সমাধান
সমাধান
💼
বাংলাদেশ বিষয়াবলি

বাংলাদেশের ইতিহাস

BCS Preliminary · বাংলাদেশ বিষয়াবলি — বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক পেজে।

নিচে BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষার বাংলাদেশ বিষয়াবলি বিষয়ের "বাংলাদেশের ইতিহাস" অধ্যায়ের বাছাইকৃত ১৫০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ। সবই বিনামূল্যে।

1

‘আমি যখন জেলে যাই তখন ওর বয়স মাত্র কয়েক মাস’– এখানে ‘ওর’ বলতে শেখ মুজিবুর রহমান কাকে বুঝিয়েছেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শেখ নাসেরকে
  2. শেখ কামালকে
  3. শেখ হাসিনাকে
  4. শেখ রেহানাকে

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘আমি যখন জেলে যাই তখন ওর বয়স মাত্র কয়েক মাস’– এখানে ‘ওর’ বলতে শেখ মুজিবুর রহমান শেখ কামালকে বুঝিয়েছেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: শেখ কামালকে
এই বিখ্যাত উক্তিটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী'-তে উল্লেখ করেছেন।
শেখ কামাল জন্মগ্রহণ করেন ৫ আগস্ট, ১৯৪৯ সালে। বঙ্গবন্ধু ১৯৪৯ সালের শেষের দিকে বা ১৯৫০ সালের প্রথম দিকে একটি দীর্ঘ সময়ের জন্য কারারুদ্ধ হন। সেই সময় শেখ কামাল-এর বয়স ছিল মাত্র কয়েক মাস। বঙ্গবন্ধু এই উক্তি দ্বারা সেই সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ শেখ হাসিনা (জন্ম: ১৯৪৮) তখন শিশু হলেও তাঁর বয়স কয়েক মাসের বেশি ছিল। শেখ রেহানা (জন্ম: ১৯৫৭) এবং শেখ নাসের (বঙ্গবন্ধুর ভাই) এই সময়ের সাথে সম্পর্কিত নন।
2

‘ভারত ছাড়’ আন্দোলন শুরু হয় -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৯১৭ সালে

  2. ১৯২৭ সালে
  3. ১৯৩৭ সালে
  4. ১৯৪২ সালে

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

১৯৪২ সালে মহাত্মা গান্ধীর মাধ্যমে ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনের যাত্রা শুরু হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৯৪২ সালে। ব্রিটিশদের ভারত থেকে বিতাড়িত করার লক্ষ্যে মহাত্মা গান্ধী এই আন্দোলন শুরু করেন।
ভারত ছাড় আন্দোলন (Quit India Movement) শুরু হয়েছিল ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট। এটি ছিল ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের শেষ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গণ-অভ্যুত্থান।
এই আন্দোলনের সময় ব্রিটিশ সরকার দ্রুত সব শীর্ষ নেতাকে (যেমন গান্ধীজি, নেহরু) গ্রেফতার করে, ফলে আন্দোলনটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যান্য তারিখগুলো ভুল, কারণ ১৯১৭ সালে গান্ধীজি চম্পারণ সত্যাগ্রহ শুরু করেন এবং ১৯২৭ সালের মূল ঘটনা ছিল সাইমন কমিশন ঘোষণা।
3

‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি’ গঠিত হয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৫০ সালে
  3. ১৯৫২ সালে
  4. ১৯৫৪ সালে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

১ম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ১ অক্টোবর, ১৯৪৭। ২য় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ২ মার্চ, ১৯৪৮। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ১৯৫২ সালে
তবে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি’ দুইবার গঠিত হয়। প্রশ্নে মূলত আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্বের কমিটিকেই নির্দেশ করা হয়।
১৯৫২ সালের ২৭শে জানুয়ারি পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ঢাকায় এক জনসভায় ঘোষণা করেন, উর্দু হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এই ঘোষণার প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ ফুঁসে ওঠে।
এর ফলস্বরূপ, ১৯৫২ সালের ৩০শে জানুয়ারি ঢাকার বার লাইব্রেরি হলে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সর্বদলীয় সভায় নতুন করে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি’ পুনর্গঠিত হয়।
এই কমিটিই মূলত ৪ ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভ এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট ও রাষ্ট্রভাষা দিবস পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করে, যা ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ প্রদান করে।
4

ঐতিহাসিক ‘ছয়-দফা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৫ ফ্রেব্রুয়ারি ১৯৬৬
  2. ২৩ মার্চ ১৯৬৬
  3. ২৬ মার্চ ১৯৬৬
  4. ৩১ মার্চ ১৯৬৬

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর ৫-৬ ফ্রেব্রুয়ারি ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণা করেন। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা ঘোষণা করেন ২৩ মার্চ ১৯৬৬ সালে।

ব্যাখ্যা

ঐতিহাসিক ছয় দফার দাবি প্রথম উত্থাপন করা হয় **১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি** (অপশন ক) পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে। এই তারিখে বঙ্গবন্ধু ছয় দফার খসড়া পেশ করেন।
তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই ৬ দফাকে পুস্তিকা আকারে 'আমাদের বাঁচার দাবি ছয় দফা' শিরোনামে জাতির সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা ও প্রকাশ করেন **১৯৬৬ সালের ২৩ মার্চ**।
পরীক্ষায় যখন 'আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা' জানতে চাওয়া হয়, তখন সঠিক উত্তর হয় **২৩ মার্চ ১৯৬৬**।
৫ ফ্রেব্রুয়ারি ১৯৬৬: এটি প্রস্তাব পেশের তারিখ।
২৩ মার্চ ১৯৬৬: এটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও পুস্তিকা প্রকাশের তারিখ।
5

‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠকালীন সাধারণ সম্পাদক -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শেখ মুজিবুর রহমান

  2. শামছুল হক
  3. আতাউর রহমান খান
  4. আবুল হাশিম

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় ২৩ জুন ১৯৪৯ সালে। সভাপতি- মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক- শামসুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- শেখ মুজিবুর রহমান।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: শামছুল হক
পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় ২৩ জুন, ১৯৪৯ সালে ঢাকার রোজ গার্ডেনে
প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটিতে শামছুল হক-কে প্রথম সাধারণ সম্পাদক (General Secretary) নির্বাচিত করা হয়।
এই দলের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি (President) ছিলেন: মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির অন্যতম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (Joint Secretary), সাধারণ সম্পাদক নন। পরবর্তীতে তিনি সাধারণ সম্পাদক হন।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
6

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহর কোন সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ২ (দুই) নম্বর
  2. ৩ (তিন) নম্বর
  3. ৫ (পাঁচ) নম্বর
  4. ৪ (চার) নম্বর

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরে ছিল- নোয়াখালী, কুমিল্লা জেলার আখাউড়া, ঢাকা, ফরিদপুরের অংশ বিশেষ সেক্টর কমান্ডার ছিলেন- মেজর খালেদ মোশাররফ ও এ. টি. এম. হায়দার।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ২ (দুই) নম্বর সেক্টর
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহর এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল, কুমিল্লা ও নোয়াখালী জেলার অধিকাংশ এলাকা ২ (দুই) নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে ১৯৭১ সালের ১১টি সেক্টর এবং একটি বিশেষ এলাকা (১০ নং সেক্টর) গঠন করা হয়েছিল। ঢাকা শহর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এটি ২ নং সেক্টরের প্রধান অপারেশনাল এলাকা ছিল।
এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ (এস ফোর্স কমান্ডার হিসেবে), যিনি আহত হওয়ার পর মেজর এ টি এম হায়দার দায়িত্ব নেন। এই সেক্টরের অধীনেই ঢাকার বিখ্যাত ‘ক্র্যাক প্লাটুন’ গেরিলা আক্রমণ পরিচালনা করত।
7

ইসলাম ও সুফিমতের প্রভাবে ভারতবর্ষে ঘটেছিল-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বর্ণবাদদের পুনরুত্থান
  2. রাষ্ট্রবিপ্লব
  3. চিন্তাবিপ্লব
  4. অভিবাসন বিপ্লব

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

এগার শতাব্দীতে ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের আবির্ভাবের ফলে এ উপমহাদেশে মানুষের মধ্যে চিন্তাশক্তির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে সুফি-মাশায়েখগণের ইসলাম প্রচারের ফলে নিম্নবর্গের হিন্দুসহ অন্যান্য ধর্মের মানুষের মধ্যে চিন্তশক্তির বিপ্লব ঘটে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: চিন্তাবিপ্লব
ভারতবর্ষে ইসলামের আগমন ঘটেছিল প্রধানত দুইজন ধারকের মাধ্যমে: প্রথমত, শাসক ও সৈনিক এবং দ্বিতীয়ত, সুফি সাধক ও দরবেশদের মাধ্যমে। এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে সুফি সাধকদের প্রভাবই মুখ্য।
সুফিমত (Mysticism) মূলত সাম্য, মানবতাবাদ ও একত্ববাদের ওপর জোর দেয়। এর আগে ভারতীয় সমাজে বর্ণপ্রথা ও কঠোর আচার-অনুষ্ঠান প্রচলিত ছিল।
সুফিবাদ যখন সমাজের সাধারণ মানুষের মধ্যে এর মানবিক দর্শন প্রচার করে, তখন তা সনাতন ধর্মের কঠোরতা ও বর্ণপ্রথাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে। এর ফলে সমাজে এক গভীর ধর্মীয় ও দার্শনিক পরিবর্তন আসে, যা চিন্তাবিপ্লব নামে পরিচিত।
এতে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সহাবস্থান এবং নতুন সাহিত্য, শিল্প ও স্থাপত্যের জন্ম হয় (যেমন: ভক্তিবাদ)।
8

বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদের নাম কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পুণ্ড্র
  2. তাম্রলিপি
  3. গৌড়
  4. হরিকেল

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক থেকে পুণ্ড্রই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ জনপদ। পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রনগর যা বর্তমানে মহাস্থানগড় নামে পরিচিত, এটি বর্তমানে বাংলাদেশের বগুড়ায় অবস্থিত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পুণ্ড্র
বাংলার ইতিহাস অনুযায়ী, পুণ্ড্র হলো সর্বপ্রাচীন জনপদ। এটি মূলত বাংলার উত্তর অংশে (বর্তমানে রাজশাহী ও বগুড়া অঞ্চল) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
পুণ্ড্র জনপদটি মৌর্য শাসনামলের পূর্ব থেকেই বিদ্যমান ছিল। এর অস্তিত্ব খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকেও পাওয়া যায়। এই জনপদের রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর, যা বর্তমানে বগুড়ার মহাস্থানগড় নামে পরিচিত।
ঐতিহাসিকদের মতে, প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্য 'ঐতরেয় আরণ্যক'-এ পুণ্ড্রদের নাম উল্লেখ রয়েছে, যা এর প্রাচীনত্ব প্রমাণ করে।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, গৌড় জনপদ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি পুণ্ড্রের তুলনায় অনেক পরে আবির্ভূত হয়। তাম্রলিপি ছিল গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও জনপদ, আর হরিকেল ছিল পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, যা পুণ্ড্রের অনেক পরে গঠিত হয়।
9

বাংলাদেশের বৃহত্তর ঢাকা জেলা প্রাচীনকালে কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সমতট
  2. পুণ্ড্র
  3. বঙ্গ
  4. হরিকেল

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বঙ্গ
প্রাচীনকালে বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলটি বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। বঙ্গ জনপদটি মূলত বর্তমান বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল (যেমন: ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ/বিক্রমপুর, ফরিদপুর) এবং দক্ষিণ-পূর্বাংশের কিছু অংশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল।
বঙ্গ জনপদেরই একটি অংশ ছিল বিক্রমপুর, যা প্রাচীন বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল। বর্তমান বৃহত্তর ঢাকা জেলা এই বিক্রমপুরের পার্শ্ববর্তী হওয়ায় এটি বঙ্গ জনপদের অংশ।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত: পুণ্ড্র ছিল উত্তরবঙ্গ বা বরেন্দ্র অঞ্চলে (যেমন বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী)। সমতট ছিল দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে (যেমন কুমিল্লা, নোয়াখালী)। আর হরিকেল ছিল পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে (যেমন সিলেট ও চট্টগ্রাম)।
10

কোন শাসকদের আমলে বাংলাভাষী অঞ্চল ‘বাঙ্গালা’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মৌর্য
  2. গুপ্ত
  3. পাল
  4. মুসলিম

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

স্বাধীন সুলতানি শাসন ১৩৩৮–১৫৩৮ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এই সময় বাঙলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল। শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ সালে পুরো বাংলা অধিকার করেন। তার সময় থেকেই ‘বাঙ্গালা’ নামটি শুরু হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মুসলিম শাসকরা। মধ্যযুগে সুলতানি আমলের শাসকগণ বাংলাভাষী অঞ্চলকে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে একত্রিত করে 'বাঙ্গালাহ' (Bangalah) বা 'বাঙ্গালা' নামে পরিচিত করে তোলেন।
বিশেষভাবে, ১৩৪২ সালে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ স্বাধীন সুলতানি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিই বাংলার বিভিন্ন জনপদ (যেমন: গৌড়, বঙ্গ, রাঢ়, সমতট) একত্রিত করে নিজেকে ‘শাহ-ই-বাঙ্গালাহ’ (Shah-i-Bangalah) উপাধি দেন। তাঁর আমলেই এই অঞ্চলের একটি একক ভৌগোলিক নাম হিসেবে 'বাঙ্গালা' নামটি স্থায়ী পরিচয় লাভ করে।
মৌর্য, গুপ্ত বা পাল আমলে বাংলা ছোট ছোট জনপদ, যেমন: পুন্ড্র, গৌড়, বঙ্গ, সমতট ইত্যাদি নামে বিভক্ত ছিল। তখন 'বাঙ্গালা' নামে কোনো একক অঞ্চলের অস্তিত্ব ছিল না।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
11

বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব কে ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শশাঙ্ক
  2. মুর্শিদ কুলি খান
  3. সিরাজউদ্দৌল্লা
  4. আব্বাস আলী খান

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

মুঘল সম্রাট কর্তৃক নিযুক্ত বাংলার শেষ সুবেদার ছিলেন মুর্শিদ কুলী খান। পরবর্তীতে তিনি বাংলার সুবেদার নিযুক্ত হন ১৭১৭ সালে। তাঁর উপাধি ছিল জাফর খান। তিনিই বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব। শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা। সিরাজউদ্দৌল্লা ছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মুর্শিদ কুলি খান
মুর্শিদ কুলি খান মূলত মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব কর্তৃক বাংলার দিওয়ান (রাজস্ব আদায়কারী) হিসেবে নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে ১৭১৭ সালে তিনি বাংলার সুবাদার বা নবাব হিসেবেও দায়িত্ব পান।
মুঘল সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় দুর্বলতার সুযোগে তিনি কার্যত বাংলার ক্ষমতা স্বাধীনভাবে পরিচালনা করতে শুরু করেন, যদিও তিনি নামে মুঘল সম্রাটের অনুগত ছিলেন। রাজস্ব দিল্লিতে পাঠানো প্রায় বন্ধ করে দেন এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
এ কারণে তাকেই বাংলার প্রথম স্বাধীন/স্বতন্ত্র নবাব বলা হয়। তিনি তার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
অন্যান্য অপশন প্রসঙ্গে: শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার প্রাচীন যুগের শাসক (গৌড়ের রাজা, নবাব নন)। সিরাজউদ্দৌল্লা ছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব (পলাশীর যুদ্ধ)।
12

চীনদেশের কোন ভ্রমণকারী গুপ্তযুগে বাংলাদেশে আগমন করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হিউয়েন সাং
  2. ফা হিয়েন
  3. আই সিং
  4. এঁদের সকলেই

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ফা-হিয়েন পাঁচ শতকের সূচনায় তিনি ভারত ভ্রমণ করেন। এ সময় বাংলায় গুপ্ত যুগের শাসনামল ছিল। হিউয়েন-সাং ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দের দিকে বাংলায় আসেন। সে সময় উত্তর ভারতে হর্ষবর্ধন, বাংলায় শশাঙ্ক এবং আসামে ভাস্করবর্মণ শাসন করেছিলেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ফা হিয়েন (Fa Hien)
ফা হিয়েন চীনা বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ও পরিব্রাজক ছিলেন। তিনি পঞ্চম শতকের শুরুতে (আনুমানিক ৩৯৯-৪১৪ খ্রিষ্টাব্দ) ভারতে আসেন। এটিই ছিল প্রাচীন ভারতে গুপ্ত সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগ।
ফা হিয়েন গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের (বিক্রমাদিত্য) রাজত্বকালে ভারত সফর করেন এবং প্রায় দুই বছর বাংলার প্রাচীন বন্দর তাম্রলিপ্তিতে (Tamralipti) অবস্থান করেন।
অন্যান্য বিকল্পের মধ্যে, হিউয়েন সাং (Hiuen Tsang) সপ্তম শতকে (পাল-পূর্ববর্তী/শশাঙ্ক আমলে) এবং আই সিং (I-Tsing) সপ্তম শতকের শেষদিকে বাংলায় আসেন। তাই তাঁরা গুপ্তযুগে বাংলাদেশে আসেননি।
13

বঙ্গভঙ্গের কারণে কোন নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হয়েছিল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পূর্ববঙ্গ ও বিহার
  2. পূর্ববঙ্গ ও আসাম
  3. পূর্ববঙ্গ ও উড়িষ্যা
  4. পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্রিটিশ সরকারের শাসন করার নীতি ছিল ‘বিভেদ ও শাসন নীতি’ (Divide and Rule Policy)। এই নীতির ফলশ্রুতিতে লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে ১৬ অক্টোবর বাংলা প্রদেশকে ভাগ করে দুটি প্রদেশ গঠন করে ইতিহাসে যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত। বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে দুটি নতুন প্রদেশের সৃষ্টি হয়।

ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করা হয় ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর
তৎকালীন বড়লাট লর্ড কার্জন প্রশাসনিক সুবিধার জন্য এই বিশাল প্রদেশটিকে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেন।
বঙ্গভঙ্গের ফলে বাংলা প্রদেশকে দুটি প্রধান প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়:
১. পূর্ববঙ্গ ও আসাম (East Bengal and Assam): এই নতুন প্রদেশটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী বিভাগ এবং আসাম প্রদেশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল। এর রাজধানী ছিল ঢাকা
২. পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal): এটি পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত ছিল। এর রাজধানী ছিল কলকাতা
যেহেতু প্রশ্নটি বঙ্গভঙ্গের কারণে সৃষ্ট নতুন প্রদেশটি জানতে চেয়েছে, তাই সঠিক উত্তরটি হলো: পূর্ববঙ্গ ও আসাম
14

‘তমদ্দুন মজলিশ’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হাজী শরিয়তউল্লাহ

  2. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  3. আবুল কাশেম
  4. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম। ভারত বিভাগের পরপরই ১৯৪৭ সালের ১লা সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম ঢাকায় তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠা করেন। [সূত্র: প্রফেসর মোজাম্মেল হক (পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র)]

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আবুল কাশেম
তমদ্দুন মজলিশ হলো ভাষা আন্দোলনের সূচনাপর্বে গঠিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।
এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম কর্তৃক ১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই সংগঠনটিই সর্বপ্রথম পাকিস্তান সৃষ্টির পর রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার জোরালো দাবি তোলে এবং ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠিত ধাপ হিসেবে কাজ করে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ: শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট গঠন ও লাহোর প্রস্তাবের জন্য বিখ্যাত; মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আওয়ামী মুসলিম লীগ ও ন্যাপ প্রতিষ্ঠার জন্য পরিচিত; এবং হাজী শরিয়তউল্লাহ ছিলেন ফরায়েজি আন্দোলনের নেতা।
15

বাঙালির মুক্তির সনদ ‘ছয় দফা’ কোন তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪
  2. ২২ মার্চ ১৯৫৮
  3. ২০ এপ্রিল ১৯৬২
  4. ২৩ মার্চ ১৯৬৬

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘৬ দফা দাবি’ পেশ করেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান বিরোধীদলীয় সম্মেলনে ৬ দফা পেশ করেন। ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করা হয় লাহোর প্রস্তাবের সাথে মিল রেখে। প্রতি বছর ৭ জুন বাংলাদেশে ‘৬ দফা দিবস’ পালন করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ২৩ মার্চ ১৯৬৬। এটি বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তারিখ।
ছয় দফা কর্মসূচির প্রণেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে প্রথম এই দাবিগুলো উত্থাপন করেন।
তবে ৬ দফার আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা, পুস্তিকা আকারে বিতরণ এবং প্রচার শুরু হয় ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ তারিখে। এই দিনে বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক পুস্তিকা ‘আমাদের বাঁচার দাবী: ৬ দফা কর্মসূচী’ প্রকাশ করেন, যা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
অন্যান্য অপশনসমূহ এই প্রেক্ষাপটে ভুল: ১৯৫৪ সালের তারিখটি যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের তারিখটি আইয়ুব খানের সামরিক শাসন জারির পরের ঘটনা।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
16

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ জাতির পিতা কবে এই ঘোষণা দেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ২৬ মার্চ ১৯৭১
  2. ৭ মার্চ ১৯৭১
  3. ৩ মার্চ ১৯৭১
  4. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

৭ মার্চ, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। সেই ভাষণেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ৭ মার্চ ১৯৭১
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) প্রায় ১০ লক্ষ জনতার সামনে এই ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন।
এই ভাষণে তিনি বাঙালির স্বাধীনতা ও মুক্তির ডাক দেন এবং সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেন। এই ভাষণটিকে কার্যত স্বাধীনতার ঘোষণা হিসেবেই বিবেচনা করা হয়, যদিও ২৬ মার্চ তিনি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
২৬ মার্চ ১৯৭১ তারিখটি হচ্ছে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণা দিবস এবং পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কর্তৃক 'অপারেশন সার্চলাইট' শুরু হওয়ার দিন।
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ তারিখটি হচ্ছে বিজয় দিবস, যেদিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।
17

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কতজন মুক্তিযোদ্ধাকে ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৭ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ১৭৫ জন
  4. ৪২৬ জন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত গেজেট অনুসারে ৬৭৬ জনকে চারটি ক্যাটাগরিতে মুক্তিযুদ্ধের খেতাব দেওয়া হয়। এদের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন, বীর উত্তম ৬৮ জন, বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং বীর প্রতীক ৪২৬ জন। সম্প্রতি ৬ জুন, ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর ফলে বর্তমানে বীর উত্তম হয় ৬৭ জন, বীর বিক্রম হয় ১৭৪ জন এবং বীর প্রতীক হয় ৪২৪ জন। বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৭৫ জন
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বের জন্য মোট ৪টি খেতাব প্রদান করা হয় এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব হলো ‘বীর বিক্রম’।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে এই চারটি খেতাবে ভূষিত করা হয়েছিল।
অন্যান্য অপশন কেন ভুল:
৭ জন: এটি সর্বোচ্চ খেতাব ‘বীর শ্রেষ্ঠ’ প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা।
৬৮ জন: এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব ‘বীর উত্তম’ প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা।
৪২৬ জন: এটি সর্বনিম্ন খেতাব ‘বীর প্রতীক’ প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা।
18

মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী কে ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তাজউদ্দিন আহমেদ
  2. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  3. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. এম মনসুর আলী

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: এ এইচ এম কামরুজ্জামান
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার, যা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত, সেখানে এ এইচ এম কামরুজ্জামান-কে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
এই সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল
অন্যান্য বিকল্পগুলি ভুল, কারণ:
তাজউদ্দিন আহমেদ ছিলেন প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।
সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন উপ-রাষ্ট্রপতিঅস্থায়ী রাষ্ট্রপতি
এম মনসুর আলী ছিলেন অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী
19

মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ (Concert for Bangladesh)’ কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নিউইয়র্ক
  2. বোস্টন
  3. লন্ডন
  4. ক্যানবেরা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

১৯৭১ সালের ১ আগস্ট নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে বাংলাদেশের শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ তহবিল সংগ্রহ এবং সচেতনতার উদ্দেশ্যে ভারতীয় সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর এবং তার বন্ধু বিটলস ব্যান্ড দলের লিড গিটারবাদক জর্জ হ্যারিসন ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এর আয়োজন করেন। এতে প্রায় ৪০ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিল। এ কনসার্ট হতে প্রায় আড়াই লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ হয়। উক্ত কনসার্টে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, জর্জ হ্যারিসন, বিলি প্রিস্টন, লিয়ন রাসেল, ব্যাড ফিঙ্গার এবং রিঙ্গো রকস্টার প্রমুখ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নিউইয়র্ক
মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালের ১লা আগস্ট ভারতের লক্ষ লক্ষ শরণার্থীর সাহায্যার্থে বিশ্বের ইতিহাসে সর্বপ্রথম বৃহৎ আকারে চ্যারিটি কনসার্ট হিসেবে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হয়।
এই কনসার্টটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
কনসার্টটির প্রধান উদ্যোগক্তা ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত বিটলস ব্যান্ডের সদস্য জর্জ হ্যারিসন (George Harrison) এবং ভারতীয় সেতার শিল্পী পণ্ডিত রবি শঙ্কর
অন্যান্য বিকল্প (বোস্টন, লন্ডন, ক্যানবেরা) ভুল, কারণ কনসার্টটি নির্দিষ্টভাবে নিউইয়র্ক শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
20

১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রমৃত্যুর প্রতিবাদে কোন উপাচার্য পদত্যাগ করেছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. স্যার এ.এফ. রহমান
  2. রমেশচন্দ্র মজুমদার
  3. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েন
  4. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী। তিনি ছাত্রমৃত্যুর প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছিলেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
তিনি ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ সালের মার্চ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (VC) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
২৫শে মার্চ, ১৯৭১ কালরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট'-এর নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসগুলোতে (বিশেষ করে জগন্নাথ হল) এবং শিক্ষক আবাসিক এলাকায় নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করলে, তার প্রতিবাদে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী পদত্যাগ করেন।
পদত্যাগ করার পর তিনি বিদেশে যান এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
উল্লেখ্য, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েন ২৫শে মার্চের পরে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করায় তাকে দালাল বা সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
21

ঐতিহাসিক ‘ছয়দফা দাবিতে’ যে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো
  2. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
  3. স্বতন্ত্র মুদ্রা ব্যবস্থা
  4. বিচার ব্যবস্থা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফার প্রস্তাবসমূহ- প্রস্তাব - ১ : শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি। প্রস্তাব - ২ : কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা। প্রস্তাব - ৩ : মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা। প্রস্তাব - ৪ : রাজস্ব, কর, বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা। প্রস্তাব - ৫ : বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা। প্রস্তাব - ৬ : আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বিচার ব্যবস্থা
ঐতিহাসিক ছয়দফা কর্মসূচি (Six Points Program) মূলত পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রণীত হয়েছিল। এর মূল ফোকাস ছিল ফেডারেল কাঠামোর মধ্যে কেন্দ্র ও প্রদেশের ক্ষমতার বিভাজন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং সামরিক ভারসাম্য নিশ্চিত করা।
ছয়দফার প্রথম দুটি দফার মধ্যেই শাসনতান্ত্রিক কাঠামো (যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা) এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা (কেবল প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র) নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তৃতীয় দফায় স্বতন্ত্র মুদ্রা ব্যবস্থার (অথবা সহজ বিনিময়যোগ্য অভিন্ন মুদ্রা) দাবি জানানো হয়েছিল।
কিন্তু বিচার ব্যবস্থা (বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা ইত্যাদি) সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট দাবি বা বিধান ছয়দফা কর্মসূচির ছয়টি দফার মধ্যে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
22

‘মাৎস্যন্যায়’ বাংলার কোন সময়কাল নির্দেশ করে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৫ম-৬ষ্ঠ শতক
  2. ৬ষ্ঠ-৭ম শতক
  3. ৭ম-৮ম শতক
  4. ৮ম-৯ম শতক

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় অরাজকতা, আত্মকলহ এবং বিদেশী আক্রমণ নেমে আসে। বাংলা বা বাঙ্গাল পুণ্ড্রবর্ধন, কর্ণসুবর্ণ, তাম্রলিপ্ত, সমতট ইত্যাদি অঞ্চলে ভাগ হয়ে যায়। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বণিকরা ক্ষমতা দখলে নেমে পড়ে। এ অরাজকতাপূর্ণ সময় (৭ম-৮ম শতক) বাংলার ইতিহাসকে মাৎস্যন্যায় (বড় মাছ ছোট মাছ খেয়ে ফেলার রূপক অরাজকতা) বলা হয়ে থাকে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ৭ম-৮ম শতক
‘মাৎস্যন্যায়’ বলতে বোঝায় প্রাচীন বাংলার এক দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক নৈরাজ্য ও অরাজকতার সময়কাল। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে বড় মাছ ছোট মাছকে গ্রাস করে—অর্থাৎ, শক্তিশালীরা দুর্বলদের শোষণ করে।
এই অরাজকতা সৃষ্টি হয় মূলত গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর (আনুমানিক ৬৩৭-৬৪১ খ্রিস্টাব্দ)। শশাঙ্কের মৃত্যুর পর থেকে পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের ক্ষমতা গ্রহণের আগ পর্যন্ত (আনুমানিক ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ) এই নৈরাজ্য প্রায় একশো বছর ধরে চলেছিল।
তাই, সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি সময়কালই (৬৫০ খ্রি. থেকে ৭৫০ খ্রি. পর্যন্ত) মাৎস্যন্যায় নামে পরিচিত। এই সময়কালকে নির্দেশ করে ৭ম-৮ম শতক
23

বাংলার কোন সুলতানের শাসনামলকে স্বর্ণযুগ বলা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ

  2. নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ
  3. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছিলেন বাংলার স্বাধীন সুলতানদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। এ সময় বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়। আলাউদ্দীন হোসেন শাহ তাঁর রাজধানী গৌড় হতে একডালাতে স্থানান্তর করেন। তাঁর শাসনকালে বঙ্গে জ্ঞান–বিজ্ঞান ও শিল্পকলার অভাবিত উন্নতি সাধিত হয়েছিল। এজন্য তার শাসনকালকে বঙ্গের মুসলমান শাসনের ইতিহাসে স্বর্ণযুগ বলা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
আলাউদ্দিন হোসেন শাহের (শাসনকাল: ১৪৯৪–১৫১৯ খ্রি.) শাসনামলকে বাংলার ইতিহাসে 'স্বর্ণযুগ' (Golden Age) বা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সময়কাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
কারণ, তাঁর সময়কালে রাজ্যে শান্তি ও সমৃদ্ধি বিরাজ করত। তিনি হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সবাইকে উচ্চ পদে নিয়োগ দেন এবং বিশেষ করে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
তাঁর নির্দেশে ও পৃষ্ঠপোষকতায় মালাধর বসু (শ্রীকৃষ্ণবিজয়), বিজয় গুপ্ত (মনসামঙ্গল) এবং বিপ্রদাস পিপিলাই (মনসাবিজয়) এর মতো কবিরা কাব্য রচনা করেন, যা বাংলার রেনেসাঁসের জন্ম দেয়।
24

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় কে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নওয়াব আবদুল লতিফ
  2. স্যার সৈয়দ আহমেদ
  3. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
  4. খাজা নাজিমুদ্দিন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন নওয়াব সলিমুল্লাহ। শিক্ষাই মুসলমানদের মুক্তির একমাত্র পথ- এ বিবেচনায় গভর্নমেন্ট সর্বান্তকরনে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নওয়াব সলিমুল্লাহ ভারত সচিবের কাছে সুপারিশ করেন। তদনুসারে ১৯১২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এক ইশতেহারে ভারত সরকার কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ ঘোষণা করা হয়। ১৯২১ সালের জুলাই মাসে যথারীতি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা আরম্ভ হয়। নওয়াব সলিমুল্লাহ তার স্বপ্নে দেখা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেখে যেতে পারেননি। তার অবদানকে স্মরণীয় করার উদ্দেশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এর প্রথম নির্মিত হলের নামকরণ করা হয় ‘সলিমুল্লাহ মুসলিম হল’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার পর পূর্ব বাংলার মুসলিম জনগোষ্ঠী চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়। এই ক্ষোভ প্রশমনের জন্য ব্রিটিশ সরকার ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (DU) প্রতিষ্ঠার জন্য স্থানীয় মুসলিম নেতাদের মধ্যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ। তাঁর নেতৃত্বেই ১৯১২ সালের জানুয়ারি মাসে লর্ড হার্ডিঞ্জের কাছে এ বিষয়ে জোর দাবি জানানো হয়।
যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগেই ১৯১৫ সালে নওয়াব সলিমুল্লাহ মারা যান, তবুও তাঁর প্রচেষ্টা এবং রাজনৈতিক চাপই এই প্রতিষ্ঠানকে বাস্তবের রূপ দিতে সাহায্য করেছিল। এজন্য তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্যোক্তা বা স্থপতি বলা হয়।
অন্যান্য অপশন ভুল কারণ: নওয়াব আবদুল লতিফস্যার সৈয়দ আহমেদ ছিলেন ১৯ শতকের শিক্ষা সংস্কারক, যারা আলিগড় আন্দোলন বা মোহামেডান লিটারারি সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
25

ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. খাজা নাজিম উদ্দীন
  2. নুরুল আমিন
  3. লিয়াকত আলী খান
  4. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিম উদ্দীন। ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি তিনি ঢাকায় এক জনসভায় ঘোষণা করেন, “উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খাজা নাজিম উদ্দীন
ভাষা আন্দোলনের মূল পর্ব, অর্থাৎ ২১শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের গুলিতে ছাত্ররা শহীদ হন, তখন খাজা নাজিম উদ্দীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তিনি ১৯৫১ সালের ১৭ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান নিহত হওয়ার পর এই পদে আসেন এবং ১৯৫৩ সালের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
উল্লেখযোগ্য যে, ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকায় পল্টনের জনসভায় তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন— "উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা", যা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মূল বিস্ফোরণের কারণ ছিল।
অন্যান্য অপশনসমূহ ভুল কারণ: লিয়াকত আলী খান ১৯৫১ সালে নিহত হন। নুরুল আমিন ছিলেন ঐ সময় পূর্ব বাংলার (পূর্ব পাকিস্তান) মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নন। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ছিলেন প্রথম গভর্নর জেনারেল এবং তিনি ১৯৪৮ সালেই মারা যান।
ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও মেডিকেলসহ ২৭+ ইউনিট-ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর এডমিশন সেকশনে।

ভর্তি প্রশ্নব্যাংক দেখুন
26

বাংলায় সেন বংশের (১০৭০-১২৩০ খ্রিষ্টাব্দ) শেষ শাসনকর্তা কে ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হেমন্ত সেন
  2. বল্লাল সেন
  3. লক্ষণ সেন
  4. কেশব সেন

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

লক্ষ্মণ সেনের মৃত্যুর পর তার প্রথম পুত্র বিশ্বরূপ সেন (১২০৬ - ১২২৫) রাজা হন। বিশ্বরূপ সেনের পর রাজা হন লক্ষ্মণ সেনের দ্বিতীয় পুত্র কেশব সেন(১২২৫-১২৩০)। কেশব সেনই ছিলেন সেন বংশের শেষ শাসনকর্তা। যদিও বিশ্বরূপের শাসনামলেই কেশব সেন বিক্রমপুর শাসন করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কেশব সেন
যদিও সেন বংশের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং শেষ দিকের শাসক ছিলেন লক্ষ্মণ সেন, কিন্তু তাঁর সময়কালেই (১২২৪ খ্রিষ্টাব্দ) তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি নদীয়া জয় করে সেনদের কেন্দ্রীয় শাসনের অবসান ঘটান।
নদীয়া দখলের পর লক্ষ্মণ সেন পূর্ববঙ্গে (বিক্রমপুর) পালিয়ে যান এবং সেখান থেকে শাসনকার্য চালান। লক্ষ্মণ সেনের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র বিশ্ব রূপ সেন এবং পরবর্তীতে কেশব সেন সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য পূর্ববঙ্গের সীমিত অঞ্চলে শাসন করেন।
সাধারণত কেশব সেনকে (আনুমানিক ১২২৫/১২৩০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত) সেন বংশের শেষ স্বীকৃত শাসক হিসেবে ধরা হয়, যদিও তাদের ক্ষমতা ততদিনে প্রায় বিলীন হয়ে গিয়েছিল। অপশনগুলোতে কেশব সেনের নাম থাকায়, তাঁকেই শেষ শাসনকর্তা হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে।
অপরদিকে, হেমন্ত সেন ছিলেন সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম (বিজয় সেনের পূর্বসূরী), বল্লাল সেন ছিলেন বংশের অন্যতম শক্তিশালী রাজা এবং লক্ষ্মণ সেন ছিলেন নদীয়ার পতনকালে ক্ষমতাচ্যুত রাজা।
27

বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদের নাম কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পুণ্ড্র
  2. তাম্রলিপ্তি
  3. গৌড়
  4. হরিকেল

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক থেকে পুণ্ড্রই ছিল সবচেয়ে প্রাচীন বাংলার সমৃদ্ধ জনপদ। খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে লিখিত বৈদিক সাহিত্য ও মহাভারতে পুণ্ড্র জাতির উল্লেখ আছে। ধারণা করা হয়, এ জাতিই পুণ্ড্র জনপদ গড়ে তুলেছিল। এ জনপদের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রনগর। সে সময়কার জনপদটি বর্তমানের বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলা জুড়ে বিস্তৃত ছিল। বৈয়াকরণিক পাণিনির গ্রন্থে সর্বপ্রথম গৌড় নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। হরিবোল ও তাম্রলিপ্ত খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতকের কাছাকাছি গড়ে ওঠা জনপদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পুণ্ড্র
প্রাচীন বাংলার সর্বাপেক্ষা প্রাচীন ও বৃহৎ জনপদের নাম ছিল পুণ্ড্র (Pundravardhana)।
এই জনপদটি উত্তরবঙ্গের বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা ও রংপুর নিয়ে গঠিত ছিল। এটিই ছিল প্রাচীন বাংলায় আর্য ও অনার্যদের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ মিলনকেন্দ্র।
এর রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর, যা বর্তমানে মহাস্থানগড় (বগুড়া) নামে পরিচিত। মহাস্থানগড়ে প্রাপ্ত শিলালিপি থেকে পুণ্ড্র জনপদের প্রাচীনত্ব প্রমাণিত হয়।
অন্যান্য জনপদ যেমন— তাম্রলিপ্তি (দক্ষিণ-পশ্চিমবঙ্গ) ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর, গৌড় (পশ্চিমবঙ্গ, মুর্শিদাবাদ) শক্তিশালী রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে আবির্ভূত হয় শশাঙ্কের সময়ে এবং হরিকেল জনপদটি ছিল দক্ষিণ-পূর্ববঙ্গে (কুমিল্লা-চট্টগ্রাম)। এরা পুণ্ড্রের চেয়ে অপেক্ষাকৃত নবীন।
28

কাগমারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রোজ গার্ডেনে
  2. সিরাজগঞ্জে
  3. সন্তোষে
  4. সুনামগঞ্জে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

আওয়ামী লীগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে ১৯৫৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় কাগমারী সম্মেলন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। প্রধান অতিথি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। সম্মেলনের প্রধান এজেন্ডা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন ও বৈদেশিক নীতি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সন্তোষে
ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে। এই সম্মেলনটি ছিল তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগের (পরে আওয়ামী লীগ) দ্বিতীয় কাউন্সিল অধিবেশন।
এটি ১৯৫৭ সালের ৬ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়।
এই সম্মেলনে প্রধান আকর্ষণ ছিলেন তৎকালীন সভাপতি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। এই সম্মেলনেই তিনি প্রথম পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের উদ্দেশে ঐতিহাসিক 'আসসালামু আলাইকুম' বা 'পশ্চিম পাকিস্তানকে বিদায়' স্লোগান দেন, যা পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার পথে প্রথম সুস্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল।
29

মুক্তিযুদ্ধকালে কোলকাতার ৮, থিয়েটার রোডে ‘বাংলাদেশ বাহিনী’ কখন গঠন করা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. এপ্রিল ১০, ১৯৭১
  2. এপ্রিল ১১, ১৯৭১
  3. এপ্রিল ১২, ১৯৭১
  4. এপ্রিল ১৩, ১৯৭১

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

৪ এপ্রিল বাংলাদেশ বাহিনী বেসরকারিভাবে গঠন হলেও এটি পুনর্গঠন করা হয় ১১ এপ্রিল ১৯৭১। ১২ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক ভাবে কার্যক্রম শুরু করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: এপ্রিল ১২, ১৯৭১
মহান মুক্তিযুদ্ধকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা এবং সামরিক কার্যক্রমকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে কোলকাতার ৮, থিয়েটার রোড-এ ‘বাংলাদেশ বাহিনী’ বা সামরিক কমান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হয় ১২ এপ্রিল, ১৯৭১ তারিখে।
এই দিনেই কর্নেল (পরবর্তীতে জেনারেল) এম. এ. জি. ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি (Chief of Staff) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এপ্রিল ১০, ১৯৭১ তারিখে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র (Proclamation of Independence) আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয় এবং এপ্রিল ১১, ১৯৭১ তারিখে তাজউদ্দীন আহমদ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন।
30

অবিভক্ত বাংলার সর্বপ্রথম রাজা কাকে বলা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অশোক
  2. শশাঙ্ক
  3. মেগদা
  4. ধর্মপাল

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

অবিভক্ত বাংলার সর্বপ্রথম রাজা অশোক তৃতীয় মৌর্য সম্রাট ছিলেন, যিনি পিতা বিন্দুসারের পর সিংহাসন লাভ করেন এবং ভারতবর্ষের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই সম্রাট দাক্ষিণাত্যের কিছু অংশ ব্যতীত ভারতবর্ষের অধিকাংশ অঞ্চল শাসন করেন। তাঁকে একজন সর্বভারতীয় সম্রাট বলা যায়। তিনি শুধু বর্তমান ভারত ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলো শাসনই করেননি বরং এসব অঞ্চলের সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছিলেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: শশাঙ্ক। যদিও অশোকের (Mauryan) অধীনে বাংলা শাসিত হয়েছিল, কিন্তু তিনি ছিলেন সাম্রাজ্যের অংশ। কিন্তু প্রশ্নে চাওয়া হয়েছে 'সর্বপ্রথম রাজা' (Independent King)।
শশাঙ্ক ছিলেন গুপ্ত যুগের পরবর্তীকালে অবিভক্ত বাংলার সর্বপ্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা। তিনি সপ্তম শতকের শুরুতে (খ্রিষ্টাব্দ ৬০০-৬৩৭) বঙ্গ ও মগধ অঞ্চলের বড় অংশ নিয়ে গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন এবং স্বাধীনভাবে শাসন করেন।
এর আগে বাংলা মৌর্য (অশোক) এবং গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রদেশ হিসেবে শাসিত হতো। তাই শশাঙ্ককে স্বাধীন বাংলার প্রথম প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
অন্যদিকে, ধর্মপাল ছিলেন পাল বংশের দ্বিতীয় শক্তিশালী শাসক, যিনি শশাঙ্কের অনেক পরে অষ্টম শতকে আবির্ভূত হন।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
31

বঙ্গভঙ্গ রদ কে ঘোষণা করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. লর্ড কার্জন
  2. রাজা পঞ্চম জর্জ
  3. লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন
  4. লর্ড ওয়াভেল

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হয়। বঙ্গভঙ্গ রদের সময় ব্রিটেনের রাজা ছিলেন ৫ম জর্জ এবং ভাইসরয় ছিলেন লর্ড হার্ডিঞ্জ। তিনি ১৯১২ সালে রাজধানী দিল্লীতে হস্তান্তর করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: রাজা পঞ্চম জর্জ
বঙ্গভঙ্গ (Partition of Bengal) কার্যকর হয়েছিল ১৯০৫ সালে। তীব্র আন্দোলন ও চাপের মুখে ব্রিটিশ সরকার এটি রদ করতে বাধ্য হয়।
বঙ্গভঙ্গ রদ (Annulment) ঘোষণা করা হয় ১৯১১ সালের ১২ই ডিসেম্বর। ভারতের তৎকালীন সম্রাট রাজা পঞ্চম জর্জ (King George V) দিল্লিতে আয়োজিত দিল্লি দরবার (Delhi Durbar) থেকে এই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি প্রদান করেন।
অন্যান্য অপশনসমূহ:
লর্ড কার্জন: ইনি ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করেন, রদ করেননি।
লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন: ইনি ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের সাথে যুক্ত ছিলেন, বঙ্গভঙ্গ রদের সাথে নন।
32

ঢাকা শহরের গোড়াপত্তন হয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ব্রিটিশ আমলে
  2. সুলতানি আমলে
  3. মুঘল আমলে
  4. স্বাধীন নবাবী আমলে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানী ছিলো সোনারগাঁও। মুঘল আমলের মধ্যেভাগে ঢাকা শহরের গোড়াপত্তন শুরু হয়। ১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবর বাংলা জয় করে এর নাম দেন সুবা বাংলা। এই সময় বাংলায় বারো ভূঁইয়াদের আগমন ঘটে। সম্রাট জাহাঙ্গীরের সেনাপতি সুবেদার ইসলাম খান চিশতি চূড়ান্ত ভাবে বারো ভূঁইয়াদের দমন করে ১৬১০ সালে ঢাকাকে বাংলার রাজধানী ঘোষণা করেন এবং এর নাম দেন জাহাঙ্গীরনগর। এর পরে ১৬৬০ সালে মীর জুমলা পুনরায় বাংলার রাজধানী করে ঢাকা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মুঘল আমলে
বর্তমানে আমরা ঢাকা শহরকে যে রূপে চিনি, তার গোড়াপত্তন এবং প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয় মুঘল আমলে
মুঘল সুবেদার ইসলাম খান চিশতি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর
যদিও সুলতানি আমল থেকেই ঢাকার অস্তিত্ব ছিল, তবে তা ছিল একটি প্রাদেশিক শহর। মুঘলদের হাতেই ঢাকা প্রথম প্রাদেশিক রাজধানী এবং প্রধান কেন্দ্র হিসেবে মর্যাদা লাভ করে।
33

পাকিস্তান কবে বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ফেব্রুয়ারি ২০, ১৯৭৪
  2. ফ্রেব্রুয়ারি ২১, ১৯৭৪
  3. ফেব্রুয়ারি ২২, ১৯৭৪
  4. ফেব্রুয়ারি ২৩, ১৯৭৪

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে কমনওয়েলথ অব নেশনস-এর সদস্যপদ গ্রহণ করে। একারণে (বাংলাদেশের স্বীকৃতি বিষয়ে) ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারী পাকিস্তান কমনওয়েলথের সদস্যপদ ত্যাগ করে। পরে অবশ্য, ১৯৭৫ সালে পাকিস্তান পুনরায় সদস্যপদ গ্রহণ করে। পাকিস্তান ১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ফেব্রুয়ারি ২২, ১৯৭৪
মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ তিন বছর পর, ১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
এই স্বীকৃতির প্রেক্ষাপট ছিল ১৯৭৪ সালের ২৩ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওআইসি (OIC - Organisation of Islamic Cooperation) সম্মেলন।
ওআইসি সম্মেলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর অংশগ্রহণের সুবিধার্থে এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সম্মেলনের ঠিক আগের দিন পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
এই সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন জুলফিকার আলী ভুট্টো
34

কে বীরশ্রেষ্ঠ নন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হামিদুর রহমান
  2. মোস্তফা কামাল
  3. মুন্সী আব্দুর রহিম
  4. নূর মোহাম্মদ শেখ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

মুক্তিযুদ্ধের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের নাম নিম্নরূপ- (ক) ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, (খ) সিপাহী হামিদুর রহমান, (গ) সিপাহী মোস্তফা কামাল, (ঘ) স্কোয়াড্রন ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন, (ঙ) ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান, (চ) ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ, (ছ) ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: মুন্সী আব্দুর রহিম
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার মোট ৭ জনকে সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ প্রদান করে।
অপশনে উল্লিখিত হামিদুর রহমান, মোস্তফা কামাল এবং নূর মোহাম্মদ শেখ—এই তিনজনই হলেন বীরশ্রেষ্ঠ।
আসলে, বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত শহীদ সৈনিকের নাম হলো মুন্সী আব্দুর রউফ। অপশনে 'রহিম' উল্লেখ থাকায়, মুন্সী আব্দুর রহিম বীরশ্রেষ্ঠ নন। এই নামটি বিভ্রান্ত করার জন্যই প্রায়শই ব্যবহার করা হয়।
35

কোন বীরশ্রেষ্ঠের দেহাবশেষ বাংলাদেশে এনে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সিপাহী মোস্তফা কামাল
  2. ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ
  3. ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
  4. সিপাহী হামিদুর রহমান

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আমসার হাতিমেরছড়া গ্রামে সমাধি ছিল। ১০ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে তাঁর দেহাবশেষ ত্রিপুরা হতে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং পরদিন ১১ই ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে ঢাকার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো সিপাহী হামিদুর রহমান
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য খেতাবপ্রাপ্ত সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে সিপাহী হামিদুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আমবাসা এলাকার একটি স্থানে শহীদ হন এবং সেখানেই সমাহিত হন।
দীর্ঘ ৩৬ বছর পর, ২০০৭ সালের ১০ ডিসেম্বর তাঁর দেহাবশেষ বাংলাদেশে আনা হয় এবং ২০০৭ সালের ১১ ডিসেম্বর ঢাকার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় পুনরায় সমাহিত করা হয়।
তাঁর কবরটি এই কবরস্থানে পূর্ব থেকেই সমাহিত আরেক বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের কবরের পাশেই অবস্থিত।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
36

ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লীতে স্থানান্তরিত হয় কত সালে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৯১২ সালে
  2. ১৯১৩ সালে
  3. ১৯১৪ সালে

  4. ১৯১৫ সালে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

১৯০৫ সালে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুই ভাগ করার ফলে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন শুরু হয়। ব্যাপক আন্দোলনের ফলে ১৯১১ সালে ইংল্যান্ডের রাজা পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ রদ করেন এবং ১৯১২ সালে রাজধানী কলকতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করেন। (ঘোষণা দেওয়া হয় ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৯১২ সালে
ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লীতে স্থানান্তরের ঘোষণা দেওয়া হয় ১৯১১ সালের ১২ই ডিসেম্বর, ৩য় দিল্লী দরবার অনুষ্ঠানে।
এই ঘোষণা দেন তৎকালীন ব্রিটিশ সম্রাট পঞ্চম জর্জ (King George V)
তবে কার্যকরভাবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে রাজধানী হিসেবে দিল্লীর যাত্রা শুরু হয় ১৯১২ সালের ১লা এপ্রিল। প্রশ্নটিতে স্থানান্তরিত হয় বলতে কার্যকর হওয়ার সময়কে বোঝানো হয়েছে।
37

বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন বসতি কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ময়নামতি
  2. পুণ্ড্রবর্ধন
  3. পাহাড়পুর
  4. সোনারগাঁ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পুণ্ড্র। যা পুণ্ড্রবর্ধন নামে ও পরিচিত ছিল। বলা হয় যে, পুণ্ড্র বলে একটি জাতি এ জনপদ গড়ে তুলেছিল। বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে এ পুণ্ড্র জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল। পুণ্ড্রদের রাজধানীর নাম পুণ্ড্রনগর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পুণ্ড্রবর্ধন। পুণ্ড্রবর্ধন ছিল প্রাচীন বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ এবং এর রাজধানী ছিল পুণ্ড্রনগর, যা বর্তমান বগুড়ার মহাস্থানগড় নামে পরিচিত।
ধারণা করা হয়, মহাস্থানগড় (পুণ্ড্রনগর) জনপদটি খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতকের (মৌর্য আমল) বা তারও আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এ কারণেই এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন বসতি বা নগরী হিসেবে স্বীকৃত।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, ময়নামতি (কুমিল্লা) ৭ম শতাব্দী থেকে, পাহাড়পুর (সোমপুর মহাবিহার) ৮ম শতাব্দী থেকে এবং সোনারগাঁ মধ্যযুগ (সুলতানি আমল) থেকে পরিচিত। সময়ের দিক থেকে পুণ্ড্রবর্ধনই সর্বাগ্রে।
38

“তিনি আমার কথা রাখলেন না, তিনি রাখলেন ––– সাহেবের কথা।”

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আইয়ুব খান
  2. ইয়াহিয়া খান
  3. ভুট্টো
  4. কিসিঞ্জার

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

“তিনি আমার কথা রাখলেন না, তিনি রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা” উক্তিটি শেখ মুজিবুর রহমান তার বিখ্যাত ৭ মার্চের ভাষণে বলেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ভুট্টো
এই বিখ্যাত উক্তিটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। এটি তিনি ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সাথে ঢাকায় চলা ক্ষমতা হস্তান্তরের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর বলেছিলেন।
আলোচনাকালে বঙ্গবন্ধু ৬-দফার ভিত্তিতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে দৃঢ় ছিলেন, কিন্তু আলোচনাকে বানচাল করার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানের পিপলস পার্টির প্রধান জুলফিকার আলী ভুট্টো (Zulfikar Ali Bhutto) ইয়াহিয়া খানের উপর চরম চাপ সৃষ্টি করেন এবং অসহযোগিতা করেন।
আলোচনা ব্যর্থ হয় কারণ ইয়াহিয়া খান শেষ পর্যন্ত সামরিক সিদ্ধান্তের দিকে যান এবং ভুট্টোর পক্ষ নেন। এই হতাশা থেকেই বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন: “তিনি আমার কথা রাখলেন না, তিনি রাখলেন—ভুট্টো সাহেবের কথা।”
39

নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত ‘সোমপুর বিহার’ এর প্রতিষ্ঠাতা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গোপাল
  2. ধর্মপাল
  3. মহীপাল
  4. বিগ্রহপাল

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার। বর্তমানে এটি ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার। পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপাল দেব (৭৮১-৮২১) অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহারটি তৈরি করছিলেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ধর্মপাল
নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত সোমপুর মহাবিহার বা পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার-এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন পাল রাজবংশের দ্বিতীয় ও অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসক ধর্মপাল (রাজত্বকাল: ৭৮১-৮২১ খ্রিষ্টাব্দ)।
এটি ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম বিখ্যাত প্রাচীন বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র এবং বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার।
অন্যান্য অপশনের মধ্যে, গোপাল ছিলেন পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা এবং মহীপাল ছিলেন এই বংশের একজন গুরুত্বপূর্ণ শাসক, কিন্তু সোমপুর বিহারের প্রতিষ্ঠাতা কেবল ধর্মপাল
40

১৯৪৮-১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় ‘ভাষা দিবস’ হিসেবে কোন দিনটি পালন করা হতো?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ২৫শে জানুয়ারি
  2. ১১ই ফেব্রুয়ারি
  3. ১১ই মার্চ
  4. ২৫শে এপ্রিল

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

(১১ই মার্চ) সংগ্রাম পরিষদ রাষ্ট্রভাষার ক্ষেত্রে সরকারের ষড়যন্ত্র রোধ করার জন্য সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয়। ঐ দিন ঢাকায় বহুছাত্র আহত এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেকে গ্রেফতার হন। এজন্য ১৯৪৮-১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের সময়কালে প্রতি বছর ১১ই মার্চ ভাষা দিবস হিসাবে পালন করা হতো।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১১ই মার্চ
১৯৪৮ সালের ১১ই মার্চ সাধারণ ধর্মঘটের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে প্রথম সফল এবং সংগঠিত প্রতিবাদ হয়। এই ধর্মঘট কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল তমদ্দুন মজলিস এবং পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ
এই সফল আন্দোলনের ফলস্বরূপ প্রতি বছর ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত এই দিনটিই পূর্ব বাংলায় 'ভাষা দিবস' হিসেবে পালিত হতো।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর, ১৯৫৩ সাল থেকে ১১ই মার্চের পরিবর্তে ২১শে ফেব্রুয়ারি স্থায়ীভাবে শহীদ দিবস (বর্তমানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস) হিসেবে পালিত হতে শুরু করে।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
41

১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার কর্তৃক প্রকাশিত পত্রিকার নাম ছিল-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জয় বাংলা
  2. বাংলাদেশ
  3. স্বাধীনতা
  4. মুক্তির ডাক

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

জয়বাংলা, সাপ্তাহিক ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাংলা সাপ্তাহিক মুখ্যপত্র। পত্রিকাটি মূলত ছিল মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রচার মাধ্যম। এর লক্ষ্য ছিল একদিকে মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের কৃতিত্ব জনসম্মুখে তুলে ধরা এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: জয় বাংলা
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস ও উদ্দীপনা জোগানোর জন্য মুজিবনগর সরকার একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করত।
এই পত্রিকার নাম ছিল ‘জয় বাংলা’। এটিই ছিল মুজিবনগর সরকারের অফিশিয়াল মুখপত্র (Official Mouthpiece)।
এই পত্রিকার প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১১ই মে, ১৯৭১ তারিখে।
ঐ সময় সরকার এই পত্রিকার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা ও সরকারের নীতিগুলো বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরত।
42

১৯৭১ সালে ‘The Concert for Bangladesh’ কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চট্টগ্রাম
  2. কলকাতা
  3. লন্ডন
  4. নিউইয়র্ক

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘The Concert for Bangladesh’ ছিল ১ আগস্ট ১৯৭১ সালের রবিবার ২.৩০ এবং ৮.০০ অপরাহ্ণে নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে প্রায় ৪০,০০০ দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত, সাবেক বিটল্স সঙ্গীতদলের লিড গিটারবাদক জর্জ হ্যারিসন এবং ভারতীয় সেতারবাদক রবিশঙ্কর কর্তৃক সংগঠিত দুটি বেনিফিট কনসার্ট।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নিউইয়র্ক
১৯৭১ সালের ১লা আগস্ট, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভারতে আশ্রয় নেওয়া লক্ষ লক্ষ বাঙালি শরণার্থীর ত্রাণ তহবিলের জন্য এই ঐতিহাসিক কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হয়।
কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন (Madison Square Garden)-এ।
কনসার্টটি আয়োজন ও নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিখ্যাত ব্যান্ড ‘দ্য বিটলস’-এর সাবেক সদস্য জর্জ হ্যারিসন এবং ভারতীয় সেতার বাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর। এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে বিশাল ভূমিকা রাখে।
43

ঢাকা গেইট এর নির্মাতা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শায়েস্তা খাঁ
  2. নবাব আবদুল গণি
  3. লর্ড কার্জন
  4. মীর জুমলা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ঐতিহাসিক মুঘল স্থাপনা ঢাকা গেইট। এটি নির্মাণ করেন মীর জুমলা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার কার্জন হল ছাড়িয়ে দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমি যেতে গেইটটি চোখে পড়ে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো মীর জুমলা
মুঘল সুবাহদার মীর জুমলা ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা শহরের উত্তর দিকের প্রবেশপথ চিহ্নিত করার জন্য এই গেইটটি নির্মাণ করেন। এটি তৎকালীন সময়ে ঢাকা (জাহাঙ্গীরনগর) এর সীমানা নির্দেশ করত।
ঐতিহাসিকভাবে এর নাম ছিল মীর জুমলার গেট। বর্তমানে এটির অবশিষ্ট অংশটি শাহবাগ মোড় ও কার্জন হলের কাছাকাছি দেখা যায়।
শায়েস্তা খাঁ ১৬৬৪ থেকে ১৬৮৮ সালের মধ্যে দুই মেয়াদে বাংলার সুবাহদার ছিলেন এবং অনেক স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত, কিন্তু ঢাকা গেইট তাঁর নির্মিত নয়।
44

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 2010
  2. 2011
  3. 2012
  4. 2015

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী সংকলন। ২০১২ সালের জুনে এ বইটি প্রকাশিত হয়। এ পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে ইংরেজি, উর্দু, জাপানি, চীনা, আরবি, ফরাসি, হিন্দি, তুর্কি, নেপালি, স্পেনীয়, অসমীয়া ও রুশ ভাষায় বইটির অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২২ সালে বইটি থাই ভাষায় অনুদিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ২০১২ সাল।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ (The Unfinished Memoirs) প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১২ সালের জুন মাসে।
১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সালের মাঝে জেলখানায় থাকাকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধু এই পাণ্ডুলিপিটি লিখেছিলেন। তাঁর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা পাণ্ডুলিপির খাতাগুলো খুঁজে বের করলে বইটি গ্রন্থাকারে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
45

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে কোন সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তমদ্দুন মজলিস
  2. ভাষা পরিষদ
  3. মাতৃভাষা পরিষদ
  4. আমরা বাঙালি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

তমদ্দুন মজলিস ১৯৪৭ সালে আবুল কাসেম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর প্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে দাবি তুলে তমদ্দুন মজলিস বাংলা ভাষা আন্দোলন শুরু করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: তমদ্দুন মজলিস
অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এই সাংস্কৃতিক সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই যখন উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়, তখন তমদ্দুন মজলিসই সর্বপ্রথম এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে এবং ভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক সাংগঠনিক ভিত্তি স্থাপন করে।
ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অনুধাবন করে এই সংস্থাই সর্বপ্রথম 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?' শীর্ষক ঐতিহাসিক পুস্তিকা প্রকাশ করেছিল।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
46

বঙ্গভঙ্গের ফলে কোন নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হয়েছিল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পূর্ববঙ্গ
  2. পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা
  3. পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ
  4. পূর্ববঙ্গ ও আসাম

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

পূর্ববঙ্গ ও আসাম ছিল ব্রিটিশ ভারতের একটি স্বল্পকাল স্থায়ী প্রদেশ। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পর এই প্রদেশ গঠিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পূর্ববঙ্গ ও আসাম
১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর (১৩০২ বঙ্গাব্দের ৩০ আশ্বিন) ঔপনিবেশিক শাসক লর্ড কার্জন প্রশাসনিক সুবিধার অজুহাতে ব্রিটিশ ভারতের বৃহত্তম প্রদেশ বঙ্গকে দু'ভাগে ভাগ করে দেন। এই ঘটনাটি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
বিভাজনের ফলে দুটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হয়:
১. পূর্ববঙ্গ ও আসাম (Eastern Bengal and Assam): এই নতুন প্রদেশের রাজধানী ছিল ঢাকা। এতে পূর্ববঙ্গ (বর্তমান বাংলাদেশ) এবং আসাম প্রদেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২. বঙ্গদেশ (Bengal/পশ্চিমবঙ্গ): এই প্রদেশে ছিল পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং উড়িষ্যা। এর রাজধানী ছিল কলকাতা
প্রশ্নে নতুন সৃষ্ট প্রদেশের নাম জানতে চাওয়া হয়েছে, যার আনুষ্ঠানিক নাম ছিল পূর্ববঙ্গ ও আসাম
47

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 1996
  2. 1998
  3. 2000
  4. 2008

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মুক্তিযুদ্ধ-ভিত্তিক জাদুঘর। এটি ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত। বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরের উদ্বোধন হয় ১৯৯৬ সালের ২২ শে মার্চ। মুক্তিযুদ্ধের অনেক দুর্লভ বস্তু আছে এই জাদুঘরে ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৯৯৬
ঢাকার সেগুনবাগিচায় বেসরকারি উদ্যোগে ১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ এই গুরুত্বপূর্ণ জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের লক্ষ্যেই এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
এটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধের দলিল ও স্মৃতিসমূহকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের সুযোগ পায়।
অন্যান্য তারিখগুলো (১৯৯৮, ২০০০, ২০০৮) এই জাদুঘরের প্রতিষ্ঠার তারিখ হিসেবে সঠিক নয়।
48

‘আমার দেখা নয়াচীন’ কে লিখেছেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মাওলানা ভাসানী
  2. আবুল ফজল
  3. শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. শেখ মুজিবুর রহমান

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘আমার দেখা নয়াচীন’ বঙ্গব্ন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। বঙ্গবন্ধু প্রথম চীন ভ্রমণ করেন ১৯৫২ সালে একটি শান্তি সম্মেলনে যোগদানের মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে ১৯৫৭ সালে পাকিস্তান সংসদীয় দলীয় নেতা হিসেবে চীন ভ্রমণ করেন। চীন ভ্রমণের এসব অভিজ্ঞতা থেকে তিনি একটি ডায়েরি লেখেন এবং এটির নাম দেন ‘নয়াচীন ভ্রমণ’। পরবর্তীতে এটিই ‘আমার দেখা নয়াচীন’ নামে গ্রন্থ আকারে শামসুজ্জামান খানের সম্পাদনায় ২০২০ সালের অমর একুশে গ্রন্থ মেলায় প্রথম প্রকাশিত হয়। তার রচিত অন্যান্য গ্রন্হ অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা, আমার কিছু কথা (প্রকাশিতব্য)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: শেখ মুজিবুর রহমান
‘আমার দেখা নয়াচীন’ হলো বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত একটি ভ্রমণ কাহিনি।
তিনি ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সরকারের প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে চীন সফর করেন। সেই সফরের অভিজ্ঞতা এবং চীনের সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে লেখা তার এই ডায়েরিটি ২০২০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
অন্যান্য বিকল্পের মধ্যে মাওলানা ভাসানী ছিলেন একজন প্রখ্যাত রাজনৈতিক নেতা, আবুল ফজল ছিলেন একজন খ্যাতিমান সাহিত্যিক, এবং শহীদুল্লাহ কায়সার ছিলেন প্রথিতযশা সাংবাদিক ও লেখক। তাদের কারো লেখা নয় এই বইটি।
49

প্রাচীন বাংলায় ‘সমতট’ বর্তমান কোন অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ঢাকা ও কুমিল্লা
  2. ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা
  3. কুমিল্লা ও নোয়াখালী
  4. ময়মনসিংহ ও জামালপুর

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: কুমিল্লা ও নোয়াখালী। প্রাচীন বাংলায় ‘সমতট’ জনপদটি মূলত মেঘনা নদীর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ছিল। এটি একটি নিম্নভূমি বা সমতল অঞ্চল হওয়ায় এর নাম হয়েছিল ‘সমতট’।
সমতট বর্তমানের কুমিল্লা (কুমিল্লা), নোয়াখালী, এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর জেলার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল।
এই জনপদের রাজধানী ছিল দেবপর্বত, যা বর্তমান কুমিল্লা জেলার ময়নামতী (Mainamati)-এর কাছে অবস্থিত ছিল।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ ঢাকা অঞ্চলটি প্রাচীনকালে বঙ্গ (Banga) জনপদের অংশ ছিল এবং ময়মনসিংহ/নেত্রকোণা অঞ্চলটি সাধারণত বরেন্দ্র (Varendra) বা পুন্ড্র (Pundra) জনপদের আওতাভুক্ত ছিল।
50

‘Untranquil Recollections: The Years of Fulfilment’ শীর্ষক গ্রন্থটির লেখক কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আনিসুর রহমান
  2. রহমান সোবহান
  3. নুরুল ইসলাম
  4. রওনক জাহান

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘Untranquil Recollections: The Years of Fulfilment’ শীর্ষক গ্রন্থটির লেখক প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক। তিনি বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সভাপতি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: রহমান সোবহান। তিনি বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ, গবেষক এবং মুক্তিযুদ্ধের বুদ্ধিবৃত্তিক নেপথ্য কারিগর।
‘Untranquil Recollections: The Years of Fulfilment’ হলো ড. রহমান সোবহানের আত্মজীবনীর দ্বিতীয় খণ্ড। এই খণ্ডটিতে তিনি ১৯৫৮ সাল থেকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা লাভ পর্যন্ত তার জীবন ও রাজনৈতিক অর্থনীতি নিয়ে কাজ করার স্মৃতিচারণ করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
51

মুজিবনগর সরকারের অর্থনীতি বিষয়ক ও পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্বে কে ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তাজউদ্দিন আহমেদ
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. এম. মনসুর আলী
  4. এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: তাজউদ্দিন আহমেদ
তাজউদ্দিন আহমেদ ছিলেন মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন সকল প্রশাসনিক কাজের প্রধান নিয়ন্ত্রক।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি নিজের হাতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ রেখেছিলেন— ১. প্রতিরক্ষা বিভাগ এবং ২. অর্থনীতি বিষয়ক ও পরিকল্পনা বিভাগ (Ministry of Economy and Planning)।
এখানে উল্লেখ্য, যদিও এম. মনসুর আলী ছিলেন অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী, কিন্তু সরকারের সার্বিক অর্থনীতি বিষয়ক ও পরিকল্পনা বিভাগের মূল দায়িত্বটি প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদের অধীনে ছিল।
52

বাংলার প্রাচীন জনপদ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পুণ্ড্র
  2. তাম্রলিপ্ত
  3. গৌড়
  4. হরিকেল

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বাংলার প্রাচীনতম জনপদ পুণ্ড্র। বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর ও ভাগীরথী নদী হতে করতোয়া নদী পর্যন্ত এর বিস্তৃতি ছিলো। পুণ্ড্রনগরের পরবর্তী নাম মহাস্থানগড়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পুণ্ড্র (Pundra)। বাংলার প্রাচীনতম ও সর্ববৃহৎ জনপদ হিসেবে **পুণ্ড্রবর্ধন** (সংক্ষেপে পুণ্ড্র) স্বীকৃত।
ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ অনুসারে, পুণ্ড্র জনপদের রাজধানী **পুণ্ড্রনগরীর** ধ্বংসাবশেষ বর্তমানে বগুড়ার **মহাস্থানগড়ে** পাওয়া যায়। এই মহাস্থানগড়েই প্রাপ্ত খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের **ব্রাহ্মী শিলালিপি** এটিকে বাংলার প্রাচীনতম জনপদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
এই জনপদটি মূলত উত্তরবঙ্গ (বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী, রংপুর) জুড়ে বিস্তৃত ছিল।
অন্যান্য জনপদ যেমন গৌড় বিখ্যাত হয়েছিল ৭ম শতকে রাজা **শশাঙ্কের** আমলে। তাম্রলিপ্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ছিল এবং হরিকেল দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় পরবর্তীকালে পরিচিতি লাভ করে।
53

ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৬ নম্বর
  2. ৭ নম্বর
  3. ৮ নম্বর
  4. ৯ নম্বর

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ৮ নম্বর সেক্টর
বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ মহান মুক্তিযুদ্ধে ৮ নম্বর সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন। তিনি ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (EPR)-এর একজন সৈনিক ছিলেন।
১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন এবং এখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। যুদ্ধক্ষেত্রটি ৮ নম্বর সেক্টরের আওতায় ছিল।
৬, ৭ ও ৯ নম্বর সেক্টর ভিন্ন ভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত ছিল এবং নূর মোহাম্মদ শেখ সেই সেক্টরগুলোর সাথে যুক্ত ছিলেন না।
54

১৯৬৬ সালের ৬ দফার ক’টি দফা অর্থনীতি বিষয়ক ছিল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ৩টি। ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফার মোট ৩টি দফা সরাসরি অর্থনীতি, রাজস্ব ও মুদ্রা বিষয়ক ছিল।
৬ দফার বাকি দফাগুলো (১, ২ ও ৬) মূলত শাসনতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিষয়ের সাথে জড়িত ছিল।
অর্থনীতি বিষয়ক ৩টি দফা হলো—
৩য় দফা (মুদ্রা ও অর্থ): পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য সহজে বিনিময়যোগ্য দুটি পৃথক মুদ্রা ব্যবস্থা চালু করা।
৪র্থ দফা (রাজস্ব): সকল প্রকার রাজস্ব, কর (Tax) ও শুল্ক (Duty) ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা আঞ্চলিক সরকারের হাতে থাকবে।
৫ম দফা (বাণিজ্য): বৈদেশিক মুদ্রা ও বৈদেশিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা আঞ্চলিক সরকারের হাতে থাকবে।
55

‘একুশে ফেব্রুয়ারি’র বিখ্যাত গানটির সুরকার কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সুবীর সাহা
  2. সুধীন দাস
  3. আলতাফ মাহমুদ
  4. আলতাফ মামুন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বিখ্যাত এ গানটি প্রথম প্রকাশিত হয় হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ (১৯৫৩) গ্রন্হে। গানটির প্রথম সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী ছিলেন আব্দুল লতিফ। বর্তমান সুরকার আলতাফ মাহমুদ এবং সমবেত কণ্ঠে গাওয়া হয়।

ব্যাখ্যা

‘একুশে ফেব্রুয়ারি’র কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানটির বর্তমান ও বহুল প্রচলিত সুরকার হলেন আলতাফ মাহমুদ (Altaf Mahmud)।
গানটির গীতিকার বা রচয়িতা হলেন আবদুল গাফফার চৌধুরী
শুরুতে গানটির প্রথম সুরারোপ করেছিলেন সুধীন দাস (১৯৫৩ সালে), কিন্তু সেই সুরটি দ্রুতই পরিবর্তিত হয় এবং আলতাফ মাহমুদ এর সুরটি স্থায়ী ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়।
(তাই পরীক্ষায় বর্তমান সুরকারকেই সঠিক উত্তর হিসেবে গণ্য করা হয়।)
56

আলাউদ্দিন হোসেন শাহ্ কখন বৃহত্তর বাংলা শাসন করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৪৯৮-১৫১৬ খ্রিস্টাব্দ
  2. ১৪৯৮-১৫১৭ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১৪৯৮-১৫১৮ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১৪৯৮-১৫১৯ খ্রিস্টাব্দ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

মধ্যযুগে বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ নরপতি, বাংলার আকবর খ্যাত আলাউদ্দিন হোসেন শাহ্‌ ১৪৯৩ সালে বাংলার মসনদে অধিষ্ঠিত হন। তিনি ১৪৯৮ সালে রাজ্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষায় কামতাপুর রাজ্যে অভিযান চালিয়ে সফল হন। রাজধানী হাজো দখল করে নেন। ফলে হাজো পর্যন্ত সমগ্র অঞ্চল বাংলার সঙ্গে সংযুক্ত হয়। এ দৃষ্টিকোণ থেকে আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ১৪৯৩ সালে শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেও তিনি বৃহত্তর বাংলা শাসন করেন ১৪৯৮-১৫১৯ সাল পর্যন্ত। তবে তার শাসনকালের ব্যাপ্তি ছিল ১৪৯৩-১৫১৯।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ১৪৯৮-১৫১৯ খ্রিস্টাব্দ
সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ্ (Aladdin Hussain Shah) ছিলেন মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সফল শাসক। তিনি ছিলেন বাংলার হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা।
তিনি ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন এবং একটানা ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ২১ বছর বৃহত্তর বাংলা শাসন করেন।
ঐতিহাসিকদের মতে, তাঁর শাসনকালকে বাংলার মুসলিম শাসনের 'স্বর্ণযুগ' (Golden Age) বলা হয়।
57

প্রাচীন বাংলা মৌর্য শাসনের প্রতিষ্ঠাতা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অশোক মৌর্য
  2. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  3. সমুদ্র গুপ্ত
  4. এর কোনোটিই না

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম ‘মৌর্য সাম্রাজ্য’। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৮ অব্দে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিই ভারতের প্রথম সম্রাট (খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৮ -৩০০ অব্দ)। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পরে সম্রাট হন তার পুত্র বিম্বিসার। বিম্বিসারের পরে তার পুত্র সম্রাট অশোক খ্রিষ্টপূর্ব ২৭৩ অব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন। সম্রাট অশোক কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন। সমুদ্রগুপ্ত ছিলেন গুপ্ত সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ রাজা। তিনি প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ন নামে পরিচিত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
তিনি প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৩২১ অব্দে প্রাচীন ভারতের মগধে নন্দ বংশের শাসন উচ্ছেদ করে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। প্রাচীন বাংলার উত্তরভাগ (পুণ্ড্রনগর/মহাস্থানগড়) মৌর্য সাম্রাজ্যের অংশ ছিল।
অন্যান্য অপশন ভুল কারণ: অশোক মৌর্য ছিলেন চন্দ্রগুপ্তের পৌত্র এবং এই বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট। আর সমুদ্র গুপ্ত মৌর্য বংশের নন, তিনি ছিলেন পরবর্তী গুপ্ত সাম্রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাসক।
58

ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে বাংলায় প্রথম এসেছিলেন-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পর্তুগিজরা
  2. ইংরেজরা
  3. ওলন্দাজরা
  4. ফরাসিরা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

পর্তুগিজরা ১৫১৬ সালে প্রথম বাংলায় আসে। স্বল্প সময়ের মধ্যে পর্তুগিজ বণিকরা ১৫৩৮ সালে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্ক ঘাঁটি নির্মাণের অনুমতিও লাভ করে। ওলন্দাজ বা ডাচরা বাংলায় আসে ১৬০২ সালে। ইংরেজরা আসে ১৬০৮ সালে এবং সবশেষে ১৬৬৪ সালে বাংলায় আগমন করে ফরাসিরা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পর্তুগিজরা। তারাই ইউরোপের মধ্যে প্রথম বাংলায় তথা ভারতীয় উপমহাদেশে এসেছিল।
পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা ১৪৯৮ সালে ভারতের কালিকট বন্দরে পৌঁছানোর মাধ্যমে মূলত ইউরোপীয়দের আগমনের সূচনা হয়।
বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে তারা ১৬শ শতকের প্রথম দিকেই বাংলায় ঘাঁটি স্থাপন করে। বাংলায় তাদের প্রধান ঘাঁটি ছিল চট্টগ্রাম (পর্তুগিজরা যাকে 'Porto Grande' বা বৃহৎ বন্দর বলত) এবং সাতগাঁও ('Porto Pequeno' বা ক্ষুদ্র বন্দর)।
অন্যান্য ইউরোপীয় শক্তি—যেমন ওলন্দাজ (ডাচ), ইংরেজফরাসিরা—পর্তুগিজদের বেশ পরে, মূলত ১৭শ শতকে, বাংলায় প্রবেশ করে।
59

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে কোন দেশ বাংলাদেশের পক্ষে ‘ভেটো’ প্রদান করেছিল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. যুক্তরাজ্য
  2. ফ্রান্স
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. সোভিয়েত ইউনিয়ন

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যখন বাংলাদেশের বিজয় সুনিশ্চিত ঠিক তখনই ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে মার্কিন প্রতিনিধি জর্জ এইচ বুশ ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি ও সৈন্য প্রত্যাহারের প্রস্তাব পেশ করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিনিধি এ প্রস্তাবকে ‘একতরফা’ বলে অভিহিত করে প্রস্তাবটিতে ভেটো প্রদান করে। পরদিন ৫ ডিসেম্বর আরো আটটি দেশের পক্ষ থেকে পাক-ভারত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব আনলে সোভিয়েত ইউনিয়ন তাতে পুনরায় ভেটো প্রদান করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: সোভিয়েত ইউনিয়ন
১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের প্রথম দিকে, যখন যৌথ বাহিনী (মুক্তি ও মিত্রবাহিনী) চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি হয়।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) যুক্তরাষ্ট্র (USA)চীন পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনে, যাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী রক্ষা পায়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিজয়ের পথ সুগম রাখতে সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের অনুরোধে নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত সেইসব যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে বারবার ‘ভেটো’ প্রদান করে।
এই ভেটোর ফলেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়নি এবং ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।
60

‘বঙ্গভঙ্গ’ কালে ভারতের ভাইসরয় কে ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড ওয়াভেল
  3. লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন
  4. লর্ড লিনলিথগো

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের সময় ভাইসরয় ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: লর্ড কার্জন
বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়েছিল ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর। ঐ সময়ে ভারতের ভাইসরয় এবং গভর্নর জেনারেলের দায়িত্বে ছিলেন লর্ড কার্জন (দায়িত্বকাল: ১৮৯৯-১৯০৫)।
তিনিই প্রশাসনিক সুবিধার অজুহাতে বাংলাকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। এই বিভক্তি ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে বিভক্ত করার এবং মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির একটি রাজনৈতিক কৌশল ছিল।
অন্যান্য অপশনসমূহ যেমন— লর্ড ওয়াভেল (১৯৪৩-৪৭), লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন (১৯৪৭) এবং লর্ড লিনলিথগো (১৯৩৬-৪৩) ছিলেন অনেক পরের ভাইসরয়। এদের মধ্যে লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয়।
61

আওয়ামী লীগের ৬-দফা পেশ করা হয়েছিল-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৯৬৬ সালে
  2. ১৯৬৭ সালে
  3. ১৯৬৮ সালে
  4. ১৯৬৯ সালে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৫-৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬ পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের জাতীয় সম্মেলনের বিষয় নির্বাচনি কমিটিতে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ নামে খ্যাত ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণা করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৯৬৬ সালে
আওয়ামী লীগের ৬-দফা কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল ১৯৬৬ সালের ২৩ মার্চ। এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে ৬-দফার প্রথম ঘোষণা দেন।
এই ৬-দফা মূলত বাঙালি জাতির স্বায়ত্তশাসন ও অর্থনৈতিক মুক্তির সনদ হিসেবে পরিচিত, যা পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি তৈরি করেছিল।
62

বঙ্গবন্ধুসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় মোট আসামি সংখ্যা ছিল কত জন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৩৪ জন
  2. ৩৫ জন
  3. ৩৬ জন
  4. ৩২ জন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে জানুয়ারি ১৯৬৮ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়। আর এ মামলা প্রত্যাহার করা হয় ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ এ। বঙ্গবন্ধুসহ এ মামলায় আসামি ছিলেন ৩৫ জন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ৩৫ জন
১৯৬৭ সালের ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তান সরকার পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের জন্য ৬ দফা আন্দোলনকে নস্যাৎ করার উদ্দেশ্যে একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করে, যা ইতিহাসে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত।
মামলাটির সরকারি নাম ছিল: ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য’ (State vs. Sheikh Mujibur Rahman and others)।
এই মামলায় মোট ৩৫ জনকে আসামি করা হয়, যার মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন প্রধান আসামি (অভিযুক্ত নং-১)। এই ৩৫ জনের মধ্যে ১৮ জন বাঙালি সামরিক কর্মকর্তা এবং ১৭ জন বেসামরিক ব্যক্তি ছিলেন।
মামলার অভিযোগ ছিল যে অভিযুক্তরা ভারতের সহযোগিতায় পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র করছিলেন।
63

মুজিবনগর সরকার কখন গঠিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১২ই এপ্রিল, ১৯৭১
  2. ১০ই এপ্রিল, ১৯৭১
  3. ১৪ই এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ১৭ই এপ্রিল, ১৯৭১

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার ভবেরপাড়া (বর্তমান মুজিবনগর) গ্রামে বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়। এই সরকার মুজিবনগর সরকার বা অস্থায়ী সরকার বা প্রবাসী সরকার নামে পরিচিত। মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার শপথগ্রহণ করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১০ই এপ্রিল, ১৯৭১। এই তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার, যা ইতিহাসে মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত, গঠন করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য এই সরকার গঠিত হয়েছিল। এই ঘোষণাপত্রটিকে 'স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র' (Proclamation of Independence) বলা হয়, যা মূলত ১০ই এপ্রিল গৃহীত হয়।
অন্যদিকে, ১৭ই এপ্রিল, ১৯৭১ তারিখে এই সরকার শপথ গ্রহণ করে। এটি একটি বহুল প্রচলিত ভুল উত্তর। মনে রাখবেন, গঠন হয় ১০ই এপ্রিল, আর শপথ (Inauguration) হয় ১৭ই এপ্রিল
64

মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ড গঠিত হয় কোন সেক্টর নিয়ে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১০ নং সেক্টর
  2. ১১ নং সেক্টর
  3. ৮ নং সেক্টর
  4. ৯ নং সেক্টর

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১১ জুলাই সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। তন্মধ্যে ১০ নং সেক্টর নৌ-কমান্ড নিয়ে গঠিত হয়। এ সেক্টরের কোনো নিয়মিত কমান্ডার ছিলেন না। এ সেক্টর গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত তৎকালীন পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি কর্মকর্তা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১০ নং সেক্টর
মুক্তিযুদ্ধের সময় এই সেক্টরটি ছিল অন্যান্য সেক্টর থেকে একেবারেই বিশেষায়িত
অন্যান্য সেক্টরের মতো ১০ নং সেক্টরের কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডভিত্তিক এলাকা ছিল না। এটি গঠিত হয়েছিল মূলত নৌ-কমান্ডো বা জলপথের গেরিলা দলগুলোকে নিয়ে।
এই কমান্ডোদের প্রধান কাজ ছিল অভ্যন্তরীণ নৌ-পথ, বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনীর রসদ সরবরাহকারী জাহাজ ও স্থাপনাগুলোতে গেরিলা আক্রমণ পরিচালনা করা।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই সেক্টরের অধীনে পরিচালিত অপারেশন জ্যাকপট (Operation Jackpot) বিশেষভাবে পরিচিত, যা ১৯৭১ সালের ১৫ই আগস্ট সংঘটিত হয় এবং নৌ-যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
65

পলাশির যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়েছিল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জুন ২২, ১৭৫৭

  2. জুন ২৪, ১৭৫৭
  3. জুন ২৩, ১৭৫৭
  4. জুন ২৫, ১৭৫৭

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত পলাশীর প্রান্তরে সংঘটিত যুদ্ধ ‘পলাশীর যুদ্ধ’ হিসেবে পরিচিত। এ যুদ্ধে প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজয় বরণ করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: জুন ২৩, ১৭৫৭
ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধ (Battle of Plassey) মূলত বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল।
এই যুদ্ধে নবাবের প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলীর বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব পরাজিত হন এবং বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
অন্য তারিখগুলো (জুন ২২, ২৪, ২৫) কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও সঠিক ঐতিহাসিক তারিখ হলো ২৩শে জুন
66

বঙ্গভঙ্গ রদ হয় কোন সালে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৯১১ সালে
  2. ১৯১২ সালে
  3. ১৯০৮ সালে
  4. ১৯০৯ সালে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

লর্ড কার্জনের শাসনামলে ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়। হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের তীব্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১৯১১ সালে ১২ ডিসেম্বর রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লি দরবারে বঙ্গবিভাগ রদের ঘোষণা দেন। এ ঘোষণা কার্যকর হয় ১৯১২ সালের ২০ জানুয়ারি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ১৯১১ সাল
১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জনের উদ্যোগে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু বাংলা ও আসামের জনগণের তীব্র প্রতিবাদ, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মতো রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে ব্রিটিশ সরকার এটি বেশিদিন টিকিয়ে রাখতে পারেনি।
রাজা পঞ্চম জর্জের ভারত আগমন উপলক্ষে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত দিল্লি দরবার থেকে ১৯১১ সালের ১২ই ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভঙ্গ রদ বা বাতিল ঘোষণা করা হয়।
অপশনগুলোর মধ্যে ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়, আর ১৯১১ সালে এটি রদ করা হয়। ১৯১২ সালে রদের প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয় এবং রাজধানী স্থানান্তর হয়, কিন্তু ঘোষণার সাল ১৯১১
67

কোন বিদেশী পত্রিকা বঙ্গবন্ধুকে ‘রাজনীতির কবি’ (Poet of Politics) উপাধি দিয়েছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নিউজ উইরুস (উইকস)

  2. দি ইকনমিস্ট
  3. টাইম
  4. গার্ডিয়ান

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

৫ এপ্রিল, ১৯৭১ যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন Newsweek-এর সাংবাদিক লোবেন জেঙ্কিন্স তার প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘রাজনীতির কবি’ (Poet of Politics) বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নিউজ উইকস (Newsweek)। এটি ছিল একটি আমেরিকান সাপ্তাহিক পত্রিকা।
১৯৭১ সালের ৫ই এপ্রিল সংখ্যায় নিউজ উইকসের তৎকালীন সম্পাদক লরেন জেঙ্কিন্স এক নিবন্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘Poet of Politics’ (রাজনীতির কবি) উপাধি দেন।
এই উপাধিটি মূলত প্রদান করা হয় তাঁর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে কেন্দ্র করে। এই ভাষণে তিনি একদিকে স্বাধীনতার সুস্পষ্ট ঘোষণা দেন, অন্যদিকে আলোচনার পথ খোলা রেখে রাজনৈতিক প্রজ্ঞার যে কাব্যিক প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন, তাকেই এই উপাধি দ্বারা স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
68

প্রতাপ আদিত্য কে ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বাংলা বারো ভুঁইয়াদের একজন
  2. রাজপুত রাজা
  3. বাংলার শাসক
  4. মুঘল সেনাপতি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বাংলার ইতিহাসে ষোড়শ শতক থেকে সপ্তদশ শতকের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলার যেসব বড় বড় জমিদার মুঘলদের অধীনতা মেনে নেননি এবং শক্তিশালী সৈন্য ও নৌ-বহর নিয়ে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য একজোট হয়ে মুঘল সেনাপতির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তেন তারাই বারো ভুঁইয়া নামে পরিচিত। যশোরের রাজা প্রতাপ আদিত্য বারো ভুঁইয়াদের মধ্যে সর্বাধিক সম্পদশালী ও প্রভাবশালী ছিলেন। ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতাপের ক্ষমতা ও খ্যাতি পুরো ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়েছিল।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বাংলা বারো ভুঁইয়াদের একজন
প্রতাপ আদিত্য ছিলেন মধ্যযুগে বাংলার একজন অত্যন্ত শক্তিশালী স্বাধীন হিন্দু রাজা, যিনি মূলত যশোরের (যশোহর) শাসক ছিলেন।
মুঘল শাসনের প্রাথমিক দিকে, যখন মুঘলরা বাংলা পুরোপুরিভাবে দখল করতে পারছিল না, তখন বাংলার ছোট ছোট স্বাধীন জমিদাররা একত্রিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এদেরকেই সম্মিলিতভাবে বারো ভুঁইয়া বলা হয়।
প্রতাপ আদিত্য ছিলেন সেই বারো ভুঁইয়াদের অন্যতম এবং মুঘলদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো প্রতিরোধকারীদের মধ্যে একজন। তিনি মুঘল সুবেদার ইসলাম খাঁ চিশতির হাতে পরাজিত হন।
অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল, কারণ তিনি মুঘল সেনাপতি বা রাজপুত রাজা ছিলেন না।
উল্লেখ্য, বারো ভুঁইয়া বলতে ঠিক বারোজন জমিদারকে বোঝায় না, বরং অসংখ্য জমিদারকে বোঝানো হতো যারা মুঘলদের প্রতি অনুগত ছিলেন না।
69

প্রাচীন বাংলার হরিকেল জনপদ অঞ্চলভুক্ত এলাকা-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রাজশাহী
  2. দিনাজপুর
  3. খুলনা
  4. চট্টগ্রাম

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

গৌড়, বঙ্গ, পুণ্ড্র, হরিকেল, সমতট, বরেন্দ্র, তাম্রলিপ্ত ও চন্দ্রদ্বীপ প্রভৃতি জনপদ নিয়ে গড়ে ওঠে প্রাচীন বাংলা। তন্মধ্যে হরিকেল জনপদ গড়ে উঠেছিল সিলেট ও চট্টগ্রামের অংশবিশেষ নিয়ে। বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলা পুণ্ড্র জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: চট্টগ্রাম
প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে হরিকেল ছিল পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা জুড়ে বিস্তৃত। এই জনপদ মূলত বর্তমান সিলেট, চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল।
হরিকেল জনপদের প্রধান কেন্দ্র ছিল বর্তমান চট্টগ্রাম ও সিলেটের অংশবিশেষ। চীনা পরিব্রাজক ই-ৎ-সিং এর লেখায় এই জনপদের নাম পাওয়া যায়।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। যেমন, রাজশাহী এবং দিনাজপুর অঞ্চল প্রাচীনকালে বরেন্দ্র জনপদের অংশ ছিল। খুলনা অঞ্চলটি মূলত বঙ্গ বা সমতট জনপদের কাছাকাছি ছিল।
70

নিচের মোগল সম্রাটদের মধ্যে কে প্রথম আত্মজীবনী লিখেছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আকবর
  2. বাবর
  3. শাহজাহান
  4. হুমায়ুন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরউদ্দিন মুহম্মদ বাবর তুর্কি ভাষায় 'তুজুক-ই- বাবুরী ' বা বাবরনামা নামে তার জীবন স্মৃতি রচনা করেন। তিনিই প্রথম আত্মজীবনী রচনাকারী মুঘল সম্রাট। এটি মুঘল রাজ কর্মকর্তা বৈরাম খান -ই-খানানের পুত্র আবদুর রহিম খান -ই -খানান কর্তৃক ফারসি ভাষায় অনুদিত হয়। এছাড়া মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের আত্মচরিত বা স্মৃতিকথা রচিত হয় ‘তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরী’ নামে। আর খ্রিষ্টীয় ষোড়শ শতাব্দীতে রচিত সম্রাট আকবরের প্রশাসনের বিস্তারিত বর্ণনা সমৃদ্ধ একটি নথি 'আইন-ই-আকবরী'।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো বাবর। মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর প্রথম মুঘল সম্রাট যিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর আত্মজীবনী রচনা করেন।
তাঁর আত্মজীবনীর নাম 'তুজুক-ই-বাবুরি'। এটি মুঘল সাহিত্যের অন্যতম সেরা কীর্তি এবং মুঘল ইতিহাস জানার জন্য একটি মৌলিক উৎস।
বাবর এটি রচনা করেছিলেন তাঁর মাতৃভাষা চাগতাই তুর্কি (Chagatai Turkish) ভাষায়। পরবর্তীকালে আকবরের শাসনামলে এটি ফারসি ভাষায় অনূদিত হয়।
অন্যান্য বিকল্পের মধ্যে, আকবর বা শাহজাহান ব্যক্তিগতভাবে কোনো আত্মজীবনী লেখেননি। হুমায়ুনের জীবনী 'হুমায়ুননামা' তাঁর বোন গুলবদন বেগম রচনা করেছিলেন।
71

ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণা করা হয় ১৯৬৬ সালের-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ফেব্রুয়ারিতে
  2. মে মাসে
  3. জুলাই মাসে
  4. আগস্টে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা নামে পরিচিত ‘৬ দফা দাবি’ পেশ করেন। ১৯৬৬ সালের ২৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘৬ দফা দাবি’ উত্থাপন করা হয়। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবিতে গণআন্দোলন শুরু হলে পুলিশের গুলিতে বিভিন্ন স্থানে ১১ জন বাঙালি নিহত হন। এ জন্য প্রতি বছর ৭ জুন ছয় দফা দিবস পালিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হল ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হয় ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি
স্থান ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোর। সেখানে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মুক্তির সনদ হিসেবে এই দাবিগুলো উত্থাপন করেন।
ছয় দফা ছিল মূলত পূর্ব পাকিস্তানের জন্য স্বায়ত্তশাসন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণের দাবি। এটি পরবর্তীতে বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
72

মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী কে ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
  2. তাজউদ্দীন আহমদ
  3. এ.এইচ. এম কামারুজ্জামান
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

১০ এপ্রিল ১৯৭১ গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার তথা মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র, সাহায্য ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান। এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। অর্থ, বাণিজ্য, শিল্প ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন এম.মনসুর আলী। খন্দকার মোশতাক আহমদ ছিলেন পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: এ.এইচ. এম কামারুজ্জামান
মুজিবনগর সরকার (অস্থায়ী সরকার) গঠিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এবং শপথ গ্রহণ করে ১৭ এপ্রিল। এই সরকারে ৫ জন মূল নেতা ছিলেন (প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ৪ জন পূর্ণ মন্ত্রী)।
এ.এইচ. এম কামারুজ্জামান এই সরকারের মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাই ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনিই।
অন্যান্য মন্ত্রীদের ভূমিকা ছিল:
  • তাজউদ্দীন আহমদ: প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।
  • ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী: অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী।
  • খন্দকার মোশতাক আহমদ: পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী।
73

কিসের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলন হয়েছিল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দ্বি-জাতি তত্ত্ব
  2. সামাজিক চেতনা
  3. অসাম্প্রদায়িকতা
  4. বাঙালি জাতীয়তাবাদ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

পাকিস্তান সৃষ্টির পর যখন বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির উপর প্রথম আঘাত আসে, তখন বাঙালি জনগণ বিশেষ করে যুবসম্প্রদায় ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় ভাষা আন্দোলন। মূলত তখন থেকেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন পরবর্তীতে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ জন্মের পথ সুগম করে। এ আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ নাম না জানা অনেকের জীবন বিসর্জনের মধ্য দিয়ে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: বাঙালি জাতীয়তাবাদ
ভাষা আন্দোলন শুধু বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি ছিল না; এটি ছিল পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের দ্বারা চাপিয়ে দেওয়া দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে সৃষ্ট রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার জনগণের প্রথম সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী যখন উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র করে, তখন পূর্ব বাংলার জনগণ উপলব্ধি করে যে ধর্ম নয়, ভাষা ও সংস্কৃতিই তাদের মূল পরিচয়ের ভিত্তি
এই আন্দোলনের মাধ্যমেই পূর্ব বাংলার জনগণ ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বাঙালি হিসেবে তাদের স্বতন্ত্র জাতিসত্তা প্রতিষ্ঠা করে। এই স্বতন্ত্র জাতিসত্তা বোধই হলো বাঙালি জাতীয়তাবাদ, যা পরবর্তীকালে ছয় দফামুক্তিযুদ্ধের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
অন্যদিকে, 'অসাম্প্রদায়িকতা' এই আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলেও, এর মূল ভিত্তি বা ideological foundation ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ।
74

১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্ত ছিলেন না–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

পাকিস্তান সরকার ১৯৫৪ সালের মার্চে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে /পূর্ব বাংলায় প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা দেয়। এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে বিজয় নিশ্চিত করতে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর পূর্ব বাংলার কয়েকটি বিরোধী দলের সমন্বয়ে ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে একটি ঐক্যজোট গঠিত হয়। যুক্তফ্রন্টের দলগুলো ছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘যুক্তফ্রন্ট’ প্রদত্ত ২১ দফা পূর্ব বাংলার জনসমক্ষে তুলে ধরেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩ টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ১৯০৬ সালে 'অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠা করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
নবাব স্যার সলিমুল্লাহ (ঢাকা নবাব পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা) ১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্ত ছিলেন না, কারণ তিনি এর বহু আগেই, ১৯১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি, মৃত্যুবরণ করেন।
অন্যদিকে, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল যুক্তফ্রন্ট (United Front)। এই জোটের মূল কাণ্ডারি বা শীর্ষ নেতা ছিলেন— শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
এই তিন নেতার নেতৃত্বেই যুক্তফ্রন্ট তৎকালীন ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে ঐতিহাসিক জয় লাভ করে।
75

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি কত সালে স্বাক্ষরিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 1997
  2. 2001
  3. 1993
  4. 1999

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের শুরুতে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে গঠিত পাহাড়ি জনগণের প্রতিনিধিদল কর্তৃক পেশকৃত দাবি মেনে নিতে সরকার ব্যর্থ হলে ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে গঠিত হয় ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি’। যার নেতৃত্বে ছিলেন মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলতে থাকে। এ সংঘাত অবসানকল্পে মোট ২৬টি বৈঠক শেষে তৎকালীন সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে ২ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন তখনকার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও জনসংহতি সমিতির পক্ষে জ্যোতিরিন্দ্র বোধি প্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ১৯৯৭ সাল।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা জাতিগত সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (PCJSS)-এর মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছিল ২ ডিসেম্বর ১৯৯৭ তারিখে। এই চুক্তিকে বাংলাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হয়।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই শান্তিচুক্তি সম্পাদনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
76

বাঙালী জাতির প্রধান অংশ কোন মূল জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দ্রাবিড়
  2. নেগ্রিটো
  3. ভোটচীন
  4. অস্ট্রিক

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

প্রাচীনকালে আর্যপূর্ব জনগোষ্ঠীর যে চারটি শাখা এখানে বাস করতো তারা হলো অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, নেগ্রিটো ও ভোটচীনীয়। উল্লিখিত চারটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে অস্ট্রিক জনগোষ্ঠী থেকে বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গঠিত হয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অস্ট্রিক
বাঙালী জাতি মূলত একটি সংকর জাতি (Mixed Race), যার মধ্যে বহু জাতিগোষ্ঠীর রক্ত প্রবাহিত হয়েছে। তবে এর মূল কাঠামো এবং ভাষার ভিত্তি গড়ে উঠেছে অস্ট্রিক জাতিগোষ্ঠীর মাধ্যমে।
অস্ট্রিকরা মূলত প্রোটো-অস্ট্রালয়েড গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তারাই এই অঞ্চলে প্রথম কৃষিকাজ শুরু করেছিল এবং বাংলায় তাদের বসতি ছিল সুদূরপ্রসারী ও প্রভাবশালী। এই কারণে তাদেরকেই বাঙালী জাতির প্রধান অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রখ্যাত ভাষাবিদ ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় এই অস্ট্রিকদের বৈদিক সাহিত্যে উল্লেখিত নিষাদ্ (Nishada) জাতি নামে অভিহিত করেছেন।
দ্রাবিড়রা এসেছিল অস্ট্রিকদের পরে, এবং আর্যরা আরও পরে। নেগ্রিটোরা সম্ভবত আদিমতম হলেও তাদের প্রভাব বাঙালীর মূলস্রোতে প্রায় বিলীন।
77

বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদের নাম কি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পুণ্ড্র
  2. তাম্রলিপ্ত
  3. হরিকেল
  4. গৌড়

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

খ্রিষ্টপূর্ব ৩,০০০ অব্দে লিখিত বৈদিক সাহিত্য ও মহাভারতে পুণ্ড্র জাতির উল্লেখ আছে। ধারণা করা হয়, এ জাতিই পুণ্ড্র জনপদ গড়ে তুলেছিল। এ জনপদের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রনগর। সে সময়কার জনপদটি বর্তমানের বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলা জুড়ে বিস্তৃত ছিল। বৈয়াকরণিক পাণিনির (আনু.খ্রি.পূ. চতুর্থ শতাব্দীর মধ্যভাগ) গ্রন্হে সর্বপ্রথম ‘গৌড়’ নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। হরিকেল ও তাম্রলিপ্ত খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতকের কাছাকাছি গড়ে ওঠা জনপদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পুণ্ড্র। জনপদগুলোর মধ্যে পুণ্ড্র-ই হলো বাংলার সর্বপ্রাচীন এবং বৃহৎ জনপদ।
প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্য (যেমন: ঐতরেয় আরণ্যক) এবং অন্যান্য শিলালিপিতে পুণ্ড্র জনপদের নাম প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়। এর রাজধানী ছিল পুণ্ড্রনগর, যা বর্তমান বগুড়ার মহাস্থানগড় এলাকায় অবস্থিত ছিল।
অন্যান্য অপশন কেন ভুল?
তাম্রলিপ্ত: এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ ছিল, যা প্রাচীন বাংলার প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে পরিচিত ছিল (বর্তমান মেদিনীপুর)। কিন্তু এটি পুণ্ড্র-এর চেয়ে প্রাচীনতম নয়।
হরিকেল: এটি পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় (সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা) বিকশিত হয়। এর উত্থান অপেক্ষাকৃত পরবর্তীকালে (সপ্তম-অষ্টম শতকে) ঘটেছিল।
গৌড়: এটি মূলত পশ্চিম বাংলার একটি রাজনৈতিক জনপদ হিসেবে পরিচিত। রাজা শশাঙ্কের সময়ে এটি ক্ষমতার কেন্দ্রে পরিণত হয়, কিন্তু ভৌগোলিক জনপদ হিসেবে পুণ্ড্র সর্বপ্রাচীন।
78

বাংলা (দেশ ও ভাষা) নামের উৎপত্তির বিষয়টি কোন গ্রন্থে সর্বাধিক উল্লেখিত হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আলমগীরনামা
  2. আইন-ই-আকবরী
  3. আকবরনামা
  4. তুজুক-ই-আকবরী

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সম্রাট আকবরের দরবারের ইতিহাস লেখক আবুল ফজল রচিত ঐতিহাসিক ঘটনাপঞ্জি সম্বলিত ফার্সি ভাষার তিন খণ্ডের গ্রন্হ হলো ‘আকবরনামা’। এ গ্রন্হের তৃতীয় খণ্ডের নাম হলো ‘আইন-ই-আকবরী’। যেখানে বাংলা (দেশ ও ভাষা) নামের উৎপত্তির বিষয়টি সর্বাধিক উল্লিখিত আছে। আর সম্রাট আওরঙ্গজেবের লেখা গ্রন্হ হলো ‘ফতোয়া-ই-আলমগীরী’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আইন-ই-আকবরী
মুঘল সম্রাট আকবরের সভার ইতিহাসবিদ আবুল ফজল কর্তৃক রচিত সুবিশাল গ্রন্থ আকবরনামা-র তৃতীয় ও শেষ খণ্ড হলো ‘আইন-ই-আকবরী’
এই গ্রন্থে আবুল ফজল অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বাংলা নামের উৎপত্তির ব্যাখ্যা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাচীনকালে বঙ্গ রাজ্যের শাসক ছিলেন ‘বঙ্গ’ নামের এক রাজা। তিনি জমিতে ‘আল’ বা বাঁধ নির্মাণ করতেন। এই ‘বঙ্গ’ শব্দের সঙ্গে ‘আল’ (আইল/বাঁধ) যুক্ত হয়ে অঞ্চলটির নাম হয় ‘বাঙ্গালা’ বা ‘বেঙ্গালা’
অন্যান্য বিকল্প ভুল কারণ: আকবরনামা যদিও আইন-ই-আকবরীর মূল অংশ, কিন্তু নামের বিস্তারিত উৎপত্তি বিশেষভাবে তৃতীয় খণ্ডে (আইন-ই-আকবরীতে) উল্লেখ করা হয়েছে।
আলমগীরনামা সম্রাট আওরঙ্গজেবের ইতিহাস এবং তুজুক-ই-আকবরী নামে কোনো বিখ্যাত গ্রন্থ নেই।
79

ঢাকার লালবাগের দুর্গ নির্মাণ করেন:

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শাহ সুজা
  2. শায়েস্তা খান
  3. মীর জুমলা
  4. সুবেদার ইসলাম খান

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

লালবাগ কেল্লা পুরাতন ঢাকার লালবাগে অবস্থিত। মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র শাহজাদা মোহাম্মদ আজম ১৬৭৮ সালে লালবাগ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করলেও এর অধিকাংশ কাজ সমাপ্ত করেন শায়েস্তা খান। চকবাজারের ঐতিহাসিক বড় কাটরা নির্মাণ করেন সম্রাট শাজাহানের দ্বিতীয় পুত্র বাংলার সুবেদার শাহ সুজা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: শায়েস্তা খান। যদিও লালবাগ দুর্গের নির্মাণ কাজ প্রথম শুরু করেন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র শাহজাদা মুহাম্মদ আজম
তিনি ১৬৭৮ সালে দুর্গটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন, তখন এর নাম ছিল কিল্লা আওরঙ্গাবাদ। শাহজাদা আজম বাংলা ত্যাগ করলে সুবেদার শায়েস্তা খান (শায়েস্তা খান ছিলেন শাহজাদা আজমের শ্বশুর) এই নির্মাণ কাজ চালিয়ে যান।
পরী বিবির মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান এটিকে অশুভ মনে করে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। যেহেতু তিনি দীর্ঘ সময় ধরে দুর্গের কাজ তদারকি করেন এবং তাঁর সময়েই দুর্গটি পরিচিতি পায়, তাই পরীক্ষায় প্রায়শই উত্তর হিসেবে শায়েস্তা খানকেই বিবেচনা করা হয়।
অন্যান্য অপশনসমূহ ভুল কারণ: শাহ সুজা ১৬৩৯-১৬৬০ পর্যন্ত সুবাদার ছিলেন এবং সুবেদার ইসলাম খান ১৬১০ সালে ঢাকার রাজধানী স্থাপন করেন। তারা কেউই লালবাগ দুর্গের সাথে সরাসরি জড়িত নন।
80

বাংলার ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’-এর সময় কাল:

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ

  4. ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রণয়ন করলে দেওয়ানি চলে যায় কোম্পানির হাতে আর প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকে নবাবের হাতে। ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়। এর ফল হিসেবে ১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যা 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত। এ দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ
বাংলার ইতিহাসে এটি ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ নামে পরিচিত কারণ এটি বাংলা সন ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (BE) সংঘটিত হয়েছিল।
সন তারিখের সূত্রানুসারে, বাংলা সন ১১৭৬ খ্রিস্টাব্দে রূপান্তর করলে তা ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ হয়। এই মন্বন্তর ১৭৭০-১৭১১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চলেছিল।
এই মন্বন্তর ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণ, অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের চাপ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ (অনাবৃষ্টি) এর সম্মিলিত ফল।
মন্বন্তরের সময় বাংলার গভর্নর ছিলেন জন কার্টিয়ার (John Cartier), তবে এর ভয়াবহতার মূল কারণ ছিল লর্ড ক্লাইভ কর্তৃক ১৭৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা।
81

সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
  2. ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  3. ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  4. ২০ জানুয়ারি, ১৯৫২

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ বাংলা ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার একটি প্রথম সারির রাজনৈতিক দল ছিল। ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার লাইব্রেরি হলে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে একটি সভায় এই দল গঠন করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দিতে এবং বৃহত্তর ঐক্য সৃষ্টির লক্ষ্যে ছাত্র, শিক্ষক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে এই পরিষদ গঠন করা হয়।
এই দিন, ঐতিহাসিক ঢাকা বার লাইব্রেরি হলে (মতান্তরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বার লাইব্রেরি হল) অনুষ্ঠিত এক সভায় এই 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
সভায় মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতিত্ব করেন এবং এই পরিষদের প্রধান আহ্বায়ক (Chief Convener) ছিলেন আব্দুল মতিন (ছাত্র নেতা)।
এই পরিষদই মূলত ৪ ফেব্রুয়ারি প্রদেশব্যাপী ধর্মঘট ও ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা দিবস পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল।
82

৬ দফা দাবি পেশ করা হয়:

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৯৭০ সালে
  2. ১৯৬৬ সালে
  3. ১৯৬৫ সালে
  4. ১৯৬৯ সালে

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা নামে পরিচিত ‘৬ দফা দাবি’ পেশ করেন। ১৯৬৬ সালের ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘৬ দফা দাবি’ উত্থাপন করা হয়। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবিতে গণআন্দোলন শুরু হলে পুলিশের গুলিতে বিভিন্ন স্থানে ১১ জন বাঙালি নিহত হন। এ জন্য প্রতি বছর ৭ জুন ছয় দফা দিবস পালিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৯৬৬ সালে
ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে এই দাবিগুলো পেশ করেন।
এটি পরে ১৯৬৬ সালের ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, ১৯৬৯ সালটি গণঅভ্যুত্থানের এবং ১৯৭০ সালটি সাধারণ নির্বাচনের জন্য ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।
83

বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ভাষণের সময়কালে পূর্ব পাকিস্তানে যে আন্দোলন চলছিল সেটি হলো:

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ইসলামাবাদের সামরিক সরকার পদত্যাগের আন্দোলন
  2. পূর্ব পাকিস্তানের অসহযোগ আন্দোলন
  3. প্রেসিডেন্ট ইয়াহহিয়ার পদত্যাগ আন্দোলন
  4. মার্শাল ‘ল’ পদত্যাগের আন্দোলন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

১ মার্চ ১৯৭১ ইয়াহিয়া খান পূর্ব ঘোষিত ৩ মার্চের ঢাকায় পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের ডাকা অধিবেশন স্থগিত করেন। ঐ স্থগিতাদেশের প্রতিবাদে বাঙালি জনতা রাস্তায় নেমে আসে। সেদিন থেকে ২৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে চলে অসহযোগ আন্দোলন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পূর্ব পাকিস্তানের অসহযোগ আন্দোলন
১৯৭১ সালের ১ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করলে, পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়। এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ থেকে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।
এই অসহযোগ আন্দোলনই ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ভাষণের সময়কালে পূর্ব পাকিস্তানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলছিল। ৭ মার্চের ভাষণ ছিল মূলত এই চলমান আন্দোলনের পরবর্তী দিকনির্দেশনা।
এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল, কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে সম্পূর্ণ অসহযোগিতা প্রদর্শন করে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধিকারের পথে চালিত করা, যা ২৫ মার্চ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
84

২৬ মার্চ, ১৯৭১-এর স্বাধীনতা ঘোষণা বঙ্গবন্ধু জারী করেন-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বেতার/রেডিওর মাধ্যমে
  2. ওয়্যারলেসের মাধ্যমে
  3. টেলিগ্রামের মাধ্যম
  4. টেলিভিশনের মাধ্যমে

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

১৯৭১ সালের মার্চের মধ্যরাতে অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পূর্বে বঙ্গবন্ধু ইপিআরের ওয়্যারলেসের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, যা পরদিন অর্থাৎ ২৬ মার্চে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান প্রচার করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ওয়্যারলেসের মাধ্যমে
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতের পর (অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে ধানমন্ডির ৩২ নং বাড়ি থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা করেন।
এই ঘোষণাটি ছিল একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা। তিনি ইপিআর (তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস) এর ওয়্যারলেস/সিক্রেট ট্রান্সমিটার ব্যবহার করে বার্তাটি চট্টগ্রামে প্রেরণ করেন। এই বার্তার মাধ্যমেই দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা হয়।
অনেকে ভুলবশত 'বেতার/রেডিও' নির্বাচন করেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বেতারে পরবর্তীতে এই ঘোষণাটি অন্যদের মাধ্যমে পাঠ করা হয়েছিল, কিন্তু মূল জারীকৃত বার্তাটি পাঠানো হয়েছিল গোপন ওয়্যারলেসের মাধ্যমে।
85

ঢাকার ‘ধোলাই খাল’ কে খনন করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পরিবিবি
  2. ইসলাম খান
  3. শায়েস্তা খান
  4. ঈশা খান

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

১৬০৮-১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার প্রথম মুঘল সুবাদার ইসলাম খান 'ধোলাই খাল' খনন করেন। এ খালটি বালু নদীকে বুড়িগঙ্গা নদীর সাথে যুক্ত করেছিল। খালটি পার হওয়ার জন্য ফরাশগঞ্জ ও গেণ্ডারিয়া বরাবর একটি ঝুলন্ত সেতু ছিল।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ইসলাম খান
মুঘল সুবাহদার ইসলাম খান চিশতি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে সুবাহ বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং এর নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর
নতুন রাজধানীকে শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা এবং অভ্যন্তরীণ নৌ-যোগাযোগ ও জল নিষ্কাশনের সুবিধার জন্য তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ খালটি খনন করেছিলেন।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল কারণ: শায়েস্তা খান (Shaista Khan) মুঘল আমলের বিখ্যাত সুবাহদার হলেও ধোলাই খাল খননের কৃতিত্ব তাঁর নয়। ঈশা খান (Isa Khan) ছিলেন মুঘলদের আগমনের পূর্বের বারো ভূঁইয়াদের নেতা এবং পরিবিবি (Pari Bibi) ছিলেন শায়েস্তা খানের কন্যা, যাঁর সাথে লালবাগ কেল্লার সম্পর্ক রয়েছে।
86

বাংলা ভাষাকে পাকিস্তান গণপরিষদ কোন তারিখে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৭ মে, ১৯৫৪
  2. ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৩
  3. ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬
  4. ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

পাকিস্তান গণপরিষদ ৭ মে ১৯৫৪ তারিখে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আর ২৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ বাংলা ভাষা পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ৭ মে, ১৯৫৪
যদিও বাংলা ভাষা সাংবিধানিকভাবে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায় ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি তারিখে (যখন পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গৃহীত হয়), তবে পরীক্ষার প্রশ্নে প্রায়শই ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক আইনসভার পদক্ষেপকে কেন্দ্রীয় গণপরিষদের স্বীকৃতির পূর্ববর্তী ধাপ হিসেবে ধরা হয়।
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন জয়ের পর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের উদ্যোগে ৭ মে, ১৯৫৪ তারিখে পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক আইন পরিষদে বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এই প্রস্তাবটি কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার জন্য চূড়ান্ত চাপ সৃষ্টি করে।
১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ তারিখটি ১৯৫৬ সালের সংবিধানের কাছাকাছি হলেও, ৭ মে, ১৯৫৪ এর প্রস্তাবটিই ছিল প্রথম কার্যকর আইনি উদ্যোগ যা চূড়ান্ত স্বীকৃতির পথ খুলে দেয়।
২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ হলো আত্মদানের দিন, স্বীকৃতির দিন নয়।
87

মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন তারিখে বুদ্ধিজীবীদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  2. ২৫ মার্চ, ১৯৭১
  3. ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  4. ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এসে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী এ দেশীয় রাজাকার বাহিনীর সহযোগিতায় ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালায়। আর ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ, ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর যথাক্রমে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয় সংঘটিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তারিখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাত্র দুই দিন আগে, পরাজয় নিশ্চিত জেনে তারা তাদের স্থানীয় দোসর (collaborators) যেমন— আল-বদর, আল-শামস ও রাজাকারদের সহায়তায় দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। এটি ছিল জাতিকে মেধাশূন্য করার পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
অন্যান্য বিকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দিন: ২৫ মার্চ, ১৯৭১ তারিখে পাকিস্তানি বাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে গণহত্যা শুরু করে। ২৬ মার্চ, ১৯৭১ তারিখে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ তারিখে বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় লাভ করে।
88

বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা কতটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৭টি
  2. ৬৪টি
  3. ২০টি
  4. ১৯টি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

১৯৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ডে জেলার সংখ্যা ছিল ১৬ টি। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় নদীয়া জেলা থেকে প্রাপ্ত অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ১৭তম জেলা ‘কুষ্টিয়া’ গঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের ১ জানুয়ারি বৃহত্তর বরিশাল জেলা থেকে ‘ পটুয়াখালী’ (১৮তম) এবং একই সালের ১ ডিসেম্বর বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে ‘টাঙ্গাইল’ (১৯তম) জেলা আত্মপ্রকাশ করে। এরপর ২৬ ডিসেম্বর ১৯৭৮ বৃহত্তম ময়মনসিংহ জেলা থেকে ২০তম জেলা হিসেবে গঠিত হয় জামালপুর। তারপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তারিখ ও প্রজ্ঞাপন মূলে দেশে জেলার সংখ্যা হয় ৬৪টি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো ২০টি
এই প্রশ্নটি বাংলাদেশের বর্তমান ৬৪টি জেলার সংখ্যা জানতে চায়নি, বরং প্রশাসনিক ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য জানতে চেয়েছে। 'বৃহত্তম জেলা' বা 'পুরাতন জেলা' বলতে সাধারণত ১৯৮৪ সালের পূর্বে বিদ্যমান থাকা প্রশাসনিক জেলাগুলিকে বোঝানো হয়।
প্রশাসনিকভাবে এই বৃহত্তর ইউনিটগুলো ছিল ১৯টি। তবে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা এই চারটি মেট্রোপলিটন এলাকাকে পৃথকভাবে গণনা করলে অনেক ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ২০টি ধরা হয়। বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ২০ সংখ্যাটি সঠিক হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
বিসিএস পরীক্ষার জন্য ৬৪টি অপশনটি ভুল, কারণ এটি বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যমান মোট জেলার সংখ্যা।
89

পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠনকালে ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. লর্ড রিপন
  2. লর্ড কার্জন
  3. লর্ড মিন্টো
  4. লর্ড হার্ডিঞ্জ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্য প্রদেশ ও আসামের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল বাংলা প্রদেশ বা বাংলা প্রেসিডেন্সি। এর আয়তন বড় হওয়ায় ১৯০৩ সালে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা গৃহীত হয়। ১৯০৪ সালে ভারত সচিব এটি অনুমোদন করেন এবং ১৯০৫ সালের জুলাই মাসে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়। এ পরিকল্পনায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ। এ প্রদেশ গঠনকালে ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন লর্ড কার্জন। বঙ্গভঙ্গ রদের সময় গভর্নর ছিলেন লর্ড হার্ডিঞ্জ।

ব্যাখ্যা

পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠিত হয়েছিল ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গের (Partition of Bengal) মাধ্যমে।
এই ঐতিহাসিক বিভাজনের সময় ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন লর্ড কার্জন (Lord Curzon)। তিনি ১৮৯৯ সাল থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত ভাইসরয় হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
লর্ড কার্জনের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনিক সুবিধার কথা বললেও, আসলে তিনি হিন্দু ও মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলকে বিভক্ত করে বাংলার জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দুর্বল করতে চেয়েছিলেন।
অন্যান্য বিকল্প ভুল কারণ: লর্ড রিপন ছিলেন ১৮৮০-১৮৮৪ সালে (অনেক আগে)। লর্ড মিন্টো কার্জনের পরে আসেন এবং লর্ড হার্ডিঞ্জ ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করেন।
90

১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ধানের শীষ
  2. নৌকা
  3. লাঙ্গল
  4. বাইসাইকেল

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

পাকিস্তান শাসনামলে পূর্ব বাংলার প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৪ সালের ১১ মার্চ। এ নির্বাচনে মুসলিম লীগের পরাজয় নিশ্চিত করতে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক দল, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল একত্রিত হয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গঠন করে যুক্তফ্রন্ট। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিল নৌকা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নৌকা
১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে চারটি প্রধান বিরোধী দল মিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ (United Front) গঠন করে।
এই চারটি দলের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ছিল মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ। যেহেতু নৌকা ছিল আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতীক, তাই যুক্তফ্রন্ট এই প্রতীকটি গ্রহণ করে।
এই নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ঐতিহাসিক ভূমিধস জয় লাভ করেছিল। তারা মোট ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে, যেখানে মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন।
অন্যান্য বিকল্পের মধ্যে, ধানের শীষ হলো ১৯৭৮ সালে গঠিত হওয়া বিএনপি'র প্রতীক এবং লাঙ্গল হলো বর্তমান জাতীয় পার্টির প্রতীক। এই দলগুলো ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
91

ঐতিহাসিক ৬-দফাকে কিসের সাথে তুলনা করা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিল অব রাইটস
  2. ম্যাগনাকার্টা
  3. পিটিশন অব রাইটস
  4. মুখ্য আইন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে মুক্তির জন্য ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা’ কর্মসূচি পেশ করেন। এ কর্মসূচিকে বাংলার জনগণ ম্যাগনাকার্টা হিসেবে গ্রহণ করে। স্বয়ং বঙ্গবন্ধু এ ছয় দফাকে পূর্ব পাকিস্তানের ‘বাঁচার দাবি’ বলে অভিহিত করেন।

ব্যাখ্যা

ঐতিহাসিক ৬-দফা কর্মসূচিকে বাংলার জনগণের মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা (Magna Carta) বলা হয়।
ম্যাগনাকার্টা হলো ইংল্যান্ডের রাজা জন কর্তৃক ১২১৫ সালে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক দলিল, যা রাজার ক্ষমতাকে সীমিত করে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেছিল।
একইভাবে, ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ঘোষিত ৬-দফা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি, যা তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালিদের মুক্তির পথ রচনা করে। তাই এই দুটি দলিলের গুরুত্বের সাযুজ্য থাকায় ৬-দফাকে ‘বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ হিসেবে তুলনা করা হয়।
অন্যান্য অপশন যেমন—বিল অব রাইটস বা পিটিশন অব রাইটস সাংবিধানিক দলিল হলেও ৬-দফার সাথে এর তুলনামূলক গুরুত্বের দিক থেকে ম্যাগনাকার্টাই সর্বজনস্বীকৃত।
92

বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীন নবাব কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  2. মুর্শিদ কুলী খান
  3. ইলিয়াস শাহ
  4. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

১৭০০ সালে শায়েস্তা খানের দক্ষ সুবাদার হিসেবে বাংলার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন মুর্শিদকুলি খান। নবাব মুর্শিদকুলি খানের সময় থেকেই বাংলা সুবা প্রায় স্বাধীন হয়ে পড়ে। ১৩৩৮ সালে ফখরুদ্দীন মোবারক শাহ বাংলার স্বাধীনতার সূচনা করলেও প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলা। সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহী যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: মুর্শিদ কুলী খান (অপশন খ)। তিনি বাংলা, বিহার ও ওড়িশার স্বাধীন নবাবী শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
মুর্শিদ কুলী খান মূলত মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের দ্বারা নিযুক্ত হলেও, **১৭১৭** সালে তিনি বাংলার সুবাদার (Governor) পদ লাভ করার পর থেকে কার্যত স্বাধীনভাবে শাসন পরিচালনা শুরু করেন। তিনি মুঘলদের নিকট রাজস্ব প্রেরণ অনিয়মিত করে দেন এবং বংশানুক্রমিক শাসন চালু করেন, যা তাকে প্রথম স্বাধীন নবাব হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল: নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন এই বংশের শেষ স্বাধীন নবাব, যিনি পলাশীর যুদ্ধে (১৭৫৭) পরাজিত হন। ইলিয়াস শাহ এবং আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন নবাবী আমলের অনেক আগেকার স্বাধীন সুলতান, নবাব নন।
93

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ কার রচিত গ্রন্থ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. শেখ হাসিনা
  3. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. এ. কে. ফজলুল হক

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ২০১২ সালের ১৮ জুন গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এ পর্যন্ত গ্রন্থটি ১২টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে: ইংরেজি, উর্দু, জাপানি, চীনা, আরবি, ফরাসি, হিন্দি, তুর্কি, নেপালি, অসমীয়া ও রুশ। তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ হলো: কারাগারের রোজনামচা (২০১৭), আমার দেখা নয়াচীন (২০২০) এবং আমার কিছু কথা (২০২০)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ (The Unfinished Memoirs) গ্রন্থটি মূলত স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর লেখা আত্মজীবনী।
তিনি ১৯৬৭ সাল-এ ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে এটি লেখা শুরু করেন, কিন্তু লেখা অসমাপ্ত থাকে। এই গ্রন্থে ১৯২০ সালের জন্ম থেকে শুরু করে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি, বিশেষত রাজনৈতিক সংগ্রাম ও অভিজ্ঞতার বিবরণ রয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা পাণ্ডুলিপিটি খুঁজে বের করেন এবং তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে বইটি ২০১২ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
94

In the 18th Century the Mughal Empire begun to -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. discriminate
  2. disintegrate
  3. differentiate
  4. dislocate

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

Discriminate অর্থ- পৃথক করা, বৈষম্য করা; disintegrate- পৃথক হওয়া, ভেঙে যাওয়া, ক্রমাগত ধ্বংস হওয়া; differentiate- পৃথক করা এবং dislocate- স্থানচ্যুত করা। প্রশ্নোক্ত বাক্যটির অর্থ হয় ‘১৮ শতকে মুঘল সাম্রাজ্য ক্রমাগত ধ্বংস হতে শুরু করে।’

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো disintegrate, যার অর্থ হলো ভেঙে যাওয়া বা টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া।
মুঘল সাম্রাজ্যের ব্যাপক পতন এবং ক্ষয় শুরু হয় মূলত সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর (১৭০৭ সাল) পর থেকে।
১৮শ শতাব্দীতে (18th Century) কেন্দ্রীয় মুঘল শক্তি দুর্বল হয়ে পড়লে বিভিন্ন আঞ্চলিক শাসক (যেমন: মারাঠা, শিখ, ও স্বাধীন সুবাদারগণ) বিদ্রোহ শুরু করে এবং নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এর ফলে বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যটি খন্ড-বিখন্ড (disintegrate) হতে শুরু করে এবং এর আনুষ্ঠানিক পতন ঘটে।
অন্যান্য অপশনগুলো যেমন— 'discriminate' (বৈষম্য করা), 'differentiate' (পার্থক্য করা) অথবা 'dislocate' (স্থানচ্যুত করা) ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে সাম্রাজ্যের পতনের প্রক্রিয়া বোঝাতে উপযুক্ত নয়।
95

চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ এর দীক্ষাগুরু কে ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অতীশ দিপঙ্কর

  2. শিলভদ্র
  3. মা হুয়ান

  4. মেগাস্থিনিস

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ বা ইউয়ান চোয়াং এর দীক্ষাগুরু ছিলেন নালন্দা বিহার/নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শিলভদ্র। অতীশ দীপঙ্কর হলেন বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জে জন্ম নেওয়া একজন প্রখ্যাত পণ্ডিত, যিনি পাল সাম্রাজ্যের আমলে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু ও ধর্মপ্রচারক ছিলেন। মা হুয়ান ছিলেন চীনা-দূত। তিনি ১৪০৬ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন। অন্যদিকে মেগাস্থিনিস ছিলেন গ্রিসের একজন পর্যটক এবং ভূগোলবিদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: শিলভদ্র (Shilbhadra)। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ (Xuanzang) প্রায় ৭ম শতকে (৬৩০ থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দ) ভারত এবং প্রাচীন বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করেন।
তিনি মূলত বৌদ্ধ ধর্মীয় শাস্ত্র অধ্যয়ন ও সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে আসেন। ভারতে তিনি তৎকালীন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ নালন্দা মহাবিহারে শিক্ষা লাভ করেন।
নালন্দা মহাবিহারের অধ্যক্ষ এবং প্রখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত শিলভদ্রের কাছেই তিনি দীক্ষা ও উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। একারণে শিলভদ্র ছিলেন হিউয়েন সাঙ এর প্রধান দীক্ষাগুরু।
অতীশ দিপঙ্কর: তিনি অনেক পরে (১০ম-১১শ শতক) বাংলায় আবির্ভূত হন এবং তিব্বতে বৌদ্ধধর্ম প্রচার করেন।
মেগাস্থিনিস: তিনি মৌর্য যুগে (খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতক) ভারতে এসেছিলেন এবং গ্রিক রাষ্ট্রদূত ছিলেন।
96

মহাস্থবীর শিলভদ্র কোন মহাবিহারের আচার্য ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আনন্দ বিহার
  2. নালন্দা বিহার
  3. গোসিপো বিহার
  4. সোমপুর বিহার

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

মহাস্থবীর শিলভদ্র নালন্দা বিহারের আচার্য ছিলেন। তাঁর শিষ্য ছিলেন চীনা পর্যটক হিউয়ান সাঙ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো নালন্দা বিহার
নালন্দা মহাবিহার ছিল প্রাচীন ভারতের মগধ রাজ্যে অবস্থিত এবং বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র। এই বিহারে বহু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করতেন।
মহাস্থবীর শিলভদ্র ছিলেন সপ্তম শতকে (৬৩০ খ্রিস্টাব্দ) এই মহাবিহারের অধ্যক্ষ বা আচার্য। তিনি বৌদ্ধ দর্শনের একজন শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত ছিলেন।
চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং (Hsuan Tsang) যখন ভারতে আসেন, তখন তিনি প্রায় ৫ বছর ধরে আচার্য শিলভদ্রের কাছে বৌদ্ধশাস্ত্র নিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। হিউয়েন সাং-এর বর্ণনার মাধ্যমে নালন্দার খ্যাতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যান্য বিহারগুলি ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ব্যক্তির সাথে সম্পর্কিত: যেমন সোমপুর বিহার নির্মাণ করেন পাল রাজা ধর্মপাল
97

লর্ড ক্যানিং ভারত উপমহাদেশে প্রথম কোন ব্যবস্থা চালু করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা
  2. দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা
  3. সতীদাহ নিবারণ ব্যবস্থা
  4. পুলিশ ব্যবস্থা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

১৮৬১ সালে ভারতীয় পুলিশ আইন পাসের মাধ্যমে লর্ড ক্যার্নিং ভারত উপমহাদেশে প্রথম পুলিশ ব্যবস্থা চালু করেন। ১৭৯৩ সালে ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ ব্যবস্থার প্রবর্তক হলেন লর্ড কর্নওয়ালিস। দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত লর্ড ক্লাইভ। ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা রহিত ঘোষণা করার জন্য লর্ড বেন্টিঙ্ক নামটি সংস্কার আন্দোলনকারীদের নিকট প্রশংসিত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পুলিশ ব্যবস্থা
লর্ড ক্যানিং (Lord Canning) ১৮৫৬ থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত ভারত উপমহাদেশের গভর্নর-জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সিপাহী বিদ্রোহের (১৮৫৭) পর তিনি ভারতের প্রথম ভাইসরয় হন (১৮৫৮)।
তাঁর আমলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সংস্কার হলো পুলিশ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ। ১৮৬১ সালে তাঁর সময়েই ইন্ডিয়ান পুলিশ অ্যাক্ট (Indian Police Act, 1861) পাশ হয়, যা ব্রিটিশ ভারতের পুলিশ বাহিনীর কাঠামো নির্ধারণ করে দেয়।
বাকি বিকল্পগুলো অন্য গভর্নর-জেনারেলের সময় চালু হয়:
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা: এটি চালু করেন লর্ড কর্নওয়ালিস (১৭৯৩ সালে)।
দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা: এটি চালু করেন রবার্ট ক্লাইভ (১৭৬৫ সালে)।
সতীদাহ নিবারণ ব্যবস্থা: এটি চালু করেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক (১৮২৯ সালে)।
98

পাকিস্তানের গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রথম দাবি কে উত্থাপন করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আব্দুল মতিন
  2. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

পাকিস্তানের গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রথম দাবি উত্থাপন করেন কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ভাষা আন্দোলনের অগ্রদূত আব্দুল মতিন ‘ভাষা মতিন’ নামে পরিচিত। অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এ. কে. ফজলুল হক এবং শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি ছিলেন কুমিল্লার (তৎকালীন ত্রিপুরা জেলা) অন্যতম রাজনৈতিক নেতা এবং পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য।
২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে করাচিতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে তিনি সর্বপ্রথম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার আনুষ্ঠানিক দাবি উত্থাপন করেন।
তিনি তার প্রস্তাবে বলেন যে, পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৬ শতাংশের ভাষা বাংলা। তাই তিনি দাবি জানান, ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে যেন গণপরিষদের কার্যবিবরণীতে ব্যবহার এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়।
দুঃখজনকভাবে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান এবং পশ্চিম পাকিস্তানি নেতারা তার এই ন্যায্য দাবিটি প্রত্যাখ্যান করেন। কিন্তু এই ঘটনাই পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করে।
99

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কে ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. জেনারেল এম. এ. জি ওসমানী
  3. কর্নেল শফিউল্লাহ
  4. মেজর জিয়াউর রহমান

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মুজিবনগর সরকারের ঘোষণাপত্রে বলা হয় যে, প্রেসিডেন্ট নবগঠিত বাংলাদেশ সরকারের সকল আর্মড ফোর্সেস এর সুপ্রিম কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই সুপ্রিম কমান্ডার এর সরল অনুবাদ হলো সর্বাধিনায়ক। অন্যদিকে ১৯৭১ সালের ১১ জুলাই মুক্তিবাহিনীর যাত্রা শুরু হলে সারা দেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়, যার কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে নিযুক্ত হন কর্নেল আতাউল গণি ওসমানী। উল্লেখ্য, ১০নং সেক্টর ব্যতীত সকল সেক্টরে কমান্ডার নিয়োগ করা হয়। যাদের সবাই কমান্ডার ইন চিফ কর্নেল ওসমানীর অধীনে ছিলেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত মুজিবনগর সরকারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনিই ছিলেন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এবং সেই সুবাদে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক (Commander-in-Chief) ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতা ঘোষণাপত্র অনুযায়ী এই পদটি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছিল। তিনি পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী থাকায় তার অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
বিভ্রান্তির কারণ: অনেকেই জেনারেল এম. এ. জি ওসমানী-কে সর্বাধিনায়ক মনে করেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ওসমানী ছিলেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সেনাপতি (Chief Commander of the Armed Forces), আর বঙ্গবন্ধু ছিলেন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী সর্বাধিনায়ক
100

Making of a Nation Bangladesh' গ্রন্থের রচয়িতা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. এস. এ. করিম
  2. কামাল হোসেন
  3. নুরুল ইসলাম
  4. আনিসুর রহমান

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

‘Making of a Nation Bangladesh’ গ্রন্থের রচয়িতা হলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী প্রফেসর নুরুল ইসলাম। ড. কামাল হোসেন হলেন ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান ও দেশের প্রখ্যাত আইনজীবী।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নুরুল ইসলাম
গ্রন্থটির পূর্ণ নাম হলো 'Making of a Nation Bangladesh: An Economist's Tale'
লেখক অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের ইতিহাসে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারে পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং গ্রন্থে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন।
অন্যান্য বিকল্পের মধ্যে, ড. কামাল হোসেন এর বিখ্যাত গ্রন্থ হলো 'Bangladesh: Quest for Freedom and Justice', এবং এস. এ. করিম এর বিখ্যাত গ্রন্থ হলো 'Sheikh Mujib: Triumph and Tragedy'
101

কোন বিখ্যাত ম্যাগাজিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির কবি (Poet of Politics) আখ্যা দিয়েছিল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. টাইম
  2. নিউজ উইক্স
  3. ইকোনোমিক এন্ড পলিটিক্যাল উইক্লি
  4. ইকোনোমিস্ট

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

মার্কিন সাময়িকী নিউজ উইক্‌স ৫ এপ্রিল ১৯৭১ সংখ্যার একটা নিবন্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে Poet of Politics বা রাজনীতির কবি হিসেবে উল্লেখ করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নিউজ উইক্স (Newsweek)
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন নিউজ উইক্স (Newsweek) ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল সংখ্যায় (কিছু উৎস অনুযায়ী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘Poet of Politics’ বা 'রাজনীতির কবি' আখ্যা দিয়ে একটি ফিচার প্রকাশ করে।
এই উপাধি দেওয়ার প্রধান কারণ ছিল: ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ। এই ভাষণে তিনি কৌশলের সাথে একটি জাতির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন, যেখানে ছিল একই সাথে কাব্যময়তা ও রাজনীতির প্রখর দূরদর্শিতা।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল। টাইম (Time) ম্যাগাজিনের সাথেও বঙ্গবন্ধুর অনেক গুরুত্বপূর্ণ কভার স্টোরি আছে, তবে ‘Poet of Politics’ উপাধিটি বিশেষভাবে নিউজ উইক্স ম্যাগাজিন প্রদান করেছিল।
102

১৯৭১ সনের কত তারিখে মুজিবনগরে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৭ মার্চ, ১৯৭১ খ্রি.
  2. ২৬ মার্চ, ১৯৭১ খ্রি.
  3. ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ খ্রি.
  4. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ খ্রি.

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে বিজয়ী সদস্যগণ ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ ভারতের আগরতলায় একত্রিত হয়ে একটি সরকার গঠন করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে উপনীত হন। ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথ তলার (বর্তমান মুজিবনগর) ভবের-পাড়া গ্রামে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’ আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। রাষ্ট্রপতি শাসিত এ সরকার পদ্ধতির মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ খ্রি.
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার (মুজিবনগর সরকার) আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়। এই সরকার গঠিত হয়েছিল তৎকালীন কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে
যদিও সরকার ১০ এপ্রিল গঠিত হয়েছিল, কিন্তু শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি হয়েছিল ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ তারিখে, মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় (যা পরে মুজিবনগর নামকরণ করা হয়)। তাই প্রশ্নে 'গঠিত' শব্দটি থাকলে ১০ এপ্রিল উত্তর হবে।
অন্যান্য তারিখগুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর নয়:
৭ মার্চ: বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ
২৬ মার্চ: স্বাধীনতার ঘোষণা (২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে)।
১৬ ডিসেম্বর: বিজয় দিবস
103

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত তারিখে জন্মগ্রহণ করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১ মার্চ, ১৯১৯ খ্রি.
  2. ১৭ মার্চ, ১৯২০ খ্রি.
  3. ১৪ আগস্ট, ১৯৪৭ খ্রি.
  4. ২১ জুন, ১৯৪১ খ্রি.

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ১৭ মার্চ, ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দ
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (Sheikh Mujibur Rahman) এই তারিখে তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি মৌলিক প্রশ্ন, যা বারবার পরীক্ষায় আসে।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে ১৪ আগস্ট, ১৯৪৭ তারিখে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিল, যা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
104

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করা হয় কত সনে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৭৫৭ খ্রি.
  2. ১৭৭০ খ্রি.
  3. ১৮৫৭ খ্রি.
  4. ১৭৯৩ খ্রি.

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হলো ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস প্রশাসন কর্তৃক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সরকার ও বাংলার জমি মালিকদের (সকল শ্রেণির জমিদার ও স্বতন্ত্র তালুকদারদের) মধ্যে সম্পাদিত একটি যুগান্তকারী চুক্তি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: ১৭৯৩ খ্রি.
১৭৯৩ সালে বাংলার গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিস (Lord Cornwallis) রাজস্ব সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন, যা ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ (Permanent Settlement) নামে পরিচিত।
এই বন্দোবস্তের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার এবং জমিদারদের মধ্যে ভূমি রাজস্বের একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরি করা হয়। জমিদাররা জমির স্থায়ী মালিকানা পান এবং একটি নির্দিষ্ট হারে সরকারকে খাজনা দিতে বাধ্য থাকেন।
অন্যান্য বিকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা নির্দেশ করে, কিন্তু চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সাথে সম্পর্কিত নয়:
১৭৫৭ খ্রি.: পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
১৭৭০ খ্রি.: ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (গ্রেট বেঙ্গল ফেমিন) দেখা দেয়।
১৮৫৭ খ্রি.: সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
105

মুজিবনগর কোন জেলায় অবস্থিত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. যশোর
  2. মেহেরপুর
  3. চুয়াডাঙ্গা
  4. কুষ্টিয়া

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর থেকে জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন করা হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার (বর্তমান মুজিবনগর) আমবাগানে এ সরকারের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মুজিবনগর উপজেলার কার্যক্রম শুরু হয় ২০০০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মেহেরপুর
ঐতিহাসিক মুজিবনগর বর্তমানে মেহেরপুর জেলার একটি উপজেলার নাম। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল এখানেই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার (যা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত) শপথ গ্রহণ করে।
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে এই স্থানটি তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া (আম্রকানন) নামক স্থানে অবস্থিত ছিল। পরে স্থানটির নাম পরিবর্তন করে মুজিবনগর রাখা হয়। বর্তমানে এটি সরাসরি মেহেরপুর জেলার অধীন।
106

বাংলদেশের প্রথম প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মে. জে. জিয়াউর রহমান
  2. মে. জে. সফিউল্লাহ
  3. লে. জে. এইচ. এম এরশাদ
  4. জে. আতাউল গনি ওসমানী

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি জে. আতাউল গনি ওসমানী। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত অস্থায়ী সরকারের প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব তাঁকে দেয়া হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: জে. আতাউল গনি ওসমানী
১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকার (প্রভিশনাল সরকার) তাকে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি (Commander-in-Chief) হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি ১১ই জুলাই, ১৯৭১ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনিই ছিলেন সর্বোচ্চ সামরিক কর্মকর্তা এবং তাঁর নেতৃত্বেই মুক্তিবাহিনী পরিচালিত হয়।
অন্যান্য অপশনে উল্লেখিত মে. জে. জিয়াউর রহমান, মে. জে. সফিউল্লাহ এবং লে. জে. এইচ. এম এরশাদ প্রত্যেকেই পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হলেও তারা কেউই মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রধান সেনাপতি ছিলেন না।
107

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 1921
  2. 1925
  3. 1929
  4. 1933

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

১৯২০ সালে ভারতীয় বিধান পরিষদে গৃহীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুসারে ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম চ্যান্সেলর লর্ড ডানডাস (জেসিআই) এবং প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর পি জে (ফিলিপ জোসেফ) হার্টজ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৯২১
ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক প্রণীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯২০ (Dhaka University Act, 1920) অনুসারে ১৯২১ সালের ১লা জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
তৎকালীন পূর্ববঙ্গে শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে বঙ্গভঙ্গ রদের (১৯১১) ফলে সৃষ্ট মুসলিম জনগণের অসন্তোষ প্রশমিত করাই ছিল এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
অন্যান্য সালগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সাথে সরাসরি যুক্ত নয়, তাই সেগুলো ভুল উত্তর।
108

কে বাংলার সাল গণনা শুরু করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. লক্ষ্মণ সেন
  2. ইলিয়াস শাহ
  3. বিজয় সেন
  4. আকবর

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বাংলা সনের প্রবর্তক সম্রাট আকবর রাজস্ব মন্ত্রী টোডরমলের পরামর্শে ৯৬৩ হিজরিকে ৯৬৩ সাল ধরে গণনা শুরু করে। কৃষিকাজের সুবিধার্থে মোগল সম্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১০/১১ মার্চ বাংলা সন প্রবর্তন করেন এবং ১৫৫৬ সালের ৫ নভেম্বর আকবর পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে হিমুকে পরাজিত করে। তার সিংহাসনে আরোহণের সময় থেকে কার্যকর হয়। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো আকবর। মুঘল সম্রাট আকবর (Akbar) ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১০ বা ১১ই মার্চ বাংলায় নতুন সাল গণনা তথা বঙ্গাব্দের (বাংলা সনের) প্রচলন শুরু করেন।
আকবর মূলত রাজস্ব আদায় (ফসলি বছর অনুযায়ী) সহজ করার জন্য প্রচলিত চান্দ্র হিজরি সনের পরিবর্তে সৌর পঞ্জিকার ভিত্তিতে এই নতুন সাল প্রবর্তনের নির্দেশ দেন।
এই নতুন পঞ্জিকার প্রথম নাম ছিল ‘তারিখ-ই-ইলাহী’, যা পরবর্তীতে বাংলা সন বা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিতি লাভ করে। এই সাল প্রবর্তনে আকবরের অর্থমন্ত্রী রাজা টোডরমলের প্রধান ভূমিকা ছিল।
অন্যান্য অপশনসমূহ ভুল, কারণ লক্ষ্মণ সেন এবং বিজয় সেন সেন বংশের রাজা ছিলেন, যাদের সময়কালে বাংলা সনের প্রচলন হয়নি। ইলিয়াস শাহ ছিলেন সুলতানি আমলের শাসক, যিনি বাংলাকে একত্রিত করলেও এই সাল প্রবর্তন করেননি।
109

বখতিয়ার খিলজি বাংলা জয় করেন কোন সালে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 1212
  2. 1200
  3. 1204
  4. 1211

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজি অশ্ব বিক্রেতার বেশে অতর্কিতে লক্ষ্মণ সেনের রাজধানী নদীয়া আক্রমণ করলে লক্ষ্মণ সেন পলায়ন করে এবং বখতিয়ার খিলজি বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত ঘটান।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১২০৪ সাল
বখতিয়ার খিলজি ছিলেন একজন তুর্কি সামরিক নেতা। তিনি ১২০৩-০৪ সালের দিকে নদীয়া (বাংলার তৎকালীন রাজধানী) আক্রমণ করে বাংলার শেষ হিন্দু রাজা সেন বংশের লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করেন।
এই বিজয়ের মাধ্যমে ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খিলজি বাংলায় মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপন করেন। এটি ছিল বাংলার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁক।
ঐতিহাসিকদের মতে, আক্রমণটি ১২০৪ খ্রিস্টাব্দের শেষ দিকে অথবা ১২০৫ খ্রিস্টাব্দের প্রথম দিকে সংঘটিত হয়। তবে বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ১২০৪ সালটিই সঠিক উত্তর হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
110

প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপের বর্তমান নাম কি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মালদ্বীপ
  2. সন্দ্বীপ
  3. হাতিয়া
  4. বরিশাল

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সুপ্রাচীনকালে বর্তমান বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চল ‘চন্দ্রদ্বীপ’ নামে পরিচিত ছিল। বিভিন্ন ইতিহাসবিদ তাদের রচিত গ্রন্থে চন্দ্রদ্বীপ নামকরণ সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন অভিমত ব্যক্ত করেন। যেমন প্রাকৃতিক কারণে এ অঞ্চল চন্দ্রকলার মতো হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটত অথবা চাঁদের মতো আকৃতির ছিল বলে নাম হয় চন্দ্রদ্বীপ।

ব্যাখ্যা

প্রাচীনকালে বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনপদ ছিল চন্দ্রদ্বীপ। এটি বর্তমান বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষত বরিশাল অঞ্চলকে নির্দেশ করত।
এই জনপদটি মূলত বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং সুন্দরবনের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল। এর শাসক ছিলেন দানুজ রায়। তাই চন্দ্রদ্বীপের বর্তমান নাম বরিশাল
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল কারণ: মালদ্বীপ একটি সার্বভৌম দ্বীপ রাষ্ট্র। সন্দ্বীপ এবং হাতিয়া দুটি ছোট দ্বীপ, যা বৃহত্তর চন্দ্রদ্বীপ অঞ্চলের অংশ ছিল না, বরং বর্তমানে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার অন্তর্ভুক্ত।
111

৬-দফা দাবি কোথায় উত্থাপিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ঢাকা
  2. লাহোর
  3. দিল্লি
  4. চট্টগ্রাম

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ (৬-২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৫) সমাপ্তির পর উভয় দেশের মধ্যে ‘তাসখন্দ চুক্তি’ (১০ জানুয়ারি, ১৯৬৬) স্বাক্ষরের পটভূমিকায় ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি, লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলের এক সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো লাহোর
১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক জাতীয় সম্মেলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ৬-দফা দাবি উত্থাপন করেন।
যদিও ৬-দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল লাহোরে, এটি পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে ঢাকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় এবং এর ব্যাপক প্রচার শুরু হয়। তাই, উত্থাপনস্থল এবং আনুষ্ঠানিক প্রচারের স্থান আলাদা।
112

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৯১১ সালে
  2. ১৯২১ সালে
  3. ১৯৩১ সালে
  4. ১৯৪১ সালে

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

১৯২০ সালে ভারতীয় বিধান পরিষদে গৃহীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুসারে ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম চ্যান্সেলর লর্ড ডানডাস (জেসিআই) এবং প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর পি জে (ফিলিপ জোসেফ) হার্টজ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ১৯২১ সালে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (Dhaka University) আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে ১৯২১ সালের ১লা জুলাই। এটি মূলত ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সরকারের আমলে, বঙ্গভঙ্গ রদের (১৯১১) পর ঢাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
এই বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রায়শই 'প্রাচ্যের অক্সফোর্ড' (Oxford of the East) নামে অভিহিত করা হয়, যা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে মাইলফলক।
113

বঙ্গভঙ্গের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. লর্ড মাউন্টব্যাটেন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: লর্ড কার্জন
বঙ্গভঙ্গ (Partition of Bengal) কার্যকর হয় ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর। এই সময়কালে (১৮৯৯-১৯০৫) ভারতের গভর্নর জেনারেল এবং ভাইসরয় ছিলেন লর্ড কার্জন (Lord Curzon)
প্রশাসনিক সুবিধার্থে তিনি এই বিভাজনের প্রস্তাব করেন, যা ছিল মূলত 'Divide and Rule' নীতির অংশ। বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে বাংলা প্রদেশকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়: পূর্ববঙ্গ ও আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গ
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ:
লর্ড ওয়েলেসলি: তিনি ১৭৯৮ সালে 'সহায়ক চুক্তির' (Subsidiary Alliance) প্রবর্তন করেন।
লর্ড ডালহৌসি: তিনি ১৮৪৮ সালে 'স্বত্ববিলোপ নীতি' (Doctrine of Lapse) চালু করেন এবং ১৮৫৩ সালে ভারতে রেলওয়ের সূচনা করেন।
লর্ড মাউন্টব্যাটেন: তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ ভাইসরয় এবং ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সময় ভারতের দায়িত্বে ছিলেন।
114

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. জেনারেল আতাউল গনি ওসমানি
  3. তাজউদ্দিন আহমদ
  4. ক্যাপটেন মনসুর আলী

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগরে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তক্রমে ১১ এপ্রিল ১৯৭১ জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীকে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ‍নিযুক্ত করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: জেনারেল আতাউল গনি ওসমানি (General M. A. G. Osmani)।
তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত অস্থায়ী মুজিবনগর সরকারের অধীনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সেনাপতি (Commander-in-Chief)
যদিও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক (Supreme Commander), কিন্তু সামরিক অভিযানের প্রকৃত কমান্ডিং দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল ওসমানি
তাজউদ্দিন আহমদ ছিলেন মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
115

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৪টি
  2. ৭টি
  3. ১১টি
  4. ১৪টি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

জেনারেল এম. এ. জি ওসমানী আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র বাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১১টি
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সামরিক কৌশলগত ও প্রশাসনিক সুবিধার জন্য গোটা বাংলাদেশকে ১১টি (Eleven) সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তারিখে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং এপ্রিলেই এই বিভাজন প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা জুলাই মাসের মধ্যে সুসংগঠিত রূপ নেয়।
এই সেক্টরগুলোর নেতৃত্বে ছিলেন সেক্টর কমান্ডারগণ। একমাত্র ১০ নম্বর সেক্টরটি ছিল নৌ-কমান্ডোদের জন্য এবং এর কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা ছিল না।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল: ৪টি বা ৭টি সেক্টর ছিল না। ১৪টি অপশনটি সাধারণত উপ-সেক্টরগুলোর (উপ-সেক্টর ছিল ৬৪টিরও বেশি) সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়।
116

বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতিদানকারী দেশ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভারত
  2. শ্রীলংকা
  3. মায়ানমার
  4. রাশিয়া

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ভারত
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ তারিখে ভারত বাংলাদেশকে প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে।
ভারত সরকার কর্তৃক এই স্বীকৃতি প্রদানের ঘটনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও গতিশীল করে তোলে।
117

বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতির নাম কি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. তাজউদ্দীন আহমদ
  3. শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ক্যাপটেন মনসুর আলী

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানকে তার অবর্তমানে রাষ্ট্রপতি এবং সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক করে সরকার গঠন করা হয়। সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী। ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ছিলেন মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: শেখ মুজিবুর রহমান
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ঘোষণাপত্র (Proclamation of Independence) জারি করা হয়। এই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়।
বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি) এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে মুজিবনগরে (তৎকালীন মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা) বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে।
অপশনগুলোর মধ্যে তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন প্রথম উপ-রাষ্ট্রপতি ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। ক্যাপটেন মনসুর আলী ছিলেন অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী।
118

সুলতানী আমলে বাংলার রাজধানীর নাম কি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সোনারগাঁ

  2. জাহাঙ্গীরনগর
  3. ঢাকা
  4. গৌড়

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সুলতানী আমলে (১৩৩৮-১৩৫২) খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার রাজধানী ছিল সোনারাগাঁও আর (১৪১৮-১৫৬৫) খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হিসেবে প্রশ্নে ঢাকা উল্লেখ থাকলেও, এটি ঐতিহাসিকভাবে একটি ভ্রান্ত বা অস্পষ্ট প্রশ্ন। কারণ, সুলতানী আমলে (১৩৩৮-১৫৩৮ খ্রি.) বাংলার প্রধান রাজধানী ছিল মূলত দুটি শহর:
১. গৌড় (Gaur), যা পূর্বে লখনৌতি (Lakhnauti) নামে পরিচিত ছিল। এটি ছিল স্বাধীন সুলতানদের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র।
২. পান্ডুয়া (Pandua), যা ফিরোজাবাদ নামে পরিচিত ছিল। এটিও কয়েকটি শক্তিশালী সুলতানী রাজবংশের (যেমন ইলিয়াস শাহী) রাজধানী ছিল।
অপরদিকে, ঢাকা শহরটি বাংলার রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় মুঘল আমলে (১৬১০ খ্রি.), যখন সুবেদার ইসলাম খান এটিকে রাজধানী করেন এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে জাহাঙ্গীরনগর নামকরণ করেন।
প্রশ্নটির অপশনগুলোর মধ্যে গৌড় সুলতানি আমলের সঠিক রাজধানী। তবে যদি প্রশ্নটি প্রাচীন বাংলার মুসলিম শাসনামলের সকল পর্যায়ের প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ঢাকা বা জাহাঙ্গীরনগরকে ইঙ্গিত করে থাকে, তাহলেই কেবল ঢাকা উত্তর হিসেবে বিবেচ্য হতে পারে। কিন্তু কঠোরভাবে সুলতানি আমলের জন্য গৌড় (অপশন ৪) বা সোনারগাঁ (অপশন ১) অপেক্ষাকৃত বেশি সঠিক ছিল।
119

ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় কে ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  3. লর্ড বেন্টিঙ্ক
  4. লর্ড ওয়াভেল

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

লর্ড মাউন্টব্যাটেন (মেয়াদকাল ১৯৪৫-১৯৪৭) ভারতবর্ষকে ভেঙে ১৪ আগস্ট, ১৯৪৭ পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট, ১৯৪৭ ভারত নামে ‍দুটি রাষ্ট্র গঠন করেন। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পর তার ভাইসরয় উপাধি বিলুপ্ত হয়ে গভর্নর জেনারেল উপাধিতে রূপান্তরিত হয়। ফলে তিনি ভারতের শেষ ভাইসরয় ও প্রথম গভর্নর জেনারেলে পরিণত হন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো লর্ড মাউন্টব্যাটেন (Lord Mountbatten)। তিনি ১৯৪৬ সালের মার্চ মাসে ভারতে আসেন এবং ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর অধীনেই ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। এ কারণে তাঁকে স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেলও বলা হয় (পরে তিনি রাজী গোপালাচারীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন)।
অন্যান্য বিকল্পের মধ্যে, লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গের (১৯০৫) জন্য এবং লর্ড বেন্টিঙ্ক ব্রিটিশ ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে (১৮৩৩) ও সতীদাহ প্রথা রদ করার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। লর্ড ওয়াভেল ছিলেন মাউন্টব্যাটেনের পূর্বসূরি ভাইসরয়।
120

ইয়ং বেঙ্গল কি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বাংলাভাষা শিক্ষার্থী ইংরেজ
  2. ইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট বাঙালি যুবক
  3. একটি সাহিত্যিক গোষ্ঠীর নাম
  4. একটি সাময়িক পত্রের নাম

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ইয়ং বেঙ্গল উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণ বা রেনেসাঁসের বার্তাবাহী পাশ্চাত্য শিক্ষা, সভ্যতা ও সংস্কৃতির আলোকে আলোকিত বাঙালি যুবসমাজ। এই দলের প্রায় সকলেই ছিলেন হিন্দু কলেজের ছাত্র এবং অধ্যাপক ডিরোজিওর শিষ্য। ইয়ং বেঙ্গলদের মুখপত্র ছিল এনকোয়ারার, জ্ঞানান্বেষণ, পার্থেনন প্রভৃতি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট বাঙালি যুবক। এটি মূলত উনিশ শতকের প্রথম দিকে (১৮২০-১৮৪০ এর দশক) কলকাতা **হিন্দু কলেজে** গড়ে ওঠা একদল প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী যুবকের গোষ্ঠী।
এই যুবকদের প্রধান অনুপ্রেরণা ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ শিক্ষক **হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও (Henry Louis Vivian Derozio)**। তিনি ফরাসি বিপ্লব এবং পাশ্চাত্যের যুক্তিবাদী চিন্তাধারায় শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করেন।
এই যুবকরা চরম যুক্তিবাদী, সন্দেহবাদী এবং প্রথা-বিরোধী ছিলেন। তারা প্রচলিত ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সামাজিক কুসংস্কারকে কঠোরভাবে আক্রমণ করে আধুনিক চিন্তা ও উদারনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন।
ভুল উত্তর: এটি কেবল একটি সাহিত্যিক গোষ্ঠীর নাম ছিল না; বরং একটি আদর্শবাদী ও সামাজিক সংস্কারক দল ছিল।
121

কোন গোষ্ঠী থেকে বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নেগ্রিটো
  2. ভোটচীন
  3. দ্রাবিড়
  4. অস্ট্রিক

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বাঙালি একটি সংকর জাতি। বিভিন্ন জাতির সংমিশ্রণে সময়ের পরিক্রমায় বাঙালি জাতির উদ্ভব হয়। এ দেশে অনার্য, আর্য, মঙ্গল, দ্রাবিড়, পর্তুগিজ, ইংরেজ প্রভৃতি জাতির আগমন ঘটে। এ দেশ প্রথমে অনার্য তথা অস্ট্রিক গোষ্ঠীর প্রভাবাধীন ছিল। অস্ট্রিক গোষ্ঠীর আগমনের অন্তত চৌদ্দশ বছর পর বঙ্গদেশে আর্য ও পরে দ্রাবিড় জাতির আগমন ঘটে। আর্যগণ সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে অনার্য অপেক্ষা উন্নততর হওয়ায় আর্যদের ভাষা ও সংস্কৃতি কালক্রমে বঙ্গদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নৃতাত্ত্বিক বিচারে অনার্য ভাষাভাষী কোল, শবর, পুলিন্দ, হাড়ি, ডোম, চণ্ডাল প্রভৃতি বাংলার আদিম অধিবাসী, যারা অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশিয়াটিক গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। আনুমানিক পাঁচ-ছয় হাজার বছর পূর্বে ইন্দোচীন থেকে আসাম হয়ে এ অস্ট্রিক গোষ্ঠীর বঙ্গদেশে আগমন ঘটে। এরা চাষাবাদ, লোহা-তামা প্রভৃতির ব্যবহার জানতো। কাজেই বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে অস্ট্রিক বা অনার্য গোষ্ঠী থেকে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অস্ট্রিক
বাঙালি জাতি মূলত একটি সংকর জাতি (Mixed Race), যেখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সংমিশ্রণ ঘটেছে। তবে নৃতত্ত্ববিদ ও ভাষাবিদদের মতে, বাঙালি জাতির প্রধান অংশটি (Main Component) গড়ে উঠেছে অস্ট্রিক বা অগ্নিকোণীয় (Austro-Asiatic) জনজাতি থেকে।
এই গোষ্ঠীটিকেই প্রাচীন ভারতে নিশাদ জাতি নামে অভিহিত করা হতো। এদের ভাষা ও সংস্কৃতি থেকেই বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি হয়েছে। ডাব, কদলী (কলা), লাউ – এই ধরনের বহু দেশি শব্দ অস্ট্রিক ভাষা থেকে এসেছে।
দ্রাবিড় গোষ্ঠীও গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু তারা অস্ট্রিকদের পরে প্রবেশ করে এবং তাদের প্রভাব মূলত সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত হলেও, দৈহিক গড়নের মূল ভিত্তিটি অস্ট্রিকদের মাধ্যমেই আসে।
122

ঢাকায় সর্বপ্রথম কবে বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৩১০ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ঢাকায় সর্বপ্রথম বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয় ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে। সুবেদার ইসলাম খান বিহারের রাজমহল থেকে ঢাকায় সর্বপ্রথম রাজধানী স্থানান্তর করেন এবং নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর। স্বাধীনতার পূর্বে ঢাকায় সর্বমোট চারবার রাজধানী স্থাপিত হয়  ১৬১০, ১৬৬০, ১৯০৫, ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে
মুঘল আমলের সুবা বাংলার রাজধানী হিসেবে ঢাকায় প্রথম রাজধানী স্থাপিত হয় ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে
তৎকালীন মুঘল সুবেদার ইসলাম খান চিশতি প্রশাসনিক ও সামরিক কৌশলগত কারণে রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
তিনি মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে ঢাকার নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর
অন্যান্য অপশনগুলো ঐতিহাসিক দিক থেকে ভুল: ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়; ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতে মুঘল শাসনের শুরু হয়।
123

ঐতিহাসিক ২১-দফা দাবীর প্রথম দাবিটী কি ছিল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা
  2. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  3. পূর্ববাংলার অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ
  4. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারী উচ্ছেদ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

১৯৫৪ সালে পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ৪ ডিসেম্বর মাওলানা ভাষানীর নেতৃত্ত্বে আওয়ামীলীগ, এ.কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে কৃষক শ্রমিক পার্টি, মাওলানা আতাহার আলী এর নেতৃত্বে নেজাম-ই-ইসলামী এবং হাজী দানেশ এর নেতৃত্বে বামপন্থী গণতন্ত্র দল যুক্তফ্রন্ট নামে নির্বাচনী মোর্চা গঠন করে। যুক্তফ্রন্ট থেকে ২১টি প্রতিশ্রুতি সম্বলিত যে নির্বাচনী মেনিফেস্টো ঘোষণা করা হয় তাই ২১ দফা নামে পরিচিত। উক্ত দফায় ১ম দফা: বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া। ২য় দফা: বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারী উচ্ছেদ। ‘প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন’ দাবীটি ৫-৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ সালে লাহোরে বিরোধী দলের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক পেশকৃত ছয় দফা দাবীর ১ম দফা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা
ঐতিহাসিক ২১-দফা দাবী রচিত হয়েছিল ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে। এই দাবীর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
এই দাবীনামার প্রথম দাবিটি ছিল ভাষা আন্দোলনের চেতনার সরাসরি প্রতিফলন—বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
যদিও প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন (২য় দাবি) এবং বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারী উচ্ছেদ (৪র্থ দাবি) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কিন্তু ২১-দফার তালিকা অনুযায়ী প্রথম দাবিটি ছিল রাষ্ট্রভাষা সংক্রান্ত।
124

স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্যে ‘বীরপ্রতীক’ উপাধি লাভ করে কতজন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৭ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ১৭৫ জন
  4. ৪২৬ জন

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখার জন্য মোট ৬৭৬ জনকে বীরত্বসূচক উপাধি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৭ জনকে বীরশ্রেষ্ঠ, ৬৮ জনকে বীর উত্তম, ১৭৫ জনকে বীর বিক্রম এবং ৪২৬ জনকে বীর প্রতীক উপাধি প্রদান করা হয়। ৪২৬ জন বীরপ্রতীকের মধ্যে ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম (সেনাবাহিনী, ২নং সেক্টর) এবং মোসাম্মৎ তারামন বেগম (গণবাহিনী, ১১ নং সেক্টর) এ দুজন হলেন নারী বীর প্রতীক। জুন, ২০২১ এ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জারীকৃত প্রজ্ঞাপনে ১ জন বীর উত্তম, ১ জন বীর বিক্রম ও ২ জন বীর প্রতীক এর খেতাব বাতিল করা হয়েছে।

ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার মোট ৪টি ক্যাটাগরিতে খেতাব প্রদান করে। খেতাবগুলোর সর্বনিম্ন স্তর হলো বীরপ্রতীক
স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরপ্রতীক খেতাব লাভ করেন মোট ৪২৬ জন
খেতাবপ্রাপ্ত মোট মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন। খেতাবগুলোর তালিকা নিম্নরূপ:
১. বীরশ্রেষ্ঠ: ৭ জন
২. বীর উত্তম: ৬৮ জন
৩. বীর বিক্রম: ১৭৫ জন
৪. বীর প্রতীক: ৪২৬ জন
125

স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখার জন্য কতজন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৫ জন
  2. ৭ জন
  3. ২ জন
  4. ৬ জন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার দু'জন মহিলাকে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করে। তারা হচ্ছেন ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম (সেনাবাহিনী, ২নং সেক্টর) এবং মোসাম্মৎ তারামন বেগম (গণবাহিনী, ১১নং সেক্টর)। ক্যাপ্টেন সেতারা বেগমকে ঐ সময় চিহ্নিত করা হলেও, তারামন বেগমকে দীর্ঘ ২৪ বছর পর ডিসেম্বর ১৯৯৫-এ চিহ্নিত করা হয়। ১৯ ডিসম্বের ১৯৯৫ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে তারামন বেগমকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ২ জন
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতা ও বীরত্বের জন্য সর্বমোট দু'জন মহিলাকে বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
এই দু'জন বীরাঙ্গনা হলেন:
১. ডা. সিতারা বেগম (সেক্টর-২ এর অধীনে একটি ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার জন্য)।
২. তারামন বিবি (১১ নং সেক্টরের অধীনে সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য)।
মোট ৬৭৬ জনকে স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বসূচক খেতাব দেওয়া হয়, যার মধ্যে নারী মুক্তিযোদ্ধা কেবল এই ২ জনই বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত।
126

প্রাচীন ‘পুণ্ড্রনগর’ কোথায় অবস্থিত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ময়নামতি
  2. বিক্রমপুর
  3. পাহাড়পুর
  4. মহাস্থানগড়

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বগুড়ার মহাস্থানগড়ে বাংলাদেশের সর্বপ্রাচীন বৃহৎ নগর পুণ্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ বিদ্যমান। ১৮৭৯ সালে প্রত্নতত্ত্ববিদ স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম এ নগর সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করেন। এখানে প্রাপ্ত ব্রাহ্মী লিপিতে উৎকীর্ণ শিলালিপি থেকে এ সভ্যতার উৎপত্তির সত্যতা প্রমাণিত হয়। অন্যদিকে, কুমিল্লা জেলার অদূরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান ময়নামতি। আর ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বিশালায়তনের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হলো পাহাড়পুর (সোমপুর বিহার)। নওগাঁ জেলায় অবস্থিত এই বৌদ্ধ বিহার রাজা ধর্মপাল এর সময়ে নির্মিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মহাস্থানগড়
প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন। এই পুণ্ড্রবর্ধন রাজ্যের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রনগর। বর্তমানে এই প্রাচীন নগরীর ধ্বংসাবশেষ বগুড়া জেলার করতোয়া নদীর তীরে মহাস্থানগড় নামে পরিচিত।
এটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও সর্ববৃহৎ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসেবে স্বীকৃত।
ভুল উত্তর কেন:
ময়নামতি (কুমিল্লা): এটি প্রাচীন সমতট অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল।
বিক্রমপুর (মুন্সিগঞ্জ): এটি প্রাচীন বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং সেন বংশের রাজধানী ছিল।
পাহাড়পুর (নওগাঁ): এখানে বিখ্যাত সোমপুর মহাবিহার অবস্থিত, যা একটি ভিন্ন প্রাচীন স্থান।
127

উপমহাদেশীয়দের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর–

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার
  2. ড. মাহমুদ হাসান
  3. ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন
  4. স্যার এ এফ রহমান

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

উপমহাদেশীয়দের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন স্যার আহমদ ফজলুর (এ. এফ রহমান, ১৮৮৯-১৯৪৫)। ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: স্যার এ এফ রহমান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর (VC) ছিলেন ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ স্যার পি জে হার্টগ (Sir Philip Joseph Hartog), যিনি ১৯২০ থেকে ১৯২৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
কিন্তু প্রশ্নে উপমহাদেশের (বা বাঙালি/ভারতীয়) প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর জানতে চাওয়া হয়েছে। ব্রিটিশদের পরে তৃতীয় ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে স্যার আহমেদ ফজলুর রহমান (এ এফ রহমান) দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তিনিই ছিলেন উপমহাদেশের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর।
তিনি ১৯৩৪ সাল থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার ছিলেন বিখ্যাত ইতিহাসবিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী একজন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক ও প্রশাসক।
128

নিচের কোন পর্যটক সোনারগাঁও এসেছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ফা-হিয়েন
  2. ইবনে বতুতা
  3. মার্কো পোলো
  4. হিউয়েন সাং

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

জগদ্বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা (১৩০৪-১৩৭৮ খ্রি) ছিলেন মরক্কোর অধিবাসী। ইবনে বতুতা সোনারগাঁওয়ে আসেন ১৩৪৬ সালে। মধ্যযুগের আর যেসব বিখ্যাত পরিব্রাজক সোনারগাঁও পরিভ্রমণ করেন, তারা হচ্ছেন চীনের মা হুয়ান ১৪০৬ সালে এবং হৌ হিয়েন ১৪১৫ সালে। অন্যদিকে ফা-হিয়েন (আনুমানিক ৩৫৮-৪৩৫ খ্রি) ভারত পরিভ্রমণকারী চীনদেশীয় বৌদ্ধ ভিক্ষু ও পণ্ডিত। মার্কো পোলো (১২৫৪-১৩২৪ খ্রি.) মধ্যযুগের ইউরোপীয় ভূ-পর্যটকদের একজন। তার বর্ণনাকৃত ভ্রমণবৃত্তান্ত থেকেই ইউরোপবাসী চীন, তিব্বত, ভারত, সিংহল, ব্রহ্মদেশ ও শ্যামদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের জীবনযাপন সম্পর্কে প্রথম জানতে পারে। আর হিউয়েন সাং (৬০২-৬৬৪ খ্রি.) হলেন ভারত পরিভ্রমণকারী প্রাচীন চীন দেশীয় বৌদ্ধ ভিক্ষু ও পণ্ডিত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ইবনে বতুতা। তিনি ছিলেন মধ্যযুগের একজন বিখ্যাত মরোক্কান পর্যটক ও ভূগোলবিদ।
ইবনে বতুতা সুলতানি আমলে (আনুমানিক ১৩৪৫ থেকে ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে) বাংলায় ভ্রমণ করেন। এই সময়ে সোনারগাঁও ছিল পূর্ব বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী ও প্রশাসনিক কেন্দ্র।
তিনি তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি 'কিতাবুল রেহলা'-তে সোনারগাঁও এবং বাংলার প্রাকৃতিক সম্পদ ও জনজীবনের বিশদ বিবরণ লিপিবদ্ধ করেন।
অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল, কারণ: ফা-হিয়েন এবং হিউয়েন সাং এসেছিলেন প্রাচীন যুগে (যথাক্রমে ৪র্থ এবং ৭ম শতাব্দীতে), যখন সোনারগাঁওয়ের তেমন কোনো ঐতিহাসিক গুরুত্ব তৈরি হয়নি। তাঁরা মূলত প্রাচীন জনপদ যেমন- পুণ্ড্রনগর ও তাম্রলিপ্তি অঞ্চলে ভ্রমণ করেন।
129

ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপনের সময় মোগল সুবেদার কে ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ইসলাম খান
  2. ইব্রাহীম খান
  3. শায়েস্তা খান
  4. মীর জুমলা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ক্ষমতা গ্রহণ করে শেখ আলাউদ্দিন ইসলাম খান চিশতি বাংলার সুবেদার নিয়োগ করেন। ইসলাম খান ১৬১০ সালে রাজমহল থেকে স্থানান্তরিত করে ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে ঢাকার নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ইসলাম খান
মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনকালে (১৬০৫-১৬২৭) সুবেদার ইসলাম খান চিশতী (বা ইসলাম খান ১) ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে পরিবর্তন করে ঢাকায় স্থাপন করেন।
তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে ঢাকার নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর
অন্যান্য অপশনসমূহ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই প্রশ্নের জন্য ভুল। যেমন: শায়েস্তা খান ছিলেন মুঘল আমলের সবচেয়ে বিখ্যাত সুবেদার, যিনি তাঁর শাসনামলে (১৬৬৪-১৬৮৮) শস্যের প্রাচুর্য ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য পরিচিত ছিলেন, কিন্তু তিনি রাজধানী স্থানান্তর করেননি। মীর জুমলা একজন গুরুত্বপূর্ণ সুবেদার ছিলেন, তবে তিনি রাজধানী স্থাপন বা স্থানান্তর করেননি।
130

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কোন সনে গঠিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৯৯২ সনে

  2. ২০০০ সনে
  3. ২০০১ সনে
  4. ২০০২ সনে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয় ২৩ অক্টোবর ২০০১। সংবিধানের ৫৫(৬) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি ২০০১ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ নামে এ মন্ত্রণালয়টি গঠন করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো ২০০১ সনে
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত হয়।
এটি ২৩ অক্টোবর, ২০০১ তারিখে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দিনটি ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়কাল।
অন্যান্য সাল (১৯৯২, ২০০০, ২০০২) ভুল। এই মন্ত্রণালয়ের গঠনের জন্য সুনির্দিষ্ট সালটি হলো ২০০১
131

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কতজনকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ২৫৭ জন
  2. ১৬৩ জন
  3. ৪৪ জন
  4. ৬৮ জন

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ৪টি রাষ্ট্রীয় খেতাব প্রদান করা হয় ৬৭৬ জনকে। তার মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন, বীর উত্তম ৬৮ জন, বীর বিক্রম ১৭৫ জন, বীর প্রতীক ৪২৬ জন। ৬ জুন ২০২১ চারজনের খেতাব বাতিল করা হয়। যার মধ্যে ১ জন বীর উত্তম, ১ জন বীর বিক্রম ও ২ জন বীর প্রতীক।

ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার মোট ৬৭৬ জন ব্যক্তিকে চারটি ভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করেছিল।
এর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব হলো বীর উত্তম (Bir Uttom)
সঠিক তথ্য অনুযায়ী, মোট ৬৮ জনকে এই বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করা হয়। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ৬৮ জন (অপশন ৪)।
132

মহিলা পুলিশ প্রথম নিয়োগ করা হয় কোন সালে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৬ সালে
  3. ১৯৭৭ সালে
  4. ১৯৭৮ সালে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

১৯৭৪ সালে সর্বপ্রথম সাদা পোশাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চে ১২ জন মহিলা পুলিশ নিয়োগ করা হয়। ইউনিফর্মধারী নারী পুলিশের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৬ সালে। অতঃপর ১৯৭৮ সালে ঢাকা মহানগর পুলিশে মহিলা নিয়োগ করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশের প্রথম নারী ডিআইজি ফাতেমা বেগম ও প্রথম নারী ওসি হোসনে আরা বেগম (নিয়োগ ১৭ মে ২০০৯, ক্যান্টনমেন্ট থানা, ঢাকা)। ১৯৮৬ সালে চারজন মহিলা পুলিশ অফিসার বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে এএসপি হিসেবে যোগদান করেন। নারী পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-১১ (APBn-11)-এর যাত্রা শুরু হয় ২২ জুন ২০১১।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: ১৯৭২ সালে
মহান স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে এবং নারী সংক্রান্ত অপরাধ দমনে নারীদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে স্বাধীনতার মাত্র এক বছরের মাথায় ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে প্রথম মহিলা কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ ছিল দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নারীর অংশগ্রহণের এক ঐতিহাসিক সূচনা।
অন্যান্য সালগুলো (১৯৭৬, ১৯৭৭, ১৯৭৮) ভুল, কারণ প্রথম নিয়োগটি স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই হয়েছিল।
133

বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের কবর এই জেলায়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নাটোর
  2. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  3. জয়পুরহাট
  4. নওগাঁ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ১৯৪৮ সালে বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাত নম্বর সেক্টরে মুক্তিবাহিনী সাব সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তিনি দায়িত্বরত ছিলেন। ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ তিনি পাকবাহিনীর সাথে সরাসরি যুদ্ধে শহীদ হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক গৌড়ের ছোট সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণে তাকে সমাহিত করা হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: চাঁপাইনবাবগঞ্জ
বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৭ নম্বর সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর মুক্ত করার জন্য মহানন্দা নদীর তীরে শত্রুর সাথে সম্মুখ সমরে লিপ্ত হন এবং ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ হন।
তাঁর মাজারটি সেখানেই অবস্থিত। পরবর্তীতে এটিকে সরকারিভাবে সংস্কার ও সংরক্ষণ করা হয়। তিনি বরিশাল জেলার বাসিন্দা ছিলেন।
134

ঢাকার ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’-এর প্রতিষ্ঠা কোন খ্রিষ্টাব্দে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 1926
  2. 1911
  3. 1864
  4. 1905

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন চর্চার কেন্দ্র হিসেবে কাজী আব্দুল ওদুদ, আবুল হুসেন, আব্দুল কাদির, আবুল ফজল, কাজী মোতাহার হোসেন প্রমুখ ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। সংগঠনটির স্লোগান ছিলো- “জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি যেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব”। ১৯২৭ সালে সংগঠনটির মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় ‘শিখা’ পত্রিকা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দ।
ঢাকার ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ (Muslim Sahitya Samaj) প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯২৬ সালের ১৯শে জানুয়ারি।
এটি ছিল তৎকালীন বাঙালি মুসলিম সমাজে যুক্তিবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন (Intellectual Emancipation) প্রসারের মূল প্ল্যাটফর্ম।
এই আন্দোলনের প্রধান প্রবক্তা ছিলেন কাজী আব্দুল ওদুদ এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
135

বর্তমান বৃহত্তর ঢাকা জেলা প্রাচীনকালে কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সমতট
  2. পুণ্ড্র
  3. বঙ্গ
  4. হরিকেল

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বঙ্গ খুবই প্রাচীন জনপদ। ‘ঐতরেয় আরণ্যক’ গ্রন্হে সর্বপ্রথম বঙ্গ-এর উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রাচীনকালে বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত জেলাগুলো কুষ্টিয়া, যশোর, নদীয়া, শান্তিপুর, ঢাকা, ফরিদপুর এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: বঙ্গ
প্রাচীনকালে বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে 'বঙ্গ' ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিস্তৃত। বর্তমান বৃহত্তর ঢাকা (ঢাকা, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ), ফরিদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে এই জনপদ গঠিত হয়েছিল।
এই জনপদের মূল কেন্দ্র ছিল বাংলার দক্ষিণ-পূর্ব অংশ। এই জনপদের নাম থেকেই পরবর্তীতে 'বাঙ্গালা' বা 'বাংলা' নামের উৎপত্তি হয়।
অন্যান্য অপশন ভুল হওয়ার কারণ:
পুণ্ড্র: এটি ছিল বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে (বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী) অবস্থিত, যার রাজধানী ছিল পুণ্ড্রনগর (মহাস্থানগড়)।
সমতট: এটি সাধারণত কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের সমতল ভূমি নিয়ে গঠিত ছিল, যার কেন্দ্র ছিল ময়নামতি
হরিকেল: এটি মূলত চট্টগ্রাম অঞ্চলসহ উপকূলীয় পূর্ব বাংলাকে নির্দেশ করত।
136

বাংলায় মুসলিম আধিপত্য বিস্তারের সূচনা কে করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আলী মর্দান খলজী
  2. তুঘরিল খান
  3. ইখতিয়ারউদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি
  4. শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

১২০৪ সালে বখতিয়ার খলজি অশ্ব বিক্রেতার বেশে অতর্কিতে লক্ষ্মণ সেনের রাজধানী নদীয়া আক্রমণ করলে লক্ষ্মণ সেন পূর্বদিকে পলায়ন করে এবং বখতিয়ার খলজি বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত ঘটান।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ইখতিয়ারউদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি
বখতিয়ার খলজি ছিলেন মূলত দিল্লির সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবকের অধীনস্থ একজন সামরিক নেতা। তিনি ১২০৪ থেকে ১২০৫ খ্রিস্টাব্দে সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে বাংলার একটি অংশ (নদীয়া ও পরবর্তীতে লক্ষণাবতী/গৌড়) জয় করেন।
ঐতিহাসিকভাবে, এই বিজয়ের মাধ্যমেই বাংলায় প্রায় ৫৫০ বছরের মুসলিম আধিপত্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়, তাই তাকেই এই আধিপত্য বিস্তারের সূচনাকারী বলা হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল কারণ: আলী মর্দান খলজী, তুঘরিল খানশামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ— এরা সবাই বখতিয়ার খলজির বিজয়ের পরবর্তী সময়ে বাংলার শাসনভার গ্রহণ করেছিলেন বা স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন, কিন্তু সূচনা তারা করেননি।
137

ঢাকায় সুবা-বাংলার রাজধানী কখন স্থাপিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৬১০ সালে
  2. ১৫৭৬ সালে
  3. ১৯০৫ সালে
  4. ১৯৪৭ সালে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

১৬১০ সালে সুবাদার ইসলাম খান কর্তৃক বাংলার রাজধানী বিহারের রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয় এবং নামকরণ করা হয় জাহাঙ্গীরনগর। স্বাধীনতার পূর্বে ঢাকা চারবার (১৬১০, ১৬৬০, ১৯০৫ ও ১৯৪৭ সালে) বাংলার রাজধানীর মর্যাদা লাভ করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৬১০ সালে
মোঘল সুবাদার ইসলাম খান চিশতি (Islam Khan Chisti) ১৬১০ সালে রাজমহল থেকে সুবা-বাংলার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
তিনি মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে ঢাকার নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর
১৬১০ সাল থেকেই ঢাকা মোঘল সুবা-বাংলার প্রশাসনিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।
অন্যান্য বিকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ, তবে এই প্রশ্নের উত্তর নয়:
১৫৭৬ সালে: এই বছর রাজমহলের যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়, যার মাধ্যমে বাংলায় আফগান/স্বাধীন সুলতানি শাসনের অবসান ঘটে এবং মোঘল শাসন দৃঢ় হয়।
১৯০৫ সালে: এই বছর বঙ্গভঙ্গ (Partition of Bengal) কার্যকর হলে ঢাকা পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের রাজধানীতে পরিণত হয়।
138

কোন মুঘল সুবাদার চট্টগ্রাম দখল করে এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ইসলাম খান
  2. রাজা মানসিংহ
  3. মীর জুমলা
  4. শায়েস্তা খান

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

শায়েস্তা খান মগ জলদস্যুদের তাড়িয়ে চট্টগ্রাম দখল করেন এবং এর নাম রাখেন ‘ইসলামাবাদ’। পরে তিনি ছোট কাটরা এবং মোহাম্মদপুরের সাত গম্বুজ মসজিদ (১৬৮০ সালে) নির্মাণ করেন। উল্লেখ্য, মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ক্ষমতা দখল করে ইসলাম খানকে বাংলার সুবেদার (১৬০৮-১৬১৩ খ্রি.) নিয়োগ করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: শায়েস্তা খান
মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খান ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে আরাকানের মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের হাত থেকে চট্টগ্রাম পুনরুদ্ধার করেন।
এই বিজয়ের পর তিনি চট্টগ্রামের নাম পরিবর্তন করে মুঘল সাম্রাজ্যের সম্মানার্থে ইসলামাবাদ রাখেন। (বর্তমানে যা আবার চট্টগ্রাম নামে পরিচিত।)
অন্যান্য অপশনগুলো গুরুত্বপূর্ণ মুঘল সুবাদার হলেও তারা চট্টগ্রাম দখল করে নাম পরিবর্তন করেননি। যেমন—ইসলাম খান চিশতি ঢাকার নাম পরিবর্তন করে সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে জাহাঙ্গীরনগর রাখেন।
139

ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কখন বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৬৯০ সালে
  2. ১৭৬৫ সালে
  3. ১৭৯৩ সালে
  4. ১৮২৯ সালে

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বক্সারের যুদ্ধে (১৭৬৪ সাল) নবাব বাহিনী পরাজিত হলে লর্ড ক্লাইভ মীরজাফরের নাবালক পুত্রকে বাংলার সিংহাসনে বসান। ১৭৬৫ সালে দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের নিকট থেকে বার্ষিক ২৬ লাখ টাকার বিনিময়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৭৬৫ সালে
১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধে জয়লাভের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শক্তি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। এই জয়ের ফলস্বরূপ, ১৭৬৫ সালের ১২ আগস্ট মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম-এর সাথে কোম্পানির এলাহাবাদের চুক্তি (Treaty of Allahabad) স্বাক্ষরিত হয়।
এই চুক্তির মাধ্যমে কোম্পানি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজস্ব আদায়ের অধিকার বা দেওয়ানী লাভ করে। এই সময় কোম্পানির পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন রবার্ট ক্লাইভ
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ: ১৬৯০ সাল ছিল বাংলায় ইংরেজদের বাণিজ্যের শুরুর দিক। ১৭৯৩ সাল ছিল লর্ড কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের বছর।
দেওয়ানী লাভের মাধ্যমেই ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তি মজবুত হয়।
140

বাংলায় ফরায়েজী আন্দোলনের উদ্যোক্তা কে ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মাওলানা কেরামত আলী
  2. শাহ ওলিউল্লাহ
  3. হাজী শরীয়তুল্লাহ
  4. পীর মুহসীনুদ্দীন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

মুসলমানদের ফরজ কাজসমূহ পালনে উদ্বুদ্ধ করার আন্দোলনই ফরায়েজী আন্দোলন, যার নেতৃত্বে দেন হাজী শরীয়তুল্লাহ এবং তার মৃত্যুর পর ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তার একমাত্র পুত্র দুদু মিয়া।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: হাজী শরীয়তুল্লাহ
তিনি ১৮১৮ সালে বাংলায় ফরায়েজী আন্দোলন শুরু করেন। ফরায়েজী শব্দটি 'ফরজ' (আবশ্যিক কর্তব্য) থেকে এসেছে। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল মুসলিম সমাজ থেকে স্থানীয় কুসংস্কার ও অনৈসলামিক আচার-আচরণ দূর করে ইসলামের মৌলিক ফরজসমূহ পালনের প্রতি গুরুত্বারোপ করা।
হাজী শরীয়তুল্লাহ মূলত ফরিদপুর অঞ্চলে এই আন্দোলনের সূচনা করেন এবং প্রথম দিকে এটি ছিল একটি সমাজ সংস্কারমূলক আন্দোলন।
অন্যান্য অপশন প্রসঙ্গে: পীর মুহসীনুদ্দীন ছিলেন হাজী শরীয়তুল্লাহর পুত্র, যিনি দুদু মিয়া নামে পরিচিত। দুদু মিয়া পরবর্তীকালে এই আন্দোলনকে ব্রিটিশ জমিদার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী কৃষক আন্দোলনে পরিণত করেন।
141

বাংলায় মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য কে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সৈয়দ আমীর আলী
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
  4. স্যার সৈয়দ আহমেদ খান

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

নওয়াব আবদুল লতিফ বাংলার মুসলমানদের মাঝে ইংরেজি শিক্ষা প্রবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তার প্রচেষ্টায় রামমোহন রায় প্রতিষ্ঠিত হিন্দু কলেজ ১৮৫৪ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজে রূপান্তরিত হয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: নওয়াব আবদুল লতিফ
উনিশ শতকে বাংলায় মুসলমান সমাজ আধুনিক শিক্ষা (ইংরেজি শিক্ষা) গ্রহণে তীব্র অনীহা প্রকাশ করায় তারা সরকারি চাকরি ও আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে হিন্দুদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়ে।
এই পশ্চাৎপদতা দূরীকরণে যিনি সবচেয়ে কার্যকর ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন, তিনি হলেন নওয়াব আবদুল লতিফ (১৮২৮-১৮৯৩)। তাঁকে বাংলায় মুসলিম নবজাগরণের পথিকৃৎ বলা হয়।
তিনি ১৮৬৩ সালে 'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' (Mohammedan Literary Society) প্রতিষ্ঠা করেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল মুসলমানদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষা ও পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা।
স্যার সৈয়দ আহমেদ খান এই আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে তিনি ছিলেন মূলত উত্তর ভারতে (আলীগড়) মুসলিম আধুনিক শিক্ষা বিস্তারের অগ্রদূত, বাংলায় নয়।
সৈয়দ আমীর আলী রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছিলেন এবং ১৮৭৭ সালে সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন।
142

অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. এ কে ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. খাজা নাজিমউদ্দিন
  4. আবুল হাশেম

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯২১ সালে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৩৭ সালে নির্বাচনের পর তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য হন। ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন। ১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় যোগ দেন এবং ১৯৫৬ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
অবিভক্ত বাংলার প্রাদেশিক সরকারের সর্বশেষ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর কার্যকাল ছিল ১৯৪৬ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে দেশভাগের পূর্ব পর্যন্ত, অর্থাৎ ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পর্যন্ত।
এই সময়কার সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল ১৯৪৬ সালের কলকাতা দাঙ্গা (The Great Calcutta Killing), যখন সোহরাওয়ার্দী মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
উল্লেখ্য, এ কে ফজলুল হক ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-৪১)।
143

পাকিস্তান শাসনতান্ত্রিক পরিষদের (Constituent Assembly) ধারা বিবরণীতে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি কে প্রথম করেছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আবুল হাশেম
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতে গণপরিষদ সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৮৬-১৯৭১) উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এই দাবিটি ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক দাবি। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের এই রাজনীতিবিদ, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের করাচিতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান গণপরিষদের (Constituent Assembly) অধিবেশনে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা এবং পরিষদের কার্যবিবরণীতে ব্যবহারের দাবি জানিয়েছিলেন।
তিনি যুক্তি দেন যে, পাকিস্তানের অধিকাংশ নাগরিকের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও এটিকে বাদ দিয়ে কেবলমাত্র উর্দু ও ইংরেজিতে পরিষদের কাজ চালানো হচ্ছে, যা অগণতান্ত্রিক।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানসহ অন্যান্য মুসলিম লীগ নেতারা এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়। কিন্তু এই ঘটনাই ভাষা আন্দোলনের প্রথম বীজ বপন করে
144

বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরকেন্দ্র কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ময়নামতি
  2. পাহাড়পুর
  3. মহাস্থান গড়
  4. সোনারগাঁও

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বগুড়া জেলার করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত মহাস্থানগড়ের পূর্ব নাম পুণ্ড্রবর্ধন। এটি মৌর্য ও গুপ্ত বংশের রাজাদের রাজধানী ছিল। মহাস্থানগড়ে মৌর্য যুগের শিলালিপি পাওয়া গেছে। এখানে রয়েছে খোদার পাথর ভিটা, বিখ্যাত সাধক শাহ সুলতান বলখী মাহী সওয়ার (র)-এর মাজার শরীফ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো মহাস্থান গড়। এটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান এবং নগরকেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত।
মহাস্থান গড় ছিল প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন জনপদের রাজধানী, যার নাম ছিল পুণ্ড্রনগর
প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ভিত্তিতে জানা যায়, মহাস্থান গড়ের ইতিহাস কমপক্ষে খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতক (মৌর্য আমল) থেকে শুরু হয়। এর ফলে এটিই বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরকেন্দ্র।
অন্যান্য বিকল্প: ময়নামতি (কুমিল্লা, ৭ম-১২শ শতক) এবং পাহাড়পুর (নওগাঁ, ৮ম শতক) পাল ও চন্দ্র রাজবংশের পরবর্তী সময়ের স্থাপনা। সোনারগাঁও ছিল সুলতানি ও মুঘল আমলের মধ্যযুগীয় রাজধানী।
145

ইরানের কবি হাফিজের সাথে পত্রালাপ হয়েছিল বাংলার কোন সুলতানের?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গিয়াসউদ্দীন আযম শাহ
  2. আলাউদ্দীন হুসেন শাহ
  3. ফখরুদ্দীন মোবারক শাহ
  4. ইলিয়াস শাহ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ইলিয়াস শাহী বংশের শেষ সুলতান গিয়াসউদ্দীন আযম শাহ ফারসি ভাষায় কবিতা লিখতেন। তিনি একটি অসমাপ্ত কবিতা লিখে পারস্য কবি হাফিজের কাছে পাঠান। হাফিজ উক্ত কবিতা সম্পূর্ণ করে সোনারগাঁওয়ে প্রেরণ করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গিয়াসউদ্দীন আযম শাহ
বাংলার সুলতানি আমলের ইলিয়াস শাহী বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন গিয়াসউদ্দীন আযম শাহ (শাসনকাল: ১৩৯০-১৪১১ খ্রি.)। তিনি ছিলেন সাহিত্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক।
তিনি বিখ্যাত পারস্য কবি শামসউদ্দীন মুহাম্মদ হাফিজ-ই-শিরাজী (Hafez)-এর কাছে বাংলায় আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে উপহার পাঠান। হাফিজ শারীরিক অসুস্থতার কারণে বাংলায় আসতে না পারলেও সুলতানের সম্মানে একটি বিখ্যাত ফারসি গজল রচনা করেন, যার প্রথম পংক্তিটি হলো:
সাকিয়ে দিল খোয়াজা” বা ‘আই তুর্ক-ই-শিরজি’।
এই পত্রালাপটি সুলতানি আমলে বাংলার সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক উচ্চতার প্রমাণ দেয়।
অন্যান্য সুলতান—যেমন আলাউদ্দীন হুসেন শাহ বা ফখরুদ্দীন মোবারক শাহ—এঁরা নিজ নিজ কারণে বিখ্যাত হলেও হাফিজের সাথে পত্রালাপের জন্য পরিচিত নন।
146

পরী বিবি কে ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আওরঙ্গজেবের কন্যা
  2. শায়েস্তা খানের কন্যা
  3. মুর্শিদকুলি খানের স্ত্রী
  4. আজিমুসশানের মাতা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

শায়েস্তা খানের কন্যা পরী বিবির আসল নাম ইরান দুখত। পরী বিবির মাজার লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে দরবারগৃহ থেকে ২৭৫ ফুট পশ্চিমে অবস্থিত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: শায়েস্তা খানের কন্যা
পরী বিবির আসল নাম ছিল ইরান দুখত (Irāndukht)। তিনি ছিলেন বাংলার বিখ্যাত মুঘল সুবেদার শায়েস্তা খানের আদরের কন্যা।
পরী বিবির সঙ্গে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের তৃতীয় পুত্র শাহজাদা মুহাম্মদ আজমের বিবাহ হয়েছিল।
ঢাকায় অল্প বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। কন্যাকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে শায়েস্তা খান লালবাগ দুর্গের (Lalbagh Fort) অভ্যন্তরে তাঁর জন্য একটি সমাধি বা মাজার নির্মাণ করেন, যা 'পরী বিবির মাজার' নামে পরিচিত।
147

পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহারের নির্মাতা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রামপাল
  2. ধর্মপাল
  3. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  4. আদিশুর

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

নওগাঁ জেলায় অবস্থিত পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহারের নাম সোমপুর বিহার। এর নির্মাতা ধর্মপাল ছিলেন পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ধর্মপাল
পাহাড়পুরে অবস্থিত এই সুবিশাল বৌদ্ধ বিহারটির প্রকৃত নাম সোমপুর মহাবিহার। এটি পাল রাজবংশের দ্বিতীয় ও অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজা ধর্মপাল (আনুমানিক ৭৭৫–৮১০ খ্রিস্টাব্দ) কর্তৃক অষ্টম শতকের শেষের দিকে নির্মিত হয়।
এটি কেবল বাংলাদেশের নয়, বরং সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ বৌদ্ধ বিহার ছিল।
অপশনগুলোর মধ্যে রামপাল ছিলেন পাল বংশের শেষের দিকের একজন শক্তিশালী রাজা, কিন্তু তিনি বিহারের নির্মাতা নন। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ছিলেন অনেক প্রাচীন যুগের (খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতাব্দী) শাসক।
148

ছয়-দফা দাবি প্রথম কোথায় উত্থাপন করা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ঢাকায়
  2. লাহোরে
  3. করাচিতে
  4. নারায়ণগঞ্জে

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার প্রশ্নে ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক মহাসম্মেলনে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয়-দফা দাবি উত্থাপন করেন। এটাই ইতিহাসে 'ছয় দফা কর্মসূচি' নামে পরিচিত।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: লাহোরে
ঐতিহাসিক ছয়-দফা দাবি প্রথম উত্থাপন করা হয় ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি। এই সময়ে পাকিস্তানের লাহোরে সম্মিলিত বিরোধী দলগুলোর (Combined Opposition Parties - COP) একটি জাতীয় সম্মেলন চলছিল।
সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক বঞ্চনার অবসানের জন্য এই ছয়টি দফা পেশ করেন। এটি ছিল মূলত স্বায়ত্তশাসনের দাবি।
অনেকে ভুলবশত ঢাকাকে সঠিক উত্তর মনে করেন। ঢাকায় ছয় দফা আনুষ্ঠানিকভাবে জনগণের কাছে তুলে ধরা হয় (২৩ মার্চ, ১৯৬৬), কিন্তু এর জন্ম হয়েছিল লাহোরের সম্মেলনে।
149

বাংলায় চিরস্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা কে প্রবর্তন করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কর্নওয়ালিস
  2. ক্লাইভ
  3. জন মেয়ার
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

মার্কিন স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটিশের প্রধান সেনাপতি ছিলেন লর্ড কর্নওয়ালিস। ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ তিনি ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ প্রথা চালুর মাধ্যমে সূর্যাস্ত আইন বলবৎ করেন।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কর্নওয়ালিস (Lord Cornwallis)
১৭৯৩ সালে বাংলার গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিস ভারতের বিহার, ওড়িশা ও বাংলা অঞ্চলে চিরস্থায়ী ভূমি বন্দোবস্ত বা 'জমির চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' (Permanent Settlement) প্রবর্তন করেন।
এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ছিল কোম্পানির রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা এবং ইংরেজদের প্রতি অনুগত একটি জমিদার শ্রেণি তৈরি করা। জমিদারগণ জমির মালিকানা লাভ করেন এবং নির্দিষ্ট রাজস্ব দিতে বাধ্য থাকতেন।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, ওয়ারেন হেস্টিংস (১৭৭২ সালে) পঞ্চবার্ষিক বন্দোবস্ত এবং পরে একসালা বন্দোবস্তের প্রবর্তক ছিলেন। লর্ড ক্লাইভ দ্বৈত শাসন (১৭৬৫) প্রবর্তনের জন্য পরিচিত।
150

মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আট
  2. দশ
  3. এগারো
  4. পনের

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ৪ এপ্রিল মুক্তিফৌজ নামে মুক্তিবাহিনী গঠিত হয় এবং ৯ এপ্রিল এর নামকরণ করা হয় মুক্তিবাহিনী। পরবর্তীতে জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলে তিনি এবং প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশকে যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করেন।

ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যুদ্ধ পরিচালনা এবং সামরিক কৌশলগত সুবিধার জন্য বাংলাদেশকে মোট ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
সঠিক উত্তর হলো: এগারো। (অপশন ২)।
এই সেক্টর বিভাজন আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয় ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত সেক্টর কমান্ডারদের সম্মেলনে। এই সম্মেলনটি সিলেটের তেলিয়াপাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়।
প্রত্যেকটি সেক্টরকে পুনরায় কয়েকটি করে সাব-সেক্টরে (Sub-sector) বিভক্ত করা হয়েছিল।

এই অধ্যায়ের প্রশ্ন টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করুন

এই পেজে বাছাইকৃত ১৫০টি প্রশ্ন সমাধানসহ দেওয়া হয়েছে (মোট ২৪২টির মধ্যে)। প্র্যাকটিস মোডে এক-একটি করে উত্তর দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল, স্কোর ও অগ্রগতি ট্র্যাক করুন।

কেন BCS Preliminary-এর জন্য “বাংলাদেশের ইতিহাস” অধ্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ?

BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষার বাংলাদেশ বিষয়াবলি অংশে “বাংলাদেশের ইতিহাস” থেকে প্রায় প্রতিবারই প্রশ্ন আসে। বিগত সালের প্রশ্নের ধরন বুঝে নিয়মিত অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ের নম্বর নিশ্চিত করা সহজ হয় — এই পেজের বাছাইকৃত প্রশ্নগুলো ঠিক সেই প্রস্তুতির জন্যই সাজানো।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

"বাংলাদেশের ইতিহাস" অধ্যায় থেকে কেমন প্রশ্ন আসে?

BCS Preliminary নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলাদেশ বিষয়াবলি বিষয়ের "বাংলাদেশের ইতিহাস" অধ্যায় থেকে নিয়মিত MCQ আসে। এই পেজে বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক জায়গায় দেওয়া হয়েছে — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ।

উত্তর ও সমাধান কি বিনামূল্যে?

হ্যাঁ। প্রশ্ন, অপশন, সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যা — সবই লগইন ছাড়াই বিনামূল্যে দেখা যায়। টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করতে চাইলে একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট দিয়ে প্র্যাকটিস মোডে যান।