সমাধান
সমাধান
💼
বাংলা (Primary)

ব্যাকরণ

Primary Assistant Teacher · বাংলা (Primary) — বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক পেজে।

নিচে Primary Assistant Teacher নিয়োগ পরীক্ষার বাংলা (Primary) বিষয়ের "ব্যাকরণ" অধ্যায়ের বাছাইকৃত ১৫০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ। সবই বিনামূল্যে।

1

‘কার্যে বিরতি’ অর্থে কোন বাগধারাটি প্রযোজ্য?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হাত করা
  2. হাত গুটান
  3. হাত থাকা
  4. হাত আসা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

হাত গুটান শব্দের অর্থ কোন কাজ শেষ করা বা সমাপ্তি করা ।  প্রশ্নে  কার্য বিরতি শব্দ দ্বারা কাজ সমাপ্ত করাকেই বুঝানো হয়েছে ।

ব্যাখ্যা

সঠিক বাগধারাটি হলো 'হাত গুটান'

এই বাগধারাটির প্রচলিত অর্থ হলো কাজ থেকে নিবৃত্ত হওয়া, কাজ সমাপ্ত করা বা কাজ থামিয়ে দেওয়া

যেহেতু প্রশ্নে 'কার্যে বিরতি' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা কাজ বন্ধ রাখা বোঝায়, তাই 'হাত গুটান' শব্দটিই সবচেয়ে প্রযোজ্য।

অন্যান্য অপশনগুলোর অর্থ ভিন্ন: 'হাত করা' মানে বশে আনা বা আয়ত্তে আনা। 'হাত থাকা' মানে প্রভাব বা ক্ষমতা থাকা। 'হাত আসা' মানে দক্ষতা অর্জন করা।
2

‘অনির্বচনীয়’ শব্দের অর্থ-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সুনিশ্চিত
  2. নির্বাচনযোগ্য নয়
  3. বর্ণনাতীত
  4. অনিশ্চিত

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

অনিবচনীয়’  শব্দের অর্থ - অনন্য   /বিশেষ্য পদ/ অন্যের সহিত সম্বন্ধ বর্জিত। অভিন্ন, অদ্বিতীয়, একমাত্র; অনুপম।   সম্পর্কিত শব্দ: অননুকরণীয়,  অননুভবনীয়,  অননুভূত,  অননুমত,  অননুমেয়,  অননুশীলন ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বর্ণনাতীত
‘অনির্বচনীয়’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো— যা বচন বা কথা দ্বারা প্রকাশ করা যায় না
এখানে 'বচন' বলতে বর্ণনা বা প্রকাশকে বোঝানো হয়েছে এবং 'অ' উপসর্গটি নেতিবাচক অর্থ প্রকাশ করে।
তাই, যে বিষয় বা অনুভূতি প্রকাশ করার জন্য কোনো শব্দ খুঁজে পাওয়া যায় না, তাকেই ‘অনির্বচনীয়’ বলা হয়, যার এককথায় প্রকাশ হলো বর্ণনাতীত
অন্য অপশন, যেমন ‘নির্বাচনযোগ্য নয়’ বা ‘অনিশ্চিত’ সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে।
3

‘আবাহন’ শব্দের বিপরীত কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আরোহন
  2. মিলন
  3. বিসর্জন
  4. স্নান

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

‘আবাহন’ এর বিপরীত শব্দ - বিসর্জন আবাহন   /বিশেষ্য পদ/ মন্ত্র দ্বারা দেবতাকে আহ্বান, আমন্ত্রণ, বন্দনা, ডাক। /আ + বহ্‌ + ণিচ্‌ + অন/। /বিশেষণ পদ/ আবাহিত।   বিসর্জন [ bisarjana ] বি. 1 ত্যাগ (প্রাণবিসর্জন, অশ্রুবিসর্জন); 2 পূজাবসানে প্রতিমা জলে বিলোপ, নিরঞ্জন (বিসর্জনের বাজনা)। [সং. বি + √ সৃজ্ + অন]।

ব্যাখ্যা

‘আবাহন’ শব্দের অর্থ হলো মন্ত্র দ্বারা দেবতাকে আহ্বান করা, ডেকে আনা বা আমন্ত্রণ জানানো।
এর বিপরীত শব্দ বলতে বোঝায় সেই আহ্বানকে ত্যাগ করা বা বিদায় জানানো।
পূজাপর্বের সমাপ্তিতে প্রতিমা জলে বিলোপ করা বা দেবতাকে বিদায় জানানোর প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় বিসর্জন
সুতরাং, আবাহনের সঠিক বিপরীত শব্দ হলো বিসর্জন
অন্যান্য শব্দগুলো (আরোহন, মিলন, স্নান) অর্থগত দিক থেকে এখানে প্রযোজ্য নয়।
4

‘যার বংশ পরিচয় এবং স্বভাব কেউই জানে না’- বাক্যটির বাক্যসংকোচন নিচের কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অজ্ঞাতকুলশীল
  2. বংশপরিচয়হীন
  3. কুলবংশহীন
  4. অজ্ঞাতকুলীন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

একাধিক পদ বা উপবাক্যকে একটি শব্দে প্রকাশ করা হলে, তাকে বাক্য সংকোচন, বাক্য সংক্ষেপণ বা এক কথায় প্রকাশ বলে । অর্থাৎ একটিমাত্র শব্দ দিয়ে যখন একাধিক পদ বা একটি বাক্যাংশের (উপবাক্য) অর্থ প্রকাশ করা হয়, তখন তাকে বাক্য সংকোচন বলে ।   যেমন -  যার বংশ পরিচয় এবং স্বভাব কেউই জানে না’ - অজ্ঞাতকুলশীল এখানে হীরকরাজ - শব্দের মাধ্যমে হীরক দেশের রাজা - এই তিনটি পদের অর্থই সার্থকভাবে প্রকাশ পেয়েছে । এই তিনটি পদ একত্রে একটি বাক্যাংশ বা উপবাক্যও বটে । অর্থাৎ, হীরক দেশের রাজা - তিনটি পদ বা বাক্যাংশটির বাক্য সংকোচন হল - হীরকরাজ । গুরুত্বপূর্ণ বাক্য সংকোচন/এক কথায় প্রকাশ অকালে পেকেছে যে - অকালপক্ক্ব অক্ষির সম্মুখে বর্তমান - প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার অভাব আছে যার - অনভিজ্ঞ অহংকার নেই যার - নিরহংকার অশ্বের ডাক - হ্রেষা অতি কর্মনিপুণ ব্যক্তি - দক্ষ অনুসন্ধান করবার ইচ্ছা - অনুসন্ধিৎসা অনুসন্ধান করতে ইচ্ছুক যে - অনুসন্ধিৎসু অপকার করবার ইচ্ছা - অপচিকীর্ষা অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা না করে কাজ করে যে - অবিমৃষ্যকারী অতি শীতও নয়, অতি উষ্ণও নয় - নাতিশীতোষ্ণ অবশ্য হবে/ঘটবে যা - অবশ্যম্ভাবী অতি দীর্ঘ নয় যা - নাতিদীর্ঘ অতিক্রম করা যায় না যা - অনতিক্রমনীয়/অনতিক্রম্য যা সহজে অতিক্রম করা যায় না - দুরতিক্রমনীয়/দুরতিক্রম্য অগ্রে জন্মেছে যে - অগ্রজ অনুতে/পশ্চাতে/পরে জন্মেছে যে - অনুজ অরিকে দমন করে যে - অরিন্দম অন্য উপায় নেই যার - অনন্যোপায় অনেকের মাঝে একজন - অন্যতম অন্য গাছের ওপর জন্মে যে গাছ - পরগাছা আচারে নিষ্ঠা আছে যার - আচারনিষ্ঠ আপনাকে কেন্দ্র করে চিন্তা যার - আত্মকেন্দ্রীক আকাশে চরে যে - খেচর আকাশে গমন করে যে - বিহগ, বিহঙ্গ আট প্রহর যা পরা যায় - আটপৌরে আপনার রং লুকায় যে/যার প্রকৃত বর্ণ ধরা যায় না - বর্ণচোরা আয় অনুসারে ব্যয় করে যে - মিতব্যয়ী আপনাকে পণ্ডিত মনে করে যে - পণ্ডিতম্মন্য আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত - আদ্যন্ত ইতিহাস রচনা করেন যিনি - ঐতিহাসিক ইতিহাস বিষয়ে অভিঞ্জ যিনি - ইতিহাসবেত্তা ইন্দ্রকে জয় করেছে যে - ইন্দ্রজিৎ ইন্দ্রিয়কে জয় করেছে যে - জিতেন্দ্রিয়ি ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস আছে যার - আস্তিক ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস নেই যার - নাস্তিক ঈষৎ আমিষ/আঁষ গন্ধ যার - আঁষটে উপকার করবার ইচ্ছা - উপচিকীর্ষা উপকারীর উপকার স্বীকার করে যে - কৃতজ্ঞ উপকারীর উপকার স্বীকার করে না যে - অকৃতজ্ঞ উপকারীর অপকার করে যে - কৃতঘ্ন একই সময়ে বর্তমান - সমসাময়িক একই মায়ের সন্তান - সহোদর এক থেকে আরম্ভ করে - একাদিক্রমে একই গুরুর শিষ্য - সতীর্থ কথায় বর্ণনা যায় না যা - অনির্বচনীয় কোনভাবেই নিবারণ করা যায় না যা - অনিবার্য সহজে নিবারণ করা যায় না যা/কষ্টে নিবারণ করা যায় যা - দুর্নিবার সহজে লাভ করা যায় না যা/কষ্টে লাভ করা যায় যা - দুর্লভ কোন কিছুতেই ভয় নেই যার - নির্ভীক, অকুতোভয় ক্ষমার যোগ্য - ক্ষমার্হ কউ জানতে না পারে এমনভাবে - অজ্ঞাতসারে গোপন করার ইচ্ছা - জুগুপ্সা চক্ষুর সম্মুখে সংঘটিত - চাক্ষুষ চৈত্র মাসের ফসল - চৈতালি জীবিত থেকেও যে মৃত - জীবন্মৃত জানার ইচ্ছা - জিজ্ঞাসা জানতে ইচ্ছুক - জিজ্ঞাসু জ্বল জ্বল করছে যা - জাজ্বল্যমান জয় করার ইচ্ছা - জিগীষা জয় করতে ইচ্ছুক - জিগীষু জানু পর্যন্ত লম্বিত - আজানুলম্বিত তল স্পর্শ করা যায় না যার - অতলস্পর্শী তীর ছোঁড়ে যে - তীরন্দাজ দিনে যে একবার আহার করে - একাহারী দীপ্তি পাচ্ছে যা - দীপ্যমান দু’বার জন্মে যে - দ্বিজ নষ্ট হওয়াই স্বভাব যার - নশ্বর নদী মেখলা যে দেশের - নদীমেখলা নৌকা দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করে যে - নাবিক নিজেকে যে বড়ো মনে করে - হামবড়া নূপুরের ধ্বনি - নিক্কণ পা থেকে মাথা পর্যন্ত - আপাদমস্তক প্রিয় বাক্য বলে যে নারী - প্রিয়ংবদা পূর্বজন্ম স্মরণ করে যে - জাতিস্মর পান করার যোগ্য - পেয় পান করার ইচ্ছা - পিপাসা ফল পাকলে যে গাছ মরে যায় - ওষধি বিদেশে থাকে যে - প্রবাসী বিশ্বজনের হিতকর - বিশ্বজনীন ব্যাকরণ জানেন যিনি - বৈয়াকরণ বিজ্ঞানের বিষয় নিয়ে গবেষণায় রত যিনি - বৈজ্ঞানিক বেদ - বেদান্ত জানেন যিনি - বৈদান্তিক বয়সে সবচেয়ে বড়ো যে - জ্যেষ্ঠ বয়সে সবচেয়ে ছোটো যে - কনিষ্ঠ ভোজন করার ইচ্ছা - ‍বুভুক্ষা মৃতের মত অবস্থা যার - মুমূর্ষু মুষ্টি দিয়ে যা পরিমাপ করা যায় - মুষ্টিমেয় মৃত্তিকা দ্বারা নির্মিত - মৃন্ময় মর্মকে পীড়া দেয় যা - মর্মন্তুদ মাটি ভেদ করে ওঠে যা - উদ্ভিদ মৃত গবাদি পশু ফেলা হয় যেখানে - ভাগাড় মন হরণ করে যা - মনোহর মন হরণ করে যে নারী - মনোহারিণী যা দমন করা যায় না - অদম্য যা দমন করা কষ্টকর - দুর্দমনীয় যা নিবারণ করা কষ্টকর - দুর্নিবার যা পূর্বে ছিল এখন নেই - ভূতপূর্ব যা বালকের মধ্যেই সুলভ - বালকসুলভ যা বিনা যত্নে লাভ করা গিয়েছে - অযত্নলব্ধ যা ঘুমিয়ে আছে - সুপ্ত যা বার বার দুলছে - দোদুল্যমান যা দীপ্তি পাচ্ছে - দেদীপ্যমান যা সাধারণের মধ্যে দেখা যায় না - অনন্যসাধারণ যা পূর্বে দেখা যায় নি - অদৃষ্টপূর্ব যা কষ্টে জয় করা যায় - দুর্জয় যা কষ্টে লাভ করা যায় - দুর্লভ যা অধ্যয়ন করা হয়েছে - অধীত যা অনেক কষ্টে অধ্যয়ন করা যায় - দুরধ্যয় যা জলে চরে - জলচর যা স্থলে চরে - স্থলচর যা জলে ও স্থলে চরে - উভচর যা বলা হয় নি - অনুক্ত যা কখনো নষ্ট হয় না - অবিনশ্বর যা মর্ম স্পর্শ করে - মর্মস্পর্শী যা বলার যোগ্য নয় - অকথ্য যার বংশ পরিচয় এবং স্বভাব কেউই জানে না - অজ্ঞাতকুলশীল যা চিন্তা করা যায় না - অচিন্তনীয়, অচিন্ত্য যা কোথাও উঁচু কোথাও নিচু - বন্ধুর যা সম্পন্ন করতে বহু ব্যয় হয় - ব্যয়বহুল যা খুব শীতল বা উষ্ণ নয় - নাতিশীতোষ্ণ যার বিশেষ খ্যাতি আছে - বিখ্যাত যা আঘাত পায় নি - অনাহত যা উদিত হচ্ছে - উদীয়মান যা ক্রমশ বর্ধিত হচ্ছে - বর্ধিষ্ণু যা পূর্বে শোনা যায় নি - অশ্রুতপূর্ব যা সহজে ভাঙ্গে - ভঙ্গুর যা সহজে জীর্ণ হয় - সুপাচ্য যা খাওয়ার যোগ্য - খাদ্য যা চিবিয়ে/চর্বণ করে খেতে হয় - চর্ব্য যা চুষে খেতে হয় - চোষ্য যা লেহন করে খেতে হয়/লেহন করার যোগ্য - লেহ্য যা পান করতে হয়/পান করার যোগ্য - পেয় যা পানের অযোগ্য - অপেয় যা বপন করা হয়েছে - উপ্ত যা বলা হয়েছে - উক্ত যার অন্য উপায় নেই - অনন্যোপায় যার কোন উপায় নেই - নিরুপায় যার উপস্থিত বুদ্ধি আছে - প্রত্যুৎপন্নমতি যার সর্বস্ব হারিয়ে গেছে - সর্বহারা, হৃতসর্বস্ব যার কোনো কিছু থেকেই ভয় নেই - অকুতোভয় যার আকার কুৎসিত - কদাকার যার কোন শত্রু নেই/জন্মেনি - অজাতশত্রু যার দাড়ি/শ্মশ্রু জন্মে নি - অজাতশ্মশ্রু যার কিছু নেই - অকিঞ্চন যে কোন বিষয়ে স্পৃহা হারিয়েছে - বীতস্পৃহ যে শুনেই মনে রাখতে পারে - শ্রুতিধর যে বাস্তু থেকে উৎখাত হয়েছে - উদ্বাস্তু যে নারী নিজে বর বরণ করে নেয় - স্বয়ংবরা যে গাছে ফল ধরে, কিন্তু ফুল ধরে না - বনস্পতি যে রোগ নির্ণয় করতে হাতড়ে মরে - হাতুড়ে যে নারীর সন্তান বাঁচে না/যে নারী মৃত সন্তান প্রসব করে - মৃতবৎসা যে গাছ অন্য কোন কাজে লাগে না - আগাছা যে গাছ অন্য গাছকে আশ্রয় করে বাঁচে - পরগাছা যে পুরুষ বিয়ে করেছে - কৃতদার যে মেয়ের বিয়ে হয়নি - অনূঢ়া যে ক্রমাগত রোদন করছে - রোরুদ্যমান (স্ত্রীলিঙ্গ - রোরুদ্যমানা) যে ভবিষ্যতের চিন্তা করে না বা দেখে না - অপরিণামদর্শী  যে ভবিষ্যৎ না ভেবেই কাজ করে/অগ্র পশ্চাত বিবেচনা না করে কাজ করে যে - অবিমৃশ্যকারী যে বিষয়ে কোন বিতর্ক/বিসংবাদ নেই - অবিসংবাদী যে বন হিংস্র জন্তুতে পরিপূর্ণ - শ্বাপদসংকুল যিনি বক্তৃতা দানে পটু - বাগ্মী যে সকল অত্যাচারই সয়ে যায় - সর্বংসহা যে নারী বীর সন্তান প্রসব করে - বীরপ্রসূ যে নারীর কোন সন্তান হয় না - বন্ধ্যা যে নারী জীবনে একমাত্র সন্তান প্রসব করেছে - কাকবন্ধ্যা যে নারীর স্বামী প্রবাসে আছে - প্রোষিতভর্তৃকা যে স্বামীর স্ত্রী প্রবাসে আছে - প্রোষিতপত্নীক যে পুরুষের চেহারা দেখতে সুন্দর - সুদর্শন (স্ত্রীলিঙ্গ - সুদর্শনা) যে রব শুনে এসেছে - রবাহুত যে লাফিয়ে চলে - প্লবগ যে নারী কখনো সূর্য দেখেনি - অসূর্যম্পশ্যা যে নারীর স্বামী মারা গেছে - বিধবা যে নারীর সম্প্রতি বিয়ে হয়েছে - নবোঢ়া লাভ করার ইচ্ছা - লিপ্সা শুভ ক্ষণে জন্ম যার - ক্ষণজন্মা শত্রুকে/অরিকে দমন করে যে - অরিন্দম শত্রুকে বধ করে যে - শত্রুঘ্ন সম্মুখে অগ্রসর হয়ে অভ্যর্থনা - প্রত্যুদ্গমন সকলের জন্য প্রযোজ্য - সর্বজনীন সকলের জন্য হিতকর - সার্বজনীন স্ত্রীর বশীভূত হয় যে - স্ত্রৈণ সেবা করার ইচ্ছা - শুশ্রুষা হনন/হত্যা করার ইচ্ছা - জিঘাংসা হরিণের চামড়া - অজিন হাতির ডাক - বৃংহতি

ব্যাখ্যা

এই প্রশ্নটি বাক্য সংকোচন বা এক কথায় প্রকাশ থেকে এসেছে।
বাক্যটির অর্থ: যার বংশ (কুল) এবং চরিত্র/স্বভাব (শীল) উভয়ই অজানা।
বাংলা ব্যাকরণে 'কুল' অর্থ বংশ/গোত্র এবং 'শীল' অর্থ স্বভাব/চরিত্র।
অতএব, 'যার বংশ পরিচয় এবং স্বভাব কেউই জানে না' এর এক কথায় প্রকাশ হলো— অজ্ঞাতকুলশীল (অজ্ঞাত + কুল + শীল)।
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রায়শই পরীক্ষায় আসে।
5

নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সূর্য পূর্বদিকে উদয়মান হয়
  2. সূর্য পূর্বদিকে উদিয়ামান হয়
  3. সূর্য পূর্বদিকে উদয় হয়
  4. সূর্য পূর্বদিকে উদিত হয়

সঠিক উত্তর: ঘ

ব্যাখ্যা

সঠিক বাক্যটি হলো: সূর্য পূর্বদিকে উদিত হয়। এটি ব্যাকরণগতভাবে সবচেয়ে মার্জিত ও প্রমিত বাক্য।

অপশন ৩ কেন সঠিক (উদিত হয়): ‘উদিত’ হলো ‘উদয়’ শব্দের বিশেষণ রূপ, যার অর্থ ‘উঠেছে’ বা ‘যা প্রকাশিত হয়েছে’। এই গঠনটি একটি প্রাকৃতিক সত্যকে প্রকাশ করার জন্য কর্মবাচ্যের (Passive Voice) মতো ব্যবহৃত হয় এবং প্রমিত বাংলায় এটিই শুদ্ধতম।

অপশন ০ কেন ভুল (উদয়মান হয়): ‘উদয়মান’ শব্দের অর্থ হলো ‘যা উঠিতেছে’ (Present Participle)। এর সাথে ‘হয়’ ক্রিয়া যোগ করা হলে তা বাক্যের শিথিলতা ও বাহুল্য দোষ সৃষ্টি করে।

অপশন ১ কেন ভুল (উদিয়ামান হয়): এটি অশুদ্ধ শব্দ প্রয়োগ। এই ধরনের কোনো শব্দ বাংলায় ব্যবহৃত হয় না।

অপশন ২ (উদয় হয়): এটি চলিত ভাষা ও কথোপকথনের জন্য সঠিক হলেও, প্রাঞ্জল ও প্রমিত ব্যাকরণ মেনে অপশন ৩ (উদিত হয়) অধিকতর শুদ্ধ। পরীক্ষায় সাধারণত এই ধরনের প্রশ্নে ‘উদিত হয়’ উত্তরটিই গ্রহণ করা হয়।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
6

‘অনুগমন’ শব্দের ব্যাসবাক্য নিচের কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গমনের পশ্চাৎ
  2. গমনের অগ্র
  3. অনুরূপ গমন
  4. পরস্পর গমন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘অনুগমন’ শব্দের ব্যাসবাক্য - পশ্চাৎ গমন যা অব্যয়ীভাব সমাস ।    অব্যয়ীভাব সমাস  পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়। যেমন: জানু পর্যন্ত লম্বিত ('পর্যন্ত' শব্দের অব্যয় 'আ') = আজানুলম্বিত (বাহু), মরণ পর্যন্ত = আমরণ। বিভিন্ন অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্য, সাদৃশ্য, সম্পর্ক, সংস্পর্শ,ঊর্ধ্ব, সম্মান প্রভৃতি নানা অর্থে উপসর্গ তৎপুরুষ বা অব্যয়ীভাব সমাস হয়। যেমন: ১. সামীপ্য (উপ) কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ, কূলের সমীপে = উপকূল ২. বিপ্সা (অনু, প্রতি) দিন দিন = প্রতিদিন, ক্ষণে ক্ষণে = অনুক্ষণে, ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ ৩. অভাব (নিঃ = নির) আমিষের অভাব = নিরামিষ, ভাবনার অভাব = নির্ভাবনা, জলের অভাব = নির্জল, উৎসাহের অভাব = নিরুৎসাহ ৪. পর্যন্ত (আ) সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত = আসমুদ্রহিমাচল, পা থেকে মাথা পর্যন্ত = আপাদমস্তক ৫. সাদৃশ্য (উপ) শহরের সদৃশ = উপশহর, গ্রহের তুল্য = উপগ্রহ, বনের সদৃশ = উপবন ৬. অনতিক্রম্যতা (যথা) রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি, সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য। এরূপ - যথাবিধি, যথাযোগ্য ৭. অতিক্রান্ত (উৎ) বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল, শৃঙখলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙখল ৮. বিরোধ (প্রতি) বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ, বিরুদ্ধ কূল = প্রতিকূল ৯. পশ্চাৎ (অনু) পশ্চাৎ গমন = অনুগমন, পশ্চাৎ ধাবন = অনুধাবন ১০. ঈষৎ (আ) ঈষৎ নত = আনত, ঈষৎ রক্তিম = আরক্তিম ১১. ক্ষুদ্র অর্থে (উপ) উপগ্রহ, উপনদী ১২. পূর্ণ বা সমগ্র অর্থে (পরি বা সম) পরিপূর্ণ, সম্পূর্ণ ১৩. দূরবর্তী অর্থে (প্র, পর) অক্ষির অগোচরে = পরোক্ষ। এরূপ - প্রপিতামহ ১৪. প্রতিনিধি অর্থে (প্রতি) প্রতিচ্ছায়া, প্রতিচ্ছবি, প্রতিবিম্ব ১৫. প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থে (প্রতি) প্রতিপক্ষ, প্রত্যুত্তর ১৬. সম্পর্ক অর্থে (সম, বিষয়) সম্বল = বলের সম্পর্কে, সম্মান = মানের সম্পর্কে, সমক্ষে = অক্ষের সম্পর্কে ১৭. যোগ্যতা অর্থে (অনু) অনুসন্তান = যোগ্য সন্তান, অনুকূল = কুলের যোগ্য, অনুদান = দানের যোগ্য

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গমনের পশ্চাৎ
এটি অব্যয়ীভাব সমাস-এর একটি উদাহরণ। এই সমাসে পূর্বপদের অব্যয়টির (উপসর্গ) অর্থই প্রধান থাকে।
‘অনু’ উপসর্গটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়, তবে ‘অনুগমন’ শব্দটিতে এটি ‘পশ্চাৎ’ (পিছনে) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
তাই, অনুগমন-এর ব্যাসবাক্য হবে পশ্চাৎ গমন বা গমনের পশ্চাৎ
7

‘মেধাবী’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় নিচের কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মেধা+ বিন্‌
  2. মেধা +বি
  3. মেধা+বী
  4. মেধা+আবী

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘মেধাবী’ শব্দের প্রকৃতি - প্রত্যয় হল  মেধা + বিন   ধাতু বা ক্রিয়ার সাথে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়, তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে। যেমন - রাঁধ + উনি = রাঁধুনি, ডুব + অন্ত = ডুবন্ত। শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। যেমন - মেধা + বীন = মেধাবী, বর্ষ + ইক = বার্ষিক। ‘বিন’ ( - বী) প্রত্যয়টি ‘আছে’ অর্থে যুক্ত হয়। ‘বিন’ প্রত্যয়টি প্রথমার একবচনে পুংলিঙ্গ ‘বী’ স্ত্রীলিঙ্গে ‘বিনী’ এবং সমাসে পূর্বপদে হলে ‘বি’ হয়। যেমন - মেধাবী, মেধাবিনী, মায়াবী, মায়াবিনী ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মেধা + বিন্‌
‘মেধাবী’ শব্দটি গঠিত হয়েছে তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে। যে প্রত্যয়গুলো বিশেষ্য বা নাম শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। এখানে ‘মেধা’ একটি নাম শব্দ বা বিশেষ্য পদ।
‘বিন্’ একটি তদ্ধিত প্রত্যয় যা সাধারণত ‘আছে’ অর্থে বা অধিকারী অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন: মেধা আছে যার, সে মেধাবী।
তদ্ধিত প্রত্যয়ের নিয়ম অনুসারে, ‘বিন্’ প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পর সাধিত শব্দটির পুংলিঙ্গ রূপ হয় ‘বী’, কিন্তু প্রকৃতি-প্রত্যয় নির্ণয়ের সময় প্রত্যয়টি লিখতে হয় মূল প্রত্যয় ‘বিন্’ হিসেবে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ ‘বি’, ‘বী’, বা ‘আবী’ এইগুলো বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়ের সঠিক মূল রূপ নয়।
8

কলকল রবে নদী বইছে। এখানে ‘কল কল’ কোন অব্যয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সমুচ্চয়ী
  2. অনুসর্গ
  3. অনন্বয়ী
  4. অনুকার

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

কলকল রবে নদী বইছে। এখানে ‘কল কল’ অনুকার অব্যয়।    অনুকার অব্যয় যে সকল অব্যয় কোনো শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয় তাদেরকে অনুকার অব্যয় বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।   যেমন: শোঁ শোঁ (বাতাসের ধ্বনি), রুম্ঝুম্ (নূপুরের আওয়াজ), ঝম্ঝম (বৃষ্টির শব্দ), বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, বজ্রের ধ্বনি কড়কড়, মেঘের গর্জন গুড়গুড় চকচক, ছমছম, টনটন, ছল্ ছল্, কল্ কল্, ঝম্ ঝম্, সিংহের গর্জন – গর গর, ঘোড়ার ডাক – চিহি চিহি, কোকিলের ডাক – কুহু কুহু, চুড়ির শব্দ – টুং টুং, ইত্যাদি। অনুভূতিমূলক অব্যয়ও অনুকার অব্যয়ের শ্রেণিভুক্ত। যেমন: ঝাঁ ঝাঁ, খাঁখাঁ ইত্যাদি। অনুকার অব্যয়জাত : কনকনে শীত, শনশনে হাওয়া, ধিকিধিকি আগুন, টসটসে ফল, তকতকে মেঝে ইত্যাদি।   অনুকার শব্দ যোগেঃ কুহু কুহু , গুনগুন , ঘেউ ঘেউ , শন শন , ছল ছল ইত্যাদি অনুকার অব্যয়ের কিছু উদাহরণ: রিমঝিম বৃষ্টি পড়ে। শনশন বায়ু বয়। শনশন করে বাতাস বইছে। ঝম্ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে। হন্হন্ করে হেঁটে যাচ্ছে। ঘড়িতে ঢং ঢং করে চারটা বাঁচল। ছেলেটি ভেউ ভেউ করে কাঁদছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর - টুপুর। বাতাসে এখন শোঁ শোঁ শব্দ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো অনুকার অব্যয়
যে সকল অব্যয় পদ কোনো প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম শব্দ, ধ্বনি বা অনুভূতির অনুকরণে গঠিত হয়, তাদের অনুকার অব্যয় বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলা হয়।
এখানে 'কল কল' শব্দটি নদীর স্রোত বা জলের ধ্বনিকে সরাসরি অনুকরণ করছে।
অন্যান্য উদাহরণ: বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, মেঘের গর্জন গুড় গুড়, বাতাসে শোঁ শোঁ শব্দ।
9

কোন শব্দটি শুদ্ধ বানানে লেখা হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভূবন
  2. শূণ্য
  3. ত্রিভুজ
  4. পূন্য

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

প্রদত্ত অপশনে শুদ্ধ বানান ত্রিভুজ। শূণ্য, পূণ্য ও ভূবন বানান তিনটি অশুদ্ধ। এদের শুদ্ধরুপ যথাক্রমে √ শ্বন + য = শূন্য, √ পূ + উন্য = পুণ্য ও √ √ ও √ ভূ + অন = ভুবন । এই তিনটি শব্দই সংস্কুত কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত।

ব্যাখ্যা

প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র 'ত্রিভুজ' বানানটি শুদ্ধ। ত্রিভুজ একটি তৎসম শব্দ যার অর্থ তিন বাহু দ্বারা গঠিত ক্ষেত্র।
অন্যান্য অপশনগুলোর শুদ্ধ রূপগুলো হলো:
১. ভূবন (অশুদ্ধ) \rightarrow শুদ্ধ বানান: ভুবন (হ্রস্ব 'উ' কার, অর্থাৎ 'ু')
২. শূণ্য (অশুদ্ধ) \rightarrow শুদ্ধ বানান: শূন্য (হ্রস্ব 'উ' কার)
৩. পূন্য (অশুদ্ধ) \rightarrow শুদ্ধ বানান: পুণ্য (হ্রস্ব 'উ' কার এবং মূর্ধন্য 'ণ' - ণত্ব বিধান অনুসারে। সংস্কৃত মূল শব্দে ণ থাকায় এখানেও ণ বসে)
সাধারণত ভুবন, শূন্য, পুণ্য ইত্যাদি শব্দগুলো কৃৎ প্রত্যয় সাধিত এবং এদের বানানে হ্রস্ব 'উ' কার (ু) ব্যবহৃত হয়, যা পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি ভুল হয়।
10

নিচের কোনটি বিদেশি শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কান
  2. কাজ
  3. কাঁচি
  4. কলম

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সংস্কৃতিগত ও বাণিজ্যিক কারণে বাংলাদেশে আসা বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের বহু শব্দ বাংলায় এসে স্থান করে নিয়েছে। এসব শব্দকে বলা হয় বিদেশি শব্দ। আরবি শব্দ : আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, ওজর, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, কিতাব, কেচ্ছা, খারিজ, গায়েব, দোয়াত, নগদ, বাকি, মহকুমা, মুন্সেফ, মোক্তার, রায় ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো কলম। 'কলম' শব্দটি মূলত আরবি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে।
রাজনৈতিক, ধর্মীয়, বাণিজ্যিক কিংবা সাংস্কৃতিক কারণে বাংলা ভাষায় আগত অন্যান্য ভাষার শব্দকে বিদেশি শব্দ বলা হয়। বিদেশি শব্দের মধ্যে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, তুর্কি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
প্রশ্নে প্রদত্ত 'কান' ও 'কাজ' হলো তদ্ভব বা দেশি শব্দ। যদিও 'কাঁচি'ও একটি বিদেশি শব্দ (তুর্কি), কিন্তু 'কলম' (আরবি) বিদেশি শব্দের একটি বহুল পরীক্ষিত উদাহরণ এবং বিকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট বিদেশি শব্দ হিসেবে বিবেচিত।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
11

‘অহরহ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অহ+রহঃ
  2. অহ+অহঃ
  3. অহঃ+অহ
  4. অহঃ+রহ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

”অহরহ” শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ অহঃ + অহ। অহঃ + অহ = অহরহ একটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধি। এরকম কয়েকটি উদাহরণ হল বাচঃ + পতি = বাচস্পতি, ভাঃ + কর = ভাস্কর ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো (গ) অহঃ + অহ। এটি বাংলা ব্যাকরণের একটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
অহরহ শব্দের অর্থ হলো 'দিন দিন' বা 'প্রতিদিন'। এটি বিসর্গ সন্ধির একটি ব্যতিক্রমী বা বিশেষ নিয়ম মেনে গঠিত হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম পদ অহঃ (অর্থ: দিন) এর বিসর্গ (ঃ) এবং পরের পদ অহ (অর্থ: দিন) এর প্রথম ‘অ’ যুক্ত হয়ে এবং পরবর্তী এর আগমন ঘটেছে, যার ফলে শব্দটি অহরহ হয়েছে।
এই ধরনের বিশেষ সন্ধিগুলি মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি কারণ এগুলো পরীক্ষায় ভুল করানোর জন্য দেওয়া হয়।
12

‘গৌরব’ শব্দের প্রকৃতি- প্রত্যয় নিচের কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গৌর +অব
  2. গুরু+অব
  3. গুরু +ঞ্চ
  4. গুরু +ষ্ণ

সঠিক উত্তর: ঘ

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: গুরু + ষ্ণ
‘গৌরব’ শব্দটি একটি তদ্ধিতান্ত শব্দ। এটি তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়েছে।
যে প্রত্যয়গুলি শব্দের মূল বা প্রকৃতির (বিশেষ্য, বিশেষণ বা অব্যয়) পরে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
এখানে মূল প্রকৃতি হলো ‘গুরু’ এবং তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘ষ্ণ’ প্রত্যয়।
নিয়ম অনুযায়ী, যখন ‘ষ্ণ’ (বা ষ্ণ্য, ষ্ণিক) প্রত্যয় যুক্ত হয়, তখন প্রকৃতির আদি স্বরের বৃদ্ধি ঘটে। এখানে ‘গুরু’ শব্দের ‘উ’ ধ্বনি বৃদ্ধি পেয়ে ‘ঔ’-তে পরিণত হয়েছে (গুরু \rightarrow গৌরব)।
(স্মর্তব্য: ষ্ণ প্রত্যয়ের লোপ হয়ে ‘অ’ থাকে, যা র-এর সঙ্গে যুক্ত হয়)।
13

খনার বচনে প্রাধান্য পেয়েছে -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শিল্প
  2. কৃষি
  3. সাহিত্য
  4. বিজ্ঞান

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

পুবে ধনু নিত্য ঝরাখনার বচনে প্রাধান্য পেয়েছে - কৃষি পুবে ধনু নিত্য ঝরা পচ্চিমে ধনু নিত্য খরা (খনার এ বচনে বলা হয়েছে, আষাঢ় - শ্রাবণ মাসে পুব আকাশে রংধনু দেখা দিলে বৃষ্টি হবে এবং পশ্চিমে দেখা গেলে খরা হবে।১) ‘খনা’ কি ‘খনার বচন’ নিয়ে বিদ্যমান আলাপ কি নথিতে আমরা বরাবর ছকবদ্ধ কিছু একরৈখিক ধরন ও সূত্র দেখতে পাই। যদিও খনা কি খনার বচন নিয়ে গুরুত্ব তৈরি করার মতো লেখালেখি আমাদের নাগাল কি হদিসে তেমন একটা নেই। মহামতি খনা তাঁর অমর সৃষ্টি ‘খনার বচনের’ ভেতর দিয়েই আমাদের ইতিহাসে জোরদার দৃশ্যমানতা তৈরি করেছেন। হয়তো সেই কারণেই খনাবিষয়ক আলোচনায় প্রধান হয়ে ওঠে কেবল তাঁর বচনসমূহ। বচনভিন্ন খনা বারবার আমাদের অধিপতি আলাপের ঘেরাটোপ থেকে বিচ্ছিন্ন কি অদৃশ্য হয়ে যান বা তাঁকে আড়াল করে রাখা হয়। এমনকি খনার বচন নিয়ে আলাপের সূত্রগুলো তাঁর বচনের ‘কৃষি ও আবহাওয়ার সম্বন্ধকে’ এমন কায়দায় উপস্থাপন করে বারবার, যেখান থেকে আমরা খনার বচনের বিজ্ঞান - দর্শন নয় কেবল ‘কৃষি কি আবহাওয়ার উপযোগিতামূলক পরামর্শই’ ঠাহর করতে পারি। সচরাচর খনার ‘বিদুষী’, ‘জ্যোতিষী’, ‘কৃষি বচন রচয়িতা’, ‘কিংবদন্তি’ ইত্যাদি পরিচয় নির্মাণেরই চল প্রতিষ্ঠিত। ‘খনার বচনও’ সচরাচর ‘লোকসংস্কৃতির’ এক প্রবল বলপ্রয়োগে বন্দী, যেখান থেকে নিম্নবর্গের রূপান্তরধর্মী জীবন কি আখ্যানের কোনো আন্দাজ পাওয়া যায় না। খনা কি খনার বচন নিয়ে যত ধরনের লেখালেখি হাতের নাগালে পাওয়া যায়, সেসব লেখালেখির ধরন ও কাঠামো প্রায় একই। প্রচলিত নথিগুলো পয়লা খনার জন্মবৃত্তান্ত বর্ণনা করে (যা জন্মরহস্য বলে একধরনের দক্ষিণ এশীয় ফ্যান্টাসি তৈরি করে), পরবর্তীতে তাঁর একধরনের ‘সংক্ষিপ্ত জীবনী’ তুলে ধরে। এসব জীবনীর একটা প্রধান অংশজুড়েই খনাকে পরিবারকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে টেনে টেনে সামাজিকীকরণ করা হয়। খনার শ্বশুর, স্বামী, রাক্ষসপুরীতে বড় হওয়া ও জ্যোতিষজ্ঞান লাভ, রাজদরবার সব মিলিয়ে খনাকে ‘প্রকাশ’ করা হয়। রয়েছে খনার জন্মস্থান বিতর্ক এবং বচনের ভাষিক বাহাস। তারপর খনার বচনগুলোর একটা সংকলন তুলে দেওয়া হয়। ছন্দোবদ্ধ বচনটির পর একটি বর্ণনামূলক মানে দেওয়া হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বচনগুলো শ্রেণীকরণ করে ব্যবহূত হতে দেখা যায়। যেমন, কৃষিবিষয়ক বচন, তিলতত্ত্ব, হলুদবিষয়ক, কচুবিষয়ক, বৃষ্টি গণনা, কলার চাষবিষয়ক ইত্যাদি। খনার এক বচন ছাড়া প্রচলিত অধিকাংশ রচনায় খনাকে ‘ইতিহাসের এক নিষ্ক্রিয় ও প্রতিরোধহীন’ ব্যক্তি হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে ‘খনার জিহ্বা কেটে নেওয়ার ঘটনাকে’ পুরুষতান্ত্রিক নিপীড়ন ও নারীর জ্ঞানকে প্রান্তিক করে তোলার উদাহরণ হিসেবে ব্যাখা দেওয়া হয়। কেউ কেউ খনার বচনের ‘জনমত’ ও গ্রহণযোগ্যতাকেও প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। সবকিছু মিলিয়ে অধিপতি জ্ঞানকাণ্ডের খনা - ভাবনাসমূহ খনা কি খনার বচনকে ‘লোকসংস্কৃতি ও গ্রামীণ কৃষিসমাজের বিষয়’ হিসেবে এক প্রশ্নহীন অপরত্বের২ মোড়কে সমাজ রূপান্তরের ধারাপাত থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। এর ধারাবাহিকতায় দেখা যায়, নিম্নবর্গের যাপিতজীবন ও রাষ্ট্রবিকাশের আখ্যান থেকে খনা কি খনাদের সৃষ্টি ও দর্শনকে ‘অস্বীকৃত’ ও ‘অবাঞ্ছিত’ করে রাখা হয়। যাপিতজীবনের দেনদরবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে খনাদের ‘ধরাছোঁয়ার বাইরের অচিন রূপকথা কি নাগালহীন কিংবদন্তি’ করে তোলা হয়। ক্ষমতাবানদের রচিত ইতিহাসে কেবল খনা নয়, উলগুলান বা মুণ্ডা বিদ্রোহের কারিগর বীরসা মুণ্ডা কি হুল বা সাঁওতাল বিদ্রোহের নেতা ফুলমণি মুর্মুদেরও এভাবেই ‘অপর’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। নিরন্তর বিজ্ঞানমনস্কতা কি সামাজিক বোঝাপড়া দিয়ে তখন এসব চরিত্র কি তাদের চিন্তা ও দর্শন নিম্নবর্গের নাগালের বাইরে থেকে যায়। আর সেখান থেকেই আজকের আলাপখানি৩ শুরু করতে চাইছি। খনা ও খনার বচনের বিজ্ঞান - দর্শনকে আজকের আলাপে বোঝার চেষ্টা করব। আলাপের সূত্র ধরে খনার বৃত্তান্ত, প্রচলিত আখ্যান ও কাহিনিগুলো আমাদের টানতে হবে ক্ষমতার রাজনীতি ও ইতিহাসের বৈষম্যের ব্যাকরণকে স্পষ্ট করার জন্য। আলাপের ক্ষেত্রে একটা রাজনৈতিক তাত্ত্বিক পাটাতন অনেকখানি জরুরি হয়ে দাঁড়ায়। নিম্নবর্গের প্রতিরোধী জ্ঞানকাণ্ডের বিজ্ঞানমনস্কতা আলাপের অলিগলি ঘুরতে আমাদের টানটান রাখবে। প্রতিবেশ - নারীবাদী৪ তত্ত্ব - তালাশের ভেতর দিয়ে চলতি আলাপ তার আসর জমানোর মানত করেছে। বাংলা ও ইংরেজিতে প্রকাশিত খনা ও খনার বচন নিয়ে লেখালেখিগুলোর প্রায় গরিষ্ঠভাগই (যা পাওয়া গেছে এ শর্তকে মেনে) চলতি আলাপে টেনে আনা হয়েছে। খনার বচনের ক্ষেত্রে নিজস্ব সংগ্রহ, রাস্তা কি মেলাতে বিক্রীত বই থেকে শুরু করে গবেষণা পুস্তক - জার্নাল - পত্রিকা - সাময়িকী এবং ওয়েবদুনিয়াতে যা পাওয়া গেছে তা - ও গুরুত্ব দিয়ে আলাপের সঙ্গী হয়েছে। খনার বচন এবং খনার বিজ্ঞান - দর্শনকে জানতে - বুঝতে দেশের নানান প্রান্তে গ্রামীণ জনপদে নিম্নবর্গের বাহাস ও দেনদরবার কাজে লেগেছে। নিম্নবর্গের এই প্রজ্ঞা ও গতিই বিজ্ঞানের সত্যকে প্রকাশ করে, খনার বচন কি খনার দর্শন জীবনব্যাপী যে সত্যের সীমানা তৈরি করেছে। চলতি আলাপ থেকে আমরা অধিপতি জ্ঞানকাণ্ডের ক্ষমতার বলপ্রয়োগ ও নিম্নবর্গের জ্ঞানদুনিয়ার প্রান্তিকীকরণ ও নিরন্তর টিকে থাকার লড়াইয়ের ধরনটিও বোঝার চেষ্টা করব। কারণ খনা ও খনার বচনকে দাবিয়ে রাখার মৌলিক সূত্র ও কারণ ক্ষমতার রাজনীতির ভেতরেই সীমাবদ্ধ।

ব্যাখ্যা

খনার বচন হলো ছন্দোবদ্ধ লোকায়ত উপদেশ বা প্রবচন, যা মূলত প্রাচীন বাংলার কৃষকদের কৃষি সম্পর্কিত জ্ঞান এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে সহায়তা করত।
এই বচনগুলিতে কোন মাসে কী ফসল ভালো হবে, কখন বৃষ্টি হবে, বা কেমন আবহাওয়ায় কী ধরনের চাষাবাদ করা উচিত—তার নির্দেশনা থাকে।
এ কারণে খনার বচনে সর্বাধিক প্রাধান্য পেয়েছে কৃষিকৃষি সম্পর্কিত আবহাওয়া জ্ঞান
14

ধ্বনি হলো –

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভাষার ক্ষুদ্রতম অংশ
  2. অর্থবোধক শব্দসমষ্টি
  3. ভাষার লিখিত রূপ
  4. বাক্যের লিখিত রূপ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

কোনো ভাষার উচ্চারিত শব্দকে বিশ্লেষণ করলে যে উপাদানসমূহ পাওয়া যায় সেগুলোকে পৃথকভাবে ধ্বনি বলে। ধ্বনির সঙ্গে সাধারণত অর্থের সংশ্লিষ্টতা থাকে না, ধ্বনি তৈরি হয় বাগ্যন্ত্রের সাহায্যে। ধ্বনি তৈরিতে যেসব বাগ্ - প্রত্যঙ্গ সহায়তা করে সেগুলো হলো ফুসফুস, গলনালি, জিহ্বা, তালু, মাড়ি, দাঁত, ঠোঁট, নাক ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ভাষার ক্ষুদ্রতম অংশ। ভাষাবিজ্ঞানে, ধ্বনি (Dhwani) হলো ভাষার মৌলিক এবং সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম একক। এটি কোনো ভাষার উচ্চারিত শব্দের বিশ্লেষণযোগ্য ক্ষুদ্রতম অংশ যা বাগ্‌যন্ত্রের (যেমন জিহ্বা, তালু, ঠোঁট, ফুসফুস ইত্যাদি) সাহায্যে সৃষ্ট হয়।
ধ্বনি হলো ভাষার মৌখিক বা উচ্চারিত রূপ। লিখিত আকারে এর প্রকাশকে বর্ণ বলা হয়।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, 'অর্থবোধক শব্দসমষ্টি' দ্বারা সাধারণত 'বাক্য' বা 'উক্তি' বোঝানো হয়। আর 'ভাষার লিখিত রূপ' বলতে বর্ণকে বোঝানো হয়।
15

সভয়ে লোকটি বলল, বাঘ আসছে। এখানে ‘সভয়ে’ পদটি কোন বিশেষণের উদাহরণ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. বিশেষণের বিশেষণ
  3. নাম বিশেষণ
  4. বিশেষ্যের বিশেষণ

সঠিক উত্তর: ক

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ক্রিয়া বিশেষণ
যে পদ ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ভঙ্গি, সময় বা স্থান নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বা Adverb বলে।
এখানে, ‘সভয়ে’ পদটি ‘বলল’ (বলা) নামক ক্রিয়া পদটিকে (Verb) বিশেষভাবে নির্দেশ করছে। লোকটি কীভাবে বলল?— 'সভয়ে বলল'।
যেহেতু ‘সভয়ে’ পদটি ক্রিয়ার ধরন বা রীতি প্রকাশ করছে, তাই এটি রীতিনির্দেশক ক্রিয়া বিশেষণ-এর উদাহরণ।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
16

"রাশি রাশি ভারা ভারা ধান কাটা হল সারা” এখানে ”রাশি রাশি”

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
  2. নির্ধারক বিশেষণ
  3. সাপেক্ষ সর্বনাম
  4. অনুকার অব্যয়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

নির্ধারক বিশেষণ : দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহার করে যখন একের বেশি কোনো কিছুকে বোঝানো হয় তাকে নির্ধারক বিশেষণ বলে। যেমন- রাশি রাশি ভারা ভারাধান (সোনার তরী)

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো নির্ধারক বিশেষণ
এখানে 'রাশি রাশি' শব্দটি একটি দ্বিরুক্ত শব্দ (Reiterated Word)। এই শব্দটি 'ধান' (বিশেষ্য পদ)-এর পরিমাণ বা আধিক্য (Abundance) নির্দেশ করছে।
ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, যখন কোনো দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহার করে একের বেশি কোনো কিছুর সংখ্যা, পরিমাণ, বা ব্যাপকতা বোঝানো হয় এবং তা কোনো বিশেষ্যকে বিশেষিত করে, তখন তাকে নির্ধারক বিশেষণ (Quantifying/Determinative Adjective) বলা হয়।
উদাহরণস্বরূপ: 'বড় বড়' আম, 'ঘরে ঘরে' খবরটি ছড়িয়ে পড়ল।
17

’মাথা খাও, পত্র দিতে ভুলো না’ এখানে ‘মাথা খাওয়ার’ অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দিব্যি দেয়া
  2. আস্কারা পাওয়া
  3. জ্ঞান দেয়া
  4. অঙ্গ বিশেষ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বাংলা ভাষায় এমন কতকগুলো বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়াপদ আছে যেগুলো ভিন্ন ভিন্ন অর্থে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। এসব শব্দের প্রত্যেকটি নিজস্ব আভিধানিক অর্থের অতিরিক্ত একাধিক বিশিষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করে। যেমন: ‘মাথা খাও, চিঠি দিতে ভুলো না’ - এখানে ‘মাথা খাও’ দিব্যি দেওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: দিব্যি দেয়া
বাগধারা হলো এমন শব্দগুচ্ছ যা তার সাধারণ আভিধানিক অর্থের বাইরে একটি বিশিষ্ট বা বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে। এই বাগধারাগুলি বাক্যকে সুন্দর ও অর্থবহ করে তোলে।
বাক্যটিতে 'মাথা খাও' বাগধারাটি শপথ বা বিনীত অনুরোধের মাধ্যমে **দিব্যি দেওয়া** বা কসম কাটার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন: 'আমার মাথা ছুঁয়ে বলো, তুমি ভুলো না'।
অন্যদিকে, 'আস্কারা পাওয়া' (উৎসাহ/প্রশ্রয় পাওয়া), 'জ্ঞান দেওয়া' (উপদেশ দেওয়া) এবং 'অঙ্গ বিশেষ' (মাথার শারীরিক অংশ) এই প্রসঙ্গে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক।
18

‘ব্যাকরণ’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিশেষভাবে বিশ্লেষণ
  2. সাধারণ সংশ্লেষণ
  3. বিশেষভাবে সংযোজন
  4. সাধারণ বিশ্লেষণ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ব্যাকরণ শব্দের দুটো অর্থ আছে - ব্যুৎপত্তিগত অর্থ : কোনো ভাষাকে বিশেষভাবে বিশ্লেষণ ব্যবহারগত / সঠিক অর্থ : ভাষার প্রকৃতি ও প্রয়োগরীতি নিয়ে আলোচনা কোনো ভাষাকে শুদ্ধভাবে লিখতে, পড়তে এবং বুঝতে পারা

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বিশেষভাবে বিশ্লেষণ
ব্যাকরণ শব্দটি গঠিত হয়েছে মূলত বি + আ + কৃ + অন (ল্যুট) এই প্রত্যয়গুলির মাধ্যমে।
এখানে 'বি' এবং 'আ' উপসর্গ দুটি 'বিশেষভাবে' অর্থ প্রকাশ করে, এবং 'কৃ' (ধাতু) অর্থ হলো 'বিশ্লেষণ করা' বা করা।
তাই, ব্যুৎপত্তিগত দিক থেকে ব্যাকরণের অর্থ দাঁড়ায়— কোনো ভাষাকে বিশেষভাবে বিশ্লেষণ করা
19

কোন বানানটি শুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আদ্যক্ষর
  2. আধ্যক্ষর
  3. আদ্যাক্ষর
  4. আদ্যোক্ষর

সঠিক উত্তর: গ

ব্যাখ্যা

প্রশ্নে প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে সঠিক বানানটি হলো আদ্যাক্ষর
এই শব্দটি গঠিত হয়েছে আদ্য (প্রথম বা আদি) এবং অক্ষর (বর্ণ বা প্রতীক) শব্দ দুটির সংযোগে।
এটি মূলত একটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস, যার ব্যাসবাক্য হলো: 'আদ্য যে অক্ষর'। সন্ধির নিয়মের বাইরে হলেও, শব্দটি একত্রিত হয়ে আদ্যাক্ষর রূপ ধারণ করে।
এখানে আদ্য শব্দের সঙ্গে অক্ষর যুক্ত হওয়ার সময় মধ্যবর্তী 'আ' ধ্বনিটি বজায় থাকে, যা বানানটিকে স্বতন্ত্র করে তোলে।
বাকি বানানগুলো (আদ্যক্ষর, আধ্যক্ষর, আদ্যোক্ষর) ভুল বানানের উদাহরণ।
20

‘পাঠক শব্দটি প্রকৃতি ও প্রত্যয় নিচের কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পাঠ্য +ণক
  2. পাঠ +অংক
  3. পঠ + অনক
  4. পঠ্ + ণক

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

উদাহরণ: পঠ + অক = পাঠক, দিন + ইক = দৈনিক। এখানে, 'অক' ও ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং 'পঠ' ও 'দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো পঠ্ + ণক
ব্যাকরণে, শব্দকে বিশ্লেষণ করার প্রক্রিয়াকে প্রকৃতি ও প্রত্যয় বলে। 'পাঠক' শব্দটি বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়:
১. প্রকৃতি (ক্রিয়ামূল): পাঠক শব্দটির মূল কাজটি হলো 'পড়া', যার ধাতু বা ক্রিয়ামূল হলো পঠ্। ধাতুর নিচে অবশ্যই হসন্ত (্) চিহ্ন দিতে হয়।
২. প্রত্যয়: 'ণক' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে শব্দটি গঠন করেছে। ণক প্রত্যয়ের 'ণ' লোপ পেয়ে 'অক' অংশটি ধাতুর সাথে যুক্ত হয়।
যেহেতু এটি ক্রিয়ামূলের সাথে যুক্ত হয়েছে, তাই এটি কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
21

কিন্টারগার্ডেন’ কোন ভাষা হতে আগত শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ইংরেজি
  2. পর্তুগিজ
  3. ওলন্দাজ
  4. জার্মানি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

এ শব্দটি জার্মান, যার অর্থ হচ্ছে শিশুদের বাগান। 'কিন্ডারগার্টেন' শব্দটি বিখ্যাত জার্মান শিশু-শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব ফ্রেডরিখ ফ্রোয়েবল কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: জার্মানি। 'কিন্টারগার্ডেন' (Kindergarten) শব্দটি জার্মান ভাষা হতে আগত।
জার্মান ভাষায় 'Kinder' (কিন্ডার) অর্থ হলো 'শিশু' এবং 'Garten' (গার্ডেন) অর্থ হলো 'বাগান'। অর্থাৎ, কিন্ডারগার্টেন মানে 'শিশুদের বাগান'
বিখ্যাত জার্মান শিশু-শিক্ষাবিদ ফ্রেডরিখ ফ্রোয়েবল শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য এই পদ্ধতি ও শব্দটির প্রচলন করেন। এটি বাংলা ভাষায় আগত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি শব্দ
22

‘পৃথিবীতে কে কাহার’? এই বাক্যে ‘পৃথিবীতে’ পদটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি
  2. অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
  3. কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি
  4. কর্মকারকে ৫মী বিভক্তি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সাধারণত সপ্তমী অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন -  বাড়িতে কেউ নেই। (আধারাধিকরণ)বসন্তে কোকিল ডাকে। (কালাধিকরণ)সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়। (ভাবাধিকরণ)

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি
কারক নির্ণয়: যে স্থানে, সময়ে বা বিষয়ে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এখানে ‘পৃথিবীতে’ পদটি বাক্যের ক্রিয়াটির (কাহার/অবস্থান) স্থান বা আধার বোঝাচ্ছে। তাই এটি অধিকরণ কারক।
বিভক্তি নির্ণয়: পদটির শেষে ‘তে’ বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। বাংলা ব্যাকরণে সপ্তমী বিভক্তির চিহ্নগুলো হলো— এ, য়, তে। ‘পৃথিবীতে’ পদে ‘তে’ থাকায় এটি ৭মী বিভক্তি।
23

কোন বানানটি শুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিকেন্দ্রিকরণ
  2. বীকেন্দ্রিকরণ
  3. বীকেন্দ্রীকরণ
  4. বিকেন্দ্রীকরণ

সঠিক উত্তর: ঘ

ব্যাখ্যা

সঠিক বানানটি হলো বিকেন্দ্রীকরণ
যে কোনো শব্দের শেষে '-করণ' প্রত্যয় যুক্ত হলে, তার পূর্বের বর্ণে দীর্ঘ ঈ-কার (ী) হয়।
মূল শব্দটি হলো বিকেন্দ্র। এর সাথে '-করণ' যুক্ত হলে এটি বিকেন্দ্রীকরণ হয়। যেমন: আধুনিক + করণ = আধুনিকীকরণ, কেন্দ্র + করণ = কেন্দ্রীকরণ।
অপর দিকে, 'বিকেন্দ্রীকরণ' বানানের শুরুতে 'বি' (হ্রস্ব ই-কার) সঠিক, কিন্তু কিছু অপশনে 'বী' (দীর্ঘ ঈ-কার) ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভুল।
24

কোন বাক্যটি শুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তিনি স্বস্ত্রীক শহরে থাকেন।
  2. তিনি সস্ত্রীক শহরে থাকেন।
  3. তিনি ও স্ত্রী শহরে থাকেন।
  4. তিনি স্ব- স্ত্রী সহ শহরে থাকেন।

সঠিক উত্তর: খ

ব্যাখ্যা

সঠিক বাক্যটি হলো: তিনি সস্ত্রীক শহরে থাকেন। (অপশন খ)।
বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে সহ বা সাথে নিয়ে কোনো কাজ করেন বা কোথাও থাকেন, তখন সেই অর্থে 'সস্ত্রীক' শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
এখানে 'স' উপসর্গটি 'সহ' বা 'সাথে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি একটি তৎসম শব্দ এবং এর সঠিক গঠন হলো: স (সহ) + স্ত্রীক
অন্যান্য অপশনে 'স্ব' (যার অর্থ 'নিজস্ব' বা 'own') ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভুল। 'স্বস্ত্রীক' বানানটি সম্পূর্ণরূপে অশুদ্ধ
অপশন গ ('তিনি ও স্ত্রী শহরে থাকেন') বাক্যগতভাবে শুদ্ধ হলেও এটি সস্ত্রীক শব্দের সঠিক প্রয়োগ নয় এবং প্রশ্নের মূল লক্ষ্য শুদ্ধ বানান নির্ণয় করা।
25

সাধু ভাষায় কোন শব্দের প্রাধান্য বেশি

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তৎসম
  2. বিদেশি
  3. দেশি
  4. তদ্ভব

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সংস্কৃত ভাষা থেকে উৎপন্ন ভাষাকে ‍ সাধু ভাষা হিসেবে অভিহিত কর হয়। এ ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের প্রাধান্য বেশি। উনিশ শতকের শুরুতে সাধু রীতির বিকাশ ব্যাপক প্রচলন ছিল। রাজা রামমোহন রায় প্রথম সাধু ভাষার প্রয়োগ করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: তৎসম
সাধু ভাষা হলো বাংলা ভাষার একটি প্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী এবং লেখ্য রূপ, যা উনিশ শতকে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। এই ভাষার কাঠামো এবং শব্দভান্ডার সরাসরি সংস্কৃত ভাষা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত।
তৎসম শব্দ (তৎ + সম = তার সমান, অর্থাৎ সংস্কৃতের সমান) হলো সেই শব্দগুলো যা সংস্কৃত থেকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে।
যেহেতু সাধু ভাষার লক্ষ্য ছিল ভাষার আভিজাত্য ও গুরুগম্ভীর ভাব বজায় রাখা, তাই এর প্রতিটি বাক্যে ও শব্দচয়নে তৎসম শব্দের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যণীয়।
ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও মেডিকেলসহ ২৭+ ইউনিট-ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর এডমিশন সেকশনে।

ভর্তি প্রশ্নব্যাংক দেখুন
26

‘জানুয়ারি’ বানানে হ্রস্ব-ই কার হবার কারণ কোন শব্দের কারনে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তদ্ভব
  2. তৎসম
  3. অতৎসম
  4. সংস্কৃত

সঠিক উত্তর: গ

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অতৎসম
বাংলা একাডেমি প্রমিত বানানবিধি অনুযায়ী, যে সকল শব্দ তৎসম (সংস্কৃত) নয় অর্থাৎ অতৎসম বা বিদেশি শব্দ, সেগুলোতে সাধারণত হ্রস্ব-ই কার (ই) ব্যবহৃত হয়।
‘জানুয়ারি’ শব্দটি ইংরেজি ভাষা থেকে আগত একটি বিদেশি শব্দ। তাই এটি অতৎসম শব্দের শ্রেণিভুক্ত।
অতএব, এই ধরনের বিদেশি শব্দে সবসময় ই-কার (হ্রস্ব-ই কার) ব্যবহার করা হয়। যেমন: জানুয়ারি, ডিসেম্বর, ফ্রেন্ডশিপ, ডিকশনারি, খ্রিস্টাব্দ ইত্যাদি।
27

সাধু রীতি ও চলিতরীতির পার্থক্য কোন পদে বেশি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ক্রিয়া ও অব্যয়
  2. অব্যয় ও ক্রিয়া
  3. সর্বনাম ও বিশেষ্য
  4. ক্রিয়া ও সর্বনাম

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য সর্বনাম ও ক্রিয়া পদে বেশি পরিলক্ষিত হয় ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ক্রিয়া ও সর্বনাম
বাংলা সাধু ও চলিত রীতির মধ্যে প্রধান এবং সুস্পষ্ট পার্থক্য শুধুমাত্র ক্রিয়া পদ (Verb) এবং সর্বনাম পদে (Pronoun) দেখা যায়।
অন্য পদগুলো, যেমন বিশেষ্য (Noun) এবং বিশেষণ (Adjective), সাধু ও চলিত উভয় রীতিতেই প্রায় অপরিবর্তিত থাকে।
উদাহরণস্বরূপ:
সাধু: তাহারা (সর্বনাম) করিয়াছে (ক্রিয়া)।
চলিত: তারা (সর্বনাম) করেছে (ক্রিয়া)।
28

‘তাজা মাছ’ কোন বিশেষণ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রুপবাচক
  2. অংশবাচক
  3. অবস্থাবাচক
  4. গুণবাচক

সঠিক উত্তর: গ

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অবস্থাবাচক
যে বিশেষণ পদটি কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের অবস্থা, পরিস্থিতি বা সাময়িক দশা নির্দেশ করে, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
এখানে, ‘তাজা’ শব্দটি ‘মাছ’-এর বর্তমান অবস্থা বা পরিস্থিতি বোঝাচ্ছে, অর্থাৎ মাছটি সতেজ অবস্থায় আছে।
অন্যান্য উদাহরণ: রোগা ছেলে (ছেলের অবস্থা), ভেজা কাপড় (কাপড়ের অবস্থা), অসুস্থ ব্যক্তি।
গুণবাচক বিশেষণ: এটি কোনো বস্তুর জন্মগত বা স্থায়ী গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায় (যেমন: ভালো ছেলে, মিষ্টি আম, দক্ষ কারিগর)। যেহেতু মাছের তাজা থাকাটা স্থায়ী গুণ নয়, এটি অবস্থাবাচক হবে।
29

বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রা বর্ণ কয়টি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 8
  2. 9
  3. 6
  4. 7

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

মাত্রাহীন বর্ণ ১০ টি (এ, ঐ, ও, ঔ- স্বরবর্ণ ৪ টি) এবং (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁঁ- ব্যঞ্জনবর্ণ ৬ টি). ২. অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮ টি (ঋ- স্বরবর্ণ ১ টি) এবং (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ - ব্যঞ্জনবর্ণ ৭ টি)

ব্যাখ্যা

বাংলা বর্ণমালায় মোট ৮টি বর্ণকে অর্ধমাত্রা বর্ণ বলা হয়। এই বর্ণগুলো লেখার সময় মাত্রার কিছুটা অংশ ব্যবহার করা হয়।
এই ৮টি বর্ণের বিভাজনটি ভালোভাবে মনে রাখুন:
  • স্বরবর্ণ: ১টি ()
  • ব্যঞ্জনবর্ণ: ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)
মোট বর্ণ ৮টি। বর্ণমালার এই তিনটি অংশ (পূর্ণমাত্রা, অর্ধমাত্রা ও মাত্রাহীন) থেকে প্রশ্ন বারবার আসে।
30

ব্যাকরণের কাজ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভালো বক্তা তৈরি করা
  2. নতুন ভাষা তৈরি করা
  3. দ্রুত পড়া ও লেখা শেখানো
  4. ভাষার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা করা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ভাষাবিজ্ঞানের পরিভাষায় ব্যাকরণ বলতে সাধারণত ভাষার কাঠামোর, বিশেষ করে শব্দ ও বাক্যের কাঠামোর, গবেষণাকে বোঝায়। এ অর্থে ব্যাকরণ হল কোন ভাষার রূপমূলতত্ত্ব ও বাক্যতত্ত্বের আলোচনা।

ব্যাখ্যা

ব্যাকরণের প্রধান ও মৌলিক কাজ হলো ভাষার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা করা
ব্যাকরণ (Grammar) ভাষার বিভিন্ন অংশ, যেমন—ধ্বনি, শব্দ, এবং বাক্য কীভাবে গঠিত হবে, তার সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী তৈরি করে।
ব্যাকরণের এই নিয়ম মানার কারণেই ভাষার কাঠামো সুসংবদ্ধ থাকে এবং আমরা সঠিক বাক্য গঠন করতে পারি। তাই ব্যাকরণকে ভাষার সংবিধান বলা যায়।
অন্যান্য অপশনগুলো (যেমন: ভালো বক্তা তৈরি করা, দ্রুত পড়া) ব্যাকরণ শিক্ষার ফল হতে পারে, কিন্তু এগুলো ব্যাকরণের সরাসরি কাজ নয়।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
31

‘শুক্রবার বিদ্যালয় বন্ধ থাকে’ বাক্যে ‘বিদ্যালয়’ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কর্মে শূন্য
  2. অপাদানে শূন্য
  3. অধিকরণে শূন্য
  4. কর্তায় শূন্য

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে কর্মকারক বলে। বাক্যে শুক্রবার কে কেন্দ্র করে স্কুল বন্ধ থাকছে। কাজেই স্কুল কর্মকারক এবং মূল শব্দ স্কুলের সাথে কোন বিভক্তি যোগ না হওয়ায় শূন্য বিভক্তি। সুতরাং সঠিক উত্তর কর্মে শূন্য।

ব্যাখ্যা

বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে অথবা ক্রিয়াপদকে কী বা কাকে দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্ম কারক (Object).
এখানে ক্রিয়াপদ হলো ‘বন্ধ থাকে’। প্রশ্ন করুন: ‘কী বন্ধ থাকে?’ উত্তর: ‘বিদ্যালয়’
যেহেতু ‘বিদ্যালয়’ ক্রিয়ার কর্ম হিসেবে কাজ করছে (এটি ক্রিয়ার ফল ভোগ করছে), তাই এটি কর্ম কারক।
‘বিদ্যালয়’ শব্দের সাথে কোনো বিভক্তি (যেমন: -কে, -তে, -র ইত্যাদি) যুক্ত নেই। বিভক্তি যুক্ত না থাকলে তাকে শূন্য বিভক্তি বলা হয়।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো কর্মে শূন্য। (মনে রাখবেন, ‘শুক্রবার’ শব্দটি এখানে অধিকরণ কারক)।
32

“দ্বীপ” এর ব্যাসবাক্য-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দুদিকে অপ যার
  2. দ্বীপের মত
  3. চার দিকে জল যার
  4. দুদিকে আবদ্ধ জল যার

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি যেমন: দু দিকে অপ যার= দ্বীপ, অন্তর্গত অপ যার= অন্তরীপ, নরাকারের পশু যে= নরপশু, জীবিত থেকেও যে মৃত= জীবন্মৃত, পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ= পণ্ডিতমূর্খ ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: দু দিকে অপ যার। এখানে 'অপ' শব্দের অর্থ হলো জল
‘দ্বীপ’ শব্দটি একটি বহুব্রীহি সমাস সাধিত পদ। যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ প্রাধান্য না পেয়ে, অন্য কোনো তৃতীয় পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
বিশেষত, এটি নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। কারণ এই সমাসটি ব্যাকরণের কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম মেনে গঠিত হয়নি, বরং স্বয়ংসিদ্ধভাবে বা নিপাতনে সিদ্ধ রূপে ব্যবহৃত হয়।
33

কোন শব্দটির বানান সঠিক?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দোষণীয়
  2. দূষণীয়
  3. দুষনীয়
  4. দোষনীয়

সঠিক উত্তর: খ

ব্যাখ্যা

সঠিক বানানটি হলো: দূষণীয়
এটি ণত্ব-বিধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। শব্দটি গঠিত হয়েছে 'দূষণ' শব্দের সাথে 'ঈয়' প্রত্যয় যোগ করে।
নিয়ম অনুযায়ী, 'দূষ' শব্দটি দীর্ঘ ঊ-কার (ঊ) এবং মূর্ধন্য-ষ (ষ) দ্বারা লিখতে হবে। এছাড়াও, 'ঋ', 'র', 'ষ' এর পরে প্রত্যয়ের 'ন' স্থানে 'ণ' ব্যবহৃত হয় (ণত্ব-বিধান)।
বাকি অপশনগুলিতে হ্রস্ব উ (দুষনীয়) অথবা ভুল 'ষ' বা 'স' (দোষণীয়, দোষনীয়) ব্যবহার করা হয়েছে, যা অশুদ্ধ।
34

‘পন্ডিতমূর্খ’ পদটির ব্যাসবাক্য নিচের কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জ্ঞান থাকতেও যিনি মূর্খ
  2. পান্ডিত্যে যিনি মূর্খ
  3. পন্ডিত হয়েও যিনি মূর্খ
  4. পান্ডিত্যের দ্বারা যিনি মূর্খ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহিযেমন: দু দিকে অপ যার= দ্বীপ, অন্তর্গত অপ যার= অন্তরীপ, নরাকারের পশু যে= নরপশু, জীবিত থেকেও যে মৃত= জীবন্মৃত, পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ= পণ্ডিতমূর্খ ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

‘পন্ডিতমূর্খ’ পদটি বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত সমস্যমান পদগুলো (এখানে ‘পন্ডিত’ এবং ‘মূর্খ’) কোনোটিকেই প্রাধান্য না দিয়ে ভিন্ন একটি তৃতীয় অর্থ প্রকাশ করে।
এটি ব্যাকরণের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী গঠিত হয় না বলে একে নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস বলা হয়।
এখানে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হচ্ছে যিনি জ্ঞান বা পাণ্ডিত্য থাকা সত্ত্বেও মূর্খের মতো আচরণ করেন।
সঠিক ব্যাসবাক্য হলো: পন্ডিত হয়েও যিনি মূর্খ
35

‘তামার বিষ’ কথাটির অর্থ-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিষের কষ্ট
  2. অর্থের কু প্রভাব
  3. বিষাক্ত তামা
  4. অহংকার

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘তামার বিষ’ বাগধারাটির অর্থ অর্থের কুপ্রভাব। তামার বিষ বাগধারার অর্থ অর্থের কুপ্রভাব । বাক্য রচনা : তামার বিষ ( অর্থের কুপ্রভাব ) — তামার বিষে ওরা ধরাকে সরা জ্ঞান করছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অর্থের কু প্রভাব
বাগধারা হলো এমন শব্দ বা শব্দগুচ্ছ যা আক্ষরিক অর্থ প্রকাশ না করে বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।
এখানে, 'তামা' (Copper) শব্দটি ঐতিহাসিকভাবে বা প্রতীকী অর্থে সম্পদ বা অর্থ বোঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং 'বিষ' শব্দটি নেতিবাচক বা ক্ষতিকর প্রভাব বোঝায়।
সুতরাং, 'তামার বিষ' বাগধারাটির মাধ্যমে বোঝানো হয়, অতিরিক্ত অর্থের প্রভাবে ব্যক্তির আচরণে বা মনে যে নেতিবাচক পরিবর্তন আসে বা খারাপ অভ্যাস সৃষ্টি হয়।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
36

নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গেরাম
  2. চামার
  3. মাটি
  4. নারিকেল

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

তৎসম অর্থ তার (তৎ) সম ( সমান) যেসব শব্দ সংস্কৃত থেকে সরাসরি বাংলায় এসছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে , সেসব শব্দকে বলে তৎসম শব্দ যেমন: নারিকেল, চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র , মনুষ্য ব্যাকরণ ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো নারিকেল
তৎসম শব্দ (Tatsama) অর্থ হলো ‘তার সমান’ (তৎ + সম)। অর্থাৎ, যে শব্দগুলো সংস্কৃত ভাষা থেকে কোনো রূপ পরিবর্তন ছাড়াই সরাসরি বাংলা ভাষায় এসেছে এবং এখনও একই রূপে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে।
নারিকেল শব্দটি সরাসরি সংস্কৃত থেকে আগত এবং এর রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যান্য তৎসম শব্দের উদাহরণ: চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য ইত্যাদি।
অন্যান্য অপশনগুলো তৎসম নয়: গেরাম হলো তদ্ভব (গ্রাম থেকে আগত), চামার হলো বিদেশি শব্দ এবং মাটি সাধারণত দেশি বা তদ্ভব (মৃত্তিকা থেকে) শব্দ হিসেবে গণ্য হয়।
37

‘শীতার্ত’ শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শীত+আর্ত
  2. শীতা+অর্ত
  3. শীতা+র্ত
  4. শীত+ঋত

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

"শীতার্ত" এর সন্ধি বিচ্ছেদ শীত + ঋত। অ/আ এরপরে ঋত থাকলে অ/আ ও ঋত - র ঋ মিলে আর হয় এবং আর’, ‘অ/আ’ - র আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। অ + ঋ (ঋত) = আর শীত + ঋত = শীতার্ত, ভয় + ঋত = ভয়ার্ত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: শীত + ঋত। এটি একটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।
সন্ধির নিয়ম অনুযায়ী, অ-কার (শীত্+অ) বা আ-কারের পরে যদি 'ঋত' শব্দটি থাকে, তবে উভয় মিলে 'আর' হয়। এই 'আর'-এর আগের ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয় এবং (রেফ্) পরের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে।
সুতরাং: শীত + ঋত = শীতার্ত। (এখানে অ + ঋ = আর)
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ 'আর্ত' (অর্থ: পীড়িত/দুঃখিত) দিয়ে এই বিশেষ সন্ধিটি গঠিত হয় না, বরং 'ঋত' অংশটি দ্বারা এটি গঠিত হয়।
38

“খন্ড প্রলয়” প্রবাদটির প্রয়োগিক অর্থ

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভয়ংকর ঘটনা
  2. মহা বড় ঝাপটা
  3. তুমুল কাণ্ড
  4. কথা কাটাকাটি

সঠিক উত্তর: গ

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: তুমুল কাণ্ড
প্রবাদ প্রবচন বা বাগধারা হলো এমন বিশেষ শব্দগুচ্ছ, যার আভিধানিক অর্থের চেয়ে প্রয়োগিক অর্থটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
“খন্ড প্রলয়” দ্বারা আক্ষরিক অর্থে ছোট আকারের মহাপ্রলয় বোঝালেও, এর প্রায়োগিক অর্থ হলো কোনো স্থানে বা পরিবেশে আকস্মিক তুমুল হৈ-চৈ, গোলমাল বা অত্যন্ত শোরগোল সৃষ্টি হওয়া।
তাই ‘খন্ড প্রলয়’ প্রবাদটির যথার্থ অর্থ হলো তুমুল কাণ্ড
39

‘সমাস’ শব্দের অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সংযোজন
  2. সংশ্লেষণ
  3. বিশ্লেষণ
  4. সংক্ষেপণ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘সমাস’ শব্দের অর্থ সংক্ষেপণ, মিলন বা একাধিক পদের একপদীকরণ। সমাস শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্বে আলোচিত হয়। সমাস সাধারণত ৬ প্রকার।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সংক্ষেপণ
‘সমাস’ শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো সংক্ষেপণ (সংক্ষিপ্ত করা), মিলন বা একাধিক পদের একপদীকরণ।
বাংলা ব্যাকরণে সমাসের প্রধান উদ্দেশ্যই হলো একাধিক পদকে একটি পদে পরিণত করে বাক্যকে সংক্ষিপ্ত করা, যাতে ভাষার শ্রুতিমাধুর্য বাড়ে। তাই সমাসের মূল অর্থ হলো সংক্ষেপণ।
40

কোন দুটি বর্ণের পর ‘ণ’ ও ‘ষ’ হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ঋ, র
  2. ট, ঠ
  3. ই, উ
  4. ত, থ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘ণ’ ব্যবহারের নিয়মানুযায়ী ঋ, র, ষ –এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: কারণ, ভীষণ, তৃণ, বর্ষা ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো এবং । এই দুটি বর্ণের পরই সাধারণত বাংলা ব্যাকরণে তৎসম (সংস্কৃত) শব্দে মূর্ধন্য ণ এবং মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয়।
১. ণ-ত্ব বিধান: ঋ, র, ষ -এর পরে সর্বদা মূর্ধন্য ণ ব্যবহৃত হয়। যেমন: কারণ, ভীষণ, তৃণ ইত্যাদি। এখানে ঋ এবং র সরাসরি প্রযোজ্য।
২. ষ-ত্ব বিধান: অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি (যেমন ই, উ) অথবা -এর পরে কতকগুলো ধাতুতে মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয়। যেমন: বর্ষা, কৃষক ইত্যাদি।
সুতরাং, (ঋ-কার রূপে) এবং (র-ফলা রূপে) এই দুটি বর্ণই ‘ণ’ ও ‘ষ’ উভয়ের ব্যবহারের ক্ষেত্রে মৌলিক নিয়ামক হিসেবে কাজ করে, যা অপশনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সঠিক।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
41

‘গায়ক’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গো + অক
  2. গা + অক
  3. গা + য়ক
  4. গৈ + অক

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

এ, ঐ, ও ঔ কারের পরে এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়। যেমন: গায়ক = গৈ + অক; নায়ক = নৈ + অক; পবন = পো + অন; লবণ = লো + অন প্রভৃতি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো গৈ + অক। এটি বাংলা ব্যাকরণের স্বরসন্ধির অন্তর্গত অয়াদি সন্ধির উদাহরণ।
অয়াদি সন্ধির নিয়ম: ঐ-কারের (ঐ) পরে স্বরধ্বনি (যেমন ‘অ’) থাকলে ঐ স্থানে ‘আয়’ ধ্বনি হয়।
এখানে: গৈ + অক = গ্ + ঐ + অ + ক। ঐ + অ মিলে ‘আয়’ হওয়ায় শব্দটি হয় গায়ক
যদি 'এ' কার (এ) থাকত, তবে 'অয়' ধ্বনি হতো (যেমন: শে + অন = শয়ন)।
42

শুদ্ধ বানান কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মুমুর্ষূ
  2. মুমূর্ষু
  3. মুমুর্ষু
  4. মূমর্ষ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বানান: ম্রিয়মাণ, মুহূর্ত, মুহুর্মুহু, মহত্ত্ব, মাহাত্ম, মন্বন্তর, মরীচিকা, মর্ত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো মুমূর্ষু (অপশন খ)। এটি একটি বহুবার পরীক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ বানান।
মুমূর্ষু শব্দের অর্থ হলো মরণাপন্ন বা মৃত্যুর কাছাকাছি অবস্থা।
বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী, এই শব্দটি লেখার সময় উ-কার (ু) এবং ঊ-কার (ূ)-এর সঠিক প্রয়োগ জরুরি।
বানানটিতে প্রথম 'মু'-তে হ্রস্ব-উকার (ু), দ্বিতীয় 'মূ'-তে দীর্ঘ-ঊকার (ূ) এবং শেষের 'র্ষু'-তে আবার হ্রস্ব-উকার (ু) ব্যবহৃত হয়।
অর্থাৎ, মু (ু) + মূ (ূ) + র্ষু (ু)
43

প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ড্যাশ
  2. প্রশ্নচিহ্ন
  3. কোলন
  4. সেমিকোলন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্যাক্যের শেষে বসানো বিরামচিহ্নগুলোকে বলে প্রান্তিক বিরামচিহ্ন। যেমন: প্রশ্নচিহ্ন, দাঁড়ি প্রভৃতি।

ব্যাখ্যা

যেসব বিরাম চিহ্ন বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে এবং বাক্যের শেষে ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন (Terminal Punctuation) বলে।
বাংলা ভাষায় প্রধানত তিনটি প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন রয়েছে: দাঁড়ি (।), প্রশ্নচিহ্ন (?) এবং বিস্ময়সূচক চিহ্ন (!)
প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে কেবল প্রশ্নচিহ্ন বাক্যের শেষে বসে এবং এটি প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন।
ড্যাশ (—), কোলন (:) এবং সেমিকোলন (;) এগুলো মূলত বাক্যের মাঝখানে বা সংযোগ রক্ষার্থে ব্যবহৃত হয়।
44

চাউল, চিনি, পানি এগুলো কী বাচক বিশেষ্য?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বস্তুবাচক
  2. সমষ্টিবাচক
  3. ব্যক্তিবাচক
  4. জাতিবাচক

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

উপদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায় এমন বিষেশ্য পদগুলোকে বলা হয় বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য। যেমন: চাউল, চিনি, পানি, লবণ, বই প্রভৃতি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো বস্তুবাচক বিশেষ্য
যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো উপাদান বা পদার্থের নাম বোঝায়, যা গণনা করা যায় না, শুধু ওজন বা পরিমাপ করা যায়, তাকে বস্তুবাচক বিশেষ্য (Material Noun) বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলা হয়।
এখানে, চাউল, চিনি ও পানি—এগুলো নির্দিষ্ট পদার্থ এবং এদের পরিমাপ করা সম্ভব, কিন্তু পৃথকভাবে গণনা করা সম্ভব নয়।
অন্যান্য অপশন কেন ভুল:
সমষ্টিবাচক: একজাতীয় বহু ব্যক্তি বা বস্তুর সমষ্টি বোঝায় (যেমন: জনতা, পাল, ঝাঁক)।
ব্যক্তিবাচক: কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, স্থান বা কালের নাম বোঝায় (যেমন: ঢাকা, নজরুল)।
জাতিবাচক: একই শ্রেণির সাধারণ নাম বোঝায় (যেমন: মানুষ, নদী, পর্বত)।
45

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. যৌগিক বাক্য
  2. মিশ্র বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. জটিল বাক্য

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে। যেমন : যদি মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ুর নৃত্য করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: জটিল বাক্য (Complex Sentence)
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্য (Main Clause) এবং তার ওপর নির্ভরশীল (সাপেক্ষ) এক বা একাধিক আশ্রিত খণ্ডবাক্য (Dependent Clause) থাকে, তাকে জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য বলে।
এখানে, 'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে' এটি হলো আশ্রিত বা অপ্রধান বাক্য, এবং 'তবে একলা চলো রে' এটি হলো প্রধান বাক্য।
এই দুটি বাক্য সাপেক্ষ যোজক/সর্বনাম (যদি... তবে) দ্বারা যুক্ত হয়েছে, যা জটিল বাক্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
46

ধ্বনির পরিবর্তন কত প্রকার?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তিন প্রকার
  2. চার প্রকার
  3. পাঁচ প্রকার
  4. দুই প্রকার

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ধ্বনি পরিবর্তন নানা প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হলেও ধ্বনির পরিবর্তন মূলত তিন প্রকার। যথ: আদি, মধ্য, অন্ত্য।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো তিন প্রকার। ধ্বনি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া বা কারণ অনেক হলেও, পরিবর্তনের স্থান অনুসারে ধ্বনি পরিবর্তনকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
এই তিনটি প্রকারভেদ হলো:
১. আদি ধ্বনি পরিবর্তন (শব্দের শুরুতে ধ্বনির পরিবর্তন। যেমন: স্কুল > ইস্কুল, এখানে আদি স্বরাগম ঘটেছে।)
২. মধ্য ধ্বনি পরিবর্তন (শব্দের মধ্যবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন। যেমন: ধর্ম > ধরম, এখানে মধ্যস্বরাগম বা স্বরভক্তি ঘটেছে।)
৩. অন্ত্য ধ্বনি পরিবর্তন (শব্দের শেষ ধ্বনির পরিবর্তন। যেমন: দিশ > দিশা, এখানে অন্ত্য স্বরাগম ঘটেছে।)
47

‘উলুখাগড়া’ বাগধারাটির অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রাজাবাদশা
  2. এক শ্রেণিভুক্ত
  3. লাকড়ি
  4. গুরুত্বহীন লোক

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘উলুখাগড়া’ বলতে তুচ্ছ বা গুরুত্বহীন মানুষ বোঝায়।

ব্যাখ্যা

বাগধারা বা বাক্‌বিধি হলো ভাষার বিশেষ অর্থ প্রকাশক শব্দ বা শব্দসমষ্টি। এগুলো আভিধানিক অর্থের বাইরে একটি বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।
‘উলুখাগড়া’ বাগধারাটির আক্ষরিক অর্থ হলো 'উলু' ও 'খাগড়া' নামক তুচ্ছ ধরণের ঘাস। এই ঘাসগুলো সহজেই ভেঙে যায় বা পচে যায় এবং এদের কোনো মূল্য নেই।
আলঙ্কারিক অর্থে, এই বাগধারাটি দ্বারা সমাজের তুচ্ছ, নগণ্য বা গুরুত্বহীন মানুষ বোঝানো হয়, যাদের উপর আঘাত হানলেও কেউ প্রতিবাদ করে না বা যাদের সহজেই উপেক্ষা করা যায়।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো গুরুত্বহীন লোক
48

কষ্টে লাভ হয় যা-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সুলভ
  2. দুর্লভ্য
  3. দূর্লভ
  4. দুর্লভ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

কিছু এক কথায় প্রকাশ: কষ্টে লাভ হয় যা – দুর্লভ। যা সহজে লাভ করা যায় – সুলভ। যা লাভ করা যায় না – অলভ্য।

ব্যাখ্যা

প্রদত্ত প্রশ্নটি 'এককথায় প্রকাশ' বা 'বাক্য সংকোচন'-এর অন্তর্গত।
“কষ্টে লাভ হয় যা” এর সঠিক এককথায় প্রকাশ হলো দুর্লভ। (Option 4)
এখানে 'দুর্-' উপসর্গটি কষ্ট বা অভাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে:
সুলভ: এর অর্থ হলো যা সহজে লাভ করা যায়। এটি দুর্লভের বিপরীত শব্দ।
দূর্লভ (দীর্ঘ ঊ-কার দিয়ে) এবং দুর্লভ্য বানানগতভাবে ভুল।
49

জন্মহীন মৃত্যুহীন–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আমৃত্যু
  2. অজ
  3. অজেয়
  4. অয

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কিছু এক কথায় প্রকাশ: জন্মহীন মৃত্যুহীন – অজ। মৃত্যু পর্যন্ত – আমৃত্যু। যার দুবার জন্ম হয় – দ্বিজ। জয় করা যায় না এমন – অজেয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো অজ
এককথায় প্রকাশ-এর নিয়ম অনুসারে, যার জন্ম নেই বা জন্মহীন এবং মৃত্যুহীন—তাকে অজ বলা হয়। এটি মূলত ঈশ্বর বা ব্রহ্মার প্রতি ইঙ্গিত করে।
ব্যাকরণে 'অ' উপসর্গটি 'না' বা 'নেই' অর্থে ব্যবহৃত হয়, এবং 'জ' শব্দটি জন্ম (জন্মেছে) অর্থে ব্যবহৃত হয়। তাই 'অজ' মানে যার জন্ম নেই।
অন্যান্য অপশনগুলোর অর্থ জানা জরুরি:
ক. আমৃত্যু: মৃত্যু পর্যন্ত।
গ. অজেয়: জয় করা যায় না এমন (যা জয় করা কঠিন)।
50

‘গাছপাথর’ বাগধারাটির অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বাড়াবাড়ি করা
  2. ভূমিকা করা
  3. হিসাব নিকাশ
  4. অসম্ভব বস্তু

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা: গাছপাথর → হিসাব-নিকাশ; গৌরচন্দ্রিকা→ ভূমিকা করা; কাঁঠালের আমসত্ত্ব → অলীক বস্তু।

ব্যাখ্যা

‘গাছপাথর’ বাংলা ভাষার একটি সুপরিচিত বাগধারা। আভিধানিক অর্থে গাছ বা পাথর বোঝালেও, বাগধারা হিসেবে এর অর্থ হলো কোনো কিছুর পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব-নিকাশ বা সম্পূর্ণ হিসেব মিলিয়ে দেখা।
যেমন: 'সবকিছু গাছপাথর মিলিয়ে তবেই টাকাটা দেবো।' এই বাক্যে গাছপাথর অর্থ হচ্ছে ভালো করে যাচাই-বাছাই করা বা হিসাব করা।
সঠিক উত্তর হলো: হিসাব নিকাশ (অপশন ৩)।
উল্লেখ্য, 'ভূমিকা করা' বাগধারাটির অর্থ হলো গৌরচন্দ্রিকা এবং 'অসম্ভব বস্তু' বাগধারাটির অর্থ হলো কাঁঠালের আমসত্ত্ব
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
51

‘আগ্নেয়’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অগ্নি + ষ্ণেয়
  2. অগ্নি + এয়
  3. অগ্নি + য়
  4. অগ্নী + এয়

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘ষ্ণেয়’ (এয়) প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ: অগ্নি+ ষ্ণেয় = আগ্নেয়, ভগিনী + ষ্ণেয় = ভাগিনেয়, বিমাতৃ (বিমাতা) + ষ্ণেয়= বৈমাত্রেয় ।

ব্যাখ্যা

‘আগ্নেয়’ শব্দটি গঠিত হয়েছে অগ্নি শব্দের সাথে ষ্ণেয় (তদ্ধিত) প্রত্যয় যোগ করে। এটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।
নিয়ম অনুযায়ী, যখন কোনো শব্দের সাথে ‘ষ্ণেয়’ প্রত্যয় যুক্ত হয়, তখন শব্দের আদি স্বরের বৃদ্ধি ঘটে। যেমন, ‘অগ্নি’ শব্দের শুরুতে থাকা ‘অ’ (যা ইকার বা উকারকে নির্দেশ করে) বৃদ্ধি পেয়ে ‘আ’-তে রূপান্তরিত হয় এবং প্রত্যয়ের অংশটি ‘এয়’ হিসেবে যুক্ত হয়।
ফলে, অগ্নি + ষ্ণেয় = আগ্নেয় (অগ্নি সংক্রান্ত)।
অন্যান্য বিকল্পগুলি ভুল, কারণ ব্যাকরণের নিয়মে মূল শব্দ ‘অগ্নি’ এবং প্রত্যয় ‘ষ্ণেয়’ ছাড়া শব্দটি গঠিত হয় না।
52

‘শর্বরী’ এর বিপরীত শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দিবস
  2. রজনী
  3. দীন
  4. রাত

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

শর্বরী এর সমার্থক শব্দ – রাত, রজনী, নিশা, যামিনী। তাই এর বিপরীত শব্দ হবে – দিন, দিবস, দিনমান, অহ প্রভৃতি।

ব্যাখ্যা

‘শর্বরী’ শব্দটির অর্থ হলো রাত্রি বা রাত। এটি সংস্কৃত থেকে আসা একটি তৎসম শব্দ।
বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, শব্দের অর্থের বিপরীত ভাব প্রকাশ করে যে শব্দ, তাকে বিপরীত শব্দ বলে।
যেহেতু শর্বরী মানে রাত, তাই এর বিপরীত শব্দ হবে দিন বা দিবস। অপশনসমূহের মধ্যে ‘দিবস’ শব্দটি সঠিক বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে।
খেয়াল রাখবেন, অপশনে থাকা রজনী এবং রাত হলো শর্বরীর সমার্থক শব্দ, তাই এগুলো বিপরীত শব্দ হতে পারে না।
53

‘গবেষণা’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গব + এষণা
  2. গো + এষণা
  3. গো + ষণা
  4. গ + এষণা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

গবেষনা = গো + এষণা; এরূপে গঠিত আরও কিছু সন্ধি: পো + ইত্র = পবিত্র; নৌ + ইক = নাবিক; গো + আদি = গবাদি; নৈ + অক = নায়ক প্রভৃতি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গো + এষণা। এটি বাংলা ব্যাকরণের স্বরসন্ধি-র একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা 'অয়াদি সন্ধি' নামে পরিচিত।
নিয়ম: ‘ও’-কারের (O) পর যদি অন্য কোনো স্বরধ্বনি (এখানে 'এ') আসে, তবে ‘ও’ এবং পরের স্বর মিলে ‘অব্’ হয়।
এখানে: গো + এষণা ightarrow ightarrow (গো-এর ‘ও’ ধ্বনিটি ‘অব্’-এ রূপান্তরিত হয়) ightarrow ightarrow গব্ + এষণা = গবেষণা।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ 'গব + এষণা' বা 'গ + এষণা' কোনো ব্যাকরণসম্মত সন্ধির নিয়ম অনুসরণ করে না।
54

‘পথ’ শব্দের সমার্থক শব্দ হচ্ছে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সমরণি
  2. সরণি
  3. সরণী
  4. স্মরণী

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘পথ’ শব্দের সমার্থক: রাস্তা, মার্গ, সরণি, সড়ক।

ব্যাখ্যা

‘পথ’ শব্দের অর্থ হলো রাস্তা, মার্গ বা চলাচলের স্থান।
এর প্রধান সমার্থক শব্দগুলো হলো: রাস্তা, মার্গ, সড়ক, এবং সরণি
এখানে সঠিক উত্তরটি হলো সরণি
মনে রাখবেন, ‘সরণি’ (ন-তে ই-কার) সঠিক বানান, যা পথ বা রাস্তা অর্থে ব্যবহৃত হয়।
অপশন ‘সরণী’ (ন-তে ঈ-কার) বানানটি শুদ্ধ নয় বা অপ্রচলিত।
‘স্মরণী’ শব্দের অর্থ হলো স্মৃতি বা স্মৃতিচিহ্ন সম্পর্কিত, যা সম্পূর্ণরূপে ভিন্ন।
55

কোনটি প্রাদি সমাসের উদাহরণ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গৃহস্থ
  2. ছা-পোকা
  3. উপকূল
  4. প্রগতি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎপ্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে বলে প্রাদি সমাস। যেমন: প্রগতি – প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি; অনুতাপ – অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ; প্রভাত – প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) যে ভাত; (আলোকিত) পরিভ্রমণ = পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: প্রগতি
যে সমাসে প্র, প্রতি, অনু, পরি, সু, বি ইত্যাদি অব্যয় বা উপসর্গ (indecclinable words/Prepositions) এর সাথে কৃৎপ্রত্যয় সাধিত বিশেষ্য পদের সমাস হয়, তাকে প্রাদি সমাস বলে।
যেমন: প্রগতি এর ব্যাসবাক্য হলো – প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি। এখানে 'প্র' একটি অব্যয়।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন সমাসের উদাহরণ:
ক. উপকূল: কূলের সমীপে (অব্যয়ীভাব সমাস)।
খ. গৃহস্থ: গৃহে থাকে যে (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)।
56

শুদ্ধ বানান কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিভীষিকা
  2. বিভিষিকা
  3. বিভীষীকা
  4. বিভিষীকা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

কতিপয় শুদ্ধ বানান: বিবদমান, বিদুষী, বিদূষক, বিদ্বজ্জন, বিদ্বান, বিপণন, বিপণি, বাল্মীকি, বীভৎস ।

ব্যাখ্যা

সঠিক বানানটি হলো বিভীষিকা। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বহুবার পরীক্ষিত বানান।
এই বানানে 'ই'কার (হ্রস্ব) এবং 'ঈ'কার (দীর্ঘ) এর সঠিক ব্যবহার মনে রাখা জরুরি।
সঠিক বিন্যাসটি হলো: প্রথম বর্ণে হ্রস্ব ই (বি), দ্বিতীয় বর্ণে দীর্ঘ ঈ (ভী), এবং তৃতীয় বর্ণে আবার হ্রস্ব ই (ষি)।
সুতরাং, সঠিক ক্রমটি দাঁড়ায়: বি (ই) + ভী (ঈ) + ষি (ই) + কা
57

‘সুনাম’ শব্দের ‘সু' কোন উপসর্গ

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সংস্কৃত
  2. বাংলা
  3. আরবি
  4. ফারসি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

“আ, সু, বি, নি” উপসর্গ ৪টি বাংলা ও সংস্কৃত উভয় উপসর্গেই রয়েছে। সুনাম যেহেতু বাংলা শব্দ– তাই এর ‘সু’ উপসর্গটি বাংলা উপসর্গ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বাংলা। বাংলা ভাষায় মোট ২১টি খাঁটি বাংলা উপসর্গ এবং ২০টি সংস্কৃত উপসর্গ রয়েছে।
উপসর্গ ‘সু’ বাংলা ও সংস্কৃত উভয় প্রকার উপসর্গেই বিদ্যমান। এই ধরনের উপসর্গগুলো কোন শ্রেণির তা নির্ণয় করা হয়, তারা যে মূল শব্দের সাথে যুক্ত হয়েছে, সেই মূল শব্দের প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে।
এখানে ‘সুনাম’ শব্দটি তৈরি হয়েছে ‘সু’ (উপসর্গ) + ‘নাম’ (মূল শব্দ)। ‘নাম’ শব্দটি একটি খাঁটি বাংলা শব্দ
যেহেতু উপসর্গটি খাঁটি বাংলা শব্দের পূর্বে বসেছে, তাই এই ‘সু’ উপসর্গটিকে বাংলা উপসর্গ হিসেবে গণ্য করা হয়।
58

বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাবিহীন বর্ণ কয়টি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১০
  2. ১১

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ব্যাখ্যা

বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণের সংখ্যা ৫০টি। এই বর্ণগুলোকে মাত্রার ব্যবহারের ভিত্তিতে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়: পূর্ণমাত্রা, অর্ধমাত্রা ও মাত্রাবিহীন।
যে সকল বর্ণের উপরে কোনো রেখা বা মাত্রা (Head-stroke) ব্যবহৃত হয় না, তাদের মাত্রাবিহীন বর্ণ (Matra-less letters) বলে।
বাংলায় মাত্রাবিহীন বর্ণ মোট ১০টি
এগুলি হলো: স্বরবর্ণ ৪টি (এ, ঐ, ও, ঔ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
59

শুদ্ধ বানান কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সমিচীন
  2. সমীচীন
  3. সমিচিন
  4. সমীচিন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বানান: উদীচী, প্রতীকী, প্রতীতি, প্রতীচী, প্রত্যুৎপন্নমতি, ভাগীরথী, হরীতকী।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো (খ) সমীচীন। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বানান যা বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় বারবার আসে।
সমীচীন অর্থ হলো—উপযুক্ত, সংগত বা ঠিক।
বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, এই শব্দটি লিখতে গেলে উভয় স্থানেই দীর্ঘ-ঈ কার (ী) ব্যবহার করতে হয়। অর্থাৎ, ম-এর সাথে দীর্ঘ-ঈ এবং চ-এর সাথে দীর্ঘ-ঈ।
ভুল অপশনগুলো (যেমন: সমিচীন, সমীচিন) সাধারণত হ্রস্ব ই-কার (ি) ব্যবহারের কারণে অশুদ্ধ হয়েছে।
60

‘রবীন্দ্র’- এর সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রবি + ঈন্দ্র
  2. রব + ইন্দ্র
  3. রবী + ইন্দ্র
  4. রবি + ইন্দ্র

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

রবীন্দ্র = রবি + ইন্দ্র। ই-কার কিংবা ঈ-কারের পরে ই/ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঈ কার হয় এবং তা পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়। যেমন: সতীন্দ্র = সতী + ইন্দ্র; পরীক্ষা = পরি + ঈক্ষা; সতীশ = সতী + ঈশ; অতীত = অতি + ইত; প্রভৃতি।

ব্যাখ্যা

সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হলো: রবি + ইন্দ্র। (অপশন ৪)
এটি স্বরসন্ধির দীর্ঘ স্বরসন্ধি (বা সমস্বর সন্ধি) নিয়মের একটি উদাহরণ।
নিয়ম অনুসারে, ই-কার (ি) বা ঈ-কারের (ী) পরে যদি আবার ই-কার বা ঈ-কার থাকে, তবে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার (ী) হয় এবং তা পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে যুক্ত হয়।
এখানে: রবি (ই) + ইন্দ্র (ই) = রবীন্দ্র (ঈ)
অন্যদিকে, 'রবি + ঈন্দ্র' বা 'রবী + ইন্দ্র' সঠিক নয়, কারণ 'রবি' শব্দের অর্থ সূর্য এবং 'ইন্দ্র' শব্দের অর্থ প্রধান বা শ্রেষ্ঠ, যা মূল শব্দের অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
61

বিরাম চিহ্নের অপর নাম কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ছেদ চিহ্ন
  2. স্থির চিহ্ন
  3. বিশ্রাম চিহ্ন
  4. বিভাজন চিহ্ন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বিরামচিহ্নের অন্যনামগুলো হচ্ছে ছেদচিহ্ন/যতিচিহ্ন। বাংলা ভাষায় যতিচিহ্নের প্রচলন করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ছেদ চিহ্ন
বিরাম চিহ্নের প্রধান দুটি নাম হলো— ছেদ চিহ্ন এবং যতি চিহ্ন। এই চিহ্নগুলো মূলত বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরতে এবং বাক্য পড়ার সময় পাঠককে নির্দিষ্ট স্থানে থামা বা বিশ্রাম নেওয়ার নির্দেশনা দিতে ব্যবহৃত হয়।
যদিও বিরাম চিহ্ন অর্থ 'বিশ্রাম চিহ্ন', কিন্তু ব্যাকরণের প্রামাণ্য পরিভাষায় এটিকে ছেদ চিহ্ন বা যতি চিহ্ন হিসেবেই গ্রহণ করা হয়।
62

ইতিহাস রচনা করেন যিনি -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ইতিহাস লেখক
  2. ঐতিহাসিক
  3. ইতিহাসবেত্তা
  4. ঐতিহাসিকতা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কিছু এক কথায় প্রকাশ: ইতিহাস রচনা করেন যিনি – ঐতিহাসিক। ইতিহাস বিষয়ে অভিজ্ঞ যিনি – ইতিহাসবেত্তা।

ব্যাখ্যা

এই প্রশ্নটি এককথায় প্রকাশ অংশ থেকে এসেছে।
যিনি ইতিহাস বা অতীত ঘটনা নিয়ে গবেষণা করেন এবং তা লেখেন, তাকে পরিভাষায় ঐতিহাসিক বলা হয়। তাই সঠিক উত্তর হলো (খ) ঐতিহাসিক
মনে রাখবেন, ইতিহাস সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন যিনি, তিনি হলেন ইতিহাসবেত্তা। যদিও দুটি কাছাকাছি, কিন্তু 'রচনা করেন যিনি' এর জন্য সঠিক ও নির্দিষ্ট শব্দটি হলো ঐতিহাসিক
63

কোনটি শুদ্ধ বাক্য?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আমার বড় দূরাবস্থা
  2. আমার বড় দুরবস্থা
  3. আমার বড় দূরবস্থা
  4. আমার বড় দুরাবস্থা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক বাক্যটি হলো: আমার বড় দুরবস্থা। এটি ব্যাকরণের 'শুদ্ধ বানান' সংক্রান্ত একটি প্রশ্ন।
এখানে মূল ভুলটি হয়েছে 'দুরবস্থা' শব্দটি লেখায়। 'দুরবস্থা' শব্দটি গঠিত হয়েছে দুর + অবস্থা = দুরবস্থা।
'দুর' হলো একটি উপসর্গ, যা 'খারাপ' বা 'কষ্টকর' অর্থে ব্যবহৃত হয়। যখন এটি উপসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন সর্বদা হ্রস্ব উ-কার (ু) হয়।
অন্যদিকে, 'দূর' (দীর্ঘ ঊ-কার) অর্থ হলো দূরত্ব বা ফারাক। যেহেতু এখানে খারাপ অবস্থা বোঝানো হচ্ছে, তাই 'দুরবস্থা' (হ্রস্ব উ-কার) শব্দটি শুদ্ধ।
সুতরাং, সঠিক বানানসহ বাক্যটি হলো— আমার বড় দুরবস্থা
64

‘অক্ষির সমীপে’র সংক্ষেপ হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নিরপেক্ষ
  2. পরোক্ষ
  3. সমক্ষ
  4. প্রত্যক্ষ

সঠিক উত্তর: গ

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো সমক্ষ
এটি ব্যাকরণের অব্যয়ীভাব সমাসের একটি পরিচিত উদাহরণ। এই সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রধান হয়।
ব্যাসবাক্যে যখন 'সমীপে' (নিকটে) বোঝায়, তখন সংক্ষেপিত বা সমস্ত পদে 'সম' যুক্ত হয়। তাই, 'অক্ষির সমীপে' = সমক্ষ
অন্যদিকে, প্রত্যক্ষ মানে হলো ‘চোখের সামনে বা সম্মুখে’। পরোক্ষ মানে হলো ‘চোখের আড়ালে’ বা ‘অন্যের মাধ্যমে’।
65

‘অলীক’-এর বিপরীত শব্দ-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সত্য
  2. মিথ্যা
  3. আশা
  4. অনীক

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

অলীক শব্দের অর্থ মিথ্যা/অসত্য। তাই এর বিপরীত শব্দ হবে সত্য।

ব্যাখ্যা

‘অলীক’ শব্দের অর্থ হলো মিথ্যা, অসত্য বা যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই (যেমন: অলীক কল্পনা)। এটি সাধারণত কাল্পনিক বা অবাস্তব অর্থে ব্যবহৃত হয়।
সুতরাং, যে শব্দের অর্থ বাস্তব বা সত্য, সেটিই হবে এর বিপরীত শব্দ।
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে ‘সত্য’ হলো অলীক-এর সঠিক বিপরীত শব্দ।
অন্যদিকে, ‘মিথ্যা’ শব্দটি অলীক-এর বিপরীত নয়, বরং সমার্থক শব্দ।
66

‘আমি,’ ‘আমরা’-এগুলো কোন ধরনের পদ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ব্যাতিহারিক
  2. সাকুল্যবাচক
  3. আত্মবাচক
  4. ব্যক্তিবাচক

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওরা, ও প্রভৃতি ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম পদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ব্যক্তিবাচক
যে সর্বনাম পদ কোনো ব্যক্তি বা পুরুষকে (Person) নির্দেশ করে, তাকে ব্যক্তিবাচক সর্বনাম পদ বা পুরুষবাচক সর্বনাম পদ বলা হয়।
‘আমি’ শব্দটি বক্তাকে (উত্তম পুরুষ) এবং ‘আমরা’ শব্দটি বক্তা ও তাঁর সঙ্গীদের নির্দেশ করে, তাই এরা ব্যক্তিবাচক সর্বনাম।
আত্মবাচক সর্বনাম (Reflexive) দ্বারা নিজের কাজকে বোঝায় (যেমন: নিজে, স্বয়ং)।
সাকুল্যবাচক সর্বনাম (Collective) দ্বারা সমষ্টিকে বোঝায় (যেমন: সকলে, সমস্ত)।
67

ভাষার মূল উপকরণ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শব্দ
  2. বাক্য
  3. ধ্বনি
  4. বর্ণ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ভাষার মূল উপকরণ বাক্য। ভাষার মূল উপাদান ধ্বনি। শব্দ, বাক্যের মৌলিক উপাদান।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো বাক্য
ভাষা হলো মানুষের মনের ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। মনের ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় বাক্যের মাধ্যমে। এই কারণে বাক্যকে ভাষার মূল উপকরণ বা চালিকাশক্তি বলা হয়।
অন্যদিকে, অপশনগুলোতে থাকা অন্যান্য বিষয়গুলো ভাষার একেকটি পর্যায়ক্রমিক উপাদান:
  • ধ্বনি: ভাষার মূল এবং ক্ষুদ্রতম উপাদান (Basic element)।
  • শব্দ: ধ্বনি বা বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত অর্থপূর্ণ একক (Smallest meaningful unit)। এটি বাক্যের মৌলিক উপাদান
সুতরাং, ভাব প্রকাশের পূর্ণতা দিতে পারে কেবল বাক্যই, তাই এটি মূল উপকরণ।
68

শুদ্ধ বানান কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আশক্তি
  2. আষক্তি
  3. আসক্তী
  4. আসক্তি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বানান : আর্দ্র, আহ্নিক, আবিষ্কার, আশ্বিন, আশীবিষ, আশীর্বাদ, আস্বাদন, আহ্বায়ক।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো আসক্তি। এটি একটি সংস্কৃত তদ্ভব শব্দ, যার অর্থ হল গভীরভাবে আকৃষ্ট হওয়া বা অনুরাগ।
বাংলা ব্যাকরণের বানান বিধি অনুযায়ী, 'আসক্তি' শব্দটি সঠিক। এখানে দন্ত্য-স (স) এবং হ্রস্ব ই-কার (ি) ব্যবহৃত হয়েছে।
ভুল বানানগুলো হওয়ার কারণ:
আষক্তি: এখানে মূর্ধন্য-ষ (ষ) ব্যবহৃত হয়েছে, যা এই শব্দের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয়।
আসক্তী: এখানে দীর্ঘ ঈ-কার (ী) ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভুল। সাধারণত 'ক্তি' প্রত্যয়যুক্ত শব্দে হ্রস্ব-ইকার হয়।
69

‘ষোড়শ’- এর সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ষড় + অশ
  2. ষড় + দশ
  3. ষট + অশ
  4. ষট্ + দশ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ষোড়শ = ষট্ + দশ। এটা নিয়মঅনুসারে ব্যাখ্যা করা যায় না বলে একে বলে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি। যেমন: বনস্পতি = বন্ + পতি; আশ্চর্য = আ + চর্য; গোষ্পদ= গো + পদ; পরস্পর = পর্ + পর; একাদশ = এক্ + দশ প্রভৃতি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ষট্ + দশ
‘ষোড়শ’ শব্দটি হলো ব্যঞ্জন সন্ধি-এর উদাহরণ, কিন্তু এটি সাধারণ নিয়মের অধীনে পড়ে না।
যেসব সন্ধি ব্যাকরণের কোনো সাধারণ নিয়ম মানে না, তাদের নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলা হয়। এগুলি সরাসরি মুখস্থ রাখতে হয়।
এখানে 'ট্' এবং 'দ' মিলে 'ড়' হয়েছে, যা ব্যতিক্রমী নিয়ম। অন্যান্য অপশনগুলো ব্যাকরণগতভাবে ভুল বা অর্থহীন।
70

নিত্য সমাসের উদাহরণ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অপব্যয়
  2. বাগদত্তা
  3. দেশান্তর
  4. বনজ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে বলে নিত্যসমাস। যেমন: দেশান্তর (অন্য দেশ); গ্রামান্তর, আমরা, কালসাপ, বিরানব্বই, দর্শনমাত্র প্রভৃতি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: দেশান্তর। এটি নিত্য সমাসের উদাহরণ।
নিত্য সমাস: যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো সবসময় সমাসবদ্ধ থাকে এবং সাধারণ নিয়মে কোনো ব্যাসবাক্য গঠন করা যায় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। ব্যাসবাক্য করতে গেলে অন্য পদ যোগ করতে হয় অথবা সমাসের অর্থকে অবলম্বন করে ব্যাসবাক্য গঠন করা হয়।
দেশান্তর এর ব্যাসবাক্য হলো: অন্য দেশ। এখানে 'অন্য' শব্দটি যোগ করতে হয়েছে, যা নিত্য সমাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

অন্যদিকে,
অপব্যয়: নঞ তৎপুরুষ সমাস (নয় ব্যয়)
বাগদত্তা: করণ তৎপুরুষ সমাস (বাক্ দ্বারা দত্তা)
বনজ: উপপদ তৎপুরুষ সমাস (বনে জাত যা)
71

‘দিন যায় কথা থাকে’ –এখানে ‘যায়’ কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গমন
  2. অতিবাহিত
  3. বলা
  4. ধারাবাহিকতা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

এখানো ‘যায়’ ‘অতিবাহিত’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কারন দিন এখানে পার হয়ে যাচ্ছে এমনটা বুঝায়। তবে অনেকে ‘ধারাবাহিকতা’ উত্তর হবে বলে দাবী করেন।

ব্যাখ্যা

‘দিন যায় কথা থাকে’ একটি প্রবাদ বাক্য। এর অর্থ হলো সময় দ্রুত ফুরিয়ে যায় বা পার হয়ে যায়, কিন্তু ভালো বা খারাপ কাজ অথবা গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলি চিরকাল টিকে থাকে।
এখানে ‘দিন যায়’ বলতে দিনের সময়কাল পার হয়ে যাওয়া বা শেষ হয়ে যাওয়া বোঝানো হয়েছে। এই কারণে ‘যায়’ ক্রিয়াটি অতিবাহিত (Elapsed/Passed) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
যদিও কিছু ব্যাকরণবিদ একে ‘ধারাবাহিকতা’ অর্থেও গণ্য করেন, কিন্তু পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় পার হয়ে যাওয়া বা অতিক্রান্ত হওয়া অর্থেই ‘অতিবাহিত’ শব্দটি সর্বজনস্বীকৃত এবং সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য
72

‘কুসুমিত’ শব্দের প্রকৃতি- প্রত্যয় কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কুসুম + ত
  2. কুসুম + ইত
  3. কুসুম + ঈত
  4. কুসুম + উত

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কুসুম + ইত = কুসুমিত (তদ্ধিত প্রত্যয়)। এরকম: তরঙ্গ + ইত = তরঙ্গিত, কন্টক + ইত = কন্টকিত।

ব্যাখ্যা

‘কুসুমিত’ শব্দটি একটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
যে প্রত্যয় ধাতু বা ক্রিয়ামূলের পরিবর্তে শব্দমূল (যেমন: বিশেষ্য বা বিশেষণ) এর পরে যুক্ত হয়, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
এখানে মূল শব্দটি হলো ‘কুসুম’ (বিশেষ্য) এবং এর সাথে ‘ইত’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ‘কুসুমিত’ শব্দটি গঠিত হয়েছে।
‘ইত’ প্রত্যয় সাধারণত ‘আছে’ বা ‘যুক্ত’ অর্থ বোঝায়। যেমন: কুসুমিত = কুসুম (ফুল) আছে/যুক্ত যেখানে।
73

‘কিরণ’ –এর সমার্থক নয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রশ্মি
  2. প্রভা
  3. কর
  4. রবি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘কিরণ’ এর সমার্থক শব্দগুলো: রশ্মি, প্রভা, দীপ্তি, কর, বিভা, ময়ূখ, অংশু, জ্যোতি প্রভৃতি। অন্যদিকে রবি শব্দের সমার্থক – সূর্য, দিবাকর, প্রভাকর, দিনমনি, আদিত্য, অর্ক প্রভৃতি।

ব্যাখ্যা

প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছে কোনটি ‘কিরণ’ শব্দের সমার্থক নয়।
‘কিরণ’ শব্দের অর্থ হলো আলোর রেখা বা রশ্মি। প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে রশ্মি, প্রভা এবং কর—এই তিনটিই ‘কিরণ’ শব্দের সরাসরি সমার্থক।
কিন্তু, ‘রবি’ শব্দের অর্থ হলো সূর্য। সূর্য হলো আলোর উৎস, কিন্তু নিজে কিরণ (আলোর রেখা) নয়।
তাই এটিই সঠিক উত্তর, কারণ এটি ‘কিরণ’-এর সমার্থক নয়।
74

‘হাট-বাজার’ কোন অর্থে দ্বন্দ্ব সমাস?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিপরীতার্থে
  2. মিলনার্থে
  3. বিরোধার্থে
  4. সমার্থে

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সম অর্থবিশিষ্ট দুটি পদের সমাস গঠিত হলে, তাকে বলা হয় সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস। যেমন: হাট – বাজর, ঘর – দুয়ার, কল – কারখানা, খাতা – পত্র প্রভৃতি। একে সমার্থক শব্দযোগে দ্বন্দ্বও বলা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সমার্থে
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমাসবদ্ধ পদ দুটির অর্থ একই বা প্রায় কাছাকাছি (সমার্থক) হয়, তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
এখানে 'হাট' এবং 'বাজার' উভয় শব্দই কেনা-বেচার স্থান বা বিপণিকে নির্দেশ করে। শব্দ দুটি অর্থগত দিক থেকে প্রায় একই অর্থবিশিষ্ট
যেমন: ঘর-দুয়ার, কল-কারখানা, খাতা-পত্র ইত্যাদিও সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ।
75

‘তাসের ঘর’ –অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পূর্ণস্থায়ী
  2. ক্ষণস্থায়ী
  3. তাস খেলার ঘর
  4. দীর্ঘস্থায়ী

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘তাসের ঘর’ বাগধারার সাহায্যে ‘ক্ষণস্থায়ী’ বিষয় বুঝানো হয়। যেমন: তাদের বন্ধুত্ব তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে গেল।

ব্যাখ্যা

‘তাসের ঘর’ হলো একটি বহুল ব্যবহৃত বাগধারা
তাস দিয়ে তৈরি ঘর যেমন সামান্য আঘাতে বা হাওয়ায় সহজেই ভেঙে যায়, তেমনি এই বাগধারাটি দ্বারা এমন কোনো বিষয়কে বোঝানো হয় যা খুবই দুর্বল এবং দীর্ঘস্থায়ী নয়
সুতরাং, এর সঠিক অর্থ হলো ক্ষণস্থায়ী (সাময়িক বা অস্থায়ী)।
76

‘অঘারাম বাস করে অজপাড়া গাঁয়ে’ ‘অঘা’ ও ‘অজ’ কোন ধরনের উপসর্গ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. খাটি বাংলা
  2. বিদেশি
  3. তৎসম
  4. তদ্ভব

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

অঘা ও অজ খাঁটি বাংলা উপসর্গ। বাংলায় খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি। যেমন: অজ, অঘা, অনা, আ, আন, আব, কদ, পাতি, সু প্রভৃতি। আ, সু, বি, নি- ‘এই চারটি উপসর্গ খাঁটি বাংলা এবং তৎসম (সংস্কৃত)উভয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়’।

ব্যাখ্যা

উপসর্গ সাধারণত তিন প্রকার: খাঁটি বাংলা, তৎসম (সংস্কৃত) এবং বিদেশি
যেসব উপসর্গ সরাসরি বাংলা ভাষা থেকে এসেছে বা বাংলার নিজস্ব শব্দে ব্যবহৃত হয়, তাদের খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলে। খাঁটি বাংলা উপসর্গ মোট ২১টি
‘অঘা’ এবং ‘অজ’ এই দুটি উপসর্গই খাঁটি বাংলার নিজস্ব শব্দে ব্যবহৃত হয় (যেমন: অঘারাম, অজপাড়া)। তাই এটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ
77

মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৭টি
  2. ৫টি
  3. ৯টি
  4. ৩টি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বাংলা স্বরবর্ণে মৌলিক স্বরধ্বনি সাতটি। যথা: অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা এবং যৌগিক স্বরধ্বনি পঁচিশটি।

ব্যাখ্যা

এই প্রশ্নটি ধ্বনি ও বর্ণ অধ্যায় থেকে আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মৌলিক প্রশ্ন।
মৌলিক স্বরধ্বনি বলতে সেই স্বরধ্বনিগুলোকে বোঝায়, যাদের উচ্চারণ করার সময় এদেরকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভাঙা যায় না। এদের উচ্চারণে একটি মাত্র স্বরের উপস্থিতি থাকে।
বাংলা স্বরবর্ণে মোট সাতটি (৭টি) মৌলিক স্বরধ্বনি বিদ্যমান।
এগুলো হলো: অ, আ, ই, উ, এ, ও, এবং অ্যা (এই অ্যা ধ্বনিটি অনেক সময় লিখিত স্বরবর্ণের মধ্যে থাকে না, কিন্তু এটি মৌলিক ধ্বনি হিসেবে স্বীকৃত)।
সুতরাং সঠিক উত্তর হলো ৭টি
78

কোনটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কানাকানি
  2. ভাইবোন
  3. গাছপাকা
  4. সিংহাসন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ভাইবোন। এটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ।
দ্বন্দ্ব সমাস (Dwandwa Shomash): যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেকটি পদের অর্থ প্রধান রূপে বর্তমান থাকে এবং বিগ্রহ বাক্যে পদগুলির মাঝে 'ও', 'আর', কিংবা 'এবং' অব্যয় ব্যবহার করা হয়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
ভাইবোন = ভাই ও বোন
অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
কানাকানি = কানে কানে যে আলাপ (ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস)।
গাছপাকা = গাছে পাকা (সপ্তমী তত্পুরুষ সমাস)।
সিংহাসন = সিংহ চিহ্নিত আসন (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)।
79

‘চারটা বাজলে স্কুল ছুটি হবে’– বাক্যে ‘বাজলে’ কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কারণ
  2. ইচ্ছা
  3. সম্ভাব্যতা
  4. আবশ্যকতা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

‘চারটা বাজলে স্কুল ছুটি হবে’ –এ বাক্যে ‘বাজলে’ শব্দটি দ্বারা সম্ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সম্ভাব্যতা
বাংলা ব্যাকরণে ক্রিয়াপদের ভাব (Mood) অনুযায়ী এই ধরনের বাক্যের অর্থ নির্ণয় করা হয়। এখানে ‘বাজলে’ শব্দটি ক্রিয়ার সাপেক্ষ ভাব (Conditional Mood) প্রকাশ করছে।
বাক্যটির অর্থ হলো: যদি চারটা বাজে, তবেই স্কুল ছুটি হবে। যেহেতু চারটা বাজা একটি সম্ভাব্য শর্ত, যার উপর ছুটি হওয়া নির্ভর করে, তাই এটি সম্ভাব্যতা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
এখানে কোনো কারণ (যেমন: বৃষ্টি হওয়ায়), ইচ্ছা (যেমন: যদি সে আসত!) বা আবশ্যকতা (যেমন: কাজটি অবশ্যই করতে হবে) বোঝানো হয়নি।
80

‘শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে’- বাক্যে ‘পাঠে’ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন: শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে (অধিকরণে সপ্তমী বিভক্তি)/ আমরা রোজ স্কুলে যাই (অধিকরণে সপ্তমী)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: অধিকরণে সপ্তমী
ক্রিয়া সম্পাদনের স্থান, কাল বা আধারকে (Locus) অধিকরণ কারক বলে। এই বাক্যে, ‘শিশুগণ মন দেয়’—ক্রিয়াটি কোথায় বা কিসে সম্পন্ন হচ্ছে? উত্তর হলো: ‘নিজ নিজ পাঠে’।
‘পাঠ’ হলো সেই বিষয় বা আধার, যেখানে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। তাই এটি অধিকরণ কারক।
‘পাঠে’ শব্দটিতে পাঠ + এ যুক্ত হয়েছে। বাংলা ব্যাকরণে এ, য়, তে থাকলে তা সপ্তমী বিভক্তি হিসেবে গণ্য হয়।
সুতরাং, এটি অধিকরণে সপ্তমী বিভক্তি।
81

‘পক্ষী’ শব্দের সংযুক্ত বর্ণ কোন কোন বর্ণ নিয়ে গঠিত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ক + ষ
  2. ক + খ
  3. য + ন
  4. ষ + ঞ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ব্যাখ্যা

‘পক্ষী’ শব্দটিতে ব্যবহৃত সংযুক্ত বর্ণটি হলো 'ক্ষ'
বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, 'ক্ষ' যুক্তবর্ণটি ক্ (ক হসন্ত) এবং ষ (ষ হসন্ত) – এই দুটি ব্যঞ্জনবর্ণের মিশ্রণে গঠিত হয়।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ক + ষ। অন্য বিকল্পগুলো ভুল, কারণ তারা ক্ষ-এর সঠিক বিশ্লেষণ নয়। যেমন, ক + খ কোনো যুক্তবর্ণ তৈরি করে না, এটি দুটি আলাদা বর্ণ।
82

‘রাতুল’ শব্দের অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. লাল
  2. নীল
  3. সাদা
  4. কালো

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘রাতুল’ বিশেষণবাচক শব্দটির অর্থ: লাল, রাঙা, রক্তবর্ণ।

ব্যাখ্যা

‘রাতুল’ শব্দটি হলো একটি বিশেষণবাচক শব্দ (Adjective)। এটি একটি তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ, যা সাধারণত কাব্যিক বা সাহিত্যিক প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হয়।
‘রাতুল’ শব্দের মূল অর্থ হলো: লাল, রাঙা, রক্তবর্ণ বা সিঁদুর রঙ।
অতএব, প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে ‘লাল’ শব্দটিই সঠিক উত্তর।
83

শুদ্ধ বানানে কোনটি লেখা হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শূণ্য
  2. ভূবন
  3. পূণ্য
  4. ত্রিভুজ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো (ঘ) ত্রিভুজ। এই বানানটি শুদ্ধ।
অন্যান্য অপশনগুলোর সঠিক বানান নিচে দেওয়া হলো:
১. শূণ্য (ভুল) \rightarrow সঠিক: শূন্য
২. ভূবন (ভুল) \rightarrow সঠিক: ভুবন। (সংস্কৃত 'ভুবন' শব্দের অর্থ পৃথিবী, এটিতে হ্রস্ব 'উ' কার ব্যবহৃত হয়।)
৩. পূণ্য (ভুল) \rightarrow সঠিক: পুণ্য। (এটিতেও হ্রস্ব 'উ' কার ব্যবহৃত হয়।)
সাধারণত বাংলা বানানের নিয়মে তৎসম শব্দের ক্ষেত্রে দীর্ঘ 'ঊ' (ূ) এর ব্যবহার কমে আসছে, বিশেষত যখন হ্রস্ব 'উ' (ু) ব্যবহারেও অর্থবিভ্রাট ঘটে না।
84

‘সূর্য উঠলে আঁধার দূরীভূত হয়’- এখানে ‘উঠলে’ কোন ক্রিয়া পদ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সমাপিকা
  2. প্রযোজ্য
  3. অসমাপিকা
  4. প্রযোজক

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের পরিসমাপ্তি ঘটে না, বক্তার কথা অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন: ‘সূর্য উঠলে’ দ্বারা কথা সম্পূর্ণ হয় না, সম্পূর্ণ হতে আরো শব্দের প্রয়োজন (সূর্য উঠলে আঁধার দূরীভূত হয়)। তাই ‘উঠলে’ শব্দটি অসমাপিকা ক্রিয়া। সাধারণত ইয়া (পড়িয়া), ইলে (পড়িলে), ইতে (পড়িতে), এ (পড়ে), লে (পড়লে), তে (পড়তে) বিভক্তিযুক্ত ক্রিয়াপদ অসমাপিকা ক্রিয়া।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: অসমাপিকা ক্রিয়া
যে ক্রিয়াপদ দ্বারা বাক্যের অর্থ বা বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয় না এবং বাক্যটি শেষ করার জন্য আরও একটি ক্রিয়াপদের সাহায্য নিতে হয়, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
এখানে, ‘সূর্য উঠলে’ বলার পর আকাঙ্ক্ষা থেকে যায় যে এরপর কী হবে? বাক্যটির সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশিত হয় 'আঁধার দূরীভূত হয়' এই অংশ দ্বারা। তাই 'উঠলে' শব্দটি অসমাপিকা ক্রিয়া।
বাক্যের শেষে যে ক্রিয়া দ্বারা বক্তব্য শেষ হয় (যেমন: 'দূরীভূত হয়') সেটি হলো সমাপিকা ক্রিয়া
85

‘পরাজয়ের’ -শব্দটিতে কোনটি উপসর্গ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জয়ের
  2. এর
  3. জয়
  4. পরা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পরা
যেসব অব্যয় বা শব্দাংশ মূল শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়ে শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটায়, তাকে উপসর্গ বলে।
‘পরাজয়ের’ শব্দটি গঠিত হয়েছে মূলত পরা + জয় + এর (বিভক্তি) দিয়ে। এখানে ‘জয়’ হলো মূল অর্থপূর্ণ শব্দ এবং ‘পরা’ হলো তার পূর্বে যুক্ত হওয়া উপসর্গ।
বাকি অপশনগুলোর মধ্যে 'জয়' হলো মূল শব্দ বা নামপদ, এবং 'এর' হলো শব্দটির সঙ্গে যুক্ত হওয়া বিভক্তি।
86

কোনটি যৌগিক বাক্য?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তুমি আমার বাড়িতে না আসলে আমি অখুশি হব।
  2. তুমি আমার বাড়িতে আসলে আমি খুশি হব।
  3. তুমি আমার বাড়িতে এসো, আমি খুশি হব।
  4. তুমি যদি আমার বাড়িতে আসো আমি খুশি হব ।

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে। যেমন: আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: তুমি আমার বাড়িতে এসো, আমি খুশি হব।
এটি একটি যৌগিক বাক্য (Compound Sentence) কারণ এটি পরস্পর নিরপেক্ষ দুটি সরল বাক্যের সমন্বয়ে গঠিত। এখানে দুটি অংশই স্বাধীন এবং নিজস্ব অর্থ প্রকাশে সক্ষম।
যৌগিক বাক্যের দুটি প্রধান অংশকে সাধারণত ও, এবং, কিন্তু, অথবা, নতুবা, তাই, ফলে, অথচ, তথাপি ইত্যাদি অব্যয় বা সংযোজক শব্দ দিয়ে যুক্ত করা হয়। যদিও এই বাক্যে কমা (,) দ্বারা সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে, তবুও এর অন্তর্নিহিত অর্থ সংযোজক অব্যয়ের মাধ্যমে স্বাধীন খণ্ডবাক্যকে যুক্ত করে।
অন্যান্য বিকল্পগুলি ('যদি', 'আসলে') ব্যবহার করায় সেগুলি মিশ্র বা জটিল বাক্য (Complex Sentence) হবে, কারণ একটি অংশ (খন্ডবাক্য) অন্য অংশের ওপর নির্ভরশীল।
87

‘উগ্র’ শব্দের বিপরীতার্থক কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সৌম্য
  2. চপল
  3. মেজাজ
  4. বিজ্ঞ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ব্যাখ্যা

‘উগ্র’ শব্দের অর্থ হলো তীব্র, রাগী, রুক্ষ বা কঠোর। এর বিপরীত শব্দ হবে শান্ত, স্নিগ্ধ বা ভদ্র।
বিকল্পগুলোর মধ্যে 'সৌম্য' শব্দের অর্থ হলো শান্ত, শিষ্ট বা মনোরম।
তাই, উগ্র-এর সঠিক বিপরীত শব্দ হলো সৌম্য
88

শশব্যস্ত কোন সমাস?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অব্যয়ীভাব
  2. তৎপুরুষ
  3. কর্মধারয়
  4. বহুব্রীহি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

শশকের ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত (উপমান কর্মধারয় সমাস)। উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু । প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কর্মধারয়
শশব্যস্ত এর ব্যাসবাক্য হলো— শশকের ন্যায় ব্যস্ত। এখানে একটি বস্তুর সাথে অন্য একটি বস্তুর তুলনা করা হয়েছে, যেখানে সাধারণ ধর্মটি (ব্যস্ততা) বিদ্যমান।
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান (যা দিয়ে তুলনা করা হয়, এখানে শশক) পদের সাথে সাধারণ ধর্মবাচক (যে গুণ দ্বারা তুলনা করা হয়, এখানে ব্যস্ততা) পদের সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
কর্মধারয় সমাসে সাধারণত পরপদের (ব্যস্ত) অর্থ প্রধান হয়।
অন্যান্য সমাস: অব্যয়ীভাব এ পূর্বপদের অর্থ প্রধান; তৎপুরুষে বিভক্তি লোপ পায়; এবং বহুব্রীহিতে কোনো পদের অর্থই প্রধান না হয়ে নতুন অর্থের সৃষ্টি হয়।
89

বাক্যে একপদের পর অন্য পদ শোনার ইচ্ছাকে কী বলে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আসত্তি
  2. যোগ্যতা
  3. আকাঙ্ক্ষা
  4. দৃঢ়তা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা
যখন বাক্যের একটি পদ শোনার পর অন্য পদ শোনার জন্য শ্রোতার স্বাভাবিক ইচ্ছা বা আগ্রহ জন্মায়, সেই গুণকে আকাঙ্ক্ষা বলা হয়। আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ না হলে বাক্যটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
যেমন: 'আকাশে চাঁদ দেখা...'—এতটুকু বললে শ্রোতা বাকি কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করবে। এটিই হলো আকাঙ্ক্ষা।
তাই সঠিক উত্তর হলো আকাঙ্ক্ষা (অপশন ৩)।
90

‘তিলে তৈল হয়’- কোন কারকে কোন বিভক্তি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অধিকরণ কারকে সপ্তমী
  2. অপাদান কারকে সপ্তমী
  3. সম্প্রদান কারকে চতুর্থী
  4. কর্তৃকারকে প্রথমা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। যেমন: তিলে তৈল হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অপাদান কারকে সপ্তমী
'তিলে তৈল হয়' বাক্যটিতে 'তিল' থেকে 'তৈল' উৎপন্ন হওয়া বা জাত হওয়ার বিষয়টি বোঝানো হচ্ছে।
ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত বা আরম্ভ হয়, তাকে অপাদান কারক বলা হয়। এখানে 'তিল' হলো উৎপত্তির স্থান, তাই এটি অপাদান কারক।
কারক নির্ণয়ের পদটি হলো 'তিলে'। এখানে 'তিল + এ' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। 'এ' বিভক্তি হলো সপ্তমী বিভক্তি
অনেকে ভুল করে এটিকে অধিকরণ কারক মনে করে। মনে রাখবেন, যদি বলা হতো 'তিলে তৈল আছে' (তিলের মধ্যে অবস্থিতি), তবে তা অধিকরণ কারক হতো। কিন্তু 'হয়' (উৎপত্তি) বোঝালে তা সর্বদা অপাদান কারক হবে।
91

নিম্নের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আমি সাক্ষী দিতেছি
  2. আমি সাক্ষী দিলাম
  3. আমি সাক্ষী দিয়েছি
  4. আমি সাক্ষ্য দিয়েছি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আমি সাক্ষ্য দিয়েছি
এই বাক্যটি মূলত শব্দের সঠিক প্রয়োগ সংক্রান্ত। এখানে 'সাক্ষী' ও 'সাক্ষ্য' শব্দ দুটির অর্থের পার্থক্য বুঝতে হবে।
সাক্ষী: এর অর্থ হলো যিনি কোনো ঘটনা দেখেন বা যিনি প্রমাণ দেন (A witness)। এটি ব্যক্তিবাচক বিশেষ্য। যেমন: ‘তিনি এই মামলার সাক্ষী।’
সাক্ষ্য: এর অর্থ হলো সাক্ষীর দেওয়া প্রমাণ বা জবানবন্দী (Testimony)। এটি বস্তুবাচক বা ভাববাচক বিশেষ্য।
বাক্যে যখন 'দেওয়া' ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়, তখন প্রমাণ বা জবানবন্দী দেওয়া হয়। তাই, 'আমি' (কর্তা) 'সাক্ষ্য' (কর্ম) 'দিয়েছি' (ক্রিয়া)।
অন্যান্য অপশনে 'সাক্ষী' শব্দটি কর্মপদ হিসেবে ভুলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
92

শুদ্ধ বাক্য কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রফিক, তুমি ও আমি সিনেমা দেখতে যাব
  2. তুমি, শফিক ও আমি সিনেমা দেখতে যাব
  3. আমি, শফিক ও তুমি সিনেমা দেখতে যাব
  4. তুমি, আমি ও শফিক সিনেমা দেখতে যাব

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কোন বাক্যে উত্তম পুরুষ, মধ্যম পুরুষ, নাম পুরুষ একই সাথে থাকলে সাধারণত মধ্যম পুরুষ দিয়ে শুরু করতে হয় এবং উত্তম পুরুষ দিয়ে শেষ করতে হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো তুমি, শফিক ও আমি সিনেমা দেখতে যাব
বাংলা ব্যাকরণের পদক্রম (Order of Persons) অনুযায়ী, কোনো বাক্যে যখন উত্তম পুরুষ (আমি), মধ্যম পুরুষ (তুমি) এবং নাম পুরুষ (সে/শফিক/অন্য নাম) একই সাথে ব্যবহৃত হয়, তখন একটি নির্দিষ্ট ক্রম অনুসরণ করতে হয়।
এই ক্রমটি হলো: প্রথমে মধ্যম পুরুষ (তুমি), এরপর নাম পুরুষ (শফিক) এবং সবশেষে উত্তম পুরুষ (আমি)
সুতরাং, শুদ্ধ পদক্রমটি হবে: মধ্যম পুরুষ + নাম পুরুষ + উত্তম পুরুষ (২+৩+১)
93

কোনগুলো ওষ্ঠ্য ধ্বনি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চ, ছ, জ, ঝ, ঞ (তালব্য ধ্বনি)
  2. প, ফ, ব, ভ, ম (ওষ্ঠ্য ধ্বনি)
  3. ত, থ, দ, ধ, ন। (দন্ত্য ধ্বনি)
  4. ক, খ, গ, ঘ, ঙ (কণ্ঠ্য ধ্বনি)

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: প, ফ, ব, ভ, ম
বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনি উচ্চারণের স্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনবর্ণগুলোকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যখন কোনো ধ্বনি উচ্চারণের সময় দুটি ঠোঁট পরস্পরের কাছাকাছি আসে বা স্পর্শ করে, তখন তাকে ওষ্ঠ্য ধ্বনি (Labial Sound) বলে।
এই ধ্বনিগুলোকে 'প'-বর্গীয় ধ্বনিও বলা হয়। প, ফ, ব, ভ, ম এই পাঁচটি ধ্বনি ওষ্ঠ্য ধ্বনি বা ঠোঁট থেকে উচ্চারিত হয়।
94

‘সর্বজন’ এর বিশেষণ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিশ্বজনীন
  2. বিশজন
  3. সর্বজনীন
  4. ঐশ্বরিক

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সর্বজনীন
‘সর্বজন’ হলো একটি বিশেষ্য পদ, যার অর্থ হলো—সকল মানুষ বা জনসাধারণ।
বিশেষ্য পদকে বিশেষণে রূপান্তরিত করার সময় সাধারণত প্রত্যয় (Suffix) যুক্ত হয়। এখানে 'সর্বজন' শব্দের সঙ্গে 'ঈন' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে বিশেষণ পদ 'সর্বজনীন' গঠিত হয়েছে।
সর্বজনীন শব্দটির অর্থ: যা সকলের জন্য প্রযোজ্য বা সকলের মধ্যে প্রচলিত (যেমন: সর্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবা, সর্বজনীন পূজা মণ্ডপ)।
95

‘সংবিধান’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সম্ + বিধান
  2. সং + বিধান
  3. সং + অবিধান
  4. সম + ধান

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ব্যাখ্যা

এটি একটি ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ, যা অনুস্বার (ং) সংক্রান্ত নিয়ম মেনে গঠিত হয়েছে।
ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, ‘ম্’ (হসন্ত ম) এর পর যদি য, র, ল, ব, শ, ষ, স, হ—এই বর্ণগুলির কোনোটি থাকে, তাহলে ‘ম্’ স্থানে ‘ং’ (অনুস্বার) হয়।
এখানে, ‘সম্’ শব্দের ‘ম্’ এর পর ‘ব’ থাকায়, সন্ধির ফলে ‘ম্’ টি ‘ং’ এ পরিবর্তিত হয়ে ‘সংবিধান’ শব্দটি গঠিত হয়েছে।
সুতরাং, সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হলো সম্ + বিধান
96

‘Look before you leap’ -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দেখে নাও পরে লাফ দাও
  2. আগে ভাবিয়া পরে লাফ দাও
  3. লাফ দেওয়ার আগে তাকাও
  4. ভাবিয়া করিও কাজ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

Look before you leap- একটি proverb এর অর্থ ভাবিয়া করিও কাজ।

ব্যাখ্যা

‘Look before you leap’ একটি বহুল প্রচলিত ইংরেজি প্রবাদ (Proverb)। প্রবাদ প্রবচনের ক্ষেত্রে আক্ষরিক অনুবাদের (Literal Translation) চেয়ে ভাবার্থ (Core Meaning) অনুসরণ করা আবশ্যক।
এই প্রবাদটির ভাবার্থ হলো—কোনো কাজ করার আগে ভালোভাবে চিন্তা করা, যেন পরে কোনো বিপদে পড়তে না হয়।
অতএব, এর সঠিক বাংলা ভাবানুবাদ হলো: ভাবিয়া করিও কাজ
বাকি অপশনগুলো আক্ষরিক অনুবাদ, যা প্রবাদের সঠিক অর্থ প্রকাশ করে না।
97

শুদ্ধ বানান কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গৃহস্থ
  2. গ্রীহস্থ
  3. গৃহস্ত
  4. গ্রীহস্ত

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

গৃহস্থ বানানটি সঠিক। কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বানান: গৃহিণী, গার্হস্থ্য, গগন, গণনা, গীতাঞ্জলি, গূঢ়, গৃহবধূ, গোধূলি, গোমতী, দূষণ, গৌরবান্বিত ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক বানানটি হলো গৃহস্থ
গৃহস্থ শব্দের অর্থ হলো—যিনি গৃহে বাস করেন বা সংসার চালান (Householder)।
বানানের নিয়ম অনুযায়ী, এই শব্দটি 'গৃহ' (house) এবং 'স্থ' (স্থিত বা অবস্থানকারী) শব্দাংশ দিয়ে গঠিত।
এখানে 'গৃ' অংশে ঋ-কার (ৃ) ব্যবহৃত হয় এবং শেষে 'স্থ' (স+থ) যুক্ত হয়।
অন্যদিকে, 'গৃহস্ত' (স্ত) বানানটি ভুল, কারণ এটি কোনো শুদ্ধ শব্দ নয়।
98

‘লোকটি দরিদ্র কিন্তু সৎ’-এ বাক্যে কিন্তু হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. অনুকার অব্যয়
  4. সংকোচক অব্যয়

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘লোকটি দরিদ্র কিন্তু সৎ’-এ বাক্যে কিন্তু অব্যয়টি দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচক সাধন করেছে । কিন্তু, বরং, অথচ শব্দগুলো সংকোচক অব্যয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সংকোচক অব্যয়
‘কিন্তু’ অব্যয় পদটি দুটি বাক্যের (লোকটি দরিদ্র এবং লোকটি সৎ) মধ্যে সংযোগ স্থাপন করলেও, এটি বিপরীত ভাব বা সংকোচ প্রকাশ করছে।
ব্যাকরণে যে অব্যয় পদগুলো বাক্যের বা ভাবের মধ্যে সংকোচ, সংশয়, তুলনা বা বিপরীত ধারণা সৃষ্টি করে, তাদের সংকোচক অব্যয় বলা হয়। এখানে 'দরিদ্রতা' ভাবের বিপরীতে 'সৎ' হওয়ার ভাবটি প্রকাশ করায় এটি সংকোচক।
অন্যান্য সংকোচক অব্যয়ের উদাহরণ হলো: অথচ, বরং, তথাপি
99

“আট কপালে” অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জ্ঞানী
  2. হতভাগ্য
  3. হতাশ
  4. সৌভাগ্যবান

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কতিপয় বাগধারা: ইঁদুর কপালে – নিতান্ত মন্দ ভাগ্য; কপাল ফেরা – সৌভাগ্য লাভ; হাড় হাভাতে/আট কপালে – হতভাগ্য; গুড়ে বালি – আশায় নৈরাশ্য; একাদশে বৃহস্পতি – সৌভাগের বিষয়।

ব্যাখ্যা

“আট কপালে” হলো একটি বহুল ব্যবহৃত বাগধারা (Idiom)।
বাগধারাটির মাধ্যমে এমন একজন ব্যক্তিকে বোঝানো হয় যার ভাগ্য খুবই মন্দ বা খারাপ।
বাংলা ব্যাকরণে, কপাল শব্দটি সাধারণত ভাগ্যকে নির্দেশ করে। যেমন: ‘কপাল ফেরা’ মানে সৌভাগ্য লাভ।
কিন্তু ‘আট কপালে’ বাগধারাটির অর্থ হলো হতভাগ্য বা মন্দভাগ্যযুক্ত ব্যক্তি। এটি 'হাড় হাভাতে' বাগধারাটির সমার্থক।
100

নিচের কোনটি মিশ্র শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হরতাল
  2. আলকাতরা
  3. খ্রিস্টাব্দ
  4. ফটোকপি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় প্রচলিত দুটি ভিন্ন ভাষার শব্দাংশ বা মূলের সমন্বয়ে গঠিত হয়, তাদের মিশ্র শব্দ বা শঙ্কর শব্দ বলা হয়।
সঠিক উত্তর হলো খ্রিস্টাব্দ। এই শব্দটি দুইটি ভিন্ন উৎস থেকে এসেছে:
১. খ্রিস্ট: এটি একটি বিদেশি শব্দ (ইংরেজি ভাষা থেকে আগত)।
২. অব্দ: এটি একটি তৎসম শব্দ (সংস্কৃত মূল থেকে সরাসরি বাংলায় এসেছে)।
সুতরাং, বিদেশি + তৎসম শব্দের মিশ্রণের কারণে 'খ্রিস্টাব্দ' একটি মিশ্র শব্দ।
অন্যদিকে, হরতাল (গুজরাটি), আলকাতরা (পর্তুগিজ) ও ফটোকপি (ইংরেজি) সম্পূর্ণরূপে বিদেশি শব্দের উদাহরণ।
101

যিনি বক্তৃতা দানে পটু–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বাকপটু
  2. সুবক্তা
  3. অনলবর্ষী
  4. বাগ্মী

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

কতিপয় এককথায় প্রকাশ: যে বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই – অবিসংবাদিত; যে ভবিষ্যৎ না ভেবেই কাজ করে – অবিমৃষ্যকারী; যে সকল অত্যাচারই সয়ে যায় – সর্বংসহা; যে শুনেই মনে রাখতে পারে – শ্রুতিধর।

ব্যাখ্যা

যে বাক্য বা পদবন্ধটিকে একটি মাত্র শব্দে প্রকাশ করা হয়, তাকে এককথায় প্রকাশ বা বাক্য সংকোচন বলে।
‘যিনি বক্তৃতা দানে পটু’—এর সঠিক এবং প্রচলিত এককথায় প্রকাশ হলো বাগ্মীবাগ্মী শব্দটির অর্থই হলো যিনি বাক্‌ বা বক্তৃতা প্রদানে অত্যন্ত পারদর্শী বা পটু।
অন্যান্য অপশনগুলো যদিও বক্তৃতার সাথে সম্পর্কিত, কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে 'বক্তৃতা দানে পটু' অর্থে বাগ্মী শব্দটিই সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য। যেমন:
বাকপটু: যিনি কথায় পটু (সাধারণ কথোপকথনে)।
সুবক্তা: ভালো বক্তা।
অনলবর্ষী: যার কথা বা বক্তৃতা আগুনের মতো তীব্র, তেজস্বী বা উত্তেজক।
102

কোনটি অনুজ্ঞা প্রকাশক?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তুমি গিয়েছিলে
  2. তুমি যাচ্ছ
  3. তুমি যাও
  4. তুমি যাচ্ছিলে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে (তুমি, তোমরা) ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে। যেমন: তুমি যাও। কাল একবার এসো মন দিয়ে পড়, আপনারা আসবেন ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: তুমি যাও
বাংলা ব্যাকরণে, ক্রিয়াপদের যে রূপ দ্বারা আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় ইত্যাদি ভাব প্রকাশ পায়, তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে।
অনুজ্ঞা সাধারণত দুটি শর্ত পূরণ করে:
১. কাল: এটি বর্তমান অথবা ভবিষ্যৎ কালে ব্যবহৃত হয়।
২. পুরুষ: এটি কেবল মধ্যম পুরুষে (তুমি, তোমরা, আপনি, আপনারা) ব্যবহৃত হয়।
এখানে 'তুমি যাও' দ্বারা আদেশ বা অনুরোধের ভাব প্রকাশ পাচ্ছে এবং এটি বর্তমান কালের মধ্যম পুরুষের ক্রিয়াপদ। তাই এটি অনুজ্ঞা প্রকাশক।
অন্যান্য অপশনগুলো ('তুমি গিয়েছিলে', 'তুমি যাচ্ছিলে') অতীত কালের ক্রিয়াপদ এবং 'তুমি যাচ্ছ' ঘটমান বর্তমান কাল, যা অনুজ্ঞা প্রকাশ করে না।
103

নিচের কোন বাগধারাটি ভিন্নার্থক-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. লক্ষ্মীর বরযাত্রী
  2. শরতের শিশির
  3. দুধের মাছি
  4. সুখের পায়রা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্যাখ্যা

এখানে বাগধারাগুলোর অর্থ বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে কোনটি অন্যগুলোর সঙ্গে অর্থগতভাবে মিলছে না।
দুধের মাছি এবং সুখের পায়রা—এই দুটি বাগধারার অর্থই হলো সুসময়ের বন্ধু। অর্থাৎ, যে বন্ধু কেবল ভালো সময়ে কাছে থাকে, খারাপ সময়ে সরে যায়।
অন্যদিকে, শরতের শিশির বাগধারার অর্থ হলো ক্ষণস্থায়ী বস্তু বা অল্প সময়ের জন্য থাকে এমন কিছু।
লক্ষ্মীর বরযাত্রী বাগধারাটির অর্থ সাধারণত ধন-সম্পদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা অপব্যয়কারী ব্যক্তিকে বোঝায়, কিন্তু এর মূল ভাবার্থ কোনো ব্যক্তির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বা অবস্থান নিয়ে।
যেহেতু ‘দুধের মাছি’ এবং ‘সুখের পায়রা’ সরাসরি সমার্থক, তাই ‘শরতের শিশির’ (ক্ষণস্থায়ী) বাগধারাটি অর্থগতভাবে এই দল থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো শরতের শিশির
104

‘চাঁদের হাট’ কথাটির অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কচিকাঁচার মেলা
  2. পূর্ণিমা রাত
  3. জ্যোৎস্না
  4. আনন্দের প্রাচুর্য

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘চাঁদের হার্ট’ বাগধারাটির অর্থ হল- সুখের সংসার/আনন্দের প্রাচুর্য। কতিপয় বাগধারা: চাঁদ-কপালে (ভাগ্যবান), চোরাবালি (প্রচ্ছন্ন বিপদ); ছা-পোষা (পোষ্য ভারাক্রান্ত); ছ কড়া ন কড়া করা (তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বা অবহেলা করা); জিলাপির প্যাচ (কুটিল)।

ব্যাখ্যা

‘চাঁদের হাট’ বাংলা ভাষার একটি জনপ্রিয় বাগধারা
বাগধারাটির আভিধানিক বা আক্ষরিক অর্থ ‘চাঁদের মেলা’ হলেও, আলঙ্কারিক অর্থে এটি প্রচুর আনন্দ, সুখ বা জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব বোঝায়।
যখন কোনো স্থানে বহু গুণের সমাবেশ ঘটে এবং সেখানে সুখ-শান্তির আবহ বিরাজ করে, তখন তাকে ‘চাঁদের হাট’ বলা হয়। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো আনন্দের প্রাচুর্য
105

‘অদিতি’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ক্ষিতি
  2. অবনী
  3. নীর
  4. পৃথিবী

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

‘অদিতি’ শব্দের সমার্থক: ক্ষিতি, অবনী, পৃথিবী, ধরণী, বসুন্ধরা, বসুমতি, মেদিনী। অপরদিকে ‘নীর’ শব্দের অর্থ: জল, পানি, অম্বু, জীবন, সলিল। প্রশ্নে সমার্থক নয় হলে উত্তর নীর হত।

ব্যাখ্যা

প্রশ্নটি হলো ‘অদিতি’ শব্দের সমার্থক নয় কোনটি।
‘অদিতি’ শব্দের মূল অর্থ হলো পৃথিবী বা ধরিত্রী
প্রদত্ত অপশনগুলির মধ্যে ক্ষিতি, অবনী এবং পৃথিবী—এই তিনটিই ‘অদিতি’ বা পৃথিবীর সমার্থক শব্দ।
কিন্তু ‘নীর’ শব্দের অর্থ হলো জল, পানি, সলিল বা অম্বু। যেহেতু প্রশ্নে সমার্থক নয় জানতে চাওয়া হয়েছে, তাই সঠিক উত্তরটি হবে নীর
106

দুবার জন্মে যা-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দ্বৈত জন্ম
  2. দ্বিজ
  3. দ্বিজন্ম
  4. পুর্নজন্ম

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

দুবার জন্মে যা- দ্বিজ। মৃত্যুর পর পুনর্বার জন্ম- পুর্নজন্ম।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: দ্বিজ
বাংলায় এককথায় প্রকাশ-এর নিয়ম অনুযায়ী, 'দুবার জন্মে যা' এর সংক্ষিপ্ত রূপ হলো দ্বিজ
এখানে 'দ্বি' শব্দের অর্থ দুই এবং 'জ' শব্দের অর্থ জন্ম বা জন্মায়।
সাধারণত ব্রাহ্মণ, পাখি, সাপ এবং দাঁতকে দ্বিজ বলা হয়, কারণ এদের জন্ম প্রক্রিয়া দুই ধাপে ঘটে।
অন্যদিকে, 'পুর্নজন্ম' অর্থ হলো মৃত্যুর পর পুনর্বার জন্ম (যা প্রশ্নে চাওয়া হয়নি)।
107

‘জিলাপীর প্যাচ’ বাগধারাটির অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জটিল
  2. প্যাচানো
  3. কুটিল
  4. কলহপ্রিয়

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

কতিপয় বাগধারা: মন না মতি – অস্থির মানব মন; মাছের মায়ের পুত্রশোক – কপট বেদনাবোধ; রাবণের চিতা – চির অশান্তি; শাঁখের করাত – উভয় সংকট।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো কুটিল
বাগধারা বা বাক্যরীতি হলো বাক্যের বিশেষ অর্থ প্রকাশক অংশ। এই ক্ষেত্রে, জিলাপির আকৃতি জটিলভাবে প্যাঁচানো। যখন কোনো ব্যক্তির স্বভাব সেই জিলাপির প্যাঁচের মতো হয়, তখন বুঝতে হবে তার মনে ছলনা, পেঁচাল বুদ্ধি বা কূটিলতা আছে।
সুতরাং, ‘জিলাপীর প্যাচ’ বাগধারাটির অর্থ হলো কূটিল স্বভাব বা ছলনাময় ব্যক্তি
অন্যান্য অপশনগুলো (জটিল, প্যাচানো) আক্ষরিক অর্থ প্রকাশ করলেও বাগধারার সঠিক রূপক অর্থ প্রকাশ করে না।
108

‘চানাচুর’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. উর্দু
  2. আরবি
  3. চীন
  4. হিন্দি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বহু শব্দ প্রতিবেশী বা দূরবর্তী বিদেশি ভাষা থেকে এসেছে। এই ধরনের শব্দকে বিদেশি শব্দ বলা হয়।
‘চানাচুর’ শব্দটি ভারতীয় উপমহাদেশের একটি জনপ্রিয় খাবারের নাম, যা মূলত হিন্দি ভাষা থেকে বাংলা শব্দভান্ডারে প্রবেশ করেছে।
পরীক্ষার জন্য হিন্দি, ফারসি, আরবি, পর্তুগিজ ইত্যাদি ভাষা থেকে আগত গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলো মনে রাখা আবশ্যক।
109

ধ্বনিজ্ঞাপক দ্বিরুক্তি শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নড়নড়
  2. কড়কড়
  3. দরদর
  4. মরমর

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতি বিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি। যেমন: কড়কড়- মেঘের গর্জন; মিউ মিউ – বিড়ালের ডাক; কুহুকুহু – কোকিলের ডাক; মড়মড় – গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ; ঘেউ ঘেউ – কুকুরের ডাক।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো কড়কড়
ধ্বনিজ্ঞাপক দ্বিরুক্তি শব্দ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দ হলো এমন শব্দ, যা কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক শব্দকে অনুকরণ করে তৈরি হয়। এই ধরনের শব্দ যখন পরপর দুইবার ব্যবহৃত হয়, তখন তাকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়।
যেমন: মেঘের গর্জন বোঝাতে 'কড়কড়', গাছের ডাল ভাঙার শব্দ বোঝাতে 'মড়মড়', বৃষ্টির শব্দ বোঝাতে 'ঝমঝম' ইত্যাদি।
প্রশ্নে উল্লিখিত 'কড়কড়' শব্দটি সরাসরি মেঘের বা কঠিন কিছু ভাঙার শব্দকে অনুকরণ করছে, তাই এটি ধ্বনিজ্ঞাপক দ্বিরুক্তি।
110

কোনটি শুদ্ধ বানান?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দূশন
  2. দুশন
  3. দুষণ
  4. দূষণ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

কতিপয় বানান: দ্বন্দ্ব, দ্বিধা, দরুন, দারুণ, দ্যোতনা, দ্ব্যর্থক, দ্বিপ (হাতি), দ্বীপ, দীপ (প্রদীপ), দ্বৈপায়ন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো 'দূষণ'। এটি একটি তৎসম (সংস্কৃত মূল) শব্দ, যার অর্থ অপরিষ্কার করা বা কলুষিত করা।
বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী, এই শব্দটি দীর্ঘ ঊ-কার (ূ) এবং মূর্ধন্য 'ষ' দ্বারা গঠিত হয়।
ষত্ব বিধান অনুসারে, তৎসম শব্দে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে 'স' এর পরিবর্তে 'ষ' ব্যবহৃত হয়। 'দূষণ' (যা 'দুষ্' ধাতু থেকে আগত) শব্দটিতে এই নিয়ম প্রযোজ্য।
অন্যদিকে, 'দূশন', 'দুশন', 'দুষণ' বানানগুলো ভুল। 'দূষণ' বানানে দীর্ঘ ঊ-কার (ূ) এবং মূর্ধন্য-ষ (ষ) আবশ্যক।
111

‘রি রি করা’ দিয়ে কী প্রকাশ পায়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কড়া মেজাজ
  2. তীব্র ক্রোধ
  3. তীব্র ব্যথা
  4. কড়া কথা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘রি রি’ ধ্বন্যাত্মক অব্যয় যার সাথে কর ধাতু যোগে রিরি করা একটি মিথষ্ক্রিয়া গঠিত হয়েছে যার দ্বারা তীব্র ক্রোধ, ঘৃণা প্রভৃতি অনুভূতি প্রকাশক শব্দ বোঝায়?

ব্যাখ্যা

‘রি রি করা’ একটি ধ্বন্যাত্মক অব্যয়জাত বাগধারা (Idiom)। এই ধরনের ধ্বন্যাত্মক শব্দগুলো সাধারণত কোনো তীব্র আবেগ বা অনুভূতি প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়।
বাংলায় 'রি রি করা' বলতে তীব্র ক্রোধ, অসহ্য জ্বালা, বা ঘৃণা জাতীয় অনুভূতি প্রকাশ পাওয়াকে বোঝায়। এটি রাগে শরীর জ্বলে যাওয়ার মতো অবস্থাকে নির্দেশ করে।
সুতরাং, প্রদত্ত অপশনগুলির মধ্যে তীব্র ক্রোধ হলো এর সবচেয়ে উপযুক্ত অর্থ।
অন্য অপশন, যেমন— তীব্র ব্যথা, এর জন্য সাধারণত 'জ্বালা করা' বা 'ব্যথা করা' ব্যবহৃত হয়, তবে ক্রোধের তীব্রতা বোঝাতে 'রি রি করা' বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়।
112

যা স্থায়ী নয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নশ্বর
  2. অস্থায়ী
  3. ক্ষণস্থায়ী
  4. ক্ষণিক

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ক্ষণকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী- ক্ষণস্থায়ী, যা স্থায়ী নয়- অস্থায়ী, যা চিরস্থায়ী নয়/ নষ্ট হওয়াই স্বভাব যার- নশ্বর

ব্যাখ্যা

এই প্রশ্নটি বাক্য সংকোচন বা এককথায় প্রকাশ থেকে এসেছে।
যা স্থায়ী নয়—এই বাক্যটির মাধ্যমে বোঝানো হয় যার কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নেই। এর জন্য সঠিক ও সরাসরি শব্দটি হলো অস্থায়ী
অস্থায়ী শব্দটি গঠিত হয়েছে 'অ' (নঞর্থক বা না সূচক) এবং 'স্থায়ী' শব্দ দুটির সমন্বয়ে, যার অর্থ যা স্থায়ী নয়।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে:
নশ্বর: যা নষ্ট হয়ে যায় বা বিনাশশীল (যেমন: মানবজীবন নশ্বর)।
ক্ষণস্থায়ী: যা ক্ষণকাল বা অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী (এটি স্থায়ী নয়, তবে সময়ের স্বল্পতা নির্দেশ করে)।
113

‘অপমান’ শব্দের ‘অপ’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নিখুঁত
  2. নিকৃষ্ট
  3. বিপরীত
  4. অভাব

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বিপরীত
উপসর্গ বিশ্লেষণ: 'অপমান' শব্দটির মূল অংশ হলো 'মান' (অর্থ: সম্মান, মর্যাদা)। এর আগে 'অপ' উপসর্গটি যুক্ত হয়ে শব্দটি সম্মানের বিপরীত অর্থ অর্থাৎ অসম্মান বা দুরনাম প্রকাশ করছে।
অতএব, এই শব্দে 'অপ' উপসর্গটি বিপরীত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
অন্যান্য অর্থ: 'অপ' উপসর্গটি মন্দ বা নিকৃষ্ট (যেমন: অপকর্ম) এবং দূরে যাওয়া (যেমন: অপসারণ) অর্থেও ব্যবহৃত হতে পারে, কিন্তু 'অপমান' এর ক্ষেত্রে বিপরীত অর্থটিই প্রধান।
114

পাখির ডাক–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অজিন
  2. কূজন
  3. হ্রেষা
  4. কেকা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কতিপয় এককথায় প্রকাশ: হরিণের চামড়া – অজিন; অশ্বের ডাক – হ্রেষা; ময়ূরের ডাক – কেকা; কোকিলের ডাক – কুহু।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো কূজন। পাখির ডাককে এককথায় কূজন বলা হয়। এটি একটি অত্যন্ত কমন 'এককথায় প্রকাশ' যা বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
অন্যান্য অপশনগুলোর অর্থ জেনে নেওয়া জরুরি, কারণ এগুলোও পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
১. অজিন: হরিণের চামড়া।
২. হ্রেষা: অশ্ব বা ঘোড়ার ডাক।
৩. কেকা: ময়ূরের ডাক।
115

‘তুমি না বলেছিলে এখানে আসবে’ –এখানে ‘না’ এর ব্যবহার কি অর্থে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্রশ্নবোধক
  2. না-বোধক
  3. বিস্ময়সূচক
  4. ‘হ্যা’ বোধক

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘না’ অব্যয়সূচক শব্দের বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার: → নিষেধ অর্থে: এখন যেয়ো না। → অভাব অর্থে: না আছে বিদ্যা না আছে বুদ্ধি। → আধিক্য অর্থে: কত না ধন এ জগতে। → তুলনা অর্থে: তিনি যাবেন, না হয় আমি যাব। → বিকল্প অর্থে: কোনো না কোনো।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ‘হ্যা’ বোধক
বাংলা ভাষায় ‘না’ অব্যয় পদটি শুধুমাত্র নিষেধ বা নেতিবাচক (না-বোধক) অর্থে ব্যবহৃত হয় না, এটি বাক্যভেদে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে।
প্রদত্ত বাক্যে— ‘তুমি না বলেছিলে এখানে আসবে’ — ‘না’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে বক্তার পূর্বের কোনো প্রতিজ্ঞা বা উক্তিকে পুনরায় নিশ্চিত করা বা জোর দেওয়ার জন্য।
এখানে বক্তা যেন নিশ্চিত যে কথাটি বলা হয়েছিল, কিন্তু শ্রোতার বর্তমান আচরণে সেই নিশ্চিতকরণ চাইছেন। এই ধরনের পরিস্থিতিতে, ‘না’ টি একটি প্রশ্নবোধক আলঙ্কারিক অব্যয় হিসেবে কাজ করে, যা হ্যাঁ-বাচক অর্থ বা স্বীকৃতি প্রকাশ করে।
116

‘বর্ণ’ হচ্ছে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ধ্বনির শ্রুতিগ্রাহ্য রূপ
  2. ধ্বনি নির্দেশক প্রতীক
  3. একই সঙ্গে উচ্চারিত ধ্বনি গুচ্ছ
  4. শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ধ্বনি নির্দেশক চিহ্ন বা প্রতীককে বর্ণ বলা হয়। অর্থাৎ ধ্বনির লিখিত রূপই বর্ণ। বাংলা বর্ণমালা দুই প্রকার। যথা: ১. স্বরবর্ণ ও ২. ব্যঞ্জনবর্ণ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: ধ্বনি নির্দেশক প্রতীক
আমরা মুখ দিয়ে যা উচ্চারণ করি, তা হলো ধ্বনি। আর এই ধ্বনিকে যখন লিখে প্রকাশ করার জন্য কোনো চিহ্ন বা প্রতীক ব্যবহার করা হয়, তাকেই বর্ণ বলা হয়।
সহজ কথায়, ধ্বনির লিখিত রূপ হলো বর্ণ।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল। যেমন, ‘ধ্বনির শ্রুতিগ্রাহ্য রূপ’ হলো স্বয়ং ধ্বনি (Sound), বর্ণ নয়।
117

‘তেপান্তর’ কোন সমাসের উদাহরণ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি
  3. দ্বিগু
  4. অব্যয়ীভাব

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: দ্বিগু সমাস
‘তেপান্তর’ শব্দটির ব্যাসবাক্য হলো— তিন প্রান্তরের সমাহার
যে সমাসে পূর্বপদটি সংখ্যাবাচক শব্দ হয় এবং সমস্তপদটি দ্বারা সমাহার বা সমষ্টি বোঝায়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। এখানে ‘তে’ (অর্থাৎ তিন) একটি সংখ্যাবাচক শব্দ এবং এটি প্রান্তরের সমষ্টি বা সমাহার বোঝাচ্ছে।
অন্যান্য সমাস:
কর্মধারয়: এখানে বিশেষণ বা বিশেষ্য ভাবাপন্ন পদ মিলিত হয়। যেমন: নীল যে আকাশ = নীলাকাশ।
বহুব্রীহি: যে সমাসে সমস্যমান পদের কোনোটির অর্থ প্রাধান্য না পেয়ে নতুন একটি ভিন্ন অর্থ প্রকাশ পায়। যেমন: দশ আনন যার = দশানন (রাবণ)।
অব্যয়ীভাব: এখানে পূর্বপদে অব্যয়ের যোগে সমাস হয় এবং অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়। যেমন: কূলের সমীপে = উপকূল।
118

‘সুন্দর মাত্রই একটা আকর্ষণ শক্তি আছে।’ বাক্যে ‘সুন্দর’ শব্দটি কোন পদ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. অব্যয়

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: বিশেষ্য (Noun)
সাধারণত ‘সুন্দর’ শব্দটি বিশেষণ পদ (Adjective) হিসেবে ব্যবহৃত হয় (যেমন: সুন্দর ফুল, সুন্দর মুখ)।
কিন্তু যখন কোনো বিশেষণ পদ বাক্যে অন্য কোনো বিশেষ্যকে বিশেষিত না করে নিজেই কর্তা বা বিশেষ্য পদ-এর মতো ব্যবহৃত হয়, তখন তাকে বিশেষ্য পদ বলা হয়।
এখানে ‘সুন্দর’ বলতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে না বুঝিয়ে, ‘সৌন্দর্য’ নামক একটি বিমূর্ত গুণ বা ভাব-কে বোঝাচ্ছে, যা বাংলা ব্যাকরণে বিশেষ্য পদ হিসেবে গণ্য হয়।
যেমন: ‘গরিবেরাই’ কষ্ট পায় (এখানে গরিবেরা = বিশেষ্য)।
119

আমি, তুমি ও সে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সবাই
  2. আমরা
  3. আমাদের
  4. সকলে

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

আমি, তুমি ও সে = আমরা (নিত্যসমাস)। যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। আরও কিছু নিত্য সমাসবদ্ধ শব্দ : অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র। কাল তুল্য সাপ= কালসাপ, দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আমরা
‘আমি, তুমি ও সে’ এই তিনটি ভিন্ন পুরুষের সর্বনাম পদ একত্রে যুক্ত হয়ে আমরা পদটি তৈরি করে। ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, এটি নিত্য সমাসের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং প্রচলিত অর্থে কোনো ব্যাসবাক্যের (Elaboration Sentence) মাধ্যমে তাদের ব্যাখ্যা করা যায় না, কেবল একটি অন্য পদ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে।
120

‘বুঝে শুনে উত্তর দাও নতুবা ভুল হবে’ বাক্যটি কোন শ্রেণির?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জটিল
  2. সরল
  3. মিশ্র
  4. যৌগিক

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, নতুবা, অথবা, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে। যেমন: নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: যৌগিক বাক্য
যৌগিক বাক্য হলো এমন বাক্য যেখানে দুই বা তার বেশি স্বাধীন খণ্ডবাক্য (Independent Clauses) থাকে, এবং এই স্বাধীন বাক্যগুলো সমন্বয়ী অব্যয় (Coordinating Conjunctions) দ্বারা যুক্ত থাকে।
প্রদত্ত বাক্যে দুটি স্বতন্ত্র অর্থবোধক অংশ রয়েছে: ১) বুঝে শুনে উত্তর দাও (একটি স্বাধীন বাক্য) এবং ২) ভুল হবে (অপর একটি স্বাধীন বাক্য)।
এই দুটি বাক্যকে ‘নতুবা’ নামক সমন্বয়কারী অব্যয় দ্বারা যুক্ত করা হয়েছে। ‘নতুবা’ শব্দটি যৌগিক বাক্যের অন্যতম প্রধান নির্দেশক।
যদি দুটি বাক্যকে ও, এবং, কিন্তু, নতুবা, অথবা, সুতরাং, তথাপি ইত্যাদি অব্যয় দিয়ে যুক্ত করা হয়, তবে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
121

‘আ মরি বাংলা ভাষা’ এ ‘আ’ দ্বারা কি প্রকাশ করা হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আনন্দ
  2. আশা
  3. আবেগ
  4. আনুগত্য

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘আ’ মনোভাববাচক অব্যয় দ্বারা আনন্দ, বিস্ময়, খেদ প্রভৃতি মনোভাব প্রকাশিত হয়। যেমন: ‘আ’ মরি বাংলা ভাষা’ এখানে ‘আ’ দ্বারা আনন্দ প্রকাশ করা হয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো আনন্দ
‘আ’ হলো একটি মনোভাববাচক অব্যয় পদ। মনোভাববাচক অব্যয় হঠাৎ মনের ভাব, যেমন—আনন্দ, বিস্ময়, ঘৃণা, খেদ ইত্যাদি প্রকাশ করে।
‘আ মরি বাংলা ভাষা’ বাক্যটিতে ‘আ’ শব্দটি দ্বারা বাংলা ভাষার প্রতি গভীর স্নেহ এবং আনন্দ প্রকাশ করা হয়েছে। এটি এক ধরনের প্রশংসা বা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।
122

‘মেঘলা’ কি ধরনের শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. বিশেষ্যের বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে। যেমন: ‘মেঘ’ বিশেষ্য পদটির বিশেষণ মেঘলা (যার অর্থ মেঘাচ্ছন্ন)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো বিশেষণ
যে পদ বিশেষ্য (Noun), সর্বনাম (Pronoun) এবং ক্রিয়াপদের (Verb) দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
এখানে, ‘মেঘলা’ শব্দটি বিশেষ্য পদ ‘মেঘ’ থেকে গঠিত হলেও, এটি কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর অবস্থা বা গুণ বোঝায় (যেমন: মেঘলা আকাশ, মেঘলা দিন)।
যেহেতু ‘মেঘলা’ শব্দটি অন্য একটি বিশেষ্য পদের গুণ প্রকাশ করে, তাই এটি বিশেষণ পদ
123

শুদ্ধ শব্দগুচ্ছ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গণনা, গনিকা, শোনিত
  2. গণনা, গণিকা, শোণিত
  3. গনণা, গনিকা, শোনিত
  4. গননা, গণিকা, শোনিত

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

গণনা, গণিকা, শোণিত শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়েছে। এরকম আরো কিছু শব্দ: বাণিজ্য, লবণ, কণিকা, বিপণি, নিপুণ, লাবণ্য, গৌণ, শাণ।

ব্যাখ্যা

সঠিক শব্দগুচ্ছটি হলো: গণনা, গণিকা, শোণিত
এই শব্দগুলি ণ-ত্ব বিধানের নিয়মের অন্তর্ভুক্ত। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম (সংস্কৃত) শব্দের বানানে কিছু ক্ষেত্রে স্বাভাবতই 'ণ' ব্যবহৃত হয়, যা স্বাভাবিক ণ-ত্ব বিধান নামে পরিচিত।
এখানে 'গণনা', 'গণিকা' এবং 'শোণিত' (রক্ত) শব্দগুলোতে ণ ব্যবহার করা আবশ্যক। অপশনগুলোর মধ্যে যেখানেই 'ন' ব্যবহার করা হয়েছে (যেমন: গনিকা বা শোনিত), সেটি অশুদ্ধ।
সুতরাং, দ্বিতীয় অপশনটি (গণনা, গণিকা, শোণিত) সব দিক থেকে শুদ্ধ।
124

‘সিত’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বস্ত্র
  2. শুক্ল
  3. শীত
  4. অদবধকার

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো শুক্ল
‘সিত’ শব্দটি একটি তৎসম শব্দ, যার প্রধান অর্থ হলো সাদা, শুভ্র বা ধবল
একইভাবে, ‘শুক্ল’ শব্দের অর্থও হলো সাদা বা শুভ্র। তাই এই দুটি শব্দ একে অপরের সমার্থক।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন অর্থ বহন করে: ‘বস্ত্র’ (কাপড়), ‘শীত’ (ঠান্ডা), এবং ‘অদবধকার’ (বানান ভুল হলেও সাধারণত 'অন্ধকার'-এর কাছাকাছি ভাব প্রকাশ করে, যা সাদার বিপরীত)।
125

একই সঙ্গে উচ্চারিত দুটি মিলিত স্বরধ্বনিকে কি বলে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অনামৃত স্বর
  2. একাক্ষর স্বর
  3. যৌগিক স্বর
  4. মৌলিক স্বর

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

একসঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বর বা দ্বি-স্বর বলা হয়। পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চারণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনি রূপে কাজ করে। বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ২৫টি। বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক দুটো বর্ণ রয়েছে: ঐ এবং ঔ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো যৌগিক স্বর
ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, যখন দুটি মৌলিক স্বরধ্বনি পাশাপাশি বসে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে উচ্চারিত হয়ে একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনি তৈরি করে, তখন তাকে যৌগিক স্বর বা দ্বি-স্বর (Diphthong) বলা হয়।
উদাহরণস্বরূপ: ‘আ+ই’ = আই (যেমন— যাই), ‘অ+উ’ = ওউ (যেমন— বউ)।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, মৌলিক স্বর হলো সেই স্বরধ্বনি যাকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না (যেমন: অ, আ, ই ইত্যাদি)।
126

‘নৌকায় নদী পার হলাম’ –নৌকায় কোন কারকে কোন বিভক্তি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কর্মে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. অধিকরণে ৫মী
  4. সম্প্রদানে ৪র্থী

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে ‘কীসের দ্বারা’ বা ‘কী উপায়ে’ প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক। সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে, এতে দ্বারা যুক্ত হলে। এখানে নৌকায় তাই করণে ৭মী ।

ব্যাখ্যা

‘নৌকায় নদী পার হলাম’ বাক্যটিতে ‘নৌকা’ হলো নদী পার হওয়ার উপকরণ বা যন্ত্র
ক্রিয়া (পার হওয়া) যার সাহায্যে বা যার দ্বারা সম্পন্ন হয়, তাকেই করণ কারক (Instrumental Case) বলা হয়।
ক্রিয়াপদকে ‘কীসের দ্বারা’ বা ‘কী উপায়ে’ প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়— ‘নৌকার দ্বারা’ (নৌকায়)। তাই এটি করণ কারক।
শব্দের শেষে ‘য়’ (যেমন: নৌকায়) থাকলে সেটি সপ্তমী বিভক্তি (৭মী) হয়। সপ্তমী বিভক্তির চিহ্নগুলো হলো: এ, য়, তে।
সুতরাং, সঠিক উত্তর: করণে ৭মী
127

‘আমি যাব তবে কাল যাব’ -এটি কি ধরনের বাক্য?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. মিশ্র বাক্য
  4. সরল বাক্য

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।সাধারণত যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি, তবে, প্রভৃতি অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে। যেমন: সে কাল আসবে এবং আমি যাব।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: যৌগিক বাক্য
এই বাক্যে ‘আমি যাব’ এবং ‘কাল যাব’—এই দুটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সরল বাক্য ‘তবে’ নামক একটি অব্যয় বা যোজক দ্বারা যুক্ত হয়েছে।
ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, যখন দুই বা ততোধিক পরস্পর নিরপেক্ষ সরল বা মিশ্র বাক্যকে **এবং, কিন্তু, অথবা, তবে, তথাপি, অথচ, কিংবা** ইত্যাদি সংযোজক বা বিয়োজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত করা হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য (Compound Sentence) বলা হয়।
128

‘অতিকায়’ শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অল্প
  2. অণু
  3. ক্ষুদ্রকায়
  4. বৃহৎ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

'অতিকায়' (অতি+কায়) শব্দের অর্থ হলো বিশাল বা বিরাট আকারের
সুতরাং এর বিপরীত শব্দ হতে হবে ছোট আকারের কিছু।
'ক্ষুদ্রকায়' শব্দের অর্থ হলো ছোট আকৃতির বা ক্ষুদ্র দেহবিশিষ্ট। এটিই 'অতিকায়' শব্দের যথার্থ বিপরীত শব্দ।
অন্যদিকে, 'বৃহৎ' শব্দটি অতিকায়ের প্রায় সমার্থক। 'অল্প' (পরিমাণে কম) এবং 'অণু' (ক্ষুদ্রতম কণা) এই প্রেক্ষাপটে যথাযথ বিপরীত শব্দ নয়।
সঠিক উত্তর তাই ক্ষুদ্রকায়
129

কোন বানানটি শুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অথিতি
  2. অতীথি
  3. অতিথি
  4. অতিথী

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বানান: অহ্ন, অশীতিপর, অপরাহ্ণ, অশ্বত্থ, অশরীরী, অত্যধিক, অন্যূন, জ্যেষ্ঠ, গভর্নর, উদীচী।

ব্যাখ্যা

সঠিক বানানটি হলো: অতিথি। এর অর্থ হলো আগন্তুক বা মেহমান।
বাংলা ভাষায় কিছু তৎসম শব্দের বানানে হ্রস্ব ই-কার (ি) ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে। 'অতিথি' শব্দটি তৎসম বা সংস্কৃত থেকে আগত, যেখানে দুটি বর্ণেই ই-কার ব্যবহৃত হয়।
প্রথম অক্ষর 'তি' এবং শেষ অক্ষর 'থি', উভয় ক্ষেত্রেই হ্রস্ব ই-কার (ছোট ই-কার) ব্যবহৃত হয়।
অন্যান্য অপশন যেমন 'অতীথি', 'অতিথী', 'অথিতি' ভুল, কারণ এদের মধ্যে দীর্ঘ ঈ-কার (ী) ব্যবহার করা হয়েছে বা প্রথম বর্ণে ভুল রয়েছে।
130

‘সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত’-বাক্যটি কোন দোষে দুষ্ট?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গুরুচণ্ডালী দোষ
  2. বিদেশি শব্দ দোষ
  3. দুর্বোধ্যতা দোষ
  4. বাহুল্য দোষ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং এর ফলে শব্দ তার যোগ্যতাগুণ হারিয়ে থাকে। যেমন: সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত। এ বাক্যে ‘সকল’ এবং ‘গণ’ বহুবচনবাচক শব্দের অতিরিক্ত ব্যবহার বাহুল্য দোষ সৃষ্টি করেছে। বাক্যটির সঠিক রূপ- সকল শিক্ষক আজ উপস্থিত। শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বাহুল্য দোষ
ব্যাকরণে যখন কোনো ভাব প্রকাশের জন্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করা হয়, তখন সেই শব্দ বা বাক্যটি বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।
এখানে, ‘সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত’—এই বাক্যে ‘সকল’ (বহুবচন নির্দেশক) এবং ‘গণ’ (বহুবচন নির্দেশক) দুটোই একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে।
এদের যেকোনো একটি ব্যবহার করাই যথেষ্ট ছিল। যেমন: সকল শিক্ষক আজ উপস্থিত (অথবা) শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত
অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারের কারণে বাক্যটি তার যোগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলেছে, তাই এটি বাহুল্য দোষ।
131

‘গায়ক’ এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গা + অক
  2. গৈ + য়ক
  3. গা + য়ক
  4. গৈ + অক

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গৈ + অক
এটি স্বরসন্ধির অন্তর্গত অয়াদি সন্ধির উদাহরণ। অয়াদি সন্ধির নিয়ম অনুযায়ী, শব্দের মধ্যে যখন 'আয়' ধ্বনি শোনা যায়, তখন প্রথম অংশে ঐ-কার (ঐ) যুক্ত হয়।
নিয়মটি হলো: ঐ + অন্য স্বরবর্ণ = আয়।
এখানে: গৈ + অক \rightarrow গ্ + ঐ + অ + ক \rightarrow গ্ + আয় + অক \rightarrow গায়ক।
অন্যান্য অপশনগুলো এই ব্যাকরণগত নিয়ম অনুসরণ করে না।
132

‘টাকায় টাকা আনে’- এখানে টাকায় কোন কারকে কি বিভক্তি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কর্তৃকারকে ৭মী
  2. কর্মকারকে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. করণ কারকে ৭মী

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে ‘কীসের দ্বারা’ বা ‘কী উপায়ে’ প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক। সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে, এতে দ্বারা যুক্ত হলে। তাই ‘টাকায় টাকা আনে’ বাক্যটিতে ‘টাকায়’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

ব্যাখ্যা

বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই হলো করণ কারক
করণ কারক মানে হলো—ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ক।
এখানে, 'আনে' (আনা) হচ্ছে ক্রিয়া। কী উপায়ে বা কিসের দ্বারা টাকা আসে? উত্তর: টাকায় (টাকার মাধ্যমে)। তাই 'টাকায়' শব্দটি এখানে উপায় বা উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এটি করণ কারক
বিভক্তি নির্ণয়: শব্দটির শেষে 'য়' যুক্ত আছে (টাকা + য়)। বিভক্তি চিহ্নের মধ্যে 'এ, য়, তে, এতে' থাকলে তা সপ্তমী বিভক্তি হয়।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো: করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি
133

শুদ্ধ বাক্য কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দৈন্যতা নিন্দনীয়
  2. ফুল দেখতে সুন্দর
  3. দরিদ্রতা অভিশাপ
  4. ভূল লিখতে ভুল করো না

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক বাক্যটি হলো: ফুল দেখতে সুন্দর। বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে সম্পূর্ণ শুদ্ধ এবং এতে কোনো প্রকারের বানান বা শব্দ প্রয়োগজনিত ত্রুটি নেই।
অন্যান্য বাক্যগুলোর ভুলগুলি নিম্নরূপ:
১. দৈন্যতা নিন্দনীয়: এটি অশুদ্ধ কারণ এখানে দ্বিরুক্তিজনিত দোষ ঘটেছে। 'দৈন্য' নিজেই একটি বিশেষ্য পদ যার অর্থ 'দীনতা/দৈন্যদশা'। এর সাথে আবার 'তা' প্রত্যয় যোগ করা অপ্রয়োজনীয় ও ব্যাকরণগতভাবে ভুল। শুদ্ধ হবে: দৈন্য নিন্দনীয় অথবা দীনতা নিন্দনীয়
২. দরিদ্রতা অভিশাপ: এটি তুলনামূলকভাবে কম অশুদ্ধ হলেও, 'দারিদ্র্য' বা 'দীনতা' ব্যবহার করা অধিকতর শুদ্ধ। তবে এটি Option 1 এর চেয়ে কম প্রামাণ্য শুদ্ধ বাক্য।
৩. ভূল লিখতে ভুল করো না: এখানে বানানজনিত ভুল আছে। সঠিক বানানটি হলো ভুল, 'ভূল' নয়।
134

‘আকাশে চাঁদ উঠেছে’- এখানে ‘আকাশে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কর্মে শূন্য
  2. অধিকরণে সপ্তমী
  3. সম্প্রদানে চতুর্থী
  4. করণে ষষ্ঠী

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বাক্যের ক্রিয়া পদকে কোথায়, কখন ও কোন বিষয় ইত্যাদি দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাকে অধিকরণ কারক বলে। উদাহরণ: আকাশে চাঁদ উঠেছে। আকাশে (এ) → কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে স্থান আকাশে আসবে। আকাশে শব্দটি “এ” বিভক্তি দ্বারা যুক্ত যা ৭মী বিভক্তির অন্তর্ভুক্ত। তাই এটি অধিকরণে সপ্তমী।

ব্যাখ্যা

এই বাক্যে ‘আকাশে’ পদটি ক্রিয়াপদ ‘উঠেছে’ এর স্থান বা আধার নির্দেশ করছে।
ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার স্থান (কোথায়?), কাল (কখন?) বা বিষয় (কিসে?) নির্দেশ করলে তাকে অধিকরণ কারক বলে।
এখানে ক্রিয়াপদকে ‘কোথায় চাঁদ উঠেছে?’ প্রশ্ন করলে উত্তর আসে— ‘আকাশে’। স্থান নির্দেশ করায় এটি অধিকরণ কারক।
শব্দটির শেষে ‘এ’ বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। মনে রাখবেন, ‘এ’, ‘তে’, ‘য়’ এই তিনটি হলো সপ্তমী বিভক্তি
135

জিভের সামনের অংশের সাহায্যে উচ্চারিত স্বরধ্বনি গুলোকে কী বলে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অগ্র-স্বরধ্বনি
  2. জিভ-স্বরধ্বনি
  3. সম্মুখ-স্বরধ্বনি
  4. নিম্ন-স্বরধ্বনি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভের অবস্থান (উঁচু-নিচু হওয়া) অনুসারে ধ্বনিগুলোকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
১. যখন জিভের সামনের অংশ উঁচু হয়ে ধ্বনি উচ্চারণ করা হয়, তখন তাকে সম্মুখ স্বরধ্বনি বা অগ্র স্বরধ্বনি বলা হয়।
২. জিভের মাঝের অংশ উঁচু হলে কেন্দ্রীয় স্বরধ্বনি
৩. জিভের পিছনের অংশ উঁচু হলে পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
যেহেতু প্রশ্নে জিভের সামনের অংশের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনির কথা বলা হয়েছে, তাই সঠিক উত্তরটি হলো সম্মুখ-স্বরধ্বনি
136

‘মা খোকাকে চাঁদ দেখাচ্ছে’- এ বাক্যে ‘দেখাচ্ছে’ কোন ক্রিয়া?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অসমাপিকা ক্রিয়া
  2. সমাপিকা ক্রিয়া
  3. দ্বিকর্মক
  4. প্রযোজক

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো প্রযোজক ক্রিয়া
যে ক্রিয়া একজনের দ্বারা পরিচালিত হয়ে অন্যজনকে দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করায়, তাকে প্রযোজক ক্রিয়া (Causative Verb) বলে। এখানে দুইজন কর্তা থাকে—যিনি কাজটি করান (প্রযোজক কর্তা) এবং যাকে দিয়ে কাজটি করানো হয় (প্রযোজ্য কর্তা)।
প্রদত্ত বাক্যে, 'মা' হলেন প্রযোজক কর্তা এবং 'খোকা' হলেন প্রযোজ্য কর্তা। মা খোকাকে চাঁদ দেখানোর কাজটি করাচ্ছেন। তাই 'দেখাচ্ছে' হলো প্রযোজক ক্রিয়া।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ:
  • অসমাপিকা ক্রিয়া: বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করে না (যেমন: দেখে, খেয়ে)।
  • সমাপিকা ক্রিয়া: বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করে (যা 'দেখাচ্ছে' করে, কিন্তু এর মুখ্য পরিচয় হলো প্রযোজকতা)।
  • দ্বিকর্মক ক্রিয়া: যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকে (যেমন: খোকাকে (গৌণ কর্ম) এবং চাঁদ (মুখ্য কর্ম)। যদিও এটি দ্বিকর্মক হতে পারে, তবে ক্রিয়ার গঠনগত দিক থেকে এখানে প্রযোজক রূপটিই মূল উত্তর।
137

‘তার টাকা আছে কিন্তু তিনি দান করেন না’ কোন ধরনের বাক্য?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. খণ্ড বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. সরল বাক্য

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

দুই বা ততোধিক সরল বা জটিল বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে। যৌগিক বাক্যে দুইটি বাক্যের মাঝখানে কিন্তু, এবং, ও, অথবা, অথচ, বরং, আর, কিংবা ইত্যাদি অব্যয় ব্যবহৃত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: যৌগিক বাক্য
‘তার টাকা আছে’ এটি একটি স্বাধীন সরল বাক্য এবং ‘তিনি দান করেন না’ এটি আরেকটি স্বাধীন সরল বাক্য।
এই দুটি স্বাধীন সরল বাক্যকে ‘কিন্তু’ নামক সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত করা হয়েছে।
যে বাক্যে দুই বা ততোধিক স্বাধীন সরল বাক্য কোনো সংযোজক বা বিয়োজক অব্যয় (যেমন: ও, এবং, কিন্তু, অথবা, অথচ, বরং, আর, কিংবা ইত্যাদি) দ্বারা যুক্ত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তাকেই যৌগিক বাক্য বলে।
138

‘কাজলকালো’– এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কালো ও কাজল
  2. কাজলের ন্যায় কালো
  3. কাজল ও কালো
  4. কাজল রূপ কালো

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কাজলের ন্যায় কালো = কাজলকালো, তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র (উপমান কর্মধারয় সমাস)। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো ‘কাজলের ন্যায় কালো’। এটি উপমান কর্মধারয় সমাস-এর উদাহরণ।

উপমান কর্মধারয় সমাস: যখন প্রত্যক্ষ উপমান (যার সাথে তুলনা করা হয়—এখানে কাজল) এবং পরোক্ষ সাধারণ ধর্ম (তুলনার সাধারণ গুণ—এখানে কালো) এর মধ্যে তুলনা বোঝানো হয়, তখন মাঝখানে ‘ন্যায়’ শব্দটি বসে।

কাজল সাধারণত কালোই হয়, তাই কালো রং-এর সঙ্গে কাজলের স্বাভাবিক তুলনা বোঝানো হচ্ছে।

অন্যান্য বিকল্প: ‘কালো ও কাজল’ বা ‘কাজল ও কালো’ হলে দ্বন্দ্ব সমাস হতো, কিন্তু অর্থ সম্পূর্ণ পাল্টে যেত।
139

কোনটি শুদ্ধ বানান?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সৌজন্নতা
  2. শৌজন্য
  3. সৌজন্যতা
  4. সৌজন্য

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সৌজন্য অর্থ ভদ্রতা, শিষ্টাচার। কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বানান: সতীত্ব, সতীর্থ, সত্তা, সত্ত্ব, সত্ত্বেও, সত্বর, সদ্যঃস্নাত, সদ্যোজাত, স্বত্বাধিকার।

ব্যাখ্যা

সঠিক বানানটি হলো ‘সৌজন্য’। এর অর্থ হলো ভদ্রতা বা শিষ্টাচার।
শুদ্ধ বানানের নিয়ম: ‘সৌজন্য’ শব্দটি নিজেই একটি বিশেষ্য পদ (Abstract Noun) যা সুজন + য প্রত্যয়যোগে গঠিত।
যেহেতু ‘সৌজন্য’ শব্দের মধ্যেই বিশেষ্য হওয়ার গুণটি নিহিত, তাই এর সাথে অতিরিক্ত ‘তা’ প্রত্যয় যোগ করা যায় না। যদি ‘সৌজন্যতা’ বা ‘দৈন্যতা’ ব্যবহার করা হয়, তবে তা ব্যাকরণে দ্বিত্ব দোষ হিসেবে গণ্য হয়।
এখানে, 'সৌজন্নতা' এবং 'সৌজন্যতা' ভুল। 'শৌজন্য' বানানটিও অশুদ্ধ।
140

কোনটি শুদ্ধ বাক্য?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তাহার সৌজন্যতায় আমি সুযোগটি পেয়েছি
  2. তার সৌজন্যে আমি সুযোগটি পেয়েছি
  3. তাহার সৌজন্যে আমি সুযোগটি পেয়েছি
  4. তার সৌজন্যতায় আমি সুযোগটি পেয়েছি

সঠিক উত্তর: খ

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: তার সৌজন্যে আমি সুযোগটি পেয়েছি
এই বাক্যটি শুদ্ধ হওয়ার মূল কারণ হলো 'সৌজন্য' শব্দের সঠিক ব্যবহার।
'সৌজন্য' শব্দটি নিজেই একটি বিশেষ্য পদ (সুজন + য প্রত্যয়)। এর অর্থ হলো শিষ্টাচার বা ভালো ব্যবহার।
যেসব শব্দে ইতিমধ্যেই 'য', 'ষ্ণ', 'অয়ন' ইত্যাদি বিশেষ্যবাচক প্রত্যয় যুক্ত আছে, তার সাথে পুনরায় '-তা', '-ত্ব' বা অন্য কোনো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয় যোগ করা যায় না। এটিকে দ্বিরুক্তি দোষ বা শব্দপ্রয়োগজনিত ভুল বলা হয়।
অতএব, 'সৌজন্য'-এর সাথে '-তা' যোগ করে 'সৌজন্যতা' লিখলে বাক্যটি অশুদ্ধ হয়ে যায়। অপশন ২ ও ৪ ভুল কারণ তাতে 'সৌজন্যতা' ব্যবহার করা হয়েছে।
সুতরাং, কেবল 'সৌজন্যে' (৭মী বিভক্তি যুক্ত) বা 'সৌজন্য' ব্যবহার করাই ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ।
141

সমজাতীয় একাধিক পদ পরপর থাকলে কোন বিরামচিহ্ন বসে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিন্দু
  2. কোলন
  3. সেমিকোলন
  4. কমা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হল কমা
বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, যখন কোনো বাক্যে একই শ্রেণির একাধিক পদ (যেমন একাধিক বিশেষ্য, বিশেষণ, বা ক্রিয়াপদ) বা শব্দগুচ্ছ পরপর বসে, তখন সেগুলোর মধ্যে অল্প বিরতি বোঝানোর জন্য কমা চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
যেমন: মা, বাবা, ভাই ও বোন মিলে আমাদের পরিবার। এখানে সমজাতীয় পদগুলো কমা দিয়ে আলাদা করা হয়েছে।
অন্যান্য চিহ্ন যেমন – বিন্দু (দাঁড়ি) বাক্যের সমাপ্তি বোঝায়, কোলন দৃষ্টান্ত বোঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং সেমিকোলন কমার চেয়ে বেশি কিন্তু দাঁড়ির চেয়ে কম বিরতি বোঝায়।
142

‘বিনা যত্নে উৎপন্ন হয় যা’ - এর বাক্য সংকোচন কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অনায়াসলব্ধ
  2. অযত্নসম্ভূত
  3. অযত্নজাত
  4. অযত্নলব্ধ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কতিপয় বাক্যসংকোচন: যা বিনা যত্নে লাভ করা গিয়েছে – অযত্নলব্ধ, অনায়াসে লাভ করা যায় যা- অনায়াসলব্ধ, যা দমন করা যায় না – অদম্য, যা দমন করা কষ্টকর – দুর্দমনীয়, যা নিবারণ করা কষ্টকর – দুর্নিবার।

ব্যাখ্যা

এই প্রশ্নটি **এককথায় প্রকাশ** (বাক্য সংকোচন) অংশ থেকে এসেছে।
বাক্যটি হলো: ‘বিনা যত্নে উৎপন্ন হয় যা’।
এখানে মূল ক্রিয়া হলো **‘উৎপন্ন হওয়া’**। উৎপন্ন হওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয় **‘সম্ভূত’** বা **‘জাত’** শব্দটি।
যেহেতু এটি ‘বিনা যত্নে’ (Without Care), তাই সঠিক বাক্য সংকোচনটি হবে: **অযত্নসম্ভূত**। (অযত্ন + সম্ভূত)।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন অর্থ বহন করে:
অযত্নলব্ধ: এর অর্থ – যা বিনা যত্নে লাভ করা গিয়েছে। (এখানে লাভ করা ক্রিয়াটি মুখ্য।)
অনায়াসলব্ধ: এর অর্থ – যা অনায়াসে (effortlessly) লাভ করা যায়।
143

‘সংলাপ’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সম + লাপ
  2. সং + লাপ
  3. সং + আলাপ
  4. সমঃ + লাপ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ম-এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি য, র, ল, ব কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম স্থলে অনুস্বার (s) হয়। যেমন: সম + লাপ = সংলাপ, সম্ + শয় = সংশয়, সম্ + সার = সংসার ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সম + লাপ। এটি ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ।
বাংলা ব্যাকরণের ব্যঞ্জন সন্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র এখানে প্রযোজ্য।
সূত্র: -এর পর যদি য, র, ল, ব (অন্তঃস্থ ধ্বনি) কিংবা শ, ষ, স, হ থাকে, তাহলে সন্ধির সময় পূর্বপদের 'ম' স্থানে অনুস্বার (ং) হয়।
এখানে, সম্ (ম) + লাপ (ল) = সংলাপ (ং)।
144

‘ঢেউ’ এর প্রতিশব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তটিণী
  2. বীচি
  3. বারিধি
  4. উর্মি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘ঢেউ’ - এর প্রতিশব্দ: ঊর্মি, বীচি, কল্লোল, তরঙ্গ, লহরি, হিল্লোল। অপশনে ঊর্মি শব্দটির বানান ভুল তাই এটি উত্তর নয়। নদী এর প্রতিশব্দ → তটিনী, তরঙ্গিনী, স্রোতস্বিনী ইত্যাদি। সমুদ্র এর প্রতিশব্দ → বারিধি, সিন্ধু ইত্যাদি ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো বীচি। বাংলা ব্যাকরণে ‘ঢেউ’ (Wave) হলো জলভাগের একটি প্রাকৃতিক রূপ।

‘ঢেউ’ এর অন্যান্য বহুল ব্যবহৃত প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দগুলো হলো: ঊর্মি, তরঙ্গ, লহরি, কল্লোলহিল্লোল

অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে:
১. তটিণী: নদী (স্রোতস্বিনী, তরঙ্গিনী) এর প্রতিশব্দ।
২. বারিধি: সমুদ্র (সাগর, সিন্ধু, জলধি) এর প্রতিশব্দ।
145

কোন শব্দটিতে বিদেশি প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বেআক্কেল
  2. দিগগজ
  3. চালবাজ
  4. কানকাটা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো চালবাজ
যে প্রত্যয়গুলো বাংলা বা সংস্কৃত ভাষা থেকে না এসে আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে এসে শব্দের শেষে যুক্ত হয়, তাদের বিদেশি প্রত্যয় বলে।
শব্দটি বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়: চাল + বাজ। এখানে ‘বাজ’ হলো একটি ফারসি (Persian) তদ্ধিত প্রত্যয়, যা বিদেশি প্রত্যয়ের উদাহরণ।
অন্যান্য অপশনসমূহের মধ্যে, বেআক্কেল শব্দটিতে 'বে-' বিদেশি উপসর্গ (প্রত্যয় নয়) ব্যবহৃত হয়েছে।
146

কোনটি ‘তদ্ভব’ শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সূর্য
  2. চাঁদ
  3. চন্দ্র
  4. গগন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দকে তদ্ভব শব্দ বলে। যেমন- মা, হাত, চাঁদ, চামার, পা, ঘি, কামার, দুধ, পাখি ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো চাঁদ
তদ্ভব শব্দের অর্থ হলো 'তা থেকে উৎপন্ন'। অর্থাৎ, যেসব শব্দ মূল বা আদি উৎস সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে প্রাকৃত ভাষার মাধ্যমে পরিবর্তন বা বিবর্তন হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
যেমন: সংস্কৃত 'চন্দ্র' থেকে প্রাকৃত ভাষায় পরিবর্তিত হয়ে এটি হয় 'চন্দ', এবং আধুনিক বাংলায় এটি 'চাঁদ' রূপে ব্যবহৃত হয়। তাই 'চাঁদ' একটি তদ্ভব শব্দ।
অন্যদিকে, 'সূর্য', 'চন্দ্র', এবং 'গগন' শব্দগুলো সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে অপরিবর্তিত রূপে বাংলায় এসেছে। এগুলি হলো তৎসম শব্দ
147

কোন বানানটি শুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রিতীনিতী
  2. রীতিনীতি
  3. রীতিনিতি
  4. রিতীনীতি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বানান; অন্বেষণ, কণীনিকা, মরীচিকা, রৌদ্রোজ্জ্বল, রৌদ্রকরোজ্জ্বল, রৌরব ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক বানানটি হলো রীতিনীতি (Option 2)।
এটি একটি দ্বন্দ্ব সমাসবদ্ধ পদ যা 'রীতি' এবং 'নীতি'—এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।
বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী, এই দুটি শব্দেই দীর্ঘ ঈ-কার (ী) ব্যবহৃত হয়।
যেমন: রীতি (অর্থ: প্রথা, ধারা) এবং নীতি (অর্থ: নিয়ম, আদর্শ)। ভুল বানানে সাধারণত ই-কার বা দীর্ঘ ঈ-কারের ব্যবহারে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়।
148

তালব্য বর্ণ কোনগুলো?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ই, জ, ঞ, য়
  2. খ, উ, ম, ল
  3. র, ড়, ঢ়, ভ
  4. স, ও, ঘ, ত

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিহ্বা প্রসারিত হয়ে তার সামনের অংশ দিয়ে শক্ত তালু স্পর্শ করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে সেই ধ্বনিগুলোই হলো তালব্য ধ্বনি। যেমন : তালব্য বর্ণ– ই, ঈ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, শ, য়, য।

ব্যাখ্যা

বাংলা বর্ণমালায় ধ্বনি উচ্চারণের স্থান অনুযায়ী বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত। যে ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময় জিহ্বার সামনের অংশ প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুকে স্পর্শ করে বা কাছাকাছি আসে, তাদের তালব্য ধ্বনি বা তালব্য বর্ণ বলে।
চ-বর্গীয় ধ্বনিগুলো (চ, ছ, জ, ঝ, ঞ) সম্পূর্ণভাবে তালব্য ধ্বনি। এছাড়া ই, ঈ, য, শ, য় বর্ণগুলোও তালব্য ধ্বনি হিসেবে পরিচিত।
সঠিক অপশন (ক) ই, জ, ঞ, য় তে থাকা সকল বর্ণই তালু থেকে উচ্চারিত হয়, তাই এটি সঠিক উত্তর।
149

কোনটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অতি
  2. ইতি
  3. পরি
  4. অব

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

খাঁটি বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি। যথা- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গ প্রধানত তিন প্রকার: খাঁটি বাংলা উপসর্গ, তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ এবং বিদেশি উপসর্গ
প্রশ্নে দেওয়া অপশনগুলির মধ্যে 'ইতি' হলো খাঁটি বাংলা উপসর্গ। এটি সাধারণত অপ্রচলিত অর্থে বা সমাপ্তি অর্থে ব্যবহৃত হয় (যেমন: ইতিপূর্বে, ইতিকথা)।
অন্যদিকে, 'অতি', 'পরি' এবং 'অব' হলো তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ, যা মূলত সংস্কৃত শব্দে ব্যবহৃত হয়।
150

‘নদীটি উত্তরমুখে প্রবাহিত’– এখানে ‘মুখ’ কোন অর্থ প্রকাশ করে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তিরস্কার
  2. মর্যাদা
  3. প্রত্যঙ্গ বিশেষ
  4. দিক

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘মুখ’ শব্দের কিছু প্রয়োগ, মুখ খোলা (কথা বলা), মুখ রাখা (সম্মান রাখা), মুখ তোলে চাওয়া (প্রসন্ন হওয়া), মুখ সামলে (সংযত ভাষায়)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো দিক
বাংলা ভাষায় কিছু শব্দের একাধিক অর্থ থাকে, যা বাক্যের প্রয়োগভেদে পরিবর্তিত হয়। ‘মুখ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ প্রত্যঙ্গ বিশেষ (যেমন: মুখমণ্ডল)।
কিন্তু যখন এটি দিক বা গতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, তখন এর অর্থ দিক হয়। যেমন: ‘উত্তরমুখে’ বলতে বোঝানো হচ্ছে, উত্তর দিকে বা উত্তর দিকে মুখ করে।
তাই, ‘নদীটি উত্তরমুখে প্রবাহিত’— বাক্যে ‘মুখ’ শব্দটি প্রবাহের দিক নির্দেশ করছে।

এই অধ্যায়ের প্রশ্ন টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করুন

এই পেজে বাছাইকৃত ১৫০টি প্রশ্ন সমাধানসহ দেওয়া হয়েছে (মোট ১,২১৪টির মধ্যে)। প্র্যাকটিস মোডে এক-একটি করে উত্তর দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল, স্কোর ও অগ্রগতি ট্র্যাক করুন।

বাংলা (Primary)-এর অন্যান্য অধ্যায়

কেন Primary Assistant Teacher-এর জন্য “ব্যাকরণ” অধ্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ?

Primary Assistant Teacher নিয়োগ পরীক্ষার বাংলা (Primary) অংশে “ব্যাকরণ” থেকে প্রায় প্রতিবারই প্রশ্ন আসে। বিগত সালের প্রশ্নের ধরন বুঝে নিয়মিত অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ের নম্বর নিশ্চিত করা সহজ হয় — এই পেজের বাছাইকৃত প্রশ্নগুলো ঠিক সেই প্রস্তুতির জন্যই সাজানো।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

"ব্যাকরণ" অধ্যায় থেকে কেমন প্রশ্ন আসে?

Primary Assistant Teacher নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলা (Primary) বিষয়ের "ব্যাকরণ" অধ্যায় থেকে নিয়মিত MCQ আসে। এই পেজে বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক জায়গায় দেওয়া হয়েছে — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ।

উত্তর ও সমাধান কি বিনামূল্যে?

হ্যাঁ। প্রশ্ন, অপশন, সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যা — সবই লগইন ছাড়াই বিনামূল্যে দেখা যায়। টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করতে চাইলে একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট দিয়ে প্র্যাকটিস মোডে যান।