সমাধান
সমাধান
💼
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

প্রাচীন ও মধ্যযুগ

BCS Preliminary · বাংলা ভাষা ও সাহিত্য — বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক পেজে।

নিচে BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষার বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ের "প্রাচীন ও মধ্যযুগ" অধ্যায়ের বাছাইকৃত ১০১টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ। সবই বিনামূল্যে।

1

চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশ করেন কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. যতীন্দ্র মোহন বাগচী
  3. প্রফুল্ল মোহন বাগচী
  4. প্রণয়ভূষণ বাগচী

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী অনুবাদ সংগ্রহ/আবিষ্কার করে প্রকাশ করেন। প্রবোধচন্দ্র বাগচীর মতে, চর্যাপদের নাম ‘চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: প্রবোধচন্দ্র বাগচী
ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশ করেন। এটি ১৯৩৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়।
মূলত, তিব্বতি অনুবাদটি মুনিদত্ত রচিত চর্যাগীতিকোষ-বৃত্তি বা টীকার তিব্বতি অনুবাদ। প্রবোধচন্দ্র বাগচী এই অনুবাদটি সংগ্রহ করে প্রকাশ করেন।
এই তিব্বতি অনুবাদটি আবিষ্কৃত হওয়ার ফলে চর্যাপদের দুর্বোধ্য পদগুলির অর্থ উদ্ধারে এবং চর্যার ভাষাতাত্ত্বিক তাৎপর্য নির্ধারণে ব্যাপক সুবিধা হয়।
2

‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যের রচয়িতা জয়দেব কার সভাকবি ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শশাঙ্কদেবের
  2. লক্ষ্মণ সেনের
  3. যশোবর্মনের
  4. হর্ষবর্ধনের

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

জয়দেব বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি এবং লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি ছিলেন। জয়দেব বাঙালি কবি ছিলেন কিন্তু পদ রচনা করেছিলেন সংস্কৃত ভাষায়। এই জন্য তাকে পদাবলির সংস্কৃত ভাষার আদি কবি বলা হয়। তাঁর বিখ্যাত বৈষ্ণব পদাবলির কাব্য- ‘গীতগোবিন্দম্’। এটি বৈষ্ণব ধারার/ বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম কাব্য।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: লক্ষ্মণ সেনের
জয়দেব ছিলেন সেন বংশের শেষ স্বাধীন ও বিখ্যাত রাজা লক্ষ্মণ সেনের (আনুমানিক ১১৭৮–১২০৬ খ্রি.) সভাকবি।
তিনি ছিলেন রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভার পাঁচজন বিখ্যাত পণ্ডিত বা ‘পঞ্চরত্ন’-এর অন্যতম।
তাঁর রচিত অমর কাব্য ‘গীতগোবিন্দ’ হলো রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা বিষয়ক একটি লিরিক্যাল কাব্য, যা বাংলা সাহিত্যের বৈষ্ণব পদাবলি ধারায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
3

কবি যশোরাজ খান বৈষ্ণবপদ রচনা করেন কোন ভাষায়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ব্রজবুলি
  2. বাংলা
  3. সংস্কৃত
  4. হিন্দি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

কবি যশোরাজ খান গৌড়ের শাসক হুসেন শাহের রাজত্বকালের কবি ছিলেন। পীতাম্বর দাসের রচিত ‘রসমঞ্জরী’ গ্রন্থে যশোরাজ খানের একটি ব্রজবুলি পদ সংকলিত রয়েছে। পদটি যশোরাজ খান রচিত শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল কাব্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ব্রজবুলি
মধ্যযুগের অন্যতম বিখ্যাত বৈষ্ণব পদকর্তা কবি যশোরাজ খান তাঁর অধিকাংশ পদ ব্রজবুলি ভাষায় রচনা করেন।
বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্যে সাধারণত দুটি প্রধান ভাষা ব্যবহৃত হতো—একটি হলো বিশুদ্ধ বাংলা এবং অন্যটি হলো ব্রজবুলি
ব্রজবুলি হলো মূলত মৈথিলী ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার সংমিশ্রণে সৃষ্ট একটি কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা, যা রাধা-কৃষ্ণের লীলা কীর্তনের জন্য খুবই উপযোগী ছিল।
4

নিচের কোন জন যুদ্ধকাব্যের রচয়িতা নন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দৌলত উজির বাহরাম খাঁ
  2. সাবিরিদ খাঁ
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. সৈয়দ নূরুদ্দীন

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সৈয়দ নূরুদ্দীন যুদ্ধকাব্যের রচয়িতা নন। তিনি মধ্যযুগীয় ধর্ম সাহিত্যের কবি। তার কাব্যগুলো হলো দাকায়েফুল হেকায়েক, কেয়ামতনামা ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সৈয়দ নূরুদ্দীন
তিনি যুদ্ধকাব্যের রচয়িতা নন।
সৈয়দ নূরুদ্দীন মূলত ধর্মতত্ত্বমূলক বা শিক্ষামূলক কাব্য রচনা করেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ হলো আহকামুস সালাত (নামাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় নিয়মাবলি নিয়ে রচিত), যা কোনো যুদ্ধকাব্য নয়।
অন্যদিকে, সৈয়দ সুলতান এবং সাবিরিদ খাঁ উভয়েই রসুলবিজয় কাব্যধারার কবি। রসুলবিজয় মূলত ইসলামিক নবীদের জীবনীর ওপর ভিত্তি করে লেখা হলেও, এতে যুদ্ধ ও সংগ্রামের বিবরণ থাকে, তাই এটি যুদ্ধকাব্যের অংশ হিসেবে গণ্য হয়।
দৌলত উজির বাহরাম খাঁ বিখ্যাত প্রণয়কাব্য লাইলী মজনু-এর রচয়িতা। তবে প্রশ্নের প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে সৈয়দ নূরুদ্দীনই একমাত্র কবি, যার প্রধান পরিচিতি বা রচনা যুদ্ধকাব্য থেকে একেবারেই ভিন্ন।
5

কোনটি কবি জৈনুদ্দিনের কাব্যগ্রন্থ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রসুল বিজয়
  2. মক্কা বিজয়
  3. রসুলচরিত

  4. মক্কানামা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

কবি জৈনুদ্দিনের যুদ্ধকাব্য রসুল বিজয়। এটি যুদ্ধবিষয়ক একটি কাহিনীকাব্য।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: রসুল বিজয়
মধ্যযুগের অন্যতম কবি জৈনুদ্দিনের একমাত্র পরিচিত ও বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো রসুল বিজয়
কবি জৈনুদ্দিন ছিলেন পঞ্চদশ শতকের শেষের দিকে (১৪৭৪-১৪৮১ খ্রিষ্টাব্দ) বাংলার স্বাধীন সুলতান ইউসুফ শাহের রাজসভার কবি।
কাব্যগ্রন্থটি একটি বিজয়ের উপাখ্যানমূলক কাব্য। এটি মূলত নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবনচরিত এবং ইসলাম প্রচারের কাহিনি নিয়ে রচিত।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন ভিন্ন কবির রচনা: যেমন, 'মক্কা বিজয়' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
6

‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের উপাস্য ‘চণ্ডী’ কার স্ত্রী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জগন্নাথ
  2. বিষ্ণু
  3. প্রজাপতি
  4. শিব্

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য। চণ্ডী ছিলেন পৌরাণিক দেবতা শিবের স্ত্রী। চণ্ডীমঙ্গলের দুটি উপাখ্যান রয়েছে। একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি এবং দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: শিব্
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে রচিত মঙ্গলকাব্যের একটি অন্যতম প্রধান শাখা হলো ‘চণ্ডীমঙ্গল’। এই কাব্যের উপাস্য দেবী চণ্ডী হলেন হিন্দু পুরাণ অনুসারে মহাদেবের (শিব) পত্নী এবং দেবী দুর্গা বা পার্বতীরই অপর একটি রূপ।
মঙ্গলকাব্যের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল লোকসমাজে এই বিশেষ দেবীর (যেমন: মনসা, চণ্ডী) মাহাত্ম্য প্রচার ও পূজা প্রতিষ্ঠা করা। যেহেতু চণ্ডী দেবী দুর্গা বা পার্বতীর রূপ, তাই তিনি শিবের স্ত্রী হিসেবেই পরিচিত।
অন্যান্য বিকল্প— বিষ্ণু (যার স্ত্রী লক্ষ্মী) বা জগন্নাথ— চণ্ডী মঙ্গলকাব্যের কেন্দ্রীয় উপাস্য নন।
7

‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য’ কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নেপালের রাজদরবার থেকে
  2. গোয়ালঘর থেকে
  3. পাঠশালা থেকে
  4. কান্তজীর মন্দির থেকে

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথি আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুঁথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গোয়ালঘর থেকে
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের আদি নিদর্শন ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য’ ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর বা বারান্দা থেকে উদ্ধার করা হয়।
এই কাব্যটি উদ্ধার করেন প্রখ্যাত গবেষক বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ
উল্লেখ্য, নেপালের রাজদরবার থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন ‘চর্যাপদ’ (১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী)। তাই এই বিকল্পটি ভুল।
8

বিদ্যাপতি মূলত কোন ভাষার কবি ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মারাঠি
  2. হিন্দি
  3. মৈথিলি
  4. গুজরাটি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

মিথিলার কবি বিদ্যাপতি বাঙালি না হয়েও অথবা বাংলায় কবিতা রচনা না করেও বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য নাম। তিনি ‘মৈথিল কোকিল’ ও ‘অভিনব জয়দেব’ নামে খ্যাত। তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায়, রাজপণ্ডিত ইত্যাদি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: মৈথিলি
বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৫২ – ১৪৪৮) ছিলেন মধ্যযুগের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ভারতীয় কবি। তিনি মূলত মৈথিলি ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে পরিচিত।
বিদ্যাপতি ভারতের বিহার এবং নেপালের সীমান্তবর্তী মিথিলা অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর কাব্যচর্চার প্রধান ক্ষেত্র ছিল মৈথিলি ভাষা।
যদিও তিনি মৈথিলি ভাষায় লিখতেন, বাংলা সাহিত্যে তিনি বৈষ্ণব পদাবলি ধারায় ব্রজবুলি ভাষায় পদ রচনা করে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। বৈষ্ণব পদাবলির প্রবর্তক হিসেবে তাকেই গণ্য করা হয়।
অন্যান্য ভাষা (মারাঠি, হিন্দি, গুজরাটি) তাঁর সাহিত্য রচনার প্রধান মাধ্যম ছিল না।
9

‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে।’ এই মনোবাঞ্ছাটি কার?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভবানন্দের
  2. ভাঁড়ুদত্তের
  3. ঈশ্বরী পাটুনীর
  4. ফুল্লরার

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি। ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’ মনোবাঞ্ছাটি করেছিলেন ঈশ্বরী পাটনী। মনোবাঞ্ছাটি পাওয়া যায় ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যে। ১৭৫২ সালে অন্নদামঙ্গল রচিত হয়। দেবী অন্নদাকে উদ্দেশ্য করে ঈশ্বরী পাটনী উল্লিখিত উক্তিটি করেন। ‘ভাডু দত্ত’, ‘ফুল্লরা’ চন্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: ঈশ্বরী পাটুনীর
উক্তিটি মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘অন্নদামঙ্গল’ বা ‘অন্নপূর্ণা মঙ্গল’ থেকে নেওয়া হয়েছে।
ঈশ্বরী পাটুনী ছিলেন একজন দরিদ্র মাঝি বা পাটুনি পত্নী। তিনি দেবী অন্নপূর্ণাকে নদী পার করিয়ে দেন। দেবী যখন তাঁকে বর চাইতে বলেন, তখন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যে জর্জরিত পাটুনী অত্যন্ত সরলভাবে এই মনোবাঞ্ছাটি করেন—যা তৎকালীন সাধারণ বাঙালির জীবনসংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।
অন্যান্য অপশনগুলো একই ধারার কাব্য থেকে এলেও এই উক্তিটির সাথে সম্পর্কিত নয়। যেমন, ফুল্লরা (কালকেতুর স্ত্রী) চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র। ভাঁড়ুদত্তও চণ্ডীমঙ্গলের খল চরিত্র।
10

জীবনী সাহিত্যের ধারা গড়ে ওঠে কাকে কেন্দ্র করে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শ্রীচৈতন্যদেব
  2. কাহ্নপা
  3. বিদ্যাপতি
  4. রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

শ্রীচৈতন্যদেব ও তাঁর কয়েকজন শিষ্যের জীবন কাহিনি নিয়ে মধ্যযুগে জীবনী সাহিত্যের সূচনা হয়। চৈতন্যদেবের জীনবী সাহিত্য ‘কড়চা’ নামে অভিহিত করা হয়। কড়চা অর্থ দিনপঞ্জি বা রোজনামচা। ভক্তরা চৈতন্যদেবকে মানুষ রূপে কল্পনা করেনি, করেছে নররূপী নারায়ণ রূপে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: শ্রীচৈতন্যদেব
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শ্রীচৈতন্যদেবকে (১৪৮৬–১৫৩৩) কেন্দ্র করেই প্রথম সার্থক ও বিপুল জীবনী সাহিত্যের ধারা গড়ে ওঠে। শ্রীচৈতন্যের অলৌকিক জীবন, ধর্মপ্রচার এবং মানবিক মহিমা সেই সময়ের কবিদের গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
তাঁর জীবনীকে কেন্দ্র করে ষোড়শ শতকে অসংখ্য কাব্য রচিত হয়, যা মধ্যযুগের একটি স্বতন্ত্র সাহিত্যধারা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এই ধারাটি মঙ্গলকাব্য এবং বৈষ্ণব পদাবলির পরই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ কাহ্নপা প্রাচীন যুগের চর্যাপদের কবি। বিদ্যাপতি মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলির (রাধা-কৃষ্ণ প্রেম) জন্য বিখ্যাত। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব আধুনিক যুগের ব্যক্তিত্ব, যার জীবনী অনেক পরে রচিত হয়।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
11

চর্যাপদের টীকাকারের নাম কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মীননাথ
  2. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. মুনিদত্ত

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

চর্যাপদের পুঁথিটি যে-রূপে পাওয়া গেছে তাতে বোঝা যায়, এটি বিভিন্ন সময়ে আবির্ভূত বিভিন্ন কবির রচিত কবিতা-সমষ্টির সংকলন। কবিতাগুলোর বক্তব্য ও প্রকাশভঙ্গিতে যে দুর্বোধ্যতা ছিল তা দূর করার জন্য মুনিদত্ত পদগুলোকে একত্রিত করে সংস্কৃত ভাষায় পদগুলোর সহজবোধ্য টীকা রচনা করেছিলেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কৃত পুঁথিতে মূল চর্যাপদ ও মুনিদত্তের সংস্কৃত টীকা যুক্ত করা হয়েছে। পুঁথিটি খণ্ডিত ছিল বলে টীকাকারের নাম পাওয়া যায় নি। পরে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী একই সংকলনের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন এবং তাতে টীকাকার হিসেবে মুনিদত্তের উল্লেখ পাওয়া যায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মুনিদত্ত
চর্যাপদের টীকাকার হলেন মুনিদত্ত। তিনি চর্যাপদের পদগুলির সংস্কৃত ভাষায় ব্যাখ্যা বা টীকা রচনা করেছিলেন।
মুনিদত্ত রচিত টীকাটি ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়বৃত্তি’ (মতান্তরে ‘নির্মলগিহ্বা’) নামে পরিচিত। এটি আবিষ্কারের কারণে চর্যাপদের দুর্বোধ্য ভাষা বোঝা সম্ভব হয়েছিল।
অন্যান্য বিকল্প প্রসঙ্গে:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী: তিনি চর্যাপদের আবিষ্কর্তা। তিনি ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার থেকে চর্যাপদের পুঁথিটি আবিষ্কার করেন।
প্রবোধচন্দ্র বাগচী: তিনি চর্যাপদের তিব্বতীয় অনুবাদ আবিষ্কার করেন, যা চর্যাপদের ব্যাখ্যায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
12

মহাকবি আলাওল রচিত কাব্য-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চন্দ্রাবতী
  2. পদ্মাবতী
  3. মধুমালতী
  4. লাইলী মজনু

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের একটি উজ্জ্বল নিদর্শন আলাওলের ‘পদ্মাবতী’, মালিক মুহম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ এটি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পদ্মাবতী
মহাকবি আলাওল মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় কবি। তিনি আরাকান রাজসভার প্রভাবশালী কবি ছিলেন।
তাঁর রচিত সবচেয়ে বিখ্যাত কাব্য হলো পদ্মাবতী। এটি ১৫৪৭ সালে মল্লিক মুহম্মদ জায়সী রচিত হিন্দি কাব্য ‘পদুমাবৎ’ অবলম্বনে রচিত।
অন্যদিকে, লাইলী মজনু কাব্যটি দৌলত উজির বাহরাম খান রচনা করলেও, আলাওলও একই নামে একটি কাব্য রচনা করেন। তবে আলাওলের শ্রেষ্ঠ কীর্তি হিসেবে পদ্মাবতী-কেই গণ্য করা হয় এবং পরীক্ষার ক্ষেত্রে এটিই মূল উত্তর।
মধুমালতী কাব্যের রচয়িতা মহম্মদ কবীর এবং চন্দ্রাবতী কাব্যের রচয়িতা মধ্যযুগের প্রথম বাঙালি মহিলা কবি চন্দ্রাবতী (দ্বিজ বংশী দাসের কন্যা)।
13

কোন সাহিত্যকর্মে সান্ধ্যভাষার প্রয়োগ আছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পদাবলী
  2. গীতগোবিন্দ
  3. চর্যাপদ
  4. চৈতন্যজীবনী

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন কবিতা চর্যার পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষায় রচিত। যে ভাষা সুনির্দিষ্ট রূপ পায়নি, যে ভাষার অর্থও একাধিক অর্থাৎ আলো-আঁধারের মতো, সে ভাষাকে পণ্ডিতগণ সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষা বলেছেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: চর্যাপদ
চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন (প্রাচীন যুগ)। এর ভাষা সান্ধ্যভাষা বা সন্ধ্যা ভাষা নামে পরিচিত।
সান্ধ্যভাষা (Twilight Language) বলতে এমন ভাষাকে বোঝায়, যার অর্থ দিনের আলোর মতো স্পষ্ট নয়, বরং সন্ধ্যার আলোর মতো আলো-আঁধারি বা রহস্যময়। এই ভাষার একটি আপাত অর্থ থাকে এবং এর পাশাপাশি আরও একটি গুহ্য বা গূঢ় অর্থ (Esoteric meaning) থাকে।
চর্যাপদের রচয়িতারা (সিদ্ধাচার্যগণ) তাদের বৌদ্ধ সহজযান সাধনার গূঢ় তত্ত্বগুলো সাধারণের কাছ থেকে গোপন রাখার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই সান্ধ্যভাষার প্রয়োগ করেছিলেন।
অন্যদিকে, পদাবলীচৈতন্যজীবনী মধ্যযুগের সাহিত্যকর্ম এবং গীতগোবিন্দ সংস্কৃত প্রভাবিত সাহিত্যকর্ম, এগুলোতে সান্ধ্যভাষার ব্যবহার নেই।
14

দৌলত উজির বাহরাম খান সাহিত্যসৃষ্টিতে কার পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. সুলতান বরবক শাহ
  4. জমিদার নিজাম শাহ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

দৌলত উজির বাহরাম খানের লেখা থেকে জানা যায় তিনি জমিদার নিজাম শাহ্ এর পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন। তিনি নিজাম শাহ্ এর থেকেই দৌলত উজির উপাধি পেয়েছিলেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: জমিদার নিজাম শাহ
দৌলত উজির বাহরাম খান ছিলেন মধ্যযুগের একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কবি, যিনি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার জন্য বিখ্যাত। তিনি চট্টগ্রামের ফতেহাবাদের জমিদার নিজাম শাহের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন।
এই পৃষ্ঠপোষকতার ফলেই তিনি তাঁর বিখ্যাত কাব্য 'লায়লী-মজনু' রচনা করতে সক্ষম হন। যেহেতু তিনি নিজাম শাহের উজির বা মন্ত্রী ছিলেন, তাই তাঁর নামের সাথে 'উজির' শব্দটি যুক্ত হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল কারণ: সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ মূলত শাহ মুহম্মদ সগীরের (ইউসুফ-জুলেখা রচয়িতা) পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। কোরেশী মাগন ঠাকুর ছিলেন কবি আলাওলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক।
15

‘চর্যাপদে’র প্রাপ্তিস্থান কোথায়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বাংলাদেশ
  2. নেপাল
  3. উড়িষ্যা
  4. ভুটান

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘বঙ্গীয় এশিয়াটিক সোসাইটি’ প্রদত্ত দায়িত্ব পেয়ে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৮৯৭ ও ১৮৯৮ সালে দুইবার নেপালে যান। ১৯০৭ সালে তৃতীয়বার নেপালে গিয়ে তিনি নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার হতে ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ নামে একটি পুঁথি আবিষ্কার করেন। এটিই ‘চর্যাপদ’ বলে পরিচিত। চর্যাপদের সাথেই ‘সরহপাদের দোহা’, ‘কৃষ্ণপাদের দোহা’ ও ‘ডাকার্ণব’ নামে আরও ৩টি বই নেপালের রাজ গ্রন্থাগার হতে আবিষ্কৃত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নেপাল। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন।
মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবস্থিত রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির লাইব্রেরি থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন।
এটি আবিষ্কারের পর ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় রচিত বৌদ্ধ গান ও দোঁহা’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
16

মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ‘মনসামঙ্গল’
  2. ‘মনসাবিজয়’
  3. ‘পদ্মাপুরাণ’
  4. ‘পদ্মাবতী’

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বরিশালের গৈলা গ্রামে জন্ম নেওয়া বিজয়গুপ্ত মঙ্গলকাব্যের অন্যতম ধারা মনসামঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি ১৪৯৪ খ্রিস্টাব্দে ‘পদ্মাপুরাণ’ নামে কাব্য রচনা করেন। ‘মনসাবিজয়’ এর রচয়িতা বিপ্রদাস পিপিলাই।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পদ্মাপুরাণ
মনসামঙ্গল ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও প্রভাবশালী কবি হলেন বিজয়গুপ্ত। তিনি তাঁর রচিত মঙ্গলকাব্যের নাম দেন ‘পদ্মাপুরাণ’
মনসা দেবীর অপর নাম হলো পদ্মা বা কেতকা। এই নাম ধরেই কবি তাঁর কাব্যের নামকরণ করেছিলেন।
‘মনসাবিজয়’ নামটির ব্যবহার করেছিলেন আরেক বিখ্যাত মনসামঙ্গল কবি বিপ্রদাস পিপিলাই (চতুর্দশ শতকের শেষ দিকে)। এটিও মনসামঙ্গল কাব্যেরই অপর নাম।
17

চর্যাপদে কোন ধর্মমতের কথা আছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. খ্রিস্টধর্ম
  2. প্যাগনিজম
  3. জৈনধর্ম
  4. বৌদ্ধধর্ম

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের তত্ত্বকথা বিধৃত হয়েছে। চর্যাপদের মাধ্যমে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যেরা গোপন তত্ত্বদর্শন ও ধর্মচর্চাকে বাহ্যিক প্রতীকের সাহায্যে ব্যক্ত করেছেন। বৌদ্ধধর্মের মহাযান শাখা কালক্রমে যেসব উপশাখায় বিভক্ত হয়েছিল তারই বজ্রযানের সাধনপ্রণালী ও তত্ত্ব এতে বিধৃত করা হয়েছে।

ব্যাখ্যা

চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন। এটি মূলত **বৌদ্ধধর্মের সহজযান** (Sahajayana) মতবাদের সাধন-সংগীত।
চর্যাপদের রচয়িতাগণ ছিলেন মূলত **বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকগণের** দলভুক্ত। তাঁদের রচিত পদগুলোতে এই সহজিয়া মতবাদ এবং দেহতত্ত্বের নিগূঢ় রহস্য রূপক বা প্রতীকী (যা সন্ধ্যা ভাষা নামে পরিচিত) আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।
এ কারণে সঠিক উত্তর হলো **বৌদ্ধধর্ম**। অন্যান্য ধর্মমত যেমন খ্রিস্টধর্ম বা জৈনধর্মের কোনো প্রতিফলন চর্যাপদে নেই।
18

উল্লিখিতদের মধ্যে কে প্রাচীন যুগের কবি নন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কাহ্নপাদ
  2. লুইপাদ
  3. শান্তিপাদ
  4. রমনীপাদ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

প্রদত্ত অপশন অনুযায়ী প্রাচীন যুগের কবি নন রমনীপাদ। কাহ্নপাদ, লুইপাদ ও শান্তিপাদ তিনজনই প্রাচীন যুগের কবি। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের নিদর্শন চর্যাপদের প্রথম কবি লুইপাদ এবং সবচেয়ে বেশি পদ (১৩ টি) রচনা করেন কাহ্নপাদ। শান্তিপাদও দুটি পদ রচনা করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো রমনীপাদ
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য সাহিত্যিক নিদর্শন হলো চর্যাপদ। এই যুগের সময়কাল আনুমানিক ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত।
চর্যাপদের রচয়িতাদের সাধারণত সিদ্ধাচার্য নামে অভিহিত করা হয়।
উল্লিখিত অপশনগুলোর মধ্যে কাহ্নপাদ (সর্বাধিক ১৩টি পদের রচয়িতা), লুইপাদ (চর্যাপদের আদি কবি) এবং শান্তিপাদ—এই তিনজনই চর্যাপদের বিখ্যাত কবি হিসেবে পরিচিত।
কিন্তু রমনীপাদ নামে চর্যাপদের কোনো কবির নাম পাওয়া যায় না। তাই তিনি প্রাচীন যুগের কবি নন।
19

উল্লিখিত কোন রচনাটি পুঁথি সাহিত্যের অন্তগর্ত নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ময়মনসিংহ গীতিকা
  2. ইউসুফ জুলেখা
  3. পদ্মাবতী
  4. লাইলী মজনু

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বাংলাদেশে লোকগীতিকাগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা : ১. নাথগীতিকা ২. ময়মনসিংহ গীতিকা ও ৩. পূর্ববঙ্গ গীতিকা। ‘ময়মনসিংহ গীতিকা’র পালাগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে এবং তা সম্পাদনা করেন ড. দীনেশচন্দ্র সেন। পুঁথি সাহিত্যের অন্তর্গত ইউসুফ জোলেখা’, ‘পদ্মাবতী’, ও ‘লাইলী মজনু’ কাব্যের রচয়িতা যথাক্রমে ফকির গরীবুল্লাহ, আলাওল ও দৌলত উজির বাহরাম খান। উল্লেখ্য, ‘ইউসুফ জোলেখা’ নামে শাহ মুহম্মদ সগীর ও আবদুল হাকিমও কাব্য রচনা করেন। ময়মনসিংহ গীতিকা বাংলা লোকগীতির একটি ভাগ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ময়মনসিংহ গীতিকা। এটি পুঁথি সাহিত্যের অন্তগর্ত নয়, বরং এটি লোকসাহিত্য বা গীতিকা শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
পুঁথি সাহিত্য (বা রোমান্টিক প্রণয় উপাখ্যান) হলো মধ্যযুগের শেষ দিকে (সাধারণত ১৭শ শতকের পর) রচিত এক ধরনের আখ্যান কাব্য, যেখানে আরবি-ফার্সি শব্দের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। এগুলো সাধারণত দৌলত কাজীসৈয়দ আলাওল প্রমুখ কবি রচনা করেন।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহ গীতিকা হচ্ছে লোকমুখে প্রচলিত পালাগান বা লোকগাথার সংকলন। এটি কোনো একক লেখকের রচিত পুঁথি নয়, বরং লোক জীবনের গল্পকে ভিত্তি করে রচিত এবং পরে ড. দীনেশচন্দ্র সেন কর্তৃক সংগৃহীত ও সম্পাদিত হয়।
বাকি তিনটি অপশন—ইউসুফ জুলেখা, পদ্মাবতী এবং লাইলী মজনু—সবগুলোই মধ্যযুগে রচিত ফার্সি ভাষার প্রেমকাহিনি অবলম্বনে রচিত রোমান্টিক প্রণয়কাব্য বা পুঁথি সাহিত্যের প্রধান উদাহরণ।
20

জীবনীকাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত :

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. নরহরি চক্রবর্তী
  3. বিপ্রদাস পিপিলাই
  4. বৃন্দাবন দাস

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের গতানুগতিক ধারায় জীবনী সাহিত্য এক বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। জীবনী সাহিত্যের রচয়িতাগণের উদ্দেশ্য ছিল চৈতন্যদেবের মহান জীবনকাহিনি বর্ণনার মাধ্যমে বৈষ্ণব ধর্মের প্রচার এবং গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজের গৌরব প্রতিষ্ঠা করা। বাংলা সাহিত্যে জীবনীকাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন বৃন্দাবন দাস। তিনি বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যের প্রথম জীবনীকাব্য ‘শ্রীচৈতন্যভাগবত’ রচনা করেন। পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ফকির গরীবুল্লাহ। মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি বিপ্রদাস পিপিলাই। তার রচিত কাব্য ‘মনসাবিজয়’। বৃন্দাবন দাস ছাড়াও নরহরি সরকার, রঘুনাথ দাস, মুরারি গুপ্ত, লোচনদাস, কৃষ্ণদাস কবিরাজ প্রমুখ কবি জীবনীকাব্য রচনায় বাংলা সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বৃন্দাবন দাস। মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যে জীবনীকাব্য রচনার জন্য তিনি সর্বাধিক বিখ্যাত।
বৃন্দাবন দাস রচিত কাব্যের নাম 'চৈতন্যভাগবত'। এটি বাংলা ভাষায় রচিত শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম সম্পূর্ণ জীবনীকাব্য। এই কারণে তিনি জীবনীকাব্য ধারায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থান দখল করে আছেন।
চৈতন্যভাগবত কাব্যটি মূলত শ্রীচৈতন্যদেবের আদি জীবনের কাহিনী তুলে ধরেছে এবং এটি চৈতন্য-জীবনী সাহিত্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, বিপ্রদাস পিপিলাই ছিলেন মঙ্গলকাব্যের (মনসামঙ্গল) কবি এবং ফকির গরীবুল্লাহ জঙ্গনামা বা যুদ্ধকাব্যের জন্য পরিচিত।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
21

বৈষ্ণব পদাবলির সঙ্গে কোন ভাষা সম্পর্কিত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সন্ধ্যাভাষা
  2. অধিভাষা
  3. ব্রজবুলি
  4. সংস্কৃত ভাষা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ বৈষ্ণব পদাবলি। বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশ পদ রচিত হয়েছে ‘ব্রজবুলি’ ভাষায়। ‘ব্রজবুলি’ বাংলা ও মৈথিলি ভাষার মিশ্রণে এক প্রকার কৃত্রিম কবিভাষা। এ ভাষার স্রষ্টা বিদ্যাপতি। চর্যাপদের সাথে সম্পর্কিত ভাষা সন্ধ্যাভাষা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ব্রজবুলি
বৈষ্ণব পদাবলি হলো মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা, যেখানে প্রধানত রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা বর্ণনা করা হয়েছে। এই পদাবলিগুলো রচনার জন্য বাংলা ভাষার পাশাপাশি একটি কৃত্রিম মিশ্র ভাষার প্রচলন ছিল, যার নাম ব্রজবুলি
ব্রজবুলি মূলত মৈথিলী ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিশ্রণে তৈরি একটি কাব্যভাষা। এটি ব্রজ অঞ্চলের ভাষা নয়, বরং কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা হয়েছিল, যাতে এতে মৈথিলী ভাষার মাধুর্য ও বাংলার লোকভাষার সহজবোধ্যতা যোগ হয়।
কেন অন্যান্য বিকল্প ভুল:
  • সন্ধ্যাভাষা: এটি চর্যাপদ রচনার ভাষা। বৈষ্ণব পদাবলির সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
  • সংস্কৃত ভাষা: যদিও সংস্কৃত ছিল শাস্ত্রীয় ভাষা, কিন্তু বৈষ্ণব পদাবলি রচিত হয়েছিল লোকসমাজের কাছে পৌঁছানোর জন্য, তাই ব্রজবুলি বা বাংলা ব্যবহৃত হতো।
22

‘খনার বচন’ –এর মূলভাব কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. লৌকিক প্রণয়সঙ্গীত
  2. শুদ্ধ জীবনযাপন রীতি
  3. সামাজিক মঙ্গলবোধ
  4. রাষ্ট্র পরিচালনা নীতি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘খনার বচন’ এর মূলভাব হচ্ছে শুদ্ধ জীবনযাপন রীতি। বিখ্যাত বাঙালি মহিলা জ্যোতিষী খনা রচিত ‘খনার বচন’ মূলত কৃষিভিত্তিক ছড়া। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী চাষাবাদ, বৃক্ষরোপণ, গৃহনির্মাণ ইত্যাদি জীবন ঘনিষ্ঠ বিষয় নিয়ে খনার বচন রচিত। অজস্র খনার বচন যুগ যুগ ধরে গ্রাম বাংলার জন-জীবনের সাথে মিশে আছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: শুদ্ধ জীবনযাপন রীতি
‘খনার বচন’ হলো মূলত কৃষি, বৃষ্টিপাত, গৃহস্থালি ও জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক সম্পর্কিত লোকায়ত উপদেশ বা প্রবাদ। এগুলো মানুষের জীবনকে নিয়মতান্ত্রিক, স্বাস্থ্যকর এবং বিশেষভাবে কৃষিনির্ভর জীবিকাকে শুদ্ধভাবে পরিচালনা করার নির্দেশনা দেয়।
যেমন: ‘যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্য রাজার পুণ্য দেশ।’— এই বচনে কৃষির সাথে সম্পর্কিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং সেই অনুযায়ী জীবনধারণের দিকনির্দেশনা রয়েছে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল কারণ: এটি কোনো প্রণয়সঙ্গীত নয় এবং এর মূল উদ্দেশ্য রাষ্ট্র পরিচালনা নীতি প্রদান করা নয়। এটি সামাজিক মঙ্গলবোধের অংশ হলেও, এর সুনির্দিষ্ট মূলভাব হলো বাস্তব জীবনের রীতি ও পদ্ধতি শেখানো।
23

গঠনরীতিতে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্য মূলত-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পদাবলি
  2. ধামালি
  3. গ্রেমগীতি
  4. নাটগীতি (নাট্যগীতি)

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

গঠননৈপুণ্যের দিক থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের অধিকাংশ পদই কৃষ্ণ-রাধা-বড়ায়ির সংলাপ। কোনো কোনো পদ দুজনের উক্তি-প্রত্যুক্তি এবং রাধা বা কৃষ্ণের একান্ত মনোভাব প্রকাশ করে। যেহেতু কথোপকথনে মনোভাবের ঘাত-প্রতিঘাত প্রকাশ পেয়েছে তাই এগুলোকে গানে রচিত নাটকীয় সংলাপ ও বলা যায়। রসগত দিক থেকে সমগ্র কাব্যজুড়ে ধামালি প্রধান হয়ে উঠেছে। ধামালি কথাটির অর্থ রঙ্গরস, পরিহাস বাক্য, কৌতুক। রঙ্গ তামাসার কালে কপট দম্ভ প্রকাশ করে যে সব উক্তি করা হয়, প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে তাকে ধামালি বলে। বড়ু চণ্ডীদাস তার বিবরণে লিখেছেন-'রঙ্গে ধামালি বোলে দেব বনমালী' । শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আঙ্গিক বা গঠনগত দিক থেকে নাটগীতি ,প্রকরণে পদাবলি, শোণিত প্রেমগীতি ও রস সঞ্চালনায় ভূমিকা পালন করেছে ধামালি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নাটগীতি (নাট্যগীতি)
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের আদি নিদর্শন ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর নাটকীয়তা। এটি মূলত রাধা, কৃষ্ণ এবং বড়াই—এই তিনটি চরিত্রের সংলাপ নির্ভর কাব্য।
কাব্যের প্রায় অর্ধেক অংশ গান বা কবিতার মাধ্যমে এবং বাকি অংশ গদ্যময় সংলাপ বা শ্লোকের মাধ্যমে রচিত। এই গীত ও সংলাপের মিশ্রণ এবং নাটকীয় কাঠামোর কারণে এর গঠনরীতিকে ‘নাটগীতি’ বা ‘নাট্যগীতি’ বলা হয়।
এই কাব্যে গীত বা পদের মাধ্যমে চরিত্রেরা নিজেদের বক্তব্য প্রকাশ করে এবং নাটকীয় ভঙ্গিতে কাহিনী এগিয়ে যায়।
24

‘সন্ধ্যাভাষা’ কোন সাহিত্যকর্মের সঙ্গে যুক্ত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চর্যাপদ
  2. পদাবলি
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. রোমান্সকাব্য

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

চর্যাপদের ভাষাকে কেউ কেউ সন্ধ্যাভাষা বা সন্ধাভাষা বলেছেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না । যাঁহারা সাধন -ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন। আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই'। -এ কারণে চর্যার ভাষা সন্ধ্যাভাষা। মুনিদত্ত তাঁর টীকায় সন্ধাভাষ, সন্ধ্যাভাষা, সন্ধ্যাবচন, সন্ধ্যাসংকেত, সন্ধ্যা ও ব্যাজে প্রভৃতি শব্দ চর্যার রূপকাশ্রিত দুর্বোধ্য অংশের বা প্রতীকী শব্দের ভাষা ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বারবার প্রয়োগ করেছেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: চর্যাপদ। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য নিদর্শন।
চর্যাপদের ভাষা ছিল দুর্বোধ্য ও দ্ব্যর্থবোধক। এর একটি বাহ্যিক বা সরল অর্থ থাকলেও, এর গভীর আধ্যাত্মিক অর্থ বা সাধনতত্ত্ব বোঝার জন্য ইঙ্গিত প্রয়োজন হতো। এই বিশেষ ধরণের ভাষাকেই ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নাম দিয়েছেন ‘সন্ধ্যাভাষা’ (Twilight Language)।
বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকরা তাদের ধর্মীয় গুহ্য সাধনার কথা বোঝানোর জন্য এই সন্ধ্যাভাষা ব্যবহার করতেন।
অন্যান্য বিকল্প ভুল, কারণ:
পদাবলি (বৈষ্ণব পদাবলি) - এর মূল বিষয় রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা, এখানে সন্ধ্যাভাষার ব্যবহার নেই।
মঙ্গলকাব্য - এর মূল বিষয় লৌকিক দেব-দেবীর মাহাত্ম্য প্রচার।
রোমান্সকাব্য - এর মূল বিষয় মানব-মানবীর প্রেমোপাখ্যান।
25

দৌলত উজির বাহরাম খান কোন অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ফরিদপুর
  2. সিলেট
  3. কৃষ্ণনগর
  4. চট্টগ্রাম

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

দৌলত উজির বাহরাম খান চট্টগ্রামের ফতেহবাদ বা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন। তার পিতা মোবারক খান চট্টগ্রামের অধিপতির কাছ থেকে দৌলত উজির উপাধি পেয়েছিলেন। কবির পূর্বপুরুষ হামিদ খান গৌড়ের সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য ছিলেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: চট্টগ্রাম
দৌলত উজির বাহরাম খান ছিলেন বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের অন্যতম রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান রচয়িতা কবি।
তিনি মূলত চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ পরগনার অধিবাসী ছিলেন।
তিনি সেই অঞ্চলের উজির আসরাফ খানের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন এবং তাঁর কাছে ‘দৌলত উজির’ উপাধি লাভ করেন।
এ কারণেই তিনি তাঁর নামের আগে এই উপাধিটি ব্যবহার করতেন।
ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও মেডিকেলসহ ২৭+ ইউনিট-ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর এডমিশন সেকশনে।

ভর্তি প্রশ্নব্যাংক দেখুন
26

‘চন্দ্রাবতী’ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নাটক
  2. কাব্য
  3. পদাবলী
  4. পালাগান

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

আরাকান রাজসভায় অমাত্য কোরেশী মাগন ঠাকুর রচিত কাব্য ‘চন্দ্রাবতী’। তিনি কবি আলাওলের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। কবি এ দেশে প্রচলিত রূপকথার কাহিনিকে তার কাব্যের উপজীব্য করেছিলেন এবং যেভাবে তিনি রূপায়িত করেছেন তাতে তার মৌলিক প্রতিভার পরিচয় ফুটে উঠেছে। ভদ্রাবতী নগরের রাজপুত্র বীরভান মন্ত্রীপুত্র সুতের সহায়তায় কীভাবে সরন্দ্বীপ রাজকন্যা অপূর্বসুন্দরী চন্দ্রাবতীকে লাভ করেছিলেন তা-ই এ কাব্যে বর্ণিত হয়েছে। আলাওল মাগন ঠাকুরের উৎসাহে ‘সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল’ কাব্য রচনা করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কাব্য। যদিও ‘চন্দ্রাবতী’ মূলত একটি পালাগান (Ballad), লোকসাহিত্যের এই দীর্ঘ আখ্যানমূলক কবিতাগুলিকে সাহিত্যিক পরিভাষায় লোকগাথা কাব্য হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।
‘চন্দ্রাবতী’ হচ্ছে ময়মনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত অন্যতম বিখ্যাত একটি পালা। এটি রচিত হয়েছিল নয়ন চাঁদ ঘোষ কর্তৃক, তবে কাহিনিটি ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতীকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
পদাবলী ভুল, কারণ এটি সাধারণত বৈষ্ণবীয় ভক্তিগীতি (যেমন: রাধাকৃষ্ণের প্রেম বিষয়ক ছোট গান) বোঝায়, দীর্ঘ আখ্যান কাব্য নয়।
পালাগান (Ballad) উত্তরটি প্রায় সঠিক হলেও, অপশনে 'কাব্য' এবং 'পালাগান' থাকলে, দীর্ঘ কবিতা হিসেবে এটিকে কাব্যের বৃহত্তর কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখা হয় (যেমন: দীনেশ চন্দ্র সেন তাঁর সংকলনকে কাব্য হিসেবেই উল্লেখ করেছেন)।
27

‘বিদ্যাপতি’ কোন রাজসভার কবি ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রোসাঙ্গ
  2. কৃষ্ণনগর
  3. বিক্রমপুর
  4. মিথিলা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ‘মিথিলার কোকিল’ নামে পরিচিত ছিলেন। রাজা শিবসিংহ তাকে ‘কবিকণ্ঠহার’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ভারতচন্দ্র ছিলেন কৃষ্ণনগর রাজসভার কবি। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি প্রদান করেন। তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে- ‘অন্নদামঙ্গল’। রোসাঙ্গ বা আরাকান রাজসভার কবিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকজন হলো: দৌলত কাজী, মরদন, কোরেশী মাগন ঠাকুর, আলাওল।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মিথিলা
কবি বিদ্যাপতি ছিলেন মধ্যযুগের একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কবি, যিনি মূলত মিথিলার রাজসভার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তিনি মিথিলার রাজা শিব সিংহ এবং রানী লছিমা দেবীর রাজসভার কবি ছিলেন এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন। এ কারণে তার পদাবলির ভণিতাতে প্রায়ই রাজা শিব সিংহের নাম দেখা যায়।
বিদ্যাপতি মূলত মৈথিলি ভাষায় পদ রচনা করলেও বাংলা বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্যকে তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত করেন।
অন্যান্য অপশনের মধ্যে রোসাঙ্গ রাজসভা হলো আলাওল, দৌলত কাজী প্রমুখ মুসলিম কবিদের পৃষ্ঠপোষকতার স্থান।
28

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে কোন ধর্মপ্রচারক-এর প্রভাব অপরিসীম?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শ্রীকৃষ্ণ
  2. আদিনাথ
  3. শ্রীচৈতন্যদেব
  4. মনোহর দাশ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে শ্রীচৈতন্যদেবের প্রভাব অপরিসীম। চৈতন্যদেব বাল্যকাল থেকেই কবিতা ও সংগীতপ্রিয় ছিলেন। এসব ভাবগত গানের দ্বারা তার মনে ভক্তি ভাবের উন্মেষ ঘটে। তিনি প্রচার করলেন ‘জীবে দয়া ঈশ্বরে ভক্তি বিশেষ করে নামধর্ম, নাম সংকীর্তন’। তার কল্যাণেই বাঙালির স্বজাত্যবোধ ও নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষিত হয়। চৈতন্যদেবের আবির্ভাব কেবল ধর্ম ও সামাজিক ক্ষেত্রে নয়, বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনেও এক বৈপ্লবিক ঘটনা। চৈতন্যদেবের বৈষ্ণবতত্ত্বকে অবলম্বন করে বৈষ্ণব কবিরা রচনা করে পদাবলী গান।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: শ্রীচৈতন্যদেব
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের গতিপথ নির্ধারণে যে আন্দোলনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তা হলো শ্রীচৈতন্যদেবের প্রবর্তিত বৈষ্ণব ধর্ম আন্দোলন (ভক্তি আন্দোলন)।
শ্রীচৈতন্যদেব (১৪৮৬–১৫৩৩ খ্রিস্টাব্দ)-এর আবির্ভাবের ফলে সাহিত্যে নতুন বিষয়বস্তু ও ধারার সৃষ্টি হয়, যার মধ্যে প্রধান হলো বৈষ্ণব পদাবলি, জীবনী সাহিত্য (চৈতন্যচরিত) এবং চৈতন্য-বিষয়ক অসংখ্য আখ্যান কাব্য।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে অনেকেই চৈতন্যপূর্ব যুগ এবং চৈতন্য-পরবর্তী যুগ—এই দুই ভাগে ভাগ করেন। তাই তাঁর প্রভাব অপরিসীম।
অন্যদিকে, শ্রীকৃষ্ণ আরাধ্য দেবতা হলেও তিনি ধর্মপ্রচারক ছিলেন না। আদিনাথ বা মনোহর দাশ মধ্যযুগের সাহিত্যের মূল ধারার নির্ধারক নন।
29

মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 1756
  2. 1752
  3. 1760
  4. 1762

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ছিলেন মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মঙ্গল কাব্যধারার শেষ কবি। তিনি ১৭১২ খ্রিষ্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার পাণ্ডুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি এবং নাগরিক কবি হিসেবেও অভিহিত করা হয়। ভারতচন্দ্র নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তার কাব্যপ্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তাকে রায়গুণাকর উপাধি দেন। তার রচিত ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের একটি বিখ্যাত উক্তি ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’। উক্তিটি করেছিল ঈশ্বরী পাটনী।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৭৬০ সাল।
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত কবি। তিনি ১৭৬০ সালে (বাংলা ১১৬৭ সন) মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁকে সাধারণত মধ্যযুগের শেষ প্রধান কবি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর মৃত্যুর পরেই বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার সূত্রপাত ঘটে।
তাঁর প্রধান ও বিখ্যাত কাব্য হলো 'অন্নদামঙ্গল কাব্য', যা ১৭৫২ সালে (মতান্তরে ১৭৫৩) রচিত হয়। ১৭৫৬, ১৭৫২ ও ১৭৬২ সাল তাঁর মৃত্যু সাল নয়, তাই অপশনগুলো ভুল।
30

‘তোহফা’ কাব্যটি কে রচনা করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দৌলত কাজী
  2. মাগন ঠাকুর
  3. সাবিরিদ খান
  4. আলাওল

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

আরাকান বা রোসাঙ্গ রাজসভার অন্যতম প্রধান সভাকবি ছিলেন মহাকবি আলাওল। তিনি আনুমানিক ১৬০৭ সালে চট্টগ্রামের হাটহাজারি থানার জোবরা গ্রামে মতান্তরে ফরিদপুরের ফতেহাবাদÔ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন। মাগন ঠাকুরের প্রেরণায় তিনি কাব্য রচনায় মনোনিবেশ করেন। তার রচিত কাব্যগ্রন্থগুলি হলো- ‘পদ্মাবতী’, ‘সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল’, ‘সিকান্দরনামা’, ‘হপ্তপয়কর’, ‘তোহফা বা তত্ত্বোপদেশ’, ‘রাগতালনামা’ এবং দৌলত কাজীর অসমাপ্ত ‘সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী’। ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীরের হিন্দিকাব্য ‘পদুমাবৎ’ অবলম্বনে রচিত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আলাওল। কবি সৈয়দ আলাওল তাঁর বিখ্যাত নীতি-উপদেশমূলক কাব্য ‘তোহফা’ রচনা করেন।

আলাওল এটি ফারসি কবি ইউসুফ গদা-এর ‘তোহফা’ কাব্য অবলম্বনে রচনা করেন এবং এতে আরকানের জনৈক আমাত্য সলেমানের অনুরোধ ছিল।

মধ্যযুগের মুসলমান কবিদের মধ্যে আলাওলই ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ এবং আরাকান রাজসভার অন্যতম প্রধান কবি।

অন্যান্য ভুল অপশন প্রসঙ্গে: দৌলত কাজী মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হলেও তাঁর বিখ্যাত কাব্য ‘সতী ময়না ও লোর-চন্দ্রাণী’

আর মাগন ঠাকুর ছিলেন আলাওলের একজন প্রধান পৃষ্ঠপোষক (তাঁর অনুরোধেই আলাওল পদ্মাবতী রচনা শুরু করেন), তিনি নিজে কোনো বিখ্যাত কাব্য রচনা করেননি।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
31

শৃঙ্গার রসকে বৈষ্ণব পদাবলিতে কী রস বলে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভাবরস
  2. মধুর রস
  3. প্রেমরস
  4. লীলারস

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কাব্যসাহিত্যে শৃঙ্গার, হাস্য, করুণ, বীর, অদ্ভুত, ভয়ানক, বীভৎস, শান্ত, বাৎসল্য-রসের সন্ধান পাওয়া যায়। বিভিন্ন প্রকার ভাব থেকে রসের উৎপত্তি। বৈষ্ণব সাহিত্য ও সাধনার পাঁচ পন্হা – শান্ত, দাস্য, সখ্য, বাৎসল্য, মধুর রস। বৈষ্ণব পদাবলির মধুর রসের মধ্যে রাধাকৃষ্ণের রূপকাশ্রয়ে ভক্ত ও ভগবানের নিত্য বিরহ-মিলনের লীলাবৈচিত্র্যের পরিচয় পাওয়া যায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মধুর রস
ভারতীয় কাব্যশাস্ত্রের নবরসের (৯টি রস) মধ্যে শৃঙ্গার রস হলো প্রধান রস। এই রসটি প্রেম ও রতিভাবের সঙ্গে জড়িত।
তবে বৈষ্ণব পদাবলিতে (বিশেষত শ্রীচৈতন্য প্রভাবিত গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মে) রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলাকে জাগতিক প্রেম থেকে আলাদা করে সর্বোচ্চ ভক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই সর্বোচ্চ ভক্তিকে বলা হয় মধুর রস বা উজ্জ্বল রস
অন্যান্য অপশনগুলো যেমন—ভাবরস বা প্রেমরস, এগুলো সামগ্রিক ভক্তির অংশ হলেও, শৃঙ্গার রসের প্রতিশব্দ হিসেবে বৈষ্ণব সাহিত্যে মধুর রস শব্দটিই পরিভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
32

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. Buddhist Mystic Songs
  2. চর্যাগীতিকা
  3. চর্যাগীতিকোষ
  4. হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ভাষাবিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্হ– ‘Buddhist Mystic Songs’ (১৯৬০)। তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অনুবাদ গ্রন্হ : দীওয়ানে হাফিজ, অমিয়শতক, রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম, বিদ্যাপতি শতক, মহররম শরীফ, Hundred Sayings of the Holy Prophet। তাঁর ভাষাতত্ত্ব বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্হ : ভাষা ও সাহিত্য, বাংলা ব্যাকরণ এবং বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত। তাঁর সম্পাদনায় রচিত হয় – বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: Buddhist Mystic Songs
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ওপর গবেষণা করে ১৯২৬ সালে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন। গ্রন্থটি ফরাসি ভাষায় রচিত হলেও এর ইংরেজি নাম ছিল Buddhist Mystic Songs
এই গ্রন্থে তিনি চর্যাপদের ভাষা বঙ্গ-কামরূপী বলে মত প্রকাশ করেন।
অন্যান্য বিকল্প ভুল হওয়ার কারণ:
হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা: এটি চর্যাপদের আবিষ্কারক পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক সম্পাদিত গ্রন্থের নাম। তিনি ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এই নামে এটি প্রকাশ করেন, যা চর্যাপদের প্রথম প্রকাশিত রূপ।
33

‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’র লোকপালাসমূহের সংগ্রাহক কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. চন্দ্রকুমার দে
  4. দীনেশচন্দ্র সেন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলা সাহিত্যে তিন ধরনের গীতিকা প্রচলিত রয়েছে। যথা : নাথ গীতিকা, মৈমনসিংহ গীতিকা ও পূর্ববঙ্গ গীতিকা। ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’র লোকপালাগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। তার সংগৃহীত পূর্ববঙ্গ গীতিকার উল্লেখযোগ্য পালা : মইষাল বন্ধু, ভেলুয়া, কমলারানী, দেওয়ান ঈসা খাঁ, আয়না বিবি, শিলাদেবী, বণ্ডুলার বারমাসী, ভারাইয়া রাজা। এসব পালা দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’ নামে ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়। অন্যদিকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর অমরকীর্তি হলো বাংলা ভাষার প্রথম গ্রন্হ ‘চর্যাপদ’ উদ্ধার। শিশুসাহিত্যিক দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের উল্লেখযোগ্য শিশুসাহিত্য গ্রন্হ : ঠাকুর মা’র ঝুলি, ঠাকুর দাদার ঝুলি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: চন্দ্রকুমার দে
‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’ হলো ময়মনসিংহ অঞ্চলের লোকপালা বা লোকগাথা সমূহের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহ। এই লোকপালাগুলি মূলত চন্দ্রকুমার দে ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম থেকে সংগ্রহ করে আনেন।
ড. দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন এই সংকলনগুলির প্রধান সম্পাদক ও পৃষ্ঠপোষক। তিনি চন্দ্রকুমার দে কর্তৃক সংগৃহীত পালাগুলো বিভিন্ন খণ্ডে প্রকাশ করেন, যার মধ্যে একটি অংশ ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’ নামে পরিচিত। তাই সংগ্রাহক হিসেবে চন্দ্রকুমার দে-ই সঠিক।
অন্যান্য বিকল্পের মধ্যে, দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন সম্পাদক এবং হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদ আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত।
34

‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’-এর অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কোনটি চর্যাগান, আর কোনটি নয়
  2. কোনটি আচরণীয়, আর কোনটি নয়
  3. কোনটি চরাচরের, আর কোনটি নয়
  4. কোনটি আচার্যের, আর কোনটি নয়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী চর্যা শব্দের অর্থ– নিয়ম পালন; পালনীয় নিয়ম বা আচার। চর্যাচর্য অর্থ- আচরণীয় ও অনাচরণীয়; পালনীয় ও বর্জনীয়। চর্যাচর্যবিনিশ্চয় অর্থ – কী করা উচিত এবং কী করা অনুচিত এটি যে গ্রন্হে বা যে সমস্ত গীতিকবিতায় স্থিরীকৃত হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদের মূল নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কোনটি আচরণীয়, আর কোনটি নয়
‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ শব্দটি তিনটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত: চর্যা + অ-চর্যা + বিনিশ্চয়
এখানে, ‘চর্যা’ অর্থ হলো আচরণীয় বা করণীয় (যা করা উচিত), এবং ‘অ-চর্যা’ (বা চর্য) অর্থ হলো আচরণীয় নয় বা অকর্তব্য (যা করা উচিত নয়)।
আর ‘বিনিশ্চয়’ শব্দের অর্থ হলো নির্ধারণ বা সুনিশ্চিত সিদ্ধান্ত
সুতরাং, এর সম্মিলিত অর্থ হলো—সাধনপথে কোনটি আচরণীয় আর কোনটি নয়, সেই বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া।
35

‘গোরক্ষ বিজয়’ কাব্য কোন ধর্মমতের কাহিনি অবলম্বনে লেখা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শৈবধর্ম
  2. বৌদ্ধ সহজযান
  3. নাথধর্ম
  4. কোনোটি নয়

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে নাথধর্মের কাহিনি অবলম্বনে রচিত শেখ ফয়জুল্লাহর একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্হ ‘গোরক্ষ বিজয়’। এ কাব্যের কাহিনিতে নাথবিশ্বাস-জাত যোগের মহিমা এবং নারী-ব্যভিচারপ্রধান সমাজচিত্র রূপায়িত হয়েছে। শেখ ফয়জুল্লাহর আরো কয়েকটি গ্রন্হ : গাজীবিজয়, সত্যপীর, রাগনামা, জয়নবের চৌতিশা। উল্লেখ্য, বৌদ্ধধর্মের সঙ্গে শৈবধর্ম মিশে নাথধর্মের উৎপত্তি হয়েছে বলে মনে করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নাথধর্ম
'গোরক্ষ বিজয়' কাব্যটি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারা নাথ সাহিত্যের একটি প্রধান নিদর্শন। এই কাব্যের প্রধান উপজীব্য হলো নাথ ধর্মমতের কাহিনি।
নাথ ধর্মের দুইজন প্রধান গুরু হলেন মীননাথ (বা মৎস্যেন্দ্র্রনাথ) এবং তাঁর শিষ্য গোরক্ষনাথ। এই কাব্যে গুরু মীননাথকে উদ্ধার করতে শিষ্য গোরক্ষনাথের যে অলৌকিক কর্মকাণ্ড ও যোগ সাধনার বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তা-ই মূলত নাথধর্মের মূলকথা।
শৈবধর্ম নাথধর্মের উৎপত্তির মূল কারণ হলেও, নাথধর্ম স্বতন্ত্র ধর্মমত হিসেবে যোগসাধনা এবং তান্ত্রিক আচার-আচরণের উপর বেশি গুরুত্বারোপ করে। অন্যদিকে, বৌদ্ধ সহজযান মূলত চর্যাপদ-এর মূল ভিত্তি, তাই এটি সঠিক নয়।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
36

শাক্ত পদাবলির জন্য বিখ্যাত –

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. দাশরথি রায়
  3. এন্টনি ফিরিঙ্গি
  4. রামপ্রসাদ সেন

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

শাক্তসাধক বা সিদ্ধ পুরুষদের লেখা সাধন সংগীতকেই শাক্ত পদাবলি বলা হয়। রামপ্রসাদ সেন বাংলা সাহিত্যে শাক্তপদের প্রবর্তক। তার নামে প্রচারিত পদের সংখ্যা তিন শতাধিক। তার পদগুলো– শাক্ত পদাবলি, শ্যামা সংগীত ও রামপ্রসাদী নামে পরিচিত। তার গানে মুগ্ধ হয়ে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাকে ‘কবিরঞ্জন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তার উল্লেখযোগ্য কবিতাগ্রন্হ: বিদ্যাসুন্দর, কালীকীর্তন। অন্যদিকে রামনিধি গুপ্ত বাংলা সাহিত্যে টপ্পা গানের প্রবর্তক। পর্তুগিজ এন্টনি ফিরিঙ্গি ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলা ভাষার অন্যতম কবিয়াল এবং দাশরথি রায় ছিলেন পাঁচালী গানের শক্তিশালী কবি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: রামপ্রসাদ সেন
বাংলা সাহিত্যে বৈষ্ণব পদাবলির পাশাপাশি অন্য যে ধারার পদাবলি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল, তা হলো শাক্ত পদাবলি (Mother worship/কালী পূজা কেন্দ্রিক গান)।
শাক্ত পদাবলির শ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে বিখ্যাত কবি হলেন রামপ্রসাদ সেন। তাঁর রচিত গানগুলি 'রামপ্রসাদী সংগীত' নামে পরিচিত এবং এর প্রধান বিষয়বস্তু হলো দেবী কালীর প্রতি গভীর ভক্তি।

অন্যান্য অপশন কেন ভুল:
১. দাশরথি রায়: তিনি বিখ্যাত ছিলেন পাঁচালি রচনার জন্য।
২. এন্টনি ফিরিঙ্গি: তিনি প্রধানত কবিগান (Kabi Gaan) রচনার জন্য পরিচিত ছিলেন।
৩. রামনিধি গুপ্ত (নিধুবাবু): তিনি বাংলা টপ্পা গানের প্রবর্তক হিসেবে সুপরিচিত।
37

সবচেয়ে বেশি চর্যাপদ পাওয়া গেছে কোন কবির?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. লুইপা
  2. শবরপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কাহ্নপা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন। ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তার তৃতীয় নেপাল ভ্রমণে নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং তাঁরই সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে প্রকাশিত হয়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে চর্যাপদের রচনাকাল ৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ এবং সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে ৯৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ। চর্যাপদের মোট পদ রয়েছে ৫০টি মতান্তরে ৫১টি এবং পদকর্তা ২৩/২৪ জন। তবে প্রাপ্ত পদের সংখ্যা সাড়ে ৪৬টি। চর্যাপদের ২৪, ২৫ ও ৪৮ নং পদ পাওয়া যায়নি এবং ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। সর্বাধিক পদ রচয়িতা কাহ্নপা। তার রচিত পদসংখ্যা ১৩টি কিন্তু প্রাপ্ত পদসংখ্যা ১২টি। দ্বিতীয় সর্বাধিক পদ রচয়িতা ভুসুকুপা। তিনি ৮টি পদ রচনা করেন। তন্ত্রীপা রচিত কোনো পদ পাওয়া যায়নি (হারানো ২৫ নং পদ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কাহ্নপা (Kahnapa)
চর্যাপদের প্রাপ্ত কবিদের মধ্যে কাহ্নপা-ই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পদ রচনা করেছিলেন। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা ১৩টি (প্রাপ্ত পদ: ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ৪০, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৩৬)। তবে পদ ৩৭ পাওয়া যায়নি, ধারণা করা হয় এটি কাহ্নপার রচনা ছিল।
চর্যাপদের মোট প্রাপ্ত সাড়ে ছেচল্লিশটি (৪৬.৫) পদের মধ্যে ভুসুকুপা ৮টি পদ রচনা করে দ্বিতীয় স্থানে আছেন।
লুইপা (প্রথম পদকর্তা) মাত্র ২টি পদ (১ ও ২৯) রচনা করেন, এবং শবরপা ৩টি পদ রচনা করেন। এই কারণে অন্যান্য অপশনগুলো ভুল।
38

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের নিদর্শন কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নিরঞ্জনের রুষ্মা
  2. দোহাকোষ
  3. গুপিচন্দ্রের সন্ন্যাস
  4. ময়নামতির গান

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় এর সাথে ডাকার্ণব, কাহ্নপাদের দোহাকোষ ও সরহপাদের দোহাকোষ খুঁজে পান। এই চারটি পুঁথি তিনি একত্রে ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ গ্রন্থে সংকলন করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো দোহাকোষ
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের (সময়কাল: ৬৫০ – ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ) একমাত্র প্রামাণ্য নিদর্শন হলো চর্যাপদ। এই চর্যাপদ রচনা করেছিলেন বৌদ্ধ সহজযানী সিদ্ধাচার্যগণ।
এই একই সিদ্ধাচার্যগণ চর্যাপদের পাশাপাশি দোহা নামক আরও এক ধরনের সাহিত্য রচনা করতেন। দোহা সংগ্রহগুলোকেই একত্রে দোহাকোষ বলা হয়। যেহেতু এটি প্রাচীন যুগের সিদ্ধাচার্যদের হাতে রচিত, তাই এটি প্রাচীন যুগের নিদর্শন।
অন্যান্য বিকল্পগুলো, যেমন— গুপিচন্দ্রের সন্ন্যাস, ময়নামতির গান, ও নিরঞ্জনের রুষ্মা (শূন্যপুরাণের অংশ) সাধারণত নাথ সাহিত্য বা আদি মধ্যযুগের সাহিত্য ধারার অন্তর্ভুক্ত।
39

‘হপ্তপয়কর’ কার রচনা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সৈয়দ আলাওল
  2. জৈনুদ্দিন
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. অমিয় দেব

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

আরাকান বা রোসাঙ্গ রাজসভার অন্যতম প্রধান সভাকবি ছিলেন মহাকবি আলাওল। তিনি আনুমানিক ১৬০৭ সালে চট্টগ্রামের হাটহাজারি থানার জোবরা গ্রামে মতান্তরে ফরিদপুরের ফতেহাবাদ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন। মাগন ঠাকুরের প্রেরণায় তিনি কাব্য রচনায় মনোনিবেশ করেন। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলি হলো- ‘পদ্মাবতী’, ‘সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল’, ‘সিকান্দারনামা’, ‘হপ্তপয়কর’, ‘তোহফা বা তত্ত্বোপদেশ’, ‘রাগতালনামা’ এবং দৌলত কাজীর অসমাপ্ত ‘সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী’। তাঁর ‘হপ্তপয়কর’ কাব্যটি পারস্য কবি নিজামী গঞ্জভীর কাব্যের ভাবানুবাদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: সৈয়দ আলাওল
‘হপ্তপয়কর’ কাব্যটি মধ্যযুগের কবি সৈয়দ আলাওলের রচনা।
এটি মূলত পারস্যের বিখ্যাত কবি নিজামী গঞ্জভীর রচিত ‘হপ্তপয়কর’ কাব্যের ভাবানুবাদ। এই কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান।
আলাওল আরাকান রাজসভার অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে গুণী কবি ছিলেন। তিনি সাধারণত অনুবাদমূলক কাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত।
উল্লিখিত অন্যান্য কবিদের মধ্যে দীনবন্ধু মিত্র আধুনিক যুগের (নাটক ও প্রহসন), এবং জৈনুদ্দিন মধ্যযুগের হলেও তার বিখ্যাত কাব্য ‘রসুল বিজয়’।
40

মঙ্গলকাব্যের কবি নন কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কানাহরি দত্ত
  2. মানিক দত্ত
  3. ভারতচন্দ্র
  4. দাশু রায়

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগের অন্যতম প্রধান সাহিত্যধারা। এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও অন্নদামঙ্গল। এছাড়া ধর্মমঙ্গল, কালিকামঙ্গল সহ আরও কিছু মঙ্গলকাব্য পাওয়া যায়। কানাহরি দত্ত মনসামঙ্গল কাব্যের আদিকবি। চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদিকবি মানিক দত্ত এবং প্রধান কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান কবি। ধর্মমঙ্গল কাব্যের আদিকবি ময়ূরভট্ট এবং কালিকামঙ্গল কাব্যের আদিকবি কবি কঙ্ক। দাশরথি রায় বা দাশু রায় পাঁচালী গানের খ্যাতিমান কবি ছিলেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো দাশু রায়
দাশরথি রায় (দাশু রায় নামে পরিচিত) ছিলেন অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতকের একজন বিখ্যাত বাঙালি কবি, যিনি মূলত পাঁচালী সাহিত্যের (বিশেষত কৃষ্ণলীলা এবং রামায়ণের উপর ভিত্তি করে রচিত) জন্য বিখ্যাত। তিনি কোনো মঙ্গলকাব্যের রচয়িতা নন।
অন্যান্য অপশনগুলো মঙ্গলকাব্যের প্রথিতযশা কবি:
  • কানাহরি দত্ত: তিনি মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি।
  • মানিক দত্ত: ইনিও মনসামঙ্গল কাব্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ রচয়িতা।
  • ভারতচন্দ্র: তাঁর পুরো নাম ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর। তিনি মধ্যযুগের সর্বশেষ এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর রচিত মঙ্গলকাব্য হলো বিখ্যাত অন্নদামঙ্গল
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
41

দ্রৌপদী কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রামায়ণে সীতার সহচরী
  2. মহাভারতে দুর্যোধনের স্ত্রী
  3. রামায়ণে লক্ষ্মণের প্রণয়প্রার্থী নারী
  4. মহাভারতে পাঁচ ভাইয়ের একক স্ত্রী

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

দ্রৌপদী মহাভারতে পাঁচ ভাইয়ের (যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, নকুল ও মহাদেব) একক স্ত্রী।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মহাভারতে পাঁচ ভাইয়ের একক স্ত্রী
দ্রৌপদী হলেন হিন্দু মহাকাব্য মহাভারতের অন্যতম কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র। তিনি ছিলেন পাঁচজন পাণ্ডব ভ্রাতার (যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, নকুল ও সহদেব) একক সহধর্মিণী।
শাস্ত্র অনুযায়ী, দ্রৌপদীকে পঞ্চপাণ্ডবের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার কারণ হলো, মায়ের (কুন্তী) আদেশকে রক্ষা করা। এই প্রথাকে বহু-পতি প্রথা (Polyandry) বলা হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল। যেমন: দুর্যোধনের স্ত্রীর নাম ছিল ভানুুমতি। রামায়ণের প্রধান নারী চরিত্র হলেন সীতা।
42

‘চর্যাপদ’ কত সালে আবিষ্কৃত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 1800
  2. 1857
  3. 1907
  4. 1909

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলা ভাষার প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন ‘চর্যাপদ’ মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থগার থেকে আবিষ্কৃত হয়। বৌদ্ধ সহজিয়াগণের রচিত চর্যাপদ ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। চর্যার পুঁথিতে ৫১টি গান ছিল; যার সাড়ে ৪৬টি পাওয়া গেছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৯০৭ সাল।
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন ‘চর্যাপদ’ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে।
মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবার লাইব্রেরি (Royal Court Library) থেকে এই পুঁথিগুলো আবিষ্কার করেন।
তিনি মূলত পুঁথিটির নাম দিয়েছিলেন ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’
অন্যান্য সালগুলোর মধ্যে, ১৮০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৮৫৭ সাল হলো সিপাহী বিদ্রোহের বছর। তাই এগুলি ভুল উত্তর।
43

বাংলা সাহিত্যের পঠন-পাঠনের সুবিধার জন্য বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে তিনটি যুগে ভাগ করা হয়েছে- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ।

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৪৫০-৬৫০
  2. ৬৫০-৮৫০
  3. ৬৫০-১২০০
  4. ৬৫০-১২৫০

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে প্রধানত তিনটি যুগে ভাগ করা হয়েছে। যথা: ক. প্রাচীন বা আদি যুগ (৬৫০-১২০০) খ. মধ্যযুগ (১২০১-১৮০০) এবং গ. আধুনিক যুগ (১৮০১-বর্তমান পর্যন্ত)।

ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে পঠন-পাঠনের সুবিধার জন্য মূল তিনটি যুগ প্রচলিত—প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক।
সর্বজনস্বীকৃত এবং BCS পরীক্ষায় গৃহীত মতানুসারে, বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সময়সীমা হলো: **৬৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ** পর্যন্ত।
এই যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য সাহিত্যিক নিদর্শন হলো **চর্যাপদ**। তাই অপশনগুলোর মধ্যে **৬৫০-১২০০** হলো সঠিক উত্তর।
প্রাচীন যুগের পর **১২০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ** পর্যন্ত সময়টিকে সাধারণত **অন্ধকার যুগ (Dark Age)** হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যেখানে উল্লেখযোগ্য কোনো সাহিত্যকর্ম পাওয়া যায়নি।
44

মধ্যযুগের কবি নন কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জয়নন্দী
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. গোবিন্দ দাস
  4. জ্ঞান দাস

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

জয়নন্দী বা জয়নন্দীপা ‘চর্যাপদ’ এর তথা প্রাচীন যুগের কবি। তিনি চর্যাপদ এর ৪৬নং পদের রচয়িতা। তাঁর ভাষা গৌড় অপভ্রংশের পরবর্তী আধুনিক ভারতীয় আর্যভাষার প্রাচীন রূপ। মধ্যযুগের প্রথম কাব্য ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মূল্যবান নিদর্শন ‘বৈষ্ণব পদাবলী’ এর অন্যতম দুই মহাকবি জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাস।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: জয়নন্দী
জয়নন্দী মধ্যযুগের কবি নন, তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একজন পদকর্তা।
প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য সাহিত্যিক নিদর্শন হলো চর্যাপদ, এবং জয়নন্দী ছিলেন চর্যাপদের ৩৩ নম্বর পদের রচয়িতা। তাই তিনি আনুমানিক **৬৫০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দের** মধ্যে বিদ্যমান ছিলেন।
অপরদিকে, বড়ু চণ্ডীদাস (শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য), গোবিন্দ দাস এবং জ্ঞান দাস (বৈষ্ণব পদাবলি) সকলেই বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের (১৩৫০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ) অন্যতম প্রধান কবি ও সাহিত্যিক।
45

বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ বলতে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১১৯৯-১২৫০ পর্যন্ত
  2. ১২০১-১৩৫০ পর্যন্ত
  3. ১২৫০-১৩৫০ পর্যন্ত
  4. ১২৫০-১৪৫০ পর্যন্ত

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল অর্থাৎ প্রায় দেড়শ বছর বাংলা সাহিত্যের কোন উল্লেখযোগ্য নিদর্শন আবিষ্কার না হওয়ায় ঐতিহাসিকগণ এ সময়কে বাংলা সাহিত্যের ‘অন্ধকার যুগ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এই দেড়শ বছর শাসকদের তান্ডকে জনজীবন ছিল বিপর্যস্ত। সাহিত্য সমাজ ও অর্থনীতিতে ও এর কুপ্রভাব পড়ে। ত্রয়োদশ শতকের শেষের দিকে রামাই পন্ডিতের ‘শূণ্যপুরাণ’ ও হলায়ূধ মিশ্রের ‘সেক শুভোদয়া’ এই সময়ের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। ‘শূণ্যপুরাণ’ গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। ‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ শূণ্যপুরাণের অন্তর্গত একটি কবিতা। এতে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের কথা আছে। অপরদিকে, ‘সেক শুভোদয়া’ গ্রন্থটি অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষা মিশ্রিত একটি চম্পুকাব্য। গদ্য-পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে প্রায় ২৫টি অধ্যায় রয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১২০১-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রায় ১৫০ বছর (১২০১ থেকে ১৩৫০) সময়কালকে অন্ধকার যুগ বা বন্ধ্যা যুগ বলা হয়।
এই সময়টিকে অন্ধকার যুগ বলার প্রধান কারণ হলো— ১২০১ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি কর্তৃক বঙ্গ বিজয়ের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বাংলায় কোনো উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের সন্ধান পাওয়া যায়নি
এই সময়কালের একমাত্র অনালোচিত সাহিত্যিক নিদর্শন হলো 'প্রাকৃত পৈঙ্গল'
১৩৫০ সালের পর কবি বড়ু চণ্ডীদাস রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য আবিষ্কৃত হলে মধ্যযুগের সুস্পষ্ট যাত্রা শুরু হয়।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
46

‘শূন্যপুরাণ’ রচনা করেছেন-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রামাই পণ্ডিত
  2. শ্রীকর নন্দী
  3. বিজয় গুপ্ত
  4. লোচন দাস

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘শূন্যপুরাণ’ রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ। বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে অন্ধকার যুগ বলা হয়। এ অন্ধকার যুগে তেমন কোনো সাহিত্য রচিত হয়নি। তবে রামাই পণ্ডিতের ‘শূন্যপুরাণ’, হলায়ুধ মিশ্রের ‘সেক শুভোদয়া’ এ যুগের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম। শ্রীকর নন্দীর রচনা ‘ভারত পাঁচালী’। বিজয় গুপ্ত মনসামঙ্গলের প্রাচীনতম কবি। বাংলায় চৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থের নাম ‘চৈতন্য মঙ্গল’, যা লোচন দাসের রচনা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: রামাই পণ্ডিত। তিনি মধ্যযুগের প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম ‘শূন্যপুরাণ’ রচনা করেন।
এই কাব্যগ্রন্থটি মূলত ধর্মপূজা বা ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য বর্ণনা করে রচিত। এটি বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মের সমন্বয়ের (Syncretism) একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
অন্যান্য বিকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ মঙ্গলকাব্য বা জীবনী সাহিত্যের রচয়িতা:
বিজয় গুপ্ত: তিনি ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
শ্রীকর নন্দী: তিনি মহাভারতের অশ্বমেধ পর্বের অনুবাদক।
লোচন দাস: তিনি মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের জীবন নিয়ে ‘চৈতন্যমঙ্গল’ বা ‘চৈতন্যবিলাস’ রচনা করেন।
47

চর্যাপদ কোন ছন্দে লেখা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অক্ষরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. স্বরবৃত্ত
  4. অমিত্রাক্ষর ছন্দ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

চর্যাপদের ভাষা মূলত প্রাচীন বাংলা। এর পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়। কারও মতে, চর্যাপদ চার মাত্রার চালভিত্তিক ষোল মাত্রার পাদাকুলক ছন্দ, কারও মতে, পজঝটিকা ছন্দ, কারও মতে, অপভ্রংশ-অবহট্‌ঠ রচনায় ব্যবহৃত ছন্দের অনুকরণ। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে চর্যাপদের পদগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দে লেখা। মাত্রাবৃত্ত ছন্দঃ যে ছন্দে যুগ্মধ্বনি দু’মাত্রা ও অযুগ্ম ধ্বনি এক মাত্রা বিবেচিত হয় তাকে মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বলে। মাত্রাবৃত্ত রীতিতে গঠিত হলেও মাত্রাবৃত্তের বর্তমান সুনির্দিষ্ট গণনা পদ্ধতি এতে মানা হয়নি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মাত্রাবৃত্ত। চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন এবং এটি প্রধানত মাত্রাবৃত্ত বা পদ্মাকুলক ছন্দে রচিত।
মাত্রাবৃত্ত ছন্দে, প্রতি অক্ষরের উচ্চারণের সময়কাল বা মাত্রাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। চর্যাপদের পদগুলো সাধারণত ৮+৮ মাত্রার কাঠামোতে লেখা, যা মাত্রাবৃত্ত ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ: এটি মূলত আধুনিক সাহিত্যের ছন্দ, যেখানে মুক্তাক্ষর ১ মাত্রা এবং বদ্ধাক্ষর ২ মাত্রা গোনা হয়। মাইকেল মধুসূদন দত্ত এই ছন্দের ব্যবহার ব্যাপকভাবে করেন।
স্বরবৃত্ত ছন্দ: এটি লোকসাহিত্য বা ছড়ার ছন্দ। এখানে শ্বাসাঘাত প্রধান এবং বদ্ধাক্ষর সবসময় ১ মাত্রা হিসেবে গণ্য হয়। এটি দ্রুত লয়ের ছন্দ।
অমিত্রাক্ষর ছন্দ: এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দের একটি বিশেষ রূপ, যা মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ সালে প্রবর্তন করেন। চর্যাপদের মতো প্রাচীন রচনায় এর অস্তিত্ব নেই।
48

কবি গানের প্রথম কবি কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গোঁজলা পুট [গুই]
  2. হরু ঠাকুর
  3. ভবানী ঘোষ
  4. নিতাই বৈরাগী

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

আঠার শতকের শেষার্ধে ও উনিশ শতকের প্রথমার্ধে সমাজে কবি গানের প্রচলন ছিল, যাদের হিন্দু সমাজে কবিওয়ালা ও মুসলিম সমাজে শায়ের বলা হতো। কবিওয়ালাদের মধ্যে যিনি সর্ব প্রাচীন তার নাম গোঁজলা গুই। এছাড়া কয়েকজন বিখ্যাত কবিওয়ালার নাম রামবসু, অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি, হরু ঠাকুর, নিধুবাবু, কেষ্টা মুচি, ভবানী।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো গোঁজলা পুট [গুই]
কবি গানের উৎপত্তি এবং প্রথম কবিয়াল কে, এ বিষয়ে কিছু বিতর্ক থাকলেও বেশিরভাগ গবেষকের মতে, ১৭শ শতাব্দীর শেষ ভাগ বা ১৮শ শতাব্দীর শুরুর দিকে গোঁজলা পুট সর্বপ্রথম কবি গানের প্রচলন করেন এবং তিনি প্রথম কবিয়াল হিসেবে স্বীকৃত।
হরু ঠাকুর ছিলেন কবি গানের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী শিল্পী। তিনি গোঁজলা পুটের পরবর্তী সময়ের বিখ্যাত কবিয়াল, কিন্তু তিনি প্রথম কবি নন।
কবি গান হলো লোকসাহিত্য ও লোকসংস্কৃতির একটি ধারা, যেখানে দুটি দল দ্রুত ছন্দে মুখে মুখে প্রশ্ন-উত্তর বা তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে গান পরিবেশন করে, যা 'কবিয়ালদের লড়াই' নামে পরিচিত।
49

আলাওলের ‘তোহফা’ কোন ধরনের কাব্য?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আত্মজীবনী
  2. প্রণয়কাব্য
  3. নীতিকাব্য
  4. জঙ্গনামা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নীতিকাব্য (বিকল্প: ২)।
কবি আলাওল রচিত ‘তোহফা’ কাব্যটির পুরো নাম হলো ‘তোহফাতুল নাসাইহ’
‘তোহফাতুল নাসাইহ’ শব্দগুচ্ছের অর্থ হলো ‘উপদেশের উপহার’
নাম অনুযায়ী, এই কাব্যগ্রন্থটি মূলত একটি উপদেশমূলক বা নীতিকাব্য, যেখানে ইসলামী দর্শন, আদর্শ এবং নৈতিক উপদেশ প্রদান করা হয়েছে। এটি আলাওলের অন্যতম অপ্রধান কাব্য হিসেবে বিবেচিত, কারণ তিনি প্রধানত প্রণয়কাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত।
50

‘পরাগলী মহাভারত’ খ্যাত গ্রন্থের অনুবাদকের নাম কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সঞ্চয়
  2. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  3. শ্রীকর নন্দী
  4. কাশীরাম দাস

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বাংলা ভাষায় মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক ‘পরাগলী মহাভারত’ এর লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর। গৌড়েশ্বর সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের (১৪৯৩-১৫১৮) সেনাপতি লস্কর পরাগল খানের উৎসাহে কবি এ কাব্য রচনা করেছিলেন বলে কাব্যটি ‘পরাগলী মহাভারত’ নামে খ্যাত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: কবীন্দ্র পরমেশ্বর
মধ্যযুগে বাংলায় অনুবাদ সাহিত্যের ইতিহাসে পরাগলী মহাভারত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি। চট্টগ্রামের শাসক পরাগল খানের পৃষ্ঠপোষকতায় কবীন্দ্র পরমেশ্বর সংস্কৃত মহাভারতের অংশবিশেষ বাংলায় অনুবাদ করেন। পরাগল খানের নামানুসারে এটি ‘পরাগলী মহাভারত’ নামে পরিচিত। এটিই বাংলা ভাষায় মহাভারতের প্রথম অনুবাদ
অন্যান্য অপশনসমূহ প্রসঙ্গে:
- শ্রীকর নন্দী: তিনি পরাগল খানের পুত্র ছুটি খানের পৃষ্ঠপোষকতায় মহাভারতের ‘অশ্বমেধ পর্ব’ অনুবাদ করেন। অনেক সময় পরীক্ষার্থীরা পরমেশ্বর ও নন্দীর মধ্যে গুলিয়ে ফেলেন।
- কাশীরাম দাস: তিনি সপ্তদশ শতকে মহাভারতের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন, যা ‘কাশীদাসী মহাভারত’ নামে পরিচিত।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
51

বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় কত সালে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ২০০৭ সালে
  2. ১৯০৭ সালে
  3. ১৯০৯ সালে
  4. ১৯১৬ সালে

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বাংলা ভাষার প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য নিদর্শন চর্যাপদ মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে আবিষ্কৃত হয়। বৌদ্ধ সহজিয়াগণের রচিত চর্যাপদ ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। এর সম্পাদনা করেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। চর্যার প্রাপ্ত পুঁথিতে ৫১টি গান ছিল; যার সাড়ে ৪৬টি পাওয়া গেছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৯০৭ সালে
বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কার করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
তিনি ১৯০৭ সালের বসন্তকালে নেপালের রাজকীয় গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুঁথিটি আবিষ্কার করেন।
অনেকে ভুল করে ১৯১৬ সালকে আবিষ্কারের বছর মনে করেন। মনে রাখতে হবে, ১৯১৬ সালে চর্যাপদ বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়, কিন্তু এটি আবিষ্কারের সাল নয়।
52

কোন কবি নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গোবিন্দ দাস
  2. কায়কোবাদ
  3. কাহ্ন পা
  4. ভুসুকু পা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী/নিঅ ঘরিণী চণ্ডালেঁ লেলী।’ ভুসুকু পার এ উক্তিকে প্রমাণস্বরূপ হিসেবে তাকে বাঙালি মনে করা হয়। তার রচিত ৮টি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে, যা চর্যাগীতি রচনায় সংখ্যাধিক্যে দ্বিতীয়। ভুসুকু নামটিকে ছদ্মনাম বলে মনে করা হয়। তার প্রকৃত নাম শান্তিদেব।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ভুসুকু পা
ভুসুকু পা হলেন চর্যাপদের একজন অন্যতম প্রধান কবি। তাঁর রচিত ৪৯টি চর্যার মধ্যে সাধারণত ২৬ নম্বর চর্যায় (কারও কারও মতে ৪৮ নম্বর চর্যায়) তিনি নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন।
চর্যার পদটি হলো— “আজি ভুসুকু বাঙ্গালী হইল।”
বাংলা সাহিত্যে এই প্রথম কোনো কবি নিজ মুখে নিজেকে বাঙালি হিসেবে পরিচয় দেন।
অন্যান্য অপশনগুলো (যেমন: কাহ্ন পা) চর্যাপদের কবি হলেও তারা কেউ সরাসরি নিজেকে 'বাঙালি' বলে ঘোষণা করেননি।
53

বাংলা সাহিত্যের আদি কবি কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কাহ্নপা
  2. চেণ্ডনপা
  3. লুইপা
  4. ভূসুকুপা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য নিদর্শন চর্যাপদ। চর্যাপদে ২৩, মতান্তরে ২৪ জন কবি ছিলেন। চর্যাপদের পদসংখ্যা হলো ৫১টি। ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১নং পদের পদকর্তা হিসেবে লুইপার নাম পান। তাই, তার মতে বাংলা সাহিত্যের আদি কবি লুইপা। কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা সাহিত্যের আদি কবি হলো শবরপা।

ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম ও প্রথম নির্ভরযোগ্য নিদর্শন হলো চর্যাপদ। এই পদগুলো বৌদ্ধ সহজযানী সাধকগণ রচনা করেন, যারা সিদ্ধাচার্য নামে পরিচিত।
ঐতিহ্যগতভাবে, সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে লুইপাকে বাংলা সাহিত্যের আদি কবি বা প্রথম কবি হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত।
এর প্রধান কারণ হলো, চর্যাপদের প্রাপ্ত পদগুলোর মধ্যে প্রথম পদটি (পদ নং-১) লুইপা রচনা করেছিলেন।
অন্যান্য অপশনগুলো (যেমন: কাহ্নপা, ভূসুকুপা) চর্যাপদের গুরুত্বপূর্ণ কবি হলেও তারা আদি কবি নন। বিশেষত কাহ্নপা সবচেয়ে বেশি (১৩টি) পদ রচনা করলেও তিনি প্রথম নন।
54

প্রাচীনতম বাঙালি মুসলমান কবি কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আলাওল
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. মুহম্মদ খান
  4. শাহ মুহম্মদ সগীর

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

প্রাচীনতম বাঙালি মুসলমান কবি ছিলেন শাহ মুহম্মদ সগীর। তাঁর বিখ্যাত কাব্য “ইউসুফ জুলেখা”। এছাড়া আলাওল ছিলেন মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কবি, সৈয়দ সুলতানও মধ্যযুগের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কবি ছিলেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: শাহ মুহম্মদ সগীর। তাঁকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম বাঙালি মুসলমান কবি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

তিনি চতুর্দশ শতকের শেষভাগ থেকে পঞ্চদশ শতকের প্রথম ভাগে (আনুমানিক ১৪০০ খ্রি.) তাঁর বিখ্যাত কাব্য রচনা করেন।

তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ হলো ইউসুফ-জুলেখা (Yusuf-Zulekha)। তিনি গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের পৃষ্ঠপোষকতায় এই কাব্য রচনা করেন।

অন্যদিকে, আলাওল, সৈয়দ সুলতান, এবং মুহম্মদ খান সকলেই সগীর-এর পরবর্তী সময়ের কবি এবং মধ্যযুগের শেষ দিকের প্রভাবশালী সাহিত্যিক।
55

‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ এর রচয়িতা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জ্ঞানদাস
  2. দীন চণ্ডীদাস
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. দীনহীন চণ্ডীদাস

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ মধ্যযুগের প্রথম কাব্য এবং বড়ু চণ্ডীদাস মধ্যযুগের আদি কবি। তিনি ভগবতের কৃষ্ণলীলা সম্পর্কিত কাহিনি অবলম্বনে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্য রচনা করেন। ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি; কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই। এ কাব্যের মোট ১৩টি খণ্ড আছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বড়ু চণ্ডীদাস
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যটি বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম প্রামাণ্য নিদর্শন। এই কাব্যের রচয়িতা হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত হলেন বড়ু চণ্ডীদাস
বড়ু চণ্ডীদাস ছিলেন একজন আদি চণ্ডীদাস। সাধারণত, রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা বিষয়ক আখ্যানমূলক এই কাব্যটি তার লেখা।
অন্যান্য বিকল্প যেমন দীন চণ্ডীদাস বা জ্ঞানদাস বৈষ্ণব পদাবলির পদ রচনা করেছেন। 'চণ্ডীদাস সমস্যা' (একই নামে একাধিক কবির উপস্থিতি) থাকলেও, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন-এর কবি হিসেবে একমাত্র বড়ু চণ্ডীদাস-ই স্বীকৃত।
56

কবি আলাওলের জন্মস্থান কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ফরিদপুরের সুরেশ্বর
  2. চট্টগ্রামের জোব্রা
  3. বার্মার আরাকান
  4. চট্টগ্রামের পটিয়া

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

মহাকবি আলাওলের জন্মস্থান নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, কবি আলাওলের জন্ম ফরিদপুরের ফতেহাবাদ পরগনায়। অধিকাংশ পণ্ডিত এ মত গ্রহণ করেছেন। ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে কবি আলাওল আনুমানিক ১৬০৭ সালে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার জোবরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: চট্টগ্রামের জোব্রা
মহাকবি আলাওল মধ্যযুগের একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কবি। তার জন্মস্থান নিয়ে কিছুটা বিতর্ক থাকলেও বেশিরভাগ গবেষক মনে করেন যে তিনি চট্টগ্রামের ফতেহাবাদের নিকটবর্তী জোব্রা/জালালপুর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
কবি আলাওলের পিতার নাম ছিল জালাল উদ্দীন, যিনি ফতেহাবাদের শাসক মজলিশ কুতুবের মন্ত্রী ছিলেন।
অনেকে ফরিদপুরের সুরেশ্বরকে তার জন্মস্থান মনে করলেও, তার জীবনের মূল ভিত্তি এবং কর্মজীবনের শুরু চট্টগ্রাম অঞ্চলেই ছিল।
57

চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় কোথা থেকে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বাঁকুড়ার এক গৃহস্থের গোয়াল ঘর থেকে
  2. আরাকান রাজগ্রন্থাগার থেকে
  3. নেপালের রাজগ্রন্থশালা থেকে
  4. সুদূর চীন দেশ থেকে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন ‘চর্যাপদ’। ‘চর্যাপদ’ হলো গানের সংকলন, যা রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজগ্রন্হশালা তথা নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে ‘চর্যাপদ’ আবিষ্কার করেন। অপরদিকে ১৯০৯ সালে বাঁকুড়ার এক গৃহস্থের গোয়াল ঘর থেকে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্য আবিষ্কার করেন বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নেপালের রাজগ্রন্থশালা থেকে। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন।
চর্যাপদ আবিষ্কার করেন মহামহোপাধ্যায় ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
তিনি ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে) নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর রয়্যাল লাইব্রেরি (রাজকীয় গ্রন্থাগার বা রাজগ্রন্থশালা) থেকে চর্যাচর্যবিনিশ্চয়, সরহপাদের দোঁহা, কৃষ্ণাচার্যের দোঁহা ও ডাক-এর বচন— এই চারটি পুথি আবিষ্কার করেন।
পুঁথিগুলি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) 'হাজার বছরের পুরোনো বাংলা ভাষার বৌদ্ধ গান ও দোঁহা' নামে।
অন্যান্য অপশন (বাঁকুড়া, আরাকান) চর্যাপদ আবিষ্কারের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়।
58

মঙ্গলযুগের সর্বশেষ কবির নাম কি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিজয়গুপ্ত
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. কানাহরি দত্ত

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের সময়কালকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে মধ্যযুগ বলতে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে বোঝায়। ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ। তিনি আঠারো শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি ছিলেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি। তার শ্রেষ্ঠ কীর্তি ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য (১৭৫২-৫৩) রচনা। তাকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বলা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ছিলেন মঙ্গলযুগের সর্বশেষ এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। তার রচিত কাব্য 'অন্নদামঙ্গল' (অন্য নাম: অন্নপূর্ণামঙ্গল) ছিল মূলত মঙ্গলকাব্যের ধারার শেষ সার্থক রচনা।
তিনি ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর কবি (মৃত্যু ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ)। তার মৃত্যুর পর বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের সমাপ্তি এবং আধুনিক যুগের সূচনা ঘটে।
অন্যান্য অপশনসমূহ অনেক পূর্বের কবি। যেমন: মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (ষোড়শ শতক) চণ্ডীমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি এবং বিজয়গুপ্ত (পঞ্চদশ/ষোড়শ শতক) মনসামঙ্গলের প্রধান কবি ছিলেন।
59

বিদ্যাপতি কোথাকার কবি ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নবদ্বীপের
  2. মিথিলার
  3. বৃন্দাবনের
  4. বর্ধমানের

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

মিথিলার কবি বিদ্যাপতি (১৩৭৪-১৪৬০) বৈষ্ণব সহজিয়া সাধকদের নবরসিকের অন্যতম। তিনি বাংলায় একটি পঙ্‌ক্তি না লিখেও বাঙালিদের কাছে একজন শ্রদ্ধেয় কবি। ‘মৈথিলী কোকিল’ ও ‘অভিনব জয়দেব’ নামে খ্যাত বিদ্যাপতি বৈষ্ণব কবি ও পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তিনি মিথিলার সীতাময়ী মহকুমার বিসফি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর কবিখ্যাতি মূলত “ব্রজবুলি” ভাষায় রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রণয়নমূলক পদ (পদাবলী) এর জন্য। তবে তিনি মৈথিলী, অবহটঠ ও সংস্কৃত ভাষায়ও পদ রচনা করেন। তাঁর বিখ্যাত পঙক্তি- “এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর। এ ভরা বাদর মাহ ভাদর শূন্য মন্দির মোর।।”

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মিথিলার
বিদ্যাপতি ছিলেন মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি বর্তমান ভারতের বিহার রাজ্যের অন্তর্গত প্রাচীন মিথিলা অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর জন্মস্থান ছিল মিথিলার বিসফি গ্রামে।
যদিও তিনি মৈথিলী ভাষায় পদ রচনা করতেন, তবে সেই পদগুলি ব্রজবুলি নামক কৃত্রিম ভাষায় রচিত হওয়ায় তা বাংলা বৈষ্ণব পদাবলির অঙ্গীভূত হয়েছে।
নবদ্বীপ অপশনটি ভুল, কারণ নবদ্বীপের সঙ্গে শ্রীচৈতন্য দেবের নাম জড়িত। বৃন্দাবন রাধা-কৃষ্ণের লীলাক্ষেত্র, কিন্তু বিদ্যাপতির জন্মস্থান নয়।
60

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের বড়াই কি ধরনের চরিত্র?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শ্রী রাধার ননদিনী
  2. শ্রী রাধার শাশুড়ি
  3. রাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতী
  4. জনৈক গোপবালা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

মধ্যযুগের আদি কবি বড়ু চণ্ডীদাস লোকসমাজে প্রচলিত রাধাকৃষ্ণ প্রেম-সম্পর্কিত গ্রাম্য গল্প অবলম্বনে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্য রচনা করেন। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্য গ্রামের এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে পুঁথি আকারে অযত্নে রক্ষিত এ কাব্য আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ সালে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় গ্রন্হটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়। পুরো কাব্যটি আবর্তিত হয়েছে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমনিবেদন, দেহসম্ভোগ, দুঃখভোগ ইত্যাদির মধ্য দিয়ে। আর বড়াই চরিত্রটিকে কবি সৃষ্টি করেছেন রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের সংবাদ আদান-প্রদানকারিণী বা দূতী হিসেবে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: রাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতী
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের আদি নিদর্শন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে (যা 'শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ' নামেও পরিচিত) বড়াই হলো একটি অপরিহার্য চরিত্র।
কাব্যের প্রধান তিন চরিত্রের মধ্যে (রাধা, কৃষ্ণ ও বড়াই) বড়াই চরিত্রটি হলো রাধা ও কৃষ্ণের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যম বা দূতী হিসেবে কাজ করে।
বড়াই মূলত একজন বয়স্কা গোপবালা (রাধাকে দেখাশোনা করার দায়িত্বে নিয়োজিত) এবং তিনি বার বার কৃষ্ণের পক্ষ থেকে রাধার কাছে প্রেমের প্রস্তাব নিয়ে যান ও রাধাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তিনি মধ্যস্থতাকারীর (Mediator) ভূমিকায় অভিনয় করেন।
61

লোকসাহিত্য কাকে বলে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গ্রামীণ নরনারীর প্রণয় সংবলিত উপাখ্যানকে
  2. লোক সাধারণের কল্যাণে দেবতার স্তুতিমুলক রচনাকে
  3. লোকের মুখে মুখে প্রচলিত কাহিনি, গান, ছড়া ইত্যাদিতে
  4. গ্রামীণ অশিক্ষিত ও অখ্যাত লোকের সৃষ্ট রচনাকে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

আবহমান কাল ধরে জনসাধারণের মুখে মুখে প্রচলিত গাঁথা, কাহিনী, গান, ছড়া, প্রবাদ ইত্যাদি নিয়ে যে সাহিত্যের সৃষ্টি তাকে লোকসাহিত্য বলে। এটি পল্লি বাংলার অমূল্য সম্পদ। বিশ শতকের গোড়ায় লোকসাহিত্য সংগ্রহ ও সংকলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার, দীনেশচন্দ্র সেন প্রমুখ। লোকসাহিত্য বিশ্লেষণে প্রথম এগিয়ে আসেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এছাড়াও লোকসাহিত্য সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন চন্দ্রকুমার দে, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্‌দীন প্রমুখ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: লোকের মুখে মুখে প্রচলিত কাহিনি, গান, ছড়া ইত্যাদিতে
লোকসাহিত্য হলো সেই সাহিত্য, যা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি সৃষ্টি করেনি; বরং এটি অলিখিত বা মৌখিক রূপে সমাজের সাধারণ মানুষের মধ্যে যুগের পর যুগ ধরে প্রচলিত থাকে। তাই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মুখ পরম্পরায় বা মৌখিকভাবে সঞ্চারিত হওয়া
৩য় বিকল্পটি এই সংজ্ঞাকে সবচেয়ে ভালোভাবে উপস্থাপন করে, কারণ এতে 'লোকের মুখে মুখে প্রচলিত' থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যান্য অপশন ভুল, কারণ— অপশন ১ (প্রণয় সংবলিত উপাখ্যান) এবং অপশন ২ (দেবতার স্তুতিমূলক রচনা) লোকসাহিত্যের একটি নির্দিষ্ট অংশ মাত্র, কিন্তু লোকসাহিত্যের সম্পূর্ণতাকে বোঝায় না।
অপশন ৪ যদিও আংশিক সত্য (অনেক লোকসাহিত্য অখ্যাত লোকের সৃষ্ট), কিন্তু লোকসাহিত্যের প্রধান পরিচয় হলো মৌখিক প্রচলন এবং সামষ্টিক সৃষ্টি, যা ৩য় অপশনে আছে।
62

লৌকিক কাহিনির প্রথম রচয়িতা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আলাওল
  2. কোরেশী মগন
  3. দৌলত কাজী
  4. সৈয়দ সুলতান

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

মুখে মুখে রচিত লোককাহিনী বা লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা দৌলত কাজী। এর মূল ভিত্তি কল্পনা। স্বর্গ-মর্ত্য পাতাল পর্যন্ত গল্পের আখ্যানের সীমানা বিস্তৃত। দেব-দৈত্য জীন-পরী, রাক্ষস- খোক্ষস, রাজা-প্রজা, মাধু-সন্নাসী, পীর বিষয় নিয়ে লৌকিক কাহিনী রচিত হয়। দৌলক কাজীর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম ‘সীতময়না-লেরেচন্দ্রানী।’ ১৬ শতকের কবি দৈলত কাজী কাব্যটি রচনা শুরু করলেও তাঁর মৃত্যুর পর শেষ করেন আলাওল।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: দৌলত কাজী
দৌলত কাজী ছিলেন মধ্যযুগের আরাকান রাজসভার প্রথম কবি যিনি ফার্সি ও হিন্দি ধারার অনুকরণে রোমান্টিক বা লৌকিক প্রণয়কাব্য রচনা শুরু করেন।
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থের নাম হলো 'সতী ময়না ও লোর-চন্দ্রাণী'। এই কাব্যটি বাংলা সাহিত্যে প্রথম মানবীয় প্রণয়োপখ্যান বা লৌকিক কাহিনির সার্থক সূচনা করে।
তিনি কাব্যটি শুরু করলেও অসমাপ্ত রেখে যান। পরে আরাকান রাজসভার আরেক বিখ্যাত কবি মহাকবি আলাওল এটি সমাপ্ত করেন।
আলাওল শ্রেষ্ঠ রোমান্টিক কবি হলেও তিনি এই ধারার প্রথম রচয়িতা নন।
সৈয়দ সুলতান ধর্মীয় সাহিত্যের জন্য বিখ্যাত (যেমন: নবী বংশ)।
63

Ballad কি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. লোকগীতি
  2. লোকগাঁথা
  3. গীতিকা
  4. গাথা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

Ballad শব্দের বাংলা পরিভাষা ‘গীতি-কাহিনি কাব্য’ বা ‘গীতিকা’। এটা একটা গান, গল্প বা গল্প ও কথা- যার কোনো সাহিত্যিক রূপ নেই বা সাহিত্যের ভাণ্ডারে লিখিত হয়ে বিধৃত হয়নি। এটা অলিখিত অবস্থায় লোকের মুখে মুখে চলে এসেছে ইংরেজীতে একে বলা হয় ব্যালাড (Ballad)। এই শব্দটি ল্যাটিন Balare থেকে এসেছে। ইউরোপে প্রাচীনকালে নাচের সাথে যে কবিতা গীত হতো তাকেই ‘Ballad’ বা গীতিকা বলা হতো।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গীতিকা। ইংরেজিতে Ballad শব্দটি বাংলা সাহিত্যে সরাসরি গীতিকা নামে পরিচিত।
Ballad হলো এক ধরনের খ্যানকাব্য (Narrative Poem) বা কবিতা, যা সুর সহযোগে গাওয়া হয়। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি কোনো একটি প্রেম বা বীরত্বের কাহিনী বর্ণনা করে।
গীতিকা শব্দের অর্থই হলো গীত বা সুরের মাধ্যমে পরিবেশিত কাব্য। এটি লোকসাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে—লোকগীতি (Folk Song) কেবল গানকে বোঝায়, কিন্তু Ballad অবশ্যই একটি কাহিনী বহন করে। আবার ‘গাথা’ বা ‘লোকগাঁথা’ (Gatha/Legend) হলো দীর্ঘ বর্ণনা, যা গীতিকার মতো অতটা লিরিক্যাল বা গীতিধর্মী নাও হতে পারে।
64

‘শাহ্‌নামা’ মৌলিক গ্রন্থটি কার?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মালিক জয়সী
  2. ফেরদৌসী
  3. সৈয়দ হামজা
  4. কাজী দৌলত উজির বাহরাম খাঁ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ইরানের বিখ্যাত মহাকাব্য ‘শাহ্‌নামা’ গজনির পজনভি রাজবংশের অধিপতি সুলতান মাহমুদের রাজসভার কবি আবুল কাসিম মনসুর ফেরদৌসী রচনা করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ফেরদৌসী
‘শাহ্‌নামা’ হলো পারস্যের (ইরান) অমর জাতীয় মহাকাব্য। এই মহাকাব্যটি রচনা করেন একাদশ শতকের বিখ্যাত ফারসি কবি আবুল কাসেম ফেরদৌসী (Abul Qasem Ferdowsi)
‘শাহ্‌নামা’ শব্দের অর্থ হলো ‘রাজাদের গ্রন্থ’ (The Book of Kings)। এতে পারস্যের প্রাচীন ইতিহাস ও পৌরাণিক বীরত্বগাথা স্থান পেয়েছে।
অন্যান্য বিকল্পগুলি ভুল কারণ—
মালিক জয়সী: তিনি হিন্দি সাহিত্যের কবি, তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘পদ্মাবত’
কাজী দৌলত উজির বাহরাম খাঁ: তিনি মধ্যযুগের বাঙালি কবি, ‘লায়লী-মজনু’ কাব্যের জন্য পরিচিত।
65

‘রুপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর’ কার রচনা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চণ্ডিদাস
  2. জ্ঞানদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. লোচনদাস

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

চৈতন্য পরবর্তী বৈষ্ণব পদাবলীর কবি জ্ঞানদাস (ষোড়শ শতাব্দী) রচিত উক্ত পদটি কৃষ্ণানুরাগ বিষয়ক বিখ্যাত পদ। তার রচিত পদের স্বাভাবিক সৌন্দর্য; মাধুর্য ও সূক্ষ্মতা একমাত্র চণ্ডীদাসের পদের সাথেই তুলনা হতে পারে। আক্ষেপানুরাগ, রূপানুরাগ ও মাথুরবিষয়ক পদ রচনায় তিনি অসাধারণ কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: জ্ঞানদাস। এই বিখ্যাত চরণটি বৈষ্ণব পদাবলির অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি জ্ঞানদাস রচনা করেছেন।
চরণটির মূলভাব হলো: রূপ (শারীরিক সৌন্দর্য) দেখার জন্য চোখ ব্যাকুল হয়ে কাঁদে, কিন্তু গুণ (আন্তরিক মাধুর্য ও মহত্ত্ব) উপলব্ধি করে মন পরিপূর্ণভাবে মুগ্ধ হয় বা ভরে যায়।
এটি জ্ঞানদাসের গভীর মানবিক প্রেমবোধের পরিচায়ক।
চণ্ডিদাস এবং বিদ্যাপতি বৈষ্ণব পদাবলির প্রধান দুই ধারার স্রষ্টা। চণ্ডিদাস প্রেমের বেদনা (বিরহ) এবং সহজ মানবিকতা ফুটিয়ে তুলেছেন, আর বিদ্যাপতি রাধিকার সৌন্দর্য ও অভিসারকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
66

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কোন রাজসভার কবি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আরাকান রাজসভা
  2. কৃষ্ণনগর রাজসভা
  3. রাজা গণেশের রাজসভা
  4. লক্ষ্মণ সেনের রাজসভা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর আঠারো শতকের বাংলা মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম কবি। তিনি নবদ্বীপাধিপতি মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের রাজসভায় ‘সভাকবি’ নিযুক্ত হন। কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি ‘অন্নদামঙ্গল’ (১৭৫২) কাব্যটি রচনা করেন। পরবর্তীতে এ রচনা তাকে মহারাজ কর্তৃক ‘রায়গুণাকর’ উপাধি লাভ করিয়ে দেয়। তিনিই মধ্যযুগের শেষ কবি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: কৃষ্ণনগর রাজসভা (বিকল্প ২)।
কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ছিলেন অষ্টাদশ শতকের (বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের শেষভাগ) অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি।
তিনি নদিয়ার কৃষ্ণনগরের রাজা মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের (১৭২৭-১৭৮২) সভাকবি ছিলেন। রাজার নির্দেশে তিনি তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'অন্নদামঙ্গল কাব্য' রচনা করেন।
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র সন্তুষ্ট হয়ে তাকে 'রায়গুণাকর' উপাধি প্রদান করেন। এই উপাধিটি কবির নামের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যায়।
67

‘মহুয়া’ পালাটির রচয়িতা-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দ্বিজ কানাই
  2. মনসুর বয়াতী
  3. নয়নচাঁদ ঘোষ
  4. দ্বিজ ঈশান

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

মহুয়া ময়মনসিংয়ের পূর্বাঞ্চল থেকে সংগৃহীত একটি পালা গান। দ্বিজ কানাই প্রণীত এই পালা চন্দ্রকুমার দে সংগ্রহ করেন এবং পরবর্তীতে তা ময়মনসিংহ গীতিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: দ্বিজ কানাই
‘মহুয়া’ পালাটি হলো বাংলা লোকসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন, যা ময়মনসিংহ গীতিকা-র অন্তর্ভুক্ত। এই গীতিকার অন্যতম প্রধান ও জনপ্রিয় পালা ‘মহুয়া’ বা ‘মহুয়ার পালা’ রচনা করেছিলেন কবি দ্বিজ কানাই
অন্যান্য অপশনগুলোও ময়মনসিংহ গীতিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ:
- মনসুর বয়াতী: তিনি ‘দেওয়ানা মদিনা’ নামক বিখ্যাত পালাটির রচয়িতা।
- নয়নচাঁদ ঘোষ: তিনি ‘কেনারামের পালা’ বা ‘কমলা’ পালার রচয়িতা হিসেবে পরিচিত।
68

‘বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত’ কে রচনা করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. সুকুমার সেন
  3. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

  4. মুহম্মদ এনামুল হক

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
বাংলা ভাষার উৎপত্তি, বিকাশ ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ নিয়ে রচিত তাঁর বিখ্যাত গবেষণা গ্রন্থ হলো ‘বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত’
বিখ্যাত ভাষাবিদ ও পণ্ডিত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ১৯৫৯ সালে এই গ্রন্থটি প্রকাশ করেন। এটি বাংলা ভাষার ইতিহাস সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য গ্রন্থ।

অন্যান্য বিকল্প:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়: তিনি রচনা করেন বাংলা ভাষার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী গ্রন্থ, ‘The Origin and Development of the Bengali Language’ (ODBL)। অনেক পরীক্ষার্থী ভুল করে এই দুটি বই গুলিয়ে ফেলেন।
69

‘পদাবলী’র প্রথম কবি কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শ্রীচৈতন্য
  2. বিদ্যাপতি
  3. চণ্ডীদাস
  4. জ্ঞানদাস

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলীর আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস (আনুমানিক ১৩৭০-১৪৩৩ খ্রি.)। মিথিলার কবি বিদ্যাপতি (১৩৮০-১৪৬০ খ্রি.; মতান্তরে ১৩৯০-১৪৯০খ্রি.) ছিলেন বাঙালি বৈষ্ণবের গুরুস্থানীয়, বাঙালির শ্রদ্ধেয় কবি, বৈষ্ণব সহজিয়া সাধকদের নবরসিকের অন্যতম। চৈতন্যপরবর্তী কবি জ্ঞানদাস ছিলেন আনুমানিক ষোড়শ শতাব্দীর কবি এবং চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: চণ্ডীদাস
‘পদাবলী’ বলতে সাধারণত বৈষ্ণব পদাবলী সাহিত্যকে বোঝানো হয়। বৈষ্ণব পদাবলীর প্রাচীনতম ও শ্রেষ্ঠ কবি হলেন চণ্ডীদাস। তিনিই প্রথম রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলাকে পদাবলীর মাধ্যমে সাহিত্য রূপ দেন।
যদিও চণ্ডীদাস নামে চারজন কবির অস্তিত্ব পাওয়া যায় (বড়ু চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস এবং চণ্ডীদাস), তবে সাহিত্যের ইতিহাসে আদি কবি হিসেবে চণ্ডীদাসই স্বীকৃত।
অন্যান্য বিকল্পের মধ্যে বিদ্যাপতি পদাবলীর অন্যতম প্রধান কবি, কিন্তু তিনি চণ্ডীদাসের পরে এসেছিলেন এবং তিনি মূলত মৈথিলী ভাষার কবি ছিলেন। শ্রীচৈতন্য ছিলেন বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক, তিনি পদাবলীর কবি ছিলেন না।
70

দোভাষী পুঁথি বলতে কি বোঝায়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দুই ভাষায় রচিত পুঁথি
  2. কয়েকটি ভাষার শব্দ ব্যবহার করে মিশ্রিত ভাষায় রচিত পুঁথি
  3. তৈরি করা কৃত্রিম ভাষায় রচিত পুঁথি
  4. আঞ্চলিক বাংলায় রচিত পুঁথি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘দোভাষী পুঁথি’ শুধু দুটি ভাষায় রচিত পুঁথি নয়। বাংলা, হিন্দি, ফারসি, আরবি, তুর্কি ইত্যাদি ভাষার সংমিশ্রণে রচিত পুঁথিই হলো ‘দোভাষী পুঁথি’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কয়েকটি ভাষার শব্দ ব্যবহার করে মিশ্রিত ভাষায় রচিত পুঁথি
দোভাষী পুঁথি বা পুঁথি সাহিত্য হলো একটি বিশেষ ধরনের মিশ্র ভাষা রীতি যা আঠারো ও উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যে প্রচলিত ছিল।
এই ভাষার মূল বৈশিষ্ট্য হলো বাংলা শব্দের পাশাপাশি আরবি, ফারসি, তুর্কি এবং হিন্দি ভাষার শব্দ প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করা হতো। এই মিশ্রণকে অনেক সময় 'দো-আঁশলা ভাষা' হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়।
দোভাষী পুঁথি রচয়িতারা মূলত মুসলিম ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং প্রণয় উপাখ্যান (যেমন—লায়লী মজনু, ইউসুফ জুলেখা) সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করার জন্য এই মিশ্রিত ভাষা ব্যবহার করতেন।
অপশন 'দুই ভাষায় রচিত পুঁথি' ভুল, কারণ এটি কেবল দুটি ভাষার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং একাধিক ভাষার শব্দভান্ডার এর অংশ ছিল।
71

পদ বা পদাবলী বলতে কি বুঝায়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. লাচাড়ী ছন্দে রচিত পদ্য বা কবিতাবলী
  2. পদ্যাকারে রচিত দেবস্তুতিমূলক রচনা
  3. বাউল বা মরমী গীতি
  4. বৌদ্ধ বা বৈষ্ণবীয় ধর্মের গূঢ় বিষয়ের বিশেষ সৃষ্টি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

পদ বা পদাবলী বলতে সাধারণত শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীচৈতন্যের লীলাকথা নিয়ে গান করার জন্য রচিত কমনীয় কবিতাকে বুঝায়। দ্বাদশ শতকে জয়দেব ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যে ‘পদাবলী’ শব্দটি ব্যবহার করেন। এটি একাধারে সাহিত্য ও সাধানার অবলম্বন। উপনিষদে যে ব্রাহ্মকে রসস্বরূপ বলা হয়েছে এবং প্রিয়রূপে উপাসনা করতে উপদেশ দেয়া হয়েছে, সেই অনন্তরসের আধার শ্রীকৃষ্ণকে আস্বাদন করার ও করানোর জন্য পদাবলী রচিত হয়েছে। উল্লেখ্যযোগ্য পদাবলী সংকলনের মধ্যে সপ্তদশ শতকের শেষভাগে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী সংকলিত ‘ক্ষণদাগীতচিন্তামনি’ কে প্রাচীনতম বলে মনে করা হয়। পদাবলীর বৃহত্তম ও অধিক প্রচারিত সংকলন বৈষ্ণবদাস ওরফে গোকুলানন্দ সেনের ‘পদকল্পগুরু’ (৩১০১টি পদ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: পদ্যাকারে রচিত দেবস্তুতিমূলক রচনা

পদ বা পদাবলী বলতে বাংলা সাহিত্যে এক প্রকার গীতধর্মী কবিতা বা গানকে বোঝায়। মধ্যযুগে এই গানগুলি মূলত দেবতা বা ভক্তের স্তুতিমূলক এবং পদ্যাকারে রচিত হত। এই ধারার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হলো বৈষ্ণব পদাবলী, যেখানে রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলাকে উপজীব্য করে ভক্তিমূলক পদ রচিত হয়েছিল।

যেহেতু ‘পদ’ বা ‘পদাবলী’ মূলত ভক্তিরসের মাধ্যমে দেবতাকে অর্ঘ্য নিবেদনের একটি কাব্যরূপ, তাই এটি সরাসরি ‘পদ্যাকারে রচিত দেবস্তুতিমূলক রচনা’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত হয়।

অন্যান্য অপশন ভুল, কারণ: ‘বাউল বা মরমী গীতি’ একটি স্বতন্ত্র লোকসাহিত্য ধারা। পদাবলী নির্দিষ্টভাবে বৈষ্ণব সাহিত্য ধারাকে চিহ্নিত করে, যা মধ্যযুগের একটি প্রধান সৃষ্টি।
72

চাঁদ সওদাগর বাংলা কোন কাব্যধারার চরিত্র?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

মঙ্গলকাব্যগুলোর মধ্যে মনসামঙ্গল প্রাচীনতম। সাপের দেবী মনসার পূজা প্রচারের কাহিনিই এ কাব্যের বিষয়বস্তু। এ কাব্যের মূল চরিত্রগুলো হলো চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর ও মনসা দেবী। চণ্ডীমঙ্গল কাব্য হলো চণ্ডী (পার্বতীর রূপভেদ) দেবীকে অবলম্বন করে রচিত মঙ্গলকাব্য। ধর্মমঙ্গল হলো পঞ্চদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম, বর্ধমান, বাকুঁড়া, মেদিনীপুর ইত্যাদি অঞ্চলে ধর্মঠাকুর বা ধর্ম নামের যে দেবতাকে নিম্নশ্রেণী ও কোথাও কোথাও উচ্চশ্রেণীর হিন্দুরা পূজা করত, সেই কাহিনী অবলম্বনে রচিত কাব্য। এ কাব্যের মূল চরিত্রগুলো হলো-হরিশ্চন্দ্র, মদনা, লুইচন্দ্র, কর্ণসেন, গৌড়েশ্বর, লাউসেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মনসামঙ্গল
চাঁদ সওদাগর হলেন সর্পদেবী মনসা বা পদ্মাবতীর মাহাত্ম্য প্রচারকারী মঙ্গলকাব্য মনসামঙ্গলের প্রধান পুরুষ চরিত্র।
এই কাব্যে চাঁদ সওদাগর শিবের উপাসক হয়েও কীভাবে মনসার মহিমা স্বীকারে বাধ্য হন এবং তার পুত্র লক্ষ্মীন্দরকে সাপের কামড়ে হারানোর পর পুত্রবধূ বেহুলার কঠোর ত্যাগের মাধ্যমে দেবীর পূজা প্রচারে রাজি হন—সেই কাহিনি বর্ণিত।
অন্যান্য মঙ্গলকাব্য: চণ্ডীমঙ্গলের প্রধান চরিত্র কালকেতুফুল্লরা; ধর্মমঙ্গলের প্রধান চরিত্র লাউসেন; এবং অন্নদামঙ্গলের প্রধান চরিত্র মানসিংহঈশ্বরী পাটনী
73

‘ইউসুফ-জোলেখা’ প্রণয়কাব্য অনুবাদ করেছে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দৌলত উজির বাহরাম খান
  2. মাগন ঠাকুর
  3. আলাওল
  4. শাহ্ মুহম্মদ সগীর

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

মধ্যযুগের বাংলা প্রণয়োপাখ্যানগুলোর অন্যতম ‘ইউসুফ-জোলেখা’র কাহিনি। ইউসুফ-জোলেখার যেসব পুঁথি পাওয়া গেছে তার মধ্যে কবি শাহ মুহম্মদ সগীর প্রণীত ‘ইউসুফ-জোলেখা’ অন্যতম।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: শাহ্ মুহম্মদ সগীর
তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে পরিচিত।
তাঁর রচিত ‘ইউসুফ-জোলেখা’ কাব্যটি (আনুমানিক ১৪০০ খ্রিষ্টাব্দ) বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান হিসেবে স্বীকৃত।
এই কাব্যটি পারস্য কবি ফেরদৌসী রচিত একই নামের কাব্য অবলম্বনে রচিত হয়েছিল।
অন্যান্য বিকল্পের কাজ: আলাওল-এর শ্রেষ্ঠ কাব্য ‘পদ্মাবতী’ এবং দৌলত উজির বাহরাম খান-এর বিখ্যাত কাব্য ‘লায়লী-মজনু’
74

‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে’-এ প্রার্থনাটি করেছে–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভাঁড়ুদত্ত
  2. চাঁদ সওদাগর
  3. ঈশ্বরী পাটনী
  4. নলকুবের

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

অষ্টাদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর (আনুমানিক ১৭০৭-১৭৬০ খ্রি.) রচিত ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যে ঈশ্বরী পাটনী, হীরা মালিনী প্রভৃতি চরিত্র একান্ত বাস্তব হয়ে ফুটে উঠেছে। আলোচ্য উক্তিটির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের অমর চরিত্র ঈশ্বরী পাটনী অন্নদা (চণ্ডী) দেবীর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঈশ্বরী পাটনী
উদ্ধৃত বিখ্যাত উক্তিটি মধ্যযুগের কবি ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্যের অংশ।
দেবী অন্নপূর্ণা ছদ্মবেশে গঙ্গা পার হওয়ার সময় মাঝির স্ত্রী ঈশ্বরী পাটনীকে এই বর দেন।
পাটনী দেবী অন্নপূর্ণার কাছে সম্পদ বা ক্ষমতার বদলে বাঙালির চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা—নিরাপদ অন্ন ও বন্ত্রের নিশ্চয়তা— ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে’—এই প্রার্থনাটি করেন।
অন্যান্য অপশন যেমন— চাঁদ সওদাগর (মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র) এবং ভাঁড়ুদত্ত (চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের খল চরিত্র) এই কাব্যের সাথে সরাসরি যুক্ত নন।
75

‘ব্রজবুলি’ বলতে কী বোঝায়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ব্রজধামে কথিত ভাষা
  2. এক রকম কৃত্রিম কবিভাষা
  3. বাংলা ও হিন্দির যোগফল
  4. মৈথিলি ভাষার একটি উপভাষা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘ব্রজবুলি’ হলো মৈথিলী ও বাংলা ভাষার মিশ্রণে গঠিত এক প্রকার কৃত্রিম কবিভাষা। এই ভাষায় বৈষ্ণব পদ রচনা করেছেন অনেক কবি, যাদের মধ্যে গোবিন্দদাস, বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস ও জ্ঞানদাস অন্যতম। উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ব্রজবুলি ভাষায় ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ নামে কাব্য রচনা করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: এক রকম কৃত্রিম কবিভাষা
‘ব্রজবুলি’ (Brajabuli) কোনো প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া কথ্য ভাষা নয়। এটি ছিল মধ্যযুগে বৈষ্ণব পদকর্তাদের দ্বারা শুধুমাত্র কাব্য রচনার জন্য সৃষ্ট একটি কৃত্রিম মিশ্র ভাষা
এই ভাষাটির মূল কাঠামো ছিল মৈথিলি ভাষার এবং এর সাথে বাংলা ভাষার ক্রিয়াপদ ও কিছু শব্দ যোগ করে একে মধুর ও কাব্যোপযোগী করে তোলা হয়েছিল।
এটি বৈষ্ণব পদাবলির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা বাংলা, আসাম ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব কবিরা ব্যবহার করতেন।
ভুল উত্তর প্রসঙ্গে: অপশন (ক) 'ব্রজধামে কথিত ভাষা' হলো ব্রজভাষা (Braj Bhasha), যা হিন্দি ভাষার একটি উপভাষা এবং এটি ব্রজবুলির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
76

‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’- কে বলেছেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চণ্ডীদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. রামকৃষ্ণ পরমহংস
  4. বিবেকানন্দ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

এই অমর উক্তিটি করেছেন মধ্যযুগের প্রখ্যাত কবি বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলীর আদি রচিয়তা চণ্ডীদাস। উল্লেখ্য, পদাবলীতে ভিন্ন ভিন্ন চণ্ডীদাসের নাম (চণ্ডীদাস দ্বিজ, চণ্ডীদাস দীন, চণ্ডীদাস আদি ইত্যাদি।) জানা যায়। তবে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চণ্ডীদাস তিনজন- বড়ু চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস এবং দীন চণ্ডীদাস। যাদের মধ্যে বড়ু চণ্ডীদাস শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা এবং দ্বিজ ও দীন পদাবলীর কবি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: চণ্ডীদাস
এই বিখ্যাত উক্তিটি (সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই) বৈষ্ণব পদাবলীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি চণ্ডীদাস-এর।
চণ্ডীদাস ছিলেন মূলত মানবতাবাদী কবি। এই উক্তিটির মাধ্যমে তিনি ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে মানুষকে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা দিয়েছেন এবং প্রেমের মাধ্যমে মানবমুক্তির কথা বলেছেন।
অন্যান্য অপশন যেমন রামকৃষ্ণ পরমহংসবিবেকানন্দ আধুনিক যুগের ব্যক্তিত্ব। বিদ্যাপতি বৈষ্ণব কবি হলেও এই উক্তিটি চণ্ডীদাসের নামেই বিখ্যাত।
77

বাংলা ভাষার প্রথম কাব্য সংকলন ‘চর্যাপদ’ -এর আবিষ্কারক-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. হরপ্রাসাদ শাস্ত্রী
  4. ডক্টর সুকুমার সেন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ। রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র ১৮৮২ সালে ‘Sanskrit Buddist Literature in Nepal’ গ্রন্হে সর্বপ্রথম নেপালের বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালে তাঁর তৃতীয় ভ্রমণে নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে ১৯০৭ সালে ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ নামক পুঁথিটি আবিষ্কার করেন । তার সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে প্রকাশিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: হরপ্রাসাদ শাস্ত্রী
তিনি ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের লাইব্রেরি থেকে বাংলা ভাষার প্রাচীনতম কাব্য সংকলন ‘চর্যাপদ’ আবিষ্কার করেন।
আবিষ্কারের পর, এটি ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধ গান ও দোঁহা’ নামে প্রকাশিত হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো যদিও চর্যাপদ গবেষণায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আবিষ্কারক হিসেবে কেবল হরপ্রাসাদ শাস্ত্রী-এর নামই স্বীকৃত। যেমন, ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এর ভাষার নাম দেন ‘সন্ধ্যাভাষা’ এবং প্রমাণ করেন এর ভাষা বাংলা। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চর্যাপদের ওপর গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগ্রন্থ রচনা করেন।
78

হিন্দি ‘পদুমাবৎ’-এর অবলম্বনে ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের রচয়িতা-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দৌলত উজীর বাহরাম খান
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ
  4. আলাওল

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

আলাওল ছিলেন আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি । তার শ্রেষ্ঠ রচনা পদ্মাবতী। এটি হিন্দি কবি মালিক মোহাম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবৎ’ অবলম্বনে রচিত। আলাওল রচিত ‘পদ্মাবতী’ কাব্যটি সম্পাদনা করেন আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আলাওল
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানসমূহের মধ্যে আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' অন্যতম। এটি তিনি আরাকান রাজসভার প্রধানমন্ত্রী মাগন ঠাকুর-এর অনুরোধে রচনা করেন।
এই কাব্যটি মূলত হিন্দি ভাষার কবি মালিক মুহম্মদ জায়সী-র বিখ্যাত কাব্য 'পদুমাবৎ' (১৫৪০ খ্রিষ্টাব্দ)-এর ভাবানুবাদ বা অনুবাদ। আলাওল এটি ১৬৪৮-১৬৫১ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে শেষ করেন।
দৌলত উজীর বাহরাম খান: তিনি 'লায়লী-মজনু' কাব্যের রচয়িতা।
সৈয়দ সুলতান: তিনি মূলত ধর্ম ও নীতি বিষয়ক কাব্য (যেমন: নবী বংশ, শবে মিরাজ) রচনা করেন।
আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ: তিনি এই কাব্যের রচয়িতা নন। তিনি ছিলেন প্রাচীন বাংলা পুঁথি সংগ্রহকারী ও গবেষক।
79

‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’ লাইনটি নিম্নোক্ত একজনের কাব্যে পাওয়া যায়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. ভারতচন্দ্র রায়
  3. মদন মোহন তর্কালঙ্কার
  4. কামিনী রায়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ছিলেন মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মঙ্গল কাব্যধারার শেষ কবি। তাকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি এবং নাগরিক কবি হিসেবেও অভিহিত করা হয়। তার রচিত ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের একটি বিখ্যাত উক্তি এটি। উক্তিটি করেছিল ঈশ্বরী পাটনী। ভারতচন্দ্র নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তার কাব্যপ্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তাকে রায়গুণাকর উপাধি দেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: ভারতচন্দ্র রায়
বিখ্যাত ও বাঙালির চিরন্তন আকাঙ্ক্ষার প্রতীক এই লাইনটি (‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’) মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর-এর অমর সৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের অংশ।
দেবী অন্নদার কাছে ঈশ্বরী পাটনী নামক এক সাধারণ খেয়াঘাটের মাঝি তার পরিবারের জন্য এই আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। এটি মধ্যযুগের সাধারণ মানুষের দারিদ্র্য জয় করে ন্যূনতম সুখ-শান্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন কালের কবি: মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি, মদন মোহন তর্কালঙ্কার আধুনিক যুগের প্রথমদিকের কবি এবং কামিনী রায় আধুনিক যুগের রোমান্টিক ধারার কবি।
80

‘কেউ মালা, কেউ তসবি গলায়, তাইতো জাত ভিন্ন বলায়’ এই পংক্তিটি নিচের একজনের লেখা-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. লালন শাহ
  2. সিরাজ সাঁই
  3. মদন বাউল
  4. পাগলা কানাই

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বাউলসাধক লালন সাঁই রচিত কয়েকটি জনপ্রিয় গান- ‘জাত গেলো জাত গেলো বলে’, ‘আমার ঘরের চাবি পরের হাতে’, ‘আর আমারে মারিসনে মা’, ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’, ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’, ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’, ‘সময় গেলে সাধন হবে না’, ‘মিলন হবে কতদিনে’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: লালন শাহ
এই বিখ্যাত মানবতাবাদী পংক্তিটি বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের রচিত।
লালন তার গানে আজীবন ধর্ম, বর্ণ বা জাতিভেদ প্রথার ঊর্ধ্বে মানব ধর্মকে স্থান দিয়েছেন। এই পংক্তিটির মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, বাহ্যিক ধর্মীয় চিহ্ন (যেমন: হিন্দুরা মালা এবং মুসলিমরা তসবি) ধারণ করার কারণেই কেবল মানুষকে ভিন্ন ভিন্ন জাতের বলা হয়, কিন্তু মানুষ হিসেবে সবাই এক
তাঁর এই গানটি মূলত দেহতত্ত্ব ও মানবধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রচার করে।
81

বাংলা ভাষার আদি স্তরের স্থিতিকাল কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. এয়োদশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দী
  2. দশম থেকে চতুর্দশ শতাব্দী

  3. একাদশ থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী
  4. দ্বাদশ থেকে ষোড়শ শতাব্দী

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বাংলা ভাষার আদিস্তর ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, দশম থেকে চতুর্দশ শতাব্দী। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী।

ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার ইতিহাসকে প্রধানত তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়: আদি স্তর, মধ্য স্তর এবং আধুনিক স্তর।
ভাষাতাত্ত্বিকগণ এবং বাংলা সাহিত্যের গবেষকদের মতে, বাংলা ভাষার আদি বা প্রাচীন স্তরের স্থিতিকাল শুরু হয়েছিল আনুমানিক ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে এবং শেষ হয়েছে ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ-এর কাছাকাছি সময়ে।
৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ হলো দশম শতাব্দীর মধ্যভাগ এবং ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ হলো চতুর্দশ শতাব্দীর মধ্যভাগ। তাই, সঠিক স্থিতিকাল হলো দশম থেকে চতুর্দশ শতাব্দী
এই স্তরের একমাত্র লিখিত নিদর্শন হলো চর্যাপদ
82

‘আমীর হামজা’ কাব্য রচনা করেন কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আলাওল
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. সৈয়দ হামজা
  4. রেজাউদ্দৌলা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

আমীর হামজা কাব্যের রচয়িতা ফকীর গরীবুল্লাহ। তিনি কাজটি অসমাপ্ত রেখে যান। তার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করেন সৈয়দ হামজা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ফকির গরীবুল্লাহ
‘আমীর হামজা’ কাব্যটি হলো মধ্যযুগের পুঁথি সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় রচনা। এই কাব্যের রচয়িতা হিসেবে সাধারণত ফকির গরীবুল্লাহর নামকেই উল্লেখ করা হয়।
ফকির গরীবুল্লাহ বাংলা পুঁথি সাহিত্যের আদি এবং প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত। তিনি এই কাব্যের প্রথমাংশ রচনা করেন এবং পরে তার শিষ্য সৈয়দ হামজা কাব্যের দ্বিতীয়াংশ বা বাকি অংশ সমাপ্ত করেন। তবে মূল প্রবর্তক হিসেবে ফকির গরীবুল্লাহই স্বীকৃত, তাই বেশিরভাগ পরীক্ষায় তিনিই উত্তর হন।
অন্যান্য অপশনগুলো প্রসঙ্গে: আলাওল মধ্যযুগের আরেকজন বিখ্যাত কবি, তার বিখ্যাত কাব্য হলো 'পদ্মাবতী'সৈয়দ হামজা এই কাব্যের সমাপ্তকারী হলেও মূল রচয়িতা নন।
83

পুঁথি সাহিত্যের প্রাচীনতম লেখক-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভারতচন্দ্র রায়
  2. দৌলত কাজী
  3. সৈয়দ হামজা
  4. আব্দুল হাকিম

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

উপরিউক্ত কবিদের মধ্যে শুধু সৈয়দ হামজা পুঁথি সাহিত্য রচনা করেন। তবে তিনি প্রথম আদি রচয়িতা নন। পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় লেখক ফকির গরীবুল্লাহ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: সৈয়দ হামজা
বাংলা পুঁথি সাহিত্যের প্রাচীনতম লেখক হিসেবে সৈয়দ হামজা-কে চিহ্নিত করা হয়। তিনি অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে আবির্ভূত হন।
তাঁর রচিত বিখ্যাত পুঁথি কাব্য হলো 'মধুমালতী'। যদিও অনেকে তাঁর রচিত 'আমীর হামজা' (মতান্তরে এটির কিছু অংশ) পুঁথি সাহিত্য ধারার প্রথম গ্রন্থ হিসেবে দাবি করেন।
ভারতচন্দ্র রায় ছিলেন মধ্যযুগের শেষ শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি মঙ্গলকাব্যের (বিশেষত অন্নদামঙ্গল) জন্য বিখ্যাত।
দৌলত কাজী ছিলেন রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি (তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য: সতী ময়নামতি বা লোর-চন্দ্রাণী)। তাঁরা পুঁথি সাহিত্যের ধারার লেখক নন, তবে একই সময়ের কাছাকাছি তাঁদের কাব্যধারা বিকশিত হয়েছে।
84

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রাচীনতম মুসলমান কবি-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. সাবিরিদ খান
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. মুহাম্মদ কবীর

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রাচীনতম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর। তার বিখ্যাত কাব্য ‘ইউসুফ জুলেখা’। তিনি পারস্য কবি আবদুর রহমান জামি রচিত ‘ইউসুফ ওয়া জুলায়খা’ থেকে কাহিনি গ্রহণ করেছেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: শাহ মুহম্মদ সগীর। তাঁকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রাচীনতম মুসলমান কবি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর বিখ্যাত কাব্য 'ইউসুফ-জোলেখা' রচনা করেন। এটি চতুর্দশ শতাব্দীর শেষ ভাগে রচিত বলে ধারণা করা হয়।
তিনি সুলতানি আমলের বিখ্যাত শাসক গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছিলেন।
অপরদিকে, সাবিরিদ খান (বিখ্যাত কাব্য: বিদ্যাসুন্দর), শেখ ফয়জুল্লাহ (গোরক্ষ বিজয়), এবং মুহাম্মদ কবীর (মধুমালতী)-সহ অন্যান্য মুসলিম কবিরা পরবর্তীকালে (ষোড়শ শতক বা তারও পরে) আবির্ভূত হন।
85

বটতলার পুঁথি বলতে বুঝায়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মধ্যযুগীয় কাব্যের হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি
  2. বটতলা নামক স্থানে রচিত কাব্য
  3. দোভাষী বাংলায় রচিত পুঁথি সাহিত্য
  4. অবিমিশ্র দেশজ বাংলায় রচিত লোকসাহিত্য

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

মধ্যযুগে অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে মুসলমান সাহিত্যিকদের রচিত ‘দোভাষী পুঁথি’ ছিল আরবি, ফারসি, হিন্দি, বাংলা ও ইংরেজি শব্দের মিশ্রণে রচিত এক ধরনের পুঁথি। এ সাহিত্য কলকাতার সস্তা ছাপাখানা থেকে ছাপা হয়ে দেশময় প্রচারিত হয়েছিল বলে একে ‘বটতলার পুঁথি’ নামেও চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা চলেছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: দোভাষী বাংলায় রচিত পুঁথি সাহিত্য
বটতলার পুঁথি বলতে মূলত ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে (১৮০০ সালের পর) উত্তর কলকাতার বটতলা এলাকা থেকে সস্তা কাগজে ছাপানো জনপ্রিয় পুঁথি সাহিত্যকে বোঝানো হতো।
পুঁথি সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এর ভাষাশৈলী। এই সাহিত্যগুলো সাধু বা চলিত ভাষায় রচিত না হয়ে এক ধরনের মিশ্র ভাষায় লেখা হতো, যা দোভাষী বাংলা বা মুসলমানি বাংলা নামে পরিচিত।
এই দোভাষী বাংলায় ফারসি, আরবি ও তুর্কি শব্দের ব্যাপক মিশ্রণ ঘটতো। ফলে এটি সাধারণ জনগণের (বিশেষত মুসলিম সমাজের) কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
বাকি অপশনগুলো ভুল। যেমন, এটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি ছিল না, বরং ছাপা বই ছিল। আবার, এটি অবিমিশ্র দেশজ বাংলা নয়, বরং মিশ্রিত (দোভাষী) বাংলা।
সুতরাং, বটতলার পুঁথি তার ভাষারীতি (দোভাষী বাংলা) দ্বারা সংজ্ঞায়িত।
86

মুসলমান কবি রচিত প্রাচীনতম বাংলা কাব্য-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ইউসুফ জুলেখা
  2. রসুল বিজয়
  3. নূরনামা
  4. শবে মেরাজ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রাচীনতম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর। তিনি আনুমানিক পঞ্চদশ শতাব্দীর কবি। ‘ইউসুফ-জুলেখা’ তার বিখ্যাত রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান। তিনি পারস্য কবি আবদুর রহমান জামি রচিত ‘ইউসুফ ওয়া জুলায়েখা’ থেকে কাহিনি গ্রহণ করেছেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ইউসুফ জুলেখা
বাংলা সাহিত্যে মুসলমান কবি রচিত প্রাচীনতম কাব্য হলো ইউসুফ জুলেখা। এই কাব্যটি রচনা করেন কবি শাহ মুহম্মদ সগীর
কাব্যটি চতুর্দশ শতকের শেষার্ধে (কিংবা পঞ্চদশ শতকের প্রথমার্ধে) রচিত বলে ধারণা করা হয় এবং এর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
এই কাব্যটি মূলত ফার্সি কবি ফেরদৌসীর 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের ভাবানুবাদ, যা রোমান্টিক প্রণয়কাব্য ধারার অন্তর্ভুক্ত।
অন্যান্য অপশন যেমন রসুল বিজয় (শেখ চান্দ/সৈয়দ সুলতান), নূরনামা (আব্দুল হাকিম) কিংবা শবে মেরাজ (সৈয়দ সুলতান) এর চেয়ে অনেক পরে রচিত।
87
০১. চর্যাপদের কবিরা ছিলেন—
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মহাযানী বৌদ্ধ
  2. বজ্রযানী বৌদ্ধ
  3. বাউল
  4. সহজযানী বৌদ্ধ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সঠিক উত্তর: সহজযানী বৌদ্ধ

ব্যাখ্যা: চর্যাপদের কবিরা ছিলেন মূলত সহজযানী বৌদ্ধ সাধক। তারা সাধন ভজনের মাধ্যমে নির্বাণ লাভের পথ খুঁজতেন। চর্যাপদ হলো তাঁদের সাধন-সংগীত। পণ্ডিতদের মতে, বৌদ্ধ ধর্মের মহাযান শাখা থেকে বজ্রযান এবং পরে সহজযান মতবাদের উদ্ভব হয়, যাদের দর্শন চর্যাপদে বিধৃত।

ব্যাখ্যা

চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
এর রচয়িতারা ছিলেন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ, যারা সহজীয়া বৌদ্ধ ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।
88
০২. ‘শূন্যপুরাণ’ রচয়িতা—
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রামাই পণ্ডিত
  2. হলায়ুধ মিশ্র
  3. কানুপা
  4. কুক্কুরীপা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সঠিক উত্তর: রামাই পণ্ডিত

ব্যাখ্যা: ‘শূন্যপুরাণ’ হলো ধর্মঠাকুরের পূজা পদ্ধতি ও মাহাত্ম্যসূচক একটি চম্পকাব্য। এর রচয়িতা রামাই পণ্ডিত। এই গ্রন্থে বৌদ্ধধর্ম ও লৌকিক ধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে। গ্রন্থটি গদ্য ও পদ্যের মিশ্রণে রচিত।

ব্যাখ্যা

শূন্যপুরাণ কোনো পুরাণ নয়, এটি শাস্ত্রগ্রন্থ।
রামাই পণ্ডিত ধর্মপূজার প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত।
89
০৩. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাঁকিল্যা গ্রাম কেন উল্লেখযোগ্য?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মস্থান
  2. বড়ু চণ্ডীদাসের জন্মস্থান
  3. চর্যাপদের প্রাপ্তিস্থান
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রাপ্তিস্থান

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সঠিক উত্তর: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রাপ্তিস্থান

ব্যাখ্যা: ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরের নিকটবর্তী কাঁকিল্যা গ্রামের এক ব্রাহ্মণের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের পুঁথি উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এটি প্রকাশিত হয়।

ব্যাখ্যা

কাঁকিল্যা গ্রাম পুঁথি আবিষ্কারের স্থান হিসেবে বিখ্যাত, রচয়িতার জন্মস্থান হিসেবে নয় (বড়ু চণ্ডীদাসের জন্মস্থান নানুর)।
90
০৪. ‘যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি\’— কবিতাংশটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নূরনামা
  2. নসিহতনামা
  3. মধুমালতী
  4. ইউসুফ-জুলেখা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সঠিক উত্তর: নূরনামা

ব্যাখ্যা: মধ্যযুগের অন্যতম কবি আব্দুল হাকিম রচিত বিখ্যাত কাব্য ‘নূরনামা’। এই কাব্যে তিনি মাতৃভাষার প্রতি গভীর মমতা এবং যারা বাংলা ভাষাকে ঘৃণা করে তাদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উল্লিখিত পঙক্তিগুলোর মাধ্যমে।

ব্যাখ্যা

কবি আব্দুল হাকিম সপ্তদশ শতকের কবি।
তাঁর বিখ্যাত উক্তি: 'যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী, সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।'
91
০৫. আলাওল কোন শতাব্দীর কবি?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পঞ্চদশন
  2. ষোড়শ
  3. সপ্তদশ
  4. অষ্টাদশ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সঠিক উত্তর: সপ্তদশ

ব্যাখ্যা: মহাকবি আলাওল মধ্যযুগের একজন শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর জন্ম আনুমানিক ১৬০৭ সালে এবং মৃত্যু ১৬৮০ সালে। সময়কাল বিবেচনায় তিনি সপ্তদশ শতাব্দীর কবি। তিনি আরাকান রাজসভার কবি ছিলেন।

ব্যাখ্যা

১৬০০-১৬৯৯ সাল পর্যন্ত সময়কালকে সপ্তদশ শতাব্দী বলা হয়।
আলাওলের সাহিত্যকর্ম এই সময়ের মধ্যেই রচিত।
92
০৬. কোন বাংলা গানকে ইউনেস্কো Heritage of Humanity অভিধায় ভূষিত করেছে?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রবীন্দ্রসংগীত
  2. নজরুলসংগীত
  3. ভাটিয়ালি গান
  4. বাউল গান

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সঠিক উত্তর: বাউল গান

ব্যাখ্যা: ইউনেস্কো (UNESCO) ২০০৫ সালে বাংলাদেশের বাউল গানকে 'Masterpiece of the Oral and Intangible Heritage of Humanity' (বিশ্বের মৌখিক এবং বিমূর্ত ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন) হিসেবে ঘোষণা করে। বাউল গান বাংলা লোকসাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।

ব্যাখ্যা

২০০৫ সালে ইউনেস্কো এই স্বীকৃতি দেয়।
লালন সাঁই বাউল গানের শ্রেষ্ঠ শিল্পী।
93
‘লুই ভণই গুরু পুছিঅ জান।’—এখানে ‘ভণই’ শব্দের অর্থ কী?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বলে
  2. ভাবে
  3. চায়
  4. দেখে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সঠিক উত্তর: বলে

‘লুই ভণই গুরু পুছিঅ জান’– পঙক্তিটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদের ১নং পদের অন্তর্গত ও লুইপা কর্তৃক রচিত। চর্যাপদের প্রথম বা আদি কবি হলেন লুইপা। তাকে সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্ত ‘আদি সিদ্ধাচার্য’ আখ্যা দিয়েছেন। পঙক্তিতে ব্যবহৃত শব্দার্থ হলো : ‘ভণই’ অর্থ বলে, ‘পুছিঅ’– জিজ্ঞাসা করে, ‘জান’– জানো। ‘লুই ভণই গুরু পুছিঅ জান’-এর অর্থ হলো– লুই বলেন, গুরুকে জিজ্ঞাসা করে জানো।

ব্যাখ্যা

চর্যাপদের ভাষায় 'ভণই' শব্দটি ক্রিয়াপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ 'বলে' বা 'বর্ণনা করে'।
94
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের অংশ নয় কোনটি?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নৌকা খণ্ড
  2. হার খণ্ড
  3. রাধা বিরহ
  4. প্রণয় খণ্ড

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সঠিক উত্তর: প্রণয় খণ্ড

‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের অংশ নয় প্রণয় খণ্ড। বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হলো শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রাম থেকে এ পুঁথি আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা প্রধান এ কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। যেমন— জন্ম খণ্ড, তাম্বুলখণ্ড, দানখণ্ড, নৌকাখণ্ড, ভারখণ্ড, ছত্রখণ্ড, বৃন্দাবনখণ্ড, কালিয়দমনখণ্ড, যমুনাখণ্ড, হারখণ্ড, বাণখণ্ড, বংশীখণ্ড, রাধা বিরহ। অর্থাৎ প্রণয়খণ্ড নামে কোনো অংশ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে নেই।

ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের মোট খণ্ড সংখ্যা ১৩টি। 'প্রণয় খণ্ড' নামে কোনো খণ্ড এতে নেই।
95
“এমন পিরিতি কভু নাহি দেখি শুনি।/পরানে পরান বান্ধা আপনা আপনি”— কার লেখা?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডীদাস
  3. জ্ঞানদাস
  4. গোবিন্দদাস

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সঠিক উত্তর: চণ্ডীদাস

আলোচ্য পদটি মধ্যযুগের আদি কবি বড়ু চণ্ডীদাস বা চণ্ডীদাস রচিত। পদটি বৈষ্ণব পদাবলির অন্তর্গত। তবে চণ্ডীদাস নামীয় একাধিক কবির অস্তিত্ব নিয়ে সমস্যা রয়েছে, যা 'চণ্ডীদাস সমস্যা' নামে পরিচিত। এই পদটি সাধারণত দ্বিজ চণ্ডীদাসের নামে প্রচলিত। চণ্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তি: 'সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই'।

ব্যাখ্যা

এটি চণ্ডীদাসের একটি বিখ্যাত পদ, যেখানে রাধা ও কৃষ্ণের গভীর প্রেমের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
96

কোন মঙ্গলকাব্যে ঐতিহাসিক চরিত্র আছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সঠিক উত্তর: অন্নদামঙ্গল

ব্যাখ্যা: ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যে ঐতিহাসিক চরিত্র রয়েছে। ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য তিনটি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, বিদ্যাসুন্দর বা কালিকামঙ্গল, মানসিংহ-ভবানন্দ উপাখ্যান। এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী। ঐতিহাসিকভাবে মানসিংহ ছিলেন মোগল সম্রাট আকবরের সেনাপতি এবং ভবানন্দ মজুমদার বর্ধমানের ঐতিহাসিক জমিদার পরিবারের সাথে যুক্ত একটি চরিত্র, যার কাল্পনিক ভিত্তি থাকলেও ভিত্তিটা ঐতিহাসিক।

ব্যাখ্যা

অন্যান্য মঙ্গলকাব্য মূলত দেবদেবীর মাহাত্ম্য প্রচারের জন্য রচিত হলেও ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গলে সমসাময়িক ইতিহাস ও ঐতিহাসিক চরিত্র (যেমন মানসিংহ) স্থান পেয়েছে।
97

কোন কাব্যে আলাওল ব্যক্তিগত জীবনের কথা লিখেছেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পদ্মাবতী
  2. হপ্তপয়কর
  3. সিকান্দরনামা
  4. তোহফা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সঠিক উত্তর: পদ্মাবতী

ব্যাখ্যা: ‘পদ্মাবতী’ কাব্যে আলাওল ব্যক্তিগত জীবনের কথা লিখেছেন। এ কাব্যের প্রথম ভাগে, আলাওল তার পরিচয়, দুঃখগাথা, আরাকানে আগমন, হার্মাদের (পর্তুগিজ জলদস্যু) সাথে যুদ্ধ এবং বার্মায় রাজরক্ষী হিসেবে জীবনযাপনের বর্ণনা পাওয়া যায়। পদ্মাবতী কাব্যের প্রস্তাবনা ও অন্যান্য অংশে ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ আছে। উল্লেখ্য, ‘হপ্তপয়কর’ কাব্যে কবির ব্যক্তিগত জীবনের সরাসরি বর্ণনা পাওয়া যায় না। ‘সিকান্দরনামা’ কাব্যে আরাকান রাজসভায় কবি হিসেবে তার জীবন ও পৃষ্ঠপোষকদের কথা উল্লেখ করেছেন। ‘তোহফা’ কাব্যটি কবির ধর্মীয় ও সামাজিক নৈতিকতা বিষয়ক কাব্য। এ কাব্যে আলাওল জীবন ও অভিজ্ঞতায় নিজ জীবনের দুর্দশা, যুদ্ধবন্দী হওয়া ও বিভিন্ন আশ্রয়দাতার অধীন সময়কে ধারণ করেছেন। এ প্রশ্নে একাধিক উত্তরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তবে ‘পদ্মাবতী’ সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য।

ব্যাখ্যা

আলাওলের আত্মজীবনীমূলক তথ্য তার প্রায় সব কাব্যের ভণিতা বা প্রস্তাবনায় কমবেশি আছে।
তবে ‘পদ্মাবতী’ তার শ্রেষ্ঠ রচনা এবং এতে তার জীবনের বিস্তারিত বর্ণনা (জলদস্যু কর্তৃক আক্রান্ত হওয়া, রোসাং এ আসা) পাওয়া যায়।
98
'ইউসুফ-জোলেখা'র কবি শাহ মুহম্মদ সগীরর জন্ম কোথায়?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বগুড়া
  2. সিলেট
  3. নদীয়া
  4. চট্টগ্রাম

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

'ইউসুফ-জোলেখা'র কবি শাহ মুহম্মদ সগীর চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আনুমানিক ১৪-১৫ শতকের কবি এবং বাঙালি মুসলিম কবিদের মধ্যে তিনিই প্রাচীনতম। গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের পৃষ্ঠপোষকতায় কবি ইউসুফ-জোলেখা কাব্য রচনা করেন।

ব্যাখ্যা

শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের অন্যতম আদি কবি।
তার কাব্যে ধর্মীয় প্রেক্ষাপট প্রাধান্য পেলেও তা হয়ে উঠেছে মানবিক প্রেমোপাখ্যান।
99
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের প্রথম খণ্ডের নাম কী?
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জন্মখণ্ড
  2. তাম্বুলখণ্ড
  3. দানখণ্ড
  4. রাধাবিরহ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রথম খণ্ডের নাম 'জন্মখণ্ড'। বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যটি প্রকাশিত হয়। বড়ু চণ্ডীদাস রচিত এ কাব্যে ১৩টি খণ্ড বিদ্যমান।

ব্যাখ্যা

খণ্ডগুলো হলো: জন্মখণ্ড, তাম্বুলখণ্ড, দানখণ্ড, নৌকাখণ্ড, ভারখণ্ড, ছত্রখণ্ড, বৃন্দাবনখণ্ড, কালিয়দমনখণ্ড, যমুনাখণ্ড, হারখণ্ড, বাণখণ্ড, বংশীখণ্ড, রাধাবিরহ।
100
চর্যাপদের খণ্ডিত পদগুলো তিব্বতি থেকে বাংলায় রূপান্তর করেন—
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. রাজেন্দ্রলাল মিত্র
  4. সুকুমার সেন

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সঠিক উত্তর: (ঘ) সুকুমার সেন

অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থানুসারে, চর্যাপদের খণ্ডিত পদগুলোর (২৩, ২৪, ২৫, ৪৮) তিব্বতি অনুবাদ থেকে প্রাচীন বাংলায় রূপান্তর করেছেন সুকুমার সেন

বিস্তারিত:

  • ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী ১৯৩৮ সালে চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশ করেন।
  • সেই অনুবাদ অনুসারে এই চর্যাগুলোর মূল কী ছিল তা অনুমান করে একটি পাঠ পরিকল্পনা দিয়েছিলেন ড. সুকুমার সেন।
  • সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় চর্যাপদের ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণায় এর ভাষাগত ও সাহিত্যিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।
  • ব্যাখ্যা

    চর্যাপদের মূল পাণ্ডুলিপিতে কিছু পদ ছেঁড়া বা খণ্ডিত ছিল (যেমন ২৩, ২৪, ২৫ ও ৪৮ নং পদ)। এই পদগুলোর বিষয়বস্তু তিব্বতি অনুবাদের সহায়তায় ড. সুকুমার সেন পুনরুদ্ধার বা রূপান্তর করেন।
    101
    আহমদ শরীফের মতে মধ্যযুগে চণ্ডীদাস নামে কতজন কবি ছিলেন?
    বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

    সঠিক উত্তর: খ

    সমাধান

    সঠিক উত্তর: (খ) ৩

    ড. আহমদ শরীফের মতে (বাঙালী ও বাংলা সাহিত্য গ্রন্থে) মধ্যযুগে চণ্ডীদাস নামে ৩ জন কবি ছিলেন। যথা:

    1. অনন্ত বড়ু চণ্ডীদাস: সর্বপ্রাচীন।
    2. চণ্ডীদাস: চৈতন্য পূর্বকাল বা জ্যেষ্ঠ সমসাময়িক।
    3. দীন চণ্ডীদাস: আঠারো শতকের শেষার্ধের কবি।
    4. ব্যাখ্যা

      চণ্ডীদাস সমস্যা বাংলা সাহিত্যের একটি বিখ্যাত বিতর্ক। একাধিক কবি 'চণ্ডীদাস' ভণিতায় পদ রচনা করায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। ড. আহমদ শরীফ ৩ জন চণ্ডীদাসের অস্তিত্ব স্বীকার করেছেন।

      এই অধ্যায়ের প্রশ্ন টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করুন

      এই পেজে বাছাইকৃত ১০১টি প্রশ্ন সমাধানসহ দেওয়া হয়েছে। প্র্যাকটিস মোডে এক-একটি করে উত্তর দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল, স্কোর ও অগ্রগতি ট্র্যাক করুন।

      বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-এর অন্যান্য অধ্যায়

      কেন BCS Preliminary-এর জন্য “প্রাচীন ও মধ্যযুগ” অধ্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ?

      BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষার বাংলা ভাষা ও সাহিত্য অংশে “প্রাচীন ও মধ্যযুগ” থেকে প্রায় প্রতিবারই প্রশ্ন আসে। বিগত সালের প্রশ্নের ধরন বুঝে নিয়মিত অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ের নম্বর নিশ্চিত করা সহজ হয় — এই পেজের বাছাইকৃত প্রশ্নগুলো ঠিক সেই প্রস্তুতির জন্যই সাজানো।

      সচরাচর জিজ্ঞাসা

      "প্রাচীন ও মধ্যযুগ" অধ্যায় থেকে কেমন প্রশ্ন আসে?

      BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ের "প্রাচীন ও মধ্যযুগ" অধ্যায় থেকে নিয়মিত MCQ আসে। এই পেজে বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক জায়গায় দেওয়া হয়েছে — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ।

      উত্তর ও সমাধান কি বিনামূল্যে?

      হ্যাঁ। প্রশ্ন, অপশন, সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যা — সবই লগইন ছাড়াই বিনামূল্যে দেখা যায়। টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করতে চাইলে একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট দিয়ে প্র্যাকটিস মোডে যান।