সমাধান
সমাধান
💼
NTRCA - School Level

সন্ধি ও প্রত্যয়

NTRCA (Teacher Registration) · NTRCA - School Level — বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক পেজে।

নিচে NTRCA (Teacher Registration) নিয়োগ পরীক্ষার NTRCA - School Level বিষয়ের "সন্ধি ও প্রত্যয়" অধ্যায়ের বাছাইকৃত ২০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ। সবই বিনামূল্যে।

1

ঢাকা + ঈশ্বরী = ঢাকেশ্বরী - নিচের কোন নিয়মে হয়েছে?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. আ + ঈ = এ
  2. অ + ঈ = এ
  3. আ + ই = এ
  4. অ + ই = এ

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

ঢাকা + ঈশ্বরী = ঢাকেশ্বরী একটি তৎসম স্বরসন্ধি৷ যা 'আ + ঈ = এ' নিয়মে গঠিত হয়েছে৷
এরূপ:
- মহা + ঈশ্বর = মহেশ্বর
- রমা + ঈশ = রমেশ
- মহা + ঈশ = মহেশ
 
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: আ + ঈ = এ (অপশন ০)।
স্বরসন্ধির নিয়মানুসারে, যদি অ-কার (অ/আ) এর পরে ই-কার (ই/ঈ) থাকে, তবে উভয়ে মিলে 'এ-কার' হয়। এই নিয়মটিকে গুণ সন্ধি (Guna Sandhi) বলা হয়।
এখানে: ঢাকা শব্দের শেষে আছে এবং ঈশ্বরী শব্দের প্রথমে আছে
সুতরাং, আ + ঈ = এ; ফলে শব্দটি হয়েছে ঢাকেশ্বরী
অন্যান্য অপশনগুলোও গুণ সন্ধির অংশ, কিন্তু এই নির্দিষ্ট পদের জন্য (extঢাকা+extঈশ্বরী ext{ঢাকা} + ext{ঈশ্বরী}) আ + ঈ = এ নিয়মটিই প্রযোজ্য।
2

‘কৃষ্টি‘ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কৃ+ক্তি
  2. কৃষ+তি
  3. কৃঃ+তি
  4. কৃষ+টি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

ষ- এর পর ত বা থ থাকলে, যথাক্রমে ত ও থ স্থানে ট ও ঠ হয়।
যেমন-
কৃষ্‌ + তি = কৃষ্টি,
ষষ্‌ + থ = ষষ্ঠ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কৃষ+তি (কৃষ্‌ + তি)। এটি একটি ব্যঞ্জন সন্ধি-র উদাহরণ।
বাংলা ব্যাকরণের ব্যঞ্জন সন্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো: পূর্বপদের শেষে ষ (ষ্) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে ত (তি) বা থাকলে, যথাক্রমে স্থানে ট (টি) হয়।
এই নিয়মানুসারে, কৃষ্‌ + তি = কৃষ্টি। এখানে 'ষ্' এর প্রভাবে 'তি' ধ্বনিটি 'টি' তে রূপান্তরিত হয়েছে।
অন্যান্য অপশনগুলো (যেমন: কৃ+ক্তি, কৃষ+টি) ব্যাকরণের এই নির্দিষ্ট ধ্বনি পরিবর্তনের নিয়ম অনুসরণ করে না, তাই ভুল।
3

‘শ্রবণ' শব্দটির প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. শ্রবণ+অ
  2. √শ্রী + অন
  3. √শ্ৰু + অন
  4. √শ্রব + অন

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

শ্রবণ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = √শ্রু+অন
অর্থ: 
- শোনার কাজ, শুনন;
- শ্রবণেন্দ্রিয়, কান। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো √শ্ৰু + অন। ‘শ্রবণ’ শব্দটি একটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
এটি কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ, যেখানে শব্দমূল বা ধাতুটির (√শ্রু, অর্থ: শোনা) সাথে প্রত্যয় (অন) যুক্ত হয়ে শব্দটি গঠিত হয়েছে।
সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, যখন ‘√শ্ৰু’ ধাতুর সাথে ‘অন’ প্রত্যয় যুক্ত হয়, তখন ধাতুর ‘উ’ ধ্বনিটি বৃদ্ধি বা পরিবর্তন (Vriddhi/Augmentation) হয়ে ‘ও’ ধ্বনিতে রূপান্তর হয়।
ফলাফলস্বরূপ: শ্রু\sqrt{শ্রু} + অন = শ্রবণ। এটি বিশেষ্য পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অন্যান্য অপশনগুলি ব্যাকরণগতভাবে ভুল: ‘শ্রবণ+অ’ বা ‘√শ্রব + অন’ সঠিক প্রকৃতিকে নির্দেশ করে না।
4

ক্রিয়া বা ধাতুর পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলে-

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. ধাতু প্রত্যয়
  2. শব্দ প্রত্যয়
  3. কৃৎ প্রত্যয়
  4. তদ্ধিত প্রত্যয়

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

কৃৎ প্রত্যয়
যে-প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- আর কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। (অর্থাৎ যার অন্তে বা শেষে কৃৎ প্রত্যয় আছে) ।
যেমন: পডু + আ = পড়া। এখানে পড়া’ শব্দটি কৃদন্ত শব্দ। কৃৎ প্রত্যয়ে ধাতুর আগে ক্রিয়ামূল বা ধাতুমূল চিহ্ন √ বসে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: কৃৎ প্রত্যয়
বাংলা ব্যাকরণে প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার: কৃৎ প্রত্যয় এবং তদ্ধিত প্রত্যয়
যে প্রত্যয় ক্রিয়ামূল বা ধাতুর (যেমন: চল্, কর্, খা, পড়ু) সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে। প্রশ্নে সরাসরি ক্রিয়া বা ধাতুর পরের প্রত্যয়ের কথা বলা হয়েছে, তাই এটি কৃৎ প্রত্যয়।
অন্যদিকে, তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয় শব্দমূল বা নাম শব্দের (বিশেষ্য, বিশেষণ) পরে।
অন্যান্য অপশন যেমন 'ধাতু প্রত্যয়' বা 'শব্দ প্রত্যয়' প্রত্যয়ের প্রকারভেদ হিসেবে প্রচলিত নয়।
5

নিচের কোন শব্দটি প্রাতিপদিক ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. সাধিত
  2. লাঙ্গল
  3. দম্পতি
  4. লেখা
  5. ধাতু

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

প্রাতিপদিক :
- লাঙ্গল- এর সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় নি। 
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়।

- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম-প্রকৃতিও বলা হয়।

- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া- প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: লাঙ্গল
বাংলা ব্যাকরণে প্রাতিপদিক (Nominal Stem) বলতে বোঝায় বিভক্তিহীন নাম শব্দকে। অর্থাৎ, যে সকল শব্দ কেবলমাত্র মূল নাম প্রকৃতির রূপে থাকে এবং তার সাথে কোনো কারকবাচক বিভক্তি যুক্ত হয় না, তাকেই প্রাতিপদিক বলে।
যেমন: হাত, বই, লাঙ্গল, গাছ—এই শব্দগুলো বিভক্তিহীন অবস্থায় রয়েছে (শূন্য বিভক্তি), তাই এগুলো প্রাতিপদিক।
অন্যদিকে, 'লেখা' শব্দটি (লিখ্+লিখ্ + আ) একটি কৃদন্ত শব্দ (ক্রিয়ামূল থেকে প্রত্যয় যোগে সৃষ্ট)। এটি নাম শব্দ হলেও এর মূল প্রকৃতি হলো ক্রিয়া-প্রকৃতি (ধাতু)। যদিও প্রাতিপদিককে নাম-প্রকৃতি বলা হয়, কিন্তু 'লাঙ্গল' সরাসরি মূল বিভক্তিহীন নাম শব্দ হওয়ায় এটি সবচেয়ে উপযুক্ত উদাহরণ।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
6

‘দূর্যোগ’- এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. দুহঃ+যোগ
  2. দুঃ+যোগ
  3. দুর+যোগ
  4. দুরঃ+যোগ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘দূর্যোগ’- এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ = দুঃ+যোগ

• অ ও আ ভিন্ন অন্য অন্য স্বরের পরে বিসর্গ থাকলে, এবং তার সঙ্গে অ আ বর্গীয় ঘোষ অল্পপ্রান ও ঘোষ মহাপ্রান নাসিল্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে র-হয়। 
যেমন- 
নিঃ+আকার = নিরাকার
আশী+বাদ = আশীর্বাদ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: দুঃ+যোগ। এটি বিসর্গ সন্ধির (Visarga Sandhi) একটি উদাহরণ।
বিসর্গ সন্ধির নিয়ম (র-জাত): অ ও আ ভিন্ন অন্য কোনো স্বরের (যেমন: ই, উ) পরে যদি বিসর্গ (ঃ) থাকে এবং তার সঙ্গে কোনো ঘোষ ধ্বনি (বর্গের ৩য়, ৪র্থ, ৫ম বর্ণ) অথবা য, র, ল, ব, হ যুক্ত হয়, তবে বিসর্গ স্থানে 'র' বা 'রেফ' (র্) হয়।
এখানে, দুঃ (উ-কার পরে বিসর্গ) + যোগ (য) = দূর্যোগ। বিসর্গটি 'র'-তে পরিবর্তিত হয়ে 'য'-এর উপর রেফ সৃষ্টি করেছে।
অন্যান্য অপশনগুলো (যেমন: দুহঃ+যোগ, দুর+যোগ) ভুল, কারণ বিসর্গ সন্ধিতে বিসর্গযুক্ত পদটিই সন্ধির প্রথম অংশ হিসেবে থাকে (যেমন: দুঃ, নিঃ)।
7

নিয়ম অনুসারে সন্ধি হয় না কোনটির?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. পাবক
  2. শাবক
  3. কুলটা
  4. গায়ক

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

কিছু স্বরসন্ধি সূত্র অনুসরণ করে না, সেগুলােকে নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন – কুল+অটা = কুলটা (সূত্র অনুসারে কুলাটা হওয়ার কথা)।
গাে+অক্ষ = গবাক্ষ (সূত্র অনুসারে গবক্ষ হওয়ার কথা) ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো কুলটা। এটি বাংলা ব্যাকরণের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি-এর উদাহরণ।
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি হলো সেইসব সন্ধি, যা ব্যাকরণের প্রচলিত কোনো সূত্র বা নিয়ম অনুসরণ করে না। এগুলি বিশেষ বা অনিয়মিতভাবে গঠিত হয় এবং ব্যতিক্রম হিসেবে মুখস্থ রাখতে হয়।
কুলটা শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ হলো: কুল + অটা। স্বরসন্ধির প্রচলিত নিয়ম (অ/আ + অ/আ = আ) অনুসারে এর স্বাভাবিক রূপ হওয়ার কথা ছিল কুলাটা। কিন্তু নিয়মের ব্যতিক্রম হওয়ায় এটি 'কুলটা' রূপেই সিদ্ধ হয়েছে।
অন্যান্য অপশনগুলি যেমন— পাবক (পৌ + অক), শাবক (শৌ + অক), এবং গায়ক (গৈ + অক) হলো প্রচলিত অয়, আব, আয় বিধির অনুসারী স্বরসন্ধি (এ, ঐ, ও, ঔ-এর পর স্বরধ্বনি থাকলে)। তাই এগুলি নিয়ম মেনেই গঠিত হয়েছে।
8

প্রত্যয়ের কোন নিয়মটি সঠিক?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নীল + মা
  2. নীল + ইমন
  3. নী + ইলিমা
  4. নিলী + ইমা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

প্রত্যয়ের ক্ষেত্রে, শব্দের শেষে ইমা থাকলে ইমন হবে। 

প্রদত্ত শব্দ - প্রকৃতি ও প্রত্যয়
মহিমা = মহৎ + ইমন    
নীলিমা = নীল + ইমন
লঘিমা = লঘু + ইমন
রক্তিমা = রক্ত + ইমন
দ্রাঘিমা = দীর্ঘ + ইমন
গরিমা = গুরু + ইমন

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: নীল + ইমন। এটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম।
যে সকল ভাববাচক বিশেষ্য শব্দ '-ইমা' দিয়ে শেষ হয় (যেমন: নীলিমা, মহিমা, গরিমা), তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয়ের সময় প্রত্যয় হিসেবে 'ইমন' ব্যবহৃত হয়।
এখানে, 'নীল' হলো প্রকৃতি (মূল শব্দ) এবং 'ইমন' হলো তদ্ধিত প্রত্যয়। নীল + ইমন = নীলিমা
অন্যান্য অপশন যেমন, 'নীল + মা', 'নী + ইলিমা', বা 'নিলী + ইমা' ব্যাকরণগতভাবে সম্পূর্ণরূপে ভুল এবং প্রমিত প্রকৃতি ও প্রত্যয় গঠনের নিয়মকে অনুসরণ করে না।
9

’মানব’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মনু + ষ্ণ
  2. মনু + অব
  3. মা + নব
  4. মান + অব

সঠিক উত্তর: ক

সমাধান

নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ অনুসারে,
- যে শব্দের সঙ্গে ষ্ণ (অ) প্রত্যয় যুক্ত হয়, তার প্রাতিপদিকের অন্ত্যস্বরের উ-কার এবং ও-কারে পরণিত হয়। ও + অ সন্ধিতে ‘অব’ হয়।
যেমনঃ 
- শিশু + ষ্ণ = শৈশব,
- কিশাের + ষ্ণ = কৈশাের,
- গুরু + ষ্ণ = গৌরব,
- লঘু + ষ্ণ = লাঘব,
- মধু + ষ্ণ = মাধব,
- মনু + ষ্ণ = মানব ইত্যাদি।

আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
মানব (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = মনু+অ 
অর্থ - স্ত্রী বা পুরুষকুলের হোমোসেপিয়ান গোষ্ঠীভুক্ত প্রাণী, মানব, মনুষ্য, নৃ।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: মনু + ষ্ণ
‘মানব’ শব্দটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ। এখানে মনু হলো প্রকৃতি বা প্রাতিপদিক এবং ষ্ণ হলো প্রত্যয়।
তদ্ধিত প্রত্যয় ‘ষ্ণ’ (অণ) যুক্ত হলে প্রাতিপদিকের প্রথম স্বরের বৃদ্ধি ঘটে। এখানে ‘মনু’ শব্দের আদি স্বর ‘উ’ (u) পরিবর্তিত হয়ে ‘আ/অব’ রূপ নেয়।
ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, যখন শব্দের সঙ্গে ষ্ণ (অ) প্রত্যয় যুক্ত হয়, তখন প্রাতিপদিকের অন্ত্যস্বরের উ-কার এবং ও-কারে পরিণত হয়। পরবর্তীতে ও + অ সন্ধিতে ‘অব’ হয়।
যেমন: মনু (উ) \rightarrow++++++\rightarrow মানব
10

সন্ধি ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয় ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. রূপতত্ত্বে
  2. বাক্যতত্ত্বে
  3. অর্থতত্ত্বে
  4. ধ্বনিতত্ত্বে

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

'সন্ধি' ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্বে আলোচিত হয়।
 
• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত হয়।
যথা –
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব,
-বাক্যতত্ত্ব ও
- অর্থতত্ত্ব।
 
• ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় সমূহ
- ধ্বনি,
- বর্ণ,
- ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি,
- উচ্চারণের স্থান,
- ধ্বনি পরিবর্তন ও
- লোপ, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
- সন্ধি ইত্যাদি।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ধ্বনিতত্ত্বে (Phonology)।
সন্ধি (Junction) মানে হলো পাশাপাশি থাকা দুটি ধ্বনির মিলন। এই মিলনের ফলে ধ্বনির পরিবর্তন, লোপ বা নতুন ধ্বনির আগমন ঘটে। যেহেতু সন্ধির প্রধান কাজই হলো ধ্বনি নিয়ে, তাই এটি ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আলোচিত হয়।
ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় মূলত চারটি: ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব ও অর্থতত্ত্ব
যেহেতু রূপতত্ত্ব শব্দ ও পদ গঠন নিয়ে (সমাস, প্রত্যয়), বাক্যতত্ত্ব বাক্য নির্মাণ নিয়ে এবং অর্থতত্ত্ব শব্দের অর্থ নিয়ে আলোচনা করে, তাই এই অংশগুলো সন্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য

ক্লাস ৬-১২ একাডেমিক প্রস্তুতিও নিন

ক্লাস ৬-১২, এসএসসি ও এইচএসসির সব বিষয়ের বোর্ড প্রশ্ন, অধ্যায়ভিত্তিক প্র্যাকটিস, লাইভ পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট — সবই এক জায়গায়, Somadhan-এর একাডেমিক সেকশনে।

একাডেমিক প্রস্তুতি দেখুন
11

’মহিমা’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. মহি + মা
  2. মহৎ + ইমন
  3. মহা + ইমা
  4. মহিম + আ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

মহিমা' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় - মহৎ + ইমন।

এরূপ’
নীল + ইমন = নীলিমা
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: মহৎ + ইমন। মহিমা শব্দটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়েছে।
যে প্রত্যয়গুলি শব্দমূলের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। এই প্রত্যয়গুলি সাধারণত ভাব, গুণ বা অবস্থা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
এখানে, মূল প্রকৃতি বা শব্দমূল হলো ‘মহৎ’ (অর্থ: মহান বা বড়) এবং প্রত্যয়টি হলো ‘ইমন’
‘ইমন’ প্রত্যয় যোগ হলে সাধারণত গুণবাচক বিশেষ্য পদ গঠিত হয়। এই প্রত্যয় যুক্ত হলে মূল শব্দের শেষের ‘ত’ লোপ পায় এবং ‘ইমা’ (অর্থাৎ ‘ইমন’-এর ‘ই’ এবং ‘মা’) অংশটি শব্দে যুক্ত হয়ে মহিমা গঠন করে।
অন্যান্য অপশনগুলো (যেমন মহি + মা, মহা + ইমা ইত্যাদি) ব্যাকরণসম্মত প্রত্যয় বিভাজন অনুসরণ করেনি, তাই এগুলো ভুল।
12

‘বক্তব্য‘- এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. √বক্+তব্য
  2. √বক্ত+অব্য
  3. √বক্ত+ব্য
  4. √বচ্+তব্য

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বক্তব্য (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √বচ্‌ + তব্য
অর্থ: 
- বলতে হবে বা বলার যোগ্য এমন। 
- আলোচ্য, উল্লেখ্য। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: √বচ্ + তব্য
‘বক্তব্য’ শব্দটি হলো একটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ। কৃৎ প্রত্যয় হলো সেই প্রত্যয় যা প্রকৃতির (ক্রিয়ামূল) পরে যুক্ত হয়।
এখানে প্রকৃতি বা ক্রিয়ামূল হলো √বচ্‌ (যার অর্থ 'বলা' বা 'to speak')।
এর সাথে তব্য (যা যোগ্য বা কর্তব্য অর্থে ব্যবহৃত হয়) কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে শব্দটি গঠিত হয়েছে। সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, √বচ্ + তব্য = বক্তব্য
অন্যান্য অপশনগুলো ভুল, কারণ ব্যাকরণগতভাবে ‘বক্ত’ বা ‘বক্’ মূল ধাতু বা প্রকৃতি হিসেবে ব্যবহৃত হয় না; এর মূল ধাতু হলো √বচ্‌
13

পাঠক' শব্দের যথার্থ প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. √পাঠ + অক
  2. √পঠ + অক
  3. √পা + ঠক
  4. √পাঠ + টক

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

পাঠক' শব্দের যথার্থ প্রকৃতি ও প্রত্যয় = √পাঠি+অক

পাঠক (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √পাঠি+অক 
অর্থ: 
- পাঠকারী
- ছাত্র
- কথক 
- শিক্ষক

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

বাংলাভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ অনুসারে, 
'পাঠক' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় = √পঠ + অক। 
তৎকালীন প্রশ্ন অনুযায়ী সঠিক বলে বিবেচিত।

ব্যাখ্যা

'পাঠক' শব্দটি একটি কৃৎ প্রত্যয়সাধিত শব্দ, যার অর্থ 'যে পাঠ করে'।
কৃৎ প্রত্যয়ের ক্ষেত্রে সবসময় ধাতু (ক্রিয়ার মূল) এর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়। এখানে মূল ধাতু হলো √পঠ (পড়া বা অধ্যয়ন করা অর্থে) এবং প্রত্যয়টি হলো অক
নিয়ম অনুযায়ী, যখন √পঠ ধাতুর সঙ্গে অক প্রত্যয় যুক্ত হয়, তখন ধাতুর আদি স্বর 'অ' পরিবর্তিত হয়ে 'আ' তে পরিণত হয় (ব্যাকরণের পরিভাষায় এটিকে বৃদ্ধি বলে)। তাই সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো √পঠ + অক
অপশন '√পাঠ + অক' ভুল, কারণ 'পাঠ' নিজেই কোনো ধাতু নয়, এটি একটি নাম। প্রত্যয় যোগের জন্য ক্রিয়ামূলের প্রয়োজন হয়।
14

√কাঁদ+অন - কোন প্রত্যয়ের অন্তর্ভুক্ত?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. কৃৎ প্রত্যয়
  2. তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  5. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে কৃদন্ত শব্দ বলে।

বাংলা কৃৎ প্রত্যয় (অন):- 
ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে 'অন' প্রত্যয়ের ব্যবহার হয়।
যেমন:-
√ নাচ্ + অন = নাচন
√ কাঁদ্ + অন = কাঁদন
√ বাঁধ + অন = বাঁধন
√ চল্ + অন = চলন

উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াৎ মাহমুদ

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
প্রত্যয় মূলত দুই প্রকার: কৃৎ প্রত্যয় এবং তদ্ধিত প্রত্যয়
যেসব প্রত্যয় ক্রিয়ামূল বা ধাতুর (যেমন: √কাঁদ, √চল, √নাচ) পরে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদের কৃৎ প্রত্যয় বলে। যেহেতু √কাঁদ একটি ধাতুমূল, তাই এর সাথে যুক্ত 'অন' অবশ্যই কৃৎ প্রত্যয়।
কৃৎ প্রত্যয়কে আবার উৎস অনুসারে ভাগ করা হয়: বাংলা কৃৎ প্রত্যয় এবং সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। যেহেতু 'কাঁদ্ + অন' প্রত্যয়টি খাঁটি বাংলা ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, তাই এটি বিশেষভাবে বাংলা কৃৎ প্রত্যয়ের অন্তর্ভুক্ত।
বিপরীতে, তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয় নাম শব্দ (Noun), বিশেষণ (Adjective) বা সর্বনামের (Pronoun) সঙ্গে।
15

‘মুক্তি‘- এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. √মুচ্ + ক্তি
  2. √মুচ্ + তি
  3. √মুক্ + ক্তি
  4. √মুক্ + তি

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

‘মুক্তি'  (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √মুচ্‌ +তি
অর্থ: 
- স্বাধীনতা, 
- মোহ অত্যাদি।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

‘ক্তি’ একটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। ‘ক্তি’ সংযুক্ত শব্দের শেষে যদি ‘চ/জ’ থাকে তা ‘ক’ হয়ে যায়।
যেমন:
√মুচ্‌ + ক্তি = মুক্তি
√ভজ্‌ + ক্তি = ভক্তি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।


*** আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি এর তথ্য অধিক গ্রহণযোগ্য বলে সেটি সঠিক উত্তর হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

ব্যাখ্যা

‘মুক্তি’ শব্দটি একটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্য পদ।
বাংলা ভাষার ব্যাকরণে কৃৎ প্রত্যয় সাধনের ক্ষেত্রে সাধারণত দুটি মত প্রচলিত। একটি মতে **‘তি’** প্রত্যয় এবং অন্যটিতে **‘ক্তি’** প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
বাংলা একাডেমি প্রণীত আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী, ‘মুক্তি’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় হলো √মুচ্‌ + তি। এখানে মূল ধাতু হলো √মুচ্‌ (যার অর্থ ত্যাগ করা বা মুক্ত করা)।
অনেক ব্যাকরণে **√মুচ্ + ক্তি** (অপশন 0) প্রচলিত থাকলেও, NTRCA এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় যেহেতু বাংলা একাডেমির মানদণ্ড অধিক গ্রহণযোগ্য, তাই √মুচ্ + তি উত্তরটিই সঠিক।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো অপশন ২: √মুচ্ + তি
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন
16

`গবেষণা‘ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. গব + এষণা
  2. গো + এষণা
  3. গো + ঘণা
  4. গ + বেষণা

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

`গবেষণা‘ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - গো + এষণা। 

শব্দের শুরুতে অব্ উচ্চরণ থাকলে ও-কার হয়।
যেমন :
- গবেষণা = গো + এষণা
- লবণ = লো + অন
- পবন = পো + অন
- পবিত্র = পো + ইত্র

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই (২০১৯)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো গো + এষণা। এটি বাংলা ব্যাকরণের স্বরসন্ধির অয়াদি সন্ধি (Ayadi Sandhi) নিয়মের একটি উদাহরণ।
অয়াদি সন্ধির সূত্র: ও-কার (ও) অথবা ঔ-কারের (ঔ) পর অন্য কোনো স্বরধ্বনি থাকলে, 'ও' স্থলে 'অব্' এবং 'ঔ' স্থলে 'আব্' হয়।
এখানে, গবেষণা শব্দটিতে 'গব্' (gob) ধ্বনিটি উচ্চারিত হচ্ছে। তাই সন্ধি বিচ্ছেদের সময় 'অব্' এর জন্য 'ও' কার ব্যবহৃত হবে।
সূত্রানুসারে: গো (ext ext{ও}) + এষণা (ext ext{এ}) = গব + এষণা = গবেষণা।
17

নিচের কোনটি প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. বাঁদী
  2. সভানেত্রী
  3. জেলেনি
  4. পেত্নী

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যােগ করতে হয়।
এ রকম কয়েকটি প্রত্যয়ের প্রয়োেগ দেখানাে হলাে:
-আ প্রত্যয়: বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, প্রিয়-প্রিয়া, কনিষ্ঠ-কনিষ্ঠা।
-ই প্রত্যয়: দাদা-দাদি, জেঠা-জেঠি, পাগল-পাগলি।
-ইনি প্রত্যয়: কাঙাল-কাঙালিনি, বাঘ-বাঘিনি।
-ইনী প্রত্যয়: বিজয়ী-বিজয়িনী, যােগী-যােগিনী, তেজস্বী-তেজঘিনী।
-ঈ প্রত্যয়: কিশোর-কিশােরী, নর-নারী, সুন্দর-সুন্দরী।
-নি প্রত্যয়: জেলে-জেলেনি, বেদে-বেদেনি, ধােপ-ধােপানি।
-বতী প্রত্যয়: গুণবান-গুণবতী, পুণ্যবান-পুণ্যবতী। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: জেলেনি
নরবাচক শব্দকে স্ত্রীবাচক শব্দে পরিণত করার জন্য -নি প্রত্যয় ব্যবহার করা হয়। যেমন: জেলে (পুরুষ) + নি প্রত্যয় = জেলেনি (স্ত্রী)।
এটি ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দের একটি সরাসরি উদাহরণ।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ: ধোপা + নি = ধোপানি, বেদে + নি = বেদিনী।
যদিও 'পেত্নী' শব্দটি 'পেত' (প্রেত) শব্দের স্ত্রীবাচক রূপ এবং এতে -নী প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে (পেত + নী), তবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নে সাধারণত '-নি' প্রত্যয়যোগে গঠিত 'জেলেনি' বা 'ধোপানি' শব্দগুলিকেই আদর্শ উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়।
18

'বক্তব্য'-এর প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. √বক + তব্য
  2. √বক্ত + ব্য
  3. √বক্ত + অব্য
  4. √বচ্‌ + তব্য

সঠিক উত্তর: ঘ

সমাধান

বক্তব্য (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √বচ্‌ + তব্য
অর্থ: 
- বলতে হবে বা বলার যোগ্য এমন। 
- আলোচ্য, উল্লেখ্য। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: √বচ্‌ + তব্য
'বক্তব্য' শব্দটি একটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ। কৃৎ প্রত্যয় সর্বদা ক্রিয়ামূল বা প্রকৃতির সাথে যুক্ত হয়।
এখানে প্রকৃতি বা ক্রিয়ামূল হলো √বচ্‌ (অর্থ: বলা বা বক্তব্য রাখা)। এর সাথে তব্য প্রত্যয়টি যুক্ত হয়ে 'বক্তব্য' শব্দটি গঠিত হয়েছে।
√বচ্‌ + তব্য = বক্তব্য। এই প্রত্যয়টি (তব্য) সাধারণত যোগ্যতা বা ভবিষ্যৎ নির্দেশক অর্থ প্রকাশ করে (যা বলার যোগ্য বা বলা আবশ্যক)।
অন্যান্য অপশনে ব্যবহৃত √বক বা √বক্ত বাংলা ব্যাকরণে 'বক্তব্য' শব্দের সঠিক প্রকৃতি বা ধাতু হিসেবে স্বীকৃত নয়।
19

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ কোনটি?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. নিষ্কর
  2. পরস্পর
  3. সন্তাপ
  4. ষষ্ঠ

সঠিক উত্তর: খ

সমাধান

- অপশনে প্রদত্ত শব্দের মধ্যে 'পরস্পর' হলো নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ।

এছাড়া আরও কিছু নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো- 
• আ+ চর্য = আশ্চর্য,
• বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
• তৎ + কর = তস্কর,
• মনস্ + ঈষা = মনীষা,
• ষট্ + দশ = ষোড়শ
• পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯সংস্করণ)।

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: পরস্পর। এটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ।

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি হলো এমন কিছু শব্দ, যা প্রচলিত কোনো সন্ধির (স্বর, ব্যঞ্জন বা বিসর্গ) নিয়ম পুরোপুরি অনুসরণ না করে গঠিত হয়। ব্যাকরণবিদরা এই ব্যতিক্রমী শব্দগুলোকে একটি বিশেষ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

'পরস্পর'-এর সন্ধি বিচ্ছেদ হলো: পর + পর = পরস্পর। এটি বিসর্গ সন্ধির নিয়মে পড়লেও, গঠনে ব্যতিক্রমের কারণে এটিকে নিপাতনে সিদ্ধ হিসেবে ধরা হয়।

অন্যদিকে, অন্য অপশনগুলো নিয়মের মধ্যে পড়ে:
  • নিষ্কর: বিসর্গ সন্ধি। বিচ্ছেদ: নিঃ + কর (বিসর্গ (ঃ) এর পর ক থাকলে বিসর্গ স্থানে ষ হয়)।
  • সন্তাপ: ব্যঞ্জন সন্ধি। বিচ্ছেদ: সম্ + তাপ (ম-এর পর স্পর্শ বর্ণ থাকলে ম স্থানে অনুস্বার বা পরের বর্ণের স্বজাতি বর্গীয় ধ্বনি হয়)।
  • ষষ্ঠ: এটিও ব্যঞ্জন সন্ধির কিছু ব্যতিক্রমী নিয়মের মধ্যে পড়ে (ষষ্ + থ), তবে 'পরস্পর' হলো নিপাতনে সিদ্ধের সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ।
20

‘মুক্ত’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি ?

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  1. √মু + ক্ত
  2. √মহ + ক্ত
  3. √মুচ + ক্ত
  4. √মৃচ + ক্ত

সঠিক উত্তর: গ

সমাধান

• আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুসারে -
‘মুক্ত' (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √মুচ্‌ +ত
অর্থ: 
- অব্যাহতিপ্রাপ্ত, নিষ্কৃতিপ্রাপ্ত
- মোক্ষপ্রাপ্ত
- আরোগ্যপ্রাপ্ত

• বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে -
‘ক্তি’ একটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। ‘ক্তি’ সংযুক্ত শব্দের শেষে যদি ‘চ/জ’ থাকে তা ‘ক’ হয়ে যায়।
যেমন:
√মুচ্‌ + ক্ত = মুক্ত
√ভজ্‌ + ক্ত = ভক্ত

যেহেতু অপশনে √মুচ্‌ +ত নেই তাই সঠিক উত্তর হিসেবে "√মুচ্‌ + ক্ত" গ্রহণ করা হয়েছে।

ব্যাখ্যা

‘মুক্ত’ শব্দটি একটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ। কৃৎ প্রত্যয় হলো ধাতুর (ক্রিয়ার মূল অংশ) সাথে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়।
‘মুক্ত’ শব্দের মূল প্রকৃতি হলো √মুচ্‌ (যার অর্থ ত্যাগ করা বা মুক্তি দেওয়া) এবং এর সাথে যুক্ত হয়েছে সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় ‘ক্ত’ (বা ‘ত’)।
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়ের নিয়মানুসারে, যখন √মুচ্‌ বা √ভজ্‌ -এর মতো চ/জ-অন্ত ধাতুর সাথে ‘ক্ত’ প্রত্যয় যুক্ত হয়, তখন চ বা জ স্থানে হয়।
সুতরাং, সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো: √মুচ্‌ + ক্ত = মুক্ত
অন্যান্য অপশন যেমন √মু, √মহ বা √মৃচ, এগুলি ‘মুক্ত’ শব্দের অর্থের সাথে সম্পর্কিত মূল ধাতু নয়, তাই ভুল।
গৃহশিক্ষকদের জন্য

টিউশনির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান মাত্র ১ মিনিটে

চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি টিউশনি করান? আপনার ক্লাস ৬-১২ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করুন আমাদের প্রশ্ন তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে — লক্ষাধিক বোর্ড প্রশ্ন থেকে বেছে নিয়ে মিনিটেই বানান প্রিন্ট-রেডি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র।

প্রশ্নপত্র তৈরি করুন

এই অধ্যায়ের প্রশ্ন টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করুন

এই পেজে বাছাইকৃত ২০টি প্রশ্ন সমাধানসহ দেওয়া হয়েছে। প্র্যাকটিস মোডে এক-একটি করে উত্তর দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল, স্কোর ও অগ্রগতি ট্র্যাক করুন।

NTRCA - School Level-এর অন্যান্য অধ্যায়

Bangla (School)৬৬৭ প্রশ্নEnglish (School)৬৫৩ প্রশ্নMathematics (School)৭৪৪ প্রশ্নGeneral Knowledge (School)৫৯৩ প্রশ্নবাগধারা ও প্রবাদ প্রবচন৩ প্রশ্নশতকরা, লাভ-ক্ষতি ও সুদকষা৭ প্রশ্নসমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ৩ প্রশ্নRight forms of Verb১ প্রশ্নইতিহাস ও সভ্যতা১ প্রশ্নবানান শুদ্ধি ও এককথায় প্রকাশ৩ প্রশ্নবাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (সংক্ষিপ্ত)১১ প্রশ্নপরিমিতি ও ত্রিকোণমিতি১১ প্রশ্নজ্যামিতি (রেখা, কোণ, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বৃত্ত)১ প্রশ্নঅনুপাত ও সমানুপাত১ প্রশ্নলিঙ্গ ও বচন পরিবর্তন৩ প্রশ্নTranslation from Bengali to English১ প্রশ্নসমার্থক ও বিপরীত শব্দ১ প্রশ্নকারক, বিভক্তি ও সমাস১১ প্রশ্নবীজগণিত (মান নির্ণয়, উৎপাদক, সূচক)৬ প্রশ্নলগারিদম ও সূচক (Logarithms & Indices)৯ প্রশ্ন

কেন NTRCA (Teacher Registration)-এর জন্য “সন্ধি ও প্রত্যয়” অধ্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ?

NTRCA (Teacher Registration) নিয়োগ পরীক্ষার NTRCA - School Level অংশে “সন্ধি ও প্রত্যয়” থেকে প্রায় প্রতিবারই প্রশ্ন আসে। বিগত সালের প্রশ্নের ধরন বুঝে নিয়মিত অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ের নম্বর নিশ্চিত করা সহজ হয় — এই পেজের বাছাইকৃত প্রশ্নগুলো ঠিক সেই প্রস্তুতির জন্যই সাজানো।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

"সন্ধি ও প্রত্যয়" অধ্যায় থেকে কেমন প্রশ্ন আসে?

NTRCA (Teacher Registration) নিয়োগ পরীক্ষায় NTRCA - School Level বিষয়ের "সন্ধি ও প্রত্যয়" অধ্যায় থেকে নিয়মিত MCQ আসে। এই পেজে বিগত সালের ও বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এক জায়গায় দেওয়া হয়েছে — প্রতিটির সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যাসহ।

উত্তর ও সমাধান কি বিনামূল্যে?

হ্যাঁ। প্রশ্ন, অপশন, সঠিক উত্তর, ধাপে ধাপে সমাধান ও ব্যাখ্যা — সবই লগইন ছাড়াই বিনামূল্যে দেখা যায়। টাইমার ও স্কোরসহ প্র্যাকটিস করতে চাইলে একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট দিয়ে প্র্যাকটিস মোডে যান।