইঙ্গিত করে, যেখানে তিনি ঝড়ের রাতে নবকুমারের সাথে নদীতে নিমজ্জিত হয়ে যান। মূলত, এটি কপালকুণ্ডলার জীবন প্রদীপের নিভে যাওয়ার প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত হয়।
বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস—‘বিষবৃক্ষ’ (১৮৭৩), ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ (১৮৭৮) এবং ‘দুর্গেশনন্দিনী’ (১৮৬৫)।
127

‘মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে।’ –কার উক্তি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মীর মশাররফ হোসেনের
  2. ইসমাইল হোসেন সিরাজীর
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
  4. কাজী নজরুল ইসলামের

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেন। তাঁর রচিত নাটকের মধ্যে বসন্তকুমারী, জমীদার দর্পণ, বেহুলা গীতাভিনয়, টালা অভিনয় উল্লেখযোগ্য। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস হলো বিষাদ-সিন্ধু ও উদাসীন পথিকের মনের কথা। মশাররফ হোসেন রচিত ‘রত্নবতী’ মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মীর মশাররফ হোসেনের
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গদ্যশিল্পী মীর মশাররফ হোসেনের এটি একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ উক্তি।
মাতৃভাষা বাংলার প্রতি গভীর মমত্ববোধ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি এই উক্তিটি করেছিলেন, যা তাঁর প্রবন্ধ এবং আত্মজীবনীমূলক রচনা ‘গাজী মিয়াঁর বস্তানী’-তে (১৮৯৯) পাওয়া যায়।
অন্যান্য বিকল্প (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম) মাতৃভাষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রচনা করলেও, আলোচ্য উক্তিটি বিশেষভাবে মীর মশাররফ হোসেনের সাথে সম্পর্কিত।
128

‘কল্লোল’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদকের নাম কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. দীনেশরঞ্জন দাশ
  3. সজনীকান্ত দাস
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

১৯২৩ সালে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক ‘কল্লোল’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ। ১৯২৬ সালে প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় আরেকটি মাসিক পত্রিকা ‘কালিকলম’। তিরিশের আধুনিকতার যে আন্দোলন কলকাতা থেকে শুরু হয়েছিল তার ঢেউ বাংলাদেশেও প্রবাহিত হয় বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত সম্পাদিত ‘প্রগতি’ পত্রিকার মাধ্যমে। বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদনায় আরেকটি পত্রিকা ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয়। পত্রিকার নাম ছিলো ‘কবিতা’। সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত পত্রিকা ‘বঙ্গশ্রী’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: দীনেশরঞ্জন দাশ
১৯২৩ সালে (১৩৩০ বঙ্গাব্দ) দীনেশরঞ্জন দাশের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘কল্লোল’ প্রথম প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকাটি বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্র-পরবর্তী নতুন সাহিত্য ধারার সূচনাকারী হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
বুদ্ধদেব বসু ছিলেন ‘কল্লোল’ যুগের অন্যতম লেখক, কিন্তু তিনি বিখ্যাত ‘কবিতা’ পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
সজনীকান্ত দাস ছিলেন ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকার সম্পাদক, যা ‘কল্লোল’ গোষ্ঠীর সাহিত্যকে তীব্রভাবে ব্যঙ্গ করত।
129

‘আমি এ কথা, এ ব্যথা, সুখব্যাকুলতা কাহার চরণতলে দিব নিছনি’– রবীন্দ্রনাথের এ গানে ‘নিছনি’ কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অপনোদন অর্থে
  2. পূজা অর্থে
  3. বিলানো অর্থে
  4. উপহার অর্থে

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘নিছনি’ শব্দের আভিধানিক অর্থ রূপ, লাবণ্য, উপহার, বেশবিন্যাস, অর্ঘ্য, নিবেদন ইত্যাদি। রবীন্দ্রনাথের এ গানে চরণতলে ‘নিছনি’ শব্দটি অর্ঘ্য অর্থাৎ পূজা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পূজা অর্থে
বাংলা সাহিত্যে 'নিছনি' একটি বিশেষার্থক শব্দ, যা সাধারণত উৎসর্গ, নিবেদন বা পূজা অর্থে ব্যবহৃত হয়। যদিও এর আভিধানিক অর্থ অমঙ্গল দূর করার জন্য কোনো কিছু উৎসর্গ করা বা 'নজর' নেওয়া, কিন্তু কাব্যিক বা ভক্তিমূলক প্রসঙ্গে এটি গভীর ভক্তি বা আরাধনার প্রতীক
প্রশ্নোক্ত চরণটিতে (‘আমি এ কথা, এ ব্যথা, সুখব্যাকুলতা কাহার চরণতলে দিব নিছনি’) কবি তাঁর সমস্ত আবেগ ও অনুভূতি কার চরণতলে (পায়ে) নিবেদন করতে চাইছেন। এই চরণতলে নিবেদন বা উৎসর্গ করার কাজটিই গভীর শ্রদ্ধা বা পূজা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
অন্যান্য অপশন যেমন— 'বিলানো' বা 'উপহার' সাধারণ দানকে বোঝায়, যা এই পঙক্তির গভীর আধ্যাত্মিক নিবেদনের অর্থকে প্রকাশ করতে পারে না।
130

‘ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি, আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।’ – কে বলেছেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী
  3. প্রথম চৌধুরী
  4. কাজী আব্দুল ওদুদ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজের ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের’ সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন শিক্ষাবিদ ও লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরী। ‘সংস্কৃতি- কথা’, ‘সুখ’ ও ‘সভ্যতা’ তার বিখ্যাত তিনটি গ্রন্থ। গ্রন্থ তিনটি তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। ‘সভ্যতা’ গ্রন্থটি ক্লাইভ বেলের ‘The Civilization’ গ্রন্থের অনুবাদ এবং ‘সুখ’ বার্ট্রান্ড রাসেলের ‘The Conquest of Happiness’ গ্রন্থের অনুবাদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মোতাহের হোসেন চৌধুরী। এই উক্তিটি তাঁর সাহিত্যিক ও দার্শনিক চিন্তাধারার মূল নির্যাস।
মোতাহের হোসেন চৌধুরী ছিলেন একজন মানবতাবাদী ও মুক্তবুদ্ধির লেখক। তিনি সংস্কৃতিকে মানুষের জীবনের প্রধান অবলম্বন এবং শ্রেষ্ঠ অর্জন হিসেবে বিবেচনা করতেন। তাঁর মতে, ধর্ম যদি সাধারণ মানুষকে পরিচালিত করে, তবে সংস্কৃতিই শিক্ষিত, রুচিশীল ও মার্জিত মানুষকে জীবনবোধের গভীর পথে চালিত করে, যা ধর্মের মতোই অবশ্য পালনীয়।
এই উক্তিটি মোতাহের হোসেন চৌধুরী-এর বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘সংস্কৃতির কথা’-এর অন্তর্গত।
131

কবি কায়কোবাদ রচিত ‘মহাশ্মশান’ কাব্যের ঐতিহাসিক পটভূমি ছিল–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পলাশীর যুদ্ধ
  2. তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ
  3. ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ
  4. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বন করে প্রথম বাঙালি মুসলিম মহাকবি কায়কোবাদ রচনা করেন তাঁর ঐতিহাসিক মহাকাব্য 'মহাশ্মশান'। তিন খণ্ডে প্রকাশিত কাব্যটির প্রথম খণ্ডে ২৯ সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪ সর্গ এবং তৃতীয় খণ্ডে ৭ সর্গ রয়েছে। কাব্যটি মুহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত ‘কোহিনূর’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। তাঁর আসল নাম কাজেম আল কোরায়েশী। তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে ‘বিরহ-বিলাপ’ (প্রথম কাব্য), ‘অশ্রুমালা’, ‘শিবমন্দির’, ‘অমিয়ধারা’ উল্লেখযোগ্য। মুনীর চৌধুরীর ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে রচিত একটি বিখ্যাত নাটক।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ
কবি কায়কোবাদ (Kazi Kaykobad) রচিত বিশাল কলেবরের মহাকাব্যটির নাম ‘মহাশ্মশান’। এই কাব্যটি ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
এই কাব্যের ঐতিহাসিক পটভূমি ছিল ১৭৬১ সালের তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ। এই যুদ্ধে আফগান সেনাপতি আহমেদ শাহ আবদালী এবং মারাঠা সাম্রাজ্যের মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত ঘটে, যার ফলস্বরূপ মারাঠারা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।
কায়কোবাদ এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবং এর করুণ পরিণতি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় তুলে ধরেছিলেন, যা কাব্যের নামকরণে (মহাশ্মশান) প্রতিফলিত হয়েছে।
অন্যান্য অপশন যেমন, ‘পলাশীর যুদ্ধ’ বা ‘সিপাহী বিদ্রোহ’ এই কাব্যের পটভূমি নয়।
132

সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের গ্রন্থ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রহু চণ্ডালের হাড়
  2. কৈবর্ত খণ্ড
  3. ফুল বউ
  4. অলীক মানুষ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ভারতীয় বাঙালি লেখক সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ‘অলীক মানুষ’। তাঁর আরও কিছু বিখ্যাত উপন্যাস হলো ‘নীলঘরের নটি’, ‘তৃণভূমি’ ও ‘উত্তর জাহ্নবী’। কর্ণেল নীলাদ্রি সরকার তাঁর সৃষ্ট একটি গোয়েন্দা চরিত্র। বাজিকরদের জীবন নিয়ে রচিত ‘রহু চণ্ডালের হাড়’ উপন্যাসের রচয়িতা অভিজিত সেন। কৈবর্তদের জীবনসংগ্রাম নিয়ে রচিত ‘কৈবর্ত খণ্ড’ উপন্যাসটি রচনা করেন ‘হাজার চুরাশির মা’ খ্যাত মহাশ্বেতা দেবী। ‘ফুল বউ’ উপন্যাস রচনার মাধ্যমে সাহিত্যিক আবুল বাশার তিন তালাকের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অলীক মানুষ। এই বিখ্যাত উপন্যাসটি লিখেছেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী লেখক সৈয়দ মুস্তফা সিরাজ

উপন্যাসটির জন্য তিনি ১৯৯৪ সালে ভারতের অন্যতম সম্মানজনক পুরস্কার সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। এটি তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি।

অন্যান্য বিকল্পগুলোর মধ্যে:

১. রহু চণ্ডালের হাড়: এটি লিখেছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

২. কৈবর্ত খণ্ড: এটি মূলত কোনো বিখ্যাত উপন্যাসের নাম নয়, এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন কৈবর্ত বিদ্রোহ-এর সাথে সম্পর্কিত।

৩. ফুল বউ: এটিও সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের মূলধারার উল্লেখযোগ্য কাজ নয়।
133

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্য প্রকাশিত হয় কত সনে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 1910
  2. 1911
  3. 1912
  4. 1913

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যে মোট ১৫৭টি কবিতা সংকলিত হয়েছে। ১৯১২ সালে কাব্যটির ইংরেজি অনুবাদ 'Song Offerings' প্রকাশ পায়। তবে ইংরেজি অনুবাদে গীতাঞ্জলি কাব্যের মাত্র ৫০টি কবিতা স্থান পায়। এগুলোর সাথে অন্যান্য কাব্যের আরও কিছু কবিতার অনুবাদ প্রকাশিত হয়। অনুবাদ করেন কবি নিজেই তবে ভূমিকা লিখে দেন ইংরেজ কবি ইয়েটস। ১৯১৩ সাল পর্যন্ত যতগুলো ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয় সেগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করে নোবেল কমিটি ১৯১৩ সালে প্রথম বাঙালি হিসেবে তাঁকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রদান করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৯১০ সাল।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ ‘গীতাঞ্জলি’ (বাংলা সংস্করণ) সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১০ সালের আগস্ট মাসে (বাংলা ১৩১৭ বঙ্গাব্দ, আশ্বিন)।
পরীক্ষায় প্রায়শই তারিখগুলো নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, তাই মনে রাখবেন:
১৯১০: বাংলা ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্য প্রকাশিত।
১৯১২: এটির ইংরেজি অনুবাদ ‘Song Offerings’ লন্ডনে প্রকাশিত হয়। ইংরেজি অনুবাদের ভূমিকা লিখেছিলেন বিখ্যাত আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস (W. B. Yeats)
১৯১৩: এই ইংরেজি অনুবাদের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এশিয়ায় প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
134

‘আসাদের শার্ট’ কবিতার লেখক কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আল মাহমুদ
  2. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. শামসুর রাহমান

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে ২০ জানুয়ারি ছাত্রনেতা আসাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হলে তার রক্তমাখা শার্টকে উপলক্ষ করেই নাগরিক কবি শামসুর রাহমান ‘আসাদের শার্ট’ কবিতাটি রচনা করেন। কবিতাটি কবির ‘নিজ বাসভূমে’ কাব্যগ্রন্হের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর আরো দুটি বিখ্যাত কবিতা হলো- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: শামসুর রাহমান
এই বিখ্যাত কবিতাটি ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক **গণঅভ্যুত্থান** চলাকালীন শহীদ **মতিউর রহমান মল্লিক আসাদ**-কে নিয়ে লেখা। আসাদ ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
আসাদের রক্তমাখা শার্ট তৎকালীন স্বৈরশাসন ও ছাত্রহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়েছিল এবং এই বিষয়টিই **শামসুর রাহমান** তার কবিতায় তুলে ধরেন।
কবিতাটি কবির 'নিজ বাসভূমে' (১৯৭০) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
অন্যান্য অপশনগুলো (আল মাহমুদ, আব্দুল মান্নান সৈয়দ, অমিয় চক্রবর্তী) তাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিখ্যাত হলেও এই কবিতাটির রচয়িতা নন।
135

‘সমাচার দর্পণ’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ার্সন
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. ডেভিড হেয়ার

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

১৮১৮ সালের মে মাসে হুগলির শ্রীরামপুর মিশন থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যান এর সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ‘সমাচার দর্পণ’ নামে একটি সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়। এর আগে ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে শ্রীরামপুর মিশন থেকেই ‘দিগদর্শন’ নামে আরেকটি বাংলা মাসিক পত্র বের হয়, তবে সেটি সংবাদপত্র ছিল না, ছিল নীতি-ধর্ম-তত্ত্বমূলক মাসিক সাময়িকপত্র। সুতরাং সাপ্তাহিক ‘সমাচার দর্পণ’ ই বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: জন ক্লার্ক মার্শম্যান
বাংলা ভাষায় প্রকাশিত এই সাপ্তাহিক পত্রিকাটি ১৮১৮ সালের ২৩ মে শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত হয়।
জন ক্লার্ক মার্শম্যান শ্রীরামপুর মিশনের অন্যতম সদস্য ছিলেন এবং তিনি এই পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।
শ্রীরামপুর ত্রয়ীর (William Carey, John Clark Marshman, William Ward) উদ্যোগে এটি প্রকাশিত হয় এবং বাংলা সংবাদপত্রের ইতিহাসে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে।
136

কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. স্মৃতি কথামালা
  2. আত্মচরিত
  3. আত্মকথা
  4. আমার কথা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বাংলা গদ্যের জনক এবং বাংলা গদ্যে বিরাম চিহ্নের প্রবর্তক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালে পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃপ্রদত্ত নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৩৯ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে সংস্কৃত কলেজ থেকে তিনি বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন। তিনি ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা নামে স্বাক্ষর করতেন। তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থগুলির মধ্যে বেতাল পঞ্চবিংশতি, শকুন্তলা, সীতার বনবাস, ভ্রান্তিবিলাস, ব্রজবিলাস, বোধোদয়, বর্ণপরিচয়, কথামালা, আখ্যানমঞ্জুরী, অতি অল্প হইল, আবার অতি অল্প হইল উল্লেখযোগ্য। ঈশ্বরচন্দ্র রচিত ‘প্রভাবতী সম্ভাষণ’ বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্যগ্রন্থ। ‘আত্মচরিত’ তার আত্মজীবনীমূলক বর্ণনাধর্মী অসমাপ্ত রচনা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো আত্মচরিত (অপশন খ)।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর জীবনের বিভিন্ন ঘটনা, বিশেষত শৈশব ও পারিবারিক জীবন নিয়ে এই আত্মজীবনীটি রচনা শুরু করেন।
তবে এটি অসমাপ্ত অবস্থায় প্রকাশিত হয়। এটি তার জীবনের শেষদিকে লেখা শুরু হয়েছিল।
অন্যান্য বিকল্পের মধ্যে, আত্মকথা বা আমার কথা সাধারণত অন্য লেখকদের (যেমন: রবীন্দ্রনাথের 'জীবনস্মৃতি', যদিও এটি সরাসরি আত্মকথা নয়; 'আমার কথা' বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের) রচনাকে নির্দেশ করে, যা বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনী নয়।
137

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্বপুরুষের আদিবসতি কোথায় ছিল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. খুলনার দক্ষিণ ডিহি
  2. যশোরের কেশবপুর
  3. ছোটনাগপুর মালভূমি
  4. কুষ্টিয়ার শিলাইদহ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন এর তথ্য অনুযায়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্বপুরুষের আদি নিবাস খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার পিঠাভোগ গ্রামে। খুলনা আঞ্চলিক প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদফতর এর পরীক্ষামূলক সমীক্ষায় পিঠাভোগ গ্রামে রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষের ভিটা ভিত্তিপ্রস্তরের সন্ধান পাওয়া গেছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: যশোরের কেশবপুর
জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের পূর্বপুরুষের আদি বসতি ছিল অধুনা বাংলাদেশের যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলাধীন পিঠাভোগ গ্রামে।
এই পরিবারের আদি নাম ছিল কুশারী (রাঢ়ি ব্রাহ্মণ)। জনৈক পূর্বপুরুষ পীর আলী খান-এর সংস্পর্শে এসে সমাজে পতিত হওয়ার ভয় এবং পরবর্তীকালে রাজকার্যের সূত্রে তারা 'ঠাকুর' উপাধি পান এবং কলিকাতায় বসতি স্থাপন করেন।
অন্যান্য বিভ্রান্তিকর তথ্য:
খুলনার দক্ষিণ ডিহি: এটি রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষের বসতি নয়, বরং তাঁর স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর পিত্রালয় ছিল খুলনার দক্ষিণ ডিহিতে।
কুষ্টিয়ার শিলাইদহ: এটি ছিল রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত জমিদারি ও কর্মস্থল
138

‘তেল নুন লকড়ি’ কার রচিত গ্রন্হ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্রবোধচন্দ্র সেন
  2. প্রমথনাথ বিশি
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. প্রদ্যুম্ন মিত্র

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী। বীরবল ছদ্মনামে তিনি লিখতেন। চলিত রীতিকে বাংলা গদ্যে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি সম্পাদনা করেন বিখ্যাত পত্রিকা ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪)। বাংলা কাব্যসাহিত্যে তিনি ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। ‘তেল নুন লাকড়ি’ তার বিখ্যাত প্রবন্ধ গ্রন্থ। তার রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ- বীরবলের হালখাতা ও রায়তের কথা; গল্পগ্রন্থ- চার ইয়ারী কথা ও আহুতি; কাব্যগ্রন্থ- সনেট পঞ্চাশৎ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: প্রমথ চৌধুরী
‘তেল নুন লকড়ি’ গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক, সমালোচক ও সবুজ পত্র পত্রিকার সম্পাদক প্রমথ চৌধুরী কর্তৃক রচিত।
তিনি বীরবল ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন এবং বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তন ও প্রতিষ্ঠা করার জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। এই গ্রন্থে তাঁর সমাজ, সংস্কৃতি ও সাহিত্য বিষয়ক বহু বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।
অন্যান্য অপশন যেমন প্রবোধচন্দ্র সেন ছিলেন প্রধানত ছন্দ বিশেষজ্ঞ, প্রমথনাথ বিশি বা প্রদ্যুম্ন মিত্র আধুনিক যুগের বিখ্যাত সাহিত্যিক হলেও আলোচ্য গ্রন্থের রচয়িতা নন।
139

বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. শর্মিষ্ঠা
  3. সধবার একাদশী
  4. নীলদর্পণ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের প্রথম আধুনিক নাট্যকার ও বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক ‘কৃষ্ণকুমারী’ রচনা করেন। তার রচিত অন্যান্য নাটকগুলো হলো- পদ্মাবতী, শর্মিষ্ঠা ও মায়াকানন। তার পদ্মাবতী নাটকেই তিনি প্রথমবারের মতো অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেছিলেন। ‘বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ (বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রহসন) এবং ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ তার রচিত প্রহসন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কৃষ্ণকুমারী
বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক হলো 'কৃষ্ণকুমারী'। এই নাটকটি ১৮৬১ সালে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচনা করেন। এটি ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত এবং এতে ট্র্যাজেডির ক্লাসিক বৈশিষ্ট্যগুলি সম্পূর্ণরূপে প্রতিফলিত হয়েছে, যে কারণে এটি 'সার্থক' ট্র্যাজেডি হিসেবে স্বীকৃত।
প্রথম বাংলা নাটক হিসেবে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৫৯ সালে 'শর্মিষ্ঠা' রচনা করেন। এটি প্রথম আধুনিক নাটক হলেও এটি ট্র্যাজেডি নয়। এটি পৌরাণিক কাহিনি নির্ভর।
'নীলদর্পণ' (১৮৬০) হলো দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নাটক, যা সামাজিক ট্র্যাজেডির উদাহরণ। কিন্তু সাহিত্যের ধারায় 'কৃষ্ণকুমারী'-কে প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি বলা হয়।
140

‘কপালকুণ্ডলা’ কোন প্রকৃতির রচনা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রোমান্সমূলক উপন্যাস
  2. বিয়োগান্তক নাটক
  3. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  4. সামাজিক উপন্যাস

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বাংলা উপন্যাসের জনক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘কপালকুণ্ডলা’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস। উপন্যাসের প্রধান তিনটি চরিত্র হলো: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার ও কাপালিক। “পথিক তুমি কি পথ হারাইয়াছ?” কপালকুণ্ডলার এই উক্তিটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ। এই উপন্যাসের আরেকটি বিখ্যাত উক্তি হলো: “তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?” তার রচিত ‘দুর্গেশনন্দিনী’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: রোমান্সমূলক উপন্যাস
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘কপালকুণ্ডলা’ (প্রকাশ: ১৮৬৬) বাংলা সাহিত্যের একটি কালজয়ী রচনা। এটিকে প্রধানত রোমান্টিক উপন্যাস বা রোমান্সমূলক উপন্যাস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
এই উপন্যাসে প্রকৃতি, রহস্য, ভাগ্য এবং প্রেম—এই বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। কপালকুণ্ডলা চরিত্রটি প্রকৃতির সন্তান হিসেবে বেড়ে উঠেছে এবং তার জীবনে রহস্যময়তা ও নিয়তির খেলা প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।
এটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (যেমন, পর্তুগিজ দস্যু ও নবাবের প্রসঙ্গ) ব্যবহার করলেও মূল উদ্দেশ্য ছিল রোমান্টিক কাহিনি তুলে ধরা। তাই এটি সামাজিক উপন্যাস বা কেবল ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়।
141

কোনটি রবীন্দ্ররচনার অন্তর্গত নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. “কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও?”
  2. “অগ্নিগ্রাসী বিশ্বত্রাসি জাগুক আবার আত্মদান।”
  3. “প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে তাই হেরি তায় সকল খানে?”
  4. “কি আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে নদীর কূলে।”

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও?’ এ পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের অন্তর্গত। ‘প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে তাই হেরি তায় সকল খানে’ রবীন্দ্রনাথের ‘রাজা’ নাটকের অন্তর্গত এবং ‘কি আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে নদীর কূলে’ এ পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ রচিত বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ কবিতার অন্তর্গত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো অপশন ২: “অগ্নিগ্রাসী বিশ্বত্রাসি জাগুক আবার আত্মদান।”। এই চরণটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা নয়।
এই বিদ্রোহাত্মক ও উদ্দীপনামূলক চরণটি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর রচনা। এটি তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'অগ্রপথিক'-এর অংশ, যা 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
অন্যান্য অপশনগুলো নিশ্চিতভাবেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা:
১. “কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও?”: এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রথের রশি' নাটিকার একটি বিখ্যাত উক্তি ও গান।
২. “প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে তাই হেরি তায় সকল খানে?”: এটি রবীন্দ্রনাথের বাউল তত্ত্ব প্রভাবিত একটি জনপ্রিয় গান (গীতবিতান)।
৩. “কি আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে নদীর কূলে।”: এটিও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকৃতির বর্ণনাভিত্তিক কবিতা/গান থেকে নেওয়া।
142

‘মিলির হাতে স্টেনগান’ গল্পটি কার লেখা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. শহীদুল জহির
  3. শওকত ওসমান
  4. শওকত আলী

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘মিলির হাতে স্টেনগান’ গল্পটি তার ‘দুধেভাতে উৎপাত’ গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত। এই গল্পগ্রন্থের অন্য তিনটি গল্প হলো: ‘দুধেভাতে উৎপাত’, ‘পায়ের নিচে জল’ ও ‘দখল’। তার রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ হলো: ‘অন্য ঘরে অন্য স্বর’, ‘খোঁয়ারি’, ‘দোজখের ওম’ এবং ‘জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল’। ‘খোয়াবনামা’ ও ‘চিলেকোঠার সেপাই’ তার রচিত উপন্যাস।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
‘মিলির হাতে স্টেনগান’ গল্পটি প্রখ্যাত সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের লেখা। এটি তাঁর একটি বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প যা ১৯৭১ সালের পটভূমিতে রচিত।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য অংশে এই লেখকের এই গল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যান্য অপশনের লেখকদের মধ্যে শওকত ওসমান ('ক্রীতদাসের হাসি', 'নেকড়ে অরণ্য') এবং শওকত আলী ('প্রদোষে প্রাকৃতজন', 'যাত্রা') তাঁদের বিখ্যাত উপন্যাসের জন্য সুপরিচিত, কিন্তু আলোচ্য গল্পের রচয়িতা নন।
143

“প্রাণের বান্ধব রে বুড়ি হইলাম তোর কারণে।” গানটির গীতিকার কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শাহ আবদুল করিম
  2. রাধারমন
  3. শেখ ওয়াহিদ
  4. কুদ্দুস বয়াতি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

প্রশ্নোল্লিখিত গানটির গীতিকার শেখ ওয়াহিদুর রহমান। ‘আমার মাটির গাছে লাউ ধরেছে’, কাঙ্গালিনী সুফিয়ার বিখ্যাত ‘পরাণের বান্ধবরে-বুড়ি হইলাম তোর কারণে’ কিংবা ডলি সায়ন্তিনীর কণ্ঠে ‘কোন বা পথে নিতাইগঞ্জ যাই’ সহ অসংখ্য জনপ্রিয় লোকগীতির গীতিকার তিনি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: শেখ ওয়াহিদ
“প্রাণের বান্ধব রে বুড়ি হইলাম তোর কারণে।” এই জনপ্রিয় লোকসংগীতটির মূল গীতিকার হলেন শেখ ওয়াহিদ। গানটি মূলত কুষ্টিয়া অঞ্চলের লোকগান হিসেবে পরিচিত ছিল।
বিসিএস পরীক্ষার জন্য এই ধরনের লোকসংগীতের স্রষ্টাকে মনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শিল্পীর নামের সাথে গীতিকারের নাম প্রায়ই গুলিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, এই গানটির জনপ্রিয় পরিবেশন করেছেন জনপ্রিয় লোকশিল্পী কুদ্দুস বয়াতি এবং পরবর্তীতে ফরিদা পারভীন। কিন্তু গীতিকার তিনি নন।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ শাহ আবদুল করিম (বাউল সম্রাট) এবং রাধারমন দত্ত (ধামাইল গানের জনক) বাংলাদেশের ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের নিজস্ব ধারার লোকসংগীতের জন্য বিখ্যাত।
144

‘হুলিয়া’ কবিতা কার রচনা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আবুল হাসান
  2. আবুল হোসেন
  3. মহাদেব সাহা
  4. নির্মলেন্দু গুণ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বাংলাদেশের কবিদের কবি খ্যাত নির্মলেন্দু গুণের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’-এর বিখ্যাত কবিতা ‘হুলিয়া’। তার আরেকটি বিখ্যাত কবিতা হলো- ‘স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’। ‘না প্রেমিক না বিপ্লবী’, ‘দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী’, ‘তার আগে চাই সমাজতন্ত্র’, ‘চাষাভূষার কাব্য’, ‘ইসক্রা’, ‘মুজিব-লেলিন-ইন্দিরা’, ‘মুঠোফোনের কাব্য’, ‘শিয়রে বাংলাদেশ’ ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নির্মলেন্দু গুণ
‘হুলিয়া’ একটি বিখ্যাত রাজনৈতিক এবং প্রতিবাদী কবিতা, যা আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবি নির্মলেন্দু গুণ রচনা করেন।
কবিতাটি রচিত হয়েছিল মূলত গণ-আন্দোলন ও মুক্তিসংগ্রামের প্রেক্ষাপটে
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল কারণ: আবুল হাসান (আলাদা কবি, বিখ্যাত 'রাজা যায় রাজা আসে' কাব্যগ্রন্থের জন্য), আবুল হোসেন এবং মহাদেব সাহা বাংলা সাহিত্যের পরিচিত কবি হলেও ‘হুলিয়া’ তাদের রচিত নয়।
145

নিচের কোন সাহিত্যিক আততায়ীর হাতে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আবুল হাসান
  2. হুমায়ুন কবির
  3. সোমেন চন্দ
  4. কল্যাণ মিত্র

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ সোমেন চন্দ (পূর্ণ নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ) আততায়ীর হাতে (ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের) ছুরিকাহত হয়ে নিহত হন ৮ মার্চ ১৯৪২।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সোমেন চন্দ
তিনিই একমাত্র সাহিত্যিক যিনি আততায়ীর হাতে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
সোমেন চন্দ ছিলেন একজন প্রগতিবাদী লেখক এবং রাজনৈতিক কর্মী। তিনি ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
১৯৪২ সালের ৮ মার্চ, তিনি ঢাকায় ফ্যাসিবাদ বিরোধী লেখক ও শিল্পী সংঘের একটি প্রাদেশিক সম্মেলন আয়োজনের সময় ফুলবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের কাছে ফ্যাসিবাদ-সমর্থক ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হামলায় নিহত হন। তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম শহীদ সাহিত্যিক হিসেবে গণ্য করা হয়।
অন্যান্য অপশনসমূহ ভুল। আবুল হাসান (কবি) ক্যানসারে মৃত্যুবরণ করেন। হুমায়ুন কবির (রাজনীতিবিদ ও লেখক) ভারতে স্বাভাবিকভাবে মারা যান এবং কল্যাণ মিত্র (নাট্যকার) স্বাভাবিক মৃত্যু বরণ করেন।
146

নিম্নোক্ত কোন উপন্যাসে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধোত্তর সময়ের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দেবেশ রায়ের ‘তিস্তাপাড়ের বৃত্তান্ত’
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘পূর্ব-পশ্চিম’
  3. শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘যাও পাখি’
  4. অভিজিৎ সেনের ‘রহুচণ্ডালের হাড়’

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘পূর্ব-পশ্চিম’ উপন্যাসটিতে বিভাজনপূর্বক পূর্ব বাংলার একটি পরিবার, ১৯৪৭ এর ভারত বিভাগের সময়কার পরিস্থিতি, দেশত্যাগ, উদ্বাস্তুদের জীবন, নতুন প্রজন্মের চিন্তাধারা, পশ্চিমবঙ্গের নকশাল আন্দোলন এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্থান পেয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘পূর্ব-পশ্চিম’
‘পূর্ব-পশ্চিম’ (১৯৮৮ সালে প্রকাশিত) উপন্যাসটি মূলত ১৯৪০-এর দশকে দেশভাগ থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং তার পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের (বিশেষত ঢাকা) সমাজ ও রাজনীতির বিস্তারিত চিত্র অঙ্কন করেছে। এই উপন্যাসে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দুটি পরিবারের জীবনের ওঠানামা দেখানো হয়েছে।
যেহেতু প্রশ্নটি সরাসরি ‘মুক্তিযুদ্ধোত্তর সময়ের চিত্র’ নিয়ে, তাই বিশাল প্রেক্ষাপট এবং গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণ থাকার কারণে ‘পূর্ব-পশ্চিম’ উপন্যাসটিই এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর।
অন্যান্য অপশনগুলো (যেমন: দেবেশ রায়ের ‘তিস্তাপাড়ের বৃত্তান্ত’) মূলত পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক জীবন, আর্থ-সামাজিক অবস্থা ইত্যাদি নিয়ে রচিত, যা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের চিত্র নয়।
147

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অধ্যক্ষ কে ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. রামরাম বসু

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা বিভাগ খোলা হয়। উইলিয়াম কেরী স্বীয় যোগ্যতাবলে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অধ্যক্ষ হন। মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের একজন পণ্ডিত ছিলেন। তার রচিত গ্রন্থ ‘বত্রিশ সিংহাসন’, ‘হিতোপদেশ’, ‘রাজাবলি’ উল্লেখযোগ্য। উইলিয়াম কেরির সহকারী রামরাম বসু ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পাঠ্যপুস্তক প্রণেতাদের মধ্যে প্রথম ও প্রধান। তার রচিত গ্রন্থ ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’, ‘লিপিমালা’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: উইলিয়াম কেরি
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ মূলত ১৮০০ সালে ভারতে আগত ইংরেজ সিভিলিয়ানদের দেশীয় ভাষা, আইন, ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন ড. উইলিয়াম কেরি (William Carey)
যদিও কলেজের প্রধান পৃষ্ঠপোষক বা প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন লর্ড ওয়েলেসলি, কিন্তু ভাষাগত পাঠদান ও একাডেমিক প্রধান হিসেবে উইলিয়াম কেরির ভূমিকা ছিল মুখ্য। তাঁর নেতৃত্বেই রামরাম বসু, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারসহ অন্যান্য পণ্ডিতরা বাংলা গদ্য রচনা শুরু করেন।
148

‘বাংলা সাহিত্যের জনক’ হিসেবে কার নাম চির স্মরণীয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের জনক বলে কেউ নেই। ‘বাংলা গদ্যের জনক’ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। বাংলা উপন্যাসের জনক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। মাইকেল মধুসূদন দত্ত আধুনিক বাংলা কবিতার জনক। রাজা রামমোহন রায় ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠাতা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। (অপশন ৪)
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকা এতই গুরুত্বপূর্ণ যে তাঁকে আধুনিক যুগের সাহিত্যের প্রধান রূপকার ও 'জনক' হিসেবে অভিহিত করা হয়। বিশেষত, তাঁকে আধুনিক বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়, যা সাহিত্যকে নতুন মাত্রা দেয়।
তাঁর হাত ধরেই বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ও শিল্পসম্মত উপন্যাস রচিত হয় (যেমন: দুর্গেশনন্দিনী), এবং তিনি সাহিত্যের মানকে উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যান। এই কারণে তিনি 'বাংলা সাহিত্যের জনক' হিসেবে চিরস্মরণীয়।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জনকদের পরিচিতি জানা জরুরি:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: তিনি বাংলা গদ্যের জনক এবং ছেদচিহ্নের প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত: তিনি বাংলা মহাকাব্যের জনক এবং অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক
149

মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচনা নয় কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তিলোত্তমা কাব্য
  2. মেঘনাদ বধ কাব্য
  3. বেতাল পঞ্চবিংশতি
  4. বীরাঙ্গনা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের সফল প্রয়োগ ঘটান ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ কাব্যগ্রন্থে। তার রচিত ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ (১৮৬১) বাংলা সাহিত্যের সর্বপ্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ মহাকাব্য এবং ‘বীরাঙ্গনা’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ‘বেতালপঞ্চবিংশতি’ হিন্দি ‘বৈতাল পচ্চীসীর’ অনুবাদ। বিদ্যাসাগর এই গ্রন্থে সর্বপ্রথম যতি-চিহ্নের সফল প্রয়োগ করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বেতাল পঞ্চবিংশতি

কারণ, বেতাল পঞ্চবিংশতি রচনা করেন বাংলা গদ্যের অন্যতম পথিকৃৎ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। ১৮৪৭ সালে প্রকাশিত এটি ছিল বাংলা সাহিত্যে বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।

অন্যদিকে, তিলোত্তমা কাব্য (১৮৬০), মেঘনাদ বধ কাব্য (১৮৬১, মহাকাব্য) এবং বীরাঙ্গনা কাব্য (১৮৬২, পত্রকাব্য)—এই তিনটিই হলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রবাদপুরুষ মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর সৃষ্টি।
150

‘কুলীন কুল সর্বস্ব’ নাটকটি কার লেখা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

রামনারায়ণ তর্করত্ন নাটুকে রামনারায়ণ নামে পরিচিত। ‘কুলীন কুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) নাটকটির রচয়িতা রামনারায়ণ তর্করত্ন। কৌলিন্য প্রথার দোষ ত্রুটি অবলম্বনে রচিত প্রথম সামাজিক নাটক। মাইকেল মধুসূদন রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক: শর্মিষ্ঠা (১৮৫৯), পদ্মাবতী (১৮৬০)। দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহ হচ্ছে নীল দর্পণ’ (১৮৬০), ‘নবীন তপস্বিনী’ (১৮৬৬), ‘লীলাবতী’ (১৮৬৭), ‘জামাই বারিক’ (১৮৭২), ‘কমলে কামিনী’ (১৮৭৩) ইত্যাদি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হচ্ছে ‘বিসর্জন’ (১৮৯১), ‘রাজা’ (১৯১০), ‘ডাকঘর’ (১৯১০), ‘অচলায়তন’ (১৯১২), ‘চিরকুমার সভা’ (১৯২৬), ‘রক্তকরবী’ (১৯২৬), ‘তাসের দেশ’ (১৯৩৩) ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: রামনারায়ণ তর্করত্ন
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ‘কুলীন কুল সর্বস্ব’ নাটকটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি।
নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৮৫৪ সালে। এটিকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক হিসেবে গণ্য করা হয় (First Original Bengali Play)।
এই নাটকে সে সময়ের সমাজের অন্যতম কদর্য প্রথা— ‘কুলীন প্রথা’ বা কৌলীন্য প্রথার কুফল ও সামাজিক চিত্র তীব্র ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যান্য বিকল্প কেন ভুল: মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল ট্র্যাজেডি নাটক ‘শর্মিষ্ঠা’ (১৮৫৯) রচনা করেন। দীনবন্ধু মিত্র তার বিখ্যাত নাটক ‘নীল দর্পণ’ (১৮৬০) এর জন্য পরিচিত।

এই অধ্যায়ের প্রশ্ন টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করুন

এই পেজে বাছাইকৃত ১৫০টি প্রশ্ন সমাধানসহ দেওয়া হয়েছে (মোট ৪২৫টির মধ্যে)। প্র্যাকটিস মোডে এক-একটি করে উত্তর দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল, স্কোর ও অগ্রগতি ট্র্যাক করুন।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-এর অন্যান্য অধ্যায়

কেন BCS Preliminary-এর জন্য “আধুনিক যুগ (১৮০০-বর্তমান)” অধ্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ?

BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষার বাংলা ভাষা ও সাহিত্য অংশে “আধুনিক যুগ (১৮০০-বর্তমান)” থেকে প্রায় প্রতিবারই প্রশ্ন আসে। বিগত সালের প্রশ্নের ধরন বুঝে নিয়মিত অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ের নম্বর নিশ্চিত করা সহজ হয় — এই পেজের বাছাইকৃত প্রশ্নগুলো ঠিক সেই প্রস্তুতির জন্যই সাজানো।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

"আধুনিক যুগ (১৮০০-বর্তমান)" অধ্যায় থেকে কেমন প্রশ্ন আসে?

BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ের "আধুনিক যুগ (১৮০০-বর্তমান)" অধ্যায় থেকে নিয়মিত MCQ আসে। এই পেজে বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক জায়গায় দেওয়া হয়েছে — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ।

উত্তর ও সমাধান কি বিনামূল্যে?

হ্যাঁ। প্রশ্ন, অপশন, সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যা — সবই লগইন ছাড়াই বিনামূল্যে দেখা যায়। টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করতে চাইলে একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট দিয়ে প্র্যাকটিস মোডে যান।