সমাধান
সমাধান
💼
NTRCA - School Level

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (সংক্ষিপ্ত)

NTRCA (Teacher Registration) · NTRCA - School Level — বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক পেজে।

নিচে NTRCA (Teacher Registration) নিয়োগ পরীক্ষার NTRCA - School Level বিষয়ের "বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (সংক্ষিপ্ত)" অধ্যায়ের বাছাইকৃত ১১টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ। সবই বিনামূল্যে।

1

'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কে ছিলেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্রমথ চৌধুরী

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- এটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকা।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

এছাড়াও তিনি আরও কিছু পত্রিকা সম্পাদনা করেন
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ণ,
- সংবাদ সাধুরঞ্জন ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
তিনি ১৮৩১ সালে প্রথমে সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে 'সংবাদ প্রভাকর' প্রতিষ্ঠা করেন।
এটি বাংলা সাংবাদিকতার ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ১৮৩৯ সাল থেকে এটি বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
অন্যান্য বিকল্প ভুল হওয়ার কারণ:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: তিনি 'বঙ্গদর্শন' (১৮৭২) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম: তিনি 'ধূমকেতু''লাঙল' পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী: তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
2

 'মোদের গরব মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা —–গানের রচয়িতা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অতুল প্রসাদ সেন
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. জসীমউদ্দীন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

- বাংলাভাষীদের নিকট অতুলপ্রসাদ প্রধানত একজন সঙ্গীতজ্ঞ ও সুরকার হিসেবেই পরিচিত।
- তাঁর গানগুলি প্রধানত স্বদেশীসঙ্গীত, ভক্তিগীতি ও প্রেমের গান এ তিন ধারায় বিভক্ত।

মোদের গরব মোদের আশা
গান : অতুলপ্রসাদ সেন 

মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা!
তোমার কোলে, তোমার বোলে, কতই শান্তি ভালবাসা!
কি যাদু বাংলা গানে!-গান গেয়ে দাঁড় মাঝি টানে,
এমন কোথা আর আছে গো!
গেয়ে গান নাচে বাউল, গান গেয়ে ধান কাটে চাষা
ঐ ভাষাতেই নিতাই গোরা, আনল দেশে ভক্তি-ধারা,
মরি হায়, হায় রে!
আছে কই এমন ভাষা, এমন দুঃখ-শ্রান্তি-নাশা!
বিদ্যাপতি, চণ্ডী, গোবিন, হেম, মধু, বঙ্কিম, নবীন-
আরও কত মধুপ গো!
ঐ ফুলেরি মধুর রসে, বাঁধলো সুখে মধুর বাসা
বাজিয়ে রবি তোমার বীণে, আনলো মালা জগৎ জিনে—
গরব কোথায় রাখি গো!
তোমার চরণ-তীর্থে আজি, জগৎ করে যাওয়া-আসা
ঐ ভাষাতেই প্রথম বোলে, ডাকনু মায়ে ‘মা’, ‘মা’ বলে;
ঐ ভাষাতেই বলবো ‘হরি’, সাঙ্গ হলে কাঁদা-হাসা

সূত্র: বাংলাপিডিয়া

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: অতুল প্রসাদ সেন
'মোদের গরব মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা' গানটি অতুল প্রসাদ সেন রচিত একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গান। এই গানটি বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা এবং গর্বকে প্রকাশ করে।
বাংলাভাষী অঞ্চলের জাতীয়তাবোধ জাগরণে এবং ভাষা আন্দোলনে এই গানটির গুরুত্ব অপরিসীম। গানটি তাঁর বিখ্যাত গানের সংকলন 'কয়েকটি গান'-এর অন্তর্ভুক্ত।
অন্যান্য জনপ্রিয় রচয়িতারাও দেশাত্মবোধক গান রচনা করলেও (যেমন: রবীন্দ্রনাথের 'আমার সোনার বাংলা', নজরুলের 'চল চল চল'), এই নির্দিষ্ট গানটির স্রষ্টা হলেন অতুল প্রসাদ সেন
3

‘চর্যাপদ’ আবিষ্কৃত হয় কত সালে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 1909
  2. 1798
  3. 1907
  4. 1709

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

চর্যাপদ  বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন। 
- চর্যাপদের সাথে আরও দুটি বই - ডাকার্ণব ও দোহাকোষ যেগুলো নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের সাথে আবিষ্কৃত হয়। 
- তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭ (সাড়ে ৪৬)টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি  সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৯০৭
চর্যাপদ হলো বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন
এটি ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে আবিষ্কৃত হয়।
তিনি চর্যাপদের সাথে আরও দুটি পুথি—ডাকার্ণব ও দোহাকোষ—আবিষ্কার করেন।
4

প্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ কে লেখেন?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রামমোহন রায়
  2. ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  3. উইলিয়াম কেরী
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপধ্যায়

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

• বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ রচয়িতা নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহেড৷
- তার রচিত গ্রন্থটির নাম 'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' (১৭৭৮)। গ্রন্থটি মূলত ইংরেজী ভাষায় রচিত।
- তবে দৃষ্টান্ত দেবার সময় এর কিছু অংশ বাংলা লিপিতে মুদ্রিত হয়।

• মনে রাখতে হবে, 
প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন (পর্তুগিজ ভাষায়) - মনোএল দা আসুসাম্পসাঁউ (ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ) ।
প্রথম বাংলা ব্যাকরণগ্রন্থ রচনা করেন (মূলত ইংরেজী ভাষায়) - নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহেড (এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ)।
বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ (বাংলায়) - গৌড়ীয় ব্যাকরণ (রামমোহন রায়)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
পরীক্ষার ক্ষেত্রে, যখন জিজ্ঞাসা করা হয় 'প্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ কে লেখেন?', তখন সাধারণত ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেডের লেখাটিকে বোঝানো হয়।
তিনি ১৭৭৮ সালে 'A Grammar of the Bengal Language' নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। এই গ্রন্থটি মূলত ইংরেজী ভাষায় রচিত হলেও এতে বাংলা ভাষার উদাহরণ দিতে প্রথমবার বাংলা অক্ষর ব্যবহৃত হয়।
রামমোহন রায়: তিনি ছিলেন প্রথম বাঙালি, যিনি বাংলায় বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন ('গৌড়ীয় ব্যাকরণ', ১৮২৬/১৮৩৩)।
উইলিয়াম কেরী: তিনি বাংলা ভাষার জন্য ব্যাকরণ ও অভিধান রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, প্রথম ব্যাকরণটির রচয়িতা নন।
5

বাংলাদেশের সাহিত্যে সর্বোচ্চ পুরষ্কার কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ২১শে পদক
  2. স্বাধীনতা দিবস পুরষ্কার
  3. বাংলা একাডেমি পুরষ্কার
  4. শিশু একাডেমি পুরষ্কার

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার বাংলাদেশের সাহিত্যে সর্বোচ্চ পুরষ্কার।
- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ক্ষেত্রে সামগ্রিক অবদানের জন্য লেখকদের সৃজনী প্রতিভার স্বীকৃতি স্বরূপ এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- ১৯৬০ সালে এ পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়।
- বাংলা সাহিত্যের ১০টি শাখায় এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- প্রতিটি পুরস্কারের মূল্যমান ৩,০০,০০.০০ (তিন লক্ষ) টাকা।
- প্রতি বছর মাসব্যাপী আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলা ও অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার প্রাপ্তদের পুস্কারের অর্থমূল্যের চেক, সম্মাননা পত্র ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।

• স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার
- স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার।
- মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সরকার এ পুরস্কার প্রবর্তন করে।

সূত্র: বাংলা একাডেমি ও বাংলাপিডিয়া
 

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: বাংলা একাডেমি পুরস্কার
এটি বাংলাদেশের সাহিত্যে প্রদত্ত সর্বোচ্চ পুরস্কার হিসেবে স্বীকৃত।
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হয় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য লেখকদের সৃজনী প্রতিভার স্বীকৃতি স্বরূপ। এটি ১৯৬০ সালে প্রবর্তন করা হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার নয়:
স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার: এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার (Highest State Award), কিন্তু এটি শুধুমাত্র সাহিত্যের জন্য সীমাবদ্ধ নয়।
একুশে পদক: এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদক, যা শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, সাংবাদিকতা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য প্রদান করা হয়।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
6

’আরেক ফাল্গুন’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জহির রায়হান
  2. শওকত ওসমান
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সেলিনা হোসেন

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

• ভাষা আন্দোলন নিয়ে জহির রায়হান রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস- ‘আরেক ফাল্গুন’
• উপন্যাস টি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।
• এটি বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১শে ফেব্রুয়ারি নিয়ে লেখা উপন্যাস। পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে- ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো’। তাদের বিশ্বাস জনতার প্রতিবাদ আগামী ফাল্গুনে আরও প্রবল হবে।

• জহির রায়হান রচিত আরেকটি বিখ্যাত উপন্যাস ‘হাজার বছর ধরে’ প্রকাশকাল ১৯৬৪।
• জহির রায়হান ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসটি রচনার জন্য আদমজি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
• এছাড়াও উপন্রাসের জন্য বাংলা একাডেমি থেকে মরণোত্তর সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন (১৯৭২)।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো জহির রায়হান
’আরেক ফাল্গুন’ গ্রন্থটি হলো ভাষা আন্দোলন কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস। এটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
এই উপন্যাসে ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনকারী সাধারণ জনতার আশা, আকাঙ্ক্ষা ও প্রতিবাদের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেই সময়কার স্লোগান—'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'—এই উপন্যাসের মূল ভাবকে প্রতিফলিত করে।
অন্যান্য অপশনে থাকা সাহিত্যিকগণ (শওকত ওসমান, সৈয়দ শামসুল হক, সেলিনা হোসেন) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের দিকপাল হলেও ’আরেক ফাল্গুন’ গ্রন্থটির রচয়িতা শুধুমাত্র জহির রায়হান।
7

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম শাখা কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ছোটগল্প
  2. নাটক
  3. কাব্য
  4. উপন্যাস

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

• বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম শাখা কাব্য।
- 'চর্যাপদ' বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। যা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেন কাহ্নপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কাব্য
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম লিখিত নিদর্শন হলো চর্যাপদ। এই চর্যাপদ মূলত কবিতা বা গানের সংকলন, যা সাহিত্যের কাব্য শাখাকে নির্দেশ করে।
চর্যাপদ আনুমানিক সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে রচিত, যা বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন। তাই কাব্যই প্রাচীনতম শাখা।
অপরদিকে, উপন্যাস, নাটকছোটগল্প এই শাখাগুলো বাংলা সাহিত্যে প্রধানত আধুনিক যুগে (উনবিংশ শতকে) এসে বিকাশ লাভ করে। তাই এগুলো অনেক পরবর্তী সময়ের সৃষ্টি।
8

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা ভাষার উদ্ভব-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সংস্কৃত থেকে
  2. গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে
  3. মাগধী প্রাকৃত থেকে
  4. মৈথিলী থেকে

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন, ভারতীয় ভাষা থেকেই বৈদিক এবং প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার সৃষ্টি। 
খ্রিষ্টপূর্ব আটশ অব্দে প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা থেকেই আদিম প্রাকৃত ভাষার সৃষ্টি। 
আনুমানিক দুইশ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দে এই ভাষা থেকেই গৌড়ীয় প্রাকৃত এবং আনুমানিক চারশ অব্দে গৌড়ী পাকৃত থেকে গৌড়ী অপভ্রংশের সৃষ্টি। 
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড় অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গকামরূপী ভাষার মাধ্যমে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ পরিগ্রহ করে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার উদ্ভব সংক্রান্ত দুটি প্রধান মতবাদের মধ্যে একটি হলো ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতবাদ।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন, বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে।
তাঁর মতে, এই পথটি ছিল— আদিম প্রাকৃত \rightarrow গৌড়ীয় প্রাকৃত \rightarrow গৌড় অপভ্রংশ \rightarrow বঙ্গকামরূপী ভাষা \rightarrow বাংলা ভাষা।
তাঁর মতে, বাংলা ভাষা ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে স্বতন্ত্র রূপ পরিগ্রহ করে। তাই বিকল্পগুলোর মধ্যে গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে উত্তরটি সঠিক।
অন্যদিকে, মাগধী প্রাকৃত থেকে (অপশন ৩) বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে বলে মনে করেন ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়।
9

কোন সালে বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. 1948
  2. 1952
  3. 1955
  4. 1969

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

- বাংলা একাডেমী বাংলা ভাষা সংক্রান্ত সর্ববৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দের ১৭ অগ্রহায়ণ (৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৫) ঢাকার বর্ধমান হাউসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের ১ ডিসেম্বর মুহম্মদ এনামুল হক (১৯০২-১৯৮২) একাডেমীর প্রথম পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমির প্রথম মহাপরিচালক প্রফেসর মাযহারুল ইসলাম (১৯৭২ সাল)।
- বাংলা একাডেমির প্রথম সভাপতি মাওলানা আঁকরাম খাঁ (১৯৬১ সাল)।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ১৯৫৫
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণা, উন্নয়ন ও চর্চার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ১৩৬২ বঙ্গাব্দের ১৭ অগ্রহায়ণ তারিখে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইংরেজি তারিখটি হলো ৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৫
বাংলা একাডেমি ঢাকার বর্ধমান হাউসে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
দ্রষ্টব্য: অপশন ১৯৫২ সালে বাংলাদেশে মহান ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয়, যা বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার প্রধান অনুপ্রেরণা ছিল, কিন্তু এটি প্রতিষ্ঠার সাল নয়।
10

কবর‘- নাটকের রচিয়তা কে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. জহির রায়হান
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. জসীম উদ্দীন

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মুনীর চৌধুরী
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী রচিত বিখ্যাত নাটক হলো 'কবর'
এই নাটকটির মূল পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এটি ভাষা আন্দোলনের ওপর রচিত প্রথম নাটক হিসেবে পরিচিত।
মুনীর চৌধুরী ১৯৫৩ সালে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় বামপন্থী নেতা রণেশ দাশগুপ্তের অনুরোধে এটি রচনা করেন।
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ: জহির রায়হান (উপন্যাসিক, 'আরেক ফাল্গুন'), কাজী নজরুল ইসলাম (কবি), জসীম উদ্দীন (পল্লী কবি) এই নাটকের রচয়িতা নন।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
11

কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. অসমিয়া
  2. হিন্দি
  3. বঙ্গকামরুপী
  4. সংস্কৃত

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন, ভারতীয় ভাষা থেকেই বৈদিক এবং প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার সৃষ্টি।  
- খ্রিষ্টপূর্ব আটশ অব্দে প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা থেকেই আদিম প্রাকৃত ভাষার সৃষ্টি। 
- আনুমানিক দুইশ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দে এই ভাষা থেকেই গৌড়ীয় প্রাকৃত এবং আনুমানিক চারশ অব্দে গৌড়ী পাকৃত থেকে গৌড়ী অপভ্রংশের সৃষ্টি। 
- জর্জ গ্রিয়ারসন, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী মনে করেন মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি। 
- কিন্তু ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ গৌড় অপভ্রংশ থেকে আনুমানিক খ্রিষ্টীয় পাঁচশ অব্দে বঙ্গ কামরূপী ভাষার তৈরী। 
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড় অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গকামরূপী ভাষার মাধ্যমে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ পরিগ্রহ করে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার উৎপত্তি নিয়ে ভাষাবিজ্ঞানীদের মধ্যে প্রধানত দুটি মত প্রচলিত। প্রশ্নটিতে যেহেতু বঙ্গকামরূপী শব্দটি বিকল্প হিসেবে দেওয়া আছে, তাই এখানে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতবাদ অনুসরণ করা হয়েছে।
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন যে, গৌড় অপভ্রংশ ভাষা থেকে আনুমানিক ৫০০ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গকামরূপী ভাষার জন্ম হয়। এই বঙ্গকামরূপী ভাষা থেকেই ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্র রূপ পরিগ্রহ করে।
অন্যদিকে, ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী মনে করেন, মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশের মাধ্যমে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে।
সুতরাং, প্রশ্নে প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে বঙ্গকামরূপী হলো সেই সরাসরি পূর্বসূরি ভাষা, যা ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ কর্তৃক স্বীকৃত।

এই অধ্যায়ের প্রশ্ন টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করুন

এই পেজে বাছাইকৃত ১১টি প্রশ্ন সমাধানসহ দেওয়া হয়েছে। প্র্যাকটিস মোডে এক-একটি করে উত্তর দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল, স্কোর ও অগ্রগতি ট্র্যাক করুন।

NTRCA - School Level-এর অন্যান্য অধ্যায়

কেন NTRCA (Teacher Registration)-এর জন্য “বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (সংক্ষিপ্ত)” অধ্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ?

NTRCA (Teacher Registration) নিয়োগ পরীক্ষার NTRCA - School Level অংশে “বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (সংক্ষিপ্ত)” থেকে প্রায় প্রতিবারই প্রশ্ন আসে। বিগত সালের প্রশ্নের ধরন বুঝে নিয়মিত অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ের নম্বর নিশ্চিত করা সহজ হয় — এই পেজের বাছাইকৃত প্রশ্নগুলো ঠিক সেই প্রস্তুতির জন্যই সাজানো।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

"বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (সংক্ষিপ্ত)" অধ্যায় থেকে কেমন প্রশ্ন আসে?

NTRCA (Teacher Registration) নিয়োগ পরীক্ষায় NTRCA - School Level বিষয়ের "বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (সংক্ষিপ্ত)" অধ্যায় থেকে নিয়মিত MCQ আসে। এই পেজে বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক জায়গায় দেওয়া হয়েছে — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ।

উত্তর ও সমাধান কি বিনামূল্যে?

হ্যাঁ। প্রশ্ন, অপশন, সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যা — সবই লগইন ছাড়াই বিনামূল্যে দেখা যায়। টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করতে চাইলে একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট দিয়ে প্র্যাকটিস মোডে যান।