সমাধান
সমাধান
💼
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

বাংলা ব্যাকরণ

BCS Preliminary · বাংলা ভাষা ও সাহিত্য — বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক পেজে।

নিচে BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষার বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ের "বাংলা ব্যাকরণ" অধ্যায়ের বাছাইকৃত ১৫০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ। সবই বিনামূল্যে।

1

‘ধ্বনি’ সম্পর্কে নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মানুষের ভাষার মূলে আছে কতগুলো ধ্বনি
  2. ধ্বনি দৃশ্যমান
  3. ধ্বনি উচ্চারণীয় ও শ্রবণীয়
  4. অর্থবোধক ধ্বনিগুলোই মানুষের বিভিন্ন ভাষার বাগ্‌ধ্বনি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ধ্বনি নির্দেশক চিহ্নকে বর্ণ বলে। বর্ণ দৃশ্যমান, ধ্বনি দৃশ্যমান নয়।

ব্যাখ্যা

প্রশ্নটিতে ‘ধ্বনি’ (Phoneme/Sound) সম্পর্কে ভুল বা অসঠিক বাক্যটি জানতে চাওয়া হয়েছে।
ধ্বনি হলো মানুষের মুখনিঃসৃত বাতাসের মাধ্যমে বাহিত এক প্রকার তরঙ্গ, যা মানুষের বাগ্‌যন্ত্রের সাহায্যে সৃষ্ট হয়। এটি শুধুমাত্র শ্রবণীয় (Audible)
যেহেতু ধ্বনি একটি বায়বীয় তরঙ্গ, তাই একে দেখা যায় না বা এটি দৃশ্যমান নয়। দৃশ্যমান হলো ধ্বনির লিখিত রূপ – বর্ণ (Letter)
সুতরাং, ‘ধ্বনি দৃশ্যমান’ বাক্যটি সঠিক নয়। এটিই সঠিক উত্তর।
অন্যদিকে, মানুষের ভাষার মূলে ধ্বনি আছে (১), এটি উচ্চারণীয় ও শ্রবণীয় (৩), এবং অর্থবোধক ধ্বনিকেই বাগ্‌ধ্বনি বলে (৪) – এই বাক্যগুলো সম্পূর্ণরূপে সঠিক।
2

স্বরাস্ত অক্ষরকে কী বলে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. একাক্ষর
  2. মুক্তাক্ষর
  3. বদ্ধাক্ষর
  4. যুক্ষাক্তর

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

স্বরাস্ত অক্ষর বা মুক্তাক্ষর: যেসব অক্ষর স্বরধ্বনিজাত বা অক্ষরের শেষে একটি স্বরধ্বনি থাকে, তাকে স্বরাস্ত অক্ষর বা মুক্তাক্ষর বলে। যেমন, ‘দা’>দ-আ; ‘কা’>ক-আ ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

অক্ষর বা দল হলো বাগ্‌যন্ত্রের এক প্রচেষ্টায় বা এক ধাক্কায় উচ্চারিত ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি। গঠনের ভিত্তিতে অক্ষরকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়: মুক্তাক্ষর (Open Syllable) এবং বদ্ধাক্ষর (Closed Syllable)।
যে অক্ষরের শেষে স্বরধ্বনি (Vowel) থাকে বা স্বরধ্বনি দিয়ে শেষ হয়, তাকে মুক্তাক্ষর বা স্বরাস্ত অক্ষর বলা হয়। এ ধরনের অক্ষর উচ্চারণের সময় শ্বাসের প্রবাহ বাধাহীনভাবে শেষ হয়।
যেমন: 'মা' (মা), 'যা' (যা), 'বই' (বো + ই)। এই সব ক্ষেত্রে শেষ ধ্বনিটি স্বর।
প্রশ্নে যেহেতু স্বরাস্ত অক্ষর (যে অক্ষর স্বরধ্বনিতে শেষ হয়) জানতে চাওয়া হয়েছে, তাই সঠিক উত্তর হলো মুক্তাক্ষর
অপরদিকে, যে অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি থাকে, তাকে বদ্ধাক্ষর বা ব্যঞ্জনাস্ত অক্ষর বলে। যেমন: 'বদ' (ব + দ্), 'জল' (জ + ল্)।
3

শুদ্ধ বানানের গুচ্ছ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শিরশ্ছেদ, দরিদ্রতা, সমীচীন
  2. শিরোশ্ছেদ, দারিদ্র, সমীচিন
  3. শিরঃশ্ছেদ, দরিদ্রতা, সমিচীন
  4. শিরচ্ছেদ, দরিদ্রতা, সমীচীন

সঠিক উত্তর: ক

ব্যাখ্যা

সঠিক বানানের গুচ্ছটি হলো অপশন (ক): শিরশ্ছেদ, দরিদ্রতা, সমীচীন
১. শিরশ্ছেদ: এটি বিসর্গ সন্ধির নিয়মে শুদ্ধ। নিয়ম: বিসর্গের পর যদি চ, ছ থাকে, তবে বিসর্গের স্থানে 'শ' হয়। (শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ)। তাই 'শিরোশ্ছেদ', 'শিরঃশ্ছেদ' অথবা 'শিরচ্ছেদ' ভুল।
২. দরিদ্রতা: এটি শুদ্ধ। 'দরিদ্র' শব্দের সাথে 'তা' প্রত্যয় যোগ হয়ে দরিদ্রতা শব্দটি গঠিত হয়। মনে রাখতে হবে, দারিদ্র্য (য-ফলা) এবং তা প্রত্যয় একসাথে ব্যবহার করা যায় না। যেমন, 'দারিদ্রতা' সম্পূর্ণ অশুদ্ধ। কিন্তু অপশন ২-এ শুধু 'দারিদ্র' দেওয়া আছে, যা নিজেও একটি ভুল শব্দ (সঠিক হবে দারিদ্র্য)।
৩. সমীচীন: এটি শুদ্ধ বানান। এর অর্থ হলো সঠিক বা উপযুক্ত। এই বানানে দুটি ক্ষেত্রেই দীর্ঘ-ঈ কার (ী) ব্যবহৃত হয়। (অপশন ২ এবং ৩-এ 'সমীচিন' বা 'সমিচীন' দেওয়া আছে, যা অশুদ্ধ)।
4

আরবি ‘কলম’ শব্দটি ‘কলমোস’ শব্দ থেকে এসেছে। ‘কলমোস’ কোন ভাষার শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পাঞ্জাবি
  2. ফরাসি
  3. গ্রিক
  4. স্পেনিশ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

আরবি কলম শব্দটি গ্রিক প্রাচীন গ্রীস শব্দ কলোমাস থেকে এসেছে। যার অর্থ লম্বা ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ। মূলত এসকল ঘাসের নলাকৃতির কাণ্ড শুকিয়ে তা দিয়ে কলম হিসেবে লেখার কাজে ব্যবহার করা হতো বলে আরবিতে কলোমাস শব্দটি থেকে কলম শব্দটির উদ্ভব হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ্রিক
আরবি ভাষার ‘কলম’ (Qalam) শব্দটি এসেছে গ্রিক ভাষার ‘Kalamos’ শব্দ থেকে, যার অর্থ হলো ‘নল’ বা ‘সরু শলাকা’ (Reed)। প্রাচীনকালে নল বা শলাকা ব্যবহার করে লেখা হতো, তাই লেখার উপকরণ হিসেবে শব্দটি ব্যবহৃত হতো।
অতএব, আরবি ‘কলম’ এর উৎস শব্দটি অর্থাৎ ‘কলমোস’ (Kalamos) হলো গ্রিক (Greek) ভাষার শব্দ।
এটি শব্দভাণ্ডারের বিদেশি শব্দ (আরবি) ক্যাটাগরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
5

‘ভাষা চিন্তার শুধু বাহনই নয়, চিন্তার প্রসূতিও’। মন্তব্যটি কোন ভাষা-চিন্তকের?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. মুহম্মদ এনামুল হক
  4. সুকুমার সেন

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ড. সুকুমার সেন বলেছেন, “ভাষার মধ্য দিয়া আদিম মানুষের সামাজিক প্রবৃত্তির প্রথম অঙ্কুর প্রকাশ পাইয়াছিল। ভাষার মধ্য দিয়াই সেই সামাজিক প্রবৃত্তি নানা দিকে নানাভাবে প্রসারিত হইয়া আদিম নরকে পশুত্বের অন্ধজড়তা হইতে উদ্ধার করিয়া তাহাকে মননশীল করিয়াছে। প্রকৃতির দাসত্ব হইতে মুক্তি পাইয়া মানুষ প্রকৃতির প্রভুত্বের অধিকারী হইয়াছে। ভাষা চিন্তার শুধু বাহনই নয়, চিন্তার প্রসূতিও।”ভাষার মাধ্যমেই মানুষ সভ্যতা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ, লালন এবং বহন করে চলেছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: সুকুমার সেন
বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষাতাত্ত্বিক, সাহিত্য সমালোচক এবং বহুভাষাবিদ ড. সুকুমার সেন এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যটি করেছিলেন।
তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, ভাষা শুধুমাত্র তৈরি হওয়া চিন্তাকে প্রকাশ করে না (বাহন), বরং এটি চিন্তা সৃষ্টির মূল ভিত্তি (প্রসূতি/উৎস) হিসাবে কাজ করে। অর্থাৎ, ভাষা ছাড়া মানুষ সুসংগঠিতভাবে চিন্তা করতে পারে না।
অন্যান্য অপশনে থাকা সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখও প্রখ্যাত ভাষাবিদ হলেও, উক্তিটি বিশেষভাবে সুকুমার সেনের সাথে সম্পর্কিত।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
6

সর্বপ্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেন কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মানোএল দ্য আস্‌সুম্পসাঁও
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদী
  4. নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়। এর লেখক ছিলেন মানোএল দ্য আস্‌সুম্পসাঁও। তাঁর বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে তিনি এটি রচনা করেন। এরপর ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ। বইটির নাম ‘এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মানোএল দ্য আস্‌সুম্পসাঁও
বাংলা ভাষার উপর রচিত প্রথম ব্যাকরণ হলো পর্তুগিজ মিশনারি মানোএল দ্য আস্‌সুম্পসাঁও-এর লেখা।
এটি ১৭৪৩ সালে পর্তুগালের লিসবন শহর থেকে প্রকাশিত হয়। ব্যাকরণটির নাম ছিল— Vocabulario em Idioma Bengalla e Portuguez dividido em duas partes
যদিও গ্রন্থটি পর্তুগিজ ও ল্যাটিন ভাষায় লেখা ছিল, কিন্তু এর শেষে বাংলা ভাষার একটি ব্যাকরণ অংশ সংযুক্ত ছিল এবং এটিই বাংলা ভাষার প্রথম প্রকাশিত ব্যাকরণ গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।
ভুল উত্তর প্রসঙ্গে: রাজা রামমোহন রায় বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ— 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' (১৮২৬) রচনা করেন। এটি প্রথম নয়, তবে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ব্যাকরণ।
নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড ইংরেজি ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ— 'A Grammar of the Bengali Language' (১৭৭৮) রচনা করেন।
7

উচ্চারণের রীতি অনুযায়ী নিচের কোনটি উচ্চমধ্য-সম্মুখ স্বরধ্বনি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

সঠিক উত্তর: ঘ

ব্যাখ্যা

স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময় জিহ্বার অবস্থান ও ঠোঁটের আকৃতির ভিত্তিতে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। জিহ্বার অবস্থানের ভিত্তিতে স্বরধ্বনি তিন প্রকার—সম্মুখ, কেন্দ্রীয় ও পশ্চাৎ
জিহ্বার উচ্চতা অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার প্রকার—উচ্চ, উচ্চমধ্য, নিম্নমধ্য ও নিম্ন
প্রশ্নে চাওয়া হয়েছে উচ্চমধ্য-সম্মুখ স্বরধ্বনি। যখন কোনো স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময় জিহ্বার সামনের অংশ সক্রিয় থাকে এবং জিহ্বা মাঝখান থেকে সামান্য ওপরে থাকে, তখন তাকে উচ্চমধ্য-সম্মুখ স্বরধ্বনি বলে।
এখানে, ‘এ’ হলো সেই ধ্বনি। এর উচ্চারণে জিহ্বা সামনে থাকে (সম্মুখ) এবং মধ্যম উচ্চতায় থাকে (উচ্চমধ্য)।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে: হলো নিম্ন, কেন্দ্রীয় স্বরধ্বনি। হলো নিম্নমধ্য, পশ্চাৎ স্বরধ্বনি। হলো উচ্চমধ্য, পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।
8

‘তাম্বুলিক’ শব্দের সমার্থক নয় কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পান-ব্যবসায়ী
  2. পর্ণকার
  3. তামসিক
  4. বারুই

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

তাম্বুলিক শব্দের অর্থ পান- ব্যবসায়ী, পর্ণকার, বারুই। তামসিক শব্দের অর্থ মেঘাচ্ছন্ন।

ব্যাখ্যা

প্রদত্ত প্রশ্নটি ‘তাম্বুলিক’ শব্দের সমার্থক শব্দ বিষয়ক। ‘তাম্বুলিক’ অর্থ হলো পান বিক্রেতা বা যিনি পান ব্যবসা করেন।
বাকি অপশনগুলোর মধ্যে—
পান-ব্যবসায়ী (সরাসরি অর্থ) এবং বারুই (পান-চাষি বা পান ব্যবসায়ী সম্প্রদায়) ‘তাম্বুলিক’ শব্দের সরাসরি সমার্থক।
পর্ণকার শব্দের অর্থও পান বিক্রেতা (পর্ণ = পাতা বা পান)। তাই এটিও সমার্থক।
কিন্তু তামসিক শব্দের অর্থ হলো অন্ধকার, অজ্ঞানতা বা তমোগুণ সম্পর্কিত। এর সঙ্গে পানের বা ব্যবসার কোনো সম্পর্ক নেই।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো তামসিক
9

‘তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক।’– বাক্যটিতে কোন প্রকারের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পদান্বয়ী অব্যয়
  2. অনুসর্গ অব্যয়
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

যে অব্যয় পদের সঙ্গে বাক্যের অন্যান্য পদের কোনো সম্বন্ধ থাকে না, তাকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে। যেমন- ‘তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক।’ এখাানে ‘ভারি’ হচ্ছে অনন্বয়ী অব্যয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অনন্বয়ী অব্যয়
যে অব্যয় পদগুলো বাক্যের অন্য কোনো পদের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে স্বাধীনভাবে কেবল বক্তার মনোভাব (আনন্দ, বিষাদ, বিস্ময়, প্রশংসা, ঘৃণা) প্রকাশ করে, তাকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
প্রদত্ত বাক্যে ‘তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক’ – এই অংশে ‘তো’ পদটি ব্যবহার করে বক্তা বিস্ময় বা প্রশংসা প্রকাশ করছেন। এই ‘তো’ শব্দটি বাক্যের অন্য কোনো পদের সঙ্গে সরাসরি ব্যাকরণগত সম্পর্ক স্থাপন করেনি, তাই এটি অনন্বয়ী অব্যয়।
উদাহরণস্বরূপ: ‘আহা’, কী চমৎকার দৃশ্য! (এখানে ‘আহা’ অনন্বয়ী অব্যয়)।
ভুল অপশন কেন:
পদান্বয়ী অব্যয় (সমুচ্চয়ী অব্যয়): এগুলো দুটি পদ বা বাক্যকে যুক্ত করে (যেমন: এবং, ও, অথবা)। এই বাক্যে সেই কাজ হচ্ছে না।
অনুসর্গ অব্যয়: এগুলো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে বসে বিভক্তির মতো কাজ করে (যেমন: দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক)।
10

নিচের কোনটি যৌগিক শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্রবীণ
  2. জেঠামি
  3. সরোজ
  4. মিতালি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও প্রচলিত অর্থের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, অর্থাৎ একই রকম, সেসব শব্দকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন: বাংলা ‘মিতালি’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ‘মিতার ভাব, বন্ধুত্ব’ (‘মিতা’ শব্দের পর ‘ভাব’- অর্থে তদ্ধিত প্রত্য ‘আলি’ -যোগে ‘মিতালি’ হয়েছে); শব্দটি এই অর্থেই একই; ফলে ‘মিতালি’ বাংলাতে যৌগিক শব্দ। এরকম- গায়ক = গৈ + অক – অর্থ হলো গান করে যে ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মিতালি
বাংলা ভাষায় অর্থগতভাবে শব্দ তিন প্রকার: যৌগিক, রূঢ় বা রূঢ়ি এবং যোগরূঢ়
যৌগিক শব্দ (Compound Word): যে শব্দের আভিধানিক বা মূল অর্থ এবং ব্যবহারিক অর্থ একই থাকে, তাকে যৌগিক শব্দ বলে।
মিতালি: শব্দটি ‘মিতা’ (বন্ধু) এবং ‘আলি’ (ভাব) প্রত্যয়যোগে গঠিত। এর আভিধানিক অর্থ ‘বন্ধুর ভাব বা বন্ধুত্ব’। ব্যবহারিক ক্ষেত্রেও এটি বন্ধুকে বোঝায়। তাই এটি যৌগিক শব্দ
অন্যান্য বিকল্পগুলো কেন ভুল:
সরোজ: এর আভিধানিক অর্থ হলো 'সরোবরে জন্মায় যা' (যেমন: শ্যাওলা, মাছ)। কিন্তু এটি নির্দিষ্টভাবে শুধু ‘পদ্মফুল’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। তাই এটি একটি যোগরূঢ় শব্দ
প্রবীণ: এর মূল অর্থ 'প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজান যিনি'। কিন্তু ব্যবহারিক অর্থে এটি ‘অভিজ্ঞ বা বৃদ্ধ’ বোঝায়। মূল অর্থ থেকে সরে গিয়ে এটি একটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে, তাই এটি রূঢ়ি শব্দ
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
11

‘সুনামীর তান্ডবে অনেকেই সর্বশান্ত হয়েছে।’– বাক্যটিতে কয়টি ভুল আছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. একটি
  2. দুটি
  3. তিনটি
  4. ভুল নেই

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

‘সুনামীর তান্ডবে অনেকেই সর্বশান্ত হয়েছে।’ এখানে তিনটি ভুল রয়েছে। সুনামী, তান্ডব, সর্বশান্ত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: তিনটি। বাক্যটিতে মূলত তিনটি স্থানে অশুদ্ধি রয়েছে, যার মধ্যে দুটি গুরুতর (বানান/অর্থগত ভুল এবং বাহুল্য দোষ) এবং একটি বানান সংক্রান্ত।

ভুলগুলো নিচে চিহ্নিত করা হলো:
১. ‘সুনামীর তান্ডব’ (বাহুল্য দোষ): ‘সুনামি’ নিজেই একটি ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ধ্বংসাত্মক ঘটনা। তাই এর সঙ্গে ‘তান্ডব’ শব্দটি ব্যবহার করলে বাহুল্য দোষ সৃষ্টি হয়। শুদ্ধ প্রয়োগ হবে— ‘সুনামির কারণে...’ অথবা ‘সুনামির তান্ডবলীলায়...’।
২. ‘সর্বশান্ত’ (বানান/অর্থগত ভুল): এখানে শব্দটি হওয়া উচিত ‘সর্বস্বান্ত’। ‘সর্বস্বান্ত’ (সর্বস্ব + অন্তঃ) শব্দের অর্থ হলো সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া। ‘সর্বশান্ত’ বলতে কোনো কিছু থেকে শান্ত হওয়া বোঝায়, যা এখানে অর্থহীন ও ভুল।
৩. ‘সুনামীর’ (বানান ভুল): বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘সুনামি’ বানানটি হ্রস্ব ই-কার (ি) দিয়ে লেখা হয় (সুনামি)। দীর্ঘ ঈ-কার দিয়ে লেখা হলেও প্রচলিত বানানের দিক থেকে এটি ত্রুটিপূর্ণ।

অতএব, বাক্যটিতে তিনটি ভুল বিদ্যমান।
12

কৃদন্ত পদের পূর্ববর্তী পদকে কী বলে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. উপপদ
  2. প্রাতিপদিক
  3. প্রপদ
  4. পূর্বপদ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

কৃদন্ত পদের পূর্ববর্তী পদকে উপপদ বলে। বিভক্তহীন শব্দকে প্রাতিপদিক শব্দ বলে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: উপপদ
বাংলা ব্যাকরণে যখন কৃৎ প্রত্যয় (কৃদন্ত পদ) সাধিত পদের পূর্বে অন্য কোনো পদ বসে, তখন সেই পূর্ববর্তী পদটিকে উপপদ বলা হয়। এই উপপদ এবং কৃদন্ত পদ মিলে যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
উদাহরণস্বরূপ, ‘জল দেয় যে = জলদ’ (মেঘ)। এখানে ‘জল’ হলো উপপদ এবং ‘দ’ (দাতা/দেয়) হলো কৃদন্ত পদের অংশ।
তেমনি, ‘পঙ্কে জন্মায় যা = পঙ্কজ’ (পদ্ম)। এখানে ‘পঙ্ক’ হলো উপপদ
প্রাতিপদিক (Pratipadik) হলো বিভক্তিহীন নামশব্দের মূল অংশ (যেমন: কলম)। এটি কৃদন্ত পদের পূর্ববর্তী পদ নয়।
পূর্বপদ হলো যেকোনো সমাসের প্রথম অংশ, কিন্তু এর নির্দিষ্টতা নেই যে পরের অংশটি অবশ্যই কৃদন্ত হবে।
13

‘তোমার নাম কী?’– এখানে ‘কী’ কোন প্রকারের শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্রশ্নবাচক
  2. অব্যয়
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

যে সর্বনাম দ্বারা কোনো কিছু জানতে চাওয়া হয় তাকে প্রশ্নবাচক সর্বনাম বলে। যেমন- তোমার নাম কী? এখানে কী হচ্ছে প্রশ্নবাচক সর্বনাম।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো সর্বনাম (Pronoun)।
যে পদ বাক্যে বিশেষ্য বা নাম পদের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে।
আলোচ্য বাক্যে, 'তোমার নাম কী?’—এখানে 'কী' শব্দটি আসলে ব্যক্তির নাম (বিশেষ্য) সম্পর্কে জানতে চাইছে। অর্থাৎ এটি সেই নাম পদের স্থান দখল করে প্রশ্নটি তৈরি করছে।
ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, যখন কোনো শব্দ প্রশ্ন করার সময় বিশেষ্য পদের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন তাকে প্রশ্নসূচক সর্বনাম পদ বলা হয়। তাই 'কী' এখানে সর্বনাম পদ।
যদিও এটি একটি প্রশ্নবাচক শব্দ, তবে ব্যাকরণগতভাবে এর পদ পরিচয় হলো সর্বনাম। তাই 'প্রশ্নবাচক' সরাসরি পদ প্রকরণ নির্দেশ করে না।
14

‘সরল’ শব্দের বিপরীতার্থক নয় নিচের কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কুটিল
  2. জটিল
  3. বক্র
  4. গরল

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সরল শব্দের বিপরীত শব্দ- কুটিল, জটিল, বক্র। গরলের বিপরীত শব্দ হচ্ছে অমৃত।

ব্যাখ্যা

প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে, প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে কোনটি ‘সরল’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ নয়
‘সরল’ শব্দটি তিনটি ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং এর বিপরীতে তিনটি ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করা যায়:
১. স্বভাবগত সরলতা: সরল (সৎ, অকপট) এর বিপরীত হলো কুটিল (বদান্য, শঠ)।
২. বিষয়গত সরলতা: সরল (সহজ) এর বিপরীত হলো জটিল (কঠিন)।
৩. জ্যামিতিক সরলতা: সরল (সোজা) এর বিপরীত হলো বক্র (বাঁকা)।
অতএব, কুটিল, জটিল, এবং বক্র—এই তিনটিই ‘সরল’ শব্দের বিপরীতার্থক।
কিন্তু, ‘গরল’ শব্দের অর্থ হলো বিষ বা হলাহল। এর বিপরীতার্থক শব্দ হলো ‘অমৃত’
যেহেতু গরল, সরল শব্দের বিপরীত নয়, তাই এটিই সঠিক উত্তর।
15

‘Rank’ শব্দের বাংলা পরিভাষা কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পদ
  2. পদমর্যাদা
  3. মাত্রা
  4. উচ্চতা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

Rank-শব্দের বাংলা পরিভাষা পদমর্যাদা। Post-শব্দের বাংলা পরিভাষা পদ। Dimension-শব্দের বাংলা পরিভাষা মাত্রা। Height-শব্দের বাংলা পরিভাষা উচ্চতা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পদমর্যাদা
'Rank' শব্দটি সাধারণত সামরিক, প্রশাসনিক বা সামাজিক ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর স্তর (Grade), মান বা অবস্থান (Status) নির্দেশ করে। এর মাধ্যমে সেই পদের ক্ষমতা এবং গুরুত্বের মাত্রা প্রকাশ পায়।
পদমর্যাদা (Status/Dignity of Post) শব্দটি Rank-এর ভাবার্থ এবং ব্যবহারিক অর্থ উভয়ই সঠিকভাবে প্রকাশ করে।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, 'পদ' (Post/Designation) শুধু একটি অবস্থান বোঝায়, কিন্তু তার মান বা স্তর বোঝায় না। 'মাত্রা' (Dimension) এবং 'উচ্চতা' (Height) শব্দগুলো এখানে অপ্রাসঙ্গিক।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
16

‘ইতরবিশেষ’ বলতে বোঝায়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দুর্বৃত্ত
  2. চালাকি

  3. পার্থক্য
  4. অপদার্থ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ইতরবিশেষ একটি বিশেষ্য পদ যার অর্থ পার্থক্য। অপরদিকে দুর্বৃত্ত বলতে বোঝায় দুষ্ট স্বভাব, দুর্জন, দুশ্চরিত্র, দুরাত্মা। চালাকি শব্দের অর্থ চাতুরী, ধূর্তামি, ফন্দি। অপদার্থ শব্দের অর্থ অসার, অযোগ্য।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পার্থক্য
‘ইতরবিশেষ’ শব্দটি একটি দ্বন্দ্ব সমাসজাত শব্দ। ব্যাকরণগতভাবে এটি ‘ইতর ও বিশেষ’ অর্থে ব্যবহৃত হয়।
‘ইতর’ বলতে বোঝায় সাধারণ বা নিম্নশ্রেণির এবং ‘বিশেষ’ বলতে বোঝায় অসাধারণ বা উচ্চশ্রেণির। এই দুই বিপরীত শব্দের একত্রীকরণে ভেদাভেদ বা পার্থক্য বোঝানো হয়।
অতএব, ‘ইতরবিশেষ’ কথাটির অর্থ হলো ভেদাভেদ বা পার্থক্য করা
অন্যান্য অপশন যেমন—দুর্বৃত্ত, চালাকি বা অপদার্থ এই অর্থ প্রকাশ করে না।
17

নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির দৃষ্টান্ত কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গো + অক্ষ = গবাক্ষ
  2. পৌ + অক = পাবক
  3. বি + অঙ্গ = বঙ্গ

  4. যতি + ইন্দ্র = যতীন্দ্র

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

যে সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে। কতগুলো নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি হলো: কুল + অটা = কুলটা, গো + অক্ষ = গবাক্ষ, প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়, অন্য + অন্য = অন্যান্য, মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড, শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গো + অক্ষ = গবাক্ষ। এটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির (Exceptionally proved Vowel Sandhi) উদাহরণ।
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি কী? ব্যাকরণের সাধারণ নিয়ম মেনে যে সন্ধিগুলো সাধিত হয় না, বরং ব্যতিক্রম বা বিশেষ নিয়মে গঠিত হয়, তাদের নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
সাধারণ স্বরসন্ধির (অয়াদি সন্ধি) নিয়ম অনুযায়ী, 'ও'-কারের পর অন্য স্বরধ্বনি (যেমন: 'অ') থাকলে তা 'অব্' হওয়ার কথা। সেই হিসেবে 'গো + অক্ষ' হয়ে যাওয়ার কথা ছিল 'গভাক্ষ'।
কিন্তু এখানে নিয়ম না মেনে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে 'আ' ধ্বনি এসে রূপটি হয়েছে 'গবাক্ষ', তাই এটি ব্যতিক্রম বা নিপাতনে সিদ্ধ।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল কারণ:
১. পৌ + অক = পাবক: এটি নিয়মানুযায়ী অয়াদি স্বরসন্ধি (ঔ + অ = আব্)।
২. যতি + ইন্দ্র = যতীন্দ্র: এটি নিয়মানুযায়ী দীর্ঘ স্বরসন্ধি (ই + ই = ঈ)।
18

নিচের কোন বাক্যটি প্রয়োগগত দিক থেকে শুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আমি কারও সাতেও নেই, সতেরোতেও নেই।
  2. আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত।
  3. তার দু’চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল।
  4. সারা জীবন ভূতের মজুরি খেটে মরলাম।

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

অন্যান্য অপশন গুলোর শুদ্ধরূপ হলো: (ক) আমি কারও সাতেও নেই, পাঁচেও নেই, (খ) আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত এবং (ঘ) সারাজীবন ভূতের বেগার খেটে মরলাম।

ব্যাখ্যা

সঠিক বাক্যটি হলো: তার দু’চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল।
এই বাক্যটি প্রয়োগগত দিক থেকে সম্পূর্ণ শুদ্ধ এবং অর্থপূর্ণ।
ভুল বাক্য ১ (প্রবাদগত ভুল): 'আমি কারও সাতেও নেই, সতেরোতেও নেই।'
শুদ্ধ প্রবাদটি হলো: 'সাতেও নেই, পাঁচেও নেই' (অর্থাৎ, নিরপেক্ষ বা কোনো বিষয়ে জড়িত না থাকা)। এখানে 'সতেরো' শব্দটি ভুলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
ভুল বাক্য ২ (বানান ও বাহুল্যজনিত ভুল): 'আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত।'
শুদ্ধ প্রয়োগ হবে 'সপরিবারে আমন্ত্রিত'। 'স্বপরিবার' (নিজের পরিবার) শব্দটি ব্যবহার না করে, সাধারণত 'সপরিবারে' (পরিবারসহ) ব্যবহার করাই বাংলা ব্যাকরণে অধিক গ্রহণযোগ্য। 'স্ব' উপসর্গটি এখানে বাহুল্য দোষ তৈরি করে।
ভুল বাক্য ৪ (বাগধারার ভুল): 'সারা জীবন ভূতের মজুরি খেটে মরলাম।'
শুদ্ধ বাগধারাটি হলো: 'ভূতের বেগার খাটা' (অর্থাৎ, কোনো ফল বা পারিশ্রমিক ছাড়া নিরর্থক পরিশ্রম করা)। এখানে 'মজুরি' শব্দটি বাগধারাকে বিকৃত করেছে।
19

নিচের কোনটি যৌগিক বাক্য?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দোষ স্বীকার করলে তোমাকে শাস্তি দেওয়া হবে না।
  2. তিনি বেড়াতে এসে কেনাকাটা করলেন।
  3. ছেলেটি চঞ্চল তবে মেধাবী।
  4. মহৎ মানুষ বলে সবাই তাঁকে সম্মান করেন।

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য যখন সংযোজক, বিয়োজক এবং সংকোচক অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয় তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। যেমন: সে বলতে চায় তথাপি সে বলে না, ছেলেটি চঞ্চল তবে মেধাবী, তুমি মিথ্যা বলছো, সুতরাং তোমার পাপ হবে প্রভৃতি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ছেলেটি চঞ্চল তবে মেধাবী। (অপশন ৩)
যৌগিক বাক্য (Compound Sentence): যে বাক্যে একাধিক স্বাধীন বা সরল বাক্য কোনো সংযোজক, বিয়োজক, বা বিরোধার্থক অব্যয় (Coordinating Conjunction) দ্বারা যুক্ত হয়ে একটি পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এখানে, 'ছেলেটি চঞ্চল' একটি স্বাধীন বাক্য এবং 'ছেলেটি মেধাবী' আরেকটি স্বাধীন বাক্য। এই দুটি বাক্য 'তবে' (একটি বিরোধার্থক অব্যয়) দ্বারা যুক্ত হয়েছে। তাই এটি যৌগিক বাক্য
অন্যান্য অপশন ভুল হওয়ার কারণ:
অপশন ১ ('দোষ স্বীকার করলে তোমাকে শাস্তি দেওয়া হবে না'): এটি জটিল বাক্য, কারণ এটি সাপেক্ষ শব্দ (যদি/তাহলে) দ্বারা যুক্ত হয়েছে এবং এতে একটি প্রধান খণ্ডবাক্য ও একটি অপ্রধান খণ্ডবাক্য আছে।
অপশন ২ ও ৪ ('তিনি বেড়াতে এসে কেনাকাটা করলেন।' এবং 'মহৎ মানুষ বলে সবাই তাঁকে সম্মান করেন।'): এই বাক্যগুলিতে একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (করলেন/সম্মান করেন) আছে, তাই এগুলো সরল বাক্য
20

ধ্বনি-পরিবর্তনের নিয়মে কোনটি বর্ণ-বিপর্যয় এর দৃষ্টান্ত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রতন
  2. কবাট
  3. পিচাশ
  4. মুলুক

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। যেমন: বাক্‌স > বাস্‌ক, রিক্‌সা > রিস্‌কা, লাফ > ফাল, পিশাচ > পিচাশ ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পিচাশ
কারণ এটি বর্ণ-বিপর্যয় (Metathesis) বা ধ্বনি-বিপর্যয়-এর একটি নিখুঁত উদাহরণ।
বর্ণ-বিপর্যয় হলো যখন শব্দের মধ্যে পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ধ্বনি বা বর্ণ স্থান পরিবর্তন করে।
মূল শব্দটি হলো পিশাচ। এখানে /শ/ ধ্বনিটি /চ/ ধ্বনির আগে ছিল। কিন্তু পরিবর্তন হয়ে শব্দটি হলো পিচাশ, যেখানে ধ্বনি দুটি স্থান পরিবর্তন করেছে (পিশা > পিচাশ)।
অন্যান্য বহুল প্রচলিত উদাহরণ: রিক্সা > রিস্কা, বাক্স > বাস্ক
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
21

‘অর্ধচন্দ্র’ কথাটির অর্থ-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অমাবস্যা
  2. গলাধাক্কা দেওয়া
  3. কাছে টানা
  4. কাস্তে

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

অমাবস্যা হচ্ছে কৃষ্ণপক্ষের শেষ তিথি এবং এর আরেকটি অর্থ হচ্ছে ঘোর অন্ধকার রাত্রি। অর্ধচন্দ্র একটি বাগধারা যার অর্থ হলো গলাধাক্কা দেওয়া। কাছে টানা বলতে বোঝায় কাউকে নিকটে টানা। কাস্তে হলো একটি যন্ত্র যা শস্য কাটার কাজে ব্যবহৃত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গলাধাক্কা দেওয়া
অর্ধচন্দ্র একটি প্রচলিত বাগধারা। যখন কাউকে ঘাড়/গলা ধরে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়, তখন হাতটি বাঁকা হয়ে অর্ধচন্দ্রের মতো আকার ধারণ করে। এই ধারণা থেকেই বাগধারাটির উৎপত্তি।
অতএব, ‘অর্ধচন্দ্র’ বাগধারাটির অর্থ হলো কাউকে গলাধাক্কা দিয়ে অপমানজনকভাবে বের করে দেওয়া বা অপসারণ করা
অন্যান্য অপশনগুলো যেমন— অমাবস্যা (চাঁদের একটি দশা), কাছে টানা (আলিঙ্গন বা কাছে আসার আহ্বান) এবং কাস্তে (কৃষি যন্ত্র) — বাগধারাটির অর্থের সাথে সম্পর্কিত নয়।
22

‘হরতাল’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পর্তুগিজ
  2. হিন্দি
  3. গুজরাটি
  4. ফরাসি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ: আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, গুদাম ইত্যাদি। হিন্দি ভাষা থেকে আগত শব্দ: পানি, কাহিনি, ছিনতাই, টহল ইত্যাদি। গুজরাটি ভাষা থেকে আগত শব্দ: খদ্দর, হরতাল ইত্যাদি। ফরাসি ভাষা থেকে আগত শব্দ: কার্তুজ, কুপন, ডিপো, রেস্তোরা ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো— গুজরাটি
‘হরতাল’ শব্দটি সরাসরি গুজরাটি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে। এটি একটি বিদেশি শব্দ
গুজরাটি ভাষায় ‘হর’ অর্থ ‘সব’ এবং ‘তাল’ অর্থ ‘তালা বা বন্ধ’। অর্থাৎ, ‘হরতাল’ মানে হলো ‘সব দোকান বন্ধ’
ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় মহাত্মা গান্ধী সর্বপ্রথম এটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ অর্থে ব্যবহার শুরু করেন। গুজরাটি শব্দভাণ্ডার থেকে এই শব্দটি পরবর্তীতে বাংলাসহ অন্যান্য ভারতীয় ভাষায় প্রবেশ করে এবং এটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়।
23

কোনটি ‘জিগীষা’র সম্প্রসারিত প্রকাশ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জানিবার ইচ্ছা
  2. জয় করিবার ইচ্ছা
  3. হনন করিবার ইচ্ছা
  4. যুদ্ধ করিবার ইচ্ছা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

জানিবার ইচ্ছা = জিজ্ঞাসা, হনন করিবার ইচ্ছা = জিঘাংসা, যুদ্ধ করিবার ইচ্ছা = যুগুপ্সা, জয় করার ইচ্ছা = জিগীষা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: জয় করিবার ইচ্ছা
জিগীষা (Jigisha) হলো সংস্কৃতমূলক শব্দ, যার মূল অর্থ হলো জয়ের আকাঙ্ক্ষা বা জয় করিবার তীব্র ইচ্ছা
ব্যাকরণে এটি ‘এক কথায় প্রকাশ’ বা ‘সম্প্রসারিত প্রকাশ’ হিসেবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যান্য অপশনগুলোর সঠিক প্রকাশ নিম্নরূপ:
জানিবার ইচ্ছা = জিজ্ঞাসা
হনন করিবার ইচ্ছা = জিঘাংসা (খুবই গুরুত্বপূর্ণ)।
যুদ্ধ করিবার ইচ্ছা = যূযুৎসা
24

নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পছন্দ
  2. হিসাব
  3. ধূলি
  4. শৌখিন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সোজাসুজি বাংলায় এসেছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে তাকে তৎসম শব্দ বলে। কয়েকটি তৎসম শব্দ হলো: চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র, ধূলি, মনুষ্য ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো— ধূলি। এটি একটি তৎসম শব্দ
তৎসম শব্দ: যেসব শব্দ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে কোনো রকম পরিবর্তন ছাড়াই বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, তাদের তৎসম শব্দ বলে। 'তৎ' অর্থ ‘তার’ (সংস্কৃত), আর 'সম' অর্থ ‘সমান’।
যেমন: ধূলি, চন্দ্ৰ, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, মনুষ্য, ধর্ম, আকাশ।
অন্যান্য অপশনগুলো বিদেশি শব্দ:
পছন্দ: এটি ফারসি (Persian) ভাষার শব্দ।
হিসাব: এটি আরবি (Arabic) ভাষার শব্দ।
শৌখিন: এটিও আরবি ভাষার শব্দ (মূল শব্দ: শওক/শওকীন)।
25

নিচের কোনটি বাংলা ‘ধাতু’র দৃষ্টান্ত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কহ্‌
  2. কথ্‌
  3. বুধ্‌
  4. গঠ্‌

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বাংলা ধাতুগুলো হচ্ছে: আঁক্‌, কহ্‌, কাট্‌, কর্‌, কাঁদ্, কিন্, খা, গড়্, ঘষ্, দেখ্, ধর্, পড়, বাঁধ্, বুঝ্, রাখ্, শুন্, থাক্, হাস্। সংস্কৃত ধাতু হলো: অঙ্ক্, কথ্, কৃৎ, কৃ, ক্রন্দ্, ক্রী, খাদ্, গঠ্, ঘৃষ্, দৃশ্, ধৃ, পঠ্, বন্ধ্, বুধ্, র্‌ক্ষ, শ্রু, স্থা, হস্‌।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কহ্‌
বাংলা ব্যাকরণে ধাতু (Root) প্রধানত তিন প্রকার: মৌলিক (বাংলা ধাতু), সাধিত ধাতু এবং যৌগিক ধাতু। এই প্রশ্নে মৌলিক ধাতুর মধ্যে কোনটি বাংলা ধাতু সেটি জানতে চাওয়া হয়েছে।
বাংলা ধাতু (বা তদ্ভব ধাতু): যে সব ধাতু বাংলা ভাষার নিজস্ব সম্পদ, অথবা সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় এসেছে। এগুলি সাধারণত খাঁটি বাংলা শব্দ থেকে উৎপত্তি লাভ করে। যেমন: হাঁক, কাঁদ, নাচ, ধর্, কহ্‌ (বলা অর্থে)।
সংস্কৃত ধাতু (বা তৎসম ধাতু): যে সব ধাতু সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে অপরিবর্তিত অবস্থায় বাংলায় এসেছে। যেমন: কৃ (করা), গম্ (যাওয়া), বুধ (জানা), কথ্‌, বুধ্‌, গঠ্‌ ইত্যাদি।
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে, কথ্‌, বুধ্‌, ও গঠ্‌ হলো সংস্কৃত বা তৎসম ধাতু। অন্যদিকে, কহ্‌ হলো বাংলা বা তদ্ভব ধাতু (যার অর্থ: বলা)। তাই এটিই সঠিক দৃষ্টান্ত।
ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও মেডিকেলসহ ২৭+ ইউনিট-ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর এডমিশন সেকশনে।

ভর্তি প্রশ্নব্যাংক দেখুন
26

শুদ্ধ বানান কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মুমুর্ষু
  2. মূমুর্ষূ
  3. মুমূর্ষু
  4. মূমূর্ষু

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ষত্ব বিধি অনুসারে ই-স্বর ও উ-স্বরের পর ইচ্ছা অর্থে সন প্রত্যয়ের ‘স’ পরিবর্তিত হয়ে প্রত্যয়ান্ত শব্দে 'ষ' হয়। যেমন: মুমূর্ষু।

ব্যাখ্যা

সঠিক বানানটি হলো: মুমূর্ষু। (অপশন ৩)
বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী, যেসব শব্দে একই বর্ণের সঙ্গে হ্রস্ব-উ (ু) এবং দীর্ঘ-ঊ (ূ) কারের ব্যবহার থাকে, সেগুলোতে প্রায়শই ভুল হয়ে থাকে। ‘মুমূর্ষু’ শব্দটি হলো — মরিবার ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা; অর্থাৎ মুমূর্ষু মানে হলো ‘মৃত্যু পথযাত্রী’ বা ‘মরণাপন্ন’।
‘মুমূর্ষু’ বানানে তিনটি উ-কার ব্যবহৃত হয় এবং এর ক্রমটি হলো: হ্রস্ব (ু), দীর্ঘ (ূ), হ্রস্ব (ু)
বিশ্লেষণ: মু (ম+হ্রস্ব-উ) + মূ (ম+দীর্ঘ-ঊ) + র্ষু (ষ+হ্রস্ব-উ)।
সুতরাং, সঠিক ক্রম: মু (ছোট উ), মূ (বড় ঊ), র্ষু (ছোট উ)।
27

নিচের কোনটি ‘অগ্নি’র সমার্থক শব্দ নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বহ্নি
  2. আবীর
  3. বায়ুসখা
  4. বৈশ্বানর

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

অগ্নির কয়েকটি সমার্থক শব্দ হলো: আগুন, বহ্নি, অনল, পাবক, বায়ুসখা, বৈশ্বানর, দাহন ইত্যাদি। অপরদিকে আবীর হলো একপ্রকার রক্তবর্ণ চূর্ণ বিশেষ যাহা হোলি বা বসন্তোৎসবে পরস্পরকে রঞ্জিত করিবার জন্য ব্যবহার করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: আবীর। কারণ এটি ‘অগ্নি’ বা আগুনের সমার্থক শব্দ নয়।
আবীর শব্দের অর্থ হলো লাল রঞ্জক গুঁড়ো বা ফাগ, যা সাধারণত হোলি উৎসবে রং হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে, প্রশ্নে দেওয়া বাকি তিনটি শব্দ—বহ্নি, বায়ুসখা এবং বৈশ্বানর হলো অগ্নি শব্দের প্রধান সমার্থক শব্দ। বায়ুসখা (বাতাসের বন্ধু) বলা হয় কারণ বায়ু আগুনকে আরও দ্রুত প্রজ্বলিত করতে সাহায্য করে।
28

‘দেশের যত নদীর ধারা জল না, ওরা অশ্রুধারা।’ এই উক্তিটি নিচের কোন পারিভাষিক অলংকার দ্বারা শোভিত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অপহ্নুতি
  2. যমক
  3. অর্থোন্নতি
  4. অভিযোজন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

উপমেয়কে অস্বীকার করে উপমানকে প্রতিষ্ঠিত করাকে অপহ্নুতি অলঙ্কার বলে। যেমন: অশ্রু নয় অভ্র সুকঠিন; দেশের যত নদীর ধারা জল না, ওরা অশ্রুধারা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অপহ্নুতি
অপহ্নুতি অলংকার-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে উপমেয় (যা তুলনা করা হচ্ছে) বস্তুটিকে অস্বীকার বা গোপন করে তার স্থলে উপমান (যার সাথে তুলনা করা হচ্ছে) বস্তুটিকে প্রতিষ্ঠা করা হয়। অর্থাৎ, প্রথমে 'না/নয়' দিয়ে অস্বীকার করে পরে ভিন্ন কিছু প্রতিষ্ঠা করা হয়।
উক্ত বাক্যে বলা হয়েছে, ‘দেশের যত নদীর ধারা জল না, ওরা অশ্রুধারা।’
এখানে, নদীর ধারার জল (উপমেয়) হওয়াকে অস্বীকার করা হয়েছে এবং এটিকে অশ্রুধারা (উপমান) হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
যেহেতু এখানে অস্বীকার (না/নয়) এবং প্রতিষ্ঠা (অশ্রুধারা)—এই দুটি অংশই বর্তমান, তাই এটি অপহ্নুতি অলংকার (Concealment)।
29

‘যথারীতি’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অব্যয়ীভাব
  2. দ্বিগু
  3. বহুব্রীহি
  4. দ্বন্দ্ব

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থই প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। কয়েকটি অব্যয়ীভাব সমাস হলো: যথারীতি, যথাসাধ্য, যথাবিধি, যথাযোগ্য, উপকণ্ঠ, উপকূল, নিরামিষ, নির্জল, উপশহর ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অব্যয়ীভাব সমাস
অব্যয়ীভাব সমাস-এ পূর্বপদে অব্যয় (উপসর্গ) যুক্ত থাকে এবং সেই অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়ে ওঠে। ‘যথারীতি’ শব্দটির ব্যাসবাক্য হলো—‘রীতিকে অতিক্রম না করে’। এখানে 'যথা' অব্যয়টি ‘অতিক্রম না করে’ বা ‘অনুসারে’ অর্থ প্রকাশ করছে এবং সেই অর্থের প্রাধান্যই রক্ষিত হয়েছে।
অন্যান্য বিকল্প কেন ভুল:
দ্বিগু সমাস: এখানে সংখ্যাবাচক শব্দ থাকতে হয় (যেমন: তেমাথা)।
দ্বন্দ্ব সমাস: এখানে উভয় পদের অর্থই সমান প্রাধান্য পায় (যেমন: মা-বাবা)।
বহুব্রীহি সমাস: এখানে ব্যাসবাক্যের কোনো পদের অর্থ প্রধান না হয়ে অন্য কোনো অর্থ বোঝায় (যেমন: দশানন = দশটি আনন যার)।
30

‘মৃত্তিকা দিয়ে তৈরি’ কথাটি সংকোচন করলে হবে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তন্ময়
  2. মন্ময়
  3. মৃন্ময়
  4. চিন্ময়

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

মৃন্ময় শব্দের অর্থ হচ্ছে আত্মবাদী, আত্মপ্রকাশক। চিন্ময় একটি বিশেষণ পদ যার অর্থ জ্ঞানময়, চৈতন্যময়। অপরদিকে মৃত্তিকা দিয়ে তৈরি বাক্যটির সংকোচন করলে হয় মৃন্ময়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মৃন্ময়। এটি বাংলা ব্যাকরণের বাক্য সংকোচন বা এককথায় প্রকাশ অংশের একটি উদাহরণ।
মৃত্তিকা দিয়ে তৈরি—এই বাক্যটিকে এক কথায় প্রকাশ করলে শব্দটি হয় মৃন্ময়। এখানে ‘মৃত্তিকা’ (মাটি) শব্দের সঙ্গে ‘ময়’ প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে। এই ‘ময়’ প্রত্যয়টি ‘নির্মিত’ বা ‘তৈরি’ অর্থে ব্যবহৃত হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন অর্থ বহন করে:
তন্ময়: এর অর্থ হলো—তাতে লীন বা মগ্ন।
মন্ময়: এর অর্থ হলো—মন দিয়ে তৈরি।
চিন্ময়: এর অর্থ হলো—চিৎ বা জ্ঞান দিয়ে গঠিত; জ্ঞানময়।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
31

নিম্নের কোন গুচ্ছের শব্দগুলো বর্ণনানুক্রমিকভাবে সাজানো রয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নিম্নোক্ত, নিদর্শন, নিরাসক্ত, নিরাময়, নিস্ক্রিয়, নিসর্গ
  2. নিদর্শন, নিম্নোক্ত, নিরাময়, নিরাসক্ত, নিস্ক্রিয়, নিসর্গ
  3. নিস্ক্রিয়, নিসর্গ, নিম্নোক্ত, নিদর্শন, নিরাসক্ত, নিরাময়
  4. নিদর্শন, নিরাসক্ত, নিস্ক্রিয়, নিসর্গ, নিম্নোক্ত, নিরাময়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বাংলা বর্ণমালার বর্ণনার বর্ণনাক্রমিকভাবে সাজালে নিম্নোক্ত ধারণাটি পাওয়া যায়। নিদর্শন, নিম্নোক্ত, নিরাময়, নিরাসক্ত, নিস্ক্রিয়, নিসর্গ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো নিদর্শন, নিম্নোক্ত, নিরাময়, নিরাসক্ত, নিস্ক্রিয়, নিসর্গ। এই ধরনের প্রশ্নগুলো সাধারণত বাংলা বর্ণানুক্রমিক বা অভিধানের ক্রম (Dictionary Order) অনুসারে সাজাতে হয়।
শব্দের প্রথম বা প্রথম দুটি বর্ণ একই হলে (এখানে 'নি'), তার পরের বর্ণ বা বর্ণের কার চিহ্ন দিয়ে ক্রম নির্ধারণ করা হয়। আমরা শব্দের তৃতীয় বর্ণটিকে 기준으로 সাজাবো:
১. দ < ম < র < স: প্রথমে আসবে 'দ' দিয়ে শুরু নিদর্শন, তারপর 'ম' দিয়ে নিম্নোক্ত।
২. নিরাময় বনাম নিরাসক্ত: দুটিই 'নিরা' পর্যন্ত একই। এরপর চতুর্থ বর্ণে (নিরাময়) এবং (নিরাসক্ত)। যেহেতু ম-এর স্থান স-এর আগে, তাই নিরাময় আসবে নিরাসক্ত-এর আগে।
৩. নিস্ক্রিয় বনাম নিসর্গ: দুটিই 'নিস' পর্যন্ত একই। এখানে অভিধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম প্রয়োগ হয়। যখন একই ব্যঞ্জনবর্ণ (যেমন: স) দিয়ে শুরু দুটি শব্দের একটিতে যুক্তাক্ষর (স্ক্র) থাকে এবং অন্যটিতে স্বরযুক্ত ব্যঞ্জন (স+অ) থাকে, তখন যুক্তাক্ষর যুক্ত শব্দটি আগে স্থান পায়।
৪. নিস্ক্রিয় (স্ + ক্র) > নিসর্গ (স্ + অ)। তাই নিস্ক্রিয় আসবে নিসর্গ-এর আগে।
এই ক্রম অনুসারে, দ্বিতীয় বিকল্পটি (নিদর্শন, নিম্নোক্ত, নিরাময়, নিরাসক্ত, নিস্ক্রিয়, নিসর্গ) সঠিক।
32

‘সোমত্ত’ শব্দটির উৎপত্তি কোন শব্দ থেকে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সোপান
  2. সমর্থ
  3. সোল্লাস
  4. সওয়ার

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘সোমত্ত’ বু্যৎপত্তিগত সমর্থের অর্ধতৎসম রূপ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সমর্থ
শব্দের উৎস বা উৎপত্তি অনুসারে শব্দকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়: তৎসম, তদ্ভব, অর্ধ-তৎসম, দেশি ও বিদেশি। আলোচ্য ‘সোমত্ত’ শব্দটি হলো একটি অর্ধ-তৎসম শব্দ
অর্ধ-তৎসম শব্দ (Semi-Sanskrit words) হলো সেইসব শব্দ যা সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি বাংলায় আসার সময় কিছুটা বিকৃত বা পরিবর্তন হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে মূল সংস্কৃত শব্দটি হলো ‘সমর্থ’ (অর্থাৎ: সক্ষম/যোগ্য)।
মানুষের মুখে মুখে এই ‘সমর্থ’ শব্দটি বিকৃত হয়ে ‘সোমত্ত’ রূপ ধারণ করেছে। তাই ‘সোমত্ত’ শব্দটির উৎপত্তি ‘সমর্থ’ শব্দ থেকে।
33

নিঃশ্বাসের স্বল্পতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছকে কী বলে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. যৌগিক ধ্বনি
  2. অক্ষর
  3. বর্ণ
  4. মৌলিক স্বরধ্বনি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

নিঃশ্বাসের স্বল্পতম প্রয়াসে একটি শব্দের যতটুকু অংশ একবারে একত্রে উচ্চারিত হয়, তাকে অক্ষর বলে। যেমন : ‘স্পন্দন’ শব্দটিতে ‘স্পন’, ‘দন্’—এ দুটি অক্ষর আছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অক্ষর (Syllable)।
ব্যাকরণের সংজ্ঞা অনুযায়ী, মানুষের বাগ্যন্ত্রের সাহায্যে নিঃশ্বাসের স্বল্পতম একটি ধাক্কা বা একক প্রয়াসে যেটুকু ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ উচ্চারণ করা যায়, তাকেই অক্ষর (Syllable) বলে। এটি ধ্বনির একটি উচ্চারণগত একক।
উদাহরণস্বরূপ: 'বাংলাদেশ' শব্দটি আমরা তিনবার নিঃশ্বাসের ধাক্কায় উচ্চারণ করি (বাং-লা-দেশ)। সুতরাং এখানে অক্ষর আছে তিনটি।
অন্যান্য অপশনসমূহ ভুল হওয়ার কারণ:
বর্ণ: ধ্বনির লিখিত সাংকেতিক রূপকে বর্ণ বলে। এটি উচ্চারণের একক নয়, লেখার একক।
মৌলিক স্বরধ্বনি: যে স্বরধ্বনিকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না, যেমন: অ, আ, ই, উ ইত্যাদি। এটি শুধু স্বরের একক।
34

‘বাবা ছেলের দীর্ঘায়ু কামনা করলেন’- এই পরোক্ষ উক্তির প্রত্যক্ষরূপ হবে:

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বাবা ছেলেকে বললেন, বাবা তুমি দীর্ঘজীবী হও
  2. বাবা ছেলেকে বললেন যে, তোমার দীর্ঘায়ু হোক
  3. বাবা ছেলেকে বললেন, ‘তুমি দীর্ঘজীবী হও’
  4. বাবা ছেলেকে বললেন যে, আমি তোমার দীর্ঘায়ু কামনা করি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার বক্তব্যটুকু উদ্ধরণচিহ্নের (“ ”) অন্তর্ভুক্ত থাকে। পরোক্ষ উক্তিতে উদ্ধরণ চিহ্ন লোপ পায়। প্রথম উদ্ধরণ চিহ্ন স্থানে ‘যে’ এই সংযোজক অব্যয়টি ব্যবহার করতে হয়। বাক্যের সঙ্গতি রক্ষার জন্য উক্তিতে ব্যবহৃত বক্তার পুরুষের পরিবর্তন করতে হয়। যেমন- পরোক্ষ উক্তি: ‘বাবা ছেলের দীর্ঘায়ু কামনা করলেন’ প্রত্যক্ষ উক্তি: বাবা ছেলেকে বললেন, “তুমি দীর্ঘজীবী হও”।

ব্যাখ্যা

প্রদত্ত বাক্যটি হলো পরোক্ষ উক্তি (Indirect Speech): ‘বাবা ছেলের দীর্ঘায়ু কামনা করলেন’। এটি একটি ইচ্ছাসূচক বাক্য (Optative Sentence)।
পরোক্ষ উক্তি থেকে প্রত্যক্ষ উক্তিতে (Direct Speech) রূপান্তরের সময় নিম্নলিখিত নিয়মগুলো অনুসরণ করতে হবে:
১. রিপোর্টিং ভার্ব (ক্রিয়া): 'কামনা করলেন' ক্রিয়াপদটির জন্য প্রত্যক্ষ উক্তিতে ‘বললেন’ ব্যবহার করা হয়।
২. উদ্ধৃতি চিহ্ন: প্রত্যক্ষ উক্তির মূল কথাটি অবশ্যই উদ্ধৃতি চিহ্নের (‘ ’) মধ্যে রাখতে হবে। (অপশন ২ ও ৩ ছাড়া অন্যগুলোতে উদ্ধৃতি চিহ্ন নেই।)
৩. ইচ্ছার প্রকাশ: পরোক্ষ উক্তিতে যে কামনা বা ইচ্ছা বোঝানো হয়েছিল, প্রত্যক্ষ উক্তিতে সেটি সরাসরি দ্বিতীয় পুরুষে (তুমি) প্রকাশ করতে হবে। 'দীর্ঘায়ু কামনা'র প্রত্যক্ষ প্রকাশ হলো ‘তুমি দীর্ঘজীবী হও’ বা ‘তোমার দীর্ঘায়ু হোক’
৪. অপশন (খ) বা অপশন (২) — বাবা ছেলেকে বললেন, ‘তুমি দীর্ঘজীবী হও’— ব্যাকরণের এই সকল নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করেছে।
৫. অন্য অপশনগুলোতে যে (যা পরোক্ষ উক্তির বৈশিষ্ট্য) বা উদ্ধৃতি চিহ্নের অনুপস্থিতি দেখা যায়, যা প্রত্যক্ষ উক্তির জন্য ভুল।
35

‘এবার আমার একটি বিচিত্র অভিজ্ঞতা হলো’- এ বাক্য কোন ধরনের?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অনুজ্ঞাবাচক
  2. নির্দেশাত্মক
  3. বিস্ময়বোধক
  4. প্রশ্নবোধক

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কোন ঘটনা, ভাব বা বক্তব্যের তথ্য যে বাক্য প্রকাশ করে, তাকে বলা হয় নির্দেশবাচক বাক্য। এ নির্দেশবাচক বাক্যকে নির্দেশমূলক বাক্য, নির্দেশসূচক বাক্য, বিবৃতিমূলক বাক্য প্রভৃতিও বলা হয়। যেমন- সে একটি গল্পের বই পড়ছে, এবার আমার একটি বিচিত্র অভিজ্ঞতা হলো ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

বাক্যটি লক্ষ্য করুন: ‘এবার আমার একটি বিচিত্র অভিজ্ঞতা হলো’। এই বাক্যটি দ্বারা বক্তা কোনো প্রকার আদেশ, নিষেধ, প্রশ্ন বা আবেগ প্রকাশ না করে কেবল একটি সাধারণ তথ্য বা বিবৃতি প্রদান করেছেন।
বাংলা ব্যাকরণে, যে বাক্য দ্বারা কোনো কিছু ঘোষণা করা হয় বা কোনো বিবৃতি প্রদান করা হয়, তাকে নির্দেশাত্মক বাক্য বা বর্ণনাত্মক বাক্য বলা হয়। এই বাক্যগুলো সাধারণত হ্যাঁ-বাচক (Affirmative) বা না-বাচক (Negative) হতে পারে।
সুতরাং, প্রদত্ত বাক্যটি একটি সাধারণ বর্ণনা, তাই এটি নির্দেশাত্মক বাক্য
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ:
১. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য: আদেশ, অনুরোধ বা উপদেশ বোঝায় (যেমন: তুমি যাও)।
২. বিস্ময়বোধক বাক্য: হঠাৎ আবেগ বা বিস্ময় প্রকাশ করে এবং সাধারণত ‘!’ চিহ্ন দ্বারা সমাপ্ত হয় (যেমন: কী ভয়ানক দৃশ্য!)।
৩. প্রশ্নবোধক বাক্য: কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করে এবং ‘?’ চিহ্ন দ্বারা সমাপ্ত হয় (যেমন: তুমি কি যাবে?)।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
36

ধ্বনিতত্ত্ব ও শব্দতত্ত্বকে বাক্যে যথাযথভাবে ব্যবহার করার বিধানের নামই-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রসতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. ক্রিয়ার কাল

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

একাধিক শব্দ কী নিয়মে যুক্ত হয়ে বৃহত্তর এককসমূহ (যাদের মধ্যে বাক্য প্রধানতম একক) গঠন করে এবং এই বৃহত্তর এককগুলোর বৈশিষ্ট্য কী, সেটাই বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। মূল কথা, ধ্বনিতত্ত্ব ও শব্দতত্ত্বকে বাক্যে যথাযথভাবে ব্যবহার করার বিধানের নামই বাক্যতত্ত্ব।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বাক্যতত্ত্ব
ব্যাকরণের যে অংশে ধ্বনিশব্দ-কে (অর্থাৎ ধ্বনিতত্ত্ব ও শব্দতত্ত্বের উপাদান) বাক্যে যথাযথভাবে ব্যবহার করার নিয়ম বা বিধান আলোচনা করা হয়, তাকেই বাক্যতত্ত্ব (Syntax) বলা হয়। বাক্যতত্ত্ব প্রধানত বাক্যের গঠন, বিন্যাস ও সঠিক প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করে।
রূপতত্ত্ব (Morphology) ভুল, কারণ এটি শুধুমাত্র শব্দের গঠনপ্রণালী নিয়ে আলোচনা করে (যেমন: সমাস, প্রকৃতি, প্রত্যয়)। শব্দের ব্যবহার বাক্যে কীভাবে হবে, তা নিয়ে রূপতত্ত্ব আলোচনা করে না।
রসতত্ত্ব সাহিত্যের অলংকারশাস্ত্রের অংশ, ব্যাকরণের নয়।
37

কোন বানানটি শুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মনোকষ্ট
  2. মনঃকষ্ট
  3. মণকষ্ট
  4. মনকস্ট

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

মনঃকষ্ট বানানটি শুদ্ধ। এটি সন্ধির মাধ্যমে গঠিত। সন্ধির নিয়মানুসারে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্ধির বিসর্গ লোপ হয় না। যেমন- প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল, মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট, শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক বানানটি হলো: মনঃকষ্ট
এটি বিসর্গ সন্ধি-এর একটি উদাহরণ। বাংলা ব্যাকরণে বিসর্গ সন্ধির একটি নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসারে এই বানানটি শুদ্ধ হয়।
নিয়মটি হলো: যদি কোনো শব্দের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকে এবং এরপর ক, খ, প, ফ—এই চারটি বর্গের যেকোনো একটি বর্ণ আসে, তবে বিসর্গটি অপরিবর্তিত থাকে।
এখানে, মনঃ (বিসর্গ) + কষ্ট (ক) = মনঃকষ্ট
অপরদিকে, ‘মনোকষ্ট’ শব্দটি ভুল, কারণ 'ক' বর্ণটি থাকলে বিসর্গ কখনোই 'ও-কার' (ো) এ রূপান্তরিত হয় না। 'ও-কার' হয় যদি বিসর্গের পরে গ, ঘ, দ, ধ, য, র, ল, ব, হ অথবা স্বরধ্বনি আসে (যেমন: মনঃ + রথ = মনোরথ)।
38

প্রচুর + য = প্রাচুর্য, কোন প্রত্যয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কৃৎ প্রত্যয়
  2. তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  4. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘য’ একটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়। ‘য’ প্রত্যয় যুক্ত হলে প্রাতিপদিকের অন্তে স্থিত অ, আ, ই এবং ঈ- এর লোপ হয়। যথা- সম্ + য = সাম্য, কবি + য = কাব্য, মধুর + য = মাধুর্য, প্রাচী + য = প্রাচ্য।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: তদ্ধিত প্রত্যয়
প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার: কৃৎ প্রত্যয় এবং তদ্ধিত প্রত্যয়। এদের মূল পার্থক্য নির্ভর করে প্রত্যয়টি কার সাথে যুক্ত হচ্ছে তার উপর।
১. কৃৎ প্রত্যয়: এটি সর্বদা ধাতু বা ক্রিয়ামূলের (যেমন: পড়্, লিখ্, চল্) সাথে যুক্ত হয়।
২. তদ্ধিত প্রত্যয়: এটি সর্বদা নামপদ বা শব্দের সাথে যুক্ত হয়। এই নামপদটি বিশেষ্য, বিশেষণ বা অব্যয় হতে পারে।
এখানে, মূল শব্দটি হলো 'প্রচুর'। 'প্রচুর' শব্দটি কোনো ধাতু বা ক্রিয়ামূল নয়, এটি একটি বিশেষণ বা নাম প্রকৃতি। যেহেতু নাম প্রকৃতির সঙ্গে 'য' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে 'প্রাচুর্য' শব্দটি গঠিত হয়েছে, তাই এটি নিঃসন্দেহে তদ্ধিত প্রত্যয়
উল্লেখ্য, এই প্রত্যয়টি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়-এর উদাহরণ, তবে অপশনে শুধু 'তদ্ধিত প্রত্যয়' থাকায় সেটিই গ্রহণীয়।
39

ব্যঞ্জন ধ্বনির সংক্ষিপ্ত রূপকে বলে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রেফ
  2. হসন্ত
  3. কার
  4. ফলা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে যেমন ‘কার’ বলা হয়, তেমনি ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে বলা হয় ‘ফলা’। ফলা ৬টি। যেমনঃ ণ/ন ফলা, ব ফলা, ম ফলা, য ফলা , র ফলা ও ল ফলা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ফলা
বাংলা ব্যাকরণে ব্যঞ্জন ধ্বনির সংক্ষিপ্ত প্রতীক বা লিখিত রূপকে ফলা বলা হয়। যখন কোনো ব্যঞ্জন বর্ণ অন্য কোনো ব্যঞ্জন বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে বসে, তখন সেই সংক্ষিপ্ত রূপটিই হলো ফলা। যেমন: ক-এর সঙ্গে ব যুক্ত হলে 'ক্ব' হয় (পক্ব), যেখানে '্ব' হলো ব-ফলা।
অন্যান্য অপশন ভুল কেন:
  • কার: এটি ব্যঞ্জন ধ্বনির সংক্ষিপ্ত রূপ নয়, বরং স্বর ধ্বনির সংক্ষিপ্ত রূপ বা প্রতীক। যেমন: আ-এর জন্য া, ই-এর জন্য ি।
  • রেফ: এটি ‘র’ ব্যঞ্জন ধ্বনির একটি বিশেষ সংক্ষিপ্ত রূপ (র-ফলা), যা বর্ণের উপরে বসে। এটি ফলার একটি অংশ হলেও, ফলাই হলো ব্যঞ্জন ধ্বনির সংক্ষিপ্ত রূপের সাধারণ নাম।
  • হসন্ত: এটি কোনো সংক্ষিপ্ত রূপ নয়, এটি একটি চিহ্ন (্) যা নির্দেশ করে যে ব্যঞ্জন বর্ণের সঙ্গে কোনো স্বরধ্বনি যুক্ত নেই (হালন্ত)।
40

উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শশব্যস্ত
  2. কালচক্র
  3. পরাণপাখি
  4. বহুব্রীহি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান। যেমন- শশকের ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: শশব্যস্ত
কর্মধারয় সমাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকার হলো উপমান কর্মধারয়।
উপমান কর্মধারয় সমাসে দুটি পদ থাকে—উপমান (যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, যেমন: শশক/খরগোশ) এবং সাধারণ ধর্মবাচক পদ (তুলনার গুণ বা বৈশিষ্ট্য, যেমন: ব্যস্ত)। এই সমাসে উপমান পদের সাথে সাধারণ ধর্মবাচক পদের মিলন ঘটে।
শশব্যস্ত এর ব্যাসবাক্য হলো: শশকের (খরগোশের) ন্যায় ব্যস্ত। এখানে শশক হলো উপমান এবং ব্যস্ত হলো তাদের মধ্যে বিদ্যমান সাধারণ ধর্ম বা গুণ।
অন্যান্য অপশনসমূহ হলো:
পরাণপাখি: পরাণরূপ পাখি। এটি রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ (যেখানে উপমান ও উপমেয় অভেদ কল্পনা করা হয়)।
কালচক্র: কালরূপ চক্র। এটিও রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
41

অপিনিহিতির উদাহরণ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জন্ম-জম্ম
  2. আজি > আইজ
  3. ডেস্ক > ডেসক
  4. অলাবু > লাবু > লাউ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে। যেমনঃ আজি > আইজ, সাধু > সাউধ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো আজি > আইজ
অপিনিহিতি (Apinihiti) হলো যখন শব্দের মধ্যে পরবর্তী ই-কার (ি) বা উ-কার (ু) তার মূল স্থান থেকে আগে উচ্চারিত হয়। একে প্রাক-স্বরাগমও বলা যায়।
'আজি' শব্দে ই-কারটি 'জ'-এর পরে আছে, কিন্তু অপিনিহিতির ফলে উচ্চারিত 'আইজ' শব্দে ই-কারটি 'জ'-এর আগে চলে এসেছে। এটিই অপিনিহিতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
অন্যান্য অপশন:
- জন্ম > জম্ম: এটি সমীভবন (Assimilation)-এর উদাহরণ। (ন ও ম এই দুটি ভিন্ন ধ্বনি 'ম'-এর প্রভাবে সমীভূত হয়েছে।)
- ডেস্ক > ডেসক: এটি স্বরভক্তি বা বিপ্রকর্ষ (Viprakarsha)-এর উদাহরণ। এখানে সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিকে সহজে উচ্চারণের জন্য মাঝখানে একটি স্বরধ্বনি ('এ' > 'অ' কারের মতো) আনা হয়েছে।
- অলাবু > লাবু > লাউ: এটি একাধিক ধ্বনি পরিবর্তনের ফল, যার শেষ ধাপটি অভিশ্রুতি বা স্বরলোপের উদাহরণ।
42

‘কুসীদজীবী’ বলতে কাদের বুঝায়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চারণকবি
  2. সাপুড়ে
  3. সুদখোর
  4. কৃষিজীবী

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

কুসীদজীবী শব্দের অর্থ সুদে টাকা ধার দেওয়া যার পেশা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সুদখোর

বাংলা শব্দকোষ অনুযায়ী, 'কুসীদ' শব্দের অর্থ হলো সুদ অথবা ঋণের ওপর নেওয়া অতিরিক্ত অর্থ (Usury/Interest)।

আর 'জীবী' বলতে জীবিকা নির্বাহকারীকে বোঝানো হয়।

সুতরাং, যে ব্যক্তি সুদ গ্রহণ বা প্রদান করে জীবিকা নির্বাহ করে, তাকেই কুসীদজীবী বলা হয়। এটি একটি অর্থনৈতিক পেশার সাথে সম্পর্কিত শব্দ।

অন্যান্য অপশনগুলো (চারণকবি, সাপুড়ে, কৃষিজীবী) ভিন্ন ভিন্ন পেশা নির্দেশ করে, যা প্রদত্ত শব্দের সাথে সম্পর্কিত নয়।
43

‘অভাব’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে কোন উপসর্গটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অকাজ
  2. আবছায়া
  3. আলুনি
  4. নিখুঁত

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

অভাব অর্থে আ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ: আকাঁড়া, আধোয়া, আলুনি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আলুনি
উপসর্গ হলো এমন অব্যয়সূচক শব্দাংশ, যা শব্দের পূর্বে বসে নতুন অর্থ সৃষ্টি করে অথবা অর্থের পরিবর্তন বা সম্প্রসারণ ঘটায়। আলোচ্য প্রশ্নে 'আলুনি' শব্দটি গঠিত হয়েছে বাংলা উপসর্গ 'আ''লুনি' (লবণ বা নুন অর্থে) যুক্ত হয়ে।
এখানে 'আ' উপসর্গটি 'অভাব' বা 'নেই' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ, আলুনি = নুনের অভাব বা লবণহীন।
অন্যদিকে, অকাজ শব্দে ব্যবহৃত 'অ' উপসর্গটি সাধারণত 'নিষেধ' বা 'খারাপ' (মন্দ কাজ) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
আবছায়া শব্দে 'আব' উপসর্গটি 'অস্পষ্টতা' বা 'অসম্পূর্ণতা' বোঝায়।
নিখুঁত শব্দে 'নি' উপসর্গটি 'নিঃশেষ' বা 'পরিপূর্ণতা' অর্থে ব্যবহৃত (খুঁত নেই—এমন)।
44

কোন বানানটি শুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পুরষ্কার
  2. আবিস্কার
  3. সময়পোযোগী
  4. স্বত্ব

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক বানানটি হলো: স্বত্ব। ‘স্বত্ব’ শব্দের অর্থ হলো – অধিকার, সম্পত্তি বা মালিকানা।
অন্যান্য বানানগুলো ভুল, যার প্রধান কারণ হলো ষ-ত্ব বিধান এবং সন্ধি সংক্রান্ত ত্রুটি।
পুরষ্কার: এটি ভুল। সঠিক বানান হলো পুরস্কার। ব্যাকরণের নিয়মানুসারে, অ-কার কিংবা আ-কারের পরে ক, খ, প, ফ থাকলে বিসর্গ (ঃ) থাকলে তা ‘স’ হয়। (পুরঃ + কার = পুরস্কার)।
আবিস্কার: এটিও ভুল। সঠিক বানান হলো আবিষ্কার। ‘আবিঃ’ (বিসর্গ) উপসর্গের পর ‘কৃ’ ধাতু দ্বারা গঠিত শব্দে ‘ষ’ ব্যবহৃত হয়। (আবিঃ + কার = আবিষ্কার)।
সময়পোযোগী: এটি ভুল। সঠিক বানান হলো সময়োপযোগী। এটি একটি স্বরসন্ধি। সময় + উপযোগী = সময়োপযোগী (অ + উ = ও, গুণ সন্ধির উদাহরণ)।
45

‘ডিঙি টেনে বের করতে হবে।’-কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কর্মবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. যৌগিক
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে। যেমন- ডিঙি টেনে বের করতে হবে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ভাববাচ্য
যে বাক্যে কর্তা প্রধান নয় এবং কর্ম (Object) অনুপস্থিত থাকে অথবা থাকলেও ক্রিয়ার ভাব প্রধানরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে। প্রশ্নোক্ত বাক্যে (‘ডিঙি টেনে বের করতে হবে।’) কাজটি করার একটি আবশ্যকতা বা ভাব প্রধানরূপে প্রকাশিত হয়েছে।
যদিও এই বাক্যে ‘ডিঙি’ নামক কর্মপদ রয়েছে, তবুও বাক্যের প্রকৃতিটি এমন যে কর্তাটি এখানে উহ্য বা গৌণ। এখানে ক্রিয়ার ভাবটি—'টেনে বের করার আবশ্যকতা'—প্রধান। এই ধরনের আবশ্যকতা বা নির্দেশসূচক বাক্যগুলো (যেখানে কর্তা ৬ষ্ঠ বা ৭মী বিভক্তিযুক্ত হয় অথবা উহ্য থাকে) বাংলা ব্যাকরণে ভাববাচ্যের উদাহরণ হিসেবে গৃহীত হয়।
যেমন: 'আমার গাওয়া হলো না।' (এখানে কর্তা 'আমি' উহ্য হয়ে 'আমার' ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত হয়েছে।)
ভুল কেন:
কর্মবাচ্য: এখানে কর্মপদ (ডিঙি) প্রধান হতো এবং কর্তা থাকলে তার সাথে 'দ্বারা/কর্তৃক' যুক্ত থাকত। (যেমন: ডিঙিটি আমার দ্বারা টানা হবে।)
কর্মকর্তৃবাচ্য: এখানে কর্মপদটিই কর্তার মতো কাজ করত। (যেমন: বাঁশি বাজে, কাজটা ভালো দেখায়।) যা এই বাক্যের প্রকৃতির সাথে মেলে না।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
46

বঙ্গালি উপভাষা অঞ্চল কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নদীয়া
  2. ত্রিপুরা
  3. পুরুলিয়া
  4. বরিশাল

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বাংলা ভাষার উপভাষাকে প্রধানত পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়। ১. রাঢ়ি (পশ্চিম ও মধ্যবঙ্গ)। ২. ঝাড়খন্ডি (দক্ষিণ পশ্চিমবঙ্গ, সিংভূম, মানভূম, পুরুলিয়া অঞ্চল)। ৩. বরেন্দ্রি (উত্তর বঙ্গ)। ৪. বঙ্গালি (পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ববঙ্গ, ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, বরিশাল)। ৫. কামরুপি (উত্তর পূর্ববঙ্গ, কোচবিহার, কাছাড়া)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বরিশাল
বাংলা ভাষার প্রধান উপভাষাগুলোকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে বঙ্গালি উপভাষা অঞ্চল বলতে প্রধানত বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলকে বোঝায়।
বঙ্গালি উপভাষা অঞ্চলে যে সকল এলাকা অন্তর্ভুক্ত, তার মধ্যে রয়েছে— ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট। অপশনগুলোর মধ্যে বরিশাল সরাসরি এই উপভাষা অঞ্চলের অন্তর্গত।
অন্যান্য অপশনসমূহ অন্য উপভাষার অন্তর্ভুক্ত:
নদীয়া: এটি রাঢ়ী উপভাষা অঞ্চলের অন্তর্গত, যা বর্তমানে প্রমিত চলিত বাংলা ভাষার ভিত্তি।
পুরুলিয়া: এটি ঝাড়খণ্ডী উপভাষা অঞ্চলের অন্তর্গত।
ত্রিপুরা: এটি যদিও বঙ্গালি উপভাষার পূর্ব প্রান্তের কাছাকাছি, কিন্তু বঙ্গালি উপভাষার কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিত্ব করে বরিশাল, ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চল।
47

‘বাবা’ কোন ভাষার অন্তর্গত শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তৎসম
  2. তদ্ভদ
  3. ফারসী
  4. তুর্কি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘বাবা’ শব্দটি তুর্কি ভাষার অন্তর্ভুক্ত। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য তুকি শব্দ- উজবুক, কোর্মা, তোশক, বেগম, কুরনিশ, কুলি ইত্যাদি। উল্লেখযোগ্য অন্যান্য শব্দ: তৎসম- কার্য, বৎস, হস্ত, গৃহ ইত্যাদি। তদ্ভব- কাজ, চামার, ভাত, হাত ইত্যাদি। ফারসি- আইন, আজাদ, আমদানি, দরিয়া, ফরিয়াদ ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: তুর্কি
‘বাবা’ শব্দটি বাংলা ভাষায় আগত একটি বিদেশি শব্দ, যা তুর্কি (Turkish) ভাষা থেকে এসেছে। তুর্কি জাতি দীর্ঘকাল ধরে এই উপমহাদেশে শাসন করায় তাদের ভাষা থেকে অনেক পারিবারিক ও প্রশাসনিক শব্দ বাংলায় স্থান করে নেয়।
বাবা, দাদা, বেগম – এই ধরনের শব্দগুলো মূলত তুর্কি ভাষার অন্তর্গত।
এটি তৎসম (সংস্কৃত থেকে সরাসরি আগত) বা তদ্ভব (সংস্কৃত থেকে পরিবর্তিত) শব্দ নয়, আবার ফারসী (যেমন: নামাজ, রোজা, তারিখ) শব্দও নয়।
48

শুদ্ধ বাক্য নয় কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিদ্বান হলেও তার কোনো অহংকার নেই
  2. ইশ! যদি পাখির মত পাখা পেতাম
  3. অকারণে ঋণ করিও না
  4. হয়তো সোহমা আসতে পারে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

এখানে শুদ্ধ বাক্য নয় → ‘অকারণে ঋণ করিওনা’। কারণ বাক্যটি গুরুচণ্ডালী (সাধু-চলিত মিশ্রণ) দোষে দুষ্ট হয়েছে। বাক্যটির শুদ্ধরূপ→ অকারণে ঋণ কর না। অপর তিনটি বাক্য শুদ্ধ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো (গ) অকারণে ঋণ করিও না। এটি শুদ্ধ বাক্য নয়।
কারণ: এই বাক্যে 'করিও না' ক্রিয়া পদটি সাধু রীতির। আধুনিক প্রমিত বাংলা বাক্যে সাধু রীতির ক্রিয়াপদ ব্যবহার করলে তা রীতিগত অশুদ্ধি (গুরুচণ্ডালী দোষের অন্তর্ভুক্ত) হিসেবে গণ্য হয়।
এই বাক্যের শুদ্ধ রূপ হলো: 'অকারণে ঋণ করো না' অথবা 'অকারণে ঋণ নিও না'।
দ্রষ্টব্য: অপশন (ঘ) 'হয়তো সোহমা আসতে পারে' বাক্যটিও অশুদ্ধ। কারণ 'হয়তো' অব্যয় পদ এবং 'পারে' ক্রিয়া পদ—উভয়ই একই সাথে সম্ভাবনা (uncertainty) প্রকাশ করছে। এটি দ্বিরুক্তিজনিত অশুদ্ধি। তবে প্রশ্নে প্রদত্ত সঠিক উত্তর হিসেবে (গ)-কেই বেছে নেওয়া হলো, যা মূলত রীতিগত অশুদ্ধির উদাহরণ।
49

বাক্যের দুটি অংশ থাকে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্রসাদগুণ, মাধুর্যগুণ
  2. উপমা, অলংকার
  3. উদ্দেশ্য, বিধেয়
  4. সাধু, চলিত

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

প্রতিটি বাক্যে দুটি অংশ থাকে। যথা: ১. উদ্দেশ্য, ২. বিধেয়। বাক্যের যে অংশ কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য এবং উদ্দেশ্য সম্বন্ধে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে। যেমন: খোকা এখন (উদ্দেশ্য) বই পড়ছে (বিধেয়)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: উদ্দেশ্য, বিধেয়
একটি সার্থক বা পূর্ণাঙ্গ বাক্যের প্রধানত দুটি অংশ থাকে: উদ্দেশ্য এবং বিধেয়।
উদ্দেশ্য (Subject): বাক্যে যার সম্পর্কে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বা কর্তা বলে।
বিধেয় (Predicate): উদ্দেশ্য সম্পর্কে বাক্যে যা কিছু বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে। বিধেয় অংশে অবশ্যই একটি সমাপিকা ক্রিয়া (Finite Verb) থাকে।
উদাহরণস্বরূপ: আমি (উদ্দেশ্য) প্রতিদিন কলেজে যাই (বিধেয়)।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ: 'প্রসাদগুণ, মাধুর্যগুণ' হলো কাব্যগুণ; 'উপমা, অলংকার' হলো অলংকার বা বাগ্বিভূতি; এবং 'সাধু, চলিত' হলো ভাষার রূপভেদ, যা বাক্যের কাঠামোগত অংশ নয়।
50

উদ্বাসন শব্দের অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বাসভূমি থেকে বিতাড়িত হওয়া
  2. বাসভূমির সম্মুখস্থ ভূমি
  3. অজ্ঞাত বিষয় প্রকাশ করা
  4. বিকাশ

সঠিক উত্তর: ক

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: বাসভূমি থেকে বিতাড়িত হওয়া
বাংলা ব্যাকরণ ও শব্দার্থ অনুযায়ী, 'উদ্বাসন' (Ut + Basan) শব্দটি দ্বারা মূলত নিজ বাসস্থান, জন্মভূমি বা দেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়াকে বোঝায়। এটি এক প্রকারের স্থানচ্যুতি বা বাস্তুচ্যুতি। এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো 'Evacuation', 'Exile', বা 'Displacement'।
এই শব্দটি সাধারণত শরণার্থী বা উদ্বাস্তুদের দেশত্যাগের প্রসঙ্গে ব্যবহার করা হয়।
বাকি বিকল্পগুলোর মধ্যে— 'বিকাশ' অর্থ বৃদ্ধি বা উন্মোচন; এবং 'অজ্ঞাত বিষয় প্রকাশ করা'-এর সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
51

বাংলা আদি অধিবাসীগণ কোন ভাষাভাষী ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. হিন্দি
  4. অস্ট্রিক

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সমগ্র বাঙালি জনগোষ্ঠীকে দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা- প্রাক-আর্য (অনার্য) জনগোষ্ঠী এবং আর্য জনগোষ্ঠী। আর্যপূর্ব জনগোষ্ঠী মূলত নেগ্রিটো, অস্ট্রিক, দ্রাবিড় ও ভোটচীনীয় এই চারটি শাখায় বিভক্ত ছিল। বাংলার আদি জনপদগুলোর ভাষা ছিল অস্ট্রিক।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অস্ট্রিক
বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশের আদিমতম অধিবাসী হিসেবে যাদের চিহ্নিত করা হয়, তারা মূলত নিশাদ বা অস্ট্রিক (Austric) জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
এই আদিম জনগোষ্ঠী যে ভাষায় কথা বলত, সেটি অস্ট্রিক ভাষাবংশ নামে পরিচিত। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানের সাঁওতালি, মুণ্ডা, খাসিয়া ইত্যাদি ভাষাগুলো এই বংশের অন্তর্ভুক্ত।
সংস্কৃত ভাষা এসেছে আর্যদের আগমনের পর এবং এটি ইন্দো-আর্য ভাষা পরিবারের অংশ। এটি আদি অধিবাসীদের ভাষা নয়।
বাংলা ভাষা অনেক পরে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে আনুমানিক ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে প্রাকৃত ভাষার পরিবর্তিত রূপ অপভ্রংশ থেকে সৃষ্ট একটি আধুনিক ইন্দো-আর্য ভাষা। তাই এটি আদি ভাষা হতে পারে না।
52

‘Notification’-এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিজ্ঞাপন
  2. বিজ্ঞপ্তি
  3. বিজ্ঞপ্তি ফলক
  4. প্রজ্ঞাপন

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

Notification শব্দের বাঙলা পরিভাষা হলো- প্রজ্ঞাপন। অন্যান্য শব্দ: Circular- বিজ্ঞপ্তি, Advertisement- বিজ্ঞাপন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: প্রজ্ঞাপন
বাংলা পরিভাষা অনুযায়ী 'Notification' বলতে বোঝায় সরকারিভাবে বা বিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গেজেটে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নির্দেশনা, যার আইনগত ভিত্তি থাকে। এর যথাযথ বাংলা প্রতিশব্দ হলো প্রজ্ঞাপন (Proclamation/Gazette Notification)।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল:
বিজ্ঞপ্তি (Notice/Circular): এটি সাধারণ কোনো তথ্য বা খবর সর্বসাধারণকে জানানোর জন্য ব্যবহৃত হয় (যেমন: স্কুল/কলেজের নোটিশ, ছুটির নোটিশ)। এটি 'Notification'-এর মতো ততটা আনুষ্ঠানিক বা আইনগত বাধ্যতামূলক নয়।
বিজ্ঞাপন (Advertisement): এটি সাধারণত প্রচার বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় (যেমন: চাকরির বিজ্ঞাপন, পণ্যের বিজ্ঞাপন)।
53

মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন
  2. মহান যে পুরুষ = মহাপুরুষ
  3. কুসুমের মতো কোমল = কুসুমকোমল
  4. জায়া ও পতি = দম্পতি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়)। মহান যে পুরুষ = মহাপুরুষ (কর্মধারয়)। কুসুমের মতো কোমল = কুসুমকোমল (উপমান কর্মধারয়) জায়া ও পতি = দম্পতি (সম্বন্ধবাচক দ্বন্দ্ব)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যস্থিত পদ বা পদসমূহ লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। এখানে ‘সিংহ চিহ্নিত আসন’ ব্যাসবাক্যে ‘চিহ্নিত’ পদটি সমাসবদ্ধ হওয়ার সময় লোপ পেয়েছে। তাই এটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
অন্যান্য বিকল্পের ব্যাখ্যা:
মহান যে পুরুষ = মহাপুরুষ: এটি সাধারণ কর্মধারয় সমাস। যেখানে বিশেষণ পদ পূর্বে বসেছে।
কুসুমের মতো কোমল = কুসুমকোমল: এটি উপমান কর্মধারয় সমাস। যেখানে উপমান (কুসুম) ও সাধারণ ধর্মবাচক পদ (কোমল) মিলিত হয়েছে।
জায়া ও পতি = দম্পতি: এটি দ্বন্দ্ব সমাস (বিশেষভাবে একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস)।
54

কোনটি শুদ্ধ নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. যন্ত্রনা
  2. শূদ্র
  3. সহযোগিতা
  4. স্বতঃস্ফূর্ত

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

যন্ত্রনা অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ- যন্ত্রণা। এছাড়াও অন্যান্য শুদ্ধ শব্দ – শূদ্র, সহযোগিতা, স্বতঃস্ফূর্ত।

ব্যাখ্যা

প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে 'যন্ত্রনা' বানানটি শুদ্ধ নয়।
এটি অশুদ্ধ বানান হিসেবে চিহ্নিত হবে, তাই এটিই সঠিক উত্তর।
'যন্ত্রনা' শব্দটির সঠিক বানান হলো 'যন্ত্রণা'
এটি ণ-ত্ব বিধানের একটি প্রয়োগ। তৎসম (সংস্কৃত) শব্দে ঋ, র, ষ বর্ণের পরে দন্ত্য 'ন' পরিবর্তিত হয়ে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
'যন্ত্রণা' শব্দটিতে 'র'-ফলা (র্) থাকায়, পরবর্তী দন্ত্য 'ন'-এর পরিবর্তে মূর্ধন্য 'ণ' ব্যবহৃত হয়েছে।
অন্যান্য অপশন—শূদ্র, সহযোগিতা এবং স্বতঃস্ফূর্ত—এই বানানগুলো ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ।
55

‘যিনি ন্যায়শাস্ত্র জানেন’ এর এককথায় প্রকাশিত রূপ হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ন্যায়বাগীশ
  2. নৈয়ায়িক
  3. ন্যায়পাল
  4. ন্যায়ঋদ্ধ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

যিনি ন্যায়শাস্ত্র জানেন- এর এককথায় প্রকাশিত রূপ হলো- নৈয়ায়িক। ন্যায়পাল: সুইডিশ ভাষায় Ombudsman বা ন্যায়পাল বলতে এমন একজন সরকারি মুখপাত্র বা প্রতিনিধি কিংবা সরকারি কর্মকর্তাকে বুঝায় যিনি সরকারি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নৈয়ায়িক
বাংলা ব্যাকরণে ‘এককথায় প্রকাশ’ অনুযায়ী, যিনি ন্যায়শাস্ত্র (যুক্তিবিদ্যা/Logic) নিয়ে বিশেষ জ্ঞান রাখেন, তাকে নৈয়ায়িক বলা হয়। এটি বিশেষ জ্ঞানী বা শাস্ত্রজ্ঞ ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
ন্যায়বাগীশ: এর অর্থ হলো যে ব্যক্তি ন্যায় নিয়ে কেবল তর্ক করে বা বিতর্কে অংশ নেয় (A disputant concerning justice/logic).
ন্যায়পাল: সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠানে বা সরকারের কোনো পদে যিনি ন্যায় বিচার বা অভিযোগের প্রতিকার করার দায়িত্ব পালন করেন (যেমন: Ombudsman).
ন্যায়ঋদ্ধ: এই শব্দটি ব্যাকরণগতভাবে প্রচলিত নয়, এটি ‘ন্যায় দ্বারা সমৃদ্ধ’ বা ‘সৎ’ অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে, কিন্তু এককথায় প্রকাশের সঠিক রূপ নয়।
56

‘উলুবনে মুক্তা ছড়ানো’ প্রচলিত এমন শব্দগুচ্ছকে বলে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্রবাদ-প্রবচন
  2. এককথায় প্রকাশ
  3. ভাবসম্প্রসারণ
  4. বাক্য সংকোচন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

উলুবনে মুক্ত ছড়ানো প্রচলিত এমন শব্দগুচ্ছকে বলা হয় প্রবাদ-প্রবচন। যার ইংরেজি – To cast pearls before swine.

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো প্রবাদ-প্রবচন
‘উলুবনে মুক্তা ছড়ানো’ শব্দগুচ্ছটি সমাজে প্রচলিত একটি প্রবাদ। এর অর্থ হলো অজ্ঞ বা অযোগ্য ব্যক্তির কাছে মূল্যবান জিনিস নষ্ট করা বা মূল্যহীন কাজ করা।
প্রবাদ-প্রবচন (Proverb): এটি সাধারণত সম্পূর্ণ বাক্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং এতে সমাজের গভীর অভিজ্ঞতা, লৌকিক জ্ঞান বা উপদেশমূলক সারমর্ম প্রকাশ পায়।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ:
এককথায় প্রকাশ বা বাক্য সংকোচন: এর কাজ হলো একাধিক শব্দ বা বাক্যাংশকে একটিমাত্র শব্দে প্রকাশ করা (যেমন: ‘যা দমন করা যায় না’ = অদম্য)। এটি প্রচলিত কোনো পূর্ণাঙ্গ উক্তি নয়।
ভাবসম্প্রসারণ: এর মাধ্যমে একটি সংক্ষিপ্ত উক্তি বা ভাবকে বিশ্লেষণ করে বিস্তৃত আকারে প্রকাশ করা হয়।
57

কুষ্টি শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কৃষ্+তি
  2. কৃষ্+টি
  3. কৃ+ইষ্টি
  4. কৃষ্+ইষ্টি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

কৃষ্টি শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়: কৃষ্ + তি ; অনুরূপভাবে, সৃজ + তি = সৃষ্টি, দৃশ + তি = দৃষ্টি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো (A) কৃষ্+তি। এটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
প্রকৃতি-প্রত্যয় ব্যাখ্যা: 'কুষ্টি' শব্দের মূল ধাতু হলো কৃষ্ (অর্থ: আকর্ষণ বা কর্ষণ করা)। এর সাথে 'তি' কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে শব্দটি গঠিত হয়েছে।
বাংলা ব্যাকরণের বিশেষ নিয়ম অনুযায়ী, যখন কোনো ধাতুর শেষে ষ্ (বা স) থাকে এবং তার সাথে 'তি' প্রত্যয় যুক্ত হয়, তখন প্রত্যয়ের 'ত' বর্ণটি পরিবর্তিত হয়ে 'ট' হয়ে যায়। এটিকে প্রত্যয়ের মূর্ধন্যীভবন নিয়ম বলা হয়।
অতএব: কৃষ্ (ধাতু) + তি (প্রত্যয়) = কৃষ্+তি (ধাতু ও প্রত্যয়ের নিয়মানুসারে এটি কুষ্টি হয়)।
অন্যান্য অপশন যেমন 'কৃষ্+টি' ভুল, কারণ ব্যাকরণ অনুযায়ী সরাসরি 'টি' নামে কোনো কৃৎ প্রত্যয় নেই, এখানে 'তি' প্রত্যয়ই নিয়মানুসারে 'ট' তে রূপান্তরিত হয়।
58

“আমার জ্বর জ্বর লাগছে”- জ্বর জ্বর শব্দ দুটি অবিকৃতভাবে উচ্চারিত হওয়াকে বলে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দিরুক্ত শব্দ
  2. সমার্থক শব্দ
  3. যুগ্মশব্দ
  4. শব্দদ্বিত্ব

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

আমার জ্বর জ্বর লাগছে- এখানে জ্বর জ্বর শব্দ দুটির অবিকৃতবাবে উচ্চারিত হওয়াকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলা হয়। যেমন: সামান্য বোঝাতে- আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি; এখানে জ্বর জ্বর দ্বারা পদের দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: দিরুক্ত শব্দ
ব্যাকরণে যখন কোনো একটি শব্দ বা পদ অবিকৃতভাবে (অর্থের পরিবর্তন না করে) দুইবার ব্যবহৃত হয় এবং বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে দিরুক্ত শব্দ বা শব্দদ্বিত্ব বলা হয়।
প্রদত্ত উদাহরণে, ‘আমার জ্বর জ্বর লাগছে’—এখানে ‘জ্বর জ্বর’ শব্দটি অবিকৃতভাবে পুনরাবৃত্তি হয়ে প্রায় জ্বর বা জ্বরের ভাব প্রকাশ করছে।
যেহেতু ‘জ্বর জ্বর’ শব্দটি অবিকৃতভাবে উচ্চারিত হয়েছে, তাই এটি শব্দের দ্বিরুক্তির একটি উদাহরণ, যার মূল নাম দিরুক্ত শব্দ
উল্লেখ্য, শব্দদ্বিত্ব (Option 3) বলতেও একই ধারণা বোঝানো হয়। যদি অপশনে দিরুক্ত শব্দ ও শব্দদ্বিত্ব দুটিই থাকে, তবে দিরুক্ত শব্দ হলো বৃহত্তর পরিভাষা, যা পদের ও ধ্বনির দ্বিরুক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
59

মানুষের দেহের যে সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধ্বনি তৈরিতে সহায়তা করে তাকে বলে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বাক প্রত্যঙ্গ
  2. অঙ্গধ্বনি
  3. স্বরতন্ত্রী
  4. নাসিকাতন্ত্র

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

মানুষের দেহের যে সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধ্বনি তৈরিতে সহায়তা করে তাকে বাক্‌ প্রত্যঙ্গ বলা হয়। কারণ ধ্বনির সৃষ্টি হয় বাগ্‌যন্ত্রের দ্বারা। গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিহ্বা, তালু, দাঁত, নাক ইত্যাদি বাক্‌ প্রত্যঙ্গকে এক কথায় বলে বাগ্‌যন্ত্র।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বাক প্রত্যঙ্গ
মানুষের দেহের যে সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সরাসরি ধ্বনি বা কথা উৎপাদনে সাহায্য করে, সেগুলোকে সমষ্টিগতভাবে বাক প্রত্যঙ্গ (Vocal Organs) বা বাক-যন্ত্র বলা হয়।
এই অঙ্গগুলোর মধ্যে রয়েছে— ফুসফুস (বাতাসের যোগানদাতা), স্বরতন্ত্রী (শব্দ সৃষ্টিকারী), জিভ (সর্বাপেক্ষা সক্রিয় অঙ্গ), ঠোঁট, তালু, মাড়ি এবং নাসিকা গহ্বর। ধ্বনি উৎপাদন একটি যৌথ প্রক্রিয়া, যেখানে সব অঙ্গের সমন্বয় প্রয়োজন।
অন্যান্য অপশন ভুল, কারণ: স্বরতন্ত্রী (Vocal Cord) হলো বাক প্রত্যঙ্গের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা শব্দ বা স্বর সৃষ্টি করে, কিন্তু এটি সামগ্রিক অঙ্গ-সমষ্টি নয়। নাসিকাতন্ত্র শুধু নাসিক্য ধ্বনি (ঙ, ঞ, ণ, ন, ম) উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়, সব ধ্বনিতে নয়।
60

সঠিক বানান নয় কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ধরণি
  2. মূর্ছা
  3. গুণ
  4. প্রানী

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

এখানে সঠিক বানান নয় এমন শব্দ ‘প্রানী’; যার সঠিক বানান প্রাণী। অপর তিনটি শব্দের বানান সঠিক। সঠিক শব্দগুলো হলো- ধরণি, মূর্ছা, গুণ।

ব্যাখ্যা

সঠিক বানান নয় হলো ৪ নং অপশন প্রানী
বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী, যেসব তৎসম (সংস্কৃত) শব্দে 'ঈ' (দীর্ঘ-ঈকার) ব্যবহৃত হয়, 'প্রাণী' শব্দটি তার অন্তর্ভুক্ত।
'প্রাণী' শব্দটি একটি বিশেষ্য পদ এবং এটি ণত্ব ও ষত্ব বিধানের নিয়ম মেনে চলে। তাই এর সঠিক রূপ হলো: প্রাণী (দীর্ঘ-ঈকার)।
যদি শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হতো (যেমন: প্রাণীর মতো), তবে বানানে পরিবর্তন আসতে পারত, কিন্তু একক শব্দ হিসেবে প্রাণী বানানটিই সঠিক।
অপরদিকে, ১. ধরণি (পৃথিবী), ২. মূর্ছা (জ্ঞান হারানো), এবং ৩. গুণ (Quality) বানানগুলো বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানের নিয়ম অনুযায়ী সঠিক।
61

ঐহিক এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ঈদৃশ
  2. পারত্রিক
  3. মাঙ্গলিক
  4. আকস্মিক

সঠিক উত্তর: খ

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পারত্রিক
ঐহিক শব্দের অর্থ হলো — ইহকাল বা ইহজগৎ সম্পর্কিত (Worldly, Temporal)। অর্থাৎ, যা এই জগতের সঙ্গে সম্পর্কিত।
অতএব, এর বিপরীত শব্দ হবে পরকালের সঙ্গে সম্পর্কিত। পারত্রিক শব্দের অর্থ হলো — পরকাল সম্পর্কিত বা পরজগতের
অন্যান্য অপশনগুলোর অর্থ ভিন্ন:
ঈদৃশ মানে— এরূপ, এমন।
মাঙ্গলিক মানে— শুভ, কল্যাণকর।
আকস্মিক মানে— হঠাৎ, অপ্রত্যাশিত।
62

অধিত্যকা এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. উপত্যকা
  2. ধিত্যকা
  3. পার্বত্য
  4. সমতল

সঠিক উত্তর: ক

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: উপত্যকা
অধিত্যকা শব্দের অর্থ হলো—পাহাড় বা পর্বতের উপরের সমতল ভূমি বা শীর্ষের কাছাকাছি উঁচু স্থান (Plateau/Upland)।
এর সরাসরি বিপরীত শব্দ হলো উপত্যকা। উপত্যকা মানে হলো—দুটি পাহাড়ের মাঝখানের নিম্নভূমি বা নিচু অঞ্চল বা পাহাড়ের পাদদেশের সমতল অঞ্চল (Valley)।
তাই, উচ্চভূমির বিপরীত শব্দ হিসেবে নিম্নভূমি বা উপত্যকা সঠিক।
অন্যান্য অপশন যেমন পার্বত্য (পাহাড়-সম্পর্কিত) এবং সমতল (সাধারণ সমভূমি) শব্দের সঠিক বিপরীতার্থক ভাব প্রকাশ করে না।
63

কোনটি নামধাতুর উদাহরণ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চ্‌ল
  2. কর্
  3. বেতা
  4. পড়ু

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বিশেষ্য, বিশেষণ এবং ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের পরে ‘আ’ প্রত্যয়যোগে যেসব ধাতু গঠিত হয়, সেগুলোকে নামধাতু বলা হয়। যেমন: বেত (বিশেষ্য) + আ (প্রত্যয়) = বেতা। অপরদিকে চ্‌ল, কর্, পড়্ এগুলো মৌলিক ধাতু বা ক্রিয়ামূলের উদাহরণ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বেতা
যেসব ধাতু বিশেষ্য, বিশেষণ অথবা অনুকার শব্দ বা অনুকার অব্যয়ের পরে 'আ' প্রত্যয় যোগ করে গঠিত হয়, তাদের নামধাতু বলে। যেমন: বেত (বিশেষ্য) + আ = বেতা। এই নামধাতু থেকে ক্রিয়াপদ গঠিত হয় (যেমন: বেতানো, অর্থাৎ বেত দিয়ে আঘাত করা)।
এখানে, 'বেতা' শব্দটি এসেছে বিশেষ্য পদ 'বেত' থেকে। এটি নামপদ হওয়ায় এটি থেকে সৃষ্ট ধাতুটিকে নামধাতু বলা হয়।
অন্যদিকে, 'চ্‌ল' (চল) এবং 'কর্' (কর) হলো মৌলিক ধাতু (বা সিদ্ধ ধাতু)। এগুলোকে বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভাঙা যায় না। 'পড়ু' (পড়) মৌলিক ধাতু হলেও তা 'পড়ুক' বা 'পড়ে' ক্রিয়াপদের অংশ, এটি নামধাতু নয়।
64

বাগযন্ত্রের অংশ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. স্বরযন্ত্র
  2. ফুসফুস
  3. দাঁত
  4. উপরের সবকটি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ভাষার প্রথম প্রকাশ ঘটে মানুষের মুখে-মানুষের বাগ্‌যন্ত্রে। মানুষের বাগযন্ত্রই ভাষার প্রথম জন্মভূমি। বাগযন্ত্রের গঠন- প্রক্রিয়া ধ্বনিবিজ্ঞানের প্রথম আলোচ্য বিষয়। শরীরের উপরিভাগে অবস্থিত মধ্যচ্ছদা থেকে ঠোঁট পর্যন্ত শ্বাসবাহী যেসব বিশেষ প্রত্যঙ্গগুলি ধ্বনির উচ্চারণের সঙ্গে যুক্ত সেগুলিকে বাক্‌প্রত্যঙ্গ বা একত্রে বাগ্‌যন্ত্র (speech organ/ vocal organ) বলে। বাগ্‌যন্ত্রের এলাকা বিস্তৃত। এর মধ্যে রয়েছে ফুসফুস (lungs), শ্বাসনালি (trachea), স্বরযন্ত্র (larynx), স্বরতন্ত্র (vocal fold), জিভ (tongue), ঠোঁট (lips), নিচের চোয়াল (lower jaw), দাঁত (teeth), তালু (palate) ও গলনালি (pharynx)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: উপরের সবকটি (স্বরযন্ত্র, ফুসফুস, দাঁত)।
ধ্বনি উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত মানব দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকে একত্রে বাগযন্ত্র (Organs of Speech) বলা হয়।
বাগযন্ত্র একটি ব্যাপক ধারণা, যা কণ্ঠনালী থেকে শুরু করে মুখ ও নাসিকার পথ পর্যন্ত বিস্তৃত। ধ্বনি সৃষ্টি ও উচ্চারণের জন্য নিচে দেওয়া অঙ্গগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
১. ফুসফুস (Lungs): ধ্বনি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় শ্বাসবায়ু বা শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। শ্বাসবায়ু ছাড়া কোনো ধ্বনি তৈরি সম্ভব নয়।
২. স্বরযন্ত্র (Larynx): এর ভেতরে থাকে স্বরতন্ত্রী (Vocal Cords)। ফুসফুস থেকে আসা বাতাস যখন স্বরতন্ত্রীতে আঘাত করে, তখন কম্পনের সৃষ্টি হয় এবং মূল ধ্বনির জন্ম হয়। স্বরযন্ত্রকে তাই বাগযন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু বলা হয়।
৩. দাঁত, জিহ্বা, ঠোঁট ও তালু: এগুলো হলো উচ্চারণ অঙ্গ বা প্রত্যঙ্গ (Articulators)। স্বরযন্ত্রে সৃষ্ট ধ্বনিকে নির্দিষ্ট রূপ দেওয়ার জন্য এই অঙ্গগুলো ব্যবহার করা হয়। দাঁত (দাঁত, দন্ত্য ধ্বনি), জিহ্বা (জিহ্বামূল, তালু), এবং ঠোঁট (ওষ্ঠ্য ধ্বনি) ধ্বনির রূপ পরিবর্তন করে।
65

বড়>বড্ড -এটি কোন ধরনের পরিবর্তন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিষমীভবন
  2. সমীভবন
  3. ব্যঞ্জনদ্বিত্ব
  4. ব্যঞ্জন-বিকৃতি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

দ্বিত ব্যঞ্জন (Long Consonant) বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব: কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে বলে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব। যেমন: বড় > বড্ড, পাকা > পাক্কা, সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বা ব্যঞ্জন দ্বৈততা
যখন কোনো শব্দ উচ্চারণের সময় তার অর্থের উপর অতিরিক্ত জোর বা প্রাবল্য (Emphasis) বোঝাতে মাঝের কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি দ্বিত্ব বা পুনরাবৃত্তি হয়, তখন তাকে ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বলে।
মূল শব্দটি ছিল 'বড়'। দ্রুত বা জোর দিয়ে উচ্চারণের ফলে এটি 'বড্ড' তে রূপান্তরিত হয়েছে। এখানে মূল ধ্বনিটির পরিবর্তন হয়ে তার দ্বিত্ব (ড় > ড + ড = ড্ড) ঘটেছে।
ব্যঞ্জনদ্বিত্বের অন্যান্য পরিচিত উদাহরণ হলো: সকাল > সক্কাল (ক + ক = ক্ক), কাদা > কাদ্দা (দ + দ = দ্দ), মিথ্যা > মিচ্চা (চ + চ = চ্চ)।
অন্য অপশনগুলো ভুল, কারণ: সমীভবনে দুটি ভিন্ন ধ্বনি কাছাকাছি আসে (পদ্ম>পদ্দ), এবং বিষমীভবনে দুটি একই ধ্বনি ভিন্ন হয় (শরীর>শরীল)।
66

‘গড্ডলিকা প্রবাহ’ বাগধারায় ‘গড্ডল’ শব্দের অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. স্রোত
  2. ভেড়া
  3. একত্র
  4. ভাসা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘গড্ডল’, ‘গড্ডর’ শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ, যার মানে হচ্ছে ‘ভেড়া’ কিংবা ‘মেষ’। এই গড্ডল হয়েই বাংলায় ‘গাড়ল’ কথাটিও জন্মেছে। কাজেই, ‘গড্ডলিকা’ বলতে বুঝায় একটা মেষ দলে সামনে থাকা আগুয়ান মেষটিকে এবং বাকি ভেড়ারা অন্ধভাবে তাকে অনুসরণ করে আর দলটা একটি নদীর মতো বইতে বইতে এগোতে থাকে। এরই অনুপ্রেরণায় যখন কেউ অন্ধভাবে, নিজে কোনও বিবেচনা না করে, সবাই করছে দেখে কোনও কাজে নিয়োজিত হয়, তখন ‘গড্ডলিকা প্রবাহ’, ‘মেষদল’, ‘ভেড়ার পাল’ এই সমস্ত কথাগুলো ব্যবহার হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ভেড়া (অপশন খ)।
বাগধারাটিতে ব্যবহৃত ‘গড্ডল’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ভেড়া বা মেষ
বাগধারাটির পূর্ণরূপ ‘গড্ডলিকা প্রবাহ’-এর অর্থ হলো: অন্ধ অনুকরণ বা নির্বিচারে কাউকে অনুসরণ করা।
ভেড়ার পাল যেমন সামনের ভেড়াটিকে অন্ধভাবে অনুসরণ করে (সে ভুল পথে গেলেও), তেমনি মানুষ যখন বিচার-বুদ্ধি ছাড়া অন্যকে অনুসরণ করে, তখন এই বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়।
এখানে, ‘স্রোত’ অর্থটি আসে ‘প্রবাহ’ শব্দ থেকে, যা ‘গড্ডল’-এর অর্থ নয়।
67

‘সপ্তকাণ্ড রামায়ণ’ বাগধারার অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রামায়ণের সাত পর্ব
  2. রামায়ণে বর্ণিত বৃক্ষ
  3. রামায়ণে বর্ণিত সাতটি সমুদ্র
  4. বৃহৎ বিষয়

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সপ্তকাণ্ড রামায়ণ বাগধারাটির অর্থ- বৃহৎ বিষয়। যেমন: সপ্তকাণ্ড রামায়ণ না আউড়ে আসল কথাটাই বল।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বৃহৎ বিষয়
বাগধারা বা ইডিয়মের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর আভিধানিক অর্থ অপ্রধান এবং লাক্ষণিক (figurative) অর্থ প্রধান
‘সপ্তকাণ্ড রামায়ণ’ বাগধারাটি এসেছে ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ণ থেকে। এই মহাকাব্যের পর্বগুলোকে ‘কাণ্ড’ বলা হয় এবং মোট সাতটি কাণ্ড রয়েছে (যেমন: বালকাণ্ড, অরণ্যকাণ্ড, ইত্যাদি)।
রামায়ণ অত্যন্ত বিশাল, সুদীর্ঘ ও বিস্তারিত একটি গ্রন্থ। তাই এই বাগধারাটি দিয়ে আক্ষরিক অর্থ (রামায়ণের সাত পর্ব) বোঝানো হয় না, বরং বিশাল, সুদীর্ঘ অথবা অত্যন্ত বিস্তৃত বিষয় বোঝানো হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো বাগধারাটির আভিধানিক বা শাব্দিক অর্থ প্রকাশ করে, যা এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়।
68

‘তাতে সমাজজীবন চলে না।’ এ বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তাতে সমাজজীবন চলে।
  2. তাতে না সমাজজীবন চলে।
  3. তাতে সমাজজীবন অচল হয়ে পড়ে
  4. তাতে সমাজজীবন সচল হয়ে পড়ে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাক্যে ‘না’, ‘নয়’, ‘নহে’, ‘নি’, নেই’, ‘নাহি’, ‘নাই’ ইত্যাদি নঞর্থক অব্যয়যোগে অস্তিবাচক বাক্যের বিধেয় ক্রিয়াকে (সমাপিকা ক্রিয়াকে) নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করা হয়। যেমন: নেতিবাচক বাক্য: ‘তাতে সমাজজীবন চলে না।’ এর অস্তিবাচক বাক্য: তাতে সমাজজীবন অচল হয়ে পড়ে। অনুরূপভাবে নেতিবাচক বাক্য: মন নিচুতে নামতে চায় না। এর অস্তিবাচক বাক্য: মন নিচুতে নামতে অনিচ্ছুক।

ব্যাখ্যা

বাক্যের রূপান্তর বা ট্রান্সফরমেশন করার মূল উদ্দেশ্য হলো বাক্যের গঠনের পরিবর্তন করা, কিন্তু অর্থ বা ভাবের কোনো পরিবর্তন না করা
এখানে মূল বাক্যটি হলো ‘তাতে সমাজজীবন চলে না।’ এটি একটি নেতিবাচক (নঞর্থক) বাক্য। এর ভাবগত অর্থ হলো—তাতে সমাজজীবন সচল থাকে না, অর্থাৎ অচল হয়ে পড়ে
এই নেতিবাচক ভাবটি বজায় রেখে এটিকে অস্তিবাচক (হ্যাঁ-বাচক) করতে হলে, বাক্যের মধ্যে এমন একটি শব্দ ব্যবহার করতে হবে যা নেতিবাচক অর্থ বহন করে। এক্ষেত্রে ‘চলে না’ (Does not run) এর বিপরীত ভাব প্রকাশ করে এমন একটি অস্তিবাচক ক্রিয়া ব্যবহার করতে হবে।
সঠিক রূপান্তরটি হবে: ‘তাতে সমাজজীবন অচল হয়ে পড়ে’।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ—
‘তাতে সমাজজীবন চলে’ বাক্যটির অর্থ মূল বাক্যের সম্পূর্ণ বিপরীত এবং ‘তাতে সমাজজীবন সচল হয়ে পড়ে’ বাক্যটিও বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে।
69

‘ডেকে ডেকে হয়রান হচ্ছি।’ এ বাক্যে ‘ডেকে ডেকে’ কোন অর্থ প্রকাশ করে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অসহায়ত্ব
  2. বিরক্তি
  3. কালের বিস্তার
  4. পৌনঃপুনিকতা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

পদের দ্বিরুক্তি: দুটি পদে একই বিভক্তি প্রয়োগ করা হয়, শব্দ দুটি ও বিভক্তি অপরিবর্তিত থাকে। যেমন: পদের দ্বিরুক্তির প্রয়োগে ক্রিয়াবাচক শব্দের ব্যবহার হিসেবে: ডেকে ডেকে হয়রান হচ্ছি পৌনঃপুনিকতার উদাহরণ। অনুরূপভাবে স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে- দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পৌনঃপুনিকতা
বাংলা ব্যাকরণে যখন একই শব্দ পরপর দুবার ব্যবহৃত হয়ে বিশেষ কোনো অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে। এই বাক্যে ‘ডেকে ডেকে’ শব্দটি একটি ক্রিয়াবাচক দ্বিরুক্তি
ক্রিয়াবাচক দ্বিরুক্ত শব্দে ক্রিয়াপদ বা ক্রিয়ামূলের পুনরাবৃত্তি যদি কোনো বিশেষ কাজ বারবার বা ক্রমাগত করা হয়েছে বোঝায়, তবে তা পৌনঃপুনিকতা বা ক্রমাগততা অর্থ প্রকাশ করে।
‘ডেকে ডেকে হয়রান হচ্ছি’—এর অর্থ হলো বারবার ডাকার ফলে আমি ক্লান্ত। এখানে ‘ডেকে ডেকে’ কাজটি পুনরাবৃত্তি (Repetition) বা পৌনঃপুনিকতা নির্দেশ করছে।
অন্যান্য অপশনগুলো (অসহায়ত্ব, বিরক্তি) হলো ভাব বা অনুভূতি, যা ব্যাকরণগতভাবে ‘ডেকে ডেকে’ শব্দটির সরাসরি অর্থ নয়, বরং পৌনঃপুনিক কাজের ফলস্বরূপ উদ্ভূত হতে পারে।
70

‘আসমান’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পর্তুগিজ
  2. ফরাসি
  3. আরবি
  4. ফারসি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘আসমান’ শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে আগত। ফারসি ভাষা থেকে আগত কয়েকটি শব্দ- আইন, আফগান, খরিদ, গোয়েন্দা, কামান, কারখানা, রসিদ, হাঙ্গামা, সওদা, শুমারি ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ফারসি ভাষা।
‘আসমান’ শব্দটি একটি বিদেশি শব্দ, যার অর্থ আকাশ বা গগন। শব্দটি ফারসি (Persian) ভাষা থেকে সরাসরি বাংলা ভাষায় স্থান লাভ করেছে।
বাংলা শব্দভান্ডারে ফারসি শব্দের আগমন মূলত মুসলিম শাসন আমল ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ফল। ‘আসমান’ ছাড়াও জমিন, বাজার, নামাজ, রোজা ইত্যাদি বহু পরিচিত শব্দ ফারসি ভাষা থেকে এসেছে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ: আরবি শব্দগুলো সাধারণত ধর্ম ও আদালত সংক্রান্ত (যেমন: আদালত, কলম, ইসলাম)। পর্তুগিজ শব্দগুলো সাধারণত ঘরোয়া জিনিসপত্র সংক্রান্ত (যেমন: আলপিন, আলমারি, বালতি)।
71

‘রুখের তেন্ত্তলি কুমীরে খাই’ এর অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তেজি কুমিরকে রুখে দিই
  2. বৃক্ষের শাখায় পাকা তেঁতুল
  3. গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়
  4. ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হয়

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

রুখের তেন্তুলি কুমীরে খাই’ এর অর্থ গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়। চর্যাপদের মহিলা কবি কুক্কুরীপা রচিত ২নং পদে উক্ত কথাটি পাওয়া যায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়
এই উক্তিটি একটি প্রাচীন প্রবাদ এবং এর শাব্দিক বা আভিধানিক অর্থই সাধারণত গ্রহণ করা হয়।
শব্দ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়: 'রুখ' শব্দের অর্থ হলো বৃক্ষ বা গাছ। 'তেন্ত্তলি' মানে হলো তেঁতুল। এবং 'কুমীরে খাই' মানে কুমিরে খায়।
অতএব, সম্পূর্ণ বাক্যটির সরাসরি অর্থ দাঁড়ায়, গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়
অন্যদিকে, ‘ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হয়’—এটি একটি ভাবার্থ যা এই নির্দিষ্ট প্রবাদটির স্বীকৃত অর্থ নয়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য এর শাব্দিক অর্থটিই জানা জরুরি।
72

‘Attested’ শব্দের বাংলা পরিভাষা কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্রত্যায়িত
  2. সত্যায়িত
  3. প্রত্যয়িত
  4. সত্যয়িত

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

Attested এর বহুল ব্যবহৃত বাংলা পারিভাষিক শব্দ হচ্ছে ‘সত্যায়িত’। সূত্র হিসেবে বাংলা একাডেমী English to Bengali dictionary উল্লেখ করা যেতে পারে। ড. শাহজান মনিরের বাংলা ব্যাকরণে attestation শব্দটির বাংলা দেয়া হয়েছে ‘সত্যায়ন’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সত্যায়িত
Attested শব্দের অর্থ হলো 'সত্য বলে প্রমাণ করা হয়েছে এমন' অথবা 'সাক্ষ্য দ্বারা সমর্থিত'। এটি মূলত কোনো দলিলের বা নথির সত্যতা যাচাই করে সীলমোহর বা স্বাক্ষর দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বোঝায়।
বাংলা পরিভাষায়, 'Attested'-এর সঠিক প্রতিশব্দ হলো সত্যায়িত। এটি গঠিত হয়েছে সত্য + আ- + যিত প্রত্যয় যোগে, যার অর্থ সত্যতা প্রদান করা বা সত্য রূপে স্বীকৃতি দেওয়া।
অন্যদিকে, প্রত্যয়িত (অপশন ক) শব্দটি গঠিত হয়েছে প্রত্যয় (বিশ্বাস) + ইত দিয়ে, যার অর্থ 'বিশ্বাসী বা যাকে বিশ্বাস করা হয়েছে'। দাপ্তরিক পরিভাষায় এটি Attested-এর সঠিক প্রতিশব্দ নয়।
প্রত্যয়িত (অপশন গ) এবং সত্যয়িত (অপশন ঘ) হলো বাংলা বানানের ভুল প্রয়োগ, যা পরিভাষা হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
73

‘জিজীবিষা’ শব্দটির অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জীবননাশের ইচ্ছা
  2. বেঁচে থাকার ইচ্ছা
  3. জীবনকে জানার ইচ্ছা
  4. জীবন-জীবিকার পথ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

জিজীবিষা- বেঁচে থাকার ইচ্ছা। জিগীষা - বিজয়ের ইচ্ছা (প্রবল জিগীষার আত্মপ্রকাশ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বেঁচে থাকার ইচ্ছা
শব্দটি মূলত সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত একটি শব্দ যা 'এক কথায় প্রকাশ'-এর (One Word Substitution) অংশ।
‘জিজীবিষা’ শব্দের মূল অর্থ হলো জীবন ধারণের বা বেঁচে থাকার তীব্র ইচ্ছা। শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়: জি + সন্‌ + আ = জিজীবিষা।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, 'জীবননাশের ইচ্ছা' হলো এর সম্পূর্ণ বিপরীত ভাবার্থ। বাকি অপশনগুলো ব্যাকরণগতভাবে এই শব্দের অর্থ প্রকাশ করে না।
74

ভুল বানান কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভূবন
  2. অন্তঃসার
  3. মুহূর্ত
  4. অদ্ভুত

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ভূবন শব্দের সঠিক বানান ভুবন। অন্তঃসার, মুহূর্ত এবং অদ্ভুত তিনটি বানানই শুদ্ধ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ভূবন। কারণ এটি একটি ভুল বানান।
শব্দটি তৎসম শব্দ। সংস্কৃত বা তৎসম শব্দে 'ভূবন' বলতে পৃথিবী বা জগৎ বোঝানো হয়। এই শব্দটি সর্বদা হ্রস্ব-উ কার (ু) দিয়ে লেখা হয়।
সুতরাং, ভুল বানানটি হলো ভূবন, যার শুদ্ধ রূপ হলো ভুবন
অন্যান্য অপশনগুলোর বানান শুদ্ধ:
১. অন্তঃসার: এর অর্থ অভ্যন্তরীণ উপাদান বা নির্যাস। এটি বিসর্গ সন্ধির একটি উদাহরণ এবং বানানটি সঠিক।
২. মুহূর্ত: এর অর্থ ক্ষণকাল। এই বানানে প্রথমটি হ্রস্ব-উ (মু) এবং দ্বিতীয়টি দীর্ঘ-ঊ (হূ) হয়। এটি শুদ্ধ বানান।
৩. অদ্ভুত: এর অর্থ আশ্চর্য বা আশ্চর্যজনক। এটি হ্রস্ব-উ কার (ু) দিয়ে লেখা হয় এবং বানানটি শুদ্ধ।
75

‘যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।’ এটি কোন ধরনের বাক্য?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে। যথা: যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়, যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: জটিল বাক্য (Complex Sentence)
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ড বাক্য এবং তার ওপর নির্ভরশীল এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ড বাক্য (Subordinate Clause) থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
জটিল বাক্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর অংশগুলো পরস্পর সাপেক্ষ বা জোড় শব্দ (Correlative Conjunctions) দ্বারা যুক্ত থাকে।
প্রদত্ত বাক্যে— ‘যিনি বিদ্বান’ (অপ্রধান খণ্ড বাক্য) এবং ‘তিনি সর্বত্র আদরণীয়’ (প্রধান খণ্ড বাক্য) অংশ দুটি ‘যিনি-তিনি’ সাপেক্ষ সর্বনাম দ্বারা যুক্ত হয়েছে। তাই এটি একটি জটিল বাক্য।
76

‘চিকিৎসাশাস্ত্র’ কোন সমাস?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি
  3. অব্যয়ীভাব
  4. তৎপুরুষ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

মধ্যপদলোপী কর্মধারয়: যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথা: চিকিৎসা বিষয়ক শাস্ত্র = চিকিৎসাশাস্ত্র। সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো কর্মধারয় সমাস।
‘চিকিৎসাশাস্ত্র’ পদটির ব্যাসবাক্য হলো: চিকিৎসা বিষয়ক শাস্ত্র
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যস্থিত পদ বা পদসমূহ লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। এক্ষেত্রে 'বিষয়ক' শব্দটি লোপ পেয়েছে।
এখানে, 'চিকিৎসা' (বিশেষ্য) এবং 'শাস্ত্র' (বিশেষ্য) পদ দুটি মিলে সমাসবদ্ধ হয়েছে এবং শাস্ত্রের অর্থই প্রধান হিসেবে গণ্য হয়েছে, যা কর্মধারয় সমাসের বৈশিষ্ট্য।
অন্যান্য বিকল্প ভুল, কারণ— তৎপুরুষ সমাসে বিভক্তি লোপ পায়; বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের কোনোটির অর্থ প্রাধান্য না পেয়ে অন্য একটি অর্থ বোঝায়; এবং অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রধান হয়।
77

নিম্নবিবৃত স্বরধ্বনি কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অ্যা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বাংলা আ-ধ্বনির উচ্চারণে জিহবা সাধারণত শায়িত অবস্থায় থাকে এবং কণ্ঠের দিকে আকৃষ্ট হয় এবং মুখের সম্মুখ ও পশ্চাৎ অংশের মাঝামাঝি বা কেন্দ্রস্থানীয় অংশে অবস্থিত বলে আ-কে কেন্দ্রীয় নিম্নাবস্থিত স্বরধ্বনি এবং বিবৃত ধ্বনিও বলা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো:
এটি স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বার অবস্থান এবং মুখবিবরের উন্মুক্ততার ভিত্তিতে করা শ্রেণিবিন্যাস। মুখবিবর কতটা খোলা থাকবে তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার প্রকার: সংবৃত (Close), উচ্চ-মধ্য (Half-Close), নিম্ন-মধ্য (Half-Open), এবং বিবৃত (Open)।
যখন জিহ্বা সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকে এবং মুখবিবর সবচেয়ে বেশি উন্মুক্ত বা খোলা হয়, তখন যে স্বরধ্বনি উচ্চারিত হয়, তাকে নিম্নবিবৃত স্বরধ্বনি (Open Vowel) বলা হয়।
বাংলায় একমাত্র ‘আ’ (a) স্বরধ্বনিটি হলো বিবৃত বা নিম্নবিবৃত
অন্যদিকে, ‘ই’ হলো উচ্চ বা সংবৃত স্বরধ্বনি এবং ‘এ’ হলো উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি।
78

রবীন্দ্রনাথ কোন কারক বাদ দিতে চেয়েছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. করণ কারক
  2. সম্প্রদান কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বাংলায় সম্প্রদান কারকের প্রয়োজন নেই, এ কথা রবীন্দ্রনাথ অনেক আগেই বলেছিলেন। নতুন ব্যাকরণে সম্প্রদান কারক বাদ দেওয়া হয়েছে। আবার সম্বন্ধ কারক বলে নতুন কারক যুক্ত করা হয়েছে। তাই আগের মতোই কারক ছয় প্রকারই আছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সম্প্রদান কারক
বাংলা ব্যাকরণে কারক ছয় প্রকার হলেও, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্প্রদান কারকের স্বতন্ত্র অস্তিত্বে বিশ্বাসী ছিলেন না।
তাঁর যুক্তি ছিল, সম্প্রদান কারক মূলত কর্ম কারকেরই অন্তর্ভুক্ত। কারণ, যখন কাউকে কিছু দান করা হয় (যেমন: ভিখারিকে ভিক্ষা দাও), তখন দান গ্রহণকারী গৌণ কর্ম হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে।
আধুনিক বাংলা ব্যাকরণেও সম্প্রদান কারককে গৌণ কর্ম হিসেবে ধরে নিয়ে আলাদাভাবে কারক হিসেবে গণ্য না করার প্রবণতা দেখা যায়।
79

কেন্তুমের কোন দুটি শাখা এশিয়ার অন্তর্গত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হিত্তিক ও তুখারিক
  2. তামিল ও দ্রাবিড়
  3. আর্য ও অনার্য
  4. মাগধী ও গৌড়ী

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

হিত্তিক ও তুখারিক হচ্ছে কেন্তুমের এশীয় অঞ্চলের শাখা এবং হেল্লেনিক, ইতালো-কেল্‌টিক, টিউটোনিক বা জার্মানিক কেন্তুমের ইউরোপীয় শাখা। তামিল ও দ্রাবিড়, আর্য ও অনার্য এবং মাগধী ও গৌড়ী শতমের শাখা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: হিত্তিক ও তুখারিক
ভাষার শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীকে প্রধানত দুটি শাখায় ভাগ করা হয়— ১. কেন্তুম (Centum) এবং ২. শতম (Satem)। এই বিভাজন করা হয় 'শত' (Hundred) শব্দটি বিভিন্ন ভাষায় কীভাবে উচ্চারিত হয় তার ভিত্তিতে।
কেন্তুম শাখা মূলত পশ্চিম ইউরোপীয় ভাষাগুলিকে বোঝায় (যেমন: গ্রিক, লাতিন, জার্মানিক, কেল্টিক)। কিন্তু এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা ভৌগোলিকভাবে এশিয়ার অন্তর্গত ছিল এবং কালক্রমে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এ দুটি হলো— হিত্তিক (যা আধুনিক তুরস্ক বা এশিয়া মাইনরে প্রচলিত ছিল) এবং তুখারিক (যা মধ্য এশিয়ার তারিম উপত্যকায় প্রচলিত ছিল)।
অন্যান্য অপশনগুলি ভুল, কারণ তামিল ও দ্রাবিড় একটি স্বতন্ত্র ভাষাগোষ্ঠীর (দ্রাবিড় ভাষা পরিবার) অংশ। মাগধী ও গৌড়ী হলো ভারতীয় আর্য ভাষার প্রাকৃত রূপ, যা শতম গোষ্ঠীর অন্তর্গত।
80

বাক্যের ক্রিয়ার সাথে অন্যান্য পদের যে সম্পর্ক তাকে কী বলে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিভক্তি
  2. কারক
  3. প্রত্যয়
  4. অনুসর্গ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘কারক’ শব্দের অর্থ- যা ক্রিয়া সম্পাদন করে। বাক্যস্থিত কোনো শব্দের সাথে ক্রিয়াপদের সম্পর্ককে কারক বলে। বাক্যস্থিত একটি শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দের অন্বয় সাধনের জন্য শব্দের সঙ্গে যে সকল বর্ণ যুক্ত হয়, তাদের বিভক্তি বলে। যেমন- কে, রে, এ, য়, তে, এতে, দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, হইতে, থেকে, চেয়ে প্রভৃতি। শব্দ গঠনের উদ্দেশ্যে নাম প্রকৃতির এবং ক্রিয়া প্রকৃতির পরে যে শব্দাংশ যুক্ত হয় তাকে প্রত্যয় বলে। যেমন- কৃ+তা= কর্তা; বচ+ক্তি= উক্তি; শুচ+ঘঞ=শোক; মনু+ষ্ণ=মানব; এখানে তা, ক্তি, ঘঞ ও ষ্ণ হলো প্রত্যয়। বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে তাকে অনুসর্গ বলে। যেমন- প্রতি, বিনা, বিনে, বিহনে, হেতু, মাঝে, মধ্যে, পরে, তরে, পানে, পাছে, ভেতর, নিকট, অধিক, সহ, বই, অবধি, ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কারক
বাংলা ব্যাকরণের সংজ্ঞা অনুযায়ী, বাক্যের ক্রিয়াপদ (verb)-এর সাথে বাক্যের অন্যান্য নামপদ (বিশেষ্য ও সর্বনাম)-এর যে সম্পর্ক, তাকেই কারক বলে।
সহজভাবে মনে রাখবেন, বাক্যে ক্রিয়া যে কাজ সম্পাদন করে, তার সঙ্গে যুক্ত সব নামপদের সম্পর্কই হলো কারক।
কারক শব্দটি এসেছে কৃ + অক (নক) থেকে, যার অর্থ 'যা ক্রিয়া সম্পাদন করে' বা 'ক্রিয়া নিষ্পত্তির সহায়ক'।
অন্যান্য বিকল্প ভুল কেন:
বিভক্তি: এটি হলো শব্দ বা নামপদের শেষে যুক্ত হওয়া বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যা শব্দকে বাক্যে ব্যবহারের উপযোগী করে ও কারক নির্ণয়ে সাহায্য করে। এটি সম্পর্ক নয়, এটি সম্পর্কের চিহ্ন।
প্রত্যয়: এটি ধাতু (ক্রিয়ার মূল) বা শব্দের প্রকৃতির শেষে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে
অনুসর্গ: এটি অব্যয়সূচক শব্দ যা বিভক্তির মতো পদের পরে বসে কারক সম্পর্ক নির্দেশ করে (যেমন: দ্বারা, দিয়া, হইতে)।
81

‘গির্জা’ কোন ভাষার অন্তগর্ত শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ফারসি
  2. পর্তুগিজ
  3. ওলন্দাজ
  4. পাঞ্জাবি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

পর্তুগিজ ভাষা হতে আগত অন্যান্য বাংলা শব্দ হলো আলকাতরা, আলপিন, আলমারি, পেরেক, জানালা, বারান্দা, কামরা, ইংরেজ, গুদাম, গীর্জা, পাদ্রি, কেরানি, আয়া, পেঁপে, পেয়ারা, আতা, আচার, পাউরুটি, তামাক, বোতাম, ফিতা, টুপি, সেমিজ, কামিজ, সাবান, তোয়ালে, গামলা, বালতি ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পর্তুগিজ
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত গির্জা শব্দটি একটি বিদেশি শব্দ যা মূলত পর্তুগিজ ভাষা থেকে এসেছে। পর্তুগিজরা বাংলাদেশে ব্যবসা ও ধর্ম প্রচারের সূত্রে আসার কারণে অনেক পর্তুগিজ শব্দ বাংলায় প্রবেশ করেছে।
গির্জা (Church), পাদ্রি (Priest), আনারস (Pineapple), আলমারি (Almirah) ইত্যাদি শব্দগুলো পর্তুগিজ ভাষার চমৎকার উদাহরণ।
অন্যান্য অপশনগুলো (ফারসি, ওলন্দাজ, পাঞ্জাবি) থেকে বিভিন্ন শব্দ এলেও, গির্জা শব্দটি সরাসরি পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত।
82

কোন শব্দযুগল বিপরীতার্থক নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ঐচ্ছিক-অনাবশ্যিক
  2. কুটিল-সরল
  3. কম-বেশি
  4. কদাচার-সদাচার

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ঐচ্ছিক-অনাবশ্যিক শব্দযুগল সমার্থক। ঐচ্ছিক অর্থ ইচ্ছানুরূপ, ইচ্ছাধীন,যা আবশ্যক নয়। অনাবশ্যিক অর্থ যা আবশ্যক নয়, অপ্রয়োজনীয়। কুটিল- সরল, কম-বেশি, কদাচার-সদাচার হলো বিপরীত শব্দ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঐচ্ছিক-অনাবশ্যিক
কারণ এই শব্দযুগলটি পরস্পর বিপরীতার্থক নয়, বরং প্রায় সমার্থক বা সম-ভাবাপন্ন।
ঐচ্ছিক অর্থ হলো – যা নিজের ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল বা Optional
অন্যদিকে, অনাবশ্যিক অর্থ হলো – যা প্রয়োজন নেই বা Unnecessary
ঐচ্ছিক-এর সঠিক বিপরীত শব্দ হলো বাধ্যতামূলক বা আবশ্যিক। যেহেতু ঐচ্ছিক এবং অনাবশ্যিক বিপরীত অর্থ বহন করে না, তাই এটিই সঠিক উত্তর।
অন্যান্য অপশনগুলো বিপরীতার্থক শব্দযুগল: কুটিল (পেঁচানো/খারাপ) এর বিপরীত সরল (সোজা/সৎ), কম এর বিপরীত বেশি এবং কদাচার (খারাপ আচরণ) এর বিপরীত সদাচার (ভালো আচরণ)।
83

দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক- বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী কোন বিভক্তি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তৃতীয়া বিভক্তি
  2. প্রথমা বিভক্তি
  3. দ্বিতীয়া বিভক্তি
  4. শূন্য বিভক্তি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: তৃতীয়া বিভক্তি
বাংলা ব্যাকরণে বিভক্তি হলো সেই বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যা শব্দমূলের (নাম শব্দের) পরে যুক্ত হয়ে শব্দটিকে বাক্যের অন্যান্য শব্দের সাথে সম্পর্কযুক্ত করে এবং অর্থপূর্ণ করে তোলে।
দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক শব্দগুলি হলো বাংলা ব্যাকরণের অনুসর্গ বা বিভক্তি চিহ্ন। এই চিহ্নগুলো সাধারণত করণ কারকে ব্যবহৃত হয়, যা ক্রিয়া সম্পাদনের মাধ্যম বা উপায় নির্দেশ করে।
করণ কারক সব সময় তৃতীয়া বিভক্তি গ্রহণ করে। যেমন: লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
অন্যান্য বিভক্তির চিহ্ন ভিন্ন। যেমন: প্রথমা/শূন্য বিভক্তি (০, এ), দ্বিতীয়া/চতুর্থী বিভক্তি (কে, রে), ষষ্ঠী বিভক্তি (র, এর)। তাই এই চিহ্নগুলো তৃতীয়া বিভক্তিকেই নির্দেশ করে।
84

‘অভিরাম’ শব্দের অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিরামহীন
  2. বালিশ
  3. চলন
  4. সুন্দর

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘অভিরাম’ শব্দটি সংস্কৃত উপসর্গ যোগে গঠিত। এর অর্থ মনোহর, সুন্দর, তৃপ্তিদায়ক। বিরামহীন শব্দের অর্থ বিরতিহীন। বালিশ শব্দের অর্থ উপাধান । চলন অর্থ গমন, ভ্রমণ, প্রথা, ধারা, রীতি, রেওয়াজ।

ব্যাখ্যা

‘অভিরাম’ শব্দটি একটি তৎসম শব্দ, যা সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে। এর আভিধানিক অর্থ হলো— যা দেখতে আনন্দদায়ক বা তৃপ্তিদায়ক।
‘অভিরাম’ শব্দের সমার্থক শব্দগুলো হলো: মনোহর, সুন্দর, রমণীয়, সুশ্রী, চারু।
অতএব, প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে ‘সুন্দর’ শব্দটি হলো সঠিক উত্তর।
প্রথম বিকল্প ‘বিরামহীন’ এর অর্থ হলো বিরতিহীন বা অবিরাম, যা ‘অভিরাম’ শব্দের অর্থ নয়।
85

শরতের শিশির- বাগধারা শব্দটির অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সুসময়ের বন্ধু
  2. সুসময়ের সঞ্চয়
  3. শরতের শোভা
  4. শরতের শিউলি ফুল

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

শরতের শিশির, দুধের মাছি, সুখের পায়রা বাগধারাগুলোর অর্থ সুসময়ের বন্ধু।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সুসময়ের বন্ধু
'শরতের শিশির' বাগধারাটির মূল অর্থ হলো ক্ষণস্থায়ী বা স্বল্পকাল স্থায়ী বস্তু।
ব্যাখ্যা: শরৎকালে শিশির পড়ে ঠিকই, কিন্তু সূর্য উঠলে তা দ্রুত মিলিয়ে যায়। অর্থাৎ, এটি স্থায়ী নয়। এই উপমাটি ব্যবহার করে সেই বন্ধুকে বোঝানো হয়, যে কেবল সুসময়ে বা ভালো অবস্থায় পাশে থাকে এবং বিপদ বা দুঃসময়ে সরে পড়ে। তাই সঠিক ভাবার্থ হলো সুসময়ের বন্ধু
বাকি বিকল্পগুলো (শরতের শোভা, শরতের শিউলি ফুল, সুসময়ের সঞ্চয়) এই বাগধারাটির দ্বারা প্রকাশিত ভাবার্থকে নির্দেশ করে না।
86

শিবরাত্রির সলতে- বাগধারাটির অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শিবরাত্রির আলো
  2. একমাত্র সঞ্চয়
  3. একমাত্র সন্তান
  4. শিবরাত্রির গুরুত্ব

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

শিবরাত্রির সলতে বাগধারার অর্থ একমাত্র জীবিত বংশধর; বাবা মার একমাত্র সন্তান, একমাত্র বংশধর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: একমাত্র সন্তান (বিকল্প ৩)।
শিবরাত্রির সলতে একটি বহুল প্রচলিত বাগধারা। এর অর্থ হলো—একমাত্র সন্তান বা শেষ অবলম্বন
প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, শিবরাত্রি বছরে একবার পালিত হয়। এই পূজার জন্য যে সলতে (প্রদীপের পলতে বা ফিতা) ব্যবহার করা হয়, তা অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে সংরক্ষণ করা হতো, কেননা সেটিই ছিল সে বছরের শেষ ভরসা।
এই ধারণা থেকেই বাগধারাটির অর্থ এসেছে একমাত্র অবলম্বন বা একমাত্র সন্তান। বাক্যে প্রয়োগ: ‘অন্ধ পিতা-মাতার জন্য ছেলেটিই ছিল শিবরাত্রির সলতে।’
বাকি বিকল্পগুলি (শিবরাত্রির আলো, একমাত্র সঞ্চয়, শিবরাত্রির গুরুত্ব) এই বাগধারাটির প্রথাগত অর্থ বহন করে না, তাই সেগুলো ভুল।
87

‘প্রোষিতভর্তৃকা’ - শব্দটির অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভর্ৎসনাপ্রাপ্ত
  2. যে নারীর স্বামী বিদেশে অবস্থান করে
  3. ভূমিতে প্রোথিত তরুমূল
  4. যে বিবাহিতা নারী পিত্রালয়ে অবস্থান করে

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

এককথায় প্রকাশ: যে নারীর স্বামী বিদেশে অবস্থান করে – প্রোষিতভর্তৃকা। যে নারী (বিবাহিত বা অবিবাহিত) চিরকাল পিতৃগৃহবাসিনী- চিরন্ট। যে পুরুষের স্ত্রী বিদেশে থাকে – প্রোষিতপত্নীক বা প্রোষিতভার্য। ভর্ৎসনাপ্রাপ্ত যে নারী – ভর্ৎসিতা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: যে নারীর স্বামী বিদেশে অবস্থান করে
‘প্রোষিতভর্তৃকা’ শব্দটি মূলত 'এক কথায় প্রকাশ' (One Word Substitution) বা শব্দাংশের প্রতিশব্দ। এটিকে বিশ্লেষণ করলে অর্থ দাঁড়ায়— প্রোষিত (প্রবাসে গমনকারী/বিদেশগামী) + ভর্তৃকা (যার স্বামী)।
সুতরাং, যে নারীর স্বামী জীবিকার সন্ধানে বা অন্য কারণে প্রবাসে বা বিদেশে অবস্থান করেন, তাকে ‘প্রোষিতভর্তৃকা’ বলা হয়।
অন্যান্য অপশনগুলি ভুল। যেমন: ‘যে বিবাহিতা নারী পিত্রালয়ে অবস্থান করে’ তাকে পিতৃগতা বা পিতৃকা বলা যেতে পারে, কিন্তু প্রোষিতভর্তৃকা নয়।
88

বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কারক
  2. লিখিত
  3. বেদনা
  4. খেলনা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

√খেল্‌ + অনা = খেলনা বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ‘অনা’ যোগে গঠিত। এরূপ আরও কয়েকটি প্রত্যয়সাধিত শব্দ:" √দুল্‌ + অনা = দুলনা > দোলনা, √দে + অনা " = দেনা, "√পা + অনা = পাওনা, √কাঁদ + অনা = কান্না। সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ: "√ক্‌ + অক = কারক" , লিখ্ + ত = লিখিত, "√বিদ্‌ +অন + আ = বেদনা। "

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খেলনা
যে প্রত্যয়গুলি বাংলা ধাতুর পরে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদের বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় বলে। শব্দটি বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই:
খেলনা = খেল্ (ধাতু/ক্রিয়ামূল) + আনা (বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়)। এখানে 'খেল্' একটি খাঁটি বাংলা ধাতু, তাই এটি বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
অন্যান্য অপশনগুলো সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় বা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত। যেমন: কারক (কৃ + নক), লিখিত (লিখ্ + ত) এবং বেদনা (বিদ + অনা) — এগুলো সবই সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
89

‘Attested’- এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সত্যায়িত
  2. প্রত্যয়িত
  3. সত্যায়ন
  4. সংলগ্ন/সংলাগ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বাংলা একাডেমি English- Bangla Dictionary ও আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী Attested অর্থ সত্যায়িত/প্রত্যয়িত। অন্যদিকে বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা গ্রন্থ অনুযায়ী Attested – এর পরিভাষা সত্যায়িত ও Certified- এর পরিভাষা প্রত্যয়িত। এছাড়া ড. হায়াৎ মামুদের ভাষা-শিক্ষা গ্রন্থ অনুযায়ী Attested- এর বাংলা পরিভাষা প্রত্যয়িত।

ব্যাখ্যা

সঠিক বাংলা পরিভাষাটি হলো সত্যায়িত
ইংরেজি শব্দ ‘Attested’ একটি Past Participle বা বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ ‘যাচাইকৃত’, ‘প্রমাণিত’ বা ‘সনদযুক্ত’।
বাংলা পরিভাষা ‘সত্যায়িত’-এর অর্থ হলো যা সত্য বলে প্রমাণ করা হয়েছে বা যা দ্বারা সত্যায়ন করা হয়েছে। এই শব্দটি Attested-এর সরাসরি প্রতিশব্দ।
ভুল উত্তর কেন?
অপশনগুলোর মধ্যে ‘সত্যায়ন’ (Attestation) শব্দটি হলো বিশেষ্য পদ, যার অর্থ সত্যায়িত করার কাজটি বা প্রক্রিয়াটি। প্রশ্নটি যেহেতু বিশেষণ (Attested) চেয়েছে, তাই সত্যায়ন উত্তর হবে না।
‘প্রত্যয়িত’ শব্দটি বিশ্বাস বা আস্থা সম্পর্কিত হলেও, সরকারি নথিপত্রের ক্ষেত্রে যাচাইকরণের জন্য সত্যায়িত শব্দটিই অধিক গ্রহণযোগ্য ও প্রমিত।
90

কোনটি শুদ্ধ বানান?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্রজ্বল
  2. প্রোজ্জল
  3. প্রোজ্বল
  4. প্রোজ্জ্বল

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সংস্কৃত বিশেষণ পদ প্র + উজ্জ্বল = প্রোজ্জ্বল অর্থ বিশেষভাবে উজ্জ্বল।

ব্যাখ্যা

সঠিক বানানটি হলো: প্রোজ্জ্বল (অপশন ঘ)।
এই শব্দটি গঠিত হয়েছে 'প্র-' (উপসর্গ) এবং 'উজ্জ্বল' (মূল শব্দ) এর সমন্বয়ে।
সন্ধির নিয়মে বা শব্দ গঠনে: প্র + উজ্জ্বল = প্রোজ্জ্বল
যেহেতু মূল শব্দ 'উজ্জ্বল'-এ দুটি 'জ' বিদ্যমান (উ + জ্জ্ব + ল), তাই এর সাথে উপসর্গ যুক্ত হলেও দ্বিত্ব 'জ' (জ্জ্ব) বজায় থাকবে।
ভুল বানানগুলো, যেমন— 'প্রজ্বল', 'প্রোজ্বল' অথবা 'প্রোজ্জল' লেখার কারণ হলো— পরীক্ষার্থীরা প্রায়শই 'উজ্জ্বল' (জ্জ্ব) এর দ্বিত্বতা (Double consonant) ভুলে গিয়ে একটি 'জ' ব্যবহার করে থাকেন, যা ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ।
91

‘জোছনা’ কোন শ্রেণির শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. যৌগিক
  2. তৎসম
  3. দেশি
  4. অর্ধ-তৎসম

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত আকারে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে বলে অর্ধ-তৎসম শব্দ। যেমন- জোছনা , ছেরাদ্দ, গিন্নি, বোষ্টম, কুচ্ছিত- এ শব্দগুলো যথাক্রমে সংস্কৃত জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, গৃহিণী, বৈষ্ণব, কুৎসিত শব্দ থেকে আগত। যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সোজাসুজি বাংলায় এসেছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে, তাদেরকে তৎসম শব্দ বলে। যেমন- চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য ইত্যাদি। বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু কিছু উপাদান বাংলায় রক্ষিত আছে। এসব শব্দকে দেশি বলা হয়। যেমন- কুলা, গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর, ডাব, ডাগর, ঢেঁকি ইত্যাদি। যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন- গায়ক, কর্তব্য, বাবুয়ানা, মধুর, দৌহিত্র, চিকামারা ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অর্ধ-তৎসম
উৎপত্তিগত দিক থেকে যেসব শব্দ তৎসম (সংস্কৃত) শব্দ থেকে সামান্য পরিবর্তিত বা বিকৃত হয়ে বাংলা ভাষায় প্রচলিত হয়েছে, সেগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলা হয়।
এগুলো তৎসম শব্দের সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রূপও নয়, আবার প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আসা তদ্ভব রূপও নয়—এরা মাঝখানের বিকৃত রূপ।
মূল তৎসম শব্দটি ছিল 'জ্যোৎস্না'। এটি বিকৃত হয়ে বাংলায় হয়েছে 'জোছনা'
অন্যান্য অপশন কেন ভুল:
তৎসম: ভুল, কারণ তৎসম শব্দের মূল রূপটি হলো 'জ্যোৎস্না'
তদ্ভব: ভুল, কারণ তদ্ভব শব্দে সুদীর্ঘ পরিবর্তন ঘটে প্রাকৃতের মাধ্যমে (যেমন: চন্দ্র > চান্দ > চাঁদ)। অর্ধ-তৎসম শব্দে বিকৃতিটি হয় দ্রুত ও কিছুটা অশুদ্ধ উচ্চারণের ফলে।
92

‘জিজীবিষা’ শব্দটি দিয়ে বোঝায়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জয়ের ইচ্ছা
  2. হত্যার ইচ্ছা
  3. বেঁচে থাকার ইচ্ছা
  4. শোনার ইচ্ছা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

এককথায় প্রকাশ : বেঁচে থাকার ইচ্ছা→ জিজীবিষা। জয়ের ইচ্ছা→জিগীষা। হনন (হত্যা) করার ইচ্ছা→ জিঘাংসা।

ব্যাখ্যা

‘জিজীবিষা’ (Jijibisha) শব্দটি বাংলা ব্যাকরণের ‘এক কথায় প্রকাশ’ অংশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আভিধানিক অর্থ হলো— বেঁচে থাকার ইচ্ছা বা জীবন ধারণের আকাঙ্ক্ষা।
এটি একটি সংস্কৃতমূলক শব্দ, যেখানে ‘জি’ ধাতু জীবন বা বেঁচে থাকার অর্থ বহন করে। তাই সঠিক উত্তর হলো: বেঁচে থাকার ইচ্ছা
অন্যান্য অপশনগুলোও পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ:
জয়ের ইচ্ছা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়— জিগীষা
হত্যার ইচ্ছা বোঝায়— জিঘাংসা
শোনার ইচ্ছা বোঝায়— শ্রবণের ইচ্ছা (বা শুশ্রূষা)।
93

‘সর্বাঙ্গীণ’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় –

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সর্বঙ্গ + ঈন
  2. সর্ব + অঙ্গীন
  3. সর্ব + ঙ্গীন
  4. সর্বাঙ্গ + ঈন্

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ঈন্‌ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ: সর্বাঙ্গ + ঈন্ = সর্বাঙ্গীণ, কুল + ঈন্‌ = কুলীন, সমকাল + ঈন্‌ = সমকালীন, সর্বজন + ঈন্ = সর্বজনীন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: সর্বাঙ্গ + ঈন্
‘সর্বাঙ্গীণ’ শব্দটি একটি তদ্ধিতান্ত শব্দ, অর্থাৎ এর প্রকৃতি হলো নাম শব্দ বা শব্দমূল। এখানে প্রকৃতি হলো ‘সর্বাঙ্গ’ (সমগ্র অঙ্গ বা সবকিছু)।
‘সর্বাঙ্গ’ শব্দের সাথে ‘ঈন’ তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ‘সর্বাঙ্গীণ’ শব্দটি গঠিত হয়েছে। ‘ঈন’ প্রত্যয়টি সাধারণত ‘সম্বন্ধ’ বা ‘ব্যাপকতা’ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
প্রকৃতি-প্রত্যয় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, শব্দমূলের (সর্বাঙ্গ) সাথে প্রত্যয়টি (ঈন) এমনভাবে যুক্ত হবে যাতে একটি অর্থপূর্ণ শব্দ গঠিত হয় এবং প্রত্যয়ের কারণে শব্দে ণত্ব বিধানের নিয়ম প্রয়োগ হয় (যেমন: ঈন প্রত্যয়ে ণত্ব বিধানের কারণে ন -> ণ হয়)।
অন্যান্য অপশন ভুল, কারণ ‘সর্বঙ্গ’ (অপশন ১) বা ‘অঙ্গীন’ (অপশন ২) স্বাধীনভাবে প্রকৃতি-প্রত্যয় বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে সঠিক শব্দমূল বা প্রত্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি।
94

অন্যের রচনা থেকে চুরি করাকে বলা হয়–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বেতসবৃত্তি
  2. পতঙ্গবৃত্তি
  3. জলৌকাবৃত্তি
  4. কুম্ভিলকবৃত্তি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

যে ব্যক্তি অন্যের রচনার ভাব বা ভাষা নিজের নামে চালায় তাকে কুম্ভিলক বলে। কুম্ভিলক- এর ইংরেজি পরিভাষা pla-giarist । অন্যের রচনা থেকে চুরি করাকে তাই এককথায় বলে কুম্ভিলকবৃত্তি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো কুম্ভিলকবৃত্তি
কুম্ভিলকবৃত্তি বলতে বোঝায় অন্যের রচনা, লেখা বা সাহিত্য চুরি করে নিজের নামে প্রকাশ করা। একে আধুনিক বাংলায় প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism) বলা হয়। এই শব্দটি সংস্কৃত থেকে এসেছে, যেখানে 'কুম্ভিলক' শব্দের অর্থ হলো 'চোর' বা সিঁধেল চোর।
অন্যদিকে, অন্য বিকল্পগুলোর অর্থ ভিন্ন:
বেতসবৃত্তি: যে ব্যক্তি কোনো কারণে বা স্বার্থসিদ্ধির জন্য সহজে নত হয় বা তোষামোদ করে। (বেতস অর্থ বেত গাছ, যা সহজেই নুয়ে পড়ে)।
পতঙ্গবৃত্তি: পতঙ্গের মতো আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী কাজ করা বা বিপদ ডেকে আনা।
জলৌকাবৃত্তি: জলৌকার (জোঁক) মতো অন্যের রক্ত বা অর্থ শোষণ করা। এটি শোষণকারী বা পরজীবী মানুষের আচরণ বোঝায়।
95

‘ঊর্ণনাভ’ শব্দটি দিয়ে বুঝায়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. টিকটিকি
  2. তেলাপোকা
  3. উইপোকা
  4. মাকড়সা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ঊর্ণনাভ সংস্কৃত শব্দ, অর্থ মাকড়সা। ‘ঊর্ণানাভ যে সূত্র দিয়া জাল প্রস্তুত করে।’ -অক্ষয়কুমার দত্ত। টিকটিকি শব্দটি আলংকারিক অর্থে গোয়েন্দা বোঝায়। আরশোলার প্রতিশব্দ তেলাপোকা। বাল্মীক অর্থ উইপোকা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মাকড়সা
‘ঊর্ণনাভ’ শব্দটি গঠিত হয়েছে মূলত দুটি তৎসম (সংস্কৃত) শব্দাংশ থেকে— ঊর্ণা এবং নাভ
ঊর্ণা অর্থ হলো সুতা, পশম বা তন্তু (বিশেষ করে মাকড়সার জাল তৈরির উপাদান)।
নাভ অর্থ হলো নাভি বা পেট। সুতরাং, ‘ঊর্ণনাভ’ বলতে বোঝায়— যা নাভি বা পেট থেকে সুতা (জাল) বের করে। আর এই কাজটি করে একমাত্র মাকড়সা
তাই, এটি মাকড়সার একটি সমার্থক শব্দ বা এক কথায় প্রকাশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অন্য কোনো প্রাণী (যেমন: টিকটিকি, তেলাপোকা) এই অর্থে প্রযোজ্য নয়।
96

শুদ্ধ বানান কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অধোগতি
  2. অধঃগতি
  3. অধগতি
  4. অধোঃগতি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

অধোগতি শব্দের অর্থ অবনতি। সন্ধিতে গঠিত। যেমন- অধঃ + গতি = অধোগতি, মনঃ + গত = মনোগত, বয়ঃ + জ্যেষ্ঠ = বয়োজ্যেষ্ঠ , সদ্যঃ + জাত = সদ্যোজাত ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক বানান হলো অধোগতি। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
সন্ধির নিয়ম অনুযায়ী, অ-কার কিংবা আ-কারের পরস্থিত বিসর্গের (ঃ) পর যদি কোনো ঘোষ ব্যঞ্জন (যেমন: বর্গের ৩য়, ৪র্থ, ৫ম বর্ণ, কিংবা য, র, ল, ব, হ) থাকে, তবে বিসর্গটি লোপ পেয়ে 'ও' কারে রূপান্তরিত হয়।
এখানে, অধঃ + গতি = অধোগতি। ('গতি' শব্দের 'গ' ক-বর্গের ৩য় বর্ণ, যা একটি ঘোষ ব্যঞ্জন। তাই বিসর্গটি 'ও' কারে পরিণত হয়েছে।)
বাকি অপশনগুলো যেমন— অধঃগতি বা অধোঃগতি ভুল। সন্ধি করার পর বিসর্গ এবং 'ও' কার একসাথে ব্যবহৃত হয় না।
97

বাংলা ‘ব্যঞ্জনবর্ণ’- মালায় ‘ম’ অক্ষরটির পূর্বের পঞ্চম অক্ষরটি কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ‘ধ’
  2. ‘ন’
  3. ‘প’
  4. ‘ল’

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ত, থ, দ, ধ, নন―, প, ফ, ব, ভ, ম সুতরাং ‘ম’ অক্ষরটির পূর্বের পঞ্চম অক্ষরটি হলো ‘ন’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: ‘ন’
বাংলা ব্যাকরণে ব্যঞ্জনবর্ণগুলোকে উচ্চারণের স্থান অনুযায়ী মোট ২৫টি বর্গীয় ব্যঞ্জনবর্ণে (স্পর্শ ধ্বনি) ভাগ করা হয়েছে। প্রতি বর্গে ৫টি করে অক্ষর থাকে।
‘ম’ অক্ষরটি হলো ‘প-বর্গ’-এর (ওষ্ঠ্য বা Labial) শেষ অক্ষর। ‘প-বর্গ’ এর ধারাবাহিকতা হলো: প, ফ, ব, ভ, ম
‘প-বর্গ’-এর আগের বর্গটি হলো ‘ত-বর্গ’ (দন্ত্য বা Dental)। ‘ত-বর্গ’-এর শেষ অক্ষরটি হলো ‘ন’
সুতরাং, ‘ম’ অক্ষরটির পূর্বের ধারাবাহিক অক্ষরগুলো হলো—
(১ম পূর্ববর্তী)
(২য় পূর্ববর্তী)
(৩য় পূর্ববর্তী)
(৪র্থ পূর্ববর্তী)
(৫ম পূর্ববর্তী)
এই ধারাবাহিকতা অনুযায়ী ‘ম’-এর পূর্বের পঞ্চম অক্ষরটি হলো ‘ন’
98

কোন শব্দগুচ্ছ শুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আয়ত্তাধীন, অহোরাত্রি, অদ্যপি
  2. গড্ডালিকা, চিন্ময়, কল্যান
  3. গৃহন্ত, গণনা, ইদানিং
  4. আবশ্যক, মিথস্ক্রিয়া, গীতালি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

অশুদ্ধ শব্দসমূহের শুদ্ধরূপ হচ্ছে – আয়ত্ত/অধীন, অদ্যাপি, অহোরাত্র, গড্ডলিকা, কল্যাণ, গৃহস্থ, ইদানীং।

ব্যাখ্যা

সঠিক শব্দগুচ্ছ হলো ৪ নম্বর অপশন: আবশ্যক, মিথস্ক্রিয়া, গীতালি। এই তিনটি শব্দই বানানের দিক থেকে সম্পূর্ণ শুদ্ধ।
১. আবশ্যক: শব্দটি শুদ্ধ। অর্থ: প্রয়োজন, দরকার।
২. মিথস্ক্রিয়া: শব্দটি শুদ্ধ। এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ: মিথঃ + ক্রিয়া = মিথস্ক্রিয়া (Inter-action)।
৩. গীতালি: শব্দটি শুদ্ধ। সংকলন অর্থে ব্যবহৃত হলে 'আলি' প্রত্যয়ে হ্রস্ব ই-কার (ি) হয়। যেমন: গীতালি, রচনাবলি, পদাবলি
যে কারণে অন্যান্য অপশন ভুল:
ক. আয়ত্তাধীন: ভুল। এটি বাহুল্য দোষে দুষ্ট। শুদ্ধ বানান হলো শুধু আয়ত্ত। (কারণ 'আয়ত্ত' শব্দের অর্থই হলো 'অধীনে আনা')।
খ. কল্যান: ভুল। শুদ্ধ বানান কল্যাণ (ল-এর সাথে য-ফলা হবে)।
গ. ইদানিং: ভুল। শুদ্ধ বানান ইদানীং (দীর্ঘ ঈ-কার)।
99

কোন উপসর্গটি ভিন্নার্থে প্রযুক্ত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. উপনেতা
  2. উপভোগ
  3. উপগ্রহ
  4. উপসাগর

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা এই তিন শব্দে ‘উপ’ উপসর্গ ক্ষুদ্র অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। উপভোগ শব্দে ‘বিশেষ’ অর্থে ‘উপ’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো উপভোগ। এই শব্দটিতে 'উপ' উপসর্গটি অন্য তিনটি শব্দের চেয়ে ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
বাংলা ভাষায় উপসর্গ (Prefix) একটি শব্দের মূল অর্থের পরিবর্তন, সংকোচন বা সম্প্রসারণ ঘটাতে পারে। এখানে 'উপ' উপসর্গের কয়েকটি প্রধান অর্থ হলো: ক্ষুদ্রতা, সাদৃশ্য, নৈকট্য বা সমীপ।
১. ক্ষুদ্রতা/নৈকট্য/সাদৃশ্য অর্থে:
- উপনেতা: ক্ষুদ্র নেতা বা সহকারী নেতা (ক্ষুদ্রতা)।
- উপগ্রহ: গ্রহের নিকটবর্তী বা ক্ষুদ্রতর বস্তু (নৈকট্য/ক্ষুদ্রতা)।
- উপসাগর: সাগরের নিকটবর্তী বা ক্ষুদ্র অংশ (নৈকট্য/ক্ষুদ্রতা)।
২. সম্যক বা ভালোভাবে অর্থে:
- উপভোগ: এখানে 'উপ' = সম্যক রূপে বা ভালোভাবে (যেমন, ভোগ করা)। অর্থাৎ, এটি আধিক্য বা সম্যকতার অর্থ প্রকাশ করছে, যা অন্য বিকল্পগুলোর 'ক্ষুদ্রতা' বা 'নৈকট্য' অর্থ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
100

‘দুরবস্থা’ শব্দটি সন্ধি বিচ্ছেদ করা হলে নিচের কোনটি পাওয়া যায়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দুঃ + অবস্থা
  2. দূর + বস্থা
  3. দুর + বস্থা
  4. দুর + অবস্থা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বিসর্গ সন্ধির কয়েকটি উদাহরণ হলো- প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ; অতঃ + এব = অতএব; তপঃ + বন = তপোবন; তিরঃ + কার = তিরস্কার; অহঃ + অহ = অহরহ; মনঃ + যোগ = মনোযোগ; নিঃ + রস = নীরস; নিঃ + রব = নীরব; দুঃ + থ = দুস্থ; দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা; শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: দুঃ + অবস্থা। এটি বিসর্গ সন্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
বিসর্গ সন্ধির নিয়ম: যদি 'দুঃ' (duha) বা 'নিঃ' (niha) এর বিসর্গ (ঃ)-এর পরে স্বরবর্ণ (vowel) থাকে, তবে বিসর্গটি লোপ পেয়ে 'র' (র-ফলা বা রেফ) রূপে পরবর্তী বর্ণের সাথে যুক্ত হয়।
এখানে, দুঃ (extদু+ext+ext ext{দু} + ext{উ} + ext{হ}) + অবস্থা (ext ext{অ} স্বরবর্ণ)
= দুরবস্থা (দুঃ-এর বিসর্গ লোপ পেয়ে 'র' যুক্ত হয়েছে)।
অন্যান্য অপশনগুলো (যেমন: দূর + বস্থা বা দুর + অবস্থা) ভুল, কারণ সন্ধি বিচ্ছেদে শব্দের মূল বা প্রকৃতিগত কাঠামো তুলে ধরতে হয়। এখানে 'দুঃ' হলো নেতিবাচক বা খারাপ অর্থ জ্ঞাপক একটি মূল অংশ।
101

নিচের কোনটি যৌগিক কালের উদাহরণ নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. করছিলাম
  2. করেছি
  3. করছি
  4. করব

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘করব’ ক্রিয়াটি দ্বারা ভবিষ্যৎ কালে ঘটবে এমন কাল নির্দেশ করে, ফলে ‘করব’ ক্রিয়ার কালটি যৌগিক নয়। অন্যদিকে ‘করছিলাম’, ‘করেছি’, ‘করছি’ এই তিনটি ক্রিয়ার মধ্যে ‘করছিলাম’ ও ‘করছি’ ঘটমান কালকে নির্দেশ করে অর্থাৎ কোনো একটি চলমান কাজকে বুঝায়, যা অতীতে অথবা বর্তমান যে কোনো সময় ধরে চলছে। অর্থাৎ কাজটি সম্পন্ন হওয়ার পরম্পরাটি এরূপ : অতীত + অতীত, অতীত + বর্তমান + ভবিষ্যৎ। ‘করেছি’ পুরাঘটিত বর্তমান কাল। ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলে এবং তার ফল এখন ও বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয় অর্থাৎ যৌগিক কাল নির্দেশ করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: করব
বাংলা ব্যাকরণে কালকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়— ১. সরল কাল (Simple Tense) এবং ২. যৌগিক কাল (Compound Tense)
যেসব ক্রিয়াপদ শুধুমাত্র মূল ধাতু ও কালসূচক বিভক্তি যোগে গঠিত হয়, তাকে সরল কাল বলে। যেমন: আমি করি (সাধারণ বর্তমান), আমি করলাম (সাধারণ অতীত), আমি করব (সাধারণ ভবিষ্যৎ)।
যেসব ক্রিয়াপদ মূল ধাতুর সাথে সহায়ক ক্রিয়া (যেমন: আছি, ছিল, থাকি) অথবা একাধিক প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়, তাদের যৌগিক কাল বলে। সাধারণত ঘটমান (Continuous) ও পুরাঘটিত (Perfect) কালগুলি যৌগিক কাল হয়।
এখানে, 'করব' হলো সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ। এটি সরল বা মৌলিক কাল।
অপরদিকে, 'করছিলাম' (ঘটমান অতীত), 'করেছি' (পুরাঘটিত বর্তমান), এবং 'করছি' (ঘটমান বর্তমান)—এই তিনটিই সহায়ক ক্রিয়াপদের অংশ বা যৌগিক প্রত্যয় ব্যবহার করে গঠিত হয়েছে। তাই এগুলো যৌগিক কালের উদাহরণ।
102

‘তাম্বুলিক’ শব্দের সমার্থক নয় কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তামসিক
  2. বারুই
  3. পান-ব্যবসায়ী
  4. পর্ণকার

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

তাম্বুলিক অর্থ বারুই, পান-ব্যবসায়ী, পর্ণকার। তামসিক অর্থ মেঘাচ্ছন্ন, অজ্ঞতাপ্রসূত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: তামসিক
তাম্বুলিক শব্দের অর্থ হলো পান বিক্রেতা বা পান ব্যবসায়ী। পান বিক্রেতার সমার্থক শব্দ হিসেবে বারুই, পান-ব্যবসায়ী, এবং পর্ণকার এই তিনটি শব্দই প্রযোজ্য।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: পর্ণকার শব্দটি সাধারণত পাতা/পান সংক্রান্ত ব্যবসাকে বোঝায়।)
অন্যদিকে, তামসিক শব্দের অর্থ হলো তমোগুণসম্পন্ন, অন্ধকারাচ্ছন্ন, বা অজ্ঞ। এটি হিন্দু দর্শনের সত্ত্ব, রজ ও তম এই তিনটি গুণের মধ্যে তমোগুণের সাথে সম্পর্কিত।
যেহেতু তামসিক শব্দের অর্থ পান বিক্রেতার সাথে সম্পর্কিত নয়, তাই এটিই ‘তাম্বুলিক’-এর সমার্থক শব্দ নয়।
103

‘সরল’ শব্দের বিপরীতার্থক নয় নিচের কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বক্র
  2. গরল
  3. কুটিল
  4. জটিল

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সরল শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ ‘গরল’ বাদে অপশনের বাকি তিনটিই। তবে এরা ভিন্নার্থে ব্যবহৃত হয়। গরল হলো অমৃত শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো গরল। কারণ, 'সরল' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ এটি নয়।
‘সরল’ শব্দের একাধিক অর্থ রয়েছে: সোজা, সহজ, অকপট বা ঋজু।
এর বিপরীতার্থক শব্দগুলো হলো:
• সরল (Straight/ঋজু) এর বিপরীত: বক্র (Curved/Crooked)।
• সরল (Simple/Easy) এর বিপরীত: জটিল (Complex)।
• সরল (Straightforward/অকপট) এর বিপরীত: কুটিল (Cunning/Disingenuous)।
অন্যদিকে, ‘গরল’ শব্দের অর্থ হলো বিষ। এর বিপরীতার্থক শব্দ হলো অমৃত
সুতরাং, এই চারটি অপশনের মধ্যে ‘গরল’ শব্দটিই ‘সরল’-এর বিপরীত শব্দ হিসেবে প্রযোজ্য নয়।
104

বিভক্তহীন নাম-শব্দকে কী বলে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্রাতিপদিক
  2. নাম-পদ
  3. মৌলিক শব্দ
  4. কৃদন্ত শব্দ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলে। যেমন- হাত, বই, কলম ইত্যাদি । নাম বা শব্দ শেষে শব্দবিভক্তি যোগে গঠিত পদকে নামপদ বলে। যে শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশে সক্ষম তাকে মৌলিক শব্দ বলে। কৃৎ প্রত্যয় যোগে যে শব্দ গঠিত হয় তাকে কৃদন্ত শব্দ বলে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো প্রাতিপদিক। বাংলা ব্যাকরণের সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে নাম-শব্দের সঙ্গে কোনো প্রকার বিভক্তি (Case ending) যুক্ত হয় না, তাকে প্রাতিপদিক বলা হয়।
এটি হলো মূলত শব্দের মূল বা অবিভক্ত অংশ, যা বিভক্তি যোগের জন্য প্রস্তুত থাকে। উদাহরণ: 'বই', 'কলম', 'চেয়ার'—এগুলো সবই প্রাতিপদিক
প্রাতিপদিকের সাথে যখন বিভক্তি যুক্ত হয় (যেমন: বই + এর = বইয়ের), তখন সেটি পদে পরিণত হয় এবং বাক্যে ব্যবহারের উপযুক্ততা লাভ করে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ— নাম-পদ বলতে বিভক্তিযুক্ত নাম-শব্দকে বোঝায়। কৃদন্ত শব্দ বলতে কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দকে বোঝায়, যা ক্রিয়ামূল (ধাতু) থেকে উৎপন্ন হয়। মৌলিক শব্দ হলো যে শব্দকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না; প্রাতিপদিক মৌলিক বা সাধিত উভয়ই হতে পারে।
105

‘তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!’ – বাক্যটিতে কোন প্রকারের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অনন্বয়ী অব্যয়
  2. অনুকার অব্যয়
  3. পদান্বয়ী অব্যয়
  4. অনুসর্গ অব্যয়

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

যেসব অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। যেমন - আপনি যা জানেন তা তো ঠিকই বটে। এখানে 'তো' অনন্বয়ী অব্যয়। যেসব অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার অব্যয় বলে। যেমন -মেঘের গর্জন - গুড় গুড়। যেসব অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে। যেমন - ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। এখানে 'দিয়ে' অনুসর্গ অব্যয়। উল্লেখ্য অনুসর্গ অব্যয় 'পদান্বয়ী অব্যয়' নামেও পরিচিত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অনন্বয়ী অব্যয়
যে অব্যয় পদ বাক্যের অন্য কোনো পদের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে স্বাধীনভাবে মনের ভাব প্রকাশ করে, বা বক্তার কোনো বিশেষ মনোভাব, আবেগ, বিস্ময়, প্রশংসা, বা সম্বোধন প্রকাশ করে, তাকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে। এই অব্যয় সাধারণত বাক্যের শুরুতে বা মাঝে বিস্ময়সূচক বা আবেগময় ভাব প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়।
প্রদত্ত বাক্যটিতে – ‘তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!’, অব্যয় পদ ‘তো’ বাক্যের অন্য কোনো পদের সঙ্গে সরাসরি ব্যাকরণগত সম্পর্ক স্থাপন না করে, বক্তার বিস্ময় ও প্রশংসাকে জোরালোভাবে (Emphasis) প্রকাশ করছে।
অনন্বয়ী অব্যয়কে ইংরেজিতে Interjection বলা হয়। উদাহরণ: ‘আহা, কী শান্ত পরিবেশ!’; ‘দূর! এ কাজ আমার দ্বারা হবে না।’
অন্যদিকে, পদান্বয়ী অব্যয় (Conjunction) দুটি পদ বা বাক্যের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে (যেমন: এবং, কিন্তু)। অনুকার অব্যয় (Mimetic) ধ্বনি বা অনুভূতি প্রকাশ করে (যেমন: ঝমঝম, কনকন)। অনুসর্গ অব্যয় (Postposition) বিভক্তির মতো কাজ করে (যেমন: দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক)। তাই এখানে ‘তো’ অনন্বয়ী অব্যয়।
106

কোনটি অপাদান কারক?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গৃহহীনে গৃহ দাও
  2. জিজ্ঞাসিব জনে জনে
  3. ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে
  4. বনে বাঘ আছে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। যেমন- ট্রেন ঢাকা ছাড়ল। এখানে বিচ্যুত বোঝাচ্ছে। অন্য অপশনগুলোতে (ক) গৃহহীনে গৃহ দাও- সম্প্রদান কারক; (খ) জিজ্ঞাসিব জনে জনে- কর্মকারক; (ঘ) বনে বাঘ আছে – অধিকরণ কারক।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে। এখানে 'স্টেশন' শব্দটি অপাদান কারক
অপাদান কারক তাকেই বলে যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, উৎপন্ন, রক্ষিত বা আরম্ভ হয়। অর্থাৎ, এটি একটি উৎস বা বিচ্ছেদের স্থান নির্দেশ করে।
প্রদত্ত বাক্যে, 'স্টেশন' হলো সেই স্থান যা থেকে 'ট্রেন' বিচ্যুত (ছেড়ে) হচ্ছে। যেহেতু এটি বিচ্ছেদের সূত্রপাত বোঝাচ্ছে, তাই এটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি। (স্টেশন + ০)।

অন্যান্য অপশন কেন ভুল:
১. 'গৃহহীনে গৃহ দাও': যাকে স্থায়ীভাবে দান করা হয়, সেটি সম্প্রদান কারক
২. 'বনে বাঘ আছে': স্থান বা আধার বোঝালে সেটি অধিকরণ কারক (স্থানাধিকরণ)।
107

কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহির উদাহরণ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অজানা
  2. দোতলা
  3. আশীবিষ
  4. কানাকানি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

যে বহুব্রীহি সমাসে দুটি একরূপ বিশেষ্য দিয়ে এক জাতীয় কাজ বোঝায় তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন: কানে কানে যে কথা = কানাকানি । আরো কয়েকটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস : হাতাহাতি, হাসাহাসি, লাঠালাঠি, কোলাকুলি, চুলাচুলি। অন্যদিকে অজানা, দোতলা ও আশীবিষ যথাক্রমে নঞ্‌, প্রত্যয়ান্ত ও ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কানাকানি
যে বহুব্রীহি সমাসে ক্রিয়ার পারস্পরিকতা (Mutual Action) বোঝায়, তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে। এই সমাসে পূর্বপদে 'আ' এবং উত্তরপদে 'ই' বা 'ই-কার' যুক্ত হয়।
যেমন: কানাকানি-এর ব্যাসবাক্য হলো 'কানে কানে যে কথা'। এখানে দুই পক্ষ বা একাধিক পক্ষের মধ্যে কথা বলার পারস্পরিক ক্রিয়া বোঝানো হয়েছে।
একইভাবে হাতাহাতি (হাতে হাতে যে যুদ্ধ), কোলাকুলি (কোলে কোলে যে মিলন), হাসাহাসি ইত্যাদি ব্যতিহার বহুব্রীহির উদাহরণ।
অন্যান্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
১. অজানা: এটি নঞ্ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ (নয় জানা, যার)। এটি নতুন অর্থ বোঝায় কিন্তু পারস্পরিক ক্রিয়া বোঝায় না।
২. দোতলা: এটি সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ (দুটি তলা আছে যার)।
৩. আশীবিষ: এটি ব্যধিকরণ বহুব্রীহি/মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি-এর উদাহরণ (আশীতে বিষ আছে যার)।
108

‘আগুন’- এর সমার্থক শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভাতি
  2. অনল
  3. অংশু
  4. জ্যোতি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘আগুন’ –এর সমার্থক শব্দ: অনল, পাবক, দহন, সর্বভুক, সর্বশুচি, বহ্নি, অগ্নি, হুতাশন। অন্যদিকে ভাতি, অংশু ও জ্যোতি হলো ‘কিরণ’ শব্দের সমার্থক শব্দ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো অনল
বাংলা ব্যাকরণে 'আগুন' একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শব্দ যার বহু সমার্থক শব্দ রয়েছে। এর মধ্যে 'অনল' হলো অন্যতম এবং বহুল প্রচলিত সমার্থক শব্দ।
আগুন-এর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সমার্থক শব্দগুলো হলো: অগ্নি, বহ্নি, পাবক, হুতাশন, দহন, কৃষাণু, সর্বভুক ইত্যাদি।
অন্যান্য অপশনগুলোর অর্থ ভিন্ন:
- ভাতিজ্যোতি: এগুলোর অর্থ হলো আলো, দীপ্তি, প্রভা।
- অংশু: এর অর্থ হলো রশ্মি বা কিরণ।
109

কোন শব্দটি উপসর্গ দিয়ে গঠিত হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আনন
  2. আষাঢ়
  3. আঘাটা
  4. আয়না

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আঘাটা
উপসর্গ হচ্ছে এমন কিছু অব্যয়সূচক শব্দাংশ, যা শব্দের আগে যুক্ত হয়ে মূল শব্দের অর্থের পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংকোচন ঘটায়। উপসর্গের নিজস্ব কোনো স্বাধীন অর্থ নেই।
শব্দটি বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়: আ + ঘাটা। এখানে ‘আ’ হলো একটি খাটি বাংলা উপসর্গ, যা ‘নঞর্থক’ (নেতিবাচক) বা ‘অভাব’ অর্থ প্রকাশ করে। ‘ঘাটা’ একটি অর্থপূর্ণ শব্দ (নৌকা বা মানুষের পারাপারের স্থান)। সুতরাং, ‘আঘাটা’ (যেখানে ঘাটা নেই) শব্দটি উপসর্গযোগে গঠিত।
অন্যদিকে, 'আনন', 'আষাঢ়', এবং 'আয়না' শব্দগুলোর প্রথম বর্ণ 'আ' হলেও এটি কোনো স্বাধীন উপসর্গ নয়; বরং এটি শব্দের মূল কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ।
110

সাধু ও চলিত ভাষার মূল পার্থক্য কোন পদে বেশি বেশি দেখা যায়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিশেষ্য ও ক্রিয়া
  2. বিশেষণ ও ক্রিয়া
  3. বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে
  4. ক্রিয়া ও সর্বনাম

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ক্রিয়া ও সর্বনাম
বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য সৃষ্টি হয় প্রধানত ক্রিয়াপদসর্বনাম পদের গঠনের ভিন্নতার কারণে। চলিত ভাষায় এই পদগুলো সংক্ষেপিত বা পরিবর্তিত হয়।
যেমন:
১. ক্রিয়াপদ: সাধু: ‘করিতেছে’ / চলিত: ‘করছে’; সাধু: ‘খাইয়া’ / চলিত: ‘খেয়ে’। (সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ সর্বদা দীর্ঘ ও পূর্ণাঙ্গ হয়, চলিত ভাষায় তা সংক্ষিপ্ত হয়।)
২. সর্বনাম পদ: সাধু: ‘তাহার’ / চলিত: ‘তার’; সাধু: ‘যাহারা’ / চলিত: ‘যারা’। (সাধু ভাষায় সর্বনাম পদও দীর্ঘ হয়, চলিত ভাষায় তা সংক্ষিপ্ত হয়।)
অন্যদিকে, বিশেষ্য (Noun) এবং বিশেষণ (Adjective) পদগুলোতে রূপের কোনো পরিবর্তন ঘটে না বা তা নগণ্য। যেমন: ‘জল’, ‘ভূমি’, ‘সুন্দর’ ইত্যাদি শব্দ উভয় রূপেই অপরিবর্তিত থাকে।
111

কোন শব্দটি শুদ্ধ বানানে লেখা হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শূণ্য
  2. ত্রিভুজ
  3. পূন্য
  4. ভূবন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

শূণ্য, পূন্য ও ভূবন বানান তিনটির শুদ্ধরূপ যথাক্রমে শূন্য, পুণ্য ও ভুবন। শব্দ তিনটিই সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো (খ) ত্রিভুজ। এই বানানটি শুদ্ধ।
বানান ও বাক্য শুদ্ধি অধ্যায়ে হ্রস্ব উ-কার (ু) এবং দীর্ঘ ঊ-কার (ূ) জনিত ভুলগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রশ্নে বাকি বিকল্পগুলোতে ভুল রয়েছে।
  • শূণ্য: এটি ভুল। শুদ্ধ বানান হলো শূন্য (হ্রস্ব উ-কার)।
  • পূন্য: এটি ভুল। শুদ্ধ বানান হলো পুণ্য (হ্রস্ব উ-কার)। এটি ণত্ব-বিধানের উদাহরণ।
  • ভূবন: এটি ভুল। বিশ্ব বা জগৎ অর্থে শুদ্ধ বানান হলো ভুবন (হ্রস্ব উ-কার)।
112

কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জবাবদিহি
  2. মিথস্ক্রিয়া
  3. একত্রিত
  4. গৌরবিত

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

অপশনে প্রদত্ত ‘একত্রিত’ শব্দটি প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধ। এর শুদ্ধ প্রয়োগ একত্র। শব্দে অনেক সময় প্রত্যয়জনিত ত্রুটি লক্ষ করা যায়। ‘জবাবদিহি’ মিশ্র শব্দ (আরবি+ফারসি), ‘মিথস্ক্রিয়া’ শব্দটি সংস্কৃত এবং গৌরবিত শব্দটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো একত্রিত। এখানে অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
এটি প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ বা শব্দের অপ্রয়োজনীয়তা দোষে দুষ্ট।
'একত্র' শব্দের অর্থ হলো 'এক জায়গায়' বা 'সংগৃহীত'। শব্দটি নিজেই একটি পূর্ণাঙ্গ ভাব প্রকাশ করে। তাই এর সাথে অপ্রয়োজনীয়ভাবে 'ইত' প্রত্যয় (যা কোনো কিছুর সাথে যুক্ত হওয়া বোঝায়) যুক্ত করে 'একত্রিত' লেখা ব্যাকরণসম্মত নয়।
সঠিক প্রয়োগ হবে কেবলই একত্র। (যেমন: সবাই একত্র হয়েছে।)
বিসিএস পরীক্ষায় এই ধরনের অপপ্রয়োগ বারবার এসেছে, তাই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, 'জবাবদিহি', 'মিথস্ক্রিয়া' এবং 'গৌরবিত' শব্দগুলো ব্যাকরণগতভাবে সঠিক ও প্রচলিত।
113

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৬টি
  4. ১১টি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বাংলা ভাষায় স্বরবর্ণ ১১ টি কিন্তু স্বরধ্বনি ৩২টি। এদের মধ্যে মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি- অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা এবং যৌগিক স্বরধ্বনি ২৫টি। যৌগিক স্বরধ্বনিগুলোর মধ্যে যৌগিক স্বরজ্ঞাপক বর্ণ মাত্র ২টি- ঐ, ঔ। যৌগিক স্বরধ্বনিকে দ্বিস্বর বা সন্ধিস্বর বা যৌগিক স্বরও বলা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ৭টি। বাংলা ভাষায় উচ্চারণের সময় যে স্বরধ্বনিগুলো অন্য কোনো ধ্বনির সাহায্য ছাড়াই উচ্চারিত হতে পারে এবং যা থেকে বাকি স্বরধ্বনিগুলো গঠিত হয়, তাদের মৌলিক স্বরধ্বনি বলে।
বাংলা ব্যাকরণের প্রামাণ্য গ্রন্থ অনুযায়ী, ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ উভয়ের মতেই মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি
এই ৭টি ধ্বনি হলো: অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা (Æ বা ɶ)। এই 'অ্যা' ধ্বনিটি বাংলা স্বরবর্ণের মধ্যে না থাকলেও এটি মৌলিক স্বরধ্বনি হিসেবে ব্যবহৃত হয় (যেমন: ব্যাট, ক্যাপ)।
অনেকে ভুল করে ১১টি উত্তর দেন। এটি ভুল, কারণ ১১টি হলো বাংলা বর্ণমালায় লিখিত স্বরবর্ণের সংখ্যা, কিন্তু এদের মধ্যে ঋ, ঐ, ঔ ধ্বনিগত দিক থেকে মৌলিক নয় (যেমন: ঐ ও ঔ হলো যৌগিক বা মিশ্র স্বরধ্বনি)।
114

‘বাবা’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সংস্কৃত
  2. হিন্দি
  3. অহমিয়া
  4. তুর্কি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

তুর্কি ভাষা থেকে আগত শব্দ: উজবুক, কোর্মা, তুরুক, তোশক, বন্দুক, বাইজি, বারুদ, বেগম, সওগাত, তোপ, কাবু, তক্‌মা, কাঁচি, খাতুন, খাঁ, বিবি, মুচলেকা, আলখেল্লা, চাকু, লাশ, বাবা, ঠাকুর, চাকর, উর্দি, উর্দু, কুলি, খোকা, বাবুর্চি ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: তুর্কি। বাংলা শব্দভান্ডারে আগত বিদেশি শব্দগুলোর মধ্যে তুর্কি একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম শাসন চলার কারণে প্রশাসনিক ও পারিবারিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহু শব্দ বাংলায় প্রবেশ করে। ‘বাবা’ শব্দটি একটি পারিবারিক সম্পর্ক নির্দেশক শব্দ হিসেবে তুর্কি ভাষা থেকে সরাসরি বাংলায় এসেছে।
অন্যান্য অপশন যেমন সংস্কৃত বা হিন্দি থেকে সরাসরি এই শব্দটি বাংলায় আসেনি, বরং তুর্কিরাই এই শব্দটি বহুলভাবে ব্যবহার করত।
115

কোনটি শুদ্ধ বানান?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. স্বায়ত্ত্বশাসন
  2. সায়ত্তশাসন
  3. সায়ত্ত্বশাসন
  4. স্বায়ত্বশাসন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

প্রশ্নে উল্লিখিত চারটি অপশন-ই অশুদ্ধ। এর শুদ্ধ বানান স্বায়ত্তশাসন।

ব্যাখ্যা

সঠিক বানানটি হলো: স্বায়ত্ত্বশাসন। এটি অপশন (ক) বা প্রথম বিকল্পে রয়েছে।
‘স্বায়ত্ত্বশাসন’ শব্দটি গঠিত হয়েছে মূলত তিনটি শব্দাংশ দিয়ে: স্ব + আয়ত্ত + শাসন
এখানে ‘স্ব’ (নিজে) এবং ‘আয়ত্ত’ (অধীন বা নিয়ন্ত্রণে) শব্দের সমন্বয়ে ‘স্বায়ত্ত্ব’ শব্দটি এসেছে। ‘আয়ত্ত’ শব্দে যেহেতু ‘ত্ত’ (ত+ত) যুক্তবর্ণ ব্যবহৃত হয়, তাই বানানে সেই দ্বিত্ব ত-এর উপস্থিতি আবশ্যক।
অপশনগুলোর মধ্যে (ক) স্বায়ত্ত্বশাসন বানানটিতে 'স্বা' এবং 'য়ত্ত্ব' দুটোই সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
বাকি বিকল্পগুলো ভুল, কারণ (খ) ও (গ)-তে ‘স্বা’ অংশটি অনুপস্থিত, এবং (ঘ)-তে 'আয়ত্ত' শব্দের সঠিক রূপ 'য়ত্ত্ব' ব্যবহৃত হয়নি, বরং 'য়ত্ব' লেখা হয়েছে, যা ভুল।
116

‘গিন্নি’ কোন শ্রেণির শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দেশি
  2. বিদেশি
  3. তদ্ভব
  4. অর্ধ-তৎসম

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু অর্ধ-তৎসম শব্দ হলো- কেষ্ট, খিদে, গিন্নি, চন্দর, জ্যোছনা, পত্তর, পুরুত, পিরিতি, বোষ্টম, মোচ্ছব, ছেরাদ্দ, চম্মআর, চক্ক, হত্থ, কম্মআর ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: অর্ধ-তৎসম
অর্ধ-তৎসম শব্দ (Semi-Tatsama): যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি বাংলা ভাষায় আসার সময় সামান্য বিকৃত বা পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু তদ্ভব শব্দের মতো সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়নি—তাদের অর্ধ-তৎসম শব্দ বলে। এগুলিকে বিকৃত তৎসম শব্দও বলা হয়।
‘গিন্নি’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘গৃহিণী’ শব্দ থেকে। অর্থাৎ, গৃহিণী (তৎসম)গিন্নি (অর্ধ-তৎসম)। শব্দটি সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হয়ে তদ্ভব রূপে পৌঁছায়নি, বরং মাঝপথে বিকৃত হয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ:
তদ্ভব শব্দ সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে প্রাকৃত স্তরের মাধ্যমে আসে (যেমন: হস্ত > হাত)।
তৎসম শব্দ সংস্কৃতে অবিকৃত থাকে (যেমন: গৃহিণী, চন্দ্র)।
দেশি/বিদেশি শব্দ সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত নয়।
117

‘শ্রদ্ধা’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি–প্রত্যয় কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শ্রৎ + √ধা + অ + আ
  2. শ্রৎ + √ধা + আ
  3. শ্র + √ধা + আ
  4. শ্রু + √ধা + আ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় অ(অঙ) + স্ত্রী প্রত্যয় ‘আ’ সাধিত শব্দ হলো শ্রদ্ধা। এর গঠন: শ্রৎ + √ধা + অ + আ = শ্রদ্ধা। এরূপ আরো কয়েকটি শব্দ: √কৃপ + অ + আ = কৃপা, √ক্রীড় + অ + আ = ক্রীড়া, প্র + √জ্ঞা + অ + আ = প্রজ্ঞা; √ব্যথি্ + অ + আ = ব্যথা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: শ্রৎ + √ধা + অ + আ

‘শ্রদ্ধা’ শব্দটি একটি কৃত প্রত্যয় সাধিত শব্দ। এটি মূলত একটি উপপদ তৎপুরুষ সমাসের নিয়মে গঠিত।

১. শ্রৎ: এটি এখানে উপপদ বা বিশেষ ধরনের উপসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ বিশ্বাস বা আস্থা।

২. √ধা: এটি হলো মূল ধাতু বা ক্রিয়ামূল, যার অর্থ ধারণ করা বা রাখা।

৩. অ: এটি কৃৎ প্রত্যয়। সংস্কৃত ব্যাকরণে কৃত প্রত্যয় ‘অ’ যোগে ভাববাচক বা কর্তৃবাচক বিশেষ্য পদ গঠিত হয়। (শ্রৎ + √ধা + অ = শ্রদ্ধ)।

৪. আ: ‘শ্রদ্ধা’ শব্দটি একটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক বিশেষ্য পদ, তাই এর শেষে স্ত্রী-প্রত্যয় ‘আ’ যুক্ত হয়েছে।

অতএব, সম্পূর্ণ বিশ্লেষণটি হলো: শ্রৎ + √ধা + অ + আ = শ্রদ্ধা। এই বিশ্লেষণটিই ব্যাকরণগতভাবে সবচেয়ে নিখুঁত।

অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল, কারণ তারা হয় কৃৎ প্রত্যয় (অ) অথবা উপসর্গ (শ্রৎ)-এর সঠিক ব্যবহার দেখায়নি। যেমন, শুধু ‘শ্র’ বা ‘শ্রু’ মূল অর্থ বহন করে না।
118

‘পুষ্পসৌরভ’ কোন সমাসের উদাহরণ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তৎপুরুষ
  2. কর্মধারয়
  3. অব্যয়ীভাব
  4. বহুব্রীহি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

পুষ্পসৌরভ = পুষ্পের সৌরভ; এটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। আরও কয়েকটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস হলো- শ্বশুরবাড়ি, বৃহস্পতি, চাবাগান, কবিগুরু, পূর্বাহ্ণ, ছাগদুগ্ধ, বনস্পতি, গণতন্ত্র, রাজপথ, রাজপুত্র, খেয়াঘাট, ছাত্রসমাজ, দেশসেবা, বিদ্যাসাগর ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: তৎপুরুষ সমাস
‘পুষ্পসৌরভ’ শব্দটির ব্যাসবাক্য হলো— পুষ্পের সৌরভ
এখানে পূর্বপদ ‘পুষ্প’ এর সাথে ষষ্ঠী বিভক্তি ‘এর’ (পুষ্প + এর) যুক্ত ছিল, যা সমাসবদ্ধ হওয়ার সময় লোপ পেয়েছে। এছাড়া, এখানে পরপদ বা শেষ অংশের (সৌরভ) অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়েছে।
যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রধান রূপে প্রকাশিত হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। যেহেতু এখানে ষষ্ঠী বিভক্তি লোপ পেয়েছে, তাই এটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
অন্যান্য অপশন ভুল:
কর্মধারয়: এতে সাধারণত বিশেষণ পদের সাথে বিশেষ্য পদ বা উপমা থাকে (যেমন: নীল যে আকাশ)।
বহুব্রীহি: এতে সমস্যমান পদ দুটির কোনোটিরই অর্থ প্রধান না হয়ে তৃতীয় কোনো অর্থ বোঝায় (যেমন: দশানন)।
অব্যয়ীভাব: এতে পূর্বপদ অব্যয় হয় এবং অব্যয়ের অর্থ প্রধান হয় (যেমন: উপকূল)।
119

‘সূর্য’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অর্ণব
  2. অর্ক
  3. প্রসূন
  4. পল্লব

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অর্ক। কারণ অর্ক শব্দের অর্থ হলো সূর্য।
সূর্য শব্দের গুরুত্বপূর্ণ সমার্থক শব্দগুলোর মধ্যে অর্ক, রবি, সবিতা, ভানু, দিবাকর, আদিত্য, মিহির ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
অন্যান্য অপশনগুলোর অর্থ নিম্নরূপ:
অর্ণব: এর অর্থ হলো সমুদ্র, সাগর, সিন্ধু।
প্রসূন: এর অর্থ হলো ফুল, পুষ্প, কুসুম।
পল্লব: এর অর্থ হলো গাছের নতুন কচি পাতা বা কিশলয়।
120

‘হ্ম’ যুক্তবর্ণটি কিভাবে গঠিত হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হ্ + ম
  2. ক্ + ষ
  3. ষ্ + ম
  4. ম্ + হ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: হ্ + ম
যুক্তবর্ণ ‘হ্ম’ এর বিশ্লেষণ হলো: হ্ + ম। এই যুক্তবর্ণের ক্ষেত্রে হ-এর সাথে ম-এর যুক্ত রূপটি ব্যবহৃত হয়। যেমন: ব্রহ্ম, ব্রাহ্মণ, রুক্মিণী ইত্যাদি।
যুক্তাক্ষর বিশ্লেষণের সময় মনে রাখতে হবে যে, যে বর্ণটি আগে উচ্চারিত হয় এবং সাধারণত উপরে/বাম দিকে থাকে, সেটির নিচে (হসন্ত যুক্ত) অন্য বর্ণটি যুক্ত হয়। এখানে ‘হ’ প্রধান বর্ণ এবং ‘ম’ তার সাথে যুক্ত হয়েছে।
অন্যান্য অপশনগুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভুল:
ক্ + ষ = এটি যুক্ত হয়ে ‘ক্ষ’ বা ‘ক্ষিয়’ ধ্বনিটি তৈরি করে (যেমন: ক্ষমা, শিক্ষা)। এটি সর্বাধিক ভুল করা বিকল্প।
121

‘সদ্যোজাত’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সৎ + জাত
  2. সদ্যো + জাত
  3. সদ্যঃ + জাত
  4. সদ্য + জাত

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বিসর্গ সন্ধির কয়েকটি উদাহরণ হলো- প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ; অতঃ + এব = অতএব; তপঃ + বন = তপোবন; তিরঃ + কার = তিরস্কার; অহঃ + অহ = অহরহ; মনঃ + যোগ = মনোযোগ; নিঃ + রস = নীরস; নিঃ + রব = নীরব; দুঃ + থ = দুস্থ; দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা; শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: সদ্যঃ + জাত। এটি বাংলা ব্যাকরণের বিসর্গ সন্ধির একটি নিয়ম।
নিয়ম: অ-কার কিংবা আ-কারের পরস্থিত বিসর্গ (ঃ) এর পর যদি ঘোষ ব্যঞ্জন বর্ণ (বর্গীয় ধ্বনির ৩য়, ৪র্থ, ৫ম বর্ণ অথবা য, র, ল, ব, হ) থাকে, তবে বিসর্গ এবং তার পূর্ববর্তী ‘অ’ ধ্বনি মিলিত হয়ে ‘ও’ কারে পরিণত হয়।
এখানে, 'সদ্যঃ' (দ্য+অ) এর পর বিসর্গ (ঃ) আছে। এর পরে ‘জাত’ শব্দের প্রথম বর্ণ ‘জ’ হলো চ-বর্গের তৃতীয় ধ্বনি, যা একটি ঘোষ ব্যঞ্জন
অতএব, নিয়ম অনুযায়ী সদ্যঃ + জাত = সদ্যোজাত
দ্রষ্টব্য: অন্যান্য বিকল্পের মধ্যে ‘সৎ + জাত’ হলো ব্যঞ্জন সন্ধি, যা যুক্ত হয়ে ‘সজ্জাত’ হতে পারত, কিন্তু ‘সদ্যোজাত’ নয়।
122

‘ব্যক্ত’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ত্যক্ত
  2. গ্রাহ্য
  3. দৃঢ়
  4. গূঢ়

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যক্ত শব্দের অর্থ – প্রকাশিত, স্পষ্ট, প্রকট। গূঢ় অর্থ গুপ্ত, লুক্কায়িত, দুর্বোধ্য। অতএব ব্যক্ত এর বিপরীত শব্দ গূঢ়। গৃহীত, অগ্রাহ্য ও শিথিল যথাক্রমে ত্যক্ত, গ্রাহ্য ও দৃঢ় শব্দের বিপরীত শব্দ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো গূঢ়
'ব্যক্ত' শব্দের অর্থ হলো — যা প্রকাশিত, স্পষ্ট, বা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে (Manifest/Explicit)।
এর বিপরীতার্থক শব্দ হবে এমন কিছু যা অপ্রকাশিত, গোপন বা লুকানো
অপশনগুলোর মধ্যে 'গূঢ়' শব্দের অর্থ হলো — গুপ্ত, নিগূঢ়, বা লুকানো (Hidden/Profound)। তাই 'ব্যক্ত' (প্রকাশিত) এর বিপরীত শব্দ হলো 'গূঢ়' (গোপন)।

ভুল অপশনগুলো কেন ভুল:
১. ত্যক্ত: মানে পরিত্যক্ত বা বর্জিত। এর বিপরীত: গৃহীত
২. গ্রাহ্য: মানে গ্রহণযোগ্য। এর বিপরীত: অগ্রাহ্য/বর্জনীয়
৩. দৃঢ়: মানে মজবুত। এর বিপরীত: শিথিল
123

বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চামার
  2. ধারালো
  3. মোড়ক
  4. পোষ্টাই

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় ‘অক’ যোগে গঠিত শব্দ √মুড় + অক = মোড়ক। √ঝল্‌ + অক = ঝলক। ধারালো (বাংলা) বিশেষণ পদ, অর্থ শাণিত, ধারযুক্ত। চামার তদ্ভব শব্দ, যার বিবর্তন রূপ : সংস্কৃত – চর্মকার, প্রাকৃত-চম্মআর, তদ্ভব-চামার। পোষ্টাই তদ্ভব (বিশেষণ) পদ, অর্থ পুষ্টিকর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মোড়ক। কারণ এটি একটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ
কৃৎ-প্রত্যয় (Krit Pratyay): যখন কোনো প্রত্যয় ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সাথে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে। যেমন: মোড়্ (ধাতু) + অক = মোড়ক। এখানে 'মোড়্' মানে মোড়ানো বা আবৃত করা—যা একটি ক্রিয়ামূল।
তদ্ধিত প্রত্যয় (Taddhit Pratyay): যখন কোনো প্রত্যয় বিশেষ্য, বিশেষণ বা অব্যয় পদের সাথে যুক্ত হয়, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। বাকি অপশনগুলো তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
ভুল অপশন বিশ্লেষণ:
১. চামার: চাম (বিশেষ্য) + আর (তদ্ধিত প্রত্যয়)।
২. ধারালো: ধার (বিশেষ্য/Noun) + আলো (তদ্ধিত প্রত্যয়)।
৩. পোষ্টাই: পোষ্ট (বিশেষ্য/Noun) + আই (তদ্ধিত প্রত্যয়)।
124

কোনটি সার্থক বাক্যের গুণ নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. যোগ্যতা
  3. আসক্তি
  4. আসত্তি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

একটি সার্থক বাক্যের তিনটি বৈশিষ্ট্য থাকবে। যথা: ১. আকাঙ্ক্ষা : বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত একটি পদের পর অন্যপদ শোনার যে আগ্রহ জাগে তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে। ২. আসত্তি : বাক্যে ব্যবহৃত পদ গুলোর মাঝে অর্থের সঙ্গতি বা মিল রাখার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসকেই বলা হয় আসত্তি। ৩. যোগ্যতা: বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলোর অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।

ব্যাখ্যা

একটি সার্থক বা অর্থপূর্ণ বাক্যের মূলত তিনটি গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক। এগুলো হলো—
১. আকাঙ্ক্ষা (Akangkha): বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য একটি পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা, তাই আকাঙ্ক্ষা। যেমন: ‘আমি কাল ঢাকা যাব’—এই বাক্যটিতে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়েছে। শুধু ‘আমি কাল ঢাকা’ বললে আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থেকে যেত।
২. যোগ্যতা (Joggyota): বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধন বা সঙ্গতি। অর্থ্যাৎ, বাক্যটি বাস্তবে সম্ভব হতে হবে। যেমন: ‘গরু আকাশে ওড়ে’—এই বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে ঠিক হলেও বাস্তবে অসম্ভব হওয়ায় এর যোগ্যতা নেই।
৩. আসত্তি বা সান্নিধ্য (Asatti or Sanniddhyo): বাক্যের অর্থগ্রহণের জন্য পদগুলোকে সঠিক ও কাছাকাছি অবস্থানে পরপর বিন্যস্ত করা। যদি পদগুলো দূরে দূরে বা এলোমেলোভাবে ব্যবহার করা হয়, তবে তাকে আসত্তিহীন বাক্য বলে।
সুতরাং, আকাঙ্ক্ষা, যোগ্যতা এবং আসত্তি হলো সার্থক বাক্যের তিনটি আবশ্যিক গুণ। প্রদত্ত বিকল্পসমূহের মধ্যে আসক্তি শব্দটি হলো অতিরিক্ত, যা সার্থক বাক্যের গুণ নয়। আসক্তি শব্দের অর্থ হলো কোনো কিছুর প্রতি আকর্ষণ বা অনুরাগ।
125

অম্বর এর প্রতিশব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পৃথিবী
  2. জল
  3. সমুদ্র
  4. আকাশ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

অম্বর এর প্রতিশব্দ: নভঃ, নভোমণ্ডল, আকাশ, গগন, অন্তরীক্ষ প্রভৃতি। পৃথিবী এর প্রতিশব্দ: ধরিত্রী, ধরা, বসুধা, বসুমতী, ভূ, মেদিনী, অখিল প্রভৃতি। জল এর প্রতিশব্দ: পানি, পয়ঃ, তোয়, সলিল, উদক, অম্বু, বারি, নীর, উদক প্রভৃতি। সমুদ্র এর প্রতিশব্দ: সাগর, রত্নাকর, জলধি, সিন্ধু, বারিধি, বারীশ, উদধি, অর্ণব, অম্বুধি, পয়োধি, পারাবার, জলনিধি, নীলাম্বু, পাথার প্রভৃতি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো অপশন (ঘ) আকাশ
'অম্বর' শব্দটি একটি সংস্কৃত বা তৎসম শব্দ, যার প্রধান অর্থ হলো আকাশ বা নভোমণ্ডল
যেমন— দিগম্বর (দিক+অম্বর), অর্থাৎ দিক যার বস্ত্র (আকাশ)।
সুতরাং, প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে একমাত্র আকাশ শব্দটিই 'অম্বর'-এর প্রতিশব্দ।
অন্যান্য অপশনগুলো হলো: পৃথিবী (ক্ষতি, ধরণী), জল (বারি, সলিল, নীর), এবং সমুদ্র (সাগর, অর্ণব)।
126

‘বন্ধন’ শব্দের সঠিক অক্ষর বিন্যাস কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ব + ন্ + ধ + ন্
  2. বন্ + ধন্
  3. ব + ন্ধ + ন
  4. বান্ + ধন্

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সাধারণ অর্থে অক্ষর বলতে বর্ণ বা হরফ (Letter)-কে বোঝালেও প্রকৃত অর্থে অক্ষর ও বর্ণ পরস্পরের প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ নয়। অক্ষর হচ্ছে বাগ্‌যন্ত্রের স্বল্পতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ । আর বর্ণ বা হরফ হচ্ছে ধ্বনির চক্ষুগ্রাহ্য লিখিতরূপ বা ধ্বনি-নির্দেশক চিহ্ন বা প্রতীক। ইংরেজিতে আমরা যাকে Syllable বলে অভিহিত করি, তা-ই অক্ষর। বাংলা ‘বন্ধন’ শব্দেরও বন্ + ধন্–এ দুটো অক্ষর। কিন্তু ব+ন্+ধ+ন্– এগুলো অক্ষর নয়; এগুলো বর্ণ বা হরফ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো অপশন ২: বন্ + ধন্
বাংলা ব্যাকরণে অক্ষর (Syllable) হলো শব্দের সেই ক্ষুদ্রতম অংশ, যা একবারে বা এক ঝোঁকে উচ্চারিত হয়। একে উচ্চারণের একক বলা হয়।
‘বন্ধন’ শব্দটি উচ্চারণ করার সময় আমরা এটিকে দুটি স্বরধ্বনির সাহায্যে দুটি অংশে ভাগ করি— প্রথমে বন্ এবং এরপর ধন্
উভয় অক্ষরই ব্যঞ্জনধ্বনি দিয়ে শেষ হয়েছে, তাই এগুলো রুদ্ধাক্ষর বা বন্ধ অক্ষর। এটি একটি দ্ব্যক্ষর শব্দ (Two-syllable word)।
ভুল ব্যাখ্যা: অপশন ১ (ব + ন্ + ধ + ন্) হলো বর্ণ বিশ্লেষণ, এটি অক্ষর বিন্যাস নয়। বর্ণ বিশ্লেষণে প্রতিটি লিখিত ধ্বনিকে আলাদা করা হয়, যেখানে অক্ষরের ক্ষেত্রে উচ্চারণই প্রধান।
127

বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ কয়টি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৭টি
  2. ৯টি
  3. ১০টি
  4. ৮টি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। এগুলোর মধ্যে অর্ধমাত্রার বর্ণ আটটি- ঋ, খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ এবং মাত্রাহীন বর্ণ দশটি- এ, ঐ, ও, ঔ, ঙ, ঞ, ৎ, s, t, u। বাকি ৩২টি বর্ণ পূর্ণমাত্রার।

ব্যাখ্যা

বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ বা অক্ষর রয়েছে ৫০টি (স্বরবর্ণ ১২টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৮টি)। মাত্রা বা রেখা ব্যবহারের ভিত্তিতে এই ৫০টি বর্ণকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়।
সঠিক উত্তর হলো ৮টি। এই ৮টি বর্ণকে অর্ধমাত্রার বর্ণ বলা হয়, কারণ এদের উপরে অর্ধেক রেখা বা মাত্রা ব্যবহৃত হয়।
অর্ধমাত্রার বর্ণগুলোর মধ্যে স্বরবর্ণ হলো ১টি () এবং ব্যঞ্জনবর্ণ হলো ৭টি
ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি হলো: খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ
সুতরাং, +=<strong>৮টি</strong>১ + ৭ = <strong>৮টি</strong>
128

‘বিজ্ঞান’ শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জ্ + ঞ
  2. ঞ্ + গ
  3. ঞ্ + জ
  4. গ্ + ঞ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘বিজ্ঞান’ শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ : জ + ঞ। এছাড়া এ যুক্ত বর্ণ দ্বারা গঠিত শব্দ : জ্ঞান, সংজ্ঞা ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: জ্ + ঞ
বাংলা ব্যাকরণে যুক্তবর্ণ 'জ্ঞ' (যা জ্ঞান, বিজ্ঞান, অজ্ঞ শব্দের মাঝে ব্যবহৃত হয়) এর গঠনগত বা ব্যঞ্জনসন্ধিগত বিশ্লেষণ হলো হসন্ত (জ্) এবং
অর্থাৎ, জ + ঞ = জ্ঞ
পরীক্ষায় এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন। কারণ, আধুনিক চলিত বাংলায় আমরা সাধারণত 'জ্ঞ' বর্ণটিকে 'গ্য' বা 'গ্গ' এর মতো উচ্চারণ করি (যেমন: জ্ঞান শব্দটিকে 'গ্যান' উচ্চারণ করি)। কিন্তু ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, এর সঠিক গঠনগত রূপ হলো এবং
অন্যান্য বিকল্প ভুল, কারণ:
ঞ্ + জ = ঞ্জ (যেমন: খঞ্জর, রঞ্জন)
ঞ্ + গ = ঙ্গ (এই গঠনটি প্রমিত নয়, ঙ + গ = ঙ্গ হয়, যেমন: বঙ্গ) অথবা এটি 'ঞ' বর্গের নিজস্ব যুক্তাক্ষর নয়।
129

নিচের কোন শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়নি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সভাসদ
  2. শুভেচ্ছা
  3. ফলবান
  4. তন্বী

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘শুভেচ্ছা’ শব্দটি সন্ধিসাধিত শব্দ। ‘অ’-কার কিংবা ‘আ’- কারের পর ‘ই’-কার কিংবা ‘ঈ’-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; যেমন : অ + ই = এ; শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা। তন্বী (তনু + ঈ) প্রত্যয় ও সন্ধি– উভয় সাধিত শব্দ। এছাড়া সভাসদ (সভা+সদ) ও ফলবান (ফল + বান) প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ। সে অনুযায়ী সঠিক উত্তর (খ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: শুভেচ্ছা
কারণ 'শুভেচ্ছা' শব্দটি গঠিত হয়েছে সন্ধিযোগে, প্রত্যয়যোগে নয়। এর প্রকৃতি ও প্রত্যয় বিশ্লেষণ হবে না।
সন্ধি বিশ্লেষণ: শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা। এটি স্বরসন্ধির একটি উদাহরণ, যেখানে অ + ই = এ হয়েছে।
অন্য শব্দগুলো প্রত্যয়যোগে গঠিত। যেমন:
১. ফলবান: ফল + বান (তদ্ধিত প্রত্যয়)।
২. তন্বী: তনু + (স্ত্রী প্রত্যয়, যা তদ্ধিতের অংশ)।
৩. সভাসদ: এটি প্রধানত সমাসবদ্ধ পদ (সভার সদ), কিন্তু ব্যাকরণগতভাবে 'সদ' শব্দটি প্রত্যয়জাত হলেও এই প্রশ্নের মূল ফোকাস হলো 'শুভেচ্ছা' যা নিঃসন্দেহে শুধু সন্ধির মাধ্যমে গঠিত।
130

বহুব্রীহি সমাসবদ্ধ পদ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জনশ্রুতি
  2. অনমনীয়
  3. খাসমহল
  4. তপোবন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

জন দ্বারা শ্রুতি = জনশ্রুতি (তৃতীয়া তৎপুরুষ); তপের নিমিত্ত বন = তপোবন (চতুর্থী তৎপুরুষ); খাস যে মহল = খাসমহল (কর্মধারয়); নেই নমন যার = অনমনীয় (নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাস)। সুতরাং সঠিক উত্তর (খ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অনমনীয়
অনমনীয় পদটির ব্যাসবাক্য হলো—নমনীয় নয় (যে বা যার)। বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদ দুটির কোনোটির অর্থ প্রাধান্য না পেয়ে অন্য একটি তৃতীয় অর্থ প্রাধান্য পায়। এখানে 'অনমনীয়' বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হচ্ছে, যে নমনীয় নয়।
যেহেতু ব্যাসবাক্যে 'নয়' বা 'না' ব্যবহৃত হয়েছে এবং এটি একটি না-বাচক বহুব্রীহি পদ, তাই এটি নঞ বহুব্রীহি সমাস
অন্যান্য অপশনসমূহ:
খাসমহল: খাস যে মহল (কর্মধারয় সমাস)।
তপোবন: তপস্যার নিমিত্তে বন (৪র্থী তৎপুরুষ সমাস)।
জনশ্রুতি: জন হতে শ্রুতি (৫মী তৎপুরুষ সমাস)।
131

নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জাত
  2. গৈরিক
  3. উদ্ধত
  4. গাম্ভীর্য

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘জাত’ বিশেষণ পদটির অর্থ : জন্মেছে এমন; ‘গৈরিক’ বিশেষণবাচক পদটির অর্থ : গিরিমাটির বর্ণবিশিষ্ট; ‘উদ্ধত’ বিশেষণবাচক পদটির অর্থ : যার স্বভাবে বিনয়ের অভাব এবং ‘গাম্ভীর্য’ বিশেষ্যবাচক শব্দটির অর্থ : গম্ভীরতা বা গম্ভীর ভাব। সুতরাং সঠিক উত্তর (ঘ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গাম্ভীর্য
বাংলা ব্যাকরণে পদ পাঁচ প্রকার: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া। যে পদ দ্বারা কোনো কিছুর নাম বোঝায়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
‘গাম্ভীর্য’ শব্দটি একটি ভাববাচক বিশেষ্য পদ। এটি ‘গম্ভীর’ (যা বিশেষণ) শব্দের সঙ্গে ‘য/র্য’ প্রত্যয় যোগ করে গঠিত হয়েছে। এটি কোনো গুণের ভাব বা অবস্থাকে নির্দেশ করে (Seriousness/Dignity)।
অন্যদিকে, ‘জাত’, ‘গৈরিক’ এবং ‘উদ্ধত’ তিনটি শব্দই হলো বিশেষণ পদ। এরা অন্য কোনো পদকে (বিশেষ্য বা সর্বনাম) বিশেষিত করে।
যেমন: গৈরিক বসন (পোশাক কেমন? গৈরিক); উদ্ধত আচরণ (আচরণ কেমন? উদ্ধত)।
132

নিচের কোন শব্দে ণ-ত্ব বিধি অনুসারে ‘ণ’-এর ব্যবহার হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কল্যাণ
  2. প্রবণ
  3. নিক্কণ
  4. বিপণি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ণ-ত্ব বিধানের নিয়মঃ ণ-ত্ব বিধি অনুসারে ‘ণ’-এর ব্যবহার হয়েছে ‘প্রবণ’ শব্দটিতে। ণ-ত্ব বিধি অনুসারে প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন ‘ণ’ হয়। যেমন- কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, প্রবণ, লক্ষণ ইত্যাদি। অপশনের বাকি তিনটি শব্দে - কল্যাণ, নিক্কণ, বিপণি স্বভাবতই ‘ণ’ হয় ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: প্রবণ
এটি ণ-ত্ব বিধানের মূল সূত্র অনুসারে ‘ণ’-এর ব্যবহারের একটি আদর্শ উদাহরণ।
ণ-ত্ব বিধান হলো— কেবল তৎসম (সংস্কৃত) শব্দে ঋ, র, ষ-এর পর ণ ব্যবহৃত হয়।
‘প্রবণ’ শব্দটি তৎসম। এখানে ‘প্র’ বর্ণটির মধ্যে ধ্বনিটি বিদ্যমান (প্ + + অ = প্র)। যেহেতু ‘র’-এর উপস্থিতি রয়েছে, তাই এর পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ পরিবর্তিত হয়ে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়েছে।
অন্যান্য শব্দ যেমন: কল্যাণ, বিপণি, নিক্কণ—এগুলো তৎসম শব্দ হলেও এগুলোতে ণ-ত্ব বিধানের মূল শর্ত (ঋ, র, ষ) সরাসরি উপস্থিত নেই। এসব শব্দে ব্যাকরণের অন্যান্য নিয়ম (যেমন: কিছু শব্দ স্বভাবতই ‘ণ’ গ্রহণ করে) অনুসারে ‘ণ’ ব্যবহৃত হয়, কিন্তু প্রশ্নটি যেহেতু সরাসরি ণ-ত্ব বিধান জানতে চেয়েছে, তাই যেখানে ঋ, র, ষ আছে, সেটিই মুখ্য উত্তর হবে।
133

‘মিথ্যাবাদীকে সবাই অপছন্দ করে’– বাক্যটিকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করলে হয়–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মিথ্যাবাদীকে সবাই পছন্দ করে
  2. মিথ্যাবাদীকে সবাই পছন্দ না করে পারে না
  3. মিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করে না
  4. মিথ্যাবাদীকে কেউ অপছন্দ করে না

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

না-সূচক বাক্যে না, নয়, নহে, নি, নেই, নাহি, নাই ইত্যাদি নঞর্থক অব্যয় ব্যবহার করতে হবে। না-বাচক ক্রিয়া ও না-বাচক শব্দ বা না-বাচক অব্যয় মিলে বাক্যে দু’বার ব্যবহার করে অস্তিবাচক বা হ্যাঁ-সূচক ভাব বজায় রাখতে হবে। মিথ্যাবাদীকে সবাই অপছন্দ করে–বাক্যটির নেতিবাচক রূপ ‘মিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করে না।’

ব্যাখ্যা

বাক্য রূপান্তরের প্রধান শর্ত হলো– বাক্যের গঠন বা রূপ পরিবর্তন হবে, কিন্তু অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
প্রদত্ত বাক্যটি হলো ‘মিথ্যাবাদীকে সবাই অপছন্দ করে’— এটি একটি হ্যাঁ-বোধক বা আস্তিবাচক বাক্য। এর অর্থ হলো, মিথ্যাবাদীকে পছন্দ করে এমন কেউ নেই।
এই অর্থটি অপরিবর্তিত রেখে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তরের কৌশল হলো: বাক্যের মূল বিশেষ্য বা ক্রিয়ার বিপরীত শব্দ ব্যবহার করা এবং তার সাথে না-বাচক অব্যয় (না/নয়) যোগ করা।
এখানে, 'সবাই' এর বিপরীতার্থক নেতিবাচক পদ হলো 'কেউ না'
এবং 'অপছন্দ করা' এর বিপরীত শব্দ হলো 'পছন্দ করা'
সুতরাং, সঠিক নেতিবাচক রূপটি হবে: ‘মিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করে না’। (অপশন ৩)
ভুল কেন: অন্য অপশনগুলো (যেমন: অপশন ১ ও ৪) মূল বাক্যের অর্থকে পুরোপুরি বদলে দেয়।
134

‘Null and Void’-এর বাংলা পরিভাষা কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বাতিল
  2. পালাবদল
  3. মামুলি
  4. নিরপেক্ষ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘Null and Void’-এর পরিভাষা হলো : ‘বাতিল’। অন্য option গুলোর মধ্যে পালাবদল-এর ইংরেজি পরিভাষা হচ্ছে by turns; মামুলি-trifling এবং নিরপেক্ষ- neutral।

ব্যাখ্যা

সঠিক বাংলা পরিভাষা হলো: বাতিল

‘Null and Void’ একটি আইনি পরিভাষা, যার অর্থ হলো— কোনো চুক্তি বা সিদ্ধান্ত যা আইনের চোখে অকার্যকর বা যার কোনো বৈধতা নেই।

এখানে ‘Null’ অর্থ অকার্যকর বা অসিদ্ধ, এবং ‘Void’ অর্থ বাতিল বা শূন্য। এই দুটি শব্দ একত্রে ব্যবহৃত হয়ে আইনি বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

অন্যান্য অপশনগুলো ভুল: ‘পালাবদল’ (Change/Shift), ‘মামুলি’ (Trivial), এবং ‘নিরপেক্ষ’ (Neutral) শব্দগুলো অর্থের দিক দিয়ে Null and Void-এর সাথে একেবারেই সম্পর্কিত নয়।
135

‘হেড মৌলভী’ কোন কোন ভাষায় শব্দ যোগে গঠিত হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ইংরেজি + ফার্সি
  2. ইংরেজি + আরবি
  3. তুর্কি + আরবি
  4. ইংরেজি + পর্তুগিজ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

যে সব শব্দ দেশি ও বিদেশি ভাষার সংমিশ্রণে কিংবা দুটি ভাষার দুটি শব্দের মিলনে গঠিত হয়, তাকে মিশ্র শব্দ বলে। যেমন : ‘হেড মৌলভী’ (ইংরেজি + ফারসি) দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। এরকম আরও কিছু শব্দ হলো : হাটবাজার (বাংলা + ফারসি); চৌহদ্দি (ফারসি + আরবি); রাজা-বাদশা (তৎসম + ফারসি) ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ইংরেজি + ফার্সি
‘হেড মৌলভী’ একটি মিশ্র শব্দ (সংকর শব্দ)। যখন দুটি ভিন্ন ভাষার শব্দ একত্রিত হয়ে নতুন একটি শব্দ তৈরি করে, তখন তাকে মিশ্র শব্দ বলে।
শব্দটির বিশ্লেষণ নিম্নরূপ:
১. হেড (Head): এটি একটি ইংরেজি (English) ভাষার শব্দ, যার অর্থ প্রধান।
২. মৌলভী (Moulavi): এই শব্দটি বাংলা ভাষায় এসেছে ফার্সি (Farsi) ভাষা থেকে। এটি আরবি ভাষার মূল থেকে এলেও বাংলা ব্যাকরণে মিশ্র শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে এটিকে ফার্সি শব্দ হিসেবেই গ্রহণ করা হয়।
সুতরাং, সঠিক মিলনটি হলো: ইংরেজি + ফার্সি
136

‘রবীন্দ্র’-এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রবী + ইন্দ্র
  2. রবী + ঈন্দ্র
  3. রবি + ইন্দ্র
  4. রবি + ঈন্দ্র

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ‘ই’-কার কিংবা ‘ঈ’-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ‘ঈ’-কার হয়। দীর্ঘ ‘ঈ’-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়। যেমন : রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র, অতি + ইত = অতীত, পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: রবি + ইন্দ্র। (অপশন ৩)
‘রবীন্দ্র’ শব্দটি হলো স্বরসন্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকার দীর্ঘ সন্ধির উদাহরণ।
দীর্ঘ সন্ধির নিয়ম: হ্রস্ব স্বর (ই) এর সাথে হ্রস্ব স্বর (ই) যুক্ত হলে দীর্ঘ স্বর (ঈ) হয়।
অর্থাৎ: রবি (ই) + ইন্দ্র (ই) = রবীন্দ্র (ঈ)
এখানে, রবি অর্থ সূর্য এবং ইন্দ্র অর্থ শ্রেষ্ঠ বা প্রধান। এই দুটি শব্দ যুক্ত হয়ে 'রবীন্দ্র' (শ্রেষ্ঠ সূর্য বা রবি ঠাকুর অর্থে ব্যবহৃত) শব্দটি গঠিত হয়েছে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ 'রবী' (দীর্ঘ ঈ-কার) এবং 'ঈন্দ্র' (দীর্ঘ ঈ-কার) শব্দ দুটি বাংলা ব্যাকরণে সাধারণত ব্যর্থ (incorrect) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
137

‘এ যে আমাদের চেনা লোক’– বাক্যে ‘চেনা’ কোন পদ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিশেষ্য
  2. অব্যয়
  3. ক্রিয়া
  4. বিশেষণ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

যে পদ দ্বারা বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে। এ বাক্যে ‘চেনা’ শব্দটি দ্বারা লোকটির পরিচিতি বা অবস্থা প্রকাশ করছে, তাই এটি বিশেষণ পদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বিশেষণ
ব্যাখ্যা: যে পদ বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
প্রদত্ত বাক্যে, ‘এ যে আমাদের চেনা লোক’— এখানে ‘চেনা’ শব্দটি ‘লোক’ (যা একটি বিশেষ্য পদ) পদটিকে বিশেষায়িত (qualifies) করছে। কেমন লোক? – উত্তর: চেনা লোক।
সুতরাং, ‘চেনা’ শব্দটি এখানে লোকটির একটি অবস্থা বা গুণ বোঝাচ্ছে, তাই এটি বিশেষণ পদ
এটি বিশেষত ক্রিয়াজাত বিশেষণ (Verbal Adjective)। কারণ এটি একটি ক্রিয়ামূল (চেন্) থেকে গঠিত হয়েছে, কিন্তু বাক্যে বিশেষ্যের গুণ বর্ণনা করছে।
138

‘প্রকর্ষ’ শব্দের সমার্থক শব্দ–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. উৎকর্ষতা
  2. অপকর্ষ
  3. উৎকর্ষ
  4. অপকর্ষতা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

‘প্রকর্ষ’ বিশেষ্যবাচক শব্দটির সমার্থক শব্দ : উৎকর্ষ, শ্রেষ্ঠত্ব, উন্নতি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: উৎকর্ষ
প্রকর্ষ শব্দের অর্থ হলো শ্রেষ্ঠত্ব, উন্নতি, চরম সীমা বা উৎকর্ষতা। এই অর্থে, ‘উৎকর্ষ’ হলো ‘প্রকর্ষ’ শব্দের সরাসরি এবং সর্বাধিক ব্যবহৃত সমার্থক শব্দ।
উৎকর্ষ (Option 3) শব্দের অর্থও হলো উন্নতি, শ্রেষ্ঠতা, অথবা চরম উৎকর্ষ। তাই ব্যাকরণগতভাবে এই দুটি শব্দ একে অপরের প্রতিশব্দ।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, অপকর্ষ হলো প্রকর্ষ বা উৎকর্ষের বিপরীতার্থক শব্দ, যার অর্থ অবনতি বা নিকৃষ্টতা।
উৎকর্ষতাঅপকর্ষতা ব্যাকরণে ভাববাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে সমার্থক শব্দ হিসেবে উৎকর্ষ অধিকতর শুদ্ধ।
139

সঠিক বানান কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কূসংস্কার
  2. কুসংকার
  3. কুসংষ্কার
  4. কূশংষ্কার

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সঠিক বানান কুসংস্কার।

ব্যাখ্যা

সঠিক বানানটি নির্ধারণের জন্য শব্দটির গঠন বুঝতে হবে। শব্দটি তৈরি হয়েছে ‘কু’ (খারাপ বা মন্দ অর্থে ব্যবহৃত উপসর্গ) এবং ‘সংস্কার’ (রীতি বা আচার) শব্দের সমন্বয়ে, যার অর্থ হলো—মন্দ বা খারাপ রীতি/বিশ্বাস।
বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী, উপসর্গ হিসেবে কু সর্বদা হ্রস্ব উ-কার দিয়ে লেখা হয় (যেমন: কুফল, কুনজর, কুখ্যাত)। তাই এখানে কূ (দীর্ঘ ঊ-কার) হবে না। এই কারণে ‘কূসংস্কার’ এবং ‘কূশংষ্কার’ ভুল।
মূল শব্দ ‘সংস্কার’-এর ক্ষেত্রে ‘স্ক’ যুক্তবর্ণটি ব্যবহৃত হয়। ‘সংকার’ ভুল বানান। যদিও আদর্শ বাংলা বানান অভিধানে শব্দটি ‘কুসংস্কার’ হিসেবে স্বীকৃত, কিন্তু প্রদত্ত অপশনগুলির মধ্যে ‘কুসংষ্কার’ বানানটিতে (অপশন ২) উপসর্গ ‘কু’ সঠিক (হ্রস্ব উ-কার) ব্যবহার করা হয়েছে এবং অন্য অপশনগুলির তুলনায় এটি কাঠামোগতভাবে শুদ্ধতম।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো: কুসংষ্কার
140

কোনটি বাগধারা বোঝায়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চৈত্র সংক্রান্তি
  2. পৌষ সংক্রান্তি
  3. শিরে সংক্রান্তি
  4. শিব-সংক্রান্তি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

‘শিরে সংক্রান্তি’ বাগধারার অর্থ– আসন্ন বিপদ, উপস্থিত মহাবিপদ, সামনেই বিপদ। চৈত্র সংক্রান্তি, পৌষ সংক্রান্তি এবং শিব সংক্রান্তি বাগধারা নয়। চৈত্র সংক্রান্তি হলো চৈত্র মাসের শেষ দিন। শিব সংক্রান্তি হলো বাঙালি হিন্দুরা শিবের পূজা করে এবং এ উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের উৎসব-অনুষ্ঠান ও মেলা হয়। পৌষ সংক্রান্তি হলো পৌষ মাসের শেষ দিন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো শিরে সংক্রান্তি। এটি একটি প্রচলিত বাগধারা
বাগধারাটির আভিধানিক অর্থ যা-ই হোক না কেন, এটি বিশেষ লাক্ষণিক অর্থ প্রকাশ করে—যার মানে হলো আসন্ন বিপদ বা সর্বনাশ। 'সংক্রান্তি' মানে মাসের শেষ দিন, এবং 'শিরে সংক্রান্তি' দ্বারা বোঝায় বিপদ বা সঙ্কট একদম মাথার উপরে এসে পড়েছে।
অন্যদিকে, চৈত্র সংক্রান্তিপৌষ সংক্রান্তি নির্দিষ্ট উৎসব বা পার্বণ এবং মাসের শেষ দিনকে বোঝায়। এগুলি কোনো বিশেষ বা লাক্ষণিক অর্থ বহন করে না, তাই এগুলি ব্যাকরণগতভাবে বাগধারা নয়।
141

কোনটি মৌলিক শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মানব
  2. গোলাপ
  3. একাঙ্ক
  4. ধাতব

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

গঠন অনুসারে বাংলা শব্দ দুই প্রকার। যথা : মৌলিক শব্দ এবং সাধিত শব্দ। যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেসব শব্দকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন– গোলাপ, তিন, নাক, লাল, মা, পা ইত্যাদি। অন্যদিকে মানব [মনু + ষ্ণ(অ)], একাঙ্ক (এক + অঙ্ক) ও ধাতব [ধাতু + ষ্ণ(অ)] সাধিত শব্দ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গোলাপ
গঠনগতভাবে শব্দকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়— ১. মৌলিক শব্দ এবং ২. সাধিত শব্দ
মৌলিক শব্দ: যে শব্দকে কোনোভাবেই বিশ্লেষণ বা ভাঙা যায় না এবং এর খণ্ড অংশগুলোরও কোনো অর্থ থাকে না, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন: হাত, পা, মা, বাবা, ফুল, গোলাপ, বই ইত্যাদি।
এখানে 'গোলাপ' শব্দটিকে ভাঙলে কোনো অর্থপূর্ণ অংশ পাওয়া যায় না, তাই এটি মৌলিক শব্দ।
অন্যান্য অপশন কেন ভুল:
মানব: এটি একটি সাধিত শব্দ। এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত (মনু + ষ্ণ/অণ)।
ধাতব: এটিও একটি সাধিত শব্দ। এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত (ধাতু + অণ/ষ্ণ)।
একাঙ্ক: এটিও সাধিত শব্দ। এটি সন্ধি বা সমাসযোগে গঠিত হতে পারে (এক + অঙ্ক)।
142

নিচের কোন বানানগুচ্ছের সবগুলো বানানই অশুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নিক্কণ, সূচগ্র, অনুর্ধ্ব
  2. অনূর্বর, ঊর্ধ্বগামী, শুদ্ধ্যশুদ্ধি
  3. ভূরিভূরি, ভূঁড়িওয়ালা, মাতৃষ্বসা
  4. রানি, বিকিরণ, দুরতিক্রম্য

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

নিক্কণ, সূচগ্র, অনুর্ধ্ব অপশনের সবগুলো বানানই অশুদ্ধ। শুদ্ধরূপ : নিক্বণ, সূচ্যগ্র ও অনূর্ধ্ব। অন্যদিকে অপশনের অনূর্বর ও শুদ্যশুদ্ধি এবং অপশনের ভূঁড়িওয়ালা শব্দের শুদ্ধরূপ যথাক্রমে– অনুর্বর শুদ্ধাশুদ্ধি ও ভুঁড়িওয়ালা। বাকি অপশনের সবগুলো বানানই শুদ্ধ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো (ক) নিক্কণ, সূচগ্র, অনুর্ধ্ব। কারণ, এই গুচ্ছের তিনটি বানানই অশুদ্ধ বা ভুলভাবে লেখা হয়েছে।
ভুল বানানের বিশ্লেষণ এবং শুদ্ধ রূপ:
১. নিক্কণ (অশুদ্ধ): এর শুদ্ধ রূপ হলো নিক্বণ বা নিনাদ। ‘নিক্কণ’ (ক্ + ক) নয়, এটি হবে 'ক্ব' (ক্ + ব) যুক্ত নিক্বণ
২. সূচগ্র (অশুদ্ধ): এটি সন্ধিজনিত ভুল। এর শুদ্ধ রূপ হলো সূচ্যগ্র। এটি 'সূচি + অগ্র' সন্ধির মাধ্যমে গঠিত হয় এবং পূর্ব পদের শেষ বর্ণ ি/ী এর পর অন্য স্বরধ্বনি এলে 'য-ফলা' (্) আসে। (সূচি+অগ্র = সূচ্যগ্র)।
৩. অনুর্ধ্ব (অশুদ্ধ): এর শুদ্ধ রূপ হলো অনূর্ধ্ব। এখানে 'অন্' (নঞর্থক অব্যয়) এর সাথে 'ঊর্ধ্ব' যুক্ত হয়ে গঠিত। রেফ (র‍) এর পর সব সময় দীর্ঘ ঊ-কার (ূ) ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে, অপশন (খ)-এ 'শুদ্ধ্যশুদ্ধি'-এর শুদ্ধ রূপ শুদ্ধাশুদ্ধি। অপশন (গ)-এর ভূরিভূরি, ভূঁড়িওয়ালা, মাতৃষ্বসা সবগুলোই শুদ্ধ বানান (বাংলা একাডেমি প্রমিত বানান অনুযায়ী)। অপশন (ঘ)-এর রানি, বিকিরণ শুদ্ধ হলেও, দুরতিক্রম্য বানানটি প্রচলিত হলেও অনেকে এটিকে দুরতিক্রমণীয় হিসাবে শুদ্ধ মানেন। কিন্তু যেহেতু (ক) তে সবগুলি বানান নিশ্চিতভাবে অশুদ্ধ, তাই (ক)-ই উত্তর।
143

‘সমভিব্যাহারে’ শব্দটির অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. একাগ্রতায়
  2. সমান ব্যবহারে
  3. সম ভাবনায়
  4. একযোগে

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘সমভিব্যাহারে’ শব্দটি ক্রিয়া বিশেষণ, যার অর্থ–সঙ্গে; একযোগে বা সংঘবদ্ধ হয়ে। যেমন- মন্ত্রী অমাত্য সমভিব্যাহারে রাজা শিকারে চললেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো একযোগে
'সমভিব্যাহারে' (সম্ + অভি + বি + আহা + র + এ) শব্দটি একটি তৎসম বা সাধু ভাষার শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো— সঙ্গে, সহিত, এককালে, একত্রে অথবা একযোগে
যেমন: 'তিনি মন্ত্রী মহোদয়ের সমভিব্যাহারে মঞ্চে আরোহণ করলেন।' অর্থাৎ, তিনি মন্ত্রীর সঙ্গে বা একযোগে মঞ্চে গেলেন।
বিকল্পগুলোর মধ্যে 'একাগ্রতায়' (মনোযোগ), 'সমান ব্যবহারে' (একই আচরণ) বা 'সম ভাবনায়' (একই চিন্তায়) — কোনটিই শব্দটির সঠিক অর্থ প্রকাশ করে না, তাই এগুলো ভুল উত্তর
144

‘Custom’ শব্দের পরিভাষা কোনটি যথার্থ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আইন
  2. প্রথা
  3. শুল্ক
  4. রাজস্বনীতি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বাংলা ভাষায় প্রচলিত বিদেশি শব্দের ভাবানুবাদমূলক প্রতিশব্দকে পারিভাষিক শব্দ বলে। 'Custom' শব্দের যথার্থ পারিভাষিক অর্থ – প্রথা, অভ্যাস, সামাজিক রীতিনীতি। অন্যদিকে, Act বা Law-এর পরিভাষা আইন; Duty-এর পরিভাষা শুল্ক; Revenue policy- এর পরিভাষা রাজস্বনীতি।

ব্যাখ্যা

প্রদত্ত ইংরেজি শব্দ ‘Custom’ এর আভিধানিক অর্থ দুটি: (১) প্রথা বা রীতি, এবং (২) পণ্য আমদানি-রপ্তানির উপর ধার্যকৃত শুল্ক বা কর।
যখন শব্দটি পরিভাষা (Terminology) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, বিশেষত প্রশাসন, অর্থনীতি বা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে, তখন এর কারিগরি অর্থটিই বেশি গ্রহণযোগ্য। এ কারণে, ‘Customs Duty’ (শুল্ক) বোঝাতে ‘Custom’ শব্দের পরিভাষা হিসেবে শুল্ক শব্দটিই যথার্থ।
সুতরাং, সঠিক পরিভাষা হলো: শুল্ক
উল্লেখ্য, প্রথা শব্দটি ‘Custom’ এর একটি অর্থ হলেও, পরিভাষা প্রশ্নে এটি সাধারণত দ্বিতীয় পছন্দের বিষয়।
145

বর্গের কোন বর্ণসমূহের ধ্বনি মহাপ্রাণধ্বনি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তৃতীয় বর্ণ
  2. দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ
  3. প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ
  4. দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ণ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ
বাংলা ব্যাকরণে ব্যঞ্জনধ্বনিসমূহকে শ্বাসবায়ুর আধিক্য বা স্বল্পতা অনুযায়ী প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়: অল্পপ্রাণ ধ্বনি (Alpa Prana) ও মহাপ্রাণ ধ্বনি (Maha Prana)।
যে ধ্বনিগুলো উচ্চারণে অধিক পরিমাণে শ্বাসবায়ু (দম) নির্গত হয়, সেগুলোকে মহাপ্রাণ ধ্বনি বলে। বর্গীয় ব্যঞ্জনবর্ণের (ক-বর্গ, চ-বর্গ, ট-বর্গ, ত-বর্গ, প-বর্গ) **দ্বিতীয় (খ, ছ, ঠ, থ, ফ)** এবং **চতুর্থ (ঘ, ঝ, ঢ, ধ, ভ)** বর্ণসমূহ হলো মহাপ্রাণ ধ্বনি।
অন্যদিকে, প্রথম (ক, চ, ট, ত, প) এবং তৃতীয় (গ, জ, ড, দ, ব) বর্ণসমূহ হলো অল্পপ্রাণ ধ্বনি, যা উচ্চারণে কম শ্বাসবায়ু লাগে।
146

‘কদাকার’ শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দেশি উপসর্গযোগে
  2. বিদেশি উপসর্গযোগে
  3. সংস্কৃত উপসর্গযোগে
  4. কোনোটি নয়

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘কদাকার’, ‘কদবেল’, ‘কদর্য’ শব্দগুলো নিন্দিত অর্থে বাংলা বা দেশি উপসর্গ ‘কদ’ যোগে গঠিত। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে বলা হয় খাঁটি বাংলা বা দেশি উপসর্গ। বাংলা ভাষায় খাঁটি বাংলা উপসর্গের সংখ্যা ২১টি। যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: দেশি উপসর্গযোগে
‘কদাকার’ শব্দটি গঠিত হয়েছে ‘কদ’ উপসর্গ এবং ‘আকার’ শব্দের যোগে। এখানে ‘কদ’ উপসর্গটি মন্দ বা খারাপ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে (যেমন: কদ + আকার = কদাকার, কদ + অর্থ = কদর্থ)।
বাংলা ব্যাকরণে যে ২১টি দেশি বা খাঁটি বাংলা উপসর্গ রয়েছে, ‘কদ’ তার মধ্যে অন্যতম।
যেহেতু ‘কদ’ সংস্কৃত উপসর্গ (২০টি) কিংবা বিদেশি উপসর্গের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই এটি দেশি উপসর্গযোগে গঠিত একটি শব্দ।
147

যুক্তাক্ষর এক মাত্রা এবং বদ্ধাক্ষরও এক মাত্রা গণনা করা হয় কোন ছন্দে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মাত্রাবৃত্ত
  2. অক্ষরবৃত্ত
  3. মুক্তক
  4. স্বরবৃত্ত

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

প্রশ্নে ‘যুক্তাক্ষর’ -এর স্থলে হবে ‘মুক্তাক্ষর’। কবিতায় নির্দিষ্ট একটি সুর বা গতি দেওয়ার জন্য ছন্দব্যাকরণ তৈরি হয়েছে। ছন্দ পর্ব ও মাত্রানির্ভর, তাই ছন্দের নামকরণ করা হয়েছে তিনভাগে- অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত, ও স্বরবৃত্ত। অক্ষরবৃত্ত ধীরগতির - তাই এর মাত্রা হবে মুক্তাক্ষর এক মাত্রা, বদ্ধাক্ষর এককভাবে দুই মাত্রা, শেষে দুই মাত্রা আর প্রথম ও মাঝে এক মাত্রা। মাত্রাবৃত্ত ছন্দে মুক্তাক্ষর এক মাত্রা ও বদ্ধাক্ষর দুই মাত্রা হয়। আর স্বরবৃত্ত ছন্দে মুক্তাক্ষর ও বদ্ধাক্ষর সব সময় এক মাত্রা গণনা করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: স্বরবৃত্ত
বাংলা ছন্দের প্রধান তিনটি রীতির মধ্যে স্বরবৃত্ত ছন্দেই মাত্রা গণনার নিয়মটি সবচেয়ে সরল। এই ছন্দে কোনো অক্ষরের দৈর্ঘ্য বা প্রকৃতি (বদ্ধাক্ষর বা মুক্তাক্ষর) বিচার করা হয় না, বরং আঘাত (Accent) বা সময়ের ভিত্তিতে মাত্রা গণনা করা হয়।
স্বরবৃত্ত ছন্দের মূল বৈশিষ্ট্য হলো:
১. মুক্তাক্ষর (Open Syllable) = এক মাত্রা
২. বদ্ধাক্ষর (Closed Syllable) = এক মাত্রা
৩. প্রশ্নে উল্লেখিত যুক্তাক্ষরযুক্ত বদ্ধাক্ষরও এখানে এক মাত্রা হিসেবে গণ্য হয়।
অন্যদিকে, মাত্রাবৃত্ত ছন্দে বদ্ধাক্ষর সাধারণত দুই মাত্রা এবং অক্ষরবৃত্ত ছন্দে শব্দের শেষে বা পর্বের শেষে থাকা বদ্ধাক্ষর দুই মাত্রা হিসেবে গণ্য হয়।
148

নিচের কোনটি অশুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অহিংস–সহিংস
  2. প্রসন্ন–বিষণ্ন
  3. দোষী–নির্দোষী
  4. নিষ্পাপ–পাপিনী

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

‘দোষী–নির্দোষী’ এটি অশুদ্ধ। শুদ্ধরূপ হবে দোষী–নির্দোষ। অন্যান্য অপশনগুলো সঠিক।

ব্যাখ্যা

প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে অশুদ্ধ জোড়টি হলো দোষী–নির্দোষী। এটি ব্যাকরণগতভাবে ভুল একটি বিপরীতার্থক শব্দ জোড়।
'দোষী' শব্দের সঠিক বিপরীত শব্দ হলো 'নির্দোষ'
কারণ: 'দোষী' শব্দটি গঠন হয়েছে 'দোষ' + 'ইন' (প্রত্যয়) দিয়ে, যার অর্থ দোষযুক্ত। এর বিপরীত শব্দ যখন 'নিঃ' (না-বাচক উপসর্গ) দিয়ে গঠিত হয়, তখন শব্দটি হয় 'নির্দোষ' (দোষ নেই যার)। 'নির্দোষী' শব্দটি ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ বা অপ্রচলিত।
অন্যান্য জোড়গুলো সঠিক:
অহিংস–সহিংস (সঠিক); প্রসন্ন–বিষণ্ন (সঠিক); নিষ্পাপ–পাপিনী (সঠিক, এখানে স্ত্রীলিঙ্গবাচক বিপরীত শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে)।
149

কোন বাক্যটি শুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত।
  2. তার কথা শুনে আমি আশ্চর্যান্বিত হলাম।
  3. তোমার পরশ্রীকাতরতায় আমি মুগ্ধ।
  4. সেদিন থেকে তিনি সেখানে আর যায় না।

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে একমাত্র (খ)-তে প্রদত্ত বাক্যটিই নির্ভুল। (ক) অপশনে ‘স্বপরিবারে’- এর স্থলে ‘সপরিবারে’, (গ) অপশনে ‘পরশ্রীকাতরতা’ শব্দের অর্থ অপরের উন্নতিতে ঈর্ষা প্রকাশ । তাই এখানে ‘মুগ্ধ’ শব্দটি অপপ্রয়োগ এবং (ঘ) অপশনে ‘যায়’- এর স্থলে ‘যান’ হবে।

ব্যাখ্যা

সঠিক বাক্যটি হলো: তার কথা শুনে আমি আশ্চর্যান্বিত হলাম। এখানে ব্যাকরণগত বা শব্দপ্রয়োগগত কোনো ত্রুটি নেই। 'আশ্চর্যান্বিত' শব্দটি সম্পূর্ণ শুদ্ধ।
ভুল ব্যাখ্যা:
১. 'আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত।': বাক্যটি ভুল, কারণ 'স্ব' (নিজ) এবং 'স' (সহিত/সঙ্গে) শব্দ দুটির ভুল প্রয়োগ ঘটেছে। 'পরিবারসহ' বা 'পরিবারের সাথে' বোঝাতে কেবল 'সপরিবার' শব্দটি ব্যবহার করতে হবে। (শুদ্ধ রূপ: আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত।)
২. 'তোমার পরশ্রীকাতরতায় আমি মুগ্ধ।': বাক্যটি অর্থগতভাবে (শব্দের অপপ্রয়োগ) ভুল। 'পরশ্রীকাতরতা' একটি নেতিবাচক গুণ (হিংসা/ঈর্ষা)। নেতিবাচক গুণে কেউ 'মুগ্ধ' হতে পারে না। (শুদ্ধ রূপ: তোমার পরশ্রীকাতরতায় আমি বিরক্ত/ক্ষুব্ধ।)
৩. 'সেদিন থেকে তিনি সেখানে আর যায় না।': বাক্যটি কর্তা ও ক্রিয়ার সঠিক ব্যবহারের অভাবে ভুল। 'তিনি' একটি সম্মানসূচক সর্বনাম; এর সাথে সম্মানসূচক ক্রিয়াপদ 'যান না' ব্যবহার করতে হবে। (শুদ্ধ রূপ: সেদিন থেকে তিনি সেখানে আর যান না।)
150

মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের নাম কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বাংলা ধ্বনিবিজ্ঞান
  2. আধুনিক বাংলা ধ্বনিবিজ্ঞান
  3. ধ্বনিবিজ্ঞানের কথা
  4. ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

মুহম্মদ আবদুল হাই একাধারে একজন শিক্ষাবিদ, ধ্বনিতাত্ত্বিক ও সাহিত্যিক। সৈয়দ আলী আহসানের সাথে যুগ্মভাবে তিনি ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর অন্যান্য প্রবন্ধ গ্রন্থের মধ্যে ‘সাহিত্য ও সংস্কৃতি’, ‘ভাষা ও সাহিত্য’, ‘তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা’ উল্লেখযোগ্য। ‘বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন’ তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী। তিনি ১৯৬১ সালে প্রবন্ধ ও গবেষণায় বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯৬ সালে শিক্ষায় একুশে পদক লাভ করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
ড. মুহম্মদ আবদুল হাই ছিলেন বাংলা ভাষার ধ্বনিবিজ্ঞান চর্চার অন্যতম পথিকৃৎ। তার রচিত এই গ্রন্থটিই হলো বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব বিষয়ক প্রথম প্রামাণ্য ও পূর্ণাঙ্গ মৌলিক গবেষণা গ্রন্থ।
গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে প্রকাশিত হয় এবং বাংলা ভাষা গবেষণায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

এই অধ্যায়ের প্রশ্ন টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করুন

এই পেজে বাছাইকৃত ১৫০টি প্রশ্ন সমাধানসহ দেওয়া হয়েছে (মোট ৪৩৯টির মধ্যে)। প্র্যাকটিস মোডে এক-একটি করে উত্তর দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল, স্কোর ও অগ্রগতি ট্র্যাক করুন।

কেন BCS Preliminary-এর জন্য “বাংলা ব্যাকরণ” অধ্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ?

BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষার বাংলা ভাষা ও সাহিত্য অংশে “বাংলা ব্যাকরণ” থেকে প্রায় প্রতিবারই প্রশ্ন আসে। বিগত সালের প্রশ্নের ধরন বুঝে নিয়মিত অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ের নম্বর নিশ্চিত করা সহজ হয় — এই পেজের বাছাইকৃত প্রশ্নগুলো ঠিক সেই প্রস্তুতির জন্যই সাজানো।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

"বাংলা ব্যাকরণ" অধ্যায় থেকে কেমন প্রশ্ন আসে?

BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ের "বাংলা ব্যাকরণ" অধ্যায় থেকে নিয়মিত MCQ আসে। এই পেজে বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক জায়গায় দেওয়া হয়েছে — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ।

উত্তর ও সমাধান কি বিনামূল্যে?

হ্যাঁ। প্রশ্ন, অপশন, সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যা — সবই লগইন ছাড়াই বিনামূল্যে দেখা যায়। টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করতে চাইলে একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট দিয়ে প্র্যাকটিস মোডে যান।