সমাধান
সমাধান
💼
NTRCA - School Level

Bangla (School)

NTRCA (Teacher Registration) · NTRCA - School Level — বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক পেজে।

নিচে NTRCA (Teacher Registration) নিয়োগ পরীক্ষার NTRCA - School Level বিষয়ের "Bangla (School)" অধ্যায়ের বাছাইকৃত ১৫০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ। সবই বিনামূল্যে।

1

ভাষার কোন রীতি তৎসম শব্দবহুল?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সাধুরীতি
  2. চলিতরীতি
  3. কথ্যরীতি
  4. লেখ্যরীতি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ঠ্যঃ
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয় পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: সাধুরীতি
বাংলা ভাষার লেখ্যরূপের প্রধান দুটি রীতির মধ্যে সাধুরীতি অন্যতম। এই রীতিটি গুরুগম্ভীর, সুনির্দিষ্ট ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে এবং এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি তৎসম শব্দবহুল। অর্থাৎ, এই রীতিতে প্রচুর সংস্কৃত শব্দ (যা অপরিবর্তিতভাবে বাংলায় এসেছে) ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে, চলিতরীতি অপেক্ষাকৃত সহজ, সরল ও গতিশীল। চলিত রীতিতে দেশি, বিদেশি ও তদ্ভব শব্দের ব্যবহার বেশি দেখা যায় এবং এটি তৎসম শব্দ এড়িয়ে চলে। তাই চলিতরীতি সঠিক নয়।
2

পাউরুটি কোন ভাষার শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পাঞ্জাবি
  2. ফরাসি
  3. গুজরাটি
  4. পর্তুগিজ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

`পাউরুটি‘- পর্তুগিজ  ভাষা থেকে আগত শব্দ 

পাউরুটি (বিশেষ্য) 
- পর্তুগিজ  শব্দ 
অর্থ: তন্দুরে সেঁকা ময়দার তৈরি ফাঁপা রুটিবিশেষ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পর্তুগিজ
বাংলা ভাষা শব্দভান্ডারের দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বিভিন্ন বিদেশি ভাষা থেকে অনেক শব্দ বাংলায় এসেছে, যার মধ্যে পর্তুগিজ ভাষা অন্যতম।
পাউরুটি (Pão-de-ló/Pão) শব্দটি সরাসরি পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত একটি বিদেশি শব্দ। পর্তুগিজরা এই অঞ্চলে আসার পর তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে এই শব্দটি মিশে যায়।
অন্যান্য অপশন যেমন পাঞ্জাবি, ফরাসি বা গুজরাটি থেকে শব্দটি আসেনি। বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে, খাবারের নাম সংক্রান্ত অনেক শব্দই পর্তুগিজ বা ফরাসি ভাষা থেকে এসেছে।
3

আবির্ভাব' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অভাব
  2. স্বভাব
  3. অনুভব
  4. তিরোভাব

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

• 'আবির্ভাব' এর বিপরীত শব্দ তিরোধান

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীত শব্দ:
'অনুরক্ত' এর বিপরীত শব্দ - বিরক্ত 
'অনুমেয়' এর বিপরীত শব্দ - অননুমেয়  
'উদ্ধত' এর বিপরীত শব্দ-বিনীত 
'উগ্র' এর বিপরীত শব্দ-মৃদু / সৌম্য 
'ঔদ্ধত্য' এর বিপরীত শব্দ-বিনয় 

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ

ব্যাখ্যা

আবির্ভাব শব্দের অর্থ হলো প্রকাশ, প্রকাশ পাওয়া বা দৃশ্যমান হওয়া।
সুতরাং, এর বিপরীত শব্দ হবে অদৃশ্য হওয়া বা লোপ পাওয়া।
অপশনগুলোর মধ্যে তিরোভাব শব্দের অর্থ হলো অদৃশ্য হওয়া, অন্তর্ধান বা লোপ পাওয়া। তাই এটিই সঠিক উত্তর।
যদিও অনেক ক্ষেত্রে তিরোধান শব্দটি ব্যবহৃত হয়, কিন্তু প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে তিরোভাব সঠিকতম বিপরীত শব্দ।
অন্যান্য অপশনগুলো যেমন— অভাব (ঘাটতি), স্বভাব (প্রকৃতি) এবং অনুভব (অনুভূতি) অর্থগত দিক থেকে আবির্ভাবের বিপরীত নয়।
4

জায়া' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অর্ধাঙ্গিনী
  2. কন্যা
  3. নন্দিনী
  4. ভাগনী

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

• 'কন্যা' শব্দের সমার্থক শব্দ- দুহিতা, আত্মজা, তনয়া, সুতা, নন্দিনী, মেয়ে,দুলালী, আত্মসম্ভবা, পুত্রিকা, ঝিউরি, দুলালি, ঝি ইত্যাদি।

• 'পত্নী' শব্দের সমার্থক শব্দ- স্ত্রী, বউ, সহধর্মিণী, অর্ধাঙ্গিনী, দারা কলত্র, অঙ্গনা, বনিতা, ভার্যা, জায়া, দয়িতা, ধর্মপত্নী ইত্যাদি।
• 'ভাগনী' বোন এর সমার্থক শব্দ 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার জন্য সমার্থক শব্দ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এখানে 'জায়া' শব্দের অর্থ হলো স্ত্রী বা পত্নী
অর্ধাঙ্গিনী শব্দের অর্থও স্ত্রী বা পত্নী (অর্থাৎ অর্ধাঙ্গ বা অর্ধেক অংশ)। তাই এটিই সঠিক সমার্থক শব্দ।
অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল, কারণ: কন্যানন্দিনী উভয়েরই অর্থ হলো মেয়ে বা দুহিতা। আর ভাগনী মানে বোনের মেয়ে।
5

সাক্ষী গোপাল' বাগধারাটির অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অপদার্থ
  2. মূর্খ
  3. নিরেট বোকা
  4. নিষ্ক্রিয় দর্শক

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সাক্ষী গোপাল' বাগধারাটির অর্থ নিষ্ক্রিয় দর্শক।
বাক্য: সাক্ষী গোপাল হয়ে থাকলে এ সংসারে শুধু ঠকতেই হয়।

গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা:
হস্তিমূর্খ - নিরেট বোকা।
লেফাফা দুরস্ত - পরিপাটি।
রাবণের চিতা - চির অশান্তি।
বুদ্ধির ঢেঁকি - নির্বোধ।
ব্যাঙের সর্দি - অসম্ভব বস্তু।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

এই বাগধারাটি (Idiom) বাংলা ব্যাকরণে নিষ্ক্রিয় দর্শক বা যে কোনো কাজ নীরবে পর্যবেক্ষণ করে কিন্তু কোনো হস্তক্ষেপ করে না, সেই ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
সাক্ষী গোপাল বলতে বোঝায় সেই নীরব সাক্ষীকে, যার উপস্থিতি আছে কিন্তু কর্মে কোনো প্রভাব নেই। তাই সঠিক উত্তর হলো নিষ্ক্রিয় দর্শক
অন্যান্য অপশন যেমন—অপদার্থ (কোনো কাজের উপযুক্ত নয়), মূর্খ বা নিরেট বোকা (বুদ্ধিহীন) — এগুলি 'সাক্ষী গোপাল'-এর অর্থ বহন করে না, বরং এগুলো যথাক্রমে 'আমড়া কাঠের ঢেঁকি' বা 'বুদ্ধির ঢেঁকি' বাগধারাটির অর্থ হতে পারে।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
6

সম্বোধন পদে কোন যতি চিহ্ন বসে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কমা
  2. ড্যাস
  3. সেমিকোলন
  4. হাইফেন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

• সম্বোধন’ অর্থ আহবান। যাকে সম্বোধন বা আহবান করে কিছু বলা হয়, তাকে সম্বোধন পদ বলে। ওহে মাঝি, আমাকে পার করো।
অনেক সম্বোধন পদের পূর্বে ওগো, ওরে, হে, অয়ি প্রভৃতি অব্যয়বাচক শব্দ বসে সম্বোধন সূচনা করে। যেমন: ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে, অয়ি নিরমল ঊষা, কে তোমাকে নিরমিল?
সম্বোধন পদের পর অনেক বিস্ময়সূচক চিহ্ন দেওয়া হয়। এই ধরনের বিস্ময়সূচক চিহ্নকে সম্বোধন চিহ্ন বলা হয়ে থাকে।
আধুনিক নিয়মে সম্বোধন চিহ্ন স্থানে কমা (,) চিহ্নের প্রয়োগ বেশি। যেমন: ওরে খোকা, এখানে আয়।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কমা (,)
সম্বোধন পদ হলো সেই পদ যা দ্বারা কাউকে আহ্বান বা উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয় (যেমন: 'ওহে মাঝি', 'ওরে খোকা')।
আধুনিক বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, সম্বোধন পদের পর কমা (,) চিহ্নটি বসে। যেমন: 'ওরে খোকা, এখানে আয়'।
উল্লেখ্য, প্রাচীন নিয়মে সম্বোধন পদের পর বিস্ময়সূচক চিহ্ন (!) বা সম্বোধন চিহ্ন ব্যবহারের প্রচলন থাকলেও, বর্তমানে বাংলা একাডেমি কর্তৃক কমা (,) ব্যবহারের রীতিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়।
7

'পাপে বিরত থাকো '—কোন কারকে কোন বিভক্তি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অপাদানে ৭মী
  2. করণ কারকে ৭মী
  3. অধিকরণে ৭মী
  4. কর্ম কারকে ৭মী

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমনঃ
- গাছ থেকে পাতা পড়ে,
- পাপে বিরত হও,
- সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু ইত্যাদি।
 
উৎস- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী

ব্যাখ্যা

বাক্যটিতে 'পাপে' শব্দটি থেকে বোঝা যাচ্ছে যে কোনো কিছু থেকে দূরে থাকা বা বিরত থাকার ভাব প্রকাশ পাচ্ছে।
যে স্থান, বস্তু বা বিষয় থেকে কেউ বিচ্যুত, গৃহিত, জাত, আরম্ভ, দূরীভূত, বিরত ও রক্ষিত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলা হয়। এখানে 'পাপ' থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে, তাই এটি অপাদান কারক।
'পাপে' শব্দটিতে 'পাপ্' মূল শব্দের সাথে 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। 'এ', 'তে', 'য়' হলো সপ্তমী বিভক্তির চিহ্ন।
অতএব, সঠিক উত্তর হলো: অপাদানে ৭মী
এটি করণ কারক (যার দ্বারা কাজ করা হয়), অধিকরণ কারক (স্থান বা কাল) বা কর্ম কারক (যার ওপর কাজ বর্তায়) হবে না, কারণ এখানে মূল ভাবটি হলো 'বিচ্যুতি' বা 'বিরত থাকা'।
8

কোনটি 'উপপদ তৎপুরুষের' উদাহরণ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ছেলেধরা
  2. প্রতিবাদ
  3. বিলাতফেরত
  4. উপগ্রহ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

• 'ছেলেধরা' উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ।
 
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস: কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন-
- পঙ্কে জন্মে যে = পঙ্কজ,
- যাদু করে যে = যাদুকর,
- ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ,
- ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা,
- পকেট মারে যে = পকেটমার,
- স্থলে চলে যে = স্থলচর,
- চিত্র আঁকে যে = চিত্রকর,
- মানুষ খায় যে = মানুষখেকো ইত্যাদি।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ছেলেধরা
ব্যাসবাক্যটি হলো: ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা
এটি উপপদ তৎপুরুষ সমাস কারণ এখানে সমাসবদ্ধ পদটি একটি কৃদন্ত পদ (ধরা, যা কৃৎ প্রত্যয় সাধিত) এবং তার পূর্বে একটি উপপদ ('ছেলে') রয়েছে।
কৃদন্ত পদের পূর্বের পদটিকে উপপদ বলে এবং এই উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের সমাস হলে তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
প্রতিবাদ: এটি অব্যয়ীভাব সমাস (বাদ-এর বিপরীত)।
বিলাতফেরত: এটি পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস (বিলাত হতে ফেরত)।
উপগ্রহ: এটি অব্যয়ীভাব সমাস (গ্রহের সদৃশ/ক্ষুদ্র)।
9

কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চিরসুখী
  2. দশানন
  3. গায়েহলুদ
  4. কানাকানি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

- যে বহুব্রীহি সমাসে দুটি একরূপ বিশেষ্য দিয়ে এক জাতীয় কাজ বোঝায়, তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:-
- কানে কানে যে কথা = কানাকানি।
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি।
- কোলে কোলে যে মিলন = কোলাকুলি।
 
এরূপ- চুলাচুলি, কাড়াকাড়ি, গালাগালি, দেখাদেখি, কোলাকুলি, হাসাহাসি, গুঁতাগুঁতি, ঘুষাঘুষি ইত্যাদি।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কানাকানি
এটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ। যে বহুব্রীহি সমাসে দুটি একরূপ বিশেষ্য পদ দিয়ে এক জাতীয় কাজ (যেমন: মারামারি, কথোপকথন বা সংঘাত) বোঝায় এবং তা পরস্পর সাপেক্ষ হয়, তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে।
এখানে, কানাকানি এর ব্যাসবাক্য হলো: কানে কানে যে কথা। এখানে কান দ্বারা পরস্পরের মধ্যে গোপন কথা বলার একটি পারস্পরিক কাজ বোঝাচ্ছে।
অন্যদিকে, দশানন (দশ আনন যার) হলো সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস
গায়েহলুদ (গায়ে হলুদ দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে) হলো অলোপ বহুব্রীহি সমাস (বিভক্তি লোপ পায়নি)।
10

'সন্ধি' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রূপতত্ত্বে
  2. বাক্যতত্ত্বে
  3. অর্থতত্ত্বে
  4. ধ্বনিতত্ত্বে

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

• 'সন্ধি' ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্বে আলোচিত হয়।
 
• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত হয়।
যথা –
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব,
-বাক্যতত্ত্ব ও
- অর্থতত্ত্ব।
 
• ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় সমূহ
- ধ্বনি,
- বর্ণ,
- ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি,
- উচ্চারণের স্থান,
- ধ্বনি পরিবর্তন ও
- লোপ, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
- সন্ধি ইত্যাদি।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ধ্বনিতত্ত্বে
ব্যাকরণের যে অংশে ধ্বনি (Sound), ধ্বনির উচ্চারণ ও ধ্বনি পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে ধ্বনিতত্ত্ব (Phonology) বলে।
সন্ধি-তে মূলত দুটি সন্নিহিত ধ্বনির মিলন, লোপ বা পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয় (যেমন: হিম + আলয় = হিমালয়)। যেহেতু এটি সরাসরি ধ্বনি সংক্রান্ত বিষয়, তাই এটি ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
11

বন্ধনী চিহ্ন সাহিত্যে কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ধাতু বোঝাতে
  2. অর্থমূলক
  3. ব্যাখ্যামূলক
  4. উৎপন্ন বোঝাতে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

প্রথম বন্ধনীটি বিশেষ ব্যাখ্যামূলক অর্থে বা অতিরিক্ত বক্তব্য থাকলে ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ
- ত্রিপুরায় (বর্তমানে কুমিল্লা) তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
 
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

ব্যাখ্যা

বন্ধনী চিহ্ন (Brackets), বিশেষত প্রথম বন্ধনীটি ( ) সাধারণত বাক্যে ব্যবহৃত হয় কোনো একটি শব্দ বা বাক্যাংশের অতিরিক্ত ব্যাখ্যা প্রদান করার জন্য।
মূল বক্তব্যকে স্পষ্ট করতে, কিংবা অপ্রাসঙ্গিক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য যুক্ত করতে এই চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
যেমন: 'তিনি কুমিল্লায় (তৎকালীন ত্রিপুরা জেলা) জন্মগ্রহণ করেন।' এখানে বন্ধনীর ভেতরের অংশটি অতিরিক্ত ব্যাখ্যামূলক তথ্য দিচ্ছে।
সুতরাং, বন্ধনী চিহ্নের মূল অর্থ হলো ব্যাখ্যামূলক
12

বাংলা ভাষায় মোট কয়টি বর্ণ রয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৪৮ টি
  2. ৪৭ টি
  3. ৪৯ টি
  4. ৫০ টি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

• বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ সংখ্যা ৫০টি।
- বাংলা বর্ণমালায় ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা ৩৯টি।
- বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণের সংখ্যা ১১টি।

- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ৮টি।
- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ১০টি।
- বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ৩২টি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ৫০ টি
বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণের সংখ্যা ৫০টি। এটি আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ (জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ২০২২ সংস্করণ) অনুযায়ী স্বীকৃত।
এই ৫০টি বর্ণকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
১. স্বরবর্ণ: ১১টি
২. ব্যঞ্জনবর্ণ: ৩৯টি
অতীতে কিছু ব্যাকরণ বইয়ে কম সংখ্যক বর্ণ (যেমন ৪৯টি বা ৪৭টি) উল্লেখ থাকলেও, বর্তমানে চাকরির পরীক্ষা ও শিক্ষাবোর্ডের স্বীকৃত পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী ৫০টি উত্তরটিই গ্রহণীয়।
13

ব্যুৎপত্তিগতভাবে ব্যাকরণ শব্দের অর্থ হলো-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সংক্ষেপণ
  2. ভাবের বিনিময়
  3. বিশেষভাবে বিশ্লেষণ
  4. মিলন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

• ব্যাকরণ শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ - বিশেষভাবে বিশ্লেষণ।
আর ব্যবহারগত বা প্রকৃত অর্থ হলো - ভাষা প্রকৃতি ও প্রয়োগরীতি আলোচনা ও ব্যাখ্যা।
সুতরাং, বলা যায় - মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম হলো ভাষা, আর ভাষাকে শুদ্ধরূপে পড়তে, বুঝতে, লিখতে ও বলতে পারার নিয়মকে ব্যাকরণ বলে।

- ব্যাকরণ হলো ভাষার সংবিধান।
- ব্যাকরণ ভাষাকে বর্ণনা করে।
- ব্যাকরণ ভাষাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যাকরণ ভাষার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা সাধন/আবিষ্কার করে।
- ব্যাকরণ ভাষার সুনির্দিষ্ট গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো অপশন (৩) বিশেষভাবে বিশ্লেষণ
ব্যাকরণ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়: বি + আ + কৃ + অন। এর আক্ষরিক অর্থ হলো 'বিশেষভাবে বিশ্লেষণ' বা 'সম্যক জ্ঞান'।
এই বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ভাষা কীভাবে গঠিত হয় এবং কীভাবে তার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা করা হয়, তা জানা যায়।
মনে রাখবেন, ব্যাকরণের ব্যবহারিক বা প্রকৃত অর্থ হলো—ভাষার প্রকৃতি ও প্রয়োগরীতি আলোচনা ও ব্যাখ্যা করা, যা ভাষাকে শুদ্ধভাবে ব্যবহার করতে শেখায়। এটি কোনোভাবেই 'সংক্ষেপণ' বা 'ভাবের বিনিময়' নয়।
14

পুরুষ বা স্ত্রী নির্দেশক সূত্রকে ব্যাকরণে কী বলে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বচন
  2. লিঙ্গ
  3. বাক্য
  4. বাগর্থ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ চিহ্ন।
- এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো লিঙ্গ+অ = লিঙ্গ। লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণিবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- লিঙ্গের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে— যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায় তাকে লিঙ্গ বলে ।

লিঙ্গ পরিবর্তন বা লিঙ্গান্তরের নিয়ম
বাংলা ভাষার লিঙ্গান্তর নিম্নলিখিতভাবে হয়ে থাকে—
১) পুংলিঙ্গবাচক শব্দের শেষে প্রত্যয় যোগ করে।
২) স্ত্রীবাচক শব্দ আগে বা পরে বসিয়ে এবং
৩) ভিন্ন শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: লিঙ্গ
ব্যাকরণের যে সূত্র বা চিহ্ন দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদ পুরুষ জাতি, স্ত্রী জাতি কিংবা অন্য কোনো জাতি (পুরুষ বা স্ত্রী নয়) নির্দেশ করে, তাকে লিঙ্গ (Gender) বলে।
লিঙ্গ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো চিহ্ন বা লক্ষণ
অন্যদিকে, বচন (Number) নির্দেশ করে বিশেষ্য ও সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা (একবচন বা বহুবচন)। তাই এটি ভুল।
বাক্য হলো একাধিক পদের সমষ্টিতে গঠিত বক্তার মনোভাবের পূর্ণ প্রকাশ।
বাগর্থ হলো শব্দের অর্থ সংক্রান্ত আলোচনা। তাই এই অপশনগুলোও আলোচ্য প্রশ্নের জন্য সঠিক নয়।
15

নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চাঁদ
  2. খোকা
  3. কাঠ
  4. সন্ধ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সন্ধ্যা (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত বা তৎসম শব্দ।
অর্থ: দিন ও রাতের সন্ধিক্ষণ, রাত্রির আরম্ভ, সাঁঝ। 
- যুগসন্ধি, যুগের অবসান ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
চাঁদ = সংস্কৃত শব্দ চন্দ্র থেকে উদ্ভূত তদ্ভব শব্দ। 
কাঠ = সংস্কৃত শব্দ কাষ্ঠ থেকে উদ্ভূত তদ্ভব শব্দ।
'খোকা' = তুর্কি ভাষা উৎস থেকে আগত। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সন্ধ্যা
বাংলা শব্দভান্ডারে যে শব্দগুলি সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি বা অপরিবর্তিত রূপে বাংলা ভাষায় এসেছে এবং এখনও ব্যবহৃত হচ্ছে, তাদের তৎসম শব্দ (সংস্কৃত: তৎ = তার; সম = সমান, অর্থাৎ সংস্কৃতের সমান) বলা হয়।
'সন্ধ্যা' শব্দটি সরাসরি সংস্কৃত থেকে আসায় এটি তৎসম শব্দ।
অন্যদিকে, চাঁদ (চন্দ্র থেকে আগত) এবং কাঠ (কাষ্ঠ থেকে আগত) শব্দগুলো পরিবর্তনের মাধ্যমে এসেছে, তাই এগুলো তদ্ভব শব্দ
খোকা শব্দটি বিদেশি (তুর্কি/অন্যান্য দেশি) উৎস থেকে এসেছে, যা তৎসম বা তদ্ভব কোনোটিই নয়।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
16

‘লোকটি ধনী কিন্তু কৃপণ’- কোন ধরনের বাক্য?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জটিল
  2. যৌগিক
  3. সরল
  4. মিশ্র

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

• ‘লোকটি ধনী কিন্তু কৃপণ’ এটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ।
পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্যের সমন্বয়ে গঠিত বাক্যকে যৌগিক বাক্য বলে।
যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত বাক্যগুলো কিন্তু, এবং, ও, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি ইত্যাদি অব্যয় যোগে সংযক্ত থাকে।

আরো কিছু যৌগিক বাক্যের উদাহরণঃ
- বিপদ এবং দুঃখ এক সময় আসে।
- তিনি ধনী, কিন্তু দাতা নন।
- তার ভাই ঋণ করেছিলো, আর সে তা পরিশোধ করেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: যৌগিক বাক্য
যে বাক্যে পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য কোনো সংযোজক বা বিয়োজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে, তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
প্রদত্ত বাক্যে ‘লোকটি ধনী’ এবং ‘লোকটি কৃপণ’—এই দুটি স্বাধীন বা নিরপেক্ষ বাক্যকে ‘কিন্তু’ অব্যয় পদটি যুক্ত করেছে। কিন্তু, এবং, ও, অথবা, নতুবা, অথচ, বরং, তথাপি ইত্যাদি অব্যয় যোগে গঠিত হলেই তা যৌগিক বাক্য হবে।
সরল বাক্য ভুল, কারণ সরল বাক্যে একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে। (যেমন: ধনী হয়েও লোকটি কৃপণ।)
জটিল/মিশ্র বাক্য ভুল, কারণ জটিল বাক্যে একটি প্রধান খণ্ড বাক্য এবং এক বা একাধিক সাপেক্ষ খণ্ড বাক্য (যেমন: যদি, তবে, যিনি, তিনি) থাকে।
17

কোন বানানটি শুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রুপায়ন
  2. রূপায়ন
  3. রূপায়ণ
  4. রুপায়ণ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

রূপায়ণ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √রূপায়্‌+অন
অর্থ: 
- মূর্তি বা আকার দান, রূপদান।
- বাস্তবে পরিণতকরণ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো রূপায়ণ। এই বানানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চলা হয়েছে:
১. দীর্ঘ ঊ-কার (ূ): 'রূপ' শব্দটি যেহেতু দীর্ঘ স্বর বোঝায় (Form/Beauty অর্থে), তাই এখানে দীর্ঘ ঊ-কার (ূ) ব্যবহৃত হবে। ফলে 'রুপায়ন' বা 'রুপায়ণ' বানান দুটি ভুল।
২. ণত্ব বিধান: এটি একটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর প্রকৃতি-প্রত্যয় হলো √রূপায়্‌ + অনণত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে, 'অন' বা 'আয়ন' প্রত্যয় যোগে গঠিত সংস্কৃত শব্দে দন্ত্য 'ন' এর পরিবর্তে সর্বদা মূর্ধন্য 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
অতএব, দীর্ঘ ঊ-কার এবং মূর্ধন্য ণ-এর সঠিক প্রয়োগে বানানটি হয় রূপায়ণ
18

চলিতরীতির প্রবর্তক কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

• বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল বীরবল।
- 'বীরবলের হালখাতা' তাঁর প্রথম চলিত রীতিতে লিখিত গ্রন্থ।
- এটি ১৯০২ সালে প্রথম 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত সবুজপত্র পত্রিকা (১৯১৪) চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: প্রমথ চৌধুরী
বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হিসেবে প্রমথ চৌধুরী সুপরিচিত। তিনি এই রীতিকে জনপ্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তিনি মূলত তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা ‘সবুজপত্র’ (প্রকাশকাল: ১৯১৪ খ্রি.) এর মাধ্যমে চলিত রীতির প্রচলনকে জোরদার করেন এবং সাধু রীতির পরিবর্তে এটি ব্যবহারের জন্য সাহিত্যিকদের উৎসাহিত করেন।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর আধুনিক বাংলা গদ্যের সূচনা করেন এবং সাধু রীতির অন্যতম প্রধান রূপকার ছিলেন। তাই তিনি চলিত রীতির প্রবর্তক নন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলাম চলিত রীতির ব্যবহার করলেও প্রবর্তক বা প্রবর্তক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেননি।
19

‘পার হইয়া’ এর চলিত রূপ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পার হয়ে
  2. পারি হয়ে
  3. পার হইয়ে
  4. পারিয়া

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সঠিক উত্তর হবে ‘পেরিয়ে’
সঠিক উত্তর না থাকায় উত্তরটি বাতিল করা হলো।

বাংলা ভাষার ৩টি রীতি রয়েছে।
যথা -
১. সাধু রীতি
২. চলিত রীতি
৩. আঞ্চলিক কথ্য রীতি বা উপভাষা

১. সাধু রীতি:
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এই রীতি তৎসম শব্দ বহুল ও গুরুগম্ভীর। এটি শুধু লেখার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বকৃতার জন্য অনুপযোগী।
- এই রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।

২. চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ - আলোচনার জন্য উপযোগী।

সাধু ও চলিত রীতির কিছু উদাহরণ-
সাধু ------------ চলিত 
দেন নি -------- দেননি
পার হইয়া ----- পেরিয়ে
পড়িল ---------- পড়ল/পড়লো
করিয়া ----------- করে
পূর্বেই আগেই। ইত্যাদি।
==================
প্রমিত নিয়ম অনুসারে, পার হইয়া এর চলিত রূপ পেরিয়ে হলেও;
অপশন বিবেচনায় সঠিক উত্তর হিসাবে এখানে পার হয়ে গ্রহণযোগ্য হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

প্রদত্ত প্রশ্নটি বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রীতির রূপান্তর সম্পর্কিত।
সাধু রীতিতে ক্রিয়াপদ এবং সর্বনামের রূপ সাধারণত দীর্ঘ হয়। যেমন: ‘করিয়া’, ‘গিয়া’, ‘খাইতেছে’।
চলিত রীতিতে এই রূপগুলো সংক্ষিপ্ত হয়। যেমন: ‘করে’, ‘গিয়ে’, ‘খাচ্ছে’।
এখানে, সাধু রূপ ‘পার হইয়া’ এর প্রমিত চলিত রূপ হলো ‘পেরিয়ে’
যেহেতু অপশনগুলোতে প্রমিত রূপ ‘পেরিয়ে’ নেই, তাই বিকল্প হিসেবে ‘পার হয়ে’ (Option A) সবচেয়ে কাছাকাছি এবং বহুল প্রচলিত চলিত রূপ হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুসারে, ক্রিয়াপদের দীর্ঘ রূপকে সংক্ষিপ্ত করাই চলিত রীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য।
অন্যান্য অপশন যেমন ‘পারি হয়ে’, ‘পার হইয়ে’ এগুলো ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ।
20

Ad-hoc এর অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তদর্থক
  2. অস্থায়ী
  3. শপথপত্র
  4. ক ও খ উভয়ই

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

'Ad hoc' শব্দের পারিভাষিক শব্দ 'তদর্থক'

আবার 
'তদর্থক' (বিশেষণ)
অর্থ: 
- অস্থায়ী অর্থে ব্যবহৃত,
- বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত; আপাতত কাজ চালানো যায় এমন। 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান এবং আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

'Ad-hoc' শব্দটি একটি ল্যাটিন শব্দগুচ্ছ, যার মূল অর্থ হলো 'এই নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের জন্য' (For this purpose)।
বাংলায় এর পারিভাষিক শব্দ হিসেবে 'তদর্থক' ব্যবহৃত হয় (অপশন ক)।
তবে 'তদর্থক' (Ad-hoc) বলতে সাধারণত কোনো বিশেষ বা অস্থায়ী উদ্দেশ্যে গঠিত বা ব্যবহৃত বিষয়কে বোঝানো হয়। অর্থাৎ, এটি 'অস্থায়ী' (অপশন খ) অর্থও প্রকাশ করে।
যেহেতু 'তদর্থক' এবং 'অস্থায়ী' উভয় অর্থই 'Ad-hoc' শব্দের সাথে সম্পর্কিত এবং প্রযোজ্য, তাই সঠিক উত্তর হবে 'ক ও খ উভয়ই'
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
21

সন্ধির প্রধান সুবিধা কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পড়ার সুবিধা
  2. লেখার সুবিধা
  3. উচ্চারণের সুবিধা
  4. শোনার সুবিধা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন৷
- সন্ধি শব্দ গঠনেরও একটি উপায়।
- তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।

• সন্ধির কতিপয় উদ্দেশ্য:
- সন্ধি মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়।
- নতুন শব্দ তৈরি করা হয়।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো উচ্চারণের সুবিধা
ব্যাকরণ অনুযায়ী, সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলা হয়। সন্ধির মূল লক্ষ্যই হলো স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা সৃষ্টি করা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন করা।
যখন দুটি ধ্বনি কাছাকাছি আসে, তখন দ্রুত উচ্চারণের সময় তাদের মধ্যে একটি মিলন বা পরিবর্তন ঘটে, যা কথা বলার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করে তোলে।
এজন্যই, যদিও সন্ধি শব্দ গঠন ও ধ্বনিগত মাধুর্য তৈরি করে, এর প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণকে সহজ ও দ্রুত করা
22

‘ব্যর্থ শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ব্য+অর্থ
  2. বি+অর্থ
  3. ব্যা+অর্থ
  4. ব+অর্থ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘ব্যর্থ শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = বি+অর্থ। 

ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে য বা য ( ্য) ফলা হয়। য- ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন -
ই + অ = য্ + অ        অতি + অন্ত = অত্যন্ত
ই + আ = য্ + আ      ইতি + আদি = ইত্যাদি
ই + উ = য্ + উ        অতি + উক্তি = অত্যক্তি
ই + ঊ = য্ + ঊ        প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ
ঈ + অ =য্ + অ       নদী + অম্বু = নদ্যম্বু

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বি + অর্থ। এটি স্বরসন্ধির অন্তর্গত যণ-সন্ধির একটি উদাহরণ।
যণ-সন্ধির নিয়ম: প্রথম পদটির শেষে যদি ই-কার (ি) অথবা ঈ-কার (ী) থাকে এবং পরের পদের শুরুতে যদি ই/ঈ ভিন্ন অন্য কোনো স্বরবর্ণ থাকে, তবে পূর্বপদের ই/ঈ-কার স্থানে য-ফলা (্য) উৎপন্ন হয়।
এখানে: বি (ব্ + ই) + অর্থ (অ) = ব্ + য্ + অ + র্থ = ব্যর্থ
অন্যান্য অপশনগুলো (ব্য+অর্থ, ব্যা+অর্থ, ব+অর্থ) ভুল, কারণ তারা সন্ধির মূল নিয়ম অনুসরণ করে না এবং এদের দ্বারা 'ব্যর্থ' শব্দটি গঠন করা সম্ভব নয় বা পদগুলির সঠিক অর্থগত বিভাজন হয় না।
23

‘দাতা‘ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দা+তৃচ\sqrt{\text{দা}}+\text{তৃচ}
  2. দাতৃ+\sqrt{\text{দাতৃ}}+\text{আ}
  3. দা+তা\sqrt{\text{দা}}+\text{তা}
  4. দাতা+\sqrt{\text{দাতা}}+\text{আ}

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

দাতা (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √দা+তৃ
অর্থ: যে ব্যক্তি দান করে। 


কিন্তু, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে,
'দাতা' -এর প্রকৃতি প্রত্যয় = √দা+তৃচ্‌ = √দা+তৃ = √দা+তা

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো দা+তা\sqrt{\text{দা}}+\text{তা} (Option 2)। প্রকৃতি-প্রত্যয়ের মাধ্যমে শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে 'দাতা' শব্দটি একটি কৃদন্ত শব্দ, যা কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত।
কৃৎ প্রত্যয় সব সময় ধাতুর (ক্রিয়ামূলের) পরে বসে। এখানে মূল ধাতু হলো দা\sqrt{\text{দা}}, যার অর্থ 'দান করা'।
সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, কর্তৃবাচকে 'দাতা' শব্দটি মূল ধাতু দা\sqrt{\text{দা}}-এর সঙ্গে 'তৃচ্' প্রত্যয় যোগে গঠিত হয় (দা+তৃচ্\sqrt{\text{দা}}+\text{তৃচ্})। 'তৃচ্'-এর 'চ্' লোপ পায় এবং 'তৃ' বা 'তা' অংশ অবশিষ্ট থাকে, যার ফলে 'দাতা' শব্দটি তৈরি হয়।
যদিও দা+তৃচ্\sqrt{\text{দা}}+\text{তৃচ্} (Option 0) ব্যাকরণগতভাবে সবচেয়ে সঠিক, কিন্তু বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি) বইয়ে এই জাতীয় শব্দকে সরলীকৃতভাবে দা+তা\sqrt{\text{দা}}+\text{তা} আকারে দেখানো হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় যেহেতু পাঠ্যপুস্তক অনুসরণ করা হয়, তাই Option 2 সঠিক উত্তর।
24

‘মুক্ত‘ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. √মু+ক্ত
  2. √মুক+ত
  3. √মুহ+ক্ত
  4. √মুচ+ক্ত

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘মুক্ত'  (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √মুচ্‌ +ত
অর্থ: 
- অব্যাহতিপ্রাপ্ত, নিষ্কৃতিপ্রাপ্ত
- মোক্ষপ্রাপ্ত
- আরোগ্যপ্রাপ্ত

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

‘ক্তি’ একটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। ‘ক্তি’ সংযুক্ত শব্দের শেষে যদি ‘চ/জ’ থাকে তা ‘ক’ হয়ে যায়।
যেমন:
√মুচ্‌ + ক্ত = মুক্ত
√ভজ্‌ + ক্ত = ভক্ত

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় হলো মুচ্‌+ক্ত\sqrt{মুচ্‌} + ক্ত। এটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
বাংলায় যখন কোনো ধাতুর (ক্রিয়ামূলের) সাথে 'ক্ত' কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়, তখন যদি ধাতুটির শেষে 'চ' অথবা 'জ' ধ্বনি থাকে, তবে সেই ধ্বনিটি লোপ পেয়ে 'ক' ধ্বনিতে পরিবর্তিত হয়।
এখানে, মুচ্‌\sqrt{মুচ্‌} (অর্থ: ত্যাগ করা) ধাতুর সাথে 'ক্ত' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে 'মুক্ত' শব্দটি গঠিত হয়েছে।
অন্যান্য অপশনগুলো যেমন মু+ক্ত\sqrt{মু} + ক্ত বা মুহ+ক্ত\sqrt{মুহ} + ক্ত, ব্যাকরণের এই বিশেষ ধ্বনি পরিবর্তনের নিয়মটি অনুসরণ করে না, তাই সেগুলো সঠিক নয়।
25

সমাস শব্দের অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সংক্ষেপণ
  2. সমন্বয়
  3. দুর্বোধ্য
  4. ভাষান্তরকরণ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সমাস' শব্দের অর্থ সংক্ষেপ, মিলন ও একাধিক পদের একপদীকরণ।
অর্থ সম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বড় শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
সমাসের রীতি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সংক্ষেপণ
সমাস শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো সংক্ষেপ, মিলন বা একাধিক পদের একপদীকরণ।
অর্থ সম্বন্ধ আছে এমন একাধিক পদকে একটিমাত্র পদে পরিণত করার প্রক্রিয়াই হলো সমাস। এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্যই হলো বাক্যের পদসংখ্যা কমিয়ে ভাষাকে আরও শ্রুতিমধুর ও সংক্ষিপ্ত করা।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, ‘সমন্বয়’ মানে মিল বা যোগ, যা সমাসের একটি ফলাফল হতে পারে, কিন্তু এটি মূল অর্থ নয়। ‘দুর্বোধ্য’ বা ‘ভাষান্তরকরণ’ সম্পূর্ণভাবে অপ্রাসঙ্গিক।
ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও মেডিকেলসহ ২৭+ ইউনিট-ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর এডমিশন সেকশনে।

ভর্তি প্রশ্নব্যাংক দেখুন
26

‘চির অশান্তি‘ অর্থে কোন বাগধারাটি যথোপযুক্ত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভরাডুবি
  2. রাবণের চিতা
  3. জগদ্দল পাথর
  4. ঢাকের বায়া

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কয়েকটি গুরুত্বপুর্ণ বাগধারা: 

রাবণের চিতা - চির অশান্তি/নিরন্তর দাহ।
রাবণের গোষ্ঠী - বড় পরিবার।
শাপে বর - অনিষ্টে ইষ্ট লাভ।
শাঁখের করাত - উভয় সংকট।
অগস্ত্য যাত্রা - শেষ বিদায়।
অনন্ত শয্যা - শেষ শয্যা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক বাগধারাটি হলো রাবণের চিতা
রাবণের চিতা বাগধারাটির অর্থ হলো চির অশান্তি বা নিরন্তর দাহ (Constant Burning)। হিন্দু পুরাণ মতে, রাবণ যেমন অশান্তি ও অহংকারের প্রতীক ছিলেন, তেমনি তার চিতা কখনই সম্পূর্ণরূপে শান্ত হতো না, যা এই অর্থের উৎস।
অন্যান্য বিকল্পগুলোর অর্থ মনে রাখুন, যা পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ:
ভরাডুবি: সম্পূর্ণ সর্বনাশ বা ধ্বংস।
জগদ্দল পাথর: গুরুভার, যা সরানো কঠিন বা অতিশয় বাধা।
ঢাকের বায়া: অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তি বা অকেজো সঙ্গী (যার কোনো কাজ নেই)।
27

‘গদাই লস্করি চাল‘ বাগধারাটির অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তুচ্ছ পদার্থ
  2. আলসেমি
  3. অন্ধ অনুকরণ
  4. তুমুল কান্ড

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

গদাই লস্করি চাল - অলস ভঙ্গি/আলসেমি। 

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা ও এর অর্থ- 
গোকুলের ষাঁড় - বাধাবন্ধনহীন
গো বৈদ্য - হাতুড়ে 
গৌড়চন্দ্রিকা - ভূমিকা, সূচনা, অনুবন্ধ, প্রবর্তনা, প্রারম্ভ।
গোঁয়ার গোবিন্দ - কাণ্ডজ্ঞানহীন
গোঁজামিল - কোনমতে মেলানো 
গলগ্রহ - পরের বোঝা স্বরূপ

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

‘গদাই লস্করি চাল’ বাগধারাটি একটি অলস বা মন্থর গতিকে নির্দেশ করে। এই বাক্যাংশটি এমন ভঙ্গিকে বোঝায় যেখানে কাজে বা হাঁটাচলায় অতিরিক্ত ঢিলেমি ও আলস্য প্রকাশ পায়।
সুতরাং, এর সঠিক অর্থ হলো: আলসেমি বা অলস ভঙ্গি।
অন্যান্য অপশনগুলো যেমন— ‘তুচ্ছ পদার্থ’, ‘অন্ধ অনুকরণ’, বা ‘তুমুল কান্ড’ সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে এবং প্রদত্ত বাগধারাটির অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
28

‘গরুতে দুধ দেয়‘ বাক্যে ‘গরুতে‘ কোন কারকে কোন বিভক্তি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. করণে সপ্তমী
  2. কর্তৃকারকে সপ্তমী
  3. অপাদানে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

গরুতে দুধ দেয়‘ - বাক্যে কর্তৃকারকে/কর্তাকারকে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 

বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক। (কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)

কর্তৃকারকে বিভক্তির প্রয়োগের উদাহরণ- 
- পাখি সব করে রব = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তির
- আমার দ্বারা এ কাজ হবে না সাধন = কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তির 
- পাছে লােকে কিছু বলে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির
- ঘােড়ায় গাড়ি টানে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির 
- মানুষ ভাবে এক হয় আর এক = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তির
- সবাইকে একদিন মরতে হবে = কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তির। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কর্তৃকারকে সপ্তমী
কারক নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রথমে দেখতে হবে বাক্যের ক্রিয়াটি কে সম্পন্ন করছে। এখানে 'দুধ দেয়' হলো ক্রিয়া। ক্রিয়াকে 'কে' বা 'কারা' দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক
কে দুধ দেয়? উত্তর: গরুতে। তাই এটি কর্তৃকারক।
এবার বিভক্তি নির্ণয়: মূল শব্দটি হলো 'গরু'। এর সাথে '-তে' যুক্ত হয়েছে। সপ্তমী বিভক্তির চিহ্নগুলি হলো: '-এ', '-য়', এবং '-তে'। যেহেতু এখানে '-তে' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে, তাই এটি সপ্তমী বিভক্তি।
অতএব, ‘গরুতে দুধ দেয়‘ বাক্যে ‘গরুতে‘ পদটি কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি
অন্যান্য অপশন যেমন, করণ (যন্ত্র/সহায়ক) বা অপাদান (স্থানচ্যুতি/উৎপত্তি) বা অধিকরণ (স্থান/কাল) এখানে প্রযোজ্য নয়, কারণ 'গরু' নিজেই কাজটি সম্পন্নকারী কর্তা।
29

‘অহঙ্কার পতনের মূল‘ বাক্যে ‘অহঙ্কার‘ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কর্মে শূন্য
  2. করণে শূন্য
  3. অপাদানে শূন্য
  4. অধিকরণে শূন্য

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘অহঙ্কার পতনের মূল‘ বাক্যে ‘অহঙ্কার‘ শব্দটি করণ কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।

• করণ কারক
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক। 

• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা' বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি – টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি – তার কথা যেন মধুতে মাখা। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

‘অহঙ্কার পতনের মূল’—এই বাক্যের অর্থ হলো অহঙ্কারই পতনের কারণ বা মাধ্যম। অর্থাৎ, অহঙ্কার দ্বারা পতন ঘটে
বাংলা ব্যাকরণে, যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয়, তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ’ শব্দের অর্থ হলো উপায় বা সহায়।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কী উপায়ে’ বা ‘কার দ্বারা’ প্রশ্ন করলে যদি যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই করণ কারক। এখানে, ‘কীসের দ্বারা পতন ঘটে?’ প্রশ্ন করলে উত্তর আসে: অহঙ্কার। তাই এটি করণ কারক।
যেহেতু ‘অহঙ্কার’ শব্দটির সাথে কোনো স্পষ্ট বিভক্তি (যেমন: -কে, -তে, -র, -এ) যুক্ত নেই, তাই এটি শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো: করণ কারকে শূন্য বিভক্তি
বিপরীতে, এটি কর্ম কারক নয়, কারণ এটি ক্রিয়ার ফল বহন করছে না। এটি অপাদান কারক নয়, কারণ এটি থেকে কোনো কিছু বিচ্ছিন্ন হওয়ার বা ভয় পাওয়ার অর্থ প্রকাশ করছে না।
30

নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মূমূর্ষু
  2. মূমুষু
  3. মুমূর্ষু
  4. মুমুর্ষূ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

শুদ্ধ বানান - মুমূর্ষু

মুমূর্ষু (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √ম্+সন্‌+উ
- অর্থ: মৃত্যুকাল আসন্ন এমন, মরণাপন্ন, মৃতপ্ৰায়

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো মুমূর্ষু। এটি একটি সংস্কৃত শব্দ, যার অর্থ হলো 'মৃত্যুকাল আসন্ন এমন' বা 'মরণাপন্ন'
মুমূর্ষু বানানে স্বরচিহ্নের বিন্যাসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এই অংশের ভুলই পরীক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্ত করে।
এর সঠিক ক্রমটি হলো: প্রথমে হ্রস্ব উ-কার (ু), মাঝে দীর্ঘ ঊ-কার (ূ) এবং শেষে আবার হ্রস্ব উ-কার (ু)
অর্থাৎ: ম(ু) + ম(ূ) + র্ষ(ু)।
অন্যান্য অপশন যেমন— মূমূর্ষু (Option 0) বা মুমুর্ষূ (Option 3) - এই বানানে হ্রস্ব ও দীর্ঘ স্বরচিহ্নের ভুল ব্যবহারের কারণে ভুল।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
31

‘পরভৃত‘ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পিক
  2. ধেনু
  3. বিভব
  4. অম্বু

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

পরভৃত (বিশেষ্য) - কোকিল; পিক।
 (বিশেষণ) পরপুষ্ট; অন্য কর্তৃক পালিত।

পরভৃৎ (বিশেষ্য) - পরকে পালন করে যে; কোকিলকে যে পালন করে অর্থাৎ কাক; বায়স।

অন্যদিকে, 
'ধেনু' 'গরু' এর সমার্থক শব্দ
'বিভব' 'সম্পদ' এর সমার্থক শব্দ
অম্বু' 'জল' এর সমার্থক শব্দ

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো পিক
'পরভৃত' শব্দটি বিশেষ্য রূপে ব্যবহৃত হলে এর অর্থ দাঁড়ায় কোকিল। যেহেতু কোকিল তার ডিম কাকের বাসায় পাড়ে এবং কাকের দ্বারা পালিত হয় (পরপুষ্ট), তাই একে 'পরভৃত' বলা হয়।
পিক হলো কোকিলের একটি বহুল প্রচলিত সমার্থক শব্দ।
অন্যদিকে, বাকি বিকল্পগুলি ভুল কারণ: ধেনু (গরু), বিভব (সম্পদ/ঐশ্বর্য) এবং অম্বু (জল/পানি)।
32

‘আকুঞ্চন‘ শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শান্ত
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. প্রসারণ
  4. কুঞ্চিত

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

আকুঞ্চন' এর বিপরীত শব্দার্থ - প্রসারণ।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীতার্থক শব্দঃ
হর্ষ - বিষাদ
আবির্ভাব - তিরোভাব
অনন্ত - সান্ত।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

‘আকুঞ্চন’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো সংকোচন, গুটিয়ে আসা বা হ্রাস পাওয়া।
এর বিপরীত অর্থ বোঝায় এমন শব্দ হলো প্রসারণ
প্রসারণ শব্দের অর্থ হলো ছড়িয়ে দেওয়া বা বৃদ্ধি করা (Expansion)।
সুতরাং, ‘আকুঞ্চন’ এর সঠিক বিপরীত শব্দ হলো প্রসারণ
অন্যান্য অপশনের মধ্যে ‘কুঞ্চিত’ শব্দটি ‘আকুঞ্চন’-এর প্রায় সমার্থক, তাই এটি বিপরীত শব্দ নয়।
33

‘ইতিহাস বিষয়ে অভিজ্ঞ যিনি‘-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ইতিহাসবেত্তা
  2. ঐতিহাসিক
  3. ইতিহাসবিজ্ঞ
  4. ইতিহাসবিদ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান


সঠিক এক কথায় প্রকাশ- 
ইতিহাস বিষয়ে অভিজ্ঞ যিনি = ইতিহাসবেত্তা।
ইতিহাস রচনা করেন যিনি = ঐতিহাসিক।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ইতিহাসবেত্তা
বাংলা ব্যাকরণে, এককথায় প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘বেত্তা’ শব্দটি জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাই, ‘ইতিহাস বিষয়ে অভিজ্ঞ যিনি’— এর এককথায় প্রকাশ হবে ইতিহাসবেত্তা
অন্যদিকে, ঐতিহাসিক মানে হলো ‘ইতিহাস রচনা করেন যিনি’ বা ‘ইতিহাস সম্পর্কিত’। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুল ধারণা যা পরীক্ষায় প্রায়শই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
ইতিহাসবিদ (বিদ = যিনি জানেন বা অভিজ্ঞ) শব্দটি ব্যবহার করা গেলেও, ব্যাকরণগতভাবে এবং পরীক্ষার মান অনুযায়ী ইতিহাসবেত্তা হলো সঠিক এবং প্রতিষ্ঠিত রূপ।
34

বিরাম চিহ্ন কেন ব্যবহৃত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বাক্য সংকোচনের জন্য
  2. বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য
  3. বাক্যের সৌন্দর্যের জন্য
  4. বাক্য অলংকৃত করার জন্য

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে। 
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। 
- যতিচিহ্নকে বিরাম চিহ্ন বা বিরিতি চিহ্নও বলে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

লিখিত ভাষায় পাঠককে সঠিক বক্তব্য বোঝানোর জন্য এবং বাক্যের অর্থের বিভ্রান্তি দূর করার জন্য বিরাম চিহ্নের ব্যবহার অপরিহার্য।
সঠিক উত্তর হলো— বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য। বিরাম চিহ্নের মূল কাজ হলো— পাঠকের সুবিধার জন্য মুখে উচ্চারিত কথার লিখিত রূপে বিরতি বা যতি আনা এবং বক্তার মনোভাব সঠিকভাবে প্রকাশ করা।
যেমন: 'তুমি আজ যাবে না, কাল যাবে।' (দুটো কাজ আলাদা) এবং 'তুমি আজ যাবে না কাল যাবে?' (প্রশ্ন)। এখানে কমা ও প্রশ্নবোধক চিহ্ন অর্থের পার্থক্য তৈরি করেছে।
অন্যান্য অপশন যেমন— 'সৌন্দর্য বৃদ্ধি' বা 'অলংকরণ', এগুলো বিরাম চিহ্নের আনুষঙ্গিক কাজ হতে পারে, কিন্তু মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। মুখ্য উদ্দেশ্য হলো অর্থের স্পষ্টতা নিশ্চিত করা।
35

‘আমার দেখা নয়াচীন‘ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. শেরে বাংলা এ. কে ফজলুল হক
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

- “আমার দেখা নয়াচীন” জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর চীন ভ্রমণের উপর লেখা গ্রন্থ।
- এই গ্রন্থটি তার প্রকাশিত তৃতীয় গ্রন্থ।
- ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ বাংলা একাডেমি এটি প্রকাশ করে।
- ১৯৫২ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে নয়া চীন যান বঙ্গবন্ধু।
- তার এ সফরের অভিজ্ঞতাই এ গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আমার দেখা নয়াচীন, বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
‘আমার দেখা নয়াচীন’ হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত একটি ভ্রমণ কাহিনি
এটি তাঁর ১৯৫২ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে নয়া চীন সফরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রচিত।
অন্যান্য অপশনে উল্লেখিত জননেতারা (ভাসানী, হক, সোহরাওয়ার্দী) বঙ্গবন্ধুর সমসাময়িক হলেও, এই ভ্রমণকাহিনিটি একান্তভাবে তাঁর রচনা।
গ্রন্থটি বাংলা একাডেমি কর্তৃক ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি তাঁর প্রকাশিত তৃতীয় গ্রন্থ
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
36

 ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।‘- কোন আন্দোলনের স্লোগান?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. শিক্ষা আন্দোলন
  3. গণনাট্য আন্দোলন
  4. বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার  মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক কুসংস্কার ও অন্ধ শাস্ত্রানুগত্য থেকে মানুষকে মুক্ত করা।
- এ উদ্দেশে তাঁরা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- তাঁদের সে আন্দোলনের বার্তা সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার জন্য ১৯২৬ সালে তাঁরা প্রকাশ করেন সমাজের মুখপত্র শিখা। মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও শিখার সঙ্গে যাঁরা জড়িত ছিলেন তাঁরা ‘শিখাগোষ্ঠী’ নামে পরিচিত ছিলেন।
- এ গোষ্ঠী তখন ঢাকায় বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন শুরু করে।
- তাঁদের আন্দোলনের মূলকথা ছিল ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’।


তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন
এই স্লোগানটি ছিল বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন-এর মূলমন্ত্র। এই আন্দোলনটি শুরু করেছিল ১৯২৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গঠিত মুসলিম সাহিত্য সমাজ
এই আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য ছিল সমাজের প্রচলিত কুসংস্কার, অন্ধ শাস্ত্রানুগত্য ও যুক্তিহীনতা থেকে মানুষকে মুক্ত করে তাদের বুদ্ধিকে স্বাধীন করা।
এই সাহিত্য সমাজের মুখপত্রের নাম ছিল ‘শিখা’, এবং এর সঙ্গে জড়িত সাহিত্যিকেরা ‘শিখাগোষ্ঠী’ নামে পরিচিত ছিলেন।
অন্যান্য আন্দোলন (যেমন ভাষা আন্দোলন বা শিক্ষা আন্দোলন) রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক অধিকারভিত্তিক ছিল, যেখানে সরাসরি ‘জ্ঞান’, ‘বুদ্ধি’ ও ‘মুক্তি’-এর দার্শনিক সংযোগ নেই।
37

অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 'ছ' ধ্বনি

  2. 'চ' ধ্বনি

  3. 'জ' ধ্বনি

  4. 'ঝ' ধ্বনি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘােষ ও অঘোষ।
ঘােষ ব্যঞ্জন
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি। যথা:
ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ ।
 
অঘোষ ব্যঞ্জন
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি, যথা:
প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, , ছ, শ, ক, খ, হ।
 
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়ঃ অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।
 
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, , জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।
 
মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন – ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো 'চ' ধ্বনি
ব্যঞ্জন ধ্বনিকে দুটি প্রধান মাপকাঠিতে ভাগ করা হয়: (১) শ্বাসের মাত্রা (অল্পপ্রাণ/মহাপ্রাণ) এবং (২) স্বরযন্ত্রের কম্পন (অঘোষ/ঘোষ)।

অঘোষ ধ্বনি: যে ধ্বনি উচ্চারণে স্বরযন্ত্রের কম্পন কম হয়। বর্গের প্রথম ও দ্বিতীয় ধ্বনিগুলো অঘোষ। চ-বর্গে: , ছ।

অল্পপ্রাণ ধ্বনি: যে ধ্বনি উচ্চারণে নিঃশ্বাসের মাত্রা কম হয়। বর্গের প্রথম ও তৃতীয় ধ্বনিগুলো অল্পপ্রাণ। চ-বর্গে: , জ।

যেহেতু 'চ' ধ্বনিটি বর্গের প্রথম ধ্বনি (১ম স্থান), এটি একই সাথে অঘোষ এবং অল্পপ্রাণ হবে।

অন্য অপশনগুলো:
'ছ' ধ্বনি = অঘোষ মহাপ্রাণ (২য় স্থান)
'জ' ধ্বনি = ঘোষ অল্পপ্রাণ (৩য় স্থান)
'ঝ' ধ্বনি = ঘোষ মহাপ্রাণ (৪র্থ স্থান)
38

বাক্যের ক্ষুদ্রাংশকে কী বলে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পদ
  2. রূপ
  3. শব্দমূল
  4. ধ্বনি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রতিটি শব্দকে পদ বলে। 
- এদিক দিয়ে পদ হলো বাক্যের একক বা ক্ষুদ্রাংশ । 
- রূপতত্ত্ব অংশে শব্দশ্রেণি নামে বাক্যের এই পদ বিভাজন উপস্থাপন করা হয়েছে। 
উদাহরণ: 'সজল ও লতা বই পড়ে' বাক্যে 'সজল' 'ও' 'লতা' 'বই' 'পড়ে' প্রতিটি পদ। 
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পদ
পদ (Pôd) হলো বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রতিটি শব্দ। যখন কোনো শব্দ বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে (বিভক্তি যুক্ত হয় বা বিভক্তিযুক্ত পদের মতো কাজ করে), তখন তাকে পদ বলা হয়। এ কারণেই পদকে বাক্যের ক্ষুদ্রাংশ বা একক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ:
- ধ্বনি: এটি ভাষার ক্ষুদ্রতম একক, বাক্যের ক্ষুদ্রাংশ নয়। ধ্বনির অর্থ থাকে না।
- শব্দমূল: এটি শব্দের মৌলিক ও অপরিবর্তনীয় অংশ (যেমন: চল্, কর্), কিন্তু এটি নিজেই বাক্যের ক্ষুদ্রাংশ বা পদ নয়।
39

সাধু ও চলিত ভাষার প্রধান পার্থক্য—

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বাক্যের গঠন প্রক্রিয়ায়
  2. ক্রিয়া ও সর্বনাম পদের রূপগত ভিন্নতায়
  3. শব্দের কথ্য ও লেখ্য রূপের ভিন্নতায়
  4. ভাষার জটিলতা ও প্রাঞ্জলতায়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

• বাংলা ভাষার ৩টি রীতি রয়েছে।
যথা -
১. সাধু রীতি
২. চলিত রীতি
৩. আঞ্চলিক কথ্য রীতি বা উপভাষা
 
• চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ - আলোচনার জন্য উপযোগী।
 
• সাধু ও চলিত ভাষার প্রধান পার্থক্য হলো ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের ভিন্নতায়।
প্রদত্ত ‘বলিলেন’ এর চলিত রূপ - ‘বললেন’
এবং ‘বলিয়াছিলেন’ এর চলিত রূপ - ‘বলেছেন’ 
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ক্রিয়া ও সর্বনাম পদের রূপগত ভিন্নতায়
বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রীতির মধ্যে প্রধান ও মূলগত পার্থক্য হলো ক্রিয়াপদ (Verb) এবং সর্বনাম পদ (Pronoun)-এর রূপে।
সাধু রীতির ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদগুলি সাধারণত পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘ হয় (যেমন: 'করিতেছে', 'তাহাদের')।
অন্যদিকে, চলিত রীতির ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদগুলি সংক্ষেপিত ও সহজ রূপ ধারণ করে (যেমন: 'করছে', 'তাদের')।
অন্যান্য পার্থক্যগুলি (যেমন—বাক্যের গঠন, জটিলতা) গৌণ। ভাষারীতির সংজ্ঞায় এই ক্রিয়া ও সর্বনাম পদের ভিন্নতাকেই প্রধান পার্থক্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
40

বাক্যে সম্বোধনের পর কোন চিহ্ন বসে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কমা
  2. কোলন
  3. হাইফেন
  4. ড্যাস

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

• বাংলায় কোনো কিছু লিখতে গিয়ে যত ধরনের যতিচিহ্ন আমরা ব্যবহার করি তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করি কমা (,)। বাক্যের ভেতরের বিরাম-চিহ্ন হলো কমা। বাক্যে ব্যবহৃত কমার ক্ষেত্রে ‘এক’ উচ্চারণ করার সমান সময় থামতে হয়।
 
অল্প বিরাম বোঝাতে কিছু স্থানে কমা ব্যবহৃত হয়। যথা:
- নামের শেষে ডিগ্রি থাকলে কমা বসে।
যেমন: ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, এমএ. পিএইচডি।
- এক জাতীয় একাধিক বাক্য পাশাপাশি ব্যবহৃত হলে তাদের আলাদা করতে।
- একই পদের বারবার ব্যবহারের মাঝে কমা বসে।
- সম্বোধনের পর কমা বসে।
- তারিখ লিখতে কমা বসে ইত্যাদি।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কমা (,)
বাংলা বাক্যে যখন কাউকে সরাসরি সম্বোধন করা হয়, তখন সেই সম্বোধন পদের পর সামান্য বিরতির জন্য কমা (,) চিহ্নটি ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণ: বাবা, আপনি কখন ফিরবেন?
উদাহরণ: শুনছেন, এদিকে আসুন।
বিরাম চিহ্নের মধ্যে কমা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় এবং এটি বাক্যের ভেতরে এক (১) উচ্চারণ করার সমান সময় থামার নির্দেশ দেয়।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়: কোলন (:) উদাহরণ, বা উদ্ধৃতির আগে ব্যবহৃত হয়; হাইফেন (-) সমাসবদ্ধ পদ বা একই ধরনের দুটি শব্দকে যুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়; এবং ড্যাস (—) বাক্য ব্যাখ্যা বা আকস্মিক ভাব পরিবর্তনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
41

‘প্রথিত' শব্দের অর্থ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্রথা অনুসারে
  2. যা প্রার্থনা
  3. বিখ্যাত
  4. যা পুঁতে রাখা হচ্ছে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

 প্রথিত (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √প্রথ্‌+ত
অর্থ:
বিখ্যাত, 
খ্যাতিসম্পন্ন
প্রসিদ্ধ
 
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো বিখ্যাত
‘প্রথিত’ শব্দটি একটি বিশেষ্য পদ (বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত), যার প্রকৃতি প্রত্যয় হলো √প্রথ্‌+ত। বাংলা একাডেমির আধুনিক অভিধান অনুযায়ী এর অর্থ হলো খ্যাতিসম্পন্ন, প্রসিদ্ধ বা বিখ্যাত
অন্যান্য অপশনগুলো যেমন— 'প্রথা অনুসারে', 'যা প্রার্থনা' বা 'যা পুঁতে রাখা হচ্ছে'— এগুলো ‘প্রথিত’ শব্দের অর্থের সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ।
42

'পত্রপাঠ' বাগধারাটির অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গোপন চুক্তি
  2. বৃহৎ ব্যাপার
  3. অবিলম্ব
  4. দীর্ঘস্থায়ী

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

পত্রপাঠ  (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = পত্র+পাঠ 
অর্থ: চিঠি পড়ার কাজ 
ক্রিয়াবিশেষণ: পত্র পড়া মাত্র, অবিলম্বে বা তৎক্ষণাৎ (অইত্রপাঠ বিদায়) 
 
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অবিলম্ব
'পত্রপাঠ' একটি বাগধারা, যার আভিধানিক অর্থ যদিও 'চিঠি পড়া', কিন্তু বাগধারায় এর অর্থ হলো অবিলম্বে বা তৎক্ষণাৎ
এই বাগধারাটি প্রায়শই 'পত্রপাঠ বিদায়' হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ হলো সাথে সাথেই বা কোনো দেরি না করে কাউকে বিদায় করে দেওয়া।
এখানে 'অবিলম্ব' (কোনো বিলম্ব না করে) শব্দটি অর্থগত দিক থেকে 'তৎক্ষণাৎ' বা 'সাথে সাথে' অর্থটি বহন করে, তাই এটিই সঠিক।
অন্যান্য অপশন যেমন— 'গোপন চুক্তি', 'বৃহৎ ব্যাপার', বা 'দীর্ঘস্থায়ী' এই বাগধারাটির তাৎক্ষণিকতা বা দ্রুততার অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
43

‘রজক' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রজকা
  2. রজকী
  3. রজকিনী
  4. রজকানী

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
রজক (বিশেষ্য) 
- বাংলা শব্দ 
অর্থ: ধোপা
স্ত্রীবাচক শব্দ: রজকিনী
 
• কতগুলো পুংলিঙ্গ শব্দের শেষে ‘ইনী’ প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীলিঙ্গ করা হয়।
যেমন:
গোয়ালা - গোয়ালিনী
বিহঙ্গ - বিহঙ্গিনী
সন্ন্যাস - সন্ন্যাসিনী
রজক - রজকিনী
কাঙাল - কাঙালিনী
সাপ - সাপিনী
বাঘ - বাঘিনী ইত্যাদি।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলার দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: রজকিনী
বাংলা ব্যাকরণের লিঙ্গ পরিবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী, কিছু কিছু পুংলিঙ্গ (Masculine) শব্দের শেষে 'ইনী' প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীলিঙ্গ (Feminine) করা হয়।
‘রজক’ শব্দের অর্থ হলো ধোপা (Washerman)। এর স্ত্রীবাচক শব্দ তৈরির ক্ষেত্রে ‘ইনী’ প্রত্যয় যুক্ত হয়।
যেমন: রজক + ইনী = রজকিনী
অন্যান্য অপশন যেমন ‘রজকা’, ‘রজকী’ বা ‘রজকানী’ ব্যাকরণগতভাবে এই শব্দের সঠিক স্ত্রীবাচক রূপ নয়।
44

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জেঠী
  2. পাগলী
  3. বেঙ্গামী
  4. সৎমা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে
যেমন - কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।
 
আবার কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে
যেমন - সতীন, সৎমা, সধবা ইত্যাদি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সৎমা
বাংলা ব্যাকরণে কিছু শব্দ আছে যাদের শুধুমাত্র স্ত্রীলিঙ্গ রূপ ব্যবহৃত হয় এবং এদের পুরুষবাচক কোনো শব্দ হয় না। এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।
সৎমা (Stepmother) শব্দটি দ্বারা চিরকাল কেবল স্ত্রীলিঙ্গকেই বোঝানো হয়। এর পুরুষবাচক রূপ নেই।
অন্যান্য অপশনগুলো নিত্য স্ত্রীবাচক নয়। এগুলো লিঙ্গ পরিবর্তনযোগ্য শব্দ:
  • জেঠী (স্ত্রীবাচক) \rightarrow জেঠা (পুরুষবাচক)
  • পাগলী (স্ত্রীবাচক) \rightarrow পাগল (পুরুষবাচক)
  • বেঙ্গামী (স্ত্রীবাচক) \rightarrow বেঙ বা ব্যাঙ (পুরুষবাচক/সাধারণ)
45

'যা বলা হবে' এর বাক্য সংকোচন কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. উক্ত
  2. বাচ্য
  3. ভবিতব্য
  4. বক্তব্য

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বক্তব্য (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √বচ্‌+তব্য 
অর্থ: 
বলতে হবে বা বলার যোগ্য এমন, 
আলোচ্য, উল্লেখ্য
 
বাচ্য (বিশেষণ) 
অর্থ: কথ্য, কথনীয়, বলার যোগ্য , বলতে হবে এমন। 
বাংলা ব্যাকরণে, বাক্যের বিভিন্ন প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে। 
 
ভবিতব্য (বিশেষ্য)
অর্থ: ভাগ্য, নিয়তি। 
 
উক্ত (বিশেষণ) 
অর্থ: বলা হয়েছে এমন, কথিত। 
সুতরাং
 'যা বলা হবে' এর বাক্য সংকোচন = বক্তব্য। অধিক গ্রহণযোগ্য। 
 
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো বক্তব্য। বাক্য সংকোচন বা এককথায় প্রকাশের নিয়মানুসারে, 'যা বলা হবে' কিংবা 'যা বলার যোগ্য' – এর সংক্ষেপিত রূপ হলো বক্তব্য
বক্তব্য শব্দটি গঠিত হয়েছে √বচ্‌ (বলা) ধাতুর সঙ্গে 'তব্য' প্রত্যয় যোগ করে।

অন্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
উক্ত: যার অর্থ 'বলা হয়েছে এমন' বা 'কথিত'। যেমন: 'পূর্বোক্ত নিয়মাবলী'। এটি ভুল, কারণ প্রশ্নে বলা হয়েছে 'যা বলা হবে' (ভবিষ্যৎ/যোগ্য অর্থে)।
ভবিতব্য: এর অর্থ হলো 'যা ঘটবে' বা 'নিয়তি/ভাগ্য'।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
46

‘খিড়কি' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সরুপথ
  2. চিলেকোঠা
  3. গুপ্তপথ
  4. সিংহদার

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

খিড়কি এর বিপরীতার্থক শব্দ সিংহদ্বার। 
 
খিড়কি, খিড়কী (বিশেষ্য) 
- অন্তঃপুর দ্বার; বাড়ির পশ্চাদ্দিকের ছোট দরজা।
- গুপ্ত দরজা।
 
সিংহদ্বার, সিংহদরজা (বিশেষ্য)
- সিংহের মূর্তিযুক্ত প্রধান দরজা; প্রধান ফটক; সদর দরজা।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো সিংহদার। শব্দটির অর্থগত দিক বিবেচনা করে এটি সঠিক বিপরীত শব্দ।
'খিড়কি' শব্দের অর্থ হলো—বাড়ির পেছন দিকের বা অপেক্ষাকৃত ছোট ও অপ্রধান দরজা অথবা গুপ্তপথ।
অন্যদিকে, 'সিংহদার' শব্দের অর্থ হলো—প্রধান ফটক বা সদর দরজা। যেহেতু 'খিড়কি' অপ্রধান দরজা, তাই এর বিপরীতার্থক শব্দ হিসেবে 'সিংহদার' (প্রধান দরজা) ব্যবহৃত হবে।
অন্যান্য অপশন যেমন—'গুপ্তপথ' এটি 'খিড়কি' শব্দের সমার্থক বা কাছাকাছি অর্থ বোঝায়, বিপরীত নয়। 'সরুপথ''চিলেকোঠা' এই প্রশ্নের সঙ্গে সম্পূর্ণ অর্থহীন।
47

পৃথিবী'র সমার্থক শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অচল
  2. অদ্রি
  3. ভূধর
  4. অবনী

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

• পৃথিবী শব্দের সমার্থক শব্দ: বসুন্ধরা, ভূবন, বিশ্ব, সংসার, অদিতি, অবনী, ক্ষিতি, পৃথ্বী, ধরা, ধরণি, ধরিত্রী, বসুমতি, দুনিয়া, মর্ত ধরা, ভূ ইত্যাদি।
• 'পর্বত' শব্দের অন্যান্য সমার্থক শব্দ:  গিরি, শৈল, পাহাড়, অদ্রি, ভূধর, নগ, অচল, ,মোদিনীধর, অবনীধর, বসুধাধর ইত্যাদি।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো অবনী। 'পৃথিবী' শব্দের অর্থ হলো জগৎ বা ধরিত্রী, আর 'অবনী' শব্দটি সরাসরি পৃথিবীর প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

পৃথিবী শব্দের অন্যান্য প্রধান সমার্থক শব্দগুলো হলো: ধরা, ধরণি, বসুমতী, বসুন্ধরা, ক্ষিতি, মেদিনী ইত্যাদি।

অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ অচল, অদ্রি, এবং ভূধর—এই তিনটি শব্দই 'পৃথিবী'-র নয়, বরং 'পর্বত' শব্দের সমার্থক। NTRCA পরীক্ষায় সমার্থক শব্দ নির্বাচনে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর অপশনগুলো খুব কমন।
48

মুক্তি'-এর প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. √মুচ্ + ক্তি
  2. √মুহ্ + ক্তি
  3. √মুক্ + ক্তি
  4. √মৃচ্ + ক্তি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সঠিক উত্তরঃ ক) √মুচ্ + ক্তি
 
‘মুক্তি'  (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √মুচ্‌ +তি
অর্থ: 
- স্বাধীনতা, 
- মোহ অত্যাদি।
 
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
 
‘ক্তি’ একটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। ‘ক্তি’ সংযুক্ত শব্দের শেষে যদি ‘চ/জ’ থাকে তা ‘ক’ হয়ে যায়।
যেমন:
√মুচ্‌ + ক্তি = মুক্তি
√ভজ্‌ + ক্তি = ভক্তি
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ক) √মুচ্ + ক্তি
'মুক্তি' শব্দটি হলো সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় সাধিত একটি শব্দ। এখানে √মুচ্‌ হলো প্রকৃতি বা মূল ধাতু (যার অর্থ: মুক্ত হওয়া, ত্যাগ করা)।
'ক্তি' হলো একটি ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে ব্যবহৃত প্রত্যয়।
ব্যাকরণের বিশেষ নিয়ম অনুযায়ী, 'ক্তি' প্রত্যয় যোগ হওয়ার সময় যদি মূল ধাতুর শেষে 'চ' অথবা 'জ' থাকে, তবে সেই ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে 'ক' হয়ে যায়।
যেমন: √মুচ্ + ক্তি (এখানে 'চ' পরিবর্তিত হয়ে 'ক' হয়েছে) = মুক্তি
49

‘মুজিববর্ষ' কোন সমাস?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. দ্বিগু সমাস
  3. কর্ম ধারয় সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- যেমন – গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল, যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।
 
কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লােপ পায়।
- এগুলাে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় নামে পরিচিত।
যেমন –
ঘি মাখানাে ভাত = ঘিভাত
হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি
ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই
বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা
 
তেমনি ভাবে, মুজিব স্মরণে যে বর্ষ = মুজিববর্ষ 
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: কর্মধারয় সমাস। এই সমাসে সাধারণত পরপদের (শেষ অংশের) অর্থ প্রাধান্য পায়। ‘মুজিববর্ষ’ হলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
‘মুজিব স্মরণে যে বর্ষ’ = মুজিববর্ষ। সমস্যমান পদের মাঝের অংশ (‘স্মরণে/উপলক্ষে যে’) লোপ পাওয়ার কারণে এটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস হিসেবে চিহ্নিত হয়।
অন্যান্য অপশন কেন ভুল:
দ্বন্দ্ব সমাস: এখানে উভয় পদের অর্থ সমানভাবে প্রাধান্য পায় (যেমন: মা-বাবা)।
দ্বিগু সমাস: পূর্বপদ সংখ্যাবাচক হয় এবং সমাহার বোঝায় (যেমন: তে-মাথা)।
অব্যয়ীভাব সমাস: এখানে পূর্বপদ অব্যয় হয় এবং অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয় (যেমন: উপকূল)।
50

‘কালান্তর' শব্দটির ব্যাসবাক্য কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অন্য কাল
  2. কালের অন্তর
  3. ক্ষুদ্র কাল
  4. কাল ও অন্তর

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

 নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। শুধু সমস্তপদের ব্যাখ্যা দিতে হয়।
যেমন: অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর, তুমি আমি ও সে = আমরা, দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।
- তেমনিভাবে, অন্য কাল = কালান্তর।
- সমস্তপদের শেষে ‘অন্তর’ থাকলে ব্যাসবাক্যে ‘অন্য’ হবে। যেমন: দেশান্তর = অন্য দেশ।
- সমস্তপদের শেষে ‘মাত্র/খানা’ থাকলে ‘কেবল’ হবে। যেমন: শয়নমাত্র = কেবল শয়ন।
 
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৯)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অন্য কাল
‘কালান্তর’ শব্দটি নিত্য সমাসের (Nitya Shomash) উদাহরণ।
নিত্য সমাস: যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য বা সবসময় সমাসবদ্ধ থাকে এবং প্রচলিত নিয়মে ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না, কেবল অর্থের ব্যাখ্যামূলক পদ ব্যবহার করা হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে।
নিত্য সমাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো: যখন কোনো সমস্তপদের শেষে ‘অন্তর’ শব্দটি যুক্ত থাকে, তখন তার ব্যাসবাক্যে অবশ্যই ‘অন্য’ শব্দটি ব্যবহার করতে হয়। যেমন: কালান্তর = অন্য কাল
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ ‘কালের অন্তর’ ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের এবং ‘কাল ও অন্তর’ দ্বন্দ্ব সমাসের ইঙ্গিত দেয়, যা নিত্য সমাসের এই উদাহরণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
51

 “এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম”-বাক্যটিতে স্বাধীনতার শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কর্মে ষষ্ঠী
  2. নিমিতার্থে ষষ্ঠী
  3. করণে ষষ্ঠী
  4. সম্প্রদানে ষষ্ঠী

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

এই প্রশ্নের কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি। Live MCQ তে ব্যাখ্যা যোগ করার প্রক্রিয়া ১ আগস্ট, ২০১৯ থেকে শুরু হয়েছে।
ধন্যবাদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: নিমিতার্থে ষষ্ঠী
কারক নির্ণয়ের ক্ষেত্রে, আমাদের দেখতে হবে বাক্যের ক্রিয়ার সাথে নামপদের কী সম্পর্ক। এই বাক্যের ক্রিয়া/ভাবার্থ হলো 'সংগ্রাম' (লড়াই)।
প্রশ্ন: কিসের জন্য সংগ্রাম?
উত্তর: স্বাধীনতার জন্য।
যখন কোনো কাজ কোনো উদ্দেশ্য (Purpose) বা নিমিত্ত (Cause/Sake) সাধনের জন্য করা হয়, তখন সেই পদটি নিমিত্ত কারক বা নিমিত্তার্থে প্রযুক্ত হয়। যদিও আধুনিক ব্যাকরণে নিমিত্ত কারক আলাদাভাবে স্বীকৃত নয়, কিন্তু পরীক্ষাগুলোতে উদ্দেশ্য বোঝালে এটিকে নিমিত্তার্থে হিসেবেই গণ্য করা হয়।
এখানে 'স্বাধীনতার' শব্দে 'র' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। বাংলা ব্যাকরণে 'র' অথবা 'এর' হলো ষষ্ঠী বিভক্তির চিহ্ন।
যেহেতু শব্দটি উদ্দেশ্য বোঝাচ্ছে এবং তাতে ষষ্ঠী বিভক্তি যুক্ত হয়েছে, তাই এটি নিমিত্তার্থে ষষ্ঠী
52

'পড়াশোনায় মন দাও' বাক্যে পড়াশোনায় শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কর্তায় ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই। কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।
 
•  'পড়াশোনায় মন দাও'  - বাক্যে অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।
বাক্যটি ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার কালকে বোঝাচ্ছে। 
এবং এতে এ বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।
তাই বাক্যটি = অধিকরণে ৭মী প্রকাশ করেছে। 
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: অধিকরণে ৭মী
অধিকরণ কারক: ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল বা বিষয়কে অধিকরণ কারক বলা হয়। এখানে 'পড়াশোনায়' শব্দটি কাজটি (মন দেওয়া) কোন বিষয়ের উপর ঘটছে, তা নির্দেশ করছে।
'পড়াশোনায়' বলতে বোঝানো হচ্ছে — পড়াশোনা নামক বিষয়ে বা ক্ষেত্রে। যে বিষয়ে ক্রিয়াটি নিষ্পন্ন হচ্ছে, সেটিই অধিকরণ। তাই এটি অধিকরণ কারক।
বিভক্তি: 'পড়াশোনায়' শব্দটির শেষে 'য়' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। বাংলা ব্যাকরণে এ, য়, তে এই তিনটি রূপকে সপ্তমী বা ৭মী বিভক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।
সুতরাং, এটি অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।
অন্যান্য অপশন ভুল হওয়ার কারণ: কর্তা কারক ক্রিয়া সম্পাদন করে (এখানে উহ্য 'তুমি'), কর্ম কারক ক্রিয়ার ফল বহন করে ('মন'), এবং অপাদান কারক বিচ্যুতি বা শুরু বোঝায়, যা এখানে প্রযোজ্য নয়।
53

সন্ধিতে চ ও জ এর নাসিক্য ধ্বনি কী হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অনুস্বার
  2. দ্বিত্ব
  3. মহাপ্রাণ
  4. তালব্য

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

 তালব্য অল্পপ্রাণ ধ্বনির পরে নাসিক্য ধ্বনি আসলে নাসিক্য ধ্বনিটিও তালব্য নাসিক্য ধ্বনি হয়।
অর্থাৎ, ‘চ/জ’ এর পরে ঙ, ঞ, ণ, ন, ম (নাসিক্য ধ্বনি) থাকলে সেগুলো ‘ঞ’ হয়ে যায়।
 
চ+ন = চ+ঞঃ
যাচ+না = যাচ্ঞা
রাজ+নী = রাজ্ঞী।
 
জ+ন = জ+ঞঃ
যজ+ন = যজ্ঞ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো তালব্য। এটি বাংলা ব্যাকরণের ব্যঞ্জন সন্ধি-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম।
নিয়মটি হলো: অল্পপ্রাণ তালব্য স্পর্শ ধ্বনি চ বা জ এর পরে যদি কোনো নাসিক্য ধ্বনি (ঙ, ঞ, ণ, ন, ম) আসে, তবে নাসিক্য ধ্বনিটিও তালব্য নাসিক্য ধ্বনি 'ঞ' তে রূপান্তরিত হয়।
যেহেতু 'ঞ' ধ্বনিটি তালব্য ধ্বনি বর্গভুক্ত, তাই অপশনে তালব্য সঠিক উত্তর হিসেবে চিহ্নিত।
উদাহরণস্বরূপ: যাচ্ + না = যাচ্ঞা (চ + ন \rightarrow ঞ), যজ্ + ন = যজ্ঞ (জ + ন \rightarrow ঞ), রাজ্ + নী = রাজ্ঞী (জ + ন \rightarrow ঞ)।
অন্যান্য অপশনগুলো যেমন— অনুস্বার (ং), দ্বিত্ব (ব্যঞ্জন ধ্বনির দ্বিগুণ হওয়া) বা মহাপ্রাণ (অধিক বায়ুতাড়নে উচ্চারিত ধ্বনি) এই নিয়মের সাথে সম্পর্কিত নয়।
54

‘প্রত্যাবর্তন' শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্রতি+বর্তন
  2. প্রতিঃ+বর্তন
  3. প্রতি+আবর্তন
  4. প্রতিঃ+আবর্তন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

প্রত্যাবর্তন শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ = প্রতি + আবর্তন
 
সুত্র: ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে ‘য বা য () ফলা হয়।
য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
ই + এ = য্‌ + এ  প্রতি + এক = প্রত্যেক।
ই + উ = য + উ  অতি + উক্তি = অত্যুক্তি।
ই + অ= য + অ  অতি + অন্ত = অত্যন্ত।
ই + আ = য + আ  ইতি + আদি = ইত্যাদি।
ঈ + অ = য + আ  নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।
ঈ + আ = হ্ + আ  মসী + আধার = মস্যাধার ।
 
এরূপ- অভ্যুত্থান, অত্যাশ্চর্য, প্রত্যুপকার, যদ্যপি, আদ্যন্ত, প্রত্যহ, অত্যধিক, গত্যন্তর, প্রত্যাশা, প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: প্রতি + আবর্তন। এটি স্বরসন্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকারভেদ—যা যণ্‌সন্ধি নামে পরিচিত।
যণ্‌সন্ধির সূত্র অনুযায়ী: ই-কার (ি) বা ঈ-কারের (ী) পর যদি ই বা ঈ ভিন্ন অন্য কোনো স্বরধ্বনি আসে, তবে সেই ই বা ঈ স্থানে ‘য’ (য-ফলা) হয়।
এখানে, প্রতি শব্দের শেষে থাকা 'ই'-এর পর 'আবর্তন' শব্দের প্রথম বর্ণ 'আ' যুক্ত হয়েছে।
অর্থাৎ, ই + আ = যা (য-ফলা)। এই য-ফলা পূর্ববর্তী ব্যঞ্জন 'ত'-এর সাথে যুক্ত হয়ে শব্দটি হয় প্রত্যাবর্তন
অন্যান্য অপশন যেমন 'প্রতিঃ+বর্তন' বা 'প্রতিঃ+আবর্তন' ভুল, কারণ 'প্রত্যাবর্তন' একটি স্বরসন্ধি, বিসর্গ সন্ধি নয়।
55

‘Invoice' এর বাংলা পারিভাষিক রূপ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চালান
  2. পণ্যাগার
  3. শুল্ক
  4. বিনিয়োগ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

‘Invoice' এর বাংলা পারিভাষিক রূপ = চালান, প্রেরিতক-সূচি

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান

ব্যাখ্যা

প্রদত্ত প্রশ্নটি হলো ইংরেজি প্রশাসনিক শব্দ ‘Invoice’-এর সঠিক বাংলা পারিভাষিক রূপ নির্ণয়।
‘Invoice’ শব্দের অর্থ হলো কোনো পণ্য বা সেবার জন্য ক্রেতাকে পাঠানো হিসাবের তালিকা, যা পরিশোধের জন্য প্রস্তুত করা হয়। এর সঠিক বাংলা পারিভাষিক রূপ হলো ‘চালান’
বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান অনুযায়ী, Invoice = চালান বা প্রেরিতক-সূচি
অন্যান্য অপশনগুলোর পারিভাষিক রূপ:
পণ্যাগার (Warehouse/Godown) – এটি পণ্য সংরক্ষণের স্থান।
শুল্ক (Duty/Tariff) – এটি কর সংক্রান্ত শব্দ।
বিনিয়োগ (Investment) – এটি মূলধন খাটানো সংক্রান্ত শব্দ। সুতরাং, এগুলো ভুল।
56

“Look before you leap”-বাক্যটির সঠিক বাংলা অনুবাদ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কাটা দিয়ে কাটা তোলা
  2. নিজের চরকায় তেল দাও
  3. দেখে পথ চলো, বুঝে কথা বলো
  4. নিজের কাজ নিজে করো

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

Look before you leap (প্রবাদ) - সম্ভাব্য ঘটনাবলি বিবেচনা না করে তড়িঘড়ি কিছু করো না (তুলনীয় - ভাবিয়া করিও কাজ করিয়া ভাবিও না)।
অর্থাৎ, Look before you leap প্রবাদটির অর্থ (অপশন হতে) - দেখে পথ চলো, বুঝে কথা বলো। 
 
উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান

ব্যাখ্যা

“Look before you leap” একটি বহুল প্রচলিত ইংরেজি প্রবাদ। এর আক্ষরিক অর্থ হলো লাফ দেওয়ার আগে দেখে নাও।
এর ভাবার্থ হলো তাড়াহুড়া করে কোনো কাজ শুরু করার আগে তার ফলাফল বা পরিণতি ভালোভাবে বিবেচনা করা
বাংলায় এর সরাসরি সমার্থক প্রবাদ হলো “ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না”
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে, “দেখে পথ চলো, বুঝে কথা বলো” (অপশন ৩) এই সাবধানতা এবং পরিণতির বিচার করার ভাবটিকেই সবচেয়ে ভালোভাবে প্রকাশ করে, তাই এটিই সঠিক অনুবাদ।
57

ণ-ত্ব বিধি অনুসারে কোন বানানটি শুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পূর্বাহ্ণ
  2. মধ্যাহ্ণ
  3. অপরাহ্ন
  4. সায়াহ্ণ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

- কারণ, অপর, পরা, পূর্ব, প্র- এই কয়টি পূর্ব পদের পর অহ্ন শব্দ বসলে ণত্ব বিধি অনুসারে দন্ত্য ন- এর জায়গায় মূর্ধন্য ণ হয়।  যেমন- অপরাহ্ণ, পূর্বাহ্ণ ইত্যাদি। 
- ণ-ত্ব বিধান : তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণত্ব বিধান বলে।
 
- ণ-ত্ব বিধানের পাঁচটি নিয়মাবলী- 
১. ঋ, র, ষ—এই তিনটি বর্ণের পর তৎসম শব্দের দন্ত্য ‘ন’ মূধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: ঋণ, ঘৃণা, রণ, বর্ণ, ভূষণ ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ-এর পর স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, ষ, হ থাকলে তার পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: লক্ষণ, ভক্ষণ, রেণু, পাষাণ, নির্বাণ, দর্পণ, গ্রহণ ইত্যাদি।
৩. ট বর্গের পূর্বে দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: বণ্টন, লুণ্ঠন, খণ্ড ইত্যাদি।
৪. প্র, পরা, পরি, নির—এই চারটি উপসর্গের পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে। যেমন: প্রণাম, প্রমাণ, পরায়ণ, পরিণতি, নির্ণয় ইত্যাদি।
৫. ত, থ, দ, ধ-এর পূর্বে সংযুক্ত বর্ণে দন্ত্য ‘ন’ হয়, ‘ণ’ হয় না। যেমন: দৃষ্টান্ত, বৃন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, বন্ধন ইত্যাদি। 

অন্যান্য বানানের সঠিক রূপ। 
- অপরাহ্ণ
- মধ্যাহ্ন
- সায়াহ্ন

 
সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: পূর্বাহ্ণ
ণত্ব বিধি অনুসারে, যখন 'অহ্ন' (অর্থাৎ দিন বা সময়) শব্দটি কোনো পূর্বপদের সাথে যুক্ত হয়, তখন যদি সেই পূর্বপদটি অপর, পরা, পূর্ব, বা প্র হয়, তবে দন্ত্য 'ন' পরিবর্তিত হয়ে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
এখানে, পূর্ব + অহ্ন = পূর্বাহ্ণ। যেহেতু 'পূর্ব' উপসর্গটি ণত্ব বিধানের এই নিয়ম অনুসরণ করে, তাই এর বানান শুদ্ধ।
বিপরীতে, 'মধ্য' বা 'সায়' শব্দ দুটি ণত্ব বিধানের নিয়মের বাইরে। তাই:
- মধ্য + অহ্ন = মধ্যাহ্ন (দন্ত্য 'ন' ব্যবহৃত হবে, অপশনে 'মধ্যাহ্ণ' ভুল)।
- সায় + অহ্ন = সায়াহ্ন (দন্ত্য 'ন' ব্যবহৃত হবে, অপশনে 'সায়াহ্ণ' ভুল)।
- আবার, 'অপরাহ্ন' বানানে 'অপর' উপসর্গ থাকলেও দন্ত্য 'ন' ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভুল। সঠিক বানান হলো অপরাহ্ণ
58

শুদ্ধ বাক্যটি নির্দেশ করুন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়
  2. দীনতা প্রশংসনীয় নয়
  3. দৈন্যতা অপ্রশংসনীয়
  4. দৈন্যতা নিন্দনীয়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

শুদ্ধ বানান = দীনতা।
- এটি বিশেষ্য পদ। 
 
শুদ্ধ রূপ = 'দৈন্য' কিংবা 'দীন'
'দৈন্য' (বিশেষ্য) এর অর্থ = দীনতা। 
শুদ্ধ বাক্য = দীনতা প্রশংসনীয় নয়
 
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: দীনতা প্রশংসনীয় নয়
বাংলা ব্যাকরণে বাক্য শুদ্ধির ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান নিয়ম হলো ' বাহুল্য দোষ' বা 'দ্বিত্ব দোষ' পরিহার করা।
শব্দে যদি প্রত্যয় যোগে একই অর্থ দুবার প্রকাশ পায়, তবে তা ভুল। যেমন: 'দৈন্য' শব্দটি নিজেই একটি বিশেষ্য পদ, যার অর্থ হলো 'দীনতা' (Poverty/Humility)।
অতএব, 'দৈন্য' শব্দের সাথে পুনরায় 'তা' প্রত্যয় যোগ করে 'দৈন্যতা' লিখলে অর্থের পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং তা অশুদ্ধ হয়। এটি গুরুচণ্ডালী বা বাহুল্য দোষের অন্তর্ভুক্ত।
সুতরাং, শুদ্ধ বাক্য হবে হয় 'দৈন্য প্রশংসনীয় নয়' অথবা 'দীনতা প্রশংসনীয় নয়'। প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে (খ) দীনতা প্রশংসনীয় নয় বাক্যটি শুদ্ধ।
59

কোন বানানটি শুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. স্বায়ত্ত্বশাসন
  2. শ্রদ্ধাঞ্জলী
  3. দারিদ্রতা
  4. উপর্যুক্ত

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

উপর্যুক্ত: (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = উপর+উক্ত
অর্থ - পূর্বে কথিত বা উল্লেখ করা হয়েছে এমন।
 
স্বায়ত্তশাসন (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = স্বায়ত্ত+শাসন
অর্থ: স্বশাসিত রাষ্ট্র। 
 
শ্রদ্ধাঞ্জলি(বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = শ্রদ্ধা + অঞ্জলি
অর্থ: শ্রদ্ধা নিবদনের উদ্দেশ্যে নিবেদিত অর্ঘ্য 
 
দারিদ্রতা বানানটি অশুদ্ধ।
সঠিক বানান সম্বলিত এরূপ শব্দ হলো দরিদ্র, দারিদ্র্য, দরিদ্রতা।
'দারিদ্র্য' শব্দটার সাথে তা প্রত্যয় যোগ করা সঠিক নয়।
কারণ পূর্বেই দারিদ্র্য (দারিদ্র্য = দরিদ্র + য) শব্দটির সাথে একটি প্রত্যয় যোগ করা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত অন্যান্য শব্দ:
দরিদ্র = বিশেষণ
দরিদ্রতা/দারিদ্র্য = বিশেষ্য
 
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো (ঘ) উপর্যুক্ত
উপর্যুক্ত বানানটি শুদ্ধ। এর প্রকৃতি প্রত্যয় হলো উপর + উক্ত, যার অর্থ পূর্বে বলা হয়েছে বা উল্লেখ করা হয়েছে এমন।
অন্যান্য বানানগুলোর শুদ্ধ রূপ এবং ভুল হওয়ার কারণ নিচে দেওয়া হলো:
১. স্বায়ত্ত্বশাসন: অশুদ্ধ। সঠিক বানান স্বায়ত্তশাসন। এখানে 'স্বায়ত্ত' শব্দটি 'ত' এর সাথে 'ত' যুক্ত হয়ে দ্বিত্ব হয়, 'য়' এর সাথে 'ত' যুক্ত হয় না।
২. শ্রদ্ধাঞ্জলী: অশুদ্ধ। সঠিক বানান শ্রদ্ধাঞ্জলি। 'অঞ্জলি' যুক্ত শব্দগুলোতে (যেমন: শ্রদ্ধাঞ্জলি, গীতাঞ্জলি, পুষ্পাঞ্জলি) সব সময় হ্রস্ব ই-কার (ি) ব্যবহৃত হয়। এখানে দীর্ঘ ঈ-কার (ী) ভুল।
৩. দারিদ্রতা: অশুদ্ধ। সঠিক বানান দারিদ্র্য অথবা দরিদ্রতা। একটি শব্দে একবার প্রত্যয় যোগ করার পর আবার নতুন প্রত্যয় যোগ করলে তা বাহুল্যজনিত ভুল হয়। এখানে, দারিদ্র্য = দরিদ্র + য (প্রত্যয়); তাই এর সাথে 'তা' প্রত্যয় যোগ করা অনুচিত।
60

বাক্যে কোন যতি চিহ্নটি থাকলে থামার প্রয়োজন নেই?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কোলন
  2. সেমিকোলন
  3. হাইফেন
  4. ড্যাস

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করার জন্য বাক্য উচ্চারণের সময় বাক্যের মাঝে ও শেষে বিরতি দিতে হয়।
এই বিরতির পরিমাণ প্রয়োজন অনুযায়ী কম-বেশি হয়ে থাকে। আবার বাক্য উচ্চারণের সময় বিভিন্ন আবেগের জন্য উচ্চারণ বিভিন্ন হয়ে থাকে।

বাক্যটি লেখার সময় এই বিরতি ও আবেগের ভিন্নতা প্রকাশ করার জন্য যেই চিহ্নগুলো ব্যবহার করা হয়, তাদেরকে বিরাম চিহ্ন বা যতি চিহ্ন বা ছেদ চিহ্ন বলে।

হাইফেন এর বিরতিকাল - হাইফেন এর জন্য থামার প্রয়োজন নেই।
- ইলেক বা লোপ চিহ্নের জন্য ও থামার প্রয়োজন নেই।
- কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
- সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
- দাঁড়ি - এক সেকেন্ড
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড। ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো হাইফেন (Hyphen)।
যতি চিহ্ন বা বিরাম চিহ্নের মূল উদ্দেশ্য হলো বাক্যের অর্থকে সুস্পষ্ট করা এবং উচ্চারণে বিরতি প্রদান করা।
কিন্তু হাইফেন সাধারণত সমাসবদ্ধ পদ, দুটি শব্দাংশ বা যৌগিক শব্দের সংযোগ বোঝাতে ব্যবহৃত হয় (যেমন: মা-বাবা, ভাই-বোন)। এটি কোনো বিরতি (pause) নির্দেশ করে না, বরং সংযোগ নির্দেশ করে। তাই হাইফেন থাকলে থামার প্রয়োজন নেই।
বিপরীতে, কোলন (Colon), সেমিকোলন (Semicolon), এবং ড্যাস (Dash) প্রত্যেকটিই বাক্যে স্বল্প বা দীর্ঘ বিরতির নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
61

'পানি' শব্দের প্রতিশব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বারিধি
  2. নলিনী
  3. অপ
  4. পয়ঃ
  5. শৈবাল

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

• পানি শব্দের প্রতিশব্দ: জল, সলিল, নীর, পয়ঃ, বারি, অপ, উদক, জীবন, অম্বু, অম্ভঃ ইত্যাদি।

- 'বারিধি' শব্দের সমার্থক শব্দ 'সাগর'।
- 'নলিনী' শব্দের সমার্থক শব্দ পদ্মফুল।

একাধিক উত্তর থাকায়, বাতিল করা হলো। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো পয়ঃ (Poyoh)। 'পানি' শব্দের একাধিক প্রতিশব্দ রয়েছে, যেমন— জল, সলিল, নীর, পয়ঃ, বারি, অপ, উদক, জীবন, অম্বু ইত্যাদি।
এই প্রশ্নে অপশনে অপ এবং পয়ঃ উভয়ই 'পানি' শব্দের প্রতিশব্দ হওয়ায় প্রশ্নটি বাতিল হওয়ার কথা ছিল। তবে NTRCA পরীক্ষায় প্রতিশব্দের গুরুত্ব বোঝাতে এই দুটি শব্দই মনে রাখা আবশ্যক।
অন্যদিকে, বারিধি শব্দের অর্থ 'সাগর' বা 'সমুদ্র'। 'বারিধি' শব্দটি 'বারি' (জল) এবং 'ধি' (ধারণ করা) শব্দদ্বয়ের সমন্বয়ে গঠিত।
নলিনী শব্দের প্রতিশব্দ হলো 'পদ্মফুল' বা 'পদ্মিনী'। এগুলো ভুল উত্তর।
62

কোন বানানটি শুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মুমুর্ষু
  2. মুমূর্ষু
  3. মূমুর্ষু
  4. মূমূর্ষু

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সঠিক বানান - গ) মুমূর্ষু

মুমূর্ষু (বিশেষণ):
- এটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দ।
অর্থ -
- মৃত্যুকাল আসন্ন এমন।
- মরণাপন্ন
- মৃতপ্রায়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

ব্যাখ্যা

সঠিক বানানটি হলো মুমূর্ষু। এই বানানটি বাংলা ভাষার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রায়শই ভুল হওয়া একটি বানান।
শব্দটির গঠন লক্ষ্য করুন: প্রথম বর্ণে হ্রস্ব উ-কার (ু), মাঝের বর্ণে দীর্ঘ ঊ-কার (ূ) এবং শেষ বর্ণে আবার হ্রস্ব উ-কার (ু) ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, মু + মূ + র্ষু
মুমূর্ষু একটি বিশেষণ পদ, যার অর্থ হলো—'মৃত্যু সন্নিকট এমন' বা 'মরণাপন্ন'।
অন্যান্য অপশনগুলি ভুল, কারণ সেগুলিতে উ-কার (ু) ও ঊ-কার (ূ)-এর সঠিক প্রয়োগ হয়নি। যেমন: 'মুমুর্ষু' (দুটিই হ্রস্ব) বা 'মূমূর্ষু' (দুটিই দীর্ঘ) বানানগুলি ব্যাকরণসম্মত নয়।
63

'ধামাধরা' বাগধারাটির অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. যথেচ্ছাচারী
  2. বক ধার্মিক
  3. তোষামোদকারী
  4. কদরহীন লোক

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ধামাধরা' বাগধারাটির অর্থ = তোষামোদকারী  
উদাহরণ- তোমার মতো এমন ধামাধরা লোক আর একজনও দেখি নি।

 'বক ধার্মিক' বাগধারার অর্থ = ভণ্ড সাধু। 
'ফেকলু পার্টি' বাগধারাটির অর্থ = কদরহীন লোক 
'ধর্মের ষাঁড়' বাগধারার অর্থ = যথেচ্ছাচারী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো তোষামোদকারী। 'ধামাধরা' বাগধারাটি দ্বারা এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যে নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য বা বেনিফিট পাওয়ার জন্য অন্যের অতিরিক্ত প্রশংসা করে বা চাটুকারিতা করে।
বাগধারাটি এসেছে মূলত সেই ধারণা থেকে যেখানে অতীতে কিছু লোক ক্ষমতাশালীদের সামনে তাদের 'ধামা' (বাঁশের পাত্র) ধরে রাখত, যেন তারা প্রসাদ পেতে পারে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অপশনগুলো হলো: 'বক ধার্মিক' এর অর্থ হলো ভণ্ড সাধু, এবং 'যথেচ্ছাচারী' অর্থটি প্রকাশ করে 'ধর্মের ষাঁড়' বাগধারাটি।
64

'সাথী' শব্দটি কোন লিঙ্গ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পুংলিঙ্গ
  2. স্ত্রীলিঙ্গ
  3. ক্লীব লিঙ্গ
  4. উভয় লিঙ্গ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলাে
ক) পুংলিঙ্গ
খ) স্ত্রীলিঙ্গ
গ) ক্লীবলিঙ্গ ও
ঘ) উভয়লিঙ্গ 

যেসব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গ উভয়ই বোঝায় তাদেরকে উভয়লিঙ্গ বলে, 
উভয়লিঙ্গের উদাহরণ-  শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, কবি ইত্যাদি। 
'সাথী' শব্দটি দ্বারা পুরুষ ও স্ত্রী উভয় বোঝায়, তাই 'সাথী' শব্দটি উভয় লিঙ্গ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, যেসব শব্দের মাধ্যমে পুরুষ এবং স্ত্রী এই উভয় লিঙ্গকেই বোঝানো যায়, তাদের উভয় লিঙ্গ বা Common Gender বলা হয়।
'সাথী' শব্দটি দ্বারা কোনো নির্দিষ্ট পুরুষ বা স্ত্রীকে না বুঝিয়ে, বন্ধু বা সঙ্গী হিসেবে উভয়কেই বোঝানো যেতে পারে (যেমন: ছেলে সাথী বা মেয়ে সাথী)।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো উভয় লিঙ্গ
অন্যদিকে, পুংলিঙ্গ কেবল পুরুষকে (যেমন: ছাত্র), স্ত্রীলিঙ্গ কেবল নারীকে (যেমন: ছাত্রী) এবং ক্লীব লিঙ্গ জড় পদার্থকে (যেমন: চেয়ার) বোঝায়।
65

'সাপের খোলস' এক কথায় প্রকাশ-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কৃত্তি
  2. নির্মোক
  3. অজিন
  4. করভ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সাপের খোলস' এর এক কথায় প্রকাশ = নির্মোক।

অন্যদিকে, 
বাঘের চামড়া = কৃত্তি।
হরিণের চামড়া - অজিন।
হাতির শাবক- করভ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

এটি বাংলা ব্যাকরণের 'এককথায় প্রকাশ' অংশ থেকে আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
'সাপের খোলস' বলতে বোঝানো হয় সাপের পরিত্যক্ত পুরাতন চামড়া বা আচ্ছাদন। এটিকে এককথায় প্রকাশ করলে হয় নির্মোক
অন্যান্য বিকল্পগুলোরও নির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে, যা জেনে রাখা আবশ্যক:
১. কৃত্তি: এর অর্থ হলো বাঘের চামড়া
২. অজিন: এর অর্থ হলো হরিণের চামড়া
৩. করভ: এর অর্থ হলো হাতির শাবক (হাতির বাচ্চা)।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো নির্মোক (বিকল্প ২)।
66

'উষ্ণ' শব্দের যুক্তাক্ষরটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ষ্‌+ণ
  2. ষ+ন
  3. ষ+ঞ
  4. ষ+ঙ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

উষ্ণ' শব্দটির যুক্তব্যঞ্জনে ষ্ণ আছে।
ষ্ণ যুক্তব্যঞ্জনে ষ্‌ + ণ আছে।
ষ্ণ-সহযােগে গঠিত কয়েকটি শব্দ- কৃষ্ণ, কৃষ্ণচূড়া, তৃষ্ণা, উষ্ণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ষ্‌ + ণ (Option 1)।
বাংলা ব্যাকরণের যুক্তব্যঞ্জন গঠনের নিয়ম অনুসারে, যখন দুটি ব্যঞ্জনবর্ণ একসঙ্গে যুক্ত হয়, তখন প্রথম বর্ণটি 'হলন্ত' (্‌) রূপে তার নিজস্ব স্বরধ্বনি হারায় এবং দ্বিতীয় বর্ণের সাথে মিলিত হয়।
‘উষ্ণ’ (Ush-no) শব্দটিতে ব্যবহৃত 'ষ্ণ' যুক্তাক্ষরটি গঠিত হয়েছে 'ষ' (মূর্ধন্য ষ) এবং 'ণ' (মূর্ধন্য ণ) এর সমন্বয়ে।
সুতরাং, ষ্ণ-এর সঠিক বিশ্লেষণ হলো: ষ্‌ + ণ
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, বিশেষ করে 'ষ+ন' (দন্ত্য ন) ভুল, কারণ এটি একটি তৎসম শব্দ এবং এখানে ণত্ব বিধানের নিয়ম অনুযায়ী ণ (মূর্ধন্য ণ) ব্যবহৃত হবে।
67

কোনটি সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তির উদাহরণ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভিক্ষা দাও দেখিলে ভিক্ষুক
  2. ভিক্ষা দাও দুয়ারে ভিক্ষুক
  3. ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও
  4. কোনটিই নয়

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সম্প্রদান কারক সংজ্ঞা : যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক।
- দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে।
- কারণ কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্পদান কারক হয় না।
যেমন
- ভিক্ষারীকে ভিক্ষা দাও।
- সংসারে কল্যাণ দান কর। 
- গুরুজনে কর নতি।
- অন্ধজনে দেহ আলাে।

'ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও' - বাক্যে সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সম্প্রদান কারকের মূল সংজ্ঞা হলো: যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে অর্থাৎ সম্পূর্ণভাবে মালিকানা ছেড়ে দিয়ে কিছু দান, সাহায্য বা প্রদান করা হয়, তাকে সম্প্রদান কারক বলে।
উদাহরণস্বরূপ, ভিক্ষুককে ভিক্ষা দিলে সেই ভিক্ষা আর ফেরত নেওয়া যায় না—মালিকানা সম্পূর্ণ হস্তান্তর হয়ে যায়।
প্রদত্ত বাক্যে 'ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও' - এখানে 'ভিক্ষুককে' পদটি হলো গ্রহীতা। যেহেতু স্বত্ব ত্যাগ করে ভিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, তাই এটি সম্প্রদান কারক
বিভক্তি নির্ণয়: সম্প্রদান কারকে সাধারণত চতুর্থী বিভক্তির চিহ্নগুলি (কে, রে) ব্যবহৃত হয়। 'ভিক্ষুককে' পদটিতে 'কে' বিভক্তি যুক্ত হওয়ায় এটি সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তির সঠিক উদাহরণ।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ তারা সম্প্রদান কারকের শর্ত (স্বত্ব ত্যাগ করে দান) পূরণ করে না।
68

'প্রসারণ' এর বিপরীত শব্দ-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সম্প্রসারণ
  2. বিবর্ধন
  3. আকুঞ্চন
  4. আকর্ণন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

প্রসারণ' এর বিপরীত শব্দ- 'আকুঞ্চন' 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীত শব্দ:
প্রসন্ন - বিষণ্ণ 
প্রসারণ - সংকোচন 
ব্যক্ত - প্রচ্ছন্ন 
প্রাচীন - অর্বাচীন 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

'প্রসারণ' শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো কোনো কিছুকে বড় করা, ছড়িয়ে দেওয়া বা বিস্তৃত করা (Expansion)।
এর বিপরীত শব্দ হবে সংকুচিত করা বা গুটিয়ে আনা (Contraction)।
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে 'আকুঞ্চন' শব্দের অর্থ হলো কুঁচকানো বা সংকুচিত করা। তাই এটিই 'প্রসারণ'-এর সঠিক বিপরীত শব্দ।
অন্যদিকে, 'সম্প্রসারণ' এবং 'বিবর্ধন' শব্দ দুটি 'প্রসারণ'-এর সমার্থক বা প্রায় একই অর্থ বহন করে, তাই এগুলি ভুল উত্তর। 'আকর্ণন' অর্থ মনোযোগ দিয়ে শোনা, যা সম্পূর্ণ ভিন্নার্থক।
69

কোনটি ফারসি শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চাবি
  2. চাকর
  3. চাহিদা
  4. চশমা
  5. দোকান

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

• চশমা (বিশেষ্য) 
- ফারসি শব্দ
অর্থ: ক্ষীণদৃষ্টি শক্তি সংশোধনের উদ্দেশ্যে নাকের ওপর ধারনীয় ফ্রেমে আটা কাচ আ প্লাস্টিকের পরকলাযুক্ত সরঞ্জাম, উপনেত্র। 

• চাকর (বিশেষ্য) 
- ফারসি শব্দ
অর্থ: পরিচারক, কর্মচারী। 

• চাবি = পর্তুগিজ শব্দ
• চাহিদা = বাংলা শব্দ

একাধিক উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

এই প্রশ্নটি শব্দ ভান্ডার বা শব্দ উৎস সংক্রান্ত। সঠিক উত্তরটি হলো চশমা
শব্দতত্ত্ব অনুযায়ী, প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে 'চশমা' এবং 'চাকর' উভয়ই ফারসি (পারসি) শব্দ। এ কারণে মূল পরীক্ষাটিতে প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছিল। তবে আপনাকে পরীক্ষার জন্য দুটি শব্দই মনে রাখতে হবে।
১. চশমা: এটি উপনেত্র অর্থে ব্যবহৃত একটি ফারসি শব্দ।
২. চাকর: পরিচারক অর্থে ব্যবহৃত এটিও একটি ফারসি শব্দ।
৩. চাবি: এটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ।
৪. চাহিদা: এটি মূলত দেশি বা খাঁটি বাংলা শব্দ হিসেবে গণ্য।
70

কোনটি ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বড় দাদা > বড়দা
  2. কিছু > কিচ্ছু
  3. পিশাচ > পিচাশ
  4. মুক্তা > মুকুতা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ধ্বনি বিপর্যয়: শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
- এতে দুটি বর্ণের মধ্যে জায়গা পরিবর্তন হয়।
যেমন -  পিশাচ ˃ পিচাশ, লাফ˃ ফাল, বাক্‌স > বাস্‌ক, রিকসা্‌ > রিস্‌কা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হল: পিশাচ > পিচাশ। এটি ধ্বনি বিপর্যয়ের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
ধ্বনি বিপর্যয় (Metathesis): শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জন ধ্বনি যখন পরস্পরের স্থান পরিবর্তন করে, তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। এক্ষেত্রে, 'পিশাচ' শব্দে থাকা 'শ' এবং 'চ' ধ্বনি দুটি স্থান পরিবর্তন করে 'পিচাশ' গঠন করেছে।
অন্যান্য অপশন ব্যাখ্যা:
১. বড় দাদা > বড়দা: এটি স্বরলোপজনিত বা সমীকরণজনিত প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট শব্দসংক্ষেপ।
২. কিছু > কিচ্ছু: এটি ব্যঞ্জন দ্বিত্বতা বা সমীকরণের উদাহরণ, যেখানে একটি ব্যঞ্জন ধ্বনি জোর দেওয়ার জন্য দ্বিত্ব হয়।
৩. মুক্তা > মুকুতা: এটি স্বরভক্তি বা বিপ্রকর্ষের উদাহরণ। যুক্ত ব্যঞ্জনকে ভাঙার জন্য মাঝখানে স্বরধ্বনি (উকার) আগম হয়েছে।
71

কোন সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান থাকে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অব্যয়ীভাব
  2. বহুব্রীহি
  3. দ্বন্দ্ব
  4. কর্মধারয়

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

• কর্মধারয় সমাস- যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন,
গোলাপ নামের ফুল= গোলাপফুল।

• দ্বন্দ্ব সমাস- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন-
'সোনা-রূপা' সমস্ত পদের ব্যাসবাক্য সোনা ও রূপা। 

• বহুব্রীহি সমাস- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন,
লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি।

• পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়, তবে থাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রধান হয়।
যেমন : উপকূল = কূলের সমীপে, প্রতিদিন = দিন দিন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

প্রিয় শিক্ষক প্রার্থীরা, সমাসের এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রায় প্রতি বছরই NTRCA বা অন্যান্য চাকুরি পরীক্ষায় আসে।
সঠিক উত্তর হলো: কর্মধারয় সমাস
কর্মধারয় সমাসে সাধারণত পরপদের (শেষের পদের) অর্থটি প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়। উদাহরণস্বরূপ, 'নীলপদ্ম' (নীল যে পদ্ম) সমস্ত পদে 'পদ্ম'-এর অর্থই প্রধান।
কর্মধারয় সমাস মূলত তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত এবং তৎপুরুষ সমাসেও পরপদের অর্থই প্রধান থাকে।
72

'যারা বাইরে ঠাট বজায় রেখে চলে।' - এর অর্থ প্রকাশক বাগধারা কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ব্যাঙের আধুলি
  2. লেফাফা দুরস্ত
  3. রাশভারি
  4. ভিজে বেড়াল

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

লেফাফা দুরস্ত বাগধারাটির অর্থ 'পরিপাটি/যারা বাইরে ঠাট বজায় রেখে চলে।

অন্যদিকে, 
ব্যাঙের আধুলি = সামান্য পুজি হলেও যা গর্বের
রাশভারি = গম্ভীর
ভিজে বিড়াল = কপটচারী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

এই প্রশ্নটি বাগধারা সম্পর্কিত, যা বাংলা ভাষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সঠিক উত্তর হলো লেফাফা দুরস্ত
'লেফাফা দুরস্ত' একটি ফরাসি শব্দজাত বাগধারা, যার আভিধানিক অর্থ হলো— 'বাইরের দিকে পরিপাটি বা ফিটফাট'
এর প্রচলিত অর্থ হলো— 'যারা বাইরে ঠাট বজায় রেখে চলে' বা কেবল বাহ্যিক জাঁকজমক রক্ষা করে চলে।
অন্যদিকে, অন্যান্য বাগধারাগুলোর অর্থ ভিন্ন:
ব্যাঙের আধুলি: এর অর্থ সামান্য হলেও যা নিয়ে গর্ব করা যায়।
রাশভারি: এর অর্থ গম্ভীর বা নিরব প্রকৃতির ব্যক্তি।
ভিজে বেড়াল: এর অর্থ কপটচারী বা বাইরে সাধু সেজে থাকা ভণ্ড ব্যক্তি।
73

কোনটি সমার্থক শব্দ নয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পাবক
  2. পবন
  3. বহ্নি
  4. অনল

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

আগুন' শব্দের সমার্থক শব্দ অগ্নি, অনল, পাবক, বহ্নি, হুতাশন, অনল ইত্যাদি।

'পবন' শব্দের অর্থ অনিল বা বাতাস। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

প্রশ্নটি হলো কোনটি সমার্থক শব্দ নয়। অর্থাৎ, চারটি শব্দের মধ্যে তিনটি একই অর্থের এবং একটি ভিন্ন অর্থের।
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে পাবক, বহ্নি, এবং অনল—এই তিনটি শব্দই 'আগুন' শব্দের সমার্থক (Synonym)।
কিন্তু, পবন শব্দের অর্থ হলো বাতাস বা অনিল। এটি 'আগুন' শব্দের সমার্থক নয়।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো পবন
74

নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কারো ফাগুন মাস, কারো সর্বনাশ
  2. সে প্রাণিবিদ্যায় দুর্বল
  3. আগত শনিবার কলেজ বন্ধ থাকবে
  4. বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে
  5. কোনোটিই নয়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

শুদ্ধ বাক্য:
- বিধি লঙ্ঘিত হয়েছ
- সে প্রাণিবিদ্যায় দুর্বল 

'কারো ফাগুন মাস, কারো সর্বনাশ' এর শুদ্ধ রূপ = কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ 
'আগত শনিবার কলেজ বন্ধ থাকবে' এর শুদ্ধ রূপ = আগামী শনিবার কলেজ বন্ধ থাকবে

একাধিক উত্তর থাকায় প্রশ্ন বাতিল করা হলো।

ব্যাখ্যা

এনটিআরসিএ পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই প্রশ্নটিতে একাধিক বাক্য শুদ্ধ হওয়ায় এটি বাতিল (Cancelled) ঘোষণা করা হয়েছিল। শুদ্ধ বাক্য দুটি হলো: 'সে প্রাণিবিদ্যায় দুর্বল' (Option B) এবং 'বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে' (Option D)।
আমরা Option B-কে সঠিক ধরে আলোচনা করছি। বাক্যটি সরল, স্পষ্ট এবং ব্যাকরণগতভাবে ত্রুটিমুক্ত
ভুল বাক্যগুলোর শুদ্ধিকরণ:
১. অপশন (ক) 'কারো ফাগুন মাস, কারো সর্বনাশ': এটি একটি ভুল প্রবাদ। শুদ্ধ প্রবাদটি হলো 'কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ' (পৌষ মাস এখানে প্রাচুর্য ও আনন্দের প্রতীক)।
২. অপশন (গ) 'আগত শনিবার কলেজ বন্ধ থাকবে': ভবিষ্যতে বোঝাতে 'আগত' (যা এসেছে) নয়, বরং 'আগামী' (যা আসবে) শব্দটি ব্যবহার করা আবশ্যক। শুদ্ধ বাক্য: 'আগামী শনিবার কলেজ বন্ধ থাকবে'।
75

কোনটি ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শুভেচ্ছা
  2. সংবাদ
  3. প্রত্যেক
  4. অতীত

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সম্+বাদ = সংবাদ; ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ।
অন্যদিকে,
শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা = স্বরসন্ধির উদাহরণ।
প্রতি+এক = প্রত্যেক = স্বরসন্ধির উদাহরণ।
অতি + ইত = অতীত = স্বরসন্ধির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সংবাদ। এটি একটি ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ।
ব্যঞ্জন সন্ধি: ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলন হলে, অথবা ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে ব্যঞ্জনধ্বনির মিলন হলে তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
এখানে, সংবাদ এর সন্ধি বিচ্ছেদ হলো: সম্ + বাদ। প্রথম শব্দের শেষ ধ্বনি 'ম্' (ব্যঞ্জন) এবং দ্বিতীয় শব্দের প্রথম ধ্বনি 'ব' (ব্যঞ্জন) এর মিলন ঘটেছে। সন্ধির নিয়মানুসারে, 'ম্' এর পর যেকোনো ব্যঞ্জন থাকলে 'ম্' স্থানে অনুস্বার (ং) হয়।
অন্যদিকে, বাকি অপশনগুলো হলো স্বরসন্ধির উদাহরণ:
১. শুভেচ্ছা: শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা (অ + ই = এ)।
২. প্রত্যেক: প্রতি + এক = প্রত্যেক (ই + এ = য়, অর্থাৎ য-ফলা)।
৩. অতীত: অতি + ইত = অতীত (ই + ই = ঈ)।
76

বাংলা সাধু ভাষার জনক কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. হরলাল রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

• সাধু ভাষা  বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ; এর নবীন ও বর্তমানে বহুল প্রচলিত রূপটি হলো চলিত।
- বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন বিদ্যাসাগর। 
- এর আগে তা ছিলো প্রস্তরবৎ। 
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিন্যাস ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন। 
- বাংলা গদ্যের অন্তর্নিহিত ধ্বনিঝংকার ও সুরবিন্যাস তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন এবং বাংলা গদ্যকে শ্বাসপর্ব ও অর্থপর্ব অনুসারে ভাগ করে সেখানে যতিচিহ্ন স্থাপন করেন। 
- বিদ্যাসাগরের পরিকল্পিত সাধুভাষা তাই পরবর্তীকালে আদর্শ সাধুভাষা রূপে গৃহীত হয়। 
- তাই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে সাধু ভাষার জনক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
বাংলা সাধু ভাষা বলতে লেখ্য গদ্যের যে প্রাচীন রূপটিকে বোঝানো হয়, তার সুনির্দিষ্ট ও আদর্শ রূপ তিনিই দান করেন।
বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে প্রথম যতিচিহ্ন (Punctuation Marks) সুশৃঙ্খলভাবে প্রয়োগ করেন। এর ফলে গদ্যের অর্থ ও শ্বাসপর্ব সুস্পষ্ট হয়, যা গদ্যকে গতিশীল ও পাঠযোগ্য করে তোলে।
তাঁর এই পরিকল্পিত সাধুভাষাই পরবর্তীকালে আদর্শ সাধুভাষা রূপে গৃহীত হয়, তাই তাঁকে সাধু ভাষার জনক বলা হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মূলত চলিত ভাষাকে সাহিত্যিক মর্যাদা দেন এবং আধুনিক বাংলা সাহিত্যের স্থপতি। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বিখ্যাত ভাষাবিদ ও গবেষক।
77

কোন ভাষারীতির পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কথ্য ভাষা
  2. লেখ্য ভাষা
  3. সাধু ভাষা
  4. চলিত ভাষা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

• সাধু ভাষা  বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ; এর নবীন ও বর্তমানে বহুল প্রচলিত রূপটি হলো চলিত।
- সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের এবং  চলিত ভাষা সর্বসাধারণের জীবন-ঘনিষ্ঠ। ভাষার এই দ্বিধারিক প্রপঞ্চকে বলা হয় দ্বি-ভাষারীতি।
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত। এ ভাষায়  তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি। এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির রূপ মৌখিক ভাষার রূপ অপেক্ষা পূর্ণতর।
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।

অপরদিকে, 
বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে -চলিতরীতি/চলনরীতি। 
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রুপ লাভ করে।
- চলিত ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সাধু ভাষা
বাংলা ভাষার লেখ্য রূপের মধ্যে সাধু ভাষারীতি অপেক্ষাকৃত প্রাচীন। এই রীতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি সম্পূর্ণভাবে ব্যাকরণের কঠোর নিয়ম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
সাধু রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণাঙ্গ রূপ ব্যবহৃত হয় (যেমন: তাহারা, করিয়া, খাইয়াছিল)।
এতে পদবিন্যাস বা শব্দের সাজানোর নিয়ম অত্যন্ত সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট। এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
অন্যদিকে, চলিত ভাষা হলো আধুনিক ও সহজবোধ্য ভাষারীতি। এর পদবিন্যাস পরিবর্তনশীল এবং এটি ব্যাকরণের পুরোনো কঠিন নিয়মগুলো ততটা অনুসরণ করে না।
78

মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অম্বুদ
  2. ভূ-ধর
  3. শূন্য
  4. নীর

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ 'অম্বুদ'। 
'ভূধর', 'পর্বত' শব্দের সমার্থক শব্দ। 
'শূন্য', 'আকাশ' শব্দের সমার্থক শব্দ। 
'নীর', 'জল/পানি' শব্দের সমার্থক শব্দ। 

'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ - জলধর, জীমূত, বারিদ, নীরদ, পয়োদ, ঘন, তোয়দ, পয়োধর, বলাহক, তোয়ধর ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো অম্বুদ'মেঘ' শব্দের অন্যতম সমার্থক শব্দ হলো 'অম্বুদ'।
বাংলায়, 'জল' বা 'পানি' বোঝানো শব্দের শেষে যখন 'দ' (দাতা বা প্রদানকারী) বা 'ধর' (ধারণকারী) যুক্ত হয়, তখন সাধারণত তা মেঘ-কে নির্দেশ করে। যেমন: অম্বু (জল) + দ = অম্বুদ (মেঘ)।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল কারণ:
ভূ-ধর: এর অর্থ পর্বত বা পাহাড়।
শূন্য: এর অর্থ আকাশ বা ফাঁকা স্থান।
নীর: এর অর্থ জল বা পানি।
79

বিরাম চিহ্নের প্রর্বতক কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. আব্দুল হাকিম

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

হাজার বছরের ঐতিহ্যে ভরপুর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য কিন্তু বাংলা ভাষায় সুষ্ঠভাবে বিরাম চিহ্ন ব্যবহার শুরু হয়েছে দেড়শ দুইশ বছর আগে।
- মহামতি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১) বাংলা গদ্যে বিরাম চিহ্ন ব্যবহারের প্রথম নৈপুর্ণ দেখান।
- এ কারণেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলেছেন।
- যতি চিহ্নের প্রয়ােগ যথাযথ না হলে বাক্য অস্পষ্ট বা দুর্বোধ্য হতে পারে।
- এমনকি কখনাে কখনাে প্রত্যাশিত অর্থ প্রকাশ না করে সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করতে পারে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
বাংলা গদ্যে যতি বা বিরাম চিহ্নের সার্থক ও নিয়মিত প্রয়োগ শুরু করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০–১৮৯১)।
মূলত সংস্কৃত ভাষার প্রভাবে বাংলা গদ্য আগে ছেদহীন বা বিরাম চিহ্ন ছাড়া লেখা হতো। বিদ্যাসাগর তাঁর রচিত 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' (১৮৪৭) গ্রন্থে প্রথম বিরাম চিহ্নের আধুনিক ব্যবহার দেখান, যা বাংলা গদ্যকে সুস্পষ্টতা প্রদান করে।
অন্যান্য অপশনসমূহ সঠিক নয়। প্রমথ চৌধুরী চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী।
80

সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখাবার জন্য কোন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কোলন
  2. সেমিকোলন
  3. কমা
  4. হাইফেন

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ।
অর্থ সম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বড় শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
যেমন- দেশের সেবা = দেশসেবা, 
বই ও পুস্তক = বইপুস্তক। 

দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন: ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা,।
ছেলে ও মেয়ে = ছেলেমেয়ে,
স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক ইত্যাদি
এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বােঝানাের জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযােজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখাবার জন্য হাইফেন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: হাইফেন (Hyphen)
সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখাবার জন্য এবং পদদ্বয়ের মধ্যে সংযোগ বজায় রাখার জন্য হাইফেন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত দ্বন্দ্ব সমাসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
উদাহরণস্বরূপ: মা-বাবা, ভাই-বোন, স্বর্গ-নরক ইত্যাদি। এখানে হাইফেন সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলোকে যুক্ত করার পাশাপাশি তাদের স্বাতন্ত্র্যও বজায় রাখে।
অন্যান্য চিহ্নগুলোর ব্যবহার ভিন্ন:
কমা: বাক্যে স্বল্প বিরতি নির্দেশ করতে এবং একই শ্রেণির একাধিক পদকে আলাদা করতে ব্যবহৃত হয়।
সেমিকোলন: কমার চেয়ে বেশি এবং দাঁড়ির চেয়ে কম বিরতি দিতে, কিংবা একাধিক স্বাধীন বাক্যকে সংযুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
কোলন: উদাহরণ, উপমা, বা ব্যাখ্যা শুরু করার আগে ব্যবহৃত হয়।
81

খয়ের খাঁ' বাগধারাটির অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মন্দভাগ্য
  2. তুচ্ছ পদার্থ
  3. চাটুকার
  4. নির্বোধ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

খয়ের খাঁ' বাগধারাটির অর্থ = চাটুকার। 
উদাহরণ: খয়ের খাঁ হয়ে ভাগ্য ফেরানো যায় না। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক বাগধারাটি হলো 'খয়ের খাঁ', যার অর্থ হলো চাটুকার বা তোষামোদকারী
বাগধারাটি সাধারণত এমন ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যিনি নিজের সুবিধা বা স্বার্থ লাভের জন্য অন্যের অযথা প্রশংসা বা তোষামোদ করেন। উদাহরণস্বরূপ: 'খয়ের খাঁ হয়ে কেউ বড় হতে পারে না।'
বিকল্প অপশনগুলির মধ্যে মন্দভাগ্য (খারাপ ভাগ্য), তুচ্ছ পদার্থ (নগণ্য জিনিস) এবং নির্বোধ (বোকা) এই বাগধারাটির সঠিক অর্থ প্রকাশ করে না।
82

গঙ্গা' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গোমতী
  2. কৃষ্ণবেণী
  3. কাবেরী
  4. সবগুলো

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

গোমতি' এর শুদ্ধ বানান 'গোমতী'
'গঙ্গা' শব্দের সমর্থক শব্দ = ভাগীরথী, শিবপত্নী, গোমতী, কৃষ্ণবেণী, পিনাকিনী, কাবেরী। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

এটি সমার্থক শব্দ নির্ণয়ের একটি সাধারণ প্রশ্ন। বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী, একটি শব্দের একাধিক সমার্থক শব্দ থাকতে পারে।
'গঙ্গা' একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শব্দ যার বহু প্রতিশব্দ রয়েছে। যেমন: ভাগীরথী, জাহ্নবী, সুরধুনী, শিবপত্নী ইত্যাদি।
প্রদত্ত বিকল্পগুলোতে গোমতী (শুদ্ধ বানান), কৃষ্ণবেণী এবং কাবেরী — এই তিনটিই গঙ্গা শব্দের সমার্থক শব্দ হিসেবে স্বীকৃত। যদিও 'কাবেরী' দক্ষিণ ভারতের একটি নদী, তবে এটি 'গঙ্গা'র সমার্থক শব্দ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
যেহেতু প্রথম তিনটি বিকল্পই সঠিক, তাই সঠিক উত্তর হবে সবগুলো
83

চন্দ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সোম
  2. ভূষণ
  3. নকশা
  4. ভবঃ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সোম' 'চন্দ্র' শব্দের সমার্থক। 
'চন্দ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ হলো - চাঁদ, সুধাংশু, সুধাকর, শশাঙ্ক, শশধর, শশী, হিমাংশু, বিধু, নিশাকর, সোম, শীতাংশ, সুধানিধি, ইন্দু, নিশাপতি, কুমুদনাথ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো সোম। এটি 'চন্দ্র' বা চাঁদের একটি বহুল প্রচলিত সমার্থক শব্দ।
চন্দ্র শব্দের অর্থ চাঁদ, যা পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। চাঁদের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সমার্থক শব্দ হলো: শশাঙ্ক, শশী, বিধু, ইন্দু, সুধাকর, নিশাকর, সুধাংশু ইত্যাদি।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন অর্থ বহন করে:
ভূষণ অর্থ: অলংকার, গয়না।
নকশা অর্থ: প্রতিরূপ, ডিজাইন।
ভবঃ অর্থ: জন্ম, সৃষ্টি বা মহাদেবের (শিবের) একটি নাম।
84

নৈসর্গিক' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নকল
  2. ঐহিক
  3. কৃত্রিম
  4. তামাসিক

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

নৈসর্গিক' শব্দের বিপরীত শব্দ 'কৃত্রিম/অনৈসর্গিক'।

অন্যদিকে, 
'আসল' শব্দের বিপরীত শব্দ 'নকল' 
'ঐহিক' শব্দের বিপরীত শব্দ 'পারত্রিক'
'তামসিক' শব্দের বিপরীত শব্দ 'রাজসিক' 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কৃত্রিম
'নৈসর্গিক' শব্দের অর্থ হলো যা প্রকৃতি থেকে সৃষ্টি হয়েছে, অর্থাৎ 'প্রাকৃতিক' বা 'স্বাভাবিক'
এর বিপরীত শব্দ এমন কিছু হবে যা মানুষের দ্বারা তৈরি বা অপ্রাকৃতিক, যার সঠিক প্রতিশব্দ হলো 'কৃত্রিম'
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে—
'নকল' হলো 'আসল'-এর বিপরীত।
'ঐহিক' (ইহলোক সম্পর্কিত) হলো 'পারত্রিক' (পরলোক সম্পর্কিত)-এর বিপরীত।
'তামসিক' (অন্ধকারাচ্ছন্ন বা আলস্যপূর্ণ) হলো 'রাজসিক' (তেজ বা ঔজ্জ্বল্যপূর্ণ)-এর বিপরীত।
সুতরাং, কেবল কৃত্রিম শব্দটিই নৈসর্গিক-এর বিপরীতার্থক।
85

নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পিপীলিকা
  2. পিপিলিকা
  3. পীপিলীকা
  4. পিপীলীকা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

শুদ্ধ বানান - 
পিপীলিকা (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = পিপীলক+আ
অর্থ: পিঁপড়া, পিঁপড়ে 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক বানানটি হলো পিপীলিকা। এটি একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ পিঁপড়া।
এই বানানটি মনে রাখার জন্য স্বরের ক্রমটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শব্দটি চারটি সিলেবল নিয়ে গঠিত হলেও স্বরের ক্রম সাধারণত: হ্রস্ব-দীর্ঘ-হ্রস্ব-আ ('ি', 'ী', 'ি', 'া') হয়ে থাকে।
প্রথম অক্ষর 'পি' তে হ্রস্ব ই-কার (ি) হবে।
দ্বিতীয় অক্ষর 'পী' তে দীর্ঘ ঈ-কার (ী) হবে।
তৃতীয় অক্ষর 'লি' তে আবার হ্রস্ব ই-কার (ি) হবে।
ভুল বানানগুলো (যেমন: পিপিলিকা, পীপিলীকা, পিপীলীকা) স্বরের এই সঠিক ক্রম অনুসরণ করে না, তাই সেগুলো অশুদ্ধ।
86

কোন বানানটি শুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শমীচিন
  2. সমীচীন
  3. সমিচীন
  4. শমীচীন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

শুদ্ধ বানান - সমীচীন

সমীচীন (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = সম্যচ্‌+ঈন
অর্থ:
- সংগত;
- উপযুক্ত;
- উত্তম;
- যথার্থ; সত্য;
- উচিত

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক বানানটি হলো সমীচীন। এটি একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ সংগত, উপযুক্ত, উত্তম বা উচিত।
বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী, এই শব্দটি লিখতে গেলে উভয় স্থানেই দীর্ঘ ঈ-কার (ী) ব্যবহার করতে হয়। অর্থাৎ, স + ম + ী + চ + ী + ন = সমীচীন।
বিকৃত অপশনগুলোতে সাধারণত দুটি ভুল করা হয়:
১. ই-কার ব্যবহার: যেমন 'সমিচীন' (অপশন ৩) - এখানে উভয় স্থানে হ্রস্ব ই-কার (ি) ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভুল।
২. 'শ' ব্যবহার: যেমন 'শমীচীন' বা 'শমীচিন' (অপশন ০ ও ৩) - এখানে দন্ত্য 'স' (স) এর পরিবর্তে তালব্য 'শ' (শ) ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভুল।
87

কোন বাক্যটি শুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দারিদ্রতাই প্রধান সমস্যা
  2. দারিদ্রতাই আমাদের মূল সমস্যা
  3. দারিদ্র্য আমাদের প্রধান সমস্যা
  4. দারিদ্রতাই আমাদের প্রধান সমস্যা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে দারিদ্রতা বানানটি অশুদ্ধ।
সঠিক বানান সম্বলিত এরূপ শব্দ হলো দরিদ্র, দারিদ্র্য, দরিদ্রতা।

'দারিদ্র্য' শব্দটার সাথে তা প্রত্যয় যোগ করা সঠিক নয়।
কারণ পূর্বেই দারিদ্র্য (দারিদ্র্য = দরিদ্র + য) শব্দটির সাথে একটি প্রত্যয় যোগ করা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত অন্যান্য শব্দ:
দরিদ্র = বিশেষণ
দরিদ্রতা/দারিদ্র্য = বিশেষ্য

তাই, 
শুদ্ধ বানান = দারিদ্র্য আমাদের প্রধান সমস্যা। 

তথ্যসূত্র: প্রমিত বাংলা বানান-ড. মোহাম্মদ আমীন।

ব্যাখ্যা

সঠিক বাক্যটি হলো: দারিদ্র্য আমাদের প্রধান সমস্যা। এটি অপশন (৩)-এ আছে।
বাংলা ব্যাকরণে এটি প্রত্যয়জনিত দ্বিত্ব বা অপ্রয়োজনীয় প্রত্যয় ব্যবহারের ভুলের উদাহরণ।
'দরিদ্র' হলো বিশেষণ পদ। একে বিশেষ্য পদে রূপান্তরের জন্য দুটি সঠিক উপায় আছে:
১. দরিদ্র + তা = দরিদ্রতা
২. দরিদ্র + য (প্রত্যয়) = দারিদ্র্য
কিন্তু 'দারিদ্র্য' শব্দের সঙ্গে আবার 'তা' প্রত্যয় যোগ করলে তা ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ, 'দারিদ্র্যতা' বা 'দারিদ্রতা' ব্যবহার করা ভুল।
যেহেতু অন্য অপশনগুলোতে 'দারিদ্রতা' (বা তার জোরদার রূপ 'দারিদ্রতাই') ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো ভুল। কেবল অপশন (৩)-এ শুদ্ধ বিশেষ্য পদ 'দারিদ্র্য' ব্যবহার করা হয়েছে।
88

‘তপোবন' কোন সমাস?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  3. প্রাদি সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

তপোবন = তপস্যার নিমিত্তে যে বন। 
- এটি চতুর্থী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

তপোবন (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
অর্থ: 
- যে বনে মুনি ঋষিগণ তপস্যা করেন। 
- মুনি ঋষিদের আশ্রম। 

চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে চতুর্থ বিভক্তি (কে, রে, জন্য, তরে, নিমিত্ত) লােপের মাধ্যমে যে সমাস হয়, তাকে বলা হয় চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন-
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের জন্য বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা,
- হজের জন্য যাত্রা = হজ্বযাত্রা,
- পাগলের নিমিত্তে গারদ = পাগলাগারদ,
- মরণের নিমিত্তে কাঠি = মরণকাঠি,
- শিশুর জন্য সাহিত্য = শিশুসাহিত্য,
- শয়নের নিমিত্তে কক্ষ = শয়নকক্ষ প্রভৃতি।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
তপোবন-এর ব্যাসবাক্য হলো 'তপস্যার নিমিত্তে যে বন' (অথবা তপস্যার জন্য বন)।
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের চতুর্থী বিভক্তি (কে, রে, নিমিত্ত, জন্য, তরে) লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে। এখানে ‘নিমিত্তে’ অনুসর্গটি লোপ পেয়েছে।
ভুল কেন:
- দ্বন্দ্ব সমাস: উভয় পদের অর্থ প্রধান থাকে (যেমন: জমা-খরচ)।
- প্রাদি সমাস: 'প্র, পরা, অপ, সম' ইত্যাদি উপসর্গের সাথে কৃদন্ত পদের সমাস হয় (যেমন: প্রগতি)।
- বহুব্রীহি সমাস: সমস্যমান পদ দুটির কোনোটিরই অর্থ প্রধান না হয়ে তৃতীয় একটি অর্থ বোঝায় (যেমন: দশানন)।
89

সন্ধির প্রধান কাজ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ধ্বনি পরিবর্তন
  2. অর্থের পরিবর্তন
  3. পদের পরিবর্তন
  4. বাক্য সংকোচন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন৷
- সন্ধি শব্দ গঠনেরও একটি উপায়।
- তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।

• সন্ধির কতিপয় উদ্দেশ্য:
- সন্ধি মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়।
- নতুন শব্দ তৈরি করা হয়।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সন্ধি হলো সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলন। যখন দুটি ধ্বনি পরস্পরের কাছাকাছি আসে, তখন তাদের মধ্যে স্বাভাবিক উচ্চারণের সুবিধার্থে বা ধ্বনিগত মাধুর্যের জন্য পরিবর্তন ঘটে।
এই পরিবর্তন বা মিলনকেই ধ্বনি পরিবর্তন বলা হয়। এটিই সন্ধির মূল যান্ত্রিক কাজ বা প্রক্রিয়া।
সুতরাং, সন্ধির সংজ্ঞাগত প্রধান কাজ হলো ধ্বনি পরিবর্তন (Option 0)।
উল্লেখ্য, যদিও সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য হলো উচ্চারণের সহজতা আনা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন করা, কিন্তু মূল প্রক্রিয়াটি ধ্বনিকে কেন্দ্র করেই ঘটে থাকে।
অন্যান্য অপশনগুলো (অর্থের পরিবর্তন, পদের পরিবর্তন, বাক্য সংকোচন) সন্ধির সরাসরি কাজ নয়; অর্থের পরিবর্তন শব্দের নতুনত্বের ফল এবং বাক্য সংকোচন সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিষয়।
90

সমাস গঠন প্রক্রিয়ায় সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদটির নাম কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সমস্যমান পদ
  2. সমস্তপদ
  3. ব্যাসবাক্য
  4. উত্তর পদ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সমাসের কয়েকটি পরিভাষা।
ক. সমস্যমান পদ: যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেককে সমস্যমান পদ বলে।
যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
এ বাক্যে সিংহ, চিহ্নিত, আসন- এ তিনটি হচ্ছে সমস্যমান পদ।

খ. সমস্ত পদ : সমস্যমান পদগুলাে মিলিত হয়ে যে একপদে পরিণত হয়, তাকে সমস্ত পদ বলে।
একে আবার সমাসবদ্ধপদও বলা হয়।
যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
এখানে সিংহাসন হচ্ছে সমস্ত পদ।

গ. ব্যাসবাক্য : সমাসবদ্ধ পদটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য যে বাক্য তৈরি করা হয় তাকে ব্যাসবাক্য বলে। ব্যাস' শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ।
একে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যও বলা হয়। উপরের বাক্যে ‘সিংহ চিহ্নিত আসন হলাে সিংহাসন শব্দের ব্যাসবাক্য।

ঘ. পূর্বপদ ও পরপদ : সমাস যুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষ অংশকে বলা হয় পরপদ বা উত্তরপদ।
'সিংহাসন' শব্দের 'সিংহ' হলাে পূর্বপদ, আর 'আসন' হলাে পরপদ বা উত্তরপদ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সমস্তপদ
সমাস গঠন প্রক্রিয়ায় যে নতুন, সংক্ষেপিত এবং একপদে পরিণত পদটি সৃষ্টি হয়, তাকেই সমস্ত পদ বা সমাসবদ্ধ পদ বলা হয়।
যেমন: 'সিংহের ন্যায় আসন' হলো ব্যাসবাক্য, আর এদের মিলিত রূপ 'সিংহাসন' হলো সমস্ত পদ
অন্যান্য পদ ভুল হওয়ার কারণ:
সমস্যমান পদ: যে যে পদ মিলে সমাস হয়, তাদের প্রত্যেকটিকে (যেমন: সিংহ, ন্যায়, আসন) সমস্যমান পদ বলে।
ব্যাসবাক্য: সমাসবদ্ধ পদকে ব্যাখ্যা করার জন্য ব্যবহৃত বাক্য (যেমন: সিংহের ন্যায় আসন)। একে বিগ্রহবাক্যও বলে।
উত্তর পদ: সমস্ত পদের শেষের অংশটিকে (পরের পদ) উত্তর পদ বা পরপদ বলে। (যেমন: সিংহাসন-এ 'আসন' হলো উত্তর পদ)।
91

তিলে তৈল হয়' বাক্যে 'তিলে' কোন কারক?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কর্মকারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

তিলে তৈল হয়' - অপাদানে সপ্তমী
কিন্তু 'তিলে তৈল আছে'-- অধিকরণে সপ্তমী।

অপাদান কারক:
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।

- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ

অপাদান কারক
- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি 
- বিপদে মাের রক্ষা কর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি 
- লােভে পাপ পাপে মৃত্যু = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি 
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে৫মী বিভক্তি

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: অপাদান কারক
যে স্থান থেকে কোনো কিছু উৎপন্ন, গৃহীত, বা জাত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই বাক্যে 'তৈল' (Oil) উৎপন্ন হচ্ছে 'তিলে' (Sesame) থেকে। তাই 'তিলে' শব্দটি উৎসের ভূমিকা পালন করায় এটি অপাদান কারক।
'তিলে' শব্দের সাথে 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে, তাই এটি অপাদানে সপ্তমী বিভক্তি।
ভুল ধারণা বর্জন: এটিকে অনেকে অধিকরণ কারক মনে করেন। যদি বাক্যটি হতো 'তিলে তৈল আছে', তবে তিলকে তেলের আধার (location) হিসেবে গণ্য করা হতো এবং তা হতো অধিকরণ কারক। কিন্তু 'তৈল হয়' (উৎপত্তি) অর্থ প্রকাশ করায় এটি অপাদান কারক।
92

সিংহাসন' কোন সমাস?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  3. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  4. অব্যয়ীভাব সমাস

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সিংহাসন = সিংহ চিহ্নিত আসন; মধ্যপদলােপী কর্মধারয় এর একটি উদাহরণ। 

মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস :
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন-
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার,
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- ঘরে আশ্রিত জামাই =ঘরজামাই,
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
'সিংহাসন' শব্দটির ব্যাসবাক্য হলো: সিংহ চিহ্নিত আসন
নিয়ম অনুযায়ী, যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝখানের পদ (এখানে 'চিহ্নিত') লোভ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলা হয়। এখানে পূর্বপদ 'সিংহ' এবং পরপদ 'আসন' যোগ হয়ে মাঝের পদটি লোপ পেয়েছে।
অন্যান্য অপশন ভুল কারণ— দ্বন্দ্ব সমাসে উভয় পদের অর্থ প্রাধান্য পায় (যেমন: মা-বাবা), মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাসে তৃতীয় কোনো অর্থ বোঝায় (যেমন: হাতেখড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে=হাতেখড়ি), এবং অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদটি অব্যয় হয় (যেমন: উপশহর)।
93

রেলগাড়িটি স্টেশন ছেড়েছে' বাক্যে 'স্টেশন' কোন কারকে কোন বিভক্তি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অপাদানে শূন্য
  2. করণে শূন্য
  3. কর্তায় শূন্য
  4. অধিকরণে শূন্য

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

অপাদান কারক:
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।

'রেলগাড়িটি স্টেশন ছেড়েছে' বাক্যে 'স্টেশন' থেকে রেলগাড়িটি বিচ্যুত হয়েছে। এবং এতে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি। 
- তাই 'স্টেশন' শব্দটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অপাদানে শূন্য
অপাদান কারক: যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত (ছেড়ে যায়), গৃহীত, উৎপন্ন বা আরম্ভ হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। বাক্যটিকে যদি 'কোথা হতে?' প্রশ্ন করা হয় এবং উত্তরে যা পাওয়া যায়, সেটিই অপাদান কারক।
প্রশ্নোক্ত বাক্যে, 'রেলগাড়িটি স্টেশন ছেড়েছে' – এখানে 'স্টেশন' থেকে রেলগাড়িটি বিচ্ছিন্ন হয়েছে বা বিচ্যুত হয়েছে
ক্রিয়াপদকে ('ছেড়েছে') প্রশ্ন করলে উত্তর আসে: কোথা হতে ছেড়েছে? → স্টেশন হতে। তাই 'স্টেশন' শব্দটি অপাদান কারক।
শূন্য বিভক্তি: 'স্টেশন' শব্দের সঙ্গে 'এ', 'কে', 'র' ইত্যাদি কোনো বিভক্তি চিহ্ন যুক্ত হয়নি। যখন কোনো বিভক্তি চিহ্ন সরাসরি যুক্ত হয় না, তখন তাকে শূন্য বিভক্তি বা প্রথমা বিভক্তি বলা হয়।
94

মেঘের ধ্বনি'-এর বাক্য সংকোচন কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মৃন্ময়
  2. জীমূতমন্দ্ৰ
  3. জীমূতেন্দ্ৰ
  4. শানকি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

মেঘের ধ্বনি - জীমূতমন্দ্র
জীমূত : জীমূতনাদ, জীমূতমন্দ্র (বিশেষ্য) মেঘ; গর্জন; মেঘের গুরুগম্ভীর ডাক

মৃত্তিকাদ্বারা নির্মিত - মৃন্ময়, মৃণ্ময়
মাটির থালা - শানকি 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ, এই প্রশ্নটি 'এককথায় প্রকাশ' বা বাক্য সংকোচন থেকে এসেছে, যা NTRCA পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক উত্তর হলো জীমূতমন্দ্ৰ
জীমূত শব্দের অর্থ হলো মেঘ, আর মন্দ্র শব্দের অর্থ হলো গম্ভীর ধ্বনি বা ডাক।
সুতরাং, 'মেঘের ধ্বনি' এর বাক্য সংকোচন হলো জীমূতমন্দ্ৰ (মেঘের গুরুগম্ভীর ডাক)।

অন্য অপশনগুলো ভুল কারণ: মৃন্ময় মানে হলো 'মৃত্তিকা দ্বারা নির্মিত'। শানকি মানে 'মাটির থালা'। জীমূতেন্দ্ৰ বাংলা ব্যাকরণে প্রচলিত বা সঠিক কোনো বাক্য সংকোচন নয়।
95

সপ্তকাণ্ড রামায়ণ' বাগধারাটির অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বৃহৎ বিষয়
  2. গ্রন্থ
  3. ছোটোগল্প
  4. কোনোটিই নয়

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সপ্তকাণ্ড রামায়ণ' বাগধারাটির অর্থ = বৃহৎ বিষয়

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
- উড়নচণ্ডী - বেহিসেবি
- হাড়হদ্দ - সবকিছু
- ঢাকঢাক গুড় গুড় - লুকোচুরি
- দিবাস্বপ্ন - অলীক কল্পনা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

এই প্রশ্নটি বাগধারা ও প্রবাদ প্রবচন অংশ থেকে এসেছে। বাগধারা হলো শব্দ বা শব্দগুচ্ছের বিশেষ অর্থ প্রকাশক ব্যবহার।
'সপ্তকাণ্ড রামায়ণ' বাগধারাটির আভিধানিক অর্থ রামায়ণের সাতটি কাণ্ডকে বোঝালেও, এর দ্বারা আসলে কোনো বিশাল বা ব্যাপক বিষয়, ঘটনা বা বৃত্তান্ত বোঝানো হয়।
সঠিক উত্তর হলো: বৃহৎ বিষয়
অন্যান্য অপশন যেমন— গ্রন্থ (বই) বা ছোটোগল্প (Short Story) কেবল আক্ষরিক বা অপ্রাসঙ্গিক অর্থ প্রকাশ করে, যা বাগধারাটির নিহিত ভাবার্থ নয়।
96

সিঁদুরে মেঘ' বাগধারাটির অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বড়ো বিপদ
  2. অল্পে ভয়
  3. বিপদের আশঙ্কা
  4. আকাশ লাল

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সিঁদুরে মেঘ' বাগধারাটির অর্থ = বিপদের আশঙ্কা
'ঘর পোড়া গরু, সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়' প্রবাদটির অর্থ = একবার বিপদে পড়লে তার সাদৃশ্য চোখে পড়লে ভীত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বিপদের আশঙ্কা
বাগধারা বা বাগ্ধারা (Idiom) হলো শব্দগুচ্ছের বিশেষ অর্থ প্রকাশক রূপ। এখানে শব্দগুলোর আভিধানিক অর্থ মুখ্য নয়, বরং বিশেষ ভাবার্থই প্রধান।
'সিঁদুরে মেঘ' বাগধারাটির আক্ষরিক অর্থ আকাশ লাল হওয়া হলেও এর দ্বারা সাধারণত বিপদের প্রাথমিক সংকেত বা বিপদের পূর্বাভাস বোঝানো হয়। তাই এর সঠিক অর্থ বিপদের আশঙ্কা
অনেকে ভুল করে এটিকে 'বড়ো বিপদ' মনে করেন। কিন্তু 'বড়ো বিপদ' হলো সেই বিপদ যখন তা ঘটে যায়। 'সিঁদুরে মেঘ' হলো বিপদটি আসার পূর্বের আশঙ্কা বা পূর্বাভাস।
97

লবণ' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. লে + অন
  2. লব + অন
  3. লো + অন
  4. ল + বন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

• 'লবণ'-এর সন্ধি বিচ্ছেদ- লো + অন। 

• এ, ঐ, ও, ঔ এর পর এ, ঐ এর স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ এর স্থানে যথাক্রমে অব্‌ ও আব্‌ হয়। 
অনুরূপভাবে- 
নে + অন = নয়ন
নৈ + অক = নায়ক
পো + অন = পবন
পৌ + অক = পাবক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: লো + অন। এটি স্বরসন্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকারভেদ, যাকে অয়াদি সন্ধি (Ayadi Sandhi) বলা হয়।
অয়াদি সন্ধির নিয়ম অনুযায়ী, 'ও'-কারের পর অন্য কোনো স্বরধ্বনি (যেমন: অ, আ, ই, উ) থাকলে, সেই 'ও' পরিবর্তিত হয়ে 'অব্' (ob) ধ্বনিতে রূপান্তরিত হয়।
এখানে, লো + অন = ল্ + ও + অন। 'ও'-কার টি 'অব্'-এ পরিণত হয়ে ল্ + অব্ + অন = লবণ তৈরি করে।
98

নিচের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কুলটা
  2. যোগিনী
  3. রজকী
  4. চাতকী

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে
যেমন - সতীন, অর্ধাঙ্গিনী, কুলটা, অরক্ষণীয়া, সৎমা, সধবা ইত্যাদি।  

আবার কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে
যেমন - কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
যোগী-যোগিনী
রজক-রজকী/ রজকিনী
চাতক-চাতকী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কুলটা
বাংলা ব্যাকরণে কিছু শব্দ আছে যা সবসময় বা কেবল স্ত্রীলিঙ্গকেই নির্দেশ করে, এদের কোনো পুরুষবাচক রূপ পাওয়া যায় না। এই শব্দগুলোকেই নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলা হয়।
যেমন: সতীন, অরক্ষণীয়া, সধবা, সৎমা এবং প্রশ্নে উল্লিখিত কুলটা
অন্যান্য অপশনগুলো যেমন— যোগিনী, রজকী এবং চাতকী— এগুলো সাধারণ স্ত্রীবাচক শব্দ। কারণ এদের নির্দিষ্ট পুরুষবাচক শব্দ (যথাক্রমে: যোগী, রজক, চাতক) বিদ্যমান রয়েছে। তাই এরা নিত্য স্ত্রীবাচক নয়।
99

কালসাপ' কোন সমাস?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নিত্য সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

• (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য (কাল বর্ণের নয়) সাপ = কালসাপ; নিত্য সমাসের উদাহরণ

নিত্যসমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নিত্য সমাস
নিত্য সমাস: যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো সব সময় সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্য তৈরি করা যায় না, বরং অর্থ বোঝানোর জন্য একটি ব্যাখ্যা বা বাক্যাংশের সাহায্য নিতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে।
কালসাপ শব্দের ব্যাখ্যামূলক বাক্য হলো— (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য সাপ। এখানে 'কাল' শব্দটি রং নির্দেশ করে না, বরং 'মৃত্যু' বা 'যম' তুল্যতা বোঝায়। যেহেতু এর প্রথাগত ব্যাসবাক্য হয় না, তাই এটি নিত্য সমাস।
অন্যান্য অপশন ভুল হওয়ার কারণ:
১. কর্মধারয় সমাস: এখানে বিশেষণ ও বিশেষ্যের মিলন হয় (যেমন: নীল যে আকাশ = নীলাকাশ)। কালসাপ সেই অর্থে বিশ্লেষণ করা যায় না।
২. দ্বন্দ্ব সমাস: এই সমাসে উভয় পদের অর্থ প্রধান হয় এবং 'ও' বা 'এবং' দ্বারা যুক্ত করা যায় (যেমন: মা ও বাবা = মা-বাবা)।
৩. বহুব্রীহি সমাস: এই সমাসে কোনো পদের অর্থ প্রধান না হয়ে তৃতীয় কোনো ভিন্ন অর্থ বোঝায় (যেমন: দশ হাত যার = দশ হাত)। কালসাপের ক্ষেত্রে এমনটি হয় না।
100

Watery grave'-এর অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পানির নালা
  2. সলিল সমাধি
  3. পানিযুক্ত কবর
  4. কোনোটিই নয়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

Watery grave'-এর অর্থ = সলিল সমাধি।

সলিল (noun) water.
সলিল সমাধি (noun) watery grave; drowning; (figurative) utter/ irrevocable loss.

'সলিল' 'পানি' এর প্রতিশব্দ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

Watery grave একটি বহুল প্রচলিত ইংরেজি বাগধারা বা ফ্রেজ। এটি এমন মৃত্যুকে বোঝায় যা জলে ডুবে ঘটে
বাংলায় এর সবচেয়ে যথার্থ ও আলংকারিক প্রতিশব্দ হলো সলিল সমাধি
এখানে, 'সলিল' হলো জল বা পানি এর প্রতিশব্দ (সংস্কৃত মূল শব্দ), এবং 'সমাধি' অর্থ হলো কবর বা শেষশয্যা। তাই, জলে ডুবে যাওয়া বোঝাতে এটি ব্যবহৃত হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো ('পানির নালা' বা 'পানিযুক্ত কবর') আক্ষরিক অনুবাদ হলেও বাগধারাটির মূল ভাবার্থ ও গুরুত্ব প্রকাশ করে না।
101

বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মোতাহার হোসেন চৌধুরী

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

• বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল বীরবল।
- 'বীরবলের হালখাতা' তাঁর প্রথম চলিত রীতিতে লিখিত গ্রন্থ।
- এটি ১৯০২ সালে প্রথম 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত সবুজপত্র পত্রিকা (১৯১৪) চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির সার্থক প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী
তিনি মূলত তাঁর সম্পাদিত ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকার মাধ্যমে সাধু রীতির বিপরীতে চলিত রীতির প্রচলন করেন, যা অল্প সময়েই জনপ্রিয়তা লাভ করে।
তাঁর ছদ্মনাম ছিল বীরবল, এবং 'বীরবলের হালখাতা' তাঁর প্রথম চলিত রীতিতে লেখা প্রবন্ধ সংকলন।
চলিত রীতির পূর্বে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে সাধু রীতির প্রবর্তন ও স্থিতিশীলতা আনেন। তাই তিনি এই প্রশ্নের উত্তর নন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চলিত রীতি প্রচলনে প্রমথ চৌধুরীকে সমর্থন করেন এবং পরবর্তীতে নিজেও এটি ব্যবহার করে জনপ্রিয় করে তোলেন, কিন্তু প্রবর্তক ছিলেন প্রমথ চৌধুরী।
102

বাংলা বর্ণমালায় পরাশ্রয়ী বর্ণ কয়টি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৫টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ১টি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

পরাশ্রয়ী ধ্বনি:
- ং, ঃ, ঁ তিনটি স্বাধীন ভাবে স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে ভাষায় ব্যবহৃত হয় না। তাই এ বর্ণগুলােকে বলা হয় পরাশ্রয়ী বর্ণ।
- ং এর উচ্চারণ ঙ-এর উচ্চারণের মতাে। যেমন- রং (রঙ), বাংলা (বাংলা) ইত্যাদি।
- উচ্চারণে অভিন্ন হয়ে যাওয়ায় ং-এর বদলে ঙ এবং ঙ-এর বদলে ং-এর ব্যবহার খুবই সাধারণ। ং ঃ '-এ তিনটি বর্ণ স্বাধীনভাবে স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে ভাষায় ব্যবহৃত হয় না। এ বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অন্য ধ্বনির সঙ্গে মিলিত হয়ে একত্রে উচ্চারিত হয়। তাই এ বর্ণগুলােকে বলা হয় পরাশ্রয়ী বর্ণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ৩টি
বাংলা বর্ণমালায় পরাশ্রয়ী বর্ণ বা অযোগবাহ বর্ণ হলো মোট ৩টি
এগুলো হলো: ১. অনুস্বার (ং), ২. বিসর্গ (ঃ), এবং ৩. চন্দ্রবিন্দু (ঁ)
এদের 'পরাশ্রয়ী' বলা হয় কারণ এ বর্ণগুলো স্বাধীনভাবে বা স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হতে পারে না। এদের উচ্চারণের জন্য বা প্রকাশিত হওয়ার জন্য সর্বদা অন্য কোনো বর্ণের (স্বর বা ব্যঞ্জন) আশ্রয় নিতে হয়।
103

নিচের কোনটি ‘ষত্ব’ বিধানের নিয়মে শুদ্ধ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মাস্টার
  2. পোশাক
  3. জিনিস
  4. পোস্ট মাস্টার
  5. সবগুলোই শুদ্ধ

সঠিক উত্তর: ঙ

সমাধান

‘ষত্ব’ বিধানের নিয়মে সবগুলো বানান শুদ্ধ। 

ষত্ব বিধান : তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য ‘ষ’-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষত্ব বিধান বলে।
নিয়ম ও উদাহরণ :

১। অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স ষ হয়। যেমন—ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
২। ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়। যেমন—অভিষেক, সুষুপ্ত, অনুষঙ্গ, প্রতিষেধক, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।
৩। ‘ঋ’ ও ঋ-কারের পর ‘ষ’ হয়। যেমন—ঋষি, কৃষক।
৪। তৎসম শব্দে ‘র’ এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন—বর্ষা, ঘর্ষণ।
৫। ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে ‘ষ’ যুক্ত হয়। যেমন—কষ্ট, কাষ্ঠ।
৬। কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ষ’ হয়। যেমন—ষড়ঋতু, আষাঢ়, ভাষা, মানুষ, দ্বেষ।
৭। বিদেশি শব্দে ‘ষ’ হয় না। যেমন—জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সবগুলোই শুদ্ধ। কারণ, এই প্রশ্নটিতে প্রদত্ত সবগুলো শব্দই (মাস্টার, পোশাক, জিনিস, পোস্ট মাস্টার) হলো বিদেশি শব্দ
ষত্ব বিধানের মূল নিয়ম হলো এটি শুধুমাত্র তৎসম (সংস্কৃত) শব্দে মূর্ধন্য ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারণ করে।
ষত্ব বিধানের ব্যতিক্রম বা প্রধান নিয়মের মধ্যে আছে যে, বিদেশি শব্দে (যেমন—আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি) কখনোই মূর্ধন্য ‘ষ’ ব্যবহৃত হয় না। এর পরিবর্তে তালব্য ‘শ’ অথবা দন্ত্য ‘স’ ব্যবহৃত হয়।
প্রদত্ত শব্দগুলো সেই নিয়ম মেনে সঠিকভাবেই লেখা হয়েছে, তাই ষত্ব বিধানের নিয়মের ব্যতিক্রম হিসেবে সবগুলো বানানই শুদ্ধ। উদাহরণস্বরূপ, ‘পোশাক’ শব্দটি ফারসি হওয়ায় এটিতে ‘ষ’ না হয়ে ‘শ’ ব্যবহার করা হয়েছে।
104

'দ্যুলোক' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দু: + লোক
  2. দুই + লোক
  3. দ্বি + লোক
  4. দিব্ + লোক

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘দ্যুলোক’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ দিব্‌ + লোক।

- এটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যাঞ্জন সন্ধি।
ব্যাকরণের সাধারণ বা বিশেষ কোনো নিয়মানুসারেই যখন কোনো কর্ম ব্যাখ্যা করা যায় না। অথচ তা সংঘটিত হয়, তখন সেই ব্যতিক্রমকে বৈধতা দেয়ার নাম নিপাতনে সিদ্ধ। 
কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যাঞ্জন সন্ধির উদাহরণ- 
আশ্চর্য = আ + চর্য
ষোড়শ = ষট্‌ + দশ
পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি
একাদশ = এক + দশ
বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি 
গোষ্পদ = গো + পদ 
বনস্পতি = বন্‌ + পতি
পরস্পর = পর্‌ + পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো (ঘ) দিব্ + লোক
শব্দটি 'দ্যুলোক' এর অর্থ হলো স্বর্গলোক বা আকাশ। এর সন্ধি বিচ্ছেদ দিব্ + লোক। এখানে 'দিব্' (মূল ধাতু/শব্দ) এবং 'লোক' (স্থান) যুক্ত হয়ে 'দ্যুলোক' শব্দটি গঠিত হয়েছে।
এটি ব্যাকরণের সাধারণ নিয়ম অনুসরণ করে না, তাই এটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যাঞ্জন সন্ধি-র উদাহরণ।
নিপাতনে সিদ্ধ মানে হলো: যে সন্ধিগুলো ব্যাকরণের সাধারণ কোনো নিয়মের অধীনে পড়ে না, সেগুলোকে ব্যতিক্রম হিসেবে ধরে নেয়া হয় এবং এই ব্যতিক্রমই বৈধতা পায়।
105

সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না-এর উদাহরণ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অগ্রনায়ক
  2. রতন
  3. আপন
  4. অনুষ্ঠান

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযােজ্য নয়
• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন হয়।
যেমন-ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।

• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনাে ণ হয় না, ন হয়।
যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।।

• বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়ােজন হয় না।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

প্রশ্নটি ণ-ত্ব বিধানের ব্যতিক্রম সংক্রান্ত। ণ-ত্ব বিধানের মূল নিয়ম হলো: ঋ, র, ষ (এবং এদের পরবর্তী স্বরবর্ণের ব্যবধান থাকলেও) এরপর সবসময় ণ ব্যবহৃত হয়।
কিন্তু একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম হলো— সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত এই বিধান খাটে না। অর্থাৎ, দুটি ভিন্ন শব্দ যুক্ত হয়ে যখন সমাস তৈরি করে, তখন দ্বিতীয় অংশে ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম উপেক্ষা করে 'ন' ব্যবহৃত হয়।
অগ্রনায়ক (অগ্র + নায়ক) একটি সমাসবদ্ধ শব্দ (অগ্রে যে নায়ক)। যদিও 'অগ্র' শব্দে 'র' আছে, কিন্তু সমাসবদ্ধ হওয়ার কারণে এখানে ণ-ত্ব বিধান কার্যকর হয়নি এবং ণ-এর পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে।
অন্যান্য অপশন যেমন— রতন এবং আপন হলো তদ্ভব বা দেশি শব্দ, যেখানে শব্দমূলের কারণেই ণ ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। তাই ব্যতিক্রমের কারণ হিসেবে সমাসবদ্ধ শব্দকে নির্দেশ করে অগ্রনায়ক সঠিক উত্তর।
106

ভাবে সপ্তমীর উদাহরণ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আমাদের সেনারা <u>যুদ্ধে</u> অপরাজেয়
  2. একদা ভানুর <u>প্রভাতে</u> ফুটিল কমল কলি
  3. <u>চন্দ্রোদয়ে</u> কুমুদিনি বিকশিত হয়
  4. <u>প্রভাতে</u> উঠিল রবি লোহিত বরণ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

যে স্থানে বা যে সময়ে ক্রিয়া সম্পাদন হয় তাকে বলে অধিকরণ কারক।
অধিকরণ কারক তিন প্রকার।
যথা-
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং
৩. ভাবাধিকরণ।

যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ‘ভাবে সপ্তমী’ বলা হয়।
যেমন-
সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।
অনুরূপভাবে,
চন্দ্রোদয়ে কুমুদিনি বিকশিত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: চন্দ্রোদয়ে কুমুদিনি বিকশিত হয়। এটি ভাবাধিকরণ কারকের উদাহরণ, যা ভাবে সপ্তমী নামে পরিচিত।
ভাবাধিকরণ কারক (Locative of State): যদি কোনো একটি ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য (Verbal Noun) অন্য একটি ক্রিয়ার ভাব বা অবস্থাকে নির্দেশ করে, তখন তাকে ভাবাধিকরণ বলে। এই ক্ষেত্রে সবসময় সপ্তমী বিভক্তি (এ, তে, য়) ব্যবহৃত হয়, তাই এর নাম 'ভাবে সপ্তমী'।
এখানে, 'চন্দ্রোদয়' একটি ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য এবং এটিই সেই ভাব বা অবস্থা যার ওপর 'বিকশিত হওয়া' ক্রিয়াটি নির্ভর করছে। 'চন্দ্রোদয়' + 'এ' = চন্দ্রোদয়ে।
অন্যান্য অপশন ভুল হওয়ার কারণ:
'প্রভাতে' (অপশন ১ ও ৩) হলো কালাধিকরণ কারক (Locative of Time)। কারণ এটি কেবল সময় নির্দেশ করছে।
'যুদ্ধে' (অপশন ০) সাধারণত আধার অধিকরণ (ঐকদেশিক) বা প্রয়োজনে করণ কারক হতে পারে, কিন্তু এটি ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করছে না।
107

'সম্মুখে অগ্রসর হয়ে অভ্যর্থনা'- এক কথায় প্রকাশ করলে কী হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্রত্যুদ্গমন
  2. অগ্রগামী
  3. শুভ পদার্পণ
  4. স্বাগতম

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সম্মুখে অগ্রসর হয়ে অভ্যর্থনা = প্রত্যুদ্‌গমন

কিছু এক কথায় প্রকাশের উদাহরণ- 
সন্ন্যাসীর আশ্রম = আখড়া 
সাক্ষাৎ দ্রষ্টা - সাক্ষী 
সম্রাটদের বিবরণ = শাহনামা। 
সুদে টাকা খাটানো = তেজারতি
সংসারের প্রতি বিরাগ = নির্বেদ 
যা সরোবরে জন্মে = সরোজ 
রন্ধনের যোগ্য = পাচ্য 
রঙ্গমঞ্চে দর্শিনীয় চিত্রপট = দৃশ্যপট

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: প্রত্যুদ্গমন। এটি 'এক কথায় প্রকাশ' (Single word substitution) এর একটি উদাহরণ।
প্রত্যুদ্গমন শব্দটি গঠিত হয়েছে মূলত 'প্রতি + উৎ + গমন' এই তিনটি অংশ দ্বারা। এর আভিধানিক অর্থ হলো: অতিথি বা বিশেষ ব্যক্তিকে অভ্যর্থনা করার জন্য সম্মুখে অগ্রসর হয়ে এগিয়ে যাওয়া
অন্যান্য অপশনগুলোর অর্থ ভিন্ন:
অগ্রগামী: যে সবার আগে চলে বা সামনে অগ্রসর হয় (কিন্তু অভ্যর্থনা বোঝায় না)।
শুভ পদার্পণ: কারও আগমনকে স্বাগত জানাতে ব্যবহৃত একটি শুভ কামনা সূচক উক্তি (যেমন: শুভ পদার্পণ হোক)। এটি ক্রিয়া নয়, বরং একটি অভিবাদন।
স্বাগতম: সরাসরি 'অভ্যর্থনা' বা 'ওয়েলকাম' বোঝায়, কিন্তু প্রশ্নে উল্লিখিত 'সম্মুখে অগ্রসর হয়ে' অংশটির অর্থ ধারণ করে না।
108

'পেয়ারা' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বাংলা
  2. ফারসি
  3. হিন্দি
  4. পর্তুগিজ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

পেয়ারা (বিশেষ্য) 
- পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ। 
অর্থ: ক্রান্তীয় বা উপক্রান্তীয় অঞ্চলে চাষ করা হয় এমন মাঝারি আকৃতির চিরহরিৎ উদ্ভিদের অসংখ্য ছোট বীজবিশিষ্ট গোলাকৃতির ফল।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পর্তুগিজ
বাংলা শব্দভান্ডারে আগত বিদেশী শব্দের মধ্যে পর্তুগিজ ভাষা থেকে আসা শব্দগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই শব্দগুলো মূলত ফল, খাদ্যদ্রব্য ও নিত্য ব্যবহার্য জিনিসের নাম, যা পর্তুগিজ বণিকদের মাধ্যমে বাংলায় আসে। যেমন: পেয়ারা (Guava), আনারস (Pineapple), আলপিন (Pin), ইত্যাদি।
অন্যান্য অপশন যেমন ফারসি (যেমন: নামাজ, রোজা, তারিখ) এবং হিন্দি (যেমন: কাহিনি, পান) থেকেও প্রচুর শব্দ বাংলায় এসেছে, কিন্তু 'পেয়ারা' শব্দটি সরাসরি পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত।
109

'তামার বিষ' বাগধারাটির অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অর্থের কুপ্রভাব
  2. অপচয়
  3. ক্ষণস্থায়ী বস্তু
  4. কৃপণের কড়ি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

তামার বিষ' বাগধারাটির অর্থ = অর্থের কুপ্রভাব। 
অন্যদিকে, 
- তাসের ঘর বাগধারার অর্থ ক্ষণস্থায়ী বা ক্ষণস্থায়ী ঘর।
- তালপাতার সেপাই বাগধারার অর্থ ক্ষণজীবী।
- উড়নচণ্ডী বাগধারার অর্থ বেহিসেবি

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অর্থের কুপ্রভাব
বাগধারাটি মূলত প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত হয়। 'তামা' (Copper) এখানে সম্পদ বা টাকাকে নির্দেশ করে এবং 'বিষ' (Poison) নির্দেশ করে তার নেতিবাচক প্রভাবকে। যখন কারো কাছে অতিরিক্ত অর্থ আসে এবং সেই অর্থ তাকে খারাপ পথে চালিত করে বা তার মানসিকতার অবনতি ঘটায়, তখন তাকে 'তামার বিষ' বলা হয়।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, 'অপচয়' বা 'কৃপণের কড়ি' সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে এবং 'ক্ষণস্থায়ী বস্তু'র জন্য সাধারণত 'তাসের ঘর' বা 'বালির বাঁধ' বাগধারা ব্যবহৃত হয়।
110

বিপরীতার্থে 'পরা' উপসর্গ যুক্ত শব্দ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পরাকাষ্ঠা
  2. পরাক্লান্ত
  3. পরায়ণ
  4. পরাভব

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বিপরীতার্থে 'পরা' উপসর্গ যুক্ত শব্দ = পরাভব, পরাজয়, পরাধীন, পরাহত। 
অতিশয্য অর্থে 'পরা' উপসর্গ যুক্ত শব্দ = পরাকাষ্ঠা, পরাক্রান্ত, পরায়ণ, পরাক্রম। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পরাভব
বাংলা ব্যাকরণে 'পরা' (সংস্কৃত) উপসর্গটি মূলত দুটি ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
১. বিপরীত বা প্রতিকূল অর্থে: যেমন— পরাভব, পরাজয়, পরাধীন, পরাহত। এখানে 'পরাভব' শব্দটি 'জয়'-এর বিপরীতার্থক অর্থ (পরাজয় বা বিনাশ) প্রকাশ করে।
২. আতিশয্য বা সম্যক্ অর্থে (Extreme/Fullness): যেমন— পরাকাষ্ঠা, পরায়ণ, পরাক্রম, পরাভূত।
যেহেতু প্রশ্নে বিপরীতার্থক ব্যবহার জানতে চাওয়া হয়েছে, তাই পরাভব শব্দটি সঠিক। অন্যান্য অপশন যেমন— পরাকাষ্ঠা (সর্বোচ্চ সীমা বা আতিশয্য), পরায়ণ (আসক্ত বা অত্যন্ত মগ্ন) এবং পরাক্লান্ত (অত্যন্ত ক্লান্ত) আতিশয্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
111

'বীণাপাণি' সমস্তপদটি কোন সমাস?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ব্যধিকরণে বহুব্রীহি
  2. ব্যতিহার বহুব্রীহি
  3. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  4. অলুক বহুব্রীহি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বীণা পাণিতে যার = বীণাপাণি = ব্যধিকরণে বহুব্রীহি

ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনােটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলা হয় ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-
আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ,
কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
পাপে মতি যার = পাপমতি,
পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ,
ধর্মে মতি যার = ধর্মমতি,
নীল কণ্ঠ যার = নীলকণ্ঠ,
দুষ্টু মতি যার = দুষ্টমতি,
নদী মাত যার = নদীমাতৃক,
ধর্মে প্রাণ আছে যার = ধর্মপ্রাণ,
উর্ণ নাভিতে যার = ঊর্ণনাভ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ব্যধিকরণে বহুব্রীহি
বীণাপাণি এর ব্যাসবাক্য হলো: 'বীণা পাণিতে যার'। এর দ্বারা দেবী সরস্বতীকে বোঝানো হয়। যেহেতু সমস্তপদের অর্থ পূর্বপদ বা পরপদের অর্থ থেকে ভিন্ন, তাই এটি বহুব্রীহি সমাস
ব্যধিকরণ বহুব্রীহি: বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ ও পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষ্য-বিশেষণ সম্পর্কীয় না হয়ে ভিন্ন ভিন্ন বিভক্তিযুক্ত হয় (যেমন: এখানে 'বীণা' ও 'পাণিতে'), তবে তাকে ব্যধিকরণে বহুব্রীহি বলে।
এখানে 'বীণা' (প্রথমা/শূন্য বিভক্তি) এবং 'পাণিতে' (সপ্তমী বিভক্তি) রয়েছে, তাই এটি ব্যধিকরণে বহুব্রীহি সমাস।
112

বাংলা বর্ণমালার উৎস কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তিব্বতি লিপি
  2. ব্রাহ্মী লিপি
  3. খরোষ্ঠী লিপি
  4. দেবনাগরি লিপি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে ব্রাহ্মী লিপি থেকে।
- তাই বাংলা বর্ণমালার উৎস ব্রাহ্মী লিপি। 

ব্রাহ্মী লিপির তিনটি রূপ রয়েছে।
- সারদা,
- নাগর ও
- কুটিল।

- কুটিল রূপ থেকে এসেছে বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

বাংলা বর্ণমালা বা লিপির মূল উৎস হলো প্রাচীন ভারতের অন্যতম প্রধান লিপি ব্রাহ্মী লিপি
খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতকে সম্রাট অশোকের শিলালিপিগুলোতে ব্রাহ্মী লিপির ব্যবহার দেখা যায়। এই লিপি থেকেই বিবর্তিত হতে হতে বাংলা লিপির জন্ম।
ব্রাহ্মী লিপির কুটিল রূপ বা সিদ্ধমাতৃকা লিপি থেকেই মূলত বাংলা লিপির উদ্ভব হয়।
খরোষ্ঠী লিপি একটি প্রাচীন লিপি হলেও এটি বাংলা লিপির উৎস নয়। এটি প্রধানত উত্তর-পশ্চিম ভারতে ব্যবহৃত হতো।
দেবনাগরি লিপিও ব্রাহ্মী থেকে উদ্ভূত, কিন্তু এটি হিন্দি, মারাঠি ও নেপালি ভাষার লিপি; বাংলা লিপির উৎস নয়।
113

'খ্রিষ্টান' কোন জাতীয় মিশ্র শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ইংরেজি + বাংলা
  2. ইংরেজি + আরবি
  3. ইংরেজি + ফারসি
  4. ইংরেজি + তৎসম
  5. কোনটিই নয়

সঠিক উত্তর: ঙ

সমাধান

আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুসারে, 
'খ্রিষ্টান' = ইংরেজি শব্দ। এটি মিশ্র শব্দ নয়।
'খ্রিস্টাব্দ' শব্দটি ইংরেজি + তৎসম শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।

ব্যাখ্যা

এই প্রশ্নটি একটি প্রচলিত বিভ্রান্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। সঠিক উত্তরটি হলো কোনটিই নয়
কারণ, আধুনিক বাংলা অভিধান (বাংলা একাডেমি) অনুসারে, 'খ্রিষ্টান' (Christian) শব্দটি মূলত একটি খাঁটি ইংরেজি (বিদেশি) শব্দ। এটি দুই বা ততোধিক ভিন্ন ভাষার শব্দের সমন্বয়ে গঠিত কোনো মিশ্র শব্দ নয়।
শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার জন্য প্রায়শই এই প্রশ্নটি দেওয়া হয়। অনেক পরীক্ষার্থী এটিকে 'খ্রিস্টাব্দ' (খ্রিষ্ট + অব্দ) শব্দের সাথে গুলিয়ে ফেলেন।
উল্লেখ্য, 'খ্রিস্টাব্দ' শব্দটি হলো ইংরেজি (খ্রিষ্ট) এবং তৎসম (অব্দ) শব্দের সমন্বয়ে গঠিত একটি মিশ্র শব্দ। যেহেতু প্রশ্নে 'খ্রিষ্টান' জানতে চাওয়া হয়েছে, যা মিশ্র শব্দ নয়, তাই সঠিক অপশনটি অনুপস্থিত। আমরা এটিকে 'কোনটিই নয়' হিসাবে চিহ্নিত করব।
114

মরি! মরি। কী সুন্দর প্রভাতের রূপ'-এখানে অনন্বয়ী অব্যয় কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. যন্ত্রণা
  2. বিরক্তি
  3. সম্মতি
  4. উচ্ছ্বাস

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

• যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
- বাক্যে 'মরি মরি' অনন্বয়ী অব্যয়।
- এর দ্বারা উচ্ছ্বাস অর্থ প্রকাশ পেয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

ব্যাকরণ অনুসারে, 'মরি! মরি।' শব্দটি হলো একটি অনন্বয়ী অব্যয় (Independent Interjection)।
অনন্বয়ী অব্যয় হলো সেই অব্যয় পদ যা বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে বক্তার মনের হঠাৎ উৎপন্ন হওয়া ভাব বা আবেগ প্রকাশ করে।
প্রদত্ত বাক্যে 'মরি! মরি।' শব্দটি প্রভাতের সৌন্দর্য দেখে কবির গভীর মুগ্ধতা এবং আনন্দ প্রকাশ করছে। এই ধরনের তীব্র আনন্দ বা আবেগ প্রকাশের অর্থ হলো উচ্ছ্বাস
অতএব, এখানে অনন্বয়ী অব্যয়টি উচ্ছ্বাস অর্থে প্রকাশ পেয়েছে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন ভিন্ন ভাব প্রকাশ করে: যন্ত্রণা (যেমন: উফ!), বিরক্তি (যেমন: ছিঃ!), এবং সম্মতি (যেমন: হ্যাঁ)।
115

সম্বোধন পদের পরে যে চিহ্নটি ব্যবহৃত হয় তার নাম কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কমা
  2. দাঁড়ি
  3. কোলন
  4. সেমিকোলন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

সম্বোধন’ অর্থ আহবান। যাকে সম্বোধন বা আহবান করে কিছু বলা হয়, তাকে সম্বোধন পদ বলে। ওহে মাঝি, আমাকে পার করো।
অনেক সম্বোধন পদের পূর্বে ওগো, ওরে, হে, অয়ি প্রভৃতি অব্যয়বাচক শব্দ বসে সম্বোধন সূচনা করে। যেমন: ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে, অয়ি নিরমল ঊষা, কে তোমাকে নিরমিল?
সম্বোধন পদের পর অনেক বিস্ময়সূচক চিহ্ন দেওয়া হয়। এই ধরনের বিস্ময়সূচক চিহ্নকে সম্বোধন চিহ্ন বলা হয়ে থাকে।
আধুনিক নিয়মে সম্বোধন চিহ্ন স্থানে কমা (,) চিহ্নের প্রয়োগ বেশি। যেমন: ওরে খোকা, এখানে আয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কমা (,)
সম্বোধন পদ হলো সেই পদ, যার মাধ্যমে কাউকে উদ্দেশ্য করে বা আহ্বান করে কিছু বলা হয় (যেমন: 'ওহে মাঝি', 'ওরে খোকা')।
আধুনিক বাংলা ব্যাকরণের প্রমিত নিয়ম অনুসারে, সম্বোধন পদের ঠিক পরেই স্বল্প বিরতি বোঝাতে কমা (,) চিহ্নটি ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: ওরে খোকা, এখানে আয়। ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।
উল্লেখ্য, প্রাচীন নিয়মে অনেক সময় বিস্ময়সূচক চিহ্ন ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে কমা ব্যবহারই সর্বত্র স্বীকৃত ও অত্যাবশ্যকীয়।
অন্যান্য অপশন যেমন—দাঁড়ি (।) বাক্যের সমাপ্তি বোঝায়, কোলন (:) উদাহরণ বা তালিকা দেওয়ার সময় ব্যবহৃত হয় এবং সেমিকোলন (;) দুটি নিকট সম্পর্কযুক্ত বাক্যকে যুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। তাই এগুলো সম্বোধন পদের পর বসতে পারে না।
116

'Book Post'-এর পারিভাষিক রূপ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ডাকঘর
  2. খোলা ডাক
  3. উপবিধি
  4. লেখস্বত্ব

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

Book post শব্দের বাংলা পরিভাষা হলো- খোলা ডাক।
Post-office - ডাকঘর 
Copyright - লেখস্বত্ব

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

ব্যাখ্যা

'Book Post' একটি প্রশাসনিক পারিভাষিক শব্দ, যার অর্থ হলো খোলা ডাক (Open mail).
খোলা ডাক বলতে বোঝায় সেই সকল পোস্টাল সামগ্রী (যেমন বই, মুদ্রিত কাগজপত্র), যা আংশিক খোলা অবস্থায় বা সহজে খোলার উপযোগী করে পাঠানো হয় যাতে ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা তা পরীক্ষা করতে পারে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন অর্থ বহন করে:
ডাকঘর (Post-office) মানে ডাক সেবা প্রদানের স্থান।
লেখস্বত্ব (Copyright) মানে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির উপর আইনগত অধিকার।
উপবিধি (By-law) মানে বিশেষ নিয়ম বা রীতিনীতি।
117

কোনটি দেশি শব্দের উদাহরণ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. লুঙ্গি
  2. খোকা
  3. সম্রাট
  4. গঞ্জ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ) অনুযায়ী, গঞ্জ = দেশি শব্দ।
কিন্তু, আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুসারে, গঞ্জ = ফারসি শব্দ। 

অন্যদিকে, 
লুঙ্গী = ফারসি শব্দ।
খোকা = তুর্কি শব্দ। 
সম্রাট - সংস্কৃত শব্দ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গঞ্জ। শব্দটি সাধারণত দেশি শব্দ হিসেবেই পরিচিত।
উৎপত্তি অনুসারে বাংলা ভাষার শব্দকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়: তৎসম, অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। দেশি শব্দ হলো সেই সকল শব্দ যা আর্যরা এদেশে আসার আগে থেকেই অনার্য ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী ব্যবহার করত।
যদিও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)-এ 'গঞ্জ' শব্দটিকে দেশি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, আধুনিক ভাষাতত্ত্ব ও বাংলা একাডেমি এটিকে ফারসি শব্দ হিসেবেও চিহ্নিত করে। তবে NTRCA বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে সাধারণত প্রচলিত ব্যাকরণকেই অনুসরণ করা হয়, তাই গঞ্জ এখানে দেশি শব্দ হিসেবে বিবেচিত হবে।
অন্যান্য অপশনগুলো বিদেশি শব্দ বা তৎসম শব্দের উদাহরণ:
লুঙ্গি: এটি একটি ফারসি (বিদেশি) শব্দ।
খোকা: এটি সাধারণত তুর্কি (বিদেশি) শব্দ হিসেবেই তালিকাভুক্ত।
সম্রাট: এটি সংস্কৃত (তৎসম) শব্দ।
118

কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. করকমল
  2. কালস্রোত
  3. করপল্লব
  4. কচুকাটা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে- কর্ম + ধৃ+ ণিচ + আ = কর্মধারয়। এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে। অর্থাৎ যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে। বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস। 


রূপক কর্মধারয় সমাস : উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে তাকে বলা হয় রূপক কর্মধারয় সমাস।
- এ সমাসে উপমেয় পদ পূর্বে এবং উপমান পদ পরে বসে এবং সমস্যমান পদে ‘রূপ' অথবা 'ই' যােগ করে ব্যাসবাক্য গঠন করা হয়।
যেমন-
- মন রূপ মাঝি= মনমাঝি,
- জীবন রূপ স্রোত = জীবনস্রোত,
অনুরূপভাবে, কাল রূপ স্রোত = কালস্রোত 
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু,
- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল,
- মন রূপ বাউল = মনবাউল,
- দিল রূপ দরিয়া= দিলদরিয়া,
- নীল রূপ দরিয়া = নীলদরিয়া,
- হে রূপ সুধা = মেহসুধা,
- প্রাণ রূপ পাখি= প্রাণপাখি ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কালস্রোত
এটি রূপক কর্মধারয় সমাস-এর উদাহরণ। রূপক কর্মধারয় সমাসে উপমান (তুলনার বস্তু) ও উপমেয় (যাকে তুলনা করা হচ্ছে) এর মধ্যে কোনো পার্থক্য কল্পনা করা হয় না, অর্থাৎ তাদের অভিন্ন মনে করা হয়।
ব্যাসবাক্য গঠনের সময় সমস্যমান পদের মাঝে ‘রূপ’ অথবা ‘ই’ শব্দটি যুক্ত হয়।
যেমন: কালস্রোত-এর ব্যাসবাক্য হলো কাল রূপ স্রোত। এখানে কাল (সময়) হলো উপমেয় এবং স্রোত হলো উপমান, যাদের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, করকমল (কর কমলের ন্যায়) এবং করপল্লব (কর পল্লবের ন্যায়) হলো উপমিত বা উপমান কর্মধারয় সমাস (সাধারণত উপমিত হিসেবে বেশি পরিচিত, কারণ উপমেয়/বিশেষ্য পদ পূর্বে এসেছে)।
কচুকাটা শব্দটি কোনো কর্মধারয় সমাসের স্পষ্ট উদাহরণ নয়, এটি দ্বারা সাধারণত ‘নিশ্চিহ্ন করা’ অর্থে ব্যবহার করা হয়।
119

'উষ্ণীষ'-এর শব্দার্থ-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অত্যন্ত উষ্ণ
  2. কুসুম কুসুম উষ্ণ
  3. পাগড়ি
  4. শীতের আমেজ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

উষ্ণীষ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = উষ্ণ+√ঈষ্‌+অ
অর্থ: পাগড়ি, কিরীট। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো পাগড়ি
'উষ্ণীষ' একটি তৎসম (সংস্কৃত) শব্দ, যা বিশেষ্য পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর মূল অর্থ হলো— মাথার মুকুট বা শিরোভূষণ
আভিধানিক অর্থে, উষ্ণীষ মানে পাগড়ি, যা মাথা ঢেকে রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়।
পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার জন্য প্রথম দুটি অপশনে 'উষ্ণতা' সম্পর্কিত শব্দ রাখা হয়েছে, কারণ 'উষ্ণ' অংশটি দেখে অনেকে ভুল উত্তরটি বেছে নেন। কিন্তু এটি ভুল; এটি উষ্ণতার মাপক নয়, বরং পরিধেয় বস্তু।
120

'নাটিকা' কোন অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সমার্থে
  2. ক্ষুদ্রার্থে
  3. বৃহদার্ধে
  4. বিপরীতার্থে

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ। 
নাটক - নাটিকা 
মালা - মালিকা 
গীত - গীতিকা 
পুস্তক - পুস্তিকা 

- এগুলো স্ত্রী প্রত্যয় নয়, ক্ষুদ্রার্থক প্রত্যয়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ক্ষুদ্রার্থে
বাংলা ব্যাকরণে স্ত্রী প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হলেও, কিছু কিছু প্রত্যয় আছে যা লিঙ্গ পরিবর্তন করলেও অর্থের কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে মূল শব্দের চেয়ে ছোট বা ক্ষুদ্র অর্থ প্রকাশ করে। একে ক্ষুদ্রার্থক স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।
'নাটক' শব্দের সাথে 'ইকা' প্রত্যয় যোগ করে 'নাটিকা' শব্দটি গঠিত হয়েছে। এখানে 'ইকা' প্রত্যয়টি ক্ষুদ্রার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ, নাটক মানে বড় মঞ্চস্থ বিষয়, আর নাটিকা মানে ছোট আকারের নাটক
অন্যান্য অপশন যেমন— সমার্থে, বৃহদার্ধে বা বিপরীতার্থে— এখানে প্রযোজ্য নয়, কারণ 'নাটিকা' শব্দটি নাটক অপেক্ষা ছোট অর্থ বহন করে।
121

'শিরে-সংক্রান্তি' বাগধারাটির অর্থ কী?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আসন্ন বিপদ
  2. মাথা ব্যাথা
  3. মহাবিপদ
  4. মাথার বোঝা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

শিরে সংক্রান্তি' বাগধারাটির অর্থ আসন্ন বিপদ বা সামনেই বিপদ।
উদাহরণ - আমার এখন শিরে সংক্রান্তি, কিভাবে সব সামলাব তাই ভাবছি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আসন্ন বিপদ (Imminent Danger)।
বাগধারাটির আক্ষরিক অর্থ বিশ্লেষণ করলে আমরা পাই— 'সংক্রান্তি' হলো মাসের শেষ দিন, যা জ্যোতিষশাস্ত্র মতে গ্রহের সঞ্চারণ এবং জীবনের একটি বড় পরিবর্তনের সময় নির্দেশ করে। প্রাচীন লোকবিশ্বাসে এই দিনটি প্রায়শই বিপদ বা সমস্যার প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়।
আর 'শিরে' মানে হলো মাথায়। যখন কোনো বিপদ বা সমস্যা ঠিক মাথার ওপরে বা খুব সন্নিকটে চলে আসে (অর্থাৎ সামনেই), তখন সেই অবস্থাকে বোঝাতে 'শিরে-সংক্রান্তি' বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়।
অন্যান্য অপশন যেমন 'মহাবিপদ' বা 'মাথা ব্যাথা' এই বাগধারাটির সঠিক অর্থ প্রকাশ করে না; এটি কেবল ভবিষ্যতের একটি নিশ্চিত ও নিকটবর্তী সমস্যা ('আসন্ন বিপদ') বোঝায়।
122

২০১৯ সালের সার্ক সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সেলিনা হোসেন
  2. শামসুর রাহমান
  3. অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
  4. ফকরুল আলম

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

- বাংলা একাডেমির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান সার্ক সাহিত্য পুরস্কার-২০১৯ অর্জন করেন।
-  এর পূর্বে ২০১৫ সালে সেলিনা হোসেন, ২০১২ সালে ফখরুল আলম ও ২০০১ সালে শামসুর রাহমান এই পুরস্কার অর্জন করেন। 
- ২০০১ সাল থেকে পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট 

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং জাতীয় অধ্যাপক।
সাহিত্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে তাঁকে সার্ক সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অন্যদিকে, সেলিনা হোসেন এই পুরস্কার পান ২০১৫ সালে, ফকরুল আলম পান ২০১২ সালে এবং শামসুর রাহমান প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে এই পুরস্কার লাভ করেন ২০০১ সালে।
123

কোনটির আগে স্ত্রীবাচক শব্দযোগে লিঙ্গান্তর করতে হয় ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নেতা
  2. কবি
  3. দাতা
  4. বাদশাহ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে।
যেমন - কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

কতগুলো পুরূষবাচক শব্দের আগে স্ত্রীবাচক শব্দ প্রয়োগ করে স্ত্রীবাচক করা হয়।
যেমন- কবি থেকে মহিলা কবি, ডাক্তার থেকে মহিলা ডাক্তার।

আবার কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে।
যেমন- সতীন, সৎমা, সধবা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো কবি
বাংলা ব্যাকরণে কিছু শব্দ আছে, যা মূলত কেবল পুরুষকেই নির্দেশ করে এবং এদের কোনো স্বতন্ত্র স্ত্রীবাচক রূপ নেই। এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলা হয়। যেমন: কবি, ডাক্তার, রাষ্ট্রপতি, সভাপতি, কৃতদার, কবিরাজ ইত্যাদি।
এই শব্দগুলোকে স্ত্রীবাচক করতে হলে শব্দের আগে মহিলা, স্ত্রী বা নারী জাতীয় কোনো স্ত্রীবাচক শব্দ যোগ করতে হয়। তাই 'কবি'-এর স্ত্রীবাচক রূপ হলো মহিলা কবি
অন্যান্য অপশনগুলোর ক্ষেত্রে, এদের স্বতন্ত্র স্ত্রীবাচক রূপ রয়েছে:
নেতা-এর স্ত্রীবাচক রূপ: নেত্রী
দাতা-এর স্ত্রীবাচক রূপ: দাত্রী
বাদশাহ-এর স্ত্রীবাচক রূপ: বেগম (বা বাদশাহী)।
124

’আমন্ত্রণ’ শব্দের সমার্থক শব্দ নিচের কোনটি নয় ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আহ্বান
  2. নিমন্ত্রণ
  3. প্রত্যাবান
  4. আবাহন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

’আমন্ত্রণ’ শব্দের সমার্থক শব্দ- নিমন্ত্রণ, আহ্বান, আবাহন, আহূতি, ডাক, সম্ভাষণ, নেমন্তন্ন ইত্যাদি।


উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

প্রশ্নটিতে জানতে চাওয়া হয়েছে— প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে কোনটি ’আমন্ত্রণ’ শব্দের সমার্থক নয়।
আমন্ত্রণ শব্দের অর্থ হলো— ডেকে আনা, নিমন্ত্রণ করা বা আহ্বান জানানো।
এই অর্থে, আহ্বান, নিমন্ত্রণ এবং আবাহন শব্দগুলো ’আমন্ত্রণ’-এর যথার্থ সমার্থক শব্দ।
কিন্তু, ’প্রত্যাবান’ শব্দটি ’আমন্ত্রণ’-এর সমার্থক নয়। ’প্রত্যাবান’ অর্থ হলো: প্রত্যাশা করে এমন, বা প্রত্যাবরণকারী (যে উত্তর দেয় বা প্রত্যাশা করে)। এটি আমন্ত্রণের (ডাকার) বিপরীতার্থক মনোভাব প্রকাশ করে।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো প্রত্যাবান
125

’মন না মতি’ বাগধারার অর্থ কী ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. চালবাজি
  2. অস্থির মানব মন
  3. অরাজক পরিস্থিতি
  4. অমূল্য সম্পদ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

মন না মনি বাগ্‌ধারাটিত সঠিক অর্থঃ অস্থির মানব মন।
বাক্যের উদাহরণঃ মানুষের মন তো বদলেই থাকে; কথায় বলে - 'মন না মতি'।


উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী।

ব্যাখ্যা

’মন না মতি’ হলো বাংলা ভাষার একটি বহুল প্রচলিত বাগধারা। এর আভিধানিক অর্থ বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায়—মন (Mind) স্থির বা মতির (Resolve/Stability) মতো নয়।
এই বাগধারাটি দ্বারা মানুষের মনের চঞ্চলতা, অস্থিরতা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীলতা বোঝানো হয়। মন কখনো এক জায়গায় স্থির থাকে না, এই ভাবটি প্রকাশ করতেই এই উক্তিটি ব্যবহৃত হয়।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো: অস্থির মানব মন
অন্যান্য বিকল্প—যেমন চালবাজি, অরাজক পরিস্থিতি বা অমূল্য সম্পদ—এই বাগধারার অর্থের সাথে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়।
126

‘বীর সন্তান প্রসব করে যে নারী’ - এক কথায় তাকে কী বলে ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বীরপুত্র
  2. রত্নগর্ভা
  3. স্বর্ণমাতা
  4. বীরপ্রসূ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

‘বীর সন্তান প্রসব করে যে নারী’ - বীরপ্রসূ 


নারী সম্পর্কিত কিছু এক কথায় প্রকাশঃ

- যে নারীর হিংসা নেই = অনসূয়া।
- যে নারী বীর সন্তান প্রসব করে = বীরপ্রসূ।
- যে নারী বীর = বীরাঙ্গনা।
- যে নারী অন্য কারও প্রতি আসক্ত হয়না = অনন্যা।
- যে নারী কখনো সূর্যকে দেখে নাই = অসূর্যম্পশ্যা ।
- যে নারীর হাসি সুন্দর = সুস্মিতা/সুহাসিনী।
- যে নারীর হাসি পবিত্র = শুচিস্মিতা।
- যে নারী প্রিয় বাক্য বলে = প্রিয়ংবদা।
- যে নারীর নতুন বিয়ে হয়েছে = নবোঢ়া।
- যে মেয়ের বিয়ে হয়নি = অনূঢ়া।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বীরপ্রসূ
বাংলা ব্যাকরণে এক কথায় প্রকাশ অংশের এটি একটি বহুল প্রচলিত প্রশ্ন। 'বীর সন্তান প্রসব করে যে নারী' - এখানে 'বীর' (সাহসী/গুণী) এবং 'প্রসূ' (প্রসবকারিনী বা জন্মদাত্রী) শব্দের সমন্বয়ে বীরপ্রসূ শব্দটি গঠিত হয়েছে।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে রত্নগর্ভা অর্থ হলো যিনি রত্নস্বরূপ (অতি মহৎ) সন্তান প্রসব করেন। যদিও এটি কাছাকাছি, কিন্তু প্রশ্নে নির্দিষ্টভাবে 'বীর সন্তান' চাওয়া হয়েছে, তাই বীরপ্রসূই অধিকতর সঠিক।
বীরপুত্র অর্থ হলো বীরের সন্তান এবং স্বর্ণমাতা এই অর্থে ব্যবহৃত হয় না।
127

অম্বু শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জলধি
  2. গগন
  3. পানি
  4. অবনি

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

অম্বু' শব্দের সমার্থক শব্দ- পানি

অম্বু' শব্দের অন্যান্য সমার্থক শব্দ- জল, নীর, সলিল, পানি, অপ্‌, প্রানদ, তোয়, জীবন ইত্যাদি।  

- 'আকাশ' শব্দের সমার্থক শব্দ: গগন, অন্তরিক্ষ, অম্বর, ব্যোম, খ, আসমান, দ্যুলোক, শূন্য, নভঃ, অভ্র, নীলিমা, অনন্ত, সুরপথ, অম্বরতল, খলোক, খগোল, নক্ষত্রলোক, নভোলোক, নভোমন্ডল, নভস্থল ইত্যাদি।

- 'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ: জল্ধি।

- 'পৃথিবী' শব্দের সমার্থক- অবনি।



উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

অম্বু শব্দের অর্থ হলো জল বা পানি। এটি খুবই প্রচলিত একটি সমার্থক শব্দ।
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে পানি শব্দটি সরাসরি 'অম্বু' শব্দের প্রতিশব্দ, তাই এটি সঠিক উত্তর।
অম্বু শব্দের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সমার্থক শব্দ হলো: জল, নীর, সলিল, তোয়, উদক, অপ্‌, জীবন ইত্যাদি।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন অর্থ বহন করে:
- জলধি: এর অর্থ হলো সমুদ্র (জল ধারণকারী)।
- গগন: এর অর্থ হলো আকাশ।
- অবনি: এর অর্থ হলো পৃথিবী বা ধরিত্রী।
128

’দীপ্যমান’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. √দীপ্য + মান
  2. √দিপ্য + মানচ
  3. √দিপ + শানচ
  4. √দীপ + শানচ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

দীপ্যমান' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় হলো √দীপ্ + শানচ্ (মান)।
'শানচ্' প্রত্যয়যোগে গঠিত আরো শব্দ হলো- চলমান, বর্ধমান, বর্তমান ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি৷

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: √দীপ + শানচ। এটি একটি কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ।
কৃৎ প্রত্যয়: ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে। এখানে মূল ধাতু বা প্রকৃতি হলো √দীপ্ (দীপ্তি পাওয়া)।
শানচ্ প্রত্যয়: এটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়, যা ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বর্তমানকালে চলমান অবস্থা বোঝায়। যখন এই প্রত্যয় যুক্ত হয়, তখন প্রত্যয়ের ণিজন্ত রূপের ‘মান’ অংশটি শব্দে অবশিষ্ট থাকে।
অতএব, √দীপ্ + শানচ্ = দীপ্যমান
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ সেগুলোতে হয় মূল ধাতু ভুলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে (যেমন √দীপ্য বা √দিপ) অথবা প্রত্যয়ের ভুল রূপ (যেমন ‘মান’ বা ‘মানচ’) ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যাকরণে **শানচ্** প্রত্যয়টিই সঠিক।
এই প্রশ্নগুলো NTRCA পরীক্ষায় নিয়মিতভাবে আসে, তাই প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের সঠিক নিয়ম জানা আবশ্যক।
129

নিচের কোনটি ঘোষ অল্পপ্রাণ বর্ণ ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

- 'ড’ ঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
 
ঘোষ ধ্বনি: যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয়, তাদের ঘোষ ধ্বনি।
যেমন: গ, ঘ ইত্যাদি।

অঘোষ ধ্বনি: যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না তাদের অঘোষ ধ্বনি বলে।
যেমন: ক, খ ইত্যাদি।

অল্পপ্রাণ ধ্বনি: যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে না, তাদের অল্পপ্রাণ ধ্বনি বলে।
যেমন: ক, গ ইত্যাদি।

 মহাপ্রাণ ধ্বনি: যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে, তাদের মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: খ, ঘ ইত্যাদি।



[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো 'ড'
বাংলা ধ্বনিতত্ত্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে বর্গীয় ধ্বনিগুলোকে দু’টি মানদণ্ডে ভাগ করা হয়: শ্বাসের তারতম্য (অল্পপ্রাণ/মহাপ্রাণ) এবং স্বরতন্ত্রীর কম্পন (ঘোষ/অঘোষ)।
'ড' বর্ণটি হলো ট-বর্গের তৃতীয় বর্ণ (ট, ঠ, , ঢ, ণ)।
অল্পপ্রাণ নির্ণয়: বর্গীয় ধ্বনিগুলোর মধ্যে ১ম, ৩য় ও ৫ম স্থান অধিকারকারী বর্ণগুলো হলো অল্পপ্রাণ। যেহেতু 'ড' তৃতীয় স্থানে আছে, তাই এটি অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
ঘোষ নির্ণয়: বর্গীয় ধ্বনিগুলোর মধ্যে ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম স্থান অধিকারকারী বর্ণগুলো হলো ঘোষ। যেহেতু 'ড' তৃতীয় স্থানে আছে, তাই এটি ঘোষ ধ্বনি।
সুতরাং, 'ড' হলো ঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
অন্যদিকে,
'ট' প্রথম বর্ণ, তাই এটি অঘোষ অল্পপ্রাণ
'থ' দ্বিতীয় বর্ণ, তাই এটি অঘোষ মহাপ্রাণ
'ভ' চতুর্থ বর্ণ, তাই এটি ঘোষ মহাপ্রাণ
130

শুদ্ধ বানান কোনটি ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ষ্টেশন
  2. রুগ্‌ণ
  3. বিপ্রকর্স
  4. সাধারন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- রুগ্‌ণ বানানটি শুদ্ধ।
- এর অর্থ: অসুস্থ ও দুর্বল (রুগ্ণ স্বাস্থ)। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো রুগ্‌ণ (অপশন খ)।
এই বানানটি বাংলা একাডেমির আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী শুদ্ধ। এর অর্থ হলো: অসুস্থ বা দুর্বল (যেমন: রুগ্ণ স্বাস্থ্য)।
অন্যান্য ভুল বানানগুলোর শুদ্ধ রূপ এবং ভুল হওয়ার কারণ নিচে দেওয়া হলো:
১. ষ্টেশন ভুল। এটি ইংরেজি শব্দ থেকে আগত। বিদেশি শব্দের বানানে 'স' ব্যবহৃত হয়, 'ষ' নয়। শুদ্ধ বানান: স্টেশন
২. সাধারন ভুল। এটি তৎসম শব্দ। ণত্ব বিধান অনুসারে, 'র' বর্ণের পরে সব সময় 'ণ' হয়। শুদ্ধ বানান: সাধারণ
৩. বিপ্রকর্স বানানটি প্রচলিত নয়। শুদ্ধ বানান বিপ্রকর্ষ (বিশেষভাবে টানা) অথবা বিপ্রকর্ষন (attraction/repulsion)।
131

’মহকুমা’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. তুর্কি
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. ফরাসি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান


- 'মহকুমা' আরবি শব্দ। যার বাংলা অর্থ- কয়েকটি থানার সমন্বয়ে গঠিত প্রশাসনিক অঞ্চল (বাংলাদেশে বর্তমানে জেলায় উন্নীত)।

আরবি ভাষা থেকে বাংলায় আসা আরো কিছু শব্দঃ 

১. ধর্মসংক্রান্ত - আল্লাহ, ইসলাম, ঈমান, ওযু, কোরবানি, কোরআন, কিয়ামত, জান্নাত, জাহান্নাম, তওবা, তসবি, যাকাত, হজ, হাদিস, হারাম, হালাল ইত্যাদি।

২. প্রসাশনিক ও সাংস্কৃতিক - আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, খারিজ, গায়েব, মহকুমা, মুন্সেফ ইত্যাদি।


উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান,বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আরবি
'মহকুমা' শব্দটি মূলত আরবি ভাষা থেকে বাংলায় আগত। এর অর্থ হলো একটি জেলার অধীনস্থ প্রশাসনিক বিভাগ বা সাব-ডিভিশন।
বাংলা ভাষায় আরবি শব্দগুলো সাধারণত ধর্মসংক্রান্ত (যেমন: আল্লাহ, ঈমান, ওযু, হজ) এবং প্রশাসনিক ও বিচার সংক্রান্ত (যেমন: আদালত, উকিল, এজলাস, কানুন) ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়। 'মহকুমা' শব্দটি প্রশাসনিক শব্দ হওয়ায় এটি আরবি শব্দভান্ডারের অন্তর্ভুক্ত।
132

’পাহাড়ের ঢাল বেয়ে জল নামছে’ - বাক্যে ‘জল’ কোন কারকে কোন বিভক্তি ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কর্তৃকারকে ৭মী
  2. কর্মকারকে শূন্য
  3. কর্তৃকারকে শূন্য
  4. করণ কারকে শূন্য

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

’পাহাড়ের ঢাল বেয়ে জল নামছে’ - বাক্যে ‘জল’ কর্ম কারকে শূন্য বিভক্তি ? 

কর্মকারক: যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে৷

ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷

উল্লেখিত বাক্যটিতে 'কী' বা 'কাকে' প্রশ্ন করলে পাওয়া যায় 'জল'৷
অর্থাৎ বাক্যে 'জল' একটি কর্মকারক। 

প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি : বাক্যের কোন পদে যখন কোন বিভক্তি যুক্ত হয়না বা দৃশ্যমান হয়না, সেই আপাত বিভক্তিহীন শব্দে যে বিভক্তি থাকে তাই শূন্য বিভক্তি। একবচন শব্দের সাথে ০, অ,(য়) যুক্ত থাকলে শূন্য বিভক্তি হয়। যেমন - আমাকে এক খানা বই দাও।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি
কারক নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ক্রিয়াকে প্রশ্ন করতে হয়। এই বাক্যের ক্রিয়া হলো— নামছে
কর্মকারক নির্ণয়ের জন্য ক্রিয়াকে 'কী' বা 'কাকে' দিয়ে প্রশ্ন করতে হয়।
প্রশ্ন: কী নামছে? উত্তর: জল
যেহেতু ‘জল’ ক্রিয়াপদটিকে আশ্রয় করে নামার কাজটি সম্পন্ন করছে এবং ‘কী’ প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে, তাই এটি কর্মকারক
বিভক্তি নির্ণয়: এখানে ‘জল’ শব্দের সঙ্গে কে, রে, এ, তে বা অন্য কোনো বিভক্তি চিহ্ন দৃশ্যমান নয়। যখন কোনো বিভক্তি যুক্ত হয় না, তখন তাকে শূন্য বিভক্তি বা প্রথমা বিভক্তি বলা হয়।
অতএব, ‘জল’ হলো কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি
133

কোনটি ‘নিপাতনে সিদ্ধ’ প্রত্যয়যুক্ত শব্দ ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শৈব
  2. সৌর
  3. দৈব
  4. চৈত্র

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

- 'সৌর': ‘নিপাতনে সিদ্ধ’ প্রত্যয় যুক্ত শব্দ? 
নিপাতনে সিদ্ধ: সূর্য + ষ্ণ= সৌর (সাধারণ নিয়মে- সুর+ ষ্ণ (অ)= সৌর হত)। 

- 'শৈব'- শিব+ ষ্ণ (অ)  নিয়মে হয়েছে।
- 'দৈব'- দেব+ ষ্ণ (অ) নিয়মে হয়েছে।
- চৈত্র' শব্দটি -'চিত্র ( একটি নক্ষত্রের নাম) + ষ্ণ নিয়মে হয়েছে।

নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ হলো-

গীতি = √গৈ + ক্তি,
বুদ্ধি = √বুদ্ + ক্তি,
সিদ্ধি = √সিধ্ + ক্তি,
শক্তি = √শক্ + ক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম ও ১০ম শ্রেণি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সৌর
যেসব প্রত্যয় সাধিত শব্দ ব্যাকরণের সাধারণ প্রত্যয় সাধনের নিয়ম অনুসরণ না করে ব্যতিক্রমীভাবে গঠিত হয়, তাদের ‘নিপাতনে সিদ্ধ’ (Irregularly formed) প্রত্যয়যুক্ত শব্দ বলা হয়।
'সৌর' শব্দটি গঠিত হয়েছে: সূর্য + ষ্ণ = সৌর
সাধারণ নিয়মে, 'সূর্য' শব্দটির মূল রূপ ('সুর') থেকে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার কথা ছিল (যেমন: সুর + ষ্ণ), কিন্তু এখানে ব্যতিক্রমীভাবে মূল শব্দটির সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে, তাই এটি নিপাতনে সিদ্ধ তদ্ধিত প্রত্যয়
অন্যদিকে, অন্যান্য শব্দগুলো যেমন—
শৈব (শিব + ষ্ণ),
দৈব (দেব + ষ্ণ),
চৈত্র (চিত্র + ষ্ণ)
এগুলো প্রত্যয় গঠনের সাধারণ নিয়ম মেনেই গঠিত হয়েছে, তাই এগুলো নিপাতনে সিদ্ধ নয়।
134

অর্থ অনুসারে ‘হরিণ’ কোন ধরনের শব্দ ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. যৌগিক
  2. মৌলিক
  3. যোগরূঢ়
  4. রূঢ়ি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

অর্থ অনুসারে ‘হরিণ’ রূঢ়ি  শব্দ ।

রূঢ়ি শব্দ: যেসব শব্দ প্রত্যয় ও উপসর্গযোগে মূল শব্দের অনুগামি না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমনঃ বাঁশি, তৈল, সন্দেশ, প্রবীণ, হরিণ, পাঞ্জাবী, হস্তী ইত্যাদি।

অর্থ অনুসারে বাংলা ভাষার শব্দ ৩ ভাগে বিভক্ত।
এগুলো হলো - যৌগিক শব্দ, রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ এবং যৌগরূঢ় শব্দ।

- যৌগিক শব্দ: যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমনঃ গায়ক, দৌহিত্র, চিকামারা, বাবুয়ানা, মধুর, কর্তব্য ইত্যাদি।

- যৌগরূঢ় শব্দ: সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামি না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যৌগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমনঃ পঙ্কজ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

(সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো রূঢ়ি শব্দ
শব্দটি প্রকৃতি ও প্রত্যয়যোগে গঠিত হলেও এর আভিধানিক বা ব্যুৎপত্তিগত অর্থকে অনুসরণ না করে একটি বিশেষ অর্থ প্রকাশ করেছে।
রূঢ়ি শব্দের সংজ্ঞা: যেসব শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে গঠিত হয়ে মূল শব্দের অর্থকে সম্পূর্ণভাবে অনুসরণ না করে একটি বিশেষ বা ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন: ‘হরিণ’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ— ‘যা হরণ করে’ (হরণকারী)। কিন্তু এটি বর্তমানে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট প্রাণীর নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাই এটি রূঢ়ি শব্দ
অন্যান্য অপশন ভুল, কারণ:
যৌগিক শব্দ: এগুলোর ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন (যেমন: গায়ক)।
যোগরূঢ় শব্দ: এগুলো সমাসনিষ্পন্ন হয় এবং সমস্যমান পদসমূহের অর্থ না ধরে বিশেষ অর্থ গ্রহণ করে (যেমন: পঙ্কজ, জলধি)।
মৌলিক শব্দ: এগুলিকে বিশ্লেষণ করা যায় না (যেমন: হাত, পা)। 'হরিণ' বিশ্লেষণে 'হৃ+ইন' পাওয়া যায়।
135

 বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রা, অর্ধমাত্রা ও মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা যথাক্রমে -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ৩২, ৮, ১০
  2. ৩২, ৭, ১১
  3. ৩০, ৮, ১২
  4. ৩২, ৭, ৯

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

•মাত্রাভেদে বর্ণমালা:

- বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রা বর্ণের সংখ্যা ৩২টি।

- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ হচ্ছে ৮টি।

- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ১০টি।


আবার,

• মাত্রাভেদে ব্যঞ্জনবর্ণ:

- ব্যঞ্জনবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ২৬টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ৭টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ৬টি।

• মাত্রাভেদে স্বরবর্ণ:

- স্বরবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ৬টি।
- স্বরবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ১টি।
- স্বরবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ৪টি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

ব্যাখ্যা

বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণের সংখ্যা ৫০টি (১১টি স্বরবর্ণ + ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ)। এই ৫০টি বর্ণকে মাত্রার ভিত্তিতে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
সঠিক উত্তর হলো ৩২, ৮, ১০
১. পূর্ণমাত্রা বর্ণ: যে বর্ণগুলোর উপরে সম্পূর্ণভাবে মাত্রা দেওয়া হয়। মোট সংখ্যা ৩২টি (স্বরবর্ণ ৬টি, ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি)।
২. অর্ধমাত্রা বর্ণ: যে বর্ণগুলোর উপরে আংশিক মাত্রা দেওয়া হয়। মোট সংখ্যা ৮টি (স্বরবর্ণ ১টি, ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি)।
৩. মাত্রাহীন বর্ণ: যে বর্ণগুলোতে কোনো মাত্রাই দেওয়া হয় না। মোট সংখ্যা ১০টি (স্বরবর্ণ ৪টি, ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি)।
সুতরাং, পূর্ণমাত্রা, অর্ধমাত্রা ও মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা যথাক্রমে ৩২, ৮, ১০
136

নিচের কোন শব্দটি সাধু ভাষায় ব্যবহারের উপযোগী ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শুকনো
  2. সাথে
  3. জুতা
  4. বুনো

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

- 'জুতা' শব্দটি সাধু ভাষায় ব্যবহারের উপযোগী ?


- সাধু রীতিতে 'তৎসম' শব্দের ব্যবহার বেশি হয়।

- বাংলা লেখ্য সাধু‌ রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।

- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।

- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতায় অনুপযোগী।

- এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।



উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো 'জুতা'। এটি একটি বিশেষ্য পদ যা সাধু ভাষায় ব্যবহারের উপযোগী।
সাধু ভাষা সাধারণত তৎসম (সংস্কৃত মূল) শব্দবহুল হয় এবং এর ব্যাকরণ সুনির্ধারিত। যদিও 'জুতা' শব্দটি পুরোপুরি তৎসম নয়, তবে এটি চলিত রীতির অন্যান্য অপশনগুলোর তুলনায় সাধু রীতিতে অধিক গ্রহণযোগ্য বা ব্যবহৃত রূপ।
অন্যান্য অপশনগুলো সম্পূর্ণরূপে চলিত রীতির শব্দ:
    → শুকনো (সাধু রূপ: শুষ্ক)
    → সাথে (সাধু রূপ: সহিত)
    → বুনো (সাধু রূপ: বন্য)
137

উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খণ্ড বাক্যের শেষে) বসাতে হবে -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কমা
  2. কোলন
  3. কোলন ড্যাস
  4. হাইফেন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

- উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খণ্ডবাক্যের শেষে) কমা বসাতে হবে।

- বক্তার প্রত্যেক্ষ উক্তিকে এই চিহ্নের অন্তর্ভুক্ত করতে হয়।

- যথা: রহিম বলল, “দরিদ্রের উপকার করবে।”

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো কমা (Comma)
বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, বক্তার প্রত্যক্ষ উক্তি বা কোনো বক্তব্য সরাসরি তুলে ধরার সময় সেই উক্তিকে উদ্ধরণ চিহ্নের (“ ”) অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এই উদ্ধৃতি শুরু হওয়ার পূর্বে যে খণ্ড বাক্যটি থাকে, তার শেষে অবশ্যই কমা (,) ব্যবহার করতে হয়।
উদাহরণস্বরূপ: শিক্ষক বললেন, “তোমরা মনোযোগী হও।” এখানে 'শিক্ষক বললেন' হলো খণ্ড বাক্য এবং এর শেষে কমা বসেছে।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ কোলন কোনো কিছুর বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা উদাহরণ দেওয়ার পূর্বে বসে। হাইফেন সমাসবদ্ধ পদকে যুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়, এবং কোলন ড্যাস উদাহরণ, তালিকা বা ব্যাখ্যার পূর্বে ব্যবহৃত হয়।
138

’খাতক’ - এর বিপরীত শব্দ -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অনিষ্ট
  2. লায়েক
  3. লোকসান
  4. মহাজন

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

খাতক'-এর বিপরীত শব্দ 'মহাজন'।

অন্যদিকে,
'ইষ্ট'-এর বিপরীত শব্দ 'অনিষ্ট'
'লায়েক'-এর বিপরীত শব্দ 'না-লায়েক'
'লাভ'-এর বিপরীত শব্দ 'লোকসান'

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ- ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো মহাজন
বাংলা ব্যাকরণে, বিপরীতার্থক শব্দ বা বিলোম শব্দ বলতে এমন শব্দকে বোঝানো হয় যা অন্য একটি শব্দের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে।
'খাতক' শব্দের অর্থ হলো — যে ঋণ গ্রহণ করে বা ঋণী (Debtor)। এর ঠিক বিপরীত শব্দ হলো 'মহাজন', যার অর্থ — যে ঋণ দেয় বা পাওনাদার (Creditor/Lender)।
অন্যান্য অপশনগুলোর বিপরীত শব্দ হলো:
'ইষ্ট'-এর বিপরীত শব্দ 'অনিষ্ট'
'লায়েক'-এর বিপরীত শব্দ 'না-লায়েক'
'লাভ'-এর বিপরীত শব্দ 'লোকসান' (যা সরাসরি 'খাতক'-এর বিপরীত নয়)।
139

Phoneme শব্দের অর্থ -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শব্দমূল
  2. নাম প্রকৃতি
  3. রূপ
  4. ধ্বনিমূল

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

Phoneme শব্দের অর্থ ধ্বনিমূল।

মানুষের বাক প্রতঙ্গ অর্থাৎ কণ্ঠনালী, মুখবিবর, জিব্বা, আল-জিব্বা, কোমল তালু, শক্ত তালু, দাঁত, মাড়ি, চোয়াল, ঠোঁট ইত্যাদির সাহায্যে উচ্চারিত আওয়াজকে 'ধ্বনি' বলা হয়।

বাক প্রত্যঙ্গজাত ধ্বনির সূক্ষ্মতম মৌলিক অংশ বা একককে ধ্বনিমূল বা Phoneme বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ধ্বনিমূল
Phoneme হলো ইংরেজি ভাষার একটি পারিভাষিক শব্দ, যার বাংলা প্রতিশব্দ হলো ধ্বনিমূল
ধ্বনিমূলের (Phoneme) সংজ্ঞা অনুযায়ী, এটি হলো মানুষের বাক প্রত্যঙ্গের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনির সূক্ষ্মতম মৌলিক অংশ বা একক। এই এককটি পরিবর্তন করলে শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।
যেমন: 'কল' ও 'খল' শব্দের মধ্যে শুধু প্রথম ধ্বনিমূলের (ক/খ) পরিবর্তনের কারণে অর্থের পরিবর্তন ঘটেছে।
অন্যান্য বিকল্পগুলো ব্যাকরণের ভিন্ন ভিন্ন একককে নির্দেশ করে। যেমন: শব্দমূল হলো ভাষার ক্ষুদ্রতম অর্থপূর্ণ একক, যাকে রূপমূল (Morpheme) বলা হয়।
140

’অরুণরাঙা’ কোন সমাস নিষ্পন্ন সমস্তপদ ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. উপমিত কর্মধারয়
  2. রূপক কর্মধারয়
  3. অলুক তৎপুরুষ
  4. উপমান কর্মধারয়

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

’অরুণরাঙা’ উপমান কর্মধারয় সমাস নিষ্পন্ন সমস্তপদ।

উপমান কর্মধারয় :
  সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস তা উপমান কর্মধারয় সমাস হয়।

যেমন-অরুণরাঙা= অরুণের ন্যায় রাঙা।  
ভ্রমরকৃষ্ণ = ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ 

এছাড়াও, তুষারশুভ্র, অরুণরাঙা, শশব্যস্ত, কাজলকালো, দুগ্ধধবল ইত্যাদি এই ধরনের সমাস নিষ্পন্ন শব্দ।


উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই (২০১৯)

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: উপমান কর্মধারয়
উপমান কর্মধারয় সমাস (Upamana Karmadharaya) গঠিত হয় যখন একটি উপমান (যার সাথে তুলনা করা হচ্ছে—যেমন: অরুণ) এবং একটি সাধারণ ধর্মবাচক পদ (তুলনার সাধারণ গুণ—যেমন: রাঙা) যুক্ত হয়।
এখানে, সমস্তপদ ‘অরুণরাঙা’-এর ব্যাসবাক্য হলো: অরুণের ন্যায় রাঙা। এখানে ‘অরুণ’ হলো উপমান (উপস্থাপিত বস্তু) এবং ‘রাঙা’ হলো সাধারণ ধর্মবাচক পদ (গুণ বা বৈশিষ্ট্য)। যেহেতু উপমান ও সাধারণ ধর্মের মধ্যে সমাস হয়েছে, তাই এটি উপমান কর্মধারয়।
অন্যান্য অপশন ভুল কেন:
উপমিত কর্মধারয়ে: উপমান এবং উপমেয় (যাকে তুলনা করা হচ্ছে) যুক্ত থাকে, কিন্তু সাধারণ ধর্মবাচক পদটি অনুপস্থিত থাকে। যেমন: মুখচন্দ্র (মুখ চন্দ্রের ন্যায়)।
রূপক কর্মধারয়ে: উপমান ও উপমেয়-কে অভেদ বা একই মনে করা হয়। যেমন: মনমাঝি (মন রূপ মাঝি)।
141

’হ্ম’ এর সঠিক বিশ্লেষণ কোনটি ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ক + ষ
  2. হ + ম
  3. হ + ন
  4. ষ + ণ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।

' হ্ম' যুক্তবর্ণটির এর সঠিক রূপ হলো: হ্ + ম = হ্ম


গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ

- হ্ + ম = হ্ম
- হ্ + উ = হু
- হ্ + ঋ = হৃ
- হ্ + ন = হ্ন

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১]

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: হ + ম
বাংলা ব্যাকরণে একাধিক ব্যঞ্জনবর্ণ একত্রে যুক্ত হয়ে যে বর্ণ তৈরি করে, তাকে যুক্তবর্ণ বলে।
যেসব যুক্তবর্ণে প্রথম বর্ণ হিসেবে 'হ' থাকে, সেগুলোর বিশ্লেষণ অনেক সময় কঠিন মনে হয়। এক্ষেত্রে, 'হ্ম' যুক্তবর্ণটির সঠিক বিশ্লেষণ হলো: হ্ (হসন্ত সহ হ) +
এটি সাধারণত ব্রহ্ম, ব্রাহ্মণ, রেশমি ইত্যাদি শব্দে ব্যবহৃত হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন ভিন্ন যুক্তবর্ণের বিশ্লেষণ নির্দেশ করে, যেমন: ক + ষ = ক্ষ এবং হ + ন = হ্ন (যেমন: পূর্বাহ্ন, অপরাহ্ন)। তাই সেগুলো ভুল।
142

Apenthesis -এর অর্থ -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. স্বরসংগতি
  2. স্বরাগম
  3. অভিশ্রুতি
  4. অপিনিহিতি

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

অপিনিহিতি এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Apenthesis। 

অন্যদিকে, 

- অন্ত্যস্বরাগম এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Apothesis

- দ্বিত্ব ব্যঞ্জন এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Long Consonant

- সমীভবন এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Assimilation

- 'প্রগত' এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Progressive 

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো অপিনিহিতি। ধ্বনি পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া হলো অপিনিহিতি। এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Apenthesis
অপিনিহিতি হলো—শব্দের উচ্চারণের সময় পরবর্তী ই-কার বা উ-কার যদি স্বরধ্বনি হিসেবে তার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির পরে উচ্চারিত হয়। যেমন: আজি > আইজ, সাধু > সাউধ
অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন ভিন্ন ধ্বনি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নির্দেশ করে: স্বরসংগতি (Vowel Harmony), স্বরাগম (Epenthesis), এবং অভিশ্রুতি (Aposihesis/Umlaut)।
143

’ভাস্বর’ - এর সন্ধি বিচ্ছেদ কী ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ভাস্ + সর
  2. ভাস + কর
  3. ভাস্ + বর
  4. ভা + স্বর

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ভাস্বর’ - এর সন্ধি বিচ্ছেদ ভাস্ + বর
তবে, ভাঃ + কর = ভাস্কর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ভাস্ + বর। এটি ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ।
এই নিয়মে, সন্ধি করার সময় পূর্ব পদের শেষের 'স্' বা 'ষ' এবং পর পদের প্রথম অক্ষর যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে। এখানে ‘স্’ (ভাস্)-এর সাথে ‘ব’ (বর) যুক্ত হয়ে শব্দটি গঠিত হয়েছে।
অনেক পরীক্ষার্থী এটিকে বিসর্গ সন্ধির সাথে মিলিয়ে ভুল করে। মনে রাখবেন, ভাস্ + বর = ভাস্বর
অন্যদিকে, ভাঃ + কর = ভাস্কর (সূর্য) এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ। এই প্রশ্নে 'ভাস্বর' চাওয়া হয়েছে, 'ভাস্কর' নয়।
144

আদেশ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ কোনটি ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আমটা খাও
  2. সবাই এখানে আসুন
  3. সুখী হও
  4. নিজের দিকে খেয়াল রাখ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

- আদেশ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ - আমটা খাও

- আদেশ, অনুমতি, অনুরােধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদির ভাব বােঝাতে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয় তাকে বলে অনুজ্ঞা।

- আর যে ক্রিয়াপদে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে বর্তমান অনুজ্ঞা বলে।

- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে অ, ও, উন, এন যুক্ত হয়।

যেমন:

- অনুরােধ- সবাই এখানে আসুন
- উপদেশ- নিজের দিকে খেয়াল রাখ
- প্রার্থনায়- সুখী হও 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আমটা খাও
ক্রিয়াপদের যে রূপ দ্বারা আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, প্রার্থনা, অনুমতি ইত্যাদি ভাব প্রকাশ পায়, তাকে অনুজ্ঞা বা Imperative Mood বলে।
এখানে 'আমটা খাও' বাক্যটি বক্তার পক্ষ থেকে শ্রোতাকে দেওয়া একটি সরাসরি আদেশ (Command) বা হুকুম নির্দেশ করছে। তাই এটি 'আদেশ অর্থে অনুজ্ঞা'-এর উদাহরণ।
অন্যান্য অপশনগুলোর ভাবার্থ ভিন্ন:
  • সবাই এখানে আসুন: এটি অনুরোধ বা বিনয় প্রকাশ করছে।
  • সুখী হও: এটি প্রার্থনা বা আশীর্বাদ বোঝাচ্ছে।
  • নিজের দিকে খেয়াল রাখ: এটি উপদেশ বা পরামর্শ প্রদান করছে।
145

’চক্ষুদান করা’ - বাগধারাটির অর্থ কী ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পক্ষপাতিত্ব করা
  2. সৌভাগ্য লাভ
  3. চুরি করা
  4. নষ্ট করা

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

চক্ষুদান করা' বাগধারাটির অর্থ = চুরি করা


বাক্য গঠন: সে আমার কলমটা চক্ষুদান করে নিয়ে গেল।

- একচোখা -বাগধারাটির অর্থ  পক্ষপাতিত্ব করা
- কপাল ফেরা বাগধারাটির অর্থ - সৌভাগ্য লাভ।

'মাথা খাওয়া' বাগ্‌ধারা টির অর্থ = নষ্ট করা।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: চুরি করা
বাংলা বাগধারায় ’চক্ষুদান করা’ একটি অপ্রচলিত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা। এর আভিধানিক অর্থ 'চোখ দেওয়া' হলেও, ব্যবহারিক অর্থে এটি গোপনে কোনো কিছু আত্মসাৎ করা বা চুরি করা বোঝায়।
সাধারণত, 'দান' শব্দটি দেওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হলেও, বাগধারাটিতে এর বিপরীত ভাব প্রকাশ পায়—যেমন কেউ কোনো কিছুতে নজর দিয়ে সেটি নিয়ে চলে গেল।
অন্যান্য অপশনগুলির মধ্যে:
১. পক্ষপাতিত্ব করা হলো 'একচোখা' বা 'একপেশে' বাগধারাটির অর্থ।
২. সৌভাগ্য লাভ হলো 'কপাল ফেরা' বাগধারাটির অর্থ।
৩. নষ্ট করা হলো 'মাথা খাওয়া' বাগধারাটির অর্থ।
146

গুণ ও বৃদ্ধি বলা হয় -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কৃৎ-প্রকৃতির আদিস্বরের পরিবর্তনকে
  2. কৃৎ-প্রকৃতির অন্তস্বরের পরিবর্তনকে
  3. নাম-প্রকৃতির পরিবর্তনকে
  4. প্রাতিপদিকের পরিবর্তনকে

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

কৃৎ-প্রত্যয় যােগ করলে কৃৎ-প্রকৃতির আদিস্বর পরিবর্তিত হয়।
এ পরিবর্তনকে বলা হয় গুণ ও বৃদ্ধি।

১) গুণ :
(ক) ই, ঈ-স্থলে এ
(খ) উ, উ-স্থলে ও এবং
(গ) ঋ-স্থলে অর হয়।

২) বৃদ্ধি :
(ক) অ-স্থলে আ,
(খ) ই ও ঈ-স্থলে ঐ
(গ) উ ও ঊ স্থলে ঔ এবং
(ঘ) ঋ-স্থলে আর্ হয়।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো কৃৎ-প্রকৃতির আদিস্বরের পরিবর্তনকে
গুণ ও বৃদ্ধি হলো সংস্কৃত ব্যাকরণ থেকে আগত এমন একটি প্রক্রিয়া যা কৃৎ-প্রত্যয় (ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সাথে যুক্ত হওয়া প্রত্যয়) যোগ করার সময় ধাতুর (কৃৎ-প্রকৃতির) আদিস্বর (প্রথম স্বরধ্বনি) পরিবর্তিত করে।
এই পরিবর্তন দু'রকমের হয়:
১. গুণ: যখন ই/ঈ \rightarrow এ, উ/ঊ \rightarrow ও, এবং ঋ \rightarrow অর হয়। যেমন: √জি + অ = জ (জি-র ই \rightarrow এ/অয়)।
২. বৃদ্ধি: যখন অ \rightarrow আ, ই/ঈ \rightarrow ঐ, উ/ঊ \rightarrow ঔ, এবং ঋ \rightarrow আর্ হয়। যেমন: √কৃ + ণীয় = কার্ণীয় (কৃ-র ঋ \rightarrow আর্)।
অন্যান্য অপশনগুলো যেমন কৃৎ-প্রকৃতির অন্তস্বরের পরিবর্তনকে বা নাম-প্রকৃতির পরিবর্তনকে ভুল। কারণ গুণ ও বৃদ্ধির নিয়মটি বিশেষভাবে কৃৎ-প্রকৃতির শুরুর স্বরধ্বনি পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত।
147

উদাহরণ প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত কোন বিরাম চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কোলন ড্যাশ
  2. ড্যাশ
  3. কোলন
  4. সেমিকোলন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে, 
কোলন ড্যাশ(:-)
উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোলন এবং ড্যাশ চিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়। 
যেমন পদ ৮ প্রকার:-
১. বিশেষ্য
২. সর্বনাম  
৩. বিশেষণ
৪. ক্রিয়া
৫. ক্রিয়া বিশেষণ
৬. যোজক
৭. অনুসর্গ
৮. আবেগ শব্দ

• বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ চিহ্ন ১৩ টি। 
যথা: কমা, সেমিকোলন, দাড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, হাইফেন, ড্যাশ, কোলন, উদ্ধরণ চিহ্ন/উদ্ধারচিহ্ন, বন্ধনী, বিন্দু, ত্রিবিন্দু, বিকল্প চিহ্ন।

মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) বইয়ে কোলন ড্যাশ কে বাদ দেয়া হয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কোলন ড্যাশ (:-)
সাধারণত কোনো বিষয়ে বিস্তারিত উদাহরণ, দৃষ্টান্ত বা তালিকা দেওয়ার প্রয়োজন হলে কোলন (:) এবং ড্যাশ (—) চিহ্ন দুটি একত্রে ব্যবহৃত হয়। এই চিহ্নটি ব্যবহার করলে পাঠককে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় ধরে থামতে হয়।
উদাহরণস্বরূপ: ‘পদ আট প্রকার:- বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ...’
উল্লেখ্য, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ) অনুযায়ী এই নিয়মটি প্রযোজ্য। যদিও মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) বইয়ে বর্তমানে কোলন ড্যাশকে ছেদ চিহ্নের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু অধিকাংশ পুরনো এবং প্রথাগত পরীক্ষায় এখনও কোলন ড্যাশকেই উদাহরণ প্রয়োগের প্রধান বিরাম চিহ্ন হিসেবে ধরা হয়।
148

মনীষা শব্দের বিপরীত শব্দ—

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নির্বোধ
  2. প্রজ্ঞা
  3. স্থিরতা
  4. মনস্বিতা

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

মনীষা' শব্দের বিপরীত শব্দ 'নির্বোধ'।
 'মনীষা' শব্দের অর্থ = প্রজ্ঞা; তীক্ষ্ণবুদ্ধি; প্রতিভা।

'নির্বোধ' শব্দের অর্থ = বোধহীন; অজ্ঞান; মূর্খ; ‍বুদ্ধিশূন্য।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো নির্বোধ
'মনীষা' শব্দটি দ্বারা গভীর জ্ঞান, প্রজ্ঞা, তীক্ষ্ণবুদ্ধি বা প্রতিভা বোঝানো হয়।
সুতরাং, এর বিপরীত শব্দ হবে যা জ্ঞান বা বুদ্ধির অভাব বোঝায়। নির্বোধ শব্দের অর্থ হলো বুদ্ধিশূন্য, মূর্খ বা জ্ঞানহীন
বাকি বিকল্পগুলোর মধ্যে 'প্রজ্ঞা' এবং 'মনস্বিতা' হলো 'মনীষা' শব্দের সমার্থক শব্দ, তাই এরা বিপরীত শব্দ হতে পারে না।
149

'রত্ন> রতন' হওয়ার সন্ধি সূত্র -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. স্বরভক্তি
  2. স্বরসংগতি
  3. অভিশ্রুতি
  4. অপিনিহিতি

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই – প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা মুকুতা, তুর্ক » তুরুক, ক্রু » ভুরু ইত্যাদি।
এ – গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও – শ্লোক » শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: স্বরভক্তি
স্বরভক্তি (Anaptyxis), যাকে মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষও বলা হয়। এর অর্থ হলো—উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন।
যেমন: 'রত্ন' শব্দটিতে ত্ + ন্ দুটি সংযুক্ত ব্যঞ্জন। যখন আমরা একে 'রতন' উচ্চারণ করি, তখন 'ত্' এবং 'ন্' এর মাঝে একটি 'অ' স্বরধ্বনি চলে আসে। এটিই স্বরভক্তির উদাহরণ।
স্বরভক্তির অন্যান্য উদাহরণগুলো মুখস্থ রাখা জরুরি:
অ - ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন।
ই - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ।
উ - মুক্তা > মুকুত, তুর্ক > তুরুক।
150

'শীকর' শব্দের অর্থ—

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রাজস্ব
  2. মেনে নেওয়া
  3. জলকণা
  4. গাছের মূল

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

শীকর (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = শীক্‌+অর 
অর্থ: 
- বাতাসে ভাসমান জলকনা।
- জলবিন্দু 

অন্যদিকে, 
'শিকড়' শব্দের অর্থ = মূল 
'শিখর' শব্দের অর্থ = শীর্ষ 
'শেখর' শব্দের অর্থ = মাথার অলংকার  

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো জলকণা
'শীকর' শব্দটি হলো একটি বিশেষ্য পদ, যা সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে (প্রকৃতি প্রত্যয়: শীক্‌+অর)। এর আভিধানিক অর্থ হলো জলবিন্দু বা বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র জলকণা
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ 'গাছের মূল' অর্থটি বোঝায় 'শিকড়' শব্দটিকে। বাংলা বানানের সামান্য পার্থক্যের কারণে এই শব্দগুলোর অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যায়, যা নিবন্ধন পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এই অধ্যায়ের প্রশ্ন টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করুন

এই পেজে বাছাইকৃত ১৫০টি প্রশ্ন সমাধানসহ দেওয়া হয়েছে (মোট ৬৬৭টির মধ্যে)। প্র্যাকটিস মোডে এক-একটি করে উত্তর দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল, স্কোর ও অগ্রগতি ট্র্যাক করুন।

NTRCA - School Level-এর অন্যান্য অধ্যায়

English (School)৬৫৩ প্রশ্নMathematics (School)৭৪৪ প্রশ্নGeneral Knowledge (School)৫৯৩ প্রশ্নবাগধারা ও প্রবাদ প্রবচন৩ প্রশ্নশতকরা, লাভ-ক্ষতি ও সুদকষা৭ প্রশ্নসমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ৩ প্রশ্নRight forms of Verb১ প্রশ্নইতিহাস ও সভ্যতা১ প্রশ্নবানান শুদ্ধি ও এককথায় প্রকাশ৩ প্রশ্নবাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (সংক্ষিপ্ত)১১ প্রশ্নপরিমিতি ও ত্রিকোণমিতি১১ প্রশ্নজ্যামিতি (রেখা, কোণ, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বৃত্ত)১ প্রশ্নঅনুপাত ও সমানুপাত১ প্রশ্নলিঙ্গ ও বচন পরিবর্তন৩ প্রশ্নTranslation from Bengali to English১ প্রশ্নসমার্থক ও বিপরীত শব্দ১ প্রশ্নকারক, বিভক্তি ও সমাস১১ প্রশ্নবীজগণিত (মান নির্ণয়, উৎপাদক, সূচক)৬ প্রশ্নলগারিদম ও সূচক (Logarithms & Indices)৯ প্রশ্নসন্ধি ও প্রত্যয়২০ প্রশ্ন

কেন NTRCA (Teacher Registration)-এর জন্য “Bangla (School)” অধ্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ?

NTRCA (Teacher Registration) নিয়োগ পরীক্ষার NTRCA - School Level অংশে “Bangla (School)” থেকে প্রায় প্রতিবারই প্রশ্ন আসে। বিগত সালের প্রশ্নের ধরন বুঝে নিয়মিত অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ের নম্বর নিশ্চিত করা সহজ হয় — এই পেজের বাছাইকৃত প্রশ্নগুলো ঠিক সেই প্রস্তুতির জন্যই সাজানো।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

"Bangla (School)" অধ্যায় থেকে কেমন প্রশ্ন আসে?

NTRCA (Teacher Registration) নিয়োগ পরীক্ষায় NTRCA - School Level বিষয়ের "Bangla (School)" অধ্যায় থেকে নিয়মিত MCQ আসে। এই পেজে বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক জায়গায় দেওয়া হয়েছে — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ।

উত্তর ও সমাধান কি বিনামূল্যে?

হ্যাঁ। প্রশ্ন, অপশন, সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যা — সবই লগইন ছাড়াই বিনামূল্যে দেখা যায়। টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করতে চাইলে একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট দিয়ে প্র্যাকটিস মোডে যান।