সমাধান
সমাধান
💼
NTRCA - College Level

Bangla (College)

NTRCA (Teacher Registration) · NTRCA - College Level — বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক পেজে।

নিচে NTRCA (Teacher Registration) নিয়োগ পরীক্ষার NTRCA - College Level বিষয়ের "Bangla (College)" অধ্যায়ের বাছাইকৃত ৮০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ। সবই বিনামূল্যে।

1

বাংলা ভাষার মূল উৎস কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হিন্দি ভাষা
  2. বৈদিক ভাষা
  3. উড়িয়া
  4. অনার্য ভাষা
  5. মাগধি প্রাকৃত

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বাংলা ভাষা  অসমিয়াকে বাদ দিলে ইন্দো-ইয়োরোপীয় ভাষাবংশের পূর্বদিকের সবচেয়ে প্রান্তিক ভাষা বাংলা। নব্য ভারতীয় আর্যগোষ্ঠীর এই ভাষা ঐতিহাসিক সূত্রে আইরিশ, ইংরেজি, ফরাসি, গ্রিক, রুশ, ফারসি ইত্যাদি ভাষার দূরবর্তী জ্ঞাতিভগ্নী। বর্তমান বাংলাদেশে বাংলা প্রায় একমাত্র এবং ভারতীয় রাজ্য ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে ব্যবহূত প্রধান ভাষা। এর পশ্চিমে ওড়িয়া, মাগধি, মৈথিলি এবং পূর্বে অসমিয়া ভাষার সীমান্ত। এছাড়া সাঁওতালি, মুন্ডারি, খাসি ইত্যাদি অস্ট্রিক গোত্রের ভাষা এবং কাছারি, বোড়ো, গারো, ত্রিপুরী ইত্যাদি ভোট-বর্মী গোত্রের ভাষাও বাংলাকে ঘিরে রেখেছে, কখনও বা তার অঞ্চলে প্রবিষ্টও হচ্ছে।

ইতিহাস  মাগধি প্রাকৃতের (খ্রি.পূ ৬০০-খ্রি ৬০০) পরবর্তী স্তর মাগধি  অপভ্রংশ এবং তৎপরবর্তী স্তর অবহট্ঠের মধ্য দিয়ে ৯০০-১০০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ স্বাধীন নব্যভারতীয় আর্যভাষারূপে বাংলার উদ্ভব হয়। আর্যদের মুখের ভাষা ছিল বৈদিক ভাষা একে আর্য
ভাষাও বলা হয়।

অতএব অপশন অনুসারে সঠিক উত্তর হচ্ছে- বৈদিক ভাষা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বৈদিক ভাষা
বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা বংশের অন্তর্ভুক্ত। ভারতীয় উপমহাদেশের এই ইন্দো-আর্য ভাষার সবচেয়ে প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক উৎস হলো বৈদিক ভাষা (বা আর্য ভাষা)।
আর্যদের মুখের ভাষা ছিল এই বৈদিক ভাষা, যা পরবর্তীতে লোকমুখে বিবর্তিত হয়ে প্রাকৃত ভাষার জন্ম দেয়। তাই এই আর্য ভাষাকেই বাংলা ভাষার মূল ঐতিহ্যের উৎস হিসেবে ধরা হয়।
বাংলা ভাষার সরাসরি পূর্ববর্তী রূপ বা জননী হলো মাগধি প্রাকৃতের পরবর্তী স্তর মাগধি অপভ্রংশ বা অবহট্ঠ। কিন্তু প্রশ্নটি মূল উৎস (Root Source) জানতে চাওয়ায়, প্রাচীনতম ভাষা বৈদিক ভাষা সঠিক উত্তর হবে।
অন্যদিকে, হিন্দি এবং উড়িয়া হলো বাংলা ভাষার সমসাময়িক বা প্রতিবেশী নব্য ভারতীয় আর্য ভাষা, আর অনার্য ভাষা (যেমন সাঁওতালি) বাংলা ভাষার উৎস নয়।
2

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মধুমালতী
  2. সিকান্দারনামা
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. বৈষ্ণব পদাবলী

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- একে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন বলা হয়।
- এটি ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) শ্রী বসন্তরঞ্জন রায় কর্তৃক পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় নামক এক ব্রাহ্মণের বাড়ির গোয়াল ঘর থেকে আবিষ্কৃত হয়।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল - বৈষ্ণব পদাবলী।
- বাংলা ভাষায় রচিত বৈষ্ণব পদাবলীর আদিকবি বড়ু চণ্ডীদাস।

- মহাকবি আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ- সিকান্দারনামা। 
- মুহম্মদ কবীর ১৫৮৮ সালে 'মধুমালতী' নামে রোমান্টিক প্রণয়কাব্য রচনা করেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি হুমায়ুন আজাদ,  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। এটি বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের (আনুমানিক ১৩৫০ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ) প্রথম আবিষ্কৃত ও স্বীকৃত নিদর্শন।
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের সূচনা পর্বকে (১২০০-১৩৫০ খ্রি.) ‘অন্ধকার যুগ’ বলা হয়। এরপর মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃতি পায়।
এটি ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়াল ঘর থেকে আবিষ্কৃত হয়।
অন্যদিকে, বৈষ্ণব পদাবলীকে মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল বলা হয়, কিন্তু এটি প্রথম নিদর্শন নয়। সিকান্দারনামা (আলাওল রচিত) এবং মধুমালতী (মুহম্মদ কবীর রচিত) মধ্যযুগের পরবর্তী অংশে রচিত রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান।
3

সাধু ও চলিত রীতিতে অভিন্নরূপে ব্যবহৃত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অব্যয়
  2. সম্বোধন পদ
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়া
  5. বিশেষ্য

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ন ব্যয় = অব্যয়।
- যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
- সাধু ও চলিত রীতিতে অভিন্নরূপে ব্যবহৃত হয়।
- অব্যয় শব্দের সাথে কোনাে বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, সেগুলাের একবচন বা বহুবচন হয় না এবং সেগুলাের স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না।
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনাে বাক্যের শােভা বর্ধন করে, কখনাে একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযােগ বা বিয়ােগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।

উল্লেখ্য, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে, অব্যয় কে শব্দের শ্রেণিবিভাগ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো অব্যয় (Indeclinable)
অব্যয় শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো 'যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না' (ন ব্যয়)। অর্থাৎ, যে পদগুলি লিঙ্গ, বচন, কারক বা বিভক্তিভেদে কখনই পরিবর্তিত হয় না, সেগুলোকে অব্যয় পদ বলে।
যেহেতু অব্যয় পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থাকে, তাই ভাষার দুটি প্রধান রীতি—সাধু এবং চলিত—উভয় ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার অভিন্ন থাকে।
অন্যদিকে, ক্রিয়া পদ (Verb) এবং সর্বনাম পদ (Pronoun) সাধু ও চলিত রীতিতে বহুলভাবে পরিবর্তিত হয়। উদাহরণস্বরূপ: 'করিতেছি' (সাধু) \rightarrow 'করছি' (চলিত); 'তাহারা' (সাধু) \rightarrow 'তারা' (চলিত)।
4

প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকার নাম-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তত্ত্ববোধিনী
  2. সবুজপত্র
  3. কল্লোল
  4. ধূমকেতু

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

•বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল বীরবল।
- ১৯১৬ সালে প্রকাশিত 'বীরবলের হালখাতা' তাঁর চলিত রীতিতে লিখিত প্রথম গ্রন্থ।
- এটি ১৯০২ সালে প্রথম ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- 'সবুজপত্র' পত্রিকা (১৯১৪) প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত বিশিষ্ট সাহিত্য পত্রিকা। 
- এটি বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং ১৩ বছর চলে। 
- এটি চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে।
- তিনি 'বিশ্বভারতী' পত্রিকার সম্পাদনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সবুজপত্র
বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত প্রমথ চৌধুরী। তাঁর সম্পাদিত অন্যতম বিখ্যাত ও প্রভাবশালী পত্রিকা হলো 'সবুজপত্র'
এটি ১৯১৪ সালে (বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দ) প্রথম প্রকাশিত হয় এবং এর মাধ্যমেই চলিত গদ্যরীতির সার্থক ও ব্যাপক প্রচলন ঘটে।
অন্যান্য বিকল্পের ব্যাখ্যা:
তত্ত্ববোধিনী: এটি সম্পাদনা করতেন অক্ষয়কুমার দত্ত
কল্লোল: এটি সম্পাদনা করতেন দীনেশরঞ্জন দাশ এবং এর মাধ্যমে 'কল্লোল যুগ'-এর সৃষ্টি হয়।
ধূমকেতু: এটি ছিল কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা।
5

কলম' শব্দটি কোন ভাষা থেকে গৃহীত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সংস্কৃত
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. তুর্কি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কলম' শব্দটি আরবি ভাষা থেকে গৃহীত। 
কলম (বিশেষ্য) 
- আরবি শব্দ 
অর্থ:
- কোন শক্ত দন্ডের প্রান্তে বল বা নিব সংযুক্ত করে তৈরী লেখনী; ঝরনাকলম
- নলখাগড়া পালক প্রভৃতির অগ্রভাগ ত্যারচা করে কেটে তৈরী লেখনী।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আরবি
বাংলা ভাষার শব্দভান্ডার বিভিন্ন উৎস থেকে আসা শব্দে সমৃদ্ধ। ভাষাভাষীদের দীর্ঘদিনের লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রশাসনিক সংযোগের কারণে প্রচুর বিদেশী শব্দ বাংলায় স্থান পেয়েছে। 'কলম' শব্দটি এমন একটি শব্দ যা আরবি ভাষা থেকে সরাসরি বাংলায় গৃহীত হয়েছে।
আরবি শব্দটি মূলত 'Qalam' থেকে এসেছে, যার অর্থ লেখার জন্য ব্যবহৃত দণ্ড। এই শব্দটি প্রশাসনিক ও ধর্মীয় ভাষা হিসেবে আরবি ভাষার ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলায় প্রবেশ করে।
অন্যান্য অপশন যেমন— সংস্কৃত (যা বাংলা ভাষার প্রধান উৎস), ফারসি (যা তুর্কি ও মোঘল শাসনামলে প্রশাসনিক ভাষা ছিল) বা তুর্কি ভাষার শব্দ হলেও, 'কলম' নির্দিষ্টভাবে আরবি ভাষার শব্দ।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
6

কোন বানানটি শুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. স্বায়ত্ব
  2. স্বায়াত্ব
  3. স্বায়ত্ত
  4. স্বায়ত্ত্ব

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

স্বায়ত্ত (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = স্ব+আয়ত্ত 
অর্থ - স্ববশ, স্বনিয়ন্ত্রিত 
 
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক বানানটি হলো: স্বায়ত্ত। এটি একটি বিশেষণ পদ যার অর্থ হলো স্ববশ বা স্বনিয়ন্ত্রিত (Autonomous)
শব্দটির প্রকৃতি প্রত্যয় হলো স্ব + আয়ত্ত। এখানে 'স্ব' (Self) এবং 'আয়ত্ত' (Under control/অধীন) মিলে শব্দটি গঠিত হয়েছে।
যেহেতু মূল শব্দে 'আয়ত্ত' ব্যবহৃত হয়, তাই বানানে 'ত-এর সঙ্গে ত যুক্ত' (ত্ত) হবে।
জনপ্রিয় ভুল বানানগুলো যেমন— 'স্বায়ত্ব' (যেখানে কেবল একটি 'ত' এর সাথে 'ব' ফলা যুক্ত) বা 'স্বায়ত্ত্ব' (যেখানে 'ত্ত' এবং 'ত্ব' দুটোই যুক্ত) ভুল। মনে রাখতে হবে, স্বায়ত্ত শব্দটির শেষে 'ত্ব' প্রত্যয়টি আসে না
7

চতুষ্পদ' শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চতুর + পদ
  2. চতুষ + পদ
  3. চতু + পদ
  4. চতুঃ + পদ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘চতুষ্পদ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ = চতুঃ+পদ
 
• বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনি বা উ-ধ্বনির পর ক,খ,প,ফ থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ ( ঃ) স্থানে ষ্ হয়। এবং বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনি বা আ- ধ্বনির পর ক,খ,প,ফ থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ(ঃ) স্থানে স-ধ্বনি হয়। স পরবর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।
 
ইঃ + ক = ই + ষ্ক - আবিঃ + কার = আবিষ্কার
ইঃ + প = ই + ষ্প - নিঃ + পত্তি = নিষ্পত্তি, নিঃ + পন্ন = নিষ্পন্ন
ইঃ + ফ = ই + ষ্ফ - নিঃ + ফল= নিষ্ফল
উঃ + ক = উ + ষ্ক - দুঃ + কৃতি = দুষ্কৃতি,  চতুঃ +কোণ = চতুষ্কোণ
উঃ + প = উ + ষ্প - চতুঃ + পদ = চতুষ্পদ,  ভ্রাতুঃ + পুত্র = ভ্রাতুষ্পুত্র
অঃ + ক = অ + স্ক - তিরঃ +কার = তিরস্কার,  পুরঃ + কার = পুরস্কার
আঃ + ক = আ + স্ক - ভাঃ + কর = ভাস্কর
অঃ + প = অ + স্প - বাচঃ + পতি = বাচস্পতি
 
উৎস: ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: চতুঃ + পদ। এটি বিসর্গ সন্ধি (Visarga Sandhi) এর একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ।
এই সন্ধিটি ষত্ব বিধান-এর একটি নিয়ম অনুসরণ করে। নিয়মটি হলো: যদি বিসর্গের পূর্বে ই-ধ্বনি বা উ-ধ্বনি (যেমন চতুঃ শব্দে 'উ' ধ্বনি) থাকে এবং বিসর্গের পরে ক, খ, প, ফ বর্ণগুলো থাকে, তবে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে 'ষ' (মূর্ধন্য ষ) হয়।
এখানে, চতুঃ (উ-ধ্বনি + বিসর্গ) এর পর 'প' (পদ) রয়েছে। ফলস্বরূপ, বিসর্গটি হয়ে পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে যুক্ত হয় এবং শব্দটি চতুষ্পদ রূপে গঠিত হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো (চতুর + পদ, চতুষ + পদ, চতু + পদ) ব্যাকরণগতভাবে ভুল, কারণ বিসর্গকে সরাসরি বাদ দেওয়া যায় না বা অন্য স্বরচিহ্ন দিয়ে প্রতিস্থাপিত করা যায় না।
8

বিভক্তিহীন নামপদকে কী বলে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিশেষ্য
  2. সমাস
  3. অব্যয়
  4. প্রাতিপদিক

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বিভক্তিবিহীন নামশব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক বা নামপ্রকৃতি।
- অর্থাৎ, ক্রিয়া কিংবা নামশব্দের মূল অংশকে সাধারণভাবে প্রকৃতি বলা হয়।
- বাংলা ভাষায় ধাতু কিংবা প্রাতিপদিকের পরে বিভিন্ন বদ্ধরূপমূল যুক্ত হয়।
- এই বদ্ধ রূপমূলগুলােকে প্রত্যয় নামে অভিহিত করা হয়।
- গঠন অনুসারে দুই রকমের প্রত্যয় বাংলা ভাষায় রয়েছে।
- এগুলাে হলাে : কৃৎ প্রত্যয় এবং তদ্ধিত প্রত্যয়। 
 
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: প্রাতিপদিক
বাংলা ব্যাকরণে, বিভক্তিবিহীন নামশব্দকে বা নামপদের মূল অংশকে প্রাতিপদিক বলা হয়। প্রাতিপদিক হলো সেই মূল রূপ, যার সাথে কোনো প্রকার কারক-বিভক্তি (যেমন: -কে, -র, -তে, -এ ইত্যাদি) যুক্ত হয় না।
যেমন: 'বই', 'ঘর', 'ছাত্র' — এগুলো প্রত্যেকেই এক একটি প্রাতিপদিক। এদের সাথে বিভক্তি যুক্ত হলে সেগুলো পদে পরিণত হয় (যেমন: বই + এর = বইয়ের)।
অন্যদিকে, বিশেষ্য হলো একপ্রকার পদ (Noun)। সমাস হলো একাধিক শব্দকে সংক্ষেপ করে এক পদে পরিণত করার প্রক্রিয়া। অব্যয় (Indeclinable) হলো সেই পদ, যার কোনো রূপের পরিবর্তন হয় না। এগুলো কোনোটিই শব্দের মূল বিভক্তিহীন রূপ নয়, তাই এই অপশনগুলো ভুল।
9

সমাসবদ্ধ পদ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আকাশ
  2. ছাড়পত্র
  3. মৃত্তিকা
  4. সাগর

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

শীঘ্রই ব্যাখ্যা যোগ করা হবে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ছাড়পত্র। যখন দুই বা ততোধিক অর্থসম্বন্ধযুক্ত পদ একটি পদে মিলিত হয়, তখন তাকে সমাস বলে এবং সেই নতুন পদটিকে সমাসবদ্ধ পদ বা সমস্ত পদ বলা হয়।
ছাড়পত্র পদটির ব্যাসবাক্য হলো: ছাড়ার জন্য পত্র (৪র্থী তৎপুরুষ সমাস) অথবা ছাড়ার যে পত্র (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)। যেহেতু এটি একাধিক পদের মিলনে গঠিত, এটি একটি সমাসবদ্ধ পদ
অন্যদিকে, আকাশ, মৃত্তিকা, এবং সাগর হলো মৌলিক শব্দ বা শব্দমূল, যা কোনো ব্যাকরণগত প্রক্রিয়ায় (যেমন: সমাস) গঠিত হয়নি।
10

Edition শব্দের অর্থ-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সংস্করণ
  2. সম্পাদক
  3. সম্পাদকীয়
  4. অনুসন্ধান

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

Edition শব্দের পারিভাষিক অর্থ = সংস্করণ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান

ব্যাখ্যা

Edition শব্দের সঠিক ও পারিভাষিক অর্থ হলো সংস্করণ। এই শব্দটি মূলত কোনো পুস্তক, পত্রিকা, ম্যাগাজিন, বা সফটওয়্যারের নির্দিষ্ট প্রকাশ বা মুদ্রণকে নির্দেশ করে। যেমন: ‘প্রথম সংস্করণ’ বা ‘latest edition’ (সর্বশেষ সংস্করণ)।
বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান অনুযায়ী, Edition শব্দের প্রতিশব্দ হিসেবে সংস্করণ শব্দটি গৃহীত হয়েছে।
অন্যান্য অপশনগুলোর অর্থ হলো: সম্পাদক (Editor), সম্পাদকীয় (Editorial), এবং অনুসন্ধান (Search/Investigation)। এগুলো Edition-এর সমার্থক নয়, বরং প্রকাশনা সংক্রান্ত ভিন্ন ভিন্ন পরিভাষা।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
11

বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত গ্রন্থের রচয়িতা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. সুকুমার সেন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

• তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ,
- ভাষা ও সাহিত্য
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ
- বাংলা সাহিত্যের কথা
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও বিশ্ববিখ্যাত ভাষাতত্ত্ববিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কর্তৃক রচিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হলো 'বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত'। এটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত হয়।

ভাষাবিজ্ঞান ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার জন্য তিনি সমাদৃত।

উল্লেখ্য, ভাষাতত্ত্বের আরেকটি বিখ্যাত গ্রন্থ 'Origin and Development of the Bengali Language (ODBL)'-এর রচয়িতা হলেন সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, যা প্রায়শই NTRCA পরীক্ষায় ভুল করার জন্য দেওয়া হয়।
12

 "রাজায় রাজায় লড়াই করছে" - এ বাক্যতে 'রাজায় রাজায়' কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্রযোজক কর্তা
  2. মুখ্য কর্তা
  3. ব্যতিহার কর্তা
  4. ণিজন্ত কর্তা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকার হয়ে থাকে।
যথা
-মূখ্য কর্তা 
- প্রযোজক কর্তা 
- প্রযোজ্য কর্তা 
- ব্যতিহার কর্তা 

ব্যতিহার কর্তা : কোনো বাক্যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন: রাজায়-রাজায় লড়াই, বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ব্যতিহার কর্তা
কর্তৃকারকের প্রকারভেদের মধ্যে ব্যতিহার কর্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যখন কোনো বাক্যে দুইটি কর্তা একত্রে বা পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে একই প্রকার কাজ সম্পাদন করে, তখন তাদের ব্যতিহার কর্তা বলা হয়।
প্রদত্ত উদাহরণে, 'রাজায় রাজায়' শব্দটি দ্বারা বোঝানো হচ্ছে যে দুটি পক্ষ বা দুই রাজা মিলেই 'লড়াই করা' নামক কাজটি করছে। এটি পারস্পরিক বা reciprocal অ্যাকশন নির্দেশ করে, তাই এটি ব্যতিহার কর্তা
অন্যান্য অপশনসমূহ ভুল, কারণ: প্রযোজক কর্তা (বা ণিজন্ত কর্তা) হলো সেই কর্তা যিনি অন্যকে দিয়ে কাজটি করিয়ে নেন (যেমন: শিক্ষক ছাত্রদের পড়াচ্ছেন)। মুখ্য কর্তা হলেন যিনি স্বাভাবিকভাবে কাজটি সম্পন্ন করেন (যেমন: রহিম বই পড়ে)।
13

'কৃতবিদ্য' শব্দের ব্যাসবাক্য কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কৃত যে বিদ্য
  2. কৃত যে বিদ্যা
  3. কৃত বিদ্যা যার
  4. কৃত হয়েছে যার বিদ্যা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

• যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বুঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

কৃতবিদ্য - কৃত বিদ্যা যার
ঘরমুখো - ঘরের দিকে মুখ যার
ঈষদোজ্জ্বল - ঈষৎ উজ্জ্বল যা
বহুব্রীহি - বহু ব্রীহি আছে যার

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কৃত বিদ্যা যার। এটি বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদগুলোর (কৃত + বিদ্যা) কোনোটির অর্থ প্রধান না হয়ে একটি তৃতীয় পদ বা ভিন্ন অর্থ বোঝায়। 'কৃতবিদ্য' দ্বারা সেই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যার বিদ্যা অর্জিত হয়েছে বা সমাপ্ত হয়েছে।

ব্যাসবাক্যটিতে ব্যবহৃত 'যার' শব্দটি সেই ব্যক্তিকেই ইঙ্গিত করে, যা বহুব্রীহি সমাসের অন্যতম প্রধান চিহ্ন।

অন্যান্য অপশনগুলো ভুল: 'কৃত যে বিদ্যা' বা 'কৃত যে বিদ্য' কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ হতে পারত, যার অর্থ হতো অর্জিত জ্ঞান নিজেই, কিন্তু শব্দটি ব্যক্তিকে নির্দেশ করছে না।
14

যোগরূঢ় শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বাঁশি
  2. তৈল
  3. পঙ্কজ
  4. চিকামারা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন-
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতি বিশেষ'।
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
- সন্দেশ, প্রবীণ, তৈল, বাঁশি, গবেষণা, হস্তী রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পঙ্কজ
যোগরূঢ় শব্দ হলো সেই সকল শব্দ যা সমাস দ্বারা গঠিত হয়, কিন্তু সমাসবদ্ধ পদগুলোর আক্ষরিক অর্থ সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ করে একটি বিশেষ বা প্রচলিত অর্থ গ্রহণ করে।
পঙ্কজ শব্দটি গঠিত হয়েছে: 'পঙ্কে জন্মে যা' (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)। আক্ষরিক অর্থে শ্যাওলা বা শালুকও পঙ্কে জন্মায়, কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি শুধুমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়ে একটি বিশেষ অর্থ প্রতিষ্ঠা করেছে, তাই এটি যোগরূঢ় শব্দ।
অন্যদিকে, বাঁশিতৈল শব্দ দুটি হলো রূঢ়ি শব্দ। এগুলি প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগে গঠিত হলেও আভিধানিক অর্থ হারিয়ে বিশেষ অর্থে রূঢ় হয়ে যায়। যেমন: তৈল (তিল+অ) = তিলজাত হলেও এখন সবধরনের তেলকেই বোঝায়।
15

'ইউসুফ জোলেখা' কী জাতীয় রচনা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. রোমান্টিক প্রণয় কাব্য
  4. রম্যরচনা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তাঁর রচিত একটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান 'ইউসুফ জুলেখা'।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্য রচনা করেন।
- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জুলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: রোমান্টিক প্রণয় কাব্য
'ইউসুফ জোলেখা' মধ্যযুগের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত একটি বিখ্যাত প্রণয়োপাখ্যান বা রোমান্টিক প্রণয় কাব্য।
প্রণয়োপাখ্যান হলো সেই ধরনের রচনা, যেখানে প্রধানত প্রেমভিত্তিক একটি দীর্ঘ কাহিনি ছন্দোবদ্ধভাবে উপস্থাপন করা হয়।
এটি কোনো আধুনিক যুগের উপন্যাস বা নাটক নয়, বরং এটি ফারসি কবি ফেরদৌসী এবং জামির লেখা কাব্যের অনুসরণে রচিত হয়েছিল।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
16

কায়কোবাদের প্রকৃত নাম কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কাজেম আল কোরেশী
  2. আবু নাসের কায়কোবাদ
  3. কায়কোবাদ ইসলাম
  4. আবুল হোসেন কায়কোবাদ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

• কায়কোবাদ আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। 
- কায়কোবাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বিরহ বিলাপ’
- কবি বলেছেন ‘আমি যখন বার বৎসর বয়স্ক বালক সেই সময় আমার বিরহ- বিলাপ  নামক ক্ষুদ্র কাব্য প্রকাশিত হয়।’ 
-কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ  ‘মহাশ্মশান’ 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড.সৌমিত্র শেখর

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কাজেম আল কোরেশী
কবি কায়কোবাদ হলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
তাঁর প্রকৃত ও সম্পূর্ণ নাম হলো মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী
কায়কোবাদ ছিল তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম (Pen Name)।
17

কারাগারের রোজনমচা' গ্রন্থটির লেখক কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান
  2. মাওলানা ভাসানী
  3. জাহানারা ইমাম
  4. ড. কামাল হোসেন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

- কারাগারের রোজনামচা হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
- বাংলা একাডেমি ২০১৭ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বইটি প্রকাশ করে।
- এটির ভূমিকা লেখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু কারান্তরীন থাকালীকান তার জেল জীবনের ডায়েরিকে ‘কারাগারের রোজনামচা’ নামে বই আকারে প্রকাশ করা হয়।
 
১৯৬৬ সালে ৬ দফা দেবার পর বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা গ্রেফতার হন । ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত বন্দি থাকেন। সেই সময়ে কারাগারে প্রতিদিনের ডায়েরি লেখা শুরু করেন। ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত লেখাগুলি এই বইয়ে প্রকাশ করা হয়েছে।বইটির ইংরেজি অনুবাদ করেন অধ্যাপক ড. ফকরুল আলম।

(তথ্যসূত্র: কারাগারের রোজনামচা)

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

কারাগারের রোজনামচা (A Diary in Jail) গ্রন্থটি বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। এটি মূলত ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত কারাগারে থাকাকালীন বঙ্গবন্ধুর লেখা দিনপঞ্জি।

গ্রন্থটি বাংলা একাডেমি কর্তৃক ১৭ মার্চ ২০১৭ সালে তাঁর জন্মদিনে প্রকাশিত হয়।

অন্যান্য অপশনগুলো ভুল কারণ: মাওলানা ভাসানী ছিলেন রাজনৈতিক নেতা; জাহানারা ইমাম ছিলেন 'একাত্তরের দিনগুলি'র রচয়িতা; এবং ড. কামাল হোসেন একজন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদ। এই নির্দিষ্ট গ্রন্থটি তাদের কারো রচনা নয়।
18

প্রাকৃত শব্দের ভাষাগত অর্থ -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মূর্খদের ভাষা
  2. পণ্ডিতদের ভাষা
  3. জনগণের ভাষা
  4. লেখকদের ভাষা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

প্রাকৃত  মধ্যভারতীয় আর্যভাষা। প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা বৈদিক বা  সংস্কৃত থেকে এর উৎপত্তি বলে মনে করা হয়।
- সংস্কৃত ভাষার যে রূপটি ছিল সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা, তা এক সময় শিথিল ও সরল হয়ে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন আঞ্চলিক রূপ ধারণ করে
- কালক্রমে এগুলিকেই বলা হয় প্রাকৃত ভাষা।

- প্রাকৃত ভাষার নামকরণ প্রসঙ্গে কেউ কেউ বলেন যে, এর প্রকৃতি বা মূল হচ্ছে ‘সংস্কৃত’, তাই প্রকৃতি থেকে উদ্ভূত বলে এর নাম হয়েছে প্রাকৃত।
- আবার কেউ কেউ বলেন, ‘প্রকৃতি’ অর্থ সাধারণ জনগণ এবং তাদের ব্যবহূত ভাষাই প্রাকৃত ভাষা, অর্থাৎ প্রাকৃত জনের ভাষা প্রাকৃত ভাষা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: জনগণের ভাষা
প্রাকৃত শব্দটি এসেছে 'প্রকৃতি' থেকে। ভাষাবিজ্ঞানের আলোচনায় 'প্রকৃতি' শব্দের একটি অর্থ হলো সাধারণ জন বা সাধারণ মানুষ।
সুতরাং, সাধারণ মানুষের (প্রাকৃত জনের) ব্যবহূত কথ্য ভাষাকেই বলা হয় প্রাকৃত ভাষা
এর বিপরীতে, পণ্ডিতদের ভাষা বলতে মূলত প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা—যেমন সংস্কৃত ভাষাকে বোঝানো হতো, যা ছিল ব্যাকরণসম্মত ও মার্জিত রূপ।
19

গৌড়ীয় বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেছেন—

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রামরাম বসু
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. রাজা রামমোহন রায়

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

গৌড়ীয় ব্যাকরণ বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা  ব্যাকরণ।
- রচয়িতা রাজা  রামমোহন রায়।
-  প্রকাশিত ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে।
- এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ।
- এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।

- গৌড়ীয় ব্যাকরণ রচিত হয় তৎকালীন স্কুল-বুক সোসাইটির অভিপ্রায়ে এবং ছাত্রদের পাঠোপযোগী করে। সর্বমোট বারোটি অধ্যায়ে এটি বিন্যস্ত। প্রথম অধ্যায়ে ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ, শব্দ, অক্ষর প্রভৃতি সম্পর্কে দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করা হয়েছে। গ্রন্থে বাংলা ভাষার স্বকীয় উচ্চারণ-পদ্ধতি সম্পর্কে রামমোহন কিছু মৌলিক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাংলা ভাষার লিঙ্গ, প্রত্যয়, পদান্বয়, বাক্যরীতি, ছন্দ ইত্যাদি। মোটামুটিভাবে গৌড়ীয় ব্যাকরণে রয়েছে বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্যের বৈয়াকরণিক বিশ্লেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো রাজা রামমোহন রায়
তিনি ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে ‘গৌড়ীয় বাংলা ব্যাকরণ’ রচনা করেন। এটি বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ হিসেবে পরিচিত। এর আগে তিনি ইংরেজিতে 'Bengali Grammar in the English Language' (১৮২৬) রচনা করেছিলেন।
এই গ্রন্থটি তৎকালীন স্কুল-বুক সোসাইটির অভিপ্রায় অনুযায়ী ছাত্রদের পাঠোপযোগী করে রচনা করা হয়।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা ব্যাকরণ রচনা করলেও (যেমন: ব্যাকরণ কৌমূদী, ১৮৫৩) তিনি 'গৌড়ীয় বাংলা ব্যাকরণ' রচনা করেননি।
20

ব্রজবুলিতে কোন কবি পদাবলি রচনা করেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জ্ঞানদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. গোবিন্দদাস
  4. কোনটিই নয়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্রজবুলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০) এর উদ্ভাবক।
- তিনি মৈথিলী ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিশ্রণে এই কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা উদ্ভাবন করেন।

- এ ভাষায় তিনি রাধাকৃষ্ণের লীলাবিষয়ক বহু পদ রচনা করেন।
- পদগুলিতে রাধাকৃষ্ণের ব্রজলীলা বর্ণিত হওয়ায় এর নাম হয়েছে ব্রজবুলি।
- অবশ্য এই পদগুলি তখন ব্রজধামে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল বলেও একে ব্রজবুলি বলা হতো। 

- বিদ্যাপতির পদগুলি বাংলায় খুব জনপ্রিয় হয়েছিল; বিশেষত  চৈতন্যদেব এই পদ আস্বাদন করায় এর ভাষার প্রতি বাংলার কবিগণ আকৃষ্ট হন।
- ষোল শতকের বাঙালি বৈষ্ণব কবিরা বিদ্যাপতির পদের ভাষা ও ছন্দের অনুকরণে রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পদ রচনা করতে শুরু করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেছেন এ ভাষায়।
- বাংলা ছাড়া আসাম এবং উড়িষ্যাতেও ব্রজবুলির বেশ চর্চা হয়েছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বিদ্যাপতি
ব্রজবুলি হলো মধ্যযুগে বাংলা, মৈথিলী ও অসমীয়া ভাষার সংমিশ্রণে সৃষ্ট একটি কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা বা উপভাষা।
মিথিলার কবি বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০) এই ভাষার উদ্ভাবক এবং তিনিই সর্বপ্রথম রাধাকৃষ্ণের ব্রজলীলাবিষয়ক পদাবলি এই ভাষায় রচনা করেন। তাই তিনি ব্রজবুলি ভাষার প্রধানতম কবি হিসেবে পরিচিত।
অন্যান্য অপশনগুলো, যেমন জ্ঞানদাসগোবিন্দদাস, তারা বাঙালি বৈষ্ণব কবি। তারা বিদ্যাপতির পদাঙ্ক অনুসরণ করে ব্রজবুলিতে পদ রচনা করলেও, বিদ্যাপতিই হলেন এই ভাষার স্রষ্টা ও প্রথম পদাবলি রচয়িতা।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
21

'লালসালু' উপন্যাসের রচনাকাল কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৪৩ সালে
  3. ১৯৫২ সালে
  4. ১৯৭০ সালে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস 'লালসালু।' 
- এটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- লালসালু উপন্যাসটি Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়। 
- 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়। 
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৯৪৮ সালে
'লালসালু' বাংলা সাহিত্যের আধুনিক পর্বের অন্যতম কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। এটি রচনা করেছেন স্বনামধন্য সাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে। এটি তার প্রথম উপন্যাস এবং এর মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যে বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
22

'টপ্পা' কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. এক ধরনের গান
  2. বাদ্যযন্ত্র
  3. নাচের মুদ্রা
  4. বিশেষ ধরনের খেলা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।
- হিন্দি টপ্পাগান এর আদর্শ। 
- বাংলা  টপ্পাগানের জনক ছিলেন  নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত ।
- তাঁর টপ্পাগানের সংকলনের নাম 'গীতরত্ন' (১৮৩২)। 

বিখ্যাত টপ্পাগান-
"নানান দেশের নানান ভাষা।
বিনে স্বদেশীয় ভাষা
পুরে কি আশা।।" -এর রচয়িতা নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত (১৭৪১-১৮৩৯)

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: এক ধরনের গান
টপ্পা হলো রাগ-রাগিণী সংযুক্ত ওস্তাদি গানের একটি বিশেষ ধরণ, যা মূলত কবিগানের সমসাময়িককালে প্রচলিত ছিল।
এটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, বিশেষত ১৮শ শতকের শেষভাগ থেকে ১৯শ শতকের প্রথম ভাগে এটির ব্যাপক প্রচলন ঘটে।
এটি কোনো বাদ্যযন্ত্র, নাচের মুদ্রা বা খেলার নাম নয়, বরং এটি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একটি বিশেষ রীতি।
23

নিচের কোনটি জীবনানন্দ দাশের প্রবন্ধ গ্রন্থ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  2. কবিতার কথা
  3. ঝরা পালক
  4. দুর্দিনের যাত্রী

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

• 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' প্রভৃতি নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ জন্মগ্রহণ করেন বরিশাল শহরে।
- তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ হলো - 'কবিতার কথা'। এই প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি হলো— 'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।'
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার কবিতাকে বলেছেন চিত্ররূপময়।

• জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ -
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কবিতার কথা
জীবনানন্দ দাশের একমাত্র বিখ্যাত প্রবন্ধ গ্রন্থ হলো কবিতার কথা। এই গ্রন্থে তিনি আধুনিক কবিতা, বিশেষ করে তাঁর সময়ের বাংলা কবিতার প্রকৃতি এবং কবির ভূমিকা নিয়ে দার্শনিক আলোচনা করেছেন।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, ধূসর পাণ্ডুলিপি এবং ঝরা পালক হলো জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ
দুর্দিনের যাত্রী গ্রন্থটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা, এটি জীবনানন্দ দাশের কাজ নয়, তাই এটি সরাসরি ভুল।
24

বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলে –

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্রাতিপদিক
  2. সাধিত শব্দ
  3. নামপদ
  4. ক্রিয়াপদ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বিভক্তিবিহীন নামশব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক বা নামপ্রকৃতি।
- অর্থাৎ, ক্রিয়া কিংবা নামশব্দের মূল অংশকে সাধারণভাবে প্রকৃতি বলা হয়।
- বাংলা ভাষায় ধাতু কিংবা প্রাতিপদিকের পরে বিভিন্ন বদ্ধরূপমূল যুক্ত হয়।
- এই বদ্ধ রূপমূলগুলােকে প্রত্যয় নামে অভিহিত করা হয়।
- গঠন অনুসারে দুই রকমের প্রত্যয় বাংলা ভাষায় রয়েছে।
- এগুলাে হলাে : কৃৎ প্রত্যয় এবং তদ্ধিত প্রত্যয়। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: প্রাতিপদিক
বাংলা ব্যাকরণে, বিভক্তিহীন নামশব্দকে বা বিশেষ্য, বিশেষণ এবং অব্যয় শব্দের মূল অংশকে প্রাতিপদিক বলা হয়। এটি নামপ্রকৃতি নামেও পরিচিত। উদাহরণস্বরূপ: হাত, বই, বাড়ি ইত্যাদি।
নাম শব্দের সঙ্গে যখন বিভক্তি যুক্ত হয় (যেমন: হাত + এর = হাতের), তখন শব্দটি নামপদ বা সবিভক্তিক শব্দ হয়।
সাধিত শব্দ: প্রকৃতি বা প্রাতিপদিকের সাথে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে সাধিত শব্দ বলে। যেমন: বড়াই (বড় + আই)।
ক্রিয়াপদ: বাক্যের যে পদ দ্বারা কোনো কাজ সম্পন্ন হওয়া বোঝায়, তাকে ক্রিয়াপদ বলে। ক্রিয়াপদের মূল অংশকে ধাতু বা ক্রিয়াপ্রকৃতি বলে।
25

'ডাক্তার সাহেবের হাতযশ ভালো- - বাক্যে 'হাত' ব্যবহৃত হয়েছে -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অধিকার অর্থে
  2. যশ অর্থে
  3. অভ্যাস অর্থে
  4. নিপুণতা অর্থে

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ডাক্তার সাহেবের হাতযশ ভালো- - বাক্যে 'হাত' ব্যবহৃত হয়েছে - নিপুণতা বা সুখ্যাতি অর্থে

'হাত' আভিধানিক বা সাধারণ অর্থ : হস্ত শরীরের একটি অঙ্গ

'হাত' এর বিশেষ অর্থ:
১. হাত আসা (অভ্যাস হওয়া/রপ্ত হওয়া) কাজটিতে তার হাত এসেছে। ২. হাত করা (বশীভূত করা) চাকরটাকে হাত করে চোর ঘরে ঢুকেছে।
৩. হাত থাকা (প্রস্তাব)। এ ব্যাপারে আমার হাত নেই।
৪. হাত পাতা (অনুগ্রহ চাওয়া/ভিক্ষা করা)। আমি তার কাছে হাত পাততে পারবাে না।
৫. হাত দেওয়া (কাজ করতে চাওয়া) এক সপ্তাহ ধরে কাজটিতে হাত দিতে পারি না।
৬. হাতটান (চুরির অভ্যাস) হাতটানের জন্য চাকরটাকে বিদায় দেওয়া হয়েছে।
৭. হাত তােলা (প্রহার করা) গরিবের গায়ে হাত তােলা ভাল নয়।
৮. হাত দেখা (ভাগ্য গণনা করা) জ্যোতিষী তার হাত দেখেছে।
৯. হাত যশ (সুখ্যাতি) ডা. রফিকের হাত যশ আছে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

প্রদত্ত বাক্যটি একটি বাগধারার বিশেষ ব্যবহার নির্দেশ করে। এখানে 'হাত' শব্দটি তার আভিধানিক অর্থ (শারীরিক অঙ্গ) হারায়, এবং এটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

'হাতযশ' বলতে বোঝায় কাজ করার দক্ষতা, নৈপুণ্য বা সেই দক্ষতার ফলে অর্জিত সুখ্যাতি

যখন বলা হয় 'ডাক্তার সাহেবের হাতযশ ভালো', তখন বোঝানো হয় তিনি তার কাজে নিপুণ (skilled) এবং সফল। তাই 'হাত' শব্দটি এখানে নিপুণতা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

যদিও 'যশ অর্থে' কাছাকাছি, কিন্তু 'হাতযশ'-এর মূল ভাবটি আসে হাতের দক্ষতা বা নৈপুণ্য থেকে, যা অপশন নিপুণতা অর্থে দ্বারা সবচেয়ে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়।
ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও মেডিকেলসহ ২৭+ ইউনিট-ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর এডমিশন সেকশনে।

ভর্তি প্রশ্নব্যাংক দেখুন
26

 "সুন্দর মানুষকে নিজের দিকে টানে” বাক্যটিতে 'সুন্দর' শব্দটি কোন পদ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. অব্যয়

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

যে পদে সাধারণত কোনো ব্যক্তি, বস্তু, জাতি, সমষ্টি, বিষয়, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় বা কোনো কিছুর নাম বোঝায় তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন-
- সুন্দর (বিশেষ্য) মানুষকে নিজের দিকে টানে।
- সুন্দর (বিশেষ্য) মাত্রেরই একটা আকর্ষণ শক্তি আছে।
- সুন্দরের (বিশেষ্য) একটি নিজস্ব আকর্ষণ শক্তি আছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বিশেষ্য (Noun)
সাধারণত 'সুন্দর' শব্দটি বিশেষণ (Adjective) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন—'সুন্দর ফুল' বা 'সুন্দর পাখি'। সেখানে এটি বিশেষ্য পদকে বিশেষিত করে।
কিন্তু আলোচ্য বাক্যে—'সুন্দর মানুষকে নিজের দিকে টানে', এখানে 'সুন্দর' শব্দটি কোনো বিশেষ্যকে বিশেষিত না করে বরং গুণ বা ভাবের নাম হিসেবে বাক্যের কর্তা (Subject) বা নামপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে 'সুন্দর' বলতে 'সৌন্দর্য' বা 'Beauty' নামক abstract noun-কে বোঝানো হচ্ছে।
যেহেতু এটি কোনো কিছুর নাম (গুণবাচক নাম) বোঝাচ্ছে এবং বাক্যে নামপদের ভূমিকা পালন করছে, তাই এটি বিশেষ্য পদ (Noun).
27

'Epicurism'-এর যথার্থ পরিভাষা -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নিয়তিবাদ
  2. অস্তিত্ববাদ
  3. ভোগবাদ
  4. পরিবেশবাদ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

Definition of epicurism: the practices or tastes of an epicure or an epicurean.
Here, the word epicurean means - taking great pleasure in things, especially food and drink, and enjoying yourself
epicurean (noun), (adjective) (ব্যক্তি) ইন্দ্রিয়বিলাসী; ভোগবাদী তত্ত্ব বা মত (গ্রিক দার্শনিক এপিকিউরাস প্রবর্তিত)।
তাই, 
'Epicurism' এর অর্থ ভোগবাদ।

উৎস: accessibledictionary.

ব্যাখ্যা

সঠিক পরিভাষাটি হলো ভোগবাদ
Epicurism শব্দটি এসেছে প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এপিকিউরাস (Epicurus) প্রবর্তিত দর্শন থেকে।
এই মতবাদ অনুসারে, জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য হলো আনন্দ লাভ করা এবং ভয় ও যন্ত্রণা থেকে মুক্ত থাকা। ভোগ বা pleasure-কে কেন্দ্র করে এই দর্শন গড়ে ওঠায় এর যথার্থ পরিভাষা ভোগবাদ
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন দার্শনিক মতবাদকে নির্দেশ করে:
১. নিয়তিবাদ: Determinism বা Fatalism।
২. অস্তিত্ববাদ: Existentialism (যেমন- সাঁজ পল সার্ত্রের মতবাদ)।
৩. পরিবেশবাদ: Environmentalism।
28

‘বাংলা ভাষার উদ্ভব ও বিকাশ’ গ্রন্থের রচয়িতার নাম-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. বিদ্যাপতি
  3. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ইংরেজিতে একটি বই লিখেন 'বাঙলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ' নামে।
- ইংরেজিতে এই গ্রন্থটির নাম হলো : 'The Origin and Development of the Bengali Language'।
- সংক্ষেপে এটিকে বলা হয় ODBL এবং এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত।

উৎস : লাল নীল দীপাবলী, হুমায়ুন আজাদ।

ব্যাখ্যা

প্রদত্ত ‘বাংলা ভাষার উদ্ভব ও বিকাশ’ গ্রন্থটি (ইংরেজি অনুবাদ) মূলত প্রখ্যাত ভাষাতাত্ত্বিক ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি।
তিনি ১৯২৬ সালে তাঁর পিএইচডি থিসিস হিসেবে গ্রন্থটি ইংরেজিতে রচনা করেন।
গ্রন্থটির মূল ইংরেজি নাম হলো: 'The Origin and Development of the Bengali Language'। এটি সংক্ষেপে ODBL নামে পরিচিত এবং বাংলা ভাষার ইতিহাস ও কাঠামো নিয়ে রচিত এটি সবচেয়ে প্রামাণ্য গ্রন্থ।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে পরিচিত। বিদ্যাপতি মধ্যযুগের মৈথিলি কবি এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আধুনিক বাংলা সাহিত্যের সার্থক ঔপন্যাসিক।
29

‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ কী ধরণের রচনা?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ছোটগল্প
  2. কাব্যনাটক
  3. উপন্যাস
  4. পত্রপন্যাস

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

• পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য |
- এখানে মুক্তিযুদ্ধকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরা হয়েছে। 
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে |
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি |

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যনাট্য
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- গণনায়ক,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কাব্যনাটক
‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ রচনাটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান লেখক সৈয়দ শামসুল হক রচিত।
এটি একটি কাব্যনাট্য (Verse Drama) অর্থাৎ এটি গদ্যের পরিবর্তে পদ্য বা কবিতার ছন্দে রচিত।
এই নাটকের মূল উপজীব্য হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। নাটকটিতে যুদ্ধের সময়কালের একটি প্রত্যন্ত গ্রামের ছবি এবং মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি তুলে ধরা হয়েছে।
এটি কোনো সাধারণ ছোটগল্প বা উপন্যাস নয়, বরং এর রচনারীতি নাটকীয় এবং কাব্যিক।
30

“ধুমকেতু” পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. শামসুর রহমান
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শওকত ওসমান

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

• কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু (১৯২২)।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু-"।
- ধূমকেতুর পূজা সংখ্যায় (২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯২২) 'আনন্দময়ীর আগমনে' প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্ত হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন।

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা -
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কাজী নজরুল ইসলাম
ধূমকেতু একটি অর্ধসাপ্তাহিক পত্রিকা যা ১৯২২ সালের ১১ আগস্ট প্রকাশিত হয়। এর প্রকাশক ছিলেন আফজলুল হক। তবে এর সম্পাদক ছিলেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম
নজরুল 'ধূমকেতু' পত্রিকাকে 'অগ্নিবীণা'র প্রতিচ্ছবি হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। এই পত্রিকায় প্রকাশিত 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতাটির জন্য ব্রিটিশ সরকার পত্রিকাটি বাজেয়াপ্ত করে এবং নজরুলকে গ্রেফতার করা হয়।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
31

‘দীপ্যমান’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় সঠিক কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. √দীপ্য+মান
  2. √দিপ্য+মানচ
  3. √দীপ+শামচ
  4. √দীপ্ + শানচ্

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি অনুসারে, 
'দীপ্যমান' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় হলো √দীপ্ + শানচ্ (মান)।
এটি সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ।
'শানচ্' প্রত্যয়যোগে গঠিত আরো শব্দ হলো- চলমান, বর্ধমান ইত্যাদি।

আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুসারে, 
দীপ্যমান (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় -√দীপ্‌ + মান (শানচ্)
অর্থ: উজ্জ্বল, জ্বলন্ত, ভাস্বর।

ব্যাখ্যা

সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো √দীপ্ + শানচ্
'দীপ্যমান' শব্দটি সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয় যোগে গঠিত।
এখানে প্রকৃতি বা মূল ধাতু হলো √দীপ্, যার অর্থ দীপ্তি পাওয়া বা উজ্জ্বল হওয়া।
যে প্রত্যয়টি যুক্ত হয়েছে, সেটি হলো শানচ্। শানচ্ প্রত্যয়যোগে গঠিত হলে মূল শব্দের শেষে সাধারণত '-মান' অংশটি থাকে (যেমন: চল্ + শানচ্ = চলমান)।
অন্যান্য অপশনগুলি ভুল, কারণ তারা হয় ভুল ধাতু (যেমন: √দীপ্য বা √দিপ) অথবা ভুল প্রত্যয় (যেমন: মান, মানচ, শামচ) ব্যবহার করেছে। প্রত্যয় হিসেবে শুধু 'মান' ব্যবহার করা ব্যাকরণগতভাবে সঠিক নয়, এর মূল নাম 'শানচ্'
32

শরীর>শরীল- শব্দটিতে ধ্বনি পরিবর্তনের কোন ধরণের নিয়ম প্রযোজ্য?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সমীভবন
  2. বিষমীভবন
  3. অসমীভবন
  4. ধ্বনিবিপর্যয়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ভাষার পরিবর্তন ধ্বনির পরিবর্তনের সাথে সম্পৃক্ত। ধ্বনি পরিবর্তন নানা প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।

• বিষমীভবন (Dissimilation) : দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন – শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• অসমীকরণ (Dissimilation) : একই ঘরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন – ধপ + ধপ > ধপাধপ, টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি। 

• ধ্বনি বিপর্যয়: শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। যেমন – ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক, জাপানি রিক্সা » বাংলা রিস্কা ইত্যাদি। অনুরুপ – পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।

• সমীভবন: শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন: জন্ম > জম্ম, কাঁদনা > কান্না।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বিষমীভবন
বিষমীভবন (Dissimilation): শব্দের মধ্যে থাকা একই ধরনের দুটি ধ্বনির (বা সমবর্ণের) একটির পরিবর্তন হয়ে গেলে তাকে বিষমীভবন বলে। এটি মূলত উচ্চারণের সুবিধার জন্য ঘটে থাকে।
প্রশ্নোক্ত উদাহরণ: শরীর > শরীল। এখানে দুটি 'র' ধ্বনির একটি পরিবর্তিত হয়ে 'ল' ধ্বনিতে রূপ নিয়েছে। এটি বিষমীভবনের সরাসরি উদাহরণ।
অন্যদিকে, সমীভবন হলো দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে সমতা লাভ করা (যেমন: কর্ম>কম্ম, কাঁদনা>কান্না)।
অসমীভবন হলো একই ধরনের শব্দের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে স্বরধ্বনি যুক্ত হওয়া (যেমন: টপ টপ > টপা টপ)।
ধ্বনি বিপর্যয় হলো শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের স্থান পরিবর্তন করা (যেমন: বাক্স > বাস্ক)।
33

বাংলা ভাষা কোন ভাষা থেকে এসেছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সংস্কৃত
  2. গৌড়ীয় প্রাকৃত
  3. আসামি
  4. হিন্দি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন, ভারতীয় ভাষা থেকেই বৈদিক এবং প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার সৃষ্টি। 
খ্রিষ্টপূর্ব আটশ অব্দে প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা থেকেই আদিম প্রাকৃত ভাষার সৃষ্টি। 
আনুমানিক দুইশ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দে এই ভাষা থেকেই গৌড়ীয় প্রাকৃত এবং আনুমানিক চারশ অব্দে গৌড়ী পাকৃত থেকে গৌড়ী অপভ্রংশের সৃষ্টি। 
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড় অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গকামরূপী ভাষার মাধ্যমে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ পরিগ্রহ করে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় বাংলা ভাষার উৎপত্তি সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে দুজন ভাষাবিদের মতবাদ জানতে হয়, তবে প্রশ্নে যাঁর মতানুসারে উত্তর জানতে চাওয়া হয়েছে, সেটি হলো ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মত।
ড. শহীদুল্লাহর মতে, বাংলা ভাষার উৎপত্তি ভারতীয় আর্য ভাষা থেকে হলেও, এটির সরাসরি উৎস হলো গৌড়ীয় প্রাকৃত। ভাষার ক্রমবিকাশ ধারা অনুযায়ী: প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা \rightarrow আদিম প্রাকৃত \rightarrow গৌড়ীয় প্রাকৃত \rightarrow গৌড়ী অপভ্রংশ \rightarrow বঙ্গ-কামরূপী \rightarrow বাংলা ভাষা
ড. শহীদুল্লাহর মতে, ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ লাভ করে। সুতরাং, প্রশ্নে উল্লিখিত অপশনগুলোর মধ্যে নিকটতম উৎস হলো গৌড়ীয় প্রাকৃত (অপশন ১)।
দ্রষ্টব্য: সংস্কৃত হলো বাংলা ভাষার মূল উৎস ভারতীয় আর্য ভাষার একটি শাখা মাত্র, বাংলা সরাসরি সংস্কৃত থেকে আসেনি। 'আসামি' এবং 'হিন্দি' বাংলা ভাষার সমসাময়িক শাখা বা সহোদর ভাষা।
34

নিচের কোনটি যোগরূঢ় শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পঙ্কজ
  2. তৈল
  3. মধুর
  4. নবাবী

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন-
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতি বিশেষ'।
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
- তৈল =রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।
- মধুর এবং নবাবী = যৌগিক শব্দের উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো পঙ্কজ (Option 0)।
উৎপত্তিগত বা ব্যুৎপত্তিগত অর্থ অনুসারে শব্দকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়: যৌগিক শব্দ, রূঢ়ি শব্দ ও যোগরূঢ় শব্দ
যোগরূঢ় শব্দ হলো সেই শব্দ, যা সমাসবদ্ধ হয়ে গঠিত হলেও সমস্যমান পদগুলির আক্ষরিক অর্থ সম্পূর্ণরূপে অনুসরণ না করে একটি বিশেষ বা সীমাবদ্ধ অর্থ গ্রহণ করে।
পঙ্কজ-এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো: 'পঙ্কে জন্মে যা'। বাস্তবে শৈবাল, শালুকসহ অনেক কিছুই পঙ্কে জন্মায়। কিন্তু যখনই আমরা 'পঙ্কজ' শব্দটি ব্যবহার করি, তখন এটি শুধুমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই সুনির্দিষ্টভাবে ব্যবহৃত হয়। তাই এটি যোগরূঢ় শব্দ।
অন্যদিকে, তৈল হলো রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ (তিল থেকে উৎপন্ন স্নেহ পদার্থ)। মধুর এবং নবাবী শব্দ দুটি যৌগিক শব্দের উদাহরণ, কারণ এদের আভিধানিক এবং ব্যবহারিক অর্থ একই।
35

‘পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন‘- এখানে ‘নীড়‘ শব্দটি কী অর্থে ব্যবহার হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নান্দনিক
  2. আশ্রয়
  3. রহস্যময়
  4. পাখির বাসা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

• নীড় (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = নি+√ঈড়্‌+অ
অর্থ: পাখির বাসা, কুলায় 

"তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে , ‘এতোদিন কোথায় ছিলেন?’
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।"
বনলতা সেন; জীবনানন্দ দাশ
এখানে আলংকারিত অর্থে  ‘নীড়‘ শব্দটি আশ্রয় অর্থে ব্যবহার হয়েছে। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

উদ্ধৃত চরণটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কবিতা ‘বনলতা সেন’ থেকে নেওয়া হয়েছে।
সাধারণ অর্থে ‘নীড়’ শব্দের অর্থ হলো পাখির বাসা। কিন্তু কবিতায় বা সাহিত্যে যখন কোনো শব্দ তার আভিধানিক বা মূল অর্থ ছেড়ে বিশেষ আলংকারিক (Metaphorical) অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন তাকে ব্যঞ্জনা অর্থ বলে।
এখানে, কবির ক্লান্ত পথিক জীবনের শান্তির প্রতীক হিসেবে বনলতা সেনের চোখকে ‘নীড়ের মত’ বলা হয়েছে। নীড় যেমন পাখিকে বিশ্রাম ও আশ্রয় দেয়, তেমনি বনলতা সেনের চোখও কবিকে প্রশান্তি ও আশ্রয় দান করেছে।
সুতরাং, এখানে ‘নীড়’ শব্দটি তার আভিধানিক অর্থ (পাখির বাসা) নয়, বরং আশ্রয় বা নির্ভরতার প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই সঠিক উত্তর হলো ‘আশ্রয়’
উল্লেখ্য, ‘পাখির বাসা’ বিকল্পটি ভুল, কারণ এটি আভিধানিক অর্থ হলেও চরণটির কাব্যিক ভাবার্থ প্রকাশ করে না।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
36

‘নয়ন‘- শব্দটির সঠিক প্রত্যয় নির্ণয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নী + অন
  2. নে + অন
  3. নৌ + অন
  4. নয় + ন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

• ‘নয়ন‘- শব্দটির সঠিক প্রত্যয় = √নী+অন 
নিকটতম উত্তর হিসেবে (ক) গ্রহণযোগ্য। 

• নয়ন (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √নী+অন 
অর্থ: 
- চোখ, লোচন, আঁখি
- প্রাপণ
- যাপন 
- ক্ষেপণ 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো অপশন (ক) নী + অন
‘নয়ন’ শব্দটি হলো একটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ। এটি গঠিত হয়েছে ধাতু বা প্রকৃতির সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে।
শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত বিশ্লেষণ হলো: √নী+অন=নয়ন√\text{নী} + \text{অন} = \text{নয়ন}
এখানে, নী\sqrt{\text{নী}} হলো প্রকৃতি বা ধাতু, যার অর্থ ‘নেওয়া’ বা ‘চালনা করা’। এবং অন হলো কৃৎ প্রত্যয়।
কৃৎ প্রত্যয়ের নিয়ম অনুযায়ী, যখন অন প্রত্যয় যুক্ত হয়, তখন ধাতুর ী/ই/উ/ঊ ইত্যাদি স্বরধ্বনির গুণ বা বৃদ্ধি ঘটে। এই ক্ষেত্রে, নী\sqrt{\text{নী}} ধাতুর দীর্ঘ 'ঈ' ধ্বনিটি পরিবর্তিত হয়ে 'অয়' (নয়) রূপে আসে, এবং তার সাথে 'অন' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ‘নয়ন’ শব্দটি তৈরি হয়।
অন্যান্য অপশনগুলি যেমন 'নে + অন', 'নৌ + অন', বা 'নয় + ন' ব্যাকরণগতভাবে সঠিক প্রত্যয় বিশ্লেষণ নয়।
37

অনুবাদ কত প্রকার?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

অনুবাদ হলো কোনো বক্তব্য বা রচনাকে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায়  রূপান্তরিত করা। 
- রচনার বক্তব্য বিষয়ের পরিবর্তন না করে ভাষাগত পরিবর্তনই অনুবাদ বা তর্জমা বলে বিবেচিত। 
অনুবাদ কাজকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
- আক্ষরিক অনুবাদ 
- ভাবানুবাদ 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ২ প্রকার
অনুবাদ (Translation) কাজকে মূলত রীতির ওপর ভিত্তি করে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়।
এই দুটি প্রধান ভাগ হলো:
  1. আক্ষরিক অনুবাদ (Literal Translation): যেখানে মূল ভাষার প্রতিটি শব্দের হুবহু প্রতিশব্দ লক্ষ্য ভাষায় ব্যবহার করা হয়। এটিকে 'শব্দানুবাদ' বা 'রূঢ় অনুবাদ'-ও বলা হয়।
  2. ভাবানুবাদ (Interpretive/Free Translation): যেখানে শব্দের প্রতি মনোযোগ না দিয়ে মূল রচনার ভাব বা মূল বক্তব্যকে অক্ষুণ্ন রেখে সাবলীলভাবে অনুবাদ করা হয়। এটিকে 'মুক্ত অনুবাদ' বা 'সারানুবাদ'-ও বলা হয়।
ভাষাবিদ ড. হায়াৎ মামুদ-ও তাঁর 'ভাষা-শিক্ষা' গ্রন্থে অনুবাদের এই দুটি প্রধান প্রকারভেদের কথাই উল্লেখ করেছেন।
38

'Autonomous' শব্দের অর্থ -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. স্বাক্ষর
  2. স্বায়ত্তশাসিত
  3. সত্যায়িত
  4. সংশোধিত

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

• Autonomous শব্দের সঠিক পারিভাষিক শব্দ হচ্ছে স্বায়ত্তশাসিত।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু পারিভাষিক শব্দ হচ্ছে:
Armoury - অস্ত্রাগার
Bond - মুচলেকা।
Calorie - তাপাঙ্ক।
Confiscated - বাজেয়াপ্ত।
Emancipation - মুক্তি।
Freight - মাল ভাড়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: স্বায়ত্তশাসিত
Autonomous একটি ইংরেজি শব্দ, যার পারিভাষিক অর্থ হলো স্ব-শাসন যুক্ত বা স্বায়ত্তশাসিত (Self-governed)। এটি এমন কোনো প্রতিষ্ঠান বা অঞ্চলকে বোঝায় যা নিজের নিয়ম বা আইন দ্বারা পরিচালিত।
শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার জন্য পারিভাষিক শব্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি অনুবাদ দক্ষতার অংশ।
অন্যান্য অপশনগুলোর অর্থ ভিন্ন: স্বাক্ষর মানে Signature, সত্যায়িত মানে Attested বা Verified, এবং সংশোধিত মানে Amended বা Corrected।
39

সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গ্রামবার্তা
  2. বঙ্গদর্শন
  3. মাসিক পত্রিকা
  4. সংবাদ প্রভাকর

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন ' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা।
- সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও  দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো বঙ্গদর্শন
সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক ১৮৭২ সালে বঙ্গদর্শন পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
এটি ছিল আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা, যা বাংলা গদ্যের গঠনে ও বাঙালি জাতির মনন বিকাশে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছিল।
এই পত্রিকাতেই তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'বিষবৃক্ষ' সহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও দার্শনিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হতো।
অন্যান্য বিকল্পগুলো:
সংবাদ প্রভাকর পত্রিকাটি ছিল ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত।
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা (অপশনে শুধু 'গ্রামবার্তা') পত্রিকাটি কাঙাল হরিনাথ মজুমদার সম্পাদিত।
40

নতুন শব্দ গঠন করে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সন্ধি ও সমাস
  2. সন্ধি ও কারক
  3. সমাস ও পদ
  4. প্রত্যয় ও পুরুষ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন৷
- সন্ধি শব্দ গঠনেরও একটি উপায়।
- তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।

• সন্ধির কতিপয় উদ্দেশ্য:
- সন্ধি মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়।
- নতুন শব্দ তৈরি করা হয়।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।

• অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দ একসঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
- সমাস অর্থ হল সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ।
- সমাসের কাজ হলো ভাষাকে সংক্ষপে করা, নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করা, শব্দ গঠন প্রভৃতি।
- সমাস শব্দ বা রূপতত্ত্বে আলেচিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সন্ধি ও সমাস
বাংলা ভাষায় নতুন শব্দ গঠনের অন্যতম প্রধান কৌশল হলো সন্ধি (Sandhi) এবং সমাস (Shomash)
সন্ধি: সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। যদিও এর মূল উদ্দেশ্য উচ্চারণের সহজপ্রবণতা ও ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন, তবুও এটি নতুন শব্দ গঠনে সাহায্য করে। যেমন: দেব + আলয় = দেবালয়
সমাস: অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দকে এক পদে পরিণত করার প্রক্রিয়াই হলো সমাস। সমাসের প্রধান কাজই হলো ভাষাকে সংক্ষেপ করা এবং নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করা। যেমন: বিলাত হতে ফেরত = বিলাতফেরত
কারক, পদ, ও পুরুষ ব্যাকরণের ভিন্ন ভিন্ন আলোচ্য বিষয় যা সরাসরি শব্দ গঠন প্রক্রিয়ার অংশ নয়।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
41

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত গ্রন্থ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সত্য মামলা আগরতলা
  2. অবরুদ্ধ নয় মাস
  3. অসমাপ্ত আত্মজীবনী
  4. বাংলাদেশ কথা কয়

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

- 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' হলো শেখ মুজিবুর রহমানে রচিত একটি আত্মজীবনী সংকলন।
- ২০১২ সালের জুনে এ বইটি প্রকাশিত হয়।
- ২০০৪ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা চারটি খাতা আকস্মিকভাবে তাঁর কন্যা বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তগত হয়।
- খাতাগুলি অতি পুরানো, পাতাগুলি জীর্ণ এবং লেখা প্রায়শ অস্পষ্ট।
- মূল্যবান সেই বাতাগুলি পাঠ করে জানা গেল এটি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, যা তিনি ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে অন্তরীণ অবস্থায় লেখা শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ করতে পারেননি। 
- এই লেখাগুলোকে বঙ্গবন্ধু হারিয়ে যাওয়া পূর্বোক্ত আত্মজীবনী হিসেবে সুনিশ্চিত করা হয়।
- পরে এগুলো বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের সম্পাদনায় গ্রন্থাকারে অসমাপ্ত আত্মজীবনী নামে ২০১২ সালের জুনে প্রকাশ করা হয়।
- 'দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড'-এর পক্ষে এ গ্রন্থটি প্রকাশ করেন মহিউদ্দিন আহমেদ।

উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী, শেখ মুজিবুর রহমান।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অসমাপ্ত আত্মজীবনী। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
বঙ্গবন্ধু এই গ্রন্থটি রচনা শুরু করেছিলেন ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে, যখন তিনি ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে অন্তরীণ ছিলেন।
মূল পাণ্ডুলিপি উদ্ধার হওয়ার পর, এটি বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের সম্পাদনায় ২০১২ সালের জুন মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
অন্যান্য অপশন যেমন 'সত্য মামলা আগরতলা', 'অবরুদ্ধ নয় মাস' বা 'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থগুলো বঙ্গবন্ধুর রচিত সাহিত্যকর্ম নয়।
42

অনুবাদে পারদর্শিতা মূলত কীসের ওপর নির্ভরশীল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অভ্যাসের
  2. পড়াশোনার
  3. ভাষান্তরের
  4. নির্ধারণের

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

অনুবাদে পারদর্শিতা মূলত অভ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। 

অনুবাদ হলো কোনো বক্তব্য বা রচনাকে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায়  রূপান্তরিত করা। 
- রচনার বক্তব্য বিষয়ের পরিবর্তন না করে ভাষাগত পরিবর্তনই অনুবাদ বা তর্জমা বলে বিবেচিত। 
অনুবাদ কাজকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
- আক্ষরিক অনুবাদ 
- ভাবানুবাদ 

১৯৭০ সালে ইংল্যান্ডের লেখক আলেক্সান্ডার ফ্রেজার টাইটলার সৃজনশীল রচনা অনুবাদ প্রসঙ্গে কতকগুলাে বিষয়ের দিকে দৃষ্টি দিতে বলেন—
১. মূল কাজের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র ধরবে অনুবাদের চিন্তাভাবনা, ধ্যানদর্শনকে খণ্ডিত না করে।
২. অনুবাদে মূল কাজের শৈলী (Style) যতদূর সম্ভব বজায় রাখতে হবে।
৩. অনুবাদকের দক্ষতা থাকতে হবে দুটি ভাষা—মূল ভাষা ও অনুবাদকের নিজের ভাষায়।
৪. অনূদিত লেখকের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনুবাদকের স্পষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে।
৫. অনুবাদের ভাষায় জটিলতা থাকা উচিত নয়। অনূদিত ভাষায় প্রচলিত ও সাধারণ্যে ব্যবহৃত শব্দাবলির সাহায্যেই অনুবাদ করা উচিত।

অনুবাদের নিয়ম ও অনুবাদের ক্ষেত্রে সচেতনতা
অনুবাদ করার সময় নিচের বিষয়গুলাের প্রতি সচেতন হতে হবে :
১. প্রথমেই মূল অংশটি (Text) বারবার পড়ে এর সঠিক অর্থ বােঝা প্রয়ােজন। একই শব্দ নানা অর্থ প্রকাশ করতে পারে। তাই কোন শব্দ কোন অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে তা ভালােভাবে বুঝে নেয়া প্রয়ােজন।
২. হুবহু শাব্দিক বা আক্ষরিক অনুবাদ করলে অনুবাদ যথার্থ হবে না। ভাষা শুদ্ধ ও সহজসাধ্য না হলেও অনুবাদ হবে না। মূল রচনার আলংকারিক গুণ অনুবাদে যেন বজায় থাকে, সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
৩. সংশ্লিষ্ট ভাষার idiom, phrase সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।। ৪. ক্রিয়ার কাল, বচন, পুরুষ, প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
৫. ইংরেজি নামগুলাে (Noun) অর্থাৎ বিশেষ্যগুলাে ইংরেজি হিসেবেই অনুবাদ করতে হবে।
৬. অনুবাদের শেষে অনুবাদটি বার বার পড়ে দেখা উচিত যেন তা সত্যই অনূদিত ভাষা হয়ে ওঠে। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অভ্যাসের
অনুবাদ হলো একটি ব্যবহারিক দক্ষতা (Practical Skill)। যেকোনো তাত্ত্বিক জ্ঞানে পারদর্শিতা অর্জনের জন্য যেমন পড়াশোনার প্রয়োজন, তেমনি ব্যবহারিক দক্ষতায় পারদর্শিতা লাভের জন্য মূল ভিত্তি হলো বারবার অনুশীলন বা অভ্যাস
অনুবাদক যত বেশি মূল টেক্সট বারবার পড়ে এর সঠিক অর্থ বোঝেন এবং অনূদিত অংশটি সংশোধন করে বার বার দেখে ভাষাটিকে সহজসাধ্য করে তোলেন, ততই তিনি পারদর্শী হয়ে ওঠেন। এই পুনরাবৃত্তি প্রক্রিয়াই হলো অভ্যাস
অন্যদিকে, পড়াশোনা অনুবাদ শেখার জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করে, কিন্তু পারদর্শিতার জন্য যথেষ্ট নয়। ভাষান্তর হলো প্রক্রিয়াটির নাম মাত্র, নির্ভরশীলতা নয়।
43

শুদ্ধ বানান ‍কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অপরান্য
  2. অপরাণ্য
  3. অপরাহ্ন
  4. অপরাহ্ণ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

শুদ্ধ বানান ‍= অপরাহ্ণ

অপরাহ্ণ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = অপর + অহ্ণ 
অর্থ: মধ্যাহ্ন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কাল, বিকেল। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক বানানটি হলো অপরাহ্ণ। এটি একটি সংস্কৃত তৎসম শব্দ, যা ণত্ব বিধানের নিয়মে 'ণ' ব্যবহার করে।
অপরাহ্ণ শব্দটি গঠিত হয়েছে: অপর + অহ্ণ (অহন্ থেকে আগত)। এর অর্থ হলো মধ্যাহ্ন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কাল বা বিকেল
বাংলা বানানে 'হ' বর্ণের সাথে যখন 'ণ' যুক্ত হয়, তখন তা 'হ্ণ' (হ + ণ) রূপে লেখা হয়। পক্ষান্তরে, ভুল বিকল্পগুলোতে 'ন' (অপরাহ্ন) বা 'ন্য' (অপরান্য) যুক্ত করা হয়েছে, যা অশুদ্ধ।
44

কোনটি কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ঢাকা + ই
  2. মিশ্ + উক
  3. চোর + আ
  4. সোনা + আলি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

মিশ্ + উক = মিশুক। 
এটি কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ

শব্দ বা ধাতুর পরে  অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে তাকে প্রত্যয় বলে। 
- যেমন, বাঘ + আ = বাঘা, কৃ + তব্য = কর্তব্য। 
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়। তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কে তদ্ধিতান্ত শব্দ বলে।  যেমন, বাঘ + আ = বাঘা, - এখানে 'আ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে। এবং বাঘা হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ । 
- অন্যদিকে ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে  কৃৎ প্রত্যয়।  কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ কে কৃদান্ত শব্দ বলে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো মিশ্ + উক। কারণ এটি কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ।

ব্যাকরণে, শব্দের মূল অংশকে প্রকৃতি এবং প্রকৃতির পরে যুক্ত হওয়া অর্থহীন শব্দাংশকে প্রত্যয় বলা হয়। প্রকৃতি মূলত দুই প্রকার—ধাতু প্রকৃতি (ক্রিয়ামূল) এবং নাম প্রকৃতি (শব্দ)।

১. কৃৎ প্রত্যয় (Krit Pratyay): যখন ধাতু প্রকৃতির (ক্রিয়ামূল) সঙ্গে কোনো প্রত্যয় যুক্ত হয়, তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে।
উদাহরণ: মিশ্ (ধাতু/ক্রিয়ামূল) + উক = মিশুক

২. তদ্ধিত প্রত্যয় (Taddhit Pratyay): যখন নাম প্রকৃতির (বিশেষ্য, বিশেষণ ইত্যাদি) সঙ্গে কোনো প্রত্যয় যুক্ত হয়, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

অন্য অপশনগুলো ভুল, কারণ:
ঢাকা + ই, চোর + আ, সোনা + আলি — এগুলির মূল অংশ (ঢাকা, চোর, সোনা) হলো নাম শব্দ বা নাম প্রকৃতি। তাই এগুলো তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।
45

ব্যক্তিগত পত্রে কতটি অংশ থাকে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চার
  2. পাঁচ
  3. ছয়
  4. সাত

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ব্যক্তিগত পত্রে ছয়টি অংশ। 
সেগুলো হচ্ছে- 
১. চিঠির ওপরের মঙ্গলসূচক শব্দ। 
২. চিঠির ওপরের  ডান কোণে স্থান ও তারিখ। 
৩. চিঠির ওপরের অংশের বা দিকে প্রাপকের উদ্দেশে সম্বোধন বা সম্ভাষণ। 
৪. চিঠির বক্তব্য বিষয় বা পত্রগর্ভ। পত্রগর্ভে - প্রাক্‌-ভাষণ বা ভূমিকা, পত্রসার, বিদায় ভাষণ অন্তর্গত। 
৫. নিবেদন ও স্বাক্ষর। 
৬. চিঠির শিরোনাম।  

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

ব্যক্তিগত পত্র বা প্রীতিপত্র একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা পরীক্ষায় প্রায়ই আসে। বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী, ব্যক্তিগত পত্রে সাধারণত ছয়টি (৬) অংশ থাকে।
এই ছয়টি অংশ মনে রাখলে উত্তর দেওয়া সহজ হবে:
১. মঙ্গলসূচক শব্দ: (যেমন: আল্লাহ ভরসা, শ্রীচরণেষু ইত্যাদি।)
২. স্থান ও তারিখ: (ডানদিকের ওপরের কোণে।)
৩. সম্বোধন বা সম্ভাষণ: (বামদিকের ওপরের অংশে, যেমন: প্রিয় বন্ধু।)
৪. পত্রগর্ভ বা মূল বক্তব্য: (এটি হলো চিঠির মূল অংশ।)
৫. নিবেদন ও স্বাক্ষর: (চিঠির সমাপ্তি।)
৬. শিরোনাম বা ঠিকানা: (খামের ওপরের ঠিকানা।)
এই ছয়টি অংশ সঠিকভাবে বিন্যস্ত থাকলেই ব্যক্তিগত পত্র সম্পূর্ণ হয়, তাই সঠিক উত্তর 'ছয়'
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
46

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ধূমকেতু
  2. সবুজপত্র
  3. ভারতী
  4. সওগাত

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা -
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ।

অন্যদিকে,
- বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষারীতির প্রথম মুখপত্র 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালে।
- সওগাত (১৯২৮) পত্রিকার সম্পাদক - মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
- ‘ভারতী’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়  ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে, রবীন্দ্র-ভাতা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো— ধূমকেতু
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম কর্তৃক সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা হলো 'ধূমকেতু'। এটি ১৯২২ সালের ১১ আগস্ট প্রথম প্রকাশিত হয়।
অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল, কারণ:
সবুজপত্র: বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষারীতির প্রথম মুখপত্র এই পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন প্রমথ চৌধুরী
ভারতী: এই পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় ভাই)।
সওগাত: এই পত্রিকাটি মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন কর্তৃক সম্পাদিত হয়।
47

বাংলা গদ্যের জনক কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। 
- বাংলা গদ্যকে গতিশীল করেপ্রাণদান করেছেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- এর আগে তা ছিল প্রস্তরবৎ। 
- তিনি বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ, ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন।
- বাংলা গদ্যের অন্তর্নিহিত ধ্বনিঝংকার ও সুরবিন্যাস তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন এবং বাংলা গদ্যকে শ্বাসপর্ব ও অর্থপর্ব অনুসারে ভাগ করেসেখানে যতিচিহ্ন স্থাপন করেন।  
- বাংলা গদ্যকে সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের জনক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের 'প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
তাকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয় কারণ তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীলসাহিত্য গুণসম্পন্ন করে তোলেন।
এর আগে বাংলা গদ্যে কোনো সুস্পষ্ট কাঠামো বা যতিচিহ্নের ব্যবহার ছিল না। বিদ্যাসাগরই প্রথম শ্বাসপর্ব, অর্থপর্বযতিচিহ্নের (Punctuation) সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করেন, যার ফলে বাংলা গদ্য হয়ে ওঠে সুবোধ্য ও শিল্পান্বিত।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা উপন্যাসের জনক হিসেবে পরিচিত, আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার হাত ধরে বাংলা গদ্য আরও আধুনিক ও পরিশীলিত রূপ লাভ করে।
48

শুদ্ধ শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ব্যাকরণবিদ
  2. বৈয়াকরণ
  3. ব্যাকরণিক
  4. বৈয়াকরণিক

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

শুদ্ধ শব্দ = বৈয়াকরণ 

বৈয়াকরণ (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = ব্যাকরণ+অ 
অর্থ:
- ব্যাকরণবিদ 
- ব্যাকরণসম্পর্কিত 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক শব্দটি হলো বৈয়াকরণ। কারণ এটি একটি শুদ্ধ শব্দরূপ যা ব্যাকরণ জানেন এমন ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
শব্দটি তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত। এর প্রকৃতি-প্রত্যয় হলো: ব্যাকরণ + অ (ষ্ণ)। এই 'অ' প্রত্যয় যোগে শব্দের প্রথম স্বরবর্ণের স্বরবৃদ্ধি ঘটে (অ \rightarrow ঐ), ফলে 'ব' হয়ে যায় 'বৈ'।
ব্যাকরণবিদ শব্দটি যদিও অর্থগতভাবে সঠিক (যিনি ব্যাকরণ জানেন), কিন্তু প্রশ্নটি শুদ্ধ প্রত্যয়জাত শব্দরূপ জানতে চেয়েছে, যার মান্য রূপ বৈয়াকরণ
অপর দুটি বিকল্প ব্যাকরণিক এবং বৈয়াকরণিক হলো ভুল বা অপ্রচলিত শব্দরূপ, তাই এগুলি অশুদ্ধ।
49

 তার বয়স বেড়েছে, কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি—

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. যৌগিক বাক্য
  2. মিশ্র বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. সাধারণ বাক্য

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

• 'তার বয়স বেড়েছে, কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি'— বাক্যটি একটি যৌগিক বাক্য। 

• পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
• যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে। যেমন-
- তার বয়স বেড়েছে কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি।
- তিনি সৎ কিন্তু কৃপণ।
- সত্য কথা বলিনি তাই বিপদে পড়েছি।
- তার বয়স হয়েছে কিন্তু বুদ্ধি হয়নি।
- মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নিত্য করে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: যৌগিক বাক্য
যে বাক্যে পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বাক্য কোনো সমন্বয়ী অব্যয় (Coordinating Conjunction) দ্বারা যুক্ত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তাকে যৌগিক বাক্য (Compound Sentence) বলে।
প্রদত্ত বাক্যে— 'তার বয়স বেড়েছে' এটি একটি সম্পূর্ণ সরল বাক্য এবং 'বুদ্ধি বাড়েনি' এটিও একটি সরল বাক্য। এই দুটি বাক্য 'কিন্তু' অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়েছে।
যেহেতু 'কিন্তু', 'এবং', 'ও', 'অথবা', 'অথচ', 'বরং', 'তবুও', 'তাও' ইত্যাদি হলো সমন্বয়ী অব্যয়, তাই এটি একটি যৌগিক বাক্য
50

অনুবাদ কোন প্রকারের হবে তা কীসের ওপর নির্ভর করে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিষয়ের ওপর
  2. ভাবের ওপর
  3. বিন্যাসের ওপর
  4. ভাষার ওপর

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

অনুবাদ হলো কোনো বক্তব্য বা রচনাকে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায়  রূপান্তরিত করা। 
- রচনার বক্তব্য বিষয়ের পরিবর্তন না করে ভাষাগত পরিবর্তনই অনুবাদ বা তর্জমা বলে বিবেচিত। 
অনুবাদ কাজকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
- আক্ষরিক অনুবাদ 
- ভাবানুবাদ 

আক্ষরিক অনুবাদে প্রতিটি শব্দের প্রতিশব্দ ব্যবহার করা হয়, অন্যদিকে ভাবানুবাদে ভাষায় স্থিত মূল ভাবকে অক্ষুন্ন রাখা হয়। 
তাই বলা যায় অনুবাদ কোন প্রকারের হবে তা নির্ভর করে ভাবের ওপর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ভাবের ওপর
অনুবাদ মূলত দুই প্রকারের হতে পারে: আক্ষরিক অনুবাদ (Literal Translation) এবং ভাবানুবাদ (Sense/Idiomatic Translation)।
অনুবাদক যখন উৎসভাষার প্রতিটি শব্দের প্রতিশব্দ ব্যবহার করে হুবহু রূপান্তর ঘটান, তখন তাকে আক্ষরিক অনুবাদ বলে। এই পদ্ধতিতে মূল বক্তব্য বা ভাব often বিঘ্নিত হয়।
অন্যদিকে, যখন অনুবাদক শব্দের প্রতিশব্দ ব্যবহারের চেয়ে মূল বক্তব্যের ভাব, তাৎপর্য, বা রস অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর জোর দেন, তখন তাকে ভাবানুবাদ বলা হয়।
যেহেতু অনুবাদকের মূল লক্ষ্যই হলো উৎসভাষার ভাব বা Essence লক্ষ্যভাষায় কতটা সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হবে, সেই সিদ্ধান্তের ওপরই অনুবাদের প্রকারভেদ নির্ভর করে। অর্থাৎ, অনুবাদক ভাবের দিকে গুরুত্ব দেবেন নাকি শব্দের দিকে, সেটাই প্রধান নির্ণায়ক।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
51

ভাষার মূল উপকরণ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বাক্য
  2. ধ্বনি
  3. শব্দ
  4. বর্ন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

• ভাষার মূল ভিত্তি - ধ্বনি।
• ভাষার ক্ষুদ্রতম একক/মূল উপাদান - ধ্বনি।
ভাষার মূল উপকরণ - বাক্য।
• ভাষার প্রাণ - অর্থবোধক বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, সপ্তম ও নবম দশম শ্রেণী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বাক্য
ভাষার মূল উদ্দেশ্য হলো ভাব বা মনের অর্থ সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা। যে উপাদান বা উপকরণ ব্যবহার করে এই সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করা হয়, তাই হলো ভাষার মূল উপকরণ
ব্যাকরণ অনুসারে, একটি সম্পূর্ণ অর্থবোধক চিন্তা প্রকাশ পায় শুধুমাত্র বাক্যের মাধ্যমে। তাই বাক্যকে ভাষার মূল উপকরণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তারা মূল উপকরণ নয়:
ধ্বনি: এটি ভাষার ক্ষুদ্রতম একক বা মূল ভিত্তি। এটি উপকরণ নয়, বরং ভিত্তি।
শব্দ: এটি বাক্যের উপাদান (উপকরণ নয়), যা ধ্বনি দিয়ে তৈরি হয়।
52

মীর মশাররফ হোসেনের ছদ্মনাম কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বনফুল
  2. গাজীমিয়া
  3. উদাসীন পথিক
  4. জরাসন্ধ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

গাজী মিয়াঁ এবং 'উদাসীন পথিক' উভয় ছদ্মনামেই মীর মশাররফ হোসেন সাহিত্য রচনা করেছেন। 

- 'উদাসীন পথিক' ছদ্মনামে মশাররফ হোসেন তাঁর ব্যক্তিজীবনের পটভূমিতে রচনা করেছেন 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' (১৮৯০)। 
- গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবন নির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনা মিশেল উপন্যাসসূলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা। 

- 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে মশাররফ হোসেন তাঁর কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনী মূলক রচনা 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী'।
- এতে লেখক নিজেকে ভেড়াকান্ত নামে উল্লেখ করেন। 
- এতে বঙ্কিমের 'কমলাকান্তের দপ্তর' -এর প্রভাব পাওয়া যায়। 
 
- মীর মশাররফ হোসেনের আরও দুটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ- 
- আমার জীবন (১৯১০)
- কুলসুম জীবনী (১৯১০)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গাজীমিয়া
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মীর মশাররফ হোসেন তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রধানত দুটি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। একটি হলো 'গাজী মিয়াঁ' এবং অন্যটি হলো 'উদাসীন পথিক'
গাজী মিয়াঁ ছদ্মনামে তিনি তাঁর কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনীমূলক রচনা 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' (১৮৯৯) রচনা করেন। এই রচনাটি ব্যঙ্গাত্মক এবং এতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কমলাকান্তের দপ্তর'-এর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
অন্যান্য অপশনের মধ্যে: বনফুল ছদ্মনামটি ব্যবহার করতেন বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এবং জরাসন্ধ ছদ্মনামটি ব্যবহার করতেন চারুচন্দ্র চক্রবর্তী।
53

‘শোক’ শব্দের বিপরীত-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দুঃখ
  2. হর্ষ
  3. অনুতপ্ত
  4. ব্যথা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

শোক শব্দের বিপরীত শব্দ হর্ষ।
- শোক অর্থ দুঃখ।
- বিপরীত অর্থ: (হর্ষ, হরষ, হরিষ -অর্থ আনন্দ); উল্লাস; পুলক।

উৎস: বাংলা একাডেমী অভিধান।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো হর্ষ
শোক শব্দের অর্থ হলো দুঃখ, বেদনা বা বিষাদ। এর ঠিক বিপরীত অর্থ হলো আনন্দ বা উল্লাস, যা হর্ষ শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
বিপরীত শব্দ জোড়টি হলো: শোক ↔ হর্ষ
অন্যান্য অপশনগুলো যেমন— দুঃখ এবং ব্যথা হলো ‘শোক’ শব্দের সমার্থক বা প্রায় সমার্থক শব্দ।
অন্যদিকে, অনুতপ্ত অর্থ অনুশোচনা বা আফসোস, যা শোকের বিপরীত শব্দ হিসেবে প্রযোজ্য নয়।
54

’তিনি সৎ কিন্তু কৃপণ’ বাক্যটি -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. মিশ্র বাক্য
  4. বিস্ময়বোধক বাক্য

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

 ‘তিনি সৎ কিন্তু কৃপণ’ বাক্যটি যৌগিক।

• পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
• যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে। যেমন:
- তার বয়স বেড়েছে কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি।
- তিনি সৎ কিন্তু কৃপণ।
- সত্য কথা বলিনি তাই বিপদে পড়েছি।
- তার বয়স হয়েছে কিন্তু বুদ্ধি হয়নি।
- মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নিত্য করে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো যৌগিক বাক্য (Compound Sentence)
যে বাক্যে দুই বা ততোধিক পরস্পর নিরপেক্ষ সরল বা মিশ্র বাক্য কোনো সংযোজক বা বিয়োজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়ে একটি সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে, তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
প্রদত্ত বাক্যে— ‘তিনি সৎ’ এবং ‘তিনি কৃপণ’—এই দুটি স্বাধীন (Independent) বাক্য ‘কিন্তু’ নামক সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়েছে।
সরল বাক্য (Simple Sentence) ভুল, কারণ সরল বাক্যে মাত্র একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।
মিশ্র বাক্য (Complex Sentence) ভুল, কারণ মিশ্র বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্য এবং তার উপর নির্ভরশীল অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে, যা সাপেক্ষ অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়।
55

কোনটি জীবনানন্দ দাশের কাব্য নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ঝরা পালক
  2. সাতটি তারার তিমির
  3. অর্কেস্ট্রা
  4. মহাপৃথিবী

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

- 'অর্কেষ্ট্রা' কাব্যগ্রন্থটি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচনা করেন।

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক হিসেবে সমধিক পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে জন্মগ্রহন করেন।
- পিতা হীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন বিশিষ্ট দার্শনিক।
- তাঁর স্ত্রী রাজেশ্বরী বাসুদেব প্রসিদ্ধ গায়িকা ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী।
- অর্কেস্ট্রা।
- ক্রন্দসী।
- উত্তরফাল্গুনী।
- সংবর্ত।
- দশমী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত।
- কুলায় ও কালপুরুষ।
এছাড়াও 'প্রতিধ্বনি' নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: অর্কেস্ট্রা
'অর্কেস্ট্রা' কাব্যগ্রন্থটি জীবনানন্দ দাশের রচিত নয়, এটি আধুনিক যুগের অন্যতম প্রধান কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের রচনা।
অন্যান্য অপশনগুলি যেমন— 'ঝরা পালক' (প্রথম কাব্যগ্রন্থ, ১৯২৭), 'সাতটি তারার তিমির' (১৯৪৮), এবং 'মহাপৃথিবী' (১৯৪৪)— এই সবগুলোই জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
তাই, সঠিক উত্তর হলো ৩ নং অপশন 'অর্কেস্ট্রা'
56

কালি ও কলম কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. পত্রিকা
  4. প্রবন্ধ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

• কালি ও কলম সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি বিষয়ক বাংলা মাসিক প্রত্রিকা, যা ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- ২০০৪ সাল থেকে এটি বিরতি দিয়ে প্রকাশ হলেও বর্তমানে এটি মাসিক ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশক আবুল খায়ের, এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি হলেন শিক্ষাবিদ ও লেখক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পত্রিকা
কালি ও কলম হলো সাহিত্য, শিল্প, ও সংস্কৃতি বিষয়ক একটি মাসিক বাংলা পত্রিকা (ম্যাগাজিন)।
এটি ঢাকা থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হয় এবং এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো সমকালীন শিল্প ও সাহিত্যের চর্চাকে উৎসাহিত করা।
অতএব, এটি কোনো উপন্যাস, কাব্যগ্রন্থ কিংবা প্রবন্ধ সংকলন নয়, বরং একটি সাময়িকী।
57

প্রত্যয় কয় প্রকার?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. এক
  2. দুই
  3. তিন
  4. চার

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার। যথা:
১. কৃৎ প্রত্যয় এবং
২.তদ্ধিত প্রত্যয়।

 কৃৎ প্রত্যয়:
ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়।
- যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য
- বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা : বাংলা কৃৎ প্রত্যয়  ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের সঙ্গে বা শেষে যেসব প্রত্যয় যোগ হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- যেমন: চোর+আ = চোরা, কেষ্ট+আ = কেষ্টা,  ডিঙি+আ = ডিঙা, বাঘ্+আ = বাঘা, হাত্+আ = হাতা 

বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার। যথা:
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো দুই (2)। প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার
এগুলো হলো:
১. কৃৎ প্রত্যয় (Krit Prottoy): যা ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়।
২. তদ্ধিত প্রত্যয় (Taddhit Prottoy): যা শব্দমূল বা নাম শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
অনেকে ভুল করে 'তিন' নির্বাচন করতে পারেন, কারণ তদ্ধিত প্রত্যয়কে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় (বাংলা, সংস্কৃত, বিদেশি)। তবে মূল বিভাজন মাত্র দুইটি
58

‘বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে মাগধী প্রাকৃত থেকে’।- এ মতের প্রবক্তা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. স্যার জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. ড. সুকুমার সেন
  4. ড. সুনীতিকুমার চট্রোপধ্যায়
  5. ড. মুহম্মদ আব্দুল হাই

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

• উনিশ শতকের শেষের দিকে পণ্ডিত জর্জ গ্রিয়ারসন তাঁর একটি প্রবন্ধে বলেছেন- 'মাগধি প্রাকৃত' নামক ভারতীয় উপভাষার পূর্বাঞ্চলীয় বিশেষ এক রূপ থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে।
তবে, ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মাগধি অপভ্র ংশ মেনে নেন বাংলার উৎস ভাষা হিসেবে।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, গৌড় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা অর্থ প্রাকৃতজনের মুখের ভাষা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে। অর্থাৎ বাংলা ভাষার উৎপত্তি - গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: স্যার জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
উনিশ শতকের শেষের দিকে, স্যার জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন তাঁর ভাষাতাত্ত্বিক প্রবন্ধে প্রথম এই মতবাদ দেন যে, বাংলা ভাষা ভারতীয় উপভাষার পূর্বাঞ্চলীয় রূপ 'মাগধী প্রাকৃত' থেকে জন্মগ্রহণ করেছে।
যদিও পরবর্তীকালে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এর আরও পরিমার্জিত রূপ দেন (মাগধী অপভ্রংশ), প্রশ্নে যেহেতু সরাসরি 'মাগধী প্রাকৃত' উল্লেখ করা হয়েছে, তাই এর প্রাথমিক প্রবক্তা হিসেবে গ্রিয়ারসনই সঠিক উত্তর।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতবাদটি ভিন্ন। তিনি মনে করেন, বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে 'গৌড়ীয় প্রাকৃত' থেকে।
59

 ‘সত্যি সেলুকাস, এদেশ বড় বিচিত্র’। - কোন বাক্য?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নির্দেশাত্মক বাক্য
  2. বিস্ময়বোধক বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. জটিল বাক্য

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- ‘সত্যি সেলুকাস, এদেশ বড় বিচিত্র’।

• জটিল বাক্য প্রধান ও অপ্রধান দুটি খন্ডবাক্যের সমন্বয়ে গঠিত হয়। এখানে প্রধান খন্ডবাক্যটি স্বাধীন এবং অপ্রধান বাক্যখন্ডটি তার অধীন বা আশ্রিত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: জটিল বাক্য (Complex Sentence)। বাক্যকে গঠনগত দিক থেকে সাধারণত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়: সরল, জটিল এবং যৌগিক।
জটিল বাক্য (Complex Sentence): যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্য (Principal Clause) এবং তার অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত খণ্ডবাক্য (Subordinate Clauses) থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে। এই বাক্যগুলিতে সাধারণত সাপেক্ষ সর্বনামের ব্যবহার দেখা যায় (যেমন: যদি-তবে, যখন-তখন, যে-সে)।
প্রদত্ত বাক্যটি, ‘সত্যি সেলুকাস, এদেশ বড় বিচিত্র’, বাক্য প্রকরণের নিয়ম অনুযায়ী জটিল বাক্য হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ হয়। যদিও এটি দেখতে সরল বা বিস্ময়সূচক মনে হতে পারে, এর পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণগত বিশ্লেষণে এটি প্রধান ও অপ্রধান খণ্ডবাক্যের সমন্বয়ে গঠিত (যেখানে একটি অংশ বাক্যের অন্য অংশের অধীন), ফলে এটি জটিল বাক্যের অন্তর্ভুক্ত।
বিস্ময়বোধক বাক্য: এটি বাক্যের অর্থগত শ্রেণিবিভাগ, গঠনগত নয়। বাক্যটি বিস্ময় প্রকাশ করলেও, গঠনগতভাবে এটি জটিল বাক্যের উদাহরণ।
যৌগিক বাক্য: যৌগিক বাক্য দুটি স্বাধীন বাক্যকে (Independent Clauses) ‘এবং’, ‘অথবা’, ‘কিন্তু’ ইত্যাদি সংযোজক অব্যয় দিয়ে যুক্ত করে।
60

নিচের কোন বিরাম চিহ্নকে পদ সংযোগ চিহ্ন বলে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ড্যাস
  2. হাইফেন
  3. কোলন
  4. সেমিকোলন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

হাইফেন হচ্ছে শব্দ বা পদ সংযোগ চিহ্ন। হাইফেন সব সময় বসে দুই বা ততোধিক শব্দের মধ্যে।
• হাইফেন দ্বারা সংযুক্ত শব্দ পড়ার ক্ষেত্রে থামার বা বিরামের কোন প্রয়োজন নেই।
যেমন- সোনা-রুপা-মণি-মুক্তা কোন কিছুতেই আমার লোভ নেই।
[এই বাক্যে সোনা, রুপা, মণি, মুক্তা পড়ার সময় বিরতির কোন প্রয়োজন নেই]

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিরাম চিহ্নের বিরতি কাল:
দাড়ি (।) - এক সেকেন্ড
সেমিকোলন (;) - ১ বলার দ্বিগুণ সময়
এক- উদ্ধৃুত চিহ্ন (‘ ‘) - ১ সেকেন্ড
কমা (,) - ১ বলতে যে সময় প্রয়োজন

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: হাইফেন
হাইফেন (Hyphen) চিহ্নকে পদ সংযোগ চিহ্ন বা শব্দ সংযোগ চিহ্ন বলা হয়। এটি সমাসবদ্ধ পদ বা দুই বা ততোধিক শব্দের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে একটি যৌগিক শব্দ তৈরি করে।
যেমন: মা-বাবা, ভাই-বোন, সোনা-রুপা ইত্যাদি। হাইফেন দ্বারা সংযুক্ত শব্দগুলো পড়ার ক্ষেত্রে কোনো বিরতির প্রয়োজন হয় না
বিপরীতে, ড্যাস চিহ্ন সাধারণত বাক্যের আকস্মিক পরিবর্তন, ব্যাখ্যা প্রদান অথবা দীর্ঘ বিরতির জন্য ব্যবহৃত হয়। কোলন কোনো তালিকা, উদাহরণ বা উদ্ধৃতির আগে ব্যবহৃত হয়, এবং সেমিকোলন একাধিক সমজাতীয় বাক্যের মধ্যে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ বিরতি নির্দেশ করে।
61

‘শর্বরী’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দিবস
  2. সকাল
  3. সন্ধ্যা
  4. রাত্রি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

• 'শর্বরী' শব্দের সমার্থক শব্দ হলো: রাত্রি, নিশা, রজনী, যামিনী, নিশীথিনী, বিভাবরী, ক্ষণদা ইত্যাদি। 

কিছু পরিচিত শব্দের সমার্থক শব্দ হলো:
'জলদ' শব্দের সমার্থক শব্দ হলো মেঘ, জলধর, বারিদ, নীরদ ইত্যাদি। 
'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দগুলো হলো- স্রোতস্বিনী, তটিনী, স্রোতস্বতী, শৈবলিনী, সরিৎ, প্রবাহিণী, তরঙ্গিণী ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: রাত্রি। বাংলা শব্দভান্ডারে ‘শর্বরী’ শব্দটি রাত্রির প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
রাত্রির বহুল ব্যবহৃত অন্যান্য সমার্থক শব্দগুলো হলো— রজনী, নিশা, যামিনী, নিশীথিনী, বিভাবরী এবং ক্ষণদা
বাকি অপশনগুলো (দিবস, সকাল, সন্ধ্যা) দিনের বিভিন্ন অংশকে নির্দেশ করে, তাই এগুলি ‘শর্বরী’ এর বিপরীতার্থক বা ভিন্নার্থক শব্দ।
62

প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত পত্রিকার নাম?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তত্ত্ববোধিনী
  2. সবুজ পত্র
  3. কল্লোল
  4. ধূমকেতু

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

•বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল বীরবল।
- ১৯১৬ সালে প্রকাশিত 'বীরবলের হালখাতা' তাঁর চলিত রীতিতে লিখিত প্রথম গ্রন্থ।
- এটি ১৯০২ সালে প্রথম ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- 'সবুজপত্র' পত্রিকা (১৯১৪) প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত বিশিষ্ট সাহিত্য পত্রিকা। 
- এটি বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং ১৩ বছর চলে। 
- এটি চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে।
- তিনি 'বিশ্বভারতী' পত্রিকার সম্পাদনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো সবুজ পত্র
বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হিসেবে খ্যাত প্রমথ চৌধুরী (ছদ্মনাম: বীরবল) ১৯১৪ সালে এই পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
'সবুজপত্র' পত্রিকা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং এটি বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রচলনে মূল ভূমিকা পালন করেছিল।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন সাহিত্যিকদের সঙ্গে সম্পর্কিত:
    • তত্ত্ববোধিনী: এটি অক্ষয়কুমার দত্তদেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর সংশ্লিষ্ট পত্রিকা।
    • কল্লোল: এটি দীনেশরঞ্জন দাশ কর্তৃক সম্পাদিত আধুনিক যুগের একটি বিখ্যাত পত্রিকা।
    • ধূমকেতু: এটি কাজী নজরুল ইসলাম কর্তৃক সম্পাদিত একটি বিখ্যাত পত্রিকা।
63

গঠন অনুসারে শব্দ কত প্রকার?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তিন
  2. দুই
  3. পাঁচ
  4. চার

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

গঠন অনুযায়ী শব্দ দুই প্রকার। যথা:
১.মৌলিক
২.সাধিত

• মৌলিক শব্দ: মৌলিক শব্দ: যে শব্দকে আর ভাঙ্গা বা বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন:
- লাল, গোলাপ, হাত, পা মৌলিক শব্দ। 

• সাধিত শব্দ: যে শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়। যেমন: পরিচালক, সম্পাদকীয়, গরমিল, নীলাকাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

গঠন বা স্বরূপ অনুসারে বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। তাই সঠিক উত্তর হলো দুই
এই দুই প্রকার হলো:
১. মৌলিক শব্দ: যে শব্দকে আর ভাঙ্গা বা বিশ্লেষণ করা যায় না এবং যার অংশগুলোর আলাদা কোনো অর্থ থাকে না। যেমন: হাত, পা, লাল, ফুল।
২. সাধিত শব্দ: যে শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে। এই শব্দগুলো সাধারণত উপসর্গ, প্রত্যয় বা সমাসের মাধ্যমে তৈরি হয়। যেমন: পরিচালক, নীলাকাশ, গরমিল।
মনে রাখবেন, অর্থ অনুসারে শব্দ তিন প্রকার (যোগিক, রূঢ়ি ও যোগরূঢ়) এবং উৎস বা উৎপত্তি অনুসারে শব্দ পাঁচ প্রকার (তৎসম, অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব, দেশি, বিদেশি)। তাই 'তিন', 'পাঁচ' বা 'চার' গঠন অনুসারে শব্দের প্রকারভেদ নয়।
64

ব্যক্তিগত পত্রের উপরের ডান কোণে কী লেখা হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সম্ভাষণ
  2. প্রাপকের ঠিকানা
  3. মঙ্গলসূচক শব্দ
  4. পত্র লেখকের স্থান ও তারিখ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ব্যক্তিগত পত্রের উপরের ডান কোণে পত্র লেখকের বা প্রেরকের স্থান ও তারিখ উল্লেখ থাকে।

সাধারণত একটি ব্যক্তিগত চিঠিতে চয়টি অংশ বিদ্যমান থাকে। যথা:
১. মঙ্গলসূচক শব্দ।
২. স্থান ও তারিখ।
৩. সম্বোধন ও সম্ভাষণ।
৪. চিঠির বক্তব্য।
৫. লেখকের স্বাক্ষর, বিদায় সম্ভাষণ।
৬. শিরোনাম- প্রেরক ও প্রাপকের নাম ঠিকানা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পত্র লেখকের স্থান ও তারিখ
ব্যক্তিগত পত্র লেখার ক্ষেত্রে প্রেরক বা পত্র লেখক সাধারণত পত্রের উপরে ডান কোণে নিজের স্থান (ঠিকানা) ও তারিখ উল্লেখ করেন। এই অংশটি থেকেই বোঝা যায় চিঠিটি কখন এবং কোথা থেকে লেখা হয়েছে।
অন্যান্য অপশন কেন ভুল:
সম্ভাষণ (Salutation): এটি স্থান ও তারিখের নিচে বাম দিকে লেখা হয় (যেমন: 'প্রিয় বাবা', 'স্নেহের ছোট ভাই')।
প্রাপকের ঠিকানা: এটি সাধারণত খামের উপরে বা পত্রের শেষে উল্লেখ করা হয়।
মঙ্গলসূচক শব্দ: এটি স্থান ও তারিখের ওপরে মাঝ বরাবর বা ডান কোণে লেখা যেতে পারে (যেমন: 'আল্লাহ ভরসা', 'শ্রী'), কিন্তু কাঠামোর প্রধান ও আবশ্যিক অংশ হলো স্থান ও তারিখ
65

‘কিয়ৎক্ষণ’ শব্দের সঠিক চলিত রূপ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কিছুক্ষণ
  2. কিছু সময়
  3. কয়েকক্ষণ
  4. কয়েক মুহুর্ত

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

• বাংলা ভাষার ৩টি রীতি রয়েছে।
যথা -
১. সাধু রীতি
২. চলিত রীতি
৩. আঞ্চলিক কথ্য রীতি বা উপভাষা

• চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ - আলোচনার জন্য উপযোগী।

• সাধু ও চলিত ভাষার প্রধান পার্থক্য হলো ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের ভিন্নতায়।
প্রদত্ত ‘বলিলেন’ এর চলিত রূপ - ‘বললেন’
এবং ‘বলিয়াছিলেন’ এর চলিত রূপ - ‘বলেছেন’ 
কিয়ৎক্ষণ এর চলিত রূপ - ‘কিছুক্ষণ’

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

প্রদত্ত প্রশ্নটি বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রীতির রূপান্তর সংক্রান্ত। সাধু রীতিতে ব্যবহৃত অনেক তৎসম বা দীর্ঘায়িত শব্দ চলিত রীতিতে এসে সংক্ষিপ্ত বা তদ্ভব রূপে পরিবর্তিত হয়।
‘কিয়ৎক্ষণ’ শব্দটি একটি সাধু শব্দ, যার অর্থ হল 'কিছু সময়' বা 'অল্প সময়'।
বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, ‘কিয়ৎক্ষণ’ শব্দের সঠিক এবং সর্বাধিক প্রচলিত চলিত রূপটি হলো ‘কিছুক্ষণ’ (অপশন ক)।
অন্যান্য অপশন যেমন—‘কিছু সময়’, ‘কয়েক মুহুর্ত’—এগুলি সমার্থক হলেও ‘কিয়ৎক্ষণ’-এর সরাসরি চলিত রূপ হিসেবে ব্যাকরণসম্মত প্রতিশব্দ হলো না
66

চলিত ভাষার আদর্শরূপে গৃহীত ভাষাকে বলা হয়-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সাধু ভাষা
  2. প্রমিত ভাষা
  3. আঞ্চলিক ভাষা
  4. উপভাষা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

- লিখিত বাংলা ভাষার আদি নিদর্শনের নাম চর্যাপদ।
- প্রায় এক হাজার পূর্বে লেখ্য বাংলা ভাষার কাব্য রীতিতে এটি রচিত।
- ব্যবহারিক প্রয়োজনে ক্রমে লেখ্য গদ্য রীতির জন্ম হয়।
- উনিশ শতকের সূচনায় এই গদ্য রীতি সাধু রীতির জন্ম দেয়।
- বিশ শতকের সূচনায় সাধু রীতির পাশাপাশি চলিত রীতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- একূশ শতকের সূচনায় চলিত রীতির একটি আদর্শ রূপ প্রমিত রীতি হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
- এই প্রমিত রীতি লেখ্য বাংলা ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য লিখিত রূপ।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: প্রমিত ভাষা
চলিত ভাষা হলো বাংলা ভাষার সেই রূপ, যা কথ্য রূপের ওপর ভিত্তি করে অপেক্ষাকৃত আধুনিককালে লেখার আদর্শ হিসেবে গৃহীত হয়েছে। এই চলিত রীতির একটি আদর্শ মানদণ্ড বা আদর্শ রূপে গৃহীত লেখ্য রূপটিই হলো প্রমিত ভাষা (Standard Bengali)
প্রমিত ভাষা হলো বাংলা ভাষার সেই লিখিত ও কথ্যরূপ, যা দেশজুড়ে সর্বজনগ্রাহ্য এবং শিক্ষা, প্রশাসন ও গণমাধ্যমে ব্যবহৃত হয়। এটি চলিত রীতির সর্বাধুনিক ও মানসম্মত রূপ।
অন্যান্য অপশন যেমন, সাধু ভাষা হলো বাংলা ভাষার পুরাতন গদ্যরীতি। আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা হলো স্থানীয় কথ্য রূপ, যা আদর্শ বা প্রমিত রূপে গৃহীত নয়।
67

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি কোন প্রাকৃত স্তর থেকে ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মাগধী প্রাকৃত
  2. গৌড়ীয় প্রাকৃত
  3. মহারাষ্ট্রীয় প্রাকৃত
  4. অর্ধ মাগধী প্রাকৃত

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন, ভারতীয় ভাষা থেকেই বৈদিক এবং প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার সৃষ্টি। 
- খ্রিষ্টপূর্ব আটশ অব্দে প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা থেকেই আদিম প্রাকৃত ভাষার সৃষ্টি। 
- আনুমানিক দুইশ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দে এই ভাষা থেকেই গৌড়ীয় প্রাকৃত এবং আনুমানিক চারশ অব্দে গৌড়ী পাকৃত থেকে গৌড়ী অপভ্রংশের সৃষ্টি। 
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড় অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গকামরূপী ভাষার মাধ্যমে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ পরিগ্রহ করে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গৌড়ীয় প্রাকৃত
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, বাংলা ভাষার উৎপত্তি গৌড়ীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে। তিনি মনে করেন, খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের (আনুমানিক ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে) এই স্তর থেকে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ পরিগ্রহ করে।
তিনি প্রাকৃত স্তরকে মূলত গৌড়ীয় প্রাকৃত এবং অপভ্রংশ স্তরকে গৌড় অপভ্রংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
অন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মত দেন ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মতে, বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছিল মাগধী প্রাকৃতের পূর্বী শাখা থেকে। তাই অপশন (০) মাগধী প্রাকৃত (যা অন্য ভাষাবিদের মত) এখানে ভুল।
68

সাধুরীতিতে কোন পদটির দীর্ঘরূপ হয় না ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

- ন ব্যয় = অব্যয়।
- যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
- অব্যয় শব্দের সাথে কোনাে বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, সেগুলাের একবচন বা বহুবচন হয় না এবং সেগুলাের স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না।
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনাে বাক্যের শােভা বর্ধন করে, কখনাে একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযােগ বা বিয়ােগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

[উল্লেখ্য, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে, অব্যয় কে শব্দের শ্রেণিবিভাগ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।]

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অব্যয়
বাংলা ভাষার দুটি রীতি—সাধুরীতি ও চলিতরীতি। সাধুরীতিতে সাধারণত সর্বনামক্রিয়াপদ-এর রূপ দীর্ঘ হয় (যেমন: তাহাদের, করিতেছে), যা চলিতরীতিতে সংক্ষিপ্ত হয়ে যায় (যেমন: তাদের, করছে)।
কিন্তু, অব্যয় পদ (Indeclinable) প্রকৃতিগতভাবে অপরিবর্তনীয়। ‘অব্যয়’ শব্দের অর্থই হলো—যার কোনো পরিবর্তন বা ক্ষয় হয় না।
যেহেতু অব্যয় পদের কোনো বচন, লিঙ্গ বা বিভক্তিগত পরিবর্তন হয় না, তাই এটির কোনো দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত রূপ হয় না। এটি সাধুরীতি ও চলিতরীতি—উভয় ক্ষেত্রেই একই রকম থাকে (যেমন: এবং, অথবা, কিন্তু, যদিও)।
69

’যতই পরিশ্রম করবে ততই ফল পাবে’ -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নির্দেশক বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. জটিল বাক্য

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

জটিল বাক্য
একটি প্রধান বাক্যের সাথে এক বা একাধিক খণ্ড বাক্য সাধারণভাবে বা কোন অনুগামি সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে যুক্ত হয়ে পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে। যেমন: 
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যতই পরিশ্রম করবে ততই ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।

ব্যাখ্যা

গঠনগত দিক থেকে বাক্য প্রধানত তিন প্রকার: সরল বাক্য, জটিল বাক্য (বা মিশ্র বাক্য) এবং যৌগিক বাক্য
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্য (Principal Clause)-এর সঙ্গে এক বা একাধিক অপ্রধান/নির্ভরশীল খণ্ডবাক্য (Subordinate Clause) থাকে এবং এরা পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বাক্য বলে।
প্রদত্ত বাক্যটিতে 'যতই... ততই' সাপেক্ষ সর্বনাম (বা অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়) ব্যবহার করা হয়েছে, যা দুটি খণ্ডবাক্যকে এমনভাবে যুক্ত করেছে যে একটি ছাড়া অন্যটির অর্থ সম্পূর্ণ হয় না।
এখানে, 'যতই পরিশ্রম করবে' হল অপ্রধান খণ্ডবাক্য এবং 'ততই ফল পাবে' হল প্রধান খণ্ডবাক্য। এই সাপেক্ষ ব্যবহারের জন্যই এটি জটিল বাক্য
সরল বাক্য: ভুল, কারণ এতে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া বা খণ্ডবাক্য নেই।
যৌগিক বাক্য: ভুল, কারণ যৌগিক বাক্যে দুটি স্বাধীন বাক্য ‘এবং’, ‘কিন্তু’, ‘অথবা’-এর মতো সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়, কিন্তু বাক্য দুটি পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল থাকে না।
70

বাক্যের এক পদের পর অন্যপদ শোনার ইচ্ছাকে কী বলে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আসত্তি
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. যোগ্যতা
  4. আসক্তি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

• ভাষার বিচারে একটি আদর্শ সার্থক বাক্যে ৩টি গুণ থাকা আবশ্যক। যথা-
১. আকাঙ্ক্ষা,
২. আসত্তি এবং
৩. যোগ্যতা।

• বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তাই হচ্ছে আকাঙ্ক্ষা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো আকাঙ্ক্ষা। একটি সার্থক (আদর্শ) বাক্যের প্রধান তিনটি গুণ থাকা আবশ্যক: যথা— ১. আকাঙ্ক্ষা, ২. আসত্তি এবং ৩. যোগ্যতা
বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য যখন শ্রোতার মনে এক পদের পর অন্য পদ শোনার স্বাভাবিক ইচ্ছা বা আগ্রহ সৃষ্টি হয়, তাকেই আকাঙ্ক্ষা বলে। প্রশ্নটি সরাসরি এই সংজ্ঞাটিকেই নির্দেশ করছে।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, আসত্তি (বা নৈকট্য) হলো বাক্যের পদগুলোর মধ্যে অর্থগত সম্পর্ক বজায় রেখে তাদের পরপর বা কাছাকাছি স্থাপন করা।
যোগ্যতা হলো বাক্যের পদগুলোর মধ্যে অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় বা সংগতি থাকা।
আসক্তি (Attachment) বাংলা ব্যাকরণের বাক্য গঠনের কোনো গুণ নয়, এটি একটি মানসিক বা ভাবগত শব্দ।
71

একটি পত্রের বাইরের অংশের উপর যেটা থাকে তাকে বলা হয় -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পত্রগর্ভ
  2. শিরোনাম
  3. সম্ভাষণ
  4. মূলবক্তব্য
  5. পত্রাংশ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

• একটি পত্রের বাইরের অংশের উপর যেটা থাকে তাকে বলা হয় শিরোনাম।

সাধারণত একটি ব্যক্তিগত পত্রতে ছয়টি অংশ বিদ্যমান থাকে। যথা:
১. মঙ্গলসূচক শব্দ।
২. স্থান ও তারিখ।
৩. সম্বোধন ও সম্ভাষণ।
৪. চিঠির বক্তব্য।
৫. লেখকের স্বাক্ষর, বিদায় সম্ভাষণ।
৬. শিরোনাম- প্রেরক ও প্রাপকের নাম ঠিকানা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: শিরোনাম
একটি পত্রের বাইরের অংশে অর্থাৎ খামের উপরে প্রেরক (sender) ও প্রাপকের (receiver) যে নাম-ঠিকানা লেখা থাকে, তাকেই শিরোনাম বলা হয়। শিরোনাম হলো পত্রের বাহ্যিক পরিচিতি যা ডাকযোগে পত্রটিকে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
বাংলা ব্যাকরণে এটি পত্র রচনার একটি অপরিহার্য অংশ।
অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ:
পত্রগর্ভ: এটি পত্রের অভ্যন্তরের কাঠামো বা বডি।
সম্ভাষণ: এটি প্রাপককে উদ্দেশ্য করে লেখা অভিবাদন বা greeting (যেমন: শ্রদ্ধাস্পদেষু, প্রিয়)।
মূলবক্তব্য: এটি হলো চিঠির ভেতরের মূল আলোচনা বা বার্তা।
72

ভাষার মূল উপকরণ কী ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ধ্বনি
  2. বাক্য
  3. শব্দ
  4. বর্ণ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ভাষার মূল ভিত্তি - ধ্বনি।
ভাষার ক্ষুদ্রতম একক/মূল উপাদান - ধ্বনি।
ভাষার মূল উপকরণ - বাক্য।
ভাষার প্রাণ - অর্থবোধক বাক্য।

উৎস:
১. বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, সপ্তম ও নবম-দশম শ্রেণি।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বাক্য
ভাষার মূল উপকরণ (Main Ingredient/Tool) বলতে বোঝায় যার সাহায্যে ভাষা তার কাজ সম্পূর্ণ করে—অর্থাৎ মনের ভাব প্রকাশ করে। শুধুমাত্র একটি ধ্বনি বা শব্দ দিয়ে আমরা মনের সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করতে পারি না।
বাক্য হলো এমন এক গুচ্ছ শব্দ, যা সুবিন্যস্তভাবে সাজানো থাকে এবং যা দিয়ে বক্তার মনের সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ পায়। যেহেতু সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করাই ভাষার মূল লক্ষ্য, তাই বাক্যকেই ভাষার মূল উপকরণ বলা হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো ভাষার বিভিন্ন একক বা ভিত্তি। যেমন— ধ্বনি হলো ভাষার ক্ষুদ্রতম একক বা মূল ভিত্তি। আবার শব্দ হলো ভাষার অর্থবোধক ক্ষুদ্রতম একক
73

প্রবাসী বন্ধুকে লেখা পত্রের ঠিকানা কোন ভাষায় লিখতে হয় ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বাংলা ভাষায়
  2. অবস্থানকারী দেশের ভাষায়
  3. প্রেরকের নিজের ভাষায়
  4. ইংরেজি ভাষায়

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

প্রবাসী বন্ধুকে লেখা পত্রের ঠিকানা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়।

সাধারণত একটি ব্যক্তিগত চিঠিতে নিম্নলিখিত অংশগুলো বিদ্যমান। যেমন:
১। চিঠির ওপরের মঙ্গলসূচক শব্দ। ( আজকাল ব্যবহার কম হয়)
২। চিঠির ওপরের ডান কোণে স্থান ও তারিখ।
৩। চিঠির ওপরের অংশের বাঁ দিকে প্রাপকের উদ্দেশ্যে সম্বোধন বা সম্ভাষণ।
৪। চিঠির বক্তব্য বিষয় বা পত্রগর্ভ।
৫। নিবেদন ও স্বাক্ষর।
৬। চিঠির শিরোনাম। খামের উপর পরিষ্কারভাবে ঠিকানা লিখতে হবে। (বিদেশি চিঠিতে ঠিকানা হবে ইংরেজি ভাষায়)।
 
উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎমামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ইংরেজি ভাষায়। (অপশন ৪)।
প্রবাসী বন্ধুকে বা দেশের বাইরে অন্য কোথাও চিঠি লেখার ক্ষেত্রে, আন্তর্জাতিক ডাক যোগাযোগ সহজ করার জন্য ঠিকানা অবশ্যই ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়।
বিশ্বব্যাপী ডাক বিভাগগুলো (Postal Services) আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ভাষা হিসেবে ইংরেজিকে গ্রহণ করে। এর ফলে চিঠিটি প্রেরক দেশ থেকে প্রাপক দেশে পৌঁছানোর আগে বিভিন্ন দেশের ট্রানজিট পয়েন্টে সহজে চিহ্নিত ও প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো (বাংলা, প্রেরকের বা অবস্থানকারী দেশের ভাষা) আন্তর্জাতিকভাবে সর্বজনীন নয়, তাই সেই ভাষায় ঠিকানা লিখলে বিতরণে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
74

বিরাম চিহ্ন ব্যবহৃত হয় না-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বাক্যের অর্থ সহজভাবে বুঝাতে
  2. শ্বাস বিরতির জায়গা দেখাতে
  3. বাক্যকে অলংকৃত করতে
  4. বক্তার মেজাজকে স্পষ্ট করতে

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বিরাম চিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরাম-চিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরাম-চিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

যতি বা বিরাম-চিহ্নের কাজ:
১. বাক্যে ব্যবহৃত পদগুচ্ছকে অর্থবহ করার জন্য বিরাম-চিহ্নের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট পদক্রম অনুসরণ করা হয়।
২. বাক্যের পদগুলোকে নির্দিষ্ট ছক বা রীতি অনুযায়ী সাজিয়ে তোলাই তার কাজ।
৩. বাক্যের পদগুলোর মধ্যে ভাবের পারম্পর্য বা সঙ্গতি রক্ষা করাই যতি বা বিরাম-চিহ্নের কাজ।
৪. তাদের লক্ষ্য বাক্যকে অর্থবহ করা।
৫. যতি চিহ্নের লক্ষ্য বাক্যের বক্তা বা লেখকের নির্দিষ্ট অর্থলক্ষ্যকে সোজাসুজি শ্রোতা বা পাঠকের কাছে পৌছে দেয়া।

সুতরাং, বিরাম-চিহ্ন ব্যবহৃত হয় না- বক্তার মেজাজকে স্পষ্ট করতে।

ব্যাখ্যা

বিরাম চিহ্নের (যতিচিহ্ন) প্রধান কাজ হলো লিখিত বাক্যের ভাব, অর্থ এবং পদগুলোর পারম্পর্য বা সঙ্গতি রক্ষা করা। এর মাধ্যমে পাঠক বাক্যটিকে সঠিকভাবে বুঝতে পারে এবং পাঠের সময় কোথায়, কতক্ষণ থামতে হবে, তার নির্দেশনা পায়।
সঠিক কাজগুলো হলো: ১. বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করা (Option 0)। ২. কম বা বেশি শ্বাস বিরতির জায়গা দেখানো (Option 1)। ৩. বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য শ্রোতা বা পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
বিরাম চিহ্নের মূল লক্ষ্য কার্যকারিতা (Functionality), এটি বাক্যকে অলংকৃত করার জন্য (Option 2) ব্যবহৃত হয় না।
যদিও বিস্ময়সূচক চিহ্ন (!) দিয়ে আকস্মিক আবেগ বা অনুভূতি প্রকাশ করা যায়, তবুও সামগ্রিকভাবে বিরাম চিহ্নের কাজ বক্তার মেজাজকে (Temperament) স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা নয় (Option 3), বরং বাক্যের অভ্যন্তরীণ গঠনকে অর্থবহ করা।
যেহেতু প্রশ্নটি বিরাম চিহ্নের সামগ্রিক উদ্দেশ্য নিয়ে, তাই বক্তার মেজাজ প্রকাশ করা এর প্রধান বা স্বীকৃত উদ্দেশ্য নয়। তাই সঠিক উত্তর হলো: বক্তার মেজাজকে স্পষ্ট করতে।
75

একটি পত্রের প্রধান অংশ কয়টি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

একটি পত্রের প্রধান অংশ দুইটি। যথা:
১. বাইরের অংশ বা শিরোনাম ও
২. ভেতরের অংশ বা পত্রগর্ভ।

শিরোনাম: পত্রের খাম বা পোস্টকার্ডে প্রেরক ( যিনি চিঠি লিখেন ) ও প্রাপকের ( যার উদ্দেশ্য চিঠি লেখা হয় ) নাম ও ঠিকানা লেখা হয়। একেই শিরোনাম বলা হয়। পোস্টকার্ড বা খামের বাম দিকে থাকে প্রেরকের নাম ও ঠিকানা আর ডানদিকে থাকে প্রাপকের নাম ও ঠিকানা।

পত্রগর্ভ: একটি পত্রের বিষয় অনুসারে কয়েকটি ভাগ থাকে।
যেমন: 
১. পত্রের উপরে ডানদিকে প্রেরকের ঠিকানা লিখতে হয়। ঠিকানার নিচে পত্র লেখার তারিখ লিখতে হয়।
২. পত্রের বাম দিকে প্রাপকের প্রতি সম্ভাষণ থাকে। বয়স ও সম্পর্ক অনুযায়ী সম্ভাষণের ভাষায় পার্থক্য থাকে। গুরুজনদের উদ্দেশে শ্রদ্ধেয় আব্বা, শ্রদ্ধেয় খালা, শ্রদ্ধাভাজনীয়াষু মা ইত্যাদি লেখা হয়। সমবয়সী বন্ধুদের প্রতি প্রিয় সুমন, প্রীতিভাজনেষু, প্রীতিভাজনাষু, বন্ধুবরেষু ইত্যাদি লেখা হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ড. হায়াৎ মামুদ ও ভাষা-শিক্ষা।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো দুইটি। একটি আদর্শ পত্রের মূল কাঠামোকে প্রধানত দুইটি অংশে ভাগ করা হয়:
১. বাইরের অংশ বা শিরোনাম: এটি হলো চিঠির খাম বা পোস্টকার্ড, যেখানে প্রেরক ও প্রাপকের নাম, ঠিকানা এবং প্রয়োজনীয় ডাকটিকিট সংযুক্ত থাকে।
২. ভেতরের অংশ বা পত্রগর্ভ: এটি হলো চিঠির মূল বক্তব্য সম্বলিত অংশ।
শিক্ষার্থীরা প্রায়শই ভেতরের অংশের উপ-বিভাগগুলো (যেমন: সম্বোধন, মূল বক্তব্য, স্বাক্ষর) গুনে চারটি বা পাঁচটি উত্তর দিয়ে ভুল করেন, কিন্তু প্রধান অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় কেবল শিরোনামপত্রগর্ভ
76

বাংলা ভাষা কোন মূল ভাষার অন্তর্গত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দ্রাবিড়
  2. ইন্দো - ইউরোপীয়
  3. দক্ষিণ - পূর্ব এশীয়
  4. ইউরালীয়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ইন্দো-ইয়োরোপীয় ভাষাবংশের পূর্বদিকের সবচেয়ে প্রান্তিক ভাষা বাংলা।  
• নব্য ভারতীয় আর্যগোষ্ঠীর এই ভাষা ঐতিহাসিক সূত্রে আইরিশ, ইংরেজি, ফরাসি, গ্রিক, রুশ, ফারসি ইত্যাদি ভাষার দূরবর্তী জ্ঞাতিভগ্নী। বর্তমান বাংলাদেশে বাংলা প্রায় একমাত্র এবং ভারতীয় রাজ্য ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে ব্যবহূত প্রধান ভাষা। এর পশ্চিমে ওড়িয়া, মাগধি, মৈথিলি এবং পূর্বে অসমিয়া ভাষার সীমান্ত। এছাড়া সাঁওতালি, মুন্ডারি, খাসি ইত্যাদি অস্ট্রিক গোত্রের ভাষা এবং কাছারি, বোড়ো, গারো, ত্রিপুরী ইত্যাদি ভোট-বর্মী গোত্রের ভাষাও বাংলাকে ঘিরে রেখেছে, কখনও বা তার অঞ্চলে প্রবিষ্টও হচ্ছে।

• ইতিহাস  মাগধি প্রাকৃতের (খ্রি.পূ ৬০০-খ্রি ৬০০) পরবর্তী স্তর মাগধি  অপভ্রংশ এবং তৎপরবর্তী স্তর অবহট্ঠের মধ্য দিয়ে ৯০০-১০০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ স্বাধীন নব্যভারতীয় আর্যভাষারূপে বাংলার উদ্ভব হয়।


 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ও বাংলাপিডিয়া।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ইন্দো-ইউরোপীয়। বাংলা ভাষা বিশ্বের বৃহত্তম ভাষা পরিবার ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের অন্তর্গত। এটি এই পরিবারের পূর্বাঞ্চলীয় শাখা, যা ইন্দো-ইরানীয় শাখার ইন্দো-আর্য গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
বাংলা ভাষার উদ্ভব ঘটে নব্য ভারতীয় আর্যগোষ্ঠী থেকে। এর মূল উৎস হলো মাগধি প্রাকৃত (৬০০ খ্রি.পূ.-৬০০ খ্রি.), যার পরবর্তী স্তর মাগধি অপভ্রংশ এবং তারও পরের স্তর হলো অবহট্ঠ
সাধারণত, ৯০০-১০০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ এই স্তরগুলো পার হয়ে স্বাধীন নব্য ভারতীয় আর্যভাষারূপে বাংলার উদ্ভব হয়।
অন্যান্য অপশন যেমন— দ্রাবিড় ভাষা দক্ষিণ ভারতের তামিল, তেলেগু, কানাড়া ইত্যাদি ভাষা পরিবারের অংশ এবং ইউরালীয় বা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় গোষ্ঠীর সাথে বাংলা ভাষার কোনো সরাসরি ঐতিহাসিক সংযোগ নেই।
77

বাংলা বর্ণমালা এসেছে কোন লিপি থেকে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কিউনিফর্ম লিপি
  2. ব্রাহ্মী লিপি
  3. ল্যাটিন লিপি
  4. হায়রোগ্লিফিক লিপি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে ব্রাহ্মী লিপি থেকে।
- তাই বাংলা বর্ণমালার উৎস ব্রাহ্মী লিপি। 

ব্রাহ্মী লিপির তিনটি রূপ রয়েছে।
- সারদা, নাগর ও কুটিল।
- 'কুটিল' রূপ থেকে এসেছে বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ব্রাহ্মী লিপি
বাংলা বর্ণমালার জন্ম হয়েছে প্রাচীন ভারতের অন্যতম প্রধান লিপি ব্রাহ্মী লিপি থেকে। প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীতে এই লিপির ব্যবহার শুরু হয়।
ব্রাহ্মী লিপি সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়ে একাধিক রূপ নেয়। বাংলা লিপি সরাসরি ব্রাহ্মী লিপির কুটিল লিপি (বা সিদ্ধমাতৃকা লিপি) শাখা থেকে এসেছে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন উৎস নির্দেশ করে: কিউনিফর্ম লিপি হলো মেসোপটেমিয়ার চিত্রভিত্তিক প্রাচীনতম লিপি; হায়রোগ্লিফিক লিপি হলো প্রাচীন মিশরীয় লিপি; এবং ল্যাটিন লিপি ইউরোপীয় ভাষার উৎস।
78

কোনটির অভাবে চিঠি লেখার ঊদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্রেরকের ঠিকানা
  2. প্রাপকের ঠিকানা
  3. পত্রগর্ভ
  4. স্বাক্ষর ও তারিখ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

প্রাপকের ঠিকানা'র অভাবে চিঠি লেখার উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়। 
কেননা, চিঠি লেখা হয় প্রেরকের মনের বক্তব্য প্রাপকের নিকট পৌঁছাবার জন্য, 
যদি প্রাপকের ঠিকানা সঠিক ভাবে লেখা না হয়ে থাকে তবে তা প্রাপকের নিকট পৌঁছবে না। 
এতে করে চিঠি লেখার উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়।

ব্যাখ্যা

চিঠি লেখার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রেরকের মনের ভাব বা বক্তব্য প্রাপকের নিকট পৌঁছে দেওয়া।
এই উদ্দেশ্যটি সফল হওয়ার একমাত্র পূর্বশর্ত হলো চিঠিটি সঠিক ঠিকানায় পৌঁছানো
যদি চিঠিতে প্রাপকের ঠিকানা (Receiver's Address) সঠিকভাবে উল্লেখ না থাকে, তবে ডাক বিভাগের পক্ষে চিঠিটি গন্তব্যে পাঠানো সম্ভব হয় না, ফলস্বরূপ চিঠি লেখার সামগ্রিক উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়।
অন্যদিকে, প্রেরকের ঠিকানা, পত্রগর্ভ বা স্বাক্ষর অনুপস্থিত থাকলেও চিঠিটি প্রাপকের কাছে পৌঁছাতে পারে, যদিও তা চিঠির পূর্ণাঙ্গ কাঠামো নষ্ট করে দেয়। কিন্তু প্রাপকের ঠিকানা না থাকলে পৌঁছানোই সম্ভব নয়।
79

 বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে”- এ উক্তিটির প্রকৃত তাৎপর্য হচ্ছে -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বনের পশু বনে থাকতেই ভালোবাসে
  2. প্রকৃতির রূপ সৌন্দর্য আদি ও অকৃত্রিম
  3. আদিবাসী মানুষ অরণ্য জনপদে বাস করে
  4. জীবমাত্রই স্বাভাবিক অবস্থানে সুন্দর

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে''
- চমৎকার এ কথাটি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন 'পালামৌ' নামের ভ্রমণকাহিনীতে।
এর মূলভাব হলো সৌন্দর্য্য সর্বত্র বিকশিত হয় না । প্রাকৃতিক নিয়মে যার যথা স্থান সেখানেই তার সৌন্দর্য ফুটে উঠে।

- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা। 
- ছোটনাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু ও মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- ''বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'' এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- এই বাক্য সৃষ্টির মাধ্যমে লেখক স্মরনীয় হয়ে থাকবেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

প্রদত্ত উক্তিটি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী 'পালামৌ' থেকে নেওয়া।
এই উক্তিটির প্রকৃত তাৎপর্য হলো— প্রত্যেক জীবই তার নিজস্ব ও স্বাভাবিক পরিবেশে সবচেয়ে বেশি সুন্দর ও সার্থক। সৌন্দর্য সর্বত্র বিকশিত হয় না, বরং প্রাকৃতিক নিয়মে যার যেখানে স্থান, সেখানেই তার সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।
যেমন বন্যেরা তাদের মুক্ত বনভূমিতে সুন্দর, ঠিক তেমনই একটি শিশু তার মায়ের কোলে সুরক্ষিত ও সুন্দর।
অতএব, অপশন (৩) "জীবমাত্রই স্বাভাবিক অবস্থানে সুন্দর" এই উক্তির গভীর দার্শনিক ভাবটিকেই যথার্থভাবে তুলে ধরে।
80

“বৈরাগ্য সাধনে _________ সে আমার নয়” শূন্যস্থান পূরণ করুন।

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মুক্তি
  2. আনন্দ
  3. বিশ্বাস
  4. আশ্বাস

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি সে আমার নয়
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি, সে আমার নয় ।

অসংখ্য বন্ধন-মাঝে মহানন্দময়
লভিব মুক্তির স্বাদ । এই বসুধার
মৃত্তিকার পাত্রখানি ভরি বারম্বার
তোমার অমৃত ঢালি দিবে অবিরত
নানাবর্ণগন্ধময় । প্রদীপের মতো
সমস্ত সংসার মোর লক্ষ বর্তিকায়
জ্বালায়ে তুলিবে আলো তোমারি শিখায়
তোমার মন্দির-মাঝে ।

                     ইন্দ্রিয়ের দ্বার
রুদ্ধ করি যোগাসন, সে নহে আমার ।
যে-কিছু আনন্দ আছে দৃশ্যে গন্ধে গানে
তোমার আনন্দ রবে তার মাঝখানে ।


মোহ মোর মুক্তিরূপে উঠিবে জ্বলিয়া,
প্রেম মোর ভক্তিরূপে রহিবে ফলিয়া ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো মুক্তি
পূর্ণ বাক্যটি হলো: “বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি সে আমার নয়” — এই বিখ্যাত উক্তিটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর লেখা।
এটি তাঁর 'নৈবেদ্য' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতার অংশ।
কবিতায় কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, সংসার ত্যাগ করে বা বৈরাগ্য অবলম্বন করে মুক্তি লাভ করা তাঁর কাম্য নয়। বরং সংসারের অসংখ্য বন্ধন-মাঝে থেকেই তিনি জীবনের মহানন্দময় মুক্তির স্বাদ লাভ করতে চান।
অন্যান্য অপশন যেমন আনন্দ, বিশ্বাস বা আশ্বাস—এই উক্তির মূল ভাব বা সঠিক পাঠের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এই অধ্যায়ের প্রশ্ন টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করুন

এই পেজে বাছাইকৃত ৮০টি প্রশ্ন সমাধানসহ দেওয়া হয়েছে। প্র্যাকটিস মোডে এক-একটি করে উত্তর দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল, স্কোর ও অগ্রগতি ট্র্যাক করুন।

কেন NTRCA (Teacher Registration)-এর জন্য “Bangla (College)” অধ্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ?

NTRCA (Teacher Registration) নিয়োগ পরীক্ষার NTRCA - College Level অংশে “Bangla (College)” থেকে প্রায় প্রতিবারই প্রশ্ন আসে। বিগত সালের প্রশ্নের ধরন বুঝে নিয়মিত অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ের নম্বর নিশ্চিত করা সহজ হয় — এই পেজের বাছাইকৃত প্রশ্নগুলো ঠিক সেই প্রস্তুতির জন্যই সাজানো।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

"Bangla (College)" অধ্যায় থেকে কেমন প্রশ্ন আসে?

NTRCA (Teacher Registration) নিয়োগ পরীক্ষায় NTRCA - College Level বিষয়ের "Bangla (College)" অধ্যায় থেকে নিয়মিত MCQ আসে। এই পেজে বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক জায়গায় দেওয়া হয়েছে — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ।

উত্তর ও সমাধান কি বিনামূল্যে?

হ্যাঁ। প্রশ্ন, অপশন, সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যা — সবই লগইন ছাড়াই বিনামূল্যে দেখা যায়। টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করতে চাইলে একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট দিয়ে প্র্যাকটিস মোডে যান।