সমাধান
সমাধান
💼
NTRCA - School Level

কারক, বিভক্তি ও সমাস

NTRCA (Teacher Registration) · NTRCA - School Level — বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক পেজে।

নিচে NTRCA (Teacher Registration) নিয়োগ পরীক্ষার NTRCA - School Level বিষয়ের "কারক, বিভক্তি ও সমাস" অধ্যায়ের বাছাইকৃত ১১টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ। সবই বিনামূল্যে।

1

সম্বন্ধ পদে কোন বিভক্তি যুক্ত হয়?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কে, রে
  2. প্রথমা, শুন্য
  3. র, এর
  4. এ, তে

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সম্বন্ধ পদে ‘র’ বা ‘এর’ বিভক্তি যুক্ত হয়ে থাকে।

 -ক্রিয়াপদের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে যে নামপদ বাক্যস্থিত অন্য পদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়, তাকে সম্বন্ধ পদ বলে।
যেমন—মতিনের ভাই বাড়ি যাবে।

সম্বন্ধ পদের বিভক্তি:
- সম্বন্ধ পদে ‘র’ বা ‘এর’ বিভক্তি যুক্ত হয়ে থাকে। যথা : আমি + র = আমার (ভাই), খালিদ + এর = খালিদের (বই)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: র, এর
ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, সম্বন্ধ পদে সবসময় ষষ্ঠী বিভক্তি যুক্ত হয়। ষষ্ঠী বিভক্তির চিহ্নগুলো হলো— এবং এর
যেমন: আমার (আমি+র) বই, খালেদের (খালেদ+এর) বাড়ি।
সম্বন্ধ পদ কী? ক্রিয়াপদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না রেখে বাক্যস্থিত অন্য পদের (বিশেষত নাম পদের) সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনকারী পদকে সম্বন্ধ পদ বলে। যেমন: দরিদ্রের ধন চুরি করো না।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল কারণ: ‘কে, রে’ হলো দ্বিতীয়া বা চতুর্থী বিভক্তি, ‘প্রথমা, শুন্য’ হলো কর্তা কারকে ব্যবহৃত শূন্য বিভক্তি এবং ‘এ, তে’ হলো সপ্তমী বিভক্তি।
2

পুকুরে মাছ আছে - এখানে পুকুরে কোন অধিকরণ কারক?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বৈষয়িক অধিকরণ
  2. ভাবাধিকরণ
  3. অভিব্যাপক অধিকরণ
  4. ঐকদেশিক অধিকরণ

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

যে স্থানে বা যে সময়ে ক্রিয়া সম্পাদন হয় তাকে বলে অধিকরণ কারক।
অধিকরণ কারক তিন প্রকার।
যথা-
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং
৩. ভাবাধিকরণ।


আধারাধিকরণ:
আধারাধিকরণ বা স্থানাধিকরণ কোন কোন স্থানকে বুঝায়। যেমন: তিলে তৈল আছে। ছেলেটি অঙ্কে কাচা। নদীতে পানি আছে।
এটি তিন ভাগে বিভক্ত। যথা : - ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।

১. ঐকদেশিক:
বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে। যেমন-
পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: ঐকদেশিক অধিকরণ
যে স্থানে বা যে সময়ে ক্রিয়া সম্পাদন হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকের প্রধানত তিনটি ভাগের মধ্যে একটি হলো আধারাধিকরণ (স্থানাধিকরণ)। এই আধারাধিকরণকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়: ঐকদেশিক, অভিব্যাপক ও বৈষয়িক।
ঐকদেশিক অধিকরণ (Ekodeshik) বলতে বোঝায়—বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে যখন ক্রিয়া সংঘটিত হয় বা বস্তুটি অবস্থান করে।
যেমন: 'পুকুরে মাছ আছে'—মাছ পুকুরের সমস্ত জায়গা জুড়ে থাকে না, বরং পুকুরের কোনো এক অংশে বা নির্দিষ্ট স্থানে থাকে। যেহেতু অবস্থানটি পুকুরের সমগ্রতা নয়, বরং একটি অংশ (এক দেশ), তাই এটি ঐকদেশিক অধিকরণ
অপরদিকে, অভিব্যাপক অধিকরণ (যেমন: তিলে তৈল আছে, নদীতে জল আছে) বলতে বস্তুটি স্থানের পুরোটা জুড়ে থাকলে বোঝানো হয়। বৈষয়িক অধিকরণ কোনো বিশেষ জ্ঞান বা বিষয়ে আসক্তি/অনাগ্রহ বোঝালে ব্যবহৃত হয় (যেমন: অংকে কাঁচা)।
3

'অনেক' শব্দটি -

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অলুক তৎপুরুষ
  2. উপপদ তৎপুরুষ
  3. নঞ তৎপুরুষ
  4. নিত্য সমাস

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

নঞ তৎপুরুষ সমাস: নাবাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন-
নয় এক = অনেক 
নয় সুখ = অসুখ,
নয় উচিত = অনুচিত,
নেই বিশ্বাস = অবিশ্বাস,
নাই হায়া = বেহায়া প্রভৃতি।

এছাড়া সংস্কৃত নঞ অব্যয়ের বাংলা প্রতিরূপ রূপে অ, অন, আনা, গর, বে, বি, ন, না, নি ইত্যাদি এসেছে।
যেমন-
নাই আহার = অনাহার,
নয় জোড় = বিজোড়,
নয় অতি দূর = নাতিদূর ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নঞ তৎপুরুষ সমাস
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে নাবাচক নঞ অব্যয় (যেমন: না, নেই, নয়, নয়) যোগ করে সমাস করা হয় এবং যা অভাব, বারণ, বা নঞর্থক অর্থ প্রকাশ করে, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে।
'অনেক' শব্দটির ব্যাসবাক্য হলো: নয় এক। অর্থাৎ, যা এক নয়, তাই অনেক। এখানে 'নয়' নামক নঞ অব্যয়টি পূর্বে বসেছে, তাই এটি নঞ তৎপুরুষ সমাসের নিখুঁত উদাহরণ।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ:
অলুক তৎপুরুষ: যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় না (যেমন: ঘিয়ে ভাজা = ঘিয়ে-ভাজা)।
উপপদ তৎপুরুষ: যে সমাসে পরপদটি কৃদন্ত পদ বা ক্রিয়ামূলজাত শব্দ হয় (যেমন: জলে চরে যা = জলচর)।
নিত্য সমাস: যে সমাসে ব্যাসবাক্য হয় না বা করতে গেলে অন্য শব্দের সাহায্য নিতে হয় (যেমন: অন্য দেশ = দেশান্তর)।
4

 "উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ"- এখানে ‘উদ্যম বিহনে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কর্তৃকারকে ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. অপাদানে ১মা
  4. কর্মে ৭মী

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই। কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।

• 'উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ' - বাক্যে অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।
বাক্যটি ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার কালকে বোঝাচ্ছে। 
কিন্তু -এ বিভক্তি যুক্ত হইয়েছে।
তাই বাক্যটি = অধিকরণে সপ্তমী বিভক্তি প্রকাশ করে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: অধিকরণে সপ্তমী
'উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ'—এই বাক্যে ‘উদ্যম বিহনে’ পদটি দ্বারা 'মনোরথ পূর্ণ হওয়ার' ক্রিয়ার অবস্থা, শর্ত বা আধারকে বোঝানো হয়েছে।
যে কারক ক্রিয়া সম্পাদনের কাল, স্থান বা অবস্থাকে নির্দেশ করে, তাকে অধিকরণ কারক (Locative Case) বলে।
এখানে উদ্যম না থাকা অবস্থায় (শর্ত/অবস্থা) কোনো কাজ সম্পন্ন হয় না, যা অধিকরণ কারকের একটি প্রকারভেদ ভাবাধিকরণ-এর উদাহরণ।
যেহেতু 'বিহনে' অব্যয়টি এখানে সপ্তমী বিভক্তির (এ, তে) সমতুল্য হয়ে শর্ত বা ভিত্তি বোঝাচ্ছে, তাই এটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
অন্যান্য কারক ভুল, কারণ এটি কর্তা (কর্তৃ), কর্ম (কর্মে) বা স্থান/কাল থেকে বিচ্যুতি (অপাদানে) বোঝাচ্ছে না।
5

উপকণ্ঠ- শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কণ্ঠের সমীপে
  2. কণ্ঠের সদৃশ
  3. উপ যে কণ্ঠ
  4. কণ্ঠ পর্যন্ত

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

উপকণ্ঠ- শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য = কণ্ঠের সমীপে। 
এটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ। 

অব্যয়ীভাব সমাস
যে সমাসের পূর্বপদে অব্যয় থাকে এবং অব্যয়ের অর্থ প্রধানরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বলা হয় অব্যয়ীভাব সমাস।
- অন্যভাবে বলা যায়, পূর্বপদে অব্যয়যােগে নিষ্পন্ন সমাসে অর্থের প্রাধান্য থাকলে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয় উল্লেখ হয় না, কেবল অব্যয়ের অর্থযােগে ব্যাসবাক্যটি গঠিত হয়।
যেমন- জানু পর্যন্ত লম্বিত = আজানুলম্বিত (কাছে), মরণ পর্যন্ত = আমরণ ইত্যাদি।
বিভিন্ন অর্থে  অব্যয়ীভাব সমাস ব্যবহৃত হয় - 

সামীপ্য (উপ) :
কূলের সমীপে = উপকূল,
নগরীর সমীপে = উপনগরী,
শহরের সমীপে = উপশহর,
কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
অক্ষির সমীপে =সমক্ষ,
ক্ষুদ্র মহাদেশ =উপমহাদেশ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কণ্ঠের সমীপে
উপকণ্ঠ শব্দটি অব্যয়ীভাব সমাস-এর উদাহরণ। এই সমাসে পূর্বপদে (প্রথম পদ) একটি অব্যয় পদ বসে এবং সেই অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়।
এখানে পূর্বপদ হলো 'উপ'। 'উপ' অব্যয়টি সামীপ্য (Nearness/Proximity) অর্থ প্রকাশ করে।
তাই উপকণ্ঠ-এর ব্যাসবাক্য হয় 'কণ্ঠের সমীপে' (কণ্ঠের কাছাকাছি)।
অন্যান্য অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ: কূলের সমীপে = উপকূল; নগরীর সমীপে = উপনগরী
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
6

পূর্বপদ প্রধান সমাস কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দ্বন্ধ
  2. অব্যয়ীভাব
  3. তৎপুরুষ
  4. বহুব্রীহি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

পূর্বপদ প্রধান সমাস = অব্যয়ীভাব সমাস। 

• অব্যয়ীভাব সমাস: 
পূর্বপদে অব্যয়যােগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযােগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন : জানু পর্যন্ত লম্বিত (পর্যন্ত শব্দের অব্যয় ‘আ’) = আজানুলম্বিত (বাহু), মরণ পর্যন্ত = আমরণ।

• যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন: দোয়াত-কলম, তাল-তমাল ইত্যাদি।

• যে সমাসে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: ঘি দ্বারা ভাজা = ঘিভাজা, মন দ্বারা গড়া = মনগড়া, মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা, মেঘ হতে মুক্ত = মেঘমুক্ত, ঘর হতে ছাড়া = ঘরছাড়া ইত্যাদি।

• যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন: কানে কানে যে কথা = কানাকানি
কোলে কোলে যে মিলন = কোলাকুলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নতুন সংস্করণ) অনুসারে অব্যয়ীভাব সমাসকে সমাসের প্রকারভেদ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অব্যয়ীভাব
সমাসে পদের অর্থের প্রাধান্যের ভিত্তিতে সমাসকে সাধারণত চারটি ভাগে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে অব্যয়ীভাব সমাসেই পূর্বপদ অর্থাৎ প্রথম পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে।
এই সমাসে পূর্বপদে একটি অব্যয় (যেমন: আ, উপ, প্রতি, যথা ইত্যাদি) যুক্ত হয়ে ব্যাসবাক্য গঠিত হয় এবং সমাসবদ্ধ পদটি ওই অব্যয়ের অর্থকেই নির্দেশ করে।
যেমন: ভিক্ষার অভাব = দুর্ভিক্ষ (এখানে 'দুর্' অব্যয়টি অভাব অর্থে ব্যবহৃত হয়ে পূর্বপদের অর্থকে প্রধান করেছে)।
অন্যান্য সমাসগুলোর অর্থের প্রাধান্য নিম্নরূপ:
  • দ্বন্দ্ব সমাস: উভয় পদ প্রধান (যেমন: মা-বাবা, ভাই-বোন)।
  • তৎপুরুষ সমাস: পরপদ প্রধান (যেমন: রাজপথ, ঘিভাজা)।
  • বহুব্রীহি সমাস: সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ প্রধান না হয়ে অন্য পদের অর্থ প্রধান হয় (যেমন: দশানন, সরাসরী)।
7

সুহৃদ কী ধরনের শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মৌলিক
  2. রূঢ়ি
  3. যোগরূঢ়
  4. যৌগিক

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
• কয়েকটি যোগরূঢ় শব্দ: পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, সহৃদ, অসুখ, সরোজ প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
• কয়েকটি রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ: প্রবীণ, সন্দেশ, বাঁশি, গবেষণা ইত্যাদি।
• কয়েকটি মৌলিক শব্দ: হাত, পা, এক, তিন, গোলাপ, ফুল ইত্যাদি।
• কয়েকটি যৌগিক শব্দ: গায়ক, নায়ক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: যোগরূঢ় শব্দ (Index 2)
যোগরূঢ় শব্দ হলো সেই সকল শব্দ, যা সমাস বা অন্য কোনো উপায়ে গঠিত হওয়ার পর তার আক্ষরিক বা সমস্যমান পদগুলোর অর্থ অনুসরণ না করে সম্পূর্ণভাবে একটি বিশিষ্ট বা বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।
সুহৃদ শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো 'সুন্দর বা ভালো হৃদয় যার' (সু + হৃত্)। কিন্তু শব্দটি কোনো সুন্দর হৃদয়ের ব্যক্তিকে না বুঝিয়ে ঐতিহাসিকভাবে 'বন্ধু' বা 'শুভাকাঙ্ক্ষী'—এই বিশেষ অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
যেহেতু এটি তার গঠনগত অর্থকে ছাপিয়ে একটি বিশেষ অর্থ গ্রহণ করেছে, তাই এটি একটি যোগরূঢ় শব্দ
8

নিচের কোনটি নিত্য সমাস ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পঞ্চনদ
  2. বেয়াদব
  3. দেশান্তর
  4. ভালোমন্দ

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

• যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য (সর্বদা) সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে। এ সমাসে ব্যাসবাক্যের প্রথমে বা প্রথম শব্দটি ‘অন্য’ বা ‘কেবল’ শব্দটি বসে।
যেমন:
- অন্য দেশ= দেশান্তর
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর
- কেবল দর্শন - দর্শনমাত্র

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: দেশান্তর। এটি একটি নিত্য সমাসের উদাহরণ।
নিত্য সমাস (Nitya Samas): যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য (সবসময়) সমাসবদ্ধ থাকে এবং এর মূল পদের সাথে সম্পর্ক রেখে কোনো প্রচলিত বা স্বাভাবিক ব্যাসবাক্য গঠন করা যায় না, তাকে নিত্য সমাস বলে।
নিত্য সমাসে ব্যাসবাক্য তৈরি করতে ‘অন্য’, ‘কেবল’, ‘পরবর্তী’ -জাতীয় অতিরিক্ত শব্দের সাহায্য নিতে হয়।
যেমন: দেশান্তর = অন্য দেশ
অন্যদিকে, পঞ্চনদ হলো দ্বিগু সমাস (পঞ্চনদের সমাহার), ভালোমন্দ হলো দ্বন্দ্ব সমাস (ভালো ও মন্দ), এবং বেয়াদব হলো নঞ বহুব্রীহি সমাস (নাই আদব যার) বা নঞ তৎপুরুষ সমাস। তাই দেশান্তর-ই একমাত্র নিত্য সমাস।
9

অব্যয়ীভাব সমাসে ‘অব্যয়’ পদের অর্থ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পরিবর্তিত হয়
  2. প্রধান থাকে
  3. সংকুচিত হয়
  4. বৃদ্ধি ঘটে

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

• ‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে অব্যয় পদের বা পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
যেমন:
- কূলের সমীপে = উপকূল,
- দিন দিন = প্রতিদিন ইত্যাদি।   

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: প্রধান থাকে (অপশন খ)।
অব্যয়ীভাব সমাস-এর সংজ্ঞাই হলো— যে সমাসে অব্যয় পদ পূর্বপদ হিসেবে বসে এবং সমাস নিষ্পন্ন হওয়ার পরেও পূর্বপদের অর্থই প্রধান বা প্রাধান্য পায়, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
যেমন: 'কূলের সমীপে' = উপকূল। এখানে 'উপ' অব্যয় পদের অর্থ ('সমীপে' বা কাছাকাছি) প্রাধান্য পেয়েছে।
অন্যান্য অপশন যেমন— 'পরিবর্তিত হয়' বা 'সংকুচিত হয়'— এগুলো সঠিক নয়। অব্যয় পদটি অর্থগতভাবে অপরিবর্তিত ও প্রধান ভূমিকা পালন করে।
10

সমাসের রীতি কোন ভাষা হতে আগত ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আরবি
  2. সংস্কৃত
  3. ফারসি
  4. ইংরেজি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সমাসের রীতি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
- পরস্পর অর্থ সঙ্গতিবিশিষ্ট দুই বা বহুপদের একপদে পরিণত হওয়াকে বলা হয় সমাস।
-সমাসের প্রকারভেদ:
বাংলা ব্যাকরণে সমাস ছয় প্রকার; যথা:
দ্বন্দ্ব সমাস, কর্মধারয় সমাস, তৎপুরুষ সমাস, দ্বিগু সমাস, অব্যয়ীভাব সমাস এবং বহুব্রীহি সমাস।

তথ্যসূত্র: ভাষা শিক্ষা,ড. হায়াত মাহমুদ

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: সংস্কৃত
বাংলা ব্যাকরণের সমাস (Compounding) গঠনের রীতিটি মূলত সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে। সমাসের মাধ্যমে একাধিক পদকে একটি পদে পরিণত করে বাক্যকে সংক্ষিপ্ত, শ্রুতিমধুর এবং ভাবপ্রকাশে উপযুক্ত করা হয়।
বাংলা ব্যাকরণের বেশিরভাগ প্রধান নিয়মকানুন, বিশেষ করে ধ্বনিতত্ত্ব ও রূপতত্ত্বের অনেক অংশ (যেমন: সন্ধি, সমাস, তৎসম শব্দ), সরাসরি সংস্কৃতের অনুকরণে গঠিত হয়েছে।
অন্যান্য ভাষা, যেমন: আরবি, ফারসি এবং ইংরেজি, বাংলা শব্দভান্ডারকে সমৃদ্ধ করলেও, সমাসের মতো মৌলিক ব্যাকরণগত কাঠামো প্রদানে তাদের ভূমিকা নেই।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
11

কোনটি উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. প্রতিবাদ
  2. বিলাত ফেরত
  3. উপগ্রহ
  4. ছেলেধরা

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

• 'ছেলেধরা' উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ।

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস: কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন-
- পঙ্কে জন্মে যে = পঙ্কজ,
- যাদু করে যে = যাদুকর,
- ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ,
- ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা,
- পকেট মারে যে = পকেটমার,
- স্থলে চলে যে = স্থলচর,
- চিত্র আঁকে যে = চিত্রকর,
- মানুষ খায় যে = মানুষখেকো ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ছেলেধরা। এর ব্যাসবাক্য হলো: ছেলে ধরে যে
উপপদ তৎপুরুষ সমাস: যে তৎপুরুষ সমাসে কৃদন্ত পদের (কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদ) পূর্ববর্তী পদটির সাথে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। এখানে 'ছেলে' হলো উপপদ এবং 'ধরা' (ধাতু: ধর) কৃদন্ত পদের অংশ।
এই সমাসের উদাহরণগুলো সাধারণত কোনো কাজ করে এমন ব্যক্তিকে (কর্তাকে) বোঝায়।
অন্যান্য অপশনের ব্যাখ্যা:
বিলাত ফেরত: এটি পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ (বিলাত হতে/থেকে ফেরত)।
প্রতিবাদ: এটি সাধারণত অব্যয়ীভাব সমাস (প্রতিপক্ষকে বাদ/অন্য মত) অথবা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ।
উপগ্রহ: এটি অব্যয়ীভাব সমাস (গ্রহের সদৃশ/নিকটে)।

এই অধ্যায়ের প্রশ্ন টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করুন

এই পেজে বাছাইকৃত ১১টি প্রশ্ন সমাধানসহ দেওয়া হয়েছে। প্র্যাকটিস মোডে এক-একটি করে উত্তর দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল, স্কোর ও অগ্রগতি ট্র্যাক করুন।

NTRCA - School Level-এর অন্যান্য অধ্যায়

Bangla (School)৬৬৭ প্রশ্নEnglish (School)৬৫৩ প্রশ্নMathematics (School)৭৪৪ প্রশ্নGeneral Knowledge (School)৫৯৩ প্রশ্নবাগধারা ও প্রবাদ প্রবচন৩ প্রশ্নশতকরা, লাভ-ক্ষতি ও সুদকষা৭ প্রশ্নসমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ৩ প্রশ্নRight forms of Verb১ প্রশ্নইতিহাস ও সভ্যতা১ প্রশ্নবানান শুদ্ধি ও এককথায় প্রকাশ৩ প্রশ্নবাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (সংক্ষিপ্ত)১১ প্রশ্নপরিমিতি ও ত্রিকোণমিতি১১ প্রশ্নজ্যামিতি (রেখা, কোণ, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বৃত্ত)১ প্রশ্নঅনুপাত ও সমানুপাত১ প্রশ্নলিঙ্গ ও বচন পরিবর্তন৩ প্রশ্নTranslation from Bengali to English১ প্রশ্নসমার্থক ও বিপরীত শব্দ১ প্রশ্নবীজগণিত (মান নির্ণয়, উৎপাদক, সূচক)৬ প্রশ্নলগারিদম ও সূচক (Logarithms & Indices)৯ প্রশ্নসন্ধি ও প্রত্যয়২০ প্রশ্ন

কেন NTRCA (Teacher Registration)-এর জন্য “কারক, বিভক্তি ও সমাস” অধ্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ?

NTRCA (Teacher Registration) নিয়োগ পরীক্ষার NTRCA - School Level অংশে “কারক, বিভক্তি ও সমাস” থেকে প্রায় প্রতিবারই প্রশ্ন আসে। বিগত সালের প্রশ্নের ধরন বুঝে নিয়মিত অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ের নম্বর নিশ্চিত করা সহজ হয় — এই পেজের বাছাইকৃত প্রশ্নগুলো ঠিক সেই প্রস্তুতির জন্যই সাজানো।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

"কারক, বিভক্তি ও সমাস" অধ্যায় থেকে কেমন প্রশ্ন আসে?

NTRCA (Teacher Registration) নিয়োগ পরীক্ষায় NTRCA - School Level বিষয়ের "কারক, বিভক্তি ও সমাস" অধ্যায় থেকে নিয়মিত MCQ আসে। এই পেজে বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক জায়গায় দেওয়া হয়েছে — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ।

উত্তর ও সমাধান কি বিনামূল্যে?

হ্যাঁ। প্রশ্ন, অপশন, সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যা — সবই লগইন ছাড়াই বিনামূল্যে দেখা যায়। টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করতে চাইলে একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট দিয়ে প্র্যাকটিস মোডে যান।